করণ জোহরের নতুন ছবিতে এবার কী সলমান খান?

প্রচুর ঢক্কানিনাদ সহকারে ইদে মুক্তি পেয়েছিল সলমান খানের ছবি কিসি কা ভাই কিসি কি জান, কিন্তু বক্স অফিসে প্রায় মুখ থুবড়ে পড়েছে এই ছবি৷ সলমানের সবচেয়ে ফ্লপ ছবি ভারত, রেস ৩ কিংবা টিউবলাইটের থেকেও কম টাকা বাজার থেকে তুলতে পেরেছে এই ছবি৷

অভিনয় কেরিয়ার-এর শুরু থেকেই প্রায় সাফল্য পেয়ে এসেছেন বলিউড অভিনেতা সলমান খান। তবে, অভিনব কাশ্যপের ‘দাবাং’ ছবির মাধ্যমে সলমান খান-এর কেরিয়ার নতুন জীবন পেয়েছিল। বলা যায়, নতুন ভাবে বক্স অফিস সাফল্য পেতে শুরু করেছিল। ছবিটির অসামান্য সাফল্যের পর, সলমান খান-এর অভিনয় জীবন অন্যরকম মোড় নিয়েছে। কারণ, এই ছবিটির মাধ্যমে পুনরায় বক্স-অফিস সাফল্যের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

সলমান খানের অভিনয়ে সমৃদ্ধ,  ১০০ কোটি আয় ছাড়িয়ে যাওয়া ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে–দাবাং,  বডিগার্ড, এক থা টাইগার, দাবাং টু, বজরঙ্গি ভাইজান, সুলতান,  টাইগার জিন্দা হ্যায়,দাবাং-থ্রি প্রভৃতি। কিন্তু সাম্প্রতিক ছবির এই মুখ থুবড়ে পড়ার পর প্রযোজকদের ভাবার সময় এসেছে সলমানকে নিয়ে৷ তবে পাশাপাশি সলমানের থেকে আসতে চলেছে সারপ্রাইজ নিউজ।

অভিনেতা সলমান খান এবং পরিচালক করণ জোহর-এর ভক্তরা শুনলে খুশি হবেন যে, সব ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে আবারও সলমান খান-কে দেখা যাবে করণ জোহর-এর ছবিতে। সলমান খান ও করণ জোহর এর আগে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। অনেক বছর পর আবার করণ এবং সলমান-কে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে, অন্তত এমনই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে বলিউডে। তবে শুধু গুঞ্জনেই থেমে নেই বিষয়টি, সম্প্রতি এই বিষয়ে  অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এক নিউজ শো-এর সাক্ষাৎকারে সলমান খান-কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজেও ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়েছেন। আসলে বলিউডের এক পরিচালক এই বিষয়ে মধ্যস্ততার কাজ করেছেন বলে জানা গেছে। সলমান এবং করণ জোহরের মধ্যে ইতিমধ্যেই টেলিফোনিক কথাবার্তা হয়ে গেছে। তাই শেষ পর্যন্ত হয়তো করণ-সলমানকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যাবে। সূত্র মারফত যে-টুকু খবর পাওয়া গেছে, তা হল— করণ জোহর এবং সলমান খান জুটির এই ছবিটির শুটিং শুরু হবে এই বছরেই এবং ছবিটি হয়তো আগামী বছর ঈদে মুক্তি পাবে। তবে জানা গেছে করণ জোহর-এর সঙ্গে ছাড়াও, সলমানের আরও একটি নতুন ছবির কাজও হয়তো শুরু হবে এই বছরেই। অবশ্য দুটি ছবির বিষয়ে আর বিশেষ কিছু জানা যায়নি।

কুইবেকে ক’দিন (পর্ব ১)

সানফ্রানসিসকো থেকে ফেরার পরে ভ্রমণকালে পরিচিত হওয়া বন্ধু, রতন সরকার ঢাকা থেকে প্রায়ই ফোন করত বা হোয়াটস অ্যাপ এ ‘চ্যাটিং’ করত। কিছুদিন যাবৎ ওর মাথায় নতুন খেয়াল চেপেছিল কানাডার কুইবেক সিটি যাবার। বেশ কয়েক বার ফোন করে কিছু ‘জানা-অজানা’ তথ্য সংগ্রহ করার পর ওর উৎসাহ আরও বেড়ে গেল।

‘কুইবেক’ নামটার মধ্যেই কেমন যেন একটা যাদু আছে যা আমাকেও টানছিল অনেক দিন থেকেই। আসলে নামটির মধ্যেই কোথায় যেন লুকিয়ে আছে এক অতীত সভ্যতার সুগন্ধ। ইতিহাসের গন্ধ সবসময়ই আমাকে আকর্ষণ করে। তাই ওর প্রস্তাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিলাম। মোটামুটি ভাবে কীভাবে যেতে হয় তা জেনে নিয়েছিলাম ‘গুগুল’ ঘেঁটে। ঠিক সেই সময়ই রতন সরকারের ফোন এল।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঠিক করে ফেললাম, আমি দিল্লি থেকে আর ও ঢাকা থেকে ফ্লাইট নিয়ে প্রায় একই সঙ্গে কুইবেকের ‘জেন লে’সেজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে’ (Jean Lesage International Airport) নামব জুলাই মাসের ১৫ তারিখে। এয়ারপোর্টে পৌঁছে শুনলাম রতন সরকারের ফ্লাইট প্রায় তিন ঘণ্টা ‘লেট’। কী আর করা যায়,ওকে ছেড়ে তো আর যেতে পারি না। লাউঞ্জের এককোণে বসে বিমান কোম্পানির দেওয়া ‘ট্রাভেল-গাইড’ বইটা খুলে পড়তে লাগলাম।

কিছুটা পড়েই জানতে পারলাম— ষষ্ঠ-দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইয়োরোপিয়ান উপনিবেশকারীরা (বিশেষ করে ফরাসিরা) এই অঞ্চলে আসতে শুরু করে। এর পূর্বে এ অঞ্চলে আবেনাকি, এলগোকুইন, ইনু ইত্যাদি আদিম জাতির বসবাস ছিল। আদিবাসী এলগোকুইন ভাষায় কুইবেক বা কুবেক মানে নদী যেখানে ক্ষীণ বা সরু হয়ে গেছে। আসলে উত্তাল পাহাড়ি নদী সেন্ট লরেন্স এখানে এসে যোগীর (Saint) ন্যায় শান্ত-সমাহিত আর খর্বকায় রূপ ধারণ করেছে।

কিছুদূর গিয়ে সেন্ট লরেন্স আর একটি নদী সেইন্ট চার্লস-এর সঙ্গে মিশেছে। উত্তর আমেরিকার মহাদেশপ্রতিম ভূখণ্ড কানাডার, তেরোটি অঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় জনবহুল প্রদেশ হল কুইবেক। এর রাজধানী কুইবেক সিটি আর পাশের অত্যাধুনিক শহর ‘মন্ট্রিয়াল’ ছবির মতো সাজানো-গোছানো। এই সাজানো শহরের প্রান্তে শাড়ির পাড়ের মতো বিস্তৃত বিশাল আর শক্তিশালী সেন্ট লরেন্স নদী। ফরাসি পর্যটক-ঔপনিবেশিক স্যামুয়েল চ্যাপলেইন ১৬০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম এখানে আসেন এবং আদিবাসী এলগোকুইনদের দেওয়া নামেই (কুইবেক) ফরাসি বসতি স্থাপন করেন। এখনও এখানে শতকরা ৯৫ জন ফরাসি ভাষাভাষি (মাতৃভাষা)। অবশ্য এক তৃতীয়াংশ লোক ইংরাজি ও ফরাসি দুই ভাষাতেই কথা বলতে পারেন। স্থানীয় লোকজন খুব সহৃদয় আর বন্ধুভাবাপন্ন। ভাবলাম, কুইবেক ভ্রমণ সত্যিই উপভোগ্য হবে।

একটু পরেই পিঠে আর কাঁধে দুটো ব্যাগ বইতে বইতে হাসিমুখে কাছে এসে দাঁড়াল রতন সরকার, ‘নমস্কার দাদা, আইসা গেলাম, আপনেরে অনেকক্ষণ বসতে হল মনে হয়।’

—না ঠিক আছে, বেকার বসে থাকিনি, অনেক জ্ঞান লাভও করেছি এই সময়ে।

—তাই নাকি কন দেখি আমারেও, ঘাড় আর কাঁধের ব্যাগ নামাবার উদ্যোগ করতেই আমি উঠে পড়ে বললাম, বসলে সময় নষ্ট করা হবে, চলো বেরিয়ে পড়ি, চলতে চলতে বলছি।

কথা বলতে বলতে পাশাপাশি চলতে আরম্ভ করলাম, ‘এয়ারপোর্টটি শহরের মুখ্যদ্বার থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে। কানাডার ব্যস্ততম এয়ারপোর্টের অন্যতম এই কুইবেক বা জেন লে সেজ বিমান বন্দর।

রতন সরকার প্রশ্ন করে, ‘জেন লে-সেজ এয়ারপোর্ট, নামটা কি কোনও মানুষের?’

আমি বলতে লাগলাম, ‘হ্যাঁ, কানাডার কুইবেক প্রদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (কানাডায় প্রদেশের রাজনৈতিক প্রধানকেও প্রধানমন্ত্রী বলে), জেন লে-সেজ এর নামানুসারেই ১৯৯৩ সালে এটির নামকরণ করা হয়েছিল। এর আগে একে কুইবেক এয়ারপোর্টই বলত। এরপর ২০০৮ সালে আবার এর আকার-প্রকার পরিবর্ধনের কাজ শুরু হয়ে যায়। কেননা বছরে ১৪ লক্ষ যাত্রী যাতায়াতের পক্ষে সুযোগ-সুবিধা কম পড়ছিল। চলতে চলতে লক্ষ্য করছিলাম দু’ধারে নতুনত্বের আর আধুনিকরণের ছাপ।

বিকেলে হালকা স্ন্যাক্স

সারাদিন মোটামুটি ভারী খাওয়াদাওয়া করা সত্বেও বিকেলের দিকে আবার ক্ষিদে পেয়ে যাচ্ছে? তাতে অবাক হওয়ার কারণ নেই৷ আমরা যে সময়ে দুপুরের খাবার খাই, তার চেয়ে অনেকটা দেরিতে রাতের খাবার পায় শরীর।নুন, চিনি, তেল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে পারবেন ততই কিন্তু ভালো। বিকেলের স্ন্যাক্স ক্ংবা সন্ধ্যায় মুখরোচক কিছু খেতে সকলেরই ইচ্ছে করে। এতে কাজেও এনার্জি পাওয়া যায়। তাই এই সময়টা প্রবল খিদে পায়, আর সেই ফাঁকেই অনাহুতের মতো ঢুকে পড়ে কেক-পেস্ট্রি, রোল, ন্যুডলস বা মুড়ি-তেলেভাজা। কিন্তু এর কোনওটাই স্বাস্থ্যকর অপশন নয়, তাই হাতের কাছে এমন কিছু রাখুন যা খিদেও মেটাবে, স্বাস্থ্যও ভালো রাখবে।মুখ বদলাতে এগুলি খেতে পারেন৷ তবে  বিকেলে যাই খান না কেন, তাতে যেন অতিরিক্ত নুন না থাকে তা দেখবেন। বাড়তি নুন শরীরে জল ধরে রাখে। তা স্বাস্থ্যের পক্ষেও খুব ভালো নয়৷

স্পাইসি রামদানা

উপকরণ: ২ কাপ রামদানা বা রাজগিরা, ১০-১২টা বাদাম, ১০-১২টা কাজু, ২ ছোটো চামচ কিশমিশ, ১ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/ ছোটো চামচ তরমুজের বীজ, ১/৪ কাপ শুকনো নারকেল গ্রেট করা, ১ কাপ ভাজা বাদাম, ১ ছোটো চামচ সরষে, ১ চিমটে হিং, ১০-১২টা কারিপাতা, ১ ছোটো চামচ রিফাইন্ড তেল, লংকাগুঁড়ো, নুন ও চাটমশলা স্বাদমতো।

প্রণালী: তরমুজের বীজ শুকনো খোলায় ভেজে আলাদা করে রাখুন। তেল গরম করে বাদাম ভেজে নিন। এবার কাজু আর বাদাম একসঙ্গে ভেজে তুলে নিন। প্যানে অবশিষ্ট তেলে সরষে, হিং ও কারিপাতা দিয়ে ফোড়ন দিন। রামদানা দিন ও অল্প হলুদ ছড়িয়ে দ্রুত নাড়াচাড়া করতে থাকুন। সমস্ত বাদাম ও বীজ দিয়ে দিন। কিশমিশ দিন। ঢিমে আঁচে ৫ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। নুন, লংকাগুঁড়ো ও চাট মশলা দিন। মিশ্রণটা ঠান্ডা হতে দিন, তারপর এয়ারটাইট কন্টেনারে ঢেলে রাখুন। এটা চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

কেসরি লাড্ডু

Kesri Laddu recipe

উপকরণ: ২০০ গ্রাম কনডেন্সড মিল্ক, ৩/৪ কাপ মিল্ক পাউডার, ১/৪ কাপ নারকেল পাউডার, ১ ছোটো চামচ কাজুগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১/৪ কাপ দুধ, ১/৪ কাপ দই, ১৫-২০টা কেশরের শিরা, ১/২ ছোটো চামচ গোলাপজল, ২ ছোটো চামচ পেস্তাকুচি।

প্রণালী: ননস্টিক প্যানে দুধ ফুটতে দিন। এতে দই মিশিয়ে নাড়াচাড়া করুন। দুধ ছানা কেটে গেছে বুঝলে এতে কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে দিন। মিল্ক পাউডার, কাজুগুঁড়ো ও নারকেল পাউডার দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ঢিমে আঁচে ঘন হতে দিন, তারপর গোলাপজল ও কেসরের মিশ্রণ ঢেলে দিন। মিশ্রণ শুকনো হয়ে কমে এলে, একটা প্লেটে তুলে নিয়ে চারিয়ে দিন। এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন। একটু ঠান্ডা হলে লাড্ডু গড়ে নিন।

নতুন হিন্দি ক্রাইম থ্রিলার ‘Dahaad’ এর আত্মপ্রকাশ

অ্যামাজন অরিজিনাল সিরিজ এর নতুন ক্রাইম থ্রিলার ‘দহদ’- এর আকর্ষণীয় একটি টিজার প্রাইম ভিডিওতে প্রকাশিত হয়েছে। রিমা কাগতি এবং জোয়া আখতার এই শো-টির পরিকল্পনা করেছেন এবং রুচিকা ওবেরয়ের সাথে এটি সহ-পরিচালনা করেছেন। এক্সেল মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট এবং টাইগার বেবি চলচ্চিত্র ‘দহদ’-এর  নির্বাহী প্রযোজনা দলে রয়েছেন রিতেশ সিধওয়ানি, ফারহান আখতার, রিমা কাগতি এবং জোয়া আখতার। সোনাক্ষী সিনহা, বিজয় ভার্মা, গুলশান দেবাইয়া এবং সোহম শাহ-র অভিনয়ে সমৃদ্ধ এই সিরিজটি,  আগামী ১২ মে থেকে অ্যামাজন -এর প্রাইম মেম্বাররা ওয়েবে এটি স্ট্রিম করতে পারবেন।

সোনাক্ষী সিনহা এই প্রথমবার ডিজিটাল জগতে পা দিয়ে দর্শকদের নিজের চরিত্রটির সঙ্গে পরিচয় করিয়েছেন, যেখানে তিনি একজন কঠোর মহিলা পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।সোনাক্ষীকে এখানে দেখা যাবে একটি জঘন্য হত্যা মামলার সমাধান করতে। সাব-ইন্সপেক্টর  অঞ্জলি ভাটি (সোনাক্ষী) এবং তাঁর সহকর্মীরা, এই আট পর্বের ক্রাইম ড্রামাটির মূল বিষয়বস্তু হিসেবে সিরিজ-টিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ছবির গল্প মূলত সেট করা হয়েছে একটি ছোট শহরের পুলিশ স্টেশনে। গল্পটি শুরু হতে দেখা যায় জনসাধারণের জন্য তৈরি একটি বিশ্রামাগারে যেখানে আকস্মিকভাবে আবিষ্কৃত হয় মহিলাদের পচাগলা মৃতদেহ। সাব-ইন্সপেক্টর অঞ্জলি ভাটিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। খুনগুলি প্রথমে সুস্পষ্ট আত্মহত্যা বলে মনে হয়, তবে মামলাগুলি তদন্ত হওয়া সাথে সাথে অঞ্জলি উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেন। তাঁর মনে হয় যে, কোনও সিরিয়াল কিলারের কাজ এটি এবং ধরা না পড়ায় সে জনসাধারণের সঙ্গে মিশে গিয়ে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও একজন নিরপরাধ মহিলার যাতে জীবন অকালে না ঝরে পড়ে তার আগেই অঞ্জলি লেগে পড়েন প্রমাণ সংগ্রহের কাজে। সিরিজটি জুড়ে দেখা যায় একজন দক্ষ অপরাধী এবং একজন আন্ডারডগ পুলিশকে,  বিড়াল এবং ইঁদুরের রোমহর্ষক  খেলায় লিপ্ত হতে।

এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানির মতে, এই ক্রাইম থ্রিলারের মূল আকর্ষণ হল দহদ-এর আকর্ষণীয় প্লট এবং অসাধারণ অভিনয়।  গল্পের প্লট তৈরির জন্য রিমা এবং জোয়ার কাছ থেকে যে দৃষ্টিভঙ্গি, ধৈর্য এবং সংহতি আশা করা হয়েছিল তাঁরা উভয়ই সফল ভাবে তা দর্শকদের দিতে পেরেছেন। মেড ইন হেভেন, মির্জাপুর এবং ইনসাইড এজ-এর সাফল্যের পরে, তাঁরা নিশ্চিতরূপে প্রাইম ভিডিওর সাথে আরও একটি সফল অংশীদারিত্বের মাধ্যমে  বিশ্বজুড়ে দর্শকদের আরও একটি আনন্দদায়ক যাত্রায় নিজেদের নিমজ্জিত করার সুযোগ করে দিয়েছে।

সিরিজের নির্মাতা, পরিচালক ও সহ-প্রযোজক রিমা কাগতি বলেন, ‘Dahaad’-এর অভিজ্ঞতায়  সত্যিই তাঁর হৃদয় পরিপূর্ণ। সোনাক্ষী, বিজয়, গুলশান এবং সোহম দক্ষতার সাথে এই সিরিজটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন, যা তাদের সকলের জন্য অত্যন্ত অর্থবহ । বার্লিন-এ আন্তর্জাতিক ফিলম ফেস্টিভ্যালে, বার্লিনালে সিরিজ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ রিসেপশনের পর সারা বিশ্বের দর্শকদের কাছে এই সিরিজটি পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত এবং এই পুরো ব্যাপারটাও যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক।

 

 

রেহিইনের তিতলি (শেষ পর্ব)

রাইনের কাছে যেতেই ফটফটে সকালের আলো মরে গিয়ে এক সবজে জলছোপের মেঘলা আবহ তৈরি করেছে। আকাশে বৃষ্টির ছিটে ফোঁটাও নেই কিন্তু রাইনের জলোচ্ছ্বাস বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে আমাদের। অনেক উচ্ছ্বাস চেপে রেখে একাকী সফর বৃষ্টি বিলাসী হয়ে উঠল। গোটা জীবনকাল ধরে যাজকের মতো আমার সমস্ত কনফেশন শুনেছে বৃষ্টি। রাইন নদীর মুখরতা প্রবল উচ্ছ্বলতা আবারও ভিজিয়ে দিল শ্রাবণে। ডানা ঝাপটানো সবজে জলে, এটাই কি আমার বৃষ্টি ভ্রমণ পরবাসে? ইহকাল পরকাল শরীরী জল্পনা খোলা পর্দার মতো উড়ে গেল। থেকে গেল মানব মানবীর দৃঢ় বন্ধুত্ব যা চিরকালের। যাতে কোনও ফ্যান্টাসির সেমিকোলন নেই।

স্পিড বোটের চরম দুলুনি আর জলের ঝাপটা খেয়ে ভাবুক মনকে ভিজিয়ে নিয়ে দেখলাম আমি ইষ্টিকুটুম পাখিটি হয়ে রাইনের পাথরে বসার চেষ্টা করছি। ডিলানের কথায় চমক ভাঙল, ভাঙা ইংরেজিতে আমায় দাঁড়াতে অনুরোধ করল। আমি তো পোজ মাস্টারনি আছিই! মিঠে হাসি দিয়ে হলুদ প্রজাপতি হয়ে দাঁড়ালাম এবং খিচিক। ডিলানেরও ছবি তুললাম। ডিলান আমার হাত শক্ত করে ধরে আছে বুঝতে পেরেছে যে, হাত ছাড়লে আমি ছিটকে জলেও পড়ে যেতে পারি। ডিলান কিন্তু কনফিডেন্সের সাথে বোটের দুলুনি উপেক্ষা করে ক্যামেরায় ছবি তুলে তাকে ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে বন্দি করে আমার হাত ধরে অপলক তাকিয়ে থাকল।

বোট এবার আস্তে করে ফলসের মধ্যিখানে ঢুকে গেল যেখানে বোটের ওপর দিয়ে জল ওভার ফ্লো করছে। অথচ আমরা ভিজলেও বোট জলে ভেসে যাচ্ছে না। হঠাৎ ডিলান বলে উঠল যার মানে এই দাঁড়ায়— ‘তোমায় জড়িয়ে ধরলে আমার কোনও ইচ্ছে জেগে উঠবে কি না আমার জানা নেই, কিন্তু আমি তোমার অবিশ্বাসের কারণ হতে চাই না!” বোটের এই প্রচণ্ড দুলুনিতে এইভাবে শুধু হাত ধরে ব্যালেন্স রাখা প্রায় অসম্ভব। মাঝের হাতখানেক গ্যাপ-কে কমিয়ে ডিলানের কাছে সরতেই বোটটা সহসা ডানদিকে হেলে গেল। সবাই হই হই চিৎকার করলেও ডিলান আমাকে সবলে জড়িয়ে ধরে নিল।

আমি যেন অজানা এক ভালোলাগায় ভেসে গেলাম। পাপপুণ্য নৈতিক অনৈতিক সহাবস্থান সব স্মৃতি থেকে ছিটকে ছিটকে খসে পড়ে গেল রাইনের জলে। ডিলানের পায়ের পাতার ওপর উঠে আমি আমার শরীরের ভার ছেড়ে দিতেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তি যেন শূন্য হয়ে গেল। ডিলান আমার ঠোঁটের ওপর ওর ঠোঁট নামিয়ে এনে নিঃশেষে আমার নির্যাস শুষে নিল। ফিশফিশ করে কানে বলল, “ইউ আর আ ভেরি চার্মিং অ্যান্ড বিউটিফুল ইন্ডিয়ান লেডি উইথ দিস সসারি ড্রেস টিটাস!’ কথাগুলো শুনে একপলকের জন্য আমি পৃথিবীর দশটি দিকে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ছড়িয়ে পড়লাম। সুদূর বাংলাদেশের নদী তিতাস যেন রাইনের জলে মিশে গেল। সম্বিৎ ফিরে পেতেই সজোরে ধাক্কা দিয়ে ডিলানের থেকে আলগা করতে চাইলাম নিজেকে। পারলাম না বোট তখন সবে রিস্ক জোন থেকে বেরোতে শুরু করেছে।

এতক্ষণে চারপাশে তাকিয়ে দেখি যারা কাপল হয়ে এসেছে, তারা এখনও প্রকৃতির সাথে এবং প্রিয়জনের সাথে প্রেমমগ্ন হয়ে আছে। আমার শিফন শাড়ি, ব্লাউজ, চুল ভিজে গিয়ে একটা ঠান্ডা ভাব ঘিরে ধরেছে। বেসামাল আমাকে হাতে ধরে ডিলান দুলুনি বোটের একটা সিটে বসিয়ে কপালের চুল সরিয়ে দিল। তারপর ভিডিওগ্রাফিতে ব্যস্ত হয়ে গেল। কিন্তু ছবিতেই কি সব ধরা পড়ে? অনুভবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে অনেক কিছু। জীবনে প্রথমবার আমার একান্ত দুই দিনের একলা বিদেশ সফর শেষ হল রোদেস্টাইনের হালকা আবছা দুপুরে।

চলে এলাম হ্রদের শহর লুজার্নে। আল্পস পবর্তমালার নেকলেস পিস দিয়ে সাজানো লুজার্ন যেন আরও মনোমহী দৃষ্টিনন্দন। হ্রদের জলে অপূর্ব রাজহাঁসের পাল পুটুস পাটুস ডুব দিয়ে একদম পাড়ে উঠে আসছে। আমরা হ্রদের ওপর দিয়ে অন্যতম পুরোনো কাঠের সেতু, চ্যাপেল ব্রিজের ওপর হাঁটা শুরু করলাম। ডিলান বেশ লম্বা তাই আমি পিছিয়ে পড়ছি বারবার আর ডিলান বলছে, ‘কাম অন কাম অন টিটাস।’ শেষে ডিলান আমার ডান হাতের আঙ্গুলগুলো ওর হাতে জড়িয়ে ভারসাম্য রেখে হাঁটতে শুরু করল। হেঁটে হেঁটেই আমরা শহরের ইতিকথা জানলাম। শহরের মধ্যে ঠিক খেলনার মতো এক রেলগাড়িতে চেপে সিটি টুর শেষ করলাম। একটা আস্তদিন নতুন শহর দেখতে দেখতে হালকা পায়ে দিনের ঢাল গড়িয়ে রাতের ঠিকানায় পৌঁছে গেল।

রাত্রিবাস করলাম আমার একার জন্য বুকিং করা নির্দিষ্ট রুমে। ডিলান ওই হোটেলেই অন্য ফ্লোরে অন্য রুমে। আমি সুভেনির শপ থেকে একটা গ্রিটিংস কার্ড কিনে তাতে ডিলানের তোলা আমার সেই হলুদ শাড়ি পরা ছবি এটাচ করে লিখে দিলাম— ‘লাভ অ্যান্ড সুইট মেমরি ইন রেহিইন ফলস — ফ্রম টিটাস রিভার।’

পরদিন সকালে ডিলান একটা খাম দিয়ে বলল, “প্লিজ ওপেন ইট টিটাস।’ খাম খুলেই চমকে গেলাম, —ওমা ডিলান আমার ওই হলুদ শাড়ি পড়া ছবিটাই হাতে এঁকে দিয়েছে অ্যাক্রিলিক কালারে। অপূর্ব, কী যে সুন্দর! আমি জীবনে প্রথমবার নিজেরই অবয়ব দেখে প্রচণ্ড খুশি, যেন সত্যি প্রজাপতি হয়ে গেছি। আমি হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়ালেও ডিলান সেই হাত ধরে আমাকে জড়িয়ে ইউরোপীয় কায়দায় একটু নীচু হয়ে আমার দু’গালে ঠোঁট ছোঁয়াল।

এক নতুন দেখা দেশে নতুন মানুষের স্পর্শ সারা জীবনের জন্য লেগে থাকল, মনের নিভৃত তাঁবুতে। জানি দেশে ফিরে কাজের চাপে ডিলানের সাথে ফেসবুকেও যোগাযোগ থাকবে কিনা সন্দেহ। তবে না থাকলেও ক্ষতি নেই। জীবনের বয়ে চলা তো এমনই। ডিলানকে আলবিদা জানিয়ে আমি সফরের অভিমুখ ঘোরালাম।

বিয়ের পাঁচ বছর বাদেও সন্তান হয়নি

সমস্ত নারীর জীবনেই মাতৃত্বের স্বাদ আস্বাদন করার মতো সুখের অনুভূতি আর হয় না। সুতরাং আপনার বউমারও মনের অবস্থাটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। বিয়ের পর সকলেই আশা করেন ছোট্ট শিশুর আগমনের যার কান্না হাসির কলরোল সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়বে। তবে বিয়ের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও অনেকেই সন্তানের মুখ দেখেন না। এই নিয়ে তারা হতাশায় ভোগেন।

দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ার এই পর্যায়টাকে আমরা ইনফারটিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বলে থাকি। এর নানা কারণ রয়েছে। পলিসিসটিক ওভারি সন্তান না হওয়ার একটি বড় কারণ। ফলিকুলার সিনড্রোম নামে একটি সিনড্রোম আছে যেখানে মেয়েদের ঋতুচক্র নিয়মিত হলেও সিনড্রোমের কারণে যে ডিমটি বের হওয়ার কথা সেটা বের হয় না। এটির হার ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ। দ্বিতীয় কারণ পিসিও যেখানে সিসট এর সমস্যার জন্য ডিমের উৎপাদন স্বাভাবিক হয় না এবং নারী তার সন্তান ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এছাড়াও ইউটেরাসও একটা বড় কারণ। বাচ্চাদানির দুই পাশে দুটি নল থাকে যেঁটাকে আমরা ফেলোপিয়ান টিউব বলে থাকি। এই টিউব ওভারির কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। ওভারি থেকে ডিম ফেলোপিয়ান টিউবে আসে আর স্পারম গিয়ে ফারটিলাইজেশন হয়। অনেক সময় সংক্রমণের কারণে টিউব বন্ধ হয়ে যায় এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবে মেয়েদের বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে হয়। বন্ধ্যাত্বের আরও অন্যান্য কারণগুলি হল বেশি বয়সে গর্ভধারণের প্রচেষ্টা, অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া, টিউমার, অতিরিক্ত ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া, Depression- এর শিকার হওয়া।

আপনার বউমার সম্পর্কে আপনি যা কিছু জানিয়েছেন তাতে মনে হয় উনি অবসাদে ভুগছেন। এই অবস্থা থেকে ওনাকে আগে বাইরে বার করতে হবে। কারণ অবসাদ বন্ধ্যাত্বের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। সারা বিশ্বে বন্ধ্যাত্বের ৫০ শতাংশ কারণ, অবসাদকেই মনে করা হয়। ডাক্তার দেখিয়ে ওনাকে মানসিক ভাবে চাঙ্গা করে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে আপনাকে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদেরও। এমনও হতে পারে, আপনার বউমার সন্তান না হওয়ার মূল সমস্যা লুকিয়ে আছে ওনার মানসিক অবসাদের মধ্যেই।

 

গরমে ফ্যাশন করুন বিচক্ষণতার সঙ্গে

গ্রীষ্মে ফ্যাশন করা যায় না এটা যারা ভাবছেন, তারা নিতান্তই ভুল ধারণা পোষন করছেন৷ এই ঋতুতে ফ্যাশন করতে হয় কিছুটা বিচক্ষণতার সঙ্গে৷

গরমে এমন ফ্র্যাব্রিক বাছা উচিত যা শরীরকে আরাম দেবে। ভারী ফ্যাব্রিক পরলে গরম বেশি লাগবে। তাই তা এড়িয়ে যাওয়াই মঙ্গল। তাই সুতি, লিনেন, শিফন, অরগ্যাঞ্জা, শিয়ার ও খাদি এই ফ্র্যাব্রিকের পোশার পরলে এই সময় আরাম পাবেন৷

তাই গরমে অনেকেই লাইট ওয়েট মেটিরিয়াল বাছছেন, আর এই তালিকায় থাকছে  ক্রেপ৷ ক্রেপের সুবিধা হল—এর কাটছাঁট নিয়ে মনমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায়। আর ক্রেপ মেটিরিয়ালের টপ পরাও যায় অনেক পোশাকের সঙ্গে। ক্রেপ দিয়ে তৈরি ফ্লোরাল ডিজাইনের স্টাইলিশ ড্রেস বাড়তি একটা আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলে।

এছাড়া গ্রীষ্ম ফ্যাশনে রয়েছে আরও নানা ধরনের টপ৷  জর্জেট কাপড়ের টপ কটন প্যন্টস-এর সঙ্গে ভালো লাগবে। সুতির শর্ট বেলুন টপ, প্যান্ট ও স্কার্টের সঙ্গে খুব মানানসই।

শর্ট ড্রেস বা মিডি ড্রেসের ইদানীং বেশ চাহিদা৷  ফ্যাশনে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে মিডি ড্রেস বা ফ্রক, যে ক্যাজুয়াল, ফরমাল কিংবা পার্টি ওয়্যার হিসেবেও জুতসই।

এই গরমের সময় একটু ঢিলেঢালা পোশাক পরাই শ্রেয়। এই সময় টাইট পোশাক পরলে আপনারই অস্বস্তি বাড়বে। চাপা পোশাক পরলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক হয় না। ত্বকে ব়্যাশও বেরোতে পারে৷

ইদানীং ক্রপ টপ বেশ ইন৷ নামেই বোঝা যায়, টপের লেন্থ খানিকটা ছোটো, বডিফিটেড।  ক্রপ টপের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। এগুলি  ট্রাউজার ওয়েস্টের খানিকটা ওপরে পরা হয়। পেট দৃশ্যমান থাকে৷ মিডিয়াম ক্রপ টপও রয়েছে, যেগুলো হাইওয়েস্টের থেকেও একটু লং। স্কার্ট ও ফিটেড ট্রাউজারের সঙ্গে বেশ মানায়।

ক্রপ টপ-এর সঙ্গে  লেয়ার যোগ করা যেতে পারে। শ্রাগ কিংবা কটি টাইপ ড্রেসের সঙ্গেও পরতে পারেন। হারেম প্যান্ট, যোধপুরি সালোয়ার ধরনের বটমের সঙ্গে মানিয়ে যায় ক্রপ টপ। ইদানীং ব্লাউজের বিকল্প হিসেবে শাড়ির সঙ্গে অনেকে ক্রপ টপ পরছেন। সে ক্ষেত্রে কাটের কিছুটা ভিন্নতা থাকে। স্কার্টের সঙ্গেও এটি বেশ ভালো মানায় ক্রপ টপ৷  তাই শর্ট অথবা লং যে-কোনও স্কার্টের সঙ্গেই পরা যাবে।

অনেকেই গরমের চোটে নাজেহাল হয়ে স্লিভলেস পোশাক পরতে পছন্দ করেন। কিন্তু এখন যা রোদের তীব্রতা তাতে ফুল হাতা পোশাক পরাই ভালো। নয়তো সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি আপনার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

গরমের কথা খেয়াল রেখে পোশাক বেছে নিতে গিয়ে যেন স্টাইলিংয়ের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করবেন না। এতে আপনারই ক্ষতি! তাই কম্ফোর্টকেও যেমন গুরুত্ব দেবেন, একইসঙ্গে আপনার স্টাইলিংকেও গুরুত্ব দিন।পার্টিতে শিফন, সিল্ক ও নেটের লং ফ্রক বা শর্ট ড্রেস মানাবে বেশ। জন্মদিন, বিয়ে বা এ ধরনের উপলক্ষে লম্বা ড্রেস বা গাউনের সঙ্গে হাই হিলস খুব ভালো দেখায়। এধরনের পোশাকেই  এবার হয়ে উঠুন স্টাইলিশ৷

রেহিইনের তিতলি (পর্ব ২)

প্রাথমিক ধাক্কার আবেগে আমি তখন ভাঙছি। আমার ভারতীয়বোধ গুঁড়ো গুঁড়ো আবিরের মতো ছড়িয়ে পড়ছে গ্লোবালাইজেশনের নিরিখে। ডিলান আমাকে ধরে ক্রুজের ভেতর বিশাল লবির একটা জানলার পাশে নিয়ে বসাল। জানলাম ডিলানের বেশ কয়েকজন ভারতীয় আর্টিস্ট বন্ধু আছে, তাই ভারতমাতা শব্দটির সাথে সে বেশ পরিচিত। ডিলান ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলে বাকিটা ইটালিয়ান ভাষা।

আমি প্রমাদ গুনলাম সর্বনাশ কীভাবে কথা বলব! হঠাৎ ক্রুজের জানলা দিয়ে দেখি লেকের ঠিক মধ্যিখানে একটা বিশাল জলের ফোয়ারা আর সেটাকে ঘিরে কম বয়সি ছেলেমেয়েদের একটা গ্রুপ স্পিডবোট নিয়ে দারুণ সব রাইড করছে। ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির ফ্লেভার সত্যিই অন্যরকম। একটু অন্যমনস্ক হয়েছি ব্যথার জন্য। কোঁকড়া চুল আর নীল চোখের ডিলান দু’হাতে দুটো সুইস আইসক্রিম নিয়ে এসে উপস্থিত। আমি ইংলিশে প্রাণপণে বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে খাব না। তারপর খোঁড়াতে খোঁড়াতে কাউন্টারে গিয়ে জানলাম ক্রুজ অথরিটি স্পনসর করছে আজকের এই আইসক্রিম। সুইস আইক্রিমের অপার্থিব স্বাদ চিরকাল মনে থাকবে। আইসক্রিম, পেস্ট্রিতে আমি নির্লজ্জের মতো লোভী।

বাঁ হাতে টিস্যু পেপারে রক্ত মুছে ডান হাতে আইসক্রিম খাচ্ছি আর মনে মনে সুইজারল্যান্ডের দুধেলা গরুগুলোর তারিফ না করে পারছি না।

ক্রুজে উঠতে গিয়ে কলিশন বেশ ভালোই হয়েছে। ডান হাঁটুতে ছড়ে গিয়ে একটু ব্লিড করেছে। আমার পরিহিত ফাটা বয়ফ্রেন্ড জিন্স-এর ফাঁক দিয়ে বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছে ক্ষত। সেটা দেখে ডিলান দৌড়ে গিয়ে বার কাউন্টার থেকে হ্যান্ড টাওয়েলে মুড়িয়ে আইস কিউব নিয়ে এসে পাশে বসে সোজা আমার হাঁটুতে চেপে ধরল। একটু থতমত খেলাম, প্রথমে প্রচণ্ড পেইন হলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। আমি তো লজ্জায় একশেষ!

কী হচ্ছেটা কী আমার সঙ্গে যাচ্ছেতাই। বেশ কিছুক্ষণ পর ডিলান কে বললাম, “প্লিজ এনাফ ইজ এনাফ, লিভ মাই লেগ, প্লিজ।’ একটা অপরাধবোধের হাসি দিয়ে আস্তে করে আমার পা ছেড়ে দিয়ে টাওয়েল ফেরত দিয়ে এসে ডিলান আমার টেবিলের উলটো দিকে বসল। ততক্ষণে ক্রুজ চলতে শুরু করেছে। চারপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য, নীলপাহাড়, লেকের জলে অনবদ্য ল্যান্ডস্কেপের প্রতিবিম্ব এঁকেছে।

আমার চোখের নজরের ফুট দেড়েকের মধ্যেই এক অতীব সুন্দর লম্বা ইটালিয়ান পুরুষ বসে আইক্রিম খাচ্ছে। আমি দেখছি সেও দেখছে। মাঝেমধ্যে টুকটাক কথা চলছে সেই ভাঙা ইংরেজিতেই। ডিলান আমার নেক্সট ডে-র প্রোগ্রাম জানতে চাইলে আমি বললাম, রেহিইন রিভার ফলস। শুনে সে আবদার করে বসল আমি যদি কিছু মনে না করি তবে সেও যাবে আমার সাথে রেহিইন ফলস দেখতে। আমি ভাবলাম আমার এই একলা সফরে এ আবার কী গেরো! সায়ন, নীপা কী ভাববে? তারপর ভাবছি— কই আমার বেটার হাফ বাইরে গেলে তো কোনও সন্দেহের অবকাশ থাকে না। এই প্রোগ্রেশনের যুগে দাঁড়িয়ে এত সংকোচ, দ্বন্দ্ব নিয়ে আমার মাত্র দুই দিনের একলা সফরকে স্পয়েল করার কোনও মানেই হয় না।

নীপাকে একটা কল করে ব্যাপারটা বললাম কারণ আপাতত ওরাই গার্জেন। ‘নীপা, শোন পেশায় প্রোফেশনাল আর্টিস্ট অ্যান্ড ফোটোগ্রাফার ইটালির ছেলে ডিলানের সাথে আলাপ হয়েছে। বয়স বুঝতে পারছি না বাট ও আমার সাথে রেহিইন (রাইন) ফলস যেতে চাইছে। সো হোয়াট টু ডু?’

নীপা হা হা করে হেসে ফোনের ও প্রান্ত থেকে বলল, “একটা ভিডিও কল কর তো একটু দেখি ইটালিয়ান হিরোকে।” করলাম ভিডিও কল নীপা নিজেই কথা বলে ফাইনাল করে দিল কালকের প্রোগ্রাম। শুধু হাঁটুর ব্যাপারটা চেপে গেলাম। নীপার গলা শুনে মনে হল ও যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। আমার একদম একা একা রাইন ফলসে যাওয়া একটু চাপের ছিল। বললাম, ওকে ডিলান সো লেটস মুভ ফরওয়ার্ড ট্যুমরো।’

পরদিন সকালে সুন্দর হলুদ রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টের শিফন জর্জেটের শাড়ি পরে নিলাম। নিজেকে বিদেশের মাটিতে স্বাধীন মহারানির মতো লাগছে। কারও ফুটকাটা নেই! বাবা কত্ত মাঞ্জা দিয়েছিস বলার কেউ নেই! পুরো বল্লে বল্লে।

ডিলান তো আমায় শাড়িতে দেখে এতটাই মুগ্ধ যে, চোখ সরাতে পারছে না। বলল ‘আই হ্যাভ নেভার সিন দিস টাইপ অফ ড্রেস ইন মাই লাইফ।’ বেচারা, ওর কাছে তো সবই ড্রেস! ভারতীয় শাড়ির আভিজাত্য যা পৃথিবীর আর কোথাও নেই বোঝাতে চেষ্টা করলাম ডিলান কে। প্রচুর ফোটো সেশান হল। একবার নবনীতা দেবসেনের লেখায় পড়েছিলাম তুন্দ্রার তৃণ অভিযানে, উলিকট ইনারের ওপর ফিনফিনে শিফন শাড়ি পরেই তিনি তুন্দ্রায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। আমারও বাসনা ছিল, তুন্দ্রায় না পারি অন্তত সুইজারল্যান্ডেই পরে নিই শাড়ি। এখানকার লোকজনদের সাথে ভারতীয় শাড়ির একটু জানাশোনা হওয়া দরকার।

নির্দিষ্ট বাসে চেপে ডিলানের সাথে চলে এলাম স্যাফাউসেন-এ রাইন নদীর রেহিইন ফলস দেখতে। টিকিট কাটলাম তুমি না আমি? আমি না তুমির সংঘাতে না গিয়ে। দু’জনেই সমান ভাবে ভাগ করে দিলাম ডলার। একটা মিস্টি ওয়েদার আধা সবুজ জলরং ধরিয়েছে সবদিকে। তার মধ্যে বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব চারপাশকে আরও রোমান্টিক করে তুলেছে। সাময়িক ভাবে ভাষা একটা সমস্যা হয়ে উঠেছিল চিন্তাতে, কিন্তু আজ তো কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। দু’জনেই দিব্যি বুঝে যাচ্ছি কী বলতে বা করতে চাইছি।

টিকিট কাউন্টার থেকে দেখেছি বিশেষ লম্বা এক ধরনের মোটর বোটে করে ফলসের একদম কাছে টুরিস্টদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় আমি দ্বিতীয়বার ভাবলাম না। কাঁধের ব্যাগ জমা দিয়ে টিকিট কেটে লাইফ জ্যাকেট পরে নিলাম। শাড়ি পরায় সবাই আমায় ঘুরে ফিরে দেখছে, কয়েকজন তো ছবিও তুলল। সেফটি সিকিউরিটির বজ্র আঁটুনি থাকার পর ‘যোশ মে হোশ খো বৈঠে’। ছিটে ফোঁটা সাঁতার না জানা আমি, ডিলানের হাত শক্ত করে ধরে বোটে উঠে পড়লাম। কিন্তু পাদানিতে পা রাখার পর একটা হিমশীতল ভয় মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে গেল খরস্রোতা নদীটাকে দেখে।

ফিস ফিস করে ডিলানকে বললাম, ‘আই ডোন্ট নো সুইমিং অ্যাট অল।’ ডিলান কী বুঝল কে জানে এক টুসকিতে উড়িয়ে দিয়ে আধা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, ‘ফরগেট অ্যাবাউট সুইমিং,ওয়্যার দ্যা জ্যাকেট অ্যান্ড এনজয় দ্য নেচার।’ মনের চোরাগোপ্তা ভয়কে অন্যত্র চালান করে সান্ত্বনা দিলাম— এমন সুযোগ বার বার আসে না। বোটে উঠে আনন্দে আটখানা হয়ে গেলাম। আসলে গানের সুর যেমন সারা পৃথিবীর মানুষকে বেঁধে রাখে, ভ্রমণেও বাঁধা থাকে এক মানবিকতার সুর যা আমরা সময় বিশেষে টের পাই।

রেহিইনের তিতলি (পর্ব ১ )

স্কুলে মেরি গো রাউন্ড খেলার সময় জোরে ঘুরতে ঘুরতে নীপা বলল, ‘জানিস তিতু বাড়িতে নীলুমামা আর মামি এসেছে সুইজারল্যান্ড থেকে।’

—ওমা তাই!

স্কুল ছুটির পর নীপা আমায় টানতে টানতে ওদের বাড়ি নিয়ে এসেছে। এসে দেখি পুরো চাঁদের হাট। ওদের ড্রইং রুমে কার্পেটের ওপর হাট করে বিশাল সুটকেস খুলে সুইস চকোলেট-সহ বিভিন্ন গিফট বিলি করছে মামি। নীপার প্রিয় বন্ধু আমি, আমাকেও আদর করে চকোলেট আর সুইস গ্রিটিংস কার্ড দিলেন মামি। আমার খুব লজ্জা করলেও নিলাম। সেই কার্ডখানা এখনও আছে।

পড়াশোনা শেষ করে পরীক্ষা দিয়ে নিজেদের জীবন তৈরিতে লেগেছি। নীপার বিয়ের ঘটকালি করতে গিয়ে নিজেও নীপার বর সায়নের ইঞ্জিনিয়র বন্ধু দেবদূতের প্রেমে ধপাস হলাম। প্রেম বিবাহ সবই হল। চাকরি সূত্রে এবং ভ্রামণিক হয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তরে ঘুরে বেড়ালেও, সুইজারল্যান্ড যাওয়া আর হয়ে ওঠেনি। অনেকদিন পরে মুম্বই থেকে হ্যালির ধুমকেতুর মতো নীপার ফোনকল— ‘হঠাৎ করে ডিসিশন হল রে, নিউ জবে জয়েন করে কয়েক বছরের কনট্র্যাক্টে সায়ন সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে। বুঝতেই পারছিস এতটা বিরহ সহ্য হবে না, তাই আমিও তল্পি গুছিয়েছি। শোন তিতু এবার আর মিস করিস না। আমরা থাকতে থাকতেই দেবদূতকে তুলে নিয়ে চলে আসিস বেড়াতে।’

শুনে রিফ্লেক্সে চিৎকার করে বললাম, ‘নীপা তুই সুইজারল্যান্ড চলে যাচ্ছিস!’ ব্যস ততক্ষণে ফোন কাট।

এরপর বছর দেড়েকের মাথায় দেবদূতের কোম্পানির ইন্টারন্যাশানাল কনফারেন্সের ভেনু হল জেনেভাতে। আমি তো ওৎ পেতেই ছিলাম ছিপ ফেলে বঁড়শিখানা গেঁথে ফেললাম জেনেভা কনফারেন্সে —ওরফে সুইজারল্যান্ডের বুকে। শুরু হল জেরা। শুধু শ্বাশুড়ি মা কেন? আমার জন্মদায়িনীও তো কম যান না! পুরো ফ্যামিলি অ্যাটাক— ‘তিতু কী করে একা একা যাবি? দেব যাবে জেনেভা, তুই যাবি জুরিখ? ব্যাপারটা কি একটু খোলসা করে বলা যাবে ?*

—হোয়াট? এক প্লেন ভর্তি লোকের সাথে যাব আমি। সেন্ট্রাল গর্ভমেন্ট-এর সার্ভিলেন্সের একটা পাকাপোক্ত চাকরি করি মা। ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই ট্রেক করতে চলে যাই পাহাড়ে। বাইশ বছরের একমাথা সিঁদুর দেওয়া নতুন বউ নই যে কেউ ইলোপ করবে!

শ্বাশুড়ি চোখ কপালে তুলে বললেন, “তুমি তো সব সময় সাজুগুজুর আউটফিটে থাকো, অন্যের নজর লাগে।’ বিভিন্ন ধরনের হার্ডেলস আসলেও রাতের টুনি টুনি আঁধারে, দেবের সাথে মসৃণ স্লগ ওভারে ম্যাচ খেলে জিতে সোজা জুরিখের টিকিট কেটে তবে থামলাম। এই তো জীবন কালীদা। কার জন্য যে কী নৈবেদ্য সাজিয়ে রাখা, কেউ জানতি পারে না!

নীপা আর সায়নও লেগে পড়ল তাই দেবদূত বাবাজিকে রাজি হতেই হল। জেনেভা কনফারেন্স শেষ করে পুষ্পক রথে চড়েই না হয় দেবদূত আমাদের জুরিখ টিমে জয়েন করবে।

বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ভায়া দিল্লি হয়ে প্লেন যখন জুরিখের মাটি সত্যিই চুল, জানলা দিয়ে চোখ মেলে দেখি অদেখা স্বপ্নের দেশে কেবল নির্ঝরের স্বপ্নের ওড়াউড়ি।

একটু আউটস্কার্টে নীপাদের ছোট্ট কাঠের বাড়ি এবং পেছনদিকের অগোছালো বাগানটা অপূর্ব। বাগানের শেষ দিকে একটা ছোট্ট ক্রিক আছে। আমি প্রায়ই ওটার ওপর দাঁড়িয়ে চা খাই, রাত সাড়ে ন’টার সময় আবাক হয়ে সূর্যাস্ত দেখি। এখন সামার চলছে তাই সবদিকে বসন্ত বাহারের রাগমালা। নীপা, সায়ন আমায় নিয়ে ঘুরে দেখাল বেশ কিছু জায়গা। নীপা একটা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট। এদেশে তো কেউ হাত পা নিয়ে বসে থাকে না, সবসময়টা কাজে লাগায়।

আমার ভ্রমণের ডায়ারিতে করে আসা হোমওয়ার্ক থেকে ক’টা জায়গা বাদ পড়ছে যেগুলো আমি চাইলে নিজেই ঘুরে আসতে পারি। নীপা আর সায়ন দুজনেই তো আমার জন্য লাগাতার ছুটি নিয়ে কেরিয়ার-কে বানপ্রস্থে পাঠিয়ে গাইড হয়ে যেতে পারে না! কারণ পরবর্তী পর্যায়ে দেব আসলে তার জন্য ছুটি মজুত রাখতে হবে।

আমি বাড়িতে বসে একা একা কী করি কী করি? তাই এখানেও সেই সেটিং করতে হল। বললাম— ‘সায়ন, নীপা ডোন্ট বি সিলি! আমার পঁয়ষট্টি বছরের মাসি একদম একা একা জার্মানির অর্ধেকটা নিজে ঘুরে তবে মেয়ে জামাইয়ের কাছে গেছেন গতবছর। আর মাত্র তিনটে দিন আমি এই কাছাকাছি জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারব না!”

সায়ন কাঁচুমাচু মুখে বলল, “পঁয়ষট্টি বছরের মাসি আর তুমি কি এক হলে? দেবদূত শুনলে কী বলবে তিতু? সর্বনাশ হয়ে যাবে।’

—দেব জানবে না সেই ব্যবস্থা করো না বাপু। মনে হচ্ছে আমি সুইজারল্যান্ড নয় উগান্ডা বেড়াতে এসেছি। চারিদিকে সিংহ, বন্য জন্তুর ভয়। তোমরা আমায় ভালো এজেন্সি দিয়ে হোটেল বুকিং, বাস বুকিং করে দাও ব্যস।

সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ শুরু করেছি জুরিখ শহরের বনেদি পথ ধরে। খ্রিস্টপূর্ব পনেরো শতকে রোমানদের হাতে এই শহর গড়ে ওঠে। রাস্তাঘাট, মানুষের সভ্য ব্যস্ততা, লেকের জলের শহরের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হচ্ছে স্বাধীনতার বর্ণময় পাখা সমগ্র শহরটিকে ছায়া দিয়ে রেখেছে।

জুরিখ সরোবরে বোটিং এবং লেক ক্রুজের ব্যবস্থা অনেকটা ফেলো কড়ি মাখো তেল গোছের। পকেটের রেস্ত অনুযায়ী শহরে বিচরণের জন্য হুডখোলা লাল ট্রামের টিকিট কাটলাম। আমি কলকাতার বাসিন্দা, নিত্যদিন রাস্তার ট্রাফিক জ্যামের লড়াইয়ের ধকল সামলেই যাতায়াত করতে হয়— তা সে সেডানেই হোক বা অটোতে। সেই রিফ্লেক্স আমার আজন্মের সহজাত। ক্ষিপ্রতার সাথে ট্রামে উঠে একপাশের প্রথম সিটের দখল নিলাম কিন্তু বসে মনে হল কেন করলাম এই অহেতুক আচরণ! একটু লজ্জা করল। বাকি সবাই কী সুন্দর ধীরেসুস্থে উঠে সিটে বসল। ঘন্টি বাজিয়ে লাল সাদা ট্রাম ছুটতে শুরু করল তার নির্দিষ্ট আউট লাইনে। মাইক্রোফোনে রাস্তার নাম এবং দ্রষ্টব্য স্থান বলা হতে লাগল। ছবির মতো সুন্দর জুরিখের ছায়া, তার মায়ার কাজল পরিয়ে দিচ্ছে চোখে। জুরিখ লেকের কোলে ফিরে এলাম একটা স্বপ্নের ট্রাম সফর শেষ করে।

নিয়ম মেনে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে ক্রুজে উঠতে যাব হঠাৎই একটা ধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে আমার ডান হাঁটুটা ক্রুজে ওঠার কাঠের রেলিং-এ সজোরে ঠুকে গেল। আমার মুখ দিয়ে উফ শব্দের সঙ্গে সঙ্গে একটা মোলায়েম সুরের ‘সরি এক্সট্রিমলি সরি’ বলে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে মাটিতে ছিটকে যাওয়া ব্যাগ ম্যাপ সব তুলে দিল একটি লম্বা ছেলে। উষ্ণ অভ্যর্থনায় হাত বাড়িয়ে বলল, ‘ডিলান ম্যাটিয়া ফ্রম ইটালি।’

আমিও হাত ঝাঁকিয়ে প্রত্যুত্তর দিলাম— ‘তিতাস রে ফ্রম টেগোরস কান্ট্রি ইন্ডিয়া।” আমাকে তস্য অবাক করে দিয়ে ডিলান হাতজোড় করে বলল, ‘নমস্তে, ভারত মাতাজি।’

ওজন কমানো সত্ত্বেও গর্ভধারণে সমস্যা হচ্ছে

স্থূলতার কারণে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। স্থূলতা বলতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বিকে বোঝানো হয়। এটি স্বাস্থ্যর পক্ষে ক্ষতিকারক। নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রাথমিক ভাবে প্রজনন হরমোনের অসামঞ্জস্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন ক্ষমতা বিঘ্নিত হয়। স্থূলতার কারণে মহিলাদের শরীরে উদরস্থিত ফ্যাটের অসামঞ্জ্যস্যতা, এনড্রজেনের উচ্চমাত্রা এবং প্রবলভাবে ইনসুলিন প্রতিরোধের প্রবণতা তৈরি হয়। শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে গেলে গর্ভধারণের সম্ভবনা হ্রাস পায়, আইভিএফ করাবার দরকার পড়তে পারে। গর্ভপাতের সমস্যাও বৃদ্ধি পায়। তবে স্থূলকায় মহিলারা মা হতে পারে না এই চিন্তাটা সম্পূর্ণ ভুল। এখন আপনি ওজনও অনেক কমিয়ে ফেলেছেন তাহলে সমস্যা হওয়ার কোনও কারণ নেই। সবার আগে আপনি কোনও ভালো গাইনিকোলজিস্টকে দেখিয়ে জানার চেষ্টা করুন আপনার গর্ভধারণ করতে না পারার প্রধান সমস্যাটা কী।

যে মহিলাদের স্থূলতার সমস্যা আছে তাদের শরীরে অত্যধিক চর্বির কারণে লেপটিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরের চর্বিকোশ দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং এটি মহিলাদের উর্বরতা নষ্ট করে। মনে রাখবেন, বন্ধ্যাত্ব দূর করার জন্য IVF একমাত্র সমাধান নয়। এই সমস্যার নানা কারণ হতে পারে। আপনার প্রবলেমের ঠিকমতো ডায়গনোসিস এবং চিকিৎসা হলে স্বাভাবিক ভাবেই গর্ভধারণ করতে পারবেন। ফার্টিলিটি ট্রিটমেন্টে ওষুধ, হরমোন থেরাপি, আইইউআই খুবই কার্যকরী। কখনও কখনও জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আনলেও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দূর হতে পারে। এই সমস্ত উপায় ট্রাই করার পরেও যদি সন্তান সুখ লাভ করতে না পারেন তাহলে আইভিএফ টেকনিকের সাহায্য নিতেই পারেন।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব