শরীরের ফিটনেস হোক লক্ষ্য

শরীরটাকে ফিট রাখতে দরকার Fitness exercise। সুস্থভাবে বাঁচার ও Healthy lifestyle-এর জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি বলে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম সেরে ফেলতে পারলে সারাদিন ভাবনা থাকে না৷ একটা নিয়ম তৈরি হয়ে যায়৷ ভোরের মনোরম পরিবেশে হাঁটলে বা ব্যায়াম করলে, শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। শরীরের নানা অংশে ব্যথা থাকলে সেটাও কমে যায়। পাশাপাশি ওজনকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

যতই ব্যস্ততা থাক, রুটিন করে নিলে সহজেই প্রয়োজনীয় Daily workout সেরে নেওয়া যায়৷ সুস্থ জীবনযাপন করার জন্য এটা খুব জরুরি।ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টা পর হালকা জগিং বা মর্নিং ওয়াক করুন। তবে অবশ্যই হাঁটার সময় আপনাকে সঠিক গতি বজায় রাখতে হবে। কারণ সঠিক ভাবে না হাঁটলে কোনও উপকারই পাওয়া যাবে না শরীরে।

হাঁটার আছে অনেক উপকারিতা- এর ফলে পেশী সুগঠিত হয়, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষিত থাকে ও মেরামত হয়, হজমে সাহায্য করে, এবং মস্তিষ্ককেও সতেজ রেখে বার্ধক্য প্রতিরোধ করে।

এর পাশাপাশি হাঁটার ফলে মানুষের চিন্তার সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়, মেজাজ বা মুড ভালো রাখে এবং স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

 

নিয়মিত হাঁটার সুফল

  • হাঁটার ফলে হাড় মজবুত হয়। জয়েন্ট ও মাসল্স টোনড হয়, শরীরে এনার্জি উৎপন্ন
    হয়
  • রক্ত চলাচল মসৃণ হয়, ফলে হৃদযন্ত্র ভালো ভাবে কাজ করতে পারে
  • পাচনতন্ত্র মজবুত হয়
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ যাতে যথাযথ থাকে, তার জন্যও হাঁটা জরুরি
  • মেদ ঝরে গিয়ে শারীরিক সৌন্দর্য‌্য বৃদ্ধি পায়, আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এর ফলে
  • মগজ ক্রিয়াশীল থাকে, সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
  • চারপাশের স্নিগ্ধ সবুজ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, মনে প্রশান্তি আনে।
  • প্রাতর্ভ্রমণের সামাজিক সুফল
  • হাঁটতে বেরোলে আপনি নিজেও যেমন নিজের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারবেন, তেমনই হয়ে উঠতে পারবেন অন্যের আদর্শ
  • প্রকৃতির সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়বে, মন কলুষতাহীন হয়ে মানুষের জন্য ভালো কিছু করার তাগিদ বাড়বে
  • বহু নতুন বন্ধু পাবেন, যারা আপনার মতো স্বাস্থ্যসচেতন। আপনার সামাজিক পরিমণ্ডল বৃদ্ধি পাবে এবং একটা স্বেচ্ছাসেবার মনোভাব তৈরি হবে
  • আপনি আপডেটেড থাকতে পারবেন নানা বিষয়ে এই মেলামেশার ফলে
  • মতামতের আদানপ্রদান হবার ফলে আপনার দৃষ্টিকোণে স্বচ্ছতা আসবে, সংগঠিত হয়ে কিছু করার ইচ্ছে জাগবে
  • আপনার নানা সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবেন বহু মানুষ, মনের কথা বলার ও শোনার সঙ্গী হবেন অনেকে
  • জানাশোনার পরিধি বাড়বে, ছোটো ছোটো কূটকচালি বা অশান্তির ঊর্ধ্বে উঠে আধ্যাত্মিক চেতনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন
  • আপনি নিয়মিত হাঁটলে আপনার মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকবে। নানা আইডিয়া আপনি হাঁটার সঙ্গীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন এবং মিলিত ভাবে কোনও উদ্যোগে সামিল হতে পারবেন৷

তবে ফিটনেস এক্সারসাইজ করারও একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে৷ ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরটাকে অ্যাকটিভ হওয়ার জন্য অন্তত তিন ঘণ্টা সময় দিন। শরীরের এনার্জি লেভেল স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছলে তবেই ব্যায়াম করা শুরু করবেন।

জম্মু-কাশ্মীর এবং হিমাচল শেষ পর্ব

সাড়ে নয় ঘন্টা জার্নি করে প্রায় সন্ধে হয়ে গেল ডালহৌসির হোটেলে পেঁছোতে আমাদের। সেই রাতটা খাবার খেয়ে সবাই বিশ্রাম নিলাম। ডালহৌসিতে আমরা তিনরাত দুইদিন ছিলাম। পরদিন সকালে জলখাবার খেয়ে প্রথমে আমরা গেলাম খাজিয়ার। ভারতের মিনি সুইজারল্যান্ড হিসেবে পরিচিত খাজিয়ারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য‌ মনোমুগ্ধকর। একটি বেশ সুদৃশ্য লেক রয়েছে খাজিয়ারে এছাড়া রয়েছে বিশালাকার নয়টি গলফ কোর্স। খজিয়ারের পর আমরা সাতধারা জলপ্রপাত ও পঞ্চপুলা দেখতে যাই।

সাতধারা জলপ্রপাত স্থানীয় ভাবে গান্ডাক নামে পরিচিত। সাতধারা ঝরনায় সাতটি ঝরনার জল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,০৩৬ মিটার উঁচু স্থানে মিলিত হয়ে নীচে নেমে আসে। বলা হয় এর জলে মাইকা বা অভ্র নামক এক পদার্থ রয়েছে, যার ফলে ত্বকের বিভিন্ন রোগের নিরাময় ঘটে।

পাঁচটি ঝরনা ধারার মিলনে পঞ্চপুলা এক অন্যতম পর‌্যটনকেন্দ্র। স্থানীয়দের কাছে পঞ্চপুলা জলের অন্যতম উত্সও বটে।

ডালহৌসির দুটো প্রধান কেন্দ্র, সুভাষচক এবং গান্ধিচক। আমাদের হোটেল ছিল সুভাষচকের কাছে। শেষদিনে আমরা চামেরা লেক দেখে হিমাচলি পোশাক পরে ফটো তুললাম তারপর আমরা সবাই মিলে গান্ধি চকে কেনাকাটার জন্য গেলাম। কেনাকাটা হয়ে গেলে হোটেলে ফিরে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন সকালে জলখাবার খেয়ে আমরা অমৃতসরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। দুপুরবেলা অমৃতসরের হোটেলে পৌঁছে গেলাম।

পঞ্জাবের কেন্দ্রস্থলে অমৃতসর একটি বড়ো বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শহরটিতে শিখ ধর্মের আধ্যাত্মিক গুরু, হরমান্দির সাহেবের বাড়ি, এটি স্বর্ণমন্দির নামেও পরিচিত। আমরা হোটেলে পৌঁছে স্নান খাওয়া সেরে বাসে করে ওয়াগা সীমান্তে যাই। ওয়াগা সীমান্তের অনুষ্ঠানটি সূর‌্যাস্তের দুই ঘন্টা পূর্বে প্রতিদিন সীমান্ত গেটে অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা অনুষ্ঠানটি ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ও পাকিস্তানের রেঞ্জার্স (পিআর) দ্বারা পরিচালিত হয়। অপূর্ব সুন্দর অনুষ্ঠান দেখে ফিরে এলাম হোটেলে।

পরদিন আমরা সকালে স্নান করে স্বর্ণমন্দির দেখতে গেলাম। অপূর্ব পরিবেশ। মন্দিরের ভিতর ঢুকলে আর বেরোতে ইচ্ছা করে না। স্বর্ণমন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ এর প্রসাদ। আসল ঘি দিয়ে তৈরি প্রসাদের গন্ধ মাতোয়ারা করে দেয়। এখানে জাত, ধর্ম, বর্ণ বিশেষে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ করা হয় না। স্বর্ণমন্দিরের থেকে খুব কাছেই জালিয়ানওয়ালাবাগ।

১৯১৯সালে ১৩ই এপ্রিল রাওলাট আইনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালনার অর্ডার দেন জেনারেল ডায়ার। নির্বিচারে গুলি চালনায় প্রাণ দেন প্রচুর মানুষ। জালিয়ানওয়ালাবাগ এসে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল।

বেড়ানো প্রায় শেষ, পরদিন দশটায় বাড়ি ফেরার ট্রেন। মনের মণিকোঠায় সঞ্চয় করে নিয়ে গেলাম পাহাড়ি রাজ্যের ও অমৃতসরের কিছু অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

মুখে রোম, বলিরেখা ও পেটে স্ট্রেচ মার্কস-এর সমস্যা

আমার বয়স ২৩ বছর। গালের দুপাশে অত্যধিক রোম রয়েছে। কীভাবে এই সমস্যা রোধ করতে পারব? মুখে এবং নাকে কালো কালো বলিরেখা দেখা দিয়েছে। এর কি কোনও চিকিৎসা আছে? এছাড়াও গর্ভধারণের পর পেটের নীচের অংশে সাদা সাদা দাগ (স্ট্রেচ মার্কস) হয়ে গেছে। সেগুলি কীভাবে দূর করব?

আপনার গালের দুপাশে এবং মুখের নীচের অংশে রোমের সমস্যা দেখা দিয়েছে জানিয়েছেন। যদি আপনার খুব পাশে গিয়ে তবেই রোম চোখে পড়ে তাহলে সেটা হটাবার জন্য কোনও চিকিৎসা করাবার পরামর্শ দেব না। কিন্তু দূর থেকেও যদি রোম চোখে পড়ে তাহলে সর্বপ্রথম হরমোনাল ইভ্যালুয়েশন করানো খুব জরুরি। এর ফলে রোম হওয়ার মূল কারণ বোঝা যাবে। কখনও কখনও পিসিওডি, থাইরয়েড-ও কারণ হতে পারে। আপনি লেজার থেরাপি করিয়ে দেখতে পারেন।

বলিরেখার ক্ষেত্রে পরামর্শ দেব এখনই চিকিৎসা শুরু করার। নয়তো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখার সমস্যা আরও বাড়তে থাকবে। এর জন্য সানস্ক্রিন বা স্কিন লাইটনিং ক্রিম নিয়মিত ব্যবহার করুন। যেমন কোজিক অ্যাসিড, অ্যাবিউটিনল, হাইড্রোকুইনোন ক্রিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এছাড়াও কেমিক্যাল পিলস, লেজার থেরাপি ইত্যাদি চিকিৎসাও বলিরেখা কিছুটা হলেও কম করতে সহায়ক। চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াদাওয়ারও বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। যেমন ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি-যুক্ত ফল এবং সবজি প্রচুর পরিমাণে খাওয়া উচিত। এর সঙ্গে প্রচুর জল পান করাও বাঞ্ছনীয়। এর ফলে রোদে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় কমবে।

খুব অল্প বয়সেই আপনি মাতৃত্ব অর্জন করেছেন। বহু ক্ষেত্রেই স্ট্রেচ মার্কস-এর সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। মাতৃত্বকালীন এটি খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। গর্ভসঞ্চার হওয়ার পর গর্ভে শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মায়ে পেটের ত্বকে টান পড়ে, যার ফলে স্ট্রেচ মার্কস স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে ত্বকের উপর। একবার স্ট্রেচ মার্কস পড়লে ত্বক আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা খুব মুশকিল। তবে রোজ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে দাগ অনেকটাই হালকা হয়ে আসবে। ময়েশ্চারাইজ করার জন্য মাখন, নারকেল তেল, অর্গ্যান অয়েল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন যাতে আপনার ত্বক সঠিক ভাবে ময়েশ্চারাইজ থাকতে পারে। এছাড়াও ডাক্তারের পরামর্শমতন ওষুধ খেতে পারেন। তাছাড়া লেজার টেকনিক, কেমিক্যাল পিলস ইত্যাদিও ট্রাই করে দেখতে পারেন।

ডা. বিদুষী জৈন

ডার্মাটোলজি, ট্রাইকোলজিস্ট (এমবিবিএস, এমডি) মেডিকেল হেড ডর্মালিক্স

 

জম্মু-কাশ্মীর এবং হিমাচল প্রথম পর্ব

কাটরা থেকে বৈষ্ণোদেবী যাওয়ার রাস্তাটি মনোরম আশ্চর্যতায় ভরা। প্রশান্ত উপত্যকা, সবুজ গাছের সমারোহ, পাখি এবং প্রবাহিত মনোরম বাযু মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

দুরাত্রি ট্রেন জার্নির পর সকাল ৭টার সময় জম্মুতে নেমে হোটেলে গিয়ে স্নান সেরে সকালের খাবার খেয়ে জ্বালামুখী মন্দির দেখতে বেরিয়ে পড়ি। জ্বালামুখী মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিপীঠ। এখানে সতীর জিভ পড়েছে বলে জানা গেছে। বহু প্রাচীন শাস্ত্রে এর উল্লেখ রয়েছে। মন্দিরটি একটি পাহাড়ে অবস্থিত। ভিতরে, একটি তামার পাইপ থেকে চিরন্তন শিখা জ্বলতে থাকে, যা দেবী দুর্গার নয় রূপকে উপস্থাপন করে বলে বিশ্বাস করা হয়। সম্রাট আকবর শিখার উপরে একটি সোনার ছাতা দান করেছিলেন।

জ্বালামুখী মন্দির দেখে এসে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে বাসে করে কাটরা যাবার জন্য রওনা দিই। দুঘন্টার মধ্যে কাটরা পৌঁছে গেলাম। সারাদিন হোটেলে বিশ্রাম করার পর রাতে সবাই মিলে বৈষ্ণোদেবী যাওয়া হবে বলে ঠিক হল।

ভারতের অন্যতম তীর্থস্থান মাতা বৈষ্ণোদেবী গুহা মন্দিরটি জম্মুর কাটরায় ত্রিকূট পাহাড়ে অবস্থিত। কাটরা থেকে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরটি ১৩ কিলোমিটার পথ। অনেকে হেঁটে যান, আর যারা হাঁটতে পারেন না তাঁদের জন্য পোর্টার, পালকি এবং পোনি ভাড়া করে যাওয়া যায়। আবার কাটরা থেকে হেলিকপ্টার পরিষেবাও আছে। যাইহোক কাটরা বাস স্টেশনের কাছে যাত্রা নিবন্ধকরণ কাউন্টার থেকে যাত্রা স্লিপ নিয়ে আমাদের দলের ২৫ জনের মধ্যে অনেকে হেঁটে গিয়েছে,আবার অনেকে পোনির পিঠে করে গিয়েছে। আমাদের পরিবার অবশ্য পোনির পিঠে করে উঠেছি আর নামার সময় হেঁটে নেমেছি।

আমরা রাত ১১টায় পোনির পিঠে চেপেছিলাম আর ভোর ৪টের সময় বৈষ্ণোদেবী গুহার কাছে পেঁছোলাম। তারপর লাইন দিয়ে দেবীর গর্ভগৃহে ভোর ৫টায় প্রবেশ করে দেবী দর্শন করে চোখ ও মন জুড়িয়ে গেল।

দেবী সাড়ে পাঁচফুট লম্বা শিলা আকারে আছেন যার তিনটে মাথা রয়েছে। মাতা বৈষ্ণোদেবীর ভক্তরা লালচুনরি, শাড়ি, শুকনো ফল, ফুল ইত্যাদি দিয়ে থাকেন। আমরাও দিয়েছিলাম। মাতা বৈষ্ণোদেবীর পবিত্র গুহাটি হিন্দু পুরোহিত পণ্ডিত শ্রীধর আবিষ্কার করেছিলেন বলে জানা যায়। বৈষ্ণোদেবী দর্শন করে নীচে নেমে হোটেলে গিয়ে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেওয়া হল। অবশ্য ওই দিন কাটরা হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে আমরা বাসে করে মানালির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

প্রায় সাড়ে নয় ঘন্টা জার্নি করে বিকেলবেলা মানালি পেঁছোলাম। হোটেলে গিয়ে ঘরে বিশ্রাম নিয়ে কিছু খাবার খেয়ে সবাই মিলে ম্যালে ঘুরতে বেরোলাম। মানালির ম্যাল খুব সুন্দর। ম্যালের কাছে প্রচুর গরম পোশাকের দোকান ও হস্তশিল্প কেনাকাটির জন্য অনেক দোকান আছে। এছাড়াও হরেক দোকান আছে খাবারদাবারের। তাছাড়া ম্যালের কাছাকাছি তিব্বতি বাজার এবং তিব্বতি মঠ রয়েছে। আমরা সবাই কিছু কেনাকাটি করে হোটেলে ফিরে আসলাম।

বিয়াস নদীর ধারে অবস্থিত মানালির সৌন্দর্য‌ ভাষায় বর্ণনা করা খুব শক্ত। এখানে যেমন আছে সবুজ পার্বত্য উপত্যকা, বরফে ঢাকা সারি সারি পর্বতশৃঙ্গ, তেমনি আছে পাহড়ের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সুন্দরী বিয়াস নদী। মানালিতে আমরা দুদিন ছিলাম। একদিন আমরা হিড়িম্বা মন্দির দেখতে যাই। পাইন, দেবদারুর ঘন বনের মধ্যে এই মন্দির। জনশ্রুতি, হিড়িম্বা এইখানেই একটি গুহায় বসবাস করতেন। মন্দিরটি নির্মাণ করেন মহারাজা বাহাদুর সিংহ ১৫৫৩ সালে।

হিড়িম্বা মন্দিরের কিছুটা আগে একটা বড়ো গাছের তলায় হিড়িম্বার পুত্র ঘটোত্কচের পুজো হয়। মন্দিরের আশেপাশে অনেক দোকান আছে। মানালির ক্লাবহাউসও অতি চমত্কার। পরের দিন রোটাং পাস যাওয়া হল। মানালি থেকে ৫১ কিলোমিটার দূরে পীর পাঞ্জাল রেঞ্জে প্রায় চার হাজার মিটার উঁচুতে রোটাং পাস। রোটাং এর বেশ কিছুটা আগে থেকে সবুজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় প্রায়, অক্সিজেনের এখানে বেশ অভাব। তবে রোটাং-এর বরফের মধ্যে আমরা খুব মজা করেছি। রোটাং পাস থেকে নেমে সোজা হোটেলে গেলাম। সেইদিন হোটেলে রাত কাটিয়ে পরের দিন ডালহৌসির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

ডালহৌসি হিমাচল প্রদেশের একটি মনোরম শৈলশহর। ১৮৫৪ সালে সেনাবাহিনী ও সরকারি পদাধিকারিকদের গ্রীষ্মবকাশ যাপনের জন্য ব্রিটিশ সরকার, এই শহরের পত্তন ঘটান। শহরটি ভারতের তত্কালীন গভর্নর লর্ড ডালহৌসির নামাঙ্কিত। শহরটি পাঁচটি শৈলশিখর নিয়ে গঠিত। শহরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬,০০০ – ৯,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। শহর জুড়ে ভিক্টোরিয়ান ও স্কটিশ স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন দেখা যায়। একইসঙ্গে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন যেন ঘটেছে এখানে। ডালহৌসিতে দেখার মতো যা যা রয়েছে তা হল খাজিয়ার, সাতধারা জলপ্রপাত, পঞ্চপুলা, চামেরা লেক।

ধর্মের গাড়ি চলে টাকার জোরে

আমেরিকার পাদরি, প্রিস্ট, বিশপ প্রমুখের তুলনায় ভারতের গুরু, স্বামী, ধর্মাচার্য, মহন্ত, পণ্ডিত কিংবা পূজারিরা অনেক ভালো আছেন। ভারতেও হয়তো যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটে কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার চার্চ-এর পাদরি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখন চরমে উঠেছে। ২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ পাদরির বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে এবং এই তালিকা আরও দীর্ঘায়িত হতে দেখা যাচ্ছে। আর বিগত কয়েক বছরে এই তালিকায় বারবার যুক্ত হতে দেখা গেছে সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট কনভেনশন চার্চ-এর নাম। তবে এই ঘটনা জনসমক্ষে যাতে না আসে, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে যাজক মহলে।

২০২২ সালে এই যৌন নিগ্রহের রিপোর্ট জনসমক্ষে আসে টিভির মাধ্যমে৷ এরপর চার্চ-এর পক্ষ থেকে কুকীর্তি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় । চার্চ-এর পক্ষ থেকে নিপীড়িতাদের ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

চার্চ, গুরুদুয়ারা, মঠ কিংবা মন্দির সবকিছুরই পিছনে আসলে এক অশুভ শক্তি নেতৃত্ব দেয়। আর ওই অশুভ শক্তি আলাদা আলাদা ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক এবং এরা ক্ষমতা প্রয়োগ করে অসাধু উপায়ে প্রচুর অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়। সবচেয়ে মজার কথা হল এইসব ধর্মস্থান ঈশ্বর চালিত করেন না, চলে টাকার জোরে এবং ওই অর্থ উপার্জন করা হয় ভক্তের দান-দক্ষিণা থেকে। শুধু তাই নয়, চার্চ কিংবা যে-কোনও ধর্মস্থানে আবাসিক মহিলা ভক্তদের নিজস্ব সম্পত্তি ভেবে তাদের সঙ্গে যৌনক্রিয়া চলে প্রায় ক্ষমতাবলে। ক্যালিফোর্নিয়ার চার্চের প্রায় ৭০০ পাদরির বিরুদ্ধে যৌনহেনস্থার অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যেই।

ভারতে ধর্মের দোকানদাররা যৌন নিগ্রহের অভিযোগ থেকে গা বাঁচিয়ে থাকেন কিছু ক্ষমতাবানের প্রশ্রয়ে। আশারাম বাপু অবশ্য শাস্তি পেয়েছেন কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বেশিদূর গড়ায় না। মামলা যদি আদালত পর্যন্ত যায়ও, তাহলেও বিচারক ধর্ম-অদর্ম, পাপ-পুণ্যের কথা ভেবে ঘাবড়ে যান এবং মামলার শুনানি পিছোতে থাকে কিংবা উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে মামলা বন্ধ করে দেন।

ধর্ম-ব্যবসায়ীরা ভক্তদের ঈশ্বরের কোপে পড়ার ভয় দেখিয়ে এমনভাবেই আচ্ছন্ন করে রাখে যে, ভক্তরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়ার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। শুধু তাই নয়– কোনও কোনও ভক্ত তো গুরুকে ভগবানের প্রতিনিধি ভেবে সব আবদার মেনে নেয় অসহায় ভাবে।

ভক্তদের এভাবেই মগজধোলাই করা হয় যে, পুণ্যার্জন করতে হলে তোমার শরীর, মন, অর্থ- সবই সমর্পণ করতে হবে ঈশ্বরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। এর ফলস্বরূপ ঈশ্বরে অন্ধবিশ্বাসী ভক্তদের ধারণা হয়, বাস্তবের আইন-আদালত নয়, অপরাধীর বিরুদ্ধে ঈশ্বরের আদালতে অভিযোগ জানালে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে, অপরাধী শাস্তি পাবে। আর ভক্তদের মনে এই ধ্যান-ধারণা জাগিয়ে নির্দ্বিধায় অপরাধ-কর্ম সম্পন্ন করে চলেছেন বিশ্বব্যাপী বকধার্মিকরা।

নতুন ছবির সাফল্যের বিষয়ে আশাবাদী স্বরা

‘নীল বট্টে সন্নাটা’ ছবির পর থেকেই আলাদা করে চোখে পড়তে শুরু করেন স্বরা ভাস্কর। তাঁর কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন স্বরা যে, আসলে তিনি ‘জাত অভিনেত্রী’। ‘আনারকলি অফ আরা’ যারা দেখেছেন তারা প্রমাণ পেয়েছেন এ কথার সত্যতা। তেলুগু পরিবারে জন্ম নেওয়া স্বরার, বেড়ে ওঠা কিন্তু দিল্লি শহরে৷ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর অভিনয়ের ইচ্ছে নিয়ে স্বরা মুম্বই পাড়ি দেন। শুরুতে স্ট্রাগল করতে হলেও, নিজের অভিনয় গুণে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউডে। প্রথম ছবি ‘মাধোলাল কিপ ওয়াকিং’, কায়রো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হলেও বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় ছবি সঞ্জয়লীলা বনসালির ‘গুজারিশ’। একটা সাপোর্টিং রোলে অভিনয় করেন তিনি, কিন্তু এ ছবিও বক্স অফিস সাফল্য পায়নি। এর পর একটি থ্রিলারে কাজ করেন স্বরা, ‘দ্য আনটাইটেলড্ কার্তিক কৃষ্ণন প্রোজেক্ট’। কিন্তু এ ছবিও তেমন জনপ্রিয়তা পেল না। ‘তন্নু ওয়েড্‌স মন্নু’-তে কঙ্গনা রানাওয়াতের বন্ধু পায়েল হিসাবে প্রথম বার দর্শকদের চোখে পড়েন স্বরা। বেস্ট সাপোর্টিং অ্যাকট্রেস হিসাবে ফিল্‌ম ফেয়ার পুরস্কারও জিতে নেন। সেটাই সাফল্যের শুরু। গৃহশোভা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বরা কবুল করলেন তাঁর ব্যর্থতা ও সাফল্যের কাহিনি।

অভিনেত্রী হবেন এই ভাবনার সূত্রপাত কী ভাবে হয়েছিল?

ছোটো থেকেই আমি ছিলাম টিভি’র পোকা। ‘চিত্রহার’, ‘সুপারহিট মুকাবলা দেখে বড়ো হয়েছি। একসময় টিচার হবার ইচ্ছে ছিল, তারপর ঠিক করি ভেটেনারি ডক্টর হব। কিন্তু জেএনইউ-তে পড়াকালীন ‘আইপিটিএ’-র সদস্য হই। আমার গুরু এন কে শর্মার সংস্পর্শে আসি। ওঁর নাট্যদল ‘অ্যাক্ট ওয়ান’-এ অভিনয় করা শুরু করি। এখান থেকেই আমার ভেতর অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছে তৈরি হয়।

মুম্বইয়ে শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল?

আমার এক বান্ধবী ছিল, যে ওকালতিতে নিজের কেরিয়ার শুরু করার জন্য মুম্বই আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমিও ওর সঙ্গে মুম্বই চলে আসি ভাগ্য পরীক্ষা করতে। আমার মায়ের পরিচিত একজন ছিলেন এ শহরে, যার বাড়িতে আমাদের থাকার কথা ছিল। কিন্তু ওনার বাড়িতে গেস্ট এসে যাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে আমাদের আশ্রয়হীন হতে হল। তবে সেই পরিচিত মানুষটি, তার অফিসে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। দিনেরবেলায় অফিস চলাকালীন আমরাও আমাদের কাজের সন্ধানে বেরিয়ে যেতাম। ওদের অফিস ছুটির পর ঘুমোনোর জন্য ফিরতাম। এভাবে দিন পনেরো চলার পর আশ্রয় মিলল। সেই সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর রবীন্দ্র রান্ধাওয়া এবং রাইটার অঞ্জুম রাজাবলি আমায় খুব সাহায্য করেছিলেন। প্রচুর জায়গায় পোর্টফোলিয়ো পাঠানোর পর, ক্রমশ অফার আসতে শুরু করে।

নিউকামার হিসাবে কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছিল?

সত্যি বলতে কী, অচেনা শহরে যে-কোনও নবাগত চট করে সুযোগ পায় না। ফিল্‌ম ইন্ডাস্ট্রিতে কারও সঙ্গে পরিচয় না থাকলে, কলকে পাওয়া মুশকিল। আমার সৌভাগ্য যে, খুব বেশি দিন আমায় দরজায় দরজায় কাজের জন্য ঘুরতে হয়নি। সুযোগ এসে গিয়েছিল।

আপনার জীবনে অনুপ্রেরণা কে জুগিয়েছে?

আমার বাবা। উনি একজন সেল্‌ফ মেড ম্যান। এটাই আমার কাছে আদর্শ হিসাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আমি বাবার খুব ক্লোজ। সেই জন্যই হয়তো ওঁর প্রতিটা জিনিস নিজের জীবনে ফলো করি। আমি যখন মুম্বই আসার সিদ্ধান্ত নিই, বাবা বলেছিলেন, ‘নতুন শহরে যাচ্ছ। কী পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে তা আমিও জানি না। কিন্তু এটা মনে রেখো, খারাপ ভালো যা-ই ঘটুক সেটা তোমাকেই ফেস করতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এই কথাগুলো আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। উনি আমায় নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন।

মেইনস্ট্রিম সিনেমার বদলে আপনি একটু ভিন্ন ধারার ছবিতেই বেশি কাজ করেন। এটার কারণ কী ?

আসলে একটু অন্যরকম চরিত্র করার মধ্যে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে, আমি এই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করতে পছন্দ করি। প্রতিটা ছবিই কিছু না কিছু শেখায়। প্রতিবার আগের বারের চেয়ে বেটার পারফর্ম করার চেষ্টা করি। আমি সেই ধরনের চরিত্র পর্দায় করি যা, বাস্তবের ‘আমি’-র থেকে সামাজিক ও চারিত্রিক ভাবে একেবারেই আলাদা। আনারকলি-র জন্য আমায় সত্যি সত্যিই আরা যেতে হয়েছিল। আমি ওখানে ওই শিল্পীদের সঙ্গে দেখা করে ওদের স্টেজ পারফর্মেন্স দেখি। তারপর চরিত্রটায় অভিনয় করেছিলাম। ‘নীল বট্টে’-র সময় আগ্রা গিয়েছিলাম। ওখাকার কাজের লোকদের জীবনশৈলী নিজে চোখে দেখার জন্য। ওদের বাড়িতে থেকে, খেয়ে বাস্তবিক চরিত্রটাকে পর্দায় ফুটিয়ে ছিলাম। আমার এভাবে কাজ করতেই ভালো লাগে।

আপনি নিজে একজন  মহিলা। আমাদের সমাজে মহিলাদের শোষিত হতে দেখে কী প্রতিক্রিয়া হয়?

আমাদের সমাজে এখনও পুরুষরা মনে করেন, মহিলাদের সঙ্গে যেমন খুশি আচরণ করা যায়। একসময় জমিদাররা কৃষকদের যেভাবে শোষণ করত, অনেকটা সেরকম আর কী! এদেশে প্রেমিকা হাতছাড়া হয়ে গেলে প্রেমিক তার মুখে অ্যাসিড বাল্ব ছুড়ে মারে। স্ত্রী-র গায়ে হাত তোলে স্বামী। মহিলাদের পুরুষের সমকক্ষ ভাবা তো দূরস্থান, মানুষ বলেই গণ্য করা হয় না। এই মানসিকতায় পরিবর্তন না হলে পরিস্থিতি বদলানো মুশকিল। আমি একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ, তাই দেশজোড়া ধর্মান্ধতা দেখে অস্থির লাগে। এদেশে ধর্মই নারীদের দুর্দশার জন্য দায়ী। আমার ক্ষমতা সীমিত, হয়তো রাতারাতি সমাজ বদলাতে পারব না। অন্তত আমার ছবিগুলোতে সমাজ বদলানোর একটা স্ট্রং মেসেজ থাকবে, সেটা আশা করব।

কী কী ছবি এখন হাতে আছে?

‘জাহান চার ইয়ার’ এবং ‘মিসেস ফালানি’, এই দুটো ছবি বড়োপর্দায় আসবে খুব শিগগিরি। এই মুহূর্তে ছবিগুলির বিষয়ে বিশদে কিছু বলতে চাইছি না। তবে আমার এই নতুন ছবিগুলির সাফল্যের বিষয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী।

চাইনিজ-এ টুইস্ট

বাজারে গেলেই এখন মন ভালো হয়ে যায় টাটকা শীতের সবজি দেখে৷ কিন্তু সবজি দিয়ে কী রান্না করবেন, যাতে আনা যায় কিছুটা বৈচিত্র্য? বাচ্চারাও যাতে কোনও অভিযোগ ছাড়াই খেয়ে নেয়? ডিনারে একঘেয়েমির সমস্যা মেটাতে চাইনিজ কুইজিনের কোনও জুড়ি নেই৷ আমরা দিচ্ছি কয়েকটি রেসিপি, যা দ্বিগুন করবে ডিনারের আনন্দ৷ এই সব Chinese recipes for dinner -এর মজাই আলাদা৷

ডাম্পলিং সুপ

উপকরণ: ১০-১২টা পালংয়ের পাতা, ১টা বড়ো টম্যাটো, ১ কোয়া রসুন, ১ ছোটো চামচ আদা, ১টা ছোটো পেঁয়াজ, ১/২ ছোটো চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ৩ বড়ো চামচ চালগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ মাখন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: প্যানে ১ কাপ জল গরম হতে দিন। এতে পালংয়ের পাতা, টম্যাটো, পেঁয়াজ, আদা ও রসুন দিন। এবার চালগুঁড়োতে ২ চিমটে নুন আর ১/৪ কাপ জল দিয়ে মেখে নিন। এর থেকে লেচি তৈরি করুন। এই লেচিগুলিকে রোলের মতো আকার দিয়ে পালং ফুটতে দেওয়া গরম জলে ঢেলে দিন। ৫-৬ মিনিট পর আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। ডাম্পলিংসগুলি হাতায় করে তুলে পাত্রে রাখুন। সবজিগুলি তুলে বাকি উপকরণের সঙ্গে মিক্সি-তে পেস্ট করে নিন। এবার প্যানে মাখন গরম করে ডাম্পলিং আর মিক্সির মিশ্রণ নেড়েচেড়ে, তারপর পালংয়ের সুপটা ঢেলে দিন। নুন-গোলমরিচ দিয়ে গরম গরম সার্ভ করুন।

 

হোয়াইট সস ভেজি

White Sauce Veggie recipe

উপকরণ: ১ বড়ো চামচ মাখন, ১ বড়ো চামচ ময়দা, ১ কাপ দুধ, ১/২ পেঁয়াজ কুচি করা, ৮-১০টা বিন্স, ১টা গাজর, অর্ধেক ক্যাপসিকাম কুচি করা, ৪-৫টা কপির টুকরো, ১/২ কাপ সেদ্ধ ভাত, ২ বড়ো চামচ চিজ গ্রেট করা, ১/২ ছোটো চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: বিন্স, গাজর, ফুলকপির টুকরো ভাপিয়ে নিন অল্প নুন জলে। এবার কড়ায় মাখন গলিয়ে পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম ভেজে নিন। এই মাখনেই ১ বড়ো চামচ ময়দা নাড়াচাড়া করুন। ১ কাপ দুধ ঢেলে সমানে নাড়তে থাকুন, যাতে দলা না পাকিয়ে যায়। এবার স্টিমড ভেজিটেবলসগুলো দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন-মরিচ দিন। ভাতটাও এর মধ্যে দিয়ে নেড়ে নিন। সার্ভিং প্লেটে পরিবেশন করুন।

 

ভেজ নুডলস্ কারি

Veg noodles curry recipe

উপকরণ: ১ প্যাকেট নুডলস্, ১ বড়ো চামচ লাল-হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম কুচি করা, ১টা রাঙালু স্লাইস-এ কাটা, ২ বড়ো চামচ কড়াইশুঁটি, ৫-৬টা ফ্রেঞ্চ বিন্স, ১টা ছোটো পেঁয়াজ, ২-৩ কোয়া ফুলকপি, ১টা টম্যাটো, ১ বড়ো চামচ তেল, ৫০ গ্রাম পনির।

প্রণালী: একটা কড়ায় তেল গরম করে, পেঁয়াজ, তিন রকমের ক্যাপসিকাম, রাঙালু, ফ্রেঞ্চ বিন্স, ফুলকপি, কড়াইশুঁটি ও নুন দিয়ে সঁতে করুন। টম্যাটো ও লংকা মিক্সিতে পেস্ট করে নিন। সবজি নরম হলে এতে টম্যাটো পেস্ট ও ১ কাপ জল দিয়ে রান্না হতে দিন। এতে পনিরের টুকরো দিয়ে দিন। এরপর এর মধ্যে নুডল্স দিয়ে ৪-৫ মিনিট রান্না করুন। গরম গরম সার্ভ করুন।

সাম্প্রতিক Web Series ‘দিল বেকরার’ দিয়ে পুনম ধিলনের কামব্যাক

১৯৮০-র দশকে, সুন্দরী এবং গ্লামারাস পুনম ধিলন ফিলম-এ নিজের সাফল্যের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। ১৬ বছর বয়সে ফিলম-এ তাঁর প্রথম আসা ত্রিশূল ছবির মাধ্যমে। এরপর নুরী অল্প বাজেটে তৈরি হলেও, ফিল্মটি হিট করে। এরপর তিনি দর্শকদের পরপর বহু হিট ফিলম উপহার দিয়েছেন। দক্ষিণি ছবিতেও তিনি কাজ করেছেন।

ফিলম-এর সাফল্য পুনমকে খ্যাতি এনে দিলেও ব্যক্তিগত জীবনে প্রেমের ক্ষেত্রে ততটা সফল হতে পারেননি এই অভিনেত্রী। তাঁর সঙ্গে রমেশ তলওয়ার, রাজ সিপ্পী এবং অশোক ঠাকরিয়ার সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল একসময়। যে-কোনও কারণেই হোক প্রথম দুজনের প্রেম উপেক্ষা করে পুনম নির্মাতা অশোক ঠাকরিয়াকেই বেছে নেন এবং বিয়ে করেন। তাঁদের দুই সন্তান অনসোল এবং পালোমা। স্বামীর এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার থাকার জন্য এবং পুনমকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার কারণে ১৯৯৭ সালে অভিনেত্রী বিবাহবিচ্ছেদ করেন এবং সন্তানদের নিজের কাছেই রাখেন।

ফিলম ছাড়াও টিভি এবং থিয়েটারেও তিনি কাজ করেছেন। ১০০-র বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ২০২১ এ ২৬ নভেম্বর তাঁর ওয়েব সিরিজ দিল বেকারার ডিজনি এবং হটস্টার-এ রিলিজ হয়েছে। প্যান্ডেমিক চলাকালীন অনেক কষ্ট করেই এর শুটিং পর্ব চলেছে। তাঁর সঙ্গে হওয়া কিছু কথাবার্তার অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

হঠাৎ করে Web Series-টি করতে কেন রাজি হলেন জিজ্ঞেস করাতে তাঁর মত হল, প্রথমে তিনি একটু দ্বিধা করেছিলেন যে সিরিজটা কেমন হবে এবং সেখানে কাজ করাটা তাঁর ঠিক হবে কিনা। কারণ ওয়েবের দর্শকদের চাহিদা অন্যরকম হয় এবং কনটেন্টও আলাদা হয়। গত কয়েক বছরে ওয়েব সিরিজ-এর জনপ্রিয়তা খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। সব থেকে বড়ো কথা এর দর্শকদের কাছে পৌঁছোবার যে-ব্যাপ্তি, তা অনেক বেশি। এছাড়াও ভালো গল্প, সেট-আপ, সঠিক নির্দেশক এবং ভালো কো-অ্যাক্টর ও অ্যাক্ট্রেস পাওয়াতে তিনি আর বেশি ভাবা বা দ্বিধা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেননি।

অতীতে এবং বর্তমানে ভালোবাসার সংজ্ঞার কি কিছু পরিবর্তন ঘটেছে জানতে চাওয়া হলে তাঁর স্পষ্ট জবাব, বিন্দুমাত্র কিছুই বদলায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই বয়সও বাড়তে থাকে। সুতরাং কিছুটা বদল তো আসবেই। তাঁর অভিনীত ওই ওয়েব সিরিজটির কাহিনির পটভূমিকা ৮০র দশকের। সুতরাং দেশ বর্তমানে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে সেটা পুনম ভালোমতোই জানেন। বর্তমান সমাজে মোবাইল, গাড়ি, ভিডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি অনেককিছুর সঙ্গেই আজ সকলেই পরিচিত বলেই বিশ্বাস করেন পুনম। রোজই নতুন আরও আধুনিক প্রযুক্তির সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ববাসী। কিন্তু পুনম মনে করেন সম্পর্ক, ইমোশন আগের মতোই রয়ে গেছে। ভাষার কিছু পরিবর্তন হয়েছে, নতুন কিছু কিছু শব্দ সকলে ব্যবহার করছে। তবে অভিনেত্রী একটা কথা স্বীকার করলেন যে তাঁদের সময় জীবন অনেকটা সহজ ছিল। এখনকার প্রজন্ম ফোন ডায়াল করতে জানে না, ওরা বাটন প্রেস করতে পারে। কিছু জিনিস বদলায় আবার কিছু কিছু আগের মতোই থেকে যায়। পুনমের অভিযোগ, আজকের যুগে সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক কমে গেছে কারণ এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা চাকরি পরিবর্তন করার মতোই সম্পর্কও বদলাতে থাকে।

এই প্রজন্মের আচরণের মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে বলেই পুনমের মনে হয়। ৮০-র দশকে কোথাও যেতে-আসতে গেলে অভিভাবকদের জানিয়ে যেতে হতো। এই ডিসিপ্লিন প্রায় সব পরিবারেই মানা হতো। পুনমের দুঃখ যে আজকের প্রজন্মেরও এই সংস্কার থাকা উচিত ছিল। তাদের বোঝা উচিত মা-বাবা সন্তানের ভালোই চায়। কোনও ব্যাপারেই বড়োদের অপমান করা বা তাদের দোষ দেওয়া অনুচিত। নিজের ব্যাক্তিগত কথা শেয়ার করতে গিয়ে পুনম জানালেন, এখনকার বাচ্চারা পড়াশোনা বা চাকরির ক্ষেত্রে মা-বাবাকে ছেড়ে অনেক দূরে চলে যায়। তাঁর ছেলে-মেয়ে বাইরে থাকলে ফোনে তাঁকে নিশ্চিন্ত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দেয় তারা। কিন্তু ওরা বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত, পুনমের ঘুম আসে না। এই চিন্তার কারণ যে কী সেটা আজকের বাচ্চাদের বোঝালেও বোঝে না।

দিল বেকরার Web Series-টি ৮০-র দশকের কোন দিকটি দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে, জানতে চাওয়া হলে পুনম জানালেন, ৮০-র দশকের পলিটিক্যাল এবং সোশ্যাল ইভেন্টস কীরকম হতো, সেই সম্পর্কে মানুষের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিকোণ কেমন ছিল এবং এই পুরো বিষয়টি নতুন প্রজন্ম কী চোখে দেখে এই পুরোটাই সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে। এটি একটি পারিবারিক কাহিনি, যেখানে বাচ্চার বেড়ে ওঠা থেকে চাকরি, বিয়ে সবই দেখানো হয়েছে। এটি প্রতিটি পরিবারের গল্প। ৮০-র দশকের পটভূমিকা রেখে নতুন প্রজন্মের ভাবধারা প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিছু বছর আগেও রাস্তার মাঝে গাড়ি হঠাৎ আটকে গেলে, গাড়ি থেকে সকলে নেমে গাড়ি ধাক্কা দিতে লজ্জাবোধ করত না বরং গাড়ি রয়েছে বলে গর্ববোধ করত।

অনেক শিল্পী-ই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন। তুলনায় অনেক দেরীতে এই প্ল্যাটফর্মে পা রাখলেন পুনম। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনেও পুনমের নিজস্ব যুক্তি আছে। তিনি ইঁদুর দৌড়ে শামিল হতে চাননি। বরং নিজের সুবিধা অনুসারে পরিবারের দেখাশোনা করে তারপর অভিনয়ে এসে কাজ করেছেন। যখনই তাঁর মনে হয়েছে, আসছে ৬ মাস ফিলম বা টিভির কাজ তিনি করতে পারবেন না, তখনই কাজ এলেও সেটার কাজ তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এই বয়সে কারও সঙ্গে তিনি কম্পিটিশনে যেতে চান না। লাইফে কমফর্ট জরুরি বলে মনে করেন পুনম এবং তিনি নিজের খেয়াল রাখতেও ভালোবাসেন। এত বছর ধরে কাজ করছেন সুতরাং জীবনে এখন তাঁর প্রায়োরিটি অনেক আলাদা হয়ে গেছে।

পুনম খুব কম বয়সে অভিনয় শুরু করেছিলেন। এতগুলো বছরে ফিলম ইন্ডাস্ট্রি-তে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে, পুনমের চোখে। তিনি মনে করেন এখনকার গল্প অনেক বাস্তবধর্মী, এছাড়াও এখন বায়োপিকস-এরও যুগ এসে গেছে। আগে ঐতিহাসিক চরিত্রের উপর আত্মজীবনীমূলক ফিলম তৈরি হতো। আজকাল জীবিত ব্যক্তিরও বায়োপিক তৈরি হচ্ছে। আগে এটা কেউ ভাবতেই পারত না।

তাঁর অভিনীত সমস্ত ছবির মধ্যে কোনটি তাঁর নিজের সবথেকে পছন্দের জানাতে কিছুটা অতীতে ফিরে গেলেন পুনম। জানালেন, অতীতে কাজের চাপ অত্যন্ত বেশি থাকত। ফলে হলে গিয়ে ফিলম দেখা সম্ভব হতো না। পরে ডিভিডি আসার পর কিছু কিছু ফিলম পুনম দেখলেও সেগুলি তাঁর নিজের অভিনীত নয়। তাঁর নিজের অভিনয় করা ফিলম দেখতে ভালো লাগত না। বর্তমানে অনেক সময় কেউ হয়তো বলে, টিভি-তে তাঁর কোনও ফিলম দেখানো হচ্ছে, তখন তিনি সেটা দেখার চেষ্টা করেন। একসময় পুনম মনে করতেন শুটিং, ডাবিং করার পর ফিলম  থিয়েটারে রিলিজ করে গেলে, তাঁর কাজ শেষ। কিন্তু এখন তিনি বুঝতে পারেন সে-সময় নিজের কাজ নিয়ে আলোচনা করাটা খুব প্রয়োজন ছিল। তাঁর অভিনীতি সোহেনি মাহিওয়াল ছবিটি তাঁর মতে খুব ভালো ছবি এবং এটা নিয়ে নস্টালজিয়া বোধ করেন তিনি। এছাড়া নুরী ছবিটিও দর্শকের মনে এতটা প্রভাব ফেলবে পুনম তখন বুঝতে পারেননি। কারণ সেই সময় তাঁর বয়সও খুব কম ছিল। ছবিটি খুব সহজ ভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং এর গানগুলি এভারগ্রিন এটা সকলেই স্বীকার করবে।

দৈনন্দিন জীবনে সব হাউসওয়াইফ-দের মতন তিনিও রুটিন মেনে চলেন এবং সংসারের সবকিছু দেখাশোনা করেন। একটা সময়ে জিনিসপত্র কিনতে তাঁকে দোকানে যেতে হতো, এখন একটা ফোন করলেই বাড়িতে জিনিস পৌঁছে যায়। বাচ্চাদেরও দায়িত্ব নেওয়ার শিক্ষা দেন পুনম। এছাড়াও সময় পেলেই ওয়ার্কআউটও করেন শরীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে। আজকের প্রজন্মকে কিছু বলতে ইচ্ছুক পুনম। এটাই তাদের জন্য পুনমের মেসেজ, “আজকের প্রজন্মের জন্য আমার পরামর্শ হল, মহিলারা এখন বাড়ি ও অফিস দুটো একসঙ্গে সহজে সামলান। সুতরাং তাঁদের যেটা করতে ভালো লাগে, সেটাই করা উচিত।”

 

ফ্যাশনে কন্ট্রাস্ট

অনেকেই মনের মতো পোশাক বেছে নেওয়ার পরেও সাজ নিয়ে ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারেন না একটাই কারণে – একথা ঠিক যে সাধারণ সাজও অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায় সঠিক কন্ট্রাস্ট-এর ব্যবহারে।

ট্র্যাডিশনাল সাজ যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে কনট্রাস্ট করে পোশাক পরার কোনও বিকল্প নেই। তা দেখতেও নিশ্চিতভাবেই খুব ভালো লাগে। কিন্তু Contrast in fashion -এরও একটা ব্যাকরণ আছে, সেটা না মেনে চললে কিন্তু দেখতে ভালো লাগবে না।

প্রথম নিয়ম হচ্ছে, হালকা আর গাঢ় রঙে ভালো কনট্রাস্ট হয়। যেমন ধরুন সাদা আর কালো হচ্ছে খুব ভালো কনট্রাস্ট। সেই নিয়ম মেনেই সাদা আর লালও দারুণ কম্বিনেশন। তবে একটি শেডের লাইট আর ডার্ক টোন দিয়েও খুব ভালো বৈপরীত্য তৈরি করা সম্ভব – গাঢ় নীল আর হালকা নীল পাশাপাশি রেখে দেখতেই বুঝতে পারবেন ।

একটি কালার ফ্যামিলির একাধিক শেডের মধ্যেও কনট্রাস্ট করানো সম্ভব। যেমন ধরুন, হলুদ আর কমলার বৈপরীত্য সুন্দর। আবার কালার হুইলের একেবারে বিপরীত দিকে থাকা রং, যেমন সবুজ আর বেগুনি বা নীল আর গোলাপির কনট্রাস্টও ভালো।

কিছু শেড আছে, যেগুলি ‘শীতল’ তকমা পায় – Cool shades -এর মধ্যে পড়ে নীল, সবুজ। ‘ওয়ার্ম’ বা উষ্ণ হচ্ছে লাল-হলুদ-কমলা। নিউট্রাল হচ্ছে কালো, সাদা, গ্রে। আপনি চাইলে সাদা কালো শাড়ির ‘উষ্ণ’ টোনের কনট্রাস্ট করতে পারেন লাল ব্লাউজের সঙ্গে । তা দেখতে চমৎকার লাগবে। লাল লিপস্টিক আর টিপের সঙ্গে শাড়িটি পরলে তো দেখতে আরও সুন্দর লাগবে।

বিভিন্ন ধরনের জ্যামিতিক নকশা দিয়েও কনট্রাস্ট করা যায়, আবার ছোটো এবং বড়ো আকারের প্রিন্ট দিয়েও তা করা সম্ভব। যারা প্রথমবার কনট্রাস্ট করে পোশাক পরছেন, তারা রং দিয়েই এক্সপেরিমেন্ট শুরু করুন। তার পর না হয় অন্যগুলো ট্রাই করে দেখতে হবে।

আজকাল অনেকেই ইন্ডিগো বাগড়ুর সঙ্গে লাল আজরখ ব্লাউড দিয়ে বা সবুজ জংলা কলমকারীর সঙ্গে হলুদ ব্লক প্রিন্ট কন্ট্রাস্ট করেন।  আসল কথা হল ব্যালেন্সিং-এর সেন্স। কোন দুটি রঙে বৈপরীত্য আনবেন, যাতে তা দেখতেও এস্থেটিক লাগবে, সেটা কিন্তু আপনাকেই বুঝতে হবে। প্লেন শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টেড ব্লাউজ, কুর্তির সঙ্গে কন্ট্রাস্ট রঙের স্ট্রেট প্যান্টে বা পালাজো — যেটাই পরুন না, রঙের ব্যবহারে যেন থাকে একটা ভারসাম্য।

পিছল শেষ পর্ব

ঠিক সময়ে নরেন বাড়ি ঢুকল। জানে সীমা ওর উপর রেগে থাকবে, তাই তার পছন্দের উপহারও সঙ্গে নিয়ে এসেছে নরেন। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, যা ভেবে এসেছিল তার কিছুই ঘটল না বরং নরেনের গলা জড়িয়ে গদগদ স্বরে তাকে স্বাগত জানাল সীমা।

—কী ব্যাপার, তোমার শরীর ঠিক আছে তো সীমা?

—কেন কী হয়েছে আমার? নরেনের প্রশ্ন করার কী কারণ বুঝেও সীমা কিছু না বোঝার ভান করল।

—না কিছু নয়। চলো আজ এক্ষুনি তোমার বার্থডে সেলিব্রেট করব, বলে নরেন সীমাকে নিজের কাছে টেনে নিল। সীমাও কোনও প্রতিবাদ করল না। ওর রাগ পড়ে গেছে ভেবে নিয়ে নরেনও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আনন্দে পুলকিত হয়ে উঠল।

বাইরে কয়েকদিন কী করল, কী হল ইত্যাদি গল্পের ঝুলি নিয়ে বসল নরেন। সীমা নিজেই নিজেকে দেখে আশ্চর্য হল। আজ নরেনের এই গল্পগুলো সীমার মনে উৎসাহ জোগাতে না পারলেও ওর মনে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়াও জাগাল না। নরেনের সামনে বসে থাকলেও কোনও কিছুই যেন ওর কানে প্রবেশ করছিল না। ওর মন অন্য কোথাও পড়ে ছিল। ওর মনে হচ্ছিল অনিল যখন গল্প করে তখন অপরের রুচি এবং আগ্রহের কথা মাথায় রেখে কথা বলে। ও কথা বললে কেউ বিরক্তবোধ করবে না অথচ নরেন? নিজের ইগো স্যাটিসফাই করার মতো খালি কথা বলে। তাতে অপরের রুচি থাকল কি থাকল না সেটা ওর ভাবনাতেই আসে না।

কথায় কথায় অনেকটা রাত হয়ে গেল। রাতে বিছানাতেও শুয়ে সীমা অনিলের স্পর্শ কিছুতেই ভুলতে পারছিল না। নরেনের সঙ্গে ভালোবাসার সমুদ্রমন্থনের মধ্যেও অনিলের স্মৃতিই ওকে বারবার উত্তেজিত করে তুলছিল।

পরের দিন নরেন অনিলকে সঙ্গে নিয়ে অফিস থেকে বাড়ি ফিরল। সীমা চা নিয়ে ঘরে ঢুকতেই হঠাৎই অনিল বলে বসল, স্যার আমি আপনার অনুপস্থিতিতে ম্যাডামের পুরো খেয়াল রেখেছিলাম। অনেকবার এখানে এসে ম্যাডামের সঙ্গে গল্প করে গেছি, ম্যাডামের কাছ থেকে নিশ্চই শুনে থাকবেন সব কথা।

সীমা ঘুরে অনিলের দিকে তাকাল, যেন ওর চুরি ধরা পড়ে গেছে। নরেন অনিলের কথা যেন শুনতেই পেল না, অনিলের সঙ্গে অফিসের কথা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সীমা অনেক্ষণ ওখানে বসে রইল অনিলের দৃষ্টি যদি পড়ে ওর উপর, এই আশা নিয়ে অনিলের স্পষ্টবাদিতায় সীমার হৃদয়, মন এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল যে, তার কাছে অনিলের জায়গা আরও উচ্চস্থান পেল। ওর মনে হল অনিলের মতো মানুষ কাউকে ঠকাতে পারে না।

নানা প্রশ্নের ভিড়ে সীমার মন দিশাহীন নাবিকের মতো এদিক ওদিক ঘূর্ণির মধ্যে পাক খেতে লাগল। সীমা নিশ্চিত ছিল এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একমাত্র অনিলই দিতে পারে। কতবার ওর মনে হয়েছে নিজেকে অনিলের কাছে সমর্পণ করার কথা কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে আবার পিছিয়ে এসেছে।

নরেন আর অনিলের কথার মধ্যে কখনও সীমাও নিজের মতামত ব্যক্ত করত। সীমার কথার সম্মান রেখে সম্পূর্ণ মর‌্যাদার সঙ্গে অনিল ওর সঙ্গে কথা বলত। এতে অনিলের প্রতি সীমার আকর্ষণ আরও বাড়তে লাগল। সীমার মনে পুরো বিশ্বাস ছিল যে, অনিলও ওকে পছন্দ করে। কিন্তু লোক-সমাজের কথা মাথায় রেখে সীমাকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না।

দুসপ্তাহ পর নরেন এসে জানাল, ওকে অফিসের কাজের জন্য একদিন শহরের বাইরে থাকতে হবে। ওইদিন ও বাড়ি ফিরতে পারবে না। সীমা যেন হাতে চাঁদ পেল। অন্য সময় হলে নরেন বাড়িতে থাকবে না শুনেই ওর মুড অফ হয়ে যেত, কিন্তু আজ মনটা উত্ফুল্ল হয়ে উঠল। নরেনের জামাকাপড় গোছাতে গোছাতেই মনে মনে ঠিক করে নিল আজই অনিলের সঙ্গে দেখা করে ওকে নিজের মনের অবস্থা সব খুলে বলবে। নরেনের বাড়ি থেকে বেরোনোর জন্য অপেক্ষা করতে লাগল সীমা।

সন্ধেবেলায় নরেনের অনুপস্থিতিতে সীমা অনিলকে ফোন করল, হ্যালো, আপনার সঙ্গে আমার কিছু দরকারি কাজ আছে, সন্ধে আটটা নাগাদ আমার বাড়িতে চলে আসবেন প্লিজ। ফোন রাখতে গিয়ে সীমার হাত কেঁপে উঠল। ওর বিবেক ওকে বারবার সাবধান করল যে, একজন বিবাহিতা স্ত্রী হয়ে স্বামী ব্যতীত পরপুরুষের চিন্তা করাটাও পাপ, অসামাজিক কাজ, যেটাতে মর্যাদা লঙ্ঘিত হবে স্ত্রীয়েই।

সীমা নিজেই নিজের মনকে বোঝাল, আমি এখনও পর্যন্ত এমন কোনও কাজ করিনি যাতে আমার মর‌্যাদা লঙ্ঘিত হতে পারে। আমি শুধু চেয়েছি আমার সঙ্গে যার চিন্তধারা মেলে তার ভালোবাসাটা মনের মধ্যে উপলব্ধি করতে। বিদেশে তো বিবাহিতা হয়ে অনেকেই বন্ধুত্ব করে পরপুরুষের সঙ্গেও।

ভবিষ্যতের রূপকথার কল্পনায় সীমা নিজেকে হারিয়ে ফেলল। অনিল অবিবাহিত, ও যদি সত্যিই আমাকে ভালোবাসে তাহলে সারাজীবন এই সম্পর্কের মর‌্যাদা রক্ষা করবে। রাস্তা পিছল হলেও প্রথম পদক্ষেপ থেকেই অনিল ঠিক আমাকে সামলে নিতে এগিয়ে আসবে একইসঙ্গে পা ফেলার জন্য। সবকিছু বাজি রেখেও এই একটাই অনুভতি থেকে যাবে যেটা পারবে একমাত্র আমাকে আনন্দ দিতে।

সীমার চিন্তায় বাধা পড়ে। ওর নিজেরই অন্তরাত্মা ওর এই চিন্তার প্রতিবাদ করে ওঠে। এসব ও কী চিন্তা করছে? অনিলের ভালোবাসায় পাগল হয়ে এতটা নীচে নিজেকে নামানো কি এতই দরকার? নরেনকে তাহলে ও কী উত্তর দেবে?

নিজের ভুল বুঝতেই সীমার মন অবসাদগ্রস্ত হয়ে ওঠে। নরেনের অনুপস্থিতি ওকে পীড়া দিতে থাকে। ও ঘাবড়ে যায় কী করে ও কালিমালিপ্ত মন নিয়ে নরেনের মুখোমুখি হবে? নরেন ওর মনের কথা ধরতে পেরে গেছে কি? মনে মনে ঠিক করে সীমা আর ও এই ভুল করবে না। অনিলের সঙ্গে কথা বলবে, একলা বাড়িতে থাকলে আর কখনও অনিলকে বাড়িতে ডাকবে না। নিজে বরং অনিলকে নিয়ে কোনও রেস্তোরাঁয় বসে কথা বলবে।

নিজের মনের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই ঘড়ির দিকে চোখ গেল সীমার। প্রায় সাতটা বাজতে চলেছে। বাইরে বেরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে একটা ট্যাক্সি নিয়ে অনিলের বাড়ি পেঁছে গেল। দরজার বাইরে থেকেই শুনতে পেল, অনিল কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। শঙ্কিত মনে কান রাখল দরজায়।

শুনতে পেল অনিল বলছে, জানি না, স্যারের বউ সবসময় কী সমস্যার মধ্যে থাকে? স্যার বাড়িতে না থাকলেই অন্য পুরুষদের বাড়িতে ডেকে পাঠায়। আমার তো ভয় লাগে এই ধরনের মেযোনুষদের দেখলে।

সীমা নিজের সম্পর্কে এরকম আলোচনা শুনে স্নাযুবৎ কাঠের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। অনিলের আরও কথা ওর কানে আসতে থাকে, ঠিক আছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি তোমার কাছে যাচ্ছি।

অনিলের কথা শেষ হতেই সীমা নিজেকে টেনে রাস্তায় এনে অপেক্ষমান ট্যাক্সিতে উঠে বসে। ড্রাইভারকে বলে অনিলের গাড়িটাকে ফলো করতে। খানিকটা পথ পার করে অনিলের গাড়ি একটা রেস্তোরাঁর সামনে এসে দাঁড়ায়। সুন্দরী এক যুবতি রেস্তোরাঁর বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল, অনিলকে দেখে এগিয়ে এসে অনিলের পাশে গাড়িতে উঠে বসল। অনিলের উষ্ণ অভ্যর্থনা পিছনে ট্যাক্সিতে বসে থাকা সীমার চোখ এড়াল না। ভাবার মতো বা কথা বলার মতো সমস্ত শক্তি সীমা হারিয়ে ফেলল।

কিছুক্ষণ পরেই অনিলের গাড়ি সীমার বাড়ির দরজায় এসে থেমে গেল। অনিল মেয়েটিকে গাড়িতে রেখেই বাড়ির দরজায় দাঁড়াল। সীমাও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই নিজের ট্যাক্সিটা দাঁড় করাল। অনিল কয়েকবার ডোরবেল বাজিয়ে কোনও সাড়া না পেয়ে সীমাকে ফোন করল। ম্যাডাম আপনি কোথায়? আপনার শরীর ঠিক আছে তো? দরজা খুলছেন না দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছি!

উত্তর রেডি করেই রেখেছিল সীমা, ভেরি সরি, হঠাৎই একটা জরুরি কাজে আমাকে বেরোতে হয়েছে। আপনাকে বিরক্ত করার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।

—না না ঠিক আছে। স্যারের অনুপস্থিতিতে আপনার খেয়াল রাখাটা আমার কাজ।

অনিলের কথা শেষ হতেই সীমা ফোন কেটে দিল। অনিল ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসল। ওকে দেখেই ওর বান্ধবীর মুখ হাসিতে ভরে উঠল।

অনিলের গাড়ি চলে যেতেই সীমা ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে নিজের বাড়িতে এসে ঢুকল। এতক্ষণ যে-বন্যার জল বাঁধ দিয়ে আটকে রেখেছিল বাড়িতে ঢুকতেই অজস্র টুকরোয় সে বাঁধ ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ল। চোখের জলে ভেসে গেল ওর যত সংযম। ওর আজ মনে হল অনিল হল দিশাহীন মেঘের ঘনঘটার মাঝে বিদ্যুতের আলোর একটা ঝলকানি। আর নরেনের উপস্থিতি হল স্বচ্ছ আকাশের মাঝে অপরকে আলো দেখানো এক বিশাল সূর‌্যের মতো। দুজনের স্পর্শের মধ্যে কতটা তফাত, সেটা আজ প্রথম উপলব্ধি করতে পারল সীমা।

ভাবল সময় এখনও ওর হাত থেকে পিছলে যায়নি। নিজের মন্দবুদ্ধির জন্য পস্তানো ছাড়া ওর আর কোনও উপায়ও ছিল না। নরেনের কথাই ওর বারবার মনে পড়ছিল। অধৈর্য হয়ে চোখের জল মুছে সীমা নরেনের ফেরার অপেক্ষা করতে লাগল।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব