নবমীর ভোজে মশলাদার রান

বাঙালির জমজমাট পূজার আড্ডায় এবং খাওয়াদাওয়ায় মাংস থাকবে না এটা খাদ্যরসিকদের কাছে মেনে নেওয়া অসম্ভব। রসনাতৃপ্ত করতে নবমীতে বাড়িতেই আড্ডার পরিবেশে বানিয়ে ফেলুন মশলাদার রান। শুধু রান্নার তৈয়ারি একটু আগে থেকে যদি করে রাখেন তাহলে বন্ধু, আত্মীয়দের সঙ্গে গল্প করতে করতেই আভেনেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন পুরো রান্নাটি। দেখে নেওয়া যাক রেসিপিটি বানাতে আমাদের কী কী লাগবে-

উপকরণ – দেড় কেজি থেকে দুই কেজি মাটন লেগ (পুরো এবং ড্রেস করা)

প্রথম ম্যারিনেশন – ১টি শুকনো লাল মরিচ, ১টি কালো এলাচ, ১ স্টার অ্যানিস, ৯ সবুজ এলাচ, ১ চা-চামচ জোয়ান, ১ চা চামচ জিরেগুঁড়ো, ১টি জাইফল, ১/২ চা চামচ সাদা গোলমরিচগুঁড়ো, ২ দারুচিনি, ১ চা-চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ চা চামচ লবণ, ১ টেবিল চামচ করে আদা ও রসুন বাটা, ২ টেবিল চামচ সরষের তেল।

দ্বিতীয় ম্যারিনেশন – ২৫০ মিলি টক দই, ১ টেবিল চামচ আদাবাটা, ১ টেবিল চামচ রসুনবাটা, ১ চা চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ চা চামচ করে জিরে ও ধনেগুঁড়ো, ১ চা চামচ লাল মরিচগুঁড়ো, ১/২ চা চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, চিনি ১ চা চামচ, ১/২ চা চামচ লবণ, ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি ওরফে পেঁয়াজ বেরেস্তা, ৫০ মিলি সরষের তেল।

অন্যান্য উপকরণ – ৮টি পেঁয়াজ(ছোটো), ৮টি টম্যাটো(ছোটো), ১ চা চামচ লবণ (প্রয়োজনমতন), ৫০ মিলি ঘি।

প্রণালী – মাটন ধুয়ে পরিষ্কার করুন এবং এটি শুকিয়ে নিন। খাসির মাংসের পা ঘরের তাপমাত্রায় থাকা উচিত। শুকনো লাল মরিচ, কালো এলাচ, স্টার অ্যানিস, সবুজ এলাচ, জোয়ান, জিরেবীজ, আদা, সাদা গোলমরিচ, দারুচিনি স্টিক এবং ধনিয়াবীজ শুকনো খোলায় ভেজে নিন। মশলা ভাজার সময় আঁচ কম রাখুন। মশলাগুলি থেকে সুগন্ধ নির্গত হলে আঁচটি বন্ধ করুন। ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার মশলার একটি মোটা গুঁড়ো তৈরি করুন। এই মিশ্রণের সঙ্গে আদা ও রসুন বাটা এবং লবণ মিশিয়ে আধা-ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণে সরষের তেল যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেশান। এই পুরো মিশ্রণটি মাটন রানে ভালো ভাবে চারিয়ে দিন, বিশেষত স্লিটের মধ্যে। এবার মাটন পা-টি ক্লিং ফিল্ম বা প্লাস্টিকের মোড়ক দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ফ্রিজারে রাখুন।

দ্বিতীয় ম্যারিনেশন – রোস্ট করার ৮ ঘণ্টা আগে

রোস্ট করার কমপক্ষে ৮ ঘন্টা আগে আপনাকে এটি রেফ্রিজারেটর থেকে বের করতে হবে।

দই, হলুদগুঁড়ো, জিরাগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, লাল মরিচগুঁড়ো, গরমমশলাগুঁড়ো, চিনি, লবণ এবং সরষের তেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার মাটন পায়ে অর্ধেক ম্যারিনেড লাগিয়ে ফ্রিজে ৮ ঘণ্টা রেখে দিন। স্লিটের মধ্যে ম্যারিনেড প্রয়োগ করতে ভুলবেন না। অবশিষ্ট ম্যারিনেড ফ্রিজে রেখে দিন।

মাটন লেগ রোস্ট করার আগে

রোস্ট করার আগে কমপক্ষে ১ ঘন্টার জন্য খাসির মাংস ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট ম্যারিনেড বের করে নিন। এতে ১ টেবিল চামচ আদাবাটা এবং ১ টেবিল চামচ রসুনবাটা যোগ করুন। এই মিশ্রণে ১ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা যোগ করুন। এই মিশ্রণটি মেরিনেট করা মাটন পায়ে প্রয়োগ করুন এবং রোস্ট করার আগে কমপক্ষে ১ ঘন্টা ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন। স্লিটের মধ্যে ম্যারিনেড প্রয়োগ করতে ভুলবেন না।

আভেনের ট্রে-তে রান-টি রাখুন। কাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি টম্যাটো দিয়ে খালি জায়গা পূরণ করুন। অবশিষ্ট ম্যারিনেড খাসির মাংসের উপরে ঢেলে দিন। ৫০ মিলি ঘি গলিয়ে খাসির মাংসের উপরে ঢেলে দিন।

আভেন-টি ১৫ মিনিটের জন্য ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে গরম করুন। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে খাসির মাংস ঢেকে দিন। কভার করা রানের টুকরোটি ওভেনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ২.৫ ঘন্টা রাখার পরে এটি রোস্ট করুন। ২.৫ ঘন্টা পরে ফয়েলটি সরান এবং ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিটের জন্য রোস্ট করতে থাকুন। টুথপিক দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন যে এটি সেদ্ধ হয়েছে কিনা। যদি হ্যাঁ হয় তবে মাটনরান পুরোপুরি রোস্ট হয়েছে, যদি না হয় তবে আরও কয়েক মিনিটের জন্য রোস্ট করতে থাকুন। আভেন বন্ধ করে দিন। রোস্টেড মাটন ১৫ মিনিট পরে বের করে নিন। গরম গরম পরিবেশন করার সময় একটি স্টেক ছুরি প্লেটে রাখুন।

 

ডেমো (পর্ব ৬)

পরের দিন কলেজ থেকে ফিরে শ্বেতা কাঁধের ব্যাগটা ঠকাস করে রাখল টেবিলের উপরে। –তোর ব্যাগে কী আছে রে? জিজ্ঞেস করলেন প্রমিলা। অত জোরে আওয়াজ হল।

—ওর মধ্যে আছে আমার আত্মরক্ষার অস্ত্র, শ্বেতা জানাল এক রহস্যময় হাসি হেসে।

যুগপৎ কৌতূহল এবং বিস্ময়ে চোখ কপালে তুললেন প্রমিলা। তার রোগা পটকা মেয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য ছোরা বা পিস্তল নিয়ে চলতে শুরু করেছে এটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না প্রমিলা।

—দেখা দেখি কী অস্ত্র নিয়ে এলি তুই তোর ব্যাগে।

শ্বেতা ওর ব্যাগ খুলে একটা এক কিলো ওজনের গোল, মসৃণ, কালো পাথর বের করল। পাথরটা ওকে নিলয়ই জোগাড় করে দিয়েছিল। -ওমা! এত বড়ো পাথর ব্যাগে নিয়ে চলিস তুই! কিন্তু ওটা বের করে কাউকে মারতে হলে তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।

—ওটা বের করতে হবে কেন মা? এই দ্যাখো। শ্বেতা ব্যাগটা দু’হাতে ধরে ঘুরে দেখিয়ে দিল কীভাবে ও প্রতিপক্ষকে আঘাত হানবে। প্রমিলা মেয়ের বুদ্ধি দেখে অনেকদিন পর হেসে উঠলেন।

—তা অস্ত্রটা ভালোই জোগাড় করেছিস তুই কিন্তু ওটা কাজে লাগানো অত সহজ হবে না। বদমাশ ছেলেগুলো আজকাল পকেটে ছোরা পিস্তল রাখে। পেপারে প্রায়ই এ নিয়ে লেখালেখি হয়।

—তা রাখুক না, পকেট থেকে পিস্তল বের করতেও তো সময় লাগে। আমি তার আগেই ব্যাগটা ঘুরিয়ে মারব মুখের উপর… ঠিক এইভাবে। মাকে আশ্বস্ত করতেই শ্বেতা ফুল অ্যাটাকিং পশ্চারে গিয়ে দুই হাতে ব্যাগটা ঘুরিয়ে মারল ঘরের দেয়ালে। অনেকদিন আগে রং করা দেয়াল থেকে বড়ো এক চাকা পলস্তারা খসে পড়ল মেঝেতে।

—দেখলে তো কী স্পিডে অ্যাটাক করলাম আমি।

অবিশ্বাসের হাসি হেসে প্রমিলা বললেন, ‘দেখলাম৷’ শ্বেতার মনে হল ওর মা এখনও ওর উপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না। পরের দিন শ্বেতা নিলয়কে সবকথা খুলে বলার পর ও বলল, “তোমার মাকে ডেমো না দিলে চলবে না। একদিন ওনাকে সঙ্গে করে বাসে চেপে কলেজে নিয়ে যাও। অ্যানুয়াল ডে বা ওইরকম কোনও ফাংশানে নিয়ে যাও ওনাকে আর রাস্তায় ডেমো দিয়ে দাও।”

—কী করে ডেমো দেব রাস্তায়? শ্বেতা বলল। যাকে তাকে পিটিয়ে জেলে যাব না কি আমি?

—কেন, তুমি যে বাসটায় কলেজে যাও সেই পাঁচশ চৌত্রিশ তো শুনেছি ইভটিজারস প্যারাডাইজ।

একসময় ছিল, এখন আর নেই। আমি কলেজে ঢুকবার আগেই আমাদের কলেজের কয়েকটা মেয়ে একসঙ্গে মিলে একটা ইভটিজারকে এমন পিটুনি দিয়েছিল যে ওকে তিনদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। তারপর ওকে জেলে পুরে দেওয়া হয়। বাজে টাইপের কোনও ছেলে বাসে উঠলে কন্ডাক্টরই এখন তাকে পিছনে গিয়ে দাঁড়াতে বলে।

—ব্যাড লাক শ্বেতা, ডেমোটা দিতে পারলে তোমার মাকে পুরোপুরি লাইনে আনা যেত।

নিলয় হয়তো ঠিকই বলেছে। কেন-না শ্বেতা দেখল প্রমিলা আবার মাঝরাতে উঠে স্নান করতে শুরু করে দিয়েছেন। শ্বেতা যতই বোঝাবার চেষ্টা করে ও এখন পুরোপুরি নিজেকে সুরক্ষিত করে বাসে যাতায়াত করছে, রাস্তায় সে কোনও বিপদের মুখে পড়বে না— প্রমিলার চোখে সেই অবিশ্বাসের চাহনিটা শ্বেতাকে বিদ্ধ করেই যায়।

নিলয়ের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বলে শ্বেতা শেষপর্যন্ত একদিন মাকে নিয়ে বাসে কলেজে যাবে ঠিক করে ফেলল। সন্ধ্যার পরে মেয়েকে কোনওমতেই বাড়ির বাইরে যেতে দেবেন না প্রমিলা, তাই ‘স্পোর্টস ডে’তেই ও মাকে অনেক অনুনয় বিনয় করে তার সঙ্গে কলেজে আসতে রাজি করাল।

—কিন্তু আমি তো তোর মতো বাসে দাঁড়িয়ে যেতে পারব না, প্রমিলা বললেন মেয়েকে। একটা অটো নিলেই তো হয়।

—লেডিস সিটে তুমি জায়গা পেয়ে যাবে, তা ছাড়া বাসে কীভাবে আমি রোজ যাতায়াত করি সেটাও নিজের চোখে দেখে নেবে তুমি। দ্বারকা মোড় থেকে ওরা পাঁচশো চৌত্রিশ নম্বর বাসে উঠলে অল্প বয়স্ক একটি মেয়ে একটু সরে বসে লেডিজ সিটে প্রমিলাকে বসার জায়গা করে দিল। বাসে বেশ ভিড় থাকায় শ্বেতাকে দাঁড়িয়েই থাকতে হল।

(চলবে)

৫ সুপার হেলদি অয়েল আটকাবে হৃদরোগ (শেষ পর্ব)

আপনি শুনে অবাক হবেন যে, ভারতবর্ষে প্রতি বছর প্রায় ১২ লক্ষ যুবক-যুবতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। তাই বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। অতএব, সতর্কতা জরুরি। এবার জেনে নিন, কোন কোন কুকিং অয়েল হৃদরোগ এড়াতে সাহায্য করবে।

ক্যানোলা অয়েল : যদি আপনার হার্ট-এর সমস্যা থাকে কিংবা কোলেস্টেরল উচ্চমাত্রায় থাকে, তাহলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করুন ক্যানোলা অয়েল। কারণ এতে থাকে গুড ফ্যাট, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘কে’ এবং এই তেল কোলেস্টেরল ফ্রি হয়। এর মধ্যে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকার পাশাপাশি, উচ্চমাত্রায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড থাকে— যা আপনার ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল প্রভৃতিকে আয়ত্তে রাখে এবং হার্ট সচল ও সুস্থ স্বাভাবিক রাখে।

অনেক হেলথ অর্গানাইজেশন ক্যানোলা অয়েল-কে ‘হার্ট-স্মার্ট অয়েল’ আখ্যা দিয়েছে। এতে জিরো শতাংশ (০%) ট্রান্স ফ্যাট হওয়ার কারণে, হাই লেভেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়— যা হৃদরোগ আটকায় এবং ডায়াবেটিজ আয়ত্তে রাখে।

অ্যাভোকাডো অয়েল : এতে প্রচুর পরিমাণ মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যা হেলদি ফ্যাটস এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যুক্ত। এর ফলে খারাপ কোলেস্টেরল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং গুড কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অ্যাভোকাডো অয়েল হার্ট-এর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ৭০ শতাংশ। আর কোলেস্টেরল-এর মাত্রা সঠিক থাকলে হৃদরোগ এড়ানো যায় অনেকটাই। আর এই তেলের বিশেষত্ব এই যে, এতে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা সঠিক পুষ্টি জোগায়। সেইসঙ্গে এতে পোলিফিনোলিস নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস-যুক্ত হওয়ার কারণে ফ্রি র‍্যাডিক্যালস শরীরের সুরক্ষা প্রদান করে। শুধু হার্ট-ই নয়, শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যরক্ষায় সাহায্য করে এই তেল।

সানফ্লাওয়ার অয়েল : অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সানফ্লাওয়ার অয়েল-এ ৮০ শতাংশ আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা হার্ট-এর পক্ষে খুবই ভালো। এই তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে না, তাই শরীরের কোলেস্টেরল লেভেল-কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে এই তেল। শুধু তাই নয়, এই তেল ব্যবহারের ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে চনমনে হয়ে ওঠে শরীর। সেইসঙ্গে, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এসব সহজে বাসা বাঁধতে পারে না শরীরে। আর এতে থাকা প্রোটিন, কোশ মেরামত করে এবং নতুন কোশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

সিসম অয়েল : সিসম অয়েল বা তিল তেলে রয়েছে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান। সেইসঙ্গে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যরক্ষাকারী উপাদান। এইসব উপাদান শরীরের ফ্রি-র‍্যাডিক্যালস-এর সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রায় রয়েছে ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স এবং ওমেগা নাইন ফ্যাটি অ্যাসিড।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিল তেল হাই কোলেস্টেরল লেভেল-কে আয়ত্তে আনতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট-এর সমস্যা এড়ানো যায় অনেকটাই। এতে রয়েছে ৪১ শতাংশ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৩৯ শতাংশ মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। সেইসঙ্গে এই তেল ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত হওয়ায়, ব্লাড প্রেসার-কেও কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করে। তাই, তিল তেল-কে হার্ট সুস্থ রাখার ওষুধ বলা হয়।

(সমাপ্ত)

৫ সুপার হেলদি অয়েল আটকাবে হৃদরোগ (পর্ব-০১)

রান্নার জন্য আপনি কী তেল ব্যবহার করছেন, তার উপরও অনেকটাই নির্ভর করে আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের হার্ট-এর স্বাস্থ্যের ভালোমন্দের বিষয়টি। তাই জেনে নিন, কোন কুকিং অয়েল ব্যবহার করলে পরিবারের সকলের হার্ট-কে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে পারবেন।

আমরা যখন ভোজ্য তেল কিনতে যাই, তখন প্রথমে দেখি দাম। তারপর যে-ব্র্যান্ড-এর তেলের দাম সব থেকে কম, সেই তেল-ই কিনে নিয়ে যাই। তখন আমরা এটা ভাবি না, যে-তেল কেনা হল তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো, নাকি খারাপ। অথচ এটাই সত্যি যে, তেলের ভালোমন্দের সঙ্গে যুক্ত আমাদের হার্ট-এর স্বাস্থ্য। তাই ভোজ্য তেল কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, রান্না করা খাবার সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি, ব্যবহৃৎ তেল যেন হার্ট-এর ক্ষতি না করে।

স্যাচুরেটেডআনস্যাচুরেটেড অয়েল

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল-এর এক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে যে, যদি হার্ট ভালো রাখতে হয়, তাহলে আনস্যাচুরেটেড অয়েল অর্থাৎ গুড ফ্যাট, যাকে পোলো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট অথবা মোনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বলা হয়— তা ভোজ্য তেল হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ রুম টেম্পারেচার-এ এই তেল তরল থাকে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, তা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো বলা হয়। এই ফ্যাট হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক-এর সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং ট্রাইগ্লিসারাইডস লেভেল-কেও নিয়ন্ত্রণে রাখে। শুধু তাই নয়, শরীরে ব্যাড কোলেস্টেরল-এর মাত্রা কমিয়ে গুড কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সেইসঙ্গে, ব্লাড প্রেসার আয়ত্তে রাখে এবং আর্টারিজ-কে ঠিক রাখে। আর স্যাচুরেটেড অয়েল ফ্যাটস বাড়িয়ে দেয়, কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের ক্ষতি করে।

স্যাচুরেটেড অয়েল সাধারণ রুম টেম্পারেচার-এ সলিড হয়ে যায়। তাই আর্টিফিশিয়াল ট্রান্স ফ্যাটস থেকে দূরে থাকা চাই। কারণ, এই ধরনের তেল হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, ক্যান্সার এবং ওবেসিটির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

তথ্যনির্ভর বিষয়

প্রতিদিন যদি আপনার ২০০০ ক্যালোরি-র প্রয়োজন হয়, তাহলে এর মধ্যে ফ্যাট যেন ২০-২৫ শতাংশের বেশি না হয় এবং তা যেন আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হয়। আর যদি স্যাচুরেটেড অয়েল হয়, তাহলে তাতে যেন ৫-৬ শতাংশের বেশি ফ্যাট না থাকে।

কোন কুকিং অয়েল হার্টএর জন্য ভালো?

রান্নায় অনেকরকম তেল অনেকে ব্যবহার করেন কিন্তু সেইসব তেলের গুণাগুণ সম্পর্কে তেমন বিশেষ ধারণা থাকে না সাধারণ মানুষের। তাই, এখানে এমন ৫টি কুকিং অয়েল সম্পর্কে জানানো হচ্ছে, যা আমাদের হার্ট-কে সুস্থ-স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে।

অলিভ অয়েল : বিশেষজ্ঞ এবং নিউট্রিশনিস্ট-এর পরামর্শ অনুযায়ী, অলিভ অয়েল স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য আদর্শ। তাই নির্দ্বিধায় আপনি এই তেলকে আপনার রান্নার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। আসলে এই তেল মোনোস্যাচুরেটেড হয় এবং ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত হয়— তাই ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে। এরমধ্যে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ব্যাড কোলেস্টেরল আটকায় এবং অনেকরকম রোগ প্রতিরোধ করে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্ট্রোক থেকে মৃত্যু হয়। প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের উপর সমীক্ষা করে দেখা গেছে যে, যারা দীর্ঘদিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করছেন, তাদের স্ট্রোক-এর সম্ভাবনা কমে গেছে।

অলিভ অয়েল ব্লাড প্রেসার এবং খারাপ কোলেস্টেরল-এর মাত্রাকে আয়ত্তে রাখার পাশাপাশি, ব্লাড ভেসেল-এর কার্যকারিতা ঠিক রেখে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায়। এছাড়া অলিভ অয়েল ক্যান্সাররোধক। তাই রান্নায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো।

(ক্রমশ…)

ফ্যাশন যখন Nail Art

ফ্যাশনের দুনিয়ায় রোজই নতুন হাওয়া, রোজই বহতা স্রোত। এই হাওয়ায় গা ভাসিয়ে তরুণীদের এখন লেটেস্ট উন্মাদনা বহুরঙা নেলআর্ট। কিন্তু এই আর্ট রপ্ত করার আগে কয়েকটি জরুরি বিষয় জেনে নিন।

Nail Art বানানোর আগে

  • সকলেরই নিয়মিত ম্যানিকিওর করা উচিত। প্রথমে ম্যানিকিওর ক্লিপার বা কাটার দিয়ে নখ কাটুন। তারপর নেলফাইল দিয়ে আপনার ইচ্ছানুযায়ী রাউন্ড শেপ নয়তো স্কোয়ার শেপ দিন। তবে বর্তমানে স্কোয়ার কাট ভীষণভাবে ফ্যাশনে ইন।
  • নেলপেইন্ট করার দু-তিন দিন আগে থেকে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে নখ মাসাজ করুন। পারলে সামান্য ঈষদুষ্ণ অলিভ অয়েলে নখ ডুবিয়ে রাখুন৷ এতে নখের রুক্ষতা দূর হবে।
  • নেলপলিশ লাগানোর আগে ট্রান্সপারেন্ট নেলপেইন্ট-এর বেস কোট লাগাতে ভুলবেন না। এতে নখ সুরক্ষিত থাকবে।
  • নেলপলিশ লাগানোর সময় নখের চারপাশের স্কিনেও নেলপলিশ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে কখনওই তুলো দিয়ে এক্সট্রা রং মুছবেন না। বরং টিসু পেপার ব্যবহার করুন।
  • সর্বদা ব্র্যান্ডেড কোম্পানির নেলপলিশ-ই বাছুন।

নেল আর্টের পদ্ধতি

বেস কালার :

নখের বেসটাই হল মেইন। তার উপরই নির্ভর করবে আপনার Nail Art কতটা সফিসটিকেটেড ও সুন্দর হবে। তাই প্রথমে যে-কোনও কালার দিয়ে নখের বেস তৈরি করুন। রেড, পিংক, ব্ল্যাক, হোয়াইট অথবা আপনার পছন্দের যে-কোনও একটি রং দিয়ে। যদি আপনি লাইট শেড পছন্দ করেন তাহলে লাইট শেডের পাশাপাশি কিছু ডার্ক নেলপলিশও রাখুন আপনার স্টকে। লাইট এর সঙ্গে ডার্ক ভীষণ ভালো কম্বিনেশন।

নেল আর্ট তৈরির আগে অবশ্যই জেনে নেওয়া দরকার— নেল আর্ট কত ধরনের, কীভাবে করতে হয় এবং কোন ইভেন্টের জন্য কোনটা পারফেক্ট। নেল আর্ট মূলত পাঁচ প্রকার-

  • বেসিক নিডল নেল আর্ট
  • মারবেল Nail Art
  • ব্রাইডাল নেল আর্ট
  • ব্রাশ নেল আর্ট
  • ফাঙ্কি নেল আর্ট

বেসিক নিডল নেল আর্ট :

বেসিক নিডল নেল আর্টকে অ্যাডভান্স নেল আর্টও বলা হয়ে থাকে। তিনবার বেস কোট লাগানোর পরে সেন্টার থেকে শুরু করে নখের আগা বরাবর অন্য কালারের তিনটি বিন্দু লাগান। পরে ওই বিন্দুগুলির উপর আরও অন্য যে-কোনও রঙের দুটি অথবা তিনটি ডটস দিন।

এবার আপনার নান্দনিকতা ও কল্পনার উপর নির্ভর করবে, আপনার ডিজাইন কতটা ভালো হবে। চাইলে আপনি বাটারফ্লাই, পিকক, ড্রাগন অথবা ফ্লোরাল নকশাও বানাতে পারেন।

ময়ূরের ডিজাইন বানাতে হলে বেস কালার হিসাবে লাইট শেডই বাছুন। তারপর সেন্টার থেকে উপর পর্যন্ত ইয়োলো, ব্ল্যাক, অরেঞ্জ অথবা মেটালিক কালারের তিনটি বিন্দু বসান।

এবার ওই বিন্দুগুলিকে টুথপিকের সাহায্যে হালকা হাতে ময়ূরের পেখমের মতো আকার দেওয়ার চেষ্টা করুন। সাইডের বিন্দুর সাহায্যে ময়ূরের মুখ বানিয়ে ফেলুন। যে-কোনও পোশাকের সঙ্গেই এই ডিজাইন বেশ মানানসই।

মারবেল নেল আর্ট :

নখের উপর তিনবার বেস কোট লাগান। তারপর নখ বাদ দিয়ে আঙুলের বাকি জায়গাগুলিতে সেলোটেপ নয়তো ডাক্তার টেপ দিয়ে ভালো করে কভার করে নিন। এবার একটি কাচের বাটিতে সামান্য জল নিয়ে তার মধ্যে তিনটি ডিফারেন্ট শেডের নেলপেইন্ট ড্রপের আকারে ফেলুন। বেস কোট লাগিয়ে রাখা নখগুলিকে বাটিতে ডুবিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন।

এর ফলে জলে ভাসতে থাকা কালারফুল নেলপেইন্টস-এর সাহায্যে আপনার নখে সুন্দর ডিজাইন চলে আসবে। অনেকটা মার্বেল আর্টের মতো।

নেলপেইন্ট হয়ে যাবার পর আঙুলে জড়ানো সেলোটেপ খুলে ফেলুন। এর ফলে আপনার হাতে কোনওরকম এক্সট্রা রংও লাগবে না। আর নখও হয়ে উঠবে সুন্দর এবং আকর্ষণীয়।

ফাঙ্কি নেল আর্ট :

ফাঙ্কি নেল আর্ট-এ সাধারণত মাল্টিকালার নেলপেইন্ট ব্যবহার করে কালারফুল স্মাইলি পান্ডা, কার্টুন অথবা লেদার আর্ট ওয়ার্ক করে নখের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়।

ব্রাইডাল নেল আর্ট :

নিয়মমতো বেস কোট লাগানোর পরে নেলপেইন্ট দিয়ে সুন্দর করে ডিজাইন বানিয়ে নিন। পরে নকশা অনুযায়ী ম্যাচিং স্টোন বা গ্লিটার দিয়ে নখকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলুন। চাইলে স্টোন বিন্দিও টুথপিকের সাহায্যে নখে লাগাতে পারেন। সাধারণত এই ধরনের ডিজাইন কনের নখেই অ্যাপ্লাই করা হয়ে থাকে।

কনের নখ ছোটো হলে আর্টিফিশিয়াল নখ লাগিয়েও Nail Art করা যেতে পারে।

ব্রাশ নেল আর্ট :

ব্রাশ নেল আর্টে নেলপেইন্টের পরিবর্তে ফেব্রিক কালারও করা হয়ে থাকে। তুলির টানে সাজানো হয় নখকে।

আধুনিকাদের কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি রেভলন বাজারে নিয়ে এসেছে ফ্যাশন ট্রেন্ড অনুযায়ী মারচেসা নেল আর্ট 3D জুয়েল অ্যাপ্লিকস। এখন ঘরে বসেই আপনি পেয়ে যাবেন স্যালনের মতো নেল আর্ট কোয়ালিটি। এটি শুকোতেও সময় লাগে না আর দীর্ঘদিন থাকেও। কিওরড টেকনোলজি দ্বারা এটি গঠিত।

 

Open Relationship কতটা যুক্তিসঙ্গত?

বিশ্ব জুড়ে এখন মুক্ত সম্পর্কের জোয়ার চলছে।আমাদের ভারতীয় সমাজেও ঢুকে পড়েছে এই হাওয়া৷ যতই আমাদের জীবন সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে উঠছে, তত বেশি করে আমরা পশ্চিমি দেশগুলির জীবনশৈলীর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি৷ খোলামেলা জীবন কাটাতে চান যারা, তেমন অনেকেই এ ধরনের মুক্ত সম্পর্ক স্থাপনে রাজি। সঙ্গী থাকবে, কিন্তু সে বাঁধনে থাকবে না৷ সম্পর্কে কোনও রকম দাবিদাওয়া থাকবে না৷ সঙ্গী প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আঁকড়ে ধরবে না, যাতে তার দায় দায়িত্ব না নিতে হয়।

ওপেন রিলেশনশিপ বিষয়টি ঠিক কেমন ? যে-কোনও প্রেমের সম্পর্কে থেকেও, এক নারীর একাধিক পুরুষসঙ্গী বা কোনও পুরুষের একাধিক মহিলাসঙ্গী থাকতে পারে। এবং সবার কাছেই সেটা ওপেন। লুকনোর কিছু নেই। সম্পর্কে থাকা দুজন মানুষ এতে কিছু মনে করেন না৷ তাই কিছু হারাবারও ভয় নেই। একজন সঙ্গী গেলে অন্যজন চলে আসে মুহূর্তের মধ্যে।

প্রেম নিয়ে রক্ষণশীল হওয়ার সময় আর নেই বলেই মনে করে এ প্রজন্মের একটি বড়ো অংশ। অনেকেই বলে থাকেন, এক-একটি প্রেমের সম্পর্ক এক-এক ধরনের হয়। ফলে একাধিক প্রেম মনে পূর্ণতা আনে৷ আর একজনকে নিয়েই যে গোটা জীবন কাটাতে হবে, তাতে বিশ্বাস নেই এই প্রজন্মের৷ সেই কারণেই নাকি তারা মুক্ত সম্পর্কে বিশ্বাসী।

কিন্তু এতে কি মনোমালিন্যের জায়গা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে না? অনেকেরই মত হল, এতে সম্পর্কের মধ্যে থেকেও শ্বাস নেওয়ার মতো স্পেস থাকে দুটি মানুষের মধ্যে৷ একে অন্যের ইচ্ছে অনিচ্ছের গুরুত্ব থাকে। গতিবিধি থাকে মুক্ত কিন্তু প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বোঝাপড়া নষ্ট হয় না। ফলে সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ে।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আবেগ কমে যাচ্ছে৷সম্পর্ক ভেঙে যেতে তাই সময় লাগছে না৷ আজ একটা রিলেশনশিপ ব্রেকআপ হওয়ার পর, দশ মিনিটও খারাপ লাগা কাজ করে না। কারণ প্রেমটা হয়েছিল কিছু পলকের মোহগ্রস্ততায়।ফলে সেই শূণ্যস্থান পূরণ করতে খুব কম সময়ের মধ্যেই অন্য কোনও সঙ্গী এসে পড়ে৷

প্রেমিক-প্রেমিকাকে ছেড়ে যাওয়ার মধ্যে, বা প্রেম ভাঙার জন্য এদের মনে তেমন কষ্ট বা অনুশোচনা নেই। থাকলেও তার স্থায়িত্ব খুব কম। তার মধ্যেই পরের জন মেসেজবক্সে ঢুকে যায়।এই সম্পর্কও খুব বেশি দূর গড়ায় না৷এরকম চলতে থাকলে, সেদিন আর দূরে নয়, যেদিন দেখা যাবে এক প্রেমিকের সঙ্গে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বিশ্বস্ততার কোনও জায়গাই আর নেই৷

তবে এসব ক্ষেত্রে Loyalty-কে পাত্তা না দিয়ে অনেকে মনে করেন, একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে একাকিত্ব গ্রাস করে না কখনওই। কেউ না কেউ সবসময় সঙ্গ দেবেই।যৌনজীবনও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই ভ্যারাইটি।যেহেতু কমিটমেন্ট নেই, তাই পরস্পরের কাছ থেকে কোনও প্রত্যাশাও থাকে না। সঙ্গী যতদিন খুশি থাকতে পারে। না পোষালে ছেড়েও যেতে পারে। জোর করার কেউ নেই।আর যেহেতু ব্যাপারটা ওপেন, বিবেক দংশন হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুক্ত সম্পর্ক সুন্দর হতে পারে কি আদৌ? কারণ ওপেন রিলেশনের কিছু মন্দ দিকও আছে। অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে ঠিকই কিন্তু সেটা কতদিন? একটা সময়ের পর নিঃসঙ্গতা আসতে বাধ্য। কিন্তু ততদিনে নির্ভরযোগ্য সম্পর্কগুলো সব শেষ হয়ে গেছে। ভরসা করার মানুষ তখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
অনেকের সঙ্গে যৌনমিলনের কারণে যৌনসংক্রমণ হতে পারে। যার ফল মারাত্মক হতে পারে। যেতে পারে জীবনও।গর্ভধারণ হলে বোঝার উপায় নেই পিতৃপরিচয়। কারণ দায় এড়াতে তখন ব্যস্ত সবাই।

সমাজ টেকে সম্পর্কের জোরে৷ভাসমানতা কখনও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দেয় না৷ তাই আপনি যত বড়ো মুক্ত মনের মানুষই হোন না কেন, সম্পর্ক থেকে প্রত্যাশা আপনার ফুরিয়ে যেতে পারে না৷ভালোবাসা স্থায়িত্ব খোঁজে৷ সেটাই সভ্য সমাজের মনুষ্যপ্রকৃতি৷

ঊষর হিমাচলের রূপকথা (শেষ পর্ব)

মাঝরাতে প্রচন্ড ঠান্ডা এবং অসহ্য মাথাযন্ত্রণা নিয়ে উঠে পড়লাম। টুকি মেরে দেখি পাশের ঘরের সঙ্গীরা লাইট জ্বেলে দেদার আড্ডা বসিয়েছে। আমরাও ওই বরফ বিছানার মায়া ত্যাগ করে আড্ডায় মজে গেলাম। ঘুমটুমের বালাই নেই তাই বেশ সকালেই রওনা দিলাম কুনজুম পাসের উদ্দেশ্যে। এই পাস হিমাচলের বৃহত্তম জেলা লাহুল ও স্পিতিকে সংযুক্ত করেছে।

লোসার থেকে যত দূরে যাচ্ছি রাজপথে বরফের রেখা ততই গভীরতর হচ্ছে। যে পাহাড়েরা দূরে ছড়িয়ে ছিল তারা যেন হুড়মুড় করে কাছে এসে দাঁড়াল, যে-কোনও সময় পথ অবরোধ করতে পারে। কঠিন বরফের রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে। ঘন্টা তিনেকের কষ্টের শেষে ৪,৫৯০ মিটার/ ১৪,৯৩১ ফিট উচ্চতায় কুনজুম পাসে (কুনজুম লা ও বলে) পৌঁছে গেলাম।

নেমেই হাততালি দিয়ে এক চক্কর ঘুরে নিলাম আনন্দে। আমার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়ে ভালো আরামের জায়গায় বেড়াতে ভালোবাসে। প্রচন্ড ঠান্ডায় এবং সব প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে সে জুবুথুবু। সেও আবাক হয়ে গিয়ে নেমে পড়েছে। তুষারাবৃত বড়া শিগরি, ছোটা শিগরি গ্লেসিয়ার ও চন্দ্রভাগা শৃঙ্গ খুব কাছের থেকে দৃশ্যমান। কুনজুম পাসে রয়েছে কুনজুম মাতার মন্দির ও বড়ো একটা চোর্তেন। চোর্তেন সংলগ্ন অঞ্চলে প্রচুর প্রেয়ার ফ্ল্যাগের ছড়াছড়ি। দলের শ্যামলী বউদি নেমেই বরফ দিয়ে দারুণ সুন্দর এক শিবলিঙ্গ তৈরি করলেন। নারকেল ফাটিয়ে কুনজুম মাতাকে পুজো দিলাম আমরা। নির্বিঘ্নে এত দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।

এর পর গাড়ির দরজা খুলে স্টিরিও-তে ভাঙড়া গান বাজিয়ে আমরা সবাই কুনজুম পাসে ভাঙড়া নাচ শুরু করলাম। অসাধারণ অনুভূতি প্রকৃতির কাছে নতজানু প্রতিবার। আমরা একটু ইতস্তত ঘোরাঘুরি করছি কানে গান এলেই হাত পা ছুড়ছি। এর মধ্যে চার বাইক আরোহী এসে উপস্থিত হল। হেলমেট খুলে দু’জন এসে বললেন— আপ লোগ বাঙালি হ্যায় ক্যায়া? ক্যারি অন।

আমাদের সমস্বরে উত্তর ইয়েস, ফ্রম কলকাতা৷

—আরে দুর মশাই আমরা ভদ্রেশ্বর থেকে আসছি।

ওহ এই না হলে স্পিরিট, বাইকে করে ভদ্রেশ্বর থেকে কুনজুম পাস! আমরা হেসে হৈ হৈ করে ওনাদেরকেও ভাঙড়া নাচে জয়েন করতে বললাম। এই না হলে বাঙালি, আজন্মের শীতকাতুরে মাংকিক্যাপ পরা, মাছ ভাত খাওয়া কিন্তু ভ্রমণে আর ভোজনে ষোলোয় ষোলোআনা।

ফিরতি পথে রিনরিন করে কুনজুমের সুর বাজছে মনে। বাতাল পৌঁছানোর একটু আগে পেয়ে গেলাম চন্দ্রনদীকে। বাতাল থেকে আমরা ছত্রু হয়ে ছক্র থেকে ১৭ কিমি দূরে গ্রামফু পৌঁছে দেখলাম রাস্তা দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি লাদাখের দিকে অপরটি রোটাংপাস হয়ে মানালির দিকে। আমাদের গন্তব্য মানালি। সারাদিন জার্নি করে বিকেলের দিকে রোটাং পাস পৌঁছে বড়ো অসহায় লাগল। মনে হল কলকাতার পুরো হাতিবাগানের ভিড়টাই উঠে এসেছে। আমরা ডাইভার-কে থামতে না দিয়ে মানালির দিকে এগিয়ে গেলাম।

এই ভ্রমণ শুরু হয়েছিল হিমাচলের সিমলা থেকে, একে একে অনেক পাকদণ্ডি পেরিয়ে আজ ১৪ দিনের মাথায় শেষ করলাম এই কক্ষপথ। ভ্রমণ পথে ঊষর মরু প্রান্তর, সোনালি আপেল বাগান, নীলের বিস্তারে সরোবর, নিসর্গের পাহারায় কিন্নর কিন্নরীরা তাদের জীবনযাপনের গল্প শোনাল। এই অমূল্য ক’টাদিনের অপূর্ব অভিজ্ঞতা স্লাইড শো হয়ে মনের তাঁবুতে থেকে গেল চিরকালের জন্য।

(সমাপ্ত)

ডেমো (পর্ব ৫)

স্কুলে থাকতেই শ্বেতার সঙ্গে ভাব হয়েছিল নিলয়ের। নিলয়ের বাবা আর্মিতে ব্রিগেডিয়ার। ওনার চাকরিতে ট্রান্সফার লেগেই থাকত। কাজেই জম্মু, পাঠানকোট, ঝাঁসি, ইটানগর ঘুরে এসে দিল্লির দ্বারকাতে সেন্ট্রাল স্কুলে ভর্তি হয়েছিল নিলয় বারো ক্লাসের পরীক্ষাটা দিতে। নিলয়ের সায়েন্স, শ্বেতার আর্টস, তবু ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে গেল উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার আগেই। কিন্তু শ্বেতার তো উইমেনস কলেজ, ছেলেরা ওখানে ভর্তি হতে পারে না। ওদিকে শ্বেতা কো-এডুকেশন কলেজে ভর্তি হতে গেলে প্রমিলা যে বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যাবেন না তার নিশ্চয়তা কী?

প্রমিলা যখন ঠাকুরের আসনের সামনে জপ করতে বসেন শ্বেতা তখন ছাতে উঠে ফোনে কথা বলে নিলয়ের সঙ্গে। নিলয়কে বাড়িতে নিয়ে আসার সাহস হয়নি এখনও শ্বেতার কিন্তু মার জীবনের অন্ধকার অধ্যায়টি এবং ওঁর ওসিডি-সহ নানারকম খ্যাপামি সবিস্তারেই নিলয়কে জানিয়েছে শ্বেতা। কলেজ যাওয়া শুরু করার পর থেকেই ওর মা যে আবার রাতে মাথায় জল ঢালতে শুরু করেছেন সেটাও নিলয়কে জানিয়েছে শ্বেতা।

—তুমি রাজি থাকলে তোমার বাড়ি এসে তোমার মার সঙ্গে কথা বলতে পারি আমি, নিলয় বলল শ্বেতাকে ফোনে একদিন সন্ধের দিকে। -একদম নয়! মা তোমাকে রেপিস্ট ভেবে যে ঠ্যাঙাতে শুরু করবেন না বা গায়ে গরম জল ঢেলে দেবেন না তার কোনও সিওরিটি নেই। —কিন্তু ওনার তো ঠান্ডা লেগে আবার নিউমোনিয়া হয়ে যাবে!

—হাসপাতালে কয়েকদিন পড়ে থাকলে যদি এই পাগলামি বন্ধ হয়ে যায় তবে আমি বেঁচে যাই।

—না না, সেটা ঠিক হবে না। যে কারণে উনি এসব করছেন সেটা তো আমরা জানি। ওনার মনে তোমার সম্পর্কে যে ভয়টা সব সময় কাজ করে সেটাকে দূর করতে পারলে হয়তো….

—সেটা সহজ কাজ নয় নিলয়। ফর হার, এভরি মেল ইন দিল্লি ইজ আ পোটেনশিয়াল রেপিস্ট। এই মাইন্ডসেট কী করে পালটাবে তুমি? -তোমার হয়তো ক্যারাটে কিংবা বক্সিং শেখা উচিত ছিল।

—মার চাপে পড়ে সে চেষ্টা যে একেবারেই করিনি তা নয়। দু’বছর স্কুলের পর পাড়ার মাঠে একজন মহিলা ব্ল্যাকবেল্টের কোচিং-এ হাত পা ছুড়েছি আমি। কিন্তু আমাদের হাত পা ছোড়া দেখতে যখন পাড়ার ছেলেরা মাঠের পাশে ভিড় করতে লাগল, তখন মা আমাকে উইথড্র করে নিলেন। কলেজে বক্সিং বা রেসলিং শেখার সুযোগ নেই, নইলে মাকে আশ্বস্ত করার জন্য ওগুলোও ট্রাই করতাম।

ওরা দু’জনেই হাসল। সিঁড়িতে মা-র গলার আওয়াজ পেয়ে এখন ছাড়ছি, পরে কথা বলব বলে শ্বেতা মোবাইল সুইচ অফ করে সিঁড়ির দিকে এগোল।

সে রাতে শুতে যাবার আগে শ্বেতা মাকে বলল, “আমাকে তো তুমি ঘর থেকে বেরোতে দেবে না আর কলেজে পড়াশোনা না করলে আমি চাকরিও পাব না। এই মাঝরাতে চান করে করে নিউমোনিয়া বাঁধিয়ে মরবার আগে তুমি বরঞ্চ আমার বিয়েটা দিয়ে দাও মা।’ প্রমিলা অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এ কী বলছিস তুই? তুই তো এখনও কুড়িতে পা দিসনি!”

—তাতে কী হয়েছে? শক্ত সমর্থ কোনও জোয়ান পুরুষের হাতে আমাকে তুলে দিতে পারলে তুমি নিশ্চিন্ত হয়ে মরতে পারবে। —না না তা হয় না। পড়াশোনা করে চাকরি করে তবে বিয়ে করবি তুই। আজকাল ছেলেদের কোনও ভরসা নেই, কথায় কথায় ডিভোর্স হয়ে যায়।

—তোমাদের সময়ই-বা ছেলেদের কী ভরসা ছিল মা? তোমার বরও তো তোমাকে ছেড়ে দিল মাঝ রাস্তায়।

—ওটা অন্য ব্যাপার। আমার কপালে যা ঘটল তারপর কোন ছেলে সাহস পেত আমাকে নিয়ে ঘর করতে বল? তবুও তো প্রতীক দূরে থেকেও স্বামীর কর্তব্য অনেকটাই পালন করে যাচ্ছে।

—ছাই করছে! মাঝখান থেকে আমার জীবনটা তোমরা দু’জনে মিলে নষ্ট করে দিলে। শ্বেতা মুখ গোমড়া করে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর, ঘুমিয়ে পড়ার একটু আগে শ্বেতা অনুভব করল প্রমিলা ওর মাথায় পিঠে আস্তে আস্তে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। শ্বেতার চোখে জল এসে গিয়েছিল কিন্তু ও চোখ মুছবার কোনও চেষ্টা করল না।

সে রাতে প্রমিলা মাঝরাতে উঠে স্নান করতে গেলেন না।

(চলবে)

ব্রেস্ট ক্যান্সারের শিকার হতে পারেন যুবতিরাও

বর্তমান যুগে সবথেকে আশঙ্কার বিষয় হল অল্পবয়সি মেয়েরাও Breast Cancer-এর মতো এই মারণ রোগের শিকার হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হল আমাদের জীবনশৈলী। পশ্চিমি দেশগুলিকে আমরা নকল করতে ব্যস্ত। স্যাচুরেটেড অয়েল-এর সর্বাধিক ব্যবহার। কোনওরকম শারীরিক পরিশ্রম নেই। নানা কারণে স্ট্রেস এবং অবসাদের বাড়বাড়ন্ত। বিয়ে দেরিতে হচ্ছে, ফ্যামিলি প্ল্যানিংও শুরু হচ্ছে দেরিতে, মায়েরা সন্তানকে ব্রেস্ট ফিড করাতে নারাজ। এতকিছু কারণসমূহ স্তন ক্যান্সারের বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হয়ে উঠছে। এসব কিছুই গভীর ভাবে ভাবার বিষয়। সময় থাকতে চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সচেতনতা দরকার

স্তন ক্যান্সার ডিটেক্ট করতে অনেকটা সময় লেগে যায়। যুবা বয়সে মেয়েরা অনেক সময় সচেতন হন না। ফলে প্রারম্ভিক লক্ষণগুলিকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে চান না। পরিবারের সদস্যরাও অনেক সময় সচেতন হন না রোগটির সম্ভাবনার বিষয়ে, ফলে অসুখ বাড়তে থাকে। এমনও হয় বহু ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

ম্যামোগ্রাফিতে প্রারম্ভিক অবস্থায় ক্যান্সার ডিটেক্ট করা যায়। এই পদ্ধতিতে খুব কম মাত্রায় রেডিয়েশন প্রয়োগ করে এক্সরে করা হয় এবং লাম্প বা টিউমারটির সঠিক আকার নির্ণয় করা সম্ভব হয়। ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে Breast Cancer-এর প্রকোপ বাড়তে থাকায় অবশ্যই নিজের স্তনের আকার, আকৃতি এবং পরিবর্তনের উপর নজর রাখতে হবে। সময় নিয়ে নিজেকেই নিজে পরীক্ষা করুন এবং লাম্প-এর অস্তিত্ব টের পেলে সঙ্গে সঙ্গে ম্যামোগ্রাফি করান। ৪০ বছরের পর ২ বছর অন্তর ম্যামোগ্রাফি করানো বাঞ্ছনীয়। টিউমার হয়ে থাকলে ম্যামোগ্রাফির পর সোনোগ্রাফি করিয়ে ক্যান্সারের আকার এবং স্বরূপ জেনে নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসা: সাধারণত সার্জারির মাধ্যমেই এর চিকিৎসা করা হয়। পুরো স্তন বাদ দিয়ে দেওয়া বা ক্যানসার-যুক্ত টিউমারের আশেপাশের কিছু সুস্থ টিস্যু সার্জারি করে বার করে দেওয়া এই দুটি বিকল্প চিকিৎসা রয়েছে। সার্জারির পর ডাক্তার, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমো থেরাপি, হরমোনাল থেরাপি বা এইসব কিছু মিলিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন। বেশিরভাগ টিউমার সার্জারির পর বিশেষ একটি মেশিন দ্বারা প্রভাবিত অংশে প্রয়োগ করা হয়। ছোটো শহর বা গ্রামে এই সুবিধা নেই।

বড়ো শহরে গিয়ে সার্জারি করাবার পর ৫-৬ সপ্তাহ থেকে এই পদ্ধতি ফলো করতে হয়। অর্থের প্রয়োজন হয় প্রচুর। এই দিশায় একটি নতুন পদ্ধতি শুরু হয়েছে। এটিকে বলা হয় ইন্ট্রাঅপারেটিভ রেডিয়েশন থেরাপি। সার্জারি করানোর সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন টেবিলেই রেডিয়েশন দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় মাত্রায়। ৫-৬ সপ্তাহের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০টি সেশনের প্রয়াজন হয়। এই পদ্ধতিতে খরচও যেমন কম এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অনেক কম।

নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন

স্তনের সার্জারির পর স্তনকে নতুন করে রেসটোর করা সহজ নয়। কিন্তু এখন মহিলারা এটা নিয়ে দ্বিধাবোধ করেন না কারণ শরীর থেকে কোনও অংশ কেটে বাদ দিয়ে দিলে অনেকেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। অবসাদে ডুবে যান। এর জন্য দরকার ব্রেস্ট রিকনস্ট্রাকশন। কসমেটিক সার্জন এই দায়িত্ব পালন করেন। রিকনস্ট্রাকশন, মাস্টেক্টমির ঠিক পরেই করা যায়। কিন্তু সার্জারি কীভাবে করা হয়েছে রিকনস্ট্রাকশনের সময় সেটা খেয়াল রাখা উচিত।

মাস্টেক্টমি-তে পুরো স্তনই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে ফ্যাট, ত্বক, মাংস (পেশি), রক্তনালি ইত্যাদি নিয়ে এটির পুনর্গঠন করা হয়। সাধারণত পেট, থাই, কোমরের উপরের অংশ থেকে এগুলি সংগ্রহ করা হয়।

 

ঊষর হিমাচলের রূপকথা (পর্ব-০৪)

পিনভ্যালির শেষবিন্দুতে গিয়ে নেমে পড়লাম। চারপাশ পিনড্রপ সাইলেন্স মাঝে দু’একটা পাখি উড়ে গেল। দূরে শ্বেতকায় প্রাচীরের অসম্ভব সুন্দর আর্কিটেকচারাল ভিউ দেখে পলক পড়ছে না। সেই পাহাড়ের মাথায় কিছু ইরেস্পন্সিবল মেঘের আনাগোনা কোথা থেকে মেঘদূত কাব্য বয়ে আনল!

বেসুরো খ্যাঁচাখ্যাঁচ শব্দে সব ছবি তুলছে আনাড়ি পাবলিক একটু হল্লা করে দূষিত করছে মনে হল। সবার মাঝে একলাটি আমি পিনভ্যালি জাতীয় উদ্যানের শেষ বিন্দুর দিকে এগিয়ে গেলাম। স্নো লেপার্ডের চারণভূমি। হঠাৎ করে যদি একটির সাথে দেখা হয়ে যায়! কিন্তু তা কি হবার? প্রকৃতি ঠিক মেপে দেন আমাকেও দিলেন।

দেখলাম শরৎ কালের একটা শীত শীত সাদা মেঘ একরাশ প্রশ্নচিহ্ন নিয়ে থমকে আছে; আগাপাশতলা শহুরে আমায় দেখে। চোখের সামনে দেখলাম ওই বর্তুলাকার মেঘের মধ্যিখানটা গোল ফাঁকা হয়ে গেল আর আমার দেখা পাহাড়ের সব উৎসারিত আলো যেন ঝরনা হয়ে ঝরে পড়তে শুরু করল আশীর্বাদের মতো।

হঠাৎই অনেক দূর থেকে গাড়ির একটানা হর্নের শব্দ সবেগে এসে ঝাপটা মারল কানে। এইবার তাহলে আসি পাহাড়।

পরের দিন খুব সকালে রওনা দিলাম পৃথিবীর সুউচ্চ গ্রাম দেখতে, যেখানে মানুষ স্থায়ী ভাবে বসবাস করে সংসার ধর্ম করে। সমান্তরাল দৃষ্টি পথে কেবলই ন্যাড়া পাহাড় সারিবদ্ধ। ১৪,৭০০ ফিট উচ্চতায় কিব্বের গ্রাম দেখে বলে ফেললাম ওমা এতো পুরো ঝুলনের মতো। ডাইভার অবাক চোখে আমায় দেখে কী মানে বুঝল ভগা জানে! চোখের সামনে দেখছি মাটির প্রলেপে প্রলেপিত একই গঠনশৈলীর ঘরবাড়ি। ব্যাকড্রপে নিষ্কলুষ উজ্জ্বল সমুদ্র নীল আকাশ যেন চাঁদোয়া। এই কিব্বের গ্রাম স্কুল, পোস্ট অফিস, এসটিডি বুথ নিয়ে স্বয়ং সম্পূর্ণ। কিব্বেরের উত্তরে রয়েছে তিব্বত আর পশ্চিমে রয়েছে লাদাখ। এই কিব্বের গ্রামকে বেসক্যাম্প করে সারা পৃথিবী থেকে ফোটোগ্রাফাররা স্নো লেপার্ডের ছবি তুলতে আসে।

পরবর্তী ডেসটিনেশন লোসার। এই দীর্ঘ যাত্রাপথটি অসাধারণ বৈচিত্র্যময়। ধূসর কঠিন বালির স্তূপের মতন সাজানো ভাস্কর্য সমস্ত রাস্তা জুড়েই। চলন্ত গাড়ি থেকে দেখে মনে হচ্ছে কিছু বাদ পড়ছে না তো? আসলে এই সফরের শেষ দিনক’টি-তে রাস্তার দু-পাশের সবকিছু সাইট সিইং, মাঝেমধ্যে এক আধটা গুম্ফার স্টপেজ। বেলা তিনটে নাগাদ গাড়ি একটা বিশাল অববাহিকায় দাঁড়াল ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে, পাহাড়ও গেল সরে। আমারা রাস্তার ধারে সরঞ্জাম নামিয়ে মুড়িমাখা খাওয়ার একটা ব্রেক নিলাম। একদম পশ্চিমপ্রান্ত তাই সূর্য পাটে যাওয়ার আগে দিনানুদিনের হিসেব রেখে যায় প্রকৃতিতে।

সন্ধ্যার আগেই পৌঁছে গেলাম লোসার। ১৩, ৪০০ ফিট হাইটে প্রথম রাত্রিবাস। সাদা রঙের উত্তুঙ্গ শিখর চতুর্দিক থেকে ঘিরে রেখেছে লোসার-কে। দু’চারটে বাড়িঘর নিয়ে লোসার গ্রাম। আসন্ন শীতের রসদ বলতে সবাই চেরাই কাঠ বোঝাই করেছে। রাত্রিবাস করব দোতলা একটা মাটির বাড়িতে।। ঘরে একটু উঁচুর দিকে ঘুলঘুলি টাইপের জানলা— যা কাচ ও প্লাস্টিক দিয়ে আটকানো। ঘরটিতে বাইরের অক্সিজেন আসার সম্ভাবনা খুব কম। মানুষ এখনও এই ভাবে থাকে সত্যিই? বিস্ময়ের উদ্রেক ঘটালেও মেনে নিতে বাধ্য হই এটাই এদের প্রাণের জায়গা। এইভাবে জীবন যাপনেই এরা অভ্যস্ত। যারা পাহাড়কে ভালোবাসেন না তাদের এই সফর বাকেট লিস্টে না রাখাই ভালো।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব