ফল ও সবজির রস খাওয়া কেন জরুরি ?

আমরা অনেকেই মনে করি যে, ফল আর সবজি গোটা খাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে ভালো৷ তাতে পুষ্টিগুণের পাশাপাশি শরীরের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগানটাও পাওয়া যায়৷ কিন্তু সত্যিই কি প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য ঠিক যতটা করে ফল আর সবজি খাওয়া প্রয়োজন,  তা আমরা খেতে পারি ? তার চেয়ে বরং ফল-সবজির রস খাওয়াটা সহজ বলে মনে হয়৷ কিন্তু জুসের নাম শুনলেই আবার বেশিরভাগ মানুষ পরিশ্রমের কথা তুলবেন। পুষ্টিবিদরাও জুসের বিরুদ্ধেই নিদান দেবেন৷ এবার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কোন মতটা  মেনে চলবেন?

দুর্বল, অসুস্থ শরীরের পথ্য জুস

এমন অনেকেই আছেন, যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল বা কোনও কঠিন অসুস্থতা সারিয়ে সবে সুস্থ হয়ে উঠছেন৷ ফল বা সবজি হজম করতে এঁদের অসুবিধে হতে পারে, তাই তখন জুস খেতে পারেন৷ শরীর খুব তাড়াতাড়ি পৌষ্টিক উপাদানগুলিকে শোষণ করতে সক্ষম হবে৷

জুস পান করা মানেই বেশি পরিমাণে ফল ও সবজি খাওয়া

ধরুন, প্রতিদিন কোনও একটি বিশেষ সবজির অন্তত ৬টি বা ৮টি খেলে তবেই আপনার দৈনিক প্রয়োজন মিটবে৷ অতগুলিকে ছাড়িয়ে কেটে রান্না করতে যে সময় লাগবে, ততটা আপনার হাতে নেই৷ তা হলে উপায়? উপায় একটাই, না রেঁধে ভালো করে সবজিটি ধুয়ে জুসারে দিয়ে দিন।একটা গোটা লাউ আপনি খেতে পারবেন না, কিন্তু এক গ্লাস লাউয়ের রস খাওয়া খুব কঠিন নয় । সবজি আর ফল মিশিয়েও জুস বানাতে পারেন, কিন্তু সবজি 80 শতাংশ ও ফল 20 শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়৷

পাচনতন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রমের হাত থেকে রক্ষা করে

মাঝে-মধ্যে ফল বা সবজির জ্যুস দিয়ে খাওয়া সারতে পারলে আখেরে ভালোই হয়, তাতে ছুটি পায় আপনার পাচনতন্ত্র৷ বিশেষ করে টানা কয়েকদিন খুব ভারী খাওয়াদাওয়া করলে শরীরের এই বিরতিটুকু প্রয়োজন, তাতে স্ট্রেস কমে যায়৷

ত্বকের জন্য খুব ভালো

নিয়মিত জুস পান করলে ভাজাভুজি বা তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছেটাই মরে যায় ক্রমশ৷ শরীর তা থেকে পুষ্টিকর উপাদান শুষে নেয় তাড়াতাড়ি, ফলে ত্বক ঝলমলিয়ে ওঠে৷

ব্যায়াম এবং ডায়েট

লকডাউন-এর সাইড এফেক্টস, অযাচিত কিছু মেদ জমেছে শরীরে। এদিকে সংক্রমণের ভয়ে জিম- এ যেতেও সাহস করতে পারছেন না অনেকে। তাই বাড়িতেই শুরু করেছেন ওয়ার্কআউট। কিন্তু সমস্যা হল ব্যায়াম সংক্রান্ত অনেক নিয়মকানুনই আমাদের জানা নেই। তাই মনে উঠছে নানা প্রশ্ন। তারই মধ্যে একটা হল ব্যায়ামের আগে কি কিছু খাওয়া উচিত? খেলে কোন ধরনের খাবার আদর্শ ?

এ নিয়ে অবশ্য নানা মতভেদ আছে। ব্রিটেনের বাথ ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, খালি পেটে যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁদের অ্যাডিপোস বা ফ্যাট টিশুতে লক্ষণীয় পরিবর্তন চোখে পড়ে। ধরুন, আপনার অভ্যেস হচ্ছে ভরপেট ব্রেকফাস্ট বা সান্ধ্যকালীন জলযোগ সারার ঘণ্টা দুই পর, শরীরচর্চা করার। সেক্ষেত্রে কিন্তু খাবারটাকে ভাঙতে ও শরীরের কাজে লাগাতেই অ্যাডিপোস টিশু অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবে।  ব্যায়ামের ফলে আলাদা করে তা কার্যকর হয়ে উঠবে না। এইভাবে চলতে থাকলে ক্রমশ ব্যায়ামের প্রতিক্রিয়ায় আপনার অ্যাডিপোস টিশুর কার্যকারিতা সঠিক ভাবে টের পাওয়া যাবে না।

তাৎক্ষণিক তেমন অসুবিধে না হলেও দীর্ঘ সময় ধরে যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিন্তু সুফল পাওয়াটা ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ হল, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খালি পেটে ব্যায়াম করা অভ্যেস করুন।

অনেকেই আছেন যাঁরা আবার একেবারে না খেয়ে ব্যায়াম করতে গেলে এনার্জি পান না। তাঁরা প্রয়োজনে, একটি পাকা কলা বা আপেল খেয়ে এক্সারসাইজ় করুন। ফলের ফাইবার পেট ভরিয়ে রাখবে, এনার্জিও জোগাবে। হাতের কাছে অবশ্যই জল রাখুন, ব্যায়াম করতে করতে মাঝে-মধ্যে এক-আধ চুমুক জল খাওয়া কিন্তু ক্ষতিকারক নয়।

ব্যায়াম বা হাঁটার পর যা খেতে পারেন

১. ওটস, সাথে স্কিমড / নন ফ্যাট দুধ

২. কর্নফ্লেক্স, ফলের রস অথবা স্যুপ

৩.স্যালাড ( বেকড মুরগি বা মাছ, আ্যভোকাডো, ক্যাপসিকাম, বাদাম, দই দিয়ে মেখে নেওয়া)

৪.প্যান কেক ( ময়দা বা আটা, ডিমের সাদা অংশ দিয়ে বানানো ) সঙ্গে ফল বা দুধ

৫. ব্রেড বা রুটির মধ্যে মুরগির কিমা, সবজি সিদ্ধ করে, একটু চিজ একটা ডিমের সাদা অংশ ঝুরি করে নিয়ে একটু গোল মরিচের গুঁড়ো দিয়ে রোল

৬.টোস্ট ( ডিমের সাদা অংশ, একটু মধু ও দুধে ডুবিয়ে অল্প তেলে ব্রেড সেঁকে নেওয়া)

৭. ওটসের খিচুরি ( ওটস, মুরগির টুকরো, ডাল,  একটু গাজর,  ফুল কপি,  ক্যাপসিকাম, বা অন্য সবজি)

৮.পুডিং ( ডিমের সাদা অংশ,  স্কিমড / নন ফ্যাট দুধ দিয়ে সঙ্গে একটু ফল) সাথে ১টা টোস্ট

৯.গ্রিল করা চিকেন সাথে রোস্টেড সবজি

১০. দালিয়ার খিচুড়ি নানা রকম সবজি দিয়ে

এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে হাঁটতে যাওয়া বা ব্যায়ামের কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট  আগে খেতে হবে। আবার ব্যায়ামের ২০/৩০ মিনিট পর খেতে হবে। ব্যায়াম এর ৪৫ মিনিট এর মধ্যে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শোষণ হয়। খাবার যেন সুষম হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৯টি হেলদি হ্যাবিটে বাজিমাত

জীবনের সঙ্গে নিশ্চয়ই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে কোলেস্টেরল, হাই প্রেশার এবং ওবেসিটির মতো সমস্যা?  অধিকাংশ বাঙালিই কোনও না কোনও নন-কমিউনিকেবল রোগের শিকার৷ এক্ষেত্রে অত্যন্ত সচেতনভাবে পদক্ষেপ করতে হবে। রোগীর সমস্যার গভীরে গিয়ে, তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। তাই সবক্ষেত্রেই যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা ও সতর্কতা অবলম্বন সর্বাপেক্ষা জরুরি।স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোনওরকম অবহেলা করা চলবে না। জীবনশৈলী আর অভ্যাস, আমাদের শরীরের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। কোনটি ভালো অভ্যাস এবং কোনটি বর্জনীয়, আসুন জেনে নিই।

জগিং এবং এক্সারসাইজ : এই দুটোর মাধ্যমে শরীরে ঘাম হলে, শরীরের বিষাক্ত তত্ত্ব ঘামের সঙ্গে শরীরের বাইরে বেরিযে যাবে। মাংসপেশি মজবুত হবে, ত্বকে টানটান ভাব আসবে, সহজে ত্বকে বলিরেখা পড়বে না।

ঈষদুষ্ণ জল পান : সকালে খালি পেটে হালকা গরম জল খেলে সারাদিন ভরপুর এনার্জি পাবেন। খাবার খাওযা হযে গেলে, হালকা গরম জলে সামান্য লেবুর রস মিশিযে খেলে সহজে খাবার হজম হবে।

গ্রিন টি ও ব্ল্যাক কফি : এতে থাকা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস্ শরীরের ভিতরের বিষাক্ত পদার্থ বার করে দেয আর মেদও কমাতে সাহায্য করে। মাথাব্যথায আরাম হয। এতে ক্যালসিযাম ও পটাসিযাম ভরপুর মাত্রায় থাকে।

ব্রিস্ক ওয়াকিং : সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতের খাওযা সেরে আধা ঘন্টা হেঁটে আসাটা খুব জরুরি।

খাওযার সময ফিক্স করুন : জলখাবার সকাল ৮টা থেকে ৯টা, দুপুরের খাবার ১টা থেকে ২টোর মধ্যে এবং ডিনার ৮টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে সেরে ফেলা উচিত। দুপুর আর রাতের খাবারের মাঝে বিকেলে হালকা কিছু খাওযা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমোনো : ঘুম শরীরের জন্য প্রযোজনীয় তাই ঘুম সম্পূর্ণ করুন। অন্তত ৮ ঘন্টা ঘুমোনোর চেষ্টা করুন। ঘুমোলে চিন্তা, অবসাদ, স্ট্রেস কম হবে।

আউটডোর গেমস এর গুরুত্ব : শারীরিক আর মানসিক বিকাশের জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে  ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে খেলাধুলা করাটা খুব দরকার।

পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান : সারাদিনে অন্তত ১ ঘন্টা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময়  কাটান।

সঠিক মাত্রায় জল পান : জল শুধু তেষ্টা মেটায় না, নানা অসুখের চিকিৎসারও সহজ পদ্ধতি। সারাদিনে অন্ততপক্ষে ৩ লিটার জল পান করুন। জল ত্বক সুস্থ ও তরতাজা রাখে, ব্রণর সমস্যাও রোধ করে।

গাজর দিয়ে নোনতা- মিষ্টি

ক্যারট সঁতে

উপকরণ -৫০০ গ্রাম মাঝারি আকারের গাজর, ১ বড়ো চামচ কসুরি মেথি, ১/৪ ছোটো চামচ হিংগুঁড়ো, ২ বড়ো চামচ রিফাইন্ড তেল, চাটমশলা ও নুন স্বাদমতো।

প্রণালী -গাজরের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে ২ ইঞ্চি লম্বা টুকরোয় কেটে ফিংগার চিপ্স-এর আকারে কেটে নিন। একটা ননস্টিক প্যানে তেল গরম করে হিং ফোড়ন দিন। এই তেলে গাজর দিয়ে সঁতে করুন। ৬-৭ মিনিট নাড়াচাড়া করে কসুরি মেথি ছড়িয়ে দিন। এবার চাটমশলা ও নুন দিন। ধনেপাতা ছড়িয়ে চাটনি বা ডিপ-এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 ফ্রুটি গাজর হালুয়া

উপকরণ – ২ বড়ো চামচ কিশমিশ, ১/২ কাপ অরেঞ্জ জুস, ১/৪ কাপ ঘি, ৮-১০টা গাজর গ্রেট করা, ১ লিটার দুধ, ১ কাপ খোয়াক্ষীর, ১ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১/৪ কাপ চিনি, কমলালেবুর কোয়া টুকরো করা, বাদাম ও পেস্তা।

প্রণালী – অরেঞ্জ জুস-এ কিশমিশ দিয়ে অনেকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ভিজে গেলে তুলে রাখুন। তারপর কড়ায় ঘি গরম করে, এতে গ্রেট করা গাজর, কিশমিশ দিয়ে ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন। গাজরের জল শুকিয়ে গিয়ে গাজর নরম হয়ে গেলে, এতে দুধ ও খোয়াক্ষীর দিয়ে রান্না হতে দিন। এবার অরেঞ্জ জুসটা ঢেলে দিন। চিনি দিয়ে পাক দিতে থাকুন। এবার আঁচ থেকে নামিয়ে কমলালেবুর টুকরো, বাদাম, পেস্তা সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

নিরন্নের দেশে দুধ-ঘি-দই মন্দিরের ভিতে

যে-দেশে দারিদ্র্যের তাড়নায় মানুষের দু’মুঠো অন্ন জোটে না, প্রতি বছর বহু মানুষ অনাহারে মারা যায়, দুধের অভাবে শিশুমৃত্যু আকচার ঘটনা, প্রসূতি মা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার না পেয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন—সেদেশে ধর্মীয় ভাবাবেগের জিগির তুলে নির্মাণ হতে চলা মন্দিরের ভিতের মধ্যে দুধ ঢালার ঘটনা নিশ্চিত ভাবে নিন্দনীয়৷

প্রায় ১১ হাজার লিটার দুধ ও ঘি, বাজারে যার মূল্য প্রায় ১ লক্ষ টাকার উপরে।আর এমন ভাবে এই বহু মূল্যবান উপকরণের অপচয়, কোনও যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।মন্দিরের ভিত নির্মাণে মাটির গর্তের ভিতরে দুধ ঢেলে দেওয়ার ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটেছে রাজস্থানের ঝালাওয়ার জেলার রাতলাই এলাকায়। এখানে স্থাপিত হতে চলেছে এক বিশাল দেবনারায়ণ মন্দির যার ভূমিপুজো উপলক্ষেই এই বিশাল আয়োজন হয়। জানা গিয়েছে, মোট এক কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে দেবনারায়ণ মন্দির নির্মাণ।

এই বিশাল নৈবেদ্যের মধ্যে ছিল ১৫০০ লিটার দই, প্রায় ১ কুইন্টাল দেশি ঘি আর বাকি পুরোটাই ছিল খাঁটি দুধ যার বাজারমূল্য প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা। মন্দির নির্মাণ কমিটির মুখপাত্র রামলাল গুজ্জর জানান যে, এই বিপুল পরিমাণ দুধ, দই ও ঘি জোগাড় করেছেন গুজ্জর সম্প্রদায়ের মানুষদের কাছ থেকে। এছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এগিয়ে এসেছেন এই নৈবেদ্য সংগ্রহের কাজে।এই নৈবেদ্যের জন্য যেভাবে খাদ্যসামগ্রী অপচয় হল, তাতে বহু অভুক্তের পেট ভরানো যেত৷

কেন এই রীতি সে প্রসঙ্গে রামলাল জানিয়েছেন, গুজ্জরদের মন্দির নির্মাণে দুগ্ধজাত পণ্য ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। অতীতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই প্রথা তাঁরা পালন করেছেন তবে এখন তা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু তাঁর দাবি, ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রাপ্তির তুলনায় এই খরচ নেহাতই সামান্য । তাছাড়া, গবাদি পশুপালক গুজ্জররা প্রতিদিনের পুজোয় দেবনারায়ণকে দুধ দিয়ে স্নান করান বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এই বিশাল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্যের এ হেন অপচয় কেন, এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গুজ্জর সম্প্রদায়ের কাছে এ কোনও অপচয় নয়। প্রভু দেবনারায়ণ আমাদের গবাদি পশুর রক্ষাকর্তা। আমাদের যা কিছু উন্নতি তাঁরই কৃপায়।তিনি খুশি হলেই আমাদের সার্বিক বিকাশ৷ এই কারণেই ভিতপুজোয় আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে দুগ্ধজাত পণ্য উৎসর্গ করেছি।’

ধর্মীয় আচারের স্বপক্ষে রামলাল যতই এসব মতামত প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করুন না কেন, ঘটনাটির ব্যাপারে তীব্র প্রতিবাদ হওয়া উচিত।যে দেশে নিরন্নের অন্ন জোটে না সেখানে মন্দরের দেবতা কে তুষ্ট করার বদলে, নরনারায়ণের সেবা করা প্রয়োজন৷

সিঙ্গাপুর সফরে

সিঙ্গাপুর বেড়াতে গিয়ে বাজার, সেনটোসা আইল্যান্ড, নাইট সাফারি, পর্যটন পয়েন্ট ঘুরে এসে সকলেই তারিফ করেন কিন্তু ডাউনটাউন এলাকা সেই হিসেবে ব্রাত্য-ই বলা চলে। একসময় সিঙ্গাপুরের কর্মচারীদের চিত্তবিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যে-ক্লাব, এখন সেটাই পুরোদস্তুর রিসর্ট হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানে ওয়াটার গেম থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়ার ব্যাপক আয়োজন রয়েছে। এই অঞ্চল সিঙ্গাপুরের স্ট্রিক্ট অনুশাসনের বাইরে হলেও, এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।এককথায়, এই গোটা অঞ্চল নিজের মধ্যেই স্বতন্ত্র একটি ছোটো শহর এবং এখানে এলে আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এর মধ্যে দিয়ে না কোনও রাস্তা রয়েছে না ট্র্যাফিকের হই-হট্টগোল।

বিভিন্ন স্তরের পর্যটকদের জন্য থাকার নানারকম সুবিধে যেমন রয়েছে সিঙ্গাপুরে, তেমনি দেশি খাবারেরও অঢেল সুবিধে চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।নদীর ধারে কয়েক একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা সতেজ সবুজের সমারোহে ডাউনটাউন ইস্ট, মেন সিঙ্গাপুর থেকে অনেকটাই আলাদা মনে হবে। ডাউনটাউনের দূরত্ব ছাঙ্গি বিমানবন্দর থেকে বেশি দূর নয় এবং থাকা-খাওয়াও অনেক সস্তা। ২-৩ দিনের বিশ্রামের জন্য পর্যটকদের কাছে এই স্থানের জনপ্রিয়তা গগনচুম্বী।

Tourism in singapore

যা যা দেখবেন 

ডাউনটাউন ইস্ট-এর প্রধান আকর্ষণ হল ওখানকার ওয়াইল্ড ওয়েট ওয়াটার পার্ক। পার্কে রয়েছে টিউব থেকে বেরোনো জলের টার্বো টুইস্টার, যেটি ভোরটেক্স নামে পরিচিত। এর বিশেষত্ব হল উঁচু থেকে গড়িয়ে পড়া জলে রয়েছে ব্রোকেন রেসার্স। ভোরটেক্স-এর উচ্চতা ১৮.৫ মিটার পর্যন্ত এবং স্লাইড ১৩৪ মিটারের যাতে স্লিপ করার সময় স্পিড উঠে যায় মিনিটে ৬০০ মিটার। শরীরের ওজন একটু বেশি হলেও ক্ষতি নেই, ১৩৬ কিলোগ্রাম ওজন পর্যন্ত পর্যটকরা অনুমতি পাবেন চড়ার। ব্রোকেন রেসার্স ১৩ মিটারের এবং স্লাইড ৯১ মিটারের।

ওয়াটার পার্কে এনজয় করতে পারেন রয়েল ফ্লাশ, যেখানে জলের ঘূর্ণি থ্রিলিং অনুভূতি উৎপন্ন করবে। এটির উচ্চতাও ১৬ মিটার। আর একটি ওয়াটার স্পোর্ট হল ফ্রি ফল, যেটি সোজা জলের সঙ্গে আপনাকে ভাসিয়ে নিয়ে আসবে এবং প্রতি ঘন্টায় ৫৫ কিলোমিটার স্পিডে আপনাকে আছড়ে ফেলবে একটি বড়ো পুকুরে।

যদি কেউ মনে করেন বাচ্চাদের জন্য এই স্পোর্টগুলি সামান্য ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে কচিকাঁচাদের জন্য রয়েছে কিড্‌স জোন, ওয়েট অ্যান্ড ওয়াইল্ড ফাউন্টেন, স্প্ল্যাশ প্লে ইত্যাদি। বিশ্রামের জন্য টেন্টও রয়েছে।৫০-এর বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে ডাউনটাউন ইস্ট-এ যেখানে দেশি খাবারও পাওয়া যায়।শপিং-এর শখ থাকলে সস্তা এবং ভালো জিনিসের ভরপুর ভাণ্ডার পাবেন। পোশাক থেকে শুরু করে, বাড়ির ঘরোয়া সামগ্রী, জুয়েলারি, জুতো, চশমা সবই পাবেন –এমনকী বিউটি ট্রিটমেন্ট-ও করাতে পারবেন। চিয়ার্স কনভিনিয়েন্স স্টোর ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে গ্রাহকদের সুবিধার জন্য। লন্ড্রি লফ্ট থেকে জামাকাপড় কাচিয়ে নেবার সুবিধা থাকলেও ভারতীয় মুদ্রায় খরচা তুলনামূলক একটু বেশি। গ্যাজেট মিক্স থেকে নতুন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেনা যেতে পারে। সিংগটেল থেকে প্রয়োজনে লোকাল সিম কার্ডও ভরিয়ে নিতে পারেন।

যদিও ডাউনটাউন ইস্ট, সিঙ্গাপুরের হাজারের উপরে কর্মচারীদের শপিং এবং মনোরঞ্জনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল, কিন্তু এখন সেটাই হয়ে উঠেছে আবিশ্বের মানুষের কাছে হই-হুল্লোড় আনন্দে কয়েকটা দিন কাটাবার আদর্শ জায়গা।

লিটল ইন্ডিয়া

পিকক চক্ অর্থাৎ ময়ূর চক্-এর পাশেই লিটল ইন্ডিয়া নামে একটা জায়গা রয়েছে যেটাকে সিঙ্গাপুরের সেন্টার বলা হয়। এই এলাকাটি ভারতীয় পর্যটকদের খুব পছন্দের জায়গা, কারণ জায়গাটির নামের সঙ্গে আমাদের দেশের নাম জড়িয়ে রয়েছে এবং দ্বিতীয়ত এই এলাকাটিতে বহু ভারতীয়ের বসবাস এবং তাদের কর্মক্ষেত্রও বটে। এখানকার পরিবেশও ভারতবর্ষের কথাই বারবার মনে করায়।

লিটল ইন্ডিয়ায় বেশিরভাগ মাদ্রাজিদের দোকান রয়েছে। পঞ্জাবি খাবারও খুব সহজে পাওয়া যায়। একটি বিশাল ‘মল’-ও রয়েছে এই অঞ্চলে যেখানে সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। মলের নাম ‘মুস্তাফা। সপ্তাহের সাতদিন চব্বিশ ঘন্টাই খোলা পাবেন মলটি। মলে যারা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগই ভারতীয় এবং পাকিস্তানি।

হিন্দি, তামিল এবং পঞ্জাবি ভাষায় কথা বলার লোকের অভাব নেই লিটল ইন্ডিয়ায়। ইংরেজি ভাষা জানা না থাকলেও নিজের ভাষায় কথা বলা বা শোনা এখানে খুব একটা কঠিন নয়। যেসব ভারতীয় সিঙ্গাপুরে থাকে, কাজ করে, তারাও শনি, রবিবারের ছুটির দিনে ওখানে বেড়াতে যায়, শপিং করে।

এই অঞ্চলে প্রচুর ভারতীয় এবং পাকিস্তানি হোটেল রয়েছে যেখানে পছন্দমতো ভারতীয় এবং পাকিস্তানি কুইজিনের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন পর্যটকেরা। এমনকী বিদেশিরাও ভারতীয় এবং পাকিস্তানি খাবারের স্বাদ নিতে হোটেলগুলিতে ভিড় জমান। ‘আনন্দভবন’ নামে একটি মাদ্রাজি রেস্তোরাঁও রয়েছে যেখানে সঠিক দামে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

ক্রাইম রেট এখানে নেই বললেই চলে। এখানকার মানুষ খুব সৎ। সিঙ্গাপুরে সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। অপরাধ করে পালিয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তাই হয়তো এই দেশ এখনও পর্যন্ত অপরাধমুক্ত। ‘পকেটমার থেকে সাবধান’ এই ধরনের সতর্কবার্তা কোথাও চোখে পড়বে না। ইন্টারনেট পরিষেবা অত্যন্ত উন্নত। তবে এই দেশের নিজস্ব উৎপাদন বলতে প্রায় কিছুই নেই, সবই আসে বিদেশ থেকে। জল আসে মালয়েশিয়া থেকে, দুধ, ফল, সবজি নিউজিল্যান্ড অথবা অস্ট্রেলিয়া থেকে, চাল-ডাল, দৈনন্দিনের প্রয়োজনীয় বস্তু-ও আসে থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

সিঙ্গাপুর যেতে হলে পাসপোর্ট করানো সব থেকে আগে দরকার।  কলকাতা থেকেও সিঙ্গাপুরের ফ্লাইট নেওয়া যায়। ভারতীয়দের হোটেল বুক করার আগে ভালো করে জেনে নেওয়া জরুরি যে, তাদের নির্ধারণ করা হোটেলটির অবস্থান লিটল ইন্ডিয়া এরিয়ার মধ্যে কিনা। এর ফলে শপিং এবং ঘোরাফেরা করতে সুবিধা হবে।

পিকক চক্-এর এক পাশে যেমন লিটল ইন্ডিয়া, তেমনি অন্য পাশে রয়েছে বুগ্গি স্ট্রিট, যেখানে বড়ো বাজার রয়েছে। সেখানে হরেক রকমের জিনিসের দোকান। সারাদিন খরিদ্দারদের ভিড় লেগেই থাকে। সিঙ্গাপুর যেহেতু পর্যটন প্রধান দেশ তাই নানা দেশের পর্যটকদের দেখা মেলে ওখানে।

Travel to singapore

যাতায়াতের সুবিধা

সিঙ্গাপুরের যাতায়াত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক স্তরের। রাস্তাগুলো অত্যন্ত সুন্দর এবং চারিদিকে সুব্যবস্থা স্পষ্ট চোখে পড়বে। বড়ো এবং ছোটো গাড়ির জন্য আলাদা আলাদা লেন করা রয়েছে। হাঁটা চলার জন্য এবং সাইকেল আরোহীদের জন্যও আলাদা রাস্তা করা হয়েছে। যারা হেঁটে যাতায়াত করছেন তাদের জন্য রাস্তায় অল্প অল্প দূরত্বে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কাচের ওয়াটারপ্রুফ শেড এবং বড়ো বড়ো ওয়াটারপ্রুফ টেন্ট লাগানো রয়েছে যার নীচে বর্ষায় এবং গরমে শুয়ে বা বসে, মানুষ খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারে।

সিঙ্গাপুর যেহেতু পর্যটনের জন্য বিখ্যাত, তাই এখানে দেখার এবং ঘোরার জায়গা প্রচুর। যেমন সিঙ্গাপুর শহর, সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, সি অ্যাকোয়ারিয়াম, স্যান্টোসা, বিচ, মেরিনা বে, জু, নাইট সাফারি, জোরাং বার্ড পার্ক, কেবল কার রাইড, স্কাই রাইড, গার্ডেন বাই দ্য বে ইত্যাদি। মূলত সিঙ্গাপুরের সৌন্দর্য মানুষেরই সৃষ্টি এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্যই নানা ধরনের এন্টারটেইনমেন্ট-এর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি দর্শনীয় স্থান এবং দেখার জিনিস আধুনিক ডিজাইনের উপর নির্ভর করে বানানো হয়েছে, যাতে মানুষের উৎসাহে ভাটা না পড়ে।

যেতে ভুলবেন না

লিটল ইন্ডিয়া ছাড়াও. ভারতীয়দের জন্য আরেকটি আকর্ষণ হল  সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার, যেটি এশিয়ার সব থেকে উচ্চতম জায়ান্ট অবজার্ভেশন হুইল। এটির উচ্চতা ৫১৪ ফুট। এটিতে ২৮টি বাতানুকূল ক্যাপসুল লাগানো রয়েছে যার এক-একটিতে ২৮ জন করে লোক একসঙ্গে বসতে পারে।

মারলায়ন পার্ক শহরের ঠিক মধ্যেখানে অবস্থিত। এখানে সবসময় পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। এখানে একটি স্ট্যাচু রাখা আছে যেটার মুখ সিংহের এবং বাকি শরীরটা মাছের আকৃতি। স্ট্যাচুর মুখ থেকে নিরন্তর জলের ধারা গড়িয়ে পড়ছে। ছবি তোলার জন্য আদর্শ জায়গা। স্ট্যান্টোসা-র কেবল কার রাইড খুব জনপ্রিয়। লোহার তৈরি বাতানুকূল কেবিনগুলিতে একসঙ্গে ৮ জন বসে সফর করতে পারে। এই কেবল কার মাউন্ট ফো বার থেকে স্যান্টোসা পর্যন্ত যেতে ১৫ মিনিটে সময় নেয়। এই রোপওয়েটি ১৬৫০ মিটার লম্বা। কেবিন থেকে নীচে সমুদ্র দেখা যায় এবং কেবিনের কাচের চার দেয়ালের বাইরে বিস্তৃত সবুজ জঙ্গলের শোভা দর্শকদের মুগ্ধ করে। মডার্ন টেকনোলজি সমৃদ্ধ কেবিনগুলি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এছাড়াও স্যান্টোসার আর একটি আকর্ষণ হল মাদাম তুসো মিউজিয়াম, ইমবাহ্, যেখানে লাইট এবং সাউন্ডের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর দেশটির উত্থানের কাহিনি বর্ণিত করা হয়। এতে ভারতীয়দের অবদানও কিছু কম নয়। মিউজিয়ামে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অনুকরণে মোমের পুতুল তৈরি করে রাখা হয়েছে যা দেখে দর্শকরা আনন্দ পান। মিউজিয়ামের একেবারে পাশেই রয়েছে স্কাই রাইড।

৪ জনের চেয়ারযুক্ত এই রাইড নিলে পাখির চোখে সিঙ্গাপুরের সৗন্দর্য অবলোকন করার যেমন সুযোগ ঘটবে তেমনি সাউথ চায়না সি সহ স্যান্টোসা আইল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদও আপনার চোখে ধরা পড়বে। এটিও সম্পূর্ণ ভাবে সুরক্ষিত একটি রাইড।

এছাড়াও স্যান্টোসা-তে দেখে নিতে পারেন উইংগস অফ টাইম যেটি লেজার রশ্মির সাহায্যে প্রস্তুত করা হয়। আলোর খেলা বলেই সন্ধেবেলায় এই শো প্রস্তুত করা হয়। স্যান্টোসার সিলিসি বিচে সমুদ্রের জলে হাওয়ার সাহায্যে উঁচু উঁচু ঢেউ তুলে তার উপর লেজার রে ফেলে, ফিল্ম-এর মতো এই শো প্রস্তুত করা হয়।

ইউনিভার্সাল স্টুডিও এশিয়ার সেকেন্ড লার্জেস্ট থিম বেস পার্ক। ৪৯ একর জায়গা নিয়ে পার্কটি তৈরি করা হয়েছে। পার্কটিতে ২রটি রাইডের মধ্যে ৬টি রোলার রাইড এবং ২টি ওয়াটার রাইড রয়েছে। রাইডগুলি চড়তে যথেষ্ট সাহসের দরকার। গার্ডেন বাই দ্য বে, একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। এটি সিঙ্গাপুরের মধ্য মেরিনা বে-তে স্থিত। পিকনিক স্পট হিসেবে সব বয়সিদের কাছেই এটি খুবই জনপ্রিয়।

জোরাং বার্ড পার্ক নামটাই স্পষ্ট করে দেয় এটি মূলত পাখিদের উদ্যান। কোথাও খাঁচা, কোথাও দাঁড়, কোথাও আবার খোলা আকাশের নীচে, কিংবা ঝিল-ও তৈরি হয়েছে পাখিদের রাখার জন্য ওদের স্বভাব অনুসারে। চারিপাশে রয়েছে জঙ্গলের পরিবেশ।

নাইট সাফারি করতে হলে সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মধ্য রাত পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য এটি খোলা থাকে। এখানে প্রায় ১২০ রকমের ১০৪০টি প্রাণী এই জঙ্গলে রয়েছে। প্রায় চার লক্ষ স্কোয়্যার মিটার বর্গক্ষেত্র নিয়ে এই জঙ্গলের বিস্তৃতি। ৭টি জোনে জঙ্গলটি ভাগ করা হয়েছে। চাঁদনি রাতে জঙ্গলের রোমাঞ্চ জাগানো হাতছানি আপনাকে করবে বিস্ময়-বিমুগ্ধ।

বেলের স্বাস্থ্যগুণ

কথায় বলে, খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল, নাকে-কানে তেল, মাঝেমধ্যে বেল। অর্থাৎ, বেলের অসাধারণ স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার, প্রোটিন, ক্যালসিযাম প্রভতিতে সমৃদ্ধ এই ফলটি। অতএব, বাজারে পাকা বেল বিক্রি হতে দেখলেই কিনে আনুন এবং পান করুন বেলের শরবত। আসুন বেলের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিই।

বেলের স্বাস্থ্যগুণ

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : বেল খেলে হজমশক্তি বাড়ে, তাই পেট পরিষ্কার হয়। আর এই কারণেই দূর হয় কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা।

আলসার আটকায় : বেলে থাকে ট্যানিন নামক একটি উপাদান। আর এই উপাদান পেপটিক আলসার আটকাতে সাহায্য করে।

লিভার এবং কিডনিকে সুস্থ রাখে : হালকা গরমজলে বেলের শরবত বানিয়ে পান করলে, লিভার এবং কিডনির কার‌্যক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে, রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকারক টক্সিন উপাদান বেরিয়ে যাবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে।

ডাযাবেটিস প্রতিরোধ করে : বেলে থাকে ফেরোনিযা গাম, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ফুসফুসের কার‌্যক্ষমতা বাড়ায় : যারা প্রায়ই সর্দি-কাশিতে ভোগেন, তারা বেল খেলে উপকার পাবেন। কারণ, বেল ফুসফুসের কার‌্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়, ফলে কফ বেরিয়ে যায় ফুসফুস থেকে।

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে : বেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকার কারণে, সর্দি-কাশি থেকে যেমন মুক্তি পাওযা যায়, ঠিক তেমনই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

এনার্জি বাড়ায় : বেলে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদান থাকার কারণে, শরীরের প্রতিটি কোশের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে।

পরিচ্ছন্নতাই সুস্থতার প্রথম ধাপ

শরীর এবং মন ঠিক রাখতে গেলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। শুধু নিজেকে নয়, পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে নিজের বাসস্থানকেও। কারণ, পরিচ্ছন্নতাই সুস্থতার প্রথম ধাপ। ভেবে দেখুন, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার পর বাড়ি ফিরে আপনি নিজে যেমন আরামে থাকতে চাইবেন, আপনার পরিবারের সদস্যরাও তাই চাইবেন। কিন্তু যদি অগোছালো ঘর, নোনা ধরা রং-চটা দেয়াল, ম্লান আলো, স্যাঁতসেঁতে মেঝে কিংবা মশা, আরশোলা, টিকটিকি, ইঁদুর প্রভৃতি চোখে পড়ে, তাহলে অবসাদ গ্রাস করার সম্ভাবনা প্রবল।

এক বিশিষ্ট নিউরো স্পেশালিস্ট-এর মতে, ঘরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ যদি সৌন্দর্যহীন থাকে কিংবা হাইজিনিক না হয়, তাহলে এর কুপ্রভাব পড়তে পারে ওই ঘরে বসবাসকারী সদস্যদের উপর। আর এই অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাড়ির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। মনে রাখবেন, আমাদের দেশে, বিশেষকরে পশ্চিমবঙ্গে, বছরের কয়েকটা মাস বাদ দিলে বেশিরভাগ সময়ই আবহাওয়া থাকে ভ্যাপসা। বৃষ্টি এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাড়িঘরে পোকামাকড়, জীবাণু প্রভৃতির উপদ্রব বাড়তে থাকে। আর এই পোকামাকড়ের উপস্থিতি যেমন বিরক্তিকর, তেমনই হতে পারে স্বাস্থ্যহানির কারণ। অতএব, জেনে রাখুন পরিচ্ছন্নতার উপায়।

আলো-হাওয়ার ব্যবস্থা

প্রতিটি ঘরে যেন পর্যাপ্ত আলো-হাওয়া ঢোকে, তার ব্যবস্থা করা জরুরি। এর জন্য, প্রতিটি ঘরে একটি বা দুটি জানলা রাখা প্রয়োজন। দিনেরবেলা যতক্ষণ বাড়িতে থাকবেন, ততক্ষণ যতটা সম্ভব জানলা-দরজা খুলে রেখে ঘরে আলো-হাওয়া ঢোকার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজন হলে, বক্স-টাইপ জানলা করে তাতে মশকুইটো নেট ব্যবহার করুন, যাতে জানলা খুলে রাখলেও পোকামাকড় ঢুকতে না পারে। অবশ্য শুধু শোওয়ার ঘর নয়, বসার ঘর, রান্নাঘর, শৌচালয় প্রভৃতি জায়গায়তে একই ভাবে আলো-হাওয়া ঢোকার ব্যবস্থা রাখুন। প্রতিটি ঘরে জমে থাকা অস্বাস্থ্যকর হাওয়া, বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য এগজস্ট ফ্যান-এর ব্যবস্থা করুন। যে-সব ঘরে প্রাকৃতিক আলো কম ঢোকে, সেইসব ঘরে উপযুক্ত বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রাখুন। খরচ বাঁচানোর জন্য সম্ভব হলে সোলার পাওয়ার লাইট ব্যবহার করুন।

পোকামাকড় আটকান

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে, ঘরে আরশোলা, উই, পিঁপড়ে, মশা, মাছি, ইঁদুর প্রভৃতির উপদ্রব বাড়ে। প্রথম থেকেই যদি এসব না আটকানো যায়, তাহলে জ্বর, অ্যাজমা, টিবি, ডায়ারিয়া, ডেঙ্গু  প্রভৃতি অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, ঘরদোর যতটা সম্ভব পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং তিনমাস অন্তর একবার পেস্ট-কন্ট্রোল করান পেশাদার কর্মীদের সাহায্যে।

নর্দমা পরিষ্কার রাখুন

মাথার চুল কিংবা প্লাস্টিকজাতীয় কোনও কিছু নর্দমায় ফেলবেন না। এমনকী, আনাজের খোসাও নয়। ভাতের মাড় ফেলার আগে তা জল দিয়ে পাতলা করে ফেলুন। কারণ, নর্দমায় ভারী কিছু ফেললে জল নিকাশ হবে না এবং ময়লা জমে, পচে গন্ধ বেরোতে থাকবে। অতএব, নর্দমা পরিষ্কার রাখুন।

তবে, এই তিনটি বিষয় ছাড়াও, আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যা যত্ন সহকারে করলে তবেই বাড়িঘরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যাবে।

যা যা করণীয়

  • ঘরের দেয়ালে নোনা ধরতে দেবেন না। বাজারে এখন ড্যাম্প-প্রুফ রং পাওয়া যায়, ওই রং ব্যবহার করুন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর
  • জানলা-দরজার ফ্রেম অথবা পাল্লায় ফাটল কিংবা গর্ত তৈরি হলে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুডিং দিয়ে আটকান। কারণ, ওইসব ফাটল কিংবা গর্তে কীটপতঙ্গ বাসা বাঁধার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে
  • জলের পাইপে কোনও ফাটল দেখলে তখনই তা গামটেপ দিয়ে আটকান। নয়তো জল চুঁইয়ে দেয়াল এবং পাইপে শ্যাওলা পড়তে পারে। আর এই স্যাঁতসেঁতে এবং শ্যাওলাযুক্ত জায়গায় বাসা বাঁধতে পারে জীবাণু
  • বাথরুম-এর টাইল্স-এ দাগছোপ এবং ধুলোময়লা জমতে দেবেন না। কারণ, এরফলে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। তাই, সপ্তাহে অন্তত একদিন লিকুইড সাবান দিয়ে টাইল্স পরিষ্কার রাখুন
  • মেঝে মোছার সময় সামান্য কেরোসিন ব্যবহার করুন, এতে দুর্গন্ধ এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে
  • রান্নাঘর এবং শৌচালয়ের নিকাশি পাইপ-এ মাঝেমধ্যে ড্রেন-ক্লিনার লিকুইড ঢেলে দিন। এতে, ময়লা জমে থাকবে না এবং নিকাশি ব্যবস্থা উপযুক্ত থাকবে
  • ঘরদোরে যত্রতত্র ধুলোময়লা জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, ধুলোময়লা জমিয়ে রাখলে কীটপতঙ্গ বাসা বাঁধবে
  • ঘরে এসি মেশিন ব্যবহার করলে বিছানাপত্তর মাঝেমধ্যে কড়া রোদে রাখুন। নয়তো ফাঙ্গাস পড়ে জীবাণু তৈরি হতে পারে
  • ঘরে কিংবা বারান্দায় গাছ বসানো টব রাখলে মাঝেমধ্যে কীটনাশক স্প্রে করুন। এতে গাছ এবং বাড়ির পরিবেশ দুই-ই সুরক্ষিত থাকবে
  • পচা খাবার, উচ্ছিষ্ট, সবজির খোসা প্রভৃতি একবেলার বেশি ঘরে জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, এসব জমিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ এবং জীবাণু দুটোই উৎপন্ন হতে পারে
  • ঘরের ভিতর ভেজা জামাকাপড় মেলে রাখবেন না। কারণ, জামাকাপড়ের জল থেকে ঘরের আবহাওয়া ভ্যাপসা হয়ে উঠবে
  • বাথরুম-এ একই জল দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, পরিষ্কার জমা জলে মশা জন্মায়
  • দরজা-জানলার পর্দা প্রতি পনেরো দিন অন্তর কেচেধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। এতে ঘরে জীবাণু বাসা বাঁধবে না
  • মাকড়সা, আরশোলা, টিকটিকি এবং ইঁদুরের উপদ্রব আটকানোর জন্য স্ট্রং গামযুক্ত পেপারবোর্ড ব্যবহার করুন ঘরের দেয়াল এবং মেঝের অন্ধকার জায়গায়। এই বোর্ড-এ টাচ করলেই আটকে থাকবে ইঁদুর, আরশোলা, টিকটিকি, মাকড়সা৷

এসব মেনে চললে ঘরদোরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকবে এবং আপনি ও আপনার পরিবারের সবাই সুস্থ থাকবেন।

চিকেন দিয়ে পার্টি ডিশ

গরমের আবহে রেস্তোঁরায় খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে৷ তাই বাড়িতেই বন্ধুবান্ধবদের ডেকে সেরে নিন  পার্টি৷ আর তার জন্য এখানে দেওয়া হল দুটি পার্টি ডিশ যা আপনি এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে  সার্ভ করতে পারবেন৷

মুর্গ মেথি টিক্বা

উপকরণ – ৭৫০ গ্রাম বোনলেস চিকেন চৌকো টুকরোয় কাটা, ১৫০ গ্রাম মেথিশাক ব্লেন্ডারে পেস্ট বানানো, ১/৪ কাপ সরষের তেল, ১ ছোটো চামচ শাহ জিরাগুঁড়ো।

প্রথম ম্যারিনেশন – ১ বড়ো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ২ বড়ো চামচ লেবুর রস, নুন স্বাদ অনুসারে।

দ্বিতীয় ম্যারিনেশন – ১ কাপ ফেটানো দই, ২ বড়ো চামচ কসৌরি মেথিগুঁড়ো,২ বড়ো চামচ ধনেপাতাবাটা, ১/২ ছোটো চামচ কাঁচালংকাকুচি, ১ ছোটো চামচ আদাকুচি, ১ বড়ো চামচ কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, ২ বড়ো চামচ বেসন (খোলায় ভাজা), ১ বড়ো চামচ চাটমশলা, ১ বড়ো চামচ তেল।

প্রণালী – একটা পাত্রে তেল গরম করে শাহজিরে ভেজে নিন। এতে মেথিপাতার পেস্ট দিন। রান্না করুন। নামিয়ে আলাদা রাখুন। প্রথম ম্যারিনেশনের উপকরণ চিকেনে মাখিয়ে রেখে দিন। এবার অন্য একটি পাত্রে দ্বিতীয় ম্যারিনেশনের সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে মেথিপাতার পেস্ট, লেবুর রস ও তেল দিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করুন। প্রথম ম্যারিনেশন থেকে চিকেনের টুকরোগুলো তুলে, হাত দিয়ে চেপে অতিরিক্ত জলটা ঝরিয়ে নিন। এরপর দ্বিতীয় ম্যারিনেশনটা মাখিয়ে চিকেনটা আরও ২ ঘন্টা রেখে দিন। আভেন ২০০ ডিগ্রিতে প্রিহিট করে রাখুন। ম্যারিনেট করা চিকেন শিকে গেঁথে গ্রিল করুন। স্যালাড ও চাটনি সহযোগে সার্ভ করুন।

Party dish Jamaican jerk chicken

জামাইকান জার্ক চিকেন ড্রামস্টিক

উপকরণ – ৪টে চিকেন লেগপিস,৩০ মিলি ভেজিটেবল অয়েল, অল্প ব্রাউন সুগার, ৩০ মিলি সিডার ভিনিগার, ১০ গ্রাম গোলমরিচের গুঁড়ো, অল্প জায়ফলগুঁড়ো,১০ গ্রাম দারুচিনি, অল্প পেঁয়াজ বাদামি করে ভাজা, ৩০ গ্রাম কাঁচালংকা, অল্প জোয়ান,অল্প রসুন-ভাজা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী – চিকেন ধুয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে চিকেনের টুকরোগুলো আধঘন্টা ম্যারিনেট করুন। এবার ঢিমে আঁচে চারকোল গ্রিল করুন। গোলমরিচ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

বলিউডি ছবিতে সলমান খানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন যিশু সেনগুপ্ত

মাত্র কয়েকদিন আগেই, সলমন খান তাঁর জন্মদিনের প্রাক্কালে, অনুরাগীদের উপহার দিয়েছিলেন তাঁর আগামী ছবি ‘অন্তিম’-এর ফার্স্টলুক। মাথায় পাগড়ি, চোখে সানগ্লাস,হাতে কড়া — এক শিখ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা গেছে ‘দাবাং’ –এর angry young man সলমান খান-কে। ‘অন্তিম’-এর বিষয়বস্তু কৃষকদের জীবন সংঘর্ষের কাহিনি। ২০১৮ সালের এক মারাঠি ছবি‘মুলশি প্যাটার্ন’-এর হিন্দি রিমেক ‘অন্তিম’। বর্তমানে যখন দেশ জুড়ে চলছে কৃষকদের বিক্ষোভ, তখন নিশ্চিত ভাবে এ ছবির একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করেন পরিচালক মহেশ মঞ্জরেকর। এই ছবিতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছেন সলমানের ভগ্নীপতি, আয়ুষ শর্মা। আর বিশেষ একটি চরিত্রে রয়েছেন আমাদের টলিউডের অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত৷

শুধু টলিউডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নয়, বলিউড এবং তেলুগু ছবিতেও প্রায়ই দেখা যায় যিশুকে৷ফলে অনবরত তাঁকে উড়ে যেতে হয় মুম্বই নয়তো দক্ষিণে৷একাধারে তিনি যেমন হিন্দি ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন, তেমনই মূলধারার বলিউড সিনেমাতেও তাঁর অভিনয় নজর কাড়ছে দর্শকদের। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ছবিও রয়েছে তাঁর হাতে।পরিচালক শিবপ্রসাদ-নন্দিতার উইন্ডোজ প্রোডাকশনস -এর ছবি, ‘বাবা বেবি’ -ওর ঘোষণা করা হয়েছে সম্প্রতি।আর এবার বলিউডের ‘অন্তিম’ ছবিতে একটি নেগেটিভ চরিত্রে বাছা হয়েছে তাঁকে৷

‘বরফি’, ‘মরদানি’, ‘পিকু’ ছাড়াও হালফিল সময়ে, অণু মেনন –এর শকুন্তলা দেবী বা মহেশ ভট্টের সড়ক ২ – এ দেখা গেছে তাঁকে৷ মুম্বইয়ে এত সুযোগ কীভাবে পান তিনি– একথা এক সাক্ষাতকারে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে, যিশু জানিয়েছিলেন, বাঙালি নির্দেশকরা চেনেন বলেই এটা হয়। তাঁর প্রথম হিন্দিতে কাজ অবশ্য শ্যাম বেনেগলের সঙ্গে (নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু: দ্য ফরগটেন হিরো)। কিন্তু শ্যামজির সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছিল এক বাঙালির সূত্রেই— সমীর চন্দ। আর বাকি যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যেমন অনুরাগ বসু, তাঁকে পারিবারিক ভাবে অনেক আগে থেকে চিনতেন। প্রদীপ সরকারের সঙ্গেও সেভাবেই যোগাযোগ। আর সুজিত সরকার তাঁকে ‘জাতিস্মর’এ দেখেই কাস্ট করেন।

এর আগে সড়ক ২ –এও নেতিবাচক চরিত্রে দেখা গিয়েছিল যিশুকে৷বক্স অফিসে সেই ছবি ভালো ফল না করলেও, তাঁর অভিনয়ের কারণে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন যিশু।নেগেটিভ চরিত্র হলেও, সলমানের সঙ্গে এবার স্ক্রিন শেয়ার করে স্বভাবতই খুব‌ উচ্ছসিত এই টলিউড অভিনেতা৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব