ফিটনেস-এর ১০টি ফর্মুলা

নিজেকে ভালো রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব নিতে হবে নিজেকেই। এর জন্য নীতি নির্ধারণ এবং সংকল্প গ্রহণের প্রয়োজন। অর্থাত্, সুস্থ-স্বাভাবিক থাকার তাগিদ থাকতে হবে।অবশ্যই খাবারের পরিমাণ এবং ক্যালরির দিকে নজর দেয়া উচিত। আমরা যারা স্বাভাবিক কাজ কর্মের মধ্যে থাকি তারা সব সময় ব্যায়ামের দিকে খুব একটা নজর দিই না। কিন্তু শরীরটা তো ঠিক রাখা চাই। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম আপনার দৈনিক রুটিনে এনে ফেলুন। শরীরে বাড়তি মেদ ঝরাতে গেনে একটু পরিশ্রম তো করতে হবেই। আপনি চাইলেই আপনার ওজন নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

শরীরে জমে থাকা বাড়তি মেদ ঝরাতে আপনাকে কী করতে হবে? পোড়াতে হবে ক্যালোরি। যত ক্যালোরি বাড়তি খাচ্ছেন প্রতিদিন, ততখানি ঝরিয়ে ফেলতে পারলেই বাড়বে না ওজন। আর একটু বেশি ঝরাতে পারলেই ওজন কমতে শুরু করবে। ওজন কমানো মানেই জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা নয়, বরং নিজের দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকেই একটু বুদ্ধি করলে ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন বাড়তি মেদ৷ এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সুস্বাস্থ্যের কিছু মানদণ্ড আছে এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। যেমন—

  • স্বাভাবিক ভাবে কাজ কিংবা পরিশ্রম করার শক্তি থাকতে হবে
  • দৃষ্টিভঙ্গি স্থির থাকা আবশ্যক। অর্থাত্, প্রতিটি কাজে চাই ইতিবাচক মনোভাব
  • পরিশ্রমের নিরিখে, আরাম এবং ঘুমের প্রযোজন
  • প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবাযু এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে
  • সাধারণ সর্দি-কাশি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক
  • বয়স এবং উচ্চতা অনুযাযী বজায় রাখতে হবে শরীরের ওজন
  • চোখের স্বাভাবিক উজ্জ্বল দৃষ্টি বজায় রাখতে হবে
  • মুখের ভেতর এবং শরীরকে রাখতে হবে দুর্গন্ধহীন
  • চাই খুসকিবিহীন চুল এবং তেলবিহীন ত্বক
  • শরীরের হাড় এবং পেশিসমূহকে রাখতে হবে ব্যথাহীন।

ফিটকিরি-র বহুবিধ ব্যবহার

ফিটকিরি চেনেন না এমন মানুষের সংখ্যা কম। কিন্তু ফিটকিরি-র বহুবিধ ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা হয়তো সবার নেই। অর্ধস্বচ্ছ বরফের মতো কঠিন এই খনিজ দ্রব্যটি, সস্তা এবং সহজলভ্য। কারণ, এটি এখন ল্যাবরেটরি-তে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়। এর স্বাদ নোনতা এবং কষা। এটির সঠিক ব্যবহারে কী কী উপকার পাওয়া যায়, তা জেনে নিন।

জল শোধনকারী : সেই প্রাচীনকাল থেকেই জল শোধনে ব্যবহৃৎ হয়ে আসছে ফিটকিরি। জলে কোনও ময়লা বা জীবাণু থাকলে, এক টুকরো ফিটকিরি ফেলে দিন, দেখবেন কিছুক্ষণ পরে ময়লা নীচে থিতিয়ে যাবে। এরপর আস্তে করে উপরের জলটুকু অন্য পাত্রে ঢেলে ব্যবহার করতে পারেন।

জীবাণুনাশক : অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে খুব কার্যকরি ভূমিকা নেয় ফিটকিরি। তাই, দাড়ি কাটতে গিয়ে হঠাৎ গাল কেটে গেলে ফিটিকিরি ঘষে দিন। এতে রক্তও বন্ধ হবে এবং জীবাণুর সংক্রমণ থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

ঘামাচি দূর করে : গরমে অনেকের ঘামাচির সমস্যা দেখা দেয়। আর এই ঘামাচি দূর করার জন্য ফিটকিরির সাহায্য নিন। স্নানের জলে এক টুকরো ফিটকিরি ফেলে স্নান করুন, ঘামাচির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

ব্রণ দূর করে : সাধারণত ত্বকে জীবাণুর আক্রমণ ঘটলে এবং পেট পরিষ্কার না-থাকলেই ব্রণ-র সমস্যা দেখা দেয়। তাই, পেট পরিষ্কার রাখার জন্য খান ফাইবার-যুক্ত খাবার। ফিটিকিরি জলে চুবিয়ে আস্তে আস্তে ব্রণর উপর ঘষতে থাকুন। এক মিনিট পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন, ব্রণ দূর হবে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে : মুখের ভিতর ঠিক মতো পরিষ্কার না রাখার জন্য কিংবা বাজে টুথপেস্ট ব্যবহার করার কারণে মুখগহ্বরে জীবাণু বাসা বাঁধে এবং দুর্গন্ধ হয়। এক্ষেত্রে হালকা গরম জলে একটু নুন এবং ফিটকিরির সামান্য গুঁড়ো মিশিয়ে গার্গল করুন। মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে এবং দাঁতে ব্যথা থাকলে তাও দূর হবে।

মাথার উকুন মারে : চায়ের লিকার ঠান্ডা করে, ওর মধ্যে ফিটকিরির সামান্য গুঁড়ো মিশিয়ে মাথায় মাখুন এবং তিরিশ মিনিট পর শ্যাম্পু করুন। টানা তিনদিন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে উকুন উধাও হয়ে যাবে।

দাগমুক্ত রাখুন জামাকাপড়

বাচ্চাদের দুষ্টুমি কিংবা নিজের অসতর্কতা প্রভৃতির কারণে, ব্যবহৃত জামাকাপড়ে অনেকসময় দাগছোপ লেগে যায়। আর এই দাগছোপ কখনও আবার এতটাই জোরালো থাকে যে, সহজে উঠতে চায় না। কিন্তু দাগ তেল, কালি, রং, চা-কফি যা কিছুরই হোক না কেন, পদ্ধতি বা কৌশল জানা থাকলে দাগ তুলতে অসুবিধা হবে না। তাই, জেনে রাখুন দাগ তোলার কয়েকটি পদ্ধতি বা কৌশল।

চাকফির দাগ : একেবারে ধবধবে সাদা জামাকাপড়েও যদি চা-কফি পড়ে যায়, তাহলে তখনই ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন দাগ পড়া জায়গায়। এভাবে দুঘন্টা রাখার পর ভালো সাবান দিয়ে  ধুয়ে দিন, দাগ গায়ে হবে।

তেলের দাগ : হঠাৎ যদি কাপড়ে তেল পড়ে যায়, তাহলে টিসুপেপার চেপে ধরুন ওই জায়গায়। এরপর ওই তেল পড়া জায়গায় শ্যাম্পু লাগিয়ে পনেরো মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে দিন।

চকোলেটএর দাগ : চকোলেট লাগলে তখনই ধোবেন না। শুকোতে দিন। শুকিয়ে গেলে নখ দিয়ে কিংবা চামচ দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন চকোলেট। এরপর ডিশওয়াশিং লিকুইডের সঙ্গে ভিনিগার মিশিয়ে দাগ পড়া জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ বাদে জল দিয়ে ধুয়ে দিন।

কালি এবং রংএর দাগ : কেরোসিন তেল অথবা লবণ দিয়ে দাগের জায়গাটা ঘষে নিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো ভাবে ঘষে নিয়ে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রক্তের দাগ : রক্তের দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গে ভিনিগার দিয়ে দাগ লাগা জায়গাটা ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে জল দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে নিন।

সস এবং অন্যান্য দাগ : যদি টম্যাটো সস, চিলি সস, হলুদ প্রভৃতির দাগ লেগে যায় জামাকাপড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস ঢেলে দিন দাগের উপর। পাঁচ মিনিট বাদে সাবান দিয়ে কেচে নিন ভালো ভাবে।

পারফেক্ট হোম ডেকর

বিভিন্ন ধরনের কাস্টমারদের কথা মাথায় রেখে বিপণিগুলি নিত্যনতুন পণ্যসম্ভারে বাজার ভরিয়ে তুলেছে। কিন্তু বাজেট অনুযায়ী,পছন্দসই ফার্নিশিংস আর আসবাবের নির্বাচন করতে হবে।

প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে কীরকম অন্দরসজ্জা আপনার এবং আপনার পরিবারের পছন্দ—ট্র্যাডিশনাল নাকি ফিউশন। তারপরে আসবাব, ফ্লোরিং, বাড়ির বাইরের এবং ভিতরের রং অথবা ওয়ালপেপার। এই সবকিছুর দাম জেনে কিছুটা দরদাম করে, বাজেটের মধ্যে যেটা আসবে, সেই পছন্দের জিনিস দিয়েই সাজিয়ে তুলুন নিজের ‘একান্ত আপন’ বাড়িটিকে।

আর বাড়ি সাজবার আগে, যিনি ওই বাড়িতে থাকেন, তার প্রয়োজন এবং ইচ্ছে জেনে নেওয়া জরুরি। বাড়ির প্রত্যেকটি ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা, সেখানে কতটা করে জায়গা রয়েছে, কতটা জায়গা খালি ছাড়তে হবে ইত্যাদি মাথায় রেখে যখন বাড়িটিকে সাজাবার কথা ভাবা হয়, তখন তাকেই বলা হয় কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। হোম ডেকর বিপণি ‘কালিস্টো এলিমেন্টস’-এর ডিরেক্টর হাজিক শেখ  এ প্রসঙ্গে  জানিয়েছেন, ‘ব্যাক্তির প্রয়োজন, ঘরের রং, আসবাবের শেপ, ফ্যাব্রিক, মেটেরিয়াল, ডিজাইনিং, একের সঙ্গে অপরের সামঞ্জস্য বজায় রেখে সোফা, কুশন, দেয়াল, সিলিং, পর্দা—সবকিছুর বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।’

বাজারে গিয়ে কিছু পছন্দসই জিনিস কিনলেন অথচ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখলেন ঘরের আকার অনুযায়ী ঠিকমতো আঁটানো যাচ্ছে না—এরকম ঝামেলা অনেকসময় হয়ে থাকে। তাই, ‘অলসর্গ ইন্টিরিয়র ইন্ডিয়া’-র ডিরেক্টর সজল লাম্বা প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘যেটাই বাড়িতে নতুন তৈরি করা হবে, তা যেন বাড়ির পুরো ডেকরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে করানো হয় অথচ বাজেটও অ্যাপ্রুভ করে। লিভিংরুমটি হয়তো আকারে ছোটো অথচ দোকানে গিয়ে পছন্দ হল বড়োসড়ো একটি সোফা, কখনওই সেটা মানানসই হবে না। উপরন্তু জায়গাতেও সংকুলান ঘটবে। তার থেকে ভালো,ঘরের আকার অনুযায়ী কাস্টমাইজড সোফা বানিয়ে নেওয়া এবং সেইসঙ্গে ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রও।’  তিনি আরও জানান, ‘কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র বিভিন্ন রকমের ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ির আভ্যন্তরীণ পরিবেশ,জায়গা ইত্যাদি দেখে বানানো হয়। এতে গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়টিও বিদ্যমান থাকে। সারা বাড়ির ডেকর এইভাবে পুরো বদলে ফেলা সম্ভব।’

লেদার আপহোলস্টির সঙ্গে সলিড কাঠের আসবাব মানানসই হলেও, গরমের অনুভূতি জাগায়। একটু বদলে যদি উড-এর জায়গায় তা কাচের করানো যায়, তাহলে রুচির সঙ্গে সঙ্গে গরজিয়াস লুক-ও পাওয়া যাবে। এইরকম ডিজাইনার ফার্নিচারের প্রচুর বিকল্পও রয়েছে আজকাল। এগুলিকে মডার্ন লুকও দেওয়া যায়, আবার গ্রাহক চাইলে ট্র্যাডিশনাল লুক দিয়েও তৈরি করা যায়। অতএব, পারফেক্ট হোম ডেকর-এর জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিজেও বুদ্ধি-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

—–

চটজলদি কাজ সারুন কিচেনে

যে-কোনও ঘর-গেরস্থালির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল রান্নাঘর, যেখানে সারাদিনের বেশ কিছুটা সময় রোজই কাটাতে হয়। সুতরাং সময়ের দৌড়ে কমফর্ট-এর সঙ্গে সঙ্গে কিচেনের কাজ চটজলদি সেরে ফেলাটাও খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে। তাই কিছুটা রদবদল করে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজিয়ে তুলুন রান্নাঘর।

রান্নাঘরের অন্দরসজ্জা

রং – রান্নাঘরের জন্য উপযুক্ত রং নির্বাচন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ রান্নার জায়গার সম্পূর্ণ ছবিটা ওটার উপরেই নির্ভর করে। বেগুনি, সবুজ ইত্যাদি গাঢ় রং ব্যবহার না করাই ভালো। বরং চোখের আরামের জন্য হলুদ, কমলা অথবা মাটির রং বেছে নিতে পারেন।

টাইল্স-  ডিজাইনার টাইল্স কিচেনের দেয়ালে লাগালে দাগছোপের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন এবং ঘরও বড়ো দেখাবে। মার্কেটে গিয়ে নিজে দেখে টাইল্স বেছে আনতে পারেন তবে সময়ের অভাব থাকলে অনলাইনেও অর্ডার করতে পারেন। পছন্দের ভ্যারাইটি হল মোজেক, সিরামিক, প্রিন্টেড সিরামিক, রাস্টিক, ম্যাট ওয়াল টাইল্স, গ্লাস সিরিজ ডিজিটাল ওয়াল টাইল্স ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন ফল বা ভোজনসামগ্রীর ছবি প্রিন্ট করা টাইল্স-ও পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন।

জানলাঃ  রান্নাঘরে জানলা থাকা খুবই প্রয়োজন। তাই রান্নাঘরে জানলার জন্য একটু বেশি অর্থ খরচ করে উত্তম কোয়ালিটিরই জিনিস কিনুন। জানলার মাধ্যমে রান্নাঘরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে। আজকাল ঘষা কাচের জানলা ফ্যাশনে ইন। রান্নাঘরকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ইন্টিরিয়র ডিজাইনাররা জানলায় এই ধরনের কাচ বেশি ব্যবহার করছেন।

চিমনিঃ  প্রতি বছরই কিচেন চিমনিতে নানারকম পরিবর্তন আসছে এবং দিন দিন এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মডিউলার কিচেনের অপরিহার্য অঙ্গ হল কিচেন চিমনি। তিন ধরনের ফিলটার যুক্ত চিমনি সাধারণত পাওয়া যায়– ক্যাসেট ফিলটার, কার্বন ফিলটার ও ব্যাফেল ফিলটার। ভারতীয় কিচেনের জন্য ব্যাফেল ফিলটার সবচেয়ে বেশি কার্যকরী।

কিচেন কাউন্টার টপঃ  উপযুক্ত কিচেন টপ বাছলে যেমন কাজের সুবিধা হয় তেমনি কাজও তাড়াতাড়ি করা যায়। এছাড়া দেখতেও আকর্ষণীয় লাগে। সাধারণত গ্রানাইট কিচেন টপ বা টেবিল বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু সাদা বা কালো মার্বল টপ বা চিনেমাটির তৈরি টপ-ও এখন অনেকেই পছন্দ করছেন। কিচেন কাউন্টার টপ-এ কম্প্যাক

কোয়ার্টজ-এর খুব রমরমা এখন এবং নিউ জেনারেশন এই স্টাইলটির খুব ভক্ত।

আলোর ব্যবহারঃ  রান্নাঘরে আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা খুবই দরকার। রান্নাঘরের সম্পূর্ণ সৗন্দর্যায়ন-এর জন্য ভালো কোয়ালিটির ল্যাম্প, বাল্ব ইত্যাদি লাগানো জরুরি। এলইডি এবং হ্যালোজেন কিচেন লাইটস এখন অনেকেরই পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

কিচেন ক্যাবিনেটঃ  স্টোরেজের জন্য কিচেন ক্যাবিনেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রি-ল্যামিনেটেড পার্টিকল বোর্ডস, হার্ডউড, মেরিন প্লাই, হাইব্রিড উড প্লাস্টিক কম্পোজিট ইত্যাদি কিচেন ক্যাবিনেটস-এর চল সবথেকে বেশি।

রান্নাঘর সাজাবার জন্য এগুলি ছাড়াও কিচেন ক্যারোসেল ব্যবহার করা যায় জায়গা বাঁচিয়ে কিচেনে কাজ করার জন্য অ্যাডজাস্ট করা যায়, এমন টেবিলও কিনে নিতে পারেন।

রান্নাঘরের জিনিসপত্র

আধুনিক সময়ের প্রয়োজনীয়তা এবং সময়ের অপচয় কমতে, রান্নাঘরে কাজের সুবিধার্থে রাখা যেতে পারে বেশ কিছু প্রোডাক্ট, যেগুলি আপনার রান্নাঘরকেও করে তুলবে যথেষ্ট আকর্ষণীয়।

এয়ার ফ্রায়ারঃ  তেলে ফ্রাই করা খাবারের থেকে ৮০ শতাংশ কম তেলে এটিতে ফ্রাই করা ছাড়াও খাবারও বানানো যায়। এতে খাবারের স্বাদেও কোনও ঘাটতি হয় না। এয়ার ফ্রায়ারের সাহায্যে শুধুমাত্র তেল ব্রাশ করে পোটাটো চিপ্স, চিকেন, ফিশ ইত্যাদি ফ্রাই করা যেতে পারে।

জুসারঃ  ফলের বা সবজির টাটকা জুস, প্যাকেটের জুস-এর থেকে অনেক বেশি পুষ্টিকর। জুসারের সাহায্যে বাড়িতেই জুস বানিয়ে নিজেকে সারাদিন এনার্জি-তে ভরপুর রাখতে পারেন।

স্মার্ট কুকি আভেনঃ  ১০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্রেশ বেক করতে স্মার্ট কুকি আভেন-এর জুড়ি মেলা ভার।

সোয়ার্মা গ্রিলারঃ  সোয়ার্মা গ্রিলারের সাহায্যে বাড়িতে বসেই বানিয়ে ফেলতে পারেন শাওয়ারমা। এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনই সুস্বাদু একটি পদ। ভালো ভাবে তৈরি সোয়ার্মা প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট-এ ভরপুর হয়। এর মধ্যে থাকে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাট সুতরাং এটি শরীরের কোনও ক্ষতি করে না।

ওয়েট ট্রেনিং

শুধুমাত্র অতিমারীর আবহে-ই নয়, শরীরকে সর্বদা সুস্থ, স্বাভাবিক এবং প্রাণচঞ্চল রাখার জন্য ইনার ফিটনেস জরুরি। আর এই ইনার ফিটনেস-এর জন্য ওয়েট ট্রেনিং খুবই কার্যকরি  মাধ্যম। এতে দ্রুত ওজনও কমানো যায়। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের শরীরে যেহেতু ফ্যাট জমার প্রবণতা বেশি থাকে, তাই মহিলাদের ওয়েট ট্রেনিং করা আবশ্যক। তবে এ প্রসঙ্গে একটা ভুল ধারণা আছে অনেক মহিলার যে, ওয়েট ট্রেনিং-এ শরীরে পেশিগুলি নারীসুলভ নমনীয়তা হারিয়ে পুরুষালি হয়ে যায়। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়। কারণ, যে-হরমোনের কারণে শরীর পেশিবহুল হয়ে ওঠে, সেই টেস্টোস্টেরন হরমোন খুবই কম মাত্রায় থাকে নারী-শরীরে। বরং বেশি থাকে ইস্ট্রোজেন হরমোন। তাই, যদি টেস্টোস্টেরন হরমোন শরীরে ইনজেক্ট না করেন মহিলারা, তাহলে তাদের শরীর পুরুষদের মতো পেশিবহুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। অতএব, নির্দ্বিধায় ওয়েট ট্রেনিং-কে মাধ্যম করতে পারেন মহিলারা। এ ক্ষেত্রে মনে রাখবেন, ওয়েট ট্রেনিং-এর ৭২ ঘন্টা পরও ক্যালোরি বার্ন হতে থাকে।

এখন কারও মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ওয়েট ট্রেনিং কী? ওজন তোলা এবং নামানোকেই বলা হয় ওয়েট ট্রেনিং। শুধু হাত দিয়ে নয়, হামাগুড়ির ভঙ্গিতেও পিঠ দিয়ে ওজন তোলা-নামানোর সুফল পাওয়া যায়। এরজন্য আপনাকে বাড়িতে রাখতে হবে এক থেকে তিন কিলোগ্রাম ডাম্বেল। আর যারা ডাম্বেল কিনতে পারবেন না, তারা দুটি এক লিটারের অথবা দুটি দুলিটারের জলের বোতল দিয়ে ওয়ার্ক আউট করতে পারেন। তবে এরজন্য কিছু নিয়ম পালন এবং সতর্কতা জরুরি।

  • ওয়েট ট্রেনিং শুরু করার আগে পেশাদার ট্রেনারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
  • শরীরে কোনও বড়ো সার্জারি হয়ে থাকলে ওয়েট ট্রেনিং না করাই ভালো। এক্ষেত্রে আপনার চিকিত্সকের উপদেশ পালন করা আবশ্যক
  • ওয়েট ট্রেনিং শুরু করার আগে, অন্তত দশ মিনিট হেঁটে কিংবা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে নিতে হবে
  • ওজন তোলা এবং নামানো যেমন ধীর গতিতে করতে হবে, ঠিক তেমনই ওজনের পরিমাণও বাড়াতে হবে ধীরে ধীরে
  • সপ্তাহে অন্তত চারদিন ওয়েট ট্রেনিং-এর ওয়ার্ক আউট করুন এবং ওয়ার্ক আউট-এর সময জোরে জোরে শ্বাস নিন এবং শ্বাস বর্জন করুন
  • ওয়েট ট্রেনিং করতে হলে প্রোটিন এবং সামান্য কার্বোহাইড্রেট-যুক্ত খাবার খাওয়া আবশ্যক। এছাড়া রাতে পর‌্যাপ্ত ঘুমেরও প্রযোজন।

চা-পানের সঠিক সময়

আমরা জানি চা-এর কিছু স্বাস্থ্যগুণ আছে। যেমন দুধ-চা মুখের স্বাদ ফেরায় এবং মানসিক তৃপ্তি দেয়। লাল-চা বা যাকে আমরা বলি লিকার-টি, তা পান করলে শরীরের অতিরিক্ত ধকল দূর করে আরাম দেয়। আবার, অর্গ্যানিক-টি-র আছে নানারকম গুণ। এই চা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস-যুক্ত, শরীরে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, অর্গ্যানিক-টি-তে আছে অ্যামিনো অ্যাসিড, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, ভিটামিন বি, সি, প্রোটিন প্রভৃতি। এগুলি আমাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। সেইসঙ্গে, চুল এবং দাঁত সুরক্ষিত রাখে, রক্তচাপ কমায়, সুগার নিযন্ত্রণে রাখে, হাড়ের ক্ষয়রোধ করে এবং মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু, এইসব সুফল আমরা ভোগ করতে পারব যদি সময় মতো চা-পান করি। আর যদি তা না করি, তাহলে কুফল ভোগ করতে হতে পারে।

কোন চা কখন পান করা উচিত

দুধ-চা : সকালে উঠে খালি পেটে দুধ-চা খাবেন না। খালি পেটে দুধ-চা খেলে, গ্যাস ফর্ম করতে পারে পেটে এবং অম্বল হতে পারে। তাই, ব্রেকফাস্ট-এর অন্তত একঘন্টা পর এবং বিকেলে টিফিন খাওয়ার অন্তত তিরিশ মিনিট পর পান করুন দুধ-চা। আর এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, অনেকক্ষণ আগের বানানো চা পুনরায় গরম করে পান করবেন না। কারণ, বারবার ফোটানো চা লিভারের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

লিকার-চা : লাল বা লিকার-চা-ও খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়। কারণ, চা যেহেতু হজমে সাহায্য করে, তাই পেট খালি থাকলে স্টমাকে চাপ পড়তে পারে। অতএব, পেটে যদি কিছুটা খাবার থাকে, তাহলে সঠিক পরিমাণে লাল-চা পান করতে পারেন। তবে, লিকার-চা পান করার সঠিক সময় হল ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের পর। এতে শরীরের ক্লান্তি দূর হবে এবং মানসিক শান্তি পাবেন।

অর্গ্যানিক-চা : একমাত্র অর্গ্যানিক-চা পান করার উপযুক্ত সময় হল সকালে খালি পেটে। কারণ এটি ফ্যাট বার্নিং হরমোনকে প্রভাবিত করে সুফল দেয়। তাছাড়া, এক্সারসাইজ-এর আগে পান করলে এনার্জি বাড়ে। তাই, সকালে খালি পেটে ছাড়া, দিনের অন্য সময় ভরা পেটে অর্গ্যানিক-চা পান করলে সঠিক উপকার পাবেন না।

রাতে খাওয়ার পর এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে, কোনও চা-ই পান করবেন না। এতে ঘুম নষ্ট হতে পারে।

বাচ্চার জেদ কমাবেন কীভাবে?

নানারকম কারণে জেদ করে বাচ্চারা। খিদে পেলে, ঘুম পেলে কিংবা শরীরে কোনও কষ্ট হলে যেমন জেদ করে, ঠিক তেমনই ভলোবাসার অভাববোধ করলেও জেদ করে। অনেক সময আবার নিজের প্রতি অতিরিক্ত দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর জন্যও জেদ ধরে বাচ্চারা। কিন্তু অতিরিক্ত জেদ বাচ্চার শরীর ও মনে কুপ্রভাব ফেলতে পারে। শুধু তাই নয়, জেদের কারণে ভবিষ্যতে অন্যের চোখে অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অতএব, বাচ্চার জেদ কমাতেই হবে। এর জন্য প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে বাবা-মাকে। কিন্তু কীভাবে?

  • বাচ্চা যদি একাকিত্ব অনুভব করে কিংবা বিরক্তবোধ করে, তাহলে তার কান্নাকাটি বা চ্যাঁচামেচি বন্ধ করানোর জন্য কোনও কাজে তাকে ব্যস্ত রাখুন। যেমন খেলনা, আঁকা অথবা বড়োদের কাজে সাহায্য করতে বলুন। শাকসবজি বাছাবাছি, গুছিয়ে রাখা ইত্যাদিতেও ব্যস্ত রাখতে পারেন। প্রযোজন হলে বাসনপত্র এলোমেলো করে দিয়ে বাচ্চাকে গোছাতে বলুন
  • খিদে পাওয়ার কারণে যদি জেদ করছে মনে হয়, তাহলে তখন পছন্দের খাবার খাওয়ান বাচ্চাকে
  • সঠিক সময়ে ঘুম পাড়ান বাচ্চাকে এবং বাচ্চাকে অন্তত আট ঘন্টা ঘুমোনোর ব্যবস্থা করুন। কারণ, ঘুম ভালো হলে বাচ্চার মুড ভালো থাকবে এবং জেদ কমবে
  • বাচ্চা যখন জেদ করবে, তখন তাকে মারধর কিংবা অন্য কোনও ভাবে শাস্তি দেবেন না, এতে জেদ আরও বেড়ে যাবে। বরং উলটোটাই করুন, ওকে আদর দিয়ে অন্য কোনও ভাবে ব্যস্ত রাখুন, হাসাবার চেষ্টা করুন
  • বাচ্চাকে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করুন। যেন কোনও ভাবেই বাচ্চা অসহায়তা অনুভব না করে
  • বাচ্চার সামনে বড়োরা যেন ঝগড়া না করে। কারণ, ঝগড়া দেখলে ভয় পেয়ে বিরক্তি কিংবা জেদ দেখাতে পারে।

সন্তানের শিক্ষাখাতে সঠিক বিনিয়োগ

‘লেখাপড়া করে যে, গাড়িঘোড়া চড়ে সে’– এমন প্রবাদ শুনতে শুনতে বড়ো হয়েছি আমরা। অর্থাৎ, শিক্ষালাভের মাধ্যমেই যে জীবনে সাফল্যলাভ করা যায়, এই সারমর্মটুকু ছোটোবেলাতেই মাথায় গেঁথে দিতে চেয়েছেন আমাদের মা-বাবা কিংবা শুভাকাঙক্ষী গুরুজনেরা।

আসলে, সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করে  তোলা কিংবা সঠিক শিক্ষাদানের জন্য যে-ভাবে কঠিন পরিশ্রম করতে হয় বাবা-মাকে এবং যে-পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে হয় তাদের, তা যাতে সার্থকতালাভ করে,– সেই বিষয়টিই নানা কথায় স্মরণ করিয়ে দিতে চান সন্তানকে। অবশ্য, সন্তানের বোধবুদ্ধি হওয়ার পর তবেই তারা মা-বাবার পরামর্শ মেনে চলতে চেষ্টা করবে কিন্তু মা-বাবাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে সন্তান জন্মলাভের পর থেকেই।

আধুনিক সমাজব্যবস্থায় শিক্ষার ধরন বদলেছে। তাই মা-বাবারাও চিন্তাধারার পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। এখন বাংলা মাধ্যমের তুলনায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে লেখাপড়া ভালো হয়, এমন ধারণা থেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। তাছাড়া ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়লে ইংরেজি ভাষাটা ভালো ভাবে র৫ করতে পারবে এবং পৃথিবীর যে-কোনও প্রান্তে কর্মজীবনকে সাফল্যমন্ডিত করতে পারবে, এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মনে। অপ্রিয় হলেও, হয়তো কথাটা সত্যি। তাই ইংরেজি মাধ্যম স্কুুলের চাহিদা বাড়ছে এবং এই সুযোগে স্কুল কর্তৃপক্ষও পঠনপাঠনের জন্য আর্থিক বোঝা চাপিয়ে চলেছে অভিভাবকদের ওপর। আর সন্তানের শিক্ষাখাতে খরচ হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিতে হিমসিম খাচ্ছেন মা-বাবারা। কিন্তু যদি পরিকল্পনামাফিক ব্যয়বরাদ্দ করা যায় সন্তানের শিক্ষাখাতে, তাহলে আর্থিক ঝামেলায় পড়ার সম্ভাবনা কমবে। যেমন অনেকে বড়ো কোনও স্কুলে ছেলেমেয়েকে ভর্তি করিয়ে দুই-তিন ক্লাস পড়ানোর পর আর আর্থিক বোঝা না নিতে পেরে ওই স্কুল থেকে ছাড়িয়ে নেন। আবার অনেক পরিবারে, বিশেষকরে গ্রাম বা মফস্সলের কিছু অভিভাবক টাকাপয়সা না জমিয়ে ছেলেমেয়েকে পড়াতে গিয়ে বিফল হন। বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়িয়েও আট-দশ ক্লাস-এর বেশি আর টানতে পারেন না ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ। ফলে, অর্ধসমা৫ থেকে যায় সন্তানের শিক্ষা। তাই এরা জীবনে তেমন প্রতিষ্ঠা পায় না। অতএব, সন্তানের শিক্ষাখাতে সঠিক ব্যয়বরাদ্দের জন্য আগাম পরিকল্পনা জরুরি।

সন্তানের শিক্ষাজীবনকে তিনটি পর্বে ভাগ করে নিন প্রথমে। প্লে স্কুল থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত ধরে নিন প্রথম পর্ব। ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্ব এবং তারপরের উচ্চশিক্ষা কিংবা পেশাগত শিক্ষাকে রাখুন তৃতীয় পর্বে। এবার সঞ্চয় পর্ব।

সন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকে টাকা জমানো শুরু করুন। এক্ষেত্রে আগাম সময় পাবেন আড়াই বছর। কারণ, সন্তানের আড়াই বছর বয়স থেকে শুরু হয় শিক্ষাজীবন।

ডায়ারি, পেন অথবা কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ নিয়ে বসুন প্রথমে। প্রথমে লিখুন আপনার মাসিক আয়ের পরিমাণ। তারপর নানা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ হিসাব করার পর দেখুন কতটা টাকা বাঁচাতে পারলেন। এরপর সন্তানের আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত, অর্থাৎ ত্রিশ মাস টাকা জমাতে থাকুন। এরই পাশাপাশি, খোঁজ নিন বিভিন্ন স্কুলের ভর্তি বাবদ এবং টিউশন ফিজ ইত্যাদি খরচের পরিমাণের বিষয়ে। এবার আপনার আর্থিক সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিন, কোন স্কুলে ভর্তি করলে নিশ্চিন্তে সন্তানকে সঠিক শিক্ষাদান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই যদি চাকুরিজীবী হন, তাহলে সন্তানকে হয় ডে-কেয়ার অথবা ক্রেশ-এ কিংবা ‘আয়া-মাসি’র কাছে রাখতে হবে এবং এরজন্য আরও পাঁচ-সাত হাজার টাকা খরচ হবে প্রতি মাসে।

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বাচ্চার অ্যাডমিশন বাবদ মোটামুটি পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা খরচ আছে ভালো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াতে গেলে। এরপর আছে স্কুল ড্রেস, বইখাতা এবং মান্থলি স্কুল ফিজ। প্রায় সব ভালো ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এক থেকে দু’হাজার টাকা মান্থলি ফিজ নিয়ে থাকে নার্সারি থেকে ক্লাস ওয়ান পর্যন্ত। এরপর ক্লাস ফোর পর্যন্ত তা দাঁড়ায় মোটামুটি আড়াই হাজার টাকার মতো।

ক্লাস ফাইভ থেকে খরচ কিছুটা বাড়বে। কারণ, বেশিরভাগ স্কুলে ক্লাস ফাইভ থেকে সবরকম ফিজ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এরসঙ্গে পড়ার চাপ বাড়লে হোম ওয়ার্ক-এর জন্য যদি হোম টিউটর রাখেন তাহলে খরচ আরও কিছুটা বাড়বে এবং এই ব্যয়ের পরিমাণ প্রতিবছরই কিছুটা বাড়তে থাকবে। তাই সেইমতো ব্যয়বরাদ্দও করতে হবে মা-বাবাকে।

তৃতীয় পর্ব, অর্থাৎ দশ ক্লাস পাশ করার পর যেমন ‘বিভাগ’ বেছে নেবে আপনার সন্তান, খরচের পরিমাণটাও তেমনই হবে। অর্থাৎ, আর্টস, কমার্স এবং সায়েন্স এই তিন বিভাগে পড়ার খরচও আলাদা। সবচেয়ে বেশি খরচ সায়েন্স বিভাগে। এছাড়া, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের খরচের পরিমাণ বাড়বে ক্রমান্বয়ে। আর যদি ডক্টর, ইঞ্জিনিয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বানাতে চান কিংবা অন্য কোনও কারিগরী শিক্ষা দিতে চান আপনার সন্তানকে, তাহলে খরচের বিষয়ে খোঁজ খবর করে সেইমতো ব্যয়বরাদ্দ করুন। এরজন্য শিক্ষামূলক যোজনায় টাকা জমান অথবা রেকারিং অ্যাকাউন্ট-এ টাকা রাখুন। এরপরও যদি আর্থিক ঘাটতি থাকে, তাহলে এডুকেশনাল লোন নিতে পারেন। উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনীয় পেপার্স ব্যাংক-এ সাবমিট করে লোনের জন্য আবেদন করুন। এক্ষেত্রে অবশ্য আপনার সন্তানকে মেধাবী হতে হবে এবং ভবিষ্যতে উপার্জনের প্রবল সম্ভাবনা থাকতে হবে।

সংকটমোচনে বিমা ও বিনিয়োগ

জীবন বহমান। কিন্তু এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সবসময় অনুকূল থাকবে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।

যে-কোনও সময় প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হতে পারি আমরা। এটাই বাস্তব। এই যেমন কয়েক মাস আগেও আমরা বুঝতে পারিনি আজকের ঘোর দুর্যোগের কবলে পড়ার বিষয়টি। কিন্তু হঠাৎই আমাদের জীবনের সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। অনেকে আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঝড়ের তাণ্ডবে। আবার বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যমকে ভূ-তত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলা ভূমিকম্পের কবলে পড়তে পারে পুজোর আগেই।

এ যেন বিরামহীন দুর্যোগের ঘনঘটা! আর এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেখা দিয়েছে আর্থিক মন্দা। কেউ কর্মহীন, কারও কমেছে আয়। যাদের কিছু সঞ্চয়  ছিল তারা কিছুটা হলেও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন, আর যাদের ভাঁড়ার শূন্য, তারা আজ দিশাহারা। সেইসঙ্গে, গোদের উপর বিষফোঁড়া-র মতো বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মাত্রা। কেউ হয়তো স্বাস্থ্যসংকট কাটিযে উঠেছেন, কেউ-বা হযতো এখনও রয়েছেন স্বাস্থ্য-সংকটে। কেউ আবার করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। সব মিলেমিশে এ এক অস্থির, সংকটময় পরিস্থিতি। চলছে বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই।

অবশ্য এ তো গেল বিশেষ সংকটের বিষয়। ধরে নিন এই বিশেষ সংকট জীবনে হয়তো ঘন ঘন আসবে না। কিন্তু এ ছাড়াও তো রয়েছে অনিবার্য প্রযোজন মেটানোর তাগিদ, রয়েছে সাধারণ সংকটে পড়ার সম্ভাবনা। যেমন ধরুন স্থায়ী বাসস্থানের প্রয়োজন মেটানোর তাগিদ, বার্ধক্যে খেয়ে পরে থাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্তানের বিয়ে কিংবা হঠাৎ করে পরিবারের কেউ বড়ো কোনও দুর্ঘটনা কিংবা অসুখে পড়লে তার থেকে বাঁচার উপায় প্রভৃতি। এছাড়া জীবনের শখ-আহ্লাদ পূরণ এবং সামাজিকতা রক্ষার জন্য ব্যয় বরাদ্দ করার বিষয়টি তো রয়েছেই। অতএব, অনিবার্য প্রয়োজন মেটানো এবং সংকটমোচনের জন্য সঠিক বিনিয়োগ, সঞ্চয়, স্বাস্থ্য ও জীবনবিমা করার পরিকল্পনা করতেই হবে। অন্তত বর্তমান সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিযোগের মাধ্যমে সঞ্চয় এবং স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য বিমা করা বাঞ্ছনীয়।

বিনিয়োগের ধরন

সবচেয়ে আগে নিশ্চিত করতে হবে আপনার উপার্জন এবং তারপর ভাবতে হবে বিনিয়োগের বিষয়টি। চাকরি কিংবা ব্যাবসা যাই করুন না কেন, যদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, তাহলে কোনও চিন্তা নেই। কিন্তু তা যদি না থাকে, তাহলে উদ্যোগ নিতে হবে নতুন ভাবে। আপনার শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই নতুন করে জীবিকা নির্বাচন করতে হবে। যদি চাকরি না পান, তাহলে ভাবতে হবে ব্যাবসার কথা। কিন্তু ব্যবসাযয়ক ক্ষেত্র যদি আপনার কাছে নতুন হয়, তাহলে বন্ধু, আত্মীয় কিংবা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়ে নামতে হবে ময়দানে।

বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে লাভজনক হতে পারে এডুকেশনাল কিংবা হেল্থ রিলেটেড ব্যাবসা। কোনও কোচিং সেন্টার কিংবা ওষুধের হোলসেল বা রিটেল বিজনেস করতে পারেন। পুঁজি কম থাকলে কিংবা না থাকলে হতে পারেন সাপ্লায়ার। অর্থাৎ, ওষুধ কিংবা অন্যান্য নিত্যপ্রয়জনীয় সামগ্রী বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা দিয়ে অর্থ উপার্জন সুনিশ্চিত করতে পারেন। খুব কম অর্থব্যয় করার উপায় কিংবা ভাবনা থাকলে খুলতে পারেন হেয়ার-কাটিং সেন্টার। দুই থেকে তিনজন হেয়ার-কাটার কমিশনের ভিত্তিতে নিয়োগ করলে ভালো লাভ থাকবে। এছাড়া, বহুতল আবাসনে কংক্রিট, প্লাম্বিং, ইলেক্ট্রিক্যাল প্রভৃতির রিপিয়ারিং-এর কাজ চুক্তিভিত্তিক নিয়ে উপযুক্ত পেশাদারদের দিয়ে করিয়ে ভালো আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।

মোট কথা, নানা ভাবে আয় সুনিশ্চিত করে তারপর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর মনে রাখা দরকার, বিনিয়োগ এবং সঞ্চয় দুটি আলাদা শব্দ বা বিষয় হলেও, সঠিক বিনিয়োগ-ই সঞ্চয়ের পথ প্রশস্ত করে, সুনিশ্চিত করে।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞের মতে, বিনিয়োগ-কে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করে নেওযা উচিত। শর্ট, মিডিয়াম এবং লং টার্ম এই তিনটিই হল বিনিয়োগের ধরন। যদি গাড়ি কিনে কোনও অ্যাপ-ক্যাব কোম্পানিকে ভাড়ায় দেন, তাহলে এটা শর্ট-টার্ম বিনিযোগ। কারণ, গাড়ি কেনার জন্য যে-টুকু টাকা ঋণ নিতে হবে, তা দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে শোধ করে দিয়ে আয় বাড়ানো যায়।

মিডিয়াম টার্ম-এর মধ্যে রয়েছে বাড়ি কেনা, হোল সেল ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে আয় করা ইত্যাদি। এক্ষেত্রে বাড়ি কিনে বাড়ি ভাড়া দিয়ে কিংবা হোলসেল ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিয়ে আয় সুনিশ্চিত করতে গেলে যে-পরিমাণ অর্থ ঋণ নিতে হবে, তা পরিশোধের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগবে।

আর সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ নিয়ে ব্যয়, স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) প্রভৃতি হল লং-টার্ম ইনভেস্টমেন্ট। কারণ, সন্তানের উচ্চশিক্ষা নিয়ে উপার্জন করতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগবে, ঠিক তেমনই সে কর্মজীবনে প্রবেশের পর দীর্ঘজীবন উপার্জন করবে। স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রেও বিষযটি একই। এককালীন অনেক টাকা ব্যাংক-এ দীর্ঘদিন রাখতে পারলে, অবসরকালীন দীর্ঘ জীবনের জন্য সঞ্চয় সুনিশ্চিত করা যাবে।

তবে ব্যাংকিং-বিনিযোগ-এর মধ্যেও আবার তিনটি ভাগ আছে। একটা লিকুইড ফান্ড, দ্বিতীয়টি মানিব্যাক পলিসি এবং তৃতীয়টি হল রিটাযারমেন্ট পলিসি। এর মধ্যে লিকুইড ফান্ড-এর মধ্যে পড়ে মিউচুয়াল ফান্ড। কারণ, এই টাকা একদিনের নোটিশে তুলে ফেলা যায়। আর মাসে মাসে কিংবা বছরে দুই বা চার পর্বে টাকা জমা রেখে মাঝেমধ্যে সুদের টাকা হাতে পাওযার বিষয়টি হল মানিব্যাক পলিসি।

এছাড়া, চাকরি কিংবা উপার্জনের শুরু থেকে প্রতি মাসে কিছু টাকা ৬০ বছর পর্যন্ত জমিয়ে তার সুদ এবং আসল টাকা অবসরকালীন জীবনে কাজে লাগানোর বিষয়টি হল রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান বা পলিসি। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখার প্রয়োজন, একমাত্র গাড়ির ব্যাবসার জন্য বিনিয়োগ কিছুটা ঝুঁকি সাপেক্ষ।

বিমার সুবিধা

মনে রাখবেন, বিমার কোনও নেতিবাচক দিক নেই। এর পুরোটাই ইতিবাচক। বলা যায়, সংকটমোচনের অন্যতম সহায়ক মাধ্যম। একবার কষ্ট করে এককালীন কিছু টাকা ব্যয় করতে পারলেই, বিপদের মুহূর্তে ভালো বন্ধুর ভমিকা পালন করবে।

বিমার-ও অনেকগুলি ধরন রয়েছে। গাড়িবিমা, বাড়িবিমা, স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনবিমা ইত্যাদি। একমাত্র স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া বাকি সবরকম বিমা-ই দুর্ঘটনাসাপেক্ষে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ছাড়াও, গুরুতর অসুস্থতা এবং সার্জারির ক্ষেত্রেও ক্যাশলেস-এর সুবিধা পাওয়া যায়।

গাড়ি এবং বাড়িবিমার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ পাওয়া  যায়। বিবাহবিমা-র ক্ষেত্রে শুধু বিয়ের দিন যদি চুরি, ডাকাতি কিংবা জীবনহানি ঘটে, তাহলে সেই ক্ষতিপূরণ দেবে বিমা কোম্পানি। এক্ষেত্রে বিবাহবাসরে থাকা অর্থ-সম্পত্তির পরিমাণের লিখিত বিবরণ দিতে হয় এবং সেই অনুযায়ী বিমার জন্য প্রদেয় অর্থ ধার্য হয়। শুধু তাই নয়, বিবাহবাসরে উপস্থিত কতজনের জীবনবিমা করছেন তার উপরও নির্ভর করবে বিমার জন্য প্রদেয় অর্থের পরিমাণ।

আর ভ্রমণবিমা এবং জীবনবিমার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা এবং জীবনহানির জন্য পাওয়া যায় এককালীন আর্থিক ক্ষতিপূরণ। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল স্বাস্থ্যবিমা। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবশ্য এই অতিমারী ছাড়াও মানুষের সাধারণ রোগভোগও বাড়ছে। আর চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ সামলাতে হলে স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া গতি নেই। তবে স্বাস্থ্যবিমা করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

এখন বাজারে কিছু প্রতারক বিমাসংস্থাও গজিয়ে উঠেছে। তারা আপনার অর্থ আত্মসাৎ করতে পারে কিংবা আপনাকে ঠিকমতো পরিষেবার ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত করতে পারে। অতএব, জেনেবুঝে এবং রেপুটেশন-এর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তবেই স্বাস্থ্যবিমা করা উচিত। আর স্বাস্থ্যবিমা করার আগে দেখে নেবেন, ওই বিমাসংস্থার চুক্তির তালিকায় ভালো হাসপাতাল এবং ক্যাশলেস-এর ব্যবস্থা আছে কিনা।

বযস বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রদেয় অর্থের পরিমাণও বেড়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে এক বিমাসংস্থার প্রতিনিধি সঞ্জয সরকার জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা করার থেকে পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমা করা বেশি লাভদায়ক। কারণ, একজনের জন্য যে-টাকা ব্যয় করতে হবে স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে, তুলনায় কম খরচ পড়বে পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমায়। তবে,স্বাস্থ্যবিমার বাৎসরিক পরিষেবার জন্য বরাদ্দ মোট অর্থের পরিমাণ এবং বিমাকারীর বয়সের উপর নির্ভর করবে প্রিমিয়াম-এর অঙ্ক।

ধরুন, ৩৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সের কোনও ব্যক্তি যদি বছরে এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা করেন, তাহলে তাকে এককালীন দিতে হবে ৪,৬০০ টাকার মতো। আবার তিনি যদি বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্যবিমা করেন, তাহলে তাকে দিতে হবে প্রায ৬,৫০০ টাকার মতো। কিন্তু যদি ৩৫-৪৫ বছর বয়সের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর বয়স হয় এবং তাদের ১২ বছর বয়সের সন্তানের একসঙ্গে পারিবারিক স্বাস্থ্যবিমা করতে চান, তাহলে বছরে এক লক্ষ টাকার বিমার জন্য ব্যয় করতে হবে প্রায় ৮০০০ টাকা এবং পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার জন্য ব্যয় করতে হবে প্রায় ১২,০০০ টাকা।

অবশ্য স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রদেয় অর্থের পরিমাণ কমবেশি হবে সংস্থাভেদে। প্রত্যেকেরই এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা পরিষেবার সুবিধা রয়েছে, অর্থাৎ কে সারা দেশে কতগুলি হাসাপাতালে ক্যাশলেস পরিষেবা দিতে পারবেন, তার উপর নির্ভর করে বরাদ্দ থাকে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ। তাই স্বাস্থ্যবিমা করার আগে, যাচাই করে নেওযা আবশ্যক।

——-

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব