সাতকাহনিয়া গ্রামে (পর্ব-০১)

হাওড়া স্টেশন থেকে রামপুরহাট স্পেশাল ধরে সন্ধ্যা ৬.৩৫ মিনিট নাগাদ বর্ধমান পৌঁছোলাম। প্লাটফর্ম থেকে বাইরে এসে গাড়িতে চড়ে আমরা গেলাম কানাইনাটশাল-এ অবস্থিত সেচ ও জলপথ বিভাগের পরিদর্শন ভবন।

পরের দিন সকালে আমরা গাড়িতে চেপে সাতকাহনিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। বড়ো রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে ডান দিকে বাঁক নিলাম। এবার ইডেন ক্যানাল ব্রিজ পার হয়ে ধীরে ধীরে দামোদর নদের কাছে চলে এলাম। আমরা একে একে নেমে এলাম দামোদরের তীরে। মেয়েরা পায়ের পাতা ভিজিয়ে নিল নদের জলে।

এনএইচ-২ হাইওয়ে ধরে গলসি পৌঁছোলাম সকাল সাড়ে ৯টায়। আরও কিছুদূর এগিয়ে গাড়ি পানাগড়ের দিকে বাঁক নিল। দীর্ঘ বনাঞ্চল পার হয়ে গাড়ি বনকাটি পেরিয়ে ১১ মাইলের মোড়ে এসে পৌঁছোল। এখান থেকে গাড়ি বাঁ দিকে ঘুরে গেল। ৩ কিমি দূরে বাংলো। সরু, অসমান রাস্তা। পথের দু’পাশে গ্রাম বাংলার ছবি। আমাদের গাড়ি সাতকাহনিয়া বাংলোর ছায়ামাখা চত্বরে এসে দাঁড়াল।

প্রথম দর্শনেই ভালো লেগে গেল বড়ো বড়ো গাছপালায় ঘেরা বাংলোর চৌহদ্দিটাকে। টিনের ছাদ, আটচালা প্যাটার্নে সবুজ রং। সামনের দেয়ালে দুটি রং— – নীচের দিকটা ঘন খয়েরি যেখানে মাটি থেকে উঠে আসা শ্বেত মার্বেলের সিঁড়ি শেষ হয়েছে, তার ওপরের অংশে হাল্কা ক্রিম রং। প্রশস্থ ডাইনিং রুম যার বাম ও ডান পাশে দুটি বড়ো সুসজ্জিত বেডরুম। ডাইনিং রুম-এর পিছন দিকেও একইরকম বারান্দা।

একতলা বিরাট বাংলোটির নাম কেন ‘সাতকাহনিয়া’ তা জানতে পারলাম ম্যানেজারের কাছ থেকে। তিনি জানালেন, ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই বাংলো কম করেও দু’শো বছরের পুরোনো। বাংলোর খড়ের আটচালা ছাদ তৈরি করতে ‘সাত কাহন’ (৭ কাহন মানে ৭ × ৮০ আঁটি = ৫৬০ আঁটি) খড় লেগেছিল। সেই কারণে বাংলোর নাম হয়েছিল ‘সাতকাহনিয়া’। খুব সম্ভবত সেই সময়ে গ্রামের একমাত্র উল্লেখযোগ্য বসতবাড়ি ছিল এই বাংলো, তাই সেই বাংলোর নাম থেকেই গ্রামের নাম হয় সাতকাহনিয়া।

গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অজয় নদ। কাঁচা মাটির রাস্তায় মিনিট ৬-৭ হেঁটে আমরা শীর্ণ নদের দেখা পেলাম। পথের পাশে তাল ও বাঁশ গাছের আধিক্য। চোখে পড়ে তেঁতুল, কলা ও নারকেল গাছ। ফসল কেটে নেওয়া জমিতে রুক্ষতার প্রকাশ। মাটির তৈরি বাড়িগুলোয় খড় অথবা টিনের চাল।

অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে পাঠকদের জানিয়ে দিই আমরা ঠিক কোথায় বেড়াতে এসেছি। সাতকাহনিয়া গ্রামের অবস্থান বর্ধমান জেলার অন্তর্গত কাঁকসা সাব-ডিভিশনে। প্রকৃতপক্ষে গ্রামটি উপজেলা সদর কাঁকসা থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত। গ্রামের ভৌগোলিক আয়তন ২০৮.০১ হেক্টর। অজয় নদ বয়ে গিয়েছে গ্রামের পাশ দিয়ে। গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম বনকাটি। গ্রামের নিকটতম শহর দুর্গাপুর, যা ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত।

বাংলোর বাগান থেকে সকালের ঠান্ডা হাওয়া আসছে। দূরে কোথাও পাখি ডাকছে। বাগানে মরশুমি ফুলের শোভা। ভারি ভালো থাকে মন এই সময়। কিছুক্ষণ পরেই মন্দির-জঙ্গল ভ্রমণে বেরোলাম। প্রথম গন্তব্য ১২ কিমি দূরে শ্যামারূপা মন্দির।

গাড়ি গ্রাম পেরিয়ে পাকা রাস্তা ধরে চলে এল অযোধ্যা হাটতলায়। ছোটো জায়গা কিন্তু বেশ জমজমাট বাজার- দোকান নিয়ে। দু’পাশে ধানের সবুজ খেত। পর পর ইউক্যালিপটাস আর আম গাছ। বনকাটি পেরিয়ে গেলাম। এবার দু’পাশে শালের জঙ্গল। কয়েক মিনিট পরেই গাড়ি এসে থামল ইছাই ঘোষ নির্মিত এক সুউচ্চ দেউলের সামনে। জায়গাটির নাম গৌরাঙ্গপুর।

দেউলের ঠিক উলটো দিকে রাস্তার অন্য পাড়ে একটি ছোটো কালী মন্দির। দেউলের সংরক্ষিত জায়গায় ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ-এর একটি বিজ্ঞপ্তিতে ওই স্মারকস্তম্ভ (দেউল)-টিকে প্রাচীন স্মারক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থল এবং অবশেষ আইন, ১৯৫৮ তথা সংশোধিত ও অনুমোদিত আইন, ২০১০ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মহত্ত্বপূর্ণ স্মারক হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

লেখা আছে, কেউ যদি এই স্মারকের কোনও রকম ধ্বংসসাধন, অপসারণ, ক্ষতি, পরিবর্তন, বিকৃতি বা বিপন্ন সাধন করে— তবে উপরোক্ত আইন অনুসারে তার ২ বছর কারাবাস বা এক লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা একই সঙ্গে সে উভয়দন্ডে দণ্ডিত হতে পারে। এখান থেকে গাড়ি একটু এগিয়ে ডানদিকে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করল।

(ক্রমশ…)

অষ্টমীর নন্দিনী (পর্ব-০১)

শ্রীরামপুর বটতলার কাছে আসতেই সপ্তর্ষির মোটরবাইকটা থেমে গেল লাল সিগন্যাল দেখে। সামনে প্রচণ্ড জ্যাম। বাস, সাইকেল, গাড়ি লোকের চিৎকারে কানপাতা দায়। সকলেরই রয়েছে কাজের তাড়া। এরই মধ্যে বুকপকেটের মোবাইলে বেজে উঠল সপ্তর্ষির প্রিয় গান, ‘তুম কো পায়া হ্যায় তো জ্যায়সে খোয়া হুঁ, কহনা চাই ভি তো তুমসে কেয়া কহুঁ…’ সুইচ অন করতেই ওপারের রিংটোনটা বলে উঠল, “তোর রোমিকে দেখলাম মল্লিকপাড়ার পুজো প্যান্ডেলে দীপাংশুর হাত ধরে ঘুরছে।’

—তাতে আমার কী?’ সপ্তর্ষির গলাটা একটু চড়া সুরে বাজল।

প্রায় সাত মাস হল সামান্য কারণে রোমির সঙ্গে তার প্রেম চটকে গিয়েছে। গত বছর পুজোয় রোমি সপ্তর্ষির কাছে টিউনিক ও হারেম প্যান্ট আবদার করেছিল। দাম এমন কিছু নয়, মাত্র হাজার টাকা। দামটা ফ্যাক্টর নয়। রোমির যা চেহারা, তাতে ওই পোশাক পরলে বেখাপ্পা লাগবে ওকে। কিন্তু রোমি মানতে চায়নি। তার ধারণা সে যা পরবে, তাতেই তাকে বিউটি কুইনের মতো লাগবে। সপ্তর্ষিকে বাজিয়ে নিতে চেয়েছিল রোমি, তার পিছনে তার প্রেমিকের খরচ করার ক্ষমতা কতটা আছে। যে-ছেলে বিয়ের আগে রোমির পছন্দের জামা কিনতে গিয়ে পিছিয়ে আসে, বিয়ের পরে তার হাতটান তো হবেই। সে কারণে রোমি সপ্তর্ষিকে ছেড়ে, ব্যাংক ম্যানেজারের ছেলে দীপাংশুর দিকে ঝুঁকেছে। সামান্য স্কুল মাস্টারের ছেলে সপ্তর্ষি তার কাছে নগণ্য। রোমির মতো আলট্রা মডার্ন মেয়ের কাছে টাকাই বড়ো, প্রেম-ট্রেম সব ফালতু।

ভগবান যা করেন, সব মঙ্গলের জন্যই করেন। রোমি সপ্তর্ষির জীবন থেকে সরে গিয়ে ভালোই হয়েছে। এখন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজটা মন দিয়ে করতে পারছে সে। রোমির সঙ্গে সম্পর্ক ঢুকে যাওয়ার পর কম্পিউটার মেশিন রিপেয়ারিং করার কাজও হাতে আসছে। আগে তাকে দিয়ে কম্পিউটার মেশিন সারাতে কেউ ভরসা পেত না। আর এখন এক বিখ্যাত সরকারি ব্যাংকের ম্যানেজার তাকে ফোন করছে হামেশাই।

রোমি দত্তর কথা সে ভুলেই গিয়েছিল। খামোখা তার বন্ধু রিজার্ভ ব্যাংকের হেড ক্লার্ক বরুণ, মোবাইলে ফোন করে খুঁচিয়ে ঘা করল। অকারণে ক্ষতবিক্ষত হল তার কথা শুনে, ‘বন্ধু হিসেবে রোমির খবরটা তোকে জানানো উচিত বলে মনে করি। যাই হোক রাগ করিস না। আজ অঞ্জননগরের পুজো প্যান্ডেলে বিকেলে আসছিস তো? জমিয়ে আড্ডা মারা যাবে। তোর জন্য একটা রাশিয়ান ভদকা রেখেছি। শালা খেলেই বিগ বস হয়ে যাবি!”

সপ্তর্ষি কোনও উত্তর না দিয়ে, গ্রিন সিগন্যাল দেখে ফোনের লাইনটা কেটে ইঞ্জিনে স্টার্ট দিল। দে স্ট্রিটে ঢুকতেই রাস্তার ডানদিকে চোখে পড়ল ঝাঁ চকচকে শপিং মল।

পুজোর অষ্টমীর দিন কেনাকাটা করতে মোটেও ভালো লাগে না। কিন্তু অনেক দিন পর তার মাসতুতো দিদি ফুলদি আর জামাইবাবু বালিগঞ্জ থেকে বেড়াতে এসেছে। পুজোর ক’টা দিন এখানেই থাকবে। ছোটোবেলায় সপ্তর্ষি কলকাতায় বাগবাজারের রাজবল্লভ পাড়ার মাসিমার বাড়ি গেলে, মনে হতো যেন সে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে চলে এসেছে।

সকাল থেকেই চিলড্রেনস পার্কে গিয়ে স্লিপ খাওয়া, তারপর বঙ্কার দোকানের গরম কচুরি— সত্যি সে সব ভোলার নয়। সবচেয়ে ভালো লাগত ফুলদির স্নেহমাখা হাতের স্পর্শ আর দুপুরবেলায় ওর ঘুমপাড়ানি গান, ‘মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই…’ বিয়ের পর ফুলদি শ্বশুরবাড়ি চলে যাওয়ার পর, সপ্তর্ষি মাসিমার বাড়ি যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। ফুলদি শুধু তার মাসতুতো দিদিই নয়, বন্ধুও। তাকে কোনও কথা না বলে সে থাকতে পারে না। এমনকী রোমির সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারটাও ফুলদিকে এসএমএস করে জানিয়েছে সে।

ফুলদিও তাকে এসএমএস করে জানিয়েছিল, ‘প্রথম প্রেম ভেঙে যাওয়া ভালো, তার ফলে শিক্ষা লাভ হয়। দেখবি তোর দ্বিতীয় প্রেমটা খুব সুখের হবে। তার কথা সপ্তর্ষিকে চলার পথে প্রেরণা দিয়েছে। বালিগঞ্জ থেকে ফুলদি আসায় সপ্তর্ষির বুকে অষ্টমীর ঢ্যাংকুড়কুড় বাজনাটা সুখের হয়ে উঠেছে এবং ভুলতে পেরেছে রোমিকে হারানোর দুঃখটা। ফুলদির জন্যই তার এই শপিং মলে আসা। তার হাতের রান্না পোলাও যেন অমৃত। বাদশাহি পোলাও রান্না করতে যা যা প্রয়োজন, সে সব ফুলদি লিস্ট করে দিয়েছে।

বাইক থেকে নেমে সপ্তর্ষি শপিং মলের সামনে আসতেই নীল ইউনিফর্ম পরা একজন কর্মচারী ঝাঁ চকচকে কাচের দরজা খুলে দিয়ে স্বাগত জানাল। তার হাতে কোনও ভারী ব্যাগ নেই। থাকলে এখানকার নিয়ম অনুযায়ী কর্মচারীটির কাছে ব্যাগ জমা দিয়ে নম্বর লাগানো প্ল্যাস্টিকের টোকেন নিতে হতো।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সাদা ধবধবে পাথরের মেঝেতে পা রাখতেই বোঝা গেল চারদিকে কোনও কোলাহল নেই। সকলেই কেমন নিঃশব্দে র‍্যাক থেকে পছন্দমতো প্যাকিং করা জিনিস নিয়ে হ্যান্ডট্রলিতে রাখছে এবং ইচ্ছেমতো এগিয়ে যাচ্ছে অন্য র‍্যাকের দিকে। এত বড়ো একটা হলঘরের মধ্যে র‍্যাকে ঠাসা মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় হরেকরকম জিনিস দেখে সপ্তর্ষির ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোরের গুপ্তধনের কথা’ মনে হল। ভেজিটেরিয়ান র‍্যাক থেকে এক লিটারের ঘিয়ের হলুদ বাক্সটা হাতে নিতেই দুর্লভ সুগন্ধ ভেসে এল নাকে। ঘিয়ের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে কাজু-কিশমিশের দিকে পা বাড়াতেই সপ্তর্ষির কানের কাছে ভেসে এল মেয়েলি গলায় মিষ্টি কন্ঠস্বর, ‘আপনার গগল্সটা মাটিতে পড়েছিল।’

(ক্রমশ…)

তারকাদের বিয়ের সাজ-পোশাক: মৌনি রায়

সবার নজর কাড়তে এবং বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপনার পোশাক এবং মেক-আপ হোক চিত্রতারকাদের মতো। আপনাকে সাহায্য করতে তুলে ধরা হচ্ছে বলিউড সেলেবদের ওয়েডিং লুকস-এর খুঁটিনাটি।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই অন্যতম পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয় শাড়ি এবং লেহেঙ্গা চোলি। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই পোশাক পরলে আপনি যেমন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবেন, ঠিক তেমনই ভিন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি আপনার সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়ও বহন করবে। তবে ভারতীয় নারীরা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়িকেই রাখেন প্রথম পছন্দের তালিকায়। আর উপলক্ষ্য যদি বিয়ে হয়, তাহলে তো কথা-ই নেই— শাড়ি মাস্ট। অবশ্য যে-সব যুবতিদের বিবাহ আসন্ন তারা তাদের পোশাক নিয়ে কিংবা ব্রাইডাল লুকস নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের গাইড করতে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে চলচ্চিত্র তারকা মৌনি রায়-এর বিয়ের সাজ-পোশাক বা ওয়েডিং লুকস।

মৌনি রায়

ব্যবসায়ী সুরজ নাম্বিয়ার-এর সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর প্রেম করার পর, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে অভিনেত্রী মৌনি রায় বিয়ে করেন সুরজকে। এই বিয়ের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল গোয়ার পাঞ্জালিতে। প্রথমে বাঙালি ঐতিহ্য এবং রীতি অনুযায়ী বিয়ে হলেও, পরে মালয়ালি রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে হয় তাঁদের।

বিয়ের দিন মৌনির গায়ে ছিল লাল রঙের লেহেঙ্গা। আর ওই লাল রং-এর লেহেঙ্গাতে দারুণ দেখতে লাগছিল মৌনি-কে। তাঁর ব্রাইডাল লুক খুবই গ্ল্যামারাস ছিল। লাল রং-এর লেহেঙ্গার সঙ্গে মানানসই ওড়না ব্যবহার করেছিলেন মৌনি।

মেহেন্দি-র রসম অনুষ্ঠানে মৌনি রায় পরেছিলেন হলুদ রং-এর লেহেঙ্গা এবং সেই লেহেঙ্গায় ছিল গোল্ডেন জরির কাজ। তাঁর মাথায় ছিল দামী রত্নে সমৃদ্ধ সিঁথিহার বা টিকলি। এর সঙ্গে ম্যাচ করে পরেছিলেন কানের দুল, যা ছিল একই ভাবে সোনা এবং দামি রত্নে তৈরি। গায়ে হলুদের দিনে মৌনি রায় পরেছিলেন উজ্জ্বল সোনালি রং-এর লেহেঙ্গা এবং সেইসঙ্গে শোভিত হয়েছিলেন টাটকা ফুলের মানানসই গয়নায়।

যখন বাঙালি রীতিনীতি অনুযায়ী মৌনির বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল, তখন তিনি পরেছিলেন, সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়-এর ডিজাইন করা লাল লেহেঙ্গা। এককথায়, মৌনির ব্রাইডাল লুক ছিল আকর্ষণীয় এবং সবাই খুব প্রশংসা করেছিলেন। মৌনির ব্রাইডাল দোপট্টায় লেখা ছিল— আয়ুস্মৃতি ভবঃ। শুধু লেহেঙ্গার দামই ছিল কয়েক লক্ষ টাকা।

মৌনির বিয়ের গয়না ছিল ট্র্যাডিশনাল। তাঁর ব্রাইডাল জুয়েলারির প্রধান উপকরণ ছিল গোল্ড এবং আনকাট ডায়মন্ড। তাঁর ব্যবহৃৎ প্রতিটি সোনার অলংকারে ছিল গ্রিন কালার-এর ডায়মন্ড। নাকে সরু এবং হালকা গোল্ডেন নথ-এর সঙ্গে ছিল গোল্ডেন মাথাপট্টি। তবে মৌনির লেহেঙ্গা লাল রং-এর হলেও, সুরজ নাম্বিয়ার এর পরনে ছিল গোল্ডেন কালার এর শেরওয়ানি।

অবশ্য মালয়ালি রীতি অনুযায়ী গোয়া-য় আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে মৌনি পরেছিলেন সাদা রং-এর লেহেঙ্গা এবং ওই লেহেঙ্গার বর্ডার ছিল লাল রং-এর। ওইদিনও তিনি বিয়ের আকর্ষণীয় সাদা পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়নায় নিজেকে প্রেজেন্ট করেছেন।

নাইজেল আক্কারা-র নির্দেশনায় রবীন্দ্রসদনে মঞ্চস্থ হল ‘শিলার জিন্নাত’ নাটকটি

রবীন্দ্রসদন প্রেক্ষাগৃহে ‘শিলার জিন্নাত’ নাটকটি মঞ্চস্থ হল সম্প্রতি। বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাইজেল আক্কারা নির্দেশিত এই নাটকটি প্রযোজনা করেছে ‘কোলাহাল থিয়েটার ওয়ার্কশপ’। এই নাট্যসংস্থার এটি অষ্টম প্রযোজনা বলে জানিয়েছেন নাট্য-সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট নাইজেল আক্কারা স্বয়ং। নাটকটি মঞ্চস্থ হওয়ার পরে, ‘শিলার জিন্নাত’ নাট্যপুস্তকটির  মোড়ক উন্মোচনও করা হয়। আনুষ্ঠানিক ভাবে মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট কবি সুবোধ সরকার। এছাড়া আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। এ দিন সন্ধ্যায় ‘উড়ুক্কু মানুষ’ নামের আরও একটি ছোটো নাটকও মঞ্চস্থ হয় ‘কোলাহল থিয়েটার ওয়ার্কশপ’-এর প্রযোজনায়।

‘শিলার জিন্নাত’-এর মূল থিম হল (সংস্কৃতে) ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। যার অর্থ হল–পৃথিবী একটি পরিবার। ‘শিলার জিন্নাত’ নাটকটি ইসমাইলকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে, যিনি একজন মৃৎশিল্পী। তার কাছে জীবনের থেকে বেশি প্রাধান্য পায় তার শিল্প। বড়ো বোন আসমা এবং ভাইঝি মুসকান-কে নিয়ে তার ছোটো পরিবার। পুজোর আগে হঠাৎই ইসমাইলের দুনিয়া ওলট পালট হয়ে যায়, যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি মাটির কোনও মূর্তিকে আকৃতি দিতে অক্ষম। এরপর, পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন জোগানোর রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় হঠাৎই। বিচলিত ইসমাইল এরপর অদ্ভুত কিছু দর্শন করতে শুরু করে, যা তাকে অজানা দুনিয়ায় নিয়ে যায়। কিন্তু সেই ক্ষেত্র কি সত্যিই অজানা নাকি তার অতীতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বহন করে? আর এসবের মধ্যে সুগন্ধা কী ভূমিকা পালন করে?  সুগন্ধা-র পরিচয়ই-বা কী?

‘শিলার জিন্নাত’ আসলে অতীত এবং বর্তমানের মধ্যে এমন এক সংযোগ স্থাপন করে, যা পরাবাস্তব এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিলিত হয়। সেইসঙ্গে, ‘একজন শিল্পীর কোন জাত নেই’ এই সত্যটি তুলে ধরে। ‘শিলার জিন্নাত’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন নাইজেল আক্কারা এবং ‘উড়ুক্কু মানুষ’ পরিচালনা করেছেন তন্ময় ঘোষ।

‘শিলার জিন্নাত’-এর নাট্যরূপ দিয়েছেন সর্বাণী ঘোষ বসু। সংগীত পরিচালনা করেছেন প্রাজনা দত্ত। কোরিওগ্রাফিতে সায়ন্তনী মুখোপাধ্যায়। মঞ্চসজ্জায়  অম্বরিশ দাস। আলোকসজ্জায় সৌমেন চক্রবর্তী। সাউন্ড ডিজাইনে বন্ধন মিশ্র। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন আশিফ ইকবাল, সায়ন্তনী মুখোপাধ্যায়, সর্বাণী ঘোষ বসু, উপাসনা বর, অম্বরিশ দাস এবং সঞ্জু দাস।

‘উড়ুক্কু মানুষ’-এর বিষয় পুনর্বাসন। অটিস্টিক এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নিবেদিত এই নাটক। নাটকটিতে চারজন অটিস্টিক শিশুও অভিনয় করেছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাইজেল আক্কারা জানিয়েছেন, ‘কোলাহাল থিয়েটার ওয়ার্কশপ’-এর লক্ষ্য হল উন্নয়ন। নাট্য-থেরাপি-র মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা দূর করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে এই সংস্থা। ইতিমধ্যেই LGBTQ-দের নিয়ে কাজ করেছে এবং কলকাতার নারী যৌনকর্মী, মাদকাসক্ত ও অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে নানারকম কাজ করে চলেছে ‘কোলাহাল থিয়েটার ওয়ার্কশপ’।

তারকাদের বিয়ের সাজ-পোশাক: ক্যাটরিনা কইফ এবং ভিকি কৌশল

বিয়ের দিনে সবার নজর কাড়তে এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপনার পোশাক এবং মেক-আপ হোক চিত্রতারকাদের মতো। আপনাকে সাহায্য করতে তুলে ধরা হচ্ছে বলিউড সেলেবদের ওয়েডিং লুকস-এর খুঁটিনাটি।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই অন্যতম পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয় শাড়ি এবং লেহেঙ্গা চোলি। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই পোশাক পরলে আপনি যেমন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবেন, ঠিক তেমনই ভিন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি আপনার সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়ও বহন করবে। তবে ভারতীয় নারীরা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়িকেই রাখেন প্রথম পছন্দের তালিকায়। আর উপলক্ষ্য যদি বিয়ে হয়, তাহলে তো কথা-ই নেই— শাড়ি মাস্ট। অবশ্য যে-সব যুবতিদের বিবাহ আসন্ন তারা তাদের পোশাক নিয়ে কিংবা ব্রাইডাল লুকস নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের গাইড করতে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে চলচ্চিত্র তারকা ক্যাটরিনা কইফ এবং ভিকি কৌশলের বিয়ের সাজ-পোশাক বা ওয়েডিং লুকস।

ক্যাটরিনা কইফ

ক্যাটরিনা কইফ এবং ভিকি কৌশলের বিয়েতে ছিল পঞ্জাবি লুক। বিয়ের দিন দু’জনেই স্বাভাবিক ভাবেই হয়ে উঠেছিলেন শো স্টপার। তবে বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছিলেন ক্যাটরিনা। তাই আজও হবু কনেরা অনেকে ক্যাটরিনা-র ব্রাইডাল লুক-কে পছন্দের শীর্ষে রাখছেন। সুন্দর একটি লেহেঙ্গা পরেছিলেন ক্যাটরিনা। তাঁকে একেবারে রাজকন্যার মতো দেখতে লাগছিল।

ক্যাটরিনার লেহেঙ্গায় ছিল সোনার সুতোর কাজ। সেইসঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ এবং ওড়নায় বেশ একটা রয়াল লুক পেয়েছিল তাঁর রূপ। তাঁর লেহেঙ্গা ছিল মটকা সিল্ক-এর এবং টিলা কাজ সমৃদ্ধ জরদৌসি বর্ডার যুক্ত। ঝুমকো কানের দুল এবং রিস্টলেট টাইপ হাতের গহনা পরার জন্য তাঁকে আরও আকর্ষণীয় লাগছিল। ক্যাটরিনা-র ব্রাইডাল মেক-আপ আর্টিস্ট ছিলেন ড্যানিয়েল বাউয়ের (অস্ট্রেলিয়ান)। যিনি আবার আই হাইলাইটার দিয়ে সাজিয়ে তুলতে ভালোবাসেন।

ভারী ওড়না মাথায় নিয়েছিলেন ক্যাটরিনা। ইলেক্ট্রোপ্লেটেড সোনা এবং খাঁটি রুপোয় সমৃদ্ধ ছিল সেই হাতে তৈরি ওড়না। লেটেস্ট ট্রেন্ড অনুযায়ী ক্যাটরিনাও ডাবল দোপাট্টা ক্যারি করেছিলেন দারুণ ভাবে। তাঁর পুরো জুয়েলারি-ই ছিল ২২ ক্যারেট গোল্ড যুক্ত। সঙ্গে ছিল আনকাট ডায়মন্ড-এর কিছু গয়না। ছিল সোনায় মোড়া রাজস্থানি নোলক এবং টিকলি।

সমলৈঙ্গিক দাম্পত্য এবং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

ভারতীয় সমাজে যুগ যুগ ধরে পারম্পরিক বিবাহের সঙ্গে যেসব সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ যুক্ত হয়ে আছে, সেখানে সমলিঙ্গের দুটি মানুষ বিবাহ করবেন এটা রক্ষণশীলরা মেনে নিতেই নারাজ। অথচ পৃথিবীর বহু দেশই এ বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং আইন কানুনেও একই ভাবে তাদের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে।

আমাদের সমস্ত সামাজিক ক্রিয়াকলাপ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বাঁধা। বিবাহ, সন্তানের জন্ম, নামকরণ, পৈতে, হাতেখড়ি থেকে গাড়ি, বাড়ি কেনা— সবই পুজোপাঠ, দক্ষিণা ও ধর্মীয় আচারের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সমকামী বিবাহের ঘটনা যেহেতু হাতে গোনা, তাই পাণ্ডা-পুরোহিতরা এক্ষেত্রে বারবার টাকা রোজগারের উপায় বের করতে পারবেন না। সেই কারণেই তাদের ‘সেম সেক্স ম্যারেজ’-এর এতটা বিরুদ্ধাচরণ।

সমলিঙ্গের মধ্যে বিবাহ হলেও এর কিছু আইনি নিরাপত্তার বা নিশ্চয়তার প্রয়োজন হয়। সাধারণ দম্পতিদের মধ্যে যেমন সম্পত্তি বন্টন বা অন্যান্য বিষয়ে আইনি বলয় কার্যকরী হয়, সমকামীদের বিবাহিত জুটি তা থেকে বঞ্চিত। সাধারণ দম্পতিদের সন্তানরাও সহজেই বাবার পদবী গ্রহণ করতে পারেন এবং দম্পতি যে-কোনও আইনি বিষয়ে পরস্পরের প্রতিনিধিত্বও করতে পারেন।

লিভ ইন সম্পর্কে থাকা দম্পতিদেরও একই সমস্যায় পড়তে হয় সমকামী জুটির মতো। অর্থাৎ স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির আইনি হকদার পরস্পরের ক্ষেত্রে তারা হতে পারেন না। পরস্পরের ‘বন্ধু’ পরিচয়েই সমাজ ও আদালত তাদের স্বীকৃতি দেয় বাস্তবিক ক্ষেত্রে।

স্বামী মারা যাওয়ার পর তাঁর পেনশন বা স্বামীর প্রাপ্য বাড়িভাড়া বিনা ক্লেশেই তাঁর বিধবা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু বহু কনট্র্যাক্ট বা আইনি কাগজে লিগাল এরর হিসাবে সঙ্গীর নাম নথিভুক্ত করতে পারেন না সমকামীরা।

সমাজকে বুঝতে হবে, দু’জন সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে বিবাহ হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না। এটা খুব স্বাভাবিক একটি মানব প্রকৃতির বিষয়। সমলৈঙ্গিক মানুষরা পরস্পরকে ভালোবাসতেই পারেন। চার্চ এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করলেও, বাস্তব থেকে আমাদের মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। জাতিধর্ম নির্বিশেষে দুটি মানুষের মধ্যে প্রকৃতিগত ভাবে যদি সম্পর্ক তৈরি হয়, তা নিয়ে ধর্মের রক্ষণশীল পাণ্ডাদের কিছু বলার থাকতে পারে না। এই যুগলরা যদি আইনি সুরক্ষা বলয় চান, তাতে দোষের কী আছে!

তবে আইনের তো ফস্কা গেরো আছেই। এই সমকামী দম্পতিরা হয়তো আইনি জটিলতা এড়াতে জয়েন্ট নামে সম্পত্তি কিনবেন। উইল করে সম্পত্তির অধিকার দেবেন সঙ্গীকে কিংবা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রয়োগ করবেন। পরিবার যতই এদের থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখুক— এরা পরস্পরের প্রতি যদি সত্যনিষ্ঠ থাকে, তাহলে সম্পর্কের বুনিয়াদ শক্তই হবে।

তারকাদের বিয়ের সাজ-পোশাক: দীপিকা এবং রণবীর সিং

বিয়ের দিনে সবার নজর কাড়তে এবং দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আপনার পোশাক এবং মেক-আপ হোক চিত্রতারকাদের মতো। আপনাকে সাহায্য করতে তুলে ধরা হচ্ছে বলিউড সেলেবদের ওয়েডিং লুকস-এর খুঁটিনাটি।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই অন্যতম পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয় শাড়ি এবং লেহেঙ্গা চোলি। বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এই পোশাক পরলে আপনি যেমন ঐতিহ্য বজায় রাখতে পারবেন, ঠিক তেমনই ভিন রাজ্যের সংস্কৃতির প্রতি আপনার সংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়ও বহন করবে। তবে ভারতীয় নারীরা কোনও বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার জন্য শাড়িকেই রাখেন প্রথম পছন্দের তালিকায়। আর উপলক্ষ্য যদি বিয়ে হয়, তাহলে তো কথা-ই নেই— শাড়ি মাস্ট। অবশ্য যে-সব যুবতিদের বিবাহ আসন্ন তারা তাদের পোশাক নিয়ে কিংবা ব্রাইডাল লুকস নিয়ে কিছুটা চিন্তিত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আপনাদের গাইড করতে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে চলচ্চিত্র তারকা দীপিকা এবং রণবীর সিং-এর বিয়ের সাজ-পোশাক বা ওয়েডিং লুকস।

দীপিকা পাড়ুকোন

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে বিয়ে করেছেন দীপিকা এবং রণবীর সিং। দু’জনেরই ড্রেস-সেন্স যেহেতু ইউনিক, তাই এঁরা বিয়ের দিনে চমক দিয়েছিলেন বিশেষ ভাবে। এঁদের সাজাবার জন্য এক্সপার্টরা থাকলেও, এঁরা সেজেছিলেন নিজেদের মর্জি মাফিক। বিশেষ করে দীপিকার ট্র্যাডিশনাল শাড়িতে নজর আটকে গিয়েছিল সবার। পরনে ছিল কাঞ্জিভরম শাড়ি। তাঁর লুক ছিল ইউনিক অর্থাৎ কোঙ্কনি পরম্পরার। আর এই কোঙ্কনি লুকের জন্য তিনি খাঁটি জরি সুতো দিয়ে বোনা পোড়া কমলা রং-এর ব্রোকেড সিল্ক কাঞ্জিভরম পরেছিলেন গণ্ডবেরুন্ডা মোটিফস-এর সঙ্গে। সেইসঙ্গে তিনি পরেছিলেন সাউথ-এর টেম্পল জুয়েলারি।

গয়নার মধ্যে দীপিকা পরেছিলেন গুট্টাপুশালু নেকলেস, ঝুমকা, কড়ে, চোকার, মাথাপট্টি, প্রভৃতি। আর এইসব অলংকার-সাজ ছিল একেবারেই আলাদা, যা রুপোলি পর্দার কনের সাজের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বলা যায়, এই ব্রাইডাল লুকস ছিল মিক্সড অ্যান্ড ম্যাচ। অর্থাৎ রাজস্থান এবং দক্ষিণ ভারতের পরম্পরার মিশেল। রিসেপশনে তাঁর পরনে ছিল লাল রং-এর লেহেঙ্গা। দীপিকার এই ব্রাইডাল লুক সবার দারুণ পছন্দ হয়েছিল এবং পরনে থাকা স্পেশাল ডিজাইন- -এর লেহেঙ্গা এবং ইউনিক জুয়েলারি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

দীপিকার হোম-টাউন বেঙ্গালুরুতে ছিল বিয়ের আগের প্রথম অনুষ্ঠান (রসম)। এই অনুষ্ঠানে দীপিকা শাড়ি পরেননি। তিনি পরেছিলেন পাকা আমের মতো রং-এর স্যুট। তাঁর এই স্যুট-টি ডিজাইন করেছিলেন বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, দীপিকার বিয়ের আগের অনুষ্ঠানে দীপিকার মা উজ্জ্বলা পাড়ুকোনের পরনেও ছিল দারুণ একটি সিল্ক শাড়ি। দীপিকা-র মায়ের ওই শাড়িটিও সবার বেশ নজর কেড়েছিল।

চোখের পাওয়ার একদম ঠিক আছে অথচ আমি চোখে ঝাপসা দেখছি। এর সমাধান কী ?

চোখে ঝাপসা দেখার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। অনেকে নিয়মিত চশমা পরেন। যদি চশমা ভেঙে যায় তাহলে নতুন চশমা না হওয়া পর্যন্ত চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে স্কুলে ভর্তি করানোর আগে অবশ্যই একবার তাদের চোখ চেক-আপ করিয়ে নেওয়া দরকার। সাধারণত বাবা মায়েরা তা করেন না। কিন্তু স্কুলে ভর্তি করানোর পর দেখা যায় তারা ব্ল্যাক বোর্ডের লেখা দেখতে পারছে না। পাশের সহপাঠীর খাতা দেখে লিখছে অথবা ব্ল্যাক বোর্ডের কাছে গিয়ে লেখাটা দেখে আসছে। তখন বাবা মায়েরা বাধ্য হয়ে বাচ্চাদের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়।

আপনার বয়স ৪০ পেরিয়েছে। এই বয়সে বই পড়তে অনেকের সমস্যা হয়। অনেকে ডাক্তারের কাছে আসেন যারা সুঁচে সুতো ঢোকাতে পারছেন না এমন। আবার অনেকে ম্যাগাজিন পড়তে পারছেন না বা মাছের কাঁটা বাছতে পারছেন না বা মোবাইলে নম্বর দেখতে পারছে না— এই ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁর পরামর্শ মতোই ট্রিটমেন্ট নেওয়া উচিত। চোখে ছানি পড়লেও ঝাপসা দেখতে পারেন। একটা ক্যামেরার সঙ্গে যদি আমরা চোখকে তুলনা করি, ক্যামেরার লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে আপনি যতই চশমা পালটান কোনও লাভ হয় না। তেমনি ছানি পড়লেও দৃষ্টি পরিষ্কার হয় না। অপারেশন করলে তবেই আগের দৃষ্টি ফিরে আসা সম্ভব হয়।

আগে বলা হতো ছানি শক্ত হয়ে গেলে অপারেশন করা ভালো, এখন কিন্তু সেই থিওরি মানা হয় না। এখন ফ্যাকো মাধ্যমে অপারেশন হচ্ছে। ছোট্ট একটা অপারেশন। ছোট্ট একটা ছিদ্র করে ছানিটা গলিয়ে বের করে নিয়ে আসা হয়। তাই যখনই রোগী বুঝবেন, তিনি ঝাপসা দেখছেন বা ভালো দেখছেন না, তখনই ডাক্তারের পরামর্শ মতো অপারেশন করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এটার জন্য এখন অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না।

চোখের রেটিনাতে কোনও সমস্যা থাকলেও চোখে ঝাপসা দেখতে পারেন। এক্ষেত্রে রোগীর মনে হতে পারে তিনি চোখে হঠাৎ করে কম দেখছেন। মনে ভয় ঢুকে যায় যে, আস্তে আস্তে তাঁর চোখের দৃষ্টি কমে আসছে। চোখকে যদি ক্যামেরার সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে ‘রেটিনা’ হচ্ছে ক্যামেরার ফিল্ম, যেটা দিয়ে ছবিটা তৈরি হয়। তাই রেটিনায় সমস্যা থাকলে চোখের অন্য সবকিছু ভালো থাকলেও দৃষ্টি পরিষ্কার থাকে না।

রেটিনার সমস্যার অনেক কারণ থাকতে পারে। ডায়াবেটিস, প্রেসার যাদের থাকে অথবা যাদের চোখে প্রেসার আছে যেটাকে ‘গ্লুকোমা’ বলা হয়, তাহলে রেটিনার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনি ডায়াবেটিস বা চোখের প্রেসার আছে কিনা একবার পরীক্ষা করিয়ে নিন। যদি সেরকম কিছু সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের কথামতো চলুন এবং বছরে অন্তত একবার চেক-আপ করানো একান্ত জরুরি।

মুক্তি পেতে চলেছে শিবাজী দত্ত পরিচালিত ছবি ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’

শিবাজী দত্ত পরিচালিত ছবি ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’-র মুক্তির আগে, সাউথ সিটি মল-এর এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় ছবিটির ট্রেলার এবং মিউজিক লঞ্চ করা হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।

পরিচালক শিবাজী দত্ত অনেকদিন ধরেই এমন একটি বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। প্রসঙ্গত তিনি জানিয়েছেন, ‘যেখানে বাস্তবতা শেষ হয়, সেখান থেকেই কল্পনার আশ্রয় শুরু হয়। এক শিশু যখন তার বাস্তবের বাবা-মাকে নিজের কাছে পায় না, নিজের আপন কোনও বন্ধু যখন তার থাকে না, তখন সে আশ্রয় নেয় এক কাল্পনিক বন্ধুর। ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’-র গল্পে তারই এক বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে।’

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই গল্পের মূল চরিত্র পাঁচজন- প্রবোধচন্দ্র (বয়স আন্দাজ ৭০), তার ছেলে অমিতাভ (৪০), অমিতাভের স্ত্রী হেম (৩৫/৩৭) ও অমিতাভের দুই ছেলে মেঘ আর বিদ্যুৎ। প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ‘ক্ষীরোদাসুন্দরী সুইটস্‌’-এর প্রতিষ্ঠাতা, এখন কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। চরিত্রের মধ্যে একটা আভিজাত্য ও পরিশ্রমের ছাপ রয়েছে। মনে তার অতীতের স্মৃতি (প্রেম ও বিরহ) এখনও দগদগে। দুই নাতির প্রতি বিরাট স্নেহ। তিনি চান তার ছেলে ও বৌমা তার এবং নাতির সঙ্গে সময় কাটাক কিন্তু ছেলে ও বৌমা সে ক্ষেত্রে উদাসীন। বাড়ির এই শোচনীয় অবস্থা দেখে তিনি নিজেই এক আত্মগ্লানিতে ভুগতে থাকেন। তার একসময় সংসারের প্রতি উদাসীনতাই এর বিরাট কারণ। উনি নিজেও বুঝতে পারেন, সারাজীবন মানুষকে অভিনব মিষ্টির স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করাতে গিয়ে, নিজের সংসারের মিষ্টতা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।

প্রবোধবাবুর একমাত্র পুত্র অমিতাভ, বাবার ব্যবসা থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনিই এখন দোকানের দেখাশোনা করেন, কিন্তু সংসারের দেখাশোনা করেন না। বাড়ির লোকেদের প্রতি তার একদম সময় নেই, সম্ভবত তিনি পরিবারের প্রতি সময় দেওয়াকে সময় অপচয় বলে মনে করেন, তার চাইতে বিভিন্ন পার্টি বা সুন্দরী মেয়েদের জন্য সময় ব্যয় করেন। মূলত কোভিড-পরবর্তী সময়ে ব্যাবসা লাভের মুখ দেখার পর পরিবারের প্রতি সময়ের মূল্য আরও কমে গেছে; হয়তো অ্যাপয়েন্টমেন্ট করলে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। স্ত্রীর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হওয়া নিত্যদিনের ব্যাপার। স্ত্রীর প্রতি একসময় যে ভালোবাসা ছিল, সেটাও নিঃশেষ হয়ে গেছে। বাবা ও দুই ছেলের প্রতিও উদাসীন কিন্তু কখনও রাগ হলে আবার অতি সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

অমিতাভর স্ত্রী হেমনলিনী, নাম ব্যবহারের সুবিধার্থে নিজের নাম কেটে ‘হেম’ করে নিয়েছেন। একটা বড়ো কর্পোরেট ফার্মে চাকরি করেন, তাই আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তিনি বেশ গর্বিত। কিন্তু স্বামীর কাছে হাত পাতার সময় সেটা আর মাথায় থাকে না। বরের সঙ্গে ঝগড়া চলে এ নিয়ে। অফিসের বসের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। হেমের বিশ্বাস, পরিশ্রমের তুলনায় তোষামদই পদোন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি। স্বামী সবকিছু জানেন, সে নিয়ে অহেতুক ঝগড়া চলে। শ্বশুর জেনেও কিছু বলতে পারেন না। পরিবারের প্রতি হেমেরও সময় নেই। ছোটো ছেলে বিদ্যুতের প্রতি বেশি স্নেহ তাঁর।

মেঘ, অমিতাভর বড়ো ছেলে, দাদুর যত্নে ও বাবা- মায়ের অবহেলায় নদীতে ভাসা একটা কাগজের নৌকোর মতো জীবন কোনও মতে কাটিয়ে দেওয়া একটা ছেলে। সে চায় সে তার বাবা-মাকে যেন তার কাছে পায়, বাবা-মা যেন তার সঙ্গে সময় কাটায়। কিন্তু ছেলের জন্মদিনে উপহার হিসেবে ছেলের হাতে আই-ফোন ধরিয়ে দেয়। তবে ছেলে সে আই-ফোন ছুঁড়ে ফেলে দেয়। সে আই- ফোন চায়নি, সে তার বাবা-মার সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছিল কিন্তু বাবা-মা ছেলের এই উচ্ছশৃঙ্খলতার দায় পরস্পরের ঘাড়ে চাপাতে থাকে।

বড়ো ছেলে মেঘ তার বাবা-মাকে একদম কাছে পায় না, যে তার সঙ্গে কথা বলবে, তার সঙ্গে খেলবে, তার সঙ্গে সময় কাটাবে। অতএব সে সাহায্য নেয় এক কাল্পনিক বন্ধুর, যে একটি এআই (Artificial intelligence) অ্যাপ, যেটা তার মার দেওয়া আই-ফোনের মধ্যে একটি আছে। সে যেন মেঘের বাস্তব এক বন্ধুর মতো তার খেয়াল রাখে। তাকে ঘিরেই মেঘ এক কাল্পনিক জগৎ, বা বলা যায়, কাল্পনিক ‘খেলাঘর’ তৈরি করতে থাকে।

সেই বন্ধুই যেন মেঘের সব, সেই মেঘের কাছে এক জীবন্ত বন্ধু, আর বাকি সব নির্জীব। মেঘ তার সঙ্গেই গল্প করে, তার সঙ্গে হোমওয়ার্ক করে, তার সঙ্গে খায়, ঘুমোয়।

মেঘের মধ্যে এই পরিবর্তন তার দাদুর নজরে আসে। সে মেঘের ডায়রি পড়ে সবকিছু জানতে পারে, স্কুলে মেঘ র‍্যাগিং-এর শিকার আর বাড়িতে, অবহেলার। এই দুই থেকেই বাঁচতে সে নিজের এক কাল্পনিক জগৎ গড়ে নিয়েছে। কিন্তু এরপর কী ঘটবে, তা জানার জন্য ছবিটি দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’ ছবিটি তৈরি হয়েছে ‘দ্য নেক্সট আইডিয়াশন এন্টারটেইনমেন্ট’-এর ব্যানারে। শিবাজী দত্ত পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন পার্থসারথি দেব (প্রবোধচন্দ্র মুখোপাধ্যায়), জয় সেনগুপ্ত (অমিতাভ মুখার্জী), বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় (হেমনলিনী মুখার্জী), প্লাবন দেব  (মেঘ), ধ্রুব মুখোপাধ্যায় (বিদ্যুৎ), সকৃত মুখোপাধ্যায় (সাগ্নিক), শ্রীজা ভট্টাচার্য, প্রফেসর রঞ্জন দাস, সুজয় সান্যাল, হৃক্‌থি মুখোপাধ্যায়, সুমন বসু, প্রীতম দাশগুপ্ত, আল্পনা মজুমদার সাহা প্রমুখ।

ছবিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি রবীন্দ্রসংগীত। গেয়েছেন প্রীতম দেবনাথ, অর্জুন রায় এবং পাপিয়া। ছড়া পাঠে (একটি গাছে পাঁচটা চড়াই)- ধ্রুব মুখোপাধ্যায়। ছড়া রচনায়- প্রীতম দাশগুপ্ত। ছবিটির সামগ্রিক সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রীতম দেবনাথ। ‘খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি’ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২৪ মে।

সুবর্ণরেখার তীরে (শেষ পর্ব)

সকলেই হতবাক। কেউ আগে থেকে মুখ খুলতে রাজি নয়। আজকের দিনে এমন কথা কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারে তা বাড়ির সদস্যরা কেউ ভাবতেই পারছিল না। অসম্ভব অবাস্তব ঠেকছিল কথাটা। ভাবলেশহীন হয়ে সবাই শিবনাথের দিকে এক দৃষ্টে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল। চোখে-মুখের অভিব্যক্তি দেখে প্রতীতি হচ্ছিল যেন এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নিষেধ। যদিও বা কেউ দিতে চায় তাহলে হয়তো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসবেন এই ধরিত্রীর বুকে বাধা দেওয়ার অছিলায়।

শিবনাথ ক্রমশ‍ই অধৈর্য হয়ে উঠছিল। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করে— তোমরা সকলে চুপ করে আছো কেন? কিছু বলো।

—আজকে ওদের বাড়িতে কাজ। মা এগিয়ে এসে জবাবদিহি করেন।

—কাজ? কীসের কাজ? শিবনাথের মনে অপার কৌতূহল।

—চিঠিতে তোকে সবকিছু বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছিল। ছোটো বোন কৃষ্ণা বলে ওঠে, তুই পাসনি আমাদের লেখা সেই চিঠি?

—না, সম্প্রতি আমি তোমাদের একটিও চিঠি পাইনি। যেটা পেয়েছিলাম তা প্রায় বাইশ-পঁচিশ দিন আগের। তাতে বিশেষ কোনও সংবাদ ছিল না। গভীর আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে শিবনাথের স্পষ্ট জবাব।

—অতনু আর নেই আমাদের মধ্যে। ও মারা গিয়েছে। অগত্যা কৃষ্ণা বলতে বাধ্য হয় আজ ওর পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।

—অতনু মারা গিয়েছে? এইসব কি বলছিস তুই? শিবনাথের মনে ঘোর অবিশ্বাস।

কথাটা কর্ণকুহরে প্রবেশ করা মাত্র মনে হয়েছিল যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। শিবনাথের বোধগম্য হচ্ছিল না। অবিশ্বাস্য লাগছিল। বোধহয় এর চেয়ে অবাক হওয়ার মতো দুঃসংবাদ সংসারে আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। অতনুর মুখচ্ছবিটা জ্বলজ্বল করে তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনে হয় অন্ধকার কোনও প্রেক্ষাগৃহে বসে সে ছায়াছবি দেখছে। একমনে সে তখন অতনুর কথাই চিন্তা করতে থাকে। নিথর নিস্পন্দ জড়বৎ হয়ে শিবনাথ কেবলই ভাবতে থাকে কিছুক্ষণ আগের দেখা অতনুর কথা। অতনুর আসল পরিচয়টা কী তাহলে— সে ছায়া না কায়া? কিছুক্ষণ আগেও সে অতনুর মুখোমুখি বসে গল্প করে এসেছে। কথাচ্ছলে রাঁচির কত অজানা তথ্য সে জানতে পেরেছে। এগুলো কী সব অলীক? একে একে অতনুর মুখে বলা কথাগুলো স্মরণ করে সে রোমন্থন করতে থাকে। রহস্য তবু রহস্যই থেকে যায়। মৃত্যুর কূলকিনারা খুঁজে পায় না শিবনাথ।

আরও কিছু তথ্য আবিষ্কারের দুর্বার আশায় সে সকলের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করে— হঠাৎ এসব হল কী করে?

এবার বাড়ির লোকদের হয়ে জবাবদিহি করেন মা। ছেলেটা সত্যিই খুব ভালো ছিল রে। একটা ক্রমবর্ধমান অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ওকে অকালে প্রাণ হারাতে হল। পাড়ার বন্ধুর পান দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ও যখন গল্প করছিল ঠিক সেই সময় কয়েকটা অবাঙালি আদিবাসী গুন্ডা এসে রাস্তার পারের দোকানগুলো থেকে ভয় দেখিয়ে হপ্তা আদায় করছিল। ওটা নাকি ছিল ওদের রুজি রোজগারের একমাত্র পথ এবং অনেক বছর ধরেই নাকি চলছিল। লেখা নেই, পড়া নেই চাকু হাতে সবাইকে ভয় দেখিয়ে গুণ্ডামি করেই ওদের দিন কাটে। প্রাণের ভয়ে দোকানদারেরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রতি সপ্তাহে কিছু টাকা ওদের হাতে তুলে দিত। ব্যাপারটা অতনুর জানা ছিল না হয়তো বা জানলেও সেদিন ও সহ্য করতে পারেনি। দোকানদারের হয়ে ও ওদের অন্যায় আবদারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। তারপর যা হওয়ার ছিল না, তাই ঘটে গিয়েছিল। দুর্বলের প্রতি সবলের অত্যাচার মিনিট পনেরোর মধ্যে ছেলেটা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার উপরে লুটিয়ে পড়েছিল। আজ ওর মৃত্যুতে পাড়াশুদ্ধু লোক কাঁদছে। ওর নামে একটি স্মৃতিসংঘ খোলা হয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, অঘটনের ঠিক আগের দিন ও আমাদের বাড়িতে এসে তোর খবর নিয়ে গিয়েছিল। পুজোতে তুই আসবি জেনে খুব খুশি হয়েছিল।

বিস্ময়ের ঘোর তবু কাটে না শিবনাথের। হাজার প্রশ্নের ভিড়ে সময় পায় না নিজের কথা ভাববার। তারপর একটু প্রকৃতস্থ হলে শিবনাথ বলে— কিন্তু ভাবতে অবাক লাগছে যে, ওর সাথে আমার একটু আগেই দেখা হয়েছে। আমরা দু’জনে একসাথে গল্প করতে করতে এলাম। তারপর আদ্যোপান্ত যা ঘটেছিল সকলকে জানাল সেই কথা। এবার অবাক হওয়ার পালা বাড়ির সদস্যদের। আনুপূর্বিক সবকিছু বলা হয়ে গেলে পরে গ্রাস করে নিস্তব্ধতা।

হঠাৎ এক সময় মা বলে ওঠেন— তুই আসছিস জেনে ও যে মনে মনে খুব খুশিই হয়েছিল এটা পরিষ্কার হয়ে গেল। তোকে দেখা দিয়ে গেল।

শিবনাথ জানায়— ও নিজের মুখে স্বীকার করেছিল যে, ওর দিনলিপি লেখার অভ্যেস ছিল। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে ওর মুখে বলা কথাটা ডায়ারির পাতায় আদৌ কোথাও লেখা আছে কিনা— ‘মৃত্যুর পরে আমার পার্থিব শরীর যেন এই সুবর্ণরেখার তীরেই সৎকার করা হয়।”

—যাক ওর শেষ ইচ্ছেটা আর অপূর্ণ থাকেনি। কৃষ্ণা আরও বলে, ও যা চেয়েছিল সেটাই হয়েছে শেষ পর্যন্ত। সুবর্ণরেখার তীরেই ওকে দাহ করা হয়েছে।

মা তারপর শিবনাথকে সাবধান করতে গিয়ে বলেন— আজকে ওদের বাড়িতে কাজ। বাড়ির মানুষদের মন মেজাজ কারওরই বিশেষ ভালো নয়। যা জানার পরে এক সময় জেনে নিস সময় সুযোগ করে। অন্তত আজকে এই ব্যাপারে ওদের বিরক্ত করিস না যেন। দিনলিপির কথাটা পরে উত্থাপন করলেও চলবে। তুই তো আছিস ক’টা দিন এখানে। সুতরাং দু’দিন দেরি হয়ে গেলে কোনও ক্ষতি হবে না। বেদ অশুদ্ধ হবে না, আর যাই হোক। এটা মা হয়ে তোর কাছে আমার একান্ত অনুরোধ।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব