মোবাইলের ক্যামেরা যখন বিপদের মূলে

মোবাইল ফোন যেমন একটি টেকনোলজির বিপ্লব বলে গণ্য করা হয়, ঠিক ততটাই বিপদ বাড়ে যখন এই কারিগরিকে ভুল কাজে ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ঠিক তেমনই একটা ক্ষতিকারক জিনিস। মহিলাদের স্নানের দৃশ্য বা পোশাক পরিবর্তনের মুহূর্ত কেউ গোপনে ক্যামেরাবন্দি করে, ভাইরাল করে দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে আজকাল৷

দুঃখের বিষয় হল, ভারতের আমজনতা যারা বিজ্ঞান সচেতন এবং সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আগেই এই যন্ত্রটি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা হাতে পেয়ে গেছেন— তারা প্রতিদিন মুখিয়ে থাকেন এই সব কুরুচিপূর্ণ ভিডিয়োর জন্যই। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, অ্যাপস, থ্রেড এবং ইউটিউব-এ হামলে পড়ে মানুষ এই ধরনের আপত্তিকর ভিডিয়ো দেখার আশায়।

দিল্লিতে ছাত্রদের একটি অনুষ্ঠানে, ফ্যাশন শো চলাকালীন ওয়াশরুমে কস্টিউম বদলাতে ঢোকে মেয়েরা। একজন সাফাই কর্মচারী কোনও একটি জানলা থেকে সরাসরি এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। অনিচ্ছাকৃত ভাবে অসতর্ক হওয়া এই ঘটনায় ওই মেয়েদের কি সত্যিই দোষী বলা যায়? কিন্তু তাদের জীবন গ্লানিময় হয়ে উঠতে পারত ওই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেলে।

আজকাল ভিডিয়ো এডিটিং টুলস অত্যন্ত সহজলভ্য। ব্যাকগ্রাউন্ড বদলে যে-কোনও মহিলাকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত বলে চাউর করে দেওয়া মোটেই কঠিন নয়। কিছু অসাধু লোক এই কুরচিকর ভিডিয়ো ভাইরাল করার নেশায় মেতেছে।

এদিকে মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি বেশি মুনাফা লাভের জন্য দিনকে দিন মোবাইল ফোন ক্যামেরাকে উন্নততর করে তুলছে। কিন্তু সামাজিক অপরাধ রুখতে এখনই মোবাইল ফোন থেকে ক্যামেরা পৃথক করা উচিত। এটি একটি আলাদা গ্যাজেট হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে, যাতে উলটো দিকের মানুষ সহজেই সতর্ক হতে সক্ষম হয় যে তার ছবি ক্যামেরিবন্দি করা হচ্ছে। এটা টেকনোলজি বিরোধী পদক্ষেপ নয় বরং গাড়িতে সেফটি ব্রেক বা এয়ার বেলুন থাকার মতো জরুরি উপকরণ হল মোবাইল ও তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা।

মোবাইল ক্যামেরা প্রাইভেসিকে পুরোপুরি হত্যা করছে। গৃহবধূরাও এখন দিনরাত ঘর সংসারকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছে রিল বা ডেইলি ভ্লগের মাধ্যমে। এরপর তার ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষার দায়িত্ব কীভাবে বা কারা নিতে পারবে?

আমেরিকায় যেমন বখাটে ছোকরাদের বন্দুক চালিয়ে যখন তখন মানুষ মারা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। পাদ্রীরা একে ঈশ্বরের বিধান এবং গণতন্ত্রের প্রচারকরা অধিকারের প্রশ্ন তুলে নির্বিকার হয়ে রয়েছেন। এদেশে তেমন ফোন ক্যামেরাকে হাতিয়ার হতে দেওয়া বিপজ্জনক।

ক্যামেরা ফোনের সঙ্গে পৃথক ভাবে বিক্রি হলে, অনেকেই তা কিনবেন না আলাদা টাকা দিয়ে। অন্তত এর ফলে এদেশের নিরীহ নাবালিকারা তাদের সম্ভ্রম ও লজ্জাটুকু সুরক্ষিত রেখে একটি নিশ্চিন্ত জীবন কাটাবে।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস-এ সতর্কতা এবং সঠিক চিকিৎসা

তেলমশলা যুক্ত ভারী খাবার গ্রহণের ফলে অনেক সময় বদহজম এবং পাচনজনিত রোগ হওয়ার দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া হয়। আসলে এই সব সমস্যা হয় নানা কারণে। যেমন— বাইরে খাওয়া, বেশি তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার খাওয়া, জাংক ফুড খাওয়া, অতিরিক্ত খাওয়া, অসময়ে খাওয়া প্রভৃতি। অনেক সময় পেট ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, পেট খারাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা এবং জ্বালাপোড়ার লক্ষণ দেখা যায়। শুধু তাই নয়, মলের সঙ্গে রক্ত বের হওয়া এবং উপরের পেটে তীব্র ব্যথাও হতে পারে। এগুলি মূলত গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, পেপিক অ্যাসিড ক্ষরণ, অন্ত্রের রোগ কিংবা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণে ঘটে বলে জানিয়েছেন কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জন ডা. সঞ্জয় মন্ডল।

আসলে প্রচুর পরিমাণে মাংসভিত্তিক খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে মানুষের মধ্যে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মলের সঙ্গে রক্তপাত প্রভৃতি হতে পারে। যাদের পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে, তারা যদি তৈলাক্ত এবং চর্বিযুক্ত খাবার খান বেশি পরিমাণে, তাহলে পেটে তীব্র ব্যথা হতে পারে। গলব্লাডারে পাথর এবং অ্যালকোহল গ্রহণের ফলেও প্যানক্রিয়াটাইটিস-এর সমস্যা হয় অনেক সময়। অপর একটি গুরুতর সমস্যা যা খাবার খাওয়ার ফলে হতে পারে, তা হল— অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা বা সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি এমন খাবার।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস একটি স্বল্পমেয়াদী অসুস্থতা, যা পাচনতন্ত্রের সংক্রমণ এবং প্রদাহের কারণে তৈরি হয়। উপসর্গগুলির মধ্যে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং বমিবমি ভাব হতে পারে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণগুলির মধ্যে রয়েছে— ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ব্যাকটেরিয়াল টক্সিন, পরজীবী, বিশেষ রাসায়নিক এবং কিছু ওষুধ। গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস-কে ‘স্টমাক বা পাকস্থলীর ফ্লু’-ও বলা হয়।

ডায়রিয়া এবং বমি হলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার ‘পেটের ফ্লু’ হয়েছে। এই লক্ষণগুলি প্রায়শই গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস নামক অবস্থার কারণে হয়।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণে আপনার পাকস্থলি স্ফীত হয়ে উঠতে পারে। এটি আসলে ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের লক্ষণ

প্রধান লক্ষণগুলি হল— জলযুক্ত মল এবং বমি। এছাড়া পেটে ব্যথা, জ্বর, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথাও হতে পারে।

ডায়রিয়া এবং বমির কারণে আপনি জলশূন্যও হতে পারেন। ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলির জন্য শুষ্ক ত্বক এবং শুষ্ক মুখ, হালকা মাথা ব্যথাও হতে পারে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, শিশুরা দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হতে পারে। তাই যদি আপনার সন্তানের গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসে আক্রান্ত শিশু সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ডে-কেয়ার বা স্কুলে পাঠাবেন না। আপনার সন্তানকে কোনও ওষুধ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ডায়রিয়া এবং বমি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধগুলি সাধারণত ৫ বছর বয়সের কম বয়সি শিশুদের দেওয়া হয় না।

পাকস্থলীর ফ্লু-র জন্য দায়ী যে-ভাইরাস, সেই ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য শিশুদের দুটি টিকা দেওয়া যেতে পারে। ভ্যাকসিন সম্পর্কে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের কারণ কী?

◌ নোরো ভাইরাস আছে এমন কারওর সংস্পর্শে এলে

◌ দূষিত খাবার খেলে

◌ বিশুদ্ধ জল পান না করলে

◌ বাথরুমে যাওয়ার পর বা ডায়াপার পরিবর্তন করার পর হাত না ধুলে

◌ গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ একটি ভাইরাস। প্রধান প্রকারগুলি হল রোটা ভাইরাস এবং নোরো ভাইরাস।

রোটা ভাইরাস শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ এবং নোরো ভাইরাস হল গুরুতর গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে সাধারণ কারণ।

যদিও তেমন সাধারণ নয়, ই-কোলাই এবং সালমোনেলার মতো ব্যাকটেরিয়াও পেটের ফ্লু-কে ট্রিগার করতে পারে। সালমোনেলা এবং ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ব্যাকটেরিয়া হল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণ। সাধারণত কম আঁচে রান্না করা মুরগি, ডিম দ্বারা ছড়িয়ে পড়তে পারে। পোষা সরীসৃপ বা জীবন্ত হাঁস-মুরগির মাধ্যমেও সালমোনেলা ছড়াতে পারে।

আরও একটি ব্যাকটেরিয়া হল শিগেলা, যা প্রায়শই অস্বাস্থ্যকর ডে-কেয়ার সেন্টারে ছড়িয়ে পড়ে। এটি সাধারণত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের সাধারণ উৎস হল দূষিত খাবার এবং পানীয় জল।

আপনি যদি দূষিত সুইমিং পুলে স্নান করেন কিংবা দূষিত জল পান করেন, তাহলে জিয়ার্ডিয়া এবং ক্রিপ্টোম্পোরিডিয়ামের মতো জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন।

এছাড়াও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস হওয়ার অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে— পানীয় জলে ভারী ধাতু (আর্সেনিক, ক্যাডমিয়াম, সিসা বা পারদ), প্রচুর অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া, যেমন সাইট্রাস ফল এবং বিষাক্ত পদার্থ যা নির্দিষ্ট সামুদ্রিক খাবারে থাকে। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টাসিড, জোলাপ এবং কেমোথেরাপির ওষুধ।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস-এ সতর্কতা এবং চিকিৎসা

আক্রান্ত শিশুকে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দিন। বয়স-উপযুক্ত ডোজ স্পেসিফিকেশনের জন্য আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করুন প্রাপ্তবয়স্করা। মসৃণ, সহজে হজমযোগ্য খাবার যেমন ক্র্যাকার, কলা, টোস্ট, ভাত এবং চিকেন দিয়ে শুরু করুন। দুগ্ধজাত খাবার, ক্যাফিন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস-এ আক্রান্ত হলে।

যতটা সম্ভব বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। আর তা যদি সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত এমন খাবার খান, যা স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশুদ্ধ জল পান করুন। এর জন্য বাইরে বেরোলেই বাড়ি থেকে জল নিয়ে যান। আর জল রাখার পাত্র যেন প্লাস্টিকের না হয়। জল পান করার জন্য স্টিল কিংবা কাচের পাত্র ব্যবহার করুন।

তৈলাক্ত এবং মশলাযুক্ত খাবারগুলি এড়িয়ে চলুন। জাংক ফুড থেকে দূরে থাকুন। অসময়ে খাবেন না। যতটা সম্ভব নিয়মিত সঠিক সময়ে খাবার খান। খাদ্য গ্রহণের পরে যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকে, তাহলে মাংস খাওয়া বন্ধ করুন। ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। বেশি রাত করে খাবেন না এবং সকালে সাতটার মধ্যে ব্রেকফাস্ট সারুন। খুব বেশি মিষ্টি খাবেন না। শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেই নয়, মিষ্টি সবারই কম খাওয়া উচিত। কারণ, মিষ্টি ওজন বাড়িয়ে দেয়। স্বল্পমেয়াদে বদহজম এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থূলতার সমস্যার কারণও হতে পারে। অ্যালকোহল এবং ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

পিত্তথলিতে পাথর আছে এমন রোগীদের সেদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত উপযুক্ত পরিমাণে। যাদের পাইলস রয়েছে, তারা মাংস খাবেন না এবং জল পান করবেন সঠিক পরিমাণে। অতএব মনে রাখতে হবে,  সুস্থ থাকার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, সুস্বাস্থ্যই প্রকৃত সুখ বয়ে আনে।

ধর্মীয় আচার এক নিঃশব্দ ঘাতক

সাধারণত হিন্দু পরিবারে পুজোপাঠের এক অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ হল হোমযজ্ঞ করা। যুগযুগ ধরে চলে আসা এই রীতির স্বপক্ষে ধর্মান্ধরা যে-যুক্তি দিয়ে থাকেন, তা হল যজ্ঞ করার ফলে সামাজিক পাপ নাশ হয় ও চারপাশের পরিমণ্ডল শুদ্ধ হাওয়ায় ভরে ওঠে। অথচ সাধারণ বিজ্ঞানচেতনা যার আছে তিনি অবশ্যই জানবেন, যজ্ঞ করলে কার্বনডাইঅক্সাইড আরও বাড়বে। সুতরাং হাওয়া পরিশুদ্ধ হওয়ার এই যুক্তি সম্পূর্ণরূপে ভুল।

যদি একটু পিছিয়ে যাই তাদলে দেখব, ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর ‘ডেলি গার্জিয়ান’ কাগজে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি জিতেন্দ্র তুলি, এই ভুল ধারণার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত প্রিয়পাত্র তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প-এর উক্তি তুলে ধরেন তিনি, যেখানে ট্রাম্প বলছেন, ভারতের হাওয়া অত্যন্ত দুষিত ও শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য।

জিতেন্দ্র আরও বলেছেন, তাঁর শৈশবে স্পষ্ট ভাবে আকাশ দৃশ্যমান হতো রাতে। আর এখন ভারত এক বিষাক্ত গ্যাস চেম্বারে পরিণত হয়েছে। কারণ এখানে এখনও মৃতদেহ পোড়ানো হয় কাঠ দিয়ে। পুজোপাঠে ধুপধুনো, হোমযজ্ঞ এবং প্রদীপ জ্বলে হাওয়াকে দুষিত করছে। অথচ সোশ্যাল মিডিয়াতে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হোমযজ্ঞ পূজাপাঠের সুফল প্রচার করা হচ্ছে।

অ্যালার্জি স্পেশালিস্ট ঋতিক গোয়েল স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, আজকাল সমস্ত বাচ্চার উপরেই দূষণের প্রভাব পড়ছে। কারণ প্রতিটি বাড়িতেই জ্বলছে ধূপ, মসকুইটো কয়েল কিংবা পুজোর যজ্ঞ। বাইরে বেরোলেই রয়েছে গাড়ি থেকে নির্গত পেট্রল, ডিজেলের দূষিত হাওয়া। কাঠের ধোঁয়া সবচেয়ে ক্ষতিকারক। এর কারণ এর মধ্যে ছোটো পার্টিকুলেট বা অণুর আকারে বিষাক্ত গ্যাস থাকে যা চোখ ও ফুশফুসের ক্ষতি করে। সেই কারণেই আমেরিকায় ফায়ারপ্লেস-এ কাঠ জ্বালানোর বিলাসিতা বন্ধ হয়েছে।

আমরা আর কতকাল কুসংস্কার ছড়িয়ে কার্বন মনোঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রোজেন অক্সাইড প্রভৃতি বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মেশাতে থাকব!

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই হোমযজ্ঞ বন্ধ করুন, তাহলে জনমানসে তার সুফল অবশ্যই পড়বে।

অষ্টমীর নন্দিনী (শেষ পর্ব)

সপ্তর্ষির চকিতে রোমির কথা মনে পড়ে গেল। গত বছর অষ্টমীতে সে তাকে নিয়ে শ্রীরামপুরে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল। রোমি এখন তার কেউ নয়। সে এখন দীপাংশুর গার্লফ্রেন্ড। সপ্তর্ষি ভালো করেই জানে, দীপাংশু ওকে বিয়ে করবে না। সাতঘাটের জল খাওয়া দীপাংশু মস্তি ফুরিয়ে গেলেই রোমিকে চায়ের ভাঁড়ের মতো ছুড়ে ফেলে দেবে। তখন বুঝবে সপ্তর্ষিকে বিট্রে করার কী মজা। আর রোমির চোখের সামনে ভেনাসকে নিয়ে সপ্তর্ষি যদি ঘুরে বেড়ায়, তা হলে তো সোনায় সোহাগা।

—আগে ছিল। এখন নেই, বলে সপ্তর্ষি অন্যমনস্ক ভাবে দেয়ালে ঝোলানো ‘ফায়ার’ লেখা আগুন নেভানো যন্ত্রের দিকে তাকাল। মেয়েটি অর্থাৎ ব্ল্যাক ভেনাস বলে উঠল, ‘তা হলে আজ আমরা কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাচ্ছি। আমি কিন্তু শ্রীরামপুর স্টেশনের বুকিং কাউন্টারের সামনে বিকেল পাঁচটায় অপেক্ষা করব। কথার খেলাপ হবে না তো?”

—তোমার মতো এরকম একজন ‘জোধাবাই’ থুড়ি সুন্দরী ব্ল্যাক ভেনাসের কথার খেলাপ করব, তেমন বুকের পাটা আমার নেই। এই রে, আপনাকে তুমি বলে ফেললাম। কিছু মনে করবেন না, বলেই সপ্তর্ষি একটু লজ্জিত হল।

মহিলাটি বলল, “আজ আমাকে আপনি প্রথম তুমি বললেন, কাল আপনাকে আমি তুমি বলব। কথা দিলাম।”

এরই মধ্যে জেনারেটর চালু হতেই শপিং মলের আলো জ্বলে উঠল। একটু আগে লোডশেডিং হওয়াতে শপিং মলের ক্রেতাদের দেখে মনে হয়েছিল, কেউ যেন তাদের মরণকাঠি ছুইয়ে দিয়েছিল। আলো জ্বলে উঠতেই জিয়নকাঠির স্পর্শে যেন তারা আবার সচল হয়ে উঠেছে। একটু আগে রোমির কথা মনে হয়েছিল, এখন আর তা নেই। রোমির বিকল্প সে পেয়ে গিয়েছে। হঠাৎ ওর হাতের মোবাইলটা বেজে উঠল।

সপ্তর্ষি মোবাইলটা কানে রাখতেই ফুলদির গলা ভেসে এল, ‘এত দেরি করছিস কেন?’ সপ্তর্ষি ভেনাসের মুখে মুক্তোর মতো ফুটে উঠা বিন্দু বিন্দু ঘামের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে মিথ্যা বলল, ‘জ্যামে আটকে আছি, ১৫ মিনিটের মধ্যেই যাচ্ছি।’

—সত্যি! আপনি পারেনও বটে, বলে ভেনাস হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।

হাসলে যে ওকে আরও সুন্দর লাগে, তা সপ্তর্ষির জানা ছিল না। সঙ্গে কোনও ফোটোগ্রাফার থাকলে এখনই ভেনাসের হাস্যোজ্জ্বল মুখের ছবি তুলে ‘অষ্টমীর নন্দিনী’ ক্যাপশান দিত। তা যখন নেই, তখন সপ্তর্ষিই বা সুযোগ ছাড়ে কেন!

সে ভেনাসের মুখের হাসির রেশটুকু মোবাইলের ক্যামেরায় তুলে বলল, ‘পারমিশন না নিয়েই কিন্তু তোমার একটা ফোটো তুললাম। কিছু মনে করলে না তো?’

—না, আমি তোমার কোনও কিছুতেই কোনও আপত্তি করছি না। এই রে, তুমি বলে ফেললাম! তুমিটা কাল বলব ভেবেছিলাম, আজই বলে ফেললাম।”

—তুমি কিন্তু কথার খেলাপ করলে।

—বেশ করেছি, যাও। তোমাকে যে বললাম একটা পারফিউম চয়েস করতে, তার কী হল ?

তা শুনে সপ্তর্ষি একটা পারফিউম পছন্দ করে ভেনাসের হাতে তুলে দিল এবং ভেনাসকে গিফট দেওয়ার জন্য যখন পছন্দসই পারফিউম খুঁজে বেড়াচ্ছে ও, ঠিক তখনই সে শুনতে পেল ‘এক্সকিউজ মি, আমার একটু তাড়া আছে। আমি চলি। কেমন? বিকেলে দেখা হবে।’

সপ্তর্ষিকে কোনও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ভেনাস আঁচল উড়িয়ে পরির মতো হুস করে চলে গেল। সপ্তর্ষির অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু ভেনাস যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে সে ভাবতেই পারেনি। ভেনাসের সঙ্গে পরিচয় হয়ে সে রোমির দুঃখটা ভুলেছিল। অল্প কিছুক্ষণের আলাপে ভেনাস তার কাছে রোমির বিকল্প হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সে হঠাৎ চলে যাওয়ায় সপ্তর্ষির বুকের ভিতর গুমরে গুমরে উঠল পুরোনো যন্ত্রণাটা। অবশ্য ভেনাসেরই বা দোষ কী! তার হয়তো বাড়ি যাওয়ার তাড়া আছে। সে তো মাথার দিব্যি দেয়নি যে, সব কাজ ফেলে সপ্তর্ষির পাশে থাকতে হবে।

তা ছাড়া সে তো কথা দিয়েছে আজ অষ্টমীর সন্ধেয় তার সঙ্গে সাউথ ক্যালকাটায় ঠাকুর দেখতে যাবে। সপ্তর্ষি বৃথা চিন্তা না করে ফুলদির কথামতো গোবিন্দভোগ চাল, কাজু কিশমিশ, জম্মু রাজমা আর ঘি ট্রলিতে ভরে কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়াল।

সপ্তর্ষি ব্যাকপকেট থেকে মানিব্যাগ বের করার জন্য হাত বাড়াতেই শূন্য হাতটা উঠে এল। সে অস্ফুটে বলে উঠল, ‘আমার মানিব্যাগ?” –কত ছিল আপনার মানিব্যাগে? কাউন্টারে বসা ছেলেটি জিজ্ঞেস করল।

—১০ হাজার টাকা।

—যে-মেয়েটি আপনার সঙ্গে গল্প করছিল এটা তারই কাজ। গত বছরও পুজোর সময় ওই মেয়েটি একজনের পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা চুরি করেছিল। প্রমাণের অভাবে আমরা ওকে ধরতে পারিনি। এবার আপনাকে সাবধান করতে গিয়েও পিছিয়ে এসেছি। যেভাবে আপনি ওর সঙ্গে গল্প করছিলেন তাতে মনে হল উনি আপনার পরিচিত কেউ।

সপ্তর্ষি আর কথা না বাড়িয়ে মোবাইল ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “এটা জমা রাখুন। বিকেলে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যাব।”

—তার দরকার হবে না। আপনি বোনাফাইড কাস্টমার। টাকাটা বিকেলেই দেবেন। ছেলেটি মোবাইলটা ফেরত দিয়ে বলল। সপ্তর্ষি কমলা রঙের ব্যাগ হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে বাইকে বসে শপিং মলের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাল। আর সেখানে ইংরেজি হরফে লেখা রয়েছে, “মোর কোয়ালিটি মোর ভ্যারাইটি, মোর কনভিনিয়েন্স, মোর ভ্যালু।”

(সমাপ্ত)

ওয়েডিং লুকের জন্য ৯টি কসমেটিক

প্রতিদিন আমাদের জীবনশৈলীতে যে-পরিবর্তন হচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিত্যনতুন, উন্নততর গ্যাজেট এবং প্রোডাক্ট বাজারে আসছে। এই সময়ের বদলটা আপনার উপরেও প্রভাব ফেলছে প্রকারান্তরে। তাই নিজেকে ফ্যাশন, লাইফস্টাইলের খুঁটিনাটিতে, স্কিনকেয়ার, বিউটি— সমস্ত ক্ষেত্রেই গ্রুমিং করার নিয়মগুলিও বদলে যাচ্ছে। আসন্ন বিবাহের ঋতুতে সব মেয়েরাই চায় ওই বিশেষ দিনটিতে যেন নজরকাড়া সুন্দরী হয়ে ওঠা যায়। তাই নিউ এজ কসমেটিক প্রোডাক্টগুলিকে আলিঙ্গন করুন। এগুলিই আপনার জীবনের একটা বিশেষ মোড়ে আপনার সত্যিকারের বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে। পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন ডা. ভারতী তানেজা।

নিউ এজ কসমেটিক প্রোডাক্ট

আজকাল মেয়েরা নিউ এজ কসমেটিক প্রেডাক্টগুলি আপন করে নিচ্ছেন, যাতে তাদের ত্বকে একটা বাড়তি ঔজ্জ্বল্য যোগ হয়। পাশাপাশি ত্বকের হেলদি লুকও বজায় থাকে। এই আধুনিক কসমেটিক প্রোডাক্টগুলি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস সমৃদ্ধ। এর বেশির ভাগই তৈরি হয় প্রাকৃতিক উপকরণ যেমন, ভিটামিন ও এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে, যার ফলে ত্বকে অ্যাক্ট্রাকটিভ গ্লোয়িং লুক আসে। দেখে নিন কোন কোন প্রোডাক্ট বিয়ের কনেদের জন্য সবচেয়ে জরুরি।

অ্যাডভান্সড অ্যান্টিরিংকল রেটিনল ফেস ক্রিম

ত্বকের অযত্নে যে-কোনও বয়সেই মুখে রিংকল্স এসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত রোদে ঘোরার ফলেও হতে পারে এই সমস্যা। তাই স্কিন যাতে সবসময় সুইট সিক্সটিন মনে হয় তার জন্য সঠিক প্রোডাক্টই ব্যবহার করুন। ভুল প্রসাধনীর কারণে, হরমোনের ভারসাম্যে গণ্ডগোল হলে খুব দ্রুত স্কিন এজিং শুরু হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে নিউ এজ কসমেটিক প্রোডাক্টস-এর মধ্যে রয়েছে অ্যাডভান্সড অ্যান্টি রিংকল্স রেটিনল ফেস ক্রিম, যা ন্যাচারাল এবং ক্লিনিকালি টেস্টেড হওয়ার ফলে অত্যন্ত কার্যকরী। এটা মুখের মাসল্স রিল্যাক্স করতেও সাহায্য করে।

এর ভিটামিন সি-এর গুণ কোলাজেন তৈরি করতে সক্ষম। দীর্ঘদিন পর্যন্ত আপনার ত্বকের নীচের কোশগুলিকে সুস্থ সবল রাখবে। মুখে সহজে রিংকল্স আসবে না। ভিটামিন সি-যুক্ত ফেশিয়াল ময়েশ্চারাইজার, ত্বকের ভিটামিন লেভেল-এ ভারসাম্য রাখতে সহায়তা করে। এই ক্রিম আপনার মুখের ত্বক নরম করার পাশাপাশি, মেক-আপ করার পর গ্লো আনতেও সাহায্য করবে। এটি যে-কোনও স্কিনের জন্য ও যে- কোনও এজ গ্রুপের জন্যই উপযুক্ত।

ভিটামিন সি সিরাম

ত্বক ভেতর থেকে যদি সমস্যামুক্ত না হয়, আপনি যতই মেক-আপ করুন, সেটা ত্রুটিপূর্ণ ফিনিশই দেবে। তাই ওয়েডিং মেক-আপ লুক পারফেক্ট করার জন্য ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করুন, যা আপনার ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট করবে। এর প্রাকৃতিক উপাদানের গুণে স্কিন বাইরে থেকে গ্লো করবে। ত্বকে কোনও সাইড এফেক্টও হবে না। এই সিরাম-এ জলীয় ভাব থাকার ফলে, ত্বক এটি সহজেই শুষে নিতে পারে। এটি আপনার ত্বকে ম্যাজিক এফেক্ট আনবে।

এজ ডিফাইং ক্রিম

এজ ডিফাইং ক্রিম নিউ এজ কসমেটিক্সগুলির মধ্যে অন্যতম। যেহেতু এটি ত্বকের আর্দ্রভাব ধরে রাখতে সহায়তা করে তাই ত্বক সজীব থাকে। ত্বকের উপর ফাইন লাইনস কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে ফলে কনের সাজে আপনার মেক-আপ ফ্ল-লেস হয়ে ওঠে। এটি সেলুলার টিসু এবং কোলাজেন-কে পুনর্গঠন করতে সক্ষম। স্কিন এজিং প্রসেস-এর গতি ধীর করে দেয়। ত্বকের যে ইলাস্টিসিটি, সেটা বজায় রাখতে সাহায্য করে এই ক্রিম।

তবে যাদের ডার্ক প্যাচ-এর সমস্যা বা বলিরেখার ছাপ দেখা দিতে শুরু করেছে— তাদের জন্য এটি আদর্শ। এই ক্রিম ত্বকের ফ্রি র্যাডিকল্স-এর সঙ্গে যুঝতে সক্ষম। অক্সিডেশন ড্যামেজ থেকে ত্বককে সুরক্ষাও দেয়। এতে আছে ভিটামিন বি, ই, ভিটামিন বি৩, এসেন্সিয়াল অয়েল প্রভৃতি উপকরণ— যা ত্বকের জন্য উপকারী। বিয়ের আগে এটি দিন-রাত্রির বিউটি রুটিনে অবশ্যই শামিল করুন।

কোজিক অ্যাসিড ফর হোয়াইটনিং

ফেশিয়াল-এ এই উপকরণটি রাখা হয়, যাতে ত্বকে উজ্জ্বলতা আসে। সূর্যকিরণের প্রভাবে যদি ত্বকে ট্যান পড়ে গিয়ে থাকে, তাহলে এই প্রসাধনী আপনার ত্বকে হোয়াইটনিং এফেক্ট দেবে। ত্বকের দাগছোপ, এজ স্পট কমাতেও সাহায্য করবে। ফেশিয়াল করার উপকরণের সঙ্গে এই কোজিক অ্যাসিড অবশ্যই মিক্স করুন। এটি স্কিন লাইটনিং এজেন্ট হিসাবে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

কোজিক অ্যাসিড টেরোসাইন নামক অ্যামিনো অ্যাসিড ব্লক করার কাজও করে, যা মেলানিন উৎপন্ন হতে দেয় না। আর কোজিক অ্যাসিডে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়া তথা অ্যান্টি ফাংগাল প্রপার্টিজ, যা ত্বককে দাগমুক্ত রাখে।

বিবি গ্লো ট্রিটমেন্ট

এটা একটি বিশেষ ধরনের ট্রিটমেন্ট যার সাহায্যে ত্বকে ফাউন্ডেশন লাগানের পর যেমন ইভন টোন দেখায়, সেই এফেক্ট দেয়।

স্কিন পিগমেন্টেশন কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য। এটা এক ধরনের সেমি পার্মানেন্ট স্কিন ট্রিটমেন্ট। একটি নন সার্জিকাল পন্থা যার সাহায্যে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল অবধি ত্বক দাগছোপহীন থাকে। ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়ায়। এতে ন্যানো নিডলস বা খুব সূক্ষ্ম সূচ ত্বকে প্রবশ করানো হয় এবং বিবি সিরাম ইনজেক্ট করা হয়। এই সিরাম প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্টস ত্বকে প্রবেশ করায় যাতে ত্বকের স্কিন টোন উন্নত হয়। ফাইন লাইনস, ব্ল্যাকহেডস, রিংকল্স দূর হয়ে ত্বকে দ্রুত উজ্জ্বলতা আসে। ১ মাস পর্যন্ত আপনাকে কোনও মেক-আপ করতে হবে না এই ট্রিটমেন্ট করালে। এটা সমস্ত ধরনের স্কিন কমপ্লেকশনের জন্যই উপযুক্ত।

কপার পেপটাইড ফেশিয়াল

এই ট্রিটমেন্ট-এ ত্বকে সিরাম-এর সঙ্গে সঙ্গে থ্রেড-ও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আল্ট্রাসনিক মেশিনের সাহায্যে কপার পেপটাইড থ্রেন্ডস ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। এটি ফেস আপলিফটিং-এ সহায়ক। এর ফলে ত্বকে টানটান ভাব ফিরে আসে। কোলাজেন বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের ফাইন লাইনস হ্রাস করে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি করে। ত্বকের হাইড্রেশনে এই পন্থার জুড়ি নেই। ত্বক তারুণ্যে ঝলমল করে। এতে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট প্রপার্টি থাকে, যা ফ্রি র‍্যাডিকল্সগুলির সঙ্গে মোকাবিলা করে। স্বাভাবিক ভাবেই কোলাজেন উৎপন্ন হওয়া বেড়ে যায়। বিয়ের দিনের স্পেশাল লুক পেতে এটি আপনাকে দারুণ সাহায্য করবে।

ট্রেন্ডি নেল আর্ট

বিয়ের প্রসঙ্গ উঠবে আর নেল আর্ট-এর বিষয়টা বাকি থেকে যাবে তা হয় না। বিয়েতে লেটেস্ট নেল আর্ট টেকনিক ব্যবহার করুন।

ডটেড ডিজাইন, ম্যাট লুক, শাইন ডিজাইন, রোজ গোল্ড, গ্লিটার নেলস, প্লে উইথ টু কালার্স অন নেলস, গ্লিটারি ডিজাইন— যা আপনার পছন্দ করিয়ে নিন। শাড়ির সঙ্গে বদলে বদলে নেলপেন্ট ব্যবহার করতে চাইলে, তা-ও নিশ্চিন্তে করতে পারেন। ইলেক্ট্রিক ব্লু, চেরি, জুয়েল টোনস, শেডস অফ পিংক ইত্যাদি বিয়ের জন্য আদর্শ।

লিপস্টিকে চার্মিং লুক

মুখের পরিচর্যা করার পর, মেক-আপ-কে পারফেক্ট এফেক্ট দিতে সঠিক লিপস্টিকের কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ওয়েডিং ট্রেন্ড-এর মধ্যে রয়েছে চেরি রেড, ডার্ক পিংক, কোরাল, পার্পল, প্লাম, ব্রাইট অরেঞ্জ প্রভৃতি শেড। শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে ব্যবহার করুন।

হেয়ারকেয়ার

বিয়ের কনের চুলের সৌন্দর্যও কিন্তু অবহেলা করার বিষয় নয়। তাই চুল সুন্দর করতে এই প্রসাধনীগুলির প্রয়োজন হবে। আপনি যদি চান বিয়ের অনুষ্ঠানের কয়েকটা দিন আপনার চুল স্ট্রেট আর স্মুদ থাক, তাহলে আপনার জন্য উপযুক্ত হবে মামা আর্থ-এর রাইস ওয়ান্ডার বাটার উইথ কেরাটিন। এটি চুলের ফ্রিজি ভাব কমিয়ে চুল শাইনি করে তোলে।

সাতকাহনিয়া গ্রামে (শেষ পর্ব)

জঙ্গলের মাঝে উঁচু-নীচু রাস্তা দিয়ে গাড়ি এগোতে লাগল। কয়েক মিনিট পরেই গড় জঙ্গলের এলাকা শুরু হল। ডান দিকে পথ এগিয়েছে গড়চণ্ডীধামের দিকে, আমরা সোজা পথে এগোলাম। আরও প্রায় ২ কিমি এগোনোর পর জঙ্গল হালকা হয়ে গেল। পৌঁছোলাম শ্যামারূপা কালীমন্দিরের কাছে। পুরোহিত মশাই জানালেন, প্রাচীন এই কালীমন্দিরের এক চমকপ্রদ ইতিহাস আছে। সেই কাহিনি শুনে আমরা অনেক কিছু জানলাম।

তিনি জানালেন, এই মন্দির ১২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন (১১৭৮- ১২০৬) দিল্লির সুলতান বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে পরাজিত হয়ে জঙ্গলাকীর্ণ এক আশ্রমের কাছে এসে আত্মগোপন করেন। সেই আশ্রমে তখন এক কাপালিক বাস করতেন যিনি নরবলি দিতে অভ্যস্ত ছিলেন। রাজ্যহারা রাজা লক্ষ্মণ সেন ওই কাপালিককে অনুরোধ করেন নরবলি না দিতে। কিন্তু কাপালিক লক্ষ্মণ সেনের কথা শুনতে রাজি না হয়ে বরং তাঁকে বললেন, রাজা যদি ওই স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নরবলি দেন তবে তিনি হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। ঘটনাক্রমে মন্দির প্রতিষ্ঠার দিনে সেখানে এসে হাজির হন লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি, গীতগোবিন্দের রচয়িতা জয়দেব। তিনিও ওই কাপালিককে অনুরোধ করেন নরবলি না দিতে। কিন্তু তাতেও কাপালিক রাজি হলেন না। তখন কবি জয়দেবের কাতর প্রার্থনায় মা কালী শ্যামারূপে আবির্ভূতা হন স্বল্প সময়ের জন্য। মা কালীর ওই শ্যামারূপ দেখে কাপালিক নরবলি দেওয়া থেকে বিরত হন। সেই থেকে ওই কালীমন্দির ‘শ্যামারূপা মন্দির’ নামে পরিচিত হয়।

এরপর এগিয়ে গেলাম অনতিদূরে অবস্থিত এক ওয়াচ টাওয়ার-এর কাছে। নজর মিনারের উপর থেকে বিশাল গড় জঙ্গলের বিস্তৃতি দেখে মন ভরে গেল। তারপর গাড়িতে চড়ে এগোলাম কাছেই ‘মেধসাশ্রম’-এর উদ্দেশে। একই পথে কিছু দূর পিছিয়ে এসে বাঁ দিকে নির্দেশিত পথে পড়ে গড়চণ্ডীধাম। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ। কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম ‘মেধসাশ্রমে’।

জঙ্গলের মাঝে অনেকটা জায়গা জুড়ে আশ্রম। চারিদিক নিস্তব্ধ। দুর্গামণ্ডপে দেখলাম মৃণ্ময়ী মূর্তি অধিষ্ঠিত। কথিত আছে, মধ্যযুগে রাজা সুরথ বঙ্গদেশের এই স্থানেই বসন্তকালে সর্বপ্রথম দুর্গা আরাধনার প্রচলন করেন যা কালক্রমে সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী নবরাত্র দুর্গোৎসবে রূপান্তরিত হয়।

পরবর্তী কালে রাজা সুরথ নিজের সাধনভূমি অজয় নদ (কৃষ্ণা নদী)-র তীরে গহন শালবৃক্ষের অরণ্যে মেধামুনির আশ্রমে মহাকালী মহালক্ষ্মী-মহাসরস্বতী ত্রিমাতার মন্দির নির্মাণ করে সুরক্ষার জন্য উঁচু প্রাচীর বা বেষ্টনদূর্গ তথা গড় নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি সুরথ রাজার মহামায়া ধাম নামে পরিচিত। সুরথ রাজার এই গড়বেষ্টিত ধাম, কালের কবলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে জঙ্গলে পরিণত হলে বর্তমান কাঁকসর বিশাল বনময় অঞ্চল গড়জঙ্গল নামে পরিচিতি লাভ করে।

অবশেষে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রহ্মানন্দ গিরি বর্তমান গড়জঙ্গলে জঙ্গলাকীর্ণ সেই পৌরাণিক মেধসাশ্রম তথা গড় চণ্ডীধাম পুনরুদ্ধার করেন এবং প্রাচীন মন্দির সংস্কার করেন।

গড় চণ্ডীধাম দর্শন শেষে গাড়ি আবার গড়জঙ্গলে প্রবেশ করল। কিছুদূর এগিয়ে পৌঁছোলাম তদানীন্তন বাংলার শাষক লক্ষ্মণ সেনের সামন্ত রাজা ইছাই (ঈশ্বরী) ঘোষ নির্মিত গড় (দুর্গ)-র ধ্বংসাবশেষের কাছে। অনেকে মনে করেন ওই গড়ের জন্যই এই জঙ্গল পরিচিত হয় ‘গড়জঙ্গল’ নামে।

শাল, শিমূল, পলাশ ও কুসুমে সমৃদ্ধ এই জঙ্গল। উঁচু-নীচু, সরু লালমাটির পথ। দু’পাশেই ঘন জঙ্গল। পথের পাশে পড়ে রয়েছে সাদা সাদা ফুল। বিশাল গড় জঙ্গলকে আড়াআড়ি ভাবে অতিক্রম করছি। প্রায় আধ ঘণ্টা গাড়ি চলার পরে আমরা জঙ্গল ছেড়ে রাস্তায় এসে পৌঁছোলাম। এরপর বনকাটি পেরিয়ে সাতকাহনিয়া গ্রামের ‘তেপান্তর’ নাট্যশালার প্রবেশদ্বার দিয়ে পৌঁছোলাম নাট্যশালার বিশাল চত্বরে।

গাড়ি থেকে নেমে আমরা একে একে প্রবেশ করলাম নাট্যশালার বিশাল চত্বরে। প্রথমেই এক বিরাট কক্ষে নাট্যমঞ্চ, তার দু’ধারে বিভিন্ন সারিতে দর্শকদের বসার জায়গা। এবার চলে এলাম রুচিপূর্ণ ভাবে সাজানো এক মাঠে। সেখানে একদিকে একটি ডর্মেটরি যেখানে থাকবার জন্য ৩-৪টি ঘর। মাঠের অন্যান্য স্থানে অথিতিদের থাকার জন্য ৮টি দ্বিশয্যা বিশিষ্ট গেস্ট হাউস রয়েছে। তেপান্তর নাট্যগোষ্ঠীর মঞ্চে অন্যান্য নাট্যগোষ্ঠীরাও নিয়মিত ওয়ার্কশপ করে। তাছাড়া ভারত সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকেও মেলে কিছু অনুদান।

তেপান্তর নাট্যগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা কল্লোল ভট্টাচার্য গুণী মানুষ। পাশাপাশি গ্রামের যুবক-যুবতীদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য নাট্টগোষ্ঠী যা আজ স্বনির্ভর। গ্রামীন জীবনভিত্তিক তাঁদের নাটক। জানলাম, তাঁদের নিজস্ব গোশালা ও পোলট্রি রয়েছে, ন্যায্য মূল্যে রয়েছে পরিচ্ছন্ন থাকার জায়গা। তেপান্তর নাট্যগোষ্ঠীর মঞ্চে এসে অন্যান্য নাট্যগোষ্ঠীরা নিয়মিত ওয়ার্কশপ করে। নাট্যগোষ্ঠীর ম্যানেজার-এর কাছ থেকেই জানলাম সেইসব কথা। নাট্যশালার ক্যান্টিনে সকলে মিলে গল্প করতে করতে চা পান করলাম।

একরাশ ভাললাগা নিয়ে উঠে বসলাম গাড়িতে। কয়েক মিনিট পরেই পৌঁছে গেলাম আমাদের জন্য অপেক্ষায় থাকা সাতকাহনিয়ার বাংলোয়। একে একে স্নান সেরে নিলাম আমরা। দুপুর ২টো, খিদে পেয়েছিল সবার। তাই খাবার টেবিলে ভগীরথদার ডাক পড়তেই আমরা গিয়ে বসে পড়লাম। মেগা-ভোজ এবারেও– সুক্তো, মুগের ডাল, আলু-পটলের তরকারি, বেগুনি, খাসির মাংস/ মাছ/ ছানার ডানলা (যে যেটা খাবে), চাটনি, দই এবং রসগোল্লা। রান্নার গুণে এবারেও সকলের পেট ভরাট, অথচ ঘণ্টা দুই পরেই আমাদের ফিরতে হবে গাড়িতে। এখান থেকে বর্ধমান স্টেশনে এসে বাড়ি ফেরার লোকাল ট্রেন ধরলাম।

বিকেল গাড়িতে উঠে বসলাম। বিদায়বেলায় মন খারাপ সকলেরই। সাতকাহনিয়া গ্রামকেও মনে মনে বিদায় জানালাম। চেনা রাস্তায় গাড়ি ফিরে চলল বর্ধমানের পথে। বিকেলবেলা পৌঁছে গেলাম কানাইনাটশালের পরিদর্শন ভবনে। এখানে ১৫-২০ মিনিটের বিরতি। হাত-মুখ ধুয়ে কনফারেন্স রুমে এসে বসলাম। বর্ধমানের স্পেশাল সীতাভোগ কিনে স্টেশনে এসে পৌঁছলাম। হাওড়াগামী লোকাল ট্রেনে উঠে বসলাম আমরা।

বিয়ের পথ সহজ নয়

এই প্রজন্মের যুবক-যুবতিদের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ভেবেচিন্তে। গত অক্টোবর মাসের ঠিক আগের সপ্তাহে আগ্রা-র এক বিবাহিত যুবকের অভিযোগ, সব টাকা এবং মূল্যবান রত্নালঙ্কার নিয়ে বাপেরবাড়ি পালিয়েছে তার স্ত্রী এবং বর্তমানে সে তার প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে থাকা শুরু করেছে।

বিহারের বৈশালী জেলায়ও একটা বাজে ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তি এবং তার শ্যালিকার মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এক সময় শ্যালিকা তার স্বামীকে মেরে ফেলে জামাইবাবুর সাহায্য নিয়ে। উদ্দেশ্য ছিল শ্যালিকার স্বামীকে মেরে ফেলার পর জামাইবাবু এবং শ্যালিকা ভালো ভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে। কিন্তু শ্যালিকা এটা ভাবেনি যে, ওদের সম্পর্ক মজবুত হলে ওর দিদি-র কী হবে! যাইহোক, এই সম্পর্কের পরিণতি খুব ভয়ংকর রূপ যে নেবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিয়ের আগে কার সঙ্গে কার কী সম্পর্ক ছিল বা আছে তা খোঁজখবর করা যে কতটা জরুরি, তা বিয়ের পর কোনও খারাপ ঘটনা ঘটলে টের পান অনেকে। আসলে প্রেমের বিয়েই হোক আর সম্বন্ধ করে— পাত্রপাত্রীর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া আবশ্যক। শুধু বাহ্যিক চাকচিক্য কিংবা ব্যাংক ব্যালেন্স দেখে বিয়ে করলে সেই বিয়ের আয়ু যে বেশিদিন টিকবে না— এটা অনেক ক্ষেত্রেই প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতবর্ষে এখন প্রায় ১,৫০০ ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইট আছে এবং অনেকেই একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলে রেখেছেন মোটা টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে। আর সমস্যার সূত্রপাত ঠিক এখান থেকেই। কারণ, এই সব ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে যে-ডেটা দেওয়া থাকে, তার কতটা সত্যি আর কতটা মিথ্যে, তা কে জানে! মনে রাখা দরকার, বিয়ের পাত্রপাত্রীর জন্য চেনা-পরিচিত কাউকে মাধ্যম করুন।

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে ঠিক মতো খোঁজখবর না নিলে, কোথায় কীভাবে যে ঠকে যাবেন, তার কোনও ঠিক নেই। কারণ, মাধ্যম যাইহোক না কেন, সবাই নিজেদের স্বার্থমতো কাজ করে। অনেক প্রাইভেট ডিটেক্টিভ এজেন্সিও সঠিক রিপোর্ট দেয় না। বানিয়ে একটা মিথ্যে রিপোর্ট দিয়ে টাকা লুটে নেয়। অতএব, নিজেই যতটা সম্ভব খোঁজখবর নিয়ে তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৫, ৪১৬, ৪১৭ এবং ৪১৯ ধারায় বৈবাহিক অপরাধের শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও, বাস্তব এক আর আইন মোতাবেক তা প্রমাণ করে শাস্তি দেওয়া অন্য এক বিষয়। আদালত আপনার সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দেবে, এমন ভাবনা যদি কেউ ভেবে থাকেন তাহলে তা মূর্খামি ছাড়া আর কিছু নয়। মনে রাখবেন, যিনি বিয়ে করবেন এবং যাকে বিয়ে করবেন, উভয়ের উচিত বিয়ের আগে যতটা সম্ভব খোঁজ নিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ, নিজের ভালোমন্দ নিজেকেই জেনেবুঝে নিতে হয়, অন্য কেউ আপনার জন্য খুব বেশি মাথা ঘামাবেন বলে তো মনে হয় না।

অষ্টমীর নন্দিনী (পর্ব-০২)

সপ্তর্ষি আলিবাবা চল্লিশ চোরের ডেরায় যখন ঢুকছে, তখন মর্জিনা না এসে পারে। সে কৌতূহলী হয়ে পাশ ফিরে তাকাতেই চাঁপাফুলের গন্ধ ভেসে এল।

না, এ তো মর্জিনা নয়। মর্জিনা হলে ঘাঘরা পরা মাথায় ফেট্টি বাঁধা থাকত, রেশমি কালো ওড়নায় মুখ ঢাকা থাকত! গালে টোল ফেলে মুচকি হাসির ঝিলিক মেরে যে দাঁড়িয়ে আছে, তার পরনে সবুজ রঙের জর্জেট শাড়ি। ওকে দেখে সপ্তর্ষির ফুলদির কথা মনে পড়ে গেল… “তোর দ্বিতীয় প্রেমটা সুখের হবে।”

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বলে সপ্তর্ষি মহিলাটির হাত থেকে সানগ্লাসটা নিল আর ঠিক তখনই তার শরীরে মহিলার ফুলের মতো নরম হাতের ছোঁয়ায় বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। এই শপিং মলটার বিশেষত্ব হল যে-কোনও জিনিস মার্কেট প্রাইসের চেয়ে কিছু কম অথচ খাঁটি । একটা হ্যান্ড ট্রলি টেনে নিয়ে পা বাড়াতেই আবার ভেসে এল সেই সুন্দরী মহিলাটির মিঠে কণ্ঠস্বর, ‘এক্সকিউজ মি, আমাকে একটা জেন্টস পারফিউম পছন্দ করে দেবেন?’ একটু পর সে আবার বলল, ‘আমি একজনকে প্রেজেন্ট করব। আসলে আমি জেন্টস পারফিউম ঠিক পছন্দ করতে পারি না।’

সপ্তর্ষি যে পারফিউম বিশেষজ্ঞ, সেটা মহিলাটি জানল কীভাবে? ও কি অন্তর্যামী? এটা ঠিক যে সপ্তর্ষি পারফিউমের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। মনপসন্দ না হলে কেনে না। দুনিয়ার সব পারফিউম তার ড্রেসিং টেবিলে জড়ো করা থাকে, একই সেন্ট সে সবসময় ব্যবহার করে না। সাত দিনে সাতরকম পারফিউম ব্যবহার না করলে তার চলে না। সে কারণে পাড়ার বন্ধুরা তাকে ‘পারফিউম ম্যান’ বলে ডাকে।

সপ্তর্ষি তাকে পারফিউমের র‍্যাক-এর সামনে নিয়ে এসে বলল, “আমার পছন্দ করা পারফিউম যদি আপনার সেই একজনের পছন্দ না হয় ?” –আমার বিশ্বাস, আপনার চয়েস খারাপ হবে না।

কীভাবে বুঝলেন?

—আপনার টি শার্টের গন্ধ।

কথা শুনে সপ্তর্ষি চড়া মেক-আপ করা মহিলাটির কাজল টানা চোখের নীল মণির দিকে তাকাল। বাঙালি মহিলার চোখের রং নীল? সত্যি ভাবা যায় না। মনে হয় সে তার হরিণীর মতো চোখ দু’টোকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নীল রঙের লেন্স ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে মনে হয় কোনও সূক্ষ্ম চুমকি বসিয়েছে তার নীল নয়নের মণিতে। যে চুমকির টানে সপ্তর্ষি এক্কেবারে ফিউজড। সাধারণত অচেনা মহিলার সঙ্গে সেধে কথা বলে না সে, তা সে যতই অপ্সরা হোক। কিন্তু এখন সে মনে মনে না বলে পারল না, ‘৫০০ বছর আগে আমি যদি সম্রাট আকবর হতাম, তা হলে ১০০০ স্বর্ণ মুদ্রা দিয়ে তোমাকে কিনে নিতাম।’

সপ্তর্ষিকে বিড়বিড় করতে দেখে মহিলাটি আরও কাছে সরে এসে বলল, “কিছু বলছেন?’

আপনাকে ঠিক ‘জোধা আকবর’ ছবির ‘জোধাবাই’ ঐশ্বর্য রাইয়ের মতো দেখতে। শুধু ঐশ্বর্য রাই ফরসা আর আপনি শ্যামাঙ্গী ব্ল্যাক ভেনাস,’ বলে সপ্তর্ষি মেয়েটির উন্নত স্তনচূড়া থেকে একটু সরে দাঁড়াল।

থ্যাংক ইউ ফর ইয়োর কমপ্লিমেন্ট। আর আমার নামটাও দারুণ দিয়েছেন, ‘ব্ল্যাক ভেনাস’।

—আপনাকে যদি ‘ভেনাস’ বলে ডাকি, কিছু মনে করবেন না তো?

—কিছু মনে করব না।

এরই মধ্যে হঠাৎ লোডশেডিং হওয়ায় ঝুপ করে নেমে এল অন্ধকার। শপিং মলের ক্রেতাদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। কর্মচারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়ল থরে থরে সাজানো র‍্যাকের জিনিস সামলাতে।

যদিও কেউ লোডশেডিংয়ের সুযোগে র‍্যাক থেকে জিনিস হাতিয়ে গেটের সামনে দাঁড়ানো ইউনিফর্ম পরা বন্দুকধারী কর্মচারীর চোখে ধুলো দিয়ে পালাতে পারবে না। তবু সাবধানের মার নেই। সপ্তর্ষি হঠাৎ অনুভব করল মেয়েটির স্তনচূড়া যেন ধারালো তলোয়ার হয়ে তার বুক এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওর একটা নরম উষ্ণ কোমল হাত উঠে এসেছে তার হাতের উপর।

—ভেনাস, আপনার গরম লাগছে? একটু অপেক্ষা করুন। এখনই জেনারেটর চালু হয়ে যাবে, সপ্তর্ষি মেয়েটির স্তনচূড়ার চকিত স্পর্শে রোমাঞ্চিত হয়ে বলল।

মহিলাটি ফিসফিস করে জলতরঙ্গের সুরে বলল ‘একটুও না। আচ্ছা, আজ অষ্টমীতে কী করছেন? চলুন না, সাউথ ক্যালকাটায় ঠাকুর দেখতে। অবশ্য যদি আপনার কোনও গার্লফ্রেন্ড থাকে, তা হলে আমার কিছু বলার নেই।”

(ক্রমশ…)

তারকাদের বিয়ের সাজ-পোশাক: পায়েল এবং সংগ্রাম

বিয়ের দিনে সবার নজর কাড়তে এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপনার পোশাক এবং মেক-আপ হোক চিত্রতারকাদের মতো। আপনাকে সাহায্য করতে তুলে ধরা হচ্ছে বলিউড সেলেবদের ওয়েডিং লুকস-এর খুঁটিনাটি।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই অন্যতম পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয় শাড়ি এবং লেহেঙ্গা চোলি। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই পোশাক পরলে আপনি যেমন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবেন, ঠিক তেমনই ভিন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি আপনার সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়ও বহন করবে। তবে ভারতীয় নারীরা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়িকেই রাখেন প্রথম পছন্দের তালিকায়। আর উপলক্ষ্য যদি বিয়ে হয়, তাহলে তো কথা-ই নেই— শাড়ি মাস্ট। অবশ্য যে-সব যুবতিদের বিবাহ আসন্ন তারা তাদের পোশাক নিয়ে কিংবা ব্রাইডাল লুকস নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের গাইড করতে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে ভারতীয় কুস্তিগীর পায়েল এবং সংগ্রাম সিং-এর বিয়ের সাজ-পোশাক বা ওয়েডিং লুকস।

পায়েল রোহাতগি

প্রায় ১২ বছরের প্রেমপর্বের পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন পায়েল এবং ভারতীয় কুস্তিগীর সংগ্রাম সিং। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য পায়েল এবং সংগ্রাম বেছে নিয়েছিলেন আগ্রা শহরকে। আগ্রা-র জেপি প্যালেস-এ সাতপাকে বাঁধা পড়েছিলেন পায়েল এবং সংগ্রাম। প্রায় ১২ বছরের সম্পর্ককে পূর্ণতা দিতে পেরে দু’জনেই খুব খুশি ছিলেন। আর ঠিক এই কারণে ওঁরা মহা ধূমধামে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। বিয়ের দিন পায়েল পরেছিলেন লাল রং-এর লেহেঙ্গা এবং তাঁকে দেখতে দারুণ লাগছিল।

নাকে নথ, সিঁথিতে টিকলি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি পরে সবার নজর কেড়েছিলেন পায়েল। বিয়ের দিন পায়েল যেমন লাল রং- এর লেহেঙ্গাতে সেজেছিলেন, ঠিক তেমনই সংগ্রামের পরনে ছিল উজ্জ্বল আইভরি রং-এর শেরওয়ানি এবং সিল্ক চুড়িদার প্যান্ট।

আসলে পায়েল এবং সংগ্রামের প্রেম-কাহিনি কোনও সিনেমার গল্পের থেকে কম নয়। পায়েল মা হতে পারবেন না বলে সংগ্রামকে বলেছিলেন অন্য কাউকে বিয়ে করতে। কিন্তু সংগ্রাম পায়েলের কথা শোনেননি, তিনি তাঁদের দীর্ঘ ১২ বছরের প্রেমকে বিয়েতে সম্পূর্ণতা দিয়েছিলেন। তাই বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠানকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বিয়ের সাজ পোশাককেও। তবে পায়েল লাইট মেক-আপ পছন্দ করেন বলে তিনি তাঁর মেক-আপ আর্টিস্ট চন্দন ভাটিয়াকে সেই রকমই নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই পায়েলের লিপস্টিকও ছিল ক্লাসিক রেড। শুধু তাই নয়, পায়েলের পোশাক এবং মেক-আপের সঙ্গে ম্যাচ করে সংগ্রামও নিজেকে সাজিয়েছিলেন নিখুঁত ভাবে। দিল্লি এবং আহমেদাবাদের দু’জন ডিজাইনার ছিলেন পায়েল এবং সংগ্রামের পোশাক পরিকল্পনায়।

বিয়ের দিন পায়েল তাঁর ঠাকুমার দেওয়া ট্র্যাডিশনাল গয়না পরেছিলেন। হেভি ওয়েট-এর ওই সোনার অলংকারে দারুণ মানিয়েছিল পায়েলকে। তবে গায়ে হলুদের সময় পায়েল পরেছিলেন হলুদ রং-এর লেহেঙ্গা। সব মিলে বলা যায়, পায়েলের ওয়েডিং লুক সত্যিই স্পেশাল হয়ে উঠেছিল।

শাহি ভোজ

জিরা রাইস

উপকরণ: ১ কাপ বাসমতী চাল, ১ চামচ জিরে, ১০-১২টা কারিপাতা, ১টা কাঁচালংকাকাটা, ২ বড়ো চামচ ঘি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: প্রেশার প্যান আঁচে বসান। ঘি গরম করে জিরে ফোড়ন দিন। এই অবস্থায় আঁচ টিমে করে রাখবেন। এবার কারিপাতা দিন। একটু নাড়াচাড়া করে ধোওয়া বাসমতী চালে নুন মাখিয়ে প্যানে দিয়ে দিন। পরিমাণমতো জল দিয়ে স্টিম হতে দিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে অল্প ঘি ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

বাদামি মুর্গ কোর্মা

উপকরণ: ১১/২ কেজি চিকেন টুকরো করা, ৩ বড়ো চামচ বেসন, ৩ বড়ো চামচ লংকাগুঁড়ো, ২০০ গ্রাম বাদাম, ৪ বড়ো চামচ আদা- রসুনপেস্ট, ৩ বড়ো চামচ গরমমশলা, ৩ বড়ো চামচ ভিনিগার, ২০০ গ্রাম পেঁয়াজ, ১ লিটার দুধ, ২০০ গ্রাম দই, ১০০ গ্রাম মাখন, ২৫০ মিলি ক্রিম, ১ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১০০ গ্রাম চারমগজ, ২ বড়ো চামচ নারকেলকোরা, অল্প জয়িত্রি পাউডার, ২ ছোটো চামচ কসৌরি মেথি, ১০০ গ্রাম কাজু, ১০০ গ্রাম ঘি, ১৫০ গ্রাম টম্যাটো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: একটা পাত্রে চিকেনের টুকরো, বেসন, ১ চামচ লংকাগুঁড়ো, নুন, ২ চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১ চামচ গরমমশলা, অল্প ভিনিগার দিয়ে ২-৩ ঘন্টা রেখে দিন। এবার ম্যারিনেটেড চিকেন ডিপফ্রাই করুন। বাদাম আধ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন। এবার খোসা ছাড়িয়ে বেটে নিন। চারমগজ কাজু একসঙ্গে পেস্ট করে নিন। ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ, কাঁচালংকা ও টম্যাটো একসঙ্গে পেস্ট করে নিন।

একটা পাত্রে তেল, দুধ, দই, মাখন, নুন, গরমমশলা, কাঁচালংকার পেস্ট, পেঁয়াজের পেস্ট, কাজু পেস্ট, লংকাগুঁড়ো, আদা-রসুন পেস্ট, চারমগজ ও বাদামবাটা, নারকেল, টম্যাটো পেস্ট— সব একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। কড়ায় তেল গরম করে এই মিশ্রণ দিয়ে ভালো ভাবে কষাতে থাকুন। এবার এতে এলাচগুঁড়ো, জয়িত্রি গুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ফ্রায়েড চিকেন, বাদামবাটা, ঘি দিয়ে ভালো ভাবে নাড়াচাড়া করা হলে, খানিক্ষণ ঢেকে রান্না হতে দিন যাতে চিকেনের সঙ্গে গ্রেভিটা মাখামাখা হয়ে যায়। গরম গরম পরিবেশন করুন।

মাটন রোগান জোশ

উপকরণ: ৫০০ গ্রাম মাটন, ২টো পেঁয়াজ কুচোনো, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো পেস্ট, ২ টো লবঙ্গ, ২টো তেজপাতা, ১০০ গ্রাম দই, ১ বড়ো চামচ সরষের তেল, ১০ গ্রাম মৌরিগুঁড়ো, ১ টুকরো আদা, ৪ কোয়া রসুন, ১ ছোটো চামচ জিরেগুঁড়ো, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ২০ গ্রাম টম্যাটো পিউরি, ৫ গ্রাম লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা, ২-৩টি জাফরানের শিরা, সাজানোর জন্য ধনেপাতা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: মাটন ধুয়ে দই, নুন অল্প হলুদগুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে ২ ঘন্টা ম্যারিনেট করুন। প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে নিন। তারপর কড়া থেকে তুলে ঠান্ডা হতে দিন। এবার এই পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের সঙ্গে মিক্সিতে দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। একটা গভীর তল- যুক্ত পাত্র আঁচে বসিয়ে তেল গরম করুন। এতে লবঙ্গ, তেজপাতা দিয়ে মাটনটা নাড়াচাড়া করুন। তারপর টুকরোগুলি তুলে রাখুন। পাত্রের অবশিষ্ট তেলে এবার পেঁয়াজ, জিরেগুঁড়ো, মৌরিগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, গরমমশলা, লংকাগুঁড়ো, নুন, হলুদ, টম্যাটো পেস্ট সব দিয়ে কষতে থাকুন। কষা হলে এতে মাটন দিয়ে আরও ভালো ভাবে কষুন। সবশেষে দিন টম্যাটো পিউরি ও গরমমশলাগুঁড়ো। এবার জল ও জাফরান দিয়ে ঢেকে দিন যাতে মাটন সেদ্ধ হয়ে যায়। রান্না হতে দিন ঢিমে আঁচে। মাংস সেদ্ধ হলে ধনেপাতা ছড়িয়ে নামিয়ে দিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব