ত্বকে ওয়্যাক্স করলে ত্বক কালো হয়ে যাচ্ছে

আমি অবাঞ্ছিত রোম পরিষ্কার করার জন্য বহুদিন ধরে ওয়্যাক্স প্রয়োগ করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি ত্বকে কালো এবং ছোপ ছোপ দাগ দেখা দিয়েছে। দাগ দূর করার জন্য কী সমাধান রয়েছে?

সকলেই মোমের মতো সুন্দর মোলায়েম ত্বক পেতে চান। এর জন্য ওয়্যাক্সিং হল সবথেকে ভালো বিকল্প। এর একাধিক সুবিধা রয়েছে। এটি ত্বককে মোলায়েম করে ত্বকের ট্যান দূর করে, ত্বক কে করে সুন্দর। তবে জেনে রাখা ভালো এর একটি মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ঘন ঘন ওয়্যাক্সিং করালে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায়, ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়, ত্বক কুঁচকে যায়। এছাড়াও সংক্রমণেরও ভয় থাকে। ত্বকের পিগমেনটেশন, লালচে ভাব এগুলোও এই ক্ষেত্রে খুব কমন সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে।

ওয়্যাক্স ব্যবহার করলে ত্বক কখনও কালো হয় না। আপনার ত্বকে দাগের কারণ, হেয়ার রিমুভাল ক্রিম অথবা রেজার হতে পারে। তাছাড়াও হরমোনাল পরিবর্তন, প্রিসিওডি, থাইরয়েড অথবা কোনওরকম রিয়্যাকশনও হতে পারে। আন্ডারআর্মের কালো রং দূর করতে ডাক্তারের পরামর্শে কম কনট্যাক্ট-এর হাইড্রোকুইনোন ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও ডাক্তার আপনাকে লেজার হেয়ার রিডাকশন এবং কেমিক্যাল পিল্স-এরও পরামর্শ দিতে পারেন। ত্বকে সরাসরি পারফিউম, কোনওরকম ফ্র‌্যাগরেন্স, রেজার অথবা সিন্থেটিক কাপড় ব্যবহার করবেন না। ত্বক পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত ওয়্যাক্স করুন। এতেও যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে আইপিএল (ইনটেন্স পালসড লাইট)ট্রাই করে দেখতে পারেন। এই থেরাপির মাধ্যমে আপনি অবাঞ্ছিত রোমের থেকে সম্পূর্ণ ভাবে মুক্তি পেতে পারেন। এই ইটালিয়ান টেকনোলজি রোম তোলবার একটি সুরক্ষিত এবং কার্যকরী পদ্ধতি। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

শহরবাসের কথকতা শেষ পর্ব

( ২৫ )

এত চিৎকার চ্যাঁচামেচি সত্ত্বেও, লরিগুলো দাঁড়িয়ে আছে। খালাসিরা লরিতে মাটির ওপর বসে আয়েশ করে বিড়ি টানছে। ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করি,

তোমার নাম কি?

পার্থ।

আমাকে চেনো?

জয়ন্ত আমার খুড়তুতো দাদা। আপনাকে চিনব না? ডলিদিকেও চিনি।

আমার বুকটা আনন্দে নেচে ওঠে। বহুদিন পর জয়ন্তর নাম শুনলাম। ওর আত্মীয়রা এখানে আছে জানলাম। মনে হল এক্ষুনি হয়তো বাসবকেও দেখতে পাব। বলি, এখানে এসব কারা করছে?

সমরকাকুর এক আত্মীয় বাড়িটাও বিক্রি করে দিয়েছে। এবার পার্টির সাহায্য নিয়ে ঝিল বুজিয়ে ফ্ল্যাট করবে। অনেকদিন ধরেই আস্তে আস্তে মাটি ফেলছে। যেন কেউ বুঝতে না পারে।

কেউ কিছু বলছে না?

কে বলবে? পার্ক হবে বলে মাটি ফেলছে। এই ওয়ার্ডের কমিশনারও যুক্ত আছে এর সঙ্গে।

তারপর?

আমরা ভেতরে ভেতরে খোঁজ নিয়ে কদিন আগে ব্যাপারটা জেনেছি।

লুঙ্গিপরা লম্বামতো একটি লোক এগিয়ে এসে বলল, কীসব হচ্ছে বলো তো? লোকটিকে আমি চিনি।

ডলি হঠাৎ বলে উঠল, এসব ভালো না। এত বড়ো ঝিল এ শহরে একটাও নেই। মিউনিসিপ্যালিটি কোথায় চারপাশে গাছ বসিয়ে প্রকৃতিকে সুন্দর করে সাজাবে তা নয়, ঝিল বোজাচ্ছে!

ডলির উত্তেজনার আঁচ যেন ছড়িয়ে পড়ল হঠাৎই। চারপাশ থেকে আরও কিছু পুরুষ মহিলা এসে জড়ো হল। কয়েকজন চিত্কার করে উঠল, এসব হতে দেব না। এলাকার উন্নয়ন চাই। ফ্ল্যাট চাই না। মন্দির সারাতে হবে। জমি বিক্রি চলবে না। দুমদাম লরিতে ঘুষি লাথি পড়ছে। কারা যেন লাঠি রড এনেছে।

পার্থ বলল, পিকুনদা আপনারা চলে যান। দাঁড়াবেন না পাবলিক খেপে গেছে।

লম্বা লোকটি আমার কাঁধে ঠেলা মেরে বলল, চলে যাও। শিগগিরি পালাও।

পার্থকে বললাম, আমার বাড়ি চেনো?

হ্যাঁ দাদা।

কাল সকালে আসতে পারবে?

নিশ্চয়ই যাব।

লরির গায়ে লাঠির শব্দ। ঢিব ঢিব। লরির হেডলাইট জ্বলে উঠল। ইঞ্জিন স্টার্টের শব্দ হচ্ছে। আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল আরও কয়েকটি ছেলে। বলল, পালান আপনারা।

কেন? ডলি আমার হাতটা ধরে ওদের জিজ্ঞেস করল।

এক্ষুনি পুলিশ আসতে পারে। প্রমোটারের লম্বা হাত আছে।

একজন বলল, প্রমোটার এমএল-এর কাছের লোক।

ডলি বলল, তাতে কী হয়েছে? এই ঝিল বোজানো চলবে না। মন্দিরের জমি বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

আমার কথাগুলোই যেন ও বলছে। আমার শরীর গরম হয়ে উঠল। বললাম, না। এ হতে দেওয়া যায় না।

এক মহিলা আমাদের সামনে এসে বলল, আমরা সারা জীবন এই ঝিলে কাপড় কেচেছি, বাসন মেজেছি, চান করেছি।

ময়নাপিসি তুমি চুপ করো। আমরা দেখছি। একটি ছেলে বলে।

কেন চুপ করব? যে যা খুশি তাই করবে? মন্দির ভাঙবে? ওসব চলবে না।

পার্থ বলল, পিকুনদা, আপনারা যান। কাল আপনার সঙ্গে দেখা করব।

ঠিক আছে।

আমরা হাঁটতে লাগলাম। সব কিছু কেমন ওলট-পালট হয়ে গেল। আধ ঘন্টা আগের সঙ্গে এখন কোনও মিল নেই। হাঁটতে হাঁটতে ডলি বলল, পিকুন, আমাদের ছোটোবেলার কোনও স্মৃতিই কি আর থাকবে না?

জোরে জোরে বলি, থাকবে। থাকবে। থাকতেই হবে।

সন্ধেবেলায় ঝিলের সামনে এসে দাঁড়াই। পার্থ এবং অন্য দুজন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। ডেস্টিনেশন এই ওয়ার্ডের কমিশনার।

স্টুডেন্টদের বলে দিয়েছি আজ সন্ধ্যায় পড়াব না। সকালে পার্থ এসেছিল আমার বাড়ি। আমরা পরিকল্পনা ঠিক করে নিয়েছি।

ওয়ার্ড কমিশনার শশীকান্ত যাদব যেন জানতেনই আমরা আসব। বৈঠকখানায় বসেছিলেন সবুজ ফাইবারের চেয়ারে। বছর পঞ্চান্ন-আটান্ন বয়স হবে। মাথায় কাঁচাপাকা চুল। মেরুন রঙের চওড়া গোঁফ। বড়োসড়ো চেহারা। সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরনে। ঘরে দশ-বারোটা চেয়ার। আরও চারজন মানুষ বসে। ঘরের দেয়ালের ধারে অনেকগুলো প্লাস্টিকের কাপ পড়ে। সারা ঘরজুড়ে পোড়া দেশলাইয়ে কাঠি বিড়ি সিগারেটের টুকরো ছড়িয়ে ঝুলে ভরা ঘরের দেয়ালের রং।

যাদববাবুর বাঁ পাশে কাঠের টেবিলে গোটা তিনেক লেটারহেড প্যাড, চার-পাঁচটা ডট পেন একটা স্ট্যাম্প প্যাড পড়ে। উনি একটা প্যাডে কিছু লিখছিলেন। আমারদের দিকে মুখ তুলে একগাল হেসে বললেন, আসেন। আসেন। বসেন পিকুনবাবু। আমার নামটা জানেন দেখে ভীষণ অবাক হলাম। আমরা বসলাম।

শশীকান্ত প্যাডের ওপরের পাতাটা ছিঁড়ে একজনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ছবি এনেছ?

হ্যাঁ।

শশীকান্ত ফেভিস্টিকটা তার দিকে এগিয়ে ধরে বাজখাঁই গলায় বললেন, লাগিয়ে নাও।

লোকটি তাঁর হাত থেকে কাগজ আর স্টিকটা নিয়ে ছবি পেস্ট করতে লাগল।

আমাদের দিকে তাকিয়ে অমায়িক হেসে বললেন, বলেন, কী ব্যাপার?

হাত জড়ো করে নমস্কার জানিয়ে বললাম, আমরা এসেছি ওই ঝিলের ব্যাপারে।

বলেন।

আসলে ওই ঝিল, তার পাশে মন্দির, এসবই এই শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য।

হুঁ।

আমরা চাই এই ঐতিহ্য অটুট থাক। আরও সুন্দর করে গড়ে তোলা যেতে পারে। মন্দিরটাকে সারানো দরকার। ঝিলের পাশে আরও গাছ লাগানো উচিত। ঝিল আর মন্দিরের মাঝখানে ছাতিমতলায় শিশু এবং প্রাতঃ বা বৈকালিক ভ্রমণকারীদের জন্য পার্ক হলে ভালো হয়।

হুঁ হুঁ। একদম ঠিক। ভেরি গুড প্ল্যানিং। শশীকান্ত টেবিলে বিশাল থাবা রেখে বললেন।

এরকম কথায় আমি বেশ ঘাবড়ে গেলাম। লোকটি সম্পর্কে সমস্ত খোঁজ খবর নিয়ে একেবারে প্রস্তুত হয়ে এসেছি। এখানে এসে সব কেমন গুবলেট হয়ে গেল। তবুও মনকে শক্ত করে বলি, কিন্তু একটা সমস্যা হয়েছে।

সোমস্যা? উনি ভ্রূ কুঁচকে চোখ সরু করে আমার দেখছেন।

হ্যাঁ। সমস্যা। কোনও এক প্রমোটার ঝিল বুজিয়ে ফ্ল্যাট করার প্ল্যান করেছে। ঝিলের এপাশে লরি লরি মাটি ফেলা হচ্ছে।

তাই? হো হো করে গলা ফাটিয়ে হেসে উঠলেন শশীকান্ত।

লোকটিকে আমার ঠিক সিনেমার ভিলেনের মতো লাগছে।

হাসি থামিয়ে বললেন, ওসব কোনও বেপার নয়। আমি দেখছি। সামনের হপ্তায় আপনারা ফির একবার আসুন।

নমস্কার জানিয়ে আমরা বেরিয়ে এলাম। রাত্রে ফোন করে ডলিকে সব বললাম।

( ২৬ )

ঘটনার দুদিন পর ভোরবেলা পার্থ ফোন করে আমাকে বলল, দাদা, কাল ভোররাতে ওরা আবার লরি ঢুকিয়েছে। মাটি ফেলেছে।

আমার শরীর গরম হয়ে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে অনেক বিষয় মাথায় খেলে বেড়াল। মনে হল এখনই ছুটে যাই। তা না করে বলি, তোমরা কোনও শব্দ পাওনি?

না দাদা।

ঠিক আছে। আমি কলেজ যাওয়ার পথে তোমাদের সঙ্গে দেখা করছি।

একটু বেলায় ডলিকে ফোন করলাম। সব শুনে ডলি বলল, কখন যাবি বল, আমিও যাব।

গম্ভীর গলায় বলি, তুই যাস না। আমি যাই। পরে তোকে ফোন করব।

না। আমি যাব। এ লড়াই সকলের। রুখতেই হবে। প্রয়োজনে অপোন্যান্ট পার্টির কাছে যেতে হবে। সর্বদলীয় প্রচেষ্টা দরকার। তা না হলে হবে না।

ডলির কন্ঠস্বর এবং কথাবার্তায় চমকে উঠলাম। এই ডলিকে আমি চিনি না, জানি না। ওর ভেতরের আগুনটা আজ সকালে আমাকে আরও উজ্জীবিত করে তুলল। বললাম, দশটার সময় ঝিলপাড়ে আসিস।

এসে দেখি আমার আগেই ডলি এসে গেছে। ওকে ঘিরে পনেরো-কুড়িজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছোটো ছোটো কয়েকটি ছেলে-মেয়ে মাটির ঢিবির ওপর খেলছে। বসন্তের হাওয়া খেলে বেড়াচ্ছে নারকেল গাছের মাথায় মাথায়। দূরে পাটাতনের ওপর কাপড় জামা কাচছে ধোপারা। ধব ধব শব্দ এখানেও শোনা যাচ্ছে। দড়ির মাথায় ঝুলছে শাড়ি। হসপিটালের সাদা চাদর। কোথায় যেন কোকিল ডাকছে, কুহু কুহু। যেতে যেতে মানুষজন থমকে দাঁড়াচ্ছে আমাদের সামনে।

পার্থ কয়েকজন মাঝারি বয়েসের মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিল। ডলি গম্ভীর গলায় বলল, আমাদের এখনই কমিশনারের কাছে যাওয়া দরকার। একজন ল-ইয়ারের সঙ্গে কথা বলা উচিত প্রথমেই।

একজন বলল, পাড়ায় তো ল-ইয়ার আছে।

কে?

ভাদুড়িবাবুর ছেলে।

শিবুকাকা বলল, হাইকোর্ট প্র‌্যাকটিস করে। সন্ধেবেলায় যাওয়া যাবে।

ঠিক আছে যাব। কিন্তু আমাদের প্ল্যানিং হল রাত্রে সজাগ থাকতে হবে।

সকলেই প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, নিশ্চয়ই থাকব। প্রয়োজনে রাত জাগব।

ঘড়িটা দেখে বলি, চলুন, কমিশনারের কাছে যাওয়া যাক। বহু লোক মিলে হাঁটতে লাগলাম।

গিয়ে দেখি কমিশনার নেই। ভেতর থেকে একটা লোক বেরিয়ে এসে বলে, এই মাত্র সাহেব বেরিয়ে গেলেন।

কে যেন বলল, শালা স্পাই আছে দলে। চমকে উঠি।

কী করে বুঝলে?

একটি বছর তিরিশের ছেলে আমার সামনে এসে বলল, পলিটিক্স বুঝতে বহু সময় লাগে।

আর একজন বলল, বাড়িতেই আছে। দেখা করছে না।

বলি, মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যানকে ব্যাপারটা জানানো যেতে পারে। এটা ভেস্টেড কিনা তাও জানতে হবে।

পার্থ বলল, ঠিক আছে, আমি শিবুকাকাকে নিয়ে মিউনিসিপ্যালিটি যাচ্ছি ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টে কথা বলব। চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করব।

বললাম, আটটার সময় আসব।

ল-ইয়ারের কাছে যাব।

সব শুনে উকিলবাবু বললেন, জমির, ঝিলের দাগ নম্বর জানা আছে?

না।

দাগ নম্বর বার করতে হবে। কারও কাছে এরিয়া ম্যাপ আছে?

না।

আপনারা সেটেলমেন্ট অফিসে যান। ওখানে খোঁজ করুন। এগুলো না হলে কাজ এগোবে না।

আমাদের সকলের মুখেই বোধ হয় হতাশার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। সবাই চুপ করে রইলাম।

উকিলবাবু বললেন, আপনারা কিছু পোস্টার লাগিয়ে প্রচার করুন।

ঠিক বলেছেন।

আপনারা থানায় জানান। চেয়ারম্যানকে যেমন জানিয়েছেন তেমনি এমএলএ-কেও লিখিত ভাবে জানান। বিএলআরও-কে, ডিএম-কে, এমপি-কে লিখিত জানান। যত পারবেন মানুষের সই জোগাড় করুন। তারপর দেখছি।

মা এটা শুধু আমার ব্যাপার নয়। বহু মানুষ জড়িয়ে এটা ঐতিহ্যের সমস্যা। একটা মন্দির যুগের পর যুগ ধ্বংসাবস্থায় পড়ে থাকবে, ঝিল বুজিয়ে ফ্ল্যাট হবে, তা মেনে নেওয়া যায়?

ঠাম্মা বিরক্ত হয়ে বলে, তুই কী করবি?

আমি এই ধান্দাবাজ রাজনৈতিক নেতা প্রমোটারের বিরুদ্ধে সব মানুষকে এক জোট করব। আমাদের এই আন্দোলন সারা রাজ্যে এক ইতিহাস হয়ে উঠবে।

তোর পাশে কে আছে? কাপে চা ঢালতে ঢালতে মা প্রশ্ন করে।

এলাকার সব মানুষ আছে। আমরা এমএলএ, এমপি-র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে প্রেস মিট করব। মিডিয়াকে জানাব।

মা-ঠাম্মা অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। ঠিক সেই সময় পার্থ এবং তিন-চারটে ছেলে এল। ড্রইংরুমে ওদের এনে বসাই।

একটি ছেলে বলে, দাদা পোস্টার লেখা হচ্ছে। রাতের মধ্যেই সব লাগিয়ে ফেলব।

মাকে বলি, একটু আঠা করে দেবে?

মা নিঃশব্দে রান্নাঘরে ঢুকে যায়।

আমরা পাঁচজন বসে ব্লু প্রিন্ট তৈরি করি।

ঠাম্মা চায়ের কাপ হাতে বলে ওঠে, একটা মিছিল দরকার। আমরা সবাই চমকে উঠি।

ঠাম্মা আবার বলে, হ্যাঁ, ঠিকই বলছি মিছিল দরকার। একটা-দুটো-তিনটে… বাড়ির মেয়েবউকেও নিতে হবে মিছিলে।

একটি ছেলে বলে, ঠিক বলেছেন। জাত ধর্ম আমরা জানি না। সবাইকে এক হতে হবে।

জীতেন নামে একটি ছেলে বলে, এই আন্দোলন হবে ধর্মের ঊর্ধ্বে।

আমি অবাক চোখে সবাইকে দেখি। পার্থর ফোন আসে, বল।

আজ রাতের মধ্যে…

এমএলএ এখানে নেই। কলকাতায়।

তোরা থাক। আমরা যাচ্ছি।

ন্যাকড়ায় ধরে আঠার ডেকচিটা মেঝেতে নামাতে নামাতে মা বলল, সব বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে। প্রাচীনতাকে বিসর্জন দিয়ে আধুনিক সভ্যতা গড়া যায় না। আমার বুকে ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে।

( ২৭ )

কলেজ যাওয়ার পথে ঝিল পাড়ে দাঁড়াই। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে সারা অঞ্চল। ঝিলের ওপর মাটি ফেলা অংশেও খুঁটির ওপর দরমা লাগিয়ে পোস্টার সাঁটা হয়েছে।

আমাকে দেখে শিবুকাকা এগিয়ে এসে জানালেন, ওরা দুপুরে কোর্টে যাবে চিঠি টাইপ করাতে।

মানিব্যাগ থেকে দুশো টাকা বার করে শিবুকাকার হাতে দিয়ে বলি, এটা রাখুন। আরও টাকা আমরা তুলব।

একটা কথা বলি।

কী?

সকালে পার্টির একজন লোক, আমাদের সঙ্গেই আছে, এমএলএ-কে ফোন করেছিল। দুএক দিনের মধ্যেই উনি ফিরলে দেখা করতে বলেছেন।

বাঃ। এ তো ভালো খবর। আমি চলি। রাত্রে যোগাযোগ হবে আবার।

ঠিক আছে। চললে কোথায়?

একটা রিকশায় উঠে বললাম, কলেজ।

রাত্রে ওরা চিঠিগুলো টাইপ করে এনে আমাকে দেখায়। চিঠিগুলো পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমরা সত্যিই যেন এক বৃহৎ আন্দোলন করতে চলেছি। যেভাবে ভারত স্বাধীনের আন্দোলন হয়েছিল ঠিক তেমনই! ওই অঞ্চলটা যেন আমাদের মাতৃভমি হয়ে উঠেছে।

ওরা বলল কাল থেকেই সই সংগ্রহে নেমে পড়বে। দুদিনেই কাজটা করে ফেলবে। আমরা একটা স্বপ্ন দেখতে পারছি। আমরা কিছু করতে চেষ্টা করছি। সমবেত ভাবে আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে চলেছি। যেভাবে সত্তরের যুবক যুবতিরা নতুন রাষ্ট্রগড়ায় মেতে উঠেছিল, সেই ভাবেই আমরা স্বপ্ন দেখছি। গেম প্ল্যান তৈরি করছি।

রাতে ঘুমের মধ্যে কতগুলো ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়াল আমার সামনে। অস্পষ্ট। তাদের কাউকেই চিনতে পারছি না। তারা হাতের ইশারায় ডাকছে, আমি একটুও এগোতে পারছি না। পা দুটো বাঁধা যেন কীসের সঙ্গে। আমি ওদের চিত্কার করে কাছে ডাকছি। কেউ আসছে না। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি নদীটাকে। পাড়ে অসংখ্য গাছ। হাওয়ায় ওদের চুল উড়ছে। বেণি দুলছে। হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে ওরা সুর করে গাইছে, এলাটিন বেলাটিন সই লো, কীসের খবর আছে, রাজা মশাই একটি বালক চাইল…।

ঘুমের আড়ালে স্বপ্নে আমি চিত্কার করে উঠি রাইমা! সঞ্জনা! বাসব! জয়ন্ত! সুমিতা! অমিতা! চমকে উঠি। অমিতা তো মারা গেছে। তবে!

ঘুম ভেঙে যায়। বোতল থেকে জল খাই। বুকটা লাফাচ্ছে। ঘেমে উঠেছে। বিছানা থেকে নেমে আস্তে করে ফ্যানটা চালাই।

স্বপ্নের রেশ আমার কাটে না। স্বপ্নটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নদী নয়, ওটা ঝিল। চারপাশে গাছ। ভাঙা মন্দিরের চড়ায় বসে কাক ডাকছে কা কা…। মন্দিরের চারপাশে বুনো ঝোপ। বুনো ঝোপ হঠাৎই মিলিয়ে গেল। দেখতে পেলাম লাল হলুদ সবুজ ওযোর কোটেড ছোটো ছোটো কতগুলো শৌখিন বাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছাদের রেলিঙে শাড়ি উড়ছে। পাঞ্জাবি ঝুলছে।

ঝিল পাড়ে এখন আর মাটির লরি আসে না। অচেনা মানুষজনকে আর ঝিল পাড়ে দেখা যায় না। এক রবিবার সকালে আমরা সারা অঞ্চল জুড়ে মিছিল করেছি। লাঠির মাথায় পোস্টার হাতে নিয়ে হেঁটেছি। সামনে দাঁড়িয়ে ডলি নেতৃত্ব দিয়েছে। বাসবকে আসতে বলেছি। বাসব জয়ন্তর নাম্বার জোগাড় করে ফোন করেছে আসার জন্য। বিএলআরও, এমপি-কে চিঠি দিয়েছি। এখনও কোনও উত্তর পাইনি। মঙ্গলবার ডিএম-এর কাছে ডেপুটেশনে যাব।

আমরা প্রায় রোজই আলোচনায় বসি। ডলি আসে। সিনিয়র মানুষেরাও থাকে। আমাদের পাশে এখন লোকজন অনেক। সবাই মিলে কাজ করি। রাত্রে ঝিল পাড়ে পাহারা থাকে। বেশ গরম পড়েছে।

দোলের দিন গান গেয়ে আবির খেলে বেড়িয়েছি সারা অঞ্চলটায়। নতুন বাড়িগুলোর লোকজনও মেতে উঠেছিল আমাদের সঙ্গে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আবির খেলেছিল, গলা মিলিয়েছিল। আমরা মিষ্টিমুখ করেছি। মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে নতুন ভাবে মন্দিরকে গড়ে তোলার শপথ নিয়েছি। পার্ক হবে। ফুলে ফুলে সেজে উঠবে বাগান।

একদিন সন্ধ্যায় অখিল পাসোয়ানের বাড়িতে মিটিঙে একজন বলল, প্রমোটার পুলিশ দাঁড় করিয়ে ঝিল ভরাট করবে শুনছি।

কোথায় শুনলে? সমবেত প্রশ্ন।

এক সার্ভেয়ার বলেছে।

আর কী বলেছে?

ফ্ল্যাট হবে। সুইমিং পুল হবে। মাল্টিপ্লেক্স হবে। রাস্তা চওড়া হবে।

কয়েকজনের কোমর থেকে চপার কুকরি বেরিয়ে এল। তারা সেগুলো মাথার ওপর তুলে বলল, জীবন থাকতে হতে দেব না।

আমি তাদের শান্ত করতে চেষ্টা করি। খবরটার সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে বলি।

জীতেন বলে, দাদা, কথাটা অবিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। এই ব্যাপারে একটা বিরাট র‌্যাকেট কাজ করছে।

একটি অল্প বয়েসি ছেলে হঠাৎ বলে উঠল, বোম মেরে সব উড়িয়ে দেব।

পরিষ্কার বুঝতে পারছি তাদের আবেগ ভালোবাসা এবং আন্দোলনের উন্মাদনা। প্রতিবাদ এবং দখলদারী চিরকালই ছিল আছে আর থাকবেও। ইতিহাস তাই তো বলে। স্বাধীনতার লড়াই এবং উন্মত্ত সত্তর সত্য। চিরকালীন। শুধু বিষয়টাই অন্যরকম। কিন্তু আন্দোলন এভাবে করতে চাই না। উত্তেজিত লোকজনকে এখনই থামাতে হবে। মিটিং শেষ করে দিতে হবে। মিটিং চললে উত্তেজনা আরও বাড়বে।

দুহাত তুলে বলি আরও একটু সময় নিয়ে আরও কিছু ইনফর্মেশন জোগাড় করি। তারপর আমরা পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করব।

কয়েকজন বলে উঠল দাদা, আমরা কিন্তু ছাড়ব না। এর শেষ দেখব। কিছু না বলে নিঃশব্দে আমরা বেরিয়ে আসি।

ডলিকে পৌঁছে দিয়ে ফিরছিলাম। এখন প্রায় দশটা বাজে। সকাল থেকেই বেশ মেঘলা আকাশ। টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। দোকান টোকান সব বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তাতেও লোক চলাচল প্রায় নেইই।একটু হেঁটেই বাড়ির রাস্তায় ঢোকার মুখে কয়েকটি মোটর বাইক আমাকে চারপাশ থেকে গোল করে ঘিরে ধরল। হেড লাইটের তীব্রতায় কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। ওদের মুখ থেকে খিস্তি ভেসে আসছে। বাইক থেকে নেমে দুটি ছেলে আমার কলার ধরে ঘুসি মারতে লাগল। আমি বাধা দিতে চেষ্টা করেও ওদের গায়ে জোরের সঙ্গে পারছি না। মুখ চোখ ফেটে গেল। রক্তে ভেসে যাচ্ছে আমার বুক। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছি। হাত মুচড়ে ধরে আমায় মারছে। চুলের মুঠি ধরে মাথা এপাশে ওপাশে ঘোরাচ্ছে। রাস্তায় ফেলে বুকে পেটে লাথি মারতে লাগল। মাথায় ইট মারছে। হাঁটুতে মারছে।

একজন বলল, ছেড়ে দে। মরে গেলে কেস জন্ডিস হয়ে যাবে।

অন্যজন বলল, দাদাগিরি ছুটিয়ে দেব।

ঠিক সেই মুহূর্তে দূর থেকে ছুটে আসার কিছু পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম। তারা চিত্কার করছে, ধর… ধর…

বাইকগুলো উলটো দিকে ছুটে গেল। কারা যেন বলছে, ইশ। কী করেছে! এক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে চল।

আমার মাথাটা দুহাতে তুলে কে যেন বলল, রাজুর টাটা সুমোটা বার করে আন।

একজন বলল, ডলিদিকে খবর দে।

আমি আর তাকাতে পারছি না। কিছু শুনতেও পাচ্ছি না। মৃদু কণ্ঠে বলি, মা… মা…

অনেকগুলো কন্ঠস্বর চিত্কার করে উঠল আমাদের লড়াই চলছে, চলবে। আমরা পিছু হঠব না। ওদের ধরে মাটিতে পুঁতে ফেলব। খুঁজে বার করবই। চিত্কার বাড়ছে আমি আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না। বুঝতে পারছি না। শুধু চেতনায় বাজছে একটা সুর।

এক দল বলছে এলাটিন বেলাটিন সই লো।

অন্য দল বলছে কীসের খবর আইল?

আগের দল বলছে রাজামশাই একটি বালিকা চাইল।

পরের দল বলছে কোন বালিকা চাইল?

চাইল… চাইল…        0

সমাপ্ত

স্ন্যাক্স & সুইটস

বাড়িতে কলেজপড়ুয়া ছেলেমেয়ে থাকলে প্রায়ই তাদের আব্দার মেনে নিতে হয়৷ তাদের বন্ধুদের আসা-যাওয়া লেগেই থাকে বাড়িতে. আর মাঝে মাঝেই ঝাঁক বেঁধে সবাই হইচই করতে চলে আসে৷ তখন তাদের জন্য একটা ছোটোছাটো পার্টির আয়োজন করে দিতেই হয়৷ কী বানাবেন আপনার টিনএজার ছেলেমেয়ে ও তাদের বন্ধুবান্ধবদের জন্য ? রইল কয়েকটি জিভে জল আনা রেসিপির হদিশ৷ Party dish হিসেবে ছোটোদের খুবই পছন্দ হবে৷

টেস্টি কচুরি

উপকরণ (কচুরির জন্য): ১ কাপ ময়দা, ১/২ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ জোয়ান, ২ বড়ো চামচ তেল।

উপকরণ (পুরের জন্য): ১ বড়ো চামচ বিউলির ডাল, ১ ছোটো চামচ মৌরি, ১/২ ছোটো চামচ জিরে, ১ ছোটো চামচ গোটা ধনে, ১/২ ছোটো চামচ আমচুর, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী (পুরের জন্য): বিউলি ডাল ধুয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে জল ছেঁকে প্রেসারে অর্ধেক সেদ্ধ করে নিন। একটা প্যানে তেল গরম করে, জিরে, মৌরি, গোটা ধনে ফোড়ন দিন। আদা পেস্ট ও লংকাকুচি দিয়ে নাড়তে থাকুন। অন্য সব মশলা দিয়ে সব শেষে ডালটা দিয়ে দিন। ভালো ভাবে কষুন যতক্ষণ না শুকনো হয়।

প্রণালী (কচুরির জন্য): ময়দার সঙ্গে বেকিং পাউডার, জোয়ান আর ১ চামচ তেল মিশিয়ে জল দিয়ে শক্ত করে মেখে নিন। এই মিশ্রণ থেকে লেচি কেটে নিন। হাতের তালুতে লেচি রেখে তার ভেতর পুর ভরুন ও বেলে নিন। এভাবে কচুরি বেলা হলে কড়ায় তেল গরম করুন। কচুরি ডিপ ফ্রাই করুন। অথবা দ্বিতীয় একটা পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

এই পদ্ধতিতে, অপ্পম তৈরির পাত্রে অল্প তেল বুলিয়ে আঁচে বসান। কচুরিগুলো না বেলে পুরভরা অবস্থায় এই অপ্পমের ছাঁচে দিয়ে দিন। মাঝারি আঁচে সেঁকে নিন। চারদিক ভালো ভাবে সেঁকতে সুবিধে হবে, যদি এর ফাঁকে একবার ব্রাশের সাহায্যে কচুরির গায়ে তেল বুলিয়ে নেন। আলুর তরকারির সঙ্গে এই খাস্তা কচুরি খেতে অনবদ্য লাগে।

 

পট্যাটো স্ন্যাক্স

Potato Snacks recipe

উপকরণ: ১৫-২০টা ছোটো আলু বা বেবি পট্যাটো, ১ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১/৪ কাপ পেঁয়াজ মিহি করে কাটা, ১ ছোটো চামচ রসুনকুচি, তেল ভাজার জন্য, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো সস, ১ ছোটো চামচ সোয়া সস, ১ চিমটে গোলমরিচের গুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ভিনিগার, সাজানোর জন্য পেঁয়াজকলি, ১ ছোটো চামচ রেড চিলি পেস্ট, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: আলু খোসা সমেত একটু নুন দিয়ে অর্ধেক সেদ্ধ করে নিন। আঁচ থেকে নামিয়ে কাঁটা দিয়ে ফুটো করে নিন। অল্প কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে ভালো ভাবে মাখিয়ে নিন আলুর গায়ে তারপর প্যানে তেল দিয়ে ভেজে নিন। এবার অন্য একটি প্যানে তেল গরম করে, এতে পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নিন। সমস্ত সস ও মশলা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। ১ চামচ কর্নফ্লাওয়ার ২ চামচ জলের সঙ্গে গুলে, এতে মিশিয়ে নিন। একটু ঘন হলেই এই গ্রেভিতে ভাজা আলুগুলো দিয়ে দিন। মশলাটা আলুর গায়ে ভালো ভাবে না মেখে যাওয়া অবধি নাড়তে থাকুন। পেঁয়াজকলি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

 

সুজি রোল

Sooji Roll recipe

উপকরণ: ১ কাপ সুজি, ১/২ কাপ দুধ, ১ বড়ো চামচ চিনি, ৩ চামচ খোয়ক্ষীর, ২ বড়ো চামচ কনডেন্সড মিল্ক।

প্রণালী: কড়ায় দুধ গরম করে তাতে সুজি ঢেলে দিন। ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এবার আঁচ থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এই সুজির মণ্ড থেকে লেচি কেটে নিন। দুটি পলিথিনের টুকরোর মাঝে লেচি রেখে, চাপ দিয়ে বেলে নিন। দেড় ইঞ্চি মতো আকারে টুকরো হবে।

খোয়াক্ষীর ও কনডেন্সড মিল্ক একসঙ্গে চটকে পুর তৈরি করুন। একেকটি সুজির লম্বা টুকরোয় এই পুর ভরে, রোল করে নিন। ফ্রিজে রেখে সেট হতে দিন। ঠান্ডা সার্ভ করুন।

আমার ত্বক খুব রুক্ষ এবং সঙ্গে তৈলাক্তও

আমার ত্বক খুব রুক্ষ এবং একই সঙ্গে অয়েলিও। শীতে ত্বক খুব রুক্ষ হয়ে পড়ে আবার গরমে তেল চিপচিপে হয়ে যায়। কী করলে ত্বক রুক্ষ এবং তৈলাক্ত কোনওটাই হবে না? আমার এই Personal problem-এর সমাধান কী?

আপনার ত্বকের ধরন সংমিশ্রিত বা কম্বিনেশন ত্বকের উদাহরণ। এর অর্থ হল ত্বকের কিছু অংশ শুষ্ক ও কিছু অংশ তৈলাক্ত। এ ধরনের ত্বক যাদের টি-জোনটি অর্থাৎ নাক, থুতনি এবং কপালের অংশটি তৈলাক্ত হয় কিন্তু গাল এবং চোয়ালের অংশটি শুষ্ক হয়। এই ধরনের ত্বকের জন্য পুরো ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায় না। আবার এমন কিছুও বেছে নিতে পারবেন না যা আপনার ত্বককে ফ্ল্যাকি করে তুলবে।

এখন শীতকাল আসন্ন প্রায় সুতরাং এসময় ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। গরমে আবার ত্বক অত্যধিক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। আপনার ত্বকের যে-রকম বর্ণনা দিয়েছেন তাতে আপনাকে জানতে হবে যে সংমিশ্রিত ত্বকের ক্ষেত্রে টি-জোন অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়। অথচ মুখের অন্যান্য অংশ শুষ্ক থাকে। এর জন্য আপনাকে ত্বকের আলাদা আলাদা জায়গায় বিশেষ বিশেষ প্রোডাক্টস ব্যবহার করা উচিত। মুখ ধোবার সময় টি-জোন-এর জন্য ডিপ পোর ক্লিনজার ব্যবহার করুন। টি-জোন পরিষ্কার করার জন্য স্যালিসিলিক অ্যাসিড-যুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। এটি কপাল এবং নাকের উপর খুব ভালো প্রভাব ফেলবে। গাল এবং জ-লাইনের জন্য ফেনা ছাড়া ক্লিনজার ব্যবহার করুন। আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করাও খুব দরকার। দিনের বেলা হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান এবং রাত্রে জেলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এছাড়াও বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত সিরাম ব্যবহার করুন সারাদিনে অন্তত তিন-চারবার। জেলভিত্তিক পিল অফ ক্রিমও আপনার ত্বকের জন্য আদর্শ। এগুলি মুখের ত্বকের শুষ্ক ও তৈলাক্ত দিকের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। একটা কথা সবসময় খেয়াল রাখবেন যে শীতকালে রাতের বেলা ত্বকে খুব সামান্যই পণ্য ব্যবহার করা উচিত।

 

 

 

শহরবাসের কথকতা পর্ব-০৮

( ২১ )

হোটেলে ফিরতে ইচ্ছা করছে না। সমুদ্রের ধারে এসে দাঁড়াই। ফোন করে মাকে বলি, আমি এসে গেছি। একটু পরে হোটেলে ফিরছি।

শোন, আমরা মন্দিরে আরতি দেখছিলাম। ফিরে ফোন করব। ঠাম্মার জর্দাটা কিনে নিস।

ঠিক আছে।

একটা চেয়ার ভাড়া নিয়ে বসলাম। চাঁদ উঠেছে। ঢেউয়ের মাথায় মাথায় রুপোলি আলো থিক থিক করছে। সমুদ্র এখন আর অত ভয়াল নয়। কফিওয়ালা আসতে কফি নিলাম। এই বিশাল জলরাশির সামনে নিজের তুচ্ছতা আবার প্রমাণিত হল। আর হিমেল হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে হারিয়ে যাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই ডলির ফোন এল।

তুই কোথায়?

সমুদ্রের ধারে।

চলে আয়, আমি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে।

চেয়ারটা জমা দিয়ে হাঁটতে লাগলাম।

হলুদ চুড়িদার পরে ডলি দাঁড়িয়ে আছে। ডান কাঁধে ঝুলছে চামড়ার ব্যাগ। কাছে যেতেই হাসল।

আয়।

কী ব্যাপার?

মায়ের দুটো ওষুধ কিনতে হবে। চল, তোর সঙ্গে যাই। আমার বাঁ হাতটা জড়িয়ে ধরল।

ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হাঁটছি পরস্পরের শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে। চুড়িদারে ওকে ঠিক ছোটোবেলার মতো লাগছে। আমার হাতটা চেপে ধরা। মাঝে মাঝে মাথাটা আমার কাঁধে ঘষে দিচ্ছে। বললাম, ছাতিমতলা মনে পড়ে?

হুঁ-উ-উ…

মন্দির?

হুঁ-উ-উ…

আমাদের শেষ দেখা হওয়ার দিনটা?

আমার হাতে খিমচি কেটে বলল, শেষ দেখা তো হয়নি হাঁদারাম।

হাসতে হাসতে হেঁট হয়ে বলি, হ্যাঁ। আজই তো আবার দেখা হল।

হবে হবে। উইলফোর্সটা কাজে লাগাতে হয়। অত রাগ অভিমান ঠিক নয়।

ওকে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হল। বললাম, একটা হামি খাব?

ইশ্-স-স! এখানে এসব বলতে আছে? জগন্নাথ দেবের পীঠস্থান।

দুজনেই হা হা হি হি করে হেসে উঠি। দোকান দেখতে পাচ্ছি না, নাকি দেখছি না!

কথাটা বলতেই ডলি বলল, শুধু ওষুধ কেনাটাই আমার উদ্দেশ্য কি?

তবে?

তুই যেন কেমন। চিরটাকাল ভীষণ ইনট্রোভার্ট। মনের কথা খুলে বলতে কি তোর প্রেস্টিজ হ্যাম্পার হয়?

তা নয়।

তা নয় মানে? আমার সামনে থমকে দাঁড়ায় ডলি।

হ্যাঁ। অনেকটা তাই। যা বলতে চাই তা না, বলি অন্য কথা। যা বলতে চাই না তাই বলে ফেলি।

হাঁটতে হাঁটতে আমার হাতটা দোলাতে দোলাতে বলল, জীবন অনেক বড়ো! জীবন বাস্তব। স্বপ্ন নয়।

হোটেলে ফিরে বললাম, ডলিরা এসেছে।

জর্দার কৌটোটা দেখতে দেখতে ঠাম্মা বলে, আসতে বললি না?

আসবে।

মা ঠাম্মার মেরুন শালটা ভাঁজ করতে করতে বলল, বিদেশে এসে চেনা লোক পেলে কত ভালো লাগে!

ছোলা মটরের প্যাকেটগুলো টেবিলে নামিয়ে রেখে বলি, পুরি বিদেশ নাকি?

ওই হল। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আসা…

মানি ব্যাগ থেকে এক টুকরো মানি রিসিট বার করে তার পিছনেই লিখতে শুরু করি—

গাড়িটা ছুটছে। ছুটেই যাচ্ছে…

কতগুলো লেভেল ক্রসিং পার হলাম

জানি না।

ধবলগিরি বুদ্ধমূর্তির সামনে

বালির স্ট্যান্ডে জ্বলছে অজস্র

মোমবাতি আগরবাতি।

কারা জ্বালিয়েছে জানি না।

কী উদ্দেশ্যে তাও জানি না।

যে পূজারিণী আমাকে টেনে আবার

লেভেল ক্রসিংয়ে সামনে দাঁড় করাল

হে তথাগত

আমায় শিখিয়ে দাও উত্তরণের পথ।

খাওয়াদাওয়ার পর মায়ের শালটা জড়িয়ে ব্যালকনিতে বসলাম। হু হু হাওয়ায় বেশ শীত করছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের ঢেউ আরও বেড়েছে। পাড়ের কাছে আছাড় মারছে।

ডলি জানতে চাইছিল আর কবিতা লিখি কিনা। হ্যাঁ বলতেই মেয়েটি কৌতূহল বেরিয়ে এল।

কাকে নিয়ে লিখিস?

অনেককে। অনেক কিছু নিয়ে। বয়স বেড়েছে। অবজেক্ট পালটেছে।

আর আমাকে নিয়ে

সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলি, একদিন বাড়িতে আসিস, শোনাব।

কাল ওকে কবিতাটা শোনাব। শোনাব মনের আপত্কালীন দরজায় ধাক্কার শব্দ। ভোরের মিছিল, দুরন্ত শৈশব আর অশান্ত হাওয়ার গান। আমরা জানি। উইন্ডস্ক্রিনে বৃষ্টির ফোঁটার মতো নয়। আছি ছাতিমতলার বৃষ্টিতে, ভাঙা মসজিদের অলিন্দে ভিজে সপসপে হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে বসেছিলাম। এমনিই। তবুও মনে হচ্ছিল ডলি ফোন করতে পারে। হলও তাই।

কী রে, ঘুমোচ্ছিস?

না। সমুদ্র দেখছি। তুই?

আমি সমুদ্র দেখতে পাচ্ছি না। মায়েরের ঘর থেকে দেখা যায়। আমি আকাশ দেখছি। ছোট্ট একটু আকাশ। কত তারা!

তিস্তাকে যে-ভিডিও গেমটা কিনে দিয়েছিস সেটা ও মাথার কাছে নিয়ে শুয়েছে। ঘরে নীল আলো। এখন রাত্রি প্রায় বারোটা। সব রুমেই আলো জ্বলছে। ওরা ঘুমোবে কখন বলতে পারিস?

ওরা ঘুমোবে না। খুনসুটি কিংবা ঝগড়া করবে। এই করতে করতে সারা রাত কেটে যাবে। তারপর ওরা মন্দিরে যাবে। মুক্তির প্রার্থনা করবে।

তুই ঠিক ফিলজফারদের মতো কথা বলছিস।

তখন বললি না জীবনটা বাস্তব। স্বপ্ন নয়। প্রতিটা রুমেই সমস্যা আছে। রাত গভীর হলে তারা সমাধানের পথ খোঁজে।

( ২২ )

তিস্তা এতক্ষণ বালি দিয়ে মন্দির, পিরামিড তৈরি করছিল। এবার মেতেছে ঝিনুক কুড়োনোয়। ছোটো বড়ো মাঝারি সাইজের বিভিন্ন আকৃতির ঝিনুক কুড়িয়ে এনে রাখছে চেয়ারে। কাকু-কাকিমা, মা ঠাম্মা সবাই এতক্ষণ এখানে ছিল। বহুদিন পর দেখা হওয়ায় সকলেই একেবারে খুশিতে আপ্লুত হয়ে উঠেছিল।

ঠাম্মার কথায়, সবই ভগবানের দয়া। কাকিমার কথায়, এখানে দেখা হওয়াটা নির্দিষ্ট ছিল। সবাই যেন এক পারিবারিক সম্মেলনে মেতে উঠেছিল। সকলে হাঁটতে হাঁটতে গেল স্বর্গদ্বারের দিকে। সন্ধ্যার কালো ছায়া নেমে এসেছে সমুদ্রের ওপর। দূর আকাশে এক ফালি চাঁদ ভাসছে। হ্যালোজেনের আলোয় উদ্ভাসিত তটভমি।

ডলি বলছিল, তোকে ওর এত পছন্দ যে মায়েরের সঙ্গে গেলই না।

ঠিক তখনই তিস্তা বালি মাখা হাতে চারটে ঝিনুক এনে আমাদের দেখিয়ে বলল, অ্যানাদার ডিজাইন। আমরা কিছু বলার আগেই আবার দৌড়ে গেল।

অনেকটা দূর চলে গেছে। ডেকে আনি।

ও ঠিক ফিরে আসবে।

নিশ্চিন্ত ডলি ওর দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে ঢেউ দেখতে লাগল।

ঝিনুক না খুঁজে হঠাৎই দৌড়ে দৌড়ে আসছে তিস্তা। ঘাড় বেঁকিয়ে দেখে ডলি।

কী হল সোনা?

মা, ঘোড়ায় চড়ব। আঙুল তুলে দেখায়। দূরে ঘোড়াটা দাঁড়িয়ে পা ঠুকছে। মাথা নাড়াচ্ছে।

আমরা উঠে গেলাম ঘোড়ার কাছে। লোকে লোকারণ্য সি-বিচ। অজস্র হকার, শাঁখের শব্দ আর সমুদ্রের উদ্দামতায় এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এক পার্থিব উত্তাপে সবাই মগ্ন। সমস্ত বিষণ্ণতা উদ্বেগ অনুচ্ছ্বাস সরিয়ে বলি, একটা গান শোনাবি?

চেয়ারে এসে বসতে বসতে ডলি বলল, বহু দিন গাইনি। তুই বললি বলেই আজ ভীষণ গাইতে ইচ্ছা করছে।

গা তবে।

ডলি সমুদ্রের দিকে মুখ করে চোখ বুজে গাইছে এ বেলা ডাক পড়েছে কোন্খানে/ ফাগুনের ক্লান্ত ক্ষণের শেষ গানে…।

সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরিই হল। মা ঠাম্মার চান হয়ে গেছে। আজ সবাই জগন্নাথ দেবের মন্দিরে যাব। সেদিন মন্দিরটা ভালো করে ঘোরা হয়নি। আমরা সবাই খুব ক্লান্ত ছিলাম। কাল রাতে ভোগ দিতে এসে পান্ডা বলে গেছে আজ সকালে নিয়ে গিয়ে সব ঘুরিয়ে দেখাবে।

ঠাম্মা বলল, আর কত ঘুমোবি? ওঠ। চান করে নে। আটটা বাজে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে গামছায় চুল ঝাড়তে ঝাড়তে ঠাম্মা বলে, নটায় পান্ডা আসবে।

আমি কম্বল সরিয়ে চাদরটা গায়ে দিয়ে ব্রাশ-পেস্ট নিয়ে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ালাম। বালুকাবেলার দৃশ্যই অন্যরকম। হাজার হাজার মানুষ। আকাশে গ্যাস বেলুন উড়ছে। নীলাকাশ। রোদ্দুরে ঝলমল চারদিক। সমুদ্রের জল রুপালি মাছের মতো চিক চিক করছে। মৃদু ঢেউ স্বশব্দে এসে পড়ছে বালির ওপর। সাদা টুপি মাথায় নুলিয়াদের কী ব্যস্ততা! কানে দুল পরে সাঁই সাঁই করে বাইক চালিয়ে যাচ্ছে ছেলেরা।

বাইক চালিয়ে হোটেলের সামনে এসে পান্ডা চিত্কার করে বলল, আধ ঘণ্টা পরে আসছি।

কী গলার জোর! তিনতলা থেকেও ওর কথা স্পষ্ট বুঝতে পারি। হাত তুলে বলি, ঠিক আছে। বাইক ঘুরিয়ে ধুতি পরা গায়ে উড়নি জড়ানো পান্ডা নিমেষে মিলিয়ে গেল।

স্নান সেরে ফ্রেশ হতে আমার ঠিক পঁচিশ মিনিট লাগল। চুল আঁচড়াচ্ছিলাম। দরজায় ঠক ঠক শব্দ হতে মা বলল, দেখ তো।

দরজা খুলেই দেখি ডলিরা দাঁড়িয়ে আমার হাতে বাক্সটা দিয়ে তিস্তা বলল, আমার হ্যাপি বার্থ ডে…

বাক্সটা টেবিলে রেখে বলে, আমার সেভেন্থ।

আরিঃব্বাস! আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠি।

কেক কাটা হবে কখন?

ইভিনিং-এ।

আমার কাছ থেকে টেনে নিয়ে মা ওকে আদর করতে থাকে।

ঠাম্মা বলল, আমরা মন্দিরে যাচ্ছি। তোমরাও চলো। ওর নামে পুজো দিতে হবে।

সবাই রাজি।

প্রায় সাড়ে নটার সময় পান্ডা এল। ঠিক একই স্টাইলে বাইকে বসে মুখ তুলে চিত্কার করে বলল, মন্দিরের সামনে চলে আসুন। আমি থাকব।

ওর মতো চ্যাঁচাতে পারি না। হাতের ইশারায় যাচ্ছি দেখালাম। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করেনি। হুশ করে উধাও হয়ে গেল।

মন্দিরের চাতালে দাঁড়িয়ে পান্ডা বলল, মন্দিরের ইতিহাসটা একটু জেনে নিন। তাঁকে ঘিরে আমরা গোল হয়ে দাঁড়ালাম।

বাংলা উচ্চারণে উড়িয়া টান মিশিয়ে সে বলে, সত্যযুগে অবন্তীরাজ সূর‌্যবংশীয় ইন্দ্রদু্যম্ন এই মন্দির গড়েন। শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মা সূত্রধরের বেশে বিগ্রহ গড়তে আসেন। রুদ্ধদ্বার কক্ষে একুশ দিনে বিগ্রহ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এই কদিন কেউ আসবেন না এই শর্তে রাজা রাজি হতে সূত্রধর বিগ্রহ গড়া শুরু করেন। কিন্তু অধৈর্য রানির তর সয় না। শর্ত ভেঙে বারো দিনের মাথায় দরজা খোলেন রানি। দেখেন সূত্রধর উধাও, দেববিগ্রহ অসম্পূর্ণ। হাত পা তখনও হয়নি। রাজা সেই অসম্পূর্ণ বিগ্রহই প্রতিষ্ঠা করেন।

পান্ডা একটু থেমে মন্দিরটা দেখে নিয়ে বলে, পৌরাণিক যুগের সেই মন্দির ধ্বংসাবস্থায় রাজা যযাতি কেশরী নতুন করে মন্দির গড়েন। ১১৯৮-এ রাজা অনঙ্গভীমদেব যে মন্দির দেখছেন তা গড়েন।

( ২৩ )

ট্রেন লেট ছিল। বাড়ি আসতে সাড়ে এগারোটা বেজে গেল। রোদ্দুরের তাপ বেশি। সকলের চোখে মুখে ট্রেন জার্নির ছাপ স্পষ্ট। ক্লান্তি ফুটে উঠছে হাঁটাচলায়। চির পরিচিত বাড়িঘর-বাগান-উঠোন সবই যেন কেমন কেমন লাগছে। ঠিক যেন বাসা বদল।

লাগেজ-টাগেজ ঘরে ঢুকিয়ে ব্যাগ নিয়ে বাজার করতে বেরোচ্ছিলাম। ঠাম্মা বলল, সবই নিবি। পেঁয়াজ ছাড়া ঘরে কিছু নেই।

মুদিখানার কিছু?

সে সব আছে। মা ফ্যান চালাতে চালাতে বলল, মাছ-টাছ আনিস না। অত রাঁধার সময় নেই। আলু ভাতে আর ভাত করব।

ঠাম্মা বলে, সেই ভালো।

মা ঠাম্মা দুজনেই রান্নাঘরে ব্যস্ত। স্নান সেরে নিলাম। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। দুচোখ জড়িয়ে আসছে। জানলার ধারে চেয়ার টেনে বসলাম। পাগলটা ঢুকে পড়েছে বাড়িতে। পিঠে ঝোলাটা নেই। কোথায় রেখে এসেছে কে জানে!

লোকটা হাঁক দিল ও ঠাকমা!

আর জ্বালিও না বাবা। যাও। শরীর আর বইছে না। রান্নাঘর থেকে ঠাম্মা বলে।

ও ঠাকমা! লোকটা আবার ডাকে।

মা বলে, এখনও রান্নাবাড়া কিছু হয়নি। অন্যদিন খেও।

লোকটা মাঝে মাঝে আসে। কিছু খেয়ে যায়। আজ তো রান্নাই হয়নি এখনও।

মায়ের কথাগুলোই আমি বলি, অন্যদিন এসো। আজ একটু আগেই ফিরেছি।

দাড়ি গোঁফের ভেতর দিয়ে পাগলটা পিট পিট করে আমাকে দেখে। হাতের লাঠিটা মাটিতে পিটতে পিটতে বলে, সবই মায়া। শুধু মায়া। ঢেউ আর ঢেউ… বলতে বলতে বেরিয়ে গেল।

লোকটা দার্শনিক নাকি! এই ভাবে কথা বলছে! ওকি জানে আমরা বেড়াতে গেছিলাম। সমুদ্র দেখেছি! সেই ঘোর এখনও কাটেনি। লোকটা ঠিক পাগল নয়, আমার মনে হয় সেয়ানা পাগল।

 

ঘুম থেকে উঠতে উঠতে প্রায় সন্ধে হয়ে এল। সবাই মিলে বসে চা খাচ্ছিলাম। টিভিটা চালাতে যেতেই মা বলে, থাক। এখন আর চালাতে হবে না।

বুঝলাম সবাই ক্লান্ত এখনও। একটা যেন ঘোরের মধ্যে আছি আমরা। কী যেন ঘটে গেছে। সেকি বিষাদ! সেকি মায়া। সব চুপচাপ। বসন্তের হাওয়া ভেসে আসে জানলা গলে। আশপাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসে শাঁখের শব্দ। আমরা বসে থাকি।

হঠাৎ ঠাম্মা বলে, কাল এই সময় আমরা সব গোছগাছ করছিলাম।

মা বলে, নীল বড়ো চিরুনিটা বোধ হয় ফেলে এসেছি!

পেটের কাছে চাপড় মেরে ঠাম্মা বলে, ওখানে এত মশা ছিল না।

মা বলে, লিকু্ইডটা জ্বেলে দে না বাবা। বড্ড মশা! একটু বসা যায় না।

আমি প্লাগে মেশিনটা লাগিয়ে সুইচ অন করি। জ্বলে না।

মা বলে, তার এপাশেরটা। সুইচ ভুলে গেলি বেড়িয়ে এসে?

এবার মেশিনটা জ্বলে ওঠে।

ঠাম্মা বলে, পিকুনের পুজোর ছুটিতে চলো বউমা কাশী ঘুরে আসি। ট্রেন ভাড়া আমি দেব।

মা বলে, হোটেল ভাড়া আমি দেব। বাকি খরচ তোর।

বিষাদ-মায়া-শূন্যতা সব সরে গিয়ে আনন্দে ভাসছে ঘরটা। এটাই প্রথম বেড়ানো কিংবা শেষ বেড়ানো নয়। ওরা যেভাবে বলছে, আমার বুকে ঢেউ ওঠে। সামান্য ব্যাপারেই যে আমরা এত খুশি হতে পারি জানা ছিল না।

তোমরা দেবে কেন? এখন থেকেই যদি কিছু কিছু জমাই তো মোটেই সমস্যা হবে না।

তখন দেখা যাবে। মা উঠে সন্ধে দিতে গেল।

ঠাম্মার সই কিছুদিন আগে বেনারস গেছিল, সেই বর্ণনা দিতে লাগল।

মা শাঁখ বাজাচ্ছে। ঠাম্মা গলায় কাপড় দিয়ে দুহাত কপালে তুলে ঈশ্বরকে প্রণাম জানাচ্ছে।

বুকটা হু হু করে ওঠে। কাল সন্ধ্যাতেও সমুদ্রতীরে শঙ্খধ্বনি শুনেছি অজস্রবার। পুরুষ বা মহিলারা ব্যাগে শাঁখ নিয়ে বাজাতে বাজাতে বিক্রি করছিল বালিতে বালিতে হাঁটতে হাঁটতে। কী সুন্দর বাজাচ্ছিল। শঙ্খধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠছিল। শিরশিরে হাওয়া বইছিল চারপাশে। মনে হচ্ছিল ডানা থাকলে সমুদ্রের বুকে নীল জ্যোত্স্নায় উড়ে বেড়াতাম।

টেবিলের ওপর পড়েছিল ফোনটা। বেজে উঠল। তুলে দেখি ডলির ফোন।

ফিরেছিস?

গলাটা কেশে পরিষ্কার করে বলি, হ্যাঁ।

কখন?

এগারোটায়।

কী করছিস?

কিছু নয়।

চলে আয় আমাদের ফ্ল্যাটে। মুড়ি আর সিঙাড়া খাব।

ঠিক আছে, যাচ্ছি।

ডলি ফোন অফ করে দেয়।

কোথায় যাবি? ঠাম্মা প্রশ্ন করে।

ডলিদের ওখানে। সিঙাড়া খেতে।

আমাদেরও দুটো এনে দিয়ে যা। বললি বলে ইচ্ছে করছে।

নতুন ফ্ল্যাট। ঝকঝক করছে। দেয়ালে আলাদা আলাদা রং। নতুন সোফা। সেন্টার টেবিল। টিভির পাশে ফ্লাওয়ার ভাসে আর্টিফিসিয়াল ফুল। দরজায় ঝুলছে ঝিনুকের মালা। জানলার ধারে মাঝারি অ্যাকোরিয়ামে খেলে বেড়াচ্ছে গোল্ডফিশ, অঞ্জেল, ব্ল্যাক মলি, সোর্ডটেল। কী সুন্দর একটা গন্ধ চারপাশে। হয় ধূপ, না হলে রুমফ্রেশনার।

তিস্তা ঝাঁপিয়ে এসে কোলে উঠে পড়ল।

আঠাশটা গেম খেলেছি।

ভেরি গুড।

ক্যারাম খেলবে?

ডলি বলে, আজ নয়। এই তো আঙ্কেল এল।

তাহলে তোমার ফোনটা দাও। গেম আছে তো?

ইয়ে ম্যাম। পকেট থেকে ফোনটা ঝট করে ওকে দিই।

সোফায় সামনা-সামনি দুজনে বসে তিস্তাকে দেখিয়ে ডলিকে বললাম, ভেরি সুইট!

ডলি হেসে মুখ নীচু করে বুকের ওপর হাত দুটো আড়াআড়ি রাখল।

সামনে পা ছড়িয়ে বললাম, এখনও ঘোর কাটছে না। তোর?

আরে আমাদেরও তাই। চোখ বুজলেই দেখি সমুদ্র আর হলুদ বালি। শুধু ঘুম পাচ্ছে। ঘুম যেন আর কাটছে না। আমার দিকে তাকিয়ে বলে, পরশু দিন ট্রেনে উঠেই মনটা খুব খারাপ লাগছিল।

কেন?

বারবার ধবলগিরির কথা মনে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল কী যেন ফেলে এলাম।

খুব নীচু স্বরে বলি, ধবলগিরিতে না গেলে তোর সঙ্গে দেখাই হতো না। বারবার ঘটনাটা স্বপ্ন বলেই মনে হচ্ছে।

মৌসুমী কাকিমা ট্রেতে তিনটে বোল-এ মুড়ি আর প্লেটে সিঙাড়া নিয়ে এলেন।

তিনটে কেন? ট্রেটার অদ্ভুত ডিজাইন দেখতে দেখতে প্রশ্ন করি।

ডলি বলে, বাবা বন্ধুর বাড়ি গেছে। আর তিস্তাকে একটু আগে কর্নফ্লেক্স খাওয়ালাম।

খেতে খেতে জমে উঠল আড্ডা। আড্ডার নির্দিষ্ট কোনও পথ ছিল না। নানান পথেই হেঁটে বেড়াচ্ছে আড্ডা। আমার মন-কেমন ব্যাপারটা কেটে গেল। কথা বলতে বলতে খেতে খেতে সবাই হাসিতে হাসিতে গড়িয়ে পড়ছি। তিস্তা মুখ ফিরিয়ে আমাদের দেখছে।

কাকিমা মুড়ি শেষ করে কফি করতে গেলেন।

ডলি, তোর সমরকাকুদের মাঠ মন্দির আর ঝিলের কথা মনে পড়ে? লাফিয়ে ওঠে ডলি।

পড়বে না মানে? আরামবাগে গিয়ে কী যে মন খারাপ লাগত, তোকে বোঝাতে পারব না। যার সঙ্গেই পরিচয় হতো তাকেই বলতাম আমাদের কথা।

যাবি একদিন?

কবে বল?

কাল সন্ধেবেলায়? সকালে আমার কলেজ আছে। রাতে পড়ানো নেই।

চল। যাব…। ডলির চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আমি ছাতিম ফুলের গন্ধ পাই। বুনোঝোপের সোঁদা গন্ধ ভেসে বেড়ায় আমার পাশে পাশে। দূর থেকে কে যেন ডাকছে, পিকুন! পি-ক-উ-ন….

কে ডাকছে! বাসব নাকি জয়ন্ত। মনে হচ্ছে রাইমা। না না অমিতা। দুচোখ বন্ধ করে কণ্ঠস্বরটা চিনতে চেষ্টা করি।

ডলি ডাকে, পিকুন! পিকুন! শরীর খারাপ লাগছে?

চোখ মেলে বলি, যাবি এখন? ও যেন প্রস্তুত হয়ে ছিল।

চল, এখনই চল।

( ২৪ )

রেশন দোকানের পাশের পথে না গিয়ে একটু ঘুরে আমরা চার্চের সামনের রাস্তা দিয়ে ঢুকলাম। পথের দুপাশের প্রাচীন বাড়িগুলো যেমন ছিল তেমনই আছে। বুকটা ধুপ ধুপ করছে। চেনা পথ চেনা বাড়ি লাইটপোস্ট সব কেমন অচেনা হয়ে গেছিল। বটগাছটাও ঠিক তেমনই আছে। পুরোনো পাড়াটাকে নতুন করে দেখছি। কী যে আনন্দ হচ্ছে! নিঃশব্দ বাড়িগুলো থেকে টিভি সিরিয়ালের শব্দ ভেসে আসছে।

ডলিও দুপাশ দেখতে দেখতে হাঁটছে। বললাম, অবাক হচ্ছিস?

একটুও না। শৈশবটাকে দেখতে পাচ্ছি। এই পথ দিয়ে তো রোজ স্কুলে যেতাম। সিংহীদের বাড়ি যেমন ছিল তেমনই আছে। খালি জানলায় কুকুরটা নেই। দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে চ্যাঁচাত।

খানিকটা এগোতেই দেখলাম মন্দিরের সামনে অনেকগুলো বাড়ি হয়েছে। থমকে দাঁড়িয়ে ডলি বলল, সে কী রে?

মাথা নীচু করে বলি, হ্যাঁ। বদলে গেছে।

মন্দিরটার পাশ দিয়ে যেতে যেতে পায়ে গতি কমে গেল। ঝোপঝাড়ে প্রায় ঢেকে ফেলেছে শিব মন্দিরটা। জায়গাটাও অনেক ছোটো হয়ে এসেছে বাড়ি হওয়ায়। মাঠটাও ছোটো হয়ে গেছে। এক পাশে ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। মাটির রাস্তা পিচের হয়েছে। সমরকাকুর বাড়িতে আলোর রোশনাই আর নেই। উঁচু পাঁচিলের দেয়ালে লেখা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান। প্লাস্টার খসা দেয়ালে আঁকাবাঁকা অক্ষরে লেখাগুলি এখনও উজ্জ্বল।

ডলির পা স্লথ হল। বলল, ফিরে চল। ছেলেবেলাটাকে খুঁজে পাচ্ছি না। ডুকরে ওঠা স্বর ওর।

ওর মাথায় হাত দিয়ে বলি, আর একটু চল। ঝিলের ধারে যাই।

আমরা ঝিলের ধারে এসে দাঁড়াই। পর পর ধোপাদের পাটাতন এখনও রয়েছে। ঝিলের জলে তেচোখা মাছ ভেসে বেড়াচ্ছে। ধোপাদের দড়ি বাঁশের মাথায় মাথায় ঝুলছে। ঝিলের ও পারে পাকা বাড়ি থেকে ইলেকট্রিকের আলো এসে জলে পড়েছে।

হঠাৎ ডলি আমার হাতটা ধরে বলল, ওই দেখ, ছাতিমগাছটা! আমরা দৌড়ে যাই।

গাছে হাত বোলাতে বোলাতে ডলি বলে, গাছটা এখনও ঠিক রয়েছে।

আমরা দুজনে গাছের দুপাশে পিঠ রেখে দাঁড়াই। দুই চোখ বুজে শৈশব কৈশোরটাকে খুঁজতে চেষ্টা করি।

বলি, এখানে তোর ক্লিপ হারিয়ে গেছিল। ডলি বলে, সুমিতা খুঁজে পেয়েছিল। আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, তোর জামার বোতাম হারিয়ে গেছিল।

ঠাম্মা বসিয়ে দিয়েছিল।

ঝিনুকে সঞ্জনার পা কেটে গেছিল।

আমরা শিয়ালকাঁটার হলুদ রস লাগিয়ে দিয়েছিলাম।

এখানে আমরা এলাটিন বেলাটিন খেলতাম।

তুই কোনওদিন আমার দলে পড়িসনি।

আর তুই রোজ আমাকে চাইতিস।

তুই চাইতিস না?

কী জানি! ডলি পেছন থেকে আমার হাতটা ধরে।

ওর নরম আঙুলগুলো আঙুলে জড়িয়ে বলি, এখানে তুই আমায় কাঁদিয়েছিলি।

আমি কাঁদিনি?

আমি ঘুরে ডলির সামনে গিয়ে দাঁড়াই।

কোথায় যেন পাখি ডেকে ওঠে। ঝিলের জলে মাছ ঘাই মারে। একটা ছোটো ডিঙি দোল খায় ওপারে। শিরশিরে হাওয়া বইছে। মানুষ চলাচল বেড়েছে। আগে এত মানুষ যেত না। সাইকেল বাইক সবই যাচ্ছে। এলাকাটার বেশ গুরুত্ব বেড়েছে মনে হচ্ছে।

আমরা ঝিলের জলের দিকে তাকিয়ে শৈশব কৈশোরকে খোঁজার চেষ্টা করছি যেন। কচুরিপানা ভাসছে জলে। দেখতে দেখতে বলি, ভেলায় চড়ার কথা তোর মনে পড়ে?

আমার আঙুলগুলোয় চাপ দিয়ে ডলি বলে, পড়বে না আবার! কী যে ভয় করত! খালি মনে হতো এবার পড়ে যাব, পড়ে যাব।

অমিতা তোকে ধরে থাকত।

হ্যাঁ। সমরকাকু সিগারেট খেতে খেতে আমাদের দেখতেন।

জানিস, অমিতা সু্যইসাইড করেছে।

কী বলছিস!

হ্যাঁ। ডলি অদ্ভুত ভাবে চুপ। কিছু ভাবছে।

আমার ফোন বেজে উঠল। পকেট থেকে বার করে দেখি চন্দ্রিমার ফোন।

হ্যালো, বলো।

স্যার, কাল আমি পড়তে যাব না।

কেন?

স্যার, বনগাঁ যাব মেজকাকার বাড়ি।

ঠিক আছে।

থ্যাংক যু স্যার। লাইন কেটে গেল।

পাশের অশ্বত্থ গাছের বসন্তের ঝরাপাতা ঘুরতে ঘুরতে পড়ছে। ছুপছুপ শব্দ হচ্ছে। ডলির চুল থেকে হালকা সুবাস ভেসে আসছে। এখন আর বয়েজ কাট করে না। স্টেপ কাট। কপালে টিপ পরে না। চুলের গোড়ায় সামান্য সিঁদুরের দাগ। অনেক প্রশ্নই মনে জেগে ওঠে। হার্ট হতে পারে ভেবে কিছু বলি না।

এভাবেই অনন্ত সময় কেটে যায়। ডলি বলল, আর কাকু?

বোধহয় এখানে নেই।

চল, ফেরা যাক। অনেকটা রাত্রি হল।

চল।

ডলি আমার সামনে মুখ তুলে প্রশ্ন করে, আবার কবে দেখা হবে?

ওর তেলতেলে গোল মুখ চকচক করছে। ধনুকের মতো চওড়া ভ্রুর তলায় ঝকঝক করছে দুটি আয়ত হরিণী চোখ।

রবিবার সন্ধ্যায় আবার আসব। এখানে বসে মুড়ি চানাচুর খাব আর গল্প করব।

ঠিক আছে। মুড়ি চানাচুর। একটু আমতেল দিয়ে টিফিন কৌটোয় ভরে আনব।

আমরা হাঁটতে লাগলাম।

ডলি বলল, আমরা উলটো রাস্তা দিয়ে ফিরব। রেশন দোকানের পাশ দিয়ে বেরোব।

চল।

সমরকাকুর বাড়ির পাঁচিলের পাশ দিয়ে হাঁটছি। কত জায়গায় চুন সুড়কির পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে এসেছে। আমরা একটু দূরত্ব রেখে হাঁটছি। কেউ কোনও কথা বলছি না। কী ভাবছি জানি না। কেন কথা বলছি না তাও জানি না।

একটু এগোতেই কীসের যেন একটা হইচই ভেসে এল। থমকে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটতে শুরু করলাম। ডান দিকে টার্ন নিতেই দেখলাম কয়েকটা লরি দাঁড়িয়ে অনেক মানুষজন গাড়িগুলোকে ঘিরে দাঁড়িয়ে

ডলি বলল, ফিরে চল।

বললাম, চল না, ব্যাপারটা কী দেখি।

এগোতে এগোতে দেখলাম ঝিলের এপাশটা অনেকখানি ভরাট হয়ে গেছে।

ডলি অবাক হয়ে বলে, সে কী রে! ঝিল বোজাচ্ছে?

তাই মনে হচ্ছে।

অনেক লোকের কথাকাটাকাটির মধ্যে আমরা লরিগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। ওরা চিত্কার করছে আমরা হতে দেব না। মাটি ফেলা চলবে না। ওসব দাদাগিরি হাঠাও। সব লরি আটকে রাখব। আগুন জ্বালিয়ে দেব।

ডলি আমার হাত টেনে ধরে বলল, পিকুন, যাস না।

দাঁড়া, ব্যাপারটা বুঝতে দে। ডলি আমার গা ঘেঁসে দাঁড়ায়।

একটি ২০-২২ বছরের ছেলে এসে বলে, পিকুনদা, আপনারা চলে যান। দাঁড়াবেন না।

কেন? কী হয়েছে?

ঝিল বুজিয়ে ফ্ল্যাট হবে।

ক্রমশ…

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ নয়, ঠেকিয়ে রাখুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ নয়, ঠেকিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি ৷ আর তার প্রথম ধাপটাই হচ্ছে সচেতনতা। ওজন বাড়তে দিলে চলবে না একেবারেই।  ভারতীয় খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতিটাই সবচেয়ে ক্ষতিকর। তা ছাড়া, আমাদের খাবারের সিংহভাগ জুড়ে থাকে Carbohydrate। প্রতিদিন পেট পুরে ভাত বা রুটি খাওয়াটা আমাদের অভ্যাসের অঙ্গ।। রোজ আমাদের যতটা এনার্জির প্রয়োজন, তার ৬০ শতাংশই আসে কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসার থেকে। তার উপর আবার আছে মিষ্টি খাওয়ার প্রলোভন। মনে রাখবেন, সুগার খুব বেড়ে না গেলে চট করে ধরাও পড়ে না। তাই প্রথম থেকেই নিয়ন্ত্রণে বেঁধে রাখুন খাওয়াদাওয়া, শরীরের ওজন কোনওভাবেই বাড়তে দেবেন না। মাঝে-মধ্যে ইচ্ছে হলে নিয়ম ভাঙুন। ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছেকে আসকারা হিন। কিন্তু  লুচি পরোটা কখনোই রোজের খাবার হতে পারে না। একই কথা খাটে প্যাকেটজাত প্রসেসড খাবার বা ফাস্ট ফুডের ক্ষেত্রেও। এবার আসুন জেনে নিই, ways to prevent Diabetes।

কী কী নিয়ম মানা উচিত ?

  • রোজ ঘাম ঝরিয়ে পরিশ্রম করুন। অন্য ব্যায়াম করা সম্ভব না হলে প্রতিদিন  ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ স্টেপ হাঁটুন। যারা দীর্ঘ সময়  ধরে বসে কাজ করেন, তারাও অন্তত ৭০০০ স্টেপ হাঁটার চেষ্টা করবেন। প্রতি ঘণ্টায় একবার সিট থেকে উঠুন। দরকারে ফোনে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজের কায়িক পরিশ্রমের পরিমাণ মেপে নিন। কাজের ফঁকে এক পাক হেঁটে আসুন। বাড়িতে ছোটো থেকেই বাচ্চাদের খেলাধুলা করতে উৎসাহ দিন, যেটা আজকাল প্রায় বন্ধই হতে বসেছে ৷
  • ঝাল-তেল-মশলা এড়িয়ে চলুন। রোজের ঘরোয়া বাঙালি রান্না খান। তাতেই সুস্থ থাকবেন। ব্রকোলি, জ়ুকিনি-বেল পেপারের পিছনে ছুটে একগাদা টাকা খরচ করার দরকার নেই। দেশি পেঁপে, লাউ, বেগুন-ঝিঙে-ঢেঁড়শও আপনাকে সুস্থ রাখতে সক্ষম। মাঝে-সাঝে এক আধদিন শখের খাবার খেতে পারেন, তবে মাত্রা রেখে৷
  • চা বা কফিতে চিনি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ফ্যাট হচ্ছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মতো। যতটা জমা দিচ্ছেন, ততটা যদি তুলে না নেন, তা হলে বাড়তিটা শরীরে জমতে থাকবে এবং ডায়াবেটিস-সহ নানা সমস্যা দেখা দেবে। এমন একটা ব্যবস্থা করুন যাতে রোজেরটা রোজ খরচ হয়ে যায়।
  • নিজে বুঝতে পারছেন না কতটা খাওয়া বা পরিশ্রম আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়? পুষ্টিবিদের সাহায্য নিন। তিনি বলে দেবেন কী করতে হবে। ব্যায়ামের জন্যও পেশাদারের সাহায্য নিতে পারেন।
  • পজিটিভ চিন্তা করুন৷ নিজের জন্য এমন কোনও লক্ষ্য স্থির করবেন না যা অস্বাভাবিক। তাতে মাঝপথে হাল ছেড়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে ৷
  • উদ্বেগ আর চিন্তা থেকে মনটাকে দূরে রাখুন। ভালো মিউজিক আর মেডিটেশন- এর সাহায্যে টেনশন -ফ্রি  থাকুন।

জীবন বাঁচাবে রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ভিত্তিক উন্নত স্পর্শহীন ভাইটাল মনিটরিং প্রযুক্তি রোগীদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে অনেকটাই। DOZEE-র রিমোট মনিটরিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে, রোগীদের নিরাপত্তা বাড়াবার জন্য এই পদ্ধতি চালু হল নন-আইসিইউ শয্যাগুলিকে স্টেপ-ডাউন-আইসিইউ’তে রূপান্তরিত করে। দেশীয় প্রযুক্তির এই ডিভাইসটি রোগীর অবস্থা সম্পর্কে বার্তা পাঠায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কাছে। এই পদ্ধতি জরুরি পরিস্থিতি এড়াতে সহায়তা করে। স্পর্শহীন রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং (RPM) এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (EWS) রোগীদের জন্য উন্নতমানের পরিষেবা প্রদান করবে। এই NCBP (বিশ্বের প্রথম নন-কন্টাক্ট ব্লাড প্রেসার) প্রযুক্তি রোগীর আরোগ্য নিশ্চিত করে।

বেল ভিউ ক্লিনিকে দু’মাস ধরে Dozee প্রায় ৩০০ জন রোগীর ওপরে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে এবং প্রায় ৯৮০টি জটিল ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে ডাক্তার ও নার্সকে সাহায্য করেছে। রোগীদের সর্বাধিক নিরাপত্তাও প্রদান করেছে।

Health

Dozee হল ভারতের প্রথম AI (Artificial Intelligence) চালিত স্পর্শহীন রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং (RPM) এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (EWS), যাতে স্টেপ-ডাউন-আইসিইউ, হাই-ডিপেনডেন্সি ইউনিট (HDU), ভিআইপি রুম, কোভিড-এর মত নন-আইসিইউ ওয়ার্ড এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ক্রমাগত স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভারত সরকার দ্বারা স্বীকৃত Dozee-র এই  ডিভাইস প্রায় ৯৮.৪% ক্লিনিক্যাল গ্রেড নির্ভুলতার সঙ্গে হৃদযন্ত্র এবং শ্বাসযন্ত্রের হার, রক্তচাপ, অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল এবং রোগীর শরীরের তাপমাত্রার মত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক অবস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ করে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার সূচকগুলি বুঝে নিয়ে এটি রোগীর ঘুমের গুণমানের ওপরেও নজর রাখে। কয়েকটি সরকারী হাসপাতালে এক স্বাধীন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই প্রযুক্তি সময়মত সতর্কতার সঙ্গে জীবন বাঁচাতে পারে এবং নার্সিং-এর সময়ও বাঁচাতে পারে ৮০ শতাংশ।

বেল ভিউ ক্লিনিকের সিইও প্রদীপ টণ্ডন প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে, ডিজিটাল যুগে প্রবেশের জন্য যে পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা দরকার, তার অন্যতম এই Dozee প্রযুক্তির সংযুক্তিকরণ। এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের চাপ কমাবে বলেও আশা করছি। পরিবর্তে তারা দূর থেকে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং নির্দিষ্ট প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দিতে পারবে।’

Health article

Dozee-র CTO এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা গৌরব পারচানি জানিয়েছেন, ‘এই প্রযুক্তি রোগীদের জীবনহানির ঝুঁকি কমাবে। আমাদের লক্ষ্য, Dozee-র প্রযুক্তিগত সমাধানগুলির মাধ্যমে রোগী এবং স্বাস্থ্য সেবাকর্মী উভয়ের জন্য গুণমানসম্পন্ন পরিষেবা, যত্ন প্রদান করা এবং জীবনের মান উন্নত করা।’

IIT স্নাতক মুদিত দণ্ডবতে এবং গৌরব পারচানি অক্টোবর ২০১৫ তে এই Dozee-র প্রতিষ্ঠা করেন এবং BIRAC (বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিসট্যান্স কাউন্সিল)-এর মাধ্যমে ভারত সরকার দ্বারা এটি স্বীকৃত। এছাড়াও, এই প্রযুক্তিতে শ্বাসযন্ত্র, হৃদযন্ত্র ও স্নায়বিক প্যাটার্ন-এর শনাক্তকরণ সম্ভব বলে দাবী করা হয়েছে।

মনের মতো জলখাবার

ব্রেকফাস্ট বা বিকেলের জলথখাবারে বৈচিত্র্য আনতে কয়েকদিন ছাড়া ছাড়াই নতুন রেসিপির খোঁজ প়ড়ে৷ বাচ্চারাও চায় নতুন কিছু তাদের পরিবেশন করা হোক৷ কিন্তু কী সেই tasty recipes for breakfast,  যা নিমেষে ছোটোদের মনের মতো হয়ে উঠবে?  মায়েদের  পরামর্শ দিতে আমরা আজ দুটি unique recipe নিয়ে এসেছি৷ এরপর টেবিলে বসলেই, বাচ্চার মন খুশিতে ভরে উঠবে৷ শিখে নিন quick snacks recipe৷

রুটি পারসেল

উপকরণ: ৪-৫টা রুমালি রুটি, ১/৪ কাপ সোয়া ডাস্ট, ১ বড়ো চামচ সেদ্ধ করা কড়াইশুঁটি, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো পিউরি, ১ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১/২ ছোটো চামচ কাঁচালংকাবাটা, ১/২ ছোটো চামচ চিলি-পনির মশলা, ১ বাটি ব্রেড ক্রাম্বস, ১টা ডিম ফেটিয়ে রাখা, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: সোয়া ডাস্ট অল্প সময়ের জন্য গরম জলে ডুবিয়ে হাত দিয়ে চেপে জল ঝরিয়ে রাখুন। প্যানে তেল গরম হতে দিন। এতে আদা-রসুন-কাঁচালংকার পেস্ট দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। টম্যাটো পিউরি দিয়ে কষতে থাকুন। সমস্ত মশলা দিয়ে রান্না করতে থাকুন। এই মশলার মধ্যেই সোয়া ডাস্ট আর সেদ্ধ মটর দিয়ে দিন। অল্প জলের ছিটে দিয়ে নাড়তে থাকুন। ২ মিনিট ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিন।

এবার ঢাকনা সরিয়ে নামিয়ে নিন। পুর তৈরি। প্লেটে রুমালি রুটি ছড়িয়ে রাখুন। তারপর পুর ভরে, ইচ্ছেমতো আকারে র‍্যাপ করুন। ডিমের গোলায় ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বস মাখিয়ে প্যানের গরম তেলে এপিঠ ওপিঠ ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

ফ্রুট টোস্ট

 

Fruit Toast recipe

উপকরণ: ৯-১০টা ব্রেড স্লাইস, ৩-৪টি আনারসের টুকরো, ১টা আপেল কুচি করা, ১টা নাসপাতি টুকরো করা, ১ কাপ চিজ গ্রেট করা, ১ বড়ো চামচ মধু, ১ বড়ো চামচ মেয়োনিজ, ১ ছোটো চামচ অরিগ্যানো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ব্রেড-এর ধার কেটে বাদ দিন। ফলের টুকরো মেয়োনিজ দিয়ে মেখে, একটা পাত্রে রাখুন। এতে অল্প নুন ও মধু মিশিয়ে দিন। এবার নন স্টিক প্যানে ব্রেডগুলির একপিঠ সেঁকে নিন কড়া করে। প্যান থেকে নামিয়ে এই টোস্ট করা দিকটার উপর ফলের কুচি ও গ্রেটেড চিজ ছড়িয়ে দিন।

ব্রেডগুলি পুনরায় প্যানে দিয়ে অন্যপিঠটাও কড়া করে সেঁকে নিন। তবে এবার টোস্ট করার সময় ঢেকে দেবেন, যাতে চিজ গলে গেলেও তা ব্রেড-এর উপরেই থাকে। এবার ব্রেডগুলো নামিয়ে প্লেটে পরিবেশন করুন। উপর থেকে অরিগ্যানো ছড়িয়ে দিন।

শাহরুখের জন্মদিনে তাঁর দেওয়া উপহার ‘পাঠান’-এর ট্রেলার মুক্তি

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেল পাঠান Film-এর ট্রেলার। দর্শকবৃন্দকে এই উপহার দিলেন কিং খান নিজের ৫৭তম জন্মদিনে অর্থাৎ ২ নভেম্বর বুধবারে। যশরাজ ফিল্মস-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী বছর অর্থাৎ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩-এ রিলিজ হবে শাহরুখ, জন আব্রাহাম এবং দীপিকা অভিনিত এই অ্যাকশন ছবিটি। চলতি বছরের মার্চ মাসে রিলিজ করা হয়েছিল এই ছবির টিজার প্রোমো।

প্রায় চার বছর পর শাহরুখ বলিউডে ফিরে আসছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাঁর এই কামব্যাক। ব্রহ্মাস্ত্রে অল্প সময়ের জন্য তাঁকে দেখা গেলেও দীর্ঘদিন তিনি ছবি প্রযোজনার কাজে ব্যস্ত থেকেছেন। সেভাবে ছবিতে অভিনয় করেননি। শেষ ২০১৮-তে জিরো ছবিতে তাঁকে নায়কের চরিত্রে শেষ দেখা গিয়েছে যেখানে তাঁর সহ অভিনেতা ছিলেন অনুষ্কা শর্মা এবং ক্যাটারিনা কইফ। তবে বক্স অফিসে ব্যাবসা করতে ব্যর্থ হয় ছবিটি।

পাঠান Film-এ শাহরুখ-এর লুক অনেক আগেই সামনে এসেছিল। টিজারে কিং খান এর সঙ্গে জন আব্রাহাম ও দীপিকা পাড়ুকোনকেও দেখা গেল। ছবির পরিচালনা করেছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। অ্যাকশন থ্রিলার ধর্মী এই ছবিতে একজন স্পাই-এর চরিত্রে দেখা মিলবে কিং খান-এর। হিন্দি, তামিল ও তেলেগুতে মুক্তি পারে ছবিটি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে গেটা দেশ। টিজার দেখে সকলেই নিশ্চিত যে পাঠান-এ রয়েছে দুরন্ত অ্যাকশন সিকোযে্নস এবং একাধিক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত।

ছবির টিজার টুইটার-এ শেয়ার করে বাদশা লিখেছেন, নিজের চেয়ার বেঁধে রাখুন, পাঠানের টিজার এসে গেছে।

 

 

বরফি দিয়ে মিষ্টি আপ্যায়ন

উৎসবের মরশুম চলছে৷ তার মধ্যেই চলছে অতিথি আপ্যায়নের ধুম৷ অত্মীয়-বন্ধুদের মিষ্টিমুখ করানো, যে-কোনও বাঙালি বাড়ির রেওয়াজ৷ এই সোশ্যাল এলিয়েনেশন-এর যুগেও এই প্রথা থেকে আমরা বাঙালিরা কিছুমাত্র সরিনি৷ বরং নানা প্রদেশের মানুষকেও আপন করে নিয়েছি৷ চলেছে রেসিপির আদান প্রদান৷ এবং এই মিলমিশের কারণেই এখন আমাদের ঝুলিতে রেসিপি অনেক৷ উৎসবে- অনুষ্ঠানে আর চিন্তা করতে হবে না, কী দিয়ে মন ভরাব অতিথির৷ আজ তাদের পাতে তুলে দিন এই তিন ধরনের মিষ্টি৷ রইল মনকাড়া Sweet recipes৷

 

বেসন বরফি

উপকরণ

১ কাপ বেসন, ১/২ কাপ বাদামগুঁড়ো, ৩/৪ কাপ চিনি, ১/২ কাপ জল, ২ বড়ো চামচ ঘি, সাজানোর জন্য বাদাম।

প্রণালী

কড়ায় ঘি গরম করুন ও বেসনটা নাড়তে থাকুন। ২-৩ মিনিট পর নামিয়ে নিন। একটা পাত্রে জল ও চিনি মিশিয়ে রস তৈরি করার জন্য আঁচে বসান। এই রসের মধ্যে বেসন ও বাদামের মিশ্রণ দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। ২-৩ মিনিট রান্না হলেই আঁচ বন্ধ করে দিন। এবার একটা থালায় ঘি বুলিয়ে রাখুন। এতে বেসনের মিশ্রণ ভালো ভাবে চারিয়ে দিন। ঠান্ডা হলে বরফি আকারে কেটে পরিবেশন করুন।

 

দুধ বরফি

Doodh Burfi recipe

উপকরণ

১/২ লিটার দুধ, ৬ বড়ো চামচ চিনি, ৩ বড়ো চামচ ময়দা, ২ ছোটো চামচ ঘি, অল্প মেওয়াকুচি সাজানোর জন্য।

প্রণালী

গ্যাসে প্যান গরম করুন। অল্প ঘি দিয়ে ময়দা বাদামি করে ভেজে নিন। এবার অন্য একটি পাত্রে দুধ নিয়ে ফুটতে দিন। দুধ ঘন হলে, এতে ময়দা দিয়ে ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন যাতে দলা না পাকিয়ে যায়। এবার চিনি মিশিয়ে আরও ৬-৭ মিনিট রান্না হতে দিন। আঁচ বন্ধ করে ঠান্ডা হতে দিন।

একটা প্লেটে অল্প ঘি বুলিয়ে ময়দার মিশ্রণ চারিয়ে দিন। কাজু ও বাদাম ছড়িয়ে দিন। ঠান্ডা হলে ইচ্ছেমতো আকারে কেটে নিন।

 

কাজু বরফি

Kaju Barfi recipe

উপকরণ

১ বাটি  কাজু ,১ বাটি চিনি, ১/২ কাপ জল, ১ চামচ ঘি, ২ টো রুপোলি রাংতা৷

প্রণালী

কড়াইতে জল দিয়ে চিনি ভালো ভাবে মিক্স করে সিরা বানাতে হবে৷ জল কমে এলে চিনি গলে গিয়ে আঠা আঠা হয়ে যাবে,তখন আঁচ কমিয়ে নামিয়ে নিন৷ কাজু মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন৷ চিনির সিরাতে কাজুর গুঁড়ো ভালো ভাবে মিক্স করতে হবে৷ ভালো ভাবে মেশানোর সময় ঘি দিয়ে আবারও ভালো ভাবে মসৃণ করে নিন৷ এবার এটা কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দিন৷

একটা চৌকো প্লেটে অল্প ঘি লাগিয়ে চামচের সাহায্যে ভালো ভাবে সমান করে চারিয়ে নিন কাজুর মিশ্রণ৷ ওপরে রুপোলি রাংতা লাগিয়ে দিন৷  ছুরি দিয়ে কেটে নিলেই তৈরি কাজু বরফি৷ ৩0 মিনিট ফ্রিজে রেখে তারপর সার্ভ করুন৷

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব