ঊষর হিমাচলের রূপকথা (পর্ব-০১)

তখনও কিছু পুকুর ছিল, পুরোনো হলুদ নোনাধরা দেয়ালে অশ্বত্থ বটের শিকড়-বাকড়ের গভীর বুনোট ছিল। রেডিওতে মনের মতো গান ছিল, রাতের তারার মতো দিনের আকাশে তেরঙ্গা ঘুড়ি ফুটে থাকত। আর সাথে ছিল সাবেকি পুজো— সবকিছুই আমাদের ছিল। পাড়ার মাঠে বাঁশ পড়ত বোরোলিনের ক্যানভাসে ক্যাটক্যাটে হলুদ সবুজ বিজ্ঞাপন। পরের কটাদিন যেন কীভাবে উধাও হয়ে যেত!

এই পুজো আসার বাতাবরণেই ছিল আমাদের হাওড়া স্টেশন, দিনান্তের আকাশে হুইসিল বাজিয়ে শেষ ট্রেন চলে যেত প্রতিবার দশমীতে নীলকণ্ঠ পাখির উড়ে যাওয়ার মতো। পালটালো সময়, পালটানোই রীতি, শুধু বাঙালির ভ্রমণের সাথি হোল্ডলটাই আর খুঁজে পাওয়া গেল না। কিন্তু এত বছরের উদ্‌গ্রীব পা-গুলো আশ্বিনের পুজোর ছুটির গন্ধ নিয়ে কখনও ঢাকুরিপাসে বা হিমাচলের কোনও অখ্যাত গ্রামে পা ঝুলিয়ে বিশ্রাম নিতে চায়। আজও একই ভাবে রুকস্যাকে মেস্টিন গোছায়।

নয় জনের টিম ষষ্ঠীর দিন ট্রেনে করে হিমাচলের দিকে রওনা দিল। সময় সংকুলানের জন্য আমরা তিন সদস্য অষ্টমীর সকালের ফ্লাইটে ভায়া দিল্লি টু চন্ডীগড় হয়ে সিমলা যাব বলে রয়ে গেলাম। সপ্তমীর বিকেলে গোছানো পর্ব কমপ্লিট শেষ বারের মতো চেকলিস্ট মেলাচ্ছি। লম্বা টুর অনেক হাইটে উঠব তাই প্রতিটা আইটেমের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ নজরদারি। হঠাৎ একতলা থেকে আমার নাম ধরে আর্তনাদ। ডাক শুনে দুড়দাড় করে একতলায় নেমে আসায় হ্যাজব্যান্ড বললেন— কিং ফিশারের সব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, পুণের এক কল সেন্টার থেকে ফোন এসেছিল এইমাত্র। মানে যাওয়া ক্যানসেল।

তখন স্মার্ট ফোন নেই তাই হার্ড কপি নিয়েই ধস্তাধস্তি চলল। অনেক কষ্টে সেই পুণেওয়ালিকে পাকড়াও করা হল ফোনে। বরের হাত থেকে ছিনিয়ে নিলাম ফোন। নাটকের যবনিকা পতনের মতন হাঁউমাউ করে কেঁদেকেটে বললাম মোওসিজি কো অন্তিমবার দেখনে কে লিয়ে হামলোগোকা চন্ডীগড় যানা বহৎ জরুরি হ্যায়। প্লিজ আপ কুছ কর দিজিয়ে ম্যাম, প্লিজ! বর হতভম্ব মেয়েও তাই। নেক্সট ডায়লগ কী বলব নিজেও জানি না।

যাই হোক মেয়েটি একটু সময় নিয়ে আবেগ ঘন গলায় জানাল আমাদের তিনজনের জন্য অন্য ফ্লাইটের টিকিট বুক করছে সে। কিন্তু দিল্লি টু চন্ডীগড়ের টিকিট কোনও ভাবেই সে পারবে না। অতএব দিল্লি টু চন্ডীগড় আমরা সাঁতার কেটে যাব, না দন্ডি কেটে যাব— সেটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে। উফ্ তাও দিল্লি যাওয়াটা তো কনফার্ম হল।

কলার উঁচু করে বললাম— এবার বাকিটা তোমার টার্ন। উনি শুধু বললেন কী সাংঘাতিক কাণ্ড! এমন পারো কী করে? তাই বলে নিজের মাসি কে! এত বছর সংসার করার পরেও জানলাম না আর কী কী পারো!

যাই হোক চেষ্টা চরিত্র করে কোম্পানির একটি ছেলেকে ধরল। সে বেচারা ফ্যামিলি নিয়ে তখন পুরীর সমুদ্রের হাওয়া খাচ্ছিল। তাও সে এজেন্সি মারফত দিল্লি থেকে সিমলা যাবার গাড়ি বুক করে দিল। মেসেজে ড্রাইভারের ফোন নাম্বার চলে এল। যাক কাল ভোর তিনটেতে উঠে মাভৈ বলে রওনা দেব।

দিল্লিতে নেবে তক্ষুনি গাড়ি স্টার্ট করতে হল। মাঝে লাঞ্চব্রেক নিয়ে প্রায় ১৩ ঘন্টার জার্নির শেষে, হিমাচলের প্রাণকেন্দ্র সিমলায় পৌঁছোলাম। আমাদের নির্ধারিত হোটেলে যখন ঢুকলাম তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা পেরিয়েছে। অতি আধুনিক সুসজ্জিত পরিষেবা দিয়ে আমাদেরকে বিছানার আশ্রয়ে বন্দি করে নিল হোটেল।

(ক্রমশ…)

ডেমো (পর্ব ১)

মাঝরাতে মা-মেয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। —তুমি আবার মাঝরাতে উঠে চান করতে শুরু করলে মা?

—আমার যা খুশি তাই করব, তুই আমায় বাধা দিতে আসিস না।

—কিন্তু তোমার যে ঠান্ডা লেগে আবার নিউমোনিয়া হয়ে যাবে, সেটা কেন বুঝতে পারছ না?

—আমি নিউমোনিয়া হয়ে মরলে তোর কী অসুবিধে? তুই তো স্বাধীন হয়ে যা খুশি করতে পারবি।

শ্বেতা বিরক্ত হয়ে একসময় নিজের বিছানায় ফিরে গেল। ও জানে মাঝরাতে এই স্নানপর্ব প্রমিলার এক অদ্ভুত প্রতিবাদ যা শুরু হয়েছিল শ্বেতার প্রথম কলেজে যাবার দিন থেকেই। প্রমিলা মেয়ের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে ওকে নিষেধ করেছিলেন কলেজে ভর্তি না হতে। ওঁর ইচ্ছা শ্বেতা করেসপন্ডেন্স কোর্সেই বিএ-টা করে নিক। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো নম্বর পেয়ে শ্বেতা কেন ঘরে বসে ডাকযোগে শিক্ষা লাভ করবে? প্রমিলা মনে করেন ভিড়ের মধ্যে ডিটিসি বাসে চেপে রোজ লম্বা জার্নি করে কলেজে যাওয়া-আসা খুবই বিপজ্জনক। যা দিনকাল পড়েছে, যদি বাসের মধ্যে কখনও কিছু ঘটে যায়?

শ্বেতা মাকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিল চোদ্দো বছর আগে একরাতে প্রমিলার জীবনে যে-অন্ধকার নেমে এসেছিল তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না ওর জীবনে। কেন-না আজকালকার মেয়েরা পথেঘাটে চলার সময় অনেক সতর্ক হয়ে গেছে! মাঝরাস্তায় অপরিচিত কেউ লিফ্‌ট দিতে চাইলে মেয়েরা নেয় না। তাছাড়া উইমেনস হেল্পলাইনে ফোন করলে দশ মিনিটের মধ্যে পুলিশের রোমিং স্কোয়াডের গাড়ি চলে আসে ঘটনাস্থলে। কিন্তু প্রমিলা ওর কথায় আশ্বস্ত হননি। এসবের পরেও তো দিল্লির রাস্তায় প্রায় প্রতি রাতেই রেপ হয়ে যাচ্ছে। দুনিয়ায় দিল্লি এখন রেপ সিটি নামেই পরিচিত! পুলিশ ধর্ষণ থামাতে পারছে কোথায়?

—ওগুলো অন্য ধরনের কেস মা, শ্বেতা মাকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিল। রাত দশটার সময় সদ্য গ্রাম বা ছোটো শহর থেকে আসা কোনও মহিলা যদি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে হাবার মতো এদিক ওদিক তাকায় আর কী করে পালামগাঁও কিংবা মদনগির যাবে— একে ওকে জিজ্ঞেস করে, তবে তার কপালে দুঃখ থাকবে না তো কী থাকবে? ওদের কাছে তো স্মার্ট ফোনও থাকে না। প্রমিলা এত সহজে দমে যাবার পাত্রী নন। তিনি দৈনিক পত্রিকাটি খুটিয়ে পড়েন। তাই মেয়ের সঙ্গে লড়ে গেলেন।

—তুই কী বলতে চাস যেসব মেয়েরা স্মার্ট ফোন নিয়ে ঘোরাফেরা করে তারা রেপড হয় না?

হয় বই কি। মাঝরাতে ফাইভ স্টার হোটেলে পার্টি অ্যাটেন্ড করে মদ খেয়ে বেহুঁশ অবস্থায় যে-মেয়েরা ক্যাব ডেকে বাড়ি আসে তাদের বিপদ তো হতেই পারে। কিন্তু আমি তো শুধু কলেজে যাব আসব, সন্ধ্যার মধ্যেই ঘরে ফিরে আসব। আমাকে নিয়ে তোমার এত চিন্তার কোনও মানে হয় না মা। আমি যখন ঠিক করেছি কলেজে পড়ব তো পড়ব।

জেদ করে শ্বেতা অনলাইনে অ্যাডমিশন ফর্ম ভরে, ইন্টারভিউ দিয়ে দক্ষিণ দিল্লির একটি কলেজে সাইকোলোজি অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়ে গেল আর সেই থেকে ক্ষুব্ধ প্রমিলা মাঝরাত্রে উঠে বালতি বালতি জল ঢেলে স্নান করতে শুরু করে দিলেন।

(চলবে)

খাবার গ্রহণে বাচ্চার অনীহা কেন?

আমার শিশু-সন্তান দুষ্টুমি করে, খেলে, হাসে, একটু একটু কথা বলারো চেষেটা করে– কিন্তু খেতে চায় না৷ বুঝতে পারি না খাবার গ্রহণে তার এই অনীহা কেন? জোর করে খাওয়ালে বমি করে দেয় আর নয়তো কান্নাকাটি করে৷ মোবাইল ফোন দেখিয়ে ভুলিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করি কিন্তু ডাক্তার বলেন এটা ঠিক পদ্ধতি নয়৷কারণ ওকে আমি মোবাইল নির্ভর জীবনশৈলিতে অভ্যস্ত করে ফেলছি৷ কী করব যদি বলে দেন৷

বিভিন্ন কারণে শিশুদের খাবার রুচি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। হয়তো আপনি খাবার দেওয়ার রুটিন ঠিক রাখছেন না, অসময়ে খেতে দিচ্ছেন, সে কী খেতে চায় আর কী চায় না তা বিবেচনায় নিচ্ছেন না। এমন যদি হয়, সে কিন্তু খেতে চাইবে না। তাছাড়াও অনেক সময় মায়েরা ভালোবেসে বাচ্চাকে বেশি খাবার খাওয়াতে চান। এটা বাচ্চার কাছে শাস্তি মনে হতে পারে।

বাচ্চাকে কখনও জোর করে খাবার খাওয়াবেন না! এমনটা করলে সেটা বাচ্চাদের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে। মুখ ভর্তি করে খেতে দেবেন না। এতে তার গিলতে সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় শ্বাস কষ্ট দেখা দিতে পারে। যার ফলে সে খাবার গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করতে পারে।

আপানার বাচ্চা কতটুকু খেতে পারবে সে বিষয়ে আপনার থেকে আর কে ভালো জানে? সুতরাং বাচ্চার প্লেটে ততটাই খাবার নিন যতটা বাচ্চা একবারে খেতে পারবে! প্রয়োজনের বেশি খাবার প্লেটে ভরে দিয়ে, বাচ্চাকে পুরো খাবার খাওয়ার জন্য বাধ্য করা মোটেই ভালো ব্যাপার নয়। এমন আচরণের কারণেও তার খাবার আগ্রহ কমে যেতে পারে।

আপনি খাবারের পরিমাণ এক সাথে অনেকটা না দিয়ে, অল্প অল্প খাবার, সময়ের ব্যবধানে খাওয়ানোর চেষ্টা করে দেখুন৷ খাবারে ভ্যারাইটি রাখুন যাতে ওর একঘেয়ে না লাগে৷ রঙিন আর আকর্ষণীয় কাপ প্লেট আর পাত্র ব্যবহার করুন এবং ছোটো বাচ্চাদের খেতে দেওয়ার সময় তাদের প্রিয় খেলনা কাছে রাখুন।বাচ্চাদের চকোলেট, চিপস, সফট ড্রিংকস– এইসব থেকে যত পারবেন দূরে রাখুন। এই সব জিনিস বাচ্চাদের খাবার রুচি নষ্ট করে।

বাচ্চারা গল্প শুনতে খুব ভালোবাসে। মজার মজার গল্প বলে তাকে খাওয়ান। দেখবেন সে বেশ আগ্রহ সহকারেই খাচ্ছে। তবে সেটা প্রতিদিন করতে যাবেন না। একদিন গল্পের ছলে তো আরেক দিন খেলার ছলে খাওয়াতে পারেন। সঠিক সময়ে বাচ্চাকে খেতে দিন। এতে তার খাদ্যাভাস তৈরি হবে। বোঝার চেষ্টা করুন কোন খাবার গ্রহণে বাচ্চা বেশী আগ্রহী। এইসব দিকে খেয়াল রাখলে দেখবেন শিশু খাবার খেতে আগ্রহী হবে এবং আপনাকেও বেশি কষ্ট করতে হবে না।

রান্নাঘরে ব্যবহৃৎ জিনিসপত্র হোক অনন্য এবং আধুনিক

গৃহিনীরা চান একটি পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর। যে রান্নাঘরে থাকবে না অপ্রয়োজনীয় এবং অপছন্দের কোনও জিনিসপত্র। থাকবে এমন কিছু জিনিসপত্র, যা উপযুক্ত এবং আধুনিক। যা এতটাই স্মার্ট দেখতে লাগবে, যা দেখে অতিথিরাও প্রশংসা করবেন। প্রেপওয়্যার, বারওয়্যার কিংবা টেবিলওয়্যার, যাই হোক না-কেন, তা যদি নামীদামি ব্র্যান্ড-এর হয়, তাহলে গৃহকর্তা-র রুচি এবং আভিজাত্যের পরিচয় বহন করবে, এবিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধু নামীদামি ব্র্যান্ড-এর হলেই তো হবে না, হতে হবে আপনার পছন্দের এবং টেকসই। শুধু তাই নয়, হতে হবে ইউনিক ডিজাইন-এর এবং বাজেট-ফ্রেন্ডলি।

আসছে শারদোৎসব। তাই তার আগে রান্নাঘরকে করে তোলা চাই আরও আধুনিক। কারণ, উৎসব মানেই অতিথির আগমন হবেই এবং তাদের মন জয় করে রুচি এবং আভিজাত্যের পরিচয় দেবেন আপনিও। তাই শারদোৎসবের আগেই আরও আধুনিক করে তুলুন আপনার রান্নাঘরকে। গ্যাস-আভেন, কিচেন-চিমনি, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রো-আভেন প্রভৃতি উপকরণ যেমন উপযোগী এবং চমকদার হওয়া চাই, ঠিক তেমনই রান্নার বাসনপত্র, খাবার এবং পানীয় পরিবেশনের সরঞ্জাম প্রভৃতিও হওয়া চাই অত্যাধুনিক।

মনে রাখবেন, আবার ঘুরেফিরে কাচের জিনিসপত্রের ব্যবহার বাড়ছে। কারণ, সবাই এখন নতুনকরে বুঝতে শিখেছেন যে, কাচের জিনিসপত্র ব্যবহার করলে হাইজিন বজায় রাখা যায়। তাছাড়া, কাচের জিনিসপত্র দেখতেও ভালো লাগে। শুধু একটু সাবধানে ব্যবহার করতে পারলেই উদ্দেশ্য সফল।

আপনি যদি রান্না করতে ভালোবাসেন, তাহলে আপনি জানেন যে সবকিছুর প্রস্তুতি রান্নাঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আপনি রান্না শুরু করার আগে আপনার উপাদানগুলি প্রস্তুত করে রাখলে আপনার সময় বাঁচবে এবং আপনার রান্নার অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে। অবশ্য সবকিছু ভালো হবে আপনি যদি সঠিক প্রিপওয়্যার পান তবেই।

বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডগুলি থেকে প্রাপ্ত সেরা কিছু প্রিপওয়্যার সরবরাহ করে থিনকিচেন। প্রায় তিরিশটিরও বেশি ব্র্যান্ডের একটি কিউরেশন রয়েছে যা ডিনারওয়্যার, সার্ভারওয়্যার, বেকওয়্যার এবং প্রিপওয়্যার প্রভৃতি অফার করে। অ্যামেফা, বার্গহফ, জোকু, লন্ডন পটারি, কেম হোম, কিলনার, ডেনবি ইত্যাদি শীর্ষস্থানীয় পুরস্কার বিজয়ী ব্র্যান্ড রয়েছে এর মধ্যে। যেমন, স্যালাড প্রিপ কিচেন সেটের সাহায্যে আপনি খুব সহজেই আপনার শাকসবজি এবং ফলগুলিকে অল্প সময়েই ধুয়ে ফেলতে, কাটতে, ডাইস করতে এবং স্লাইস করতে পারেন। এছাড়া, গার্নিশিং সেটের সাহায্যে, আপনি সহজেই ফল, শাকসবজি দিয়ে সুন্দর ডিজাইন তৈরি করতে পারেন৷ সেইসঙ্গে, প্রিপওয়্যারের প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল একটি ভালো চপিং বোর্ড। একটি প্রশস্ত চপিং বোর্ড বেছে নিন যাতে আপনি এটি ব্যবহার করে সব ধরনের সবজি বা মাংস কাটতে পারেন।

বাড়িতে পিজ্জা তৈরি করা খুবই রোমাঞ্চকর কিন্তু এটিকে ভালো ভাবে এবং সমানভাবে ব্যবচ্ছেদ করা এমন একটি কাজ যা অনেকেই ভয় পায়। স্যান্ডউইচের ক্ষেত্রেও একই কথা। একটি পিজা-কাটার হল একটি অলরাউন্ডার রান্নাঘরের গ্যাজেট যা তীক্ষ্ণ ব্যবচ্ছেদ করতে সাহায্য করে। এ প্রসঙ্গে আরও যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হল—পরিমাপ যন্ত্র। কারণ, সঠিক পরিমাপ ব্যতীত, আপনি আপনার রেসিপির ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলতে পারেন। এছাড়া, আপনার রান্নাঘরে রাখতে হবে এগ-পোচার, পট্যাটো-মাশার প্রভৃতি।

এই উৎসবের মরসুমে গ্রাহকদের রান্না এবং হোস্টিং শিল্পের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে থিনকিচেন লঞ্চ করেছে আধুনিক কিছু কিচেনওয়্যার। ড্রিমফার্ম একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত অস্ট্রেলিয়ান পণ্য ডিজাইন কোম্পানি যার সদর দপ্তর ব্রিসবেনে। তারা বিশ্বের সেরা এবং সবচেয়ে উদ্ভাবনী রান্নাঘর এবং গৃহস্থালির সামগ্রী তৈরির জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ব্র্যান্ডের পণ্যগুলি এখন লাইভ এবং ৭৯৯ টাকা থেকে ২৭৯৯ টাকা পর্যন্ত মূল্য পাওয়া যাচ্ছে।

ফাইনাল টাচ হল একটি কানাডিয়ান ব্র্যান্ড যেটি মসৃণ কাচের পাত্র থেকে শুরু করে বারওয়্যার সবই জোগান দেয়। আপনি যদি একটি ডিনার পার্টি হোস্ট করেন, বাড়িতে একটি আরামদায়ক সন্ধ্যা উপভোগ করতে চান কিংবা প্রিয়জনকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন ফাইনাল টাচ-এর সামগ্রী। ব্র্যান্ডের পণ্যগুলি এখন লাইভ এবং ৯৯৯ টাকা থেকে ৬৭৯৯ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

রোসানা একটি পুরস্কার-বিজয়ী ইউএস-ভিত্তিক টেবিলওয়্যার সামগ্রী। ব্র্যান্ডের পণ্যগুলি এখন লাইভ এবং ১৩৯৯ টাকা থেকে ৯১৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যাচ্ছে। থিনকিচেন-এর সিইও আনন্দ বলদাওয়া এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘রান্না এবং অতিথি আপ্যায়নের অভিজ্ঞতাকে আরও ভালো করতে আমাদের মাধ্যমে বেছে নিন প্রেপওয়্যার, বারওয়্যার এবং ডাইনওয়্যার।’

দেশাত্মবোধকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কঙ্গনার তেজস-এ

গত ৩ বছর ধরে নানা বাধা অতিক্রম করার পর আবশেষে আসছে ‘তেজস’– যেখানে কঙ্গনা রানাওয়াত-কে বায়ুসেনা বাহিনীর অফিসার তেজস গিলের চরিত্রে দেখা যাবে। তিনি আকাশে উড়বেন, দেশের হয়ে লড়াই করতে।  ছবিটি  মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে। প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কঙ্গনা নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, তেজস মুক্তি পাবে ২০২০ সালের অগস্ট মাসে।কিন্তু কোভিড-এর বিপর্যয়ে কার্যত সবই স্তব্ধ হয়ে ছিল৷

খুশির খবর চলতি মাসেই অর্থাৎ অক্টোবরেই মুক্তি পেতে চলেছে কঙ্গনা রানাওয়াত অভিনীত তেজস। গতকাল প্রকাশ্যে এসেছে সিনেমার টিজার। পরিচালক সর্বেশ মেওয়ারা টিজারটি শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। নির্মাতারা আগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে ছবিটি কোনও বায়োপিক নয়।

মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাল এর টিজার।আগাগোড়াই বেশ শিহরণ জাগিয়েছে টিজারটি। টিজারের শুরুতেই কঙ্গনার একটি সংলাপ শোনা যায়। তিনি বলেন, “সব কিছু আলোচনার মাধ্যমে ঘটতে হবে এমন নয়… যুদ্ধক্ষেত্রে এখন  যুদ্ধই হওয়া উচিত… আমার দেশের সহ্যের সীমা পার হয়েছে, এবার আকাশ থেকে অগ্নি বর্ষণই হওয়া উচিত।” এই সংলাপের পরে, কঙ্গনা  শক্তিশালী ভঙ্গিতে প্রবেশ করেন। টিজারটি শেয়ার করে কঙ্গনা লিখেছেন, “আমি দেশের প্রতি ভালোবাসায় উড়তেও প্রস্তুত।”

কঙ্গনা একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তেজস তৈরি হয়েছে দুর্দান্ত এক গল্প নিয়ে, যেখানে তাঁর সুযোগ হয়েছে বিমান বাহিনীর পাইলটের চরিত্রে অভিনয় করার। এমন একটি চলচ্চিত্রের অংশ হতে পেরে তিনি সম্মানিত। এই সিনেমা  সমস্ত সাহসী পুরুষ ও মহিলাদের প্রতি উৎসর্গিত, যারা প্রতিদিন এই ইউনিফর্মে কর্তব্যের জন্য প্রচুর ত্যাগ স্বীকার করে চলেছেন। এই ছবি দেশের সশস্ত্র বাহিনী এবং সত্যিকারের নায়কদের সাহসিকতাকে উদযাপন করে৷কঙ্গনা আরও বলেছেন যে, প্রযোজক রনি স্ক্রুওয়ালা-র সঙ্গে এই জার্নিতে সামিল হতে পেরে তিনি যথেষ্ট উত্তেজিত।

টিজার প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছে ছবি মুক্তির তারিখও। টাইগার শ্রফের গণপথের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে তেজস-এর মুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এক সপ্তাহের জন্য। বিকাশ বহেল পরিচালিত গণপত-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন টাইগার শ্রফ, কৃতি শ্যানন এবং অমিতাভ বচ্চন।

চূড়ান্ত হয়েছে, ২৭ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে এই ছবি।টিজার প্রকাশের পাশাপাশি ট্রেলার প্রকাশের তারিখও ঘোষণা করেছেন অভিনেত্রী। আগামী ৮ অক্টোবর বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে ছবিটির ট্রেলার মুক্তি পাবে। টিজার লঞ্চের আগে কঙ্গনা ছবিটির একটি নতুন পোস্টারও শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া-তে। লিখেছিলেন, ‘যব ভি বাত দেশ কী আয়েগি, উয়ো সারি হদ পার কর যায়েগি!’ দেশাত্মবোধকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই সংলাপেও৷

পোস্টারে এয়ারফোর্স-এর ইউনিফর্মে দেখা মিলেছে কঙ্গনার। সত্যি বলতে কী, এক অনন্য লুকে ধরা দিয়েছেন কঙ্গনা৷একেবারে অন্য কায়দায় ধরা দিয়েছেন Kangana Ranaut। নেটিজেনদের নজর কেড়েছে তাঁর এই লুক।সবমিলিয়ে পুজো কাটলেই ‘তেজস’ এর মুক্তির অপেক্ষায় থাকবেন বাঙালি সিনেপ্রেমীরা।

কঙ্গনা চন্দ্রমুখী ৩-এর জন্য শিরোনামে রয়েছেন। এই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ২৮ সেপ্টেম্বর। বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করছে এই ছবি। যদি রিপোর্ট বিশ্বাস করা হয়, ছবিটি মুক্তির চার দিনে ২৩.৯০ কোটি আয় করেছে। তেজস ছাড়াও কঙ্গনার ছবি ইমার্জেন্সিও মুক্তি পেতে চলেছে এই বছর।

ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার ডায়েট (শেষ পর্ব)

আজকালকার বাচ্চারা ফাস্ট ফুডের প্রতি বেশি ঝোঁক অনুভব করে। পাস্তা, পিৎজা, নুডলস এর প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি। কিন্তু শরীরের জন্য দরকার স্বাস্থ্যকর পুষ্টিবর্ধক খাবার। এতে শিশুর শারীরিক থেকে শুরু করে মানসিক বিকাশ সঠিক ভাবে প্রস্ফুটিত হয়। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। দাঁত, ন্‌খ, হাড়, পেশি, ছুঁলের পুষ্টির জন্য শৈশব থেকেই বাচ্চাদের পুষ্টিকর, সুষম আহার দেওয়া উচিত। এর ফলে বাচ্চাদের শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আসুন দেখে নেওয়া যাক বাড়ন্ত বয়সে কী ধরনের Diet বাচ্চাদের দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

বাড়ন্ত বাচ্চাদের Diet-এ অবশ্যই রাখুন এই পুষ্টিকর খাবারগুলি

দুধ: গ্রোয়িং এজ-এ বাচ্চাদের দুধ খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে যাতে হাড় শক্ত ও মজবুত হয়। এছাড়াও দুধে ভিটামিন এ, বি২ এবং বি১২-ও থাকে, যা শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন। ব্রোকোলি: এতে থাকে ভরপুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। এটা খেলে বাচ্চাদের হাড় মজবুত হবে। ব্রোকোলির স্যুপ করে অথবা অন্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।

বাদাম: প্রতিদিন সকালে উঠে একমুঠো বাদাম বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে সঙ্গে মানসিক বিকাশেও সহায়তা করে। বাদামে নানারকমের খনিজ, ভিটামিন এবং হেলদি ফ্যাট মজুদ থাকে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও বাদাম সাহায্য করে। বাচ্চাদের উচ্চতা বাড়াবার ক্ষেত্রেও বাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেয়ারি প্রোডাক্ট: প্রোটিন ছাড়াও হাড়ের মজবুতি এবং গঠনের জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। দই, ছানা, দুধ, মাখনের মতো ডেয়ারি প্রোডাক্টে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দুধে থাকে হেলদি ফ্যাট, ফসফরাস এবং ম্যাগনেশিয়াম— যা বাচ্চার উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। ১ গেলাস দুধে প্রায় ৮ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে, যা কিনা মাংসপেশির নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম: ফ্যাট এবং প্রোটিনে ভরপুর ডিম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ১টি বড়ো আকারের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড হাড় শক্ত রাখে এবং এর নির্মাণেও সহায়তা করে। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন ডি থাকে যার ফলে হাড়ে ক্যালসিয়াম ঠিকমতো পৌঁছোয়। ডিমেতে কলিন নামে পুষ্টিকর একটি উপাদান থাকে যা মস্তিষ্কের বিকাশে কার্যকরী।

বেরিজ: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ইত্যাদি পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-এ পরিপূর্ণ। এতে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে না এবং স্বাদেও মিষ্টি, তাই বাচ্চারাও এগুলি খেতে পছন্দ করে৷ ওটমিল, দই, দালিয়ার সঙ্গে মিশিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।

রাঙাআলু: চোখের জন্য এটি খুবই উপকারী। এতে ভিটামিন এ, ই, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং আয়রন থাকে।

ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার ডায়েট (পর্ব-২)

যদি বাচ্চার ডায়েটে পুষ্টিকর উপাদানের অভাব হয় তাহলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারে। প্রথমে জানতে হবে আপনার বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ডায়েটে কী কী পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি এবং তার জন্য কোন কোন খাবার বাচ্চার ডায়েটে রাখা জরুরি।

গ্রোয়িং বাচ্চার জন্য জরুরি পুষ্টিকর উপাদান

প্রোটিন: বাচ্চার বিকাশ এবং শারীরিক শক্তির জন্য ডায়েটে প্রোটিন থাকা আবশ্যক। শরীরের কোশ নির্মাণে, খাবারকে এনার্জি-তে বদলাতে, সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি পেতে এবং শরীরের অক্সিজেনের লেভেল সঠিক রাখতে সাহায্য করে প্রোটিন। ভরপুর প্রোটিন পেতে ডাল, সোয়াবিন, ডিম, মাছ, মাংস, চিকেন এবং দুগ্ধজাত সামগ্রী বাচ্চার ডায়েটে রাখা দরকর।

ক্যালসিয়াম: বাচ্চার শরীরের জন্য ক্যালসিয়াম অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। বাচ্চার হাড়, দাঁত মজবুত করতে প্রয়োজন হয় ক্যালসিয়ামের। ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত পিক বোন মাস তৈরি হয়। সুতরাং মজবুত হাড়ের নির্মাণের জন্য সঠিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম সেবন করা একান্ত জরুরি। বাচ্চাকে দুধ, দই, ছানা ইত্যাদির সঙ্গে অন্যান্য ডেয়ারি প্রোডাক্টসও দেওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম মজুদ রয়েছে। সকালের রোদও শরীরে লাগানোর অভ্যাস তৈরি করুন বাচ্চার, যাতে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি না হয়।

ফাইবার: ফাইবার শরীরের পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শরীর ঠিকমতো খাবার থেকে পুষ্টিকর উপাদান সংগ্রহ করতে পারে। বাচ্চার ডায়েটেও ফাইবার রাখা জরুরি যেমন – ব্রোকোলি, আপেল, পেয়ারা, বাদাম, অ্যাভোকাডো, নাশপাতি ইত্যাদি৷

আয়রন: বাচ্চার সঠিক বিকাশের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান। এটি লোহিত রক্ত কণিকা বাড়াতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন পৌঁছোতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। রক্তাল্পতা অনেক রকম অসুখের সূচনা করে। অন্য দিকে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকলে তা শীঘ্র রক্ত তৈরি করতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি একাগ্রতা এবং মনোযোগেও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

এই কারণে বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য আয়রন খুবই জরুরি। সবুজ শাক-সবজি, মাছ, ডিম, মাংস, বিট, আস্ত দানাশস্য, বিনস, বাদাম, ড্রাইফ্লুট্স বাচ্চাদের খাওয়ানো উচিত।

ভিটামিন সি: ভিটামিন সি, সর্দিকাশির সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা যেমন রাখে তেমনি এর আরও অনেক গুণ রয়েছে। ভিটামিন সি রক্তবহনকারী শিরা-উপরিশাগুলিকে মজবুত করে, যে-কোনওরকম ঘা সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। দাঁত এবং হাড়ও শক্ত করতে সহায়তা করে। বাড়ন্ত বাচ্চার গ্রোথ-এর জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজন। যে-কোনও টক ফল, টম্যাটো, স্ট্রবেরি, আম, নাশপাতি, কমলালেবু, ব্রোকোলি, পালংশাক বাচ্চাকে খাওয়ান, শরীর যাতে ভিটামিন সি সংগ্রহ করতে পারে।

ফলেট: অনেকেই হয়তো জানেন না, ফলেট বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য একটি জরুরি উপাদান। বাচ্চাদের শরীরের কোশ মজবুত করতে এটি সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাবে বাচ্চারা রক্তল্পতা অর্থাৎ অ্যানিমিয়ার শিকার হতে পারে। বাচ্চাদের শরীরে ফলেট-এর মাত্রা সঠিক রাখতে দানাশস্য, দালিয়া, পালংশাক, ছোলা, মুসুরি ডাল, স্প্রাউটস ইত্যাদি খাওয়ানো দরকার।

কার্বোহাইড্রেট: বাচ্চাদের সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশের জন্য কার্বোহাইড্রেট একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। পেশি গঠনে এবং পেশির রক্ষণাবেক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা ভাবে কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, যেমন শর্করা, স্টার্চ, ফাইবার ইত্যাদি ফর্মে। কিন্তু বাচ্চাদের ফাইবার এবং স্টার্চ বেশি দিয়ে চিনির পরিমাণ কম রাখা উচিত। আলু, পাস্তা, ব্রেড, ভাত, দানাশস্য(Grains) ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে।

আজ আবার মঞ্চ কাঁপাবে ‘বিনোদিনী অপেরা’

যা কিছু প্রচলিত তাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে চলেছেন আজকের নারীরা। তারা আজ খুলে দিচ্ছেন সব বন্ধ দরজা। নারীশক্তি এখন শুধু একটা শব্দ নয়, এক দৃষ্টান্ত। আর আমরা যদি একটু পিছিয়ে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, সেই ১৮ শতকে তৎকালীন বাংলা মঞ্চের তারকা নটী বিনোদিনীও পরিচিত বিধিনিষেধ ভেঙে বেরোতে চেয়েছিলেন।

কীভাবে সমাজের তথাকথিত ‘দূরতম’ কোণ থেকে এসে নিজের অধ্যাবসায় ও ধৈর্য দিয়ে মানুষের মন জিতে নিয়েছিলেন নটী বিনোদিনী? তারপর কেন চলে গিয়েছিলেন আঁধারে?  আজ যেমন মেয়েরা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, কলাশিল্পের নানা অঙ্গনে সমান পারদর্শী, তেমনই সেই অতদিন আগে বিনোদিনীও সকলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এসেছিলেন একেবারে প্রথম সারিতে। কিন্তু তারপর? নিজেদের লোকেদের থেকে আঘাত পেয়ে, জীবনের সব কিছু বাজি ধরার পরও তিনি সরে গেলেন একা। আসলে, নটি বিনোদিনী হয়ে উঠেছেন চিরন্তন পৌরুষ-এর বিরুদ্ধে এক দীপ্ত প্রতিবাদ।

আজ অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর জি ডি বিড়লা সভাঘরে সন্ধে ৬-টা থেকে অভিনীত হবে ‘বিনোদিনী অপেরা’। এই নাটকের লেখক অবন্তী চক্রবর্তী ও শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। নাট্য-রূপান্তর করেছেন রুদ্ররূপ মুখোপাধ্যায়। নির্দেশনায় অবন্তী চক্রবর্তী। আবহ করেছেন শুভদীপ গুহ। নাটকের আয়োজন করছেন লেডি মঙ্ক ও প্রযোজনা করেছেন আঙ্গীক। বিনোদিনীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। অন্যান্য ভূমিকায় সুজন মুখোপাধ্যায়, পদ্মনাভ দাশগুপ্ত, তথাগত চৌধুরী, ইন্দুদীপা সিনহা, বিশ্বজিত দাস, প্রকাশ ভট্টাচার্য, সর্বাণী ভট্টাচার্য প্রমুখ।

‘বিনোদিনী অপেরা’ একটি সঙ্গীত-ভিত্তিক নাটক। নটী বিনোদিনী দাসীর জীবন ও ঘটনাক্রমকে ঘিরে এই নাটক আবর্তিত হবে বলে জানানো হয়েছে।  বিনোদিনী-র জীবনী আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ, তিনি নারী-সমাজের কাছে এক বিশেষ অনুপ্রেরণা। তাঁর অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং সাহস কীভাবে সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে থিয়েটারের তারকা করে তুলেছিল তাঁকে, তা যেমন প্রেরণামূলক, ঠিক তেমনই মর্মস্পর্শী। বলা বাহুল্য, বিনোদিনী-র মতো সাহসী নারীর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আজকের বিশ্বে নারীরাও আধিপত্যের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করছেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রাজনীতি এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। এই নাটকের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে চলেছে এমন একটি বিষয়, যেখানে লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেকেরই তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। এই থিয়েটার তাই সমসাময়িক সময়ের পিতৃতান্ত্রিক শ্রেণীবিন্যাসকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করে গানের আখ্যান এবং ব্যাখ্যামূলক পরিবেশনার মাধ্যমে।এই নাটকের নির্দেশকও চান, নারীশক্তি এবং সম্ভাবনাকে স্বীকৃত, সম্মানিত এবং উদযাপন করা নিশ্চিত করে একসঙ্গে দাঁড়াতে। তিনিও চান এমন একটি বিশ্ব, যেখানে নারীশক্তি প্রকৃত অর্থে আলোকিত হবে এবং তা শুধু আজ নয়, প্রতিদিন।

‘বিনোদিনী অপেরা’ নাটকের নির্দেশক অবন্তী চক্রবর্তী প্রসঙ্গত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘এটি বিখ্যাত আইকনিক অভিনেতা বিনোদিনী দাসীর জীবনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত। নাটকটিতে গিরিশ ঘোষ, অমৃতলাল বসু, গুরমুক রায়, কুমার বাহাদুর এবং রাঙাবাবুর চরিত্রগুলিকে প্রত্যক্ষ করবেন দর্শকরা। নাটকটি ব্যাখ্যামূলক প্রকৃতির এবং এটি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং আকর্ষণীয় ভাবে সর্বজনীন প্রেক্ষাপটে একজন মহিলা শিল্পীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে নটি বিনোদিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং এখনও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিনেতা এবং ব্যক্তি হিসাবে তাঁর গৌরব এবং ট্র্যাজেডি অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।চরম পুরুষতন্ত্রের সময়ে যখন একজন নারীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবস্থানকে চাপা দেওয়া হয়, তখন একজন ব্যতিক্রমী শিল্পী হিসেবে বিনোদিনীর গল্প এবং যাত্রা যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ।কারণ, বর্তমানে আমরা এমন একটি সংস্কৃতিতে বাস করি, যেখানে আমরা আমাদের ইতিহাসকে উপেক্ষা করি। কিন্তু একটি থিয়েটার তৈরিতে ইতিহাস এবং স্মৃতি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমি অনুভব করেছি যে, বিনোদিনী-র কাহিনি আমাদের ইতিহাস এবং একজন মহিলা শিল্পী বা অভিনেত্রীর ঐতিহাসিক অবস্থান তুলে ধরবে।’

এই নাটকের লাইভ মিউজিক ডিজাইন ও পরিচালনা করেছেন শুভদীপ গুহ এবং গানের সুর করেছেন রাজ্যশ্রী ঘোষ। সেট ডিজাইন-এ আছেন সঞ্চয়ন ঘোষ। সহকারী বরুন পোদ্দার। লাইটিং ডিজাইন-এ আছেন সুদীপ সান্যাল। কস্টিউম ডিজাইন-এ সুচিস্মিতা দাশগুপ্ত। কোরিওগ্রাফি-তে  রক্তিম গোস্বামী। মেক-আপে সঞ্জয় পল। কেশ-বিন্যাসে হেমা মুন্সী। সহকারী নির্দেশক পিয়ালী দত্ত। প্রপস ম্যানেজার আকাশ অধিকারী। প্রোডাকশন এক্সিকিউটিভ প্রকাশ ভট্টাচার্য। বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায়-কে, অনির্বাণ ভট্টাচার্য-কে এবং অনুশ্রী মালহোত্রা-কে।

ধর্মীয় রাজনীতি-ই এখন হাতিয়ার

বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ে শুনানি শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্ট। হিন্দু ধর্মপ্রচারকরা মহারাষ্ট্রের অনেক জায়গায় হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন এবং যারা ধর্মীয় রাজনীতি করছেন, তারা এই অপব্যাখ্যার নেতিবাচক প্রয়োগ করছেন। আর ধর্মের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে যারা মুখ খুলছেন, তাদেরকে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে। ভুলটা ধরিয়ে দিলেও আত্মশুদ্ধির কোনও ইচ্ছেই নেই কারওর। এ বিষয়ে সরকারও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এই বিষাক্ত রাজনীতির মূলে রয়েছে গভীর চক্রান্ত। অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ তৈরি করে ভোট ব্যাংক মজবুত করার এ এক অদ্ভুত কৌশল। জনগণকে ভুল বুঝিয়ে টাকা আদায়ও চলছে কিছু জায়গায়। নিজের ধর্ম নিয়ে হইচই না করলে মুঘল রাজ ফিরে আসবে, এমনও বোঝানো হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মানুষদের।

আসলে বিদ্বেষমূলক ধর্মীয় বক্তব্য এখন আর শুধু চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সভা-সমিতি থেকে শুরু করে অলিগলি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই যে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মধ্যে সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে অশালীন কিছু শব্দ। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হল এই যে, এক কান থেকে আর এক কানে যেতে যেতে একসময় বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে যুক্ত হচ্ছে আরও রং। ফলে মূল বক্তব্য আরও বদলে গিয়ে এক বিকৃত রূপ নিচ্ছে। আর সেই বিকৃত বাক্যগুলোই প্রয়োগ করা হচ্ছে সর্বত্র। সমস্ত অশালীন শব্দ পারিবারিক কলহেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

সাধারণ ঝগড়ার মধ্যেও অনেক সময় স্বামী তার স্ত্রী-র দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন অশালীন শব্দ। সুযোগ পেলেই যে যখন খুশি টেনে নিয়ে আসছে ধর্মকে। এর ফলে ভিন্ন ধর্মের কাউকে ভালোবেসে বিয়ে করতে গেলে অনেক সময় তাদের মৃত্যুদণ্ডও দিচ্ছে সমাজ কিংবা তার পরিবারের লোকেরা।

অনেক সময় ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স-এর মূলেও থাকছে ধর্ম। স্ত্রীর ধর্মীয় আচার ব্যবহারে স্বামী সন্তুষ্ট। না হলেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয়ে যায় ঝগড়া বিবাদ। এই ভাবেই প্রত্যেকের মনের মধ্যে অসন্তোষ ঢুকিয়ে দিয়ে ফায়দা তুলছেন ধর্মান্ধরা। স্বামী-স্ত্রী, ভাই-ভাই, ভাই-বোন, মা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা বাবা-ছেলের মধ্যে বিবাদও চলছে আসলে ওই মানসিক অসন্তোষের কারণে। আর এই বিবাদ এক সময় পরিবার থেকে গড়িয়ে চলে যায় সমাজে এবং বৃহত্তর ক্ষেত্রে।

আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে, নিজের ধর্ম নিয়ে যদি এতই অহংকার, তাহলে সেই ধর্মের ইতিহাস কিংবা মহাকাব্যে এত ঝগড়া কিংবা হিংসা-বিদ্বেষের হদিশ পাওয়া যায় কেন? সিংহাসনের জন্য কেন বনবাসে যেতে হয়, সতীত্ব প্রমাণ করতে কেন অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়, একই ধর্মের মধ্যেই বা কেন উঁচুনীচু জাতিভেদ রয়েছে?

আসলে বিবাদ করে অসভ্য লোকেরা। প্রকৃত ধর্ম তো মনুষত্ব। তাই বলা যায়, ধর্মের নামে চলছে ভণ্ড ধার্মিকদের মিথ্যাচার। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার পিছনে রয়েছে গভীর চক্রান্ত। ধর্মের অপপ্রয়োগ যারা করে চলেছেন, তারা আসলে ঘৃণ্য অপরাধী, তারা ক্ষমার অযোগ্য। আর যারা ধর্মীয় গ্রন্থের অর্থকে অপপ্রয়োগ করে স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছেন, তারাও নিন্দার পাত্র।

সভা সমিতি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, সর্বত্র যেভাবে ধর্মীয় রাজনীতির প্রচার করা হচ্ছে– তা বেশ উদ্বেগজনক। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল এই যে, এই ধর্মীয় আবেগ আজ যেন লাগামছাড়া। তাই প্রশ্ন জাগে,ধর্ম নিয়ে এই রাজনীতি আদৌ বন্ধ হবে কি?

ইমিউনিটি বাড়াতে বাচ্চার Diet (পর্ব-১)

প্রীতি আর শর্মিলা দু’জনেই তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে বিকেলে পার্কে আসে, বাচ্চারা যাতে খেলাধুলো করতে পারে। প্রীতির ছেলে আকাশ যতক্ষণ পার্কে থাকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলোয় মেতে থাকে। সব খেলায় আকাশের অংশগ্রহণ করা চা-ই চাই। কিন্তু শর্মিলা বুঝতে পারে না ওর ছেলে রনি ১৫-২০ মিনিট খেলে এসেই কেন হাঁপিয়ে পড়ে, এসে মায়ের পাশে বসে থাকে। হাজার বলেও আর ওকে খেলতে পাঠাতে পারে না শর্মিলা।

একদিন প্রীতি জিজ্ঞেস করাতে শর্মিলা উদাস হয়ে বলল, ‘সত্যি আমার ছেলেটা এরকম কেন বলতো। তোর ছেলে কত অ্যাক্টিভ, স্ট্রং— এত দৌড়াদৌড়ি করেও হাঁপায় না আর আমার ছেলেটার কোনও কিছুতেই মন নেই। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে আর গ্রোথও বয়স হিসেবে ঠিকমতো হচ্ছে না। বয়সে রনি, আকাশের থেকে ১ বছরের বড়ো-ও।’

প্রীতি, শর্মিলার কথায় সায় দিল, ‘হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। আকাশ অসম্ভব অ্যাক্টিভ, চুপচাপ কখনও বসে থাকে না। পড়াশোনা থেকে শুরু করে খেলাধুলোতে, ও তুখোড়। তবে এর একটা কারণ এ-ও হতে পারে যে, আকাশ যখন ছোটো ছিল তখন থেকেই আমি ওর Diet সম্পর্কে খুবই খেয়াল রাখতাম এবং এখনও আমি ওর ডায়েটে সবসময় পুষ্টিকর খাবারই দিই।’

“কিন্তু রনি খাবার নিয়ে ভীষণ ঝামেলা করে। ওর নিজের পছন্দের কিছু খাবার ছাড়া আর অন্য কিছু খেতে চায় না। অথচ জাংক ফুড যত ইচ্ছে দাও, কিছুতে না নেই। বাধ্য হয়ে ওর পেট ভরানোর জন্য রোজ চাউমিন, পিৎজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্লাই— এই সবই করে দিই’, শর্মিলা বলে।

“কিন্তু শর্মিলা, তুই তো ওর ক্ষতি করছিস। এতে তো ওর শরীরে পুষ্টিকর কিছু যাচ্ছেই না। এখন থেকে যদি শরীরে পুষ্টির অভাব থেকে যায় তাহলে ভবিষ্যতে ওর শারীরিক, মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হবে। অল্প বয়স থকেই নানারকম অসুখে ভুগবে। বাচ্চা যেটা খেতে চাইবে, সেটাই যে দিতে হবে এটা তোকে কে বলেছে? রনিকে এমন Diet দেবার চেষ্টা কর, যেটা ওর শরীরে পুষ্টি জোগাবে।’ প্রীতি বান্ধবীকে বোঝায়।

“ও যদি খেতে না চায়?’

“তাহলে খাওয়ানোর পদ্ধতি বদলা। ধরে নে, ও ডাল খেতে পছন্দ করে না কিন্তু ডালে প্রাটিন আছে। সেক্ষেত্রে ডাল পিষে ধোসা, চিলা বানিয়ে দিতে পারিস। ওর মধ্যে নানারকম টাটকা সবজি যেমন গাজর, ক্যাপসিকাম, বিনস, টম্যাটো, শাক কুচি কুচি করে কেটে ব্যাটারের সঙ্গে মিশিয়ে সুস্বাদু উত্তাপম বানিয়ে খাওয়াতে পারিস। সেটা পুষ্টিকরও হবে। দুধ যদি খেতে না চায় ছানা তৈরি করে খাওয়া বা ছানার তরকারি করে খাওয়া। দুধের মধ্যে চকোলেট, হরলিকস মিশিয়েও খাওয়াতে পারিস। টাটকা শাকসবজি সুস্বাদু ভাবে রান্না করে খাওয়া। এমন ভাবে পরিবেশন কর যাতে দেখতেও আকর্ষণীয় লাগে। পরোটার মধ্যে, সবজির পুর ভরেও খাওয়াতে পারিস।”

অনেক বাচ্চাই খাওয়া নিয়ে খুব ঝামেলা করে। কিন্তু মায়ের দায়িত্ব হল, বাচ্চাকে হেলদি খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করা। শৈশব থেকেই বাচ্চার শরীরের খেয়াল রাখা একান্ত জরুরি। এতে ভবিষ্যতে বাচ্চার শরীরস্বাস্থ্য এবং ইমিউনিটি সিস্টেম মজবুত হবে। যে-কোনও সংক্রমণ অথবা অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার শক্তি পাবে শিশু। গ্রোয়িং এজ-এ বাচ্চার দরকার সঠিক এবং ভরপুর পুষ্টি, যাতে প্রোটিন, ভিটামিন-এর মতো পুষ্টিকর তত্ত্ব মজুদ থাকে।

যদি বাচ্চার ডায়েটে এগুলির অভাব হয় তাহলে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা মাথা চাড়া দিতে পারে। প্রথমে জানতে হবে আপনার বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য ডায়েটে কী কী পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি এবং তার জন্য কোন কোন খাবার বাচ্চার ডায়েটে রাখা উচিত।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব