উৎসবে বানান মজাদার মিষ্টি (পর্ব ১)

উৎসব যেন হড়মুড়িয়ে এসে পড়েছে দরজায়৷সামনেই দুর্গাপুজো। আর তার আগে নিজেকে একটু ফিটফাট, সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই।কেউ সারছেন লাস্ট মিনিট কেনাকাটা৷  শপিং , রূপচর্চা, Festival প্ল্যানিং, প্যান্ডেল হপিং– এসব সামলে আপনি প্রস্তুত তো উৎসবের দিনে বাড়িতে নতুন কিছু মিষ্টি বানাতে ? চিন্তা নেই আমরা এনেছি কিছু সহজ রেসিপি আপনাদের দন্য যা ছোটো, বড়ো সবার মন কেড়ে নেবে৷

চকোলেট লাভা কুলফি

উপকরণ: ২৭০ গ্রাম চকোলেট, ২৭০ গ্রাম নুনবিহীন মাখন, ২৬০ গ্রাম ক্যাস্টর সুগার, ১০টা ডিম ফেটিয়ে রাখা, ১৪৫ গ্রাম আটা, কুলফি মালাই স্টিক ২-৩টি।

প্রণালী: মাইক্রোওয়েভ-এ চকোলেট গলিয়ে নিন। এবার একটা পাত্রে চকোলেট আর মাখন একসঙ্গে মেশাতে থাকুন। যতক্ষণ না পুরোপুরি মসৃণ হয়ে যায়, মেশানো বন্ধ করবেন না। এবার ডিম রাখা পাত্রে বিটারের সাহায্যে ডিমগুলো ভালো ভাবে ফেটাতে থাকুন। ফেনা তৈরি হলে, অল্প অল্প পরিমাণে ক্যাস্টর সুগার মেশাতে থাকুন ডিমের গোলার সঙ্গে। এরপর এর মধ্যে গলানো চকোলেট ঢেলে দিন। স্প্যাচুলার সাহায্যে পুরো মিশ্রণটা ফেটাতে থাকুন।

এর মধ্যে আটা এমন ভাবে মেশান যাতে দলা না পাকায়। ভালো করে মসৃণ ভাবে আটা মিশে গেলে সরিয়ে রাখুন। বেকিং কাপে মাখন বুলিয়ে নিন। অল্প আটা ছড়িয়ে এর মধ্যে ওই চকোলেটের মিশ্রণ ঢেলে দিন। ১০-১১ মিনিট বেক করে আভেন থেকে বের করে নিন। কুলফি মালাই আগে থেকে কিনে ফ্রিজে রাখুন। ওই কুলফির সঙ্গে পরিবেশন করুন। চকোলাভা কুলফির স্বাদ ছোটো বড়ো সবার মন কেড়ে নেবে।

ডালের লাড্ডু

Daal Laddu recipe

উপকরণ : ১৫০ গ্রাম বিউলির ডালের গুঁড়ো, ১৫০ গ্রাম ছোলার ডালের গুঁড়ো, ১০০ গ্রাম মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস, ১০০ গ্রাম খাওয়ার গঁদ, ২৫ গ্রাম পোস্ত, ৩ বড়ো চামচ দুধ, ২৫০ গ্রাম চিনি, ২৫০ গ্রাম ঘি, ৫০ গ্রাম আদাগুঁড়ো, নুন স্বাদমতো৷

প্রণালী: দুরকম ডালের গুঁড়ো, দুধ ও মাখন দিয়ে ভালো ভাবে চটকে নিন। মাখার সময় খুব মসৃণ না করে একটু দানা- দানা রাখা ভালো। এই মিশ্রণ আধঘণ্টা রেখে দিন। এরপর একটা গভীর তলযুক্ত পাত্র আঁচে বসান এবং মাখন দিন। গদটা দিয়ে গলতে দিন। আলাদা সরিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর এই গঁদকে গুড়ো করে নিন।

এবার প্যানে পুনরায় মাখন দিন। ডালের গুঁড়ো ও পোস্ত দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ঢিমে আঁচে নাড়তে থাকুন যাতে বাদামি রং ধরে। এবার এতে গঁদটা মিশিয়ে দিন। আঁচ বন্ধ করে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। ঠান্ডা হলে চিনি ও আদাগুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে মেশাতে থাকুন। ড্রাই ফ্রুটস ছড়িয়ে, লাড্ডু গড়ে নিন।

মিষ্টি দই

Mishti-Doi at home

উপকরণ : ১ লিটার ফুল ক্রিম দুধ, ৩০০ গ্রাম গুড়, ২ ছোটো চামচ দই (পাতার জন্য)।

প্রণালী: একটা গভীর তল-যুক্ত প্যানে দুধটা ফুটিয়ে এতটাই ঘন করুন, যাতে তা ১% পরিমাণে কমে আসে। এবার নামিয়ে রাখুন। একটা সসপ্যানে গুড়টা গলিয়ে নিন। ১০ এমএল জল মিলিয়ে একটু ঠান্ডা করুন। এবার গরম দুধে এই গুড় মিশিয়ে নাড়তে থাকুন।

৫ মিনিট নেড়েচেড়ে ঠান্ডা হতে দিন। একটু একটু উষ্ণ থাকা অবস্থায় পাতার জন্য দইটা মিশিয়ে দিন। মাটির পাত্রে দইটা জমতে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়। সারারাত ঢেকে রেখে দিন। সকালে দই জমে গেলে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। খাবার সময় ঠান্ডা অবস্থায় সার্ভ করুন।

উপবাসের পর সঠিক পুষ্টি জোগান শরীরকে

অনেকে উৎসব-অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে কিংবা আরও নানারকম কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। আর এই উপবাসের পর শরীরকে সঠিক পুষ্টি না জোগালে শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই, উপবাসের পর অবহেলা নয়, বিশেষ ভাবে যত্ন নিন আপনার শরীরের।

মনে রাখবেন, উপবাস ভাঙার পর প্রথমেই ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ, দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর অল্প মাত্রায় ধীরে-ধীরে কিছু খাওয়া উচিত। তবে এই সময় এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা তৃপ্তিদায়ক এবং অল্প খেলেও শরীরকে সঠিক পুষ্টি জোগানো যাবে। এমন একটি উপকরণ হল Almond.

Almond দেখতে ছোটো  হতে পারে কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকে উপযুক্ত।  ভিটামিন ই, ডায়েটারি ফাইবার, প্রোটিন, রিবোফ্লাভিন, ম্যাঙ্গানিজ ,  ফোলেট -সহ ১৫টি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে,  নিয়মিত Almond খাওয়ার বহুমুখী উপকারিতা আছে। হার্টের স্বাস্থ্যরক্ষা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের স্বাস্থ্য এবং ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে তুলতে Almond-এর জুড়ি নেই।

এই প্রসঙ্গে বলিউড  অভিনেত্রী সোহা  আলি  খান  জানিয়েছেন, ‘নবরাত্রির উপবাসের পর সঠিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শরীরকে সঠিক পুষ্টি জোগানো বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে জলে ভেজানো কয়েকটি Almond  রাখতে পারেন আপনার খাদ্য-তালিকায়।’

Almond-এর পুষ্টিগুণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দিল্লির ম্যাক্স হেলথকেয়ার-এর ডায়েটিক্স-এর আঞ্চলিক প্রধান রিতিকা সমাদ্দার জানিয়েছেন, ‘উপবাসের পর স্বাস্থ্যকর খাওয়া নিশ্চিত মানেই আপনি ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং প্রোটিন সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিচ্ছেন শরীরকে। যা শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং সুস্থতার জন্য খুবই  গুরুত্বপূর্ণ। হাইড্রেটেড থাকা এবং উপবাসের নির্দেশিকাগুলির মধ্যে একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করা এই সময়ের মধ্যে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজগুলির সংমিশ্রণের সঙ্গে Almond একটি সঠিক পুষ্টি উপাদান।’

পুষ্টিবিদ রোহিনী পাটিল-এর মতে, ‘উপবাস ভাঙার পর যখন খুব খিদে থাকে পেটে, তখন আমাদের অনেকের অভ্যাস আছে যে, হাতের সামনে যা খাবার থাকে তাই অনেকটা পরিমাণ খেয়ে নেওয়া। এই অভ্যাস আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই খারাপ। কারণ, শরীর তখন একসঙ্গে বেশি খাবার কিংবা ভারী খাবার নিতে পারে না। তাই এই সময় অল্প-অল্প অথচ পুষ্টি আছে এমন খাবার খাওয়া উচিত। আর এই উপযুক্ত খাদ্য-তালিকায় Almond হল অন্যতম উপকরণ। পুষ্টির পাশাপাশি শরীরের নানারকম রোগ প্রতিরোধ করবে এই উপকরণটি।’ এছাড়া, আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ মধুমিতা কৃষ্ণান জানিয়েছেন, ‘সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা সবসময় সর্বোত্তম উপায়। বিশেষকরে উপবাসের পর। আর এই সর্বোত্তম খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে Almond, তাজা ফল, স্প্রাউট প্রভৃতি। এই খাবারগুলি রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখে এবং ক্লান্তি কমায়। মনে রাখবেন, ভেজানো বা কাঁচা বাদাম সেবন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে।’

শারদ ফ্যাশন এবং আপনি

এই উৎসবের মরশুমে নিজের ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনি তখনই সফল হবেন— যখন নিজের শারীরিক গঠন ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক পরবেন। মনে রাখবেন আপনার সৌন্দর্যের তথা ব্যক্তিত্বের প্লাস পয়েন্ট-টা হাইলাইট করাই আপনার সাজগোজের উদ্দেশ্য— নিজেকে বেমানান সাজে ফ্যাশনেবল প্রমাণ করাটা নয়।

শাড়ি

ভারতীয় নারীর ফিগার-এর সঙ্গে সবচেয়ে মানানসই পোশাক হল শাড়ি। সুতরাং শাড়ি দিয়েই শুরু হতে পারে আপনার Festive fashion  এক্সপেরিমেন্ট। শাড়ির রং, ব্লাউজের রং, ডিজাইন, কাট ড্রেপিং— সবেতেই আপনি আপনার ডিজাইন সেন্স-এর স্পেশাল টাচ দিয়ে, হয়ে উঠতে পারেন নজরকাড়া।

  • ব্লাউজের দিকে বিশেষ নজর দিন। ফিটিংটা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি হালফিল কাট-এর বিষয়টিতেও সচেতন থাকা। পার্টির জন্য রেডি রাখুন কিছু অর্নামেন্টাল ডিজাইনার ব্লাউজ।
  • যদি আপনার ফিগার একটু মেদবহুল হয়, তাহলে খোলামেলা ছাঁদের ব্লাউজের বদলে, পার্টিতে পরুন লং জ্যাকেট কার্ট-এর ব্লাউজ। চাইলে ব্লাউজের পিঠে নানারকম কাট ব্যবহার করতে পারেন।
  • যদি আপনার ফিগার ঈর্ষণীয় হয়, তাহলে একটু সাহসী হয়ে বিকিনি ব্লাউজ পরতেই পারেন।
  • শাড়ি পরার পোশাকি কায়দা ছেড়ে, নানা স্টাইলে সেটা পরে দেখতে পারেন।
  • আপনার উপস্থিতিকে উজ্জ্বল করার জন্য ফ্রেশ রেড, গ্রিন, পিকক ব্লু, ফুশিয়া পিংক প্রভৃতি চটকদার রঙের পোশাক ওয়ার্ডরোবে শামিল করুন।

সালোয়ার কামিজ

  • আপনার ফিগারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাট-এর পোশাক নির্বাচন করুন। আপনি যদি দীর্ঘাঙ্গী না হন এবং চেহারাও মেদবহুল হয়, ফ্যাশনে ইন হওয়া সত্ত্বেও পাতিয়ালা এড়িয়ে চলুন।
  • যদি লম্বা শারীরিক গঠন হয়, আনারকলি কাট ভালো মানাবে।
  • এ-লাইল লম্বা কুর্তি বা গাউন ড্রেস এখন ইন৷ ট্রাই করুন৷
  • অফ শেল্ডার বা স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ এখন ইন৷ তবে সব বয়সের মহিলাদের জন্য এই কাট ঠিক নয়।  আপনার বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি হলে এই ধরনের কাট ব্যক্তিত্বের উপর নঞর্থক প্রভাব ফেলবে।
  • স্রেট প্যন্টস আর কুর্তির ফ্যাশন এখনও বেশ জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে সাইড কাট কুর্তার বদলে  অন্য কাটিং ট্রাই করতে পারেন।
  • কালার ব্লকিং-এর ট্রেন্ডকেও আপনি আপনার ফ্যাশনে শামিল করতে পারেন। অর্থাৎ যে-কোনও একরঙা পোশাকের উপর অন্য রঙের লং জ্যাকেট, শ্রাগ বা অ্যাক্সেসরি ব্যবহার করুন। এর ফলে আপনার কালার ব্যালেন্সিং সেন্স, ভিড়েও আপনাকে নজরকাড়া করে তুলবে।

ওয়েস্টার্ন ওয়্যার

  • যদি আপনার বাস্ট লাইন ভারীর দিকেই হয় তাহলে শর্ট টপ পরবেন না। এর ফলে শরীরের নীচের অংশ বেশি প্রকট হয়ে উঠবে।
  • দেহের ঊর্ধ্বাংশ যদি ভারী হয়— তাহলে কোমরে ফ্যাশনেবল বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন।
  • উজ্জ্বল রঙের লং কুর্তার একটা ট্রেন্ড আপনি নিজেই তৈরি করতে পারেন।
  • হাত সরু ধরনের হলে পাফ স্লিভ্স পরতে পারেন।
  • ডেনিমের স্কার্ট, জ্যাকেট সব সময়ই ফ্যাশনেবল। ক্যাজুয়াল বা সেমিফর্মাল— দুধরনের পোশাকের সঙ্গেই ডেনিম মানিয়ে যায়।

অ্যাকসেসরি

  • ভারী নকশার বর্ডার দেওয়া শাড়ির সঙ্গে ঝোলা ইয়াররিং পরুন। যদি ইয়াররিংটাই জমকালো হয়, হার না পরাই ভালো।
  • লম্বা গলা হলে চিক বা হাঁসুলি ধরনের নেকপিস পরতে পারেন।
  • হার অর্নামেন্টাল হলে অ্যাকসেসরি লাইট রাখবেন।
  • পার্ল সেট খুব ডিগনিফায়েড লাগে। ওয়ার্কপ্লেসের আদর্শ গয়না হতে পারে।
  • এখন এক হাতে একসঙ্গে অনেকগুলি চুড়ি পরা ট্রেন্ডি। মেটাল বা ফাইবারের রঙিন চুড়ি যে-কোনও পোশাকের সঙ্গেই পরা চলে।
  • ওয়েস্টার্ন ওয়্যারের সঙ্গে লম্বা স্লিং ব্যাগ ব্যবহার করুন।
  • পার্টির জন্য সুন্দর ডিজাইনের দু-একটি পেনসিল হিল স্যান্ডাল অবশ্যই রাখুন।

বিশেষ নজর

  • আপনি স্থূলকায়া হলে কাপ স্লিভস-এর পরিবর্তে থ্রি-কোয়ার্টার বা ফুল-স্লিভ ব্লাউজ পরুন।
  • গলা লম্বা হলে ব্যাক কাট যুক্ত কলার নেক ব্লাউজ পরুন।
  • দিনের বেলা হালকা রঙের পোশাকই ভালো।
  • রাতে যে-কোনও চড়া রং উইথ ম্যাচিং অ্যাকসেসরি ট্রাই করুন।

উৎসবের ফ্যাশন ও সাজের পরামর্শ

উৎসবের মরশুম শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়াও এখন উৎসবের রেশ টেনে আনন্দে ঝলমল করছে। মানুষের ঢল নেমেছে দোকানে বাজা্রে, আসন্ন পূজার কেনাকাটা সারতে। দোকানীরাও তাদের নতুন পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায়। কী বলছেন ক্রেতা থেকে বিক্রেতারা? এ বছরে Festive Fashion নিয়ে তাঁদের মতামতটাই বা কী?

জমজমাট উৎসব মানেই প্রথমেই মনে আসে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম। অবশ্য যুবসমাজকেও উপেক্ষা করা যায় না। এখন সকলেই Fashion নিয়ে খুবই সচেতন। আগে শাড়ি ছাড়া পূজার সাজ কল্পনা করা যেত না কিন্তু এখন প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মিশেল এই নতুন প্রজন্মের কাছে সবথেকে গ্রহণযোগ্য। স্কার্ট সবসময়েই মেয়েরা পছন্দ করে তবে এই বছর মিনি স্কার্ট থেকে একটু লং স্কার্ট-ই বেশি কেনাকাটার লিস্ট-এ রয়েছে। এই লং স্কার্টের সঙ্গে ইন করে ক্যাজুয়াল টপ বা টি-শার্ট তো আছেই সঙ্গে কুর্তিও স্কার্ট-এর সঙ্গে ফ্যাশন এ ভীষণ ভাবে ইন।

ডেনিম সারাবছরই ফ্যাশনে ইন। টাইট ফিটিং জিনস-এর ফ্যাশন প্রতি বছরই থাকে তবে জিনস এর উপর নানা ধরনের কারুকাজ বিশেষ করে মেয়েদের জিনস-এ, প্রতি বছর আলাদা আলাদা সংযোজন হয়। এবারে হালকা ঢিলেঢালা অথবা বেলবটম জিনস খুবই পছন্দের তালিকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সঙ্গে টি-শার্ট, ক্রপ টপ কিংবা এথনিক কুর্তি বেছে নিচ্ছেন তরুণীরা কুল লুক পেতে। সঙ্গে ট্রাই করতে পারেন ক্যাজুয়াল স্যুট। মেয়েরা এবং একটু বয়স্করা পছন্দমতন পালাজোও কিনছেন উৎসবের পরিবেশ ধরে রাখতে। ফ্লাওয়ার মোটিফ, জ্যামিতিক নকশার জমকালো প্রিন্টের জামা ছেলে মেয়ে সকলেই বেশ পছন্দ করছেন। লেপার্ড প্রিন্ট, জেবরা বা কার্টুন প্রিন্টের পোশাকও খুব হিট এবছর। লেগিংস কিন্তু পূজার কেনাকাটায় মাস্ট আইটেম। যারা জিনস পরতে চান না তারা অনায়াসে কুর্তির নীচে লেগিংস গলিয়ে ইন্সট্যান্ট শারদীয়া লুক তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সঙ্গে অবশ্যই থাকছে Fashion-এর জন্য ঝোলা দুল, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ।

এথনিক লুক অনেকেরই পছন্দ এখন। এথনিক লুকের কথা যখন উঠলই তখন শাড়ির কথা বলতেই হয়। উৎসবের ফ্যাশন শাড়ি ছাড়া অসম্ভব। তরুণী থেকে বয়স্ক, সকলেই একটা দিন অন্তত শাড়িতে সেজে উঠতে চান। ২০২৩ এ সুতির শাড়ির প্রতি মেয়েদের প্রচণ্ড ক্রেজ দেখা যাচ্ছে। এই বছর নান্দনিক নকশায় সেজে উঠেছে ফুলিয়ার তাঁতের শাড়ির সম্ভার। জামদানির অপূর্ব সব নকশায় বাজার রমরম করছে। ক্রেতাদের কাছে ঢাকাই শাড়ির চাহিদাও তুঙ্গে। বাংলার কাঁথার নকশার সিল্কের শাড়ি বাঙালি, অবাঙালি সকলেই কাছেই প্রিয় এটা দোকানের কেনাকাটাই প্রমাণ করছে। শিল্পীরা প্রতি বছরের মতো এ বছরও শাড়ির নকশায় প্রচুর বৈচিত্র্য এনেছেন ক্রেতার ডিমান্ড বুঝে। অ্যাপলিক, হাতে আঁকা ডিজাইনের শাড়ি, ব্লাউজ এবছরের পূজার বাজার মাত করে রেখেছে।

আধুনিক হোক কিম্বা সাবেকি, মেয়েদের পোশাকে কারুকাজ করা বেল্ট এখন খুবই জনপ্রিয়। শাড়ি, ড্রেস বা কুর্তি, সুতোর কারুকাজ করা বা জরির নকশাদার বেল্ট এই পূজায় আপনার সাজকে পূর্ণতা দিতে পারে। পাথর বা বিডসের নানা রকমের স্টেটমেন্ট গয়না, কস্টিউম জুয়েলারি বা নজর কাড়া অন্য রকম গয়না দিয়ে নিজের সাজ পূরণ করতে পারেন। ডোকরার গয়না আর মাটির গয়না নিয়ে Fashion বহু দিন ধরেই চলছে। এবারে নতুন কিছু করতে চাইলে ডোকরার সঙ্গে মাটির গয়নার মিশেলে যদি তৈরি করতে পারেন কানের দুল বা গলার হার, তা হলে আপনার সাজ হবে একেবারে অন্য রকম।

সাজে আধুনিকা হতে চাইলে অথবা ফিউশন লুক যদি পছন্দ করেন তাহলে ভারী অক্সিডাইজড হার কিংবা বড়ো ভারী দুল, সঙ্গে হাতে কয়েক গাছা ভারী অক্সিডাইজড চুড়ি পরে নিলেই মুহূর্তে আপনার সাজ হয়ে যাবে নজরকাড়া। জেনে রাখতে হবে যে, শুধু শাড়ি বা কুর্তির সঙ্গেই নয়, অক্সিডাইজড জাঙ্ক জুয়েলারি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা যাবে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন সাজের সঙ্গেও। এই ধরনের গয়নায় মিনাকারির কাজও এখন খুব Fashion, সেগুলো দেখতে যেমন দুর্দান্ত, তেমনি সাজেও আনতে পারে নতুন চমক। জাঙ্ক জুয়েলারি মানেই সবসময় ভারী হবে এমনটা কিন্তু নয়। অক্সিডাইজড ছোটো ছোটো দুল, লেয়ার নেকলেস বা হাতের নানা ধরনের গয়না কিনেই পুজোতে তাক লাগাতে পারেন আপনি। শুধু উৎসব তো নয়, অফিস যেতে বা বাড়ির বাইরে এমনিও বেরোতে হলে কুর্তি বা জিনস, শার্টের সঙ্গেও অক্সিডাইজড গয়না কিন্তু সবসময় দারুণ মানানসই।

এবার শারদোৎসবে নজর কাড়বে চারটি বাংলা ছবি

ভালো বাংলা ছবির জন্য সারা বছরই মুখিয়ে থাকেন সিনেমাপ্রেমীরা। কিন্তু শারদোৎসব উপলক্ষ্যে দর্শকদের উন্মাদনা বেড়ে দ্বিগুন হয়। এবার হয়তো দর্শকদের মন ভরিয়ে দেবে মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিগুলি। কারণ, যে-সব ছবি মুক্তি পেতে চলেছে এবার শারদোৎসব উপলক্ষ্যে, সেই সবক’টি ছবি-ই বড়ো প্রযোজনা সংস্থার এবং বিগ বাজেটের। শুধু তাই নয়, এই সব ছবির পরিচালকরাও স্বনামধন্য এবং তাঁদের ছবিতে মুখ্য চরিত্রে যাঁরা অভিনয় করেছেন, তাঁরাও সকলে টলিউডের নামীদামী অভিনেতা-অভিনেত্রী। সব মিলিয়ে, দর্শকদের ভালোলাগার সবরকম উপকরণ রয়েছে মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিগুলিতে।

শারদোৎসব উপলক্ষ্যে মুক্তি পেতে চলা চারটি বাংলা ছবির পোস্টার এবং ট্রেলার প্রকাশ্যে এসেছে ইতিমধ্যেই। মুক্তির দিনও নানা ভাবে জেনেছেন অনেকেই। কিন্তু যারা এখনও জানেন না যে কোন-কোন বাংলা ছবি মুক্তি পেতে চলেছে এই অক্টোবর-এ, সেইসব ছবির কারা পরিচালক, কারা অভিনয় করেছেন কিংবা কোন ছবির কাহিনিই-বা কেমন, সেই সব তথ্য-ই পরিবেশিত হচ্ছে এই লেখায়।

যে চারটি ছবি মুক্তি পেতে চলেছে ২০২৩-এর অক্টোবর-এ, সেই চারটি ছবি হল—‘দশম অবতার’, ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’, ‘রক্তবীজ’ এবং ‘বাঘা যতীন’।

দশম অবতার

‘শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস’ এবং ‘জিও স্টুডিয়ো’ প্রযোজিত এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। এই ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যিশু সেনগুপ্ত এবং জয়া আহসান। ছবিটির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন সৌমিক হালদার। সম্পাদনায় প্রণয় দাশগুপ্ত। ছবির সুরকার অনুপম রায় এবং আবহ সংগীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।

ছবির নামেই রয়েছে পুরাণের ছোঁয়া। ‘বাইশে শ্রাবণ’ এবং ‘ভিঞ্চি দা’-র মিশেলে তৈরি হয়েছে ছবি। ‘বাইশে শ্রাবণ’-এ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্র প্রবীর রায়চৌধুরী এবং ‘ভিঞ্চি দা’-য় অনির্বাণ ভট্টাচার্য ওরফে বিজয় পোদ্দার মিলেছেন এবার ‘দশম অবতার’-এ। এরা দু’জনেই রহস্যের সমাধান করবেন। কিন্তু কী সেই রহস্য? আসলে ‘বাইশে শ্রাবণ’-এর মতো ‘দশম অবতার’-এও পরপর কয়েকটি খুন হবে এবং কে বা কারা সেই খুনগুলি করছে, সেই রহস্য-ই উদঘাটন করবেন মিস্টার রায়চৌধুরী এবং মিস্টার পোদ্দার। আগামী ১৯ অক্টোবর অবসান ঘটবে সমস্ত কৌতূহলের, কারণ, ওই দিন মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায় রচিত এবং পরিচালিত ছবি ‘দশম অবতার’।

ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে ‘দশম অবতার’ ছবির গান—‘আমি সেই মানুষটা আর নেই’। গানটি গেয়েছেন অনুপম রায় ৷ গানের কথা ও সুর অনুপমের৷

জঙ্গলে মিতিন মাসি

সুচিত্রা ভট্টাচার্য-র লেখা ‘সারাণ্ডায় শয়তান’ গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়েছে ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরিন্দম শীল। ‘ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ব্যানারে প্রযোজিত এই ছবিটির নিবেদক রূপা দত্ত।

ছবির কাহিনিতে দেখা যাবে, বিশিষ্ট পার্সি ব্যবসায়ীর এক শিশুকে অপহরণ করা হচ্ছে। দু’ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে এবং তা দিতে হবে তিন দিনের মধ্যে। এই ঘটনার পর ফোন কল পান মিতিন, যিনি কলকাতা পুলিশের স্বীকৃত গোয়েন্দা সংস্থা ‘থার্ড আই ইনভেস্টিগেটিভ এজেন্সি’ চালান।  এরপর তদন্তের ভার হাতে নেন মিতিন এবং অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন তিনি।কিন্তু এরপর কী ঘটবে, তা জানা যাবে ১৯ অক্টোবর, কারণ ওই দিন মুক্তি পাবে ছবিটি। ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’ ছবিতে মিতিনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কোয়েল মল্লিক। অন্যান্য চরিত্রে রূপ দিয়েছেন শুভ্রজিত দত্ত, কমলিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, লেখা চট্টোপাধ্যায়, অরিজিৎ দত্ত, পায়েল রায় , সামিউল আলম প্রমুখ। ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক অরিন্দম শীল স্বয়ং। সংগীত পরিচালনা করেছেন বিক্রম ঘোষ।

রক্তবীজ

এই থ্রিলার ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিতা রায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ‘উইন্ডোজ প্রোডাকশন’-এর ব্যানারে তৈরি এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী। আবির চট্টোপাধ্যায় এবং ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও দেখা যাবে দুটো গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

‘রক্তবীজ’ ছবিতে পুলিশের চরিত্রে দেখা যাবে মিমি চক্রবর্তী-কে এবং তাঁর বস-এর ভূমিকায় দেখা যাবে আবির চট্টোপাধ্যায়-কে।। এই ছবির  প্রেক্ষাপট খাগড়াগড় বিস্ফোরণ। অ্যাকশন আর সাসপেন্সে মোড়া ছবির ট্রেলার সামনে এসেছে সম্প্রতি। ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে এক দোতলা বাড়ি কেঁপে উঠে বিস্ফোরণের শব্দে। মৃত্যু হয়েছিল দু’‌জনের । মামলার তদন্তভার সিআইডি থেকে এনআইএ-র হাতে যায়। গ্রেফতার করা হয়েছিল মোট ৩১ জনকে। সেই হাড়হিম করা ঘটনাই এবার বড়োপর্দায়। এই ছবিতে চমকপ্রদ এক চরিত্রে দেখা যাবে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়-কে।

এই প্রথম কোনও বাংলা ছবির শ্যুটিং হয়েছে ইন্ডিয়া গেট ও রাষ্ট্রপতি ভবনে। এছাড়া ধূলাগড়, বোলপুর, এবং বানতলার কিছু জায়গায় শুটিং হয়েছে ছবিটির। মিমি, আবির, ভিক্টর ছাড়াও এই ছবিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন  দেবলীনা কুমার,  অনসূয়া মজুমদার,  সত্যম ভট্টাচার্য, কাঞ্চল মল্লিক, দেবাশীষ মন্ডল প্রমুখ। বাংলার পাশাপাশি হিন্দি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া ভাষাতেও মুক্তি পাবে ‘রক্তবীজ’। আগামী ১৯ অক্টোবর দর্শকদের জন্য মুক্তি পাবে ছবিটি।

কয়েকটি গান আছে ছবিটিতে। সুরারোপ করেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং দোহার ব্যান্ড। ছবিটির চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন প্রতীপ মুখোপাধ্যায় এবং সম্পাদনায় ছিলেন মলয় লাহা।

বাঘা যতীন

বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখার্জির জীবনের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘বাঘা যতীন’ ছবিটি। ‘দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার’-এর ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন দেব স্বয়ং। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অরুণ রায়। চিত্রনাট্য লিখেছেন সৌনাভ বসু এবং পরিচালক অরুণ রায়।

টিজার লঞ্চ করার পর  দেব জানিয়েছেন, ‘যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ওরফে বাঘা যতীন নিঃসন্দেহে সকলের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর সাহস এবং আত্মত্যাগের জন্য তিনি বেঁচে আছেন দেশবাসীর হৃদয়ে। দেশের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসার অসাধারণ কাহিনি বর্ণনা করবে ছবিটি। দর্শকদের জন্য বাঘা যতীন তাই এবারের শারদোৎসবে অন্যতম সেরা উপহার হতে চলেছে।’ ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ১৯ অক্টোবর।

‘বাঘা যতীন’ ছবিতে যতীনের চরিত্রে রূপদান করেছেন দেব অধিকারী। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৃজা দত্ত (যতীনের স্ত্রী), সুদীপ্তা চক্রবর্তী (যতীনের দিদি)। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন গোপী ভগত এবং সম্পাদনায় সংলাপ ভৌমিক। ওড়িশা, কলকাতা এবং বুড়িবালামের জঙ্গলে শুটিং হয়েছে ছবিটির। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত সময়কালকে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।

উৎসবের সৌন্দর্যচর্চা

মণ্ডপে সেরা সুন্দরী এবার আপনিই হতে পারেন টিপসগুলি ফলো করে। দেরি না করে লেগে পড়ুন উৎসবে কী ভাবে নিজেকে present করবেন তারই জোগাড়ে।

  • শারদ শপিং-এ একটা ক্লাসিক Blue-Jeans অবশ্যই কিনুন, গোটা দুয়েক সাদা কুর্তি আর একটা বেসিক জ্যাকেট। যে-কোনও পোশাকের সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে ক্যাজুয়াল সাজে চটক আনুন।
  • নতুন জুতো কিনলেও প্লিজ সেটা প্যান্ডাল হপিং-এর সময় পরার কথা ভাববেন না। জুতোর কালেকশনে চিরাচরিত একটি রাজস্থানি বা কোলাপুরি চটি রাখুন। ভারতীয় পোশাকের সঙ্গে এটির অতুলনীয় জুটি।
  • লিপস্টিক স্মাজ করে গেলে বা দাঁতে লেগে গেলে অত্যন্ত খারাপ দেখায়। টোটকা হল, মুখটাকে ইংরেজি বর্ণমালা ‘ও’-এর মতো করে নেওয়া। এবার একটি আঙুলে টিসু পেপার জড়িয়ে আঙুলটাকে মুখে পুরে, ঠোঁটের অতিরিক্ত রং টিশু পেপারের সাহায্যে তুলে ফেলা।
  • রেজার ব্যবহার করার সময় ব্লেড নিয়মিত বদলান, না হলে ত্বকে কালো ছোপ এড়াতে পারবেন না।
  • দিনের বেলায় মণ্ডপে যাওয়ার আগে অতি অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ওয়াটারপ্রুফ মেক-আপ ব্যবহার করাই শ্রেয়, যাতে ঘামে তা ধুয়ে কিম্ভূত-কিমাকার চেহারা না ধারণ করে ।
  • শ্যাম্পুর পর চুলে এক্সট্রা শাইন আনতে স্নানের সময় এক কাপ জলে দুই টেবল চামচ ভিনিগার ও অর্ধেক লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
  • আপনার গলা যদি একটু চাপা ধরনের হয়, চাইনিজ কলার বা এয়ারহোস্টেস কলার এড়িয়ে চলুন। বরং ডিপ নেকলাইনের পোশাক বা ব্লাউজ পরুন। সঙ্গে গলা চাপা নেকলেস-এর পরিবর্তে লম্বা ঝুলের হার পরুন।
  • মেক-আপ প্যালেট-এ যতটা সম্ভব ন্যাচারাল রঙের ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত রংচঙে সাজ দিনের বেলায় বেমানান। বরং গাঢ় রঙের আইশ্যাডো বা লিপস্টিক থাক রাতের সাজের জন্য।
  • ব্রাউন ব্লাশার যদি ব্যবহার করতেই হয়, তা কেবল গালের ফোলা অংশটুকুতেই ব্যবহার করুন, গোটা মুখে নয়।

মনে রাখবেন, ডিওডরেন্ট স্প্রে করার সময় ত্বকে ভেজাভাব থাকতে থাকতেই করুন। এতে ডিওডরেন্ট-এর সুগন্ধ বেশিক্ষণ বজায় থাকবে। সব মিলিয়ে প্রিয়জনসহ উৎসব উপভোগ করুন প্রাণ খুলে।

ডেমো (শেষ পর্ব)

রামকৃষ্ণপুরমের মধ্য দিয়ে যাবার সময় একটি ছেলে বাসে উঠে শ্বেতার ঠিক পাশ ঘেঁসে দাঁড়াল। প্রমিলা কড়া নজর রাখলেন ছেলেটির দিকে। লম্বা দোহারা চেহারার কুড়ি একুশ বছর বয়সি ছেলেটিকে দেখে ভদ্রঘরের বলেই মনে হল৷ গালে রেশমের মত নরম দাড়ি, চোখে চশমা, পিঠে ঝোলানো ব্যাগ, ঠিক শ্বেতার মতোই। হয়তো দক্ষিণ দিল্লির কোনও কলেজের ছাত্র হবে। ও নিশ্চয়ই শ্বেতাকে ইভটিজিং করবে না। কিন্তু সরোজিনী নগরে ঢোকবার মুখেই প্রমিলা লক্ষ্য করলেন ছেলেটা শ্বেতার সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা পাতাবার চেষ্টা করছে। ওর ঠোঁটে হবু প্রেমিকের চতুর হাসি, ওর কাঁধ ছুঁয়ে আছে শ্বেতার কাঁধ।

—শ্বেতা, সরে দাঁড়া, সন্ত্রস্ত হয়ে বললেন প্রমিলা।

—তুমি চুপ করো মা, বাসের মধ্যে একটু ঘেঁসাঘেঁসি হয়েই থাকে, মাকে ধমকে দিল শ্বেতা। কিন্তু প্রমিলা কী করে চুপ করে থাকবেন ? ছেলেটা যে এবার কনুই দিয়ে শ্বেতার বুক ছোঁবার চেষ্টা করছে!

—শ্বেতা ও কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি করছে। চল আমরা বাস থেকে নেমে অটো ধরি।

—তুমি এত ভয় পেয়ো না মা, আমার সঙ্গে তো অস্ত্র আছে।

—তোর অস্ত্র চালাবার আগেই…

কিন্তু প্রমিলার কথা শেষ হবার আগেই শ্বেতা চেঁচিয়ে উঠল, ‘লুচ্চা, লাফাঙ্গা, বদমাশ, লেড়কি কা সাথ বদতামিজি করতে হো! তারপর পিঠের ব্যাগটা খুলে নিয়ে দুই হাতে ওটা ঘুরিয়ে সপাটে মারল ছেলেটার মাথায়।

—ওঃ মর গিয়া… মর গিয়া! ছেলেটা চেঁচিয়ে উঠল, তারপর দুই হাতে মাথা চেপে ধরে কঁকাতে কঁকাতে সামনের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। যাবার পথে কলেজের আরও দু’চারটি মেয়ে চড় চাপড় দিল ওর মুখে, মাথায়, গালে। কন্ডাক্টর বাস থামিয়ে ওকে গলা ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দিল বাস থেকে।

প্রমিলা অবাক হয়ে দেখলেন তাঁর রোগা পটকা মেয়েটা কীভাবে একটা অসভ্য ছেলেকে জব্দ করল। নাঃ, দিনকাল সত্যিই অনেক পালটে গেছে। নিজের চোখেই তো দেখলেন প্রমিলা বাসের অন্য মেয়েরাও অসভ্য ছেলেটাকে বেশ কয়েকটা চড় চাপড় মেরে দিল। অনেক হয়েছে, চল এবার নেমে পড়ি আমরা, প্রমিলা বললেন সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে। এরপর পুলিশ থানা হলে মুশকিলে পড়বি তুই।

—ওসব কিচ্ছু হবে না মা। এটা তো একটা ছোট্ট ঘটনা। একটু বোসো, পরের স্টপেই নামতে হবে আমাদের।

সেদিন বাড়ি ফিরে প্রমিলা বললেন, ‘মনে হচ্ছে তোকে আমি একটু বেশিই ভয় পাইয়ে দিয়েছিলাম। দিল্লিতে মেয়েদের জন্য বাসজার্নি আগের থেকে অনেক ইজি আর সিকিওর হয়েছে। আমাদের সময় তো একতরফা ইভটিজিং হয়ে যেত আর কেউ প্রোটেস্ট করার সাহস পেত না। এমনকী কন্ডাক্টর ঝামেলার মধ্যে না জড়িয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকত। তবে রোজ ওরকম ব্যাগ চালাস না তুই, মাথা ফাটিয়ে দিলে পুলিশ কেস হয়ে যাবে।’

—এটা আমার থার্ড অ্যাসল্ট ছিল মা, শ্বেতা বলল বীরাঙ্গণার ভঙ্গিমায় কোমরে হাত রেখে। আমি মাইল্ড স্ট্রোকই দিয়েছি। মাথায় ছোট একটা পিং পং বল উঠে এলেই আমার অ্যাকশন কমপ্লিট। প্র্যাক্টিস মেক্‌স আ উওম্যান পারফেক্ট, তুমি তো তাই আমাকে শিখিয়েছ তাই না মা?

প্রমিলা আস্তে আস্তে মাথা নাড়লেন। সেদিন উনি আর মাঝরাতে উঠে মাথায় জল ঢাললেন না। মেয়ের সাহস নিজের চোখে দেখেই বোধ হয় ওঁর মন থেকে চোদ্দো বছর আগে লেগে যাওয়া শরীরের নোংরা পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয়তা এতদিনে দূর হল।

পরের দিন কলেজের কাছেই একটা পার্কের বেঞ্চিতে বসে শ্বেতা খুব সন্তর্পণে নিলয়ের ব্যান্ডেজটা খুলে দেখল তিনটে স্টিচ লেগেছে ওর মাথায়।

—আই অ্যাম সো সরি, নিলয়। এই নাটকটা না করলেই হতো।

—ইটস ওকে বেবি, নিলয় বলল কাঁধ ঝাঁকিয়ে। কঠিন অসুখে কড়া ওষুধ চাই। তা ডেমোটা তুমি ভালোই দিয়েছ। তোমার কলেজের বন্ধুরাও ভালো ভাবে কো-অপারেট করেছে আমাদের সঙ্গে। অন্তত তিনটে থাপ্পড় আর একটা গাট্টা খেয়েছি আমি বাসের দরজায় পৌঁছোবার আগেই।

—ওদের আইস্ক্রিম খাইয়ে দিয়েছি আমি।

—গুড। এখন তোমার ডেমোটা কাজ করলেই সবদিক রক্ষা। তা তোমার মার মিডনাইট বাথ বন্ধ হয়েছে?

—হ্যাঁ, বলল শ্বেতা মিষ্টি হেসে। তারপর নিলয়ের মাথার ব্যান্ডেজটা ভালো ভাবে আটকে দিয়ে ওর গালে চুমু খেল শ্বেতা।

নবমীর ভোজে মশলাদার রান

বাঙালির জমজমাট পূজার আড্ডায় এবং খাওয়াদাওয়ায় মাংস থাকবে না এটা খাদ্যরসিকদের কাছে মেনে নেওয়া অসম্ভব। রসনাতৃপ্ত করতে নবমীতে বাড়িতেই আড্ডার পরিবেশে বানিয়ে ফেলুন মশলাদার রান। শুধু রান্নার তৈয়ারি একটু আগে থেকে যদি করে রাখেন তাহলে বন্ধু, আত্মীয়দের সঙ্গে গল্প করতে করতেই আভেনেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন পুরো রান্নাটি। দেখে নেওয়া যাক রেসিপিটি বানাতে আমাদের কী কী লাগবে-

উপকরণ – দেড় কেজি থেকে দুই কেজি মাটন লেগ (পুরো এবং ড্রেস করা)

প্রথম ম্যারিনেশন – ১টি শুকনো লাল মরিচ, ১টি কালো এলাচ, ১ স্টার অ্যানিস, ৯ সবুজ এলাচ, ১ চা-চামচ জোয়ান, ১ চা চামচ জিরেগুঁড়ো, ১টি জাইফল, ১/২ চা চামচ সাদা গোলমরিচগুঁড়ো, ২ দারুচিনি, ১ চা-চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ চা চামচ লবণ, ১ টেবিল চামচ করে আদা ও রসুন বাটা, ২ টেবিল চামচ সরষের তেল।

দ্বিতীয় ম্যারিনেশন – ২৫০ মিলি টক দই, ১ টেবিল চামচ আদাবাটা, ১ টেবিল চামচ রসুনবাটা, ১ চা চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ চা চামচ করে জিরে ও ধনেগুঁড়ো, ১ চা চামচ লাল মরিচগুঁড়ো, ১/২ চা চামচ গরমমশলাগুঁড়ো, চিনি ১ চা চামচ, ১/২ চা চামচ লবণ, ১ কাপ পেঁয়াজ কুচি ওরফে পেঁয়াজ বেরেস্তা, ৫০ মিলি সরষের তেল।

অন্যান্য উপকরণ – ৮টি পেঁয়াজ(ছোটো), ৮টি টম্যাটো(ছোটো), ১ চা চামচ লবণ (প্রয়োজনমতন), ৫০ মিলি ঘি।

প্রণালী – মাটন ধুয়ে পরিষ্কার করুন এবং এটি শুকিয়ে নিন। খাসির মাংসের পা ঘরের তাপমাত্রায় থাকা উচিত। শুকনো লাল মরিচ, কালো এলাচ, স্টার অ্যানিস, সবুজ এলাচ, জোয়ান, জিরেবীজ, আদা, সাদা গোলমরিচ, দারুচিনি স্টিক এবং ধনিয়াবীজ শুকনো খোলায় ভেজে নিন। মশলা ভাজার সময় আঁচ কম রাখুন। মশলাগুলি থেকে সুগন্ধ নির্গত হলে আঁচটি বন্ধ করুন। ঠাণ্ডা হতে দিন। এবার মশলার একটি মোটা গুঁড়ো তৈরি করুন। এই মিশ্রণের সঙ্গে আদা ও রসুন বাটা এবং লবণ মিশিয়ে আধা-ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণে সরষের তেল যোগ করুন এবং ভালোভাবে মেশান। এই পুরো মিশ্রণটি মাটন রানে ভালো ভাবে চারিয়ে দিন, বিশেষত স্লিটের মধ্যে। এবার মাটন পা-টি ক্লিং ফিল্ম বা প্লাস্টিকের মোড়ক দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ফ্রিজারে রাখুন।

দ্বিতীয় ম্যারিনেশন – রোস্ট করার ৮ ঘণ্টা আগে

রোস্ট করার কমপক্ষে ৮ ঘন্টা আগে আপনাকে এটি রেফ্রিজারেটর থেকে বের করতে হবে।

দই, হলুদগুঁড়ো, জিরাগুঁড়ো, ধনেগুঁড়ো, লাল মরিচগুঁড়ো, গরমমশলাগুঁড়ো, চিনি, লবণ এবং সরষের তেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এবার মাটন পায়ে অর্ধেক ম্যারিনেড লাগিয়ে ফ্রিজে ৮ ঘণ্টা রেখে দিন। স্লিটের মধ্যে ম্যারিনেড প্রয়োগ করতে ভুলবেন না। অবশিষ্ট ম্যারিনেড ফ্রিজে রেখে দিন।

মাটন লেগ রোস্ট করার আগে

রোস্ট করার আগে কমপক্ষে ১ ঘন্টার জন্য খাসির মাংস ফ্রিজার থেকে বের করুন। অবশিষ্ট ম্যারিনেড বের করে নিন। এতে ১ টেবিল চামচ আদাবাটা এবং ১ টেবিল চামচ রসুনবাটা যোগ করুন। এই মিশ্রণে ১ কাপ পেঁয়াজ বেরেস্তা যোগ করুন। এই মিশ্রণটি মেরিনেট করা মাটন পায়ে প্রয়োগ করুন এবং রোস্ট করার আগে কমপক্ষে ১ ঘন্টা ঘরের তাপমাত্রায় রাখুন। স্লিটের মধ্যে ম্যারিনেড প্রয়োগ করতে ভুলবেন না।

আভেনের ট্রে-তে রান-টি রাখুন। কাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি টম্যাটো দিয়ে খালি জায়গা পূরণ করুন। অবশিষ্ট ম্যারিনেড খাসির মাংসের উপরে ঢেলে দিন। ৫০ মিলি ঘি গলিয়ে খাসির মাংসের উপরে ঢেলে দিন।

আভেন-টি ১৫ মিনিটের জন্য ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে গরম করুন। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল দিয়ে খাসির মাংস ঢেকে দিন। কভার করা রানের টুকরোটি ওভেনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় ২.৫ ঘন্টা রাখার পরে এটি রোস্ট করুন। ২.৫ ঘন্টা পরে ফয়েলটি সরান এবং ১৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে ৩০ মিনিটের জন্য রোস্ট করতে থাকুন। টুথপিক দিয়ে পরীক্ষা করে দেখুন যে এটি সেদ্ধ হয়েছে কিনা। যদি হ্যাঁ হয় তবে মাটনরান পুরোপুরি রোস্ট হয়েছে, যদি না হয় তবে আরও কয়েক মিনিটের জন্য রোস্ট করতে থাকুন। আভেন বন্ধ করে দিন। রোস্টেড মাটন ১৫ মিনিট পরে বের করে নিন। গরম গরম পরিবেশন করার সময় একটি স্টেক ছুরি প্লেটে রাখুন।

 

ডেমো (পর্ব ৬)

পরের দিন কলেজ থেকে ফিরে শ্বেতা কাঁধের ব্যাগটা ঠকাস করে রাখল টেবিলের উপরে। –তোর ব্যাগে কী আছে রে? জিজ্ঞেস করলেন প্রমিলা। অত জোরে আওয়াজ হল।

—ওর মধ্যে আছে আমার আত্মরক্ষার অস্ত্র, শ্বেতা জানাল এক রহস্যময় হাসি হেসে।

যুগপৎ কৌতূহল এবং বিস্ময়ে চোখ কপালে তুললেন প্রমিলা। তার রোগা পটকা মেয়ে শেষ পর্যন্ত আত্মরক্ষার জন্য ছোরা বা পিস্তল নিয়ে চলতে শুরু করেছে এটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না প্রমিলা।

—দেখা দেখি কী অস্ত্র নিয়ে এলি তুই তোর ব্যাগে।

শ্বেতা ওর ব্যাগ খুলে একটা এক কিলো ওজনের গোল, মসৃণ, কালো পাথর বের করল। পাথরটা ওকে নিলয়ই জোগাড় করে দিয়েছিল। -ওমা! এত বড়ো পাথর ব্যাগে নিয়ে চলিস তুই! কিন্তু ওটা বের করে কাউকে মারতে হলে তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।

—ওটা বের করতে হবে কেন মা? এই দ্যাখো। শ্বেতা ব্যাগটা দু’হাতে ধরে ঘুরে দেখিয়ে দিল কীভাবে ও প্রতিপক্ষকে আঘাত হানবে। প্রমিলা মেয়ের বুদ্ধি দেখে অনেকদিন পর হেসে উঠলেন।

—তা অস্ত্রটা ভালোই জোগাড় করেছিস তুই কিন্তু ওটা কাজে লাগানো অত সহজ হবে না। বদমাশ ছেলেগুলো আজকাল পকেটে ছোরা পিস্তল রাখে। পেপারে প্রায়ই এ নিয়ে লেখালেখি হয়।

—তা রাখুক না, পকেট থেকে পিস্তল বের করতেও তো সময় লাগে। আমি তার আগেই ব্যাগটা ঘুরিয়ে মারব মুখের উপর… ঠিক এইভাবে। মাকে আশ্বস্ত করতেই শ্বেতা ফুল অ্যাটাকিং পশ্চারে গিয়ে দুই হাতে ব্যাগটা ঘুরিয়ে মারল ঘরের দেয়ালে। অনেকদিন আগে রং করা দেয়াল থেকে বড়ো এক চাকা পলস্তারা খসে পড়ল মেঝেতে।

—দেখলে তো কী স্পিডে অ্যাটাক করলাম আমি।

অবিশ্বাসের হাসি হেসে প্রমিলা বললেন, ‘দেখলাম৷’ শ্বেতার মনে হল ওর মা এখনও ওর উপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না। পরের দিন শ্বেতা নিলয়কে সবকথা খুলে বলার পর ও বলল, “তোমার মাকে ডেমো না দিলে চলবে না। একদিন ওনাকে সঙ্গে করে বাসে চেপে কলেজে নিয়ে যাও। অ্যানুয়াল ডে বা ওইরকম কোনও ফাংশানে নিয়ে যাও ওনাকে আর রাস্তায় ডেমো দিয়ে দাও।”

—কী করে ডেমো দেব রাস্তায়? শ্বেতা বলল। যাকে তাকে পিটিয়ে জেলে যাব না কি আমি?

—কেন, তুমি যে বাসটায় কলেজে যাও সেই পাঁচশ চৌত্রিশ তো শুনেছি ইভটিজারস প্যারাডাইজ।

একসময় ছিল, এখন আর নেই। আমি কলেজে ঢুকবার আগেই আমাদের কলেজের কয়েকটা মেয়ে একসঙ্গে মিলে একটা ইভটিজারকে এমন পিটুনি দিয়েছিল যে ওকে তিনদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। তারপর ওকে জেলে পুরে দেওয়া হয়। বাজে টাইপের কোনও ছেলে বাসে উঠলে কন্ডাক্টরই এখন তাকে পিছনে গিয়ে দাঁড়াতে বলে।

—ব্যাড লাক শ্বেতা, ডেমোটা দিতে পারলে তোমার মাকে পুরোপুরি লাইনে আনা যেত।

নিলয় হয়তো ঠিকই বলেছে। কেন-না শ্বেতা দেখল প্রমিলা আবার মাঝরাতে উঠে স্নান করতে শুরু করে দিয়েছেন। শ্বেতা যতই বোঝাবার চেষ্টা করে ও এখন পুরোপুরি নিজেকে সুরক্ষিত করে বাসে যাতায়াত করছে, রাস্তায় সে কোনও বিপদের মুখে পড়বে না— প্রমিলার চোখে সেই অবিশ্বাসের চাহনিটা শ্বেতাকে বিদ্ধ করেই যায়।

নিলয়ের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বলে শ্বেতা শেষপর্যন্ত একদিন মাকে নিয়ে বাসে কলেজে যাবে ঠিক করে ফেলল। সন্ধ্যার পরে মেয়েকে কোনওমতেই বাড়ির বাইরে যেতে দেবেন না প্রমিলা, তাই ‘স্পোর্টস ডে’তেই ও মাকে অনেক অনুনয় বিনয় করে তার সঙ্গে কলেজে আসতে রাজি করাল।

—কিন্তু আমি তো তোর মতো বাসে দাঁড়িয়ে যেতে পারব না, প্রমিলা বললেন মেয়েকে। একটা অটো নিলেই তো হয়।

—লেডিস সিটে তুমি জায়গা পেয়ে যাবে, তা ছাড়া বাসে কীভাবে আমি রোজ যাতায়াত করি সেটাও নিজের চোখে দেখে নেবে তুমি। দ্বারকা মোড় থেকে ওরা পাঁচশো চৌত্রিশ নম্বর বাসে উঠলে অল্প বয়স্ক একটি মেয়ে একটু সরে বসে লেডিজ সিটে প্রমিলাকে বসার জায়গা করে দিল। বাসে বেশ ভিড় থাকায় শ্বেতাকে দাঁড়িয়েই থাকতে হল।

(চলবে)

৫ সুপার হেলদি অয়েল আটকাবে হৃদরোগ (শেষ পর্ব)

আপনি শুনে অবাক হবেন যে, ভারতবর্ষে প্রতি বছর প্রায় ১২ লক্ষ যুবক-যুবতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। তাই বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। অতএব, সতর্কতা জরুরি। এবার জেনে নিন, কোন কোন কুকিং অয়েল হৃদরোগ এড়াতে সাহায্য করবে।

ক্যানোলা অয়েল : যদি আপনার হার্ট-এর সমস্যা থাকে কিংবা কোলেস্টেরল উচ্চমাত্রায় থাকে, তাহলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করুন ক্যানোলা অয়েল। কারণ এতে থাকে গুড ফ্যাট, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘কে’ এবং এই তেল কোলেস্টেরল ফ্রি হয়। এর মধ্যে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকার পাশাপাশি, উচ্চমাত্রায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, আলফা লিনোলেনিক অ্যাসিড থাকে— যা আপনার ব্লাড প্রেসার, কোলেস্টেরল প্রভৃতিকে আয়ত্তে রাখে এবং হার্ট সচল ও সুস্থ স্বাভাবিক রাখে।

অনেক হেলথ অর্গানাইজেশন ক্যানোলা অয়েল-কে ‘হার্ট-স্মার্ট অয়েল’ আখ্যা দিয়েছে। এতে জিরো শতাংশ (০%) ট্রান্স ফ্যাট হওয়ার কারণে, হাই লেভেল মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়— যা হৃদরোগ আটকায় এবং ডায়াবেটিজ আয়ত্তে রাখে।

অ্যাভোকাডো অয়েল : এতে প্রচুর পরিমাণ মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যা হেলদি ফ্যাটস এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যুক্ত। এর ফলে খারাপ কোলেস্টেরল-এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং গুড কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অ্যাভোকাডো অয়েল হার্ট-এর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ৭০ শতাংশ। আর কোলেস্টেরল-এর মাত্রা সঠিক থাকলে হৃদরোগ এড়ানো যায় অনেকটাই। আর এই তেলের বিশেষত্ব এই যে, এতে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা সঠিক পুষ্টি জোগায়। সেইসঙ্গে এতে পোলিফিনোলিস নামের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস-যুক্ত হওয়ার কারণে ফ্রি র‍্যাডিক্যালস শরীরের সুরক্ষা প্রদান করে। শুধু হার্ট-ই নয়, শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যরক্ষায় সাহায্য করে এই তেল।

সানফ্লাওয়ার অয়েল : অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, সানফ্লাওয়ার অয়েল-এ ৮০ শতাংশ আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা হার্ট-এর পক্ষে খুবই ভালো। এই তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে না, তাই শরীরের কোলেস্টেরল লেভেল-কে ঠিক রাখতে সাহায্য করে এই তেল। শুধু তাই নয়, এই তেল ব্যবহারের ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে চনমনে হয়ে ওঠে শরীর। সেইসঙ্গে, এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এসব সহজে বাসা বাঁধতে পারে না শরীরে। আর এতে থাকা প্রোটিন, কোশ মেরামত করে এবং নতুন কোশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

সিসম অয়েল : সিসম অয়েল বা তিল তেলে রয়েছে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট উপাদান। সেইসঙ্গে রয়েছে ভিটামিন ‘ই’ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যরক্ষাকারী উপাদান। এইসব উপাদান শরীরের ফ্রি-র‍্যাডিক্যালস-এর সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রায় রয়েছে ওমেগা থ্রি, ওমেগা সিক্স এবং ওমেগা নাইন ফ্যাটি অ্যাসিড।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, তিল তেল হাই কোলেস্টেরল লেভেল-কে আয়ত্তে আনতে সাহায্য করে। ফলে হার্ট-এর সমস্যা এড়ানো যায় অনেকটাই। এতে রয়েছে ৪১ শতাংশ পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৩৯ শতাংশ মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। সেইসঙ্গে এই তেল ম্যাগনেশিয়াম যুক্ত হওয়ায়, ব্লাড প্রেসার-কেও কন্ট্রোলে রাখতে সাহায্য করে। তাই, তিল তেল-কে হার্ট সুস্থ রাখার ওষুধ বলা হয়।

(সমাপ্ত)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব