Peel Off Mask কতটা কার্যকরী?

ত্বকে ইনস্ট্যান্ট গ্লো আনার জন্য Peel off Mask কতটা কার্যকরী? আমি কি এটি মধুচন্দ্রিমা যাপনের সময় ব্যবহার করতে পারব? এছাড়াও আমার ত্বক খুবই স্পর্শকাতর। ওয়্যাক্সিং করার পরই ত্বকে লাল লাল ছোপ পড়ে যায়। অথচ আমি অবাঞ্ছিত রোম থেকেও মুক্তি পেতে চাই। তাহলে আমার কী করা উচিত?

কোনও চিন্তা ছাড়াই আপনি এটি হানিমুনের সময় ব্যবহার করতে পারবেন। মার্কেটে ভালো ভালো কোম্পানির পিল অফ মাস্ক কিনতে পাওয়া যায়। এই মাস্ক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফলের খোসা এবং গাছ-গাছড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। সুতরাং এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, প্রাকৃতিক ভাবে ফ্রি-র‌্যাডিকলস-এর সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে। এর ফলে, বয়সজনিত কারণে ত্বকর উপর যে প্রভাব পড়ে সেই প্রক্রিয়াটির গতিও অনেক ঢিমে হয়ে যায়।

এছাড়াও এটি ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মুখের কমপ্লেকশন ক্লিন এবং ক্লিয়ার লাগে দেখতে। রোদে বেরোবার ফলে ত্বকের ট্যানিং-এর ক্ষেত্রেও এটি খুব কার্যকরী। এটি লাগালে সহজে ট্যানিং দূর হয়। রুক্ষ শুষ্ক ত্বকে মসৃণতা আনতেও Peel Off Mask খুবই উপকারী।

ত্বকে লাল দাগ রোধ করতে ওয়্যাক্সিং-এর আগে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ খেতে পারেন। অবাঞ্ছিত রোম দূর করতে আপনি পাল্স লাইট ট্রিটমেন্ট-এর সিটিং নিতে পারেন। এটি একটি ইটালিয়ান টেকনোলজি, যেটি কিনা খুব দ্রুত, সুরক্ষিত এবং ব্যথা ছাড়াই অবাঞ্ছিত রোম দূর করে এবং অবশিষ্ট রোম এত পাতলা এবং হালকা রঙের হয়ে যায় যে, সেটা সহজে নজরে পড়ে না।

 

‘ভারতরত্ন দেওয়া হোক অমিতাভজী-কে’

২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এর উদবোধন হয়ে গেল গতকাল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ। উদবোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর উদবোধনী মঞ্চ থেকে-ই তিনি ইচ্ছেপ্রকাশ করেন, ‘ভারতরত্ন দেওয়া হোক অমিতাভজী-কে’। তবে তিনি জানান, অফিসিয়ালি নয়, আনফিসিয়ালি এই ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত তিনি এও জানান যে, ‘এমন আইকন আর পাওয়া যাবে না’। অবশ্য শুধু এই ইচ্ছেপ্রকাশ-ই নয়, বিগ বি-র ভূয়ষী প্রশংসাও করেন তিনি। কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অমিতাভ বচ্চন-এর উদ্দেশ্যে তিনি জানান, অমিতাভজী শুধু বড়ো অভিনেতা-ই নন, মানুষ হিসাবেও তিনি মহান। তাঁর তুলনা হয় না। তিনি এবারও এই উৎসবে যোগ দিয়েছেন, তাই তাঁকে কৃতজ্ঞতাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়ে বলিউড শাহেনশা অমিতাভ বচ্চনও বেশ আবেগপ্রবণ ছিলেন বলে মনে হয়েছে। তিনি বাংলায় বক্তব্যও রাখেন কিছুটা। সিনেমার সঙ্গে সময় এবং সমাজের সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি, তিনি আবেগল্পুত হয়ে কলকাতার মানুষ-কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আমি চিরকাল আপনাদের জামাইবাবু হয়ে থাকব’। এদিন আর এক বলিউড অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহাও অমিতাভ বচ্চনকে ‘ন্যাশনাল আইকন’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সত্যি-ই অমিতাভ-ময়। উদবোধনী মঞ্চে যেমন তিনি আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তেমনই মূল উৎসবে অমিতাভ বচ্চন-কে এবার বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অমিতাভ বচ্চন-কে নিয়ে ‘আ লিভিং লেজেন্ড’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রদর্শনীর অয়োজন করা হয়েছে গগনেন্দ্র প্রদর্শশালায় এবং নজরুল তীর্থে। শুধু তাই নয়, রেটরোস্পেক্টিভ বিভাগে প্রদর্শিত হবে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ৯টি ছবি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নেতাজি  ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ আয়োজিত ২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদবোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এছাড়া, মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা, জয়া বচ্চন, শাহ রুখ খান, রানি মুখোপাধ্যায়, পরিচালক মহেশ ভট্ট, ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, গায়ক কুমার শানু, গায়ক অরিজিৎ সিং, টলিউড অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, আবির চট্টোপাধ্যায়, সোহম চক্রবর্তী, পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চুর্নী গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। উদবোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নৃত্যশিল্পীরা। উদবোধনী অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায় এবং জুন মালিয়া। উদবোধনী অনুষ্ঠানে দেখানো হয় হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ১৯৭৩ সালের সুপারহিট সঙ্গীতমুখর ছবি ‘অভিমান’। এই ছবিটিতে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, আশরানি, বিন্দু এবং ডেভিড।

বেস্ট টেস্ট recipes

মাঝে মধ্যে স্বাদ বদলের জন্য আমরা নানা ধরনের Cuisines ট্রাই করতে পারি৷ এই রেসিপিগুলে আপনাকে সাহায্য করবে সবার মুখে হাসি ফোটাতে৷

ফ্রুট আইসক্রিম

উপকরণ: ১টা পাকা আম, ২টো কিউয়ি, ৪ বড়ো চামচ বেদানার দানা, ১টা আপেল, ১টা কলা, ১৫০ গ্রাম ভ্যানিলা আইসক্রিম, অল্প মিহি করে কুচোনো বাদাম।

প্রণালী: সমস্ত ফল ছোটো টুকরোয় কাটুন। একটা বোল-এ ভ্যানিলা আইসক্রিম ঢেলে ভালো ভাবে ফেটান। এর সঙ্গে কুচোনো ফল মিক্স করুন। সার্ভিং বোল-এ এই ফ্রুটি আইসক্রিম ঢেলে, বাদামকুচি ছড়িয়ে সার্ভ করুন।

 

পনিরআম রোলস

Paneer Aam Rolls recipe

উপকরণ : ১টা দশেরি আম, ৫০ গ্রাম পনির, ১ বড়ো চামচ বাদাম ফ্লেকস, ২ বড়ো চামচ চিনিগুঁড়ো, ১/৪ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, অল্প স্ট্রবেরি লম্বা ও পাতলা টুকরোয় কাটা, মিহি করে কাটা পেস্তা।

প্রণালী: আমের খোসা ছাড়িয়ে পাতলা স্লাইস করে নিন। ৭টা মতো স্লাইস করা দরকার। পনির হাত দিয়ে মসৃণ করে চটকে নিন, তারপর এতে চিনিগুঁড়ো, এলাচগুঁড়ো, বাদাম ফ্লেকস মিশিয়ে নিন। প্রত্যেক স্লাইসের উপর অল্প করে পনিরের এই মিশ্রণ রেখে, আমটা রোল করে নিন। পেস্তা ও স্ট্রবেরি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

খসখস শটস

Khas Khas Shots recipe

উপকরণ: ২-৩ বড়ো চামচ খসখস সিরাপ, ১ ছোটো চামচ লেবুর রস, ১০০ মিলি ম্যাঙ্গো জুস, ৩০০ মিলি সোডা, অল্প ক্রাশড আইস।

প্রণালী: একটা গেলাসে খসখস সিরাপ ঢালুন। গেলাসটা তেরছা ভাবে ধরে খুব ধীরে ধীরে ম্যাঙ্গো জুস ঢালুন। মিক্স করুন। তারপর লেবুর রস মেশান। শেষে সোডা। ক্রাশড আইস মিশিয়ে পুদিনাপাতা, আম বা লেবুর টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

 

পিনা কোলাডা

Pina Kolada recipe

উপকরণ: ১১/২ কাপ আনারসের জুস, ১/৪ কাপ নারকেল দুধ, ৩ বড়ো চামচ ভ্যানিলা আইসক্রিম, ৩০০ মিলি লিমকা, সাজানোর জন্য আনারসের টুকরো, অল্প পরিমাণে ক্রাশড আইস।

প্রণালী: নারকেলটা টুকরো করে মিক্সিতে পেস্ট করে নারকেলের দুধ তৈরি করে নিন। আনারসের জুস, নারকেলের দুধ আর আইসক্রিম একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে ক্রাশড আইস দিন ও মিশিয়ে রাখুন। তারপর লিমকা ঢেলে দিন। পুরো মিশ্রণটা সার্ভিং গ্লাসে ঢেলে, আনারসের টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

খুশকির জন্য মাথার স্ক্যাল্পে চুলকানি বেড়েছে

বেশ কিছুদিন ধরে খুশকির সমস্যায় ভুগছি। শীতকালে এই সমস্যা আরও দ্বিগুন বৃদ্ধি পায়। অনেকরকম অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করে দেখেছি কিন্তু উপকার হয়নি। এছাড়াও Dandruff-এর জন্য মাথার স্ক্যাল্পে চুলকানিও হয়। এই সমস্যার কী সমাধান?

সাধারণত ড্রাই এবং অয়েলি দুরকমের চুলেই খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে শীতকালে বাতাসে আদ্রতা কম থাকায় খুশকি বেশি হয়। বাতাস শুষ্ক হয়ে যাওয়ার ফলে চামড়া শুকিয়ে যায়। পুরনো চামড়া উঠে গিয়ে নতুন চামড়া তৈরি হয়। এই মৃত চামড়া বা কোশগুলিকে আমরা খুশকি বলে থাকি। শীতকালে খুশকি হলেই চুল ঝরতে শুরু করে এবং চুলও হয়ে পড়ে শুষ্ক ও রুক্ষ।

ঠিক সময়মতো যদি খুশকি কন্ট্রোল করা না হয় তাহলে ত্বকে খুশকি ঝরে পড়লে সংক্রমণ ছড়াবার ভয় থেকে যায়। এছাড়াও চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। এসবই কারণ হল, অকালে চুল ঝরে পড়ার। সুতরাং সময় থাকতে খুশকির চিকিৎসা করানো খুব দরকার। এর জন্য সপ্তাহে অন্তত তিনবার চুলে শ্যাম্পু করুন এবং খুব বেশি গরমজলে চুল ধোবেন না, ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করুন।

Dandruff-এর সংক্রমণ থেকে বাঁচবার জন্য নিজের চিরুনি, তোয়ালে, বালিশ আলাদা রাখুন এবং বিশেষ যত্ন নিয়ে এগুলি পরিষ্কার করুন। চুল যখনই ধোবেন তখনই আগে থেকে চিরুনি, তোয়ালে এবং বালিশের ঢাকা ভালো অ্যান্টিসেপ্টিক লিকুইডে আধঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ভালো করে রোদে শুকিয়ে তারপরেই ব্যবহার করুন।

চুল যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে ১ চামচ ত্রিফলা পাউডার ১ গেলাস জলে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে নিয়ে এর সঙ্গে ২ বড়ো চামচ ভিনিগার মিশিয়ে নিন। রাত্রে এই মিশ্রণটি দিয়ে সারা চুলে ও স্ক্যাল্পে মাসাজ করুন। সকালবেলা ভালো করে চুলে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

এই প্রক্রিয়াগুলি ট্রাই করা সত্ত্বেও যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে ভালো কসমেটিক ক্লিনিকে গিয়ে ওজোন ট্রিটমেন্ট বা বায়পট্রন-এর সিটিং নিতে পারেন। এতে Dandruff কন্ট্রোল হবেই উপরন্তু চুল পড়ার সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ হবে।

 

দৃশ্যম ২ -এর বক্স অফিস সাফল্যের সিক্রেট কী ?

আগেই ‘সুপারহিট’ ছবির খেতাব পেয়েছে, এবার বছরের তৃতীয় হিন্দি ছবি হিসাবে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ৩০০ কোটির গণ্ডি পার করতে সফল হল ‘দৃশ্যম ২’ ছবিটি। গত ১৮ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছিল ‘Drishyam 2’। জনপ্রিয় Thriller Film  যে সাফল্যের সঙ্গে রিমেক করা সম্ভব, তা প্রমাণ করে দিলেন Ajay Devgan। অজয় দেবগণের ‘দৃশ্যম ২’-এর হাত ধরে বড়ো সাফল্যের মুখ দেখলো বলিউড। ট্রেড অ্যানালিস্টদের তথ্য বলছে, আপতত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে এই ছবির সামগ্রিক আয় ৩০৩ কোটি টাকা।

‘ব্রহ্মাস্ত্র’ (৪৩১ কোটি), ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (৩৪১ কোটি)-এর পর, বছরের সবচেয়ে বাণিজ্য-সফল অজয় দেবগণের এই ছবি, ‘দৃশ্যম ২’। মূলত দেশের বক্স অফিসেই চাঞ্চল্য ফেলে বড়ো অংশের আয় করেছে ছবিটি। বিদেশে এই ছবির কালেকশন মাত্র ৫২ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, মুক্তির পর একমাস অতিক্রম করে গেছে, এখনও সিনেমা হলে ভালো ব্যবসা করছে ‘দৃশ্যম ২’। যদিও আগামী দিনে হলিউড ছবি ‘অবতার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’-এর মুক্তির জেরে কতটা ব্যহত হবে এই ছবির ব্যবসা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না৷

এবার একটু অনুসন্ধান করে দেখা যাক কী এই ছবির সাফল্যের কারণ৷ ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া দৃশ্যম ছিল একটি সুপার হিট ছবি, সাসপেন্স-থ্রিলারটি এই মর্মে শেষ হয়েছিল যেখানে, অজয় দেবগনের চরিত্রটি তাবু এবং রজত কাপুরের সামনে পরোক্ষভাবে অপরাধ স্বীকার করেছে৷ এই ধরনের এন্ডিং স্বভাবতই দর্শকদের আরও কৌতূহলী করে তোলে, এরপর কী? আর এই প্রশ্নের উত্তরকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে দৃশ্যম ২।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুক্তি পেয়েছিল মোহনলাল অভিনীত মালায়ালি ‘দৃশ্যম ২’ ছবিটি । ছবির হিন্দি ভার্সনের প্রেক্ষাপটও কমবেশি একই। কিন্তু অজয় দেবগণ  ও অক্ষয় খন্নার দ্বৈরথ এই ছবিকে অন্যমাত্রা দিয়েছে। ছবির উপরি পাওনা চিত্রনাট্যকারের চরিত্রে সৌরভ শুক্লার উপস্থিতি, সঙ্গে আবারও তাবু-ম্যাজিক ।

ছবিতে বিজয় সালগাঁওকরের চরিত্রে দেখা মিলেছে অজয়ের। সাত বছর আগে বিজয়ের বড়ো মেয়ের হাতে খুন হয় আইজি মীরা দেশমুখ (তাবু)-এর ছেলে। পুরোনো সেই কেসের তদন্তে ফের নামে গোয়া পুলিশ। এবার দায়িত্বে নতুন আইজি, অক্ষয় খন্না। দৃশ্যম-এ তাবুকে দর্শকরা নৈতিক চরিত্রে বলিয়ান, দৃঢ় মনোবল ও অসহায় মা হিসাবে দেখেছিলেন, যিনি দুর্দান্ত পুলিশ অফিসার হওয়া সত্ত্বেও ছেলেকে খোঁজার জন্য মরিয়া মায়ের চরিত্রায়নে সফল। অক্ষয় খন্নার চরিত্র এখানে কিছুটা হলেও আলাদা তাবুর থেকে। তাবু এবং তাঁর ব্যবসায়ী স্বামী মহেশ দেশমুখ শোকার্ত মা-বাবা হিসাবে ফিরে এসেছেন সিক্যুয়েলে। তাঁদের ভূমিকা সীমিত, কিন্তু তাবু যতক্ষণ পর্দায় ছিলেন দাপিয়ে অভিনয় করে গেছেন৷ বলা চলে অজয় দেবগণের পাশাপাশি তাঁর উপস্থিতিও জোরদার ছিল।
Hindi film Drishyam 2

তবে কি এবার পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যাবে বিজয়ের পরিবার?  নাকি ক্লাস ফোর ফেল কেবল অপারেটরের বুদ্ধির সামনে ফের একবার নতি স্বীকার করবে গোয়ার পুলিশ ডিপার্টমেন্ট? এই সব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজতেই মূলত দর্শকরা ছুটে গিয়েছেন হলে৷আসলে ভালো গল্পের চাহিদাই যে সবচেয়ে বেশি, এটাই দর্শক টানতে সমর্থ হয়- তা এই ছবি আবারও প্রমাণ করল।

এর আগে বহু বারই বলিউড সাসপেন্স থ্রিলারগুলি বিফল হয়েছে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে৷ প্রথম ছবিতে যে-সাসপেন্স দেখা যায়, তা সিক্যুয়েলে অনেক সময়ই দেখা যায় না। তবে এক্ষেত্রে ‘‌দৃশ্যম ২’‌ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘‌দৃশ্যম’‌ যেরমকম দর্শকদের শরীরে শিহরণ জাগিয়ে ছিল,  তেমনি ২০২২ সালে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘‌দৃশ্যম ২’‌-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি৷ সাধারণ চরিত্র, পুলিশ ও পরিবারকে একসূত্রে গেঁথে ফেলেছে এই ছবি।

পরিচালক সফল হয়েছেন দৃশ্যম ২-তেও রহস্য অবিকল রাখতে। যা প্রথম পর্ব থেকে শুরু হয়েছিল। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, চিত্রনাট্য যথেষ্ট প্রশংসার যোগ্য। সবকিছু মিলিয়ে দৃশ্যম-এ যে রহস্যের সমাধান হয়নি তা দৃশ্যম ২-তে হলো কিনা সেটা দেখার জন্যই দর্শক সিনেমা হলে আসত বাধ্য হয়েছেন। আর এটাই ছবির বক্স অফিস সাফল্যের সিক্রেট৷

পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন

বেশ বড়ো সংখ্যায় মহিলাদের মধ্যে সন্তানের জন্মের পর পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা এই প্রসবোত্তর অবসাদ দেখা দেয়। হঠাৎ হঠাৎ মুড চেঞ্জ, কষ্ট পাওয়া, রাগ হওয়া, কারও সঙ্গে কথা বলায় অনীহা, বিরক্তি, কান্নার ভাব, একা থাকতে চাওয়া, নিজের সন্তানকেই সহ্য করতে না পারা এগুলো এই ডিপ্রেশন খুব স্বাভাবিক কিছু লক্ষণ।

পোস্টপার্টাম ডি্প্রেশন হল আসলে শারীরিক, মানসিক এবং আচরণগত পরিবর্তনের একটি জটিল সংমিশ্রণ যা প্রসবের পর মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। মূলত প্রসবের 4 সপ্তাহের মধ্যেই এর লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে। এর প্রধান লক্ষণগুলি হল নিজেকে সবসময় অপরাধী ভাবা, অজানা আশঙ্কায় দিন কাটানো, অতিরিক্ত ঘুম, ইরেগুলার জীবনশৈলী, সবসময় শরীর খারাপ ইত্যাদি। আসলে প্রসবের পর মহিলাদের শরীরে নানা পরিবর্তন হয়। হরমোনের ভারসাম্য থাকে না, ফলে নানা মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। মাথায় অদ্ভুত জটিল সব চিন্তা আসে।

তবে এই লক্ষণগুলি সাধারণ মনে করে, এড়িয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। এগুলি যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে এগুলি থেকেই যায়। এর মধ্যে খুব কমন সমস্যাগুলি হল ঘুম না আসা, ক্ষুধামান্দ্য, নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা, বাচ্চা কাঁদলে রাগ হওয়া ইত্যাদি।

ডিপ্রেশন কারণ

Postpartum Depression মা ও বাচ্চার দুজনেরই হতে পারে। হরমোনাল পরিবর্তন হল প্রধান কারণ। এছাড়াও প্রসবের পর মহিলাদের অনেক রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বাচ্চা হওয়ার পর নতুন মায়ের উপর অনেকটা দাযিত্ব এসে পড়ে। এর উপর শারীরিক দুর্বলতা, শরীরে স্ট্রেচ মার্কস স্পষ্ট হয়ে ওঠা, অবসাদ শুরু হলে পিঠে ব্যথা হওয়া, চুল উঠতে থাকা, স্তনের আকারে পরিবর্তন ঘটা ইত্যাদি নানা স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে মা-কে এই সময় কাটাতে হয়। এর সঙ্গে ওয়ার্কিং মাদার হলে কেরিয়ারের চিন্তা মনকে অশান্ত করে তোলে।

সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন কীভাবে

নিজের সন্তানের যত্নের সঙ্গে নিজেরও ভালো ভাবে দেখভাল করুন, নিজের যত্ন নিন। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার খান ডাক্তারের পরামর্শ মেনে। নিজের ইচ্ছেগুলোকে প্রাধান্য দিন। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে দেখা করুন, শপিং-এ যান। ঘরবন্দি জীবন কাটাবেন না। পরিবারে সকল সদস্যের মধ্যে থেকে সকলের সঙ্গে গল্পগুজব করুন। সমস্যাগুলো পছন্দের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন। সবথেকে প্রযোজন হল পর্যাপ্ত বিশ্রামের। সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম অবশ্যই দরকার।

পরিবারের সহযোগিতা

মানুষের নির্ভরতার জায়গা হল তার ফ্যামিলি। পরিবার থেকে যদি নেতিবাচক মানসিকতা দেখানো হয় তাহলে অবসাদের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে দেরি হবে না। পরিবারকে এসময় পাশে থাকতে হবে। নতুন মায়ের জন্য ঘুমটা খুব দরকার, কিন্তু খানিকক্ষণ পরপর বাচ্চাকে খাওয়ানো, ডায়পার-কাঁথা বদলানো ইত্যাদি কারণে মায়ের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে পড়ে।

ব্রেস্টমিল্ক আগে থেকে পাম্প করে রাখলে বা ফর্মুলা ফিডিং-এর ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যরা একটা নির্দিষ্ট সময় বাচ্চাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়ে নিতে পারে। এতে মা-ও কিছুটা সময় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে। নতুন মায়েরা প্রথমে শিশুর দাযিত্বে কিছুটা ভুলভ্রান্তি করলেও ধীরে ধীরে সবাই ঠিকই শিখে যায়। তাই মায়ের ভুল না ধরে তাকে উৎসাহিত করা উচিত। বাচ্চার সঙ্গে সঙ্গে মা-কেও ছোটো ছোটো উপহার দেওয়া যেতে পারে। এই সাধারণ ব্যাপারগুলোই প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতা থেকে মা-কে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১৩

( ৬ )

কথাটা তোমাকে অনেকদিন হল বলব বলব করে ঠিক বলতে পারছি না। আসলে তমাল কয়েকমাস ধরেই সাংঘাতিক আপসেট। মানে মনে মনে খুবই কষ্ট পাচ্ছে। সেদিন ফোনে কথা হচ্ছিল। এর মধ্যে আমাদের কয়েকবার দেখাও হয়েছে। তোমাকে কিছু বলেনি?

না তো কেন বলুন তো?

আমিও যে কীভাবে তোমাকে কথাটা বলব ঠিক বুঝতে পারছি না। সেটা তোমাকে বলা আমার সাজে কিনা তাও তো আমি জানি না। হাজার হোক তুমি তো আমার বন্ধুর স্ত্রী। আর তমাল কিন্তু আমাকে কিছু বলতেও বলেনি। আমি তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেনই বা ঢুকব খামোখা?

দেখুন শৈবালদা আপনি কী বিষয়ে কথা বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তাছাড়া আমার আর তমালের মধ্যে তেমন কোনও ঝগড়াঝাঁটিও হয়নি এর মধ্যে।

আসলে ও মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে। বলতে পারছে না।

আমি তমালের সঙ্গে কথা বলে নেব।

না না তেমনটা কোরো না। তাহলে ও আরও কষ্ট পাবে। ভাববে আমি কেনই বা বলতে গেলাম। নেহাত তমালকে আমি নিজের ভাই বলে মনে করি, তাই তোমাকে বলছি যাতে করে ওর কষ্টটা একটু কমে। তোমরা দুজনে মিলেমিশে যাও।

বলুন তাহলে, আপনিই বলুন।

না মানে এত কথা কী করে বলি বলো তো। তুমি একটু সময় বের করো। ব্যাপারটা তো মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করতেই হবে আমাদের। তাই না…? সামনের উইক এন্ডে তুমি একটা জায়গা ঠিক করো আমি চলে আসব। তুমি তো জানোই শনি, রবিবার আমি ফ্রি থাকি।

কিন্তু।

কোনও কিন্তু নয় কস্তুরী, বিষয়টা খুব গম্ভীর। না হলে ভাবো আমি অফিসের কাজ করতে করতে মিটিংয়ে ফাঁকে তোমাকে এই ভর-দুপুরে বিরক্ত করতে যাবই বা কেন?

আচ্ছা আমি আপনাকে পরে জানাচ্ছি।

ওকে, ডান।

শৈবাল কস্তুরীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছে কেন? কী এমন ঘটেছে যেটা ওকে না জানিয়ে সরাসরি শৈবালকে জানাল তমাল?

( ৭ )

আরে ডানদিকে গোয়ালপাড়ার আগেই তো আমাদের শ্যামের বাড়ি, ওদেরই গরু পালিয়েছে। সেই পরশুদিন সকালে চরতে বেরিয়েছিল, ফেরেনি এখনও। বোঝো কাণ্ড। সকাল থেকে কলতলায় তাই নিয়ে হইহই। দেখো আবার, হৈমি বলছিল পালিয়েছে না চুরি হয়েছে কে জানে। ওদের সঙ্গে ঘোষালের ছোটো ছেলের দিনরাত খিটিরমিটির লেগেই থাকে। গরুটা ভালো দুধ দিত শুনেছিলাম, মাস গেলে রোজগারপাতিও ভালো আসত ওর থেকে, শ্যামের একেবারে পয়মন্ত যাকে বলে। তাই বোধহয় গায়ে করে নিয়েছে জন্তুটাকে। মা মানে দিম্মা কাদের সঙ্গে যেন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কথা বলে যাচ্ছিল।

এখানে এলে এই এক সুবিধা, আবার খানিকটা অসুবিধাও বলা যায়। তবে ঘুমের ব্যাঘাতটাকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে সাইডে রেখে পিএনপিসিতেই মন দেওয়া যাক। যে যা মনে করে করুক! আসলে খানিকটা মফস্সল টাইপের জায়গাগুলোতে আজও মানুষ মানুষের খোঁজ নেয়। সকালে-বিকেলে জল নিতে যাওয়া, বাজার করতে যাওয়া আবার সন্ধে প্রদীপ দিয়েথুয়ে কথা বলাবলি হয়। ভালোমন্দের মিশে থাকা ঝাঁঝালো, রসালো খবর থাকে বটে কিন্তু কস্তুরীর কোথাও যেন মনে হয় এসবে বেশ এক ফুরফুরে মেজাজ আছে।

ওদের ভবানীপুরের মতো শহরের অলি-গলিতে সবটাই আটকা। সবটাই মেকি। নাহলে এখান থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই ও নিজে এতটা কুঁকড়ে গেল কেন? যে বাপি-মাকে দেখবে বলে মাসে একটাবার হা-পিত্যেস করে বসে থাকত বালিকাবেলায়, তাদের কাছে ফিরে এতটা অসহায়, নিঃস্ব লাগবে কেন? চরম শহুরেয়ানাতে সবটাই ওপর ওপর। তাই না?

ওমা, পকো অমন করে বসে আছিস কেন? কী হল? দিম্মামা ওকে এই নামেই ডাকে ছোটোবেলা থেকে। পকো, ছোট্ট থেকে খুব পকপক করে কথা বলত তাই।

কই না তো?

বললেই হল? আমার চোখকে ফাঁকি দিবি? আসা থেকে দেখছি কী যেন হয়েছে তোর? শরীর গতিক ভালো আছে তো? কতদিন কালুডাক্তারকে দেখানো হয়নি। বিকেলে একবার দেখিয়ে নিয়ে আসব তাহলে সরকার হাট থেকে?

রান্নাঘর ও খাবার ঘরে রঙের নির্বাচন

অস্বীকার করার উপায় নেই যে,  রঙের সঙ্গে মানুষের মুডের সম্পর্ক আছে৷ তাই রংটা এমন হতে হবে, যাতে সেটা মনের ওপর চাপ না ফেলে। রান্নাঘর এবং ঘাবার ঘর যেহেতু বাড়ির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্পেস, ফলে সেখানে রঙের ব্যবহারও ভেবেচিন্তেই করা উচিত৷আসুন Kitchen and dining room colours  নিয়ে আলোচনা করা যাক৷

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, Kitchen paints কী হওয়া ভালো?  কারণ রান্নাঘরে আমাদের খাবার তৈরি হয়। যে খাবার খেয়ে আমরা আমাদের কাজের জন্য শক্তি পাই। তাই রান্না ঘরের রং অবশ্যই বাস্তুশাস্ত্র মতে হলে, সেটা আমাদের জীবনে একটি শুভ প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে। এমনটিই মনে করে বাস্তু শাস্ত্রবিদরা। সেক্ষেত্রে সাদা অথবা হলুদই হল আদর্শ রং৷

সাদা রং বেশির ভাগ মানুষ পছন্দ করলেও, রান্না ঘরের রং হলুদ হওয়াই সবচেয়ে ভালো। রান্নাঘর যদি দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত হয়, তাহলে খুবই ভালো। রান্না ঘরের রং কখনও গাঢ় হওয়া উচিত নয়। উত্তর দিকে রান্নাঘর না হওয়াই শ্রেয়।হলুদ, রান্নাঘরের ঘরের রঙ খুব উপযুক্ত কারণ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই সূর্যের রঙ অনেক আশা এবং ইতিবাচক বোধ নিয়ে আসে, যা রান্নাঘরের জন্য অপরিহার্য। হলুদ হল দক্ষিণ দিকে মুখ করা রান্নাঘরের রঙ। রান্নাঘরের হলুদ রঙের ক্ষেত্রে আপনি উজ্জ্বল হলুদ, স্যান্ডেল হলুদ, সরষের হলুদ ইত্যাদির মতো বিভিন্ন শেড ব্যবহার করতে পারেন।

অনেক শেড রয়েছে যা রান্নাঘরের রঙ হিসাবে এড়ানো উচিত। বাস্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে কালো, নীল, ধূসর ইত্যাদির মতো গাঢ় শেডগুলি রান্নাঘরের রঙ হিসাবে এড়ানো উচিত, কারণ এগুলি রান্নাঘরের ইতিবাচক শক্তিকে নষ্ট করতে পারে।অনেকের আবার কড়া হলুদে মাথা ধরে, মেজাজ বিগড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে হলুদের এমন শেড ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটা শান্ত, কোমল- এককথায় অপ্রখর।

আসলে ঘরের রং কেমন হবে, এটা অনেকাংশে ব্যবহারকারীর রুচি আর ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে। হয়তো মা–বাবা এক রকম চান  কিন্তু বাচ্চার আবার অন্য রকম কিছু পছন্দ। সে ক্ষেত্রে রংটা নিরপেক্ষ ধরনের রাখা ভালো। খুব ছোটো রান্নাঘরে গাঢ় রং ব্যবহার করলে জায়গাটা আরও ছোটো মনে হতে পারে। তবে ইদানীং রান্নাঘরের একটা বা দুটো দেয়ালে ‘চিলড কালার’ রাখতে পছন্দ করেন অনেকে। এক পাশ উজ্জ্বল হলো, আরেক পাশ একটু হালকা। এক পাশ আরেক পাশের পরিপূরক হবে।

Dining Room painting

খাবার ঘরের রং ভেবেচিন্তে ব্যবহার করুন। খাবার টেবিলে বসে যদি ঘরের রঙের প্রতি আকর্ষণের অভাব ঘটে, তবে খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। খাবার ঘরের দেয়ালের রং মূলত নীল রাখুন। রং বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার খাবার ঘরের রং যদি হয় লাল, মানুষ ভাববে আপনি ভালো রান্না করেন। বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও গবেষণা জানিয়েছে, একথা সত্যি। খাবারের ঘরে বড়ো জায়গা থাকলে দেয়ালে হালকা সবুজ রঙের প্রলেপ দিতে পারেন। অনেকে আবার বলেন হলুদ খাবার ঘরের জন্য উপযুক্ত রং, কেননা, হলুদ খিদে বাড়ায়। এ জন্যই বেশির ভাগ রেস্তোরাঁর দেয়ালে হলুদ বা নীল শেডের রঙের ব্যবহার চোখে পড়ে। অন্যদিকে হলুদের বিপরীত নীল রং আবার ডায়েটে সাহায্য করবে। কম খেতে অনুপ্রাণিত করবে। ঘর রং করানোর আগে তাই এই বিষয়গুলি একবার ঝালিয়ে নিন৷ তারপর সিদ্ধান্ত নিন৷ দেখবেন আপনার বাড়ির সৌন্দর্য কয়োক গুন বেড়ে গেছে৷

Sun shades -এর ফ্যাশন

মূলত রোদের তাপ থেকে চোখকে রক্ষার জন্যই সানগ্লাসের প্রয়োজনীয়তা। প্রাথমিক অবস্থায় চশমা ব্যবহার করা হলেও তা থেকে তেমন কোনও উপকার না আসায় Sun shades-এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তবে সানগ্লাস বা রোদচশমা কেবল ফ্যাশনের জন্যই এমন ধারণা আমাদের অনেকেরই। কিন্তু সানগ্লাস ফ্যাশনের জন্যই শুধু না, রোদ থেকে চোখকে নিরাপদ রাখাতেও এটি ব্যবহার করা হয়। সূর্যের ক্ষতিকর অতি-বেগুনি রশ্মি চোখের ভেতরের অংশের ক্ষতি করে। সেজন্য চোখকে এই ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি।

অনেককেই কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে রোদে থাকতে হয়। এই অবস্থায় চোখকে সুরক্ষিত না রাখলে চোখে জ্বালাপোড়া, গ্লুকোমা, ছানিপড়া ও বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার শঙ্কা বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘ সময় রোদে থাকা যাবে না। আর যদি থাকতেই হয় তবে অব্যশই সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।

কিন্তু Fashionable sun glasses কেনার আগেই কয়েকটা জিনিস একটু খেয়াল রাখা দরকার। কারণ সানগ্লাস সঠিক না হলে, প্রভাব পড়তে পারে চোখে। আর আগে থেকেই যদি আপনার চোখে চশমা থাকে, তাহলেও কিন্তু আপনার চশমা কেনা নিয়ে সাবধান হওয়া উচিত। তাই প্রথমেই খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলি

Brand –এ ভরসা

সস্তায় স্টাইল বাড়াতে রোদ চশমা কেনাটা কাজের কথা নয়। চশমার নানারকম ধরন আছে। দাম দিয়ে চশমা কেনাটাই উচিত। ব্র্যান্ডেড রোদ-চশমা কেনার পরও যদি সেটায় আপনার চোখে অসুবিধা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সব ঋতুতেই সানগ্লাস

শুধু গরমকালে রোদের তীব্রতা এড়াতেই রোদ-চশমা পরতে হয়, এই ধারণাটি ভুল। শীতকালেও রোদ-চশমা দরকার। কারণ, সূর্যের আলো আটকানোর পাশাপাশি, বাতাসে ভাসমান নানা ধূলিকনা থেকেও রোদ-চশমা রক্ষা করে আপনার চোখকে। একই ভাবে বর্ষাকালেও চোখের ইনফেকশন এড়াতে সানগ্লাসের প্রয়োজন।

সানগ্লাসে সঠিক পাওয়ার

আপনার চোখে পাওয়ার থাকলে, আপনি ফ্যাশনেবল হয়ে উঠতে পারবেন না এমন নয়। শুধু নির্দিষ্ট পাওয়ারের রোদ-চশমা পরা দরকার। ভুলেও দোকান থেকে কিনে সঙ্গে সঙ্গে ওই সানগ্লাস চোখে লাগিয়ে ঘুরবেন না। এতে ক্ষতি হবে আপনার চোখের।

অনলাইনে সানগ্লাস কেনা

অনলাইনে রোদ-চশমা কিনতেই পারেন। কিন্তু কেনার সময় মনে রাখবেন চোখে দেওয়ার আগে একবার চেনা দোকান বা চিকিৎসককে দেখিয়ে নেওয়া খুব দরকার। সেটি আপনার চোখের জন্য উপযুক্ত কিনা, সেটা জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

সানগ্লাসের রকমফের

সানগ্লাসের রং এখন আর বাদামি কিংবা কালোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বেগুনি, নীল, কমলা, সবুজ নানা রঙের সানগ্লাসও আজকের বাজারে বেশ জনপ্রিয়। স্বচ্ছ কাচের সানগ্লাসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। রঙের ভিন্নতার সঙ্গে পেয়ে যাবেন নানা কারুকাজের বর্ডারযুক্ত সানগ্লাসও। আপনার চেহারা ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই নয় অথচ ফ্যাশনের ঝোঁকে পড়ে রঙিন গ্লাস ও ডিজাইন-যুক্ত সানগ্লাস কিনলেই মুশকিল। সানগ্লাস কেনার সময় আপনার মুখের গড়ন ও গায়ে রং এই দুটি বিষয় কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১২

বিয়ে প্রথম থেকেই শুনে আসছে শেলীদেবী নাকি তাঁর সময়ে একটি স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু সংসারের কথা ভেবে ছেলেদের দেখবার জন্য তিনি কখনওই ঘর ছেড়ে বাইরে পা দেননি। কথাটা যে পরোক্ষে কী বোঝাতে চাইছে একটা পাঁচ বছরের শিশুও বুঝতে পারবে। এমনকী এও বলেন, তাঁর প্রথম সন্তান হওয়ার সময় শিশুটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার যাবতীয় দায়ভার গ্রহণ করেছিলেন শাশুড়ির বাবা। বোঝানোর অর্থ একটাই শুধু সন্তান আনলেই হবে না, তার দায়ভার কিন্তু মেয়ে বাপের বাড়িকেই নিতে হবে। যেহেতু শাশুড়ির ক্ষেত্রেও এই একই রীতি ঘটেছিল, তাই তাঁর বউমা কস্তুরীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটা চাই-ই চাই।

এ অনেকটা কলেজের সিনিয়ররা ঠিক যেমন ভাবে জুনিয়রদের অভ্যর্থনা করে তেমনই। নিজেরা কোনও কারণে অত্যাচারিত হলে পরের প্রজন্মকেও অত্যাচার সহ্য করতে হবে। এটাই রীতি। আর এই বাপের বাড়ি প্রসঙ্গ য়ে কস্তুরীর কত বড়ো অসহায়তার জায়গা, তা তো একমাত্র ওই জানে। প্রতিটা ধাপে লড়াই করে করে ও হাঁপিয়ে উঠেছে। হাঁপিয়ে উঠেছে নিজের রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, নিজের জিন বহনকারী পূর্বপুরুষদের অপরিণামদর্শিতা দেখে। সেখানে তমালের গোটা পরিবার তো বাইরের লোক! ওরা ওর কথা ভাববে কেন?

কস্তুরী সবসময় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, ও যদি আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ে মতো মিশে থাকার চেহারা নিয়ে পৃথিবীতে আসত তাহলে হয়তো এত কিছু ঘটতই না। পৃথিবীটা হয়তো আরও সুন্দর হয়ে ধরা দিত একটু ভালোবাসা, একটু স্নেহ হয়তো ওর জন্যও বরাদ্দ থাকত। নয় কী?

তমাল কস্তুরীকে ভালোবাসে। ও সেটা বোঝে কিন্তু তাও মাঝে মাঝে এমন কতগুলো বিষয় আছে য়েগুলোর সামনে শুধু একটা করে বড়ো প্রশ্ন চিহ্ন এসে দাঁড়ায়। চারপাশটা হয়ে যায় খাঁ খাঁ ধূ ধূ প্রান্তরের মতো। চোখে ধুলো বালি ভিড় করে আসে। মনে হয় কেবল গোলকধাঁধার মতো কস্তুরী মরীচিকার পেছনে ছুটছে। য়েখানে কিচ্ছুটি উত্তর পাওয়া যায় না। সবটাই ধাঁধা। নাহলে সেদিনের ঘটনাটাই বা কেন ঘটবে? তমাল এভাবে সবার সামনে ওকে নীচু করতে পারল? কেন করল ও এমন?

এই তো সেই রবিবারে। ডাইনিং টেবিলে সবাই খেতে বসেছিল। কথায় কথায় সবিস্তারে নিজের নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা বলছিল সকলে। ঠিক তখনই তমাল কস্তুরীর থাইরয়েডের সমস্যার কথা বাবা-মায়ের সামনে বলে বসে। তমাল কথাটা বুঝে বলেছিল নাকি না-বুঝে বলেছিল জানে না। তবে কথাটা যেন কস্তুরীর জীবনের আরও এক দুর্বলতার দিককে আবরণহীন করে দিয়েছিল। তারপর থেকে ওই একই প্রসঙ্গ। সন্তান ও সন্তান না হওয়ার খাতায় কস্তুরীর নামই বর্তায়। তমালের মায়ের বদ্ধমূল ধারণা একটাই, থাইরয়েড হলে কখনও সন্তান আসতে পারে না। বড়ো বউ বংশের সন্তান আনতে পারবে না? আত্মীয় স্বজনের কাছে শেলীদেবী কীভাবে ব্যাপারটা সামলাবেন, সেটা নিয়ে তিনি দিনদিন ভীষণ ব্যাকুল হয়ে পড়েন।

মোবাইলের টুংটাং মেসেজের সুরটা এক-দুবার বেজে থেমে গেল। মেসেজ, ইউনিভার্সিটির বান্ধবীর। ওদের বিয়ে হয়েছে এক বছর হল। হানিমুনে গেছে এই সবে। ভাইজাগে। দুজনের ছবিও পাঠিয়েছে। কস্তুরী আর তমালকেও যেতে বলেছিল ওদের সাথে। আসলে পুরী, দিঘা, মন্দারমণির পর ভাইজাগ বাঙালির সেকেন্ড হানিমুন প্লেস। যেখানে একসাথে জঙ্গল, পাহাড়, সমুদ্র কম খরচায় দুর্দান্ত সিনারিজের সান্নিধ্য পাওয়া যায়। তমাল রাজি হয়নি।

আসলে মাইনে থেকে যা আসে শ্বশুরবাড়ির একতলার ইলেকট্রিক বিলেই চলে যায়। যেহেতু তমাল আর কস্তুরী নীচে থাকে। পাশের ঘরে থাকেন ঠাকুমা শাশুড়ি। বাবা-মা, ছোটো দেওর আর জায়ের ঘর ওপরে। সরকারি চাকরি করে না অথচ বড়ো হবার দায়ভার তমালকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিতে হয়। আর অনেকটা ঠিক ওই কারণেই ঘুরতে যাওয়ার উত্তরটা নাই এসেছিল। আপশোশ হচ্ছে না ঠিকই। কিন্তু বারেবারে ওর জীবনেই কেন নাটা ফিরে ফিরে আসে বুঝতে পারে না।

রামকৃষ্ণ বিচ, আরাকু, ভাইজাকে সাবমেরিন মিউজিয়াম নব-দম্পতি ঘুরে ঘুরে প্রকৃতির কিছু ছবি চেটে পুটে তুলেছে। কতরকম ছবি কতরকম পোজে তোলা। মোবাইলটা আরও বারকতক ভাইব্রেট হয়। আরও ছবি নাকি?

আরে। বিমলকাকুর ছেলে হঠাৎ…?

জেগে? কী অদ্ভুত প্রশ্ন।

হ্যাঁ। কস্তুরী জবাব দেয়।

না আসলে এটা তো বিশ্রামের সময়, দুপুরবেলা। তাই জিজ্ঞেস করলাম।

বলুন কিছু বলবেন?

না মানে তুমি ব্যস্ত থাকলে, থাক…।

বলতে পারেন। কস্তুরী অনুমতি দেয়।

ক্রমশ…

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব