অবিশ্বাস্য (পর্ব ২)

এভাবেই তিনদিন কেটে গেল। তৃতীয় দিনে একজন ইনফরমার খবর দিল যে সে একজনকে সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় রোজ রাতে ওই বাড়ি থেকে বেরোতে দেখেছে। ওই ছায়ামূর্তিটা পাশের ওই জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। ভয়ে সে আর তাকে ফলো করতে পারেনি জঙ্গলের ভিতর পর্যন্ত। সন্দীপ আর দেরি না করে দলবল নিয়ে গিয়ে হাজির হল ওই জঙ্গলটার ভেতরে। দিনের আলোতে অনেক খোঁজার পর দেখল জঙ্গলের এক জায়গায় একটা ঢিবির মতো এবং তার ওপরে কিছু তাজা ফুল। মনে হল কেউ আজই রেখে গেছে। ঢিবিটা দেখে মনে হচ্ছে সদ্য খোঁড়া হয়েছে।

সন্দীপের আদেশে ওই ঢিবিটাকে খোঁড়া হল। খুঁড়ে নজরে এল কাগজে মোড়া কিছু একটা। সেটা খুলতেই চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। সন্দীপ আর সহ্য করতে পারছিল না। বুঝতে পারল ওটা ওই শিশুটিরই হৃৎপিণ্ড। পচন ধরেছে। সন্দীপ রামসিং- কে ওটাকে পরীক্ষা করার জন্য পাঠিয়ে দিতে বলেই জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে এল। এ দৃশ্য তার কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না। থানায় ফিরে সব অনুগত অফিসারদের ডেকে রাতের কর্মসূচীর কথা জানিয়ে দিল।

—দেখুন, যেহেতু এটা খুনের কেস, তাই সকলে নিজেদের আর্মস নিয়ে থাকবেন স্পটে। তবে আমি না বললে গুলি চালাবেন না। যদি জীবন বাঁচাতে গুলি চালাতে হয়, তবে পায়ে গুলি করবেন। আমি হত্যাকারীকে জীবিত ধরতে চাই। কারণ এই গ্রুপের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা আমাকে জানতে হবে। এই কেসটা সলভ না করতে পারলে জানবেন আপনাদের অনেকেই এই থানা থেকে বদলি হয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় মিডিয়াও আমাদের ছেড়ে দেবে না। তাই বি সিরিয়াস।

রাম সিং বলল— “ঠিক বলেছেন স্যার। আমরা আপনার সাথে থাকব। আমি নিশ্চিত হত্যাকারী আমাদের হাতে ধরা পড়বেই।”

নিজের দলের সবাইকে নিয়ে ছদ্মবেশে রাতের বেলা ওই জায়গায় গিয়ে দূরে দূরে পজিশন নিয়ে পাহারা দিতে লাগল। রাত প্রায় ১টা নাগাদ দেখা গেল সাদা কাপড় পরা এক ছায়ামূর্তি ওই ঢিবির কাছে এগিয়ে এসে দু’-হাত ভরে কিছু ফুল ওই ঢিবির ওপর ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর আর কিছু ভাবার আগেই সন্দীপ দৌড়ে গিয়ে তার সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিতেই বিস্ময়ে অবাক হয়ে গেল! ভাবল এ কী করে সম্ভব! দেখল শিশুটির মা তার দিকে হতভম্বের মতো তাকিয়ে আছে। তাকে ধরে নিয়ে আসা হল থানায়।

সন্দীপ নিজের রাগ অনেক কষ্টে সংযত করে বলল— ‘তুমি নিজের শিশুটিকে কেন মারলে? সত্যি না বললে আমি কিন্তু তোমার মতো এমন মহিলার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করব না।”

—আমি ও আমার পরিবার বাচ্চাদের নিয়ে দারিদ্রের জ্বালায় খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। একদিন এক তান্ত্রিকের কাছে যাই। ওই তান্ত্রিকই বলেছিল যে, আমরা যদি আমাদের একটি শিশুকে বলি দিতে পারি, তবেই আমাদের অবস্থা ফিরবে।

—তুমি আমাদের ওই তান্ত্রিকের ডেরায় নিয়ে চলো।

এরপর সন্দীপ ওই তান্ত্রিকের ডেরায় গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। সন্দীপ মনে মনে ভাবে এই তান্ত্রিকের সাথে নিশ্চয়ই দিল্লির অনেক ক্রিমিনালের যোগাযোগ আছে। এর থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিল— আজ বাড়ি যেতে দেরি হতে পারে। এমনকী না-ও যেতে পারে। বিশেষ কাজে আটকে গেছে। রাম সিং-কেও বলল বাড়িতে জানিয়ে দিতে।

এরপর তান্ত্রিককে নিয়ে এল একটা আলাদা ঘরে। সেখানে রাম সিং আর সন্দীপ ছাড়া কেউ নেই। সন্দীপ তান্ত্রিককে জেরা শুরু করল। তান্ত্রিক হঠাৎ ঝোলার থেকে একটা লাট্টু বের করে ঘোরাতে লাগল। রাম সিং বাঘের মতো থাবা দিয়ে লাট্টুটা তুলে নিল। বলল— সাহেব, আমি লোকের মুখে শুনেছি যে এই তান্ত্রিক নাকি লাটু ঘুরিয়ে সামনের লোকেদের সম্মোহিত করে দেয়। ও হয়তো আমাদেরও তাই করতে চাইছিল। তাই আমি আটকে দিলাম। একথা শুনে সন্দীপের রাগটা আরও বেড়ে গেল।

তান্ত্রিককে বলল, সোজাসুজি আমার সব প্রশ্নের জবাব দেবে নাকি থার্ড ডিগ্রি শুরু করব? এখানে চ্যাঁচালেও কেউ তোমাকে বাঁচাতে আসবে না। সোজাসুজি বলো — তুমি দিল্লির কিডন্যাপার গ্যাংদের কাকে কাকে চেনো।

—রাম সিং, মনে হয় সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। আমার রুলারটা আর থার্ড ডিগ্রির যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে এসো। আমি আজ একটু হাতটা ঝালিয়ে নিতে চাই। এদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। বাকিটা আমি দেখে নেব রাতের অন্ধকারে।

(চলবে)

স্পেশাল Grilled Snacks

দীপাবলির উৎসব শেষ হতে না হতেই এসে যায় ভাইফোঁটার গোছগাছ আর জোগাড়ের পালা। ভাই এবং বোনের অটুট সম্পর্ক ভাইফোঁটার দিন একটা উৎসব হিসেবেই পালিত হয় সারা ভারতে। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে পালিত হয় ভাইফোঁটা। ভাইদুজ, ভাইটিকা, যমদ্বিতীয়া নামেও এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবের মরশুমে টানা চলতে থাকে খাওয়াদাওয়া। ভাইফোঁটা পালনেরও একটা বড়ো অংশ হল ভুরিভোজ। বোনেরা এই দিনে ভাইয়ের জন্য তাদের পছন্দের খাবার তৈরি করে গুছিয়ে ভাইকে পরিবেশন করেন।

গৃহশোভার পক্ষ থেকে ভাইফোঁটার জন্য তিনটি ভিন্ন স্বাদের রেসিপি পরিবেশন করা হল যাতে ভাইরা বোনের রান্নার প্রশংসায় কাটিয়ে দিতে পারেন শুভ দিনটি।

অরেঞ্জি ফিস

উপকরণ : ৫০০ গ্রাম মাছের টুকরো, ১টি কমলালেবুর রস, ৩-৪টি লেবুর রস, ১/২ বড়ো চামচ ভিনিগার, ১ ছোটো চামচ মধু, ১ ছোটো চামচ নুন, ১ ছোটো চামচ গোলমরিচ, ১ ছোটো চামচ অলিভ অয়েল।

প্রণালী : মাছের টুকরোগুলো নুন আর ভিনিগার বুলিয়ে নিন। কমলা লেবুর রসে বাকি উপকরণ মিশিয়ে নিন। মাছের টুকরোয় এই মিশ্রণ মাখিয়ে রাতভর ঢেকে রাখুন। সকালে গ্রিলার গরম করে, এতে ম্যারিনেট করা মাছের টুকরো গ্রিল করে নিন। মাঝখানে একবার গ্রিল করা বন্ধ রেখে ম্যারিনেট পুনরায় ছড়িয়ে নিন। ফ্রুটস্‌, বাদাম, কড়াইশুঁটি সেদ্ধ, স্যালাড আর সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন অরেঞ্জি ফিশ।

জুসি মাশরুম

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম মাশরুম, ৩/৪ কাপ দই, ১/২-১/২ ছোটো চামচ নুন ও গোলমরিচ, ১/২-১/২ ছোটো চামচ অরিগ্যানো ও চিলি ফ্লেক্স, ২ ছোটো চামচ পুদিনাবাটা, ১ ছোটো চামচ অলিভ অয়েল।

প্রণালী : মাশরুমগুলি ময়দা মাখিয়ে রগড়ে ধুয়ে নিন। এবার মাঝখান বরাবর চিরে নিন। দইয়ের সঙ্গে মশলা, তেল ও পুদিনা মিশিয়ে নিন। মাশরুমের উপর ছড়িয়ে হালকা হাতে মেখে নিন। ৩-৪ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। গ্রিলার গরম করে, শিকে গেঁথে গ্রিল হতে দিন। চাটনি, সস, গরম আলু ও মটরশুঁটি সেদ্ধ বা ফল – যে-কোনও কিছুর সঙ্গেই এটা পরিবেশন করা যায়।

Dipawali special griiled snacks

হার্ব চিকেন

উপকরণ : ৭৫০ গ্রাম চিকেন(Leg and Breast piece), ১৫০ গ্রাম ক্রিম, ২ ছোটো চামচ রসুনবাটা, ২ ছোটো চামচ পার্সলে(শুকনো), ২ ছোটো চামচ অরিগ্যানো, ২ ছোটো চামচ রোজমেরি, নুন ও গোলমরিচ প্রয়োজনমতো।

প্রণালী : ক্রিমের সঙ্গে সমস্ত উপকরণ মেশান ও চিকেনের টুকরোয় মাখিয়ে নিন। হালকা হাতে উলটে পালটে রাতভর ম্যারিনেট হতে দিন। গ্রিলার গরম করে চিকেনের টুকরো গ্রিল করে নিন। দু’পিঠ ভালোভাবে সেঁকে, স্যলাড, ফ্রুট স্যালাড, ডিপ বা চাটনি, যে-কোনও কিছুর সঙ্গেই পরিবেশন করতে পারেন। 

অবিশ্বাস্য (পর্ব ১)

সন্দীপ ব্যানার্জী ছোটোবেলা থেকেই দিল্লিতে মানুষ। বাবা দিল্লিতে এসেছিলেন কলকাতা থেকে চাকরি নিয়ে। তারপর দিল্লিতেই থেকে যান। মা-ও দিল্লিতে এসে চাকরি করতেন একটা স্কুলে। সন্দীপের জন্মের পর থেকেই ওকে ভালো স্কুলে পড়ানো হয়েছে। সন্দীপ পড়াশোনাতে খুব ভালো। কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই সন্দীপের পুলিশে চাকরি করার একটা প্রবল ইচ্ছে ছিল।

আসলে সন্দীপের আর এক ভাই ছিল কিন্তু ছোটোবেলায় হঠাৎ তাকে একদিন কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সেই ভাইয়ের আর কোনও খোঁজ তারা পায়নি। সন্দীপের মা, সাধনাদেবীও কেঁদে কেঁদে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। সন্দীপের খুব ইচ্ছে ছিল যে, পুলিশের বড়ো পোস্টে তাকে চাকরি পেতেই হবে। এবং একদিন সেই ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য ঠিক উদ্ধার করবে।

সন্দীপের সেই ইচ্ছে একদিন সাফল্যের মুখ দেখল। সন্দীপ সরাসরি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে পুলিশের চাকরিটাও পেয়ে গেল। চাকরি জীবনেও বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল বহু কেস ঘাঁটতে ঘাঁটতে কিন্তু তবুও যেন মনে শান্তি ফিরে আসেনি। সন্দীপের এই পরিশ্রমের জন্য পুলিশ মহলে বেশ নাম-ডাকও হয়েছে। পুলিশ পদকও পেয়েছে।

সন্দীপ কিছুদিন আগেই নতুন দিল্লির কালকাজি থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে ট্র্যান্সফার হয়ে এসেছে। জায়গাটা চিনতে ও বুঝতে একটু সময় লাগবে। হঠাৎ একদিন সকালে রাম সিং কনস্টেবল এসে খবর দিল কালকাজি বস্তিতে একটা মার্ডার হয়েছে। সন্দীপ আর দেরি না করে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হল। যে-দৃশ্য দেখল তা সন্দীপকে রীতিমতো নাড়া দিয়ে দিল। দেখল আড়াই বছরের একটি শিশুর মৃতদেহ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাম সিং- কে বলল কাপড়টা তুলে মুখটা দেখাতে। সে দৃশ্যটা আরও মর্মান্তিক।

পুলিশের চাকরিতে বহু মৃতদেহ দেখেছে কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে কখনও পড়তে হয়নি। দেখল শিশুটির বুক চিরে কে বা কারা হৃৎপিণ্ডটা বের করে নিয়ে গেছে। সন্দীপ এ দৃশ্যটা আর সহ্য করতে না পেরে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল। রাম সিং-কে বলল বডিটা পোস্টমর্টমে পাঠাতে। শিশুটির মা-বাবাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারল যে, গতকাল রাতে তারা যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন কে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তা তারা কেউ জানে না।

কয়েকদিন আগেই ওরা এই নতুন ঠিকানার ঘরে উঠে এসেছে। এরা কম টাকায় বস্তিতে এই ঘরটা পেয়েছে। এতে দরজার ছিটকিনিটাও নেই। ছিটকিনিটা ভাঙা, তাই রাতে ঘর খোলাই ছিল। এ নিয়ে তারা কখনও মাথা ঘামায়নি। ভেবেছিল ঘরে তো কিছুই নেই তাই কী আর চুরি হবে!

সন্দীপ থানায় ফিরে এসে কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে বসে রইল। কীভাবে এগোবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। বস্তির আশেপাশে সিসিটিভি-র ফুটেজ ও মা-বাবার মোবাইল থেকেও কিছু খুঁজে না পেয়ে ওই এলাকার ইনফরমারদের ডেকে সবাইকে পালা করে আক্রান্ত বাড়িটার ওপর নজর রাখতে বলল। সারা বস্তিতে খুঁজেও কোনও সিসিটিভি পাওয়া গেল না।

রাম সিং বলল— “স্যার, এদের সবার ঘরে টিভি আছে কিন্তু সিসিটিভি কেউ লাগায়নি কারণ এখানে ওটার প্রয়োজন হবে না বলেই ওদের ধারণা।’

সন্দীপের বার বার নিজের ভাইয়ের কথা মনে পড়ছিল। যে করে হোক এই কেসটার আসামিকে খুঁজে বের করতে হবে। না হলে মনে শান্তি পাচ্ছে না। মিডিয়া এই খবরটাকে বেশ ফলাও করে প্রকাশ করবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। থানায় বলে দিল মিডিয়াকে কেউ যেন কোনও ইন্টারভিউ না দেয়। থানার অফিসারদের সবাইকে বলে দিল সবাই যেন নিজেদের সোর্স লাগিয়ে খবর জোগাড় করে আনে। যে করেই হোক হত্যাকারীর খোঁজ তার চাই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আজ পর্যন্ত এমন হয়নি যে তাকে হার স্বীকার করতে হয়েছে। আজও সে হারতে চায় না। ওই এলাকায় যত ক্রিমিনাল ছিল সবার ফাইল খুলে বসে গেল। অফিসারদের বলল, ওই সব ক্রিমিনালদের থেকে খোঁজ নিতে। এখানে আবার বিভিন্ন দল আছে গুণ্ডাদের। সবার থেকেই খবর নিতে হবে।

(চলবে)

নেলসন বে থেকে বর্ষবরণ (পর্ব-০৩)

আজ সকালে দেখতে এসেছি সালামন্ডার বে। আজকের দিনটা রেখেছি একটু রিল্যাক্স করার জন্য, কেন না বিকেলে পাহাড় চড়তে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে। নেলসন বে থেকে গাড়িতে মাত্র দশ মিনিটের দূরত্বে এই বে। ১৭৯১ সালে সালামন্ডার নামে প্রথম ব্রিটিশ জাহাজ এসে যখন এই উপমহাসাগরে নোঙর গাড়ে, সেই সময় থেকেই এর নাম হয় সালামন্ডার বে। সালামন্ডার বে পোর্ট স্টিফেন্স-এর সবচেয়ে বসতিপূর্ণ এলাকা।

প্রথমেই গেলাম ওয়ান্ডা বিচে। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবোরিজিনাল ভাষায় ওয়ান্ডা মানে বালিয়াড়ি। বিচের পাশেই সুদূর বিস্তৃত বালিয়াড়ি থেকেই হয়তো এরকম নামকরণ। দেখেই বোঝা গেল সাঁতারুদের মধ্যে এই বিচ খুবই জনপ্রিয়। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কেউ বাদ নেই, সবাই জলকেলি করতে ব্যস্ত। বিচের পাশেই পার্কে পিকনিকের জায়গা আছে। অস্ট্রেলিয়ায় যাকে বলা হয় বারবিকিউ।

বাড়ি থেকে খাবার এনে এখানে রান্না করার ব্যবস্থা আছে। সেখানেও বেশ লোকের ভিড়। অনেকেই রান্নায় ব্যস্ত। তারপর সবাই মিলে একসাথে পার্কের চেয়ারে বসে খাওয়া-দাওয়ার সাথে সাথে চলবে আড্ডা। আমরা বিচের কাছেই একটা রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ করে ওয়ান্ডা হেড-এর পথ ধরে বিচের পাশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম। মাথার উপর সূর্যের তেজ কিন্তু সমুদ্রের ঠান্ডা হওয়া যেন সেটাকে অনেকটাই পুষিয়ে দিল।

সালামন্ডার বে থেকে ফেরার পথেই পড়ে পোর্ট স্টিফেন্স-এর বিখ্যাত মদের দোকান, Murray’s Brewery। এটা ঠিক আমাদের জানা মদের দোকানের মতো নয়। এখানে দোকানের ভেতরেই বিভিন্ন গন্ধ এবং স্বাদের মদ, বিয়ার— এসব বানানো হয়। টুরিস্টরা তাদের পছন্দ মতো পানীয় কিনে পিছনের বড়ো বাগানে গিয়ে বসে রিল্যাক্স করে, সাথে ড্রিংক্স নেয়। আমরা দু-গেলাস বিয়ার কিনে নিয়ে পিছনের বাগানে গিয়ে বসলাম। বাইরের ত্রিশ ডিগ্রি তাপমাত্রা, কিন্তু এখানের পার্কে গাছের ছায়ায় ঠান্ডা বিয়ারটা যেন অমৃত মনে হল। এরপর হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের দিকে আবার তৈরি হলাম মাউন্ট টোমারির চূড়া থেকে সূর্যাস্ত দেখব বলে।

নেলসন বে থেকে গাড়িতে শোল বে খুবই কাছে, কয়েক মিনিটেই পৌঁছে গেলাম। পাহাড়ের নীচে গাড়ি পার্ক করে উপরের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম এই পাহাড়ের উপরে চড়ার শখটা হয়তো আমার অপূর্ণই থেকে যাবে। হাতে শুধু এক বোতল জল আর পকেটে মোবাইল ফোনটা নিয়ে গুটি গুটি পায়ে পাহাড়ের দিকে এগোতে লাগলাম। সামনেই দেখলাম বোর্ডে লেখা আছে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছোতে পঞ্চাশ মিনিট লাগবে। মন থেকে একটুও সায় পাচ্ছি না। পুরোটা পথ সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হবে।

আমি এক পা এগোই, তো দু-পা পিছোই। আমার হ্যাজব্যান্ড এরই মধ্যে হেঁটে অনেক উপরে উঠে গেছে। আমি তখনও চিন্তা করছি কী করব— উঠব, কী উঠব না। হঠাৎ দেখলাম একজন ভদ্রমহিলা তার দুটো বাচ্চাকে সাথে নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসছে। ছোটো বাচ্চাটার বয়স বড়ো জোর তিন হবে।

আমাকে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাহস যোগানোর ভঙ্গিতে ভদ্রমহিলা বললেন, আমার তিন বছরের ছেলে উপর থেকে ঘুরে এল। চেষ্টা করুন, ঠিক পারবেন। এবার আর দেরি না করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করলাম। কিছুদূর উঠতেই দেখতে পেলাম পাহাড়ের বাঁকে মাঝে মাঝে বসার জায়গা আছে। সিঁড়িতে বসে একটু জিরিয়ে নেবার সময় মনে হল তার মানে আমি একা নই। পাহাড়ে চড়তে অনেকেরই অসুবিধে হয়। তাই সবার সুবিধার্থে এই ব্যবস্থা।

প্রায় পঞ্চাশ মিনিট পর শেষ পর্যন্ত মাউন্ট টোমারির চূড়ায় পৌঁছোলাম। যদিও অনেকেই কুড়ি মিনিটের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছে গেছে। আমার অবশ্য তাতে একটুও দুঃখ নেই। পাহাড়ের উপর থেকে সে এক অপূর্ব দৃশ্য। সন্ধ্যা প্রায় সাতটা মতো বাজে। এখনও সূর্য রয়েছে। গ্রীষ্মকালে অস্ট্রেলিয়াতে রাত আটটার পরেও আকাশে সূর্য দেখা যায়।

(ক্রমশ…)

আমার স্বামী একজন মদ্যপ এবং জুয়াড়ি

আমার স্বামী একজন মদ্যপ এবং জুয়াড়ি৷ শুরুতে ও আমাকেও এই খেলায় অংশ নিতে বাধ্য করত৷আমি অশান্তি করায়,  এখন বাড়িতেই বন্ধুবান্ধবদের ডেকে জুয়ার আসর বসায়৷জুয়ায় হেরে গেলে মদ্যপ অবস্থায় আমায় মারধোরও করে৷ আমি অনেক বুঝিয়েও এই জুয়ার আসক্তি থেকে ওকে সরাতে পারছি না৷আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে৷ তারা খুবই ছোটো৷আমি চাই না তাদের জীবনটা ওর এই খারাপ অভ্যাসের জন্য নষ্ট হোক৷ ও সন্তানদের খুবই ভালোবাসে৷ নেশা কেটে গেলে ভুল স্বীকার করে, প্রতিজ্ঞা করে আর করবে না৷ ছেলেমেয়েদের ভালো করে মানুষ করবে৷আর টাকাগুলো এভাবে নয়ছয় করবে না৷  কিন্তু এই অনুশোচনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না৷ পুনরায় একই কাজ করে৷ কী করব?

 

এসব ক্ষেত্রে নেশায় আসক্ত ব্যক্তিরা কখনোই মানতে চায় না যে তারা অনৈতিক কোনও কাজ করছে৷ Cheat, lie, deny, এই তিনটি জিনিস তাদের স্বভাবসিদ্ধ৷ আপনি চাইলেই যে আপনার স্বামী কাল থেকে স্বভাব বদলে ফেলবে, এটা আপনি আশা করবেন না৷ আপনার জন্য খারাপই লাগছে, কিন্তু স্বামীকে এই বিশ্রি নেশার কবল থেকে বের করে আনা মোটেই সহজ নয় এবং সময়সাপেক্ষও বটে৷

আপনি হয়তো সমর্থন আশা করছেন, আর পরামর্শটি পড়ে মনে হচ্ছে যে  আপনার প্রতি কঠোর হচ্ছি৷ আসলে কিছু বিষয় আপনাকেও কঠোর ভাবে বিবেচনা করতে হবে৷ কয়েকটি জিনিস আপনাকে বুঝতে হবে৷ আপনি কী করতে পারেন এবং আপনি কী করতে পারেন না। আপনি তাকে পরিবর্তন করতে পারবেন না খুব সহজে। আপনি তাকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করতে পারবেন না। আপনি তাকে বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে বা তার মদের প্রতি আসক্তি বন্ধ করতে পারবেন না রাতারাতি। যত তাড়াতাড়ি আপনি এই চরম সত্য বুঝতে পারবেন, আপনার পথ তত পরিষ্কার হবে। আপনি তাকে ভালোবাসেন,হয়তো সেও আপনাকে ভালোবাসে এবং আপনার বাচ্চাদেরও৷ কিন্তু সে তার আসক্তিকে বেশি ভালোবাসে।

তাকে পরিবর্তন করার একমাত্র উপায় হল আপনার সাময়িক ভাবে বাচ্চাদের নিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া৷ আপনার প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন হলে, সেও এটা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবে।

আপনি ডোমেস্টি ভায়োলেন্স-এর শিকার মহিলাদের নিয়ে কাজ করে, এমন কোনও এনজিও-র সাহায্যও নিতে পারেন৷ওরাই সাহায্য করবে ৷ ছেড়ে দেওয়া সম্পর্ক, সহনির্ভরতার সম্পর্ক এবং কীভাবে আপনি আপনার স্বামীকে পরিবর্তন করতে পারেন, সে সম্পর্কে শেখাবে। বিষয়গুলিকে কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবেন সমব্যথি মহিলাদের থেকে যারা এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গেছেন।

এই মুহুর্তে আপনার স্বামী তার সমস্যাগুলি দেখতে পাচ্ছেন না কারণ সম্ভবত তার আশেপাশের প্রত্যেকেই একই কাজ করছে৷তার কাজের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হলে বা তার আচরণের জন্য কোনও নেতিবাচক পরিণতির সম্মুখীন হতে হলে– তবেই সে শুধরোবে৷।

এর পরের পর্যায়টি হল স্বামীকে কোনও রিহ্যাব হোম-এ পাঠানো৷ এতেও আপনি ওই সংস্থারই সাহায্য নিতে পারেন৷

নেলসন বে থেকে বর্ষবরণ (পর্ব-০২)

সমুদ্রের পাশেই আছে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি। হাজার হাজার বছর ধরে সমুদ্রের বালি জমে তৈরি হয়েছে এই অপরূপ স্থলভাগ, যা গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্র আর অরণ্যের মাঝখানে। এনা বে-র বিরুবি বিচে ঢুকেই প্রথমে চোখে পড়ল এই বালিয়াড়ি। যে-দিকে চোখ যায় সে দিকেই শুধু নরম সিল্কের মতো মোলায়েম আর দুধের মতো সাদা বালি। সূর্যের আলো পড়ে বালিগুলো থেকে যেন এক স্বর্গীয় আলোর ছটা বেরিয়ে আসছে। দেখেই মনে পড়ল দুবাই-এর কথা। ঠিক এরকমই বালিয়াড়ি দুবাই- এ দেখেছিলাম। কিন্তু সেখানে তো এটা খুবই স্বাভাবিক! অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্র সৈকতের ধারে যে এরকম বালিয়াড়ি থাকতে পারে সেটা একমাত্র নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না!

ভিড়ও কিছু কম নয়। এই বালিয়াড়িতে অনেক রকমের আমোদের ব্যবস্থা আছে। উটে চড়া, ঘোড়া চড়া, চার চাকার সাইকেলে চড়া (Quad Bike), ফোর হুইল ড্রাইভ, এমনকী অনেককেই দেখলাম স্যান্ড বোর্ডে করে বালির টিলার উপর থেকে নীচে নামছে। টিলাগুলো প্রায় ৩০ মিটার উঁচু, সেই সাথে প্রায় ৬০ ডিগ্রির মতো ঢাল রয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় টুরিস্টদের এই বালিয়াড়ি নিরাশ করবে না। চার চাকার বাইকে করে বালির পাহাড়ের টিলা থেকে নীচে নামার রোমাঞ্চই আলাদা। সারা জীবনের জন্য এই অভিজ্ঞতা মনের মণিকোঠায় সঞ্চিত থাকবে।

বালিয়াড়ির ঠিক পাশেই অপূর্ব সৈকত। উট আর ঘোড়াগুলো বালিয়াড়ির টিলা থেকে যাত্রা শুরু করে নীচে নেমে সমুদ্র সৈকতে কিছুক্ষণ ঘুরে আবার উপরে টিলায় ফিরে যায়। ঘড়িতে সময় এগোনোর সাথে সাথে বালির তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে। তাই বালিয়াড়ি থেকে এবার সমুদ্রে যাবার পালা। সমুদ্রের ঠান্ডা জল পায়ে লাগাতেই মনে হল যেন দুবাই থেকে অস্ট্রেলিয়া এলাম। বালিয়াড়ির বালিতে হাঁটার চেয়ে বিচের বালিতে হাঁটা অনেকটাই সহজ। ঘন্টাখানেক বিচে হেঁটে, অন্যান্য টুরিস্টদের সাথে কথা বলে সময়টা বেশ ভালোই কাটল। এক যাত্রায় মরুভূমি আর সমুদ্র, দুয়েরই স্বাদ নিয়ে হোটেলে ফিরে এলাম।

ফেরার পথে গ্যান গ্যান লুকআউটে কিছুটা সময় কাটানো হল। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবোরিজিনাল ভাষায় গ্যান গ্যান কথার অর্থ হল সামুদ্রিক ঈগল। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে এই লুকআউট থেকে নীচে সমুদ্র দেখে মনে হয় সত্যিই যেন পাখির চোখ দিয়ে দেখছি। সেই জন্যই হয়তো জায়গাটার এরকম নামকরণ করা হয়েছিল। পাহাড়ের উপর এখানে সহজেই গাড়ি নিয়ে পৌঁছোনো যায়। উপর থেকে বহু দূর পর্যন্ত দেখা যায়, যেখানে সমুদ্র আর অরণ্য মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতি যেন এক অপরূপ সাজে নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে বসে আছে আমাদের জন্য। দিনের মধ্যে যে-কোনও সময়ই এখানে যাওয়া যেতে পারে। তবে ঊষা আর গোধূলিবেলার রঙিন আকাশ প্রকৃতির এই রূপকে যেন আলাদা একটা মাত্র দেয়।

ওয়ান মাইল বিচ নামে অপূর্ব সুন্দর একটা সমুদ্র সৈকত আছে এখানে, যেটা না দেখলে সমুদ্র উপকূলের এই শহরে ভ্রমণটাই অপূর্ণ থেকে যাবে। বাচ্চা থেকে বুড়ো, সবার জন্যই এটা একটা বিশেষ উপভোগ্য জায়গা। নেলসন বে থেকে গাড়িতে মাত্র দশ মিনিট লাগল এই বিচে পৌঁছোতে। এখানকার অগভীর জল— সৈকতে হেঁটে বেড়ানো, সাঁতার কাটা বা বাচ্চাদের নিয়ে খেলা করার জন্য খুব উপযোগী। ঘন্টাখানেক বিচে হেঁটে দেখলাম কত বাবা-মা তাদের ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এসেছে। ছোটো বড়ো নির্বিশেষে সমুদ্র সৈকতে বসে বালি দিয়ে বানানো বিভিন্ন রকমের দুর্গ, নজর কাড়তে বাধ্য। এখানে লোকেরা বলে সমুদ্র সৈকতে বসে বালির দুর্গ বানানোটা একরকমের মেডিটেশন। তবে গোধূলিবেলায় এই বিচ আবার সম্পূর্ণ অন্যরকম এক স্বর্গীয় রূপ নিয়ে হাজির হয়। আকাশের ল্যাভেন্ডার কালার সমুদ্রের জলে প্রতিফলিত হলে মনে হয় যেন প্রকৃতি তার রং-তুলির খেলা খেলছে।

(ক্রমশ…)

উৎসবের রসনায় বিদেশি প্রভাব

বাঙালির খাওয়ার অভ্যাসে নানা ঘাটের জল এসে মিশেছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। খাদ্যরসিক বাঙালির খাবার নিয়ে বিলাসিতার কোনও শেষ নেই। এমনিতে বাঙালির শরীরে নানা জাতের রক্তের মিশ্রণ ঘটেছে তাই তার রান্নাঘরেও ঘটে গেছে বিপ্লব। রান্নার রকম সবারই আলাদা আলাদা। নানা গোষ্ঠীর নানা রান্না। চিনা, বিলিতি, পারস্য, পর্তুগিজ, দিশি কত ঘাটের রান্নার রকমারি এসে বাঙালির পাতে মিশেছে। বাঙালি শুধু মাছে ভাতে থেমে নেই, মোগলাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশ বিদেশের খাবার জায়গা পেয়েছে বাঙালির রান্নাঘরে। খাওয়া-দাওয়া তাই বঙ্গ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

মরক্কান মাটন তাজিন

 উপকরণ: খাসির মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, পাপরিকা ২ চা-চামচ, তেজপাতা ২টি, গোলমরিচের গুঁড়ো ১ চা-চামচ, দারুচিনি ২টি, আদাকুচি ১ টেবিল চামচ, জাফরান ভেজানো জল ৫ টেবিল চামচ, ল্যাম্ব বা বিফ স্টক ২ কাপ, হলুদগুঁড়ো ১ চা-চামচ, লবণ পরিমাণমতো, অলিভ তেল ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, আলু বোখারা ৮-১০টি, মধু ১ চা-চামচ, ভেজে নেওয়া কাঠবাদাম ১০-১২টা, দারুচিনিগুঁড়ো সামান্য।

প্রণালি: খাসির মাংসের সঙ্গে আদাকুচি, হলুদগুঁড়ো, পাপরিকা, গোলমরিচের গুঁড়ো, লবণ মেখে এক ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। তেলে পেঁয়াজ হালকা ভেজে তেজপাতা, দারুচিনি, রসুনকুচি ও মেরিনেট করা মাংস ঢেলে নিন। কয়েক মিনিট নাড়ুন। অল্প অল্প করে কিমার স্টক দিয়ে নাড়ুন। মাংস সেদ্ধ হওয়ার জন্য ঢেকে রাখুন। অন্য একটা প্যানে মাখন গরম করে কিশমিশ, আলু বোখারা ভেজে নিন। মধু ও দারুচিনিগুঁড়ো মাংসে ঢেলে দিন। ওপরে কাঠবাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

বেক করা খাসির পায়ের রোস্ট 

উপকরণ: খাসির রান ১টি, রসুনের কোয়া ৮-১০টি, আলু ২টা, পেঁয়াজ ৪-৫টা, অলিভ তেল ১ টেবিল চামচ, রোজমেরি ১ চা-চামচ, পার্সলে ২ টেবিল চামচ, বাদামবাটা ১ টেবিল চামচ, গোলমরিচের গুঁড়ো ১ চা-চামচ, পাপরিকা ১ চা-চামচ, অরিগানো ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণমতো, ধনেপাতাকুচি ৩ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি: খাসির রান ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। জল ঝরিয়ে নেবেন। ছুরি দিয়ে দাগ কেটে নিন। এর ভেতর রসুনের কোয়া ঢুকিয়ে নিন। পেঁয়াজ, গাজর, আলু বড়ো করে টুকরা করে নিন। এতে সামান্য অলিভ তেল, লবণ ও গোলমরিচের গুঁড়া মেখে নিন। বেকিং ট্রেতে বিছিয়ে দিন। সব রকম হার্বস, পাপরিকা, লবণ, অলিভ তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। খাসির রানে ভালোভাবে মাখুন। এবার বেকিং ট্রের সবজির ওপর খাসির রান রাখুন। প্রিহিট করা ওভেনে ২০০ ডিগ্রি তাপে এক ঘণ্টা বেক করুন। বেকিং ট্রে থেকে মাংস সবজি সরিয়ে নিন। ওই ট্রেতে ১ কাপ গরম জল ঢালুন। এবার ট্রে-টি ১০ মিনিটের জন্য ওভেনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিন। বের করে ওই জলে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে আগুনে ফুটতে দিন। ঘন করে সস বানিয়ে নিন। পরিবেশন করুন খাসির পায়ের রোস্টের সঙ্গে।

রশ্মিকা- রণবীরের রসায়ন কি জমবে অ্যানিম্যাল-এ?

‘অ্যানিম্যাল’-এর টিজার দেখেই রশ্মিকা মন্দানায় মাতোয়ারা ভারতের নানা প্রান্তের ভক্তরা। রণবীর কপূরের নায়িকাকে নিয়ে যখন নেটপাড়ায় চর্চার অন্ত নেই, ঠিক সেই অবসরেই সোশাল মিডিয়ায় ঘুরছে রশ্মিকার বিকৃত ভিডিও। মুক্তির আগেই খানিকটা বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণী অভিনেত্রী। যদিও জানা গেছে এটি ডিপ ফেক নামের একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাপের কারসাজি, তাও ছবি মুক্তির আগে বেশ টেনশনে রয়েছেন রশ্মিকা৷

দক্ষিনী ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী Rashmika Mandanna বলিউডেও রীতিমতো প্রভাব বিস্তার করেছেন। ‘ডিয়ার কমরেড’ ছবিতে কাজ করে তিনি সকলের নজরে এসেছিলেন।‘পুষ্পা’ ছবির পর থেকেই ভারতীয় বিনোদন দুনিয়ায় শোরগোল পড়ে যায় রশ্মিকা মন্দানার অভিনয় গুণে। এমনকী সেই দক্ষিণী ছবির পর বলিউডের বিগ বাজেট বহু প্রতীক্ষিত ‘অ্যানিম্যাল’ সিনেমার প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে। ছবিতে রণবীর কপূরের বিপরীতে নায়িকার চরিত্রে রয়েছেন তিনি।

‘গুডবাই’-এর পর বলিউডে রশ্মিকার মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘মিশন মজনু’। তবে দু’টি ছবিই ব্যর্থ। তার পরেও রশ্মিকার কেরিয়ারে আশা বয়ে আনতে পারে ‘অ্যানিমাল’ ছবিটি। পয়লা ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে রণবীর কপূর, রশ্মিকা মন্দনা অভিনীত এই ছবি। ‘অর্জুন রেড্ডি’ ও ‘কবীর সিংহ’ খ্যাত পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গা রয়েছেন পরিচালনার দায়িত্বে।

প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল ১১ অগস্ট মুক্তি পাবে রণবীর  অভিনীত এই ছবি। হিসেব মতো বক্স অফিসে এই ছবির সঙ্গে টক্কর জমত সানি দেওলের ‘গদর ২’, এবং অক্ষয় কুমারের ‘OMG 2’ ছবি দুটির। একই দিনে মুক্তি পেয়েছিল দেবের ‘ব্যোমকেশ ও দুর্গ রহস্য’। কিন্তু নানা কারণেই এই ছবি মুক্তির দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

ছবির টিমের তরফে জানানো হয়েছিল VFX -এর কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। তাই  মুক্তি দেওয়া যাবে না এই ছবি। রিপোর্ট অনুযায়ী এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক বিশ্বমানের VFX উপহার দিতে চান দর্শকদের। আর সেটার জন্য এতটা সময় লেগে গেল। ছবির অ্যাকশন দৃশ্যের VFX -এ বদল আনা হয়েছে।শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছবিটি।

বছরের প্রথমেই মুক্তি পেয়েছিল ছবির পোস্টার। তার পরে মুক্তি পায় ছবির ‘প্রি-টিজ়ার’।এবার ছবি মুক্তির খবরে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত রশ্মিকা। আগেভাগেই বলে দিয়েছিলেন, এই ছবি সাফল্য আনতে চলেছে। ছবি যে দর্শকদের মন কাড়বে এ ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন অভিনেত্রী।

১ ডিসেম্বরে এই ছবির মুক্তির ঠিক তিন সপ্তাহ আগেই মুক্তি পাবে ‘টাইগার ৩’। ফলে আশা করা হচ্ছে বক্স অফিসে প্রভাব ফেলতে বিশেষ অসুবিধা হবে না রণবীরের ছবির। একই সঙ্গে বড়োদিনে মুক্তি পাবে শাহরুখ এবং রাজকুমার হিরানির ‘ডাঙ্কি’। তার মানে দুদিকেই ভালো সময় পেয়ে যাবে এই ছবি ব্যবসা করার জন্য। দর্শকদের কেমন লাগে রণবীর- রশ্মিকার জুটি—সেটাই এখন দেখার৷

ফেস্টিভ Party Time

উৎসবের সময় বন্ধু বা আত্মীয় পরিজনরা মিলে ছোটো খাটো অনুষ্ঠান করুন৷এতে Bonding বাড়ে৷ উপহার আদানপ্রদান, খাওয়াদাওয়া এতো ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ৷ ছোটো বড়ো মিলে একাত্ম হয়ে থাকার নামই হল ভারতীয় সমাজ৷ সারা ভারতে নান প্রান্তে রয়েছে নানা রকম স্বাদ আর ব্যঞ্জন প্রণালী৷ বাঙালিরা সমস্ত ভারতের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে নিয়েছে৷ ফলে তাদের রান্নাঘরে এসেছে অভিনবত্য আর বৈচিত্র৷ উৎসবের দিনের পার্টি ডিশ হতে পারে,আজ আমরা এমন কিছু রেসিপি পরিবেশন করছি৷

ফিশ ফ্রাই

উপকরণ : ৫০০ গ্রাম শোল মাছ, ৩০ মিলি ভিনিগার, ১ গ্রাম হলুদগুঁড়ো, ৫ গ্রাম জোয়ান, ৫ গ্রাম লংকাগুঁড়ো, ২টো ডিম, ৫ গ্রাম জিরেগুঁড়ো, ৫০ গ্রাম বেসন, ১০ গ্রাম ময়দা, ১০০ মিলি তেল, ৪ গ্রাম চাটমশলা, ১০ গ্রাম আদা, ৫ গ্রাম রসুন, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : মাছের পিসগুলি ভালো ভাবে ধুয়ে নুন আর ভিনিগার মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এবার কাগজের ন্যাপকিনে মুছে আলাদা প্লেট-এ রাখুন। একটি পাত্রে ডিম, আদা-রসুন পেস্ট, জোয়ান, হলুদ ও লংকাগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো, বেসন ও ময়দা গুলে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই মিশ্রণে মাছগুলি ডুবিয়ে, আবার আধঘণ্টা রেখে দিন। একটি প্যানে তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলো ভেজে নিন। প্লেটে সাজিয়ে লেবুর কুচি, স্যালাড ও সস সহযোগে পরিবেশন করুন ।

তন্দুরি স্টাফ আলু

Tandoori Stuff Alu recipe

উপকরণ : ১ কিলো আলু, ৪ গ্রাম হলুদগুঁড়ো, ৫ গ্রাম চাটমশলা, ২০ গ্রাম কাজু, ১০ গ্রাম কিশমিশ, ৫ গ্রাম কাঁচালংকা, ১০ গ্রাম ধনেপাতা, ২০ গ্রাম সাদা তিল, নুন স্বাদমতো, ১০ গ্রাম খোয়াক্ষীর।

প্রণালী : আলুর খোসা ছাড়িয়ে মাঝখান বরাবর ফালি করে স্কুপ করে নিন। তারপর আলুগুলো গরমজলে খানিকটা ভাপিয়ে নিন। এবার সেদ্ধ আলু তিলের উপর আলতো মাখিয়ে ভেজে নিন। এরপর আলাদা পাত্রে খোয়াক্ষীর অল্প নুন দিয়ে চটকে নিন। এতে কাজু কিশমিশ মেশান ও চাটমশলা ছড়িয়ে স্টাফ তৈরি করুন। ভাজা আলুতে এই পুর ভরে তন্দুরে বেক করুন। ধনেপাতা ছড়িয়ে, গরম গরম স্টাফ আলু পুদিনার চাটনি সহযোগে পরিবেশন করুন।

গার্লিক চিজ র‍্যাপ

Garlic Cheese wrap recipe

উপকরণ : ১ কিউব বাটার, ১ কাপ চিজ গ্রেট করা, ১টা ডিমের কুসুম, ২ কোয়া রসুন কুচি করা, অল্প গোলমরিচ, ধনেপাতাকুচি, কাঁচালংকা, নুন স্বাদমতো, প্রয়োজনমতো ফয়েল পেপার।

প্রণালী : একটি পাত্রে ডিম, চিজ ও ধনেপাতাকুচি ভালোভাবে মেশাতে থাকুন। প্যানে মাখন গরম করে এতে রসুন, নুন ও গোলমরিচ ছড়িয়ে ভেজে নিন। এতে ডিম-চিজ-এর মিশ্রনটা ঢেলে দিন। প্যান কেকের মতো ভেজে নিন। এবার চিজ র‍্যাপগুলি ফয়েল পেপারে জড়িয়ে বেকিংট্রেতে মাখন লাগিয়ে ১৫ মিনিট বেক করুন ও গরম গরম সার্ভ করুন।

নেলসন বে থেকে বর্ষবরণ (পর্ব-০১)

প্রতি বছর ভারত থেকে বহু মানুষ বেড়াতে আসেন অস্ট্রেলিয়াতে। তার মধ্যে বেশির ভাগ টুরিস্ট সাধারণত সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন বা গোল্ড কোস্ট দেখতে যায়। অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেকটি শহরেই ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু আছে। তবে শহরের কংক্রিটের জঙ্গল, যানজট, আর ব্যস্ত জীবনযাত্রার থেকে একটু বাইরে বেরোলেই টুরিস্টদের জন্য অপেক্ষা করছে অন্য এক অস্ট্রেলিয়া। ইচ্ছে করলে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেমন সমুদ্র সৈকতে শুয়ে সূর্যস্নান করে অলস ভাবে দিন কাটানো যেতে পারে, তেমনি ভোরবেলা সমুদ্র সৈকতের বিশুদ্ধ বাতাসে প্রাতভ্রমণটা সেরে নিয়ে, সকালের জলখাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়া যেতে পারে সারাদিনের জন্য অস্ট্রেলিয়ার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে।

কর্মক্লান্ত ২০২২-এর শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই মনে হল সিডনিতে আর ভালো লাগছে না। শরীর মন দুটোই যেন দৈনিক জীবনের একঘেয়েমি থেকে পালাতে চাইছে। আগেই বলে রাখি, আমি কিন্তু সিডনিতে টুরিস্ট নই। গত পঁচিশ বছর হল এটাই আমার বাসস্থান। আর মনে যখন হয়েছে, তখন কোথাও তো যেতেই হবে। বাড়িতে আমি আর আমার হাজব্যান্ড। দু’জনে মিলে আলোচনা করে ঠিক হল সিডনির কাছেপিঠেই কোনও নির্জন জায়গায় এক সপ্তাহ ঘুরে আসা যাক। বেশ কয়েকটা জায়গা ভেবে শেষ পর্যন্ত স্থির হল পোর্ট স্টিফেন্স-এর নেলসন বে (Nelson Bay) । যতটা সহজে জায়গা নির্ধারণ করা গেল, একটা হোটেল বুক করা ঠিক ততটা সহজ হল না।

ক্রিসমাস আর নিউ ইয়ার-এর সময় অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় দু-সপ্তাহ ছুটি থাকে। দেশ-বিদেশ থেকে লোকেরা এই সময় এখানে বেড়াতে আসে। তাই আগে থেকে সব ব্যবস্থা না করা থাকলে শেষ মুহূর্তে হোটেলে জায়গা পাওয়া একরকম অসম্ভব। তাও শেষ পর্যন্ত কপালের জোরেই হোক বা একজন কেউ তার বুকিং ক্যানসেল করেছে বলেই হোক, একটা হোটেলে জায়গা পেয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম আর কিছু না হোক, সমুদ্র সৈকতে বালির উপর শুয়েই সাতদিন কাটিয়ে দেব।

সিডনি থেকে ২১৫ কিলোমিটার উত্তরে, গাড়িতে মাত্র আড়াই ঘন্টার পথ এই পোর্ট স্টিফেন্স। অনেকগুলো ছোটো ছোটো উপসাগরের সমন্বয়ে তৈরি এই পোর্ট। নেলসন বে, সালামন্ডার বে, শোল বে, এনা বে আর ফিঙ্গাল বে— এরকমই কয়েকটি উপসাগর।

আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে অস্ট্রেলিয়াতে ব্রিটিশ উপনিবেশের শুরুর দিকে এই বন্দর তৈরি করা হয়। এখান থেকেই কাঠ আর উল রফতানি করা হতো। সে সব পার্ট অবশ্য অনেক আগেই ঢুকে গেছে। এখন পোর্ট স্টিফেন্স মূলত একটি পর্যটন শিল্প কেন্দ্র হিসেবেই বেশি পরিচিত। জায়গাটার একটা বিশেষত্ব হল এখানে সমুদ্র, বালিয়াড়ি, পাহাড় আর অরণ্যের খুব সুন্দর ভাবে মেলবন্ধন ঘটেছে। তাই নেলসন বে খুব সহজেই সবরকম ভ্রমণপিপাসু মানুষদের খুশি করতে পারে।

এই যেমন ধরুন যারা সমুদ্র ভালোবাসেন তারা সমুদ্রে মাছ ধরা, তিমি বা ডলফিন দেখা, এমনকী এদের সাথে একই সাথে জলে সাঁতার কাটা, স্নোরকেলিং এমনকী নৌকা ভাড়া করে সমুদ্র বক্ষে প্রমোদ ভ্রমণেও বেরোতে পারে। প্রমোদ তরণীতে চেপে ডলফিন দেখতে যাবার আনন্দ ছিল অকল্পনীয়।

পোর্ট স্টিফেন্সকে অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন রাজধানিও বলা হয়ে থাকে। এখানে কয়েকশো ডলফিন স্থায়ীভাবে বাস করে। তাছাড়াও বছরের বিভিন্ন সময়ে অন্য জায়গা থেকেও আরও ডলফিন এখানে আসে। ডলফিন আমার মনে হয় কৌতুকপ্রিয় পশুদের মধ্যে অন্যতম। এখানকার ডলফিনদের দেখলে মনে হয় টুরিস্টদের মনোরঞ্জন করাই এদের একমাত্র কাজ। রোজ এত টুরিস্ট দেখতে দেখতে এরা অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাই ভয় পেয়ে পালিয়ে না গিয়ে টুরিস্টদের বিনোদনের জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি করে না। অনেকেই আবার ডলফিনের সাথে জলে নেমে সুইমিং করল।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব