আড়াল (পর্ব-০৪)

তিন্নি জানে, ঝিনুক তার বোন। তিয়াসের মুখেই শুনেছে, ও খুব ভালো মেয়ে। লর্ডস বেকারির কাছে এ কে ঘোষ মেমোরিয়াল স্কুলে সায়েন্স নিয়ে টুয়েলভে পড়ে। ওর কাছে তার কথা শুনে ও নাকি তার সঙ্গে আলাপও করতে চেয়েছিল। তা হলে কি সেটাও মিথ্যে কথা! যত খারাপই হোক, বাড়িতে জলজ্যান্ত একটা বউদি থাকতে কোনও ননদ কি তার দাদার প্রেমে সায় দিতে পারে! দাদার প্রেমিকার সঙ্গে আলাপ করতে চাইতে পারে! না, এটা হতে পারে না। তা হলে কি ও যা যা বলে, সবটাই মিথ্যে! তমন্না ঠিকই বলেছিল, ও খুব একটা সুবিধের ছেলে না। তিন্নি যখন এ সব ভাবছে, তিয়াসের মা বলে উঠলেন, ‘ডাক্তার কী বলল?’

–একটা মলম দিয়েছে আর তিন রকমের ট্যাবলেট। বলল, এতেই সেরে যাবে।

—তুই চা খাবি তো?

—বলেছি না, চায়ের ব্যাপারে আমাকে কখনও জিজ্ঞেস করবে না।

—জানি তো, চায়ে তোর কোনও না নেই। তোমরা কথা বলো মা। চায়ের জল বোধহয় ফুটে গেল। ওর মা রান্নাঘরের দিকে যেতেই তিয়াস বলল, তুমি যে এ দিকে আসবে, কই, তখন তো বললে না? —তুমিও তো বলেছিলে, আমি দূরে আছি। ফিরতে দেরি হবে।

—তখন কি আর জানতাম, ডাক্তারখানা আজ এত ফাঁকা থাকবে!

—এত বড়ো একটা ঘটনা তুমি আমার কাছে চেপে গিয়েছিলে?

—কী?

—কী, বুঝতে পারছ না?

—না।

—সে বুঝবে কী করে?

তিন্নির কথা শুনে রঞ্জনা বুঝতে পারল, ব্যাপারটা এ বার অন্য দিকে মোড় নেবে। তাই সেটাকে আটকাবার জন্য সে তিয়াসকে জিজ্ঞেস করল, আপনার ছেলের কী হয়েছে?

—আর বলবেন না। ক’দিন ধরে খুব ভুগছে…

—কী হয়েছে?

—প্রথমে ঘাড়ের কাছটায় একটু ঘা মতো হয়েছিল। তার পর…

কথা শেষ হওয়ার আগেই ট্রে-তে করে তিন কাপ চা নিয়ে ঢুকতে ঢুকতে তিয়াসের মা বললেন, ‘মেয়ের কাছে গিয়েছিলি?’

—মেয়ে! রঞ্জনা আর তিন্নি দু’জনেই দু’জনের দিকে তাকাল। শুধু ছেলে নয়, মেয়েও আছে!

তিয়াসের মা ফের বললেন— ও কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে একা একা আছে। আমি একবারও যেতে পারিনি। জানিস তো, আমি সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারি না। পারলে একবার দেখা দিয়ে আসিস।

তিন্নি অবাক৷ এ কী বাড়ি রে বাবা! ছেলে অসুস্থ। মা অসুস্থ। মেয়েও কি অসুস্থ নাকি! না হলে উনি এ কথা বললেন কেন! তা হলে কি তিয়াসও অসুস্থ! নিশ্চয়ই অসুস্থ। তার সঙ্গে ও যা করেছে, সেটা কি কোনও সুস্থ লোকের কাজ!

তিন্নি যখন এ সব ভাবছে, প্লেটসুদ্ধ চায়ের কাপ সেন্টার টেবিলে নামাতে গিয়ে তিয়াসের মা দেখলেন, যেভাবে দিয়ে গিয়েছিলেন, তিন্নির দিকের প্লেটের সন্দেশ দুটো ঠিক সে ভাবেই পড়ে আছে। তাই তিন্নিকে বললেন, “কী গো মা, এখনও খাওনি? নাও নাও, তাড়াতাড়ি শেষ করো। চা ঠান্ডা হয়ে যাবে যে।’

উনি চলে যেতেই তিয়াসের দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে বেশ কড়া গলায় তিন্নি বলল, “তোমার বউ কোথায়?”

—বউ !

রঞ্জনা বলল, “এই চুপ কর তো। এগুলো পরে হবে। মাসিমা শুনলে কী ভাববেন বল তো!”

—কী আর ভাববেন! জানতে পারবেন, তার ছেলে কেমন! তার ছেলে কীভাবে একটা মেয়ের জীবন নিয়ে এত দিন ধরে ছিনিমিনি খেলেছে…

তিয়াস বলল, “ছিনিমিনি খেলেছি! আমি?’

—অনেক হয়েছে আর ন্যাকামি কোরো না। আমি সব জেনে গেছি।

—কী জেনেছ? তিয়াস গলা চড়াতেই রঞ্জনা বলল, ‘চুপ করুন না তিয়াসদা। যা হওয়ার হয়ে গেছে।”

—কেন চুপ করব? দেখছেন না, আপনার বন্ধু কী সব উলটোপালটা বলছে। ও কি আমার সঙ্গে এখানে ঝগড়া করতে এসেছে?

তিন্নির দিকে তাকাল রঞ্জনা, “তুই চুপ করবি? নে, চা খা।”

—না। আমি খাব না। চা তো দূরের কথা, ওদের বাড়ির এক গেলাস জলও আমি ছোঁব না।

তিয়াস জিজ্ঞেস করল, “কেন? আমি কী করেছি?’

—এত কিছুর পরেও আবার জিজ্ঞেস করছ, কেন? আমি কী করেছি? তোমার লজ্জা করে না…..

ঠিক তখনই এমন ক্র্যাড়…ড়…ড়… করে একটানা কলিংবেলটা বেজে উঠল যে তিন্নির কথা ভালো করে শোনাই গেল না। তিয়াস বলল, ‘দাঁড়াও, দরজাটা খুলে দিয়ে আসি। ঝিনুক এসেছে।’

ও উঠতেই দু’জনে সদর দরজার দিকে তাকাল। দেখল, একটি মেয়ে ঢুকল। কোলে একটা ছোট্ট খরগোশ। এই-ই নিশ্চয়ই ঝিনুক। তিন্নির মন তখন এতটাই খারাপ যে, কোনও কিছু ভাবার মতো অবস্থায় নেই। রঞ্জনা একটু অবাক হল। কলিংবেলের আওয়াজ শুনে তিয়াস কী করে বুঝল, ওর বোন এসেছে। আরও অবাক হল, ওর বোনের ঢং দেখে। কিছুদিন আগে দেব আর কোয়েলের ‘প্রেমের কাহিনি’ নামে একটা সিনেমা এসেছিল। সেখানে খরগোশকে প্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখানোর পর থেকে অনেক উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েই খরগোশ পোষা শুরু করেছে। পুরো ব্যাপারটাই কেমন যেন ন্যাকা ন্যাকা। ঝিনুকও যে তার ব্যাতিক্রম নয়, এটা সে বুঝতে পারল। মনে মনে বলল, যত্ত সব আদিখ্যেতা।

ঝিনুক ঢুকতেই ওদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিল তিয়াস। ‘এ আমার বোন ঝিনুক। আর এ হল তিন্নি…..”

‘তিন্নি’ শব্দটা শুনেই ঝিনুক বলল, “ও মা, তুমি তিন্নি? দাদার কাছে তোমার কত গল্প শুনেছি। আমি তো দাদাকে কবেই বলেছিলাম, তাহলে একদিন বাড়িতে নিয়ে আয়। আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দে। যখনই এ কথা বলি, ও বলে আজ নয়, কাল। কাল নয়, পরশু। অবশেষে নিয়ে এল তা হলে…’

রঞ্জনা বলল, ‘না। তোমার দাদা আমাদের আনেনি। আমরা নিজে থেকেই এসেছি।’

—তাই নাকি? বাঃ। দারুণ ব্যাপার।

সে-ই যখন এলে, আগেই তো আসতে পারতে। তোমাদের চিনে আসতে কোনও অসুবিধে হয়নি তো?

খুব গম্ভীর গলায় তিন্নি বলল, ‘না। কিন্তু তোমার বউদি কোথায়?”

—বউদি! মানে?

—তোমার দাদার বউ।

—দাদার বউ? দাদা আবার বিয়ে করল কবে!

—তার মানে?

—আমি তো সেটাই তোমাকে জিজ্ঞেস করছি…

(ক্রমশ…)

আকাশ আট-এ শুরু হল নতুন সিরিজ ‘যার যেথা ঘর’

বিনোদনের বাংলা চ্যানেল ‘আকাশ আট’-এর জনপ্রিয় বিভাগ ‘সাহিত্যের সেরা সময়’। এই বিভাগে শুরু হল নতুন সিরিজ ‘যার যেথা ঘর’। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়-এর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই সিরিজ-টি গত ৮ মে থেকে সম্প্রচারিত হচ্ছে সোম থেকে শনি প্রতিদিন সন্ধে সাড়ে সাতটার সময়। ‘সাহিত্যের সেরা সময়’ বিভাগের ষষ্ঠ এই সিরিজ-টির কাহিনি বিন্যাস, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন রাকেশ ঘোষ। ‘যার যেথা ঘর’ সিরিজটি পরিচালনা করছেন সজল বোস।

‘যার যেথা ঘর’ কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র আরতি। জীবনের অনেকগুলো দিন পার করে আসার পর আরতি এই সত্য উপলব্ধি করে যে, মেয়েদের জীবনে একটা সূর্যের দরকার, যে আলো দেবে।

বড়োলোক অ্যাটর্নির সাহিত্যিক মেয়ে আরতির জীবনটা জুড়ে যায় নিতান্তই অপছন্দের পুরুষ প্রতিবেশী সুনন্দর সঙ্গে। সুনন্দ প্রেমিক, দায়িত্বশীল কিন্তু রোমান্টিক নয়। আরও বড়ো সত্য হল, সুনন্দ নিম্ন-মধ্যবিত্ত। সাতের দশকের উত্তাল কলকাতা শহরে পরস্পরের বিপরীতে অবস্থান করা দুই বাড়ির দুই ভিন্ন মেরুর নারী-পুরুষ সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হয় ঠিকই কিন্তু তাদের বৈবাহিক জীবনে অনুপস্থিত থাকে প্রেম। এই ঘর, এই সংসার তাই আরতির নিতান্তই অপছন্দের, আরতি তাই তার সূর্যের তেজে শুধুই জ্বলে। জ্বলে পুড়ে খাক হয়। আলো পায় না। বরং তার জীবনের একমাত্র আলো তার মেজো জামাইবাবু মনোতোষ, যাকে আরতি মনে করে পুরুষ-শ্রেষ্ঠ। আরতির অজান্তেই বড়ো ভুল হয়ে যায় তার বিশ্লেষণে। দায়িত্ববান, কর্তব্যপরায়ণ, তন্নিষ্ঠ সুনন্দর অন্তর্লীন প্রেমের আবেগকে সে স্পর্শ করতে পারে না, অন্যদিকে বহিরঙ্গে রোমান্টিক, ভদ্রলোক মনোতোষের ছদ্ম-প্রশস্তিতে সে বুঁদ হয়ে থাকে।

আরতি জীবনভর বহু পুরুষ দেখেছে, তার বাবা তপনজ্যোতি, দাদা চঞ্চল, বড়ো জামাইবাবু অমরেন্দ্র, মেজদির প্রেমিক রমেশ, নিজের স্বামী সুনন্দ – সবাইকে ছাপিয়ে মনোতোষকেই তার মনে হয় সূর্য, মনে হয় আলো।

একদিন জালিয়াতির ব্যবসায়ী মনোতোষের মুখোশ খুলে যায়, নখ-দাঁত নিয়ে পুরুষ-শ্রেষ্ঠর আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে দানব। একই সঙ্গে অর্থ ও সম্মানের গুণগারের কিনারায় এসে দাঁড়ায় আরতি। জেরবার আরতিকে বরাবরের মতো তীব্র জ্বলনের হাত থেকে উদ্ধার করে আলো দেয় সুনন্দই। আরতি উপলব্ধি করে আসল আলো কোথায়, প্রকৃত সূর্য কে, সত্যের ঘর কোনখানে।

‘যার যেথা ঘর’ সিরিজ-এর মুখ্য চরিত্রে (আরতি) রূপদান করছেন জয়িতা গোস্বামী। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রনয় চন্দ্র (সুনন্দ), চন্দ্রনিভ (মনোতোষ), প্রান্তিক গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর চক্রবর্তী, চৈতালী চক্রবর্তী, রিমঝিম দাস, সৌমী বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময়, পিয়ালী দাস প্রমুখ।

Enhanced কার্ডিয়াক কেয়ার

‘Enhanced কার্ডিয়াক কেয়ার’ প্রোগ্রামটি সর্বোচ্চ মানের কার্ডিয়াক কেয়ার টেকনোলজি। বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল ও ডোজি-র চিকিৎসা দক্ষতার বিরামহীন উদ্যোগের সফল রূপায়ন এটি। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা দূর থেকেই রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, রক্তচাপ, SPO2 মাত্রা, তাপমাত্রা এবং ইসিজি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ডোজি-র আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (EWS) গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ট্র্যাক করে এবং রোগীদের ক্লিনিকাল অবনতির প্রাথমিক সনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সতর্কতা প্রদান করে, ফলে সঠিক সময়ে চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যায়।

ডোজি, একটি ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তি, যা রোগীর নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য, আইসিইউ-এর বাইরে অবিরাম রোগীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির পর্যবেক্ষণের জন্য স্পেশাল বেড-এর ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রতি ডোজি-র এই এআই-ভিত্তিক কন্টাক্টলেস রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং (RPM) এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (EWS) বেড-টি লঞ্চ করা হল কলকাতা-র একটি অভিজাত হোটেলে।

জাতীয় প্রযুক্তি দিবসের কথা মাথায় রেখে, কার্ডিয়াক কেয়ারে তার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বিখ্যাত  একটি ‘ডিজিটাল ফার্স্ট’ উদ্যোগ ‘উন্নত কার্ডিয়াক কেয়ার’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল। এই উদ্যোগটি ডোজির এআই-ভিত্তিক কন্টাক্টলেস রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং (RPM) এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (EWS), যা সমস্ত ওয়ার্ডের শয্যায় কানেক্ট করে প্রতিরোধমূলক এবং সক্রিয় যত্নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ চিহ্নিত করে। হাসপাতাল ক্লিনিকাল পরিস্থিতি শনাক্ত করতে এবং দ্রুত সমাধান করতে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  এই কৌশলগত পদক্ষেপ রোগীর নিরাপত্তা এবং রেজাল্ট বাড়ানোর জন্য, ডেটা-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হাসপাতালের প্রতিশ্রুতিকে দর্শায় এবং স্বাস্থ্যসেবা ইকোসিস্টেমের রূপান্তর ঘটায়।

ডোজি কন্ট্যাক্টলেস ভাইটাল পর্যবেক্ষণের জন্য এআই-ভিত্তিক ব্যালিস্টোকার্ডিওগ্রাফি (বিসিজি) ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি পেটেন্ট প্রাপ্ত এবং ভারতে তৈরি। ডোজি-র উদ্ভাবনী প্রযুক্তি রোগীর নিরাপত্তা, ক্লিনিকাল ফলাফল এবং অপারেশনাল দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে।  গবেষণা দেখায় যে, প্রতি  ১০০ টি ডোজি-সংযুক্ত বেডে এটি ১৪৪ টি জীবন ও নার্সদের ৮০ শতাংশ সময় বাঁচাতে পারে এবং আইসিইউ এএলওএস-এ ১.৩ দিন সময় কমাতে পারে।

কলকাতার বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের কার্ডিওলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. অঞ্জন সিওটিয়া এই বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, ‘বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালে, আমাদের লক্ষ্য সর্বদা রোগীকেন্দ্রিক বিশ্বমানের কার্ডিয়াক কেয়ার প্রদান করা।  ডোজি-র সহযোগিতায় ‘এনহ্যান্সড কার্ডিয়াক কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর প্রবর্তন এই মিশন সফল করতে সাহায্য করেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে সঙ্গে নিয়ে, আমরা শুধুমাত্র রোগীর নিরাপত্তা বাড়াচ্ছি না বরং কার্ডিয়াক কেয়ার ডেলিভারির জন্য নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করছি।’

কলকাতার বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতালের ইউনিট হেড সুপ্রতীক দে সরকার এই বিষয়ে জানিয়েছেন, ‘এনহ্যান্সড কার্ডিয়াক কেয়ার’ প্রোগ্রাম রোগীর রেজাল্টে উন্নতি আনতে প্রযুক্তি ব্যবহার করার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেয়৷ ডোজি-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, আমরা উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য ক্ষমতা বাড়াচ্ছি৷  আমাদের রোগীদের জন্য সক্রিয় এবং ব্যক্তিগতকৃত যত্ন এই উদ্যোগটি কার্ডিয়াক কেয়ারে আরও ভালো ফল দেবে।’

ডোজি-র সিটিও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা গৌরব পার্চানি, অংশীদারিত্বের বিষয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘আমরা কার্ডিয়াক কেয়ারে অগ্রগতির জন্য বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পেরে রোমাঞ্চিত৷ ‘এনহ্যান্সড কার্ডিয়াক কেয়ার’ প্রোগ্রাম একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চিহ্নিত করে৷ যা অবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি আমাদের মিশনে এক মাইলফলক। আমরা বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের সঙ্গে একত্রে কার্ডিয়াক কেয়ারের ল্যান্ডস্কেপকে পুনর্নির্মাণ করছি, যাতে রোগীর নিরাপত্তা সবার আগে থাকে।’

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ‘এনহ্যান্সড কার্ডিয়াক কেয়ার’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে, বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটালের লক্ষ্য হল, কার্ডিয়াক কেয়ারের মান উন্নত করা।

কর্মজীবনে সাফল্যের চাবিকাঠি

‘My Career My Choice’ (আমার কর্মজীবন, আমার পছন্দ) শীর্ষক অভিষেক দে সরকার-এর লেখা বইটি এমন সফল একটি সাহিত্যকর্ম, যা  তাঁর আত্মবিশ্বাস, জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতাকে সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছে। গত দুই দশক ধরে লালিত, লেখকের এমন উপলব্ধি এই বইটিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে, যা নিছক নিয়তির ফলাফলে বিশ্বাসী নয়, সচেতন পছন্দের ফল। অভিষেক দে সরকার কর্মজীবনের সঠিক পথ বেছে নেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা পাঠকদের  কাছে এমন ভাবে তুলে ধরেছেন, যাতে পাঠকদের কর্মজীবনেও সাফল্য আসে।  আসলে, অভিষেক দে সরকারের এই বইটি কর্মজীবনে ধাপে ধাপে এগোনোর নির্দেশিকা বলা যায়।

বইটি  গতকাল লঞ্চ করা হয়েছে কলকাতা-র এ কটি অভিজাত হোটেলে। লেখক অভিষেক দে সরকার ছাড়াও, এই বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৃত্যশিল্পী ও সমাজকর্মী অলকানন্দা  রায়, প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার প্রণব রায়, ধোনির প্রথম ক্রিকেট কোচ  কেশব রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, চলচ্চিত্র পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী প্রমুখ। উপস্থিত প্রত্যেকেই স্বীকার করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের জন্য এই বইটি অমূল্য সম্পদ। কারণ, সাধারণ তরুণ-তরুণীদের কর্মজীবনে প্রবেশের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কঠিন কাজটি করতে সাহায্য করবে এই বই।

উল্লেখ্য, অভিষেক দে সরকারের বেশির ভাগ বই-ই ব্যবহারিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। সাধারণ পৌরাণিক কাহিনীর বাইরে গিয়ে তরুণদের পেশাগত সফরের দিকনির্ণয় করতে স্পষ্ট একটি রোডম্যাপ প্রদান করে৷ বাস্তব জীবনের উপাখ্যান এবং ভালো-গবেষণার মাধ্যমে, লেখক যা উপলব্ধি করেছেন, তা পাঠকদের কাছে তুলে ধরে, পাঠকদের আস্থা জাগিয়ে তোলেন, তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্ঞান প্রদান করেন।

‘মাই কেরিয়ার, মাই চয়েস’-এর বিষয় শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি অভিভাবকদের জন্যও সমান তাৎপর্য। কারণ, যারা তাদের সন্তানদের জীবনে পথপ্রদর্শক হিসেবে আলোর ভূমিকা পালন করেন, তারাও এই বইটি পড়ে অনেককিছু শিখতে পারবেন এবং শেখাতে পারবেন। কীভাবে পিতামাতারা তাদের সন্তানের একটি পরিপূর্ণ কর্মসফরকে সহজতর করবেন, সে সম্পর্কে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট রূপে ধরা আছে এই বইটিতে।

বইটির লেখক অভিষেক দে সরকার জানিয়েছেন,‘এমন একটি বিশ্বে আমরা বসবাস করি, যেখানে কর্মপথ  নির্বাচন করা সাধারণ ভাবে খুব সহজ নয়। তাই, একজনের জীবনের গতিপথ যাতে সঠিক হয়, সেই বিষয়টি  যথাসম্ভব তুলে ধরেছি এই বইটির মাধ্যমে। এই বইটি  আসলে জ্ঞান এবং ক্ষমতায়নের আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করবে৷ তাই বইটি প্রজন্মের সীমানা অতিক্রম করে, পছন্দের শক্তিকে কাজে লাগাতে এবং সাফল্যের পথে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’

অভিষেক দে সরকার বিদেশী শিক্ষা শিল্পে দুই দশকের একটি চিত্তাকর্ষক ট্র্যাক রেকর্ড সহ একজন উচ্চ সম্মানিত কেরিয়ার কোচ। তিনি ‘অ্যাডভেন্ট এডুকেশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর প্রতিষ্ঠাতা।

বছরের পর বছর ধরে, অভিষেক তাঁর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং উচ্চ শিক্ষার ল্যান্ডস্কেপের গভীর জ্ঞান প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরামর্শ এশিয়ান শিক্ষার্থীদের বিদেশে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে। অভিষেকের দিকনির্দেশনা ছাত্রদের বিদেশে শিক্ষার বাইরেও প্রসারিত। তাঁর কর্মজীবন ২০ বছর একটি চিত্তাকর্ষক টাইমলাইনে বিস্তৃত। তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক এবং পেশাদার পরামর্শদাতাও। অভিষেকের মূল কাঠামো হল– ক্ষমতায়ন, নির্দেশিকা এবং বিদেশী শিক্ষার ক্ষেত্রে অতুলনীয় দক্ষতা। ভবন থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পাশাপাশি, তিনি IIM ইন্দোর থেকে স্ট্র্যাটেজিক থিংকিং- এর উপর ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম করেছেন। শুধু তাই নয়, অভিষেক IIM ইন্দোর এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রামের একজন সম্মানিত প্রাক্তন ছাত্রও।

আড়াল (পর্ব-০৩)

তোর হঠাৎ ওকে সন্দেহ হল কেন?

‘আসলে আমি আর ও তো মাঝে মাঝে মিলেনিয়াম পার্কে যাই। আমি খেয়াল করিনি আমাদের কলেজে তমন্না বলে একটা মেয়ে ছিল। ও নাকি আমাকে ওর সঙ্গে দেখেছিল। পরে রাস্তায় একদিন দেখা হওয়ায় ও-ই বলল, তিয়াসের সঙ্গে মেলামেশা করছিস? বুঝেসুঝে মিশিস। ও কিন্তু খুব একটা সুবিধের ছেলে না।’

—তার পর?

—যতই কলেজের বন্ধু হোক, ও বলেছে বলেই কি ওর কথা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে? আমি এত দিন ধরে ওর সঙ্গে মিশছি, ও কেমন, আমি জানি না? আমি বিশ্বাস করিনি। কিন্তু তার পর থেকেই ওর অনেক আচরণ আমার চোখে পড়তে লাগল। আগে তো ও এরকম করত না! কেমন যেন খটকা লাগল। তখন আমি দু’য়ে দু’য়ে চার মেলাতে লাগলাম। দেখলাম, সত্যিই ওর চালচলন বেশ সন্দেহজনক।

—কী রকম?

—যেমন, আগে খুব ঘন ঘন ফোন করত। কিন্তু ক’দিন হল, ফোন করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। আমি করলেও সব সময় ঠিকমতো ধরত না। ধরলে, আশপাশের গাড়িঘোড়ার শব্দে বুঝতে পারতাম, ও রাস্তায়। ওর কথা বলার ধরন দেখে বুঝতে পারতাম, ওর পাশে কেউ আছে। কিন্তু আমি যে সেটা বুঝতে পারছি, সেটা ওকে বুঝতে দিতাম না। যদি বলতাম, বাড়ি গিয়ে আমাকে একটা ফোন কোরো। ও বলত, ঠিক আছে। কিন্তু কোনও দিনই ফোন করত না।

—কেন?

—কেন আবার? বউ আছে না? বউ যদি টের পেয়ে যায়! এই সব ছেলেদের গায়ে না বিছুটিপাতা ঘষে দিতে হয়।

—ওর ব্যাবসা আছে বলেছিলি না?

—ধুর, ওটা ওর নাকি? ওর বাবার। ওর বাবাই চালায়। ও মাঝে মাঝে গিয়ে বসে।

ওদের কথার মধ্যেই ক্রিং ক্রিং করে ফোন বেজে উঠল। রঞ্জনা চাপা গলায় বলল, কী রে, টেলিফোন বাজছে তো, ধরার কেউ নেই নাকি?

তিন্নিও কান খাড়া করল, হ্যাঁ, টেলিফোন বাজছে। তিয়াসের ব্যাপারটা নিয়ে ও এতটাই টেনশনে আছে যে ও শুনতেই পায়নি ফোন বাজছে। খানিকক্ষণ পর রিংটা থেমে গেল। রিং হয়ে হয়ে থেমে গেল, না কি কেউ ধরল, বোঝা গেল না।

তিন্নি বলল, ‘কথায় কথায় আমি ওকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমাদের বাড়িতে ল্যান্ড ফোন নেই? ও বলেছিল, আছে তো৷ যে-ই বলেছিলাম, তা হলে ওই নম্বরটা দাও না… ও বলেছিল, ল্যান্ড নাম্বার দিয়ে কী করবে? আমি বলেছিলাম, বাড়ি ঢুকলেই তো মোবাইলের সুইচ অফ করে দাও। যদি কোনও দিন বিপদ-আপদ হয়? দরকারের সময় তোমাকে যদি মোবাইলে না পাই, তখন অন্তত ল্যান্ড ফোনে তো খবরটা তোমাকে দিতে পারব।’

রঞ্জনা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তখন ও কী বলল?”

—বলল, মোবাইলে না পেলে হোয়াটসআপ করে দেবে, তা হলেই হবে। আমি বলেছিলাম, তাও তোমার বাড়ির নম্বরটা দেবে না! ও মুখের উপরে বলে দিয়েছিল, না।

—জিজ্ঞেস করিসনি, কেন দেবে না?

—করেছিলাম তো… ও বলেছিল, ফোনটা তো মায়ের ঘরে। ফোন এলে মাকেই ছুটে গিয়ে ধরতে হয়। কিন্তু মায়ের শরীরটা ভালো নয়। তাই শুধু আমি নই, আমাদের বাড়ির কেউই আর কাউকে ল্যান্ড নাম্বার দেয় না। এবং আমরা নিজেরাও পারতপক্ষে এই ফোনে ফোন করি না…

সন্দেশে ফের আলতো করে কামড় বসাতে বসাতে রঞ্জনা বলল, ‘শরীর খারাপ? কই, দেখে তো মনে হল না। দিব্যি হাঁটাচলা করছেন। চা করছেন। আসলে ও সব কিছু না। ল্যান্ড নম্বর না দেওয়ার যতসব ফন্দি-ফিকির। বুঝেছিস? আরে বাবা, মায়ের ধরতে যদি অসুবিধেই হয়, ফোনটা তো অন্য ঘরেও রাখতে পারে।”

—কে?

তিন্নি বলল, “আমি কি সে কথা বলিনি?’ তখন ও বলেছিল— সে নয় রাখলাম। কিন্তু অন্য ঘরে ফোন রাখলে, সেটা ধরবে

—তখন বললি না কেন, তোমার বউ…

—তখন কি আর জানতাম… তার পরেও যত বার ল্যান্ড নাম্বার চেয়েছি, ও প্রতিবারই কোনও না কোনও অজুহাত দেখিয়ে ঠিক এড়িয়ে গেছে। একবার তো বলেই ফেলল, টেলিফোন নম্বরের জন্য তুমি এরকম করছ কেন বলো তো! ভেবে নাও না, আমাদের বাড়িতে ফোন নেই।

—সে কী রে?

—তা হলে আর বলছি কী। জানবি, যাদের মধ্যে গলদ থাকে, তাদের সঙ্গে কথায় পারবি না। আমি তো ভাবতেই পারছি না, ও এরকম…

ওরা যখন কথা বলছে, হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। ক্রিং ক্রিং ক্রিং। মনে হল, কেউ বুঝি পর পর তিন বার সুইচে হাত ছুইয়েই ছেড়ে দিল। কিন্তু ঠিক ওটুকু আওয়াজেই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে ওদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে তিয়াসের মা বললেন— ওই যে, তোমাদের তিয়াস এসে গেছে।

কলিংবেলের শব্দ শুনে ওর মা কী করে বুঝলেন তিয়াস এসেছে! সত্যিই কি তিয়াস! দু’জনেই ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। উনি দরজা খুলতেই ওরা অবাক। হ্যাঁ, সত্যিই তিয়াস।

ওর মা কিছু বলতে যাওয়ার আগেই ওদের দু’জনকে দেখে তিয়াস যেন ভূত দেখল। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে কেমন ঘোর লাগা গলায় বলল, “তোমরা?’

তিন্নি ওর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। কিন্তু কোনও কথা বলল না। রঞ্জনা বলল— এ দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। তা, ও বলল, এটা তিয়াসদের বাড়ি। বললাম, তা হলে চল না… দেখি ও আছে কিনা। ও বারবার করে বারণ করেছিল। তবু আমি ওর কথা শুনিনি। প্রায় জোর করেই কলিংবেল টিপে দিয়েছিলাম। আপনার মা বললেন, আপনি নেই। তবে এখুনি ফিরে আসবেন। তাই…

তিয়াসের মা সন্দেশের প্লেট আর কাচের গেলাস দুটো সেন্টার টেবিলে নামিয়ে ট্রে-টা নিতে নিতে তিয়াসকে বললেন, ‘কী রে, তোর ছেলেকে কোথায় রেখে এলি?’

—ও ঝিনুকের কাছে আছে। আসছে।

(ক্রমশ…)

খাবার সুস্বাদু করার স্মার্ট টিপস

অনেক সময় তাড়াহুড়োয় আমরা রান্নার ব্যাপারে তেমন মনযোগী হতে পারি না। তাই রোজের রান্নার স্বাদ সবদিন ভালো না-ও হতে পারে। কিন্তু খাবারের স্বাদে টুইস্ট আনতে এই টিপ্‌সগুলি আপনার সেরা হাতিয়ার হতে পারে।

  • অমলেট ভাজার সময় তেলের বদলে মাখন ব্যবহার করুন। ডিম ফাটিয়ে গোলার সময় এতে একটু দুধ দিয়ে দিন। এতে অমলেট নরম হবে আর স্বাদও বেড়ে যাবে।
  • আপনার যদি অফিস টুরের জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, ট্রেন সফরের জন্য পরোটা নিয়ে যেতে পারেন। শুধু ময়দা মাখার সময় জলের পরিবর্তে দুধ দিয়ে মাখুন। এই পরোটা ১-২ দিন একদম টাটকা থাকবে। ভাজার পর রং-ও সুন্দর হবে।
  • সাধারণত লাউ বা শসা গ্রেট করার পর জলটা আমরা ফেলে দিই। এই জল ফেলে না দিয়ে এটা দিয়ে আটা বা ময়দা মাখার কাজে ব্যবহার করুন। এতে পরোটা হেলদি ও টেস্টি হবে।
  • ধনেপাতার ডাঁটিগুলি ফেলে না দিয়ে, বেটে ফ্রিজে রাখুন। ডাল সাঁতলানোর সময় ব্যবহার করুন এই পেস্ট। ডালের স্বাদ দ্বিগুন হবে।
  • রেডিমেড গ্রেভি যদি তৈরি করতে চান আগে থেকে পেঁয়াজ, রসুন ও টম্যাটো সেদ্ধ করে, মিক্সিতে পেস্ট করে রাখুন। ইন্সট্যান্ট সবজির গ্রেভি তৈরিতে দারুণ উপযোগী। এই গ্রেভি চিকেনের জন্যও ব্যবহার করতে পারেন।
  • কোফতা তৈরির আগে বেসনটা শুকনো খোলায় ভেজে তারপর ব্যবহার করুন। এতে কোফতা খেতে সুস্বাদু হবে এবং মোলায়েমও হবে।
  • রেস্তোরাঁয় প্রস্তুত ছোলে দেখবেন কালচে রঙের হয়। এই রং ও স্বাদ আনার জন্য বাড়িতে যখন ছোলা সেদ্ধ করবেন, এর মধ্যে শুকনো বেদানার খোসা মিলিয়ে দেবেন।
  • পেঁয়াজ ভাজার সময় এতে একটু চিনি দিয়ে দিন। এতে রান্নার রং আর স্বাদ দুই-ই ভালো হবে।
  • দই ঘন ভাবে জমাতে হলে দুধ অল্প গরম করে ক্যাসারোল-এ রেখে দই জমান।
  • ক্ষীর বা পায়েস তৈরির সময় অল্প নুন দেবেন। এতে স্বাদ বাড়ে। আর একছড়া কেসর যদি ঠান্ডা দুধে ভিজিয়ে রেখে এই দুধ ক্ষীরে মিশিয়ে দেন— স্বাদ হবে দ্বিগুন।
  • জায়ফল ও এলাচও একই ভাবে দুধে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। ক্ষীর ঠান্ডা হওয়ার মুখে এই এলাচ ডোবানো দুধ, ক্ষীরের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। স্বাদ বেড়ে যাবে।
  • মিষ্টি গজা তৈরি করার সময়, আটাটা দুধ দিয়ে মাখুন। এতে এর স্বাদ যেমন বাড়বে, বেশিদিন ফ্রেশও থাকবে।

বিশেষ পরামর্শ

  • অনেকেই রায়তা তৈরির সময় সমস্ত উপকরণের সঙ্গে নুনও মিশিয়ে দেন। এর ফলে রায়তা টকে যায়। রায়তা পরিবেশনের সময়ই নুন মেশান। এতে স্বাদ আরও ভালো হবে।
  • অনেকেই রান্না সুস্বাদু করার জন্য এতে দই মেশান। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, সবজি বা মাছ যেটাই রান্না করুন না কেন- দই দেওয়ার পরেই নুন দেবেন। আগে থেকে নুন দিলে দইটা ছানা কেটে যাবে। দেখতেও খুব খারাপ লাগবে প্রিপারেশনটা।

• নোনতা ও মিষ্টি ভাজাভুজি একসঙ্গে একই কন্টেনারে স্টোর করবেন না। এতে এগুলি মিইয়ে যাবে দ্রুত। আলাদা দুটি এয়ারটাইট পরিষ্কার স্টোরেজ কন্টেনারেই রাখুন।

আড়াল(পর্ব-০২)

দরজা খুলে অচেনা দুটো মেয়েকে দেখে তিয়াসের মা জিজ্ঞাসা করল, “কাকে খুঁজছ মা?”

তিন্নির কানে তখন কোনও কথা ঢুকছে না। এক মনে শুধু ঠাকুরকে ডাকছে, তিয়াস যেন বাড়িতে না থাকে, না-থাকে, না থাকে…

তিন্নিকে কিছু বলতে না দেখে রঞ্জনাই বলল, “তিয়াস আছে?” —না মা। ও তো একটু বেরিয়েছে।

—ও কখন আসবে?

—ডাক্তারের কাছে গেছে তো… কতক্ষণ লাগে!

—ডাক্তারের কাছে কেন? ওর কি কিছু হয়েছে?

—না। ওর কিছু হয়নি। ওর ছেলেটা তো ক’দিন ধরে খুব ভুগছে…

—ছেলে! তিন্নির পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। চারশো চল্লিশ ভোল্টের বিদ্যুৎ আছড়ে পড়ল তার ওপর। থরথর করে কেঁপে উঠল তিন্নি। তিয়াসের ছেলে আছে! ও বিবাহিত! তিন্নি এর আগে বিভিন্ন খবরের কাগজে পড়েছে, বদমায়েশ গোছের কিছু লোক আছে, যারা বিয়ের পরেও নিজের নাম ভাঁড়িয়ে, পরিচয় গোপন করে একের পর এক বিয়ে করে। কারও কারও কাছে এটা আবার পেশাও। যৌতুক হিসেবে যতটা যা গেল, পেল। বিয়ের পর দিন কিংবা তার ক’দিন পরে ‘একটু আসছি” বলে কিংবা সদ্য বিয়ে করা বউকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সব সোনাদানা নিয়ে চম্পট দেয়। অনেক ক্ষেত্রে তার আগের বউও নাকি তার সঙ্গে সেঁটে থাকে। ভাবা যায়! এগুলো অবশ্য গ্রামের দিকেই বেশি হয়। তা বলে কি শহরে হয় না! শহরেও কিছু কিছু ছেলে আছে, যারা বাড়িতে বউ-বাচ্চা থাকলেও অন্য মেয়ে দেখলেই ছোঁক ছোঁক করে। এবং কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে পড়লেও সে যে বিবাহিত, সেটা বেমালুম চেপে যায়। এ সব এখন আকছারই ঘটে। কিন্তু তার জীবনে যে এ রকম কোনও ঘটনা ঘটতে পারে, সেটা সে ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি।

কিছু দিন ধরে তিন্নি ওকে সন্দেহ করছিল ঠিকই কিন্তু ব্যাপারটা যে এতখানি, সেটা ভাবতেই পারেনি ও। ভেবেছিল, ও হয়তো অন্য কোনও মেয়ের পাল্লায় পড়েছে। সেটা হয়তো ওর বাড়ির লোকেরা জানে। মেয়েটা হয়তো ওদের বাড়িতেও যাতায়াত করে। ওর মায়ের হয়তো তাতে সম্মতিও আছে। এ দিকে তার সঙ্গে এত দিনের সম্পর্ক, তাই তার মুখের উপরে সরাসরি না-ও বলতে পারছে না। তাই তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। বাড়ির লোকেরা যাতে জানতে না পারে, সে জন্যই হয়তো বাড়িতে ঢুকেই মোবাইল অফ করে দিচ্ছে। কিন্তু এটা কী শুনল সে! কী! চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এল। ঝাপসা চোখে রঞ্জনার দিকে তাকাল। দেখল, রঞ্জনাও তার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনও কথা হল না। তবু যেন চোখে চোখে কত কথা হয়ে গেল। তা হলে এত দিন ধরে তিয়াস তার সঙ্গে খেলা করছিল! ছি ছি ছিঃ….

দুটো মেয়ে যখন এসে তিয়াসের খোঁজ করছে, নিশ্চয়ই এরা তিয়াসের বন্ধু হবে। সন্তানের বন্ধু তো সন্তানের মতোই। তাদের কি দোরগোড়া থেকে খালি মুখে ফিরিয়ে দেওয়া যায়! তাই ভদ্রমহিলা বললেন, “ভিতরে এসো।’

—না না, ঠিক আছে মাসিমা। ও যখন নেই… পরে অন্য একদিন আসব’খন!

রঞ্জনা বললেও তিন্নি তখন হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না। মাথা কোনও কাজ করছে না। সারা মুখ জুড়ে থমকে আছে একরাশ কালো মেঘ। আর বুকের মধ্যে সে কী হাহাকার! কান্না পেয়ে গেল তার। কিন্তু না, সে কাঁদবে না। তিয়াসকে সামনে পেলে সে শুধু একটা কথাই জিজ্ঞেস করবে, ও কেন তার সঙ্গে এ রকম করল? কেন? কেন? কেন? এটা তাকে জানতেই হবে। না, সে এখন বাড়ি যাবে না। তিয়াসের সঙ্গে আগে দেখা করবে, তার পরে অন্য কথা। কিন্তু তিয়াসের মাকে সেটা বুঝতে দিল না সে। কোনও রকমে নিজেকে সামলে নিয়ে রঞ্জনাকে বলল, ‘চল না, উনি যখন বলছেন…

রঞ্জনা বলল, ‘ও কখন আসবে তার কোনও ঠিক আছে!”

—ডাক্তার দেখাতে আর কতক্ষণ লাগবে?

তিন্নি বলতেই তিয়াসের মা-ও সায় দিলেন, ‘না না, বেশিক্ষণ লাগবে না। এই তো সামনেই গেছে। আমার মনে হয়, এক্ষুনি চলে আসবে। ফোন করে দেখতে পারো। ওর কাছে তো মোবাইল আছে।’

রঞ্জনা বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক বলেছেন তো। অ্যাই, তোর কাছে ওর নম্বর আছে না?’

—আছে। কিন্তু এখন করা কি ঠিক হবে? ডাক্তারের কাছে গেছে যখন, ফোন করে বিরক্ত করার কোনও মানে হয় না। ধীরে-সুস্থে ডাক্তার দেখাক। আমরা বরং একটু অপেক্ষা করি, নাকি? কী বলিস?

—কতক্ষণ বসবি?

—খানিকক্ষণ তো বসি…

—যদি তার মধ্যে না আসে?

—তখন না হয় ফোন করব। কিংবা একটা চিঠি লিখে যাব।

তিয়াসের মা বললেন, “হ্যাঁ মা, সেটাই ভালো। আমার বয়স হচ্ছে তো। কোনও কিছু আর মনে রাখতে পারি না। তোমরা বলে গেলেও, তোমাদের নাম হয়তো ঠিক মতো মনে করে আমি ওকে বলতেও পারব না। রোদের মধ্যে আর দাঁড়িয়ে থেকো না। এসো এসো, ভিতরে এসো।’

ওরা ভিতরে ঢুকল। কেমন যেন অন্ধকার অন্ধকার মতো। পুরোনো আমলের দোতলা বাড়ি। সামনেই বেশ অনেকখানি জায়গা নিয়ে বসার ঘর। খুব একটা সাজানো গোছানো নয়। মুখোমুখি যে চারটে সোফা, সেগুলোও ব্যবহারে ব্যবহারে জীর্ণ। মাঝখানে সেন্টার টেবিল। তাতে কয়েকটা মাগাজিন। সোফায় বসতে বসতে তিন্নিরা দেখল, ও দিক দিয়ে একটা সিঁড়ি উঠে গেছে উপরে। তিয়াসের মা পাখার সুইচ অন করতে করতে বললেন, ‘একটু চা খাবে তো মা?”

দু’জনেই একসঙ্গে বলে উঠল, ‘না না, থাক না।’

—থাকবে কেন? তিয়াস থাকলে কি চা না খেয়ে তোমরা যেতে পারতে? তোমরা চায়ে চিনি খাও তো? রঞ্জনা বলল, ‘হ্যাঁ খাই।”

কিন্তু না, চা নয়— একটা ট্রে-তে চাপিয়ে আলাদা দুটো প্লেটে দুটো করে ছানার সন্দেশ আর দু’গেলাস জল দিয়ে গেলেন তিনি। বললেন, আগে এটা খেয়ে নাও।

রঞ্জনা বলল, “এ সবের কী দরকার ছিল মাসিমা…’

—নাও নাও, খাও। লজ্জা কোরো না। আমি চায়ের জল চাপিয়ে দিয়েছি।

ভদ্রমহিলা পিছন ফিরতেই প্লেট থেকে একটা সন্দেশ তুলে ঠোঁট দিয়ে আলতো করে একটুখানি ভেঙে মুখে নিল রঞ্জনা। টুকরোটা মুখে মিলিয়ে যাওয়ার আগেই দেখল, তিন্নির মুখ একেবারে থমথমে। চোখটাও ছলছল করছে। যেন এক্ষুনি বাঁধ ভেঙে কান্না বেরিয়ে আসবে। তাই রঞ্জনা বলল, ‘এ রকম করিস না। উনি কী ভাববেন বল তো… নে, খা।”

কান্না ভেজানো গলায় তিন্নি বলল, “না রে আমার গলা দিয়ে কিছু নামবে না।’

—বুঝতে পারছি। কিন্তু কী করবি বল। তবু আজ এলি দেখে তো ব্যাপারটা জানতে পারলি। না এলে তো জানতেই পারতিস না। কাঁপা কাঁপা গলায় তিন্নি বলল, ‘আমি এত বড়ো ভুল করলাম! মানুষ চিনতে আমার এত বড়ো ভুল হল!”

(ক্রমশ…)

স্মার্ট কিচেন হ্যাকস

আজকাল প্রায় সমস্ত পরিবারেই মহিলারা কোনও না কোনও চাকরি করেন অথবা নিজেরা ছোটোখাটো কোনও ব্যাবসা। ফলে রান্নাঘর সামলানো আর ততটা হয়ে ওঠে না সময়াভাবে। কিন্তু সংসার করতে হলে তো সব দায় এড়ানোর উপায় নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও মোটেই অবহেলা করা চলে না। তাই পরিবারের সবার মন রাখতে ও তাদের আবদার মেটাতে রান্না করতেই হয় গৃহিণীদের।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পেশা সংক্রান্ত কাজকর্ম সামলে কতটা সময় দিতে পারবেন আপনি রান্নাঘরে! এই দোলাচল দূর হবে যদি আপনি কিচেন-স্মার্ট হতে পারেন। অর্থাৎ টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং স্মার্ট টেকনিক, দুই-ই যদি হয় আপনার নখদর্পণে।

আপনাকে সাহায্য করতে অতি জরুরি কিছু কিচেন হ্যাকস আমরা নিয়ে এসেছি, যা গৃহিণীদের করবে দারুণ স্মার্ট। সময়ও বাঁচবে আর খুব পরিশ্রমও করতে হবে না। জেনে নিন—

  • গ্যাস বার্নার মাঝেমাঝেই পরিষ্কার করবেন। অনেকসময় ময়লা জমে থাকার ফলে বার্নার দিয়ে গ্যাস ভালো ভাবে বের হয় না, রান্নাতেও দেরি হয়।
  • খাবার গরম করার জন্য সবসময় ফ্ল্যাট প্যান ব্যবহার করুন। এতে খাবার গরম হবে দ্রুত।
  • সবজি কেনার সময় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিন। সেই ধরনের সবজিই কিনুন যা রান্না হয় তাড়াতাড়ি। কিছু সবজি প্রয়োজনে আগের রাতে কেটে এয়ারটাইট কন্টেনার এ রেখে দিন। সকালে অফিস বেরোনোর আগে যাতে তাড়াতাড়ি রান্না হয়ে যায়। ছোটো কন্টেনারে টম্যাটো পেস্ট করে, আদা-রসুন পেস্ট করে ফ্রিজে স্টোর করে রাখুন। এগুলি ২-৩দিন অনায়াসে ব্যবহার করা যায় ।
  • আলুর পরোটা যদি ব্রেকফাস্ট বা টিফিনের জন্য বানানোর প্রয়োজন হয়, আগের রাতেই আলু সেদ্ধ করে এবং ময়দা মেখে রেখে দিন।
  • রাজমা বা ঘুঘনি মটর আগে থেকে প্রেশারে সেদ্ধ করে কন্টেনারে স্টোর রাখুন। মশলা দিয়ে কষে নিলেই এগুলি তৈরি হয়ে যাবে।
  • পালং শাক সেদ্ধ করে পেস্ট করে ফ্রিজে রেখে দিন। পনির মিশিয়ে রান্না করতে সময় লাগবে না।
  • রসুনের খোসা ছাড়াতে সময় লাগে? গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন কোয়াগুলো। দ্রুত কাজ হয়ে যাবে।
  • দ্রুত কফি তৈরি করার একটি ট্রিক হল একটা কাপে ২-৩ চামচ কফিগুঁড়ো ও ৪-৫ চামচ চিনি ও অল্প দুধ দিয়ে ফেটিয়ে রেখে দেওয়া। এরপর যখনই কফি খেতে ইচ্ছে করবে শুধু দুধ গরম করলেই হবে। এই কফি মিক্স থেকে খানিকটা কাপে ঢেলে, গরম দুধ ঢেলে দিলেই আপনার কফি তৈরি।
  • অনেক সময় তাড়াহুড়োয় জুস তৈরির সময় চিনি গুলতে চায় না। বিশেষ করে ঠান্ডা জলে চিনি সম্পূর্ণ ভাবে গুলে যেতে সময় নেয়। তাই আগে থেকেই চিনি জলে ফুটিয়ে সিরাপ তৈরি করে রাখুন। এই সিরাপ ঠান্ডা হলে ফ্রিজে স্টোর করুন। এবার জুস তৈরি করা খুব সোজা হবে। এই সিরাপ ২০-২৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। জুস, শরবত, লস্যি সবকিছুতেই মেশাতে পারবেন চিনির এই সিরাপ।

আড়াল (পর্ব-০১)

কলিংবেল টিপতেই ভিতর থেকে কুকুরের সে কী ভয়ংকর ঘেউ ঘেউ। কলিংবেলের শব্দ না শুনলেও কুকুরের কান ফাটানো এই চিৎকার তো কানে যাবেই। তাই দ্বিতীয়বার আর বেল টেপেনি তিন্নি। এরই মধ্যে সদর দরজা খুলে সামনে এসে যিনি দাঁড়ালেন, তাঁকে দেখেই তার মনে হল, ইনিই তিয়াসের মা।

খুব কম দিন হল না, তিয়াসের সঙ্গে ও মিশছে। কিন্তু এ পথ দিয়ে যেতে যেতে দূর থেকে একদিন দেখালেও, তিয়াস কখনও তাকে এ বাড়িতে নিয়ে আসেনি। কিছুদিন হল তিয়াসের ছোটোখাটো নানান আচরণ নিয়ে তিন্নির মনের মধ্যে বেশ তোলপাড় হচ্ছিল। সন্দেহটা যখন মনের মধ্যে একেবারে গেড়ে বসেছে, তখনই সে ঠিক করেছিল, আচমকা একদিন তিয়াসের বাড়ি গিয়ে দেখবে সে যা ভাবছে সেটা সত্যি কি না।

কিন্তু প্রথম দিনই অযাচিত ভাবে কোনও মেয়ের পক্ষে তো হুট করে তার প্রেমিকের বাড়ি যাওয়া ঠিক নয়। বাইরের লোকের কথা না হয় বাদই দিলাম, ওর বাড়ির লোকেরা কী ভাববে! তাই খুব ছোটোবেলাকার বন্ধু রঞ্জনাকে সব কথা খুলে বলেছিল সে।

রঞ্জনা বলেছিল— সে নয় যাওয়া যাবে। কিন্তু তুই যে বলছিস, ও যখন বাড়ি থাকবে না তখন যাবি। তুই বুঝবি কী করে ও কখন বাড়ি নেই?

তিন্নি বলেছিল— ও বাড়ি ঢুকলেই মোবাইল অফ করে দেয়। আর যতক্ষণ না বাড়ির বাইরে বেরোয়, ততক্ষণ অফই থাকে। ফলে ফোন করে যখন দেখব ওর মোবাইল অন, তখন ও কোথায় আছে জেনে নেব। ওর বাড়ি তো বেশি দূরে নয়। যদি দেখি এক দেড় ঘণ্টার মধ্যে ওর বাড়ি ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই, তখন যাব।

—ও যদি মিথ্যে কথা বলে? কাছাকাছি থেকেও যদি বলে দূরে আছি?

—না না, অতটা মিথ্যে বলবে কি! ও জানবে কী করে যে, ওর বাড়ি যাওয়ার জন্য আমি এটা জানতে চাইছি। তা ছাড়া যে যাই বলুক না কেন, ও কিন্তু অতটা খারাপ না। আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে। এই তো ক’দিন আগে আমার জ্বর হয়েছিল দেখে উপোস করে দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসেছিল, যাতে আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠি। আর ওর যদি খারাপ মতলবই থাকত, তা হলে সে দিন এমন সুবর্ণসুযোগ পেয়েও আমাকে ছেড়ে দিত না। এরই মধ্যে কবে যেন আমরা কোথায় একটা যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি সামনেই, কোনও বাড়িতে বোধহয় কোনও অনুষ্ঠান ছিল— রাস্তার পাশেই গাদাগুচ্ছের কী সব এঁটো পাতা-টাতা ফেলেছে। কতকগুলো কুকুর সেখানে তাড়াকাড়ি করে খাচ্ছে। তুই তো জানিস, ছোটোবেলায় আমাকে একবার কুকুরে কামড়েছিল। চোদ্দোটা ইনজেকশন নিতে হয়েছিল। তার পর থেকে কুকুর দেখলেই আমি একশো হাত দূরে থাকি।

আমাকে থমকে যেতে দেখে ও বলেছিল— কোনও ভয় নেই আমি তো আছি। চলো। বলেই, আমাকে অন্য পাশে নিয়ে যে-দিকে কুকুর, সে দিকে চলে গিয়েছিল ও। আমরা কুকুরগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম। কুকুরগুলো তাকালও। কিন্তু কিচ্ছু করল না। তেড়ে আসা তো দূরের কথা, একটা ঘেউ ঘেউ পর্যন্ত করল না। জায়গাটা পেরিয়ে যাওয়ার পর ও বলল, দেখলে তো, তুমি যদি কিছু না করো ওরাও তোমাকে কিছু করবে না।

আমি বলেছিলাম—না বাবা, কুকুরকে আমি বিশ্বাস করি না। ওই একবারেই আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। আর যেখানেই যাই, সেখানে কুকুর আছে জানলে আমি কিছুতেই যাব না। ও বলেছিল, আমার সঙ্গে থাকলে তোমাকে কখনও কোনও কুকুর কামড়াবে না। বলেই, হো হো করে হেসে উঠেছিল।

—তাতে কী হল? রঞ্জনা জিজ্ঞেস করতেই তিন্নি বলল, ‘সেটাই তো বলছি। তার পর থেকে আমাকে নিয়ে বেরোলে, রাস্তায় কোথাও কোনও কুকুর থাকলে, আমি দেখতে না পেলেও— ও কিন্তু দূর থেকেই ঠিক দেখতে পেত এবং বুঝতে পারতাম, আমি যাতে ভয় না পাই সে জন্য ও আমাকে আগলে নিয়ে যাচ্ছে। আর সত্যি কথা বলতে কী, কুকুরে আমার যে এত ভয় ছিল, সেটা কিন্তু আস্তে আস্তে ও-ই অনেকটা দূর করে দিয়েছে। যে আমার এত কেয়ার নেয়, সে কি এত ছোটোখাটো ব্যাপারে আমাকে মিথ্যে বলবে! আমার মনে হয় না।’

—সেটা দ্যাখ। তুই যেটা ভালো বুঝবি। ও নেই দেখে হয়তো গেলি। তার পর গিয়ে দেখলি, ও বাড়িতে, তখন!

—তখন না-হয় যা হোক কিছু একটা বানিয়ে বলব। কিন্তু সত্যিটা তো জানতে পারব। প্রত্যেক দিন তো আর মনের মধ্যে সন্দেহ নিয়ে দগ্ধে দগ্ধে মরতে হবে না। আর আমি যেটা আঁচ করছি, সেটা যদি সত্যি হয়, তা হলে তো হয়েই গেল। এই সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখার কোনও মানেই হয় না। তাই না?

—একদম। একদম ঠিক বলেছিস। অন্যমনস্ক ভাবে রঞ্জনা কথাটা বললেও, সে দিন থেকেই তক্কে তক্কে ছিল তিন্নি। আজ সকালেই যখন ফোন করে জানতে পেরেছে, তিয়াস এইমাত্র বেরোল, ফিরতে একটু দেরি হবে— তখনই ঠিক করে ফেলল, আর এক মুহূর্ত দেরি নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওর বাড়ি যেতে হবে। সেই মতো সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে রঞ্জনাকেও বলে দিয়েছিল, রেডি হয়ে পাড়ার মোড়ে চলে আসতে।

তাও বেরোতে বেরোতে সাড়ে দশটা বেজে গেল। মাথার উপরে বৈশাখ মাসের খাঁ খাঁ রোদ্দুর। তেমনই গরম। চার রাস্তার মাথায় এসে একটা অটোয় উঠে পড়ল ওরা। দশ মিনিটের পথও নয়। অটোটা যত তিয়াসের বাড়ির কাছাকাছি আসতে লাগল, তিন্নি ততই ঈশ্বরকে মনে মনে ডাকতে লাগল— ‘হে ঈশ্বর, আমি যেটা সন্দেহ করছি, সেটা যেন সত্যি না হয়— সত্যি না হয়, সত্যি না হয়…

(ক্রমশ…)

শিশুদের মানসিক রোগ ও সচেতনতা

অনেকসময় শৈশবেই বহু শিশুর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ভীষণ বিচলিত এবং ভীত হয়ে পড়েন। তবে এক্ষেত্রে ভয় না পেয়ে, বাচ্চার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। কেন না মানসিক সমস্যা অনেক সময় শারীরিক সমস্যার চেয়েও মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়।

প্রয়োজন হয় সঠিক চিকিৎসার। প্রথম থেকেই যদি সঠিক চিকিৎসা হয় তাহলে বাচ্চারা সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। শিশুদের মানসিক রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে রাখার প্রয়োজন সকলেরই।

  • শিশুদের খারাপ আচরণ মানেই কি মানসিক সমস্যা?
  • শিশুদের মধ্যে কেন মানসিক সমস্যা দেখা দেয় ?
  • শিশুদের মানসিক রোগ ও লক্ষণ সমূহ।
  • শিশুদের কী কী ধরনের মানসিক সমস্যা হতে পারে?

* অটিজম

* ডিসলেক্সিয়া

* শর্ট টার্ম মেমরি লস

* ক্লেপটোম্যানিয়া

* এডিএইচডি

* কনডাক্ট ডিসঅর্ডার

* অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিসঅর্ডার

  • এইসব সমস্যার সম্মুখীন হলে করণীয় কী?

শিশুদের খারাপ আচরণ মানেই কি মানসিক সমস্যা ?

অনেক সময় শিশুরা খুব দুষ্টু আর চঞ্চল প্রকৃতির হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে অনেক সময় তারা খারাপ আচরণ করে ফেলে। আর এই বিরূপ আচার-আচরণ মানেই কিন্তু মানসিক সমস্যা নয়। সাধারণত অভিভাবকদের পজেটিভ পেরেন্টিং এই ক্ষেত্রে অনেক ভালো কাজ করে। তবে অবশ্যই নিজের সন্তানের দিকে অধিক মনোযোগ দিতে হবে এবং সে কেন এই ধরনের আচরণ করছে সেটা বুঝে, তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু বাচ্চা যদি অতিরিক্ত জেদি, একগুঁয়ে ও অবাধ্য আচরণ করে এবং তা অভিভাবকের পক্ষে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ে, তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

শিশুদের মধ্যে কেন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়?

সাধারণত অনেক কারণে বাচ্চাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে জেনেটিক, বিরূপ পরিবেশ, কোনও শারীরিক রোগ, বড়ো কোনও দুর্ঘটনা বা ভুল পেরেন্টিং ইত্যাদির কারণে শিশুদের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সন্তানের মধ্যে যদি কোনও অস্বাভাবিক আচার-আচরণ কেউ দেখেন, তবে দেরি না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া দরকার।

শিশুদের মানসিক রোগ ও লক্ষণ

বেশিরভাগ ছোটো বাচ্চাই চঞ্চল প্রকৃতির হয় এবং বিভিন্ন ধরনের আচার আচরণ করে থাকে৷ সেক্ষেত্রে সবসময় যে, কোনও সমস্যা বা অসুস্থতার কারণে এমনটা করে তা কিন্তু নয়। তবে আপনার সন্তান যদি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছে দেখেন, তাহলে তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই প্রসঙ্গে সাইকোলজিস্ট-দের মত হল, অনেক সময় শিশুদের আচরণে সমস্যা তৈরি হয়। তখন সে রেগে যায়, ভাঙচুর করে, বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এছাড়াও সে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে পারে না, পড়াশোনায় আগ্রহ থাকে না, ঠিকমতো ঘুম ও খাওয়াদাওয়া করে না। এসব লক্ষণ দেখা গেলে বাচ্চার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

  • শিশু সমবয়সি বাচ্চাদের থেকে আলাদা এবং অস্বাভাবিক আচরণ করে থাকে।
  • সবকিছুতে অতিরিক্ত চঞ্চলতা, রাগ, জেদ এবং অবাধ্য আচরণ করে।
  • অনেকসময় অতিরিক্ত রেগে গিয়ে নিজেকে কিংবা অন্যকে আঘাত করে বসে।
  • বাচ্চা সারাক্ষণ বিষণ্ণতা বা অবসাদে ভোগে৷
  • অন্যের প্রতি প্রতিশোধমূলক এবং উগ্র আচরণ করে থাকে।
  • শিশু ঘন ঘন মাথা ঝাঁকায়।
  • অস্থিরতা, ভুলে যাওয়া এবং উদভ্রান্তের মতো ছটফট আচরণ করে।
  • কোনও কিছু নিয়ে অস্থিরতা দেখায় এবং একটানা কাঁদতে থাকে।
  • দৃষ্টিকটু এবং নেতিবাচক আচরণ করে থাকে।
  • বাচ্চা রুটিন অনুযায়ী কাজ করতে পছন্দ করে না।
  • অনেক বেশি আবেগপ্রবণ হয় এবং নিজের আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। শিশু অনেক দেরিতে কথা বলা শেখে এবং বিভিন্ন কাজকর্মে অপটু হয়ে থাকে। অতিরিক্ত দুষ্টুমি এবং বিরক্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
  • বাচ্চার বুদ্ধিমত্তা কম হয় এবং অ্যাবনর্মাল আচরণ করে।
  • অনেক সময় ডাকলে সাড়া দেয় না বরং আত্মমগ্ন অবস্থায় থাকে।
  • অনেক ক্ষেত্রে বাইরের কাউকে কিংবা অন্য কোনও মানুষের উপস্থিতি সহ্য করতে পারে না।

অটিজম

অটিজম বা অটিস্টিক একটি মনোবিকাশগত সমস্যা। এটি একটি নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়বিক সমস্যা। মূলত এই সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বলা হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে তারা কথা বলতে অথবা কিছু বুঝতে, নতুন জিনিস শিখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে চলতে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। এছাড়াও এতে আক্রান্তদের মধ্যে সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিনড্রোম, বধিরতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।

ডিসলেক্সিয়া

সাধারণত ডিসলেক্সিয়া এক ধরনের লার্নিং ডিসেবিলিটি। এতে বাচ্চাদের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। এতে আক্রান্ত শিশুদের পর্যাপ্ত বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও তারা সেভাবে পড়া মনে রাখতে পারে না। এই রোগে আক্রান্ত হলে তারা বিশেষ কিছু অক্ষর, শব্দ ইত্যাদি মনে রাখতে বেশ সমস্যায় পড়ে যায়। আবার অনেক সময় ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত বাচ্চাদের মধ্যে স্মৃতিভ্রমও দেখা দিতে পারে।

শর্ট টার্ম মেমরি লস

মানুষের ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে বলে শর্ট টার্ম মেমরি লস বা স্মৃতিভ্রম। অনেকসময় শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্রেইন টিউমার, মাথায় আঘাত পাওয়া, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া ইত্যাদি কারণেও এই ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্লেপটোম্যানিয়া

সাধারণত ক্লেপটোম্যানিয়ায় মানুষ চুরি করে। অনেক সময় শিশু-কিশোররা এই মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মূলত এতে আক্রান্তরা কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই চুরি করে থাকে। এতে রোগী চুরি করতে না পারা পর্যন্ত অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। চুরি করতে পারলে আত্মতুষ্টি পায়। গবেষকদের মতে, মানুষের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক রাসায়নিক পদার্থের তারতম্য হওয়ার কারণে এই সমস্যা হতে পারে।

এডিএইচডি

এই এডিএইচডি বাচ্চাদের এক ধরনের আচরণগত সমস্যা। এতে আক্রান্ত শিশুরা অনেক ধরনের সমস্যায় ভুগে থাকে। আর তারা কোনও কাজই পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে করতে পারে না। সেক্ষেত্রে তাদের মাঝে ভীষণ অস্থিরতা এবং কাজকর্ম অসম্পূর্ণ করে রাখার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও এই সমস্যার ফলে শিশুদের মধ্যে সাময়িক স্মৃতিভ্রম বা শর্ট টার্ম মেমরি লস দেখা দিতে পারে।

কনডাক্ট ডিসঅর্ডার

কনডাক্ট ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে শিশু কিংবা কিশোর-কিশোরীর চরিত্রে অতিরিক্ত আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ক্রমাগত বাড়তে থাকা বাচ্চার দুরন্ত স্বভাব অথবা অবাধ্যতাকে কনডাক্ট ডিসঅর্ডার বলে ধরা হয়। মূলত এটি কৈশোরের একটি মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচিত।

অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিসঅর্ডার

শিশুদের মধ্যে ব্যাঘাতমূলক আচরণগত রোগ হল অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিসঅর্ডার। এটি আচার আচরণ এবং আবেগের আত্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সমস্যা তৈরি করে। এতে বাচ্চারা আক্রমণাত্মক এবং অসহযোগী মনোভাব প্রদর্শন করে। এটির কারণে তাদের বিকাশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এই সব সমস্যার সম্মুখীন হলে করণীয় কী?

সন্তানের মধ্যে এই সব মানসিক রোগ দেখা দিলে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধরতে হবে। বর্তমানে শিশুদের মানসিক সমস্যার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। আধুনিক এবং কার্যকরী চিকিৎসার মাধ্যমে বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক এবং সুন্দর জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে। সাইকায়াট্রিক ডাক্তার কিংবা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা বাচ্চার রোগ নির্ণয় করে যথাযথ আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন।

মানসিক সমস্যা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, মানসিক রোগ মানেই পাগল নয়। যে-কোনও বয়সেই যে-কেউ মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সন্তানের মধ্যে মানসিক সমস্যা দেখা দিলে, বিচলিত না হয়ে এবং কুসংস্কারের ফাঁদে না পড়ে, তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব