গ্যাজেটস আপনার Addiction নয়তো

আপনি গ্যাজেটস-এর প্রতি অ্যাডিকটেড নন তো? যদি আপনি এগুলির ক্রীতদাস হয়ে পড়েন তাহলে একদিনও এগুলো ছাড়া আপনার জীবন কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। মনে হবে জীবনের একটা প্রয়োজনীয় অঙ্গই আপনার শরীর থেকে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এতদিন যা করেছেন সেটা ভুলে ‘গ্যাজেটস’-এর প্রতি নির্ভরতা কমান। যতটা প্রয়োজন ততটাই এর ব্যবহার করুন, ক্রীতদাস হয়ে উঠবেন না।

কীভাবে সম্ভব করবেন সেটাই আলোচনারঃ

কাউকে ‘আজ ফোন’ নয়

মোবাইলে চব্বিশ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকাটা আমাদের অভ্যাস খারা্প করে দেয়। সমানে কাউকে ফোন করা, সোশাল মিডিয়ায় নিজের ফোটো আপলোড করা বা অন্যের করা পোস্ট-এ নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় অনেকেই এত ব্যস্ততা দেখায় যে মনে হয়ে এছাড়া আর কোনও কাজ নেই।

যদি এই অভ্যাস থেকে থাকে তাহলে সপ্তাহে এক বা দুই দিন মনকে শক্ত করুন যে-কোনও ভাবেই সেদিন ফোন ব্যবহার করবেন না, সে সেলফি নিতেই কিংবা ছবি আপলোড করতে বা কাউকে কল করতেই হোক না কেন। ১-২ মাস যদি মন শক্ত রেখে চলতে পারেন তাহলে দেখবেন সহজেই গ্যাজেটস থেকে দূরত্ব রেখে চলতে পারছেন।

একটা দিন টিভি দেখা বন্ধ

অফিসের ছুটি হোক বা বাড়িতে কাজের প্রেশার কম হোক, তার মানে এই নয় যে বসে টিভি দেখতে হবে। বহু মানুষ আছেন, সকাল সন্ধ্যা তাদের টিভি না হলে চলে না। বাড়ির আর সদস্যরা হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত কিন্তু আপনি টিভির সামনে সেঁটে বসে আছেন। এরকম যদি হয় সপ্তাহে ১-২ দিন টিভি দেখা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

গাড়ি আজ কিছুতেই ব্যবহার করব না

কাছেই মার্কেটে যেতে হবে বা পাড়ায় একটু দূরত্বে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে, প্রতিটা ছোটো ছোটো কাজের জন্য অনেকেই গাড়ি ব্যবহার করে। এতে হাঁটা চলার অভ্যাস বন্ধ হয়ে শরীরের ওপর যেমন খারাপ প্রভাব পড়ে তেমনি অর্থের অপচয়ও বেশি হয়।

সুতরাং গাড়ির অভ্যাস ত্যাগ করতে এবং অর্থ সাশ্রয় করতে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একদিন গাড়ি ছাড়া বাড়ির কাজ বা নিজের কাজ করুন। এতে গাড়ির উপর নির্ভরতা কমবে এবং কাজের জন্য শরীরও সচল থাকবে।

আজ অনলাইন শপিং নয়

আমাদের দৈনন্দিন বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা থেকে শুরু করে জামাকাপড়, জুতো, বিউটি প্রোডাক্টস সবকিছুর জন্যই আমরা নির্ভর করি অনলাইন স্টোরগুলির উপর। বাড়ির জিনিস কোনও একটা শেষ হলেই সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন অর্ডার করে দিই। এতে মাসকাবারির (মান্থলি) খরচের উপর আমাদের কোনও কন্ট্রোল থাকে না এবং অভ্যাসও খারাপ হয়ে যায়। এই অভ্যাসগুলো আমাদের যেমন অলস করে তুলছে তেমনি দোকানে গিয়ে দোকানদার বা আর চার-পাঁচজন আপনার মতো খরিদ্দারদের সঙ্গে বার্তালাপও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামাজিক ভাবেও আপনি ধীরে ধীরে একাকী হয়ে পড়ছেন।

সুতরাং এই Addiction বন্ধ করতে হলে সপ্তাহে ২-৩ দিন অনলাইনে জিনিস না কেনার সংকল্প করুন। ওই দিনগুলি পায়ে হেঁটে দোকানে যান জিনিস কিনতে হলে। দোকানদারের সঙ্গে দুটো কথা বলুন, জিনিসপত্রের দাম সব চেক করুন। এতে বাজেট যেমন কন্ট্রোল করতে পারবেন, বাড়ির জন্য সেদিন শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেই বাড়ি ফিরবেন। এতে অনলাইনে সবসময় জিনিস অর্ডার করার অভ্যাসও শুধরোতে সুবিধা হবে।

 

মন ভরাবে ২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

বিনোদনের অন্যতম সেরা মাধ্যম অবশ্যই সিনেমা এবং এই সেরা মাধ্যমের উৎসবকে সফল করে তোলা অবশ্যই এক বড়ো চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করে, একই বছরে দু’বার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়ে নজির গড়তে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কমিটি। আসলে, করোনার কারণে বিগত দু’বছর উৎসব উদযাপনের রুটিন-এর যে হেরফের হয়েছিল, তা আবার চেনা ছন্দে ফিরিয়ে আনার জন্যই এবার একই বছরে দু’বার উৎসব উদযাপনের এই উদ্যোগ। উল্লেখ্য, চলতি বছরের পয়লা মে শেষ হয়েছিল সাতাশতম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আর এবার আঠাশতম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৫ ডিসেম্বর এবং এই উৎসব শেষ হবে ২২ ডিসেম্বর ২০২২।

28th kiff

কলকাতা বইমেলা যেমন বিশেষ আন্তর্জাতিক তকমা পেয়েছে, ঠিক তেমনই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে বিশেষ স্বীকৃতি দিয়েছে বেলজিয়াম-এর ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ফিলম প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

28th KIFF

প্রতি বছরের মতো এবারও উৎসব শুরুর আগে শিশির মঞ্চে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো, ফ্লায়ার এবং রয়াল বেঙ্গল ট্রফি  লঞ্চ ছাড়াও, আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয় খুঁটিনাটি বিষয়ে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে, ২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান রাজ চক্রবর্তী, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অভিনেত্রী জুন মালিয়া, রুক্মিণ মৈত্র,সুদেষ্ণা রায় প্রমুখ।

28th kiff 2022

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫ ডিসেম্বর নেতাজি ইন্ডোর-এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদবোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ছাড়াও, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, শাহরুখ খান, শত্রুঘ্ন সিনহা, রানি মুখোপাধ্যায়, গায়ক অরিজিৎ সিং, ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ।

28th kiff

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম-এ দেখানো হবে এবারের উৎসবের উদবোধনী ছবি ‘অভিমান’। হৃষিকেষ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই হিন্দি ছবিটিতে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, আশরানি, বিন্দু এবং ডেভিড।

28th kiff 2022

এবারের উৎসব যে অনেকটা অমিতাভ-ময় হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, অমিতাভ বচ্চন রেট্রোস্পেক্টিভ বিভাগে প্রদর্শিত হবে তাঁর অভিনয়ে সমৃদ্ধ ৯টি ছবি। এছাড়া, গগনেন্দ্র প্রদর্শশালা এবং নজরুল তীর্থ-এ চলবে অমিতাভ বচ্চন-কে নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী। অবশ্য শুধু অমিতাভ বচ্চন-ই নয়, জঁ লুক গদার-কে নিয়েও বিশেষ প্রদর্শনী চলবে নন্দন ফয়ার এবং নজরুল তীর্থ-এ।

২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে মোট ১৭৮টি ছবি। এরমধ্যে ১২০টি ফিচার ফিলম এবং শর্ট ও ডকুমেন্টারি মিলে আরও ৫৮টি ছবি। নন্দন এক, দুই, তিন এবং রবীন্দ্র সদন ছাড়াও, কলকাতার মোট ১০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে এই ছবিগুলি।

28th kiff 2022

ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন বিভাগে দেখানো হবে ১৪টি ছবি, ন্যাশনাল কম্পিটিশন বিভাগে দেখানো হবে ১৪টি ছবি, এশিয়ান সিলেক্ট বিভাগে দেখানো হবে ৮টি ছবি। এছাড়া ২০টি শর্ট ফিলম এবং ১০টি ডকুমেন্টারি ফিলম প্রদর্শিত হবে এবারের উৎসবে। বাংলা প্যানোরমা বিভাগে দেখানো হবে সাতটি ছবি। এবার বিশেষ তালিকায় রয়েছে  ক্রীড়াকেন্দ্রিক ছবি কোনি, চকদে ইন্ডিয়া, মেরি কম, ভাগ মিলখা ভাগ  প্রভৃতি। থাকছে কিম কি দুক-এর ছবিও। বাংলাদেশের ছবি ‘হাওয়া’ প্রদর্শিত হবে নন্দন এক প্রেক্ষাগৃহে। দেখানো হবে আদিবাসি ভাষার সাতটি ছবি। স্পেশাল ট্রিবিউট বিভাগে দেখানো হবে তরুন মজুমদার, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, শিবকুমার শর্মা এবং অ্যাঞ্জেলা ল্যান্ডসবুরি-র ছবি। সেন্টেনারি ট্রিবিউট বিভাগে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে  অ্যালেন রেসনাইজ, পিয়ার পাওলো পাসোলিম, মাইকেল ক্যাকোয়ানিস, দিলীপ কুমার, অসিত সেন, হৃষিকেষ মুখোপাধ্যায়, ভারতি দেবী, কে আসিফ এবং আলি আকবর খান-কে। সংস্কৃত, কুরমালি এবং রাজবংশী ভাষার ছবিও দেখানো হবে এবারের উৎসবে।

এবার পরিচালক সুধীর মিশ্র পরিবেশন করবেন সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচার। চলচ্চিত্রের ইমেজ নিয়ে বক্তব্য রাখবেন সুদীপ চট্টোপাধ্যায় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে বক্তব্য রাখবেন ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী। সিনেমার ভাষা নিয়েও থাকবে একটি আলোচনা সভা। এতে অংশ নেবেন সুমন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য প্রমুখ। এছাড়া, ছবি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলবে একতারা মঞ্চে। এবার উৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে। ওইদিন সেরা ছবির জন্য তুলে দেওয়া হবে রয়্যাল বেঙ্গল গোল্ডেন টাইগার ট্রফি এবং ক্যাশ প্রাইজ। এছাড়াও, বিভিন্ন বিভাগে থাকছে আরও অনেক পুরস্কার।

২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে মোট ৪২টি দেশের ছবি। সবমিলে বলা যায়, বিশ্ব মিলবে ছবির মেলায়।

28th kiff 2022

শীতে স্বাস্থ্যের রুটিন

শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই সময় বেশিরভাগ মানুষ ছুটি কাটানোর পরিকল্পনায় বেশি ব্যস্ত থাকে, স্বাস্থ্যের ব্যাপারে নজর থাকে খুব কম। কিন্তু কষ্ট করে হলেও কিছু Food and health সংক্রান্ত নিয়ম মেনে, আপনার খাবার তালিকায় কিছু পরিবর্তন করে, আপনি এই শীতেও থাকতে পারেন দিব্যি সুস্থ। এখানে কিছু খাবার টিপ্স দেওয়া হল যা আপনাকে শীতকালীন অসুস্থতা থেকে রক্ষা করবে। রইল Winter health tips।

শীতে শরীরকে গরম রাখতে প্রয়োজনীয় ক্যালোরির প্রয়োজন হয় । তাই শরীরকে সেই জ্বালানি জোগান দেওয়ার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন।এই সময়ে সবুজ শাকসবজি, পালংশাক, মেথিশাক, সরষেশাক ইত্যাদি সবুজ পাতা-যুক্ত সবজি রাখুন খাদ্য-তালিকায। এগুলি আযরন, অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস, ফলিক অ্যাসিড ম্যাগ্নেশিযাম, কপার, ফসফেট ইত্যাদি তত্ত্বে ভরপুর। এই উপাদান ইমিউনিটি বাড়িযে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া ভিটামিন সি –এর জোগান দেবে কমলালেবু, আমলকী, পাতিলেবু, কিউয়ি, পেযারা, ব্রোকোলি, পালংশাক ইত্যাদি ফল ও সবজি। ভিটামিন এ পাওয়া যাবে কমলা বা লাল রঙের ফল আর সবজি থেকে। যেমন পেঁপে, গাজর, রাঙাআলু, তরমুজ, লাল আঙুর, আম ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। ক্যালসিযাম হাড় শক্ত করতেই যে শুধু দরকার এমন নয়।, শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। দুধ, দই, ঘি, ছানা, চিজ, ছাছ, ঢ্যাঁড়শ, পালং, ব্রোকোলি, বিন্স এবং ফলের মধ্যে কমলালেবু, কিউয়ি, ব্ল্যাকবেরি, পেঁপে ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে।

শীতে ভারী খাবার খেয়ে হজম করা একটু মুশকিল। ফাইবার-যুক্ত আহার আমাদের হজম প্রক্রিয়া মজবুত করতে সাহায্য করে। ফাইবার-যুক্ত সবজি, ফল, ব্রাউন ব্রেড, ডাল, গমের আটা, ড্রাইফ্রুটস, ওটস, কড়াইশুঁটি, ভুট্টা ইত্যাদি ইমিউনিটি শক্তি বাড়াতেও খুবই কার্যকরী।

প্রচুর পরিমাণে পানীয় জল গ্রহণ করা প্রয়োজন শীতকালে। জল শুধু তেষ্টা মেটায় না, শরীরে ওষুধের মতো কাজ করে। শরীরের বর্জনীয় বিষাক্ত তত্ত্ব বাইরে বার করে দিতেও সাহায্য করে। সারাদিনে অন্ততপক্ষে তিন লিটার জল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শরীর ফিট রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম প্রয়োজন। যোগব্যাযাম, এক্সারসাইজের সঙ্গে সিঁড়ি ওঠানামা, ডান্স, হাঁটাচলা করা, খেলাধুলা সবকিছুই জীবনশৈলীর অন্তর্ভক্ত করা বাঞ্ছনীয়।শরীরে রোদ লাগানোও দরকার।সূর্যের রশ্মিতে এমন অনেক গুণ রয়েছে যা নানারকম সংক্রমণ দূরে রাখতে শরীরকে সাহায্য করে। হাড় শক্ত করে। রোজ সকালে অন্তত আধ ঘন্টা সূর্যের আলো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তুলসী অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। মধুর সঙ্গে তুলসীপাতা সেবন করলে শীতকালে সর্দি, কাশির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১১

অন্যদিকে তমালের ছোটোভাই কপাল ঠুকে পেয়ে গেছে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা। তমালের বড়ো কাকার ছেলেও হয়েছে হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। পিসির মেয়ে তাই। সব মিলিয়ে তমালের পাশাপাশি ভাই-বোন কেরিয়ারের দিক থেকে ওর তুলনায় অনেকটা এগিয়ে তাদের নিজের নিজের জন্য মেয়ে দেখা হয়ে গেছে। যেহেতু সমাজের চোখে একটা প্রলেপ দিতে হবে, তাই ক্রমানুযায়ী বিয়ে সাজানো হয়েছে। আগে তমালের বিয়ে কোনওমতে লোকে যাতে ছিছি করতে না পারে। তারপর ভাই আর বোনেদের।

কস্তুরী এখানে এসেও ঠিক একই সিচুয়েশনের মুখোমুখি হয়েছে। আগে নামের খ্যাতি, টাকার খ্যাতি তারপর বাকি সব কিছু। সেখানে মা, সন্তানের মধ্যেও কতটা সহজ ভাবে ভেদাভেদ তৈরি করে দেয়। তমালের

মা-ও সরকারি চাকরি না পাওয়ার জন্য ছেলেকে খুব একটা নেক নজরে দেখেন না। কোনওরকমে ওদের বিয়ে পরেই এক বছরের মধ্যে তমালের নিজের ছোটো ভাই তারপর বিয়ে হয় বড়োকাকার ছেলের। কস্তুরী নতুন জায়গায় এসে নিজের জায়গাটা খুঁজে পাওয়ার আগেই সবটা শেষ হয়ে যায়। তাই ওরা স্বামী-স্ত্রী নতুন করে নতুন কোনও প্রাণ আনার কথা স্বপ্নেও ভাবেনি। খুড়তুতো ভাইয়ের মেয়ে হয়েছে। নিজের জায়ের মুখেও সেদিন শুনল, জানো দিদি, আমি যেদিন স্টোন অপারেশনের জন্য যাই সেদিনই ডাক্তার বলে দেয় তুমি কিন্তু তাড়াতাড়ি ইস্যু নিয়ে নেবে। দেরি করবে না। নাহলে পরে সমস্যা হবে। কস্তুরী শুনেছিল সবটা। মনে মনে বুঝেছিল ওরা কস্তুরীর আগেভাগেই সন্তান এনে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে চায়। তাই একটা ইঙ্গিত দিয়ে রাখছে ওকে। আচ্ছা মাঝে মাঝে ও ভাবে, ওকে কি বাইরে থেকে দেখে এতটা বোকা মনে হয়? মনে হয় কস্তুরীর কিছুই বোঝার ক্ষমতা নেই?

স্কুলে পড়াকালীন দিদির একবার কিডনিতে স্টোন হয়েছিল কই তখন তো ইস্যু সংক্রান্ত ডাক্তারের কোনও কথাই শোনেনি। ডাক্তার যদি বলত তাহলে বাপি-মা তখনই দিদির লেখাপড়া ছাড়িয়ে বিয়ে দেবার তোড়জোড় করত। মনে মনে হাসে। আবার খারাপও লাগে। তমালের রোজগারের প্রতিবন্ধকতা জেনেও গুরুজনেরা কীভাবে দোষ দিতে এগিয়ে আসে?

এখনকার দিনে একটা ছেলের পাঁচ-সাত হাজার টাকার মাইনেতে একটা সন্তান আনার কথা কেউ কখনও ভাবতে পারে? বড়োরা সন্তান আনার জন্য চাপ দেবে, কেউ মানুষ করতে তো সাহায্য করবে না? নিজেদেরই বুঝেশুনে এগোতে হবে। কস্তুরীর জ্যাঠতুতো দাদারা, পিসির ছেলেরা তো বিয়ে করেছে বছর চল্লিশের পরে। নিজের পায়ে ভালোমতো দাঁড়িয়ে সবাই ভাবে, যাই হোক না কেন দোষটা ওরই। প্রথম যেদিন এ-বাড়িতে এসেছিল সেদিন থেকেই শুরু। ওকে দেখেই শাশুড়ি মা দুটো কথা বলেছিলেন, যা জীবনেও ভুলবে না ও।

তুমি ঠিক কতটা লম্বা আমার থেকে?

কাছে এসে কাঁধে কাঁধ মেপে নিয়েছিলেন খানিকটা। শুধুই কি উচ্চতা নাকি কস্তুরী ওনাকে অন্য সবকিছুতেই ছাড়িয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় সেদিন কেঁপে উঠেছিল শেলীদেবীর বুক? নাহলে একটা নিজের মেয়ে বয়সি মেয়েকে প্রথম দেখাতেই কেউ এভাবে উচ্চতা মাপে? আসলে মনের ভয়গুলো মানুষকে অনেক সময় মুখোশের আবরণটুকু সরিয়ে দিতে সাহায্য করে। নিজেকে লুকিয়ে রাখার ছদ্ম আড়ালটুকুও তখন আর থাকে না। বলেছিলেন, তুমি সংসার করতে পারবে তো?

তমালকে পরে কথাটার মানে জিজ্ঞেস করেছিল কস্তুরী। শুনেও ছিল ওর উত্তর। দেখতে ভালো মেযো নাকি সংসার করে না। বাইরের দিকেই তাদের পা থাকে। অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ কখনওই তাকে সংসারমুখী করে তোলে না। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা দিয়ে শেলীদেবী এসব কথা মর্মে মর্মে বুঝেছেন। ওদের বাড়িতে নাকি এক ভাড়াটে দম্পতি থাকত, তমালের মায়ের ভাষায় বউটির রূপও ছিল জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো। বেশিদিন নয় সম্পর্ক ভাঙতে সময় লেগেছিল মাস চারেক।

তারপর আরও আছে। মদনদার বউ, শাশুড়ির দূর সম্পর্কের এক কাকিমা কিংবা ওই তো মোড়ের মাথার রায়বাড়ির বউ শেফালি সবার ক্ষেত্রেই একই কথা প্রয়োজ্য। তাই কস্তুরীর ধারালো চোখ মুখ দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছিলেন তিনি।

ছোটোছেলের বউ খ্যাদা-বোঁচা, ওকে পছন্দের এ হল আরেকটা প্রগাঢ় কারণ। ছেলে যাই করুক সে ঘরে থাকুক কিংবা নাই থাকুক বউ সুষ্ঠ ভাবে ঘরে থাকবে এমনকী কদাচিৎ বাইরে চাকরি করতে না যাওয়ারও ঘোর পরিপন্থী তিনি। তবে বউ যদি কোনও ভাবে সরকারি বা অন্য কোনও বেশি বেতনের চাকরি পেয়ে যায় সেক্ষেত্রে উনি কী করবেন সেকথা জানে না কস্তুরী।

বাড়িতে নয়, বাড়ির বাইরে থাকাই বেশি পছন্দ

আমি ২১ বছর বয়সি যুবতি। বাইরে ঘুরে বেড়ানো, হইচই করা সবাই মিলে এইসব করতে আমার খুব ভালো লাগে। পড়াশোনা করতে বা বাড়ির কোনও কাজ করতে একদম ভালো লাগে না। সেজন্য বাড়ির লোকেরা আমার উপর খুব রেগে থাকে। কী করে আমার এই অভ্যাস বদলাব?

আপনি খুব সহজেই এই অভ্যাস বদলাতে পারবেন। এখন বাইরে বাইরে ঘুরতে, হইচই করতে খুব ভালো লাগলেও কিছুদিন পর আপনার বন্ধুরাই যখন পড়াশোনা এবং পরিশ্রম করে জীবনে অনেকটা এগিয়ে যাবে, চাকরি-বাকরি করা শুরু করে দেবে আর আপনি পিছনে পড়ে থাকবেন তখন আপশোস করেও কোনও লাভ হবে না।

বাড়ির কাজ করতেও আপনার ভালো লাগে না। সুতরাং না আপনি নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন আর না তো বাড়ির কাজ দক্ষ হাতে সামলাতে পারবেন। সাধারণত বাড়িতে মা-বাবা চেষ্টা করেন সন্তানের খারাপ ভালো সবকিছুই মেনে নিতে। তাদেরকে আগলে রাখতে। কারণ সব মা-বাবাই তাদের সন্তানকে ভালোবাসেন, স্নেহ করেন। কিন্তু বিয়ের পর আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও যে আপনার এই অভ্যাস মেনে নেবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

সুতরাং ভালো হবে আপনি নিজেকে এখন থেকেই বদলাবার প্রয়াস শুরু করে দিন। এর জন্য আপনার রুটিন লাইফ বদলাতে হবে। রাত্রে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে বাইরে হেঁটে আসুন। ব্যায়াম করুন। ভালো বই, ম্যাগাজিন পড়ুন। অপরের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন। পড়াশোনায় মন দিন। বাড়ির কাজেও সকলের সঙ্গে আপনিও কিছু কিছু সাহায্য করুন।

প্রথম প্রথম হয়তো করতে ইচ্ছে করবে না, বোর ফিল করবেন কিন্তু ধীরে ধীরে দায়িত্ব নেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন। বাড়ির কাজেও অভ্যস্ত হয়ে উঠলে বাড়িতেও সকলের বাহবা কুড়োবেন আর নিজের কেরিয়ারও সামলে নিতে পারবেন।

 

 

কীভাবে রোদ-চশমা নির্বাচন করবেন?

সব চেহারার সঙ্গে সব ধরনের সানগ্লাস মানায় না। তাই সানগ্লাস সচেতন মানুষের চাহিদা এবং প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন কোম্পানি তৈরি করে নানা স্টাইলের সানগ্লাস। রৌদ্রোজ্বল পৃথিবীতে রয়েছে অনেক রকমের ফ্রেম, অনেক রকমের আকার—সানগ্লাসের। সেই সব সানগ্লাস যে-কোনও মানুষের মুখে বসে তৈরি করতে পারে একটা আলাদা রেখাচিত্র। কোনওটা পারে মুখের গড়নকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে। কোনওটা পারে একই ভাবে মুখকে বেমানান, বিশ্রী করে তুলতে। দেখে নেওয়া যাক কোন ধরনের মুখে কী ধরনের ফ্রেম আর শেপের সানগ্লাস সব থেকে ভালো লাগে!  রোদ-চশমা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে যা যা মনে রাখতে হবে সেই Sunglass fashion tips দিচ্ছি আমরা।

রং, আকার আকৃতি

  • যাদের চেহারা ছোটোখাটো, তারা স্লিক আকৃতি বেছে নিন। আর বড়ো চেহারার জন্য বড়ো গ্লাস মানানসই
  • যাদের গায়ে রং উজ্জ্বল তারা বেগুনি, সাদা, গোলাপি, লাল রঙের গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন
  • যাদের ত্বক গাঢ় তারা কালো, কফি, বাদামি রঙের গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন
  • চুলের স্টাইলের সঙ্গে মানানসই গ্লাস ব্যবহার করতে পারেন
  • হার্ট শেপ আকারের মুখে কপাল চওড়া ও চোয়াল সরু দেখায়। ক্যাটস আই, স্পোর্কি টাইপের সানগ্লাস বেশ মানিয়ে যায় এমন মুখের সঙ্গে। খুব বেশি বড়ো মাপের গ্লাস এ ক্ষেত্রে না কেনাই ভালো
  • ডিম্বাকৃতি চেহারায় সব ধরনের সানগ্লাসই ভালো মানায়। শুধু লক্ষ্য রাখবেন ফ্রেমটি যাতে আপনার মুখের তুলনায় বেশি চওড়া না হয়
  • ক্যাটস আই কিংবা অ্যাভিয়ের ফ্রেমের সানগ্লাসে গোল চেহারাকে বেশ লম্বাটে দেখায়। আয়তাকার, কোণযুক্ত ফ্রেমের সানগ্লাসও ভারী মুখের জন্য ভালো
  • বর্গাকৃতির মুখে মেটালিক ফ্রেম অথবা গ্লাসের নীচের অংশ রিম লেস সানগ্লাস মানিয়ে যায়
  • লম্বা মুখের সঙ্গে গোলাকৃতির সানগ্লাস ভালো মানায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, সানগ্লাসের ফ্রেম যেন খুব ছোটো না হয়
  • চতুর্ভুজাকৃতি মুখে ক্যাটস আই স্টাইল ভালো যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সানগ্লাসে যেন চোখের কোল ঢেকে যায়, তাই সানগ্লাস একটু বড়ো হওয়াই ভালো।

Stylish sunglasses -এর দর দাম

নানা জায়গায় সানগ্লাসের ফ্রেমগুলোর মূল্য ভিন্ন। মোটামুটি ৩০০ থেকে ২০০০ টাকা। এছাড়া ব্র‌্যান্ডেড ফ্রেমগুলোর মূল্য ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। নন-ব্র‌্যান্ডেড ও বিভিন্ন ব্র‌্যান্ডেড ফ্রেমে দামে পার্থক্য রয়েছে।

বিদেশি ব্র‌্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে রে-ব্যান, লুসবাটন, শ্যানেল, গুচ্চি, ফাস্টট্র‌্যাক, কেরারা, পুলিশ, ডিএনজি, ওকলে, প্রাডা, রিবন, সাফারি বা ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। এসব ব্র‌্যান্ডের চশমার দাম পড়বে এক হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

চশমার ফ্রেমটি অনেক সময় মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। অনেকে খুব ছিমছাম থাকতে পছন্দ করলেও ফ্রেমের ব্যাপারে খুব সচেতন হন। আবার অনেকে স্টাইলে ভিন্নতা সৃষ্টি করতে ব্যবহার করেন ব্যতিক্রমী ফ্রেম। রোদ-চশমার ফ্রেম খুব সহজেই চেহারায় পরিবর্তন এনে দেয়। সানগ্লাস বা রোদ-চশমা শুধু পরলেই হবে না। অবশ্যই সেটি ভালো মানের সানগ্লাস হতে হবে। ভালো সানগ্লাসের ব্যবহার ও নিয়মিত যত্নে আপনার চোখ দুটিও নিরাপদে থাকবে।

স্বামীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতায় বাড়ির পরিবেশ প্রধান বাধা

আমার বয়স ২১ বছর। চার মাস আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমাদের বড়ো পরিবার। বাড়িতে শ্বশুর শাশুড়ি দুই ননদ এবং এক দেওর। আমার বিয়ে হয়েছে বাড়ির বড় ছেলের সঙ্গে। পরিবারে সকলেই খুব ভালো এবং সকলেই সকলের খেয়াল রাখে। কিন্তু আমাদের পরিবারে সব থেকে বড়ো সমস্যা হল বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করা। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি পুরোনো দিনের মানুষ আর তাঁরা সবসময় বাড়িতে। শ্বশুরমশাই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তাঁদের বর্তমান যুগ সম্পর্কে ধারণা খুব কম। বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে আলাদা বসে কথা বলাটাও বাড়ির সকলের চোখে দৃষ্টিকটু লাগে। দেওর ননদ অবশ্য আধুনিক মনের কিন্তু মা, বাবাকে কিছু বলতে তারা দ্বিধা বোধ করে। আমার স্বামীও তাঁদের মন রাখতে বেশি উদগ্রীব থাকে, আমার দিকটা ভাবে না। নতুন বউ হিসেবে আমি তাঁর সঙ্গ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকি।    রাত্রে যৌন সম্পর্ক স্থাপনেও আমি দ্বিধান্বিত বোধ করি। মাঝে মাঝে আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। অন্য জায়গায় চলেও যেতে পারি না কারণ আমি বুঝতে পারি শ্বশুর শাশুড়ি আমাদের খুবই ভালোবাসেন এবং তাঁরা ছেলের উপর অনেকটাই নির্ভর করেন। আমরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে শ্বশুর-শাশুড়িও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়বেন। আমিও এই ভাবে তাঁদের ফেলে রেখে চলে যেতে চাই না কিন্তু আমারও একটা নিঃশ্বাস ফেলার জায়গা চাই। এই পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত?

আপনার শ্বশুর শাশুড়ি পুরোনো দিনের মানুষ সুতরাং নতুনের সঙ্গে সবকিছু মানিয়ে নিতে ওনাদের কিছুটা সময় দিতে হবে। তা ছাড়াও আপনার শাশুড়ি যখন বউ হয়ে এসেছিলেন তখন আমাদের সমাজটা অন্য রকম ছিল। ছেলে আর তার নতুন বউ সকলের সামনে একসঙ্গে কথা বলা বা একসঙ্গে ওঠাবসা করাটাকে সে সময় ভালো চোখে কেউ দেখত না। আপনার শাশুড়িও কিছুটা সেইভাবেই অভ্যস্থ হয়ে গিয়ে থাকবেন। ওনাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।

এছাড়াও যৌন সম্পর্ক আমাদের জীবনের একটি প্রযোজনীয় অংশ। সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক আমাদের বৈবাহিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তোলে। এছাড়াও জীবন খুশিতে ভরে তোলে। বড় ফ্যামিলিতে আগে মেয়েদের কিছুটা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হতো। বড়রাই বেশিরভাগ পরিবারের সব দায়দায়িত্ব পালন করত। এখন অবশ্য পরিস্থিতি বদলেছে। কিন্তু আপনার বাড়ির যা পরিস্থিতি আপনি জানিয়েছেন তাতে মনে হয়, আপনি স্বামীর সঙ্গেও এ-ব্যাপারে খোলাখুলি আলোচনা করুন। তাঁরও কর্তব্য, আপনার সমস্যার একটা সমাধান বার করা।

এছাড়াও আর একটা সমাধানও হল স্বামীর সঙ্গে নিজের বাপের বাড়ি কয়েকদিন ঘুরে আসতে পারেন বা অন্যত্র কটাদিন ছুটি কাটিয়ে আসুন। এতে একে অপরের সান্নিধ্য চুটিয়ে উপভোগ করতে পারবেন এবং সেখানে বাধা দেওয়ারও কেউ থাকবে না। বাইরে গেলে মনও ভালো হয়ে যাবে। সুতরাং বাড়ির পরিবেশ মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে না।

 

 

Eyebrow ঘন হবে কী উপায়ে?

সুন্দর ধনুকের মতো ভ্রূ-যুগল হোক, তা বোধহয় সব মেয়েই স্বপ্ন। কিন্তু প্রকৃতিগত ভাবে প্রত্যেকের Eyebrows -এর গঠন আলাদা। কারও সরু, কারও মোটা, কারও ভ্রূর রং গাঢ়, কারও আবার হালকা বাদামি বা ফিকে। আমাদের সৌন্দর্যের অনকটাই কিন্তু নির্ভর করে ভ্রূযুগলের গঠনের উপর। চোখ দুটিকে উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করে ভ্রূ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সবার ভ্রূ মোটা ও টানা টানা আকৃতির হয় না। অনেকেই আবার থ্রেডিং করান বা প্লাকার-এর সাহায্যে ভ্রূয়ের রোম উত্পাটন করেন, যাতে একটা সুন্দর শেপ দেওয়া যায়। কিন্তু তাতে ক্রমশ ভ্রূ আরও পাতলা হতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে আপনাকে ভ্রূ দুটি মোটা ও ঘন করার জন্য কিছু বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে। জেনে নিন উপায়, যা মেনে চললে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ভ্রূ-দুটি সুন্দর হয়ে উঠবে। Eyebrow thickening -এর টিপ্স জেনে নিন।

ভ্যাসলিন

ভ্যাসলিন শুধু আপনার আঁখিপল্লবগুলি চকচকে ও সুন্দর দেখাতে সাহায্য করে না, এর নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ভ্রূ মোটা হয়ে উঠবে। ভ্যাসলিনের কাজই হল ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে হাইড্রেটেড রাখা।

ভ্যাসলিনে থাকে মিনারেল অয়েল, যার দ্বারা ত্বক পুষ্টি আহরণ করতে পারে। ভ্রূয়ের উপর ভ্যাসলিন লাগানো হলে, তা রোমকূপে ময়েশ্চার প্রদান করে, যার কারণে রোম কিছুদিনের মধ্যেই ঘন হয়ে ওঠে। আকারেও সুন্দর হয়।

ডিমের কুসুম লাগান

চুলের পুষ্টির জন্য যেমন ডিমের কুসুমের প্রোটিন অত্যন্ত সুফলদায়ী, একই ভাবে তা ভ্রূ ঘন করতেও কার্যকর। আমাদের শরীরে প্রোটিনের অভাবেই রোম এবং চুল ঝরে যায় ও ক্রমশ পাতলা হতে থাকে। ডিম এই সমস্যা নিবারণে সহায়ক ভমিকা নেয়। ডিমের কুসুমে থাকে বায়োটিন। এই প্রোটিনই ভ্রূয়ের গ্রোথ ও ময়েশ্চার দুই-ই প্রদান করে।

সপ্তাহে দুবার ডিমের কুসুমের পেস্ট আইব্রোর উপর লাগিয়ে আধঘন্টা রেখে তারপর ধুয়ে নিন। এই পদ্ধতি ২-৩ মাস করলেই দেখবেন আপনার ভ্রূ-যুগল ঘন আকার ধারণ করেছে।

অলিভ অয়েল

প্রাকৃতিক ভাবে আইব্রো ঘন করার কাজটি করে অলিভ অয়েল। এর ময়েশ্চারাইজিং গুণ, চুল বা রোম ঝরার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হেয়ার গ্রোথ হয় স্বাভাবিক কারণেই এবং

ভ্রূযুগল দেখতে ঘন লাগে

বহু গবেষণার পর জানা গেছে, অলিভ অয়েল-এ থাকে অলিওপেন নামক উপাদান যা হেয়ার গ্রোথ-এ সহায়ক। ফলে প্রতিদিন কয়েক মিনিট অলিভ অয়েল দিয়ে ভ্রূ মাসাজ করলেই আপনি হয়ে উঠতে পারবেন ঘন ভ্রূ-যুগলের অধিকারিণী।

বাদাম তেল

বাদামে থাকে লোয়ার ফ্যাট কোলেস্টেরল, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত সুফলদায়ী। এতে ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়াম থাকার দরুন বাদাম তেল, নিউট্রিযে্টস ও অক্সিজেন রক্তের মাধ্যমে গোটা শরীরে সঞ্চলিত করার কাজে সহায়তা করে।

এছাড়াও এতে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুল ও রোমে পুষ্টি জোগায়, মজবুত করে। প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে ভ্রূ দুটিকে বাদাম তেল দিয়ে মাসাজ করুন। কিছুদিনের মধ্যে ফল পাবেন হাতেনাতে।

পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজের উগ্র গন্ধের জন্য এটার রস অনেকেই ত্বকে বা চুলে লাগানো অপছন্দ করেন। কিন্তু এর গুণ অশেষ। ভ্রূ ঘন করার জন্য কিন্তু পেঁয়াজের রস অব্যর্থ। এতে রয়েছে সালফার, ভিটামিন বি, ই এবং মিনারেলস। এই সবগুলোই হেয়ার গ্রোথ-এর জন্য দারুণ উপযোগী।

শরীরে কোলেজন-এর মাত্রা কমে গেলে, চুল পড়তে শুরু করে। ভ্রূ-ও পাতলা হয়ে যায়। কিন্তু পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলে, এতে মজুদ সালফার কোলেজন পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং ফলিকল্সগুলিকেও মজবুত করে তুলবে।

পেঁয়াজের রস একটা বাটিতে নিয়ে তুলোর সাহায্যে থুপে থুপে ভ্রূয়ের উপর লাগান। আধঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এই প্রক্রিয়া সপ্তাহে ২-৩দিন করলে, তফাতটা নিজেই দেখতে পাবেন।

ভ্রূ ঘন করার চিরস্থায়ী উপায়

পার্মানেন্ট আইব্রোজ হল আধুনিক সমাধান। এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে রোজ আপনাকে আইব্রো পেন্সিলের রেখা টেনে ভ্রূ সুন্দর করে তুলতে হবে না। একই শেপে সুন্দর হয়ে থাকবে আপনার ভ্রূ-যুগল।

এই ভ্রূ আঁকা হয় বিশেষ ধরনের এফডিএ অ্যাপ্রুভড কালার দিয়ে এটি মেশিনের সহায়তায় স্কিনের ভেতর ইনসার্ট করা হয়।

এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে পেনসিলের সাহায্যে আপনার ভ্রূ-কে মনমতো শেপ দেওয়া হয়। তারপর স্কিনের উপর এক্সটার্নাল অ্যানেস্থেশিয়া করা হয়। তারপর কালার ইনসার্ট করা হয় ত্বকে।

এতে দুটি সিটিং-ই যথেষ্ট। দ্বিতীয় সিটিং-এ ছোটো ছোটো খুঁত ঢেকে দেওয়া হয়। শুধু এই পন্থা অবলম্বন করার সময় হাইজিন পয়েন্ট-টা খেয়াল রাখবেন। স্টেরিলাইজড যন্ত্রপাতি ও নতুন নিডলই যেন ব্যবহৃত হয়।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-১০

দিদি থাকত মা-বাপির কাছে, আর ও মামাবাড়িতে। ওর মনের এক কোণে যেমন ধুলোটে বিষাদ জমে আছে বাপি-মায়ের ভালোবাসার জন্য, দিম্মা পায়েলের থেকে ওকে বেশি ভালোবাসায় দিদির মনেও কী কোথাও হিংসের বীজ রয়ে গেছে? দিদির গায়ে রংটা ওর তুলনায় একটু চাপা। দিম্মামা মাঝে মাঝে মজা করে সেকথা দিদিকে বলত। কস্তুরী শুনেছে। সেটাই কি দিদির মনে গভীর জাল বুনে মনে মনে এতটা পাঁকের আকার নিয়েছে? উফঃ মাথার রগদুটো দপদপ করছে। ভাবতে পারছে না আর।

দিদির জীবনে এত বড়ো একটা খুশির সময় কিন্তু কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না কস্তুরী। কেউ কেন বুঝতে পারছিল না এই চরিত্রহীন লম্পট মানুষটার সঙ্গে বিয়ে হলে দিদি ঘর বাঁধতে পারবে না; অঘটন ঘটবে আরও বেশি। কী করে বিশ্বাস করাবে সবাইকে যে, ও দিদির ভালো চায়।

দেখতে দেখতে সেই সর্বনাশের দিনটা এসেই পড়েছিল। বিয়ে নয়, আশীর্বাদ। ইচ্ছে না থাকলেও বাপি-মায়ের সঙ্গে ওকে যেতে হয়েছিল দিদির শ্বশুরবাড়ি। অনেক লোকজন, হই-হল্লা, খাওয়াদাওয়ায় বেলা গড়িয়ে যাচ্ছিল। খোলামেলা পরিবেশে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাঝে আলাপ হয়েছিল ওর বয়সি দুএকজন ছেলেমেয়ে সাথে। দিদি আসেনি, তবুও হবু শ্বশুরবাড়ির প্রত্যেকেই পায়েলের কথা আলোচনায় মশগুল ছিল। কস্তুরী অবাক হয়ে দেখছিল কীভাবে ওর জামাইবাবু শুধুমাত্র অভিনয় করে একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখল। সবার মাঝে থাকলেও ওর সঙ্গে এসে মাঝে মধ্যে ফর্মালি ইয়ার্কি ঠাট্টা করে যাচ্ছিল। বোঝাতে চাইছিল ওদের সম্পর্কটা নেহাতই আর পাঁচটা শালি-জামাইবাবুর মতো মজার।

হঠাৎ বাড়ি চলে আসার সময়ই একটা ঘটনা ঘটে। বিয়ে পরে দিদি যে-ঘরে থাকবে জামাইবাবুর মা ওকে ডেকে নিয়ে যায় সে ঘরে। ঘরের রং, নতুন পর্দা, এসি মেশিনের প্রপার অ্যাডজাস্টমেন্ট দেখাতে দেখাতে কিছুটা কাছে সরে এসে ভদ্রমহিলা বলেন, তোমাদের বাড়ির অবস্থা তো বিশেষ ভালো নয়। তোমার দিদিকে যেমন সবকিছু আমরাই দিচ্ছি, তোমাকেও দেবো, চিন্তা কোরো না। ঋজু যদি কিছু করে থাকে তাহলে সেটা তোমার মধ্যেই রেখো। পাঁচকান কোরো না। কী লাভ বলো? তোমার দিদি খামোকা কষ্ট পাবে। আর তাছাড়া এসব জানাজানি হলে পরে যদি তোমারও বিয়েটা আটকে যায়?

ঘিনঘিনে অস্বস্তিটা পিছু ছাড়ছিল না। তাহলে বাড়িশুদ্ধু সবাই জানে। এদের বাড়ির সবাই জানে কস্তুরীর কথাটা? কিন্তু তাই বা কী করে হয়? দিদি এসে এখানে বলেছে? আর দোষটা? দোষীর কথা? মাথার মধ্যেটা জট পাকিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে কী করা উচিত কস্তুরীর মাথায় আসছিল না।

বাপি-মাকে ডাকবে? উনি কী বললেন তা জানাবে? ওরা যদি আবারও অবিশ্বাস করে? আবারও ওকে দোষ দেয় সমস্ত নিমন্ত্রিত অতিথির কাছে?

কস্তুরী ঘর থেকে বেরোনোর জন্য ছটফট করছিল। পা তুলে চৌকাঠ ডিঙোতে গিয়ে বুঝেছিল ওর একেকটা পায়ে ওজন যেন দশমন ভারী হয়ে গেছে। মেঝের কোনও আকর্ষণ ওর গোটা শরীরটাকে মাটিতে গেঁথে দিচ্ছিল একটু একটু করে। জিভ বুলিয়ে ঠোঁটের শুকনো চামড়া ভিজিয়ে কস্তুরী একটা যথায়থ উত্তর খুঁজছিল। একটা সত্যি উত্তর।

( ৬ )

লক্ষ্মীকাকিমা উত্তরে কী বলেছিল ঠিক শুনতে না পেলেও ঠাকুমা, মানে তমালের ঠাকুমার কথাটা পরিষ্কার শুনেছিল কস্তুরী।

জানো আমাগো বড়ো বৌমার নাড়ি তো শুকায়ে গেছে। না হলি আজও একখান বাচ্চা হলনি?

হ্যাঁ ঠিক এই কথাটাই শুনেছিল ও। ঠাকুমাশাশুড়ির কথায় যে রসালো আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল বুঝতে পারছিল সেটাও। বাড়ির ঠিকে কাজের বউ থেকে তমালের মা পর‌্যন্ত সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। গোটা ব্যাপারটা এতটাই যন্ত্রণার বলে বোঝানো যাবে না।

তমাল আর কস্তুরীর বিয়েটা হয়েছে অনেকটা শিখণ্ডীর মতো। বাড়ির বড়ো ছেলে হওয়া সত্ত্বেও তেমন কোনও দাগ কেটে যাওয়া অস্তিত্ব তমালের কথায় কিংবা কাজে কোনওদিনই ছিল না। তমালের বাবা ছেলেকে অ্যানিমেশন শেখানোয় উত্সাহী হলেও মা যে একেবারেই রাজি ছিলেন না, তা বোঝাই যায়। আসলে মা চাইতেন ছেলে সরকারি চাকরি করুক। মাস গেলে নিশ্চিন্ত একটা মাইনে ঢুকুক ঘরে। কিন্তু তমাল সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়া তো দুরস্ত উলটে প্রাইভেটে অ্যানিমেশনের দিকে ঝুঁকল। ওর জন্য লাখখানেক টাকা ইনভেস্টও করতে হল। কিন্তু হরেদরে দেখা গেল শুরু শুরুতে তমালের মাস গেলে মাইনে ঢুকছে পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার। বছরে ইনক্রিমেন্ট এক হাজার মতো।

আযুষ্মানের নতুন ছবিতে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া

ব্যতিক্রমী অভিনেতা হিসেবেই আযুষ্মানের খ্যাতি। সবসময় বিষয় নির্ভর ছবির হিরো হিসেবেই দর্শকদের মন জয় করে এসেছেন। তিনি নিজের অভিনয় জীবনে বিশেষ করে মেন চলচ্চিত্রগুলিকে বেছেছেন যেগুলি সাধারণ বক্স অফিস সিনেমার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। তাঁর অভিনয়ের দক্ষতার জোরে এবং ছবিগুলির ভালো চিত্রনাট্য হওয়ার সুবাদে সেগুলির স্থান হয়েছে দর্শকদের মনে। প্রতিবারই তিনি প্রমাণ করেছেন, সবরকম চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

২০১২-তে ভিকি ডোনার সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আযুষ্মানের প্রবেশ। এরপর শুভ মঙ্গল সাবধান, অন্ধাধুন, ড্রিম গার্ল, বালা, আর্টিকেল ১৫, বাধাই হো ইত্যাদি ব্যতিক্রমী গল্প নিয়ে তৈরি ছবি তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন এবং প্রতিবারই সুপার হিট-এর তকমা লেগেছে তাঁর ঝুলিতে। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।

আযুষ্মানের নতুন ছবি ‘An Action Hero’। অনিরুদ্ধ আইয়ার পরিচালিত এই ছবিটা পুরো তৈরি হয়েছে বলিউডের মসালা সিনেমার আদলে। সিনেমায় আযুষ্মানের অ্যাকশন হিরো হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় হলেও সমগ্র সিনেমাটি দেখে দর্শকদের কাছে তিনি কিছুটা হাসির খোরাক হয়ে থাকলেও খুব একটা আশ্চর্য হবার নয়।

আযুষ্মান খুরানা এবং জয়দীপ আহলাওয়াত এই ছবির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র। ছবির উপস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন গুলশন কুমারের টি সিরিজ এবং আনন্দ এল রাই।

ছবিতে ব্যস্ত সুপারস্টার এর ভূমিকায় রয়েছেন আযুষ্মান। ছবির গল্প কিছুটা এরকম। পলিটিক্যাল কোনও ব্যক্তির জীবনের উপর ছবি তৈরি এবং সেখানে অভিনয় করাটা আযুষ্মান ওরফে মানবের একেবারেই পছন্দ নয়। অথচ ভাগ্যের ফেরে শুটিং স্পটে দুর্ঘটনাবশত মানবের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে হরিয়ানার দাপুটে নেতা ভুরাব ভাইয়ের মৃত্যু হয়। ভুরার চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত। গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে দেশ ছাড়ে মানব। বিদেশেও পিছু করে ভুরা। বিড়াল-ইঁদুরের এই দৌড় খুব একটা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়নি। মনে হয়েছে ছবিটাকে বাড়াবার উদ্দেশ্যেই অযাচিত অ্যাকশন রাখা হয়েছে। নয়তো অত বড় একজন সুপারস্টার পালিয়ে না গিয়ে আইনের দ্বারস্থ কেন হলেন না?

অ্যাকশন দৃশ্যগুলিতে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে আযুষ্মানকে অ্যাকশন করতে দেখা গেলেও তাঁকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে কিছুতেই যেন মেনে নেওয়া যায়নি। তাকে মাঝেমধ্যেই বিভ্রান্ত বলে মনে হয়েছে। ক্যামিও চরিত্রে অক্ষয়কুমারকে ভালো লেগেছে। মালাইকার উপস্থিতি প্রতিবারের মতোই লাস্যময়ী।

সিনেমাটি দেখে বারবার মনে হয়েছে Action Hero-র মাধ্যমে আযুষ্মান বলিউডি সিনেমার মূল স্রোতে ফেরার চেষ্টা করেছেন এবং এই চেষ্টার জন্য তাঁর প্রশংসা প্রাপ্য।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব