সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১৬

হাত মুখ ধুয়ে ফোন করেছিল দিদিকে, কস্তুরী। দিদি আবার সেই আগের মতোই ধমকে, বাপি মায়ের চিন্তার কথা জানিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল কস্তুরীকে। খারাপ মন্তব্যে বিদ্ধ করেছিল একই ভাবে। কষ্ট পাওয়াটা যেন ওর কাছে একটা ডেলি রুটিনের মতো হয়ে গেছে। তাই সবটা নিঃশব্দে শুনে কস্তুরী বলেছিল কয়েকদিন কাটিয়ে ফিরে যাবে বাড়িতে। ও না থাকলে বাড়ির লোকের খুব একটা যে অসুবিধা হয় এটা মানতে নারাজ। আসলে অসুবিধাটা পায়েলেরই।

জামাইবাবুর সেই বন্ধুর সঙ্গে বিয়েটা পাকাপাকি করতে না পারলে হয়তো ওর দিদির শান্তি নেই। নির্দিষ্ট করে শান্তির সংজ্ঞাটা ঠিক কী, পৃথিবীর কেউই বলে দিতে পারবে না। সবেতে, সবকিছুতেই কস্তুরী পায়েলের থেকে পিছিয়ে অনেকটা পিছিয়ে এতটাই পিছিয়ে যে হাত বাড়িয়ে এর নাগাল পাওয়া একেবারেই অসম্ভব। তাহলে কীসের প্রতিযোগিতা? কীসের ক্ষোভ? যে সবকিছু জিতে আছে তার তো হেরে যাওয়ার কোনও ভয় থাকতে পারে না। থাকা উচিতও নয়। তবে?

আকাশের মেঘ অনেকটা কেটে গেলেও একটা গুমোটভাব প্রকৃতি জুড়ে আছে। জানলার কাছটাতে বসে বসে ভাবনা জড়িয়ে জাপটে ধরছিল নতুন করে। দুটো দিন ঘুমিয়ে নিতান্ত সারাদিন চুপচাপ বসে, কখনও বড়োমামার দোকানে গিয়ে ঘোরাফেরা করে, পাড়ার বয়স্ক কাকা-জেঠু আরও কিছু চেনাপরিচিতদের সঙ্গে গল্পগুজব করেও মনের অস্তিত্বগুলো কাটাতে পারছিল না। তাহলে কি সত্যি সত্যি দিদির কথাতেই বাপি মায়ের মতে মত দিতে হবে?

ও কি একবারের জন্যও…?

আমাদের আর দেখা না-হওয়াই ভালো। চিঠিতে ওর শেষ কথাটা এখনও কানে বাজে। তাহলে কেন এগিয়েছিল এভাবে? কেন লিখেছিল একটার পর একটা চিঠি। কেন ওর হাত ধরেছিল? কস্তুরী তো কোনওরকম জোর ফলায়নি ওর ওপর। পার্কের একেবারে রাস্তার ধারের বেঞ্চিতে বসে কস্তুরীর কথা শুনতে শুনতে আকাশের গায়ে ছোট্ট হয়ে আসা কাগজের একটা লাল বিন্দুর দিকে তাকিয়ে আচমকা বলে উঠেছিল, জানো আমি হচ্ছি গিয়ে ওই ঘুড়ির মতো, সুতোটা কারুর না-কারুর হাতে কখনও না কখনও ঠিক ধরা আছে। রাগ হয়েছিল খুব। খুব রাগ হয়েছিল ওর ওপর নয়, নিজের ওপর। কিন্তু বুক ঠেলে উঠে আসা কথাগুলো চিত্কার করে বলতে পারেনি। বলতে পারেনি আর কত হারবে কস্তুরী?

ভালোবাসা একতরফা হয় না। হতে পারে না। কস্তুরী ভুল করেছিল। বাড়ি ফিরেই ওর সমস্ত অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। ওর সামান্য অস্তিত্ব নিজের কাছে রাখা মানে নিজেকে নিজে অপমান করা, আর নয়। তবু সবকিছু পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে একবার কস্তুরী ওর সাথে দেখা করতে চায়। একবারের জন্য! জানাতে চায় কস্তুরী ওর মতো নাটক করেনি, কস্তুরী ওর হাতটা ধরতে চেয়েছিল, ভারী ওজনদার কেরিয়ারের মানুষ না বেছে ছাপোষা একটা আটপৌরে মানুষ চেয়েছিল।

ক্ষণিকের জন্য খুঁজে পেলেও, ক্ষণিকের জন্য ধরা দিয়ে কেন এভাবে ওকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে ও…। ওরা দুজনে কি একটা ছোটো চেষ্টা করে দেখতে পারে না? একটা ছোট্ট চেষ্টা…? একটা সিদ্ধান্তে আসে। মামাদের ল্যান্ডলাইন থেকে রিং করে কস্তুরী ওদের বাড়ি। এখানে তো চোখে চোখে রাখার কেউ নেই। দিম্মামা কিছু বলবে না। বড়োমামা নিজের কাজে ব্যস্ত। ২৪৪৫-৯২… বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর…

হ্যালো…। মহিলা কন্ঠস্বর।

ওর মা নয়তো? খানিকক্ষণ থেমে বুকে সাহস জড়ো করে কস্তুরী ওর ছোটো ভাইয়ের নাম বলে। ওদের বাড়িতে ফোন করলে এমনটা বলারই কথা থাকত। ভাইয়ে হাতে ফোন গেলে ওকে পাওয়া যাবে। অন্তত ওর কাছে খবরটা যাবে।

হ্যালো দিপু আছে? আমি একটু ওর সাথে কথা বলতে চাই। কস্তুরী প্রশ্ন করে।

স্বাধীনতার ৭৫ কেমন আছেন নারীরা? (পর্ব-১)

মেক ইন ইন্ডিয়ার অধীনে নির্মিত নৌকা তারিণী-তে চড়ে ৬ জন মহিলা অফিসার একটি সাহসী অভিযান চালিয়েছিলেন। আইএনএস নৌকায় যাত্রা শুরুর সেই দিনটি ছিল ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭। অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বর্য রাই, এস বিজয়া, বর্তিকা জোশী, প্রতিভা জামওয়াল, পি স্বাতী এবং পায়েল গুপ্তা। ১৯ মে, ২০১৮ সালে ২১,৬০০ নটিক্যাল মাইল অর্থাৎ ২১৬ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরত্ব অতিক্রম করার পর ফিরে এসেছিলেন তাঁরা। এই অভিযানে প্রায় ২৫৪ দিন লেগেছে এবং এর সঙ্গে এই ৬টি নৌবাহিনীর নারী অফিসাররাও ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে নিয়েছেন।

২১ মে, ২০১৮ সালে তাঁরা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড এবং দক্ষিণে ছিলেন, তারপর আফ্রিকা হয়ে গোয়া পৌঁছেছেন। আসলে তাঁরা পুরুষদের মতো একই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন এবং সাফল্য পেয়েছেন। এটাই আজকের নারীর পরিবর্তিত চিত্র অর্থাৎ ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে চলা আজ নারীদের মূলমন্ত্র।

ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭৫ বছর হয়ে গেছে। স্বাধীনতার সাত দশকেরও বেশি সময় পরে দেশের নারীদের জীবনযাত্রায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তারা অনেক অধিকার পেয়েছেন, অনেক শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছেন, অনেক ধরনের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন, অনেক জায়গায় সাফল্যের পতাকা তুলেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরুষদের ছাড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এটা বলা যায় না যে, এখন তাদের জীবন সম্পূর্ণ জটমুক্ত। এখনও তারা অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার। আজও তারা সম্পূর্ণ মর্যাদা পান না, আজও তারা শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছেন এবং আজও তারা ভয়মুক্ত নন। চলুন দেখে নেওয়া যাক এই ৭৫ বছরে নারীদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

ইতিবাচক পরিবর্তন: সমাজ ও পরিবারে নারীর মর্যাদায় ধীরে ধীরে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

নারী শিক্ষিত হয়েছে

নিজের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা প্রয়োজন। আসলে, একজন নারীকে শিক্ষিত হতে হবে। নিজের অধিকার জানতে হবে এবং নিজের কর্তব্য পালন করতে হবে ও ভয় না পেয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নারীর উন্নয়নে শিক্ষার থাকে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা। স্বাধীনতার পর নারীরা যাতে সমান অধিকার পায় সেই চেষ্টা চলছে এবং এখান থেকেই বদলে যেতে শুরু করেছে পৃথিবী। শিক্ষার কারণে নারীর চেতনা জাগ্রত হয়েছিল। সীমাবদ্ধ এবং প্রাচীন দৃষ্টিকোন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের অধিকার সম্পর্কে এখন সচেতন হয়েছেন নারীরা।

পুরুষ শাষিত সমাজে চাকরির জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছেন মেয়েরা এবং আজ তারা অনেকটা আর্থিক ভাবে সুরক্ষিত। নারীরা এখন শুধু গৃহিণীর ভূমিকায় নেই, তারা ঘরের বাইরেও নানা ভূমিকায় কর্তৃত্ব করছেন। শুধু তাই নয়, সংসার চালাতে আর্থিক সহযোগিতা করছেন স্বামীকে। তাদের ভিতরে আত্মবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে এখন। তারা শুধু স্বামীর উপর ভরসা না করে, নিজেরা আর্থিক ভাবে স্বনির্ভর হয়ে পরিবার, পিতামাতা এবং স্বামীকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করতে শুরু করেছেন। যে-নারীরা বেশি শিক্ষিত নয়, তারাও তাদের মেয়েদের ভালো শিক্ষা দিতে শুরু করেছেন। সেইসঙ্গে  কিছু একটা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইছেন। এর একটি ইতিবাচক দিক আছে অবশ্যই।

গত সাত দশকে নারীদের কর্মসংস্থানের হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ অনেক মহিলা, কোম্পানির সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর হচ্ছেন, সর্বোচ্চ পদেও বসে আছেন। তারা কেবল পুরুষদের কাঁধ থেকে নয়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছেন।

জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের প্রবেশাধিকার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক দশক আগের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ছিল ৫৫.১ শতাংশ যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৪ শতাংশে। অর্থাৎ ১৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিও নারীর জীবনে শিক্ষার মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বড়ো বড়ো স্কুল-কলেজ থেকে মেয়েরা ঘরে বসেই পড়াশোনা করছেন। বিশাল অনলাইন কোম্পানিতে যোগদান করে পণ্য বিক্রিও করছেন। নিজের অধিকারের জন্যও সচেতন হচ্ছেন।

নতুন বছরের খাওয়াদাওয়া ও সুস্বাস্থ্য

নতুন বছরকে অভ্যর্থনা করতে পার্টি, পিকনিক, হই-হুল্লোড়, খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পটগুলি ভিড়, লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। যারা বাড়িতে আয়োজন সারতে চান তারা প্রস্তুতি শুরু করে দেন আগে থাকতেই। আয়োজনে ডিজে, নাচ-গান, ডিসকো কোনও কিছুই বাদ যায় না। কিন্তু এই আনন্দ হুল্লোড়বাজির সঙ্গে সমানতালে চলতে থাকে খানা-পিনার যুগলবন্দি। চারিদিকে যেখানে আনন্দ উত্তেজনার আবহ সেখানে মানুষ একটু বেহিসেবি হয়ে উঠবে তাতে আর আশ্চর্য কী! তাই দরকার Diet Control-এর।

নিজের আনন্দে সকলকে শামিল করার আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামাজিক মেলবন্ধনের বড়ো সুযোগ যা কিনা মানুষকে আনন্দে রেখে তার মানসিক স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখে।

অনেক সময়ে নতুন বছরের শুরুতে বেশ কয়েকদিন ধরেই কেউ না কেউ পার্টির আয়োজন করতেই থাকেন ফলে চেনা-পরিচিতের মধ্যেই একই ব্যক্তি একাধিকবার নিমন্ত্রিত অতিথির লিস্টে থাকেন। বছরের শুরুতে পার্টি করার এই মানসিকতা যখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে, তখন দেখা যায় অনেকেরই ওজন বেশ কয়েক কিলো বেড়ে গেছে।

সারা বছরের চেষ্টায় Diet Control-করে ওজন কমাবার পর হঠাৎ ওজন আবার মাত্রাছাড়া হলেই অনেকেই অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, যা কিনা বাস্তবে ওজন আরও বাড়ায়। কারণ অবসাদের কারণে, যে-হরমোনটি আমাদের শরীরে খিদে বাড়ায় সেটির সিক্রিশনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সুতরাং উচিত হচ্ছে খালি পেটে না থাকা, খাবারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, এবং সঠিক খাবার বেছে নেওয়া। খাবারে রাখুন অধিক ফাইবার যুক্ত খাবার এবং মিষ্টির জায়গায় রাখুন ফলের ডেসার্ট।

অধিক ফাইবার-যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন

ফাইবার-যুক্ত খাবার খান কারণ এই ধরনের খাবার মনে তৃপ্তির উপলব্ধি এনে দেয়। অনেক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা মনে হয়। ফলে ওভারইটিং-এর সমস্যা হয় না এবং আহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হয়। দানাশস্যতে অধিক মাত্রায় পুষ্টিকর তত্ত্ব থাকে। এতে ক্যালোরির মাত্রা কম করা সম্ভব হয়।

এছাড়াও প্যাকেটের খাবার বা প্রসেসড ফুড-এর তুলনায় দানাশস্যে পেট অনেক বেশি ভরা উপলব্ধি হয়। ক্যালোরিযুক্ত মেন কোর্স মিল শুরু করার আগে কোনও একটা হেলদি ডিশ অবশ্যই খেয়ে নিন এবং কম এনার্জির খাদ্যপদার্থ যেমন স্যালাড বা ভেজিটেবল সু্পও আগে খেতে পারেন।

সবজিতে ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং জলের মাত্রা অধিক থাকে যার ফলে এগুলি সেবন করলে পেট অনেক বেশি ভরা মনে হয়। সুতরাং সবজি বেশি করে খেলে খাওয়ার পরিমাণ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

প্রত্যেক মিলের সঙ্গে প্রোটিন নেওয়া বাঞ্ছনীয়। শরীরের টিশু মজবুত করতে যেমন প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে, তেমনি লিন বডি মাস (এলবিএম)-এর জন্যও প্রোটিন অত্যন্ত লাভজনক। মিল-এর মাঝে মাঝে ড্রাইফ্রুটস, নানা ধরনের বীজ, হেলদি স্ন্যাকস-এর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

ফলের ডেসার্ট : খাওয়ার পর মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবে খাবারের শেষ পাতে মিষ্টি থাকবে না, এটা সম্ভব নয়। কিন্তু ময়দা, চিনি স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী সুতরাং দানাশস্যের আটা যেমন গমের আটা, গুড় ইত্যাদি দ্বারা প্রস্তুত মিষ্টান্ন অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এছাড়াও ফল দিয়ে তৈরি ডেসার্ট যেমন, ফ্রুট ইয়োগার্ট, শরবত পেটের পক্ষে খুব হালকা। রসে টইটম্বুর মিষ্টি বা রাবড়ি, জিলিপি থেকে ফল দিয়ে তৈরি ডেসার্ট অনেক বেশি স্বাস্থ্যবর্ধক।

রুপোলি রাংতা দেওয়া মিষ্টিও শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কারণ রাংতায় অ্যালুমিনিয়াম মেশানো থাকে। এছাড়াও কৃত্রিম রং ব্যবহার করে যেসব মিষ্টি তৈরি হয়, সেগুলিও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। বরং ফল থেকে তৈরি বিভিন্ন প্রাকৃতিক রং যে-মিষ্টিগুলিতে ব্যবহার করা হয়, সেগুলি খেলে শরীরে ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে না।

এই ভুল করবেন না: আমরা একটা বড়ো ভুল করি, কোনওকিছু তেলে ভাজার পর বেঁচে যাওয়া তেলটা আবার রান্নায় ব্যবহার করি। বেঁচে যাওয়া তেলের দ্বিতীয়বার ব্যবহারে ফ্রি-রেডিকলস তৈরি হয়, যেটি কিনা শরীরের শিরা-উপশিরাগুলিকে অবরুদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিডিটির সমস্যাও বাড়িয়ে তোলে। ভাজাভুজি খাওয়ার বদলে স্টিমিং, গ্রিলিং, রোস্টিং ইত্যাদি হল স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

শরীরে পর্যাপ্ত জলের স্তর: ক্যালোরি কম করার একটি সহজ উপায় হল কোল্ড ড্রিংকস-এর বদলে জল পান করুন যাতে পেট ভরবে এবং মাত্রাতিরিক্ত ক্যালোরি আপনার শরীরে প্রবেশ করবে না। জুসের প্যাকড বোতল, সোডা, এরেটেড ড্রিংকস বা অ্যালেকোহলিক ড্রিংকস-এর বদলে জল পান হল সবথেকে ভালো বিকল্প। এতে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা যেমন নিয়ন্ত্রিত থাকবে, তেমনি শরীরও প্রাকৃতিক উপায়ে হাইড্রেটেড থাকবে। এতে খিদে নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।

খেলাধুলা, ব্যায়াম ইত্যাদি শরীরে এনার্জি লেভেল বাড়িয়ে তোলে, গ্যাসট্রাইটিস থেকেও সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। যেগুলি ন্যাচারাল ড্রিংকস যেমন স্মুদি, দইয়ের ঘোল, মিল্কশেক (লো ফ্যাট, কম চিনি), ছাচ ইত্যাদি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডায়েটের সঙ্গে সঙ্গে এক্সারসাইজ, ব্যায়াম করা অত্যন্ত আবশ্যক। এর ফলে যেমন অবসাদ কম হয়, তেমনি এর প্রভাব পড়ে খাওয়াদাওয়ার অভ্যাসের উপর সোজাসুজি অথবা পরোক্ষ ভাবে। ব্যায়াম করার ফলে এন্ডোমার্ফিস-এর মাত্রা বাড়তে থাকে। ফলে মানুষের ইতিবাচক মানসিকতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে না এবং সারাদিন এনার্জিতে ভরপুর থাকতে পারবেন।

এছাড়াও নিয়মিত ভাবে ব্যায়াম করলে পেশির এনাবলিজমের জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে এবং এর জন্য মাসল লস-ও রোধ করা সম্ভব হয়। ভালো শরীর-স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সপ্তাহে ৫-৬দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শারীরিক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নতুন বছরের হইচই, আনন্দে অংশ নিতে সকলেই প্রলুব্ধ হন। খাওয়াদাওয়া, জীবনের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি অনুষ্ঠান উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে কিছুটা সাবধান হয়ে সোনালি ভবিষ্যতের পথ সুগম করুন।

 

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১৫

কস্তুরী দিম্মামায়ের আরও গা ঘেঁষে বসেছিল। জানত এই একটা জায়গাতেই মন উজাড় করে সবটা বলতে পারে। নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে নিরাপদে। কথা বলতে বলতে জানলা দিয়ে মন বারবার চলে যাচ্ছিল মেঘের ওপারে। আকাশের সেই কালো, ধোঁয়াটে, ঘোলাটে জায়গাটায়! যেখান থেকে অঝোরধারায় বৃষ্টি হয়ে চলেছিল টানা একদিনেরও বেশি। কথা বলতে বলতে কখন যে-একটা দিন গড়িয়ে গেছিল বুঝতেই পারেনি। কস্তুরীর দুচোখের পাতায় পাতায় ফুটে উঠেছিল গোটা একটা ছবি।

একটা অন্ধকার রাত। মিটমিটে মিশমিশে কালোয় ঢাকা একটা পাহাড়ের কোনও উঁচু অংশ। অথচ খুব অদ্ভুত ভাবেই অন্ধকারেও ওই উঁচু অংশটা চোখে পড়ছে। এমনটা প্রায়ই কোনও পার্বত্য এলাকায় চোখে পড়ে। ঠান্ডা কনকনে একটা হাওয়া পাক খেয়ে খেয়ে আঁকড়ে ধরছে ওর শরীরটা। মনে হচ্ছে কস্তুরী কোনও ঘরে নেই! বসে রয়েছে আলো নিভে আসা একটা রাতের পাহাড়ে। পথের কোনও এক বাঁকে শীত যেন ছোবল মারছে ওর পায়ে আচমকা একটা তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ও আতিপাতি করে ওর চারপাশে গন্ধের উত্স খোঁজার চেষ্টা করছে, কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না। গন্ধটা ঠিক কোথা থেকে আসছে? গন্ধটা কিন্তু এক মুহূর্তের জন্য কমছে না। বরং ঝাঁঝালো গন্ধটার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটা চরম মিষ্টতা। দূর থেকে এ গন্ধের সুবাস ভালো লাগলেও কস্তুরীর গা গুলিয়ে উঠতে শুরু করে। মনে হয় গন্ধের উগ্রতায় ওর চোখ নাক জ্বলতে শুরু করবে এখনই।

হঠাৎই লক্ষ করে একটা মরা আলো গাছপাতার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। সামান্য চাঁদের আলো, খানিকটা এসেও পড়েছে ওই উঁচু পাথুরে নিস্পন্দ অংশে। কস্তুরীর দমবন্ধ হয়ে আসছে। ও এই গন্ধটা থেকে পালিয়ে যেতে চাইছে, কিন্তু পারছে না। কিছুক্ষণ সব থমথমে। কোথাও কোনও শব্দ নেই। একটাও রাতচরা জেগে নেই। কেন এত নিস্তব্ধ পৃথিবী? তারপরেই একটু একটু করে ছোটো বড়ো সবুজ কালোর পাতায় পাতায় তালির মতো শব্দ হতে শুরু করে। অনেকটা ছোটো শিশু দুহাতে হাততালি দিলে যেমন শুনতে লাগবে তেমনই। কিছু একটা হবে নিশ্চয়ই। ভয়ানক কিছু? তারই ইশারা গাছে গাছে, পাতায় পাতায়?

কে আসছে…? তারা এক না অনেক? কোনও একটা প্রাণের অস্তিত্ব এগিয়ে আসছে কী? সে মানুষ না জন্তু? আর তারপরেই শোঁ শোঁ করে বাতাস ফালাফালা করে একটা নীচু ধারালো শব্দ চোখের পলকে এসে গেঁথে যায় ওর পিঠে। ঝাঁকুনি দিয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে কস্তুরীর গোটা শরীরটা। প্রবল একটা যন্ত্রণা। কিছু একটা নিশ্চয়ই বিঁধে আছে ওর শরীরে। উফঃ কী কষ্ট..। গলা শুকিয়ে আসছে, ঠোঁট দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। আর হয়তো কোনওদিন কোনও কথা বলতে পারবে না ও…।

অসম্ভব জ্বালা সহ্য করতে না পেরে মুখে প্রচণ্ড শব্দ করে ধড়ফড় করে উঠে বসে পড়ে কস্তুরী। ঘামে চুপচুপে হয়ে গেছে গোটা শরীর। ঠিক পিঠের যে-জায়গাটায় কিছু একটা লেগেছিল অসম্ভব জ্বালা করছিল নিজের অজান্তেই হাতটা চলে যায় ওখানে। একটা ঘামে ভিজে ওঠা চামড়া আর রাতে পরে থাকা জামার অংশ ছাড়া আর কিছুই হাতে ঠেকে না।

স্বপ্ন? তাহলে গোটাটাই স্বপ্ন? ভযংকর। অবিশ্বাস্য!

এতটা স্পষ্ট একটা স্বপ্ন কখনও হতে পারে? কেন? কেন দেখল? সারাদিনের নানা চিন্তাই কী ওর মনের আবছা কোশে রয়ে গেছে? সেসবই অবচেতনের আড়াল থেকে নিজের স্বরূপ নিয়ে বেরিয়ে আসছে? চোখে মুখে একটা বিশ্রীভাব জেগে আছে শুধু। চারপাশে তাকিয়ে দেখল দিম্মামা কখন বিছানা ছেড়ে উঠে গেছে। পাশের বিছানার চাদরটা টানটান করা। ও এলে দিম্মামায়ের ঘরেই শোয়, ছোটোবেলার মতো।

মাথার কাছের পূবের জানলাটা দিয়ে কড়কড়ে রোদ ঘরে ঢুকতে চাইছে। বৃষ্টি কমে গেছে! শীত দিনেরবেলাতেও তার দাপট দেখাতে চাইছে। রোদের সঙ্গে সঙ্গে দাঁতে দাঁত লেগে যাওয়ার মতো একটা হাওয়াও বইছে। দিম্মামা পর্দাটা আড়াল করে দিয়ে গেছে, যাতে ওর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে। ঘাড়ের নীচে ডানহাতের আঙুল ঢোকাতেই ভেজা চুলগুলোয় বিলি কাটতে কাটতে দেখে বড়োমামা হন্তদন্ত হয়ে ওর ঘরে ঢুকছে।

তাড়াতাড়ি মুখ চোখ ধুয়ে নে। পায়ে বারবার তোকে চাইছে। সকাল থেকে কতবার যে ফোন করেছে। বড়োমামার কথা শুনে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায় কস্তুরী।

একী বারোটা বাজতে যায়। এত বেলা হয়ে গেছে? কেউ ডেকে দেয়নি, ইশ। এখন? দিদি?

নতুন বছরের নতুন Resolutions

নতুন বছরে জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হবে না একথা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না। নতুন Resolution রাখুন যে কবজি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া করবেন ঠিকই তবে খেয়াল রাখবেন শরীর-স্বাস্থ্যকে অবহেলা বা উপেক্ষা করে নয়। তাহলে নিশ্চয়ই ভাবছেন করণীয় কী?

নতুন বছরকে অভ্যর্থনা করতে পার্টি, পিকনিক, হই-হুল্লোড়, খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পটগুলি ভিড়, লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। যারা বাড়িতে আয়োজন সারতে চান তারা প্রস্তুতি শুরু করে দেন আগে থাকতেই। আয়োজনে ডিজে, নাচ-গান, ডিসকো কোনও কিছুই বাদ যায় না। কিন্তু এই আনন্দ হুল্লোড়বাজির সঙ্গে সমানতালে চলতে থাকে খানা-পিনার যুগলবন্দি। চারিদিকে যেখানে আনন্দ উত্তেজনার আবহ সেখানে মানুষ একটু বেহিসেবি হয়ে উঠবে তাতে আর আশ্চর্য কী!

নতুন বছরকে অভ্যর্থনা জানাতে অথবা যে-কোনও আনন্দানুষ্ঠানেই আমরা নিজেদের পছন্দের বিশেষ বিশেষ ভালো ভালো খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথাই চিন্তা করি। অথচ শরীর স্বাস্থ্যর কথা একটি বারের জন্যও ভাবি না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই ধরনের অনুষ্ঠানে খাওয়াদাওয়া করে এসেই অনেকের শরীর খারাপ হয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে অতিরিক্ত তেল মশলাদার খাবার, প্রসেসড ফুড, নানা ধরনের মিষ্টান্ন সঙ্গে অ্যালকোহল সেবনের কারণে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা অত্যধিক বেড়ে যায়।

অত্যধিক ক্যালোরি মানেই ফ্যাট, সুগার, কনসেনট্রেটেড ড্রিংকস তথা অধিক লবণযুক্ত অর্থাৎ সোডিয়ামে ভরপুর খাবারের ইনটেক। এর ফলে ওজন যেমন বাড়ে তেমনি হজম সংক্রান্ত সমস্যারও মুখোমুখি হন অনেকেই যেমন অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীরে জলের মাত্রা কমে যাওয়া ইত্যাদি।

এইসব কারণে এই ধরনের অনুষ্ঠানপর্বে অথবা উৎসব চলাকালীন কিছু সাবধানতা মেনে বিশেষ মুহূর্তটির আনন্দ উপভোগ করুন। আসন্ন নতুন বছরের জন্য শরীর-স্বাস্থ্য ভালো রাখার কয়েকটি সহজ উপায় আপনাদের সুবিধার্থে এখানে জানানো হল।

খালি পেটে থাকবেন না

পুরো দিন সুস্থ এবং ব্যালেন্সড থাকতে, দিনের শুরু করুন ব্রেকফাস্ট দিয়ে ডায়েটে রাখুন দানাশস্য, লো ফ্যাট প্রোটিন, ফল ইত্যাদি। বাড়ি থেকে বেরোবার আগে পেট ভরে খেয়ে তবেই কারও সঙ্গে দেখা করতে যান, যাতে সেখানে গিয়ে আজেবাজে খাবার খেয়ে পেট ভরাতে না হয়।

বেশির ভাগ সময়ে খাওয়াদাওয়ার বিশেষ আয়োজনে, আমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য যাতে সেখানে গিয়ে মন ভরে, পেট পুরে খাওয়া যায় তার জন্য বাড়িতে একটা মিল অনেকেই স্কিপ করেন। ফলে খাবার সময়ে ওভারইটিং হয়ে যায়। খালি পেট হওয়ার ফলে সেরোটোনিন লেভেল কমে যায়। এর ফলে যখনই খালি পেটে দীর্ঘ সময় আমরা কাটাই, স্ট্রেস লেভেল বাড়তে থাকে আর একটানা কিছু না কিছু আমরা খেতে থাকি। ফলে প্রয়োজনের বেশি খাবার আমরা খেয়ে ফেলি।

সুতরাং ওভারইটিং রোধ করতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত খাবার খান (১টি বড়ো মিল এবং ২টি স্ন্যাকস জাতীয় খাবার)।

খাবারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন

কতটা খাচ্ছেন সেটা খেয়াল রাখুন। এটাকে পোর্শন কন্ট্রোল বলা হয় কারণ পেট ভরে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর শরীর সেটা বুঝতে পারে। সেজন্য পেট সম্পূর্ণ ভরে গেছে এই উপলব্ধি না হওয়া অবধি আপনি যদি খেতে থাকেন, তাহলে সেটা ওভারইটিং হয়ে যাবে।

সুতরাং একবারে কম করে খান। ধীরে ধীরে খাবার খেলে শরীরও বুঝতে পারবে আপনি পর্যাপ্ত মাত্রায় খেয়ে নিয়েছেন, ফলে ওভারইট করবেন না।

সঠিক খাবার খান

শরীর সুস্থ রাখার এটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাদ্যবস্তুর সঠিক চয়ন এবং বিকল্প বেছে নিতে পারলেই খাওয়াদাওয়া দ্বিগুন হয়ে উঠবে আনন্দ। কারণ এক্ষেত্রে আপনি স্বাস্থ্যসচেতন এবং শরীরের কোনও ক্ষতি হোক এই ভাবনার থেকে আপনি শতহস্ত দূরে।

অধিক ফাইবার-যুক্ত খাবার গ্রহণ করুন

ফাইবার-যুক্ত খাবার খান কারণ এই ধরনের খাবার মনে তৃপ্তির উপলব্ধি এনে দেয়। অনেক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা মনে হয়। ফলে ওভারইটিং-এর সমস্যা হয় না এবং আহারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হয়। দানাশস্যতে অধিক মাত্রায় পুষ্টিকর তত্ত্ব থাকে। এতে ক্যালোরির মাত্রা কম করা সম্ভব হয়।

এছাড়াও প্যাকেটের খাবার বা প্রসেসড ফুড-এর তুলনায় দানাশস্যে পেট অনেক বেশি ভরা উপলব্ধি হয়। ক্যালোরিযুক্ত মেন কোর্স মিল শুরু করার আগে কোনও একটা হেলদি ডিশ অবশ্যই খেয়ে নিন এবং কম এনার্জির খাদ্যপদার্থ যেমন স্যালাড বা ভেজিটেবল সু্পও আগে খেতে পারেন।

সবজিতে ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার এবং জলের মাত্রা অধিক থাকে যার ফলে এগুলি সেবন করলে পেট অনেক বেশি ভরা মনে হয়। সুতরাং সবজি বেশি করে খেলে খাওয়ার পরিমাণ নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

প্রত্যেক মিলের সঙ্গে প্রোটিন নেওয়া বাঞ্ছনীয়। শরীরের টিশু মজবুত করতে যেমন প্রোটিনের প্রয়োজন পড়ে, তেমনি লিন বডি মাস (এলবিএম)-এর জন্যও প্রোটিন অত্যন্ত লাভজনক।

সম্প্রতি নানা রিসার্চের মাধ্যমে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রত্যেক মিল-এর মাঝে ফিলার্স হিসেবে সঠিক মাত্রায় পর্যাপ্ত প্রোটিন খেলে, ব্লাডসুগার লেভেলের হঠাৎ বাড়া-কমাকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারা যায়। সুতরাং মিল-এর মাঝে মাঝে ড্রাইফ্রুটস, নানা ধরনের বীজ হেলদি স্ন্যাকস-এর বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১৪

তুমি কী ভাবো বলো তো? আমি এখনও সেই ছোটোটা আছি। তোমার সেই কালুডাক্তার, এখনও উনি বেঁচে আছেন? আমার খুব মনে আছে। কাচের শিশিতে সাদা সাদা মিষ্টি বড়ি। কী স্বাদ লাগত জানো। এখনও মুখে লেগে আছে। তোমার কাছে আছে? মা ওমা… দাও না দাও কয়েকটা দানা খাই। দিম্মামায়ের নরম তুলতুলে কোলে নাক ডুবিয়ে এক নাক গন্ধ টেনে মুখ তুলে বলে ও।

ধুর পাগলি শুধুমুধু কেউ খায় নাকি? তোর মতিগতি দেখে তো মনে হচ্ছে নিশ্চয়ই কিছু হয়েছে। গতরটা কেমন গোলাপি গোলাপি লাগছে। হুম বুঝেছি এইবারে বুঝেছি… রসে টান পড়েছে বুঝি?

যাহ। তুমি না…। খালি বাজে কথা বলো। তোমার কথাগুলো বড্ড স্ল্যাং…। ছি…! আমি তোমার কাছে কখনও এমনি এমনি আসতে পারি না, নাকি?

উঁহু তাই বলেছি? আসতে একবার কেন একশোবার পারিস। তবে বলা-কওয়া নেই। আমার কেমন যেন ঠেকছে…। তা তুই যাই বলিস। বল না মেয়ে নাগরের ওপর রাগ? গোঁসা করে কতদিন থাকবি শুনি।

যতদিন পারব…। আমার দায় তো সত্যি সত্যি তার নেই। মুখ নীচু করে কস্তুরী কথাগুলো বলে যায়। চাপা অভিমানে অল্প ওঠানামা করে ওর নাকের পাটা।

বটে! এত… কোমরের ভাঁজে জোরসে একটা আদুরে চিমটি কাটে দিম্মামা।

আহঃ। লাগছে।

তা বাপু। একটু আধটু ওরকম লাগে…। রাগ করতে নেই। হায় ভগবান আমার কী সে কপাল আছে? পুতি দেখে চোখ স্বার্থক করব। দিম্মামা মুচকি হেসে কস্তুরীর পেটে হাত বোলাতে থাকে।

ইশ, চুপ করো। আমি চললাম। তোমার সঙ্গে আর কথা বলব না। জড়োসড়ো হয়ে বিছানায় উঠে বসতেই কস্তুরীর হাত টেনে ধরে ওর দিম্মামা।

সব শুনছি, আগে একটা কথা বলতো? কাল সেই কলেজ থেকে ঝড়-জল মাথায় নিয়ে এখানে চলে এলি। বাড়িতে তোর মা-বাবাকে ফোন করে বলেছিস তো? নাহলে কথায় কথায় তো তোর মা আমাকে দোষারোপ করতে ছাড়ে না। নিজের পেটের মেয়ে হয়ে আঙুল তোলে আমাকেই।

বাপিকে ফোন করে বলে দিয়েছি, আমি তোমার আর বড়োমামার কাছে কিছুদিন থাকব। বাড়িতে ফিরতে ইচ্ছে করছে না। কলেজেও এখন চাপ নেই তেমন। দরকার পড়লে এখান থেকেই যাব। কত আর দূর। সরশুনা কদমতলা থেকে ঠাকুরপুকুর বাসস্ট্যান্ড। তোমাদের বাড়ির থেকে তো কাছে, বাস ধরব আর সোজা গিয়ে নামব কলেজের সামনে। সেসব নিয়ে তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।

আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলো তো? তুমি মা হয়ে মেয়ে চোখ রাঙানি সবসময় কেন মেনে নাও? কিছু বলতে পারো না? জ্ঞান হয়ে থেকে দেখছি মায়ের গোটা লাইফটা হেল হয়ে গেছে বলে তোমাকেই দোষে। বাপির সঙ্গেও সারাক্ষণ খিটখিট লেগেই আছে। বিশ্বাস করো আমি আজও বুঝতে পারি না, মা কী চায়? কেন চায়?

মেনে কী নিই সাধে। তোর মা যে আমার আর তোর দাদুর আদরের পুতুল। দুদুটো ছেলে পরপর হওয়ার পর কত আশা করে হয়েছে তোর মা। সেই দিনটার কথা এখনও মনে পড়ে, যখন প্রথম হাসপাতাল থেকে তোর মাকে নিয়ে বাড়ি ফিরি, ওর দুই দাদা আনন্দে লাফাতে লাফাতে সদরে গিয়ে দাঁড়ায়। কী যে আনন্দ ওদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল বলে বোঝাতে পারব না।

বড়োছেলের চেয়ে ছোটোটা একটু চটপটে বলিয়েকইয়ে ছিল গেঁড়া বয়স থেকেই। জানিস তো ভালোরকম, তোর বল্টুমামা বরাবরই বেশি কথা বলে, রিকশার কাছে দৌড়ে এসে বলেছিল, মা আমার জন্য পুতুল এনেছ? পুতুল? আর সত্যি তো যেমন ফুটফুটে রং আর তেমন কাটা কাটা চোখ-মুখ। ওই থেকেই নাম রাখি পুতুল। খানিকটা তোর দাদুর মতো লাগে, তবে বেশিরভাগটাই ওর নিজের মতো।

আমাদের শ্বশুড়বাড়ির সব্বাই তো ওর নাম রেখেছিল গোলাপি। সবার খুব আদরের ছিল তো, তাই মেজাজটা একটু…। তুইও তো হুবহু ওর মতো…তাইতো তোকে দেখেই আমি আমার কাছে দিয়ে আসার কথা বলেছিলাম…। থাকতে পারিনি রে। তোর মায়ের ছোটোবেলাকার কথা মনে পড়ে গেছিল।

হ্যাঁ সবাই বলে আমাকে নাকি মায়ের মতো দেখতে। সবাই তো এও বলে, মেযো মা-মুখী হলে কখনও সুখী হয় না।

অ্যাই পকো। কী সব অলুক্ষণে কথাবার্তা শিখেছিস বড়ো হয়ে এসে থেকে খালি ট্যারা ট্যারা কথা…। এবার বেশ বুঝতে পারছি, ভালোরকম একটা কিছু বাঁধিয়ে এসেছে মেয়ে নাও আর দেরি কোরো না। বলতে শুরু করো।

***

মেনস্ট্রুয়াল Hygiene,সচেতনতা কতটা?

মাসিক ধর্ম অতি স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক একটি বিষয়। সব মহিলাকেই এই পর্যায়টি অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে, মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য ও ঋতুকালীন সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সময় হয়েছে Hygiene বিষয়ে সচেতন হওয়ার।

পরিসংখ্যান অনুযাযী আমাদের দেশ ভারতবর্ষের সবকটি রাজ্যের মধ্যে শুধুমাত্র ২টি রাজ্য, গুজরাত এবং মেঘালয়ে ৬৫ শতাংশ মহিলা পিরিয়ড প্রোডাক্টস ব্যবহার করেন। বাকি আর সব রাজ্যে এই সংখ্যা বেশ কম। আধুনিকতা এবং প্রচারের সবরকম বিকল্প থাকা সত্ত্বেও দেশের তিন চতুর্থের বেশি, প্রায় ৮২ শতাংশ মহিলাই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন না এবং পিরিয়ড চলাকালীন সেই পুরোনো পদ্ধতি মেনে চলেন। এর প্রধান কারণ হল আজও অধিকাংশ নারী, এই বিষয়ে কথা বলা লজ্জাজনক বলে মনে করেন। এর ফলে সংক্রমণ হওয়ার ভয় যেমন থাকে তেমনি বন্ধ্যাত্ব এবং ক্যান্সারেরও ভয় থাকে। সেজন্য প্রযোজন Hygiene সম্পর্কে সচেতনতা, যাতে পিরিয়ড চলাকালীন স্যানিটারি প্রোডাক্টস ব্যবহার করে মহিলারা নিজেদের হাইজিন-এর বিষয়ে সচেতন থাকতে পারেন।

পরিসংখ্যান কী বলছে?

রাষ্ট্রীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা-র তথ্য অনুযাযী বিহারের মহিলাদের মধ্যে হাইজিন নিয়ে সচেতনতা সবথেকে কম। ওখানে মাত্র ৫৯ শতাংশ নারী, পিরিয়ডস-এর সময় সুরক্ষিত নিরাপদ উপায় অবলম্বন করেন। আজও সারা দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি ৫০ শতাংশ মহিলা, ঋতুস্রাবের সময় কাপড় ব্যবহার করে থাকেন। জানলে আশ্চর্য হবেন যে প্রতিবছর সারাবিশ্বে, পিরিয়ড সংক্রান্ত গুরুতর সংক্রমণের কারণে লক্ষাধিক মহিলার মৃত্যু হয়। এই পরিসংখ্যান সত্যিই দুশ্চিন্তার।

সার্ভাইকাল ক্যান্সার হওয়ার কারণ

পিরিয়ডস চলাকালীন যখন মহিলারা অপরিচ্ছন্ন কাপড় ব্যবহার করে থাকেন তখন যোনিতে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এর সঙ্গে সোজাসুজি সম্পর্ক রয়েছে সার্ভাইকাল ক্যান্সারের। ভারতে প্রতিবছর ইউটেরাস এবং সার্ভাইকাল ক্যান্সারে হাজারের বেশি মহিলার মৃত্যু হয়। গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা সব থেকে বেশি। গ্রামের মহিলারা পিরিয়ড চলাকালীন বিন্দুমাত্র Hygiene-এর তোয়াক্কা করেন না। এই ক্ষেত্রে প্রজনন অঙ্গের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা গ্রামের মহিলাদের মধ্যে বেশি থাকে এবং সার্ভিক্স-এর কোশগ্রন্থি সর্বাপেক্ষা প্রভাবিত হয়ে থাকে। সুতরাং পিরিয়ডস-এর সময় হাইজিনের খেয়াল রাখাটা কতটা আবশ্যক, এ বিষয়ে মহিলাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সস্তা ন্যাপকিন ক্রয় করাও একটি বড়ো সমস্যা

এটা কারওরই অজানা নয় যে, মহিলারা সর্বাগ্রে নিজের পরিবারকে গুরুত্ব দেন। এটা করতে গিয়ে তারা নিজেদের খাওয়াদাওয়া এবং স্বাস্থ্যের সঠিক যত্নের প্রতি অবহেলা করেন। এর ফলে তাদের শরীরে পুষ্টির অভাব যেমন থেকে যায়, তেমনি অর্থের সাশ্রয় করার জন্য তারা সস্তার ন্যাপকিন বা বাড়িতে রাখা কাপড়ই ব্যবহার করেন। অথচ জেনে রাখা ভালো, সস্তা ন্যাপকিন কম মূল্যে পাওয়া গেলেও এতে ব্লিচিং-সহ অনেক ক্ষতিকারক কেমিক্যালস ব্যবহার করা হয় যার ফলে ওভেরিয়ান ক্যান্সার ছাড়াও এটি বন্ধ্যাত্বেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এও প্রমাণিত হয়েছে যে, অধিকাংশ মহিলা নন-অর্গানিক স্যানিটারি প্যাডস ব্যবহার করেন, যাতে একটি প্যাডে চারটি প্লাস্টিক ব্যাগের সমান প্ল্যাস্টিক থাকে। এতেই অনুমান করা যায় এগুলি মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকারক।

কী করে হাইজিন-এর খেয়াল রাখবেন?

প্যাডস-এর ব্যবহারে কৃপণতা করা অনুচিত

যদি আপনি প্রতি মাসে পিরিয়ডস চলাকালীন কাপড় ব্যবহার করেন, তাহলে এখনই সাবধান হন। কারণ এতে প্রচুর জীবাণু থাকার ফলে এটি আপনার প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। সুতরাং পিরিয়ডস-এর সময় সর্বদা ভালো অর্থাৎ অর্গানিক প্যাডস ব্যবহার করা উচিত। এটি ন্যাচারাল এবং এর শোষণ করার ক্ষমতা খুবই ভালো। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হওয়ার ফলে এটিতে ইউরিন ইনফেকশন, ক্যান্সার ইত্যাদি হওয়ার ভয় একদম কম হয়ে যায়। এগুলি যথেষ্ট কমফর্টেবল হওয়ার ফলে ভ্যাজাইনার স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। এ বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখুন যে, আপনার পিরিয়ডস-এর ফ্লো যদি বেশি না-ও হয় তাহলেও প্রতি দুই-তিন ঘন্টা অন্তর প্যাডস বদলানো বাঞ্ছনীয়। এর ফলে কোনওরকম সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকবে না।

রোজ স্নান করুন

পিরিয়ডস চলাকালীন মহিলাদের শরীরে অনেকরকম পরিবর্তন হয়। কখনও পেট ব্যথার সমস্যা থাকে তো কখনও কোমর ব্যথার। এই পরিস্থিতিতে অনেক সময় মেয়েরা রোজ স্নান করাটা এড়িয়ে চলেন। এর জন্য যোনিতে সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেড়ে যায়। সুতরাং নিজের হাইজিনের খেয়াল রাখতে রোজ স্নান করার অভ্যাস হওয়া দরকার। এতে সংক্রমণের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকা যায়।

ট্যাম্পুন্স ভালো বিকল্প

পিরিয়ডস চলাকালীন ফ্লো যদি খুব বেশি হয় অথবা বারবার প্যাড বদলানোর ঝঞ্ঝাট থেকে বাঁচতে চান, ট্যাম্পুন্স ব্যবহার করতে পারেন। এটি যথেষ্ট সুরক্ষিত এবং ভালো বিকল্প। শুধু দরকার, ধীরেসুস্থে এটিকে ভ্যাজাইনার ভিতর ইনসার্ট করা। এটি ইজি টু ইউজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ আরামদায়কও। শুধু খেয়াল রাখতে হবে ৮ ঘন্টার বেশি একই ট্যাম্পুন্স ব্যবহার করবেন না। নয়তো এটা থেকে সংক্রমণ হতে পারে।

যোনি পরিষ্কার রাখুন

সংক্রমণ এড়াতে যোনি পরিষ্কার জল দিয়ে সবসময় ধোবেন। পিরিয়ডস-এর সময় যোনি থেকে রক্তস্রাব বেরোনোর ফলে যদি সেটি পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে সংক্রমণ হওয়ার ভয় বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে শরীর থেকে দুর্গন্ধও বার হয়। এই সমস্যাগুলি এড়াতে যোনি পরিষ্কার রাখুন।

কটন প্যান্টি ব্যবহার করুন

এই সময়ের জন্য কটনের (সুতির) পরিষ্কার আলাদা প্যান্টি পরা উচিত। যদি একই অপরিষ্কার প্যান্টি আপনি রোজ ব্যবহার করেন তাহলে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। কটন প্যান্টি ব্যবহার করলে সেটি আরামদায়ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, স্কিন ফ্রেন্ডলিও হবে।

 

 

কিশোরী কন্যাটির সঙ্গে কেমন হবে সম্পর্ক ?

মায়ের প্রতি নির্ভরতা দিয়েই শুরু হয় একটি মেয়ের শিশুকাল। মেয়েরা অবশ্য তাদের মেয়েবেলায়, ছেলেদের তুলনায় কিছুটা বেশি পরিণতমনস্ক হয়৷ তাদের স্পর্শকাতরতাও বেশি৷ তাই তাদের হ্যান্ডেল করা দরকার অতি সাবধানে৷ মায়ের প্রতি তীব্র ভালবাসাও মেয়ের মনে থাকে, সেই সঙ্গে থাকে আনুগত্য।  টিনএজ পার হতে হতে এই আনুগত্যে কখনও ফাটল ধরতে থাকে। এর পেছনে থাকে নানা কারণ। কখনও দেখা যায় মায়ের চেয়ে বাবার প্রতি মেয়ের আনুগত্য ও ভালোবাসা তার বড়ো হবার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে বেড়ে গেছে। বাবাকেই সে মনে করছে নিজের ‘হিরো’। তখন বাবা-মায়ের মধ্যে কোনো মতবিরোধ হলে মেয়ে বিনা দ্বিধায় বাবাকেই সমর্থন করে।

তবে বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীই নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবতে পছন্দ করে এবং মনে করে কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। মেয়েদের ক্ষেত্রে যেহেতু এখনো আমরা অনেক বেশি রক্ষণশীল, তাই আপনার কন্যাটির জানা প্রয়োজন যে আপনি তাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক। তার যে-কোনও প্রয়োজনে আপনি পাশে আছেন বন্ধুর মতো। ছোটো থেকেই মেয়েকে মূল্যবোধ শেখাতে হবে৷ একজন নীতিবান, আদর্শ ব্যক্তিকে অনুসরণ করার জন্য তাকে উদ্বুদ্ধ করুন৷

কন্যা-সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আপনি কখনও কখনও কঠোর হতে পারেন কিন্তু কঠোরতার মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে মেয়ে ভুল বুঝবে আপনাকে। আপনার অতিরিক্ত শৃঙ্খলা এবং কঠোরতা দেখে তার বিশ্বাস জন্মাতে পারে যে, আপনি শুধুমাত্র তার জন্য জীবনকে কঠিনই করতে চান। তাকে বলুন আপনি তাকে খুবই ভালোবাসেন এবং জীবনে শৃঙ্খলা থাকা দরকার সবারই।

সাধারণত বয়ঃসন্ধির সময় হরমোন ও শারীরিক পরিবর্তনের কারণে টিনএজারদের ব্যবহারেও বেশ পরিবর্তন আসে। বয়ঃসন্ধির সময় যেসব শারীরিক পরিবর্তন ঘটে তাও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটায়। নানা বিষয়ে তার আগ্রহ, আবার পরক্ষণেই মেজাজ পরিবর্তন করার জন্য, সরাসরি তার শরীর ও মস্তিষ্ক প্রভাবিত হয়। চিন্তা করে দেখুন, কতটা শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে আপনার মেয়ে সন্তানটির।আপনাকে বুঝতে হবে, যে-মেয়েটি আগে হয়তো খুব হই-হুল্লোড় করে বেড়াত, সে-ই এখন তার নিজের পরিবর্তনগুলোর সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না। শারীরিক পরিবর্তনটি আপনি চোখে দেখছেন, মানসিক পরিবর্তন কি দেখতে পারছেন?

How to handle emotions of teenagers?

আপনি হয়তো দেখছেন আপনার মেয়েটি হঠাৎ করে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে গিয়েছে, আপনার বেশিরভাগ কথাতে  রিয়্যাক্ট করছে, অনেক সময় মিথ্যা বলছে কিছু নিয়ে, কোনও বিষয় লুকাচ্ছে, যে- বন্ধুদের সাথে হয়তো আপনি বলছেন কম মিশতে, তাদের সাথেই বেশি মিশছে, তর্ক করছে কারণে অকারণে। একই বাড়িতে থেকে মানসিকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন কন্যার সাথে। আপনি হয়তো বুঝতে পারছেন না কী করবেন।

আমাদের পরামর্শ হল, যে-কোনও জিনিসের ভালো-মন্দ নিয়ে মেয়ের সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন৷সন্তানের মতিগতি বুঝতে চাইলে তার সঙ্গে নিয়মিত মানসিক যোগাযোগ থাকাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷ ছোটো থেকে শাসনে রাখার পর একটু বড়ো হলে সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশতে চাইলে তা বাস্তবায়িত হবে না৷ এতে ছেলেমেয়েরা মোটেই সব কিছু শেয়ার করে না৷ অতিরিক্ত শাসন বা সন্তানের প্রতি কম নজর দেওয়া কোনওটাই বাবা-মায়ের করা উচিত নয়৷

ট্রাস্ট বা বিশ্বাস যে কোনো সম্পর্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি আপনার কিশোরী সন্তানকে আপনার কথা শোনাতে চান, তাহলে আপনাকেও কিন্তু তার কথা শোনার সময় ও ধৈর্য্য রাখতে হবে। আপনাকে তার বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। একটি খোলা সম্পর্ক রাখুন মেয়ের সাথে, যেখানে আপনারা একে অপরের সাথে কিছু ভাগ করতে পারেন। এতে আপনার সন্তান জানবে যে আপনি তাকে গুরুত্ব দেন এবং তার জীবনের বিষয়ে সে আপনার সাথে খোলাখুলি কথা বলতে পারে।

শীতের সন্ধ্যায় হাওয়া গরম করল বাংলাদেশের ‘হাওয়া’

২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি যে-সব ভালো ছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছেন, তারমধ্যে অন্যতম ‘হাওয়া’। বাংলাদেশের এই ছবিটি গতকাল সন্ধ্যা ৭ টায় নন্দন ওয়ান-এ প্রদর্শিত হয়।

‘হাওয়া’ যে একটি ভালো ছবি, এই খবর আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সিনেমাপ্রেমীদের কানে। ছবিটি দেখার জন্য তাই নন্দন ওয়ান প্রেক্ষাগৃহের দর্শক আসন ছিল কানায়-কানায় পূর্ণ। বলা যায়, শীতের সন্ধ্যায়ও কলকাতার হাওয়া গরম করে তুলেছিল বাংলাদেশের ‘হাওয়া’। আর অবশ্যই ছবিটি দেখার পর উচ্ছ্বসিত দর্শককূল।

‘হাওয়া’ মৎস্যজীবিদের জীবন-বৃত্তান্ত। না, শুধু এটুকু জানালে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে অনেককিছুই। মাছ ধরার জন্য যে-সব জেলে-নৌকো গভীর সমুদ্রে যায়, সেইসব নৌকোগুলির মধ্যে দু’-একটা নৌকো অনেক সময় আর ফেরে না। কিন্তু কেন ফেরে না? ঝড়ে ডুবে যায় নাকি ফেরে না অন্য কোনও কারণে? ‘হাওয়া’ দেখার পর এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন দর্শকরা। তবে এই ছবিটি সম্পর্কে আরও কিছু কথা না জানালেই নয়। ‘হাওয়া’ তৈরি হয়েছে টানটান চিত্রনাট্যে। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, রাগ-অনুরাগ, কাম, ক্রোধ, ভয়, সন্দেহ, হিংসা-প্রতিহিংসা, বীভৎসতা প্রভৃতিতে ভরপুর এ ছবি এককথায় রুদ্ধশ্বাস।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এই ছবিতে নজরকাড়া অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরি। চরিত্রের উপযোগী করে তুলতে তিনি নিজেকে ভেঙেচুরে একাকার করেছেন। তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন টলিউড পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তাই সাংবাদিক সম্মেলনে, চঞ্চল চৌধুরি-কে নিয়ে ছবি করার ইচ্ছেপ্রকাশও করেছেন সৃজিত। অবশ্য শুধু চঞ্চলই নন, শরীফুল ইসলাম রাজ এবং নাজিফা তুষির অভিনয়ও মন ছুঁয়ে যায়। মুগ্ধ করে কামরুল হাসান খোসরুর সিনেম্যাটোগ্রাফি, সজল আলোকের সম্পাদনা এবং ইমন চৌধুরি ও রসিদ শরিফ শোয়েব-এর সংগীত পরিচালনা। দু’ঘন্টা ষোলো মিনিটের এই ছবিটি প্রযোজনা করেছেন অঞ্জন চৌধুরি পিন্টু।

‘হাওয়া’ ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে এবং টরেন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিলম ফেস্টিভ্যাল-এ।

28th KIFF 2022
Actor Chanchal Chowdhury at Nandan One

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তরুণ পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন এর আগে ছোটোপর্দার জন্য ছবি তৈরি করলেও, ‘হাওয়া’ তাঁর প্রথম পূর্ণদৈঘ্যের ছবি। এই ছবি নন্দন ওয়ান-এ প্রদর্শিত হওয়ার আগে, নন্দন ফোর-এ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিচালক সুমন জানান, ‘হাওয়া’ ছবিটির চিত্রনাট্য লিখতে সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর। ফারুখ জহিন আমিন, সুকর্ণ সাহেদ ধীমান এবং পরিচালক স্বয়ং মিলিতভাবে লিখেছেন এ ছবির চিত্রনাট্য। ছবির মুখ্য অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরি জানিয়েছেন, অনেকদিন মহড়ার পর তাঁরা সবাই অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন বলেই হয়তো ছবিটির সাফল্য নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় ৪৫ দিন মাঝ সমুদ্রে জেলে নৌকোয় থেকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তাঁদের দীর্ঘদিন স্মরণে থাকবে বলেও জানিয়েছেন চঞ্চল। শুধু তাই নয়, এই প্রথমবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদবোধনী অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চন, শত্রুঘ্ন সিনহা, শাহ রুখ খানের মতো মহা-তারকাদের সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করতে পেরে চঞ্চল যে অত্যন্ত খুশি, তাও সাংবাদিক সম্মেলনে প্রসঙ্গত জানিয়েছেন  তিনি।

‘হাওয়া’ ছবিটির একমাত্র নারী চরিত্রে রূপদানকারী নাজিফা তুষি জানিয়েছেন, জীবনে প্রথম বড়ো ছবিতে অভিনয় করে তিনি দারুণ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন এবং তিনি ভীষণ আনন্দিত। কারণ, ছবিটি সাফল্য পেতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টস-এর ডিগ্রি নেওয়ার পর সিনেমার জগতে পা রাখেন ‘হাওয়া’-র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম-এ মুক্তি পেতে শুরু করেছে সুমনের ‘হাওয়া’।

শীতকালে কী খেলে স্বাস্থ্যরক্ষা হবে?

শীতকাল সেরা ঋতুগুলোর একটি হলেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে আপনার দেহকে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করার জন্য বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে আসে। আপনার দেহকে যেহেতু অতিরিক্ত তাপ উৎপাদনে করতে হয়, তাই বলা হয় শীতকালে স্যুপ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। স্যুপ আপনাকে শুধু ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে না, এটি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। আপনি গাজর, পালং শাক, মাশরুম, মুরগি এবং অন্যান্য সবজির স্যুপ তৈরি করে খেতে পারেন। এটি একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প। এই ঋতুতে আপনি নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। শীতকালে সচরাচর যে-রোগগুলো হয়, তার অন্যতম হল ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশি, ভাইরাল ফ্লু, শ্বাসকষ্ট, কফ এবং অন্যান্য ইনফেকশন।

নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগও এসময় মানুষকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে যেখানে তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে যায়। শীতকালে অ্যাজমার মতো রোগও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া জয়েন্ট পেইন এবং আথ্রাইটিস এর মতো রোগও আরও জোরালো হতে পারে। কেন-না শীতকালে ঠান্ডার কারণে জয়েন্টে রক্তপ্রবাহের গতি ধীর হয়ে আসে এবং ব্যথা বাড়ে।

কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শীতকালে খেলে শরীর চাঙ্গা থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।আসুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ১০টি খাবারের নাম।

১. ঘি

যদিও অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, কিন্তু জেনে রাখুন সীমিত পরিমাণে ঘি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ঘি দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ ঘি-তে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড।

২. মাখন

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর একটি হল মাখন। এতে আছে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি এবং চর্বি। শীতকালে সামান্য পরিমাণে মাখন খেলে দেহের তাপমাত্রা ঠিক থাকে।বাচ্চাদের ঠান্ডা কম লাগে।

৩. টম্যাটো

একবাটি ধোঁয়া ওঠা টম্যাটো স্যুপ খেলে শীতকালে আপনি দারুন উপকার পাবেন। টম্যাটোতে আছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন উপাদান, যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং শীতকালীন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখবে।

৪. সবুজ শাক-সবজি

বছরের যে-কোনও সময়ই সবুজ শাক-সবজি খাওয়া ভালো। তবে শীতকালে দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে, সবুজ শাক-সবজি বেশ কার্যকর।

৫. বাদাম

বাদাম খুবই স্বাস্থ্যকর। খাবারের স্বাদ বাড়াতে সাধারণত বাদাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক মুঠো জলে ভেজানো কাঁচা বাদাম খেলে, হৃদরোগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা প্রতিরোধ হয়। তবে বাদাম আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং শীতকালে আপনাকে সুস্থ রাখতেও বেশ কার্যকর।

healthy food for winter

৬. গোলমরিচ

শীতকালে খাবারের সঙ্গে গোলমরিচ দিলে, তা রোগ-বালাই দূরে রাখে। কালো গোলমরিচে আছে এমন উপাদান যা নানা ধরনের শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। যেমন শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা লাগা বা সর্দি, কফ এবং জয়েন্ট পেইন।

৭. আপেল

শীতকালে আপেলের উৎপাদন হয় বেশি। এই সুস্বাদু ফলটিতে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, নানা ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি। এসব উপাদান হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে দেয়।

৮. ডার্ক চকোলেট

ডার্ক কোকো পাউডার থেকে তৈরি এক গ্লাস গরম চকোলেট খেতে পারলে শীতকালে আপনার বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এতে দেহের তাপমাত্রাও বাড়বে।শীতে প্রতিদিন আপনি এক টুকরো খাঁটি ডার্ক চকোলেটও খেতে পারেন।

৯. খেজুর

শীতকালে আপনাকে ভেতর থেকে গরম রাখতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। এই সুস্বাদু এবং উচ্চ পুষ্টিকর খাবারটি বছরের যে-কোনও সময়ই খেলে স্বাস্থ্য চাঙ্গা থাকে।

১০. দারচিনি

শীতকালে দারচিনি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি দৈনিক মেটাবলিজম বাড়ায়, যা শরীরে তাপ তৈরি করে। এই কারণে, আপনি ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুকনো কাশির মতো স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। আপনি চায়ে দারচিনি যোগ করে প্রতিদিন এটি খেতে পারেন বা গরম জলের সাথেও পান করতে পারেন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব