ডেমো (পর্ব ৪)

মাঝরাতে উঠে মাকে বালতি বালতি জল ঢেলে প্রথমবার স্নান করতে দেখেছিল শ্বেতা পাঁচ বছর বয়সে। কখনও কখনও দিনে তিনবারও স্নান করতেন প্রমিলা। শ্বেতা জিজ্ঞেস করলে উনি বলতেন, “ওঁর গায়ে অনেক নোংরা লেগে আছে, ওঁর গা থেকে দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে, তাই ওঁকে বারবার স্নান করতে হচ্ছে।’

শ্বেতা একবার ওর মার গা শুঁকে বলেছিল, ‘কই মা তোমার গায়ে তো কোনও খারাপ গন্ধ নেই।’ —আছে, তোর নাক এখনও তৈরি হয়নি, আরেকটু বড়ো হ তখন পাবি।

কিন্তু শ্বেতা বড়ো হয়েও মার গায়ে কোনওদিন দুর্গন্ধ পায়নি। শেষে দু’দুবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ঘুরে এসে প্রমিলার নৈশ স্নানের বাতিকটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্লাস এইটে উঠে শ্বেতা রজস্বলা হলে প্রমিলা মেয়েকে একরাতে সংক্ষেপে প্রতীকের সঙ্গে কী কারণে ওর ছাড়াছাড়ি হল কিংবা পুরোপুরি ছাড়াছাড়ি হল না সেটা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

ওর বাবা যে কাপুরুষ, লোকনিন্দার ভয়েই মাকে ত্যাগ করেছেন— এটা শ্বেতার মনে গভীর দাগ কেটে গিয়েছিল। যদিও প্রমিলা ব্যাপারটা একরকম মেনেই নিয়েছিলেন।

প্রমিলা শ্বশুরবাড়িতে থাকলে ওঁর ননদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না— এই ছেঁদো যুক্তিটা যে প্রতীক মেনে নিয়েছিলেন, সেজন্য শ্বেতা ওর বাবাকে কোনওদিন ক্ষমা করতে পারবে না। তাই পুরো ব্যাপারটা মার কাছ থেকে শোনার পর প্রতীক ওর মার সঙ্গে দেখা করতে এলে শ্বেতা অন্য ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকত। ওর বাবা অনেক ডাকাডাকি করলেও ও বাবার সামনে আসত না।

প্রমিলা ওকে বোঝাবার চেষ্টা করতেন যে প্রতীক ওকে ডিভোর্স দিলেও দ্বিতীয়বার যে উনি আর বিয়ে করেননি এবং ওদের খোরপোশ, এমনকী মেয়ের পড়াশোনার খরচ ঠিকভাবেই দিয়ে যাচ্ছেন এটাই বা কম কীসের?

এ নিয়ে মা-মেয়েতে কথা কাটাকাটি হয়েছে বেশ কয়েকবার কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রমিলা কান্নাকাটি শুরু করলে শ্বেতাকে চুপ করে যেতে হয়েছে। কিন্তু শ্বেতা কলেজে যাবে শোনার পর থেকেই প্রমিলা আবার তাঁর পুরোনো পাগলামি শুরু করলেন। কান্নাকাটি, চ্যাঁচামেচি এমনকী মেয়ের পায়ে পড়তে বাকি রাখলেন না প্রমিলা।

প্রতীক এসে ওকে এ ব্যাপারে বোঝাবার চেষ্টা করলেও প্রমিলা কিছুতেই মানতে রাজি হলেন না যে তার প্রাপ্তবয়স্ক এবং যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে শ্বেতা বাসে করে রোজ কলেজে যেতে আসতে পারে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেই। তাই যেদিন থেকে শ্বেতা কলেজে যেতে শুরু করল সেদিন থেকেই প্রমিলার আবার নৈশ স্নান শুরু হয়ে গেল।

(চলবে)

মধ্যবয়সে মিউচুয়াল ডিসিশন-এ বিবাহবিচ্ছেদ

আমার বয়স ৪৮ ৷ আমার স্বামী ৫১৷ আমাদের একটি সন্তান আছে৷ সে বিদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে৷ আমার স্বামী এবং আমি দুজনেই অনেক ত্যাগ স্বীকার করে ছেলেকে বড়ো করে তুলেছি৷ আমার স্বামী পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন সন্তানকে মানুষ করা, সুশিক্ষা দেওয়া এবং তার কেরিয়ার গড়ে তোলার কাজে৷ সন্তানেরও কোনও অভিযোগ নেই আমাদের ঘিরে৷

কিন্তু বর্তমানে আমি এবং আমার স্বামী এটা অনুভব করছি যে, সন্তানকে বড়ো করতে গিয়ে আমরা নিজেরা নিজেদের ইচ্ছেপূরণ করিনি৷ নিজেদের সখ-আল্হাদ,স্বপ্ন সবই বিসর্জন দিয়েছি৷ এত বছর ধরে একসঙ্গে সামাজিক ভাবে থেকে বুঝতে পারলাম– আমরা দুজনেই নিজেদের মতো করে আলাদা দুটি মানুষ। আমাদের ভাবনাচিন্তা একদমই আলাদা৷যদিও আমরা উভয়ে ঝগড়া করিনি, মারামারি করিনি, বিভিন্ন বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্বেও একে অন্যের উপর মত চাপিয়ে দিইনি৷ বিতর্ক করেছি, অনেক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত পোষন করেছি, তবুও কখনও আমরা আলাদা থাকিনি, সন্তানের কথা ভেবে মানিয়ে নিয়ে থেকেছি।কিন্তু  যেহেতু আমাদের জীবনদর্শনটাই পরস্পরের থেকে আলাদা– আমরা  এখন মধ্যবয়সে এসে মিউচুয়াল ডিসিশন-এ সেপারেশন নিতে চাই৷ এই সিদ্ধান্ত কি ঠিক?

শুধু এই কারণে যে আমরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করি বা ভালোবাসি, আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের অপূর্ণতা নিয়েই চিরকাল বাঁচব–সেটা উচিত নয়৷  প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আপনারা অত্যন্ত ম্যাচিওরড সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ আপনাদের দায়িত্ব, সন্তানকে বড়ো করে তোলার কাজ, সবই সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন আপনারা৷ এবার নিজের নিজের মতো করে বাকি জীবন কাটানোর অধিকার আপনাদের নিশ্চয়ই আছে৷ এবং কোনও অসন্তোষের ঘটনা না ঘটিয়ে, পরস্পরকে কালিমালিপ্ত না করে এই যে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত– তা সত্যিই সমীহ করার মতো৷

এমন নয় যে, আপনারা পরস্পরকে ভালোবাসেননি, দূরে গিয়েও হয়তো আগের মতোই ভালোবাসবেন৷ কিন্তু নিজের ইচ্ছেপূরণের অধিকারও মানুষের থাকা উচিত৷ সাধারণত দাম্পত্য কলহে বড়োদের আচরণ, বাচ্চাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে৷। কিন্তু এখন আপনাদের সন্তানের যা বয়স, তাতে সে আপনাদের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধাই করবে বলে মনে হয়৷

বিবাহবিচ্ছেদ মানেই যে পরস্পরকে গালমন্দ করা, সবসময় তা কিন্তু নয়৷ মিউচুয়াল ডিসিশন-এ কোনও দম্পতি বিবাহবিচ্ছেদ করতেই পারেন৷বিষয়টা এক তরফা হলেও প্রাথমিক মানসিক আঘাত কাটিয়ে, বিচ্ছিন্ন দম্পতি পুনরায় সুসম্পর্কে বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফিরতে পারেন৷ এমন উদাহরণ আমাদের সমাজে প্রচুর রয়্ছে৷

বিবাহবিচ্ছেদের পরে পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক রাখা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মানবিক পদক্ষেপ৷ এতে সন্তানের সঙ্গেও অন্তরঙ্গতা বজায় থাকে৷ সেও তার মা-বাবাকে শ্রদ্ধার আসনে রাখে৷ এই উপলব্ধি যে, আপনারা ভালো থাকার স্বার্থে পৃথক হতে চাইছেন, এতে দোষের কিছু নেই৷ বরং দূরে গিয়েও বন্ধুত্ব আরও নিখুঁত করার জন্য পরস্পরকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে পরামর্শ দিন, যাতে সম্পর্ক আগের চেয়েও মধুর হয়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার ও অসুখের লক্ষণ

সাতাশ বছর বয়সি শান্তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল যখন পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারে যে, সে Breast Cancer-এ আক্রান্ত। শান্তা বড়ো কোম্পানিতে উঁচু পদে কর্মরত। প্রথম দিকে সে কিছুই বুঝতে পারেনি। পিরিয়ড সংক্রান্ত কিছু সমস্যা নিয়ে সে পারিবারিক ডাক্তারের কাছে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খাওয়া আরম্ভ করলে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হওয়া শুরু হয়। কিন্তু এরই পাশাপাশি শান্তা লক্ষ্য করে যে, খাওয়াদাওয়ার প্রতি অনীহা ওর ধীরে ধীরে বাড়ছে।

একদিন স্নানের সময় শান্তা নিজের ডান ব্রেস্টে উঁচু মতো একটা শক্ত কিছু অনুভব করে। ডাক্তরের কাছে দেখায় শান্তা। প্রথমটা ডাক্তার পেশির সমস্যা বলে কিছু ওষুধ দেন কিন্তু কয়েক মাস ওষুধ চলার পরেও কোনও সুরাহা না হলে, ডাক্তারের পরামর্শমতো বিভিন্ন পরীক্ষা এবং ম্যামোগ্রাফি করায় শান্তা। এরপর তার দুটি স্তনেই টিউমার ডিটেক্ট হয়।

ক্যান্সার হসপিটালের ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তা এবং সেখানে ক্যান্সারের সঠিক চিকিৎসা শুরু হয়। আজ সেদিনের কথা ভাবলে শান্তার মনে হয় যেন সে, নতুন করে আবার জীবন পেয়েছে।

স্তন ক্যান্সার কী?

স্তনের কিছু কোশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোশগুলি বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। সেটি রক্তনালীর লসিকা (কোশ রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার। বেশিরভাগ মহিলাদের মধ্যেই স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। স্তনে থাকা বিভিন্ন কোশগুলির মধ্যে যে-কোনও কোশেই এই রোগ হতে পারে। তবে প্রধানত মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনে যুক্ত কোশেই এই প্রকার ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

স্তনের মধ্যে থাকা বিভিন্ন কোশগুলির অতিরিক্ত বেড়ে ওঠার কারণে শরীরে স্তনের আকারের বা আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। তবে স্তনের মধ্যে যে-কোনও লাম্প হওয়া মানেই ক্যান্সারই হয়েছে এমনটা বলা যায় না। এটি একটি সাধারণ টিউমারও হতে পারে। শুধুমাত্র ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

লক্ষণ: পরীক্ষার মাধ্যমেই Breast Cancer সঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায়। তবে ঘরোয়া কিছু উপায় অবলম্বন করেও, অসুখের লক্ষণ সম্পর্কে আমরা সচেতন থাকতে পারি।

  • স্তনের আকারে পরিবর্তন অথবা শক্ত হয়ে কোনও অংশ ফুলে ওঠা
  • স্তন বা স্তনবৃন্ততে ব্যথা হওয়া
  • স্তনের ভিতরে কোনও লাম্প-এর উপস্থিতি অনুভব করা
  • স্তন থেকে সাদা তরল বা রক্ত মিশ্রিত তরল নির্গত হওয়া
  • বাহুর নীচে বা গলার হাড়ের কাছে ফুলে ওঠা।

Breast Cancer-এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের মত হল— এর সঠিক কারণ আজও অজানা থাকলেও কিছু কিছু কারণের সঙ্গে এই ধরনের ক্যানসার হওয়ার একটা যোগাযোগ রয়েছে। যেমন — শরীরে মেদের বাহুল্য, অতিরিক্ত ধূমপান ও মদ্যপান, হরমোন থেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মহিলাদের মেনোপজের পর হওয়ার বেশি প্রবণতা, বংশপরম্পরা বা জেনেটিক্স, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ইত্যাদি।

পায়ের সৌন্দর্য অবহেলা করার নয়

পায়ের যত্নে পেডিকিয়োর করেন প্রায় সকলেই। সৌন্দর্য চর্চার একটা গুরুত্বপূর্ণ আংশ হল পেডিকিয়োর। কেউ নিয়মিত করায় আবার কেউ কেউ সৌন্দর্য বাড়াতে উৎসবের আগে সৌন্দর্য চর্চায় মন দেন। ১৫ দিনে সাধারণত একবার Pedicure করানো উচিত। মনে রাখতে হবে নারীর সৌন্দর্য কিন্তু ফুটে ওঠে তার পায়ের থেকেই। পায়ের যত্ন নিলে যেমন শরীরও আপনার চনমনে থাকবে তেমনি পা সুন্দর লাগবে দেখতে সেটা আপনি শর্ট ড্রেস-ই পরুন কিংবা অন্য কোনও পোশাক। এতে গোড়ালির ফাটা সমস্যা দূর হয়, পায়ের ক্লান্তি দূর হয়ে ত্বকের মৃত কোশও দূর করতে সাহায্য করে। নখ কালো বা হলুদ হয়ে গেলেও নখের স্বাভাবিক রং ফিরে পেতেও পেডিকিয়োর করানো অত্যন্ত জরুরি। কোমল মসৃণ সুন্দর পায়ের জন্য মহিলারা নানা ধরনের ক্রিম, প্যাক, সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, অনেকেই বিউটি পার্লারে যান। কিন্তু পার্লারে যাওয়া মানেই সময় এবং অর্থের অপচয়। তার থেকে বাড়িতেই যদি পেডিকিয়োর করে নেওয়া যায় তাহলে সময়ও নষ্ট হয় না আর অর্থেরও সাশ্রয় হয়। বিশেষ করে যে-কোনও উৎসবের আগে অবশ্যই পেডিকিয়োর করানোটা জরুরি।

পেডিকিয়োর

সারাদিন আমাদের দৌড়ঝাঁপ করে অনেক কাজ করতে হয়, বাড়ির বাইরে বেরোতে হয়, যার ফলে আমাদের পা নোংরা হয় সবথেকে বেশি। নোংরা পায়ে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয় সব থেকে বেশি। সুতরাং পায়ের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। পরিষ্কার নরম পা শরীরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। পায়ের যত্ন নেওয়ার সবথেকে ভালো উপায় হল পেডিকিয়োর। এতে পায়ের নোংরা দূর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

পেডিকিয়োর-এর উপকারিতা: পেডিকিয়োর পায়ের ত্বকে এক্সফলিয়েশন-এর কাজ করে। বিশেষ করে গোড়ালির ডেড স্কিন খুব সহজে বের হয়ে যায়। একইসঙ্গে নখের পলিশিং-এরও কাজ করে। গোড়ালি ফেটে যাওয়া এবং ত্বকের শুষ্কতায়ও Pedicure খুবই কার্যকরী। ফাটা পা সারিয়ে তুলতে এবং শুষ্ক ত্বক থেকে মৃত কোশ দূর করে এটি পা-কে আরাম প্রদান করে।

পেডিকিয়োরে মাসাজও অন্তর্ভুক্ত। মাসাজের কারণে পায়ের তলা এবং গোড়ালির আরাম হয়। ফুট মাসাজের কারণে রক্তচলাচলও উন্নত হয়।

বাড়িতে কীভাবে করবেন Pedicure

বাড়িতে পেডিকিয়োর করতে যা যা সামগ্রী দরকার: একটা বড়ো টাব-এ হালকা গরম জল, ফুট স্ক্রাব, নেল ক্লিপার, কিউটিকল পুশার, নেল ফাইলার, পিউমিক স্টোন/ ফুট ফাইল, নেল স্ক্রাবার, নেলপলিশ রিমুভার, কিউটিকল ক্রিম, পরিষ্কার তোয়ালে, ময়েশ্চারাইজার, কটন প্যাড, মধু, ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, লেবুর টুকরো।

নখ ট্রিম এবং ফাইল করুন: নখ পরিষ্কার করে বেড়ে যাওয়া নখ নেলকাটার দিয়ে কেটে ফেলুন। পছন্দমতন নখকে আকার দেওয়ার পর নেল ফাইলার দিয়ে ধীরে ধীরে নখ-কে ফাইল করে সুন্দর শেপ দিন।

পা জলে ডুবিয়ে রাখুন: নখ কাটার পর পা-কে আরাম দেওয়ার জন্য হালকা গরমজলে পা ডুবিয়ে রাখুন। একটি বড়ো টাব-এ হালকা গরম জল ভরে সামান্য লবণ বা মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে দিন, এতে পা আরাম পাবে। পা ফোলা, পায়ে জ্বালা করা সব কমে যাবে। এই জলের মধ্যে লেবুর রস অথবা এসেনশিয়াল অয়েলও কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে নিতে পারেন। এগুলি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ফাংগাল গুণে সমৃদ্ধ। গরমজলে পা ডুবিয়ে রাখলে পা যেমন আরাম উপলব্ধি করবে তেমনি রক্তচলাচলও উন্নত হবে। গরমজলে অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রেখে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন।

পা স্ক্রাব করুন: পা ভলো করে শুকিয়ে গেলে নখে কিউটিকল ক্রিম লাগান এবং কিছুক্ষণ ধীরে ধীরে মাসাজ করুন। যখন ডেড স্কিন নরম হয়ে আসবে তখন কিউটিকল পুশারের সাহায্যে কিউটিকল্স সরিয়ে পরিষ্কার করে নিন। ত্বকের ডেড স্কিন তুলতে ফুট স্ক্রাবার ব্যবহার করুন। কমকরে ৫ মিনিট গোড়ালি, পায়ের পাতা, পায়ের আঙুল এবং পায়ের উপরের অংশ ধীরে ধীরে স্ক্রাব করুন।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন: এই পর্যায়ে পা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর দরকার পা-কে ময়েশ্চারাইজ করা। পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাবার আগে অন্তত ১০ মিনিট পায়ের নখ, গোড়ালি ভালো করে মাসাজ করুন। অলিভ অয়েল দিয়ে পা মাসাজ করলেও সেটা ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

 

 

ঊষর হিমাচলের রূপকথা (পর্ব-০৩)

নাকোর পরেই খরাক্লান্ত ঊষর হিমালয়ের মরুভূমির গহ্বরে আমরা এগিয়ে গেলাম। কখনও নীলাভ, কখনও পীতবর্ণের বা তামাটে রঙের সাজে সদা ব্যস্ত হিমালয়। নাম না জানা স্থপতির ছোঁয়ায় অপূর্ব ভাস্কর্য। শিল্প বৈচিত্রের মদিরায় আমরা নির্বাক। বৃক্ষ, পল্লবহীন সম্পূর্ণ ন্যাড়া প্রকৃতি যে এমন বর্ণময় ও বিরামহীন ভাস্কর্যমণ্ডিত হতে পারে, না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় এই সৃষ্ট সম্ভার একই সঙ্গে এত রুক্ষ ও সুললিত কবিতা শোনায়নি আগে।

এরপর রাস্তা ক্রমশ চওড়া সমান্তরাল হওয়ায় আমরা দিনের আলোতেই টাবো পৌঁছে গেলাম। টাবোর প্রধান আকর্ষণ টাবো মনাস্ট্রি এবং হিমালয়ান অজন্তার জন্য। ৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত টাবো মনাস্ট্রি প্রাচীনত্ব ও গুরুত্বের বিচারে তিব্বতের থোলিং মনাস্ট্রির পর দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। টাবো কিন্তু মাটির সঙ্গে একাত্ম। কিছুটা মধ্য এশিয়, কিছুটা উত্তর পশ্চিম আফ্রিকা এবং কিছুটা মেক্সিকোর মরু অঞ্চলের স্থাপত্যশৈলী টাবোর আনাচকানাচ ভরিয়ে রেখেছে। এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত।

ঘুরতে ঘুরতে মনে হচ্ছিল এ যেন অন্য দেশ, অন্য মাত্রা পেরিয়ে অন্য এক সময়কে ধরে রেখেছে। আমরা যারা মানব সভ্যতার এঁটোকাঁটা ঘেটে বিশ্বায়নের বুলি আঁকড়ে খ্যাতির শিরোনামে আকচাআকচি করছি, টাবো তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন যেন গ্রামীণ মৃৎশিল্পীর এক শীতল স্পর্শ। পরের দিন টাবো মিউজিয়াম এবং সমস্ত দর্শনীয় স্থান দেখে আমরা রওনা দিলাম ঢাঙ্কার বা ধনকর মনাস্ট্রির উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে কাজা সদর শহরে ঢুকব।

যাবার রাস্তা অত্যন্ত বিপদসংকুল, ওপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ার চান্স আছে তাই ড্রাইভার মাঝে মাঝে উইন্ডস্ক্রিনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তদন্ত করছে। পৌঁছে গেলাম ঢাঙ্কার মনাস্ট্রিতে। ঢাঙ্কার মনাস্ট্রিকে দূর থেকে দেখে মনে হল একটা প্রকাণ্ড উইঢিপি গায়ে আটকে আছে। অতি অদ্ভুত তার গঠনশৈলী। প্রবেশ পথের সম্মুখ দ্বারে মুখে গ্র্যান্ডক্যানিয়নের ভাঁজ নিয়ে অশীতিপর এক বৃদ্ধ বসে আছেন। কী এক অনুষ্ঠানের জন্য বেশ একটু ভিড়, রঙিন পতাকা চারিদিকে লাগানো। কাছে গিয়ে দেখি গুম্ফা কিন্তু বড়োই রাজকীয়, কিছুটা উদাসীন গুরুগম্ভীর অবয়বে শান্ত। ভেতরে ঢুকি সমীহ নিয়ে। ঢাঙ্কার গুম্ফা ভেতরে বাইরে দারুণ রূপময়। ভেতরে রহস্যময় গভীর হাতছানি। ঢাঙ্কার একসময় স্পিতির রাজধানী ছিল এবং গুম্ফার অবস্থানটিও অবিস্মরণীয়। স্ট্যালোনের ক্লিফ হ্যাঙ্গার ছবির দৃশ্যায়নের মতো তার ভৌগোলিক দেখনদারি। নীচের উপত্যকার শত্রুদের নজরদারির জন্য এমন গঠনশৈলী। প্রাচীনকালের স্পিতির শাসনকর্তা নেনে রাজবংশের রাজপ্রাসাদ ছিল এটি।

এর পর জাতীয় সড়ক ধরে স্পিতি নদীই আমাদের কাজা শহরের পথ দেখাল। স্পিতি নদীর ওপর সেতু পার করে এগিয়ে চললাম। পিন ভ্যালি থেকে আসা পিন নদী এবং স্পিতি নদীর সঙ্গম একটা দুর্দান্ত স্পট। কাজা শহরের উচ্চতা ৩,৬০০ মিটার। কাজা শহরের বাজার অঞ্চলের মধ্যে আমাদের হোটেল। ঘর থেকেই জানলা দিয়ে দেখতে পাচ্ছি জনজীবনের বিস্তার। যেদিকে চোখ রাখি সব দিকেই তুষার ধবল শৈলরেখার হাতছানি।

পরদিন সটান চলে গেলাম পিনভ্যালি ন্যাশানাল পার্কে। গাড়ির সামনের সিটে বসে ডাইভার নেগি ভাইয়ের শিসের সাথে তাল মেরে নিজেকে জাস্ট রাজা উজির ভাবতে লাগলাম। মনে শুধু একটাই ক্ষত হার্ড কোর ট্রেকার হওয়ার বদলে আমি নিখাদ টুরিস্ট হয়ে গেলাম। অক্টোবরের শেষে পথের পাশে বরফের দেয়াল, গাড়ির কাচ নামালেই ঠান্ডা হাওয়ার সূচের মতো বিঁধছে মুখে। পাহাড় ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে দূরে সরে পিন নদীকে অবারিত দ্বারে বইতে জায়গা দিয়েছে।

(ক্রমশ…)

ডেমো (পর্ব ৩)

গণধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত গাড়ির ড্রাইভার কিষাণ লাল এবং ওই গাড়ির অন্য দুই আরোহী সুরেশ আর জ্ঞানচাঁদ তিন মাস পরে গ্রেফতার হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোর্টে সাক্ষ্য প্রমাণ ঠিকমতো দাখিল করতে না পারায় ধর্ষণকারীরা মাত্র তিন বছর জেলে থাকার পর জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে।

ওদিকে কোর্টে কেস চলাকালীন বাবা-মা এবং আত্মীয় স্বজনের চাপে পড়ে লোকনিন্দার ভয়ে প্রতীক প্রমিলাকে ডিভোর্স দিতে একরকম বাধ্য হন। পশ্চিম দিল্লির বাঙালিপাড়া মহাবীর এনক্লেভে দু’কামরার ছোটো একটি ফ্ল্যাট কিনে সেখানে প্রমিলা এবং শ্বেতাকে স্থানান্তরিত করে দিয়ে স্বামীর দায়িত্ব পালন করেন প্রতীক। সেদিন থেকে মা-মেয়ের খোরপোশ বাবদ মাসে দশ হাজার টাকা প্রমিলার অ্যাকাউন্টে জমা করে যাচ্ছেন প্রতীক আর বাবা মাকে না জানিয়ে মাঝেমধ্যে এসে প্রাক্তন স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গে দেখা করে যান উনি। এই ঘটনার পর আগের স্কুলের চাকরি চলে গেলে প্রতীকের চেষ্টায় জনকপুরীর একটা প্রাইভেট স্কুলে জুনিয়র টিচারের চাকরি পেয়েছেন প্রমিলা।

শ্বেতাকে নিয়ে নতুন ভাবে যে-জীবন শুরু করলেন প্রমিলা তাতে কোনও আনন্দ ছিল না। পুরোনো বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতরা এখন তাঁকে এড়িয়ে চলেন নয়তো এতটাই সমবেদনা দেখান যে প্রমিলা তা সহ্য করতে না পেরে ওদের থেকে দূরে সরে আসেন। যে-প্রমিলা একসময় কথা বলতে, আড্ডা মারতে ভালোবাসতেন তিনি এখন অপ্রয়োজনে মুখ খোলেন না। ওসিডি সনাক্ত হওয়ার পর প্রথমদিকে পুলিশের সহায়তায় কাউন্সেলরের শরণাপন্ন হয়েছিলেন প্রমিলা, পরে প্রতীকের অনুরোধে সাইকিয়াট্রিস্টের চেম্বারেও কয়েকবার ঘুরে এসেছেন উনি। ওঁরা সবাই প্রমিলাকে একই অ্যাডভাইস দিয়েছেন— ফরগেট ইওর পাস্ট অ্যান্ড স্টার্ট লাইফ অ্যাফ্রেশ। কিন্তু যে ঘটনা ওঁর পুরো জীবনটা তছনছ করে দিল প্রমিলা কী করে তাকে ভুলে যাবেন ?

ঘটনার পাঁচ বছর পরেও মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে চিৎকার করে জেগে উঠেছেন। গা ঘিন ঘিন করা অসহ্য এক ক্লেদাক্ত অনুভূতি নিয়ে প্রমিলা ছুটে যেতেন বাথরুমে বালতি বালতি জল ঢেলে ওঁর অপবিত্র শরীরকে পবিত্র, নির্মল করবার দুরাশায়! কাউন্সেলিং-এর সময় ওর একবার মনে হয়েছিল সাইকিয়াট্রিস্টকে বলেন, ‘আপনাদের জীবনে এরকম ঘটনা কখনও ঘটেনি তাই আপনারা সবাই আমাকে অতীত ভুলে যাবার উপদেশ দিতে পারছেন।’

তবু শ্বেতা বড়ো হয়ে বাড়ির কাছের সরকারি স্কুলে যেতে শুরু করলে প্রমিলা মেয়ের কথা ভেবেই নিজের জীবনটা আবার গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মেয়েকে সন্ধ্যার আগে ঘরে ঢোকানোর ব্যাপারে উনি কোনও সমঝোতা করতে রাজি ছিলেন না। সন্ধের পরে বাইরে থাকার নিষেধ থাকায় স্কুলের বন্ধুদের জন্মদিনের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে শ্বেতা মায়ের নির্দেশ মেনে দুপুরবেলাই গিফ্ট হাতে নিয়ে হাজির হয়ে যেত বন্ধুদের বাড়িতে। প্রথমদিকে অনেকে অবাক হলেও একসময় ওরা শ্বেতার মার সতর্ক, সন্দিগ্ধ ব্যবহারকে মেনে নিয়েছিল।

(চলবে)

জানে জান : করিনার ওটিটি ডেবিউ

নেটফ্লিক্সের ‘জানে জান’ Kareena Kapoor Khan-এর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম-এ অভিষেক। ‘তালাশ’ ছবিটির মতই এখানেও করিনার চরিত্রটিতে বিভিন্ন শেড দেখতে পাওয়ার সুযোগ ঘটে। ছবির পরিচালক সুজয় ঘোষ যে-কোনও গল্প বা ছবির অ্যাডাপটেশন এতটাই সুন্দর ভাবে করেন যে সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর পরিচালিত ছবিটি নতুন ভাবে দর্শকদের মনে দাগ কেটে যায়, যার ব্যতিক্রম ঘটেনি নেটফ্লিক্স-এ মুক্তি পাওয়া ‘জানে জান’ ছবিটিতেও। ছবিটি আবারও প্রমাণ করেছে পরিচালকের রহস্য কাহিনিতে পরিবেশিত শক্তিশালী মহিলা চরিত্রগুলির প্রতি একান্ত অনুরাগী মানসিকতা।

সুজয় ঘোষের নতুন এই ছবিতে মায়া ডি’সুজা নামে আরেকটি বহুমুখী চরিত্রে অভিনয় করেছেন করিনা কপুর। যেহেতু ‘জানে জান’ তাঁর ওটিটি অভিষেক, তাই চলচ্চিত্র প্রেমীরা অবশ্যই তাঁর অভিনয় প্রত্যক্ষ করতে একটু বেশিই উৎসুক। কিন্তু জয়দীপ আহলাওয়াত এবং বিজয় ভার্মার মতো ব্যতিক্রমী প্রতিভাবান সহকর্মীদের প্রতিও দর্শক যাতে সমান ঔৎসুক্য দেখায় তার পুরো প্রস্তুতি নিয়েই সুজয় ঘোষ ছবির ময়দান তৈরি করেছেন এবং এই তিনজনের মধ্যে কে যে সর্বাপেক্ষা দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন সেটা নিয়ে দর্শকরা নিজেরাই দ্বিধান্বিত।

‘জানে জান’ ছবিটি হচ্ছে, কেইগো হিগাশিনোর সর্বাধিক বিক্রিত জাপানি উপন্যাস ‘দ্য ডিভোশন অফ সাসপেক্ট এক্স’-এর রূপান্তর। Kareena সহ অভিনয়ের জন্য খ্যাত দুই প্রতিভাবান অভিনেতা, বিজয় ভার্মা এবং জয়দীপ আহলাওয়াতকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা ২ ঘন্টা ১৫ মিনিটের ছবিটির মধ্যে বিভিন্ন উপাদান উপস্থাপন করেছেন।

ছবিতে জয়দীপ আহলাওয়াত অভিনীত চরিত্র নরেন ব্যাস একজন গণিত প্রতিভা, যিনি কালিম্পংয়ে একটি স্কুলের গণিতের শিক্ষক, মাথায় টাক, দেখতে অত্যন্ত সাধারণ। তিনি গোপনে ডোজো অনুশীলন করে নিজের ক্রোধকে শান্ত করেন। তাঁর চরিত্রে একটি জটিল অভ্যন্তরীণ মনস্তত্ব কাজ করে। মায়ার প্রতি তাঁর দুর্বলতা বাড়তেই থাকে সারা ছবি জুড়ে অথচ তা প্রকাশ্যে আনতে তিনি নারাজ।

করিনা ওরফে মায়া কালিম্পংয়ে টিফিন নামে একটি ক্যাফে চালান। নরেনের তাঁর ‘হট’ প্রতিবেশী মায়া ডি’সুজা এবং নাইশা খান্না অভিনীত মায়ার মেয়ে তারার প্রতি দুর্বলতা এবং স্নেহ মায়ার কাছে আজানাই থাকে। মায়া একজন সিংগল মাদারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যিনি স্বামীর ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে এসে মেয়েকে একা মানুষ করেছেন কারণ মায়ার স্বামী একজন অর্থপিশাচ। মায়া তার ক্যাফেতে নরেনকে ‘শহরের শিক্ষক’ হিসেবেই রোজ শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানায় এবং প্রতিদিনই যত্ন সহকারে নরেনের খাবার প্যাক করে। এর মধ্যে মায়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বামী অজিত মাহত্রে, অপ্রত্যাশিত অতিথি হয়ে মায়ার ক্যাফেতে এসে পৌঁছোয়। অজিতের হত্যা, বিজয় ভার্মা অভিনীত করণ নামে এক চতুর পুলিশ অজিতকে খুঁজতে কালিম্পংয়ে আসা ইত্যাদি ঘটনা গল্পে টানটান রোমাঞ্চের অনুভূতি এনে দেয় এবং কাহিনি এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। অজিতের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার পরে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা করণ, মায়াকেই একমাত্র সন্দেহভাজন হিসেবে সনাক্ত করে।

করিনা কপুর খান-এর মেক-আপ বিহীন চেহারা এবং তাঁর অভিনয় মনে দাগ কাটে কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয়েছে এর থেকেও ভালো অভিনয় তিনি করতে পারতেন। এদিকে বিজয় ভার্মা, একজন ভালো তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন পুলিশ কর্মচারী যিনি এই হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উল্লেখ্য, জিও সিনেমার ‘কালকূট’ ছবিতেও বিজয় একজন পুলিশেরই অভিনয় করেছিলেন এবং তাঁর সেই চরিত্রটির রূপরেখা অনেকটাই বিজয় ভার্মার সাম্প্রতিক চরিত্রটির সঙ্গে মিল খায়। ‘জানে জান’ গল্পের রহস্য নিজস্ব গতিতে উন্মোচিত হলেও প্লটটি অনেকটাই আগে থেকে অনুমান করা যায়।

 

ডেমো (পর্ব ২)

দুই

চোদ্দো বছর আগে, নভেম্বরের এক সন্ধ্যায় সরোজিনী নগর বাসস্টপে দাঁড়িয়ে পাঁচশো চুয়াল্লিশ নম্বর বাসের প্রতীক্ষা করছিলেন প্রমিলা। উনি তখন লোদি রোডে একটা প্রাইভেট স্কুলের প্রাইমারি সেকশনে পড়াতেন। শনিবার স্কুল ছুটির পরে এক সহকর্মী কৃত্তিকার সঙ্গে সরোজিনী নগরের খোলা বাজারে হেতার জন্য সস্তায় কিছু কাপড় জামা কিনতে গিয়েছিলেন প্রমিলা। বাজার সেরে বাবু মার্কেটে কৃত্তিকার সঙ্গে পাপড়ি চাট খেয়ে ওরা দুজন যখন বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালেন, তখন রাত প্রায় আটটা। কৃত্তিকার কপাল ভালো। মোতিবাগের বাসটা পাঁচ মিনিটের মধ্যে পেয়ে উনি বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু প্রমিলা পাঁচশো চুয়াল্লিশের জন্য আধঘন্টা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন।

রাতের দিকে একা অটোতে উঠতে তাঁকে নিষেধ করেছিলেন ওঁর স্বামী প্রতীক। না হলে খালি অটো তো বেশ কয়েকটা পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল। বাজারে তখন সবে মোবাইল আসতে শুরু করেছে কিন্তু দামটা একটু উপরের দিকে থাকায় প্রমিলা তখনও মোবাইল কিনে উঠতে পারেননি। তাই বাসস্ট্যান্ডের পিছনে একটা পিসিওতে গিয়ে প্রতীককে ফোন করলেন প্রমিলা। সরোজিনী নগর বাসস্ট্যান্ডে আধঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি, মনে হচ্ছে ট্যাক্সি ধরেই বাড়ি ফিরতে হবে আজ, প্রমিলা জানিয়েছিলেন ওঁর স্বামীকে। শ্বেতা এখন কী করছে?

—ও এখন ঠাম্মির ঘরে খেলা করছে, ওর জন্য চিন্তা করতে হবে না তোমাকে, প্রতীক ওকে আশ্বস্ত করলেন। প্রতীক কনট প্লেসে একটা বিদেশি ব্যাংকে চাকরি করেন, বাড়ি ফিরতে ওঁর রোজই রাত আটটা বেজে যায়। কাজেই প্রমিলার কোনওদিন ফিরতে দেরি হলে দুপুরে প্লে স্কুল থেকে ফিরে শ্বেতাকে ঠাম্মির কাছেই অনেকটা সময় কাটাতে হয়।

ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন প্রমিলা আর ঠিক সেই সময়ই একটা সাদা প্রাইভেট গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়ল ওঁর পাশে।

—কাঁহা জানা হ্যায় আপকো, ম্যাডাম?

—সিআর পার্ক।

—দোশো রুপেয়া লেঙ্গে, আইয়ে।

প্রমিলা তাকিয়ে দেখল গাড়িতে আরও দু’জন মোটামুটি ভদ্র চেহারার লোক বসে আছে। ‘ইনলোগ কালকাজি অউর গোবিন্দপুরী যা রহে হ্যায়’, ট্যাক্সি ড্রাইভার জানাল।

প্রমিলা অনুমান করলেন প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার ওর মনিবকে এয়ারপোর্ট বা রেলওয়ে স্টেশনে ছেড়ে দিয়ে ফিরতি পথে গাড়িটাকে শেয়ারের ট্যাক্সি বানিয়ে কয়েকশো টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। পিছন থেকে একজন যাত্রী নেমে সামনে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে ওকে পিছনে বসার জায়গা করে দিল।

সরোজিনী নগর থেকে চিত্তরঞ্জন পার্ক গাড়িতে ত্রিশ মিনিটের রাস্তা। কিন্তু প্রমিলা পুলিশের গাড়িতে যখন বাড়ি ফিরলেন তখন ভোর পাঁচটা। হাউজ খাস পেরোবার আগেই ওর ডানপাশে বসা সহযাত্রি পকেট থেকে রুমাল বের করে হঠাৎই তাঁর নাকে চেপে ধরে। দু’মিনিট ধ্বস্তাধস্তি করে ক্লোরোফর্মের তীব্র গন্ধে প্রমিলা বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। ওঁর যখন জ্ঞান ফিরে এল উনি দেখলেন মেহেরলির কাছে একটা পার্কে অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে আছেন, ওঁর পা বেয়ে গড়িয়ে পড়া রক্ত ততক্ষণে শুকিয়ে জমাট বেঁধে গেছে। মর্নিং ওয়াক করতে বেরিয়ে এক ভদ্রলোক ওকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

(চলবে)

ঊষর হিমাচলের রূপকথা (পর্ব-০২)

কিন্নর কৈলাস ও স্পিতি নদী ডাক পাঠিয়েছিল বারেবারে কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন কারণে সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। এইবারের মসৃণ প্ল্যানেও শেষমুহূর্তের চরম বিভ্রাট উপস্থিত হলেও তাকে বাউন্সার দিয়ে ভাগিয়ে ফুল টিমের সাথে মিলে গেলাম সিমলা ম্যালে।

পরদিন ভোর বেলা আমাদের ১২ জনের টিম তিনটি গাড়ি নিয়ে রওনা দিলাম ১৮৫ কিমি পথ, সারাহানপুরের ভীমাকালী মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে। মন্দিরে পুজো দিয়ে অপূর্ব বর্ণাঢ্য রঙিন রামদানা খেতের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আমরা সাংলাভ্যালি ও ছিটকুলের অপার রহস্যের হাতছানিতে বিভোর হয়ে ঢুকে পড়ি কল্পার অন্দরমহলে। ৯৫০০ ফিট হাইটে কল্পার বুকে দাঁড়িয়ে কিন্নর কৈলাস পিক দর্শন যেন দেব দর্শনই বটে। ৭৯ ফুট উঁচু ঠিক শিবলিঙ্গের প্রস্তরখণ্ডকে স্থানীয়রা শিব জ্ঞানে পুজো করেন। কথিত আছে শিব ভক্ত বাণাসুর এই লিঙ্গটি স্থাপন করেন। বরফাবৃত সমস্ত চরাচরে সূর্যাস্তের কমলা রং যেন আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমরা আত্মহারা প্রকৃতির এহেন রূপ দেখে।

পাহাড়ি হাঁটাপথে দেখি পাইনের সারি, সোনালি আপেল বাগান, অপূর্ব সুন্দর স্থানীয় কিন্নরীরা আপেলের মতো টুসটুসে গাল নিয়ে চলছে ফিরছে গল্প করছে। পাইন গাছের মাথার ওপর দিয়ে ঝুঁকেপড়া কোজাগরি চন্দ্রজ্যোতি চোখের তৃষ্ণা মিটিয়ে দিল। কোজাগরি চাঁদ আজ জাগবে সারারাত পৃথিবীর ছায়াপথে। কল্পার অসাধারণ রূপ আমাদের মোহিত করলেও বাকরোধ হলাম কল্পার পরবর্তী হিমালয়ান পৌরুষ দেখে। কারণ এর পরের যাত্রাপথেই হিমালয় অন্য ক্যানভাস আঁকতে শুরু করে। সিমলা, কুলু-মানালি ট্রিপ যেভাবে বাঙালির ভ্রমণযাপনে ক্রেজ তৈরি করেছিল, হিমাচলের অন্তিম পশ্চিম প্রান্তর বৃষ্টিহীন, প্রচন্ড ঠান্ডা, অনুন্নত, ধূসর বরফাবৃত মরু প্রান্তর হিসেবে কিছুটা ব্রাত্যই থেকে গেছে। পরবর্তীকালে মানে বর্তমানে গ্লোবালাইজেশনের যুগে ভ্রমণে ফোটোগ্রাফির মারাত্মক চাহিদা হিমাচলের পশ্চিম প্রান্তরকে প্রজাপতির মতো ঝলমলে করে তুলেছে।

কল্পা থেকে রেকংপিও হয়ে আমরা নাকো লেকের দিকে অগ্রসর হই। খাব নামের জায়গাটিতে ঘোলা জলের শতদ্রু এবং নীলাভ স্পিতির সঙ্গম ঘটেছে। এই দুই নদীর সঙ্গম অর্থাৎ একে অপরকে কাছে টানার গল্প যতটাই উজ্জ্বল ঠিক ততটাই ভয়ংকর। রাস্তাও যেন ক্রমশ হামাগুড়ি দিয়ে নদীর কোলের কাছে নেমে গেছে। সঙ্গমের গা ঘেঁষেই দৈত্যাকৃতির পর্বত পাশ থেকে ঝুঁকে নদীকে পাহারা দিয়ে রেখেছে একফালি আকাশ বুকে করে। খাব ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রচণ্ড চড়াই পথ অতিক্রম করে কিন্নর প্রদেশের শেষ প্রান্তে ২,৯০০ মিটার উচ্চতায় নাকো লেক। রুক্ষ পর্বতমালা বেষ্টিত ধূসর প্রকৃতির কোলে নীলাঞ্জন ঘন পুঞ্জছায়ায় বসে আছে পান্না সবুজ নাকো লেক।

লিওপার্গিল শৃঙ্গ-সহ তুষারাবৃত গিরি শ্রেণি নিয়ে উইলো, পপলার গাছের সোনালি পাতায় ছাওয়া চ্যাপ্‌টা শ্লেট পাথরের তৈরি শ’খানেক ঘরবাড়ি নিয়েই নাকো লেক। যা মনে জলতরঙ্গের মতো টোকা দেয়। গাঢ় নীলবুনট আকাশের প্রেক্ষাপটে অন্য এক হিমালয় খোলাপাতার মতো ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হচ্ছে আর ফ্ল্যাট ব্রাশ দিয়ে আমি প্রকৃতির দেয়ালে এঁকে রাখছি আমার প্রতিবিম্ব নিরুচ্চারে ঘোষণা করছি আমি হিমালয়প্রেমী। উজ্জ্বল শরতের দুপুরে গাড়ির পেছনের উইন্ডোফ্রেমে তাকিয়ে দেখি উদ্ভাসিত সূর্যের আলোয় নাকো লেক ঝিলমিল করছে।

(ক্রমশ…)

শারোদোৎসবের আগে বাড়িতেই সারুন ম্যানিকিয়োর

সৌন্দর্য শুধুমাত্র মুখশ্রী নির্ভরই নয়, এর জন্য প্রয়োজন পুরো শরীরের যত্ন নেওয়া। আধুনিক পোশাকে সজ্জিত হতে অনেক মেয়েরাই হাত অনাবৃত রাখতেই পছন্দ করেন। সেই ক্ষেত্রে হাতের সৌন্দর্য বজায় রাখতে না পারলে পুরো সাজটাই দৃষ্টিকটু হয়ে উঠতে পারে। কোমল মসৃণ সুন্দর হাতের জন্য মহিলারা নানা ধরনের ক্রিম, প্যাক, সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, অনেকেই বিউটি পার্লারে যান। কিন্তু পার্লারে যাওয়া মানেই সময় এবং অর্থের অপচয়। তার থেকে বাড়িতেই যদি ম্যানিকিয়োর করে নেওয়া যায় তাহলে সময়ও নষ্ট হয় না আর অর্থেরও সাশ্রয় হয়।

Manicure কেন জরুরি?

পরিষ্কার রাখার জন্য: যে-কোনও কাজেই আমাদের হাত ব্যবহার করতে হয়, যার ফলে হাতে নোংরা ধুলোমাটি লাগাটা খুব স্বাভাবিক। সাবান দিয়ে আমরা নিয়মিত হাত ধুই ঠিকই কিন্তু নখের ভিতরে জমে থাকা ময়লা এতে পরিষ্কার হয় না। নোংরা ধীরে ধীরে জমতেই থাকে যার জন্য সংক্রমণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ম্যানিকিয়োর— নখে জমে থাকা নোংরা এবং জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে।

হাত মোলায়েম রাখতে: ম্যানিকিয়োর করাবার পর হাত এতটাই নরম এবং মোলায়েম হয়ে যায় এবং ত্বকের গ্লো এতটাই বেড়ে যায় যে নিজের হাত দেখে নিজেকেই অবাক হতে হয়! এই প্রক্রিয়া চলাকালীন মাসাজে স্ক্রাবিং এবং এক্সফলিয়েশন শামিল করা হয়, যার কারণে হাতের সৌন্দর্য এবং মসৃণতা বৃদ্ধি পায়।

কিউটিকল্স-এর পুষ্টির জন্য: কিউটিকল্স হল ডেড স্কিন। এটা নখের ডগার ত্বকের কাছে একত্রিত হয়, এর ফলে নখের আশেপাশের ত্বক মোটা হয়ে যায়। এর মধ্যে জীবাণু তৈরি হয়। কিন্তু বাড়িতে নিয়মিত Manicure করলে কিউটিকল্স নরম, পোষণযুক্ত এবং সঠিক আকারে থাকবে।

রিল্যাক্সেশনের জন্য: নিয়মিত মাসাজ যে-কোনও ব্যক্তিকে রিল্যাক্স রাখার জন্য অত্যন্ত আবশ্যক। বর্তমানে কর্মব্যস্ততার যুগে মাসাজ শরীর ও মনকে আরাম দেয় এবং স্ট্রেস-ফ্রি রাখে।

ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করতে: ম্যানিকিয়োর করতে একটি জরুরি স্টেপ হল ১৫-২০ মিনিটের মালিশ। এটি হাতের রক্তচলাচলকে উন্নত করে আঙুল এবং কবজির জয়েন্টে গতিশীলতা আনতে সাহায্য করে।

সহজে কীভাবে বাড়িতে ম্যানিকিয়োর করা সম্ভব

nail art beauty tips

ম্যানিকিয়োর করার জন্য প্রয়াজনীয় টুলস:

নেলপলিশ রিমুভার, নেল ফাইলার, কাটার, কটন প্যাড্স, কিউটিকল ক্রিম, কিউটিকল পুশার, নেলপলিশ, হাত জলে ডুবিয়ে রাখার জন্য বড়ো বোল, শ্যাম্পু অথবা বডিওয়াশ, লেবুর রস, মধু, বাড়িতে Manicure স্ক্রাব বানাতে চিনি, অলিভ অয়েল ও লেবুর রস।

কীভাবে ম্যানিকিয়োর করবেন

নেলপলিশ মুছে ফেলুন ও নখ ট্রিম করুন: প্রথমে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলুন। ভালো কোম্পানির নেল রিমুভার এবং তুলোর সাহায্যে পুরোনো নেল পেইন্ট নখ থেকে মুছে ফেলুন। বড়ো নখ ছোটো করবার জন্য নেল ফাইলার দিয়ে নখের কোণা সেট করে নখ ট্রিম করুন। নিজের পছন্দমতন নখকে গোল, চৌকো বা ওভাল শেপ দিন।

কিছুক্ষণ হাত ভিজিয়ে রাখুন: একটি বড়ো বোলে ঈষদুষ্ণ জল ভরে তাতে সামান্য শ্যাম্পু মিশিয়ে ৫ মিনিটের জন্য হাত ডুবিয়ে রাখুন। অথবা, দুই বড়ো চামচ মধু ও ১ চামচ লেবুর রস জলে দিয়ে সেই মিশ্রণে হাত ভিজিয়ে রাখুন। লেবু ডি-ট্যানিং এবং হোয়াইটনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে। হাতের ত্বক নরম হলে একটি নরম ব্রাশ দিয়ে নখ এবং কিউটিকল্স পরিষ্কার করে নিন। এরপর ফাইলারের হ্যান্ডল ব্যবহার করে নখের সাইডে জমে থাকা কিউটিকল্স ঠেলে পিছনে করে দিন৷

স্ক্রাব করুন: ম্যানিকিয়োর স্ক্রাব অনেক রকমের বানানো যায় তবে সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি হল লেবু, চিনি এবং অলিভ অয়েল-এর স্ক্রাব — যেটি সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী। একটি পাত্রে ২ চামচ চিনি, ১/২ চামচ অলিভ অয়েল এবং ১ চামচ লেবুর রস মেশান। অলিভ অয়েল হাতের ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ২ মিনিট মিশ্রণটি দিয়ে হাত স্ক্রাব করুন তারপর হালকা গরমজলে হাত ধুয়ে ফেলুন ও নরম তোয়ালে দিয়ে হাত শুকিয়ে নিন।

ক্লিয়ার নেলপলিশ লাগান: নখে প্রথমে ক্লিয়ার নেলপলিশ দিয়ে বেস কোট লাগান। এতে আপনার নেলপেইন্ট স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠবে। তাছাড়া দীর্ঘসময় পর্যন্ত নেলপলিশ টিকে থাকবে।

টপকোট অ্যাপ্লাই করুন: বেস কোট শুকিয়ে গেলে পছন্দের নেলপলিশের একটা পাতলা কোট অ্যাপ্লাই করুন। এটা শুকিয়ে গেলে আর একটা কোট লাগান। পুরোটা ভালো করে শুকিয়ে গেলে উপর দিয়ে ক্লিয়ার নেলপলিশের আর একটা কোট লাগিয়ে দিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব