জোড়া শালিক (পর্ব-২)

পর্ব ২

সুশীলা দেখতে সুন্দরী, তার উপর মাঞ্জা দিয়ে গেছিল। বাড়ি ফিরে সুনীল, শালাকে ফোন করে বলল, ‘অব সে ডগডর কে পাস অপনি পাগলেট দিদিকো তুমহি লেকে জানা, আজ বহুৎ বেইজ্জত হুয়া মেরা।’

বলা বাহুল্য ডাক্তারের ওষুধ বেশিদিন চলল না এবং চরিত্রের পরিবর্তনও এল না। এই অসুবিধার জন্য সুনীল কোনও লম্বা দূরত্বের ট্রেনজার্নি সুশীলাকে নিয়ে করে না। কারণ সুশীলা ট্রেনের টয়লেটে কিছুতেই যাবে না। একবার ভাগ্নির বিয়েতে গুয়াহাটি নিয়ে গেছিল। গুয়াহাটি পৌঁছোতে বিকেল হয়ে গেল। সমস্যা দেখে, সুনীল ফিরতি পথে ফ্লাইটে এল।

সুশীলার এই আচরণে সবচেয়ে দুঃখী সুশীলার শ্বাশুড়ি মা। ভদ্রমহিলা যৌথ পরিবারে সংসার করেছেন, ভাসুর, দেওর ও জায়েদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকতেন। ওনারা এখন বাড়ির কাছাকাছি সবাই থাকেন। এছাড়া সুশীলার তিন ননদ। তারাও কাছাকাছি থাকেন। এরা সবাই সুশীলার ছোঁয়াছুঁয়ির ও সেই নিয়ে ঘ্যানঘ্যানানিতে বিরক্ত হয়ে সহজে এই বাড়িতে পা রাখেন না। এই নিয়ে বাড়িতে কম অশান্তি হয়নি। কিন্তু সুশীলা নিজেকে একটুও বদলায়নি।

নিজের এই চারিত্রিক অবস্থা নিয়ে সুশীলা কখনও মনে মনে নিজেই বিব্রত বোধ করে। বুঝে পায় না কী করবে! একেক সময় মনে করে কিছুতেই এসব নিয়ে ভাববে না। কিন্তু সেরকম কিছু দেখলে মনের মধ্যে খচখচ হতেই থাকে। নিজের এই বিব্রত বোধ কাউকে বললে একমাত্র রেখা ছাড়া সবাই বিস্তর জ্ঞান দেয়।

কাজের মেয়ে রেখা সুশীলাকে খুব তেলিয়ে চলে। রেখাই একমাত্র সুশীলাকে বোঝে, এরকমটাই সুশীলা মনে করে। তার জন্য মাঝে মাঝে দুশো চারশো টাকা রেখাকে ধারও দেয়। সেগুলো পরে ধার থেকে দান-এ পরিবর্তিত হয়ে যায়। টাকা ফেরত কখনওই বেচারি রেখা দিতে পারে না। তবুও টাকা নেওয়ার সময় ধার বলেই সুশীলার থেকে নেয়।

একদিন সুশীলা যখন ওর মনের দুঃখের কথা রেখাকে বলে, রেখা ওকে আশ্বস্ত করে, বলে ও এক গুনিনকে জানে যার অব্যর্থ ঝাড়ফুঁকে এসব নিমেষে ঠিক হয়ে যায়। সেইমতো বাড়ির লোককে লুকিয়ে সুশীলা রেখার সঙ্গে গুনিনের ডেরায় পৌঁছোয়। গুনিন গঙ্গার পাড়ে এক পোড়ো বাড়িতে ভেড়া বানিয়েছে। বাড়ির ভিতর ঢুকেই সুশীলার গা ছমছম করতে থাকে। নিজেকেই নিজে দোষ দেয় এই ভেবে যে, এরকম জায়গায় কাজের লোকের কথায় এই ভাবে আসাটা ঠিক হয়নি।

সুশীলার অবস্থা দেখে রেখা ওকে অভয় দেয়। সুশীলাকে নিয়ে ভিতরে ঢোকে। গুনিন তখন এরকমই আরেক রোগীর রোগ সারাতে ব্যস্ত। সমানে একটা ময়ূরপঙ্খি ঝাড়ু দিয়ে সপাং সপাং করে পিঠে মারছে, আর চলছে উটপটাং মন্ত্র উচ্চারণ। মার খাওয়া রোগী ঘাড় দুলিয়ে দুলিয়ে গোঙিয়ে চলেছে। সব মিলিয়ে এক ভয়ংকর ভয়াবহ পরিবেশ।

সুশীলা এক ঝটকায় রেখার হাত ছাড়িয়ে পিছন ফিরে দৌড় লাগাল। থামল এসে গলি থেকে বেরিয়ে মেন রোডে। পিছনে পিছনে ‘এ ভাবি, এ ভাবি’ বলে চীৎকার করতে করতে রেখাও দৌড়োতে দৌড়োতে এসে পৌঁছেছে। একটা খালি অটো থামিয়ে তাতে চেপে বসল সুশীলা। রেখা তখনও পিছনে ডেকে চলেছে। অ্যাপার্টমেন্টের ভিতরে ঢুকে শান্তি পেল সুশীলা। এরপর রেখার চাকরিটা ওই বাড়িতে আর একদিনের জন্যও টেকেনি।

জোড়া শালিকে খুব আস্থা সুশীলার। জোড়া শালিক দেখলে দিন ওর খুব ভালো যায়। এক শালিক দেখলে নাকি খুব খারাপ যায়। নিদেনপক্ষে শাশুড়ির বকা তো খেতেই হয়। এর একটা নিদানও বের করেছে সে। যেদিন এক শালিক দেখে আর জোড়া শালিক দেখা হয় না, সেদিন কপালে তর্জনি দিয়ে ‘জ’ আঁকে। তাতে নাকি কিছুটা রেহাই হয়। তবে সকাল সকাল ভুল করে একটা শালিক দেখলে ছাদে গিয়ে দ্বিতীয়টার দর্শন না করে খান্ত হয় না সে।

ক্রমশ…

 

নেলসন বে থেকে বর্ষবরণ (শেষ পর্ব)

দেখতে পেলাম অনেকগুলো চিংড়ি মাছ। বুঝতে অসুবিধা হল না এগুলো মাছের চার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কতক্ষণ হল আছেন এখানে?’ উত্তর পেলাম, “তা হবে চার-পাঁচ ঘন্টা।’ পাশেই দেখলাম আরেকজন ভদ্রলোক বঁড়শিটা জলে দিয়ে নিজে বসে বসে গল্পের বই পড়ছে।

এখানে অনেকেই শখে মাছ ধরতে যায়। সরকার থেকে তার জন্য টাকা দিয়ে লাইসেন্স কিনতে হয়। তারপর সারাদিন চেয়ার নিয়ে সমুদ্রের ধারে বসে বসে মাছ ধরে, কারও ভাগ্যে জোটে আবার কারও ভাগ্যে হয়তো জোটেও না। আর সব থেকে মজার ব্যাপার হল যাদের ভাগ্যে দু-একটা মাছ জুটে যায়, তারাও সেই মাছ আবার জলে ছেড়ে দেয়। বাড়িতে নিয়ে যায় না।

ফেরার পথে নিজের অজান্তেই কেন যেন মনে হল, লাইসেন্সের খরচ, চিংড়ি মাছের খরচ, সারাদিন কাজ না করে জলের ধারে বসে থাকা আর পড়ন্ত বিকেলে শূন্য হাতে বাড়ি ফেরা— প্রথম বিশ্বের মানুষদেরই এরকম বিলাসিতা সাজে!

আজ বছরের শেষ দিন। ২0২২-কে বিদায় জানাবে সারা পৃথিবীর মানুষ। কেউ একটু আগে, আবার কেউ আন্তর্জাতিক সময় রেখার জন্য একটু পরে। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে আতশবাজি পুড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। প্রতি বছর সিডনির বর্ষবরণের উৎসবে যোগ দিই। এবার একটু অন্যরকম ভাবে নিউ ইয়ারস ইভ কাটানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই করে এসেছি। এই সময় টুরিস্ট এত বেশি থাকে যে আগে থেকে বুকিং না করে রাখলে কিছুই পাওয়া যায় না। তাই আমি আগে থেকেই স্পেশাল নিউ ইয়ার্স ইভ ডিনার ক্রুজের বুকিং করে এসেছিলাম। সমুদ্রের বুকে নৌকায় চেপে এক গেলাস শ্যামপেনের সাথে পুরোনো বছরের সব গ্লানি ধুয়ে ফেলে নতুন বছরকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সন্ধ্যার সময় তৈরি হয়ে নেলসন বে জেটিতে পৌঁছোলাম। বাঙালির সময় জ্ঞান তো! নৌকার কাছে পৌঁছে দেখি আমাদের জন্যই সবাই অপেক্ষা করে আছে। একটু লজ্জিত ভাবে ‘সরি’ বলে নৌকায় উঠলাম।

ভেতরে ঢুকতেই একজন সেবিকা এসে আমাদের নিয়ে গেল একটা সুন্দর করে সাজানো টেবিলের কাছে। প্রথমেই নজর পড়ল আমাদের নাম লেখা দুটো কার্ড টেবিলের উপর রাখা। সাথে ফুলদানিতে নানা রঙের ফুল। আমাদের বসতে বলে মেয়েটি চলে গেল। একটু পরেই ফিরে এল খাবার আর ড্রিংক্স নিয়ে। এভাবেই একের পর এক খাবার আসতে লাগল। সাথে এল ড্রিংক্স। আর আমার জন্য স্পেশাল গ্রিন টি। পাশাপাশি চলছে লাইভ মিউজিক। খাবারের মাঝে মাঝেই অনেকে উঠে ড্যান্স ফ্লোরে গিয়ে ড্যান্স করছে। রাত বাড়ার সাথে সাথে মিউজিক আরও জোরে হচ্ছে, আর সবার অ্যালকোহলের নেশাও হয়তো বাড়ছে।

আমি উঠে নৌকার ডেক-এ গেলাম কিছুটা ফ্রেশ এয়ার পাওয়ার আশায়। বাইরে থেকে রাতের সমুদ্র যেন আরও সুন্দর। সমুদ্রের ধারের বাড়িগুলোর আলো সমুদ্রের জলে এসে পড়ে যেন এক মায়াবী আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরি করেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য কাউন্টডাউন শুরু হবে। আস্তে আস্তে অনেকেই আমার মতো বাইরে বেরিয়ে আসতে লাগল। ডেক থেকেই সমুদ্র সৈকতের আতশবাজি সব থেকে ভালো দেখা যাবে। সবাই উত্তেজনার সাথে উদ্‌গ্রীব ভাবে অপেক্ষা করছে। ঠিক তখনই কাউন্টডাউন শুরু হল ১০… ৯… ৮… ৭…। আর দেখতে না দেখতেই নেলসন বে-র আকাশ রঙের খেলায় মেতে উঠল।

প্রায় দশ মিনিট ধরে চলল আতশবাজি পোড়ানো। সবার হাতে মোবাইল ফোন। কেউ ফটো তুলছে, আবার কেউ ভিডিও রেকর্ডিং করছে। খুব কম লোকই দেখলাম যারা হাতে ফোন না নিয়ে শুধুমাত্র সেই মুহূর্তটুকুকেই নিজের চোখ দিয়ে, মন দিয়ে উপভোগ করল। টেকনোলজি আমাদের সর্বতো ভাবে পালটে দিয়েছে।

আতশবাজি পোড়ানো শেষ হবার পর আমাদের প্রমোদতরণী আবার সবাইকে নিয়ে নেলসন বে জেটির দিকে যাত্রা শুরু করল। ফেরার পথে সবাইকে ডেজার্ট পরিবেশন কর হল। এতকিছু খাওয়ার পর ডেজার্ট খাওয়াটা একটু কষ্টকর হলেও এত সুন্দর করে বানানো কেকগুলোকে প্রত্যাখ্যানও করা যায় না। তাই নিউ ইয়ার্স রেসলিউশন হিসেবে মনে মনে ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কেকটা খেয়েই ফেললাম। নেলসন বে পৌঁছোতে আরও কিছুক্ষণ লাগল। নৌকো থেকে নামার আগে সবাইকে বিদায় জানিয়ে, হোটেলের দিকে পা বাড়ালাম।

(সমাপ্ত)

টেস্টি টি-টাইম

বিকেলে অতিথিদের চায়ের নিমন্ত্রণ করেছেন? দোকান থেকে বাইরের খাবার কিনে এনে খাওয়াতে চান না?  তাহলে তো ভিন্ন ধরনের কিছু খাবার বাড়িতেই তৈরি করতে হবে  অতিথি অভ্যাগতদের জন্য৷

বিকেলের চা মধ্যাহ্নভোজন এবং রাতের খাবারের ফাঁক পূরণ করে। এটি বেশি ভারী হয়ে যাবে, এমন খাবার পরিবেশন না করাই ভালো৷চায়ের সঙ্গে স্যান্ডউইচ, প্যাটি এগুলি কমন অপশন৷ কিন্তু আপনি নিজের মতো করে একটি মেনু ঠিক করতে পারেন৷ সাধারণ খাবার হলেও এগুলি অতিথিদের চায়ের সঙ্গে মন্দ লাগবে না৷

কর্ন রোল

উপকরণ : ১ কাপ সেদ্ধ করা চাল, ১ কাপ কর্ন সেদ্ধ, ১ কাপ পালংশাক সেদ্ধ, ১ বড়ো চামচ ময়দা, ৪-৫টি কাঁচালংকা কুচি করা, ভাজার জন্য তেল, ২ ছোটো চামচ আমচুর, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা গুঁড়ো, ১ ইঞ্চি আদার টুকরো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : ভাত, পালংশাক, নুন, আদাপেস্ট, কর্ন, আমচুর পাউডার ও গরমমশলাগুঁড়ো একসঙ্গে চটকে মেখে নিন। এবার এই মিশ্রণ থেকে ছোটো ছোটো রোল তৈরি করুন। অল্প নুন দিয়ে ময়দা গুলে নিন। রোলগুলি ময়দাগোলায় ডুবিয়ে ডিপ ফ্রাই করুন। সস বা চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

পেঁয়াজের পকোড়া

Crispy Onion Pakoda

উপকরণ:  ১.১/২ কাপ পেঁয়াজ লম্বা করে কাটা, ১ কাপ বেসন, ১ বড়ো চামচ চালগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ২টো কাঁচালংকা মিহি করে কাটা, অল্প ধনেপাতাকুচি, ভাজার জন্য পর্যাপ্ত তেল, নুন স্বাদমতো৷

প্রণালী : পেঁয়াজে অল্প নুন ছড়িয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। তেল ছাড়া বাকি সব উপকরণ, একসঙ্গে মিক্স করে নিন। এবার পেঁয়াজ হাত দিয়ে চেপে জল ঝরিয়ে এই মিশ্রণের সঙ্গে মেখে নিন। প্রয়োজনে মসৃণ করার জন্য সামান্য জল মেশান। কড়ায় তেল গরম করে মিশ্রণ থেকে ছোটো পকোড়া তৈরি করে, ডিপ ফ্রাই করুন। ধনেপাতা-পুদিনার চাটনি সহযোগে পরিবেশন করুন।

 

চিজ পাই

Cheese Pie recipe

উপকরণ : ৬টা ব্রেড স্লাইস মাখন লাগানো, ২০০ গ্রাম চিজ গ্রেট করা, ২টো ডিম, ১ কাপ গরম দুধ, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী : ডিম ফেটিয়ে, নুন, গোলমরিচ ও দুধ ঢেলে মিশ্রণ তৈরি করুন। ব্রেড স্লাইসের ধারগুলো কেটে, ছোটো ছোটো টুকরো করুন। কিছু টুকরো, মাখন লাগানো বেকিং ট্রে-তে রাখুন। এর উপর দুধ-ডিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন ও চিজ ছড়িয়ে দিন। এবার বাকি ব্রেড স্লাইস ছড়িয়ে, অবশিষ্ট দুধ-ডিমের মিশ্রণ ও চিজ ঢেলে দিন। ১৮০ ডিগ্রি প্রি-হিটেড আভেনে রেখে পাই বেক করুন। গরম গরম পরিবেশন করুন, ছোটোরা মজা করে খাবে।

নেলসন বে থেকে বর্ষবরণ (পর্ব-০৪)

পাহাড়ের চূড়া থেকে পোর্ট স্টিফেন্স, নেলসন বে আর টোমারি ন্যাশনাল পার্ক দেখা যাচ্ছে। এবার মনে হল এত কষ্ট করে পাহাড়ে ওঠাটা সত্যিই সার্থক হয়েছে। দেখতে দেখতেই সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলতে শুরু করল। আর সাথে সাথে চারদিকে সূর্যের লাল আভা ছড়িয়ে পড়তে লাগল। মনের ক্যামেরায় বন্দি করে নিয়ে এলাম এই মোহময়ী প্রকৃতির রূপ। এরপর আবার ফেরার পালা। পাহাড় থেকে নামার সময় কষ্ট অনেকটাই কম হল। সময়ও অনেকটাই কম লাগল।

এত উঁচু পাহাড়ে চড়ে বেশ কিছুটা ক্যালোরি বার্ন হয়েছে, তাই খিদেও পেয়েছে বেশ। সামনেই শোল বে-র খুব জনপ্রিয় থাই রেস্তোরাঁ, ‘মড থাই’-তে ডিনার করতে ঢুকলাম। নেলসন বে আর তার আশেপাশের জায়গাগুলো সি ফুডের জন্য বিখ্যাত। এইসব উপসাগর আর তার কাছেপিঠেই অনেক নদী আর হ্রদ থাকার জন্য এখানে অফুরন্ত মাছ এবং অন্যান্য সি ফুড পাওয়া যায়। অধিকাংশ রেস্তোরাঁর মেনুতে সি ফুড আর বিভিন্ন ধরনের মাছ থাকে। গ্রিলড চিংড়ি, বেকড বাড়ামুক্তি মাছ, সাথে স্টিমড ভেজিটেবল আর স্যালাড দিয়ে ডিনার করলাম। ফেরার পথে নেলসন বে-র জনপ্রিয় আইসক্রিম শপ থেকে আইসক্রিম খেয়ে হোটেলে ফিরলাম। এক কথায়, দিনটা খুব ভালো কাটল।

পরদিন সকালে উঠে ঠিক করলাম, ‘আজকের দিনটা একটু অন্যরকম ভাবে কাটানো যাক৷’ কোনও পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই বেরিয়ে পড়লাম৷ নেলসন বে জেটিতে গিয়ে খোঁজ করতেই জানতে পারলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই ওখান থেকে একটা ফেরি রওনা দেবে টি গার্ডনের দিকে। টি গার্ডন নেলসন বে-র ঠিক উলটো দিকে একটা ছোটো শহর৷ নেলসন বে থেকে গাড়ি করে যাওয়া যায় আবার ফেরি করেও যাওয়া যায়। গাড়িতে গেলে অনেকটা পথ বেশি ঘুরতে হয়। ফেরিতে যেতে এক ঘন্টা লাগে। সমুদ্রের ঠান্ডা হওয়া আর চারদিকের মনোরম দৃশ্য এক ঘন্টার এই যাত্রা পথকে আরও মনোরম করে তোলে।

টিকিট কেটে উঠে বসলাম ফেরিতে। ফেরিতে সবার জন্য লাইফ জ্যাকেট আছে। প্রয়োজন হলে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রা শুরু করলাম টি গার্ডনের দিকে। এই এক ঘন্টার ফেরি যাত্রা ছিল অতুলনীয়। নীল জল, সৈকতের মনোরম দৃশ্য, মাঝে মাঝে একটা দুটো করে ডলফিনের জলকেলি, সব মিলিয়ে সে এক বিরল দৃশ্য! কিন্তু তখনও জানি না টি গার্ডনে গিয়ে কী করব। ফেরিতেই কিছু টুরিস্ট-এর সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম প্রায় সবাই আজ আমার মতো হারাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছে। ফেরির চালককে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম টি গার্ডনে একটা বড়ো হোটেল আর পাব আছে, অধিকাংশ টুরিস্ট সেখানে গিয়ে লাঞ্চ করে দু-ঘন্টা পরে এই ফেরিতেই আবার নেলসন বে ফিরে আসে।

‘এক যাত্রায় পৃথক ফল’ কেনই বা হবে? তাই আমরাও অন্য সব টুরিস্টদের পদাঙ্ক অনুসরণ করব ঠিক করলাম। টি গার্ডন হোটেলে গিয়ে দেখলাম খাবার স্টলের সামনে বেশ লম্বা লাইন পড়েছে। ফিশ অ্যান্ড চিপস আর বিয়ার দিয়ে এ যাত্রায় লাঞ্চ করা গেল। যদিও মনটা পড়ে আছে ফেরির জন্য। আবার এক ঘন্টা সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারব, এই ভেবেই আমার অপছন্দের চিপসগুলো কোনওরকমে গলাধঃকরণ করা গেল। হঠাৎ মনে হল জীবনে সবকিছু পরিকল্পনা করে করা যায় না। জীবনের অনেক প্রাপ্তি হয়তো অপ্রত্যাশিত অপরিকল্পিত ভাবেই এসে যায়। আমার আজকের ফেরি সফর ঠিক এরকমই একটা প্রাপ্তি।

টি গার্ডন থেকে ফিরে সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম অনেকেই বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরছে। একটু উৎসাহবশতই কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কিছু মাছ ধরেছেন কি না। উত্তর এল, ‘এখনও কিছু পাইনি।’

(ক্রমশ…)

জোড়া শালিক (পর্ব-১)

আমাদের পাটনার আবাসনের ফ্ল্যাটগুলোর বেশ কিছু ব্যালকনির অবস্থান এরকম, একটা ব্যালকনিতে দাঁড়ালে অন্য ব্লকের ব্যালকনির ঠিক মুখোমুখি দাঁড়ানো যায়। এর সুফল অনেক, যেমন আমার স্ত্রী-কে এঘর ওঘর ঘুরে না পেলে আমি সোজা ব্যালকনিতে পৌঁছে যাই। দেখি সামনের ফ্ল্যাটের পল্লবীর মায়ের সঙ্গে গল্পে মশগুল। পল্লবীর বাবা চাকরিসূত্রে পাটনার বাইরে কর্মরত। সামনাসামনি ব্যালকনি হওয়ার কুফলও আছে! আজকের গল্প সেই কুফল কে নিয়ে।

আমার পাশের ফ্ল্যাটের গৃহিণী হলেন সুশীলা শর্মা। তিনি ভালোরকম খুঁতখুঁতে ও বাতিকগ্রস্ত ভদ্রমহিলা। বিড়াল রাস্তা কেটে বেরিয়ে গেলে, বরকে ধমকে বাইক থামিয়ে দেন। বেরনোর সময় হাঁচি পড়লে, তখনকার মতো যাত্রা বন্ধ। সৌন্দর্য নিয়ে প্রশংসা করলে বলেন – নজর মত লাগাইয়ে জি। রাস্তায় ভুলবশত স্বামীর বাইক কোনও বিষ্ঠার ওপর দিয়ে গেলে বাইক, স্বামী ও নিজেকে স্নান না করিয়ে ছাড়েন না।

একবার ব্যালকনিতে গিয়ে দেখেন পিঁপড়ের সারি রেলিং-এ শুকোতে দেওয়া বালিশের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে, আর তারা আসছে পাশের একটা নির্দিষ্ট পাইপ বেয়ে। ব্যালকনির পাশেই বাথরুম, পাইপগুলো বাথরুম থেকেই বেরিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বালিশগুলো পত্রপাঠ বিদায়। ওনার এই অদ্ভুত আচরণে স্বামী সুনীল বেচারা বিরক্ত এবং পরিশ্রান্ত। কোনও ভাবে সুনীলকে কোনও পাইপের তলা দিয়ে আসতে দেখলে ধুন্দুমার লেগে যায় শর্মা পরিবারে। বেচারিকে বাড়িতে ঢুকে সোজা বাথরুমে স্নান করতে হয়। শাস্তির বহর এখানেই শেষ নয়, এর থেকেও বড়ো শাস্তি পেতে হয়।

শীতের দিনে মাঝ রাত্তিরে আদিম খেলার ইচ্ছা জাগলে, সম্ভোগের পর বেচারা সুনীলকে ৫ ডিগ্রি টেম্পেরেচারেও পুরোদস্তুর স্নান করতে হতো। এহেন অত্যাচারের ফলে প্রায় বারো মাসই পাশের ফ্ল্যাটে সুনীলের ‘হ্যাঁচ্চো” “হ্যাঁচ্চো’ লেগেই থাকত। সেই হাঁচিও আবার আমার জন্য বিশেষ বিশেষ সময়েতেই বরাদ্দ থাকত। আমি বাড়ির থেকে বেরোতে গেলে, ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা দেওয়ার আগে, ভাতের থালায় প্রথম গ্রাসটা মুখে দেওয়ার প্রাক্ মুহূর্তে ইত্যাদি ইত্যাদি।

সুশীলার এই পাইপ নিয়ে শুচিবাই অনেকেই জেনে গেছেন। কেউ কেউ ভালোবেসে নাম দিয়েছেন পাইপওয়ালি ভৌজাই। এক অদ্ভুত যুক্তিতে বলির পাঁঠা হয়েছিল বাড়ির দ্বিতীয় বাথরুমের ওয়েস্টার্ন স্টাইলের কমোডটা। সেটিকে সমূলে উৎপাটিত করে সিমেন্ট বালি দিয়ে একটা স্মৃতি সৌধ করে রাখা হয়েছে। যুক্তিটা ছিল কমোড মানে ছোঁয়াছুঁয়িতে পুরো শরীর অশুচি। বাড়ির অন্য লোকরাও তিতিবিরক্ত হয়ে ওটাকে সাবেকি দেশি প্যানেতে বদলাননি। সুনীল তো বিরক্ত হয়ে যৌবনেই আলাদা বিছানায় শোওয়ার ব্যবস্থা করে নিল।

ছেলে ঈশান মায়ের এই ব্যবহারে ভীষণ ক্ষিপ্ত। কোনও বন্ধুকে বাড়িতে আনে না। আসলেই প্রশ্ন— “ঈশানওয়া তোরা দোস্তলোগ নীচলকা পাইপ নহি না ছুল হ্যায়?’ কী অপমান! কী অপমান! আমরাও কোনও দরকারে দরজায় দাঁড়িয়েই কথা সেরে নিতাম, নিতান্তই নিরুপায় না হলে ঘরে ঢুকতাম না।

একবার হোলিতে ধুন্দুমার। ফ্ল্যাটের ছাদে বিকেলবেলায় সবাই সবাইকে আবির লাগাচ্ছে। আমরা সবাই সুশীলা ভাবিকে এড়িয়েই যাই। সেবার নতুন ভাড়াটে এসেছেন মনোজজি। সুশীলা ভাবি দেখতে মন্দ ছিলেন না। বেচারা মনোজজি একমুঠো আবির নিয়ে সুশীলা ভাবির গায়ে দিয়ে বললেন— ‘মেরি ইতনি সুন্দর ভাবিকো কোই ধ্যান হি নহি দে রহা হ্যায়।’

আবির লাগানোর পর সুশীলা ভাবির মনোজজির স্ত্রীকে সোজা সাপটা প্রশ্ন— ‘বহনজি, মনোজজি উধার ওয়ালা পাইপ নহি না ছুঁয়া।’ লেগে গেল ধুন্দুমার। ছোঁয়াছুঁয়ির রোগ সুশীলার কিছুতেই যায় না। রোজ বাড়িতে অশান্তি, ভাইয়েরা এসে বোঝায়, মা এসে বকা দিলেন— কোনও পরিবর্তন নেই। অগত্যা সবাই মিলে অনেক কষ্টে রাজি করাল মনোবৈজ্ঞানিক ডাক্তার দেখানোর, নিয়ে যাবে সুনীল। বউয়ের নির্যাতনে দিশাহারা সুনীল বেচারা সাদামাটা থাকে। বউ, সংসার এবং অফিস সামলাতে গিয়ে অনেক সময় দাড়ি কাটার সময় পায় না।

কর্তা-গিন্নি পৌঁছোলেন ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তারের পসার ভালো, লাইনে অপেক্ষা করতে হল। পেশেন্টদের নম্বর দেওয়া হয়েছে। সময় আসলে নম্বর ধরে ডাকা হচ্ছে। ওদের নম্বর আসতেই ওরা ডাক্তারের ঘরে ঢুকতেই সুশীলাকে আটকে দিয়ে সুনীলের হাত ধরে টেনে নিয়ে বলল— ‘রুকিয়ে মেডাম, পেশেন্টকো পহলে জানে দিজিয়ে।’

ক্রমশ…

অবিশ্বাস্য (শেষ পর্ব)

থার্ড ডিগ্রির কথা শুনেই তান্ত্রিক যেন কেমন হকচকিয়ে গেল। মনে হল থার্ড ডিগ্রি কী সেটা ভালো ভাবে ও জানে। রাতের অন্ধকারে কথাটা শুনেই বুঝে গেল যে এই অফিসার সম্ভবত এনকাউন্টারের কথা বলছে। তাই হাতজোড় করে গড়গড় করে সব বলে গেল।

সন্দীপের ভাই ছোটোবেলায় যে এলাকায় কিডন্যাপ হয়েছিল সেখানকার কিডন্যাপারদের লিস্ট নিয়ে রাম সিংকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছোল সেই এলাকায়। ফোনে ওই এলাকার এসএইচও-র সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে পৌঁছে গেল সেখানকার থানায়। কিন্তু কথা বলে যা জানতে পারল তাতে একটু হতাশ হল। কারণ সে সময়ে যারা এসব কাজ করত তারা নাকি সবাই এখন জেলে, নয়তো মারা গেছে। তবে বেশ কিছু বাচ্চাকে ওদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ এবং তাদের ওই এলাকার একটা অনাথ আশ্রমে দিয়েছিল। বর্তমানে সেই অনাথ আশ্রমও উঠে গেছে।

সন্দীপ এসএইচও-কে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা, ওই অনাথ আশ্রমের কেউ কি এখনও বেঁচে আছে?’

—আছে। ওই আশ্রমের মালিক এখনও বেঁচে আছেন তবে অনেক বয়েস হয়েছে। বিছানায় প্রায় শয্যাশায়ী। তবে আজকাল যেহেতু দিল্লি পুলিশ সিনিয়র সিটিজেন স্কিমের জন্য সিনিয়র সিটিজেনদের সাথে যোগাযোগ রাখে, তাই আমরাও ওনার সাথে যোগাযোগ রাখি। আমি আপনাকে ওনার ফোন নম্বর দিতে পারি। আপনি গিয়ে একবার কথা বলে দেখতে পারেন।

সন্দীপ ফোন করে রাম সিং-কে সাথে নিয়ে ভদ্রলোকের কাছে পৌঁছে গেল। ভদ্রলোকের নাম ধীমান দত্ত। গিয়ে দেখল, ভদ্রলোক বিছানায় শুয়ে আছেন অসুস্থতার জন্য। সন্দীপকে দেখে কোনওরকমে উঠে বসলেন। সন্দীপ, ধীমানবাবুকে ভাইয়ের কিডন্যাপ হওয়ার কথা সব খুলে বললেন। বললেন- – আমার ভাইয়ের নাম ছিল সৌরভ। আমার ভাই যখন কিডন্যাপ হয় তখন ও নিজের নামটা কোনওরকমে বলতে পারত।

—কী নাম বললেন! সৌরভ। আমার এখানে দু’জন সৌরভ ছিল। দু’জনই এখন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার। আপনি আগামীকাল বিকেলে আমার এখানে আসুন। দু’জনের মধ্যে একজন আগামীকাল বিকেল ৫টায় আমার সাথে দেখা করতে আসবে। ও প্রতি সপ্তাহেই আমার সাথে দেখা করতে আসে। তখনই সামনাসামনি দেখে নেবেন যে সে-ই আপনার ভাই কিনা। আপনাকে কী বলে যে ধন্যবাদ জানাব জানি না। ওনার সাথে না দেখা করা পর্যন্ত আজ রাতে আমার ঘুম হবে না জানেন। সন্দীপ বাড়ি ফিরে আসে। পরের দিন ছুটি নেবে, তার দরখাস্তও করে দিল সে।

পরের দিন সকাল থেকে ওর সময়টা যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। মা-বাবাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে কিছু জানায়নি। পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে জানাবেই বা কী করে! এই লাইনে অনেক কথাই সে গোপন রেখেছে বাড়ির লোকেদের কাছে। পুলিশের চাকরির এই একটা জিনিস। অনেক কথাই গোপন রাখতে হয়। সকাল থেকে তার খবরের কাগজটা পর্যন্ত দেখা হয়নি, টিভির নিউজটাও শোনা হয়নি।

বিকেলে ধীমানবাবুর বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সন্দীপের বাবা বললেন- -কোথায় চললি খোকা? আজ তো ছুটি নিয়েছিস বললি, তাহলে কোথায় বেরোচ্ছিস?

—একজনের সাথে দেখা করতে যাব। তাড়াতাড়িই ফিরে আসব। বলেই সন্দীপ বেরিয়ে পড়ল৷

ধীমানবাবুর বাড়ির সামনে পৌঁছোতেই দেখল ধীমানবাবুর বাড়িতে অনেক লোকের ভিড়। কোনওরকমে ভিড় ঠেলে ভেতরে পৌঁছে গেল। দেখল ধীমানবাবুর কোলে শায়িত এক পুলিশ অফিসারের মৃতদেহ। ধীমানবাবু স্থবির হয়ে বসে আছেন। চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।

জিজ্ঞাসা করে জানলেন মৃত পুলিশ অফিসার ধীমানবাবুর ছেলে, নাম সৌরভ। গতকাল রাতে একটি এনকাউন্টারে মারা গেছে। একথা শুনেই সন্দীপের মাথাটা কেমন ঘুরতে লাগল। মুখ দিয়ে কোনও কথা বেরোল না। সামনেই রাখা একটি বেঞ্চে মাথায় হাত রেখে বসে পড়ল। অজান্তেই চোখ দিয়ে অশ্রুধারা বেরিয়ে এল। অনেক আশা নিয়ে সে এসেছিল কিন্তু এভাবে ভাইয়ের পরিণতি দেখতে হবে সে কখনওই ভাবতে পারেনি। মুখ তুলে সাহস করে মৃতদেহের দিকে তাকাতেও পারছে না সে।

অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে এসেছিল যে আজ ভাইয়ের সাথে দেখা হবে এবং তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মা, বাবাকে অবাক করে দেবে। এই মুহূর্তে সে কিছুই ভাবতে পারছে না। মাথাটা কেমন ঝিম ঝিম করছে। এমন সময় তার পিঠে একটা হাতের স্পর্শে একটু সোজা হয়ে বসল। পেছনে ফিরে দেখল ধীমানবাবুর হাত তার পিঠের ওপরে। বললেন, ‘সন্দীপবাবু, আপনার ভাই সৌরভ আপনার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ওকে বাড়ি নিয়ে যাবেন না!”

—তাহলে ওখানে কার দেহ শায়িত আছে?

—ওর নামও সৌরভ৷ কিন্তু ওর নাম সৌরভ কুমার।

আপনার ভাইয়ের নাকের কাছে একটা কাটা দাগ আছে বলেছিলেন না, যেটা ছোটোবেলায় পড়ে গিয়ে চোট লেগে হয়েছিল এবং তার দাগটা এখনও মেলায়নি, এই দেখুন।

সন্দীপ এতদিন বাদে ভাই সৌরভকে কাছে পেয়ে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। দু’ হাতে জড়িয়ে ধরল ভাইকে। তার দু’-চোখ দিয়ে আনন্দাশ্রু ঝরে পড়তে লাগল।

শাহরুখ ও রাজকুমার হিরানি ইকোয়েশন প্রথমবার

আপাতত শাহরুখ খানের ভক্তরা অধীরে অপেক্ষা করছেন ডাঙ্কি মুক্তির। রাজকুমার হিরানির পরিচালনায় প্রথমবার কাজ করছেন শাহরুখ খান। আগে বেশ কয়েকবার সুযোগ এলেও, দুজনের একসঙ্গে কাজ করা হয়নি নানা কারণে। কিং খানের জন্মদিনের দিন প্রকাশ্যে এসেছিল টিজার। ছবিতে আরও রয়েছেন তাপসী পান্নু, ভিকি কৌশল, বোমন ইরানি। ২২ ডিসেম্বর এই সিনেমার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

ছবির শিরোনামটি শুনে অনেকেই বিভ্রান্ত হবেন যে ডাঙ্কি আসলে কী!  আমাদের বলিউডের সেরা পরিচালক রাজকুমার হিরানি এই ছবিটির পরিচালনা করছেন আর চিত্রনাট্য লিখেছেন অভিজাত যোশী। সকলেই জানেন রাজকুমার সাধারণত কমেডি এবং ইমোশনাল ছবি বানিয়ে থাকেন। জানা গেছে, ডাঙ্কি ছবিটি আসলে ডঙ্কি ফ্লাইটের উপর ভিত্তি করে তৈরি – অন্যান্য দেশে একাধিক স্টপের মাধ্যমে বিদেশে প্রবেশের একটি অবৈধ পদ্ধতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় বসতি স্থাপনের জন্য তরুণদের দ্বারা অনুসরণ করা এটি একটি সাধারণ পালানোর পথ।  ডিসেম্বরে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুজন বড়ো ব্যক্তিত্ব, পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং সুপারস্টার শাহরুখ খান প্রথমবারের মতো একসঙ্গে কাজ করতে চলেছেন। শাহরুখ খানের সঙ্গে Film করা প্রসঙ্গে রাজকুমার হিরানি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ার জুড়ে শাহরুখ খান সবসময়ই আমার পছন্দের তালিকায় ছিলেন এবং অতীতে বেশ কয়েকবার একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করার পরে অবশেষে আমরা ‘ডাঙ্কি’ ছবিটিতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যে কোনও ছবিতে তিনি যে শক্তি, ক্যারিশমা, হাস্যরস এবং আকর্ষণ যোগ করেন তা অতুলনীয় এবং আমি তাঁর সেই জাদুটি বড়ো পর্দায় আনার জন্য উন্মুখ।’

শাহরুখ খান জানান, “রাজ কুমার হিরানি এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা Film নির্মাতা, আমরা সবসময় একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছি এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা অবশেষে ‘ডাঙ্কি’ দিয়ে এটি করতে পেরেছি। আমরা শুটিং – এর প্রতিটি মুহূর্ত সকলে মিলে উপভোগ করছি।’   তিনি আরও জানিয়েছেন রাজকুমার হিরানির জন্য গাধা, বানর সাজতেও তিনি প্রস্তুত।

বড়ো বাজেটের ছবির স্টিরিওটাইপ ভেঙে সুপারস্টার শাহরুখ এই ছোটো বাজেটের চলচ্চিত্র বেছে নিয়েছিন এবং স্বদেশের পরে এটি শাহরুখ খানের কম বাজেটের চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে একটি। ছবিটিতে শাহরুখ খান ও তাপসী পান্নুর জুটিকে প্রথম দেখা যাবে। শাহরুখের সঙ্গে কাজ করা প্রসঙ্গে তাপসী পান্নু বলেন, ‘এই বিশেষ ছবির অংশ হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। রাজকুমার হিরানি এবং শাহরুখ খানের সঙ্গে এই প্রথম কাজ করছি, যাদের আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি।’

 

 

 

অবিশ্বাস্য (পর্ব ২)

এভাবেই তিনদিন কেটে গেল। তৃতীয় দিনে একজন ইনফরমার খবর দিল যে সে একজনকে সাদা কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় রোজ রাতে ওই বাড়ি থেকে বেরোতে দেখেছে। ওই ছায়ামূর্তিটা পাশের ওই জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। ভয়ে সে আর তাকে ফলো করতে পারেনি জঙ্গলের ভিতর পর্যন্ত। সন্দীপ আর দেরি না করে দলবল নিয়ে গিয়ে হাজির হল ওই জঙ্গলটার ভেতরে। দিনের আলোতে অনেক খোঁজার পর দেখল জঙ্গলের এক জায়গায় একটা ঢিবির মতো এবং তার ওপরে কিছু তাজা ফুল। মনে হল কেউ আজই রেখে গেছে। ঢিবিটা দেখে মনে হচ্ছে সদ্য খোঁড়া হয়েছে।

সন্দীপের আদেশে ওই ঢিবিটাকে খোঁড়া হল। খুঁড়ে নজরে এল কাগজে মোড়া কিছু একটা। সেটা খুলতেই চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। সন্দীপ আর সহ্য করতে পারছিল না। বুঝতে পারল ওটা ওই শিশুটিরই হৃৎপিণ্ড। পচন ধরেছে। সন্দীপ রামসিং- কে ওটাকে পরীক্ষা করার জন্য পাঠিয়ে দিতে বলেই জঙ্গলের বাইরে বেরিয়ে এল। এ দৃশ্য তার কিছুতেই সহ্য হচ্ছিল না। থানায় ফিরে সব অনুগত অফিসারদের ডেকে রাতের কর্মসূচীর কথা জানিয়ে দিল।

—দেখুন, যেহেতু এটা খুনের কেস, তাই সকলে নিজেদের আর্মস নিয়ে থাকবেন স্পটে। তবে আমি না বললে গুলি চালাবেন না। যদি জীবন বাঁচাতে গুলি চালাতে হয়, তবে পায়ে গুলি করবেন। আমি হত্যাকারীকে জীবিত ধরতে চাই। কারণ এই গ্রুপের সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা আমাকে জানতে হবে। এই কেসটা সলভ না করতে পারলে জানবেন আপনাদের অনেকেই এই থানা থেকে বদলি হয়ে যাবেন। শুধু তাই নয় মিডিয়াও আমাদের ছেড়ে দেবে না। তাই বি সিরিয়াস।

রাম সিং বলল— “ঠিক বলেছেন স্যার। আমরা আপনার সাথে থাকব। আমি নিশ্চিত হত্যাকারী আমাদের হাতে ধরা পড়বেই।”

নিজের দলের সবাইকে নিয়ে ছদ্মবেশে রাতের বেলা ওই জায়গায় গিয়ে দূরে দূরে পজিশন নিয়ে পাহারা দিতে লাগল। রাত প্রায় ১টা নাগাদ দেখা গেল সাদা কাপড় পরা এক ছায়ামূর্তি ওই ঢিবির কাছে এগিয়ে এসে দু’-হাত ভরে কিছু ফুল ওই ঢিবির ওপর ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর আর কিছু ভাবার আগেই সন্দীপ দৌড়ে গিয়ে তার সাদা কাপড়টা সরিয়ে দিতেই বিস্ময়ে অবাক হয়ে গেল! ভাবল এ কী করে সম্ভব! দেখল শিশুটির মা তার দিকে হতভম্বের মতো তাকিয়ে আছে। তাকে ধরে নিয়ে আসা হল থানায়।

সন্দীপ নিজের রাগ অনেক কষ্টে সংযত করে বলল— ‘তুমি নিজের শিশুটিকে কেন মারলে? সত্যি না বললে আমি কিন্তু তোমার মতো এমন মহিলার গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করব না।”

—আমি ও আমার পরিবার বাচ্চাদের নিয়ে দারিদ্রের জ্বালায় খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। একদিন এক তান্ত্রিকের কাছে যাই। ওই তান্ত্রিকই বলেছিল যে, আমরা যদি আমাদের একটি শিশুকে বলি দিতে পারি, তবেই আমাদের অবস্থা ফিরবে।

—তুমি আমাদের ওই তান্ত্রিকের ডেরায় নিয়ে চলো।

এরপর সন্দীপ ওই তান্ত্রিকের ডেরায় গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। সন্দীপ মনে মনে ভাবে এই তান্ত্রিকের সাথে নিশ্চয়ই দিল্লির অনেক ক্রিমিনালের যোগাযোগ আছে। এর থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিল— আজ বাড়ি যেতে দেরি হতে পারে। এমনকী না-ও যেতে পারে। বিশেষ কাজে আটকে গেছে। রাম সিং-কেও বলল বাড়িতে জানিয়ে দিতে।

এরপর তান্ত্রিককে নিয়ে এল একটা আলাদা ঘরে। সেখানে রাম সিং আর সন্দীপ ছাড়া কেউ নেই। সন্দীপ তান্ত্রিককে জেরা শুরু করল। তান্ত্রিক হঠাৎ ঝোলার থেকে একটা লাট্টু বের করে ঘোরাতে লাগল। রাম সিং বাঘের মতো থাবা দিয়ে লাট্টুটা তুলে নিল। বলল— সাহেব, আমি লোকের মুখে শুনেছি যে এই তান্ত্রিক নাকি লাটু ঘুরিয়ে সামনের লোকেদের সম্মোহিত করে দেয়। ও হয়তো আমাদেরও তাই করতে চাইছিল। তাই আমি আটকে দিলাম। একথা শুনে সন্দীপের রাগটা আরও বেড়ে গেল।

তান্ত্রিককে বলল, সোজাসুজি আমার সব প্রশ্নের জবাব দেবে নাকি থার্ড ডিগ্রি শুরু করব? এখানে চ্যাঁচালেও কেউ তোমাকে বাঁচাতে আসবে না। সোজাসুজি বলো — তুমি দিল্লির কিডন্যাপার গ্যাংদের কাকে কাকে চেনো।

—রাম সিং, মনে হয় সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। আমার রুলারটা আর থার্ড ডিগ্রির যন্ত্রপাতিগুলো নিয়ে এসো। আমি আজ একটু হাতটা ঝালিয়ে নিতে চাই। এদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। বাকিটা আমি দেখে নেব রাতের অন্ধকারে।

(চলবে)

স্পেশাল Grilled Snacks

দীপাবলির উৎসব শেষ হতে না হতেই এসে যায় ভাইফোঁটার গোছগাছ আর জোগাড়ের পালা। ভাই এবং বোনের অটুট সম্পর্ক ভাইফোঁটার দিন একটা উৎসব হিসেবেই পালিত হয় সারা ভারতে। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় দিনে পালিত হয় ভাইফোঁটা। ভাইদুজ, ভাইটিকা, যমদ্বিতীয়া নামেও এই উৎসব পালিত হয়। উৎসবের মরশুমে টানা চলতে থাকে খাওয়াদাওয়া। ভাইফোঁটা পালনেরও একটা বড়ো অংশ হল ভুরিভোজ। বোনেরা এই দিনে ভাইয়ের জন্য তাদের পছন্দের খাবার তৈরি করে গুছিয়ে ভাইকে পরিবেশন করেন।

গৃহশোভার পক্ষ থেকে ভাইফোঁটার জন্য তিনটি ভিন্ন স্বাদের রেসিপি পরিবেশন করা হল যাতে ভাইরা বোনের রান্নার প্রশংসায় কাটিয়ে দিতে পারেন শুভ দিনটি।

অরেঞ্জি ফিস

উপকরণ : ৫০০ গ্রাম মাছের টুকরো, ১টি কমলালেবুর রস, ৩-৪টি লেবুর রস, ১/২ বড়ো চামচ ভিনিগার, ১ ছোটো চামচ মধু, ১ ছোটো চামচ নুন, ১ ছোটো চামচ গোলমরিচ, ১ ছোটো চামচ অলিভ অয়েল।

প্রণালী : মাছের টুকরোগুলো নুন আর ভিনিগার বুলিয়ে নিন। কমলা লেবুর রসে বাকি উপকরণ মিশিয়ে নিন। মাছের টুকরোয় এই মিশ্রণ মাখিয়ে রাতভর ঢেকে রাখুন। সকালে গ্রিলার গরম করে, এতে ম্যারিনেট করা মাছের টুকরো গ্রিল করে নিন। মাঝখানে একবার গ্রিল করা বন্ধ রেখে ম্যারিনেট পুনরায় ছড়িয়ে নিন। ফ্রুটস্‌, বাদাম, কড়াইশুঁটি সেদ্ধ, স্যালাড আর সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন অরেঞ্জি ফিশ।

জুসি মাশরুম

উপকরণ : ২৫০ গ্রাম মাশরুম, ৩/৪ কাপ দই, ১/২-১/২ ছোটো চামচ নুন ও গোলমরিচ, ১/২-১/২ ছোটো চামচ অরিগ্যানো ও চিলি ফ্লেক্স, ২ ছোটো চামচ পুদিনাবাটা, ১ ছোটো চামচ অলিভ অয়েল।

প্রণালী : মাশরুমগুলি ময়দা মাখিয়ে রগড়ে ধুয়ে নিন। এবার মাঝখান বরাবর চিরে নিন। দইয়ের সঙ্গে মশলা, তেল ও পুদিনা মিশিয়ে নিন। মাশরুমের উপর ছড়িয়ে হালকা হাতে মেখে নিন। ৩-৪ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। গ্রিলার গরম করে, শিকে গেঁথে গ্রিল হতে দিন। চাটনি, সস, গরম আলু ও মটরশুঁটি সেদ্ধ বা ফল – যে-কোনও কিছুর সঙ্গেই এটা পরিবেশন করা যায়।

Dipawali special griiled snacks

হার্ব চিকেন

উপকরণ : ৭৫০ গ্রাম চিকেন(Leg and Breast piece), ১৫০ গ্রাম ক্রিম, ২ ছোটো চামচ রসুনবাটা, ২ ছোটো চামচ পার্সলে(শুকনো), ২ ছোটো চামচ অরিগ্যানো, ২ ছোটো চামচ রোজমেরি, নুন ও গোলমরিচ প্রয়োজনমতো।

প্রণালী : ক্রিমের সঙ্গে সমস্ত উপকরণ মেশান ও চিকেনের টুকরোয় মাখিয়ে নিন। হালকা হাতে উলটে পালটে রাতভর ম্যারিনেট হতে দিন। গ্রিলার গরম করে চিকেনের টুকরো গ্রিল করে নিন। দু’পিঠ ভালোভাবে সেঁকে, স্যলাড, ফ্রুট স্যালাড, ডিপ বা চাটনি, যে-কোনও কিছুর সঙ্গেই পরিবেশন করতে পারেন। 

অবিশ্বাস্য (পর্ব ১)

সন্দীপ ব্যানার্জী ছোটোবেলা থেকেই দিল্লিতে মানুষ। বাবা দিল্লিতে এসেছিলেন কলকাতা থেকে চাকরি নিয়ে। তারপর দিল্লিতেই থেকে যান। মা-ও দিল্লিতে এসে চাকরি করতেন একটা স্কুলে। সন্দীপের জন্মের পর থেকেই ওকে ভালো স্কুলে পড়ানো হয়েছে। সন্দীপ পড়াশোনাতে খুব ভালো। কিন্তু ছোটোবেলা থেকেই সন্দীপের পুলিশে চাকরি করার একটা প্রবল ইচ্ছে ছিল।

আসলে সন্দীপের আর এক ভাই ছিল কিন্তু ছোটোবেলায় হঠাৎ তাকে একদিন কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সেই ভাইয়ের আর কোনও খোঁজ তারা পায়নি। সন্দীপের মা, সাধনাদেবীও কেঁদে কেঁদে কঙ্কালসার হয়ে গেছেন। সন্দীপের খুব ইচ্ছে ছিল যে, পুলিশের বড়ো পোস্টে তাকে চাকরি পেতেই হবে। এবং একদিন সেই ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়ার রহস্য ঠিক উদ্ধার করবে।

সন্দীপের সেই ইচ্ছে একদিন সাফল্যের মুখ দেখল। সন্দীপ সরাসরি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে পুলিশের চাকরিটাও পেয়ে গেল। চাকরি জীবনেও বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল বহু কেস ঘাঁটতে ঘাঁটতে কিন্তু তবুও যেন মনে শান্তি ফিরে আসেনি। সন্দীপের এই পরিশ্রমের জন্য পুলিশ মহলে বেশ নাম-ডাকও হয়েছে। পুলিশ পদকও পেয়েছে।

সন্দীপ কিছুদিন আগেই নতুন দিল্লির কালকাজি থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে ট্র্যান্সফার হয়ে এসেছে। জায়গাটা চিনতে ও বুঝতে একটু সময় লাগবে। হঠাৎ একদিন সকালে রাম সিং কনস্টেবল এসে খবর দিল কালকাজি বস্তিতে একটা মার্ডার হয়েছে। সন্দীপ আর দেরি না করে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হল। যে-দৃশ্য দেখল তা সন্দীপকে রীতিমতো নাড়া দিয়ে দিল। দেখল আড়াই বছরের একটি শিশুর মৃতদেহ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাম সিং- কে বলল কাপড়টা তুলে মুখটা দেখাতে। সে দৃশ্যটা আরও মর্মান্তিক।

পুলিশের চাকরিতে বহু মৃতদেহ দেখেছে কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে কখনও পড়তে হয়নি। দেখল শিশুটির বুক চিরে কে বা কারা হৃৎপিণ্ডটা বের করে নিয়ে গেছে। সন্দীপ এ দৃশ্যটা আর সহ্য করতে না পেরে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল। রাম সিং-কে বলল বডিটা পোস্টমর্টমে পাঠাতে। শিশুটির মা-বাবাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারল যে, গতকাল রাতে তারা যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন কে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তা তারা কেউ জানে না।

কয়েকদিন আগেই ওরা এই নতুন ঠিকানার ঘরে উঠে এসেছে। এরা কম টাকায় বস্তিতে এই ঘরটা পেয়েছে। এতে দরজার ছিটকিনিটাও নেই। ছিটকিনিটা ভাঙা, তাই রাতে ঘর খোলাই ছিল। এ নিয়ে তারা কখনও মাথা ঘামায়নি। ভেবেছিল ঘরে তো কিছুই নেই তাই কী আর চুরি হবে!

সন্দীপ থানায় ফিরে এসে কিছুক্ষণ মাথা নীচু করে বসে রইল। কীভাবে এগোবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। বস্তির আশেপাশে সিসিটিভি-র ফুটেজ ও মা-বাবার মোবাইল থেকেও কিছু খুঁজে না পেয়ে ওই এলাকার ইনফরমারদের ডেকে সবাইকে পালা করে আক্রান্ত বাড়িটার ওপর নজর রাখতে বলল। সারা বস্তিতে খুঁজেও কোনও সিসিটিভি পাওয়া গেল না।

রাম সিং বলল— “স্যার, এদের সবার ঘরে টিভি আছে কিন্তু সিসিটিভি কেউ লাগায়নি কারণ এখানে ওটার প্রয়োজন হবে না বলেই ওদের ধারণা।’

সন্দীপের বার বার নিজের ভাইয়ের কথা মনে পড়ছিল। যে করে হোক এই কেসটার আসামিকে খুঁজে বের করতে হবে। না হলে মনে শান্তি পাচ্ছে না। মিডিয়া এই খবরটাকে বেশ ফলাও করে প্রকাশ করবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। থানায় বলে দিল মিডিয়াকে কেউ যেন কোনও ইন্টারভিউ না দেয়। থানার অফিসারদের সবাইকে বলে দিল সবাই যেন নিজেদের সোর্স লাগিয়ে খবর জোগাড় করে আনে। যে করেই হোক হত্যাকারীর খোঁজ তার চাই। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। আজ পর্যন্ত এমন হয়নি যে তাকে হার স্বীকার করতে হয়েছে। আজও সে হারতে চায় না। ওই এলাকায় যত ক্রিমিনাল ছিল সবার ফাইল খুলে বসে গেল। অফিসারদের বলল, ওই সব ক্রিমিনালদের থেকে খোঁজ নিতে। এখানে আবার বিভিন্ন দল আছে গুণ্ডাদের। সবার থেকেই খবর নিতে হবে।

(চলবে)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব