সারপ্রাইজ

অজয়ের টুর আছে। বাড়ি থেকে বেরোবে। ওর পাশে দাঁড়িয়ে মা তনুজা এবং স্ত্রী রিনি।

মায়ের মুখ গম্ভীর দেখে অজয় বলল, মা, এত মন খারাপ করছ কেন? মাত্র এক সপ্তাহের জন্য তো টুর-এ যাচ্ছি। রিনিকে দ্যাখো, ও তো মন খারাপ করছে না, হাসিমুখে রয়েছে। টেক কেযার মা। নিজের এবং রিনির খেযাল রেখো। শনিবার সকালে আমি ফিরে আসব।

বাই মা, বাই রিনি বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল অজয়।

তনুজা কিছুক্ষণ যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থেকে, তারপর বিষণ্ণ বদনে দরজা বন্ধ করলেন।

রিনি নিজের বেডরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে মোবাইল ফোনটা টেবিল থেকে হাতে তুলল।

দুকামরার ফ্ল্যাট। তনুজার জন্য একটা ঘর বরাদ্দ রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে তিনি

ড্রইংরুম-এর সোফায় বসে থাকেন। ছেলে বেরিয়ে যাওয়ার পর আজও তাই সোফায় বসলেন তনুজা।

ছেলে-বউমার বেডরুম-এর বাইরেই রয়েছে সোফাটি। ওখান থেকে ঘরের ভিতরের কথা শোনা যায় অনেকটাই।

দরজা বন্ধ করে রিনি কারওর সঙ্গে ফোনে কথা বলছে। প্রথমে নীচু স্বরে কথা বলছিল। কিন্তু কথা বলতে বলতে স্বর কখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে, তা খেয়াল করেনি রিনি। তাই, তনুজা স্পষ্টতই শুনতে পেলেন, কারও সঙ্গে এখন লাঞ্চ-এ বেরোবে রিনি এবং সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরবে।

আধা ঘন্টা বাদে সেজেগুজে, হাতে পার্স নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল রিনি। তনুজা অবাক হয়ে দেখলেন যে, তাঁকে কিছু না বলেই, তাঁর সামনে দিয়ে রিনি বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে।

মাথার যন্ত্রণা শুরু হল তনুজার। দুর্ভাবনা গ্রাস করল তাঁকে। মা-ছেলের সুখের সংসারে ঢুকে, এ মেয়ে সব তছনছ করে দিতে চলেছে ভেবেই, দ্বিগুন হল মাথার যন্ত্রণা। তনুজার তখন মনে পড়ে গেল, অজয় যখন রিনির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা তাঁকে বলেছিল, তখন তিনি খুশি হয়েছিলেন, অকপটে স্বাগত জানিয়েছিলেন রিনিকে। ভেবেছিলেন তাঁর ছেলের জীবন আরও আনন্দে ভরে উঠবে।

অজয় বিয়ে করার ঠিক দুবছর আগে, এক পথ-দুর্ঘটনায় মারা যান অজয়ের বাবা। তাই, মা-ছেলে মন খারাপ নিয়ে দিনযাপন করত। তারপর রিনি বউ হয়ে আসার পর, তনুজা এবং অজয়ের মন খারাপের রেশ কেটে গিয়েছিল অনেকটাই।

তনুজা যেমন শিক্ষিতা, তেমনই উদারমনা এবং লড়াকু। স্বামীকে হারানোর পর, ছেলেই তাঁর সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিল রিনি বউ হয়ে আসার আগে পর্যন্ত। কিন্তু এখন তনুজার খুশি যেন স্পিরিটের মতো হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে ক্রমশ।

তনুজা প্রাচীনপন্থীও নন মোটেই। এক সময় কলেজে অধ্যাপনাও করেছেন।

নারী-পুরুষের মধ্যে বন্ধুত্ব কিংবা মেলামেশাকে তিনি নীচু নজরে দেখেন না। কিন্তু, অজয় টুর-এ যাওয়ার পরই কেন রিনির কাছে এত ছেলে আসে, তা ভেবেই খটকা লাগতে শুরু করে তাঁর মনে।

একবার তো অজয় টুর-এ বেরিয়ে যাওয়ার এক ঘন্টা পর একটি ছেলে আসে তাঁদের ফ্ল্যাটে। কলিং বেলের শব্দ শুনে তনুজা দরজা খোলেন।

নমস্কার আন্টি, আমি সুদীপ, রিনির বন্ধু। ও কোন ঘরে?

তনুজা রিনির ঘর দেখিয়ে দিতেই, ছেলেটি আর কোনও কথা না বলে সোজা রিনির বেডরুম-এ চলে যায়।

অনেকক্ষণ কোনও সাড়া না পেয়ে তনুজা ডাক দেন রিনিকে। কিন্তু রিনির পরিবর্তে সুদীপ দরজার বাইরে এসে বলে, রিনির খুব মাথা ধরেছে, রেস্ট নিচ্ছে।

ওইরকম কথা শুনে তনুজার মুখ থেকে বেরিয়ে গেল, তা তুমি বাবা কী করছ?

অমি ওর মাথার পাশে বসে আছি। রিনিই আমাকে ফোন করে ডেকেছে। বলেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল ছেলেটি।

রাগে, অপমানে তনুজার তখন ইচ্ছে হয়েছিল, দরজা খুলিয়ে ছেলেটিকে বাড়ির বাইরে বের করে দিতে। কিন্তু, নিজের অসহায়ত্বের কাছে হেরে গিয়ে সে কাজ আর করতে পারেননি তনুজা। কারণ, ততক্ষণে কিছু একটা আন্দাজ করে রিনি দরজা খুলে বেরিয়ে এসেছিল। তার পরনে তখন রাতপোশাক। সে তনুজার চোখে চোখ রেখে বলেছিল, আমার কাছে যারা আসবে, তাদের এত প্রশ্ন করবেন না। একটা কথা জেনে রাখুন, আমি স্বাধীনচেতা। যেমন খুশি, যেভাবে খুশি চলব। বেশি খবরদারি সহ্য করব না। আমি কাউকে ভয় পাই না। আর এ নিয়ে যদি ছেলের কাছে নালিশ করেন, তার ফল খুব খারাপ হবে।

এ কথা শুনে রাগ সামলাতে পারলেন না তনুজা। বললেন, কেন, কী করবে তুমি আমার? নির্লজ্জ মেয়ে কোথাকার।

মা-ছেলের নামে থানায় গিয়ে এমন কমপ্লেন করব যে, জামিন পাবেন না। মনে রাখবেন, বাড়ির বউয়ের গায়ে হাত তোলা আর পন চাওয়ার কেস কিন্তু নন-বেলেবল। দাপটের সঙ্গে জানায় রিনি।

রিনির শাসানি শুনে ভয়ে ঘেমে স্নান করে গেলেন তনুজা। তাঁর মাথার মধ্যে তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল, আমার সহজ-সরল ভদ্র ছেলেটা এ কোন রাক্ষসীর পাল্লায় পড়ল!

এরপর মন খারাপ করে সোফায় বসে পড়লেন তনুজা। তাঁর দুচোখ গড়িয়ে তখন জলের ধারা নামছে। আর এর ঠিক মিনিট দশেক পরে, সুদীপের হাত ধরে সেজেগুজে বেরিয়ে গেল রিনি।

না, এখানেই থেমে থাকেনি রিনির ঔদ্ধত্য। অজয় বাড়ির বাইরে গেলেই, সুদীপ ছাড়াও আরও প্রায় তিন-চারজন ছেলে নিয়মিত এসে রিনির ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিত।

রিনির অসভ্যতামি দেখে তনুজা প্রতি মুহূর্তে শুধু ভাবতেন, কী করে ছেলেকে তিনি বাঁচাবেন এই মেয়েটির হাত থেকে!

অনেকদিন সহ্য করার পর তনুজা একদিন রিনিকে বলেই বসলেন, তুমি অজয়কে ছেড়ে চলে যাও না কেন? যে-কোনও একজনের সঙ্গে থাকলে ভালো হয় নাকি?

তনুজার কথা শুনে রিনির সপাট জবাব, থাকব এখানেই। আর জেনে নিন, একজনের কাছে বাঁধাও থাকব না।

তাহলে অজয়কে বিয়ে করেছিলে কেন?

আপনার ছেলে আমাকে ফুঁসলে বিয়ে করেছে। খাঁচায় বন্দি থাকার মতো মেয়ে আমি নই। তাই, যত চুপচাপ থাকবেন, মা-ছেলের ততই মঙ্গল।

সেদিন রিনির স্পর্ধা দেখে সত্যিই খুব ভয় পেযে গিয়েছিলেন তনুজা। তাই, আর কথা বাড়াননি।

অজয় টুর-এ গেলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার পর বউয়ের সঙ্গে কথা বলত। রিনি তখন এমন অভিনয় করত যে, অজয় বুঝতেই পারত না কী ঘটে চলেছে ওর অনুপস্থিতিতে। শুধু তাই নয়, অজয় বাড়ি থাকলে তো রিনি এমন ভালোবাসা দেখায় যে, হঠাৎ কেউ দেখলে ভাববে, পতি-অন্তপ্রাণ। আর এসব দেখে তনুজার যখন সহ্য হতো না, তখন তিনি মনমরা হয়ে থাকতেন।

বাড়ি ফিরে মাকে গম্ভীর থাকতে দেখে অজয় জিজ্ঞেস করেছিল, আমি বাড়িতে না থাকলে কি শাশুড়ি-বউমার ঝগড়া হয়? এমন মুখ গোমড়া করে আছো কেন?

ছেলের প্রশ্ন শুনে তনুজার চোখ বেযে যখন জল গড়িয়ে পড়তে যাবে, ঠিক তখনই তনুজার দুঃখ রাগে পরিণত করল রিনি। সে বলল, আমরা শাশুড়ি-বউমার মতো নই, মা-মেয়ের মতো। তুমি ভেবো না, আমাদের মান-অভিমান চলতেই থাকে।

রিনির কথা শুনে গা জ্বলে গেল তনুজার। একবার ভাবলেন, ছেলেকে সব বলে দেবেন, মুখোশ খুলে দেবেন রিনির। কিন্তু রিনির শাসানির কথা মনে পড়ে গেল। মা-ছেলে আইনি ঝামেলায় পড়ে যাবেন, এই ভয়ে আর মুখ খুলতে পারলেন না। পরিবর্তে, রিনির থেকে পরিত্রাণের উপায় শুধু ভাবতে থাকলেন।

সত্য চাপা থাকে না। তাই অজয়েরও চোখ খুলে গেল একদিন।

 

টুর না থাকলে, কলকাতার অফিসে গিয়ে কাজ করতে হয় অজয়কে। মার্কেটিং-এর কাজ, তাই সারা কলকাতা ঘুরেই কাজ করতে হয় তাকে। একদিন সহকর্মী প্রতীককে নিয়ে এক বড়ো রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করতে গেল অজয়। রেস্তোরাঁয় ঢুকেই ওর চোখে পড়ল, রিনি একজন তরুণের সঙ্গে বসে লাঞ্চ করছে। অজয় নিজেকে আড়াল করার জন্য একটা পিলারের পিছনের চেয়ারে বসল। তারপর মোবাইল ফোন থেকে কল করল রিনিকে।

রিনি ফোন তুলে বলল, হ্যালো।

কোথায় তুমি? জিজ্ঞেস করল অজয়।

এক বন্ধুর বাড়িতে।

বাড়ি ফিরবে কখন?

দেখছি। তাড়তাড়ি ফিরব।

এই পর্যন্ত রিনির মিথ্যেচার শোনার পর অজয় আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না। সোজা গিয়ে রিনির টেবিলের সামনে দাঁড়াল। রাগে ওর মুখ লাল হয়ে গেছে।

অজয়কে দেখে একটু চমকে ওঠার পর, নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ও, গোয়েন্দাগিরি করছ? তোমার মা পাঠিয়েছে নিশ্চয়ই?

শাট-আপ।

আলাপ করে নাও, এ আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সুদীপ।

এই কথা শুনে অজয়ের রাগ আরও বেড়ে যায়। তবে সে কিছু বলার আগে রিনি আবার বলে, এখানে বেশি সিনক্রিয়েট কোরো না, ফল ভালো হবে না।

লাঞ্চ-টাইম ছিল, তাই রেস্তোরাঁয় প্রচুর লোক। তা দেখে অজয় নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, বাড়ি চলো, যা কথা হবে বাড়িতে গিয়ে ওঠো।

দেখছ না, এখন আমি লাঞ্চ করছি। যাও, সন্ধেবেলা দেখা হবে।

রাগে অজয় কাঁপছিল। ঘটনা অপ্রীতিকর হয়ে উঠতে পারে দেখে, অজয়ের সহকর্মী প্রতীক অজয়কে রেস্তোরাঁর বাইরে নিয়ে আসে হাত ধরে। তারপর বলে, যা ঘটল তা খুব অস্বস্তিকর। ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিস অজয়। রিনির মেজাজ খুব একটা ভালো লাগল না আমার।

অজয় আর অফিস গেল না। প্রতীকের হাতে অফিসের কাজগপত্র দিয়ে ফোনে

বস-এর থেকে হাফ-ডে ছুটির অনুমতি নিয়ে সোজা বাড়ি চলে গেল সে।

অসময়ে ছেলেকে বাড়ি ফিরতে দেখে অবাক হলেন তনুজা।

অজয় পুরো ঘটনার কথা জানাল ওর মাকে। তিনি মাথায় হাত রেখে বসে পড়লেন সোফাতে।

সন্ধের একটু আগে বাড়ি ঢুকল রিনি। তনুজা এবং অজয়কে বসে থাকতে দেখে সে বলল, কি মা-ছেলে পঞ্চায়েত বসিয়ে দিয়েছ আমার বিরুদ্ধে?

অজয় উঠে দাঁড়িয়ে বলল, বেরিয়ে যাও বাড়ি থেকে।

পার্সটা সোফার উপর ছুড়ে দিয়ে ধপাস করে সোফায় বসে রিনির জবাব, কে বের করবে আমাকে, তুমি? বেশি বাড়াবাড়ি করলে মা-ছেলেকে এমন শাস্তি দেব না, সারাজীবন জেলে পচে মরবে। আমার পার্সোনাল লাইফ নিয়ে যত কম ঘাঁটাবে, ততই মঙ্গল তোমাদের।

তুমি আমাকে বিয়ে করেছিলে কেন? কোনও জোর জবরদস্তি তো ছিল না?

ও সব কথা ছাড়ো। সামাজিক স্বীকৃতি আর অর্থের প্রয়োজন ছিল, তাই তোমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম। মনে রেখো, আমি ইশারা করলে দশটা ছেলে আমার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়ে যাবে।

ধমকে, চমকে পার্সটা সোফা থেকে তুলে নিয়ে বেডরুমে ঢুকে গেল রিনি।

এই অবস্থা দেখে, মা-ছেলে অসহায় ভাবে বসে রইলেন ড্রইংরুম-এ।

এরপর অজয় রিনির সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিল। তনুজাও তাই করলেন।

কিছুদিন পর ১৫ দিনের জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার অর্ডার এল অজয়ের।

অজয়ও যেন হাঁফিযে উঠছিল বাড়ির এমন আবহে থাকতে। তাই, সিঙ্গাপুর যাওয়ার অর্ডার আসার সঙ্গে-সঙ্গে সে অ্যাকসেপ্ট করে নিল। সে এই ভেবে নিজেকে শান্ত রাখে যে, সিঙ্গাপুরে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেবে রিনির বিরুদ্ধে কী স্টেপ নেওয়া যায়। তাই সে তার মাকেও মাথা ঠান্ডা রেখে সাবধানে থাকার কথা বলে, সিঙ্গাপুর রওনা দেয়।

ছেলের অনুপস্থিতিতে তনুজা আরও অসহায় হয়ে পড়েন। সারাদিন শুধু ছেলের করুণ মুখটা তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠতে থাকে। ফোনে অজয়ের গম্ভীর, হতাশ কণ্ঠস্বর শুনে কেঁদে ফেলেন তনুজা।

না, এভাবে তো চলতে পারে না। নিজের ছেলের জীবন তিনি এভাবে নষ্ট হতে দেবেন না। রিনির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। এই কথা ভেবে একদিন তিনি কল করেন রিনির মা-কে। কিন্তু তনুজার থেকে সবকিছু শোনার পর রিনির মা দীপা যা বললেন, তা শুনে তনুজার তো মুর্ছা যাওয়ার অবস্থা।

দীপা জানালেন, আমাদের মেয়ে এমনই স্বাধীনচেতা। আমরা ব্যস্ত থাকি সারাদিন। দূর থেকে কী-ই বা করতে পারি আমরা? তাছাড়া রিনি এখন আপনার বউমা। তাকে মানিয়েগুছিয়ে নিতে হবে আপনাকেই। আর তা যদি না পারেন, তাহলে মা-ছেলের চুপ করে সব মেনে নেওয়াই বুদ্ধির কাজ হবে বলে আমার মনে হয়।

Bengali story Surprise

এদিকে অজয়ের অনুপস্থিতে রিনি যেন স্বর্গরাজ্য পেয়ে গেছে। সকালে সুদীপ আসে তো বিকেলে অন্য কেউ ওর বেডরুমে। দরজা বন্ধ রেখে চলে হইহুল্লোড়, আরও কত কী! সব দেখেশুনেও চুপ করে থাকতে বাধ্য হন তনুজা। কিন্তু মনে মনে ছেলেকে এই বিপদ থেকে বাঁচানোর পথ খুঁজতে থাকেন।

একদিন তনুজা আগে থেকে জেনে যান যে, বিকেল তিনটের সময় ঈশান নামের একটা ছেলে নিতে আসবে রিনিকে।

তনুজা জানতেন, রিনি আগে থেকে রেডি হয়ে থাকে না। সেই সময়টাকে কাজে লাগাতে নীচে নেমে গেলেন তনুজা।

অ্যাপার্টমেন্ট-এর মেইন গেট-এর বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন তনুজা। ওখানেই দেখা হয়ে গেল ঈশানের সঙ্গে।

রিনির কাছে যে-সব ছেলেরা আসে, তার মধ্যে ঈশানকে একটু অন্যরকম মনে হয়েছে তনুজার। অন্য ছেলেগুলোর মতো অত অভদ্র নয় বলেই মনে হয়েছে।

মুখোমুখি হতেই ঈশান জিজ্ঞেস করল তনুজাকে, আরে আন্টি, আপনি এখানে দাঁড়িয়ে কেন? ভালো আছেন তো?

আছি বাবা একরকম। বাজারে যাব, রিকশা পাচ্ছি না, তাই দাঁড়িয়ে আছি।

আপনি দাঁড়ান, আমি স্ট্যান্ড থেকে রিকশা পাঠিয়ে দিচ্ছি।

না না বাবা, তোমায় কষ্ট করতে হবে না। রিনি জানতে পারলে বকবে। থ্যাংক ইউ বাবা। এই যে-হেল্প করতে চাইলে, এতেই আমার মন ভরে গেল। আর যারা রিনির কাছে আসে, তারা যা ব্যবহার করে, খুব মন খারাপ হয়ে যায়। তুমি খুব ভালো ছেলে বাবা। গড ব্লেস ইউ।

অ্যান্টি আর কারা আসে রিনির কাছে?

সুদীপ আর তমালের নাম জানি, বাকিদের নাম জানি না। সরি বাবা, কথাটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। তুমি বাবা রিনিকে বোলো না। ও আমাকে শাসিয়েছে, কাউকে এসব বললে আমাকে আর আমার ছেলেকে জেলে পাঠিয়ে দেবে। তুমি রিনিকে বলবে না প্লিজ।

কথা শেষ করে তনুজা এগিয়ে গেলেন রিকশা স্ট্যান্ড-এর দিকে। আর যাওয়ার আগে তিনি আড়চোখে দেখলেন যে, ঈশান গম্ভীর হয়ে গেল। আর ঠিক এই প্রতিক্রিয়া-ই ঈশানের থেকে পেতে চেয়েছিলেন তনুজা। তাঁর উদ্দেশ্য যে সিদ্ধিলাভ করেছে, তার প্রমাণ পেলেন কিছুক্ষণ বাদে। ঈশানের সঙ্গে মুভি দেখবে বলেই বেরিয়েছিল রিনি কিন্তু এক ঘন্টা হতে না হতেই মুখ গোমড়া করে বাড়ি ঢুকে নিজের বেডরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। আর রিনি তাঁর সঙ্গে কোনও ঝামেলা না করায়, তনুজা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন যে, ঈশান তাঁর নামে নালিশ করেনি রিনির কাছে।

রিনিকে জব্দ করার প্রথম উদ্যোগ সফল হওয়ায়, দ্বিতীয় উদ্যোগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলেন তনুজা। একদিন হঠাৎ এলও সেই সুযোগ।

সম্ভবত মোবাইল বন্ধ করে ঘুমোচ্ছিল রিনি। তাই ল্যান্ডলাইনে কেউ কল করছে। ফোন তুললেন তনুজা।

হ্যালো।

ওহ্ আন্টি আপনি? রিনি কোথায়? ওর মোবাইল ফোন সুইচ অফ বলছে…!

তনুজা গলা নামিয়ে বললেন, সুদীপ ঈশান ওদের সঙ্গেই আছে হয়তো।

ওরা কারা? আপনাদের আত্মীয় কেউ?

না না বাবা, ওই তুমি যেমন বন্ধু, ওরাও তেমনই।

কয়েক সেকেন্ড থামলেন তনুজা। তারপর বললেন, সরি বাবা, রিনিকে কিছু বোলো না প্লিজ, আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে কথাটা। রিনি জানতে পারলে আমি খুব ঝামেলায় পড়ে যাব। ও বলেছে, আমি কাউকে কিছু বললে, আমাকে আর আমার ছেলেকে জেলে পাঠাবে। তুমি আমার ছেলের মতো বাবা, এই বুড়ো মানুষটার রিকোয়েস্ট রেখো। রিনিকে আমার নাম করে কিছু বোলো না প্লিজ।

তনুজার কথা শুনে ছেলেটি বলল, ঠিক আছে আন্টি, আমি আপনার নাম বলব না কিন্তু একটা শর্তে। এর পর যখনই রিনির কাছে অন্য কেউ আসবে জানতে পারবেন, আগে থেকে আমাকে ফোন করে জানিয়ে দেবেন। আমার মোবাইল নম্বরটা লিখে নিন। আমার নাম তমাল।

মোবাইল নাম্বারটা লিখে নিয়ে ফোনটা ছেড়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলেন তনুজা। তারপর কপালে হাত দিয়ে দেখলেন, ঘাম জমে গেছে। তিনি বাধ্য হয়ে যে-খেলায় মেতেছেন, রিনি জানতে পারলে যে তাঁর জীবনে চরম বিপদ নেমে আসতে পারে, তা ভেবেই তাঁর রক্তচাপ বেড়ে যাচ্ছে।

ঠিক দুদিন বাদে এক রেস্তোরাঁয় সুদীপ দেখা করবে জানতে পেরে গেলেন তনুজা। কারণ, রিনি এখন তনুজাকে কেযার করে না। তাঁর সামনেই প্রকাশ্যে কাউকে দেখা করার কথা জানায় ফোন করে।

কথা মতো তনুজা চুপিচুপি ফোন করে জানিয়ে দিলেন তমালকে। আর অনুরোধ করলেন, দেখো বাবা, আমার নাম নিও না। হাতজোড় করে রিকোয়েস্ট করছি।

নিশ্চিন্ত থাকুন আন্টি, আপনার নাম করব না। আমার বড়ো উপকার করলেন আপনি। থ্যাংকস।

তমালের থ্যাংকস পেয়ে কিছুটা ভয় কাটল তনুজার। ফোন রেখে এক গেলাস জল পান করলেন তিনি।

রিনি সুদীপের সঙ্গে দেখা করার জন্য বেরিয়ে গেল। আর তনুজা অপেক্ষা করতে লাগলেন, এরপর কী ঘটে তা জানার জন্য।

 

ঘন্টাখানেক বাদে ল্যান্ডলাইনটা বেজে উঠল। তনুজা ফোন তুলে হ্যালো বলতেই তমালের গলা শুনতে পেলেন, আন্টি, থ্যাংকস আ লট। আজ রিনির মুখোশ খুলে দিয়েছি। অনেক লুটেছে আমার থেকে। বাজারি মহিলা একটা। সুদীপও জানাল, ওর থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঝেড়েছে। আমরা দুজনেই থাপ্পড় মেরেছি রিনিকে। ওকে আমরা সহজে ছাড়ব না। ইমোশনালি ব্ল্যাকমেল করেছে আমাদের। রিনিকে শায়েস্তা করার জন্য আপনার হেল্প চাই আন্টি। এরপর বাড়িতে কেউ আসার আগে আবার আমাকে জানাবেন। আমরা গিয়ে সারা পাড়ায় ওর মুখোশ খুলে দেব। আপনারাও বাঁচবেন আন্টি। ফোন করবেন প্লিজ।

ফোন ছেড়ে সোফায় বসলেন তনুজা। আবার একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলেন তিনি।

কিছুক্ষণ বাদে বাড়ি ঢুকল রিনি। তাকে পুরো বিধ্বস্ত লাগছিল দেখতে। এসেই চুপচাপ নিজের শোওয়ার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। রাতে উঠে আর খাবারও খায়নি।

ওই দিনের ঘটনার রেশ থাকার জন্যই হয়তো দিনচারেক আর কারও সঙ্গে দেখা করেনি। কিন্তু স্বভাব যাবে কোথায়? তনুজা শুনতে পেলেন, আবার কাউকে একটা বাড়িতে আসতে বলল রিনি। তাই এই সুযোগ আর হাতছাড়া করলেন না তিনি। রিনি বাথরুমে ঢুকতেই, নিজের মোবাইল ফোন থেকে টুক করে একটা কল করে খবরটা তমালকে জানিয়ে দিলেন তনুজা।

 

সন্ধে সাতটা। রিনির ঘরের দরজা বন্ধ। ভেতরে রয়েছে জনৈক তরুণ।

কথামতো সুদীপ ও তমাল এসে উপস্থিত হল। ওদের সঙ্গে এসেছে স্থানীয় ক্লাবের আরও পাঁচ-সাতজন যুবক।

রিনির ঘরের দরজা নক্ করল ওরা। রিনি ভাবল, ওর শাশুড়ি। তাই, ভেতর থেকে ধমকের সুরে বলল, দরজা ধাক্কা দিচ্ছেন কেন? দেখছেন না আমার ঘরে লোক রয়েছে?

ততক্ষণে দরজায় লাথি মারতে শুরু করেছে ক্লাবের ছেলেরা।

চমকে গিয়ে একটা শাড়ি কোনও রকমে গায়ে জড়িয়ে দরজা খুলে দেয় রিনি। সুদীপ এবং তমাল গালিগালাজ করতে করতে ওকে টেনে বাইরে একেবারে রাস্তায় নিয়ে যায়। ভেতরে থাকা ছেলেটি তখন কোনও রকমে প্যান্টটা পরেছে কিন্তু জামা পরতে সময় পায়নি। ক্লাবের দু-তিনজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করে ভিডিয়ো করতে শুরু করেছে। আর রাস্তায় তখন সারা পাড়ার লোক জড়ো হয়ে তামাশা দেখতে শুরু করে দিয়েছে।

 

সুদীপ এবং তমাল তখন ক্লাবের ছেলেদের মাধ্যমে সারা পাড়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে, বাড়ির বউ, স্বামীর বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে ফস্টিনষ্টি করে, আজ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। শুধু তাই নয়, এও সবাই ততক্ষণে জেনে গেছে যে, নিরীহ শাশুড়িকে ধমকে চমকে ভয় দেখিয়ে রেখেছে।

তনুজারা ওই পাড়ায় দীর্ঘদিন ফ্ল্যাট কিনে বাস করছেন। পাড়ার অনেকেই তাঁদের ভালো মানুষ হিসাবেই জানে। তনুজার ছেলে অজয়েরও সামাজিক সম্মান আছে।পাড়ার মহিলারা মোবাইল ক্যামেরার সামনে রিনিকে দিয়ে দোষ স্বীকারও করিয়ে ছেড়েছে। আর, ক্লাবের ছেলেদের সহযোগিতায়, আইনজীবীর মাধ্যমে সমস্ত অন্যায় লিখিত ভাবে রিনির থেকে আদায় করে নিয়েছেন তনুজা। একাধিক প্রতিবেশী সাক্ষীও দিয়েছেন স্বেচ্ছায়। আর ওই লিখিত কাগজের একটা কপি সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী এবং ক্লাবের ছেলেদের মাধ্যমে থানায়ও জমা করিয়ে রিনির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান তনুজা।

এরই মধ্যে রিনির ঘরে থাকা ছেলেটির ভিডিয়ো বয়ান নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর, তখনই নিজের কিছু জিনিসপত্র নিয়ে তনুজাদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে রিনি।

ছেলে অজয় অফিসের কাজে বিদেশে ব্যস্ত থাকবে, এই ভেবে কোনও কিছু জানাননি তনুজা।

নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি ফেরার কথা জানায় অজয়। ফ্লাইট ল্যান্ড করার আগে

এযারপোর্ট-এ পেঁছে যান তনুজা।

এযারপোর্ট-এর বাইরে আসতেই অজয় তনুজার ফোন পায়।

মাকে এযারপোর্ট-এ দেখে চমকে যায় অজয়। ওর মনে ভয় চেপে বসে। কিন্তু মাকে হাসিমুখে দেখে অবাক হয় পর মুহূর্তেই।

অজয় কিছু বলার আগেই তনুজা তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগের সুরে বলেন, বিপদ কেটে গেছে অজয়, রিনিকে আমি তাড়িয়ে ছেড়েছি।

কীভাবে!

অজয় বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে। তনুজা তখন রিনির দোষ স্বীকার আর থানায় জানানো অভিযোগের কপি তুলে দেন অজয়ের হাতে।

কপি পড়ার পর অজয় স্তম্ভিত হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ড বাদে যখন ঘোর কাটে, তখন তনুজাকে প্রশ্ন করে, অসম্ভবকে সম্ভব করলে কী ভাবে মা!

আমি তোর মা, আমার চোখের সামনে অন্যায় ভাবে কেউ তোকে কষ্ট দেবে, জীবন শেষ করে দিতে চাইবে আমি কী করে চুপচাপ বসে থাকব বল? তনুজার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে।

এযারপোর্ট থেকে গাড়িতে বাড়ি ফেরার পথে তনুজা সমস্ত ঘটনা জানালেন অজয়কে। সব শুনে অজয় বলল, নিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তুমি আমার জন্য যা করলে মা, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো সারপ্রাইজ। আই অ্যাম প্রাউড অফ ইউ। লভ ইউ মা।

মায়ের দুকাঁধ ধরে শিশুর মতো বুকে মাথা রাখে অজয়। তনুজার চোখ আবার জলে টইটম্বুর। মা-ছেলের মনে তখন গভীর সুখের অনুভতি। যেন যুদ্ধ শেষে নবজীবনলাভ। পিছনের সিটে সুখ বোঝাই করে গাড়ি ছুটে চলেছে বাইপাসের রাস্তা ধরে।

বন্ধুত্বে উৎসাহ দেখাচ্ছে পরিচিত যুবক

আমি ১৯ বছর বয়সি অবিবাহিত যুবতি। একটি ছেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং প্রায় এক বছর সম্পর্কটা টিকে ছিল। হঠাৎ-ই জানতে পারি ছেলেটি বিবাহিত। আমি খুবই মানসিক আঘাত পাই এবং সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসি। আমি চাইনি, আমার জন্য ছেলেটির সংসারে অশান্তি হোক। আমাকে হয়তো ছেলেটি বিয়ে করতে রাজি ছিল কিন্তু এতে ওর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটাতে হতো যেটা আমি একেবারেই চাইনি।

এখন হঠাৎ-ই আমার একজন ছেলে বন্ধু আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহ দেখাচ্ছে। আমি এতদিন শুধু বন্ধু হিসেবেই ওর সঙ্গে মিশতাম আর হাসিঠাট্টা করতাম।  সুতরাং ওর এই পদক্ষেপ আমি পছন্দ করছি না। বুঝতে পারছি না কী করব, ওর সঙ্গে মেলামেশা করা কি ছেড়ে দেব?

বিবাহিত ছেলেটির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে খুব ভালো করেছেন কারণ নিজের সুখের জন্য অন্যের দাম্পত্য নষ্ট করা উচিত নয়। আর আপনি যে-বন্ধুটির কথা জানিয়েছেন, তার সঙ্গে যদি বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনও সম্পর্কে জড়াতে না চান, তাহলে স্পষ্টই তাকে সেটা জানিয়ে দিন। ছেলেটি হয়তো সত্যি আপনাকে ভালোবাসে তাই বন্ধুত্বের কিছু বেশি আপনার কাছে আশা করছে। আপনার মনের কথা পরিষ্কার করে জানতে পারলে ছেলেটিও হয়তো আপনাকে জোর করা বন্ধ করে দেবে। যদি সেটা না হয় এবং তৎসত্ত্বেও ছেলেটি আপনাকে প্রেশার দিতে থাকে তাহলে আপনি কথা বলা বন্ধ করে দিতে পারেন।তাহলে ও পরিষ্কার ভাবে আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে এবং আপনাকে বিরক্ত করা বন্ধ করে দেবে।

 

পাস্তায় পেটপুজো

সুস্বাদু ও সহজে তৈরি করা যায় বলে পাস্তা  বাচ্প্রিচাদের দারুণ প্রিয় একটি খাবার। পাস্তা নানা আকার ও মাপের হয়  এর শেপ-ই মূলত আকৃষ্ট করে বাচ্চাদের৷ বিভিন্ন ধরনের স্বাদের পাস্তা ইটালিয়ান কুইজিনে স্থান করে নিয়েছে৷। কিন্তু আপনি পাস্তা নিয়ে নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন বাড়িতেই৷ ইতালীয় খাবার হওয়া সত্ত্বেও ভারতে বিপুল ভাবে  জনপ্রিয় পাস্তা। পাস্তা এতটাই সুস্বাদু খাবার, এর কথা ভাবলেই অনেকের খেতে ইচ্ছে করে।

ভারতীয় পদ্ধতিতে পাস্তা তৈরি করতে হলে এতে টমেটো, পেঁয়াজ, বাঁধাকপি ,মটরশুঁটি ব্যবহার করে রান্না করা যায়। পাস্তা রান্না করার জন্য আগে সেদ্ধ করা হয়। পাস্তা সেদ্ধ করার সময় খেয়াল রাখা খুবই জরুরি যেন ভেঙে না যায়।খেয়াল রাখবেন পাস্তা যেন অতিরিক্ত সেদ্ধ না হয়ে যায়৷ পাস্তা সেদ্ধ করার পর এক চা-চামচ তেল দিলে তা গায়ে গায়ে লেগে যায় না।আমরা এখানে শেয়ার করছি দুটি মনপসন্দ রেসিপি৷

গ্রিল্ড কলিফ্লাওয়ার পাস্তা

উপকরণ : ১ কাপ ফুলকপির টুকরো, ১ কাপ পাস্তা সেদ্ধ করা, ১ ছোটো চামচ মিক্সড হার্বস, ১ বড়ে চামচ অলিভ অয়েল, ১ ছোটো চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, অল্প পরিমাণে লাল, সবুজ ও হলুদ ক্যাপসিকামকুচি, ১/৪ ছোটো চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : গ্রিলারে কপির টুকরো, লাল, সবুজ, হলুদ ক্যাপসিকামের টুকরো, অলিভ অয়েল ছড়িয়ে গ্রিল করে নিন। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল প্যানে দিয়ে গরম করুন। এবার পাস্তার সঙ্গে নুন, মিক্সড হার্বস ও গ্রিলড সবজি, হালকা নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন। গরম গরম সার্ভ করুন।

Roasted bel paper pasta in cream Recipe

রোস্টেড বেল পেপার পাস্তা ইন ক্রিম

উপকরণ : ১টা সবুজ ক্যাপসিকাম, ১ কাপ পাস্তা সেদ্ধ করা, ২টো পেঁয়াজকলি, ১টা কাঁচালংকা, ১/২ কাপ পনিরের ছোটো ছোটো টুকরো, ১ বড়ো চামচ তেল, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : ক্যাপসিকাম ভালো ভাবে ধুয়ে বীজ পরিষ্কার করে একটু রোস্ট করে নিন। এর ফলে উপরের খোসা নরম হয়ে যাবে। একই ভাবে পেঁয়াজও রোস্ট করে নিন। মিক্সিতে পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম আর কাঁচালংকা, একসঙ্গে বেটে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন। প্যানে অল্প তেলে এই পেস্ট নাড়াচাড়া করার পরে, পনির আর পাস্তা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ক্রিম ছড়িয়ে গরম গরম সার্ভ করুন।

সিংহলের প্রাচীন রাজধানী

ছোটোবেলায় শুনেছিলাম রামেশ্বরমের সমুদ্রপাড় থেকে ধনুষ্কোটির সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে পাকপ্রণালী পার হয়ে এককালে যাওয়া যেত ভারত থেকে সিংহলে। সেই রাস্তার পুনর্নির্মাণ হয়নি, সড়কপথে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আর বাস্তাবায়িত হয়নি। তাই আকাশপথেই কলকাতা থেকে পৌঁছেছি কলম্বোর বন্দরনায়েকে বিমানবন্দরে। তারপর একদিন কলম্বো সফর করে চলেছি অনুরাধাপুরের পথে। দূরত্ব প্রায় ২০৬ কিমি। প্যাকেজ ট্যুর হলেও আমরা পাঁচজন নিজস্ব একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়েছি। লম্বা পথ, একবার শুধু কার্তিক মন্দিরে নেমে দর্শন করে আবার এগিয়ে চলেছি। পথে সে রকম দর্শনীয় কিছু নেই– ফাঁকা মাঠ, মাঝে মাঝে চাষের খেত, গাছপালা, গ্রাম, আধাশহর। সঙ্গে আনা শ্রীলংকা সম্পর্কিত তথ্য পুস্তকগুলিতে মনোযোগ দিই।

শ্রীলংকার ইতিহাসে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময় দেশে ভগবান বুদ্ধের পদার্পণ ঘটে আর এই ঘটনাই দেশের সভ্যতা প্রসারের ভিত্তি। কথিত আছে আরও আগে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ভারত থেকে বিতাড়িত হয়ে রাজকুমার বিজয়, শ্রীলংকায় আসেন আর এই দ্বীপের প্রথম রাজা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন সিংহলী জাতিকে। প্রথম সিংহলী রাজত্ব খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে এই অনুরাধাপুরের কাছেই প্রতিষ্ঠিত হয়। অনুরাধাপুরের ধবংসাবশেষ দক্ষিণ এশিয়ার এক এমনই আকর্ষণ যা স্মৃতিকে অনেক প্রাচীন সভ্যতার কথা মনে করিয়ে দেয়।

অনুরাধাপুরের এই বিশাল চত্বর জুড়ে পুরাতাত্ত্বিক ও স্থাপত্যশিল্পের অতুলনীয় সমষ্টি। কখনও দেখা যাবে স্তূপ (দাগোবা), বিশাল আকৃতির ইটের স্থাপত্য, প্রাচীন পুষ্করিণী বা ভগ্ন মন্দির যা কয়েক হাজার বছর আগে অনুরাধাপুরে শ্রীলংকার রাজাদের শাসনের সময় নির্মিত। আজকের দিনেও তার অনেকগুলি যেন জীবন্ত! কখনও পবিত্র বা ধার্মিক স্থান হিসাবে মানুষের সমাগম হচ্ছে। মন্দিরে পূজা বা নানা উৎসবে মানুষের মনে স্পন্দন জাগাচ্ছে।

পান্ডুকাভায়ার রাজত্বকালে অনুরাধাপুর, সিংহলের প্রথম রাজধানী হয়। সেটা ৩০০ খ্রিষ্টপূর্ব। কিন্তু দেবনামপিয়া টিসার রাজত্বকালে  বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার সিংহলে শুরু এবং সামাজিক জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধারণ করে। কয়েক বছরের মধ্যেই অনুরাধাপুর সমৃদ্ধির পীঠস্থান হয়ে ওঠে। কিন্তু দক্ষিণ ভারতীয় রাজাদের হাতে তার পতন হয়। এই ঘটনা হাজার বছরের মধ্যে বার বার ঘটেছে। কিন্তু ডুটুগেমুনু তার গুপ্ত আশ্রয়স্থল থেকে একদল সৈন্য জোগাড় করে তাদের সাহায্যে আবার অনুরাধাপুর পুনরুদ্ধার করেন। ডুটুগেমুনু তার রাজত্বকালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য নির্মাণ করেন, যা আজকের দিনেও বর্তমান। এর পরবর্তীকালের গুরুত্বপূর্ণ রাজাদের মধ্যে রয়েছেন ভালাগাম্বা যিনি দক্ষিণ ভারতীয় রাজাদের আক্রমণে সিংহাসন হারান কিন্তু আবার তা পুনরুদ্ধার করেন। অনুরাধাপুরে শেষ মহান রাজা ছিলেন মহাসেনা যার আমলে জিতবনরামা দাগোবা বা স্তূপ নির্মিত হয়। এছাড়া পুষ্করিণী ও একটি ক্যানেল কাটানোর তিনি ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ক্রমাগত দক্ষিণ ভারতীয় আক্রমণের ফলে রাজধানী, দেশের আরও অভ্যন্তরে পোলোনারুয়ায় স্থানান্তরিত হয় এবং অবশেষে ক্যান্ডিতে স্থাপিত হয়। এই অনুরাধাপুর, পোলোনারুয়া, ক্যান্ডি স্থানগুলি পরস্পরের সঙ্গে সরলরেখায় যুক্ত করলে যে ত্রিভুজ তৈরি হবে তাকে সাংস্কৃতিক ত্রিভুজ বলে আখ্যা দিয়েছে ইউনেস্কো। শ্রীলংকা ছোটো দেশ হলেও এখানে রয়েছে সাত-সাতটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

এই সব হেরিটেজ সাইটে যেমন জীবন্ত মানুষ তথা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অস্ফুট ধর্মীয় উচ্চারণ ধবনি শোনা যায় তেমনই প্রাচীন ইটের মন্দির, পাথরের মূর্তি, বিশাল স্তূপগুলির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য আধুনিক মানুষকে মুগ্ধ করে, মনে স্পন্দন জাগায়। এই হেরিটেজ সাইটগুলির মাধ্যমে ফিরে যাই সেই প্রাচীন যুগে যেখানে পরপর ছায়াছবির মতো ফুটে ওঠে কালক্রমে একের পর এক দৃশ্যাবলী– বৌদ্ধ ধর্মের শুভ সূচনা, যার অনুপ্রেরণায় রাজাদের নির্মিত নানা বিস্ময়কর নির্মাণকল্প, রাজসভায় নানা চক্রান্ত, বারবার বিদেশি শত্রুর আক্রমণ এবং অবশেষে ইউরোপীয়দের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন।

ইতিমধ্যে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। রাস্তার ধারে এক মহিলা ডাব বিক্রেতাকে দেখে তৃষ্ণাটা আরও বেড়ে গেল। গাড়ি থামিয়ে অনেকেই ডাবের জল পানে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। ডাবের দাম অবশ্য কম নয়, ডাব প্রতি সত্তর রুপি।

অবশেষে পৌঁছোলাম অনুরাধাপুরে। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন অনুরাধাপুরের সমৃদ্ধির ঐতিহাসিক নিদর্শন। ভারতের বাইরে এই সিংহলেই মৌর্যসম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্ম প্রচার শুরু করেন।  তবে আংশিক দেখার টিকিট আলাদা মূল্যেও পাওয়া যায়। এছাড়া এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণে একজন অভিজ্ঞ গাইডেরও প্রয়োজন। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার ও টুর গাইড হেমন্ত অবশ্য তৎপরতার সঙ্গে জোগাড় করে আনল ফিল্মস্টার মার্কা চেহারার এক গাইড নাম তার জগৎ। গেট দিয়ে ঢুকে বিশাল চত্বরের মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চলি বোধিবৃক্ষের দিকে। যেতে যেতে নজরে আসে জাপানি অর্থ সাহায্যে নির্মিত এক লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম। সালে উদ্ঘাটিত এই মিউজিয়ামের দরজা কিন্তু বন্ধ ছিল।

আর একটু এগিয়েই ফুল বিক্রেতারা বসে আছে। সবাই পথ্বফুল বিক্রি করছে। বোধিবৃক্ষের তলায় এই পথ্বফুল উৎসর্গ করার জন্যই বোধহয় অনেকে কেনাকাটা করছে। আমাদের গাইড জগৎ বলতে শুরু করে– দর্শনার্থীরা যেদিকে যাচ্ছে ওই বৃক্ষটিই হল বোধিবৃক্ষ বা শ্রীমহাবোধি। গৌতম বুদ্ধ যে-গাছের নীচে ধ্যানমগ্ন হয়ে মহানির্বাণ লাভ করেন, পিতার নির্দেশে সেই ‘বো’ বৃক্ষের একটি চারা সংগ্রহ করে সিংহলে নিয়ে এসেছিলেন সম্রাট অশোকের কন্যা সংঘমিত্রা। অশোকের পুত্র মহেন্দ্র অনুরাধাপুরের রাজা দেবানামপিয়াতি সসাকে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত করে এই চারাটি উপহার দেন। তারপর এই পবিত্র বৃক্ষটি মহাসমারোহে রোপন করা হয়। তারপর অনুরাধাপুর একাধারে হয়ে ওঠে রাজধানী-শহর ও বৌদ্ধধর্মের পীঠস্থান। অনেক বৌদ্ধস্তূপ, মনাস্ট্রি, জল সরবরাহের জন্য পুষ্করিণী ইত্যাদি নিয়ে সমৃদ্ধ হয় এই শহর।

এরপর বারবার বহিঃশত্রুর আক্রমণে অনুরাধাপুরের পতন হয়। পেলোনারুয়ায় নতুন রাজধানী স্থাপন হয় আর অনুরাধাপুর ঢেকে যায় গভীর জঙ্গলে। ঊনিশ শতকে ইংরেজ আমলে জঙ্গল পরিষ্কার করে অনুরাধাপুরে ঐতিহাসিক শহরের সন্ধান মেলে। এটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যশালী স্থানের মর্যাদা পেয়েছে।

 

আমরা বোধিবৃক্ষের কাছে পৌঁছে গেছি। এবার এগোতে হলে জুতো খুলতে হবে। গাইড মহাশয় অনুরোধ করলেন যে যারা জুতো দেখভাল করছে তাদের যেন অন্তত ২০ টাকা মাথাপিছু টিপ্স দেওয়া হয়। বোধিবৃক্ষ বেশ বড়ো একদিকে হেলে পড়েছে। এই গাছের ডালগুলি এখন সোনার পাতে মোড়া ঠেকার সাহায্যে রক্ষা করা হচ্ছে। গাছের চারদিক ঘিরে রাখা হয়েছে, একেবারে কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয় না। এই বোধিবৃক্ষই এখন বিশ্বের সব চেয়ে প্রাচীন বৃক্ষ বলে পরিগণিত হয়।

গাছের পাটাতনে উঠতে সিঁড়ি রয়েছে তা খুবই প্রাচীন তবে গাছকে ঘিরে যে সোনালি রেলিং রয়েছে তা আধুনিক কালের। এই রেলিংগুলি পুণ্যার্থীরা রঙিন কাপড় ও প্রার্থনা পতাকা দিয়ে সাজিয়ে দেয়। তারপর বোধিবৃক্ষের নীচে পূজা নিবেদন করে। এখানে এপ্রিল ও ডিসেম্বর মাসের পূর্ণিমাতে পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। বৃক্ষের পাদমূলে ছোটো মন্দির, সেখানে রয়েছে ছোটো ছোটো বুদ্ধমূর্তি। বোধিবৃক্ষের পিছনে একটি সাদা রং-এর মন্দির সদৃশ স্থাপত্য তার ভিতরে নানা রং-এ রঞ্জিত কয়েকটি বুদ্ধমূর্তি। মার্বেল পাথরের মেঝেতে বসে ভক্তরা বুদ্ধকে অন্তরের ভক্তি প্রণাম নিবেদন করছেন। সামনে নানা রং-এর পথ্বফুল বুদ্ধের চরণে নিবেদন করা হচ্ছে।

মন্দিরের দেয়াল বুদ্ধের নানা ভঙ্গিমার ছবিতে সজ্জিত। বোধিবৃক্ষ ও সংলগ্ন অঞ্চলটি অনুরাধাপুরের হূদয় বলা চলে। এখানে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। দলে দলে মানুষ সুন্দর পোশাকে সজ্জিত হয়ে এখানে প্রণাম নিবেদনের জন্য একত্রিত হয়। নানা ধরনের পশরা নিয়ে বিক্রেতারা হাজির। বিক্রি হচ্ছে ফল-ফুল, হালকা খাবার, খেলনা ঠিক যেন মেলার পরিবেশ।

 

বোধিবৃক্ষ অঞ্চল ছেড়ে পাদুকা উদ্ধার পর্ব (অর্থাৎ টিপ্স দিয়ে জুতো নিয়ে) শেষ করে ঘাসজমির মধ্যে দিয়ে হাঁটতে থাকি। কয়েকটি একই প্রজাতির সুন্দর দেখতে পাখি ঘাসের মধ্যে থেকে পোকা খুঁটে খাচ্ছে। ছবি তুলতে কোনও অসুবিধাই হল না। গাইড পাখির নামটা জানালেও পরে ভুলে গেছি। একটু এগিয়ে দেখতে পেলাম সারি সারি পাথর নির্মিত বড়ো বড়ো স্তম্ভ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জগৎ জানাল এটাই ব্রাজেন প্যালেস। এখানে ১ছঙ্মঙ্মটি পাথরের স্তম্ভ আছে। এর মাথায় ব্রোঞ্জের ছাদ ছিল বলেই নামকরণ ব্রাজেন প্যালেস। এই স্তম্ভগুলি ছাড়া সেকালের প্রসিদ্ধ নয়তলা বিশিষ্ট অট্টালিকার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখানেই বাসস্থান ছিল এক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু ও তাদের সহচরদের। সম্রাট অশোকের পুত্র মহেন্দ্র তার সিংহল সফরে এই রাজপ্রাসাদেই বসবাস করতেন। এই রাজপ্রসাদটি প্রথমে নির্মাণ করেন রাজা ডুটুজেমুনু দু-হাজার বছরেরও আগে। কালের গ্রাসে তা বার বার ধবংসের দিকে এগিয়ে গেলেও পুনর্নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু আস্তে আস্তে কমেছে তার জাঁকজমক। বর্তমানে তারের বেড়া দিয়ে ঘেরা এই প্রাসাদ।

এবার গাড়িতে করে এগোতে থাকি গাইডের নির্দেশে। বাঁদিকে পড়ল একটি বিরাট প্রাকৃতিক জলাশয়– নাম তার অনুরাধাপুর লেক। লেকের ধারে গাছপালা বিক্ষিপ্ত ভাবে বেড়ে উঠেছে সৗন্দর্যায়নের প্রচেষ্টা সেরকম ভাবে চোখে পড়ল না। কয়েকটি ছবি তুলে আবার এগিয়ে চলি। গাড়ি থামে থুপারামা স্তূপের সামনে। চারপাশে গাছপালা ঘেরা সাদা রং-এর এক অতি সুন্দর স্তূপ। চারধারে চারটি গেট, স্তূপ ঘিরে রয়েছে সবুজ লন ও ফুলের বাগান। থুপারামা স্তূপটি (দাগোবা) শ্রীলংকার তো বটেই পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন স্তূপ বলে স্বীকৃত।

আরও তথ্য জোগাল জগৎ– খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে রাজা দেবনামপিয়া এটি নির্মাণ করেন। অনেকের মতে বুদ্ধের দেহের একটি অস্থি এখানে সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে ঘন্টার আকৃতির এই স্তূপ তার এই বর্তমান আকৃতি লাভ করে। তার আগে এটি ধানের গোলার আকৃতি ছিল। স্তূপটি এক কেন্দ্র বিশিষ্ট চারটি বৃত্তে পিলার দিয়ে ঘেরা। ঐতিহাসিকরা পিলারের উপস্থিতি নির্ধারণ করলেও বর্তমানে মাত্র ৪রটি উপস্থিত আছে। ঐতিহাসিকরা এই স্তূপের মাথায় কাঠের কৌণিক একটি ছাদও কল্পনা করেন কিন্তু কোনও পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ তার স্বপক্ষে পাওয়া যায়নি।

যুপারামা স্তূপের পরই অভয়গিরি স্তূপ। অভয়গিরির অর্থ হল গিরির অভয় অর্থাৎ পাহাড়ের সুরক্ষা। তাঁর লেখনী থেকে অনেক তথ্যই সংগ্রহ করা যায়। বার বার এই স্তূপ নির্মিত হয় এবং সবশেষে তার উচ্চতা দাঁড়ায় ৭৫ মিটার। পশ্চিম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে একটি হাতি গাছ টেনে আনার মূর্তি। উত্তর দিকের দ্বারপ্রান্তে যে পদচিহ্ন রয়েছে, সেটি বুদ্ধের পদচিহ্ন বলে কথিত। পূর্ব দিকের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে মুনস্টোন। রাজা ওয়ালাগাম্বারা নির্মিত এই স্তূপের নাম অনেক, অভয়গিরি ছাড়াও উত্তরা মহাচেতা, অপহাইয়াগরা, ভাগিরিনাকা, বায়াগির্যা প্রভৃতি।

সেই প্রাচীন কাল থেকে এই স্তূপের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানকার শাসকেরা যেমন গজবাহু, মিত্তসেনা, কাসাপা ৪, পরাক্রমবাহু প্রভৃতি। বর্তমান কালের এই স্তূপের রূপ ও পূর্বের রূপের বিশাল ছবি স্তূপের কাছেই শোভা পাচ্ছে।

অভয়গিরি স্তূপের উত্তর পশ্চিম দিকে নবম শতকের আমলের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য নির্মিত বাসস্থানের ভগ্নস্তূপের সামনে আমরা উপস্থিত হয়েছি। এর খ্যাতি এখানে মুনস্টোনের উপস্থিতির কারণে। চারদিকে সবুজ প্রকৃতির মধ্যে এই ভগ্নস্তূপ। প্রবেশ পথের কাছে রাস্তার ধারে স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান রয়েছে কয়েকটি। দু-চারজন টুরিস্টের দেখা পাওয়া গেল তবে সবাই বিদেশি। ভিক্ষুদের এই আশ্রম পিবিভেনা প্রাসাদ অথবা আরামা নামেও পরিচিত। সামনে একটি প্রধান বাসগৃহ। চারকোণে ছোটো আকারের বাসস্থান। এখানে জলের ও স্নানঘরের ব্যবস্থাও ছিল। সিঁড়ির মুখেই এক আশ্চর্য সুন্দর মুনস্টোন। মুনস্টোন হল অর্ধচন্দ্রাকৃতি পাথরের টুকরো যার গায়ে অর্ধবৃত্তাকারে কারুকার্য করা রয়েছে। সেকালের ভাস্কর্যশিল্পের গৗরবের স্বাক্ষর বহন করছে এই নিদর্শন অর্ধচন্দ্রাকৃতি চন্দ্রকান্ত মণি। এক একটি সারিতে এক এক রকমের নকশা– অধিকাংশই ফুল লতা-পাতা ও জীবজন্তুর। এই পাথরটির ব্যাস প্রায় ৯ ফুট এবং সমালোচকদের মতে এই সব কারুকার্যের জীবনযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে এক অন্তর্নিহিত অর্থও রয়েছে। অভয়গিরি স্তূপের ঠিক দক্ষিণে অভয়গিরি মিউজিয়াম। খোলা থাকে সকাল ১০ থেকে  বিকেল ৫টা পর্যন্ত। চিন দেশের অর্থানুকুল্যে নির্মিত এই মিউজিয়াম।

পঞ্চম শতাব্দীতে চৈনিক পরিব্রাজক ফা-হিউয়েন-এর ভ্রমণের স্মারক হিসাবে এই নির্মাণ। ফা-হিয়েন তাঁর ভ্রমণকালে এই অভয়গিরি মনাস্ট্রিতে কিছুদিন বসবাস করেন এবং কিছু পুঁথির অনুবাদের কাজও করেন যা তিনি কাজের শেষে চিন দেশে নিয়ে যান। এই মিউজিয়ামে রাখা আছে বিভিন্ন সাইটে প্রাপ্ত ঐতিহাসিক প্লেট, অলংকার, বাসনপত্র, ভাস্কর্যের নমুনা। অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে ও লম্বা সফরের ধকলে আমরা একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছি সেটা বোধহয় বুঝতে পেরে গাইড উৎসাহ দেয়, আরও অনেক কিছু দেখার আছে। অনুরাধাপুর দর্শন এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যাবে না। মুনস্টোন তো দেখলেন এবার দেখুন গার্ডস্টোন। একটি প্রাঙ্গণে অনেকগুলি খাড়া খাড়া পাথরের স্তম্ভ দেখিয়ে বললেন, ‘এ গুলো হল গার্ডস্টোন মন্দিরের চারধারে সব সময় নির্মাণ করা হয়। মন্দির রক্ষার জন্য এগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ এরপর দেখা হল ‘রত্নপ্রাসাদ’। নামেই রত্নপ্রাসাদ এখন এই গার্ডস্টোন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মুনস্টোন, গার্ডস্টোন দর্শন শেষে অভয়গিরি স্তূপের পূর্বদিকে খোলা মাঠের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে থাকি গাইডের নির্দেশে। জগৎ জানাল, আমরা শ্রীলংকার শ্রেষ্ঠ বুদ্ধমূর্তি দেখতে যাচ্ছি। খুবই আড়ম্বরপূর্ণ একটি মূর্তি দেখব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু খুবই সাধারণ পরিবেশে এক অসাধারণ মূর্তি দেখলাম। চতুর্থ শতকে নির্মিত ধ্যানরত বুদ্ধের এই পাথরের মূর্তি সত্যিই অনন্য। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ব্রিটিশ আমলে যখন কারাগারে অন্তরিন থাকতেন, তখন এই বুদ্ধমূর্তির ছবি সামনে রেখে মনের শান্তি ফিরে পেতেন।

 

আবার গাড়িতে ওঠা, তবে এবারও বেশি পথ নয়, তিন চার মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম পরবর্তী গন্তব্যের সামনে। নাম তার কুট্টাম পাকুনা যার অর্থ জমজ পুষ্করিণী এই পুকুর দুটি অসাধারণ স্থাপত্য শৈলীতে সমৃদ্ধ। এখানে যেন সুকুমার শিল্পকলা ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন, সপ্তম থেকে অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত এই জোড়া পুষ্করিণী সম্ভবত অভয়গিরির বৗদ্ধ ভিক্ষুদের স্নানের জন্য নির্মিত হয়েছিল। নামে জমজ হলেও দক্ষিণ দিকের পুষ্করিণীটি অপেক্ষাকৃত বড়ো (র্ব২ ফুট দৈর্ঘ্য)। আর অন্যটি ৯১ ফুট লম্বা। আয়তক্ষেত্রকার পুষ্করিণী দুটির ঘাট সুন্দর ভাবে বাঁধানো এখনও প্রায় অটুট রয়েছে। বড়ো পুকুরটিতে জলের প্রবেশপথ একটি মকরমুখী গহ্বর দিয়ে তারপর মাটির তলার পাইপের মাধ্যমে ছোটো পুকুরে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে পুকুরে সঞ্চিত জলের রং সবুজ। পুকুরের ঘাটে অল্পক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার পরের গন্তব্যের দিকে রওনা হলাম।

পাশেই যেটা দর্শনীয় সেটা হল পাথরে নির্মিত ৩ মিটার লম্বা এক পাত্রবিশেষ। এই পাত্রে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য ভাত রান্না করে রাখা হতো। প্রায় ৫০০ ভিক্ষুর খাদ্য সংস্থানের ব্যবস্থা। ফিরে আসি আবার পুরাতত্ত্ব স্থলের কাছেই যেখানে রয়েছে ইটের বিশাল স্তূপ জেতবন বিহার। এই স্তূপ বর্তমানে ৭০ মিটার উঁচু। তবে নির্মাণকালে এটি ১০০ মিটার উচ্চতা ছুঁয়ে যায়। তখন এটি ছিল পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম সৌধ, ইজিপ্টের পিরামিডের পরেই ছিল এর স্থান। জেতবন বিহার থেকে গাড়িতে ফিরে এলাম পার্কিং লটে তারপর সামান্য হেঁটে রুবানওয়ালি স্তূপের সামনে। এই স্তূপ নির্মিত হয়েছিল দুশো খ্রিষ্টপূর্বে। অর্ধগোলাকৃতি শুভ্র এই স্তূপের অন্দরে মার্বেল পাথরের মেঝে, সামনে তিনটি বুদ্ধমূর্তি। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ভগ্নদশায় পরিণত হয়। ইংরেজ আমলে এই স্তূপ পুনর্নির্মিত হয়। রাজা ডুটুজেমুনুর রাজত্বকালে এই স্তূপ নির্মিত হয়, যদিও জীবনকালে এই স্থাপত্য সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। শত্রুর আক্রমণে বিধবস্ত হলেও বর্তমানে এই স্তূপের উচ্চতা ৫৫ মিটার। স্তূপটির পূর্বের চেহারা ছিল জলের বুদ্বুদের মতো। কিন্তু বর্তমানে পরিমার্জনের পরে সে রূপ আর নেই। এই রুবানওয়ালি স্তূপের চারপাশে সবুজ মাঠ, মাঝে মাঝে ধবংসস্তূপের চিহ্ন পাথরের ভাঙা পিলার, আর পুকুর বা জলাশয়ের চিহ্নও রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

এবার আমরা আজকের শেষ দ্রষ্টব্য অনুরাধাপুর পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহশালার সামনে। ব্রিটিশ যুগের প্রশাসনিক ভবনকে এখন সংগ্রহশালা হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই মিউজিয়াম দর্শনের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা। ঘড়ির কাঁটা এখন ৫টা ছাড়িয়ে গেছে তাই আমাদের আর মিউজিয়াম দেখার সুযোগ হল না। তবে জগতের মুখে তার বিবরণ শুনে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো হল। এই মিউজিয়ামে আছে অনুরাধাপুর ও শ্রীলংকার নানা ঐতিহাসিক স্থানে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরনের শিল্পবস্তু, খোদাই করা নানা ভাস্কর্য এবং সেকালের দৈনন্দিন ব্যবহার্য বস্তুর সমাহার। অনুরাধাপুর দর্শন এখানেই শেষ।

গাইড জগৎকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার প্রাপ্য মিটিয়ে দিয়ে জানালাম, আমরা মুগ্ধ। জগৎ গ্রামের ছেলে হলেও নিজের চেষ্টায় ইংরেজি শিখেছে। বই পড়ে ঐতিহাসিক তথ্যগুলিতে সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই বিদেশি ভ্রমণার্থীদের তার সুন্দর উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি দিয়ে মুগ্ধ করে দিচ্ছে। জগৎ বিদায় নিলে আমাদের গাড়ি ছেড়ে দিল। আমাদের আজকের রাত্রিবাস অনুরাধাপুরের এক হোটেলে– ‘মেরিডিয়া লেক’।

যাত্রাপথে আমাদের ড্রাইভার হেমন্ত আর একবার গাড়ি থামাল। রাস্তার ধারেই বিশাল লেক, নাম নুয়ারাওয়া। এবারে হেমন্তই আমাদের গাইড। সে জানাল, এই লেকটি অনুরাধাপুরে পুর্ব দিকে অবস্থিত প্রায় ১২ বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে রয়েছে। এই লেকের আর এক নাম নাকারা ভাপি। প্রস্তরলিপি থেকে জানা যায় যে এই লেক রাজা পান্ডুকাভারা খনন করেয়েছিলেন, খ্রিস্টপূর্ব ২০ সময়কালে। এর পরিমার্জিত রূপ বর্তমানে আমরা দেখছি। লেকের ধারের গাছ-গাছালির ফাঁক দিয়ে লেকের রূপ ধরে রাখলাম ক্যামেরায়।

হোটেল ‘মিরিডিয়া লেক’ মন্দ নয়। ঘরগুলি বেশ বড়ো ও সুসজ্জিত। আমাদের টুর প্যাকেজের শর্ত অনুযায়ী ডিনার এই হোটেলই ব্যবস্থা করবে। খাবার বেশ ভালো কন্টিনেন্টাল, চাইনিজ, শ্রীলংকার স্থানীয় মেনুও রয়েছে। আমরা বুফে সিস্টেমে ডিনার সেরে যে যার নিজের নিজের ঘরে চলে গেলাম। সারাদিন অনেক পরিশ্রম হয়েছে, কাল সকালেই আবার যাত্রা, ডামবুলা হয়ে ক্যান্ডির পথে।

প্রয়োজনীয় তথ্য

  •  প্যাকেজ টুরে বিদেশ ভ্রমণ করতে চাইলে শুধুই পাসপোর্ট লাগবে বাকি সব দায়িত্ব ভ্রমণ সংস্থার।
  •  শ্রীলংকার প্যাকেজ টুর করায় বিভিন্ন ভ্রমণ সংস্থা। সময় সীমা ৬ দিন-র০ দিন। সেই অনুযায়ী ভ্রমণসূচী ও আর্থিকমূল্য পরিবর্তিত হয়।
  •  শ্রীলংকা ভ্রমণে কলম্বো দিয়েই ভ্রমণ শুরু করতে হবে কারণ প্রধান বিমানবন্দর কলম্বো।
  •  প্যাকেজ টুরে হোটেল, গাড়ি, খাওয়া-দাওয়ার সব ব্যবস্থা ভ্রমণ সংস্থা করবে।
  • শ্রীলংকা থেকে কেনাকাটা করা যেতে পারে চা-পাতা, মূল্যবান পাথর, মশলা।

বাড়ছে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম

আমূল পরিবর্তন এসেছে আমাদের জীবনশৈলীতে৷ সকাল থেকে রাত অবধি অবাধ গতিতে ছুটে চলে জীবন৷ ভুল সময়ে খাওয়াদাওয়া, ঘুম না হওয়া, ফাস্টফুডের উপর নির্ভরশীলতা, সবেতেই প্রভাবিত হচ্ছে আট থেকে আশি।এছাড়া ধূমপান, মদ্যপানের মতো ক্ষতিকারক বিষয়গুলি তো আছেই। আধুনিকীকরন এবং বিশ্বায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গিয়ে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে একাধিক রোগ। একদিকে ধূমপানে যেমন বাড়ছে ক্যান্সারের প্রবণতা, অন্যদিকে সেডেন্টারি বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় লাইফস্টাইলের জাঁতাকলে বাড়ছে মহিলাদের একাধিক শারীরিক রোগ, যার মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ অন্যতম।

কম বয়সি মেয়েদের মধ্যে ক্রমাগত বাড়ছে পিসিওএস অর্থাৎ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। ভয়ের বিষয়টি হল, বর্তমানে ভারতবর্ষে প্রজননক্ষম মহিলাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৬ শতাংশ মহিলা এই রোগের শিকার।

এই জটিল হরমোনঘটিত সমস্যায় প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল ওঠা, ব্রণর সমস্যা বা মুখে অবাঞ্ছিত রোমের আধিক্য।

কোন বয়স আক্রান্ত
এর তিনটে বয়সসীমা রয়েছে। এক, ১২-১৩ বছরের স্থূলকায় কিশোরী। এক্ষেত্রে দেখা যায়, এদের একবার পিরিয়ড হওয়ার পর আর পিরিয়ড হয়নি। এরপর ২০-২৫ বছরের একটি দল, যাঁদের বিয়ের পর থেকেই বন্ধ্যাত্ব অর্থাৎ ইনফার্টিলিটির সমস্যা শুরু হয় এবং পাশাপাশি অনিয়মিত পিরিয়ড লক্ষ করা যায়। আরেকটা এজ গ্রুপ রয়েছে, যাঁরা ৩০-৩২ বছরের আশেপাশে, এদের মূল সমস্যা ওবেসিটি এবং অনিমিত পিরিয়ড। চিকিৎসকরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাঁরা স্থূলকায়া তাঁরাই বেশি আক্রান্ত হন এই সমস্যায়, তবে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগা মহিলাদেরও পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিসিজ দেখা দিতে পারে।

রোগের কারণ

এই রোগের অন্যতম কারণ আমাদের জীবনশৈলী। জাংক ফুড খাওয়ার প্রবণতা, ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ থেকে দূরে থাকা, ওবেসিটি বা স্থূলতা বেড়ে যাওয়া সবই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই রোগের কারণ। অনেক সময় অবশ্য বংশগত কারণেও এই রোগ হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারা জীবন ধরে এর চিকিৎসা করে যেতে হয়।

পরিণাম কী?

সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার, করোনারি হার্ট ডিজিজেরও প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

চিকিৎসা : প্রথমে আল্ট্রা সোনোগ্রাফি করে দেখে নেওয়া হয়, সিস্টের আকার ও ওভারিতে এর অবস্থানের বিষয়টি। এর পরই ওষুধের মাধ্যমে চিকিত্সা শুরু হয়। চিকিত্সার পাশাপাশি প্রয়োজন ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন।

প্লাস সাইজ-এ লজ্জা কীসের

ফ্যাট? সো হোয়াট? কখনওই কমপ্লেক্স-এ ভুগবেন না আপনি মোটা বলে। স্লিমিং করার জন্য ডায়েট করে আপনি ক্লান্ত। জিম-এ ঘাম ঝরিয়েও বিশেষ তফাত হয়নি চেহারার বলে ভেঙে পড়বেন না। প্লাস সাইজেও আপনি ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে পারবেন, যদি নিজেকে ব্যক্তিত্বপূর্ণ ভাবে প্রেজেন্ট করেন। অ্যাটিটিউডটাই আসল। যেটার উপরেই নির্ভর করবে আপনি কীভাবে নিজেকে ক্যারি করছেন।

সময় বদলেছে। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতেও বেশ কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। স্থূলকায়াদের কেউ আর পৃথক ভাবেন না। সুতরাং আগে যেমন পৃথুলাদের ভাবতে হতো, কী ধরনের পোশাক তারা পরবেন, এখন আর সেই ভাবনাটা নেই। যে-কোনও আধুনিক পোশাকও তারা পরছেন এবং কেউ মুখটিপে হাসছে না। সত্যি বলতে কী, ফ্যাশনের জগতে তাদের অ্যাকসেপট্যান্সটাও বেড়ে গেছে। ফ্যাশন উইক ফর প্লাস সাইজ প্রভৃতি শো-তে, র্যাম্প-এ হাঁটছেন পৃথুলারা। তাই আপনিও সমস্ত কমপ্লেক্স মন থেকে ঝেড়ে ফেলে পোশাক নির্বাচন করুন।

রাস্তায় বেরোলে দেখবেন প্রতি দশজনের মধ্যে অন্তত দু-জন প্লাস সাইজ পোশাক পরে আছেন। লাইফ স্টাইলের প্রভাবে স্থূলতা আসাটা অস্বাভাবিক নয়। মহিলারা আজকাল বাড়িতে সময় নিয়ে রান্না করা খাবারের বদলে ফাস্ট ফুড, প্যাকেজড্ ফুড এবং সর্বোপরি জাংক ফুড-এর উপর বেশি নির্ভরশীল। এই জন্যই কম বয়সেই বাড়তি ওজন চেপে যায় শরীরে।

তাই চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্লাস সাইজ গারমেন্টস-এর সম্ভারেও এখন বেশ বিস্তার ঘটেছে। সাধারণ ওভার সাইজড পোশাকের পাশাপাশি, সেক্সি পার্টি ওয়্যারও এখন পাওয়া যায়। ডিজাইনাররাও নিত্য নতুন ভাবনায় পোশাক প্রস্তুত করছে স্থূলকায়াদের জন্য। ফলে এক্সক্লুসিভ পোশাক এখন পৃথুলারাও পরতে পারেন।

সঠিক পোশাকের নির্বাচন

প্লাস সাইজ মহিলাদের উচিত সঠিক পোশাকটি নির্বাচন করা, যাতে তাদের দেখতে সুন্দর লাগে। কারণ মেদবহুল শরীর হলেও পোশাকের ফিটিং স্মার্ট লুক দিতে সাহায্য করে। কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার পোশাক চয়ন করার আগে।

  • ফ্লোরাল প্রিন্ট বা প্লেন, যে কোনওটি-ই পরা যেতে পারে, শুধু পোশাকের ফ্যাব্রিক-এর বিষয়টি দেখে নেওয়া উচিত। রং-টাও বিবেচনা করা খুব জরুরি
  • ন্যাচারাল ফ্যাব্রিক, সিল্ক, সফ্ট কটন, লিনেন, নাইলন, লায়াক্রা প্রভৃতি বেশি ভালো হবে পৃথুলাদের জন্য
  • সবসময় ‘এ’ শেপ-এর পোশাক নির্বাচন করুন। তুলনামূলক ভাবে রোগা দেখতে লাগবে। এছাড়া টিউনিক উইথ লেগিংস, টপ উইথ জিন্সও পরা চলতে পারে।
  • লেয়ারিং করা পোশাক প্লাস সাইজের জন্য আদর্শ।ঞ্জএগুলি পরলে দেহের অবয়ব পরিষ্কার বোঝা যায় না। এর সঙ্গে লেস-এর বর্ডার ও হালকা এমব্রয়ডারি ভালো দেখতে লাগে।
  • পোশাকে লম্বালম্বি স্ট্রাইপ থাকলে স্থূল চেহারায় কৃশ লুক আসে। এতে স্লিম ও লম্বা দেখায়।
  • ডার্ক কালার আর ছোটো প্রিন্ট-এর পোশাক নির্বাচন করা ভালো।
  • প্যান্ট কেনার সময়, ডেনিম, রেয়ন, কটন প্রভৃতি কেনা উচিত।

বিদেশের মতোই এদেশেও প্লাস সাইজ পোশাকের চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে। ডিজাইনারদের কাছে এখন এটা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে তাঁরা কীভাবে ভিন্ন রং ও ডিজাইন ব্যবহার করে এক্সক্লুসিভ এবং স্টাইলিশ প্লাস সাইজ পোশাক বানাবেন। সাম্প্রতিক ল্যাকমে ফ্যাশন উইক-এ প্রচুর প্লাস সাইজ মডেল অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ১৭ জন নির্বাচিত হন। ডিজাইনার ভ্যানডেল রড্রিক্স বলেন, ‘প্রত্যেক মহিলারই অধিকার আছে নিজেকে সুন্দর দেখানোর। তা তিনি পৃথুলাই হোন বা রোগা। আমি সবার জন্যই পোশাক তৈরি করি যাতে সকলেই নিজেদের ফ্যাশনেবল করে তুলতে পারেন। সকলেই স্বচ্ছন্দে সেই পোশাক ক্যারি করেন –এটাই আমার স্যাটিসফ্যাকশন। প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব পরম্পরা ও সংস্কৃতি আছে। আমি সেটার ভিত্তিতেই ড্রেস ডিজাইন করি। আমি নানা দেশে, নানা শহরে ঘুরে বেড়াই সেখানকার সংস্কৃতিকে জানার জন্য। প্লাস সাইজ এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি ঠিকই, কিন্তু এখন মানুষ সচেতন হচ্ছেন যে প্লাস সাইজের ডিজাইনার ওয়্যারও পাওয়া যায়।’

পার্টি ওয়্যার নির্বাচন

প্লাস সাইজের মহিলারা পার্টি ওয়্যার নির্বাচনের সময় কয়েকটা কথা মাথায় রাখবেন–

  •  সর্বপ্রথম এটা বিবেচনা করুন, কোন পার্টিতে কোন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আপনি যাচ্ছেন। সেই মতো পরিধান নির্বাচন করুন। শরীরের আয়তন অনুযায়ী কাপড় কিনুন। কেনার আগে এক্সপার্ট-এর মতামত নিন
  • শরীরের কোন অংশটা ঢেকে রাখবেন, আর কোনটা হাইলাইট করবেন আগে থেকে ভেবে নিয়ে তারপর পোশাক বানান
  • স্ট্রাপলেস ড্রেস কিনবেন না। ভি নেকলাইন ও ফুল স্লিভ পোশাক নির্বাচন করুন
  • সঠিক আন্ডার গার্মেন্টস্ পরুন যাতে পোশাক আপনার শরীরে ঠিকমতো ফিট হয়।
  • iরং আপনার কমপ্লেকশন অনুযায়ী নির্বাচন করুন।

মরমির কথা

অসমের শান্ত সুন্দর প্রকৃতি যেমন খেয়ালি, মরমিও তেমনি খেয়ালি চরিত্রের হয়েছে। কখন কী মুডে থাকে বোঝা মুশকিল। এই হাসিখুশি উচ্ছল, তো পরমুহূর্তেই থমথমে বিষাদ কালো মুখ। ওর সঙ্গে বেশ বুঝেশুনে কথা বলতে হয়। কখন কী ভেবে বসে কে জানে। একবার বর্ষার সময়ে বেশ কিছুদিন অসমে দিদির বাড়িতে থেকেছিলাম। তখন দেখেছি প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা কাকে বলে।

ঘুম থেকে উঠে হয়তো দেখলাম ঝকঝকে সুন্দর একটা দিন, চারদিকে সোনা রোদ্দুর ছড়িয়ে আছে। দেখেই আমি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোর ছক করে ফেলেছি। কিন্তু পরক্ষণেই আমার সমস্ত প্ল্যানের ওপর জল ঢেলে আকাশে দেখা দিল মেঘের ঘনঘটা! এমনটা প্রায়ই হতো। আবার বৃষ্টি দেখে দিদি হয়তো খিচুড়ির আয়োজন করেছে, একটু পরেই দেখা গেল মেঘ-বৃষ্টি দূরে ঠেলে সূর্যিদেব প্রবল তেজে বিরাজমান হয়েছেন মধ্য গগনে। তখন গনগনে গরমে খিচুড়ি হয়ে উঠত অসহ্য। যতদিন ওখানে ছিলাম মেঘ-রোদ্দুরের খেলা দেখেই কেটেছে। এখন মরমিকে দেখে আমার সেই স্মৃতি মনে এসে যায়। অসমে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বলেই হয়তো প্রকৃতির এই খেয়ালিপনাটুকু ওর চরিত্রে গেঁথে আছে।

মরমি আমার বড়দির একমাত্র সন্তান। বড়দির শ্বশুরালয় অসমের গৌরীপুরে। বিয়ে ইস্তক দিদি সেখানেই আছে। মরমিও ওখানেই জন্মেছে। এতদিন পড়াশোনা, বড়ো হয়ে ওঠাও সেখানেই। এখন কলকাতায় এসে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে কম্প্যারেটিভ লিটারেচার নিয়ে পড়ছে। যাদবপুরেই হোস্টেলে থাকে ও। আমি ওর মামা তো বটেই, ইউনিভার্সিটির নথিতে লোকাল গার্জেনও। ও হোস্টেলে থাকলেও মামা হিসেবে যতটা সম্ভব খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করি।

ছুটি-ছাটায় বাড়িতে নিয়ে আসি ওকে। আর প্রতি রবিবার বা শনিবারে নিয়ম করে আমি ওর হোস্টেলে দেখা করতে যাই। কতদিন ওকে বলেছি, ছুটির দিনগুলোতে সবসময় আমার বাড়িতে চলে আসতে। সারা সপ্তাহ তো হোস্টেলের ওই আধসেদ্ধ খাবার খেতে হয়, সপ্তাহান্তে একদিন না হয় বাড়িতে এসে একটু ভালোমন্দ খাওয়াদাওয়া করল।

প্রথম প্রথম মরমি আসতও। কিন্তু ইদানীং আর সেভাবে আসেই না। অনেক বলার পরে হয়তো এক আধদিন এল। আমি সপ্তাহে একদিন ওর ওখানে যাই বলেই যা একটু দেখা হয়, খোঁজখবর পাই। আজকাল যেন মনে হয়, আমি ওর হোস্টেলে গেলে ও যে খুব একটা খুশি হয় সেটা নয়। আমাকে পাশ কাটাতে পারলেই যেন বাঁচে। সেদিন তো বলেই ফেলল, ‘ওফ মামা, তুমি কি আমাকে এখনও সেই ছোট্টটি ভাবো যে সবসময় পিছে পিছে থাকতে হবে? আমার বন্ধুরা এই নিয়ে হাসাহাসি করে জানো?’

আমি বলি, ‘জানি তুই এখন অনেক বড়ো হয়ে গেছিস, কিন্তু আমাদের কাছে এখনও সেই ছোটোটিই আছিস। আর এতে বন্ধুদের হাসাহাসির কী হল? আমি তোর সুবিধা অসুবিধা না দেখলে কে দেখবে? এখানে তোর আর কে আছে? বড়দি আমার ওপরে কত ভরসা করেই না তোকে এখানে পড়তে পাঠিয়েছে।’

আর কথা বাড়ায়নি। তবে আমি বেশ বুঝতে পারি, আমার ওখানে ঘনঘন যাওয়াটা ওর খুব একটা পছন্দের নয়। তবু যাই। নিজের কর্তব্যবোধেই যাই। হাজার হোক নিজের একমাত্র বোনঝি বলে কথা। যখন যাই তখন মাঝেমধ্যে ওর পছন্দের মোগলাই, চিকেন কাটলেট বা চাউমিনও সাথে করে নিয়ে যাই। পছন্দের জিনিসগুলো পেলে ভারি খুশি হয় মেয়েটা। আর ওকে খুশি দেখলে আমার মধ্যেও খুশির স্রোত বয়ে যায়। মরমিটা যেন একেবারে আমার কৈশোরের বড়দি। সেই গভীর টানা টানা দুটো চোখ, আর তেমনি সেই দুধে আলতা গায়ের রং। সুন্দরী বলেই গৌরীপুরের সেই বনেদি পরিবারে এক দেখাতেই বড়দির বিয়ে হয়ে গেছিল।

মরমিও বড়দির মতোই সুন্দরী হয়েছে। হয়তো বড়দির থেকেও খানিক বেশি। জামাইবাবুর মতো সুঠাম ও দীর্ঘাঙ্গীও হয়েছে। আর এত সুন্দরী বলেই ওকে নিয়ে আমার চিন্তাও বেশি। সুন্দরীরা সহজেই নজরে পড়ে যায় যে। যা দিনকাল পড়েছে, মেয়েদের জন্যে নিরাপত্তা বলতে আর কিছুই রইল না। টিভি বা পত্র-পত্রিকা খুললে চারদিকে একই খবর –শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ, খুন এসব ছাড়া যেন আর খবরই নেই! কলেজ, ইউনিভার্সিটির পরিবেশও তো তথৈবচ। এমনকী স্কুলেও নানারকম যৌন অপরাধের ছড়াছড়ি।

সাত থেকে সত্তর, নারী শরীর হলেই হল, একদল নরপিশাচ সবসময় জিভ লকলকিয়ে আছে। সবচাইতে বড়ো কথা, যারা এসব জঘন্য কাণ্ড ঘটাচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা দাগি ক্রিমিনাল নয়। স্কুল শিক্ষক, রিসার্চ গাইড, তুখোড় সাংবাদিক, এমনকী মহামান্য বিচারপতির বিরুদ্ধে পর্যন্ত ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে! কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ? এ দেশে সত্যিই বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।

নাঃ, এসব ভেবে আর কাজ নেই। আমি অতি সাধারণ মানুষ। আমার ভাবনায় কোনও সুরাহা হওয়ার নয়। বরং যত ভাবব, কেবল নিজের শান্তিই বিঘ্নিত হবে। আমি শুধু নিজের কথা ও নিজের পরিবার, প্রিয়জনের কথা ভাবতে পারি। সেজন্যে মরমিকে সবসময় পই পই করে বলে যাই সাবধানে থাকতে, আর বুঝেশুনে চলতে। কোনও অসুবিধে হলেই যেন আমাকে জানায়। মরমি বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ে বটে কিন্তু মুখ দেখে মনে হয় না আমার কথার খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে। একদিন তো বিরক্ত হয়ে বলেই ফেলল, ‘মামা, তুমি না বড়ো ওভার প্রোটেকটিভ’!

শুনে আমি রাগ করিনি। এটা মরমির দোষ নয়, যুগের দোষ আর বয়েসের ধর্ম। এ যুগের ছেলেমেয়েরা গুরুজনদের তেমন শ্রদ্ধা সন্মান করে না। সারাক্ষণ মুখে কেবল ইংরেজির খই ফুটছে। গুরুজনেরা যেটা বলবে, সেটার বিরোধিতা করা যেন এদের অবশ্য করণীয় কর্তব্য হয়ে উঠেছে। সেজন্যে এদের কিছু বোঝাতে যাওয়া বৃথা। চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। আমাদের শুধু কর্তব্য করে যাওয়া। বাকিটা ভবিতব্য।

বিনতা মানে আমার স্ত্রী হয়তো ঠিকই বলে, কলির হাওয়া লেগে গেছে মেয়েটার। এখন কলকাতা শহর চিনেছে, বন্ধু-বান্ধব হয়েছে, এখন কি আর মামা-মামির নীরস সান্নিধ্য ভালো লাগে? কথাটা যে মিথ্যে নয়, এর প্রমাণ প্রতি পদে পদেই পাই। প্রায়ই ফোন করলে শুনি, বন্ধুদের সাথে শপিং মলে, নয়তো মাল্টিপ্লেক্সে ছবি দেখতে গেছে। কখনও কখনও দল বেঁধে কলকাতার আশেপাশেও ঘুরে এসেছে জানতে পারি। আজকাল মরমির হাবভাব আচার আচরণ দেখলেও বোঝা যায়, অসমের সেই সিধেসাদা সরল মেয়েটি আর সে নেই। যুগের হাওয়া স্পষ্ট। দেখে খারাপই লাগে। এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সর্বস্তরেই যে একটা অবক্ষয় চলছে, সেটা আমাকে ভীষণ ভাবায়। অবশ্য ভেবেই বা কী করব? যে যুগ চলেছে, ঘোর কলি, এতে তো শুধু অবক্ষয় আর অবনতিই দৃশ্য হওয়ার কথা ।

এ পর্যন্ত তবু সব ঠিকই ছিল। অনেক বলতে বলতে বহুদিন পরে গতকাল সন্ধেতে মরমি আমাদের বাড়ি এসেছে। শনি, রবির ছুটিটা কাটিয়ে সোমবার হোস্টেলে ফিরে যাবে। মেয়েটা এলে আমাদের স্বামী-স্ত্রী-র গুমোট সংসারেও যেন প্রাণবায়ু আসে। বিনতাও ওকে সন্তানের মতোই স্নেহ করে। ও আসছে বলে কত কি খাবার বানিয়ে রেখেছে আগে থেকেই। প্রতিবারই তাই করে। অথচ যার জন্যে করে সে তো খায় পাখির মতো যৎসামান্য।

আজকালকার ছেলেমেয়েরা এমন রূপ সচেতন যে, ফিগার বা ত্বক খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে কত চর্বচোষ্য আর অমৃতের স্বাদ হেলায় ত্যাগ করে চলে। মরমির মধ্যে সবসময় মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়। সেজন্যে একেবারে খেতে চায় না মেয়েটা। আর খেলেও ফলমূল আর স্যালাডে পেট ভরিয়ে রাখে। একদিকে অবশ্য ভালো এই ভেজালের যুগে মানুষ যত প্রকৃতিতে ফিরে যায় ততই মঙ্গল। তবু ভাবি এই বয়েসেই যদি ছেলেমেয়েরা মন ভরে না খাবে, তবে কখন খাবে। আমাদের মতো বুড়ো বয়সে, নানা রোগে ব্যাতিব্যস্ত হলে খেতে ইচ্ছে করলেও তো কত কিছু পেটে সইবে না। কিন্তু ওরা সেটা বুঝলে তো। মরমির সাথে থাকলে নতুন প্রজন্মের সাথে আমাদের ভাবধারার বিস্তর ফারাক প্রতি মুহূর্তে প্রকট হয়ে ওঠে।

আমার চাইতে ওর মামির সাথেই মরমির অন্তরঙ্গতা বেশি। মরমিকে পেলে বিনতাও যেন গল্পের ঝুলি খুলে বসে। ওদের হাসি ঠাট্টায় ভরে থাকে ঘর। ওদের আড্ডায় আমি বিশেষ গুরুত্ব না পেলেও ওদের খুশি আমার মধ্যেও এনে দেয় চোরা সুখ। কিন্তু গতকাল আমার কৌতুহলী মন এমন কিছু একটা আবিষ্কার করে ফেলেছে যে, কাল রাত থেকেই প্রচণ্ড অস্থিরতায় আছি। কী করব ভেবে পাচ্ছি না। এমন একটা বিষয় যে মরমির সাথেও সরাসরি কথা বলতে বিবেকে বাধছে। নিজের বোনঝি বলে বিনতাকেও জানাতে জড়তা হচ্ছে। লজ্জা ঘেন্নায় আমার মাথা নত হয়ে গেছে। এত অধঃপতন হয়ে গেছে মেয়েটার! অথচ ওকে দেখলে কে বলবে যে এমন একটা কাণ্ড বাঁধিয়ে বসে আছে?

বাড়িতে আসার পর থেকে ওকে একেবারেই স্বাভাবিক দেখছি। দিব্যি খাচ্ছে দাচ্ছে, গপ্পো, হাসি ঠাট্টা করছে! চোখে মুখে কোনও টেনশনের নামগন্ধ নেই। এসব কী এখন এতই জলভাত হয়ে গেছে এই প্রজন্মের কাছে? সব যেন আমার ভাবনার অতীত। বড়দিকে ব্যাপারটা জানানো দরকার। দিদিই পারবে নিজের মেয়েকে শাসন করতে। তবে তার আগে আমি প্রমানসহ মরমিকে হাতেনাতে ধরতে চাই।

কাল যখন মরমি ওর মামির সাথে গপ্পো গুজবে মশগুল ছিল, পাশের ঘরে টেবিলের ওপরে ওর মোবাইল ফোনটা রাখা ছিল। তখন একটা মেসেজ রিসিভের ‘বিপ’শব্দ শুনে মোবাইলটার প্রতি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ হল। নিছকই কৌতূহলবশত ওটা হাতে তুলে নিই। নজর পড়ে, নতুন একটা এসএমএস এসেছে। আমি সেটা খুলে পড়তেই অবাক হয়ে যাই। একটা নার্সিংহোমের ঠিকানা! মরমিকে রবিবার ঠিক সকাল ন’টার মধ্যে ওখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। নার্সিংহোম যাবে কেন মরমি? ওখানে কী কাজ থাকতে পারে? মনে নানা ভাবনার উথাল-পাতাল চলতে লাগল। দ্রুত ওর মেসেজ বক্সে গিয়ে অন্যান্য মেসেজগুলো পড়তে লাগলাম। সেগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক কেবল দুটো মেসেজ পেলাম যেটা নার্সিংহোমের সাথে সম্পর্কযুক্ত। একটাতে মরমিকে প্রশ্ন করা হয়েছে, ওর রক্তের গ্রুপ কী? দ্বিতীয়টি মরমির জবাব। নিজের রক্তের গ্রুপ জানিয়ে মরমি নার্সিংহোমের ঠিকানা জানতে চেয়েছে। অসংখ্য মেসেজের ভিড়ে এই রিলেটেড আর কোনও মেসেজ আমি পেলাম না। কিন্তু এটুকু তথ্যই আমার জন্যে সাংঘাতিক।

রক্তের গ্রুপ জানতে চাওয়া কেন? তবে কি মরমি এমন কিছু করাতে চলেছে যার জন্যে রক্তের প্রয়োজন হতে পারে? শেষ পর্যন্ত মেয়েটা এমন কাণ্ড বাধিয়ে বসল যে, নার্সিংহোমে ছুটতে হচ্ছে! আর পাপ কাজ বলেই কি আমাদের জানাতে সাহস করেনি? আমার মধ্যে সীমাহীন প্রশ্ন দানা বেঁধে উঠেছে। মাথাটা সেই থেকে ঝিম ধরে আছে। কিছুতেই নিজেকে স্থির রাখতে পারছি না। আজকাল ভাব-ভালোবাসার নামে যেমন খুল্লামখুল্লা যথেচ্ছ যৌনাচার চলছে সর্বত্র, তাতে কোনওকিছুই আর অস্বাভাবিক নয়। মাঝে একটা পত্রিকায় পড়েছিলাম, সম্প্রতি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে যৌন সম্পর্কের রাখঢাক ব্যাপারটা অনেকটাই উঠে গেছে। ‘কৌমার্য’ বা ভার্জিনিটি শব্দগুলো অভিধানে বিলীন হতে বসেছে। কৌমার্য রক্ষা করার ধারণাটাই নাকি অনেক আধুনিকার কাছে এখন সাপ্রেশনের আর-এক নাম। ভাবি কোথায় চলে যাচ্ছে সমাজ! বৃহত্তর সমাজের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, এখন তো ঘরেই এ অভিজ্ঞতা হওয়ার দুর্ভাগ্য ঘটছে।

মরমি তখনও মেসেজটি দেখেনি। তবে আগের মেসেজেই যখন নার্সিংহোমের ঠিকানা জানতে চেয়েছিল, সুতরাং এটা নিশ্চিত যে, ওখানে যাওয়ার জন্যে ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত। আমার ধারণা, ওর সাথে যুক্ত ছোকরাটিই মেসেজ প্রেরক। সেই সমস্ত ব্যাবস্থাপনা করেছে। নিজের পাপ ঢাকতে এসব তো করতেই হবে। তবে আমি মেয়েটাকে যত দেখছি, ততই অবাক হচ্ছি। চিন্তা ভাবনা বা টেনশনের লেশমাত্র নেই ওর চেহারাতে! এসব এতই জলভাত হয়ে গেছে এদের কাছে?

ঠিক করেছি মরমিকে হাতেনাতে ধরব। ‘টোটাল কিওর’ নার্সিংহোম আমার চেনা। মরমি ওখানে গেলেই আমিও পিছু নেব। সেজন্যেই সকালে দায়সারা প্রাত ভ্রমণ করেই তাড়াহুড়ো করে বাজার সেরে বাড়ি ফিরেছি। এসেই দেখি, যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই। মরমি আমি আসার আগেই বেরিয়ে গেছে। ওর মামিকে নাকি বলে গেছে, প্রফেসর ডেকেছেন, তাই কোচিং-ক্লাস এ পড়তে যাচ্ছে। ফিরতে দেরি হবে আর বেশি দেরি হলে এখানে না এসে ও সরাসরি হোস্টেলেই ফিরে যাবে। বিনতা ঘরে মন বিষণ্ণ করে বসে আছে। স্বাভাবিক, কতদিন পরে মেয়েটা এসেছিল, অথচ রাত পোহাতেই এমন আকস্মিক চলে গেল। মনটা আমারও খারাপ লাগছে। কিন্তু তার চাইতে উদ্বিগ্নতা ও অস্থিরতা অনেক বেশি। আমি বাজার রেখেই বিনতাকে তেমন কিছু না জানিয়েই বেরিয়ে পড়লাম।

‘টোটাল কিওর’নার্সিংহোম খুব একটা দূরে নয়। বড়োজোর মিনিট কুড়ির পথ। দুবার অটো পালটাতে হয় কেবল। তবে আজ বারবার সিগনাল আর ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে অনেকটাই সময় লেগে গেল। নার্সিংহোমে যখন পৌঁছলাম, ন’টা বেজে গেছে। গেট দিয়ে টোটাল কিওর-এর চত্বরে ঢুকেই চারদিকে তাকিয়ে মরমিকে খোঁজার চেষ্টা করলাম। বিনতার কথা মতো মরমি আমারও প্রায় একঘন্টা আগে ঘর থেকে বেরিয়েছে। সুতরাং অনেক আগেই ওর পৌঁছে যাওয়ার কথা। কিন্তু খোলা চত্বরে কোথাও ও নজরে এল না। অগত্যা দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম।

রিসেপশনের সামনেই ভিজিটরস এনক্লেভ-এ অনেকেই বসে আছে। আমি ওখানেও মরমির দেখা পেলাম না। অথচ আমি শতকরা একশো ভাগ নিশ্চিত যে কোচিং-ক্লাস এর নাম করে মরমি এখানেই এসেছে। এ ধরনের অনেক প্রাইভেট নার্সিংহোমেই চলে যত অবৈধ কাণ্ডকারখানা। কিছু কিছু গাইনি, এমনকী হাতুড়ে পর্যন্ত মালামাল হয়ে যাচ্ছে শুধু অন্যের পাপ ধুয়ে ধুয়ে। আমি জানি শুধু মরমিই নয়, সেই ছোকরাটিও এখানেই আছে।

কোথাও মরমির দেখা না পেয়ে অগত্যা রিসেপশনের দিকে এগিয়ে গেলাম। মরমি নিশ্চয়ই ভেতরে ঢুকে গেছে। রিসেপশনিস্ট মেয়েটিকে বললাম, একজন পেশেন্টকে দেখতে এসেছি, নাম মরমি ঘোষ।

মেয়েটি কম্পিউটারে চোখ রেখে বলল, সরি, এই নামে কোনও পেশেন্ট নেই এখানে।

– কী বলছেন কী? ভালো করে দেখুন, নামটা নিশ্চয়ই আছে। ও এখানেই আছে আমি জানি। আমি উত্তেজিত হয়ে বলি।

– না স্যার, আমাদের পেশেন্ট লিস্টে এমন কোনও নাম নেই। মেয়েটি একইরকম শান্ত হয়ে জানায়।

টের পাচ্ছি, আমার হূদ্কম্পন ক্রমশ বেড়ে চলেছে, কপালে চিন্তার ভাঁজগুলো গাঢ় হচ্ছে, হাতের তালু ঘেমে উঠেছে। ওরা যাই বলুক, আমি নিশ্চিত মরমি এখানেই আছে। তবে কি এসব অবৈধ কাজগুলো অফ দ্য রেকর্ড হয়? যার জন্যে ওর নাম পেশেন্ট লিস্টে নেই? নাকি মরমি নাম ভাঁড়িয়ে আছে? এও কী সম্ভব? আমি এবারে অনুনয়ের সুরে বলি, দেখুন ম্যাডাম, একটু আগেই সে এখানে এসেছে। লম্বা করে, খুব ফরসা, …সুন্দরী একটি মেয়ে…

মেয়েটি মৃদু হাসল। বলল, দেখুন অনেকেই তো এখানে আসছেন, কারও চেহারা দেখে তো মনে রাখা সম্ভব নয়। আমরা যা রেকর্ডে আছে সেটুকুই বলতে পারি। আমার মনে হয় আপনার কিছু একটা ভুল হচ্ছে।

আমি প্রায় হতাশ, তীরে এসে এভাবে তরি ডুববে ভাবতেও পারিনি। কী করব ভেবে পাচ্ছি না। অসহায়ের মতো সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক তখনই পাশে বসে থাকা অপর রিসেপশনিস্ট মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, একটু দাঁড়ান, কী নাম যেন বলেছিলেন আপনি?

– মরমি। মরমি ঘোষ। আমি শশব্যস্ত হয়ে বলে উঠি।

– হ্যাঁ হ্যাঁ নামটা যেন একটু আগেই শুনেছি। একটু আনকমন নাম বলে কানে গেঁথে আছে।

আমি আশার ঝলক দেখতে পেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালাম। মেয়েটি কম্পিউটার স্ক্রীন-এ কিছুক্ষণ চোখ রেখে বলতে লাগল, একজন মরমি ঘোষ আছেন। বয়স একুশ। কিন্তু তিনি তো পেশেন্ট নন।

– হ্যাঁ হ্যাঁ ওর কথাই বলছি। সবে একুশ হয়েছে ওর। আমি একরকম উল্লাসেই বলে উঠি।

– কিন্তু তিনি তো পেশেন্ট হিসেবে এখানে আসেননি।

– তবে কী জন্যে এসেছেন? আমি সবিস্ময় প্রশ্ন করি।

– উনি এসেছেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একটি ছ’বছরের শিশুকে রক্ত দিতে।

– রক্ত দিতে? কোন শিশুকে? সে কে হয় ওর? আমার বিস্ময় আর প্রশ্নের অন্ত নেই।

মেয়েটি বলে চলে, শিশুটির কেউ হন না উনি। খুব গরিব ঘরের একটা শিশু। আকস্মিক রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় পত্রিকায় আবেদন করেছিল শিশুটির পরিবার। খুব রেয়ার রক্তের গ্রুপ কিনা, তাই ডোনার পাওয়াই কঠিন। সেই আবেদনেই সাড়া দিয়ে মিস মরমি ঘোষ রক্ত দিতে এসেছেন।

যা শুনছি, নিজের কানকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছি না। মাথার থেকে একটা ভার যেন আকস্মিক নেমে গেছে। সেই সঙ্গে নিজের হীন্মন্যতার বোঝায় নিজেই নত হয়ে যাচ্ছি। ইশ, কী ভুলটাই না করে চলছিলাম! কেবল অন্ধকারটুকুই দেখে গেলাম এতদিন! নতুন প্রজন্মের এই অপরূপ রূপটি নিজের অজ্ঞতা আর হীন্মন্যতার দরুন দৃষ্টির অগোচরেই থেকে গেছিল। টলমল পায়ে ভিজিটরস এনক্লেভ-এ এসে বসি। মরমির জন্যে অপেক্ষা করছি। মেয়েটাকে সাথে করেই বাড়ি ফিরব। রক্ত দিচ্ছে, এখন ওর পুষ্টিকর খাওয়া ও যত্নের বিশেষ প্রয়োজন। ভাবছি, মেয়েটাকে বুকে জড়িয়ে মনে মনে ওর থেকে ক্ষমা চেয়ে নেব।

 

অচেনা ওড়িশা

প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা৷খুব কয়েকটি চেনা জায়গা ছাড়া আমরা ঘুরে দেখি না এই রাজ্যটি৷ অথচ এখানে রয়েছে আরও নানা নয়নাভিরাম ডেস্টিনেশন৷ রয়েছে পাহাড় জঙ্গলের সিনিক বিউটি, আবার ইতিহাসের হাতছানি৷ আমরা আপনাদের কাছে নিয়ে এলাম এমনই অচেনা এক ওড়িশাকে৷

হাদগড় 

শালের জঙ্গল আর ঘন ঘাসে ছাওয়া হাদগড় ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারিতে খুব বেশি পর্যটক আসেন না। অথচ এ এক স্পর্শ না করা সৌন্দর্যের খনি। ভদ্রক থেকে ২০ কিমি দূরত্বে কেন্দুঝড় জেলার অন্তর্গত এই বনস্থলি। বহু অচেনা গাছ, পাখি, প্রজাপতির আবাসস্থল। গভীর জঙ্গলে সচরাচর দেখা মিলতে পারে লেপার্ডের। জঙ্গলি বেড়াল, হায়েনা, প্যাঙ্গোলিন ও ভাল্লুকও রয়েছে এই জঙ্গলে। আর আছে অজস্র বানর, হাতি ও হরিণের ঝাঁক।

১৯৭৮ সালে এটি স্যাংচুয়ারি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এর বিস্তার ১৯১ স্কোয়ার কিমি। সালান্ডি ড্যামের কোল ঘেঁষে এই জঙ্গল। ফলে সালান্ডি নদীর মাছ এবং কুমিরও এই জঙ্গলের প্রাকৃতিক সম্পদ। পাহাড়ের কোল ঘেঁষা নদীর ল্যান্ডস্কেপ এক কথায় অপূর্ব। যদিও সারাবছরই যাওয়া চলে এই জঙ্গলে, কিন্তু শীতই অতি উপযুক্ত সময়। বসন্তে মহুয়া আর পলাশের জঙ্গল নেশা ধরিয়ে দেয়। এখান থেকেই ঘুরে নিন রামচণ্ডী মন্দির।

কীভাবে যাবেন : ভদ্রক স্টেশনে নেমে গাড়িতে ১৬০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে হবে।

কোথায় থাকবেন : ওড়িশা টুরিজম-এর ওয়েবসাইট ওয়াইল্ড ওড়িশা দেখতে পারেন। এছাড়া গেস্ট হাউস আছে সালান্ডি ড্যাম, গদাচণ্ডীতে। ইন্সপেকশন বাংলো আছে কেওনঝড়, হাদগড় ও ভদ্রকে।

travel Lalitgiri Odisha

স্বর্ণ ত্রিভুজ

বৌদ্ধধর্মের পীঠস্থান হিসাবে খ্যাত রত্নগিরি, উদয়গিরি ও ললিতগিরি এই তিন নিয়ে ওড়িশার স্বর্ণ ত্রিভুজ। একত্রে এই বৌদ্ধ নিদর্শন দেখতে হলে, কটক বা যাজপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো।

কটক থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রত্নগিরি। ৫ নং জাতীয় সড়ক ধরে চণ্ডীখোল হয়ে পারাদ্বীপের রাস্তা ধরে এগোলেই, রত্নগিরি পৌঁছোনো যাবে। একসময় ওসিয়া পাহাড় শ্রেণির অন্তর্গত একটি ছোটো পাহাড়ে ছিল এক জনপদ, যার নাম পুষ্পগিরি। পরবর্তী কালে যেটি এক বৃহত্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। তিনটি নদী ব্রাহ্মণী, কিমরিয়া ও বিরূপা ঘিরে রেখেছে এই অঞ্চল। খননকার্যে পাওয়া গেছে, দুটি বড়ো বড়ো মন্দির-সহ কিছু ভগ্নস্তূপ।

রত্নগিরিই এই ত্রিভূজের মধ্যে সবচেয়ে সাজানো। পাহাড়ের মাথায় বিরাট মনাস্ট্রিতে আছে একটি বিশালাকার স্তূপ। ১২০০ শতাব্দীতে এখানে পড়েছিল তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের প্রভাব। এখন সাজানো পার্ক ও প্যাগোডা দেখলে অবশ্য প্রাচীন সময়টা তেমন ধরা পড়ে না। একসময় এখানে দশহাজার ছাত্রের পড়াশোনার ব্যবস্থা ছিল। এখানে এলে ভূমিস্পর্শ বুদ্ধমূর্তিটি অবশ্যই দেখুন।

ফিরতি পথে বাঁদিকের রাস্তায় দেখে নিন উদয়গিরি। ৪০০ একর জায়গা জুড়ে দেখে নেওয়া যায় খননকৃত শিলালিপি, ধ্যানী মুকুট পরা বুদ্ধমূর্তি, দেবালয়ে গেটের অপূর্ব কারুকাজ।

পারাদ্বীপের পথে আরও ২ কিমি দূরে বালিচন্দ্রপুর। এখান থেকে আরও ৮ কিলোমিটার এগোলেই ললিতগিরি। বিশাল এক চৈত্য, দুটো মনাস্ট্রি ও পাথরের বড়ো স্তূপ এই নিয়ে ললিতগিরি। এখানে একটি মিউজিয়ামও রয়েছে। বিশাল মাপের বোধিসত্ত্ব, তারা ও দণ্ডায়মান বুদ্ধমূর্তি দেখে নিন।

কীভাবে যাবেন : ফলকনামা, ধৌলি বা করমণ্ডল এক্সপ্রেস-এ করে কটক পেঁছোতে হবে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টার জার্নি।

কোথায় থাকবেন : থাকার জন্য ওড়িশা টু্রিজম-এর পান্থনিবাস রয়েছে। বুকিং করতে যোগাযোগ করুন উত্কল ভবন, ৫৫ লেনিন সরণি, কলকাতা-১৩।

বাচ্চাদের একঘেয়েমি কাটিয়ে তুলুন

গরমের ছুটি বলুন অথবা খ্রিসমাসের সময়, বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকলেও দেওয়া হয় প্রচুর হোমওয়ার্ক, প্রোজেক্ট ওয়ার্ক, এছাড়াও স্কুল খুললেই পরীক্ষার চাপ তো থাকেই। সঙ্গে সঙ্গে চলে নানা অ্যাক্টিভিটির ক্লাসও। যেমন সুইমিং, ডান্সিং, ক্যারাটে ইত্যাদি নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটি করার সুযোগ রয়েছে বাচ্চাদের।

কিন্তু দেশজুড়ে যখন ভয়েতে মানুষ বাধ্য হচ্ছে বাড়িতে থাকতে, যেখানে দেশে অতিমারির ভয়ে শহরে গ্রামে লকডাউনের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি, স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বড়োরা যেখানে দিশাহারা, ঘুমিয়ে খেয়ে বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করেও যেখানে মানসিক চাপমুক্ত থাকা যাচ্ছে না, সেখানে বাচ্চাদের অবস্থা আরও সঙ্গীন। স্কুল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া, পরীক্ষা উঠে যাওয়া, বাড়ি থেকে বেরোতে না পারার স্ট্রেস তাদের কাছে অবাঞ্ছিত হয়ে উঠেছে।

আশেপাশের পরিবেশ বোঝা বা খোলা জানলাগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার তাৎপর্য বোঝার হয়তো অনেকেরই বয়স হয়নি। তত্সত্ত্বেও অলস আগামী দিনগুলো ভারী পাথরের মতো শিশুর মনের ছোট্ট পরিসরে ভার হয়ে বসতে চলেছে।

বাইরে পাড়ার পার্কে বন্ধুদের সঙ্গে খেলে বেড়ানো, মায়ের হাত ধরে সাঁতারে যাওয়া বা ক্যারাটে ক্লাসে গিয়ে বন্ধুকে নিজের শক্তি প্রদর্শন করে দু-ঘা লাগিয়ে দেওয়া সব বন্ধ। সারা সপ্তাহ স্কুল করে সপ্তাহের শেষে দুটো দিন প্রিয়, নাচের টিচারের কাছে নিজের মনের একান্ত ইচ্ছেটাকে, সুপ্ত বাসনাটাকে ঝালিয়ে নেওয়া, সেটাও নির্মম ভাবে বন্ধ।

যেখানে বাড়িতে বন্ধ থাকার এই একঘেয়ে জীবনটা থেকে শৈশব হঠাৎ যেন হারিয়ে যেতে বসেছে, সেখানে বদ্ধ জীবনে শৈশব ফিরিয়ে আনার উপায় হল বিভিন্ন খেলা এবং নিজস্ব সৃষ্টির নেশায় তাদের ব্যস্ত রাখা।

  • সকালে ঘুম থেকে উঠলে ছোটো ছোটো সহজ ব্যায়াম শেখান বাচ্চাকে এবং নিজেও সেটা বাচ্চার সঙ্গে করুন। নতুন জিনিস শিখলে বাচ্চার আগ্রহ বাড়বে
  • বাড়িতে রাখা টবের গাছগুলোতে মগে করে জল দিতে বলুন, বড়োদের সামনে থাকাটা জরুরি। এতে বাচ্চার প্রকৃতির সঙ্গে সখ্যতা বাড়বে
  • রান্নার সময় সবজিগুলো বড়োদের হাতের কাছে এগিয়ে দিতে বলুন। এতে বিভিন্ন সবজি চেনাও হবে আবার বড়োদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে মনে স্বস্তি অনুভব করবে। এতে বাচ্চার মনে হবে ছোটো হলেও বাড়িতে ওর একটা গুরুত্ব রয়েছে
  • পড়াশোনা করার সময়টুকু বাদ দিয়ে বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে ইনডোর গেমস খেলুন। ক্যারাম, লুডো, তাস, দাবা, বাগাডুলি একসঙ্গে বসে খেলে দেখুন। এই মজা অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না এবং ফ্যামিলি বন্ডিং-টাও বাড়বে
  • বিভিন্ন ক্রসওয়ার্ড, ধাঁধা, সুদোকু ইত্যাদি খেলতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন, কীভাবে খেলতে হয় বুঝিয়ে বলুন। এগুলো মস্তিষ্ক সচল রাখতে সাহায্য করবে এবং শিশুমনকে স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি থেকেও দূরে রাখবে। বাইরে বেরোতে না পারার কষ্টকে ভুলে থাকতে অনেকটাই হেল্প করবে
  • সারা দিনের শেষে একটি নির্দিষ্ট খাতায় বাচ্চাকে বলুন সারাদিনে যা যা করেছে সেটা লিখতে। সারাদিনটা কেমন কেটেছে, কী কী ভালো কাজ করেছে মনে করে খাতায় সেটা লিখে রাখতে বলুন। এতে ডায়ারি লেখার অভ্যাস হবে এবং একঘেয়েমি কেটে নতুন কিছু করার আনন্দে বাচ্চা মেতে উঠবে
  • বাচ্চাকে বলুন, ডায়ারিটা ওর নিজস্ব সম্পত্তি এবং ওতে ও যা যা লিখছে সেটা একমাত্র ওই জানবে। বড়োরা ওর এই ডায়ারিতে হাত দেবে না। এতে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়বে
  • বাড়িতে বন্ধ হয়ে থাকার অস্বস্তি বাচ্চার মন থেকে দূর করতে নতুন নতুন কনস্ট্রাকটিভ অ্যাক্টিভিটিতে বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন। বাচ্চার কাছে কাগজ, পেনসিল, রং, রঙিন কাগজ ইত্যাদি থাকেই। সেগুলোর সাহায্যে ড্রযিং করে অথবা নেটের সাহায্য নিয়ে নানারকম ক্রাফট বানাতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন। পিকচার পোস্টকার্ড, ওয়াল হ্যাঙ্গিং ইত্যাদি বাচ্চা নিজেই বানাতে পারে। নিজস্ব তৈরি জিনিসে বাড়ি সেজে উঠতে দেখলে বাচ্চা আনন্দ পাবে।

এরকমই নানা ইনোভেটিভ অ্যাক্টিভিটিতে বাচ্চাকে ব্যস্ত রেখে বাচ্চার একঘেয়েমি কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করতে পারেন বাচ্চার অভিভাবকেরা। এই সমস্যা আজ শুধু দেশের নয় গোটা বিশ্বের। গৃহবন্দি জীবনই আশীর্বাদ হয়ে উঠুক একটি শিশুর জীবনে।

বিয়ের আগে রূপচর্চা ও ফেসিয়াল

সুন্দর,  স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ফর্সা ত্বক , সকলেই পেতে চাই। বিয়ের আগে তো বিশেষ করে রাতারাতি গ্ল্যামারাস হয়ে ওঠার ইচ্ছে হয়। এই কারণে নিজের ত্বককে আরও সুন্দর, উজ্জ্বল মোহময়ী করে তোলার জন্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করাই বুদ্ধিমত্তা। অতিরিক্ত সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের মেলানিন কালচে হয়ে যায়। তাই ত্বককে বাইরের দূষণ ও সূর্যের রশ্মি থেকে বাঁচাতে দৈনন্দিন যত্ন নেওয়া উচিত। পার্লারে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করালে তা সময় ও খরচা দুটিই ব্যয় করে।  তাই বিয়ের  দিন ঠিক হওয়ামাত্র একটা বিউটি রুটিন তৈরি করে নিন। ঘরে থাকা কয়েকটি জিনিসের মাধ্যমেই নিজের ত্বককে সহজেই সুন্দর করে তুলতে পারবেন।

হোম ফেসিয়াল : বাড়িতে কয়েটি উপকরণ থাকলে, সহজেই ফেশিয়াল কিট তৈরি করতে পারবেন। পার্লারের মতোই এফেক্ট নজরে পড়বে আর ত্বকের সংক্রমণের ভয়ও থাকবে না।

কী কী লাগবে : ঈষদুষ্ণ জল, ক্লিনজার, এক্সফলিয়েন্ট, তুলো, স্কিন টনিক, মাস্ক, শশার স্লাইস (ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করা), পরিস্কার তোয়ালে।

কী কী তৈরি করবেন?

হোমমেড ক্লিনজার : ১/২ কাপ ওটমিল ও পরিমাণমতো দই একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এমন ভাবে মেশান যেন রাফ বা দানাভাব না থাকে।

হোমমেড এক্সফলিয়েন্ট : ১ কাপ চিনির সঙ্গে ১/২ কাপ কলা চটকে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এটাই ত্বকের এক্সফোলিয়েশনে সাহায্য করবে।

হোম মেড টোনার : শশা কুচিয়ে নিন। মুখের ওপর ভেজা কাপড় রেখে, তার উপর শশার কুচিগুলো রাখুন। শশার রস ন্যাচারাল অ্যাস্ট্রিনজেন্ট হিসাবেও কার‌্যকরী।

হোম মেড মাস্ক : ১ টেবল চামচ মধু, ১টা ডিমের সাদা অংশ, ১ চা চামচ গ্লিসারিন, ১/৪ কাপ ময়দা, একসঙ্গে এই উপকরণগুলো মিশিয়ে মাস্ক হিসাবে ব্যবহার করুন।

ফেসিয়ালের টুকিটাকি

  • মাত্র আধঘন্টা সময় বরাদ্দ করলেই একটু যত্ন নিতে পারবেন নিজের। তাই ফেসিয়াল করার সময় অন্য কাজের ভাবনা ছেড়ে রিল্যাক্সড থাকুন। এতে ভালো এফেক্ট পাবেন
  • ফেসিয়াল শুরু করার আগে, সমস্ত জিনিস গুছিয়ে নিয়ে বসুন, যাতে প্রক্রিয়া শুরু করার পর এটা-ওটা খুঁজতে না হয়। তাহলে পরিশ্রমটাই মাটি হবে
  • ফেশিয়াল করার আগে স্টিম নেওয়া খুবই জরুরি। এতে মুখের রোমকূপ খুলবে ও মুখ পরিষ্কার হয়ে যাবে
  • স্টিম নেওয়ার জন্য ৬ কাপ মতো জল ফুটিয়ে নিন। মাথায় তোয়ালে চাপা দিয়ে স্টিম নিন
  • স্টেপ অনুযায়ী প্রথমে তৈরি করা ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। তারপর স্ক্রাবার লাগিয়ে এক্সফলিয়েট করুন। এরপর মাস্ক ব্যবহার করুন। সবশেষে তৈরি করা টোনার লাগিয়ে স্কিন-এর টানটান ভাব ফিরিয়ে আনুন।
পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব