ভৌতিক কার্যকলাপে ঠাসা ‘এখানে অন্ধকার’

ভূতের গল্পকে ঘিরে বাঙালিদের উত্তেজনার শেষ নেই৷ বাংলা সাহিত্যে তাই হেমেন্দ্রকুমার রায় তাঁর ভৌতিক গল্পের সম্ভার নিয়ে আজও বেস্ট সেলর৷বাংলা সিনেমায় ভূত নিয়ে গোটা কয়েক ছবি হয়েছে বটে কিন্তু এখনও  super natural elements বা para normal বিষয় নিয়ে ছবি হচ্ছে শুনলে, মানুষ নড়েচড়ে বসে৷

টলিউডে গোয়েন্দাদের নিয়ে ছবি বানানোর হিড়িক পড়েছে৷দর্শকেরা  ভূতের ছবি দেখতে বেশ পছন্দ করেন। তাই এর পাশাপাশি ভূতের ছবির ট্রেন্ড শুরু হলে মন্দ হয় না৷ ভূত শব্দটা শুনলেই মনে একটা শিহরণ জাগে।বহুদিন পর টলিউডে ফের ভূতের ছবি হতে চলেছে।জানা গেছে, এই ছবিতে ভালো রকম ভৌতিক কার্যকলাপ রয়েছে।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন এই ছবির পরিচালকের আসনে। এবার তাঁর পরিচালনায় জুটি বেঁধেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং পায়েল। ইতিমধ্যেই এই ভৌতিক বিষয়ের ছবির শুটিং শেষ হয়েছে। পরমব্রতর পরিচালনায় ঋত্বিক এবং পায়েলের এই আসন্ন ছবিটির নাম ‘এখানে অন্ধকার’।

ছবির শুটিং হয়েছে লন্ডনে। এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে অবশ্যই মনে পড়বে যে, লন্ডনের ভেজা ভেজা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া ভূতের গল্পের পটভূমি হওয়ার জন্য আদর্শ৷আর সেই জন্যই এই লোকেশনকে বেছে নিয়েছেন পরিচালক৷

কী গল্প বলবে এই ছবি? জানা গিয়েছে ‘এখানে অন্ধকার’ ছবিটি আসলে দুই বন্ধুর গল্প। লন্ডনে তারা মুখোমুখি হবে অনেক পুরোনো স্মৃতি নিয়ে৷ তারপর কী হয় সেটা নিয়েই এই ছবি। আদতে এটি একটি সাইকোলজিক্যাল হরর স্টোরি।

কিছুদিন আগেই পরমব্রত ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁদের দুজনের হাসিমুখ ধরা দিয়েছে সেই ছবিতে। এটি পোস্ট করে পরমব্রত লেখেন, ‘একটা দারুণ অভিজ্ঞতা আজ শেষ হল। সম্প্রতি আমি এবং ঋত্বিক একটি বিশেষ বিষয় নিয়ে কাজ করা শেষ করলাম। আমি ওকে ধন্যবাদ জানাই এত ভালো একজন অভিনেতা এবং সহকর্মী হওয়ার জন্য। ওকে পরিচালনা করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য। আগামী বছর যখন এটা মুক্তি পাবে তখন এই পোস্টটাকে মনে করবেন।’  পরমব্রতর পোস্ট থেকেই স্পষ্ট যে, ছবিটি আগামী বছর মুক্তি পেতে চলেছে। অর্থাৎ ২০২৪ -এ আসছে ‘এখানে অন্ধকার’।

তবে কেবল ‘এখানে অন্ধকার’ নয়, লন্ডনে এর আগে ‘হাওয়া বদল ২’ ছবির শুটিংও শেষ করেছেন পরমব্রত।উল্লেখ্য, ‘হাওয়া বদল ২’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে দেখা যাবে রাইমা সেন, রুদ্রনীল ঘোষ, অনুষা বিশ্বনাথনকে।

কালো রাস্তার মানুষ (পর্ব-১)

তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে ফুলমণি আকাশের দিকে চোখ রেখে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকে। এই দিকটাতে আলো নেই, চারদিকের অন্ধকার মেঘের জন্যে আরও গুমোট, তাঁবুর ভিতরেও হ্যারিকেন জ্বালিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পাশে মেয়েদের তাঁবুটাতেও রান্না চেপেছে, কারওর মোবাইলে গান বাজছে। ছেলেদের তাঁবুতে এই সময় এক-দু’জন বাদে কেউ থাকে না, ওরা রান্না করে না, মেয়েদের তাঁবুতেই রান্না করা হয় — সবাই তো বউ-বর বা মা-ছেলে।

মেয়েদের একটা তাঁবু, আর ছেলেদের আলাদা একটা। শুধু ফুলমণিরাই আলাদা থাকে। তাঁবুটা ওদের টাকাতেই তৈরি করা। ফুলমণি দেখে একটু দূরের চায়ের দোকানটা এখনও খোলা আছে। বেশ কয়েকবার ওই দোকানে পাউরুটি কিনতে গেছে। ঘরের মানুষটার মতিগতি সব সময় ভালো থাকে না। মাঝে মাঝে ফুলমণির মনে হয় সকাল আর রাতে দু’জন আলাদা লোকের সাথে ঘর করে! পেটে জল পড়লেই হয়ে গেল, কতদিন ভাতের হাঁড়ি উলটে দিয়েছে, তখনই দোকানে খাবার কিনতে যেতে হয়।

চায়ের দোকানটাতে গিয়ে অনেকবার কথাও বলেছে। দেখে খুব মায়া হয়! লোকটার বয়স হয়েছে, ছেলে মেয়ে কেউ দ্যাখে না। বউটাও অসুস্থ। দোকানের পিছনেই একটা ছোটো জায়গায় ওরা দু’জন থাকে। বউটা ওখানেই শুয়ে থাকে। ফুলমণি একবার দোকানের লোকটাকে, ‘কী হয়েছে?’ জিজ্ঞেস করেছিল।

লোকটা কেমন ভাবে বলে উঠেছিল, ‘আর কী হয়েছে! বেঁচে আছে এই…’

বউটা চোখ ঘুরিয়ে ফুলমণিকে দেখেছিল। তারপর থেকে ফুলমণি দোকানে গেলেই বউটাকে দেখে। বুঝতে পারে ভালো ঘরের মেয়ে, রোগে ভুগলেও গায়ের রং এখনও বেশ চকচকে। কয়েকদিন আগে দোকানিটা অন্য আরেকজন খদ্দেরকে বলছিল, “আর ক’দিন থাকতে দেবে কে জানে? শুনলাম সেন গুমটির কাছে সব দোকান ভেঙে দিয়েছে, আমাদের এদিকটাও ভাঙবে।” ফুলমণি কথাগুলো শুনে নিজের থেকেই জিজ্ঞেস করে, ‘তোমাদের দোকান ভেঙে দেবে, কেন?’

লোকটা ফুলমণির মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়, ‘এই যে তোমরা রাস্তা তৈরি করছ।’

মনটা খারাপ হয়ে যায়, কথাগুলো কাউকে বলতে পারে না! হারুকে বললেই এক্ষুনি খেঁকিয়ে উঠবে। সে নিজে এই কয়েক বছরে অনেক জায়গায় রাস্তা তৈরি করতে গেছে। দেখেওছে কীভাবে রাস্তা তৈরি করবার আগে কত জায়গার দু’দিকের ঘরবাড়ি দোকানঘর ভেঙে দেয়। এখানেও প্রথম দিকে কয়েকটা দোকানঘর ভেঙেছিল।

ফুলমণির এসব দেখে কষ্ট হয়, একবার ঝড়ে ওদের নিজেদের গোয়ালঘর ভেঙে গেছিল। দু’টো গরু সারাটা রাত ভিজেছিল। এদিকেও রাস্তা একদিকে তৈরি হয়, আরেক দিকে গাড়ি চলে। রাস্তা হয়ে গেলে এখন আবার পাথর বসায়, একটা কী যেন নাম আছে। ফুলমণিদের অবশ্য তখন ডাকে না।

একটু আগেই ও পুকুরে স্নান করে এসেছে। পুকুরটা একটু দূরে, তাও সন্ধেবেলাতেও সবাই মিলে স্নান করতে গেলে খুব একটা অসুবিধা হয় না। প্রতিদিন দু’বার করে স্নান করবার জন্যে প্রথম দিকে ঠান্ডা লাগত। এখন সবকিছু কেমন যেন সয়ে গেছে।

—কি রে ফুলু, আজ কী করবি, আটা খাবি, নাকি ভাত চাপাবি?

—আটা খেতে লারি, গলা দিয়ে নামতেই খুঁজে না, গেল হপ্তাতে কয়েকদিন আটা খেয়িছিলম, হাগা আর বাগাতে লারি, ক’টা ভাতই ভালো, তুমি কী করছ?

—আমার তো একার কথাতে কিছু হবেক নাই, সবাই রুটি সেঁকছে। ভাত কালকের লগে, পান্তা করবেক।

কথাগুলো বলে লোকটি এগিয়ে গেলেও পিছন থেকে ফুলমণি ডাকে, ‘ও, খুড়ো, বড়োবাবুর কী খবর, এখনও টাকা দিলেক নাই।’ খুড়ো একটা শ্বাস ছাড়ে। হাওয়ার শব্দ ফুলমণির কান দিয়ে মাথার ভেতরে পৌঁছে যায়।

—সেই তো, গেল হপ্তা থেকে পাঁয়তারা কষছে। হারু কই?

—সাঁঝের ব্যালা কুথাকে থাকে?

খুড়ো আর কথা না বলে একপা একপা করে নিজের তাঁবুর দিকে যায়। খুড়োর বয়স হয়েছে, এখন একটু বেশি কাজ করলেই হাঁপায়। কয়েকদিন আগেও মাটি কুপাত, মাথায় করে গরম পিচ মেশাত, পাথর ফেলত। এখন শুধু রোলার গাড়িটার সামনে ভিজে বস্তা ধরে আর বাকি টুকটাক কিছু কাজ করে।

ফুলমণি খুড়োর সাথে কথা শেষ করেই নিজের তাঁবুতে ঢোকে। মেয়েটা ঘুমোচ্ছে। এইবেলা ভাতটা করে নিলে অনেকটাই ফের কাটে। ফুলমণিরা আগে একটা তাঁবুতেই থাকত, তখন এই ব্যাটাছেলে মেয়েছেলে ছিল না। মরদগুলো সারাটা দিন জানোয়ারের মতো খাটত। কাজ শেষ হলে কয়েকজন পিচ গলানোর কাজ করলেও বাকিরা চলে যেত। রাত বাড়লে টলতে টলতে তাঁবুতে ফিরত। যারা পিচ গলাত তারাও যে গিলত না সেটা নয়, তাও ওদের সব কিছু বাঁচিয়ে করতে হতো।

এই দলে কম বয়সি মেয়েছেলেগুলোও মদ মারে। না হলে ওদের শরীর কেমন যেন ম্যাদামারা হয়ে যায়, তারা কেউ বাইরে যায় না। ফুলমণি প্রথম প্রথম অবাক হয়ে দেখত। টানা পাঁচদিন কাজের পর একদিন ছুটি থাকত, সেদিনের জন্যে তারা টাকা না পেলেও সবাই সন্ধেবেলা তাঁবুর ভেতরে বসে যেত, সামনের কোনও দোকানে ঝাল ঝাল করে চপ বা অন্যকিছু ভাজাত তারপর…

ফুলমণির লোকটার অবশ্য এইসব পোষাত না। দোকানে না গেলে তার নেশা জমত না। ফুলমণিরও খুব সাধ হতো, ছুটির বেলায় সবার সাথে বসে একটু মজা করবে। কিন্তু সেই সময় পেটে শত্রু চলে আসত। এটাই ফুলমণির সব থেকে অসুবিধার। শত্রু আসত, কয়েকটা মাস পেটেই বড়ো হতো, তারপর পেটের ভেতরেই মরে যেত। ফুলমণির সেই সময় খুব রক্তপাত হতো। কয়েকদিন তাঁবুর ভেতরেই শুয়ে থাকতে হতো। কাজ করতে পারত না। এটাই ঝামেলার, শত্রু এলে আর ভালো কাজ হয় না।

ক্রমশ…

 

 

শিশুর সঙ্গে কথা বলুন ওকে কথা বলা শেখাতে

সন্তান জন্মের পর থেকেই তার নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে মায়ের সঙ্গে৷ তারপর শিশু এক এক করে পরিবারের বাকি সদস্যদের চিনতে শুরু করে৷নবজাতকরা শুরু থেকেই মায়ের সঙ্গে কথা বলার বা মনের ভাব বোঝানোর চেষ্টা করে৷ওই সময় মায়েরাও প্রকৃতিগতভাবে, instinct থেকেই বুঝে ফেলেন শিশু কী চাইছে৷ যত বেশি শিশুর সঙ্গে কথা বলা হবে, সে তত বেশি করে interactive হয়ে উঠবে৷

এরপর একটা স্টেজ আসে যখন শিশুর মুখ থেকে মা-বাবা কথা শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন৷ সেটার জন্য অধৈর্য হলে কিন্তু চলবে না৷ মনে রাখতে হবে, শিশুর মুখে বুলি ফোটার প্রক্রিয়াটি শিশুর অন্যান্য শারীরিক বিকাশের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। মুখে ভাষা ফোটা শিশুর সামগ্রিক বিকাশের দিকেও ইঙ্গিত করে।

কবে এবং কী ভাবে শিশু কথা বলতে শুরু করে?

শিশু জন্মানোর পর থেকেই ধীরে ধীরে কথা বলার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। শিশুরা যে শব্দ করে থাকে, সে সবই একটু বেশি বয়সে তাদের কথা বলতে সাহায্য করে।ধীর গতিতে বাচ্চার মুখে বুলি ফোটে। তাই শিশুসুলভ ভাষা, যোগাযোগ পদ্ধতি সম্পর্কে অভিভাবকদের জ্ঞান থাকা উচিত। একেকটা বাচ্চার একেক রকম৷ একেকজনের ডেভেলপমেন্ট টাইমিং একেক রকম।

যখনই সময় পাবেন প্রচুর কথা বলুন বাচ্চার সাথে৷বাচ্চা কিছু বলার চেষ্টা করলে বা গলা দিয়ে অন্যরকম আওয়াজ করলে, আপনিও তার মতো করে আওয়াজ করে কিছু বলার চেষ্টা করুন। এতে বাচ্চা মায়ের সাথে আরও কথা বলার চেষ্টা করতে থাকে এবং অনেক শব্দ বুঝতে শেখে।অপনিও তার সাথে সহজ কিছু শব্দ ব্যবহার করে কথা বলুন।সহজ শব্দের উচ্চারণ ওরা রপ্ত করে তাড়াতাড়ি৷

এছাড়া গান করুন, ছড়া শোনান, ছবি দেখান৷শিশুর সাথে কোয়ালিটি time spend করুন৷ বাচ্চারা রিদিম পছন্দ করে৷ গান শুনতে, ছন্দ মেলানো ছড়া শুনতে বা রঙিন ছবি দেখতে খুব ভালোবাসে। টিভি বা কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে, নিজের গলায় বাচ্চাকে গান গেয়ে শোনান। ছড়া বলতে বলতে নানারকম অঙ্গভঙ্গি করুন। এতে বাচ্চা মজা পেয়ে আপনার দিকেই তাকিয়ে থাকবে এবং ছড়ার শব্দগুলো বোঝার চেষ্টা করবে।

৫ থেকে ২৫ শতাংশ  শিশুর ক্ষেত্রে যোগাযোগের ভাষা ব্যবহারে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ছেলে শিশুদের তুলনায় মেয়ে শিশুরা দ্রুত কথা বলতে শেখে।কখনও বাচ্চাকে কথা বলার জন্য চাপ দেবেন না বা ভুল উচ্চারণ করতে থাকলে তাকে বকবেন না। এতে বাচ্চার মনে ভীতি তৈরি হয় এবং বাচ্চা কিছু বলতে চায় না। আবার, বাচ্চা ভুল উচ্চারণ করলে সেটা প্রশ্রয়ও দেবেন না। আধো–আধো বুলিতে ভুল উচ্চারণ খুব ভালো লাগলেও, বড়ো হওয়ার পর কিন্তু একেবারেই ভালো লাগে না।

শিশুর সামনে বারবার পরিষ্কার উচ্চারণে কথা বলুন। কিন্তু যদি কোনো শিশু ১৮ থেকে ২০ মাস পার হওয়ার পরও দিনে ১০টির কম শব্দ বলে বা ২১ থেকে ৩০ মাস পার হওয়ার পর দিনে ৫০টিরও কম শব্দ ব্যবহার করে– তাহলে তাদের ‘লেট টকিং চিলড্রেন’ হিসাবে গণ্য করা হয়।কোনও স্পিচ থেরাপিস্ট-কে কনসাল্ট করুন৷ এই সমস্যাও সলভ হয়ে যাবে৷

ওভারিয়ান রিজার্ভ

কোনও মহিলার গর্ভাধানের জন্য প্রাপ্ত ডিম্বানুর (oocytes) পরিমাণ ও গুণমানকে তার ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এটি একজন মহিলার প্রজনন ক্ষমতা ও সুস্থ গর্ভাবস্থার সম্ভাবনার পূর্বাভাস রূপে কাজ করে। বংশগত এবং  আরও অনেক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে মহিলাদের ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ পৃথক ধরণের হতে পারে।

ডিম্বাশয়ের বয়ঃবৃদ্ধি হল একটি জৈবিক অবস্থা, যা মহিলাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপর প্রভাব ফেলে এবং ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। ডিম্বাশয়ে ডিম্বানুর পরিমাণ ও গুণমান এই বয়ঃবৃদ্ধিজনিত প্রক্রিয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়। কোনও নারীর ডিম্বাশয়ে জন্মের সময় উৎপাদিত সমস্ত ডিম্বানু থাকে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিমাণ ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ‘নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি’-র ফার্টিলিটি কনসালট্যান্ট ডা. অনিন্দিতা সিং।

Online health article
Dr Anindita Singh

‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’-এর ঘাটতির কারণ এবং কীভাবে এটি নির্ণয় করা যায়

‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ হ্রাসে বয়স একটি বড়ো ভূমিকা পালন করে, তবে জেনেটিক্স, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি-সহ (যেমন কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি) অন্যান্য বিষয়ও ডিম্বাশয়ের কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করতে পারে। ফার্টিলিটি বা ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ সম্পর্কে জানতে চান এমন মহিলাদের কোনও পেশাদার চিকিৎসক বা প্রজনন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে, যিনি প্রতিটি রোগীর বিশেষ অবস্থার ভিত্তিতে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারেন।

ডিম্বাশয়ের মাত্রা পরীক্ষা করার সাধারণ পদ্ধতিগুলির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-মুলারিয়ান হরমোন (Anti-Müllerian Hormone) টেস্ট। ডিম্বাশয়ের ফলিকলগুলি এএমএইচ নামে পরিচিত হরমোন উৎপাদন করে। রক্তে এএমএইচ-এর পরিমাণ দ্বারা এখনও কতগুলি ডিম্বানু পাওয়া যেতে পারে তা অনুমান করতে ব্যবহার করা যায়। ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ হ্রাস নির্ণয় করা যেতে পারে এএমএইচ লেভেলের স্বল্পতা থেকে। অন্য একটি পদ্ধতি হল অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট (Antral Follicle Count)। এই আল্ট্রাসাউন্ড-ভিত্তিক পরীক্ষায়, ডিম্বাশয়ে ক্ষুদ্র, বিকাশশীল ফলিকলের সংখ্যা – তরল-ভরা থলিকা যেখানে অপরিণত ডিম্বাণু থাকে – তা গণনা করা হয়। স্বল্পমাত্রার এএফসি ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’-এর স্বল্পতা চিহ্নিত করতে পারে।

এটি প্রতিরোধ করা যায় কীভাবে ? 

মহিলাদের বয়ঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায় এবং এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু জীবনযাত্রার ধরণ ডিম্বাণুর গুণমান উন্নত করতে পারে ও সাধারণভাবে ‘রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ’-কে বাড়িয়ে তুলতে পারে। এইজন্য খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া উচিত, আরও বেশিমাত্রায় শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা উচিত এবং কিছু ‘লাইফস্টাইল হ্যাবিট’ বদলে ফেলা উচিত, যেমন ধূমপান এড়িয়ে চলা ও অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা।

এই অবস্থায় আইভিএফ কি একটি সফল বিকল্প পদ্ধতি ?

‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ (আইভিএফ) অপসৃয়মান ‘ওভারিয়ান রিজার্ভ’ সমস্যাযুক্ত মহিলাদের জন্য একটি সফল বিকল্প হতে পারে। তবে সাফল্যের হার নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মহিলার বয়স, তার ডিম্বাণুর গুণমান ও তার ‘রিপ্রোডাক্টিভ সিস্টেম’-এর সামগ্রিক সুস্থতার উপর।

তমসা পেরিয়ে (শেষ পর্ব)

তোমার বাবা আমাকে সমস্ত কিছু বলেছেন। তোমাকে পুরো ব্যাপারটা খুলে না বললে তুমি বিন্দুবিসর্গ কিচ্ছু বুঝতে পারবে না। সেদিন তোমার বাবা অফিসের কোনও কাজে ভেলোরে যাচ্ছিলেন। সেই ট্রেনে আমি আর আমার বাবা-ও ছিলাম। বাবার হার্টের প্রবলেম অনেকদিনের। সে-বার বাড়াবাড়ি হওয়াতে ভেলোরে নিয়ে যাচ্ছিলাম। ডাক্তার দেখাতে। দু-রাত ট্রেনে থাকতে হবে। বাবা ভীষণ বাকপটু মানুষ ছিলেন। মনের মতো মানুষ পেলে আর ছাড়তেই চাইতেন না। আমাদের উলটো দিকের বার্থেই ছিল তোমার বাবার সিট। কাজেই বাবা বেশ ভাব জমিয়ে নিয়েছিল ওনার সঙ্গে। সব ঠিক ছিল, বিপত্তি ঘটল সেই রাতেই। বাবার হঠাৎ করে বুকে ব্যথা শুরু হল। চোখের সামনে মানুষটা ছটফট করছে অথচ কিছু করতে পারছি না। অবস্থা দেখে উনি এগিয়ে এসেছিলেন। প্রাথমিক ভাবে বাবাকে জল-টল খাইয়েও যখন কিছু হল না, তখন উনি চেন টেনে ট্রেন দাঁড় করালেন। ট্রেন দাঁড়াল কাঁসাদি নামক স্টেশনে। নেমেই সেখানকার লোকের সহায়তায় বাবাকে ওখানকারই একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হল। কন্ডিশন একেবারে ভালো নয়। হার্ট বিট ফ্লাকচুয়েট করছে। প্রেসার মাত্রাতিরিক্ত। কিছুতেই কন্ট্রোলে আনা গেল না।

সকলে মন দিয়ে কাকলির কথা শুনছেন, আর তিনি একনিশ্বাসে বলে চলেছেন। ‘আইসিইউয়ের বাইরে বসে পাগলের মতো কাঁদছি। কী করব বাবা ছাড়া এ-পৃথিবীতে আমার আর কেউ নেই। ঠিক সেই সময় ডাক্তার এসে বলেন ‘পেশেন্ট-এর কন্ডিশন খুব খারাপ। আর বোধহয়…’। ছুটে গেলাম বাবার কাছে। গিয়ে দেখি বাবার দু-চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে যাচ্ছে, তোমার বাবার হাত দুটো ধরে আমার বাবা বলছেন, “আমি ছাড়া ওর যে আর কেউ নেই বাবা। একা পেয়ে ওকে যে চিল-শকুনে ছিঁড়ে খাবে। আমার মানুষ চিনতে ভুল হয় না হয় না বাবা, তুমি ওর দায়িত্ব নাও…।’

কিছু বলতে যাচ্ছিল তোমার বাবা। কিন্তু উনি বলার আগেই বাবা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, ওনার হাত দুটো আরও শক্ত করে ধরে হাঁফাতে হাঁফাতে বলেন, ‘বলো বাবা তুমি ওর দায়িত্ব নেবে। তাহলে আমি মরেও শান্তি পাব।’

তোমার বাবা কথা দিতে বাধ্য হন। তার কিছু পরেই বাবার মৃত্যু হয়। সেখানেই বাবার দাহ সংস্কার করে বাড়ি ফিরে যাই। তোমার বাবাও ফিরে যান তোমার মা-র কাছে। ততদিনে মাসখানেক গড়িয়ে গেছে। তোমার মা-র বাড়িতেও গিয়েছিল তোমার বাবা। বাড়িতে তখন তোমার মামি ছিলেন। একপ্রকার গলাধাক্কা দিয়ে বার করে দেন তোমার বাবাকে। সঙ্গে এ-ও জানান নির্ধারিত দিনেই অন্য একজনের সঙ্গে তোমার মা-র বিয়ে হয়ে গেছে।’

‘কী লাভ হল বউদির এই সমস্ত করে। শুধুমাত্র সম্পত্তির জন্য।’ দীর্ঘশ্বাস ফেলেন কাকলিদেবী। তখনও কাকলি তার মতো করেই বলে চলেছেন ‘তারপর উনি আমার কাছে ফিরে আসেন। আমরা বিজনেসে মন দিই। যা আজ কাকলি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে পরিচিত। কোম্পানির এই ‘কাকলি’ নামটা অবশ্য আমার নামের জন্য নয়, তোমার মায়ের কথা মনে রেখেই দিয়েছেন তোমার বাবা। তারপর তো তুমি সব জানোই। এখন তুমি বলো তোমার বাবার দোষটা কোথায়? আর আমার-ই বা কী দোষ?’ বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন ম্যাডাম। ঋতমের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘তুমি চাইলে আমি সমস্ত কিছু ছেড়ে…

কাকলির দিকে এগিয়ে এসে প্রণাম করে ঋতম।

তিনিও ঋতমকে জড়িয়ে ধরেন। আর বলেন, ‘চলো নিজের জরুরি জিনিসপত্র নাও। চলো, এভাবে এখানে আর থাকতে হবে না।’

‘কোথায় যাব?’

‘বাড়িতে আবার কোথায়?”

“কিন্তু কোন অধিকারে?’

‘ছেলের অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে যাবে।’

‘আর মা?’

‘তোমাকে তো খুব বুদ্ধিমান ভেবেছিলাম। এত বোকা তা তো জানতাম না। তুমি যেমন তোমার ছেলের অধিকারে যাবে তোমার মাও তেমনি ওনার স্ত্রী-র অধিকারে যাবেন। আর তুমি যদি চাও তোমার ছোটো মা-কে তোমার সঙ্গে রাখব… তাহলে।’

কাকলির হাতটা চেপে ধরে মাথা নিচু করে ঋতম। ‘আমরা সবাই একসাথে খুব ভালো থাকব বলো ছোটো মা?’

কাকলিদেবীও হেসে তাকে কাছে টেনে নিয়ে বলেন, ‘এতদিন এই দস্যুটার দায়িত্ব আমার ছিল, এখন থেকে তোমার সব দায়িত্ব ছোটোমার। আমি আর ক’দিনই বা বাঁচব। ডাক্তার তো বলেই দিয়েছেন একেবারে লাস্ট স্টেজ। যাক আমি একটু শান্তি পেলাম।’

কাকলিদেবীকে বাঁচানোর প্রচুর চেষ্টা করেছিলেন নীহারেন্দুবাবু। বিদেশে পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু কিছু করা সম্ভব হয়নি। মাস চারেকের মাথাতেই সব শেষ। মৃত্যুর সময় শুধু ঋতমের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে গিয়েছিলেন, ‘তার ছোটোমা-র যেন কোনওদিন অনাদর না হয়।’ সত্যিই সে-মার কথা রেখেছে।  (সমাপ্ত)

কুর্তিতে ফ্যাশনেবল

শুধু টিনএজার-রাই নন, কুর্তির কল্লোলিত ফ্যাশনে আজকাল গা ভাসিয়েছেন নানা বয়সের নারী। সুন্দর সুন্দর ডিজাইনে উজ্জ্বল, এমন কমফর্টেবল পোশাক তাই ফ্যাশন দুনিয়ায় এখন দারুণ জনপ্রিয়। ক্যাজুয়াল স্মার্ট লুকের জন্য কিংবা চটজলদি তৈরি হয়ে বেরোনোর জন্য, কুর্তির মতো এমন বিকল্প আর নেই। জিন্‌স, স্ট্রেট প্যান্টস কিংবা লেগিংস, যে-কোনও লোয়ারের সঙ্গেই মানানসই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর জনপ্রিয়তার বহর দেখে, ডিজাইনার-রা কুর্তিতেও নানারকম ভ্যারাইটি আনছেন। স্টাইল, কালার্স, ডিজাইন পৃথক হওয়ার ফলে সাজেও আসে বৈচিত্র্য। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে নানা টেক্সচারের নানা মেটিরিয়ালের কুর্তি এখন বাজারে সুলভ দামে পাওয়া যায়।

কটন কুর্তি

আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে কটন কুর্তির কদরই আলাদা। সুতির উপর চিকনের কাজ দেখতে খুব স্নিগ্ধ লাগে। মিহি সুতোর এমব্রয়ডারি নকশা তোলা কুর্তিও এখন দারুণ জনপ্রিয়। কিছু কিছু কুর্তিতে লেসের কাজও করা থাকে। কলেজ ফেস্ট, অফিস পার্টি কিংবা বছরের নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে পরার জন্য, জরদৌসি বা জরির কাজ করা সুতির কুর্তি– অনেকেই শখ করে কিনছেন আজকাল।গলায় ও নীচের বর্ডার হিসাবে প্যাচওয়ার্ক করা কুর্তিগুলো, দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ইয়োকে বিডস ওয়ার্ক করা থাকলে, কুর্তিতে একটা ট্র্যাডিশনাল লুক আসে। এগুলি জিনসের উপর পরলে বেশ একটা ফিউশন লুক দেওয়া যায়।

সিল্ক কুর্তি

পার্টিওয়্যার হিসাবে সিল্ক কুর্তির তুলনা নেই। প্রিন্টেড সিল্ক এখন ফ্যাশনের শীর্ষে। সিল্কের কুর্তিতে হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, জারদৌসি, সিকুইন্স, মিরর ওয়ার্ক করা হচ্ছে উজ্জ্বল লুক দেওয়ার জন্য। এর ফলে কুর্তিগুলি খুব ঝলমলে দেখতেও লাগছে। শর্ট, মিডিয়াম, বা লং, যে-লেংথ- এই পরুন না কেন, পোশাকটি পরলে দারুণ স্মার্ট লাগবে। হারেম প্যান্টস, পাতিয়ালা সালোয়ার, লেগিংস বা যে-কোনও ট্রাউজারের সঙ্গে চট করে গলিয়ে নিতে পারেন এই সব ট্র্যাডিশনাল নকশার সিল্ক কুর্তি। মাটি ছুঁয়ে যাওয়া কুর্তির সঙ্গে লোয়ার পরার ও প্রয়োজন হয় না৷

ডেনিম কুর্তি

শীতে এই ভারী ধরনের কুর্তিই আরামদায়ক হয় । তাই শীত ঋতুতে বেছে নিন ডেনিমের প্লেন, বা কাজ করা কুর্তি। ব্লু ছাড়াও এখন নানা রঙে মেলে এই ধরনের কুর্তি।

ক্রেপ কুর্তি

যে-কোনও ঋতুতেই দারুণ কমফর্টেবল ক্রেপ কুর্তি। এছাড়া কাচা-ধোওয়া সহজ, নেই আয়রনের ঝামেলা, তাই এগুলি কলেজ- কন্যাদের দারুণ পছন্দের পোশাক। ক্রিস্টাল বা বিডস লাগানো এই সব কুর্তি যেমন ক্যাজুয়াল, তেমনই স্মার্ট। দামও নাগালের মধ্যেই।

Dressing in Fashionable Kurti

লেজার কুর্তি

ট্রান্সপ্যারেন্ট মেটিরিয়ালের এই কুর্তি একটু হট লুকের জন্য আদর্শ। হালফিল হিন্দি ছবিতে বহু নায়িকার অঙ্গেই শোভা পাচ্ছে এই ধরনের কুর্তি। আপনিও চাইলে একটু সাহসী হতেই পারেন, না হলে ইনারের সঙ্গে পরুন। মিরর ওয়ার্ক বা কাশ্মিরী স্টিচ-এ সাজানো এই ধরনের কুর্তির জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে৷

খাদি কুর্তি

সিম্পল ও সোবার লুক যাদের পছন্দ, তাদের জন্য আদর্শ খাদির কুর্তি, এগুলি দারুণ টেকসইও হয়। উডেন বিডস বা তুলসী বিডস ‘ও বোতাম লাগানো এই কুর্তি, জিনসের সঙ্গেই মানায় বেশি।সঙ্গে স্লিপ-অন জুতো৷এগুলি আজরখ, কলমকারি বা ইন্ডিগো প্রিন্টেও মেলে৷

কুর্তির নকশাই শুধু নয়, এর নেক কাটিং- এর উপরেও আপনার স্টাইলের অনেকটাই নির্ভর করে। হল্টারনেক উইথ ব্যাকলেস, সুইট হার্ট, রাউন্ড নেক— – যাই পরুন, আপনার ফিগার আর হাইটের ব্যাপারটা শুধু মাথায় রাখবেন। স্লিভলেস, হাফস্লিভ, ফুলস্লিভ বা মেগাস্লিভ, যে-কোনও কুর্তিই পছন্দ অনুযায়ী বাছতে পারেন। প্লেন বটম ছাড়াও বেলুন শেপ, স্ট্রেট বা এ-লাইন কুর্তি এখন বাজারে মেলে। নিউমার্কেট থেকে গড়িয়াহাট, কিংবা নামিদামি মল– যে-কোনও জায়গাতেই পেতে পারেন এই রংবেরঙের কুর্তি।

তমসা পেরিয়ে (পর্ব-০৬)

খানিক পরে কাকলি নিজেই আবার শুরু করেন, ‘এখন ভেঙে পড়ার সময় নয়, বরং ভুল শোধরানোর সময় এসে গেছে। কাকলি ইন্ডাস্ট্রিজ-এর মালিকের একমাত্র ছেলে আশ্রমে পড়ে থাকবে। এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।’

‘আর কাকলি?’

‘কাকলিও আমাদের সাথে থাকবে।’

‘তুমি…’ নীহারেন্দুবাবুর সব শব্দ কে যেন ছিনিয়ে নেয়। আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে থাকেন স্ত্রীর দিকে।

‘এভাবে দেখার তো কিছু নেই নীহারেন্দু। হ্যাঁ হতে পারে তোমাদের বিয়েটা হয়নি কিন্তু তবু অধিকারটা তোমার উপর তার অনেক বেশি। আমি এখন এসব নিয়ে ভাবছি-ই না, আমার শুধু একটাই চিন্তা সমস্ত কিছু জানলে ও আমায় ক্ষমা করবে তো? আমার ছেলেও কি আমায় মেনে নেবে? জানি না কিছুই জানি না। সময়ই সব বলবে।’

সারারাত দু-চোখ এক করতে পারেনি দুজনে। ভোর ভোর উঠে তৈরি হয়ে দুজনে সোজা আশ্রমের পথে রওনা দেন। দুজনের চোখেমুখে উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। গুরুজিকে সমস্ত কিছু জানিয়ে দুজনে সোজা কাকলির কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল। দরজাটা বাইরে থেকে খোলা। দরজার থেকে একটু বাঁক ফিরলেই কাকলির বেড। জানালা দিয়ে হালকা রোদ পড়েছে কাকলির বেড-এ। হাসিমুখে এগিয়ে যান কাকলি। কাকলিদেবী কাকলিকে ঢুকতে দেখে বেশ অবাকই হন!

‘এত সকালে?’

‘আজকে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।’ কাকলিদেবী কিছু বলার আগেই কাকলি দরজার দিকে তাকিয়ে একটু জোর করে চেঁচিয়ে বলে ওঠে, ‘নীহারেন্দু ভিতরে এসো।’

এক পা এক পা করে ঘরের ভিতরে এসে দাঁড়াতেই সব কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেল কাকলিদেবীর। বিস্ময়ে আনন্দে দু-চোখ জলে ভরে গেছে। কত কী যে বলার আছে, কিন্তু মুখ দিয়ে একটি কথাও সরছে না। বিছানা থেকে শরীরটাকে কোনওমতে তুলে নীহারের দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে শাড়ির আঁচলে পা-টা জড়িয়ে একেবারে পড়ার মতো অবস্থা। ছুটে এসে সামলে নেন নীহারেন্দুবাবু। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে একে অপরের দিকে। চোখের তারা একেবারে স্থির। এইভাবেই কেটে যায় মিনিট পাঁচেক, নিজের উপস্থিতি বোঝাতে কাকলি একবার কেশে ওঠেন। চমকে ওঠেন নীহারেন্দুবাবু। তিনি বোধহয় এক মুহূর্তের জন্য ভুলেই গিয়েছিলেন তাঁর বিবাহিতা স্ত্রীও সেখানেই উপস্থিত রয়েছে। কাকলীদেবীকে বিছানায় বসিয়ে দেন তিনি। ঠিক সেই সময়েই ঘরে ঢোকে ঋতম। মা-র কেবিনে ম্যাডামকে দেখে অবাক হয়ে যায় সে।

বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করে বসে, ‘আপনি এখানে?’

ম্যাডামকে প্রশ্ন করার আগেই মা-র পাশে বসে থাকা ভদ্রলোকের দিকেও চোখ গিয়েছিল ঋতমের। ঠিক তখনই কাকলীদেবী ছেলেকে কাছে ডেকে বলেন, “ইনি তোমার বাবা। প্রণাম করো।’

কথাটা শোনামাত্রই ছিটকে কয়েক কদম পিছিয়ে যায় ঋতম। বেশ কর্কশ ভাবেই বলে ওঠে, কী করতে এসেছেন এখানে? এতদিন পরে দেখতে এসেছেন আমরা বেঁচে আছি কি মরে গেছি? যখন ওনার প্রয়োজন ছিল তখন উনি কোথায় ছিলেন? আমার মা-কে আমি-ই দেখতে পারব, কারওর প্রয়োজন নেই। প্লিজ চলে যান।’

ঋতমের কথা শেষ হওয়ার আগেই কাকলি ম্যাডাম জবাব দেন, ‘তোমার বাবার কোনও দোষ ছিল না ঋতম।’

‘প্লিজ ম্যাডাম এটা আমার ফ্যামিলির ব্যাপার। আপনি এর মধ্যে ঢুকবেন না।’

“আমিও তো তোমার ফ্যামিলির মধ্যেই পড়ি। আমি যে তোমার বাবার বিয়ে করা স্ত্রী।’

কথাটা কানে যাওয়া মাত্রই চমকে ওঠে ঋতম। সঙ্গে কাকলিদেবীও। অবলীলায় ঋতম বলেও ফেলে, ‘সেই কারণেই ইন্টারভিউয়ের সময় আপনি…’

“ঠিক তাই। তোমাকে দেখা মাত্রই মাথাটা ঘুরে গিয়েছিল আমার। শুধুমাত্র একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খানিকটা সময় নিয়েছিলাম ব্যস এই যা। আমার জানার ছিল তোমার বাবা যখন তোমার মা-কে ছেড়ে চলে যান তখন কি তিনি জানতেন তোমার মা প্রেগন্যান্ট ছিলেন। আমার ধারণাই ঠিক। আমি মানুষটাকে ঠিকই চিনেছি। জানলে উনি কখনওই তোমার মা-কে ছেড়ে যেতেন না। শুধুমাত্র সময়ের ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন।’

“তার মানে মা-র সম্পর্কে আপনি সমস্ত কিছুই জানতেন?”

(ক্রমশ…)

চুল খুব ফ্রিজি এবং ড্রাই, কী করব?

শুষ্ক চুল যত্নে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য যদি সঠিক যত্ন না নেওয়া হয়।  শুষ্ক বা ফ্রিজি চুলের জন্য প্রয়োজন এক্সট্রা কেয়ার। শুধু শুষ্ক চুলই নয়, অন্যান্য ধরনের চুলের যত্নেও শুধু বাহ্যিক পরিচর্যাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভেতর থেকে পুষ্টি যা চুলের গভীর থেকে চুলকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি চুলকে বাইরে থেকেও করবে মোলায়েম, শাইনি ও গ্লোয়িং। বর্তমানে যেখানে দূষণের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে সেখানে চুলের পুষ্টি বজায় রাখা খুবই কঠিন কাজ। চুলের জন্য নিয়মিত পুষ্টি, খনিজ, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার রাখুন। বাড়িতে তৈরি কন্ডিশনার, আপনার চুলকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগাবে এবং বাইরে থেকে চুলকে করে তুলবে সিল্কি ও শাইনি। বাজারের কেমিক্যালসমৃদ্ধ কন্ডিশনার চুলকে সাময়িকভাবে সিল্কি ও সুন্দর করে ঠিকই কিন্তু এতে থাকা কেমিক্যাল চুলের ক্ষতিও করে থাকে সমানভাবে। তাই বাজারের কন্ডিশনারের বদলে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক কন্ডিশনার। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি পার্থক্যটা নিজেই লক্ষ্য করতে পারবেন।

ফ্রিজি বা ড্রাই চুল হবার কিছু কারণ

১. চুলে সরাসরি তাপ প্রয়োগ করলে

২. সূর্যের প্রখর তাপে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি করলে

৩. বারবার চুল ধুলে

৪. পার্মিং করালে

৫. হাইলাইট এবং কালার করানোর জন্য

৬. অতিরিক্ত চুল ব্রাশ করা অথবা যথেষ্ট ব্রাশ না করা

৭. এক্সটেনশান এবং উইভস ব্যবহার

ফ্রিজি ও ড্রাই চুলের জন্য বাড়িতে তৈরি কন্ডিশনার 

ভিনিগার-এগ কন্ডিশনার 

উপকরণ – ডিম, অলিভ অয়েল, মধু, ভিনিগার, লেবুর রস 

প্রথমে ২-৩ টি ডিম ভেঙে নিন। এবার এতে ৪ চামচ ভিনিগার মেশান, ২ চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল এবং ২/৩ টেবিল চামচ মধু। এবার সবগুলো উপকরণ ব্লেন্ডার এ ব্লেন্ড করে নিন। এই মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এবার এটি ১০-১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। ১০-১৫ মিনিট পর ঠান্ডা ও পরিষ্কার জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ডিম একটি ভালো কন্ডিশনার যা চুলকে চকচকে করে তোলে, অলিভ অয়েল আপনার চুলকে করে শক্তিশালী এবং মধু আপনার চুলকে হালকা রেখে চুলের ময়েশ্চারাইজার বজায় রাখে। ভিনিগার চুলের ক্ষতি সারাতে সাহায্য করে।

বানানা কন্ডিশনার

উপকরণ – কলা, ডিম, দুধ, মধু, অলিভ অয়েল

১টি কলা, ১টি ডিম, ৩ টেবিল-চামচ মধু, ৩ টেবিল চামচ দুধ এবং ৫ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল একটি পাত্রে ভালো করে মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মিশ্রণটি খুব ভালো ভাবে অ্যাপ্লাই করুন এবং চুলে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপর পরিষ্কার জল দিয়ে মাস্ক-টি ধুয়ে ফেলুন। কলা একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনার যেটি ড্যামেজড চুলের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। আপনার ড্রাই ও ফ্রিজি চুলকে সিল্কি ও উজ্জ্বল করে তুলতে এই হেয়ার প্যাকটি অতুলনীয়।

ইয়োগার্ট কন্ডিশনার

উপকরণ- ডিম ও টক দই

একটি পাত্রে ১টি ডিম ভেঙে নিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এবার এতে ৫-৬ টেবিল চামচ টক দই যোগ করুন। এবারে মিশ্রণটি ভালো করে চুলে লাগিয়ে মাসাজ করুন এবং আপনার চুল একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখুন প্রায় ৩০ মিনিট। তারপর কভার খুলে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভালো করে ধুয়ে নিন। টক দইয়ে থাকে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন যা ড্যামেজ চুলে প্রোটিন যুগিয়ে চুল পড়া রোধ করে এবং চুলকে করে মজবুত ও সিল্কি।

 

আমার মেয়ে ত্বকে ব্লিচ এবং মেক-আপ ব্যবহার করতে আগ্রহী

আমার মেয়ে এখন ১৭ বছরের। রোদে গেলেই ওর ত্বক লাল হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে ত্বকের কিছু কিছু অংশ ফুলে ওঠে। এর কী কারণ হতে পারে? এছাড়াও কোনও অনুষ্ঠানে যাবার আগে আমার মেয়ে ত্বকে ব্লিচ এবং মেক-আপ ব্যবহার করতে চায় আমার দেখাদেখি, কিন্তু ওর ত্বকে কি এখনই ব্লিচ বা মেক-আপ ব্যবহার করা উচিত হবে?

রোদে গাল, কান লাল হয়ে ওঠাটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু যদি আপনার মেয়ের ত্বক লাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালাও অনুভূত হয় এবং ফোলাটাও থাকে তাহলে বুঝতে হবে রোদ থেকে আপনার মেয়ের অ্যালার্জি হচ্ছে। সুতরাং বাইরে যাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে ওর সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগিয়ে নেওয়া উচিত এবং ছাতা ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ম্যাট ধরনের সানস্ক্রিন ও শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। ত্বক সবসময় ঠাণ্ডা আর পরিষ্কার রাখতে হবে। অ্যালোভেরা জেল, টি ট্রি অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে মেয়ের মুখে লাগান। এতে খুব তাড়াতাড়ি মুখের ত্বক ঠাণ্ডা হবে। গরমের দিনে মুখের অতিরিক্ত তেল তুলে ফেলতে অনেকে Astringent ব্যবহার করেন। দিনের পর দিন এই রাসায়নিক ব্যবহার ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সুতরাং ব্যবহার করুন ঘরোয়া কিছু উপাদান যা মুখের লালচে ভাব, ত্বকের জ্বালা ইত্যাদি কমিয়ে ত্বককে ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও রোদে বেরোলে শরীর ঢাকা পোশাক পরাই সঠিক হবে। সমস্যা যদি মনে হয় খুব বেশি হচ্ছে তাহলে অবশ্যই স্কিন স্পেশালিস্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মসৃণ এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে ত্বকের রঙের তারতম্য ঘটলে ব্লিচ ব্যবহার করাই সবথেকে ভালো বিকল্প। কিন্তু ব্লিচে কেমিক্যালস দেওয়া থাকে যেটি কিনা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং মেক-আপও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। আপনার মেয়ের বয়স যেহেতু কম, তাই ওর ত্বক এখন কোমল এবং সংবেদনশীল। সুতরাং এইসময় ব্লিচ অথবা মেক-আপ ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত নয়, এতে ওর ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

 

তমসা পেরিয়ে (পর্ব-০৫)

ঋতমের মায়ের কথা শুনে স্বগতোক্তি করলেন কাকলি। ইস্…স্…স্… সব আমার জন্য। মনে মনে ভাবতে থাকলেন কী অসম্ভব মনের জোর মহিলার। একজন মা তার বাচ্চার কথা ভেবে কী না করতে পারে! শরীরের সাথে নিরন্তর লড়ে যাওয়ার পরেও শুধুমাত্র ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে সব সইছেন।

“কিছু বললেন?”

“না না। আপনি বলুন। তারপর?’

‘তারপর আর কী! খাওয়ার সংস্থান-ই নেই তো বাড়ি ভাড়া কী দেব? বাড়ি ছেড়ে দিতে হল। থাকব কোথায়? খাব কী? আমার ঋতমের কী হবে, ছুটলাম দীনদয়ালবাবুর বাড়িতে। ওনার স্ত্রী মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলেন। কী করব, দিক্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে বড়ো রাস্তায় এসে পড়তেই একটা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে গেল। ব্যস আর কিছু জানি না।

জ্ঞান ফিরতে দেখলাম হাসপাতালের বেড-এ শুয়ে আছি। মাথার সামনে জনাচারেক লোক দাঁড়িয়ে রয়েছে গেরুয়া বস্ত্র পরে। বাচ্চাটার কথা মনে পড়তেই তাড়াহুড়ো করে উঠে বসতে যাচ্ছি তখন তারাই জানাল ও ঠিক আছে। ব্যস তখন থেকেই ওনাদের এই আশ্রমে। গুরুজি আমার ছেলেকে খুব ভালোবাসেন। উনি-ই বরাবর বলে এসেছেন, যিনি জীবন দিয়েছেন, তিনিই আহার জোগাবেন। আশ্রমে মহিলাদের সঙ্গে আমিও হস্তশিল্পের কাজ করি। ভালোই ছিলাম, অসুখটা না হলে।”

কাকলির হাতটা তখনও শক্ত করে চেপে ধরে রয়েছেন। কাকলিদেবী। হয়তো আপনত্ব খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু সবটা জানলে কী এভাবে আঁকড়ে ধরবেন?’ শিউরে ওঠেন কাকলি। উঠে দাঁড়ান।

‘কী হল?”

‘না কিছু না, কাল আমি আবার আসব।’

আশ্রমের লোকেদের সঙ্গে কিছু কথা বলে কাকলি বাড়ি ফিরে গেলেন।

সেদিন স্বামী নীহারেন্দু রায় ফিরলে খাবার টেবিলে, কথাটা বলেই বসলেন কাকলি।

‘তোমার ছেলে একেবারে হুবহু তোমার মতোই হয়েছে।’

‘আমার ছেলে? পাগল-টাগল হলে নাকি। রাত দুপুরে কী ঠাট্টাতামাশা নিয়ে পড়লে বলো তো?”

“আমি একটুও মজা করছি না। আজ ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল। ও যখন রুমে ঢুকল, একবার তো মনে হল তুমিই ঢুকছ। চমকে উঠেছিলাম। অবিকল তোমার মতো।’

‘কী যা তা বলছ? হ্যাভ ইউ গন ম্যাড?’

‘না মশাই আমার মাথা একদম ঠিক আছে। কাকলিকে মনে পড়ে?” এক ঝটকায় মাথা ঘুয়ে যায় নীহারেন্দুবাবুর। স্ত্রীর হাতটা চেপে ধরেন তিনি।

‘কোথায় পেলে তাকে?’ হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় তার। মুহূর্তেই আবার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। “কিন্তু বাচ্চা? কই এ- ব্যাপারে সে তো আমায় কিছু জানায়নি।’

‘ও-ও জানত না। তুমি চলে আসার পরে বুঝতে পেরেছে। তোমার অফিসে পর্যন্ত খোঁজ করেছে… ওর বাবা তো বাচ্চাটাকে এ পৃথিবীতে আসতেই দিতে চাননি। কিন্তু তুমি যদি কোনওদিন ফিরে এসে জানতে চাও… সেই ভেবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে একাহাতে বাচ্চাটাকে মানুষ করেছে। তাকে দেখলে যে চোখ ফেরাতে পারবে না। খুব ডায়নামিক হয়েছে ছেলেটা।’ কোলশূন্য থাকার কষ্ট যেন আজ তার লাঘব হয়েছে।

“তুমি এসব কেমন করে জানলে?’ স্বামীর কথায় সম্বিৎ ফেরে তার।

‘কাকলির সঙ্গে আমি দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওরা এই শহরেই গুরুজির আশ্রমে থাকে। ওর মুখে সমস্তটা শুনে নিজের উপর ভীষণ রাগ হচ্ছে। একটা বাচ্চাকে তার বাবার প্রাপ্য ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছি আমি। তোমার মুখে কাকলির কথা বহুবার শুনেছি। কিন্তু আজ বুঝলাম ওর মতো সহজ সাধাসিধে মনের মেয়েকে ভালো না বেসে থাকাই যায় না।’ চেয়ারে বসে পড়েন নীহারেন্দুবাবু। এতবড়ো একটা ধাক্কা সামলাতে সময় লাগবে সেটাই স্বাভাবিক।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব