মানুষের মন (পর্ব-০১)

সম্পর্ক রক্তের বাঁধনে নয়, অনুভূতির বাঁধনে তৈরি হয়! যেখানে অনুভূতির বাঁধন থাকে, সেখানে পরও আপন হয় আর যেখানে অনুভূতির বাঁধন থাকে না, সেখানে আপনও পর হয়। —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সংসারে রক্তের সম্পর্কটাই শেষ কথা নয়। রক্তের সম্পর্কের চেয়েও যদি কোনও সম্পর্ক অবশিষ্ট থাকে এই পৃথিবীতে তাহলে সেটা হল হৃদয়ের সংযোগে গড়ে ওঠা প্রাণের সম্পর্ক। সেটা কেবল গড়ে ওঠে সহানুভূতি এবং একে অন্যের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বিনিময়ে।

আহিরের সঙ্গে অমিতার সম্পর্কটাও ঠিক সেইরকম। উভয়ের সঙ্গে রক্তের কোনও সম্পর্ক না থাকলেও আছে অপার স্নেহ ও অকৃত্রিম ভালোবাসার অচ্ছেদ্য বন্ধন। সেটা কেমন করে আর কীভাবে গড়ে উঠেছিল তা আজ আর কারওরই স্পষ্ট মনে নেই। প্রথম সাক্ষাতে অমিতাকে আহির বউদিমণি বলেই সম্বোধন করেছিল। বউদিমণি বলে সম্বন্ধ স্থাপন করার একমাত্র কারণ আহির অমিতার শ্বশুরবাড়ির কোনও আত্মীয় না হোক খুবই পরিচিত জন। সেদিন বউদিমণি বলে সম্বোধিত হওয়ায় অমিতাও খুব খুশি হয়েছিলেন, এক কথায় তিনি আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন। এমন আন্তরিক ডাক তিনি ইতিপূর্বে আর কখনও শোনেননি।

অথচ চাকরি পেয়ে এই সুদূর দিল্লিতে আসার আগে মনে কত শঙ্কা ও ভয় ছিল। কোনওরকম সম্পর্ক থাকা তো দূরের কথা সামান্য পরিচয়টুকু পর্যন্ত ছিল না। স্বভাবতঃই মানুষগুলো কেমন হবে, না হবে এই ব্যাপারে মনের কোণে ছিল নানান সংশয়। মাত্র এক টুকরো কাগজে লেখা ঠিকানাটাই ছিল আশাভরসা। তারপর পরিচয় হয়ে যাওয়ার অব্যবহিত পরেই সর্বাগ্রে আহিরের মনে যে-ভাবনাটি উদয় হয়েছিল সেটা হল, এরা মানুষ না, মহামানব? মানুষের অন্তরে কি এত স্নেহ ভালোবাসা থাকা সম্ভব?

পারিবারিক অনেক অসুবিধে থাকা সত্ত্বেও আহিরকে তাঁরা নিজেদের কাছেই রেখেছিলেন। মাস দুয়েক পরে অবশ্য দালাল মারফত কাছাকাছি একটি বাসস্থান খুঁজে নিয়ে আহির নিজেই একদিন আলাদা হয়ে গিয়েছিল। আলাদা হওয়ার বিশেষ কারণ তাঁর পরম শ্রদ্ধেয়া বউদিমণি খাওয়ার খরচটা পর্যন্ত নিতে অস্বীকার করতেন। আহিরের বিবেক দংশন হতো।

বহুদিন পর্যন্ত আহির তাঁদের কাছাকাছিই ছিল। সম্প্রতি অন্যত্র চলে যাওয়ায় ইদানীং আর খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয়ে ওঠে না। দেখা করার ইচ্ছে থাকলেও দিল্লি শহরে যানবাহনের ব্যয়বহুলতার কারণে মনের অবদমিত ভাবখানা শেষপর্যন্ত দমিয়ে রাখতে হয়। যদিও সম্পর্কে কোথাও ফাটল ধরেনি। নিয়মিত যাতায়াত না হোক পাড়ার নিকটস্থ টেলিফোন বুথ থেকে বউদিমণি নিয়মিত খবর নিতেন। প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই আহির তাঁর দাদা-বউদির সংসারের সঙ্গে এমন ভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছিল যে, এখন ওকে আর এই পরিবারের থেকে আলাদা করে ভাবাই যায় না। আহির ক্রমে এই পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছিল।

কয়েকটা দিন দেরি হলেই দাদা নিজের গরজে অফিস থেকে ফোন করে আহিরের কুশল সংবাদ নিতে ভুলতেন না। আবার অন্যদিকে বউদিমণি ভালোমন্দ ব্যঞ্জন তৈরি করলেই আহিরকে নিজে থেকেই ফোন করে নিমন্ত্রণ করতেন। বলাবাহুল্য না যাওয়ার কারণ হেতু আহিরকে নিজের স্বপক্ষে আগাম একঝুড়ি কৈফিয়ত সাজিয়ে রাখতে হতো। যথারীতি আহির অজুহাত দায়ের করলে তা অবিলম্বে খারিজও হয়ে যেত। আহিরের অনুভবে এ এক বিস্ময়কর ঘটনা। এখন তার মনে দৃঢ় ধারণা জন্মে গিয়েছে যে, এই শহরে সে একা নয়।

(ক্রমশ…)

অনলাইন অ্যালগরিদম ব্যক্তিগত জীবনকে প্রভাবিত করছে

যদি কেউ আপনাকে বলে যে আপনি অনলাইনে যা কিছু ফিড করছেন তা আপনি নিজের ইচ্ছায় অনেক বেশি এআই প্রযুক্তির অ্যালগরিদিমিক পদ্ধতি ফলো করছেন, তাহলে আপনি কি অবাক হবেন না? ডিজিটালের প্রভাব মানুষের জীবনে খারাপ ভাবে ঢুকে পড়েছে, এটা অনেকটা ব্যক্তিগত জীবনকে হ্যাকিংয়ের মতো।

ডিজিটাল দুনিয়া তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি সকালে উঠেই আধা ঘুমের মধ্যে আপনার নিজের ফোন চেক করেন। তথ্যের জন্য সংবাদপত্রের পরিবর্তে, অসত্য তথ্য-সহ হোয়াটসঅ্যাপ দেখেন এবং ফরোয়ার্ড করেন। ইমেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া ফিডের মাধ্যমে চিন্তা না করেই স্ক্রোল করা শুরু করেন।

এগুলো দেখতে দেখতে, আপনি ক্লিক এবং ট্যাপগুলির আকর্ষণে এমন আটকা পড়েন, যা আপনার মূল্যবান সময় এবং মানসিক শক্তি নষ্ট করতে শুরু করে। আপনি যে তথ্যটি পড়ছেন তা সঠিক কিনা তা না জেনেই আপনি অ্যাপ্লিকেশন এবং প্ল্যাটফর্মগুলির এমন একটি জালে আটকা পড়ে যান যে, আপনি কেবলমাত্র একজন গ্রাহক হয়ে ওঠেন যাকে কিনা যে-কোনও ভাবে পণ্য গছিয়ে দিতে পারলেই হয়।

এটাই ডিজিটাল দুনিয়ার বিশেষত্ব যে আমরা প্রতিদিন যে অ্যাপস এবং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করি, সেগুলো যত বেশি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, ততই তারা এই ভোগ্যপণ্য ও পণ্যের খেলায় সফল হয়। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম পদ্ধতি ব্যবহার করেই সফল হয়েছে।

অ্যালগরিদম পদ্ধতি কি

কম্পিউটার বিজ্ঞানের মতে অ্যালগরিদম হচ্ছে এক ধরনের প্রোগ্রামিং প্রক্রিয়া, যার উপর ভিত্তি করে অনলাইন ভোক্তার বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার প্রতিটি কার্যকলাপ নির্ভুলভাবে অনুমান করা হয়। এই কৌশলটি প্রায় প্রতিটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্বারা ব্যবহৃত হয়।

আপনি নিশ্চয়ই এটাও লক্ষ্য করেছেন যে, আপনি যদি কোন সাইটে কোনও প্রোডাক্ট দেখেন তাহলে সেই প্রোডাক্টের রিকমেন্ডেশন আপনার কাছে প্রতিনিয়ত প্রতীয়মান হতে থাকে। এটি আপনার স্ক্রিনে ক্রমাগত ফ্ল্যাশ করে, আসলে, ইন্টারনেট Algorithm এটিই করে।

এই অ্যালগরিদমটি আপনার প্রতিটি কনটেন্টের (অডিও, ভিডিও, আর্টিকেল বা যে-কোনও পণ্য ইত্যাদি) কি-ওয়ার্ড, ট্যাগ, টপিক যা আপনি শুনেছেন, দেখেছেন, পড়েছেন বা ওপেন করেছেন এবং রিঅ্যালগরিমেন্ট দিয়েছেন সেগুলো ক্যাচ করে। তার উপর ভিত্তি করে, এটি ক্রমাগত আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ বুঝে আপনাকে স্ক্রিনে শো করতে থাকে।

ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে হলে আপনার পেজে যে সাজেশনগুলো দেখেন সেগুলো আপনার তৈরি করা বাকি বন্ধুদের সাথে সরাসরি কোথাও কানেক্টেড থাকে। এই অ্যালগরিদমটিও কাজ করে। তিনি আপনার ফ্রেন্ড সার্কেল চিহ্নিত করেন, আপনার পছন্দের বিচার করেন। আপনি কোন ভাষায় আছেন, কোন এলাকা থেকে, কোন লিঙ্গের বন্ধুদের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন তাও তিনি দেখেন। ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারও এই কাজটি করে থাকে।

ব্যক্তিগত জীবন হ্যাক

Algorithm খুবই শক্তিশালী একটি টুল। এই টুলটি ডিজিটাল ভোক্তাদের ব্যক্তিগত জীবন হ্যাক করছে, তাদের প্রভাবিত করে। তাদের পছন্দ-অপছন্দের তথ্য একত্রিত করছে অর্থাৎ, এক অর্থে ভোক্তা তার পছন্দের কনটেন্ট দেখছে না, বরং তাকে সেই একই কনটেন্ট দেখানো হচ্ছে যা অ্যালগরিদম নিজের স্বার্থে তাকে বোঝাচ্ছে।

অ্যালগরিদম আপনাকে এমন একটি কাল্পনিক জগতে নিয়ে যায় যেখানে সবকিছু একই রকম চলছে বলে মনে হয়। যেমন ধরুন একটি মেয়ে নিজের জন্য শপিং সাইট ‘মিন্ত্রা’-তে পোশাকের নতুন ট্রেন্ড খুঁজছে। এ জন্য ‘অ্যামাজন’ ও ‘মিশো’ শপিং সাইটও সে দেখছে। যদি তার কাছে টাকা না থাকে তবে সে এই কেনার পরিকল্পনা বাদ দেয়। এখন যখন সে আবার অনলাইনে আসে তার মোবাইলের পর্দায় তার পছন্দের কুর্তির ছবি জ্বলজ্বল করে ফুটে ওঠে।

এটি তার কুর্তির পছন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিলেও তাকে কিছু কিনতে বাধ্য করা হয়। দ্বিতীয়ত, সে যে হারে কুর্তির খোঁজ করছে হয়তো তাতে করে তার আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেখতে পাওয়ার সম্ভবনা কমতে থাকে। অ্যালগরিদম তার কুর্তির পছন্দকেই  আঁকড়ে ধরে ওকে ক্রমাগত দেখাতে থাকে।

প্রায়শই যখন আমরা ডিজিটাল এক্সপ্লোরেশন সম্পর্কে কথা বলি, আমরা অনুমান করি যে এটি বিস্তৃত তথ্য সরবরাহ করছে, তথ্যের একটি যৌথ উৎস এটি। কিন্তু আসলেই কি সঠিক তথ্য দিচ্ছে নাকি আমাদের ভুল তথ্য দিচ্ছে?

তদন্ত করা কঠিন কিছু নয়। আমরা তরুণরা এখন তথ্যের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। মিম, নিউজ লিংক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলের মাধ্যমেই হোক না কেন, এটি তথ্যের উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। সমস্যাটি হ’ল এটি একটি সীমিত ক্ষেত্র সরবরাহ করে। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি করে যে এটি এক ধরনের তথ্যই ভোক্তাদের কাছে বিতরণ করে।

যেমন জাতপাত বা ধর্মের নামে বৈষম্য বা দাঙ্গার পর আপনি যদি একই ধরনের গ্রুপ বা পেজে জয়েন করেন, তাহলে সবরকম তথ্য আসতে শুরু করে। এখন এই গ্রুপগুলোর কাছ থেকে যে তথ্য আসছে তাতে মনে হয় সারা দেশেই একই ধরনের কার্যক্রম চলছে, যা পুরোপুরি সঠিক নয়।

একইভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির প্রচার হয়। যেমন, ‘অ্যানিম্যাল’, ‘গদর’, ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’ ছবিগুলো মুক্তি পেলে তাদের ফ্যান পেজ তৈরি হতে শুরু করে। এসব ফ্যান পেজগুলোর কোনো পোস্টে যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে এটি বেশি করে একই ধরনের কনটেন্ট পাঠানো শুরু করে, যার ফলে মস্তিষ্ক একটি জিনিসে পুরোপুরি কেন্দ্রীভূত হয়ে যায়। অর্থাৎ, জোর করে আপনার মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা হয়।

এখন ভালো হোক বা খারাপ, টেকনিক্যালি এটা আপনার রান্নাঘরের রেসিপি বইয়ের মতো। অ্যালগরিদমের গুণমান নির্ভর করে আপনি কেমন মেজাজের এবং আপনি কী ধরনের পরীক্ষা পছন্দ করেন তার উপর। আপনি যদি বেশি ভাজা পছন্দ করেন তবে সে আপনার সামনে একই ধরনের উপাদান পরিবেশন করবে। এখন আপনি এটা দিয়ে কি বানাবেন, এটি আপনার উপর নির্ভর করে এবং আপনিই এর পরিণতি ভোগ করবেন।

কী ভাবে এটি ঠিক করবেন

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রভাব নিজের উপর বিস্তার করার আগেই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করাই বাঞ্ছনীয়। এটি করার উপায়ও রয়েছে, যেমন ফেসবুক টাইমলাইন থেকে বাছাই করা অ্যালগরিদমগুলি অপসারণের অনুমতি দেয়।
ফেসবুকে, নিউজ ফিডের পাশের ৩ টি বিন্দুতে ক্লিক করুন, তারপরে ‘রিসেন্ট’-এ ক্লিক করুন। অ্যাপটিতে ‘সেটিংস’, তারপরে ‘শো মোর’ তারপরে ‘রিসেন্ট’ ক্লিক করতে হবে। এতে প্রভাব কমবে।

একইভাবে, এটি ইউটিউবে ঠিক করা যেতে পারে। এতে অটোপ্লে বন্ধ করে অন্তত আপনি কিছুটা হলেও ইউটিউব অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ফেব্রুয়ারিতে বেশ কিছু আপডেট এনেছে ইনস্টাগ্রাম।

ইনস্টাগ্রাম আপনাকে অজান্তেই একটা বিকল্প দিচ্ছে। কাকে উপেক্ষা করছেন তার তথ্য আপনি পেয়ে যাচ্ছেন। অর্থাৎ আপনি কোন ধরনের কনটেন্ট বেশি দেখছেন তা অল্প হলেও বুঝতে পারছেন। এর জন্য আপনি আপনার প্রোফাইলে গিয়ে ‘ফলোয়িং’ এ ক্লিক করবেন। এই দিয়ে আপনি শুধু, নিজেকে রিফ্রেশ বা পুনরায় আশ্বস্ত করতে পারেন তবে আপনি Algorithm থেকে মুক্তি পেতে পারবেন না।

 

 

 

স্বাদে ভরা ছুটির দিন (শেষ পর্ব)

প্রতিদিন একই ডিম, দুধ, ব্রেড বা হাতে গড়া রুটি– এমন স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো ছোটোরা না-ও খেতে চাইতে পারে। তাই মাঝে মাঝে বৈচিত্র্য এনে ওদের জন্য মুখরোচক খাবার তৈরি করে দিন৷ বিশেষত ছুটির দিনে হোক কিছু স্পেশাল৷ এই খাবারগুলো তাদের নিশ্চয়ই পছন্দ হবে৷ এই সব পদ আকর্ষণীয় ভাবে পরিবেশন করলেই তারা আগ্রহ নিয়ে খাবে।

পট্যাটো প্যানকেক

উপকরণ: ২টো কাঁচা আলু, ১ টা সেদ্ধ আলু, ১টা পেঁয়াজ কুচোনো, ১-২ টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১/২ কাপ ময়দা, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ২-৩ বড়ো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো৷

প্রণালী: কাঁচা আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিন তারপর গ্রেট করে নিন। একই ভাবে সেদ্ধ আলুর খোসা ছাড়িয়ে চটকে নিন। এবার একটা বোল-এ দু’রকমের আলু, ময়দা, লংকা, পেঁয়াজ দিয়ে প্রয়োজনমতো জল ঢেলে মিশ্রণ তৈরি করুন। এতে নুন ও বেকিং পাউডার দিয়ে একটু ফেটিয়ে নিন। গরম তাওয়ায় একটু তেল বুলিয়ে, এতে আলুর মিশ্রণ চারিয়ে দিন অল্প পরিমাণে। তারপর প্যানকেক দু’পিঠ উলটে উলটে সেঁকে নিন। প্রয়োজনমতো তেল দিন যাতে আটকে না যায়। সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 স্পাইসি অ্যাপেল পকোড়া

Spicy Apple Pakoda recipe

উপকরণ: ১ কাপ ওটস-এর গুঁড়ো, ২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১টা আপেল স্লাইস করা, ১-২ টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১/ ছোটো চামচ দারচিনিগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী: ওটস-এর গুঁড়োর সঙ্গে কর্নফ্লাওয়ার, নুন, দারচিনিগুঁড়ো, গরমমশলা এবং কাঁচালংকা মেশান। জল দিয়ে গুলে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন। এতে আপেলের স্লাইস ডুবিয়ে নিন। কড়ায় তেল গরম করে এক এক করে আপেলের স্লাইসের পকোড়া ভেজে নিন।

দই স্যান্ডউইচ

Dahi Sandwidch recipe

উপকরণ: ১ কাপ ইয়োগার্ট, ১/২ কাপ নারকেলকোরা, ১-২ টো কাঁচালংকা কুচি করা, ১ টুকরো আদা, ৩টে ব্রেড স্লাইস, ২ বড়ো চামচ মাখন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: নারকেলকোরার সঙ্গে লংকা, আদা, নুন ও দই মিশিয়ে পিষে নিন। এই চাটনি ব্রেড স্লাইসের উপর লাগান। উপর থেকে আরও একটা ব্রেড স্লাইস রেখে ঢেকে দিন। তাওয়ায় মাখন দিয়ে, ব্রেড স্যান্ডউইচ দু’পিঠ সেঁকে নিন আর গরম গরম পরিবেশন করুন।

গৃহিণীদের জন্য সেরা কৌশল: সরকারি চাকরির প্রস্তুতি

অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায় অনেকেরই যার ফলে মেয়েদের সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিয়ের পর ইচ্ছে থাকলে সংসারের কাজের পাশাপাশি কিছুটা সময় বার করতে পারেন যাতে সেই সময়টায় পরিক্ষা দেওয়ার জন্য পড়াশোনা করা যেতে পারে।

আপনি যদি বাড়িতে Government Job-এর জন্য পড়াশোনা করতে চান তবে কোনও কোচিংয়ের সহায়তা ছাড়াই আপনি নীচে দেওয়া টিপসগুলির সাহায্যে ঘরে বসে পড়াশোনা করতে পারেন। একজন গৃহিণীর জন্য প্রথমে নিজের পুরো দিনের পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি বাড়িতে থাকেন তবে আপনার পক্ষে পড়াশোনা করা সহজ হবে।

স্ব-অধ্যয়ন আপনার জন্য একটি বিকল্প হতে পারে। পড়াশোনার জন্য সকালের সময় বেছে নেওয়া সব থেকে ভালো। যখন আপনার সন্তানরা স্কুলে থাকবে এবং স্বামী কাজে, তখন সেই সময়টি পড়াশোনার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন।

১) সর্বপ্রথম আপনাকে একটি সময়সূচী তৈরি করতে হবে যাতে আপনি বাড়ির সমস্ত কাজ করতে পারেন এবং আপনি পড়াশোনার জন্যও পর্যাপ্ত সময় পেতে পারেন। সুতরাং একটি কার্যকর অধ্যয়ন পরিকল্পনা তৈরি করুন। একটি অধ্যয়ন পরিকল্পনায় কেবল অধ্যয়ন নয়, আপনার দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ যেমন খাওয়া, ঘুম, গৃহস্থালির কাজ, বাচ্চাদের এবং সঙ্গীর জন্য সময় ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

২) তারপর আপনি যে সকল টপিকের সাথে পরিচিত তার একটি লিস্ট তৈরি করুন এবং যে টপিকের সাথে আপনি পরিচিত নন সেগুলোর আরেকটি লিস্ট তৈরি করুন। প্রস্তুতি শুরু করার সময়, আপনি যে বিষয়গুলির সাথে পরিচিত নন সেগুলিতে ফোকাস করুন। পরে যে বিষয়গুলো আপনি ভালো জানেন বা যে বিষয়গুলো গ্রাজুয়েশনের সময় পড়েছেন সেগুলো রিভাইজ করুন।

৩) আপনি যে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার পরীক্ষার প্যাটার্ন এবং সিলেবাসের দিকে মনোযোগ দিন। চাইলে আগের বছরের প্রশ্নপত্র দেখেও আইডিয়া নিতে পারেন। এটি আপনার পক্ষে পরীক্ষার প্যাটার্ন বুঝতে সহজ করে তুলবে। আর এই কাজটি আপনি বাড়ি থেকে বের না হয়েই বা আপনার মোবাইলের সাহায্যেও করতে পারেন, কোনও কোচিংয়ের সাহায্য ছাড়াই।

৪) প্রস্তুতির সময় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হ’ল, আরও ঘন ঘন সেশনের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা। একটানা ৫ থেকে ৬ ঘন্টা ব্যয় করার পরিবর্তে, আরও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। সারাদিন পড়াশোনা করা আপনার পক্ষে কঠিন হবে, তবে দিনে দুবার পড়াশোনার জন্য সময় বের করার চেষ্টা করুন।

৫) Government Job পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধ্যয়নের পরিকল্পনাটি সঠিকভাবে অনুসরণ করুন। পরিকল্পনা করা সহজ, তবে এটির সাথে লেগে থাকা কঠিন হতে পারে। সর্বদা পুরস্কারের দিকে আপনার নজর রাখুন এবং আপনার প্রস্তুতির সময় কোনও কিছু যেন আপনাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

৬) যদি প্রস্তুতি প্রায় শেষ হয়ে আসে, তবে আপনাকে মক পরীক্ষা দেওয়ারও চেষ্টা করা উচিত। যে কোনও পরীক্ষার প্রস্তুতির সর্বোত্তম উপায় হ’ল মক পরীক্ষা নেওয়া। নিয়মিত মক পরীক্ষা দেওয়া আপনাকে আপনার পরীক্ষার ফোবিয়া থেকে মুক্তি পেতে এবং প্রকৃত পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস দিতে সহায়তা করবে। আপনি যে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার জন্য প্রতিদিন একটি মক টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস করুন।

৭) খবরের কাগজ পড়া অবশ্যই আপনার রুটিনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কারণ যে-কোনও সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য অবশ্যই দেশ-বিদেশের দৈনন্দিন কাজকর্মের তথ্য থাকতে হবে। চায়ের সাথে খবরের কাগজের দিকে তাকাতে ভুলবেন না। চাইলে সিরিয়ালের পরিবর্তে টিভিতে নিউজ চ্যানেল দেখুন। এটি আপনাকে সাহায্য করবে।

৮) আত্মবিশ্বাসী হোন। যখন লোকেরা আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা জানতে পারবে, তখন আপনাকে এমন অনেক কথা শুনতে হতে পারে যা আপনাকে ডি-মোটিভেটেড করে তুলতে পারে। কিন্তু এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেবেন না বা সেগুলি নিয়ে হতাশ হবেন না। যতক্ষণ আপনার সঙ্গী এবং আপনার পরিবার আপনাকে সমর্থন করছে, অন্যের কথা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। কারণ এটা আপনার প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সুতরাং আপনার সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখুন এবং প্রস্তুতি বন্ধ হতে দেবেন না।

বিঃদ্রঃ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করা ভালো, তবে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলি মিস করবেন না, তাই আপনার ব্যক্তিগত জীবনও উপভোগ করার জন্য সময় নিন যাতে আপনার সঙ্গী এবং সন্তানরাও সময় পেতে পারে।

 

 

 

প্রেমের মাসে না-বলা প্রেমের গান

ভালোবাসার মাস আর ভেজা মনের মধ্যে একটা গোপন সম্পর্ক আছে৷ অন্তত তাদের ক্ষেত্রে যাদের প্রেম অব্যক্ত থেকে গেছে৷ সেই মূক প্রেমের আর্তি এই প্রেমের মাসে এক আষ্চর্য বেদনা মিশ্রিত নস্টালজিয়ার আবেশ ছড়ায়৷ ভ্যালেনটাইনস ডে-র আগেই এই বার্তা নিয়ে হাজির শিল্পী মেখলা দাশগুপ্তর কন্ঠে, শ্রীরাজ মিত্রের লেখা ও সুরারোপ করা ‘না বলা প্রেমের গান’ ৷ আশা অডিয়ো থেকে আত্মপ্রকাশ করল এই গান, দক্ষিণ কলকাতার ইয়েলো টার্টল রেস্তোরাঁতে৷ আনুষ্ঠানিক প্রকাশে উপস্থিত ছিলেন ‘টনিক’, ‘প্রজাপতি’ ও ‘প্রধান’ চলচ্চিত্র খ্যাত নির্দেশক অভিজিত সেন, আশা অডিয়োর বর্তমান কর্ণধার অপেক্ষা লাহিড়ি, শিল্পী মেখলা নিজে এবং মিউজিক ভিডিয়োটির পরিচালক ও কুশীলবরা৷

Veja veja mon Music launch

গত ছয়বছর ধরে মেখলা সঙ্গীত জগতে তাঁর একটি আসন ধীরে ধীরে কায়েম করতে সফল হয়েছেন৷ মেলোডি তাঁর কণ্ঠে খুব সাবলীল ভাবে খেলে৷আর এই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়েছেন শ্রীরাজ তাঁর প্রথমবারের কমেপোজিশনে৷ ইতিপূর্বে ২০১২ থেকে গান লেখার মধ্যে দিয়ে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন শ্রীরাজ৷ অমিত কুমারও তাঁর লেখা গানে একাধিক বার কণ্ঠ দিয়েছেন৷ কিন্তু সুর তৈরি করার কাজটি এই প্রথম৷ প্রেমের সজ্ঞা সময়ের সঙ্গে বদলে গেলেও, মেলোডির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বুঝি ফুরোবার নয়- একথা মনে রেখেই এই গানের নির্মাণ৷ মিউজিক অ্যারে়্ঞ্জ করেছেন রকেট মণ্ডল৷

মিউজিক ভিডিয়োর টুকরো টুকরো স্মৃতি রোমন্থনের দৃশ্যগুলিতে, ফেলে আসা দশকের নস্টালজিয়ার জাল বোনা হয়েছে ৷ ছোট্টো একটি কোরিয়োগ্রাফি রয়েছে এই গানে৷ যেটি তৈরি করেছেন সুকন্যা চট্টোপাধ্যায়৷ ‘ভেজা ভেজা স্বপ্নগুলো— না বলা প্রেমের গান’, আশা অডিয়োর পেজ এবং ইউটিউবে ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে৷একচেটিয়া ফিল্মি গানের বাইরে গিয়ে যারা অন্য রকম রোমান্টিক গান শুনতে ও দেখতে আগ্রহী, তাদের মনের রসদ জোগাবে এই গানটি৷

স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত

আমি বিবাহিত যুবক এবং এক সন্তানের পিতা। নিজের স্ত্রী-কে নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। আমার স্ত্রী তার এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে এতটাই ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ফেলেছিল যে, অবৈধ শারীরিক সম্পর্কেও তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই সত্যটা জানার পর প্রথম প্রথম আমাদের মধ্যে খুব ঝগড়া হতো এবং তারপর আমাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। হঠাৎ-ই একদিন ছেলেকে আমার কাছে রেখে ও বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। এখন ৩ বছর পর ও আবার আমার কাছে ফিরে এসেছে। মনে হয় ওর পুরুষ বন্ধুটি ওকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাই ও আবার আমার কাছে ফিরে এসেছে।

প্রথমে ওকে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলাম কিন্তু ও প্রায় জোর করেই থেকে গেছে। এখন স্ত্রী-র সঙ্গে যতই স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করি না কেন, আমাদের সম্পর্কটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। শারীরিক সম্পর্ক তো দূরের কথা, ভালো ভাবে একটা কথাও হয় না। আমাদের দেখে মনে হয় অচেনা দুটো মানুষকে জোর করে একই ছাদের নীচে রেখে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি কী করব ?

এমন হতে পারে যে আপনার স্ত্রী তার Boy Friend-এর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য লজ্জিত এবং সেইজন্য তিনি আপনার সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করতে পারছেন না। আশা রাখুন হয়তো আরও কিছুদিন বাদে উনি স্বাভাবিক হতে পারবেন। এর পরেও যদি আপনার স্ত্রী, স্বাভাবিক হতে না পারেন তাহলে সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিন। কাউন্সেলিং করার পরই বোঝা যাবে ওনার মনের মধ্যে কী হচ্ছে। আইনের দ্বারস্থ হলেও খুব বেশি লাভ হবে না! কারণ এই ধরনের কেসে আদালতের রায় মহিলাদের পক্ষেই সাধারণত হয়ে থাকে।

আমার বয়স ১৮ বছর, ক্লাস টুয়েলভ-এ পড়ি। একটি ছেলে আমাকে খুব ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। ভালোবাসাটা শুধুমাত্র ওর দিক থেকেই। আমি ওকে কিছুতেই মুখের উপর না বলতে পারছি না। এই অবস্থায় কী করা উচিত?

আপনার বয়স এখন খুবই কম। এখন পড়াশোনা এবং কেরিয়ার গঠনে মন দিন। যে ছেলেটির কথা জানিয়েছেন, তাকে ভদ্র এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিন যে, ওকে আপনি ভালোবাসেন না। সে খালি আপনার বন্ধু। প্রেম অথবা বিয়ের বয়স আপনার নয়, এমনকী উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরে বেড়াবারও কোনও যুক্তি নেই। সুতরাং আপনার উপর কোনওরকম আশা রাখতে ছেলেটিকে বারণ করুন।

 

স্বাদে ভরা ছুটির দিন (পর্ব ১)

হতেই পারে আপনি সর্বদা ব্যস্ত থাকেন। তবে এই ব্যস্ততা ঢাকার জন্য বাচ্চাকে যে হরেক জিনিস কিনে দিতে হবে, এমনটা কিন্তু নয়। ছুটির দিনে ভালো মন্দ রান্না করে দিলেই বাচ্চারা কিন্তু খুশি হয়ে যায়৷ বিশেষ করে আজকের দিনে যখন ফাস্ট ফুডের এত প্রলোভন, তখন বাড়িতেই যদি তৈরি করতে পারেন তার মনের মতো ডিশ– তাহলে সুস্বাস্থ্যার বিষয়টিও বজায় থাকে৷ রইল কয়েকটি ছোটোদের মন ভালো করা সুস্বাদু পদের রেসিপি৷ছুটির দিনে জমবে মজা৷

পট্যাটো চিপস চিজ বোল

উপকরণ : ১ প্যাকেট চিপস, ২ বড়ো চামচ চিজ গ্রেট করা, ২টো পেঁয়াজ কুচি করা, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ১টা বড়ো ক্যাপসিকাম কুচি করা, ১ ছোটো চামচ পিৎজা সিজলিং।

প্রণালী: একটা বোল-এ চিপস ঢেলে দিন। উপর থেকে চিজ, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম কুচি দিয়ে দিন। এবার টম্যাটো সস এবং সিজলিং মিশিয়ে নিন। প্রিহিটেড আভেনে চিজ গলে না যাওয়া পর্যন্ত রেখে সার্ভ করুন।

 

ক্রিম চিজ ওয়ান্টোনস

Cream Cheese Wantons recipe

উপকরণ: ৪-৫টা স্প্রিং রোল শিট, ১৫০ গ্রাম পনির কিংবা চিকেন কিমা, ১টা পেঁয়াজ কুচি করা, ১টা কাঁচালংকা কুচি করা, বড়ো চামচ রসুন পেঁয়াজ পেস্ট, ২ বড়ো চামচ ঘন ক্রিম, ২ বড়ো চামচ মাখন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: প্যানে মাখন দিয়ে আদা-রসুন পেস্টটা সঁতে করুন। এতে পনির কিংবা চিকেন কিমা যেটা আপনার পছন্দ, সেটা নাড়াচাড়া করুন। ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিন। স্বাদমতো নুন দিন। রান্না হলে নামিয়ে নিন। এবার ক্রিম, পেঁয়াজ, কাঁচালংকা মিশিয়ে চটকে নিন। স্প্রিং রোল শিট্স-এর উপর এই মিশ্রণ পুর হিসেবে ভরে দিন। এবার রোল করে নিন। উপর থেকে মাখন বুলিয়ে ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আভেনে দিয়ে ৭-৮ মিনিট বেক করুন। উলটে দিয়ে আবার ৩-৪ মিনিট বেক করুন। গরম গরম সার্ভ করুন।

 

জুকিনি নাচোস

Zucchini Nachos recipe

উপকরণ:  ১টা জুকিনি, ২ বড়ো চামচ ময়দা, ১ বড়ো চামচ কর্ণ পাউডার, ১/২ কাপ ব্রেড ক্রাম্বস, ৩ বড়ো চামচ গ্রেটেড চিজ, ভাজার জন্য তেল, ১ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ মিক্স হার্বস, ৩ বড়ো চামচ টম্যাটো চিলি সস, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: জুকিনি স্লাইস করে কাটুন। ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন। এতে নুন আর লংকাগুঁড়ো মিশিয়ে নিন। জুকিনি স্লাইস এই পেস্ট-এ ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বস মাখিয়ে নিন। গরম তেলে ডিপ ফ্রাই করুন। এবার প্লেটে রেখে উপর থেকে চিজ আর মিক্সড হার্বস ছড়িয়ে দিন। টম্যাটো-চিলি সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

শিশুর জীবনে অনিশ্চয়তার প্রভাব

শিশুরা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নরম মনের। যে-কোনও রকমের মানসিক চাপ, Uncertainty, আতঙ্ক তাদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে শিশু মানসিক ভাবে অবসাদগ্রস্ত হতে পারে। বিগত এই মহামারি শিশু থেকে শুরু করে বড়োদেরও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাচ্চাদের বহুদিন স্কুল বন্ধ থেকেছে, অনলাইনে ক্লাস করতে হয়েছে এবং কাছের বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগটাও খুব কমে গেছে। এর পাশাপাশি কেউ কেউ বাবা-মায়ের মধ্যে একজন অথবা দু’জনকেই হারিয়েছে। এইসব বিষয়গুলি শিশুদের মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। যে-পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠা উচিত ছিল, যা তাদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিশুরা সেই অবস্থা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

শিশুর জীবনে প্রথম ৫ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপের কারণে শিশুদের প্রতিক্রিয়া, প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো এক হয় না। কেউ হয়তো নির্দিষ্ট কোনও জিনিসকে আঁকড়ে ধরে, কেউ কেউ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কেউ আবার আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কেউ কেউ আবার অবসন্নও হয়ে পড়ে। তাই শিশুর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করাটা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যদি আমরা বুঝতে পারি আশেপাশের পরিবেশের কারণে শিশুর মনে প্রভাব পড়ছে তখন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারি। শিশুরা অনেক সময় একটি ঘটনাকে তাদের নিজেদের মতো করে নেয়। Uncertainty, আতঙ্ক, অসুস্থ হওয়া অথবা নিকটজনদের মৃত্যু তাদের মনে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে। কখনও আবার শিশুরা তাদের ভয়, উদ্বেগ বা আতঙ্কের কথা বড়োদের ঠিক করে বোঝাতে পারে না।

তাই শিশুদের আচার-আচরণের ওপর নজর রাখা প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিষয়ে শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভাবনা প্রকাশ করানোর জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের সাহায্য একান্ত দরকার। শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে তাদের নিজস্ব ভাবনা এবং মতামত প্রকাশ করাতে উৎসাহ দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের মনের মতো পরিবেশে তাদের কথা জানাতে পারে। তারা যদি কথায় না বোঝাতে পারে তাহলে আঁকা, রং করা-সহ অন্যান্য মাধ্যমের সাহায্যে তাদের মনের ভাব জানাতে উৎসাহিত করতে হবে। অভিভাবক, শিক্ষক, প্রাপ্তবয়স্কদের — শিশুদের সঙ্গে নম্রভাবে মতবিনিময় করতে হবে। শিশুদের বোঝার জন্য সৃজনশীল পন্থা-পদ্ধতি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

মহামারি কিন্তু বড়ো ছেলেমেয়েদের মনেও অনিশ্চয়তার বীজ বপন করতে সফল হয়েছে। তাদের লেখাপড়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার ভূমিকা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগোতে সাহায্য করতে হবে এবং বোঝাতে হবে মহামারির কারণে পৃথিবী জুড়ে তাদের মতোই অনেক শিশু একই পরিস্থিতির সম্মুখীন। বাবা-মায়ের ভূমিকাও এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তব জীবনে যাতে শিশু মানিয়ে নিতে পারে তার জন্য অভিভাবকদের এগিয়ে এসে ধীরে ধীরে শিশুকে বাস্তবের সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। কাজের জায়গা এবং ব্যক্তিগত পরিসরের মধ্যে যে- পার্থক্য ছিল, সেটা এখন নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক মা-বাবাই তাঁদের সন্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে সমস্যায় পড়ছেন। বিভিন্ন বয়সি শিশুদের চাহিদা একে অপরের থেকে আলাদা। তাদের প্রয়োজন, সময়, বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকার ধরনও আলাদা। বাড়িতে যদি উত্তেজনার পরিবেশ থাকে তাহলে শিশুর মানসিক বিকাশে সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের যে- সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা রোধ করতে নিরাপদ পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুরা যাতে ব্যস্ত থাকে বাবা-মা’দের সেদিকটি খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বাবা-মা’দের দৈনন্দিন কাজকর্মের ফাঁকে বাচ্চাদের জন্য সময় বার করতে হবে।

যে-শিশু মানসিক চাপ থেকে বার হতে পারছে না তাকে সাহায্য করতে পারে তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব অথবা কোনও পেশাদার ব্যক্তি।

ছোটো থেকেই বাচ্চাদের এই অভ্যাসগুলি রপ্ত করালে ভবিষ্যতে কমবে রোগভোগের আশঙ্কা!

প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। সেই সঙ্গে রোগ এড়াতেও সাহায্য করবে। শিশুদের মধ্যে ভালো অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে শেখান

ছোটোবেলা থেকেই শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে উৎসাহিত করুন। স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি বাচ্চার আগ্রহ বাড়াতে বাচ্চাকে বাজারে নিয়ে যান। তাকে ফল, শাকসবজি বাছতে শেখান, খাবারের লেবেল পড়তে দিন। নানারকম রঙিন শাকসবজি, গ্রিন ভেজিটেবল বাচ্চার খাবার তালিকায় রাখুন। খাবার তৈরিতে তাদের সাহায্য নিন। জুস-এর বদলে আস্ত ফল খেতে দিন। কোল্ড ড্রিংকস-এর চেয়ে জল যে উপকারী তৃষ্ণা নিবারক, ছোটো থেকেই বাচ্চাকে সেটা শেখান।

খেলাধুলোয় উৎসাহ দিন

বাচ্চাদের সব সময় চুপ করে বসে থাকতে বলবেন না। বরং বাচ্চাকে দৌড়াদৌড়ি করতে উৎসাহ দিন। শিশুদের ঘরের বাইরে খেলাধুলো করার সুযোগ করে দিন। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, একজন শিশুকে দিনে অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। যে-কোনও খেলাধুলোয় অংশ নিতে উৎসাহিত করুন। যেসব শিশু শারীরিক ভাবে নিষ্ক্রিয়, তাদের উচ্চরক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

বাচ্চাকে নিয়ে কেনাকাটা করতে যান

বাচ্চাদের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন, যা তাদের ভবিষ্যতে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করতে পারে। বাচ্চাকে ছোটো ছোটো জিনিস কিনতে দিন। যখনই আপনি কেনাকাটা করতে যাবেন, বাচ্চাকেও সঙ্গে নিয়ে যান। বিশেষজ্ঞদের মতে, মনোপলির মতো গেম খেললেও উপকার পাওয়া যায়। এর সাহায্যে শিশু অর্থ-সম্পর্কিত প্রাথমিক নিয়মগুলি বুঝতে পারে।

পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিক্ষা দক্ষতা উন্নত করার সর্বোত্তম উপায় হল বই পড়া। যখন বাচ্চারা পড়াশোনা করে, তখন এটি তাদের শব্দভাণ্ডার, ভাষার দক্ষতা, একাগ্রতা এবং কল্পনার বিকাশে সহায়তা করে। নানা ধরনের বই পড়লে শিশুদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্যদের অনুভূতি বুঝতে সুবিধা হবে। শিশুর আগ্রহ অনুযায়ী তার জন্য বই কিনে আনুন।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব