সকাল-সন্ধের টিফিন

মুখরোচক খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয় অনেকের কিন্তু তারা জানেন না কীভাবে কী বানাবেন। তাই এবার আমরা নতুন কয়েকটি হালকা খাবার বানানোর উপকরণ এবং পদ্ধতি তুলে ধরছি।

ভেজ-স্পেশাল ইডলি

উপকরণ: ১ কাপ সুজি, ১ কাপ দই, ১ বড়ো চামচ পেঁয়াজ কুচি, ১ বড়ো চামচ টম্যাটো কুচি, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা কুচি, হাফ ছোটো চামচ কাঁচালংকার কুচি, ১ বড়ো চামচ ফ্রুট স্যালাড এবং নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ফ্রুট স্যালাড বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত সামগ্রী ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর সামান্য জল মিশিয়ে গাঢ় লেই বানিয়ে নিন। এবার ওই লেইয়ের মধ্যে ফ্রুট স্যালাড মেশান। সবশেষে, ইডলি মেকারে ওই মিশ্রণ ঢেলে মাইক্রো আভেনে বেক করুন ৫ মিনিট। ব্যস, তৈরি হয়ে যাবে স্পেশাল ভেজ ইডলি। এবার পরিবেশন করুন গরম গরম।

ওনিয়ন প্যান কেক

উপকরণ: ১ কাপ সুজি, হাফ কাপ দই, হাফ কাপ স্লাইস পেঁয়াজ, ১ ছোটো চামচ লাললংকার কুচি, ১ চামচ ফ্রুট স্যালাড, পরিমাণ মতো সাদা তেল এবং স্বাদমতো নুন।

প্রণালী: সুজি এবং দই মিশিয়ে নিন প্রথমে। ওর মধ্যে লাললংকার কুচি এবং সামান্য জল মিশিয়ে গাঢ় লেই তৈরি করুন। এবার ওই লেইয়ের মধ্যে ফ্রুট স্যালাড মিশিয়ে রাখুন। একটা ননস্টিক ফ্রাইং প্যান-এ অল্প সাদা তেল দিয়ে গরম করুন। এরপর, ফ্রাইং প্যান-এর গরম তেলে অল্প অল্প লেই ঢেলে ছড়িয়ে দিন এবং উপরিভাগে স্লাইস পেঁয়াজ দিয়ে চেপে উলটিয়ে পালটিয়ে ভাজুন হালকা আঁচে। একটু বাদামি বর্ণ ধারণ করলে ওনিয়ন কেক নামিয়ে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রাইস ললিপপ

উপকরণ: ২ কাপ ভেজানো চালের পেস্ট, ২ টো সেদ্ধ আলু, ২ বড়ো চামচ ক্যাপসিকাম কুচি, ২ বড়ো চামচ টম্যাটো কুচি, ২ চামচ ধনেপাতা কুচি, হাফ চামচ লাললংকার গুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, হাফ ছোটো চামচ আমচুর, হাফ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১ ছোটো চামচ চাটমশালা, পরিমাণ মতো সাদা তেল, ললিপপ স্টিক্স এবং নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: তেল এবং ললিপপ স্টিক্স বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত উপকরণ সামান্য জল দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন প্রথমে। এরপর ফ্রাইং প্যান-এ সামান্য সাদা তেল ছড়িয়ে গরম করুন। এবার পুরো লেইটাকে দু’ভাগে ভাগ করে নিয়ে, গরম তেলের উপর ঢেলে ছড়িয়ে, হালকা আঁচে উলটে-পালটে ভাজুন। বাদামি বর্ণ ধারণ করার পর পিস পিস করে কেটে নামিয়ে নিন এবং ললিপপ স্টিক ঢুকিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন টম্যাটো সস-এর সঙ্গে।

গারদ (পর্ব-০২)

এমনিতে ঘরটাতে একটা তক্তা ও আরেক পাশে একটা কম্পিউটার ছাড়া আর কিছু নেই। গৌতম তক্তাতে বসতে একটু ইতস্তত করল। ভদ্রলোক বলে উঠলেন ‘বসুন কোনও ব্যাপার না।’ তারপর জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার কলিগের সঙ্গে আগে কেউ দেখা করতে এসেছিল কি, জানেন কিছু?’

—কে আসবে? বাড়িতে বৃদ্ধা মা ছাড়া আর কেউ নেই। মায়েরও শুনেছি হাঁটুর অপারেশন হয়েছে।

—তাহলে আপনাকে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবেন, ওনার বাড়ি থেকে আপনাকেই দেখাশোনা করবার দায়িত্ব দিয়েছে। আসলে রক্তের সম্পর্ক ছাড়া অন্য কাউকে জেলে দেখা করবার অনুমতি দেয় না। আপনি এই স্লিপটার একটা ফটো তুলে রেখে দেবেন। সব সময় তো আমি এখানে থাকব না। অন্য কেউ থাকলে এই স্লিপের ছবিটা দেখিয়ে বলতে পারবেন।’ ভদ্রলোক একটা স্লিপ লিখতে লিখতেই কথাগুলো বলছিলেন। লেখা থামিয়ে গৌতমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ওনার আধার বা ভোটার কার্ড কিছু আছে?’

—না, আমি তো খবর পেয়েই স্কুল থেকে সোজা চলে এলাম। ইনফ্যাক্ট আমি এখনও পর্যন্ত ওর বাড়িতে যাইনি। ভদ্রলোক আর কোনও কথা বাড়ালেন না। স্লিপটা গৌতমের হাতে দেবার সময় বললেন, ‘কী অদ্ভুত ব্যাপার বলুন, বাড়িতে কেউ নেই আর এদিকে…’

—কেউ নেই তা নয়, নিজের দাদা আছে, সেন্ট্রাল গভর্নমেন্টের একটা অর্গানাইজেশনে কাজ করেন।

—তাহলে…

এবারের গ্রীষ্মের ছুটিটা কেমন যেন হঠাৎ করে পড়ে গেল। স্কুলের কিছু কাগজপত্রে সই করবার প্রয়োজন থাকায় হেডস্যার অরুণবাবু একদিন সকালে সবাইকে একটা জায়গায় ডেকে পাঠালেন। সেখানেই তাঁর মুখে গৌতম প্রথম সঞ্জীবের অ্যারেস্ট হবার ঘটনাটা শোনে। গৌতমের সঙ্গে উপস্থিত বাকি শিক্ষক বা শিক্ষিকারাও অবাক হয়ে যান। পুলিশ নাকি রাত দুটোর সময় সঞ্জীবের বাড়ির প্রাচীর ডিঙিয়ে ঘরে ঢুকে তাকে অ্যারেস্ট করে।

সঞ্জীবের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে যাবার পর তার দাদা নিজের শালির সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে দেয়। বিয়ের পরে জানতে পারে দাদার শালির মাথার কিছু গোলমাল আছে। দাদা ও বউদি সব কিছু জেনেও বিষয়টা লুকিয়ে যায়। বিয়ের পর জানাজানি হতেই অশান্তি আরম্ভ হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টা কোর্ট-কাছারি পর্যন্ত চলে যায়।

শোনা যায় সঞ্জীবের বাবা তার দাদার চাকরির সময় বেশ কিছু টাকা ঘুষ হিসাবে দিয়েছিলেন। সঞ্জীবকে দেন তাদের বসত বাড়িটা। কিন্তু দ্বিতীয় বিয়েটাতেও অশান্তি হলে সঞ্জীবের দাদা সেই বাড়িরও ভাগ চায়। ইতিমধ্যে আরও কিছু ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়, সঞ্জীবের এই বউও আত্মহত্যা করে। বউয়ের ভাই, যে-আবার সঞ্জীবদের দুই ভাইয়েরই শালা, সঞ্জীবের নামে পুলিশে অভিযোগ করেন। তার বোন মারা যাবার সময় সঞ্জীবের নামেই দোষ দিয়ে যায়। যাকে কোর্টের ভাষাতে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি বা ডাইং ডিক্লারেশন বলে।

পুলিশ রাত দুটোর সময় সঞ্জীবের বাড়ির প্রাচীর ডিঙিয়ে ভিতরে ঢুকে তাকে ধরে নিয়ে আসে। প্রথমে বেশ কয়েকদিন পুলিশ কাস্টডিতে রেখে তারপর আদালতে চালান করে। আদালত জামিন দেয়নি, তাই জেল হেপাজত।

কথাগুলো হেডস্যার অরুণবাবু প্রায় একশ্বাসে বলেন। শোনবার পরে গৌতমদের কেউই কোনও উত্তর দিতে পারেনি। এমনিতে সঞ্জীবের সঙ্গে গৌতমের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। কোনওদিন কোনওরকম ঝগড়া ঝামেলা না হলেও বিভিন্ন কারণে সঞ্জীবকে তার পছন্দ ছিল না। পরে অবশ্য নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছে, ‘সব মানুষ সবাইকে পছন্দ করে না, করতে পারে না। আমাকেও অনেকে পছন্দ করে না।’ কিন্তু স্বপ্নেও কোনওদিন সঞ্জীবের কোনও ক্ষতি চায়নি। এমনকী সেদিন হেডস্যারের মুখে কথাগুলো শুনে সঞ্জীব ও তার মায়ের জন্যে খুব খারাপ লেগেছে।

একভাবে কথাগুলো শুনে সেই ঘরে থাকা ভদ্রলোকটিও বেশ অবাক হয়ে গৌতমের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, ‘এমনও হয় বলুন, নিজের মায়ের পেটের ভাই…”। তারপর একটা বড়ো শ্বাস ছেড়ে কিছু সময়ের জন্যে চুপ করে যান। কিছু পরে বলেন, “আপনি দেখা করে আসুন। আমাকে আবার হাসপাতালে যেতে হবে, এক্ষুণি গাড়ি আসবে। আসলে স্টাফ কম থাকলে যা হয়। আপনি কিছু খাবারও নিয়ে যেতে পারেন।’

—না কিছু আনা হয়নি। আসলে এখানে বাইরে থেকে খাবার দিতে দেয় কিনা সেটাও জানতাম না। কোনওদিন তো আসতে হয়নি।

গৌতম আর কথা না বাড়িয়ে স্লিপটা নিয়ে জেলখানার বড়ো গেটটার সামনে যায়। স্লিপটা জমা দেয়। একজন রোগা মতোন ভদ্রলোক স্লিপটা হাতে নিয়েই বলে উঠলেন, “এবার সেই একটার পর দেখা হবে, এখন লাঞ্চ চলছে।’

গৌতম ঘড়ি দেখে। বারোটা পনেরো বাজে, তার মানে এখনও প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করবার পরে দেখা করবার সুযোগ পাবে। গৌতমের বাড়িও এখান থেকে বেশ খানিকটা দূরে। স্কুলের পোশাকটা ছেড়ে আসবে তারও কোনও উপায় নেই। সংশোধনাগারের ভিতরে সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। একটা বড়ো লোহার গেটের এদিকে সবাই অপেক্ষা করে। কোথাও একবার শুনেছিল কিছু কিছু সংশোধানাগারে বড়ো বাগান থাকে। ভিতরের মানুষজন সেই বাগান দেখাশোনা করে। এখানে অবশ্য গৌতমের কিছু চোখে পড়েনি। কিছু সময় এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল। কয়েকটা নোটিশ টাঙানো আছে। জামিনের পর কীভাবে ছাড়ানো যাবে, কী কী কাগজ জমা করতে হবে তার একটা তালিকা দেখল।

গেটের এদিকে বসবার কোনও ব্যবস্থা নেই। যারা দেখা করতে এসেছেন তাদের অনেকেই মাটিতে বসে আছেন। গৌতম তাদের সবাইকে একবার দেখে নিল। কয়েকজনের হাতে বড়ো ব্যাগ আছে। সেই বয়স্ক ভদ্রলোক ও তার সঙ্গে আসা বাচ্চাগুলোর দিকেও চোখ গেল। একজন মাটিতেই বসে নিজের মনে খেলে যাচ্ছে, আরেকজন তার মায়ের কোলে আছে। এরা নির্বিকার থাকলেও বড়ো দু’জনের চোখমুখ এক্কেবারে অন্ধকার। তাদেরকে খুব অসহায় লাগল। বয়স্ক ভদ্রলোকের ব্যাগ থেকে একটা মেরি বিস্কুটের প্যাকেট উঁকি দিচ্ছে। তার বয়সি অথবা একটু ছোটো আরও দু’জনকে দেখল। তাদের একজনের হাতেও একটা থলি আছে।

(ক্রমশ…)

গারদ (পর্ব-০১)

মন্দিরের কাছে এসে গৌতম বাইক থেকে নেমে চারদিকটা একবার দেখে নিল। সামনেই সেই বিরাট লোহার দরজা। চারদিকটা একটা একমানুষ অবধি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। ভিতরে কয়েকটা বাড়ি, সম্ভবত এখানকার পুলিশ কর্মীদের থাকবার জায়গা। জামাকাপড় শুকোতে দেওয়া রয়েছে। দরজাটা কি এমনি সময় খোলা থাকে? রাতে কি বন্ধ করে দেয়? সম্ভবত করে। তবে রাতের দিকে এই দিকটাতে কখনও আসেনি, বলা ভালো আসার প্রয়োজন হয়নি।

লোহার দরজাটার ওদিকে একটা ছোটো গুমটি আছে। কয়েকজন তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। গৌতম তাদেরকেও একবার দেখে নিল। চারজন আছেন— একজন মাঝবয়সি ভদ্রলোক, একজন মহিলা আর দুটো বাচ্চা, একটা ছেলে ও একটা মেয়ে। মেয়েটা সেই ভদ্রমহিলার কোলে, বয়স খুব বেশি হলে দেড় থেকে দুই বছর হবে। একটু আগেই খুব কেঁদেছে। তার জেরটা তখনও ছিল। একটা ঘ্যানঘ্যানে ভাব বাচ্চা মেয়েটার মুখে ফুটে উঠেছে। তারা সবাই একটা ছোটোঘরের দিকে গেল।

গৌতম নিজের বাইকটা ঠেলে নিয়ে এসে দোকানের কাছাকাছি একটা গাছের নীচে দাঁড় করাল। হেলমেটটা খুলে সামনে তাকাতে আরেকটা বড়ো প্রাচীরের দিকে চোখ পড়ল। ওটাই সেই সংশোধনাগার। বাইকটাতে চাবি দিয়ে দোকানটার সামনে এসে দাঁড়াল। খুব আস্তে জিজ্ঞেস করল, “দাদা, বলছিলাম, ভিতরে যারা আছেন, তাদের সঙ্গে দেখা করবার কোনও নিয়ম আছে কিনা কিছু বলতে পারবেন?”

একজন সেই দোকানের ভিতরে কিছু একটা কাজ করছিলেন। গৌতমের কথা শুনে খুব অদ্ভুত ভাবে উত্তর দিলেন,‘পারব, কিন্তু বলব না, কারণ ওটা আমার কাজ নয়। যদি বিড়ি, খৈনি বা অন্য কিছু কেনেন তাহলে বলবার চেষ্টা করতে পারি।”

গৌতম আর কথা বাড়াল না। সে নিজে বিড়ি বা খৈনির কোনওটাই খায় না। তাছাড়া এই সব ট্যারা কথাবার্তার লোকেদের সঙ্গে বেশি কথা বলতে নেই, মাথা গরম হয়ে যেতে পারে। বাইকটার দিকে আরেকবার তাকিয়ে সেই বড়ো প্রাচীরের দিকে কয়েকটা পা এগোতেই গুমটির ভদ্রলোক বলে উঠলেন, ‘সামনের ঘরটাতে চলে যান।’

সেই চারজন ততক্ষণে ঘরটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। গৌতম ঘরটার কাছে আসতেই ভিতর থেকে শুনতে পেল, ‘ও বাবা, আধার কার্ড আনেননি ….

—না মানে, হঠাৎ করে…।

—কী করেছিল?

—ওই মানে তাসখেলার ওখানে…

—না না, শুধু তাস খেলা নয়, আরও কিছু আছে। আপনারা বলছেন না অথবা জানেন না।

গৌতম পাশে দাঁড়িয়ে কথাগুলো শুনছিল। ঘরের ভিতরে সেই ভদ্রলোক ততক্ষণে কিছু একটা লিখতে লিখতেই কথাগুলো বলছিলেন। গৌতম গলাটা একবার ঝেড়ে নিজের উপস্থিতি বোঝাল। সেই ভদ্রলোক মাথা তুলে গৌতমের দিকে একবার তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার?”

গৌতম একটু আমতা আমতা করে উত্তর দিল, “আমি একজনের সঙ্গে দেখা করবার জন্যে এসেছি। আমার কলিগ, হয়তো এই জেলেই আছেন। কিন্তু কীভাবে দেখা হতে পারে…’

—আপনার কলিগ, কোথায় কাজ করেন?

—স্কুলে।

—আপনি টিচার, কোন স্কুলের?

গৌতম তার নিজের স্কুলের নামটা বলল।

ভদ্রলোক কিছু একটা লিখতে লিখতেই কথাগুলো বলছিলেন। গৌতমের পাশেই সেই চারজন ছিলেন। তাদের সঙ্গের দুটো বাচ্চার মধ্যে একটা খুব কাঁদছিল। আরেকজনের হাতে একটা চকোলেট ছিল। ঘরের ভিতর থেকে সেই ভদ্রলোক ওনাদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, ‘সামনের সপ্তাহে কেউ এলে তার হাত দিয়ে ভোটার বা আধার কার্ড কিছু একটা পাঠিয়ে দেবেন।”

—আধারকার্ড তো পুলিশের কাছে। বয়স্ক ভদ্রলোক উত্তর দিলেন। মানে ছেলের মানিব্যাগে থাকে। পুলিশ, মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন— সব কিছু নিয়ে রেখেছে।

ঘরের ভিতরের ভদ্রলোক এবার গৌতমের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন, “আপনি ভিতরে এসে বসুন। আমি একটা কাজ সেরে আপনাকে স্লিপ বানিয়ে দিচ্ছি। ও, তার আগে গেটে গিয়ে একটু কনফার্ম করে নিন আপনার কলিগ এখানেই আছেন কিনা।”

গৌতম ঘাড় নেড়ে ভিতরের বড়ো প্রাচীর আর তার সামনের বড়ো গেটটার দিকে পা বাড়াল। সামনেই বিরাট ফলকে লেখা আছে, ‘জেলা সংশোধনাগার।”

নীচে একটা পাথরের ফলকে উদ্‌বোধনের তারিখ সাল ও সেই সময়কার মন্ত্রীর নাম লেখা আছে। কিছু জায়গা অস্পষ্টও হয়ে গেছে। প্রাচীরের একদিকের দেয়ালে কীভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভিতরের তথাকথিত বন্দিদের সঙ্গে দেখা করা যায় তার একটা বিরবণ দেওয়া আছে। লোহার বড়ো দরজা, একটা নয় দুটো। সামনের বড়ো দরজাটার নীচে একটা ছোটো দরজা, কোনওক্রমে একজন মানুষ ভিতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে। ওদিকে দু’জন পুলিশকর্মী বসে আছেন। আরেকজন রোগা মতোন ভদ্রলোক সাধারণ পোশাকে ভিতরে ঘোরাঘুরি করছেন।

গৌতম ছোটো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ‘শুনছেন…?’ বলতেই সেই রোগা ভদ্রলোক এগিয়ে এসে উত্তর দিলেন, ‘বলিয়ে…।’ গৌতম বাংলাতে সঞ্জীবের কথা জিজ্ঞেস করল। উত্তর শুনে নিশ্চিন্ত হল। ততক্ষণে বড়ো লোহার গেটটার কাছে বেশ কয়েকজন জড়ো হয়ে গেছেন। সেই চারজনকেও দেখতে পেল।

গৌতমের চোখে চোখ পড়তেই বয়স্ক ভদ্রলোক বলে উঠলেন, “এখানেই আছে?’

গৌতম মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ জানাল।

—তাড়াতাড়ি স্লিপটা বানিয়ে নিন। জমা দিলে পরপর দেখা করতে দেয়। বয়স্ক ভদ্রলোক আবার বললেন। গৌতম সম্মতি জানাল। তারপর তাড়াতাড়ি সেই ছোটো ঘরটার সামনে যেতেই ভিতরের ভদ্রলোক নিজের থেকেই জিজ্ঞেস করলেন, “আপনার কলিগ এখানেই আছেন তো?’

গৌতম সম্মতি জানাতেই ভদ্রলোক আবার ঘরের ভিতর ডাকলেন।

(ক্রমশ…)

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নতুন রূপে দর্শকচিত্ত জয় করবেন ঋতুপর্ণা

অভিনয়, প্রযোজনা, আরও নানা রকমের দায়বদ্ধতা–সব কিছু হাসি মুখে সামলে নেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। বলা যায়, এখনও টলিউডের অন্যতম ব্যস্ততম নায়িকা ‘ম্যাডাম সেনগুপ্ত’। কিছুদিন আগেই তাঁর অভিনয়ে সমৃদ্ধ হয়ে মুক্তি পেয়েছে ‘গুডবাই মাউন্টেন’ ছবিটি। সেই ছবির প্রচার নিয়ে খুবই ব্যস্ত এই নায়িকা। ঋতুপর্ণা অভিনীত ‘বেলা’ ছবিটিও মুক্তি পেতে চলেছে। সেই ছবির প্রচার নিয়েও ব্যস্ততা তুঙ্গে। এসবের মাঝে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এক নতুন রূপে বাংলার দর্শক ঋতুপর্ণা-কে দেখতে পাবেন। এবার একেবারে অন্যরকম ভূমিকায় দেখা যাবে এই টলিউড-কুইনকে।

সকলেই প্রায় আমরা জানি ঋতুপর্ণার প্রযোজনা সংস্থা ‘ভাবনা আজ ও কাল’।  এই সংস্থা যে শুধু ছবি প্রযোজনা করে তাই নয়, অনেক রকম অনুষ্ঠানের নিবেদক কিংবা প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে। এবার  স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঋতুপর্ণা এবং ওঁর ‘ভাবনা আজ ও কাল’ এক অভিনব নৃত্যানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। এর আগেও বেশ কয়েকটা নৃত্যানুষ্ঠানে ঋতুপর্ণাকে দেখা গেছে ঠিকই, তবে এবারের প্রয়াস একেবারেই আলাদা। রবীন্দ্রনৃত্য এবং ধ্রুপদীনৃত্যের মিশেল ফুটে উঠবে এবারের পরিবেশনায়। আর এই অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার লক্ষ্যে প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। ১৪ আগস্ট, কলামন্দিরে সন্ধ্যা ৬ টায় মঞ্চস্থ হতে চলেছ এই অনুষ্ঠান। ‘অ্যান ইভিনিং অফ রিদিম অ্যান্ড রাগা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানেই ঋতুপর্ণা অভিনব আঙ্গিকে পরিবেশন করবেন রবীন্দ্র এবং ধ্রুপদী নৃত্য। ঋতুপর্ণার কথায়, ‘এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারব, এটা ভাবতেও খুব ভালো লাগছে। তাবড় তাবড় ধ্রুপদী শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন। ছন্দ এবং ধ্রুপদী রাগকে মাথায় রেখে, নৃত্য-পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি দর্শকদের ভালো লাগবে।’

ঋতুপর্ণা-র নৃত্যানুষ্ঠান ছাড়াও, এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ—সেতারবাদক উস্তাদ শাহিদ পারভেজ এবং  তবলাবাদক পন্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের যুগল পরিবেশনা। ধ্রুপদীসংগীত দুনিয়ায় এই দুই দিকপালের বাজনা শোনার এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকতে চলেছে কলকাতা। অনুষ্ঠানের অন্যতম চমক–সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের ধ্রুপদী সংগীত পরিবেশন। তাঁকে তবলায় সঙ্গত করবেন ডি সুব্রত। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাগ এবং ছন্দের মিশেলে নিঃসন্দেহে এক অনন্য সন্ধ্যা উপহার দিতে চলেছে ঋতুপর্ণা-র ‘ভাবনা আজ ও কাল’। ‘অ্যান ইভিনিং অফ রিদিম অ্যান্ড রাগা’ শীর্ষক এমন মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আদনাই এবং সারং।

নতুন মায়েদের চাই পর্যাপ্ত পুষ্টি

শিশু যদি মায়ের বুকের দুধ পান করে, তাহলে শিশু এবং মা উভয়েই নির্দিষ্ট কিছু রোগ থেকে রক্ষা পাবেন। অতএব, জন্মাবার পর প্রথম ছয় মাস শিশুটিকে কেবল মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত। এই সময় সমস্ত পুষ্টির জন্য শিশুটি মায়ের উপর নির্ভর করে। তাই, মা যখন তাঁর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াবেন, সেই সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি যা খাবেন তা তাঁর স্তনের দুধের শক্তি, প্রোটিন, পুষ্টি এবং ভিটামিন সামগ্রী নির্ধারণ করবে। মনে রাখবেন, এই সময় পুষ্টির চাহিদা বেশি থাকে এবং তা পূরণ না করা হলে মা এবং তাঁর শিশু উভয়েরই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, মাতৃদুগ্ধের কোনও বিকল্প নেই। স্তন্যদানকারী মায়েদের তাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে, স্তনের দুধের গুণমান ও পরিমাণ বজায় রাখতে এবং বুকের দুধ উৎপাদন করার জন্য শক্তি সরবরাহ করতে পর্যাপ্ত পুষ্টির প্রয়োজন। স্তন্যদানের সময় খাবার গ্রহণের পরিমাণ এবং ফ্রিকোয়েন্সি অবশ্যই বাড়াতে হবে। প্রথম মাসে অতিরিক্ত ৫৫০ কিলো ক্যালোরি শক্তির প্রয়োজন হয় এবং স্তন্যদানের পরবর্তী ৬ মাসে অতিরিক্ত ৪০০ কিলো ক্যালোরির প্রয়োজন হয়। ভাত, রুটি, ঘি প্রভৃতি খাওয়ার মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে পুষ্টির ঘাটতি এবং এগুলি পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে। প্রথম মাসের পর পরবর্তী ৬ মাস প্রতিদিন ৫-৮ গ্রাম প্রোটিন বাড়াতে হবে। এসব পুষ্টি জোগান দেওয়া যেতে পারে ডাল, বাদাম, দুধ, মাছ, মাংস ডিম প্রভৃতির মাধ্যমে। দুধ খাওয়ানোর সময় প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন। দুধ জৈবিক ভাবে উপলব্ধ ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস। এরিথ্রপয়েসিসের উচ্চ চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন আয়রনের। সবুজ শাকসবজি এবং তাজা ফলের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে ভিটামিন এ এবং সি। দুধ খাওয়ানো মায়েদের খেতে হবে দই। কারণ, দই থেকে ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়।

ভারসাম্যযুক্ত খাদ্য

যে-সব মায়েরা বুকের দুধ পান করান তাদের সন্তানকে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাল্যান্স ডায়েট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিদিন আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়। ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ২৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ডি-যুক্ত ক্যালসিয়াম ট্যাবলেটগুলি ছয় মাসের পরে দিনে দু’বার (মোট ১ গ্রাম ক্যালসিয়াম / দিন) অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, কফি এবং চা জাতীয় পানীয়গুলির অতিরিক্ত সেবনের ফলে, শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। একই ভাবে ধূমপান এবং মদ্যপানও এড়ানো উচিত। কারণ, এগুলিও একই ভাবে শরীরের ক্ষতি করে। মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে এগুলি শিশুর শরীরে গেলে, ওদের শরীরে অস্বস্তি, দুর্বলতা, ঘুমের ঘাটতি প্রভৃতি সমস্যা হতে পারে।

শিশুকে বুকের দুধ পান করানোর সময় সামুদ্রিক খাবার সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত মায়েদের। কারণ, এর থেকে ভিটামিন বি-১২ পাওয়া যায়। আর যদি ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি হয়, তাহলে মা এবং শিশুর স্নায়বিক ক্ষতি হতে পারে। তাই, আমেরিকান ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশন পরামর্শ দিয়েছে, গর্ভাবস্থাকালীন এবং দুগ্ধদানের সময় ভিটামিন বি-১২ গ্রহণ করতে হবে মাকে।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শক্তি এবং পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা

স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য প্রথম ছয় মাসের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ কিলো ক্যালোরি এবং পরবর্তী ছয় মাসে ৪০০ কিলো ক্যালোরি প্রয়োজন। প্রতিদিন ৬-৮টি রুটি খেতে হবে এর জন্য। মায়ের বুকের দুধের ১০০ মিলি ৭০ কিলো ক্যালোরি শক্তি দেয় শিশুকে। প্রসবের পরে প্রথম ছয় মাসের মধ্যে, প্রতিদিন ৭৫০ মিলিলিটার বুকের দুধ উৎপাদিত হয়।

মায়ের শারীরিক শক্তি কম থাকলে, তা প্রোটিনের মাধ্যমে পূরণ হবে। দুগ্ধদানের সময় অতিরিক্ত প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা আছে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে এই ঘাটতি। যেমন, এর জন্য একটি ডিম বা ২৫ গ্রাম পনির রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়।

সতর্কতা

  • চা-কফি পান করা কমান
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাবেন না
  • ধূমপান এবং মদ্যপান বন্ধ করুন
  • ডায়েট বা ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ওজন হ্রাস করার প্রলোভন প্রতিরোধ করুন।

জরুরি বিষয়

  • প্রতিদিন উপযুক্ত পরমাণে জল, দুধ এবং ফলের রস পান করুন
  • বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শারীরিক শক্তির ঘাটতি পূরণ করার জন্য আপনাকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খেতে হবে পুষ্টিকর খাবার

• প্রতিদিন প্রচুর তাজা ফলমূল, শাকসবজি, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ, মাংস, বাদাম, মটরশুঁটি এবং মুসুর ডাল খান উপযুক্ত পরিমাণে।

ইলিশ মাছ রান্না করে জনচিত্ত জয় করে নিলেন সৌরভ এবং আবির

অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে ক্রিকেট তারকা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইলিশ মাছ রান্না করে সবার মন জয় করে নিলেন ১০ আগস্ট। কলকাতার এক বিনোদন পার্ক-এ আয়োজিত লাইভ ইলিশ মাছ রান্নায় অংশ নিয়ে চমকে দিলেন এই দুই তারকা। আসলে, এই দুই তারকা লঞ্চ করলেন ‘ফরচুন ইলিশ’ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় সংস্করণ।

প্রসঙ্গত সৌরভ জানিয়েছেন, ‘ইলিশ শুধু খাবার নয় — এটা এক আবেগ, এক উৎসব আর প্রতিটি বাঙালি পরিবারের সম্পর্কের স্মৃতি। এই ঐতিহ্যকে এমন আন্তরিক এবং খাঁটি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। বাঙালিদের রান্নাঘরে সরষের তেলের গন্ধ মানেই আনন্দ আর নস্টালজিয়ার সুগন্ধ।’

ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে যুক্ত হওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আবির চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘বাঙালি হিসেবে ইলিশ আর সরষের তেল শুধু উপকরণ নয় — আমাদের পরিচয়েরই এক অংশ। ছোটোবেলায় মা আর ঠাকুমার হাতের সরষের তেলে রান্না ইলিশ খেয়ে বড়ো হয়েছি, তাই ঐতিহ্যের প্রতীক এমন একটি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানেই ঘরে ফেরার মতো অনুভূতি।’

এডব্লিউএল এগ্রি বিজনেস লিমিটেড-এর এমডি ও সিইও অংশু মল্লিক প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘ইলিশের মরসুম বাংলার মানুষের মধ্যে আনন্দ, নস্টালজিয়া এবং গভীর রন্ধন-সম্পর্ক, গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই প্রচারাভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য, যা গ্রাহকদের সঙ্গে সত্যিকারের সংযোগ গড়ে তোলে। ঐতিহ্য ও অখণ্ডতার প্রতীক হিসাবে আমাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন, তাই আমরা গর্বিত। আর এই বছর আমরা অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়-কে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এই মেলবন্ধন আমাদের চেতনা এবং বাংলার ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে আশা করা যায়।’

মরসুমের আমেজকে জীবন্ত করে তুলতে, এই অনুষ্ঠানকে করে তোলা হয় জমাটি।  আমজনতা  স্থানীয় পরিবেশে, একেবারে আপন করে উপভোগ করেছেন এই অনুষ্ঠান। ক্যাম্পেইনের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে কলকাতার রাস্তাতেও, যেখানে শহরের বাস ও ট্রাম সেজে উঠেছিল ইলিশের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলা রঙিন ভিজ্যুয়ালে। উৎসবে বাড়তি রং  মেলাতে, ব্র্যান্ডেড ক্যান্টার ঘুরে বেড়ায় শহরের জনপ্রিয় সব প্রান্তে, সঙ্গে ছিল স্যাম্পলিং সেশন ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ অভিজ্ঞতা, যা সরাসরি মানুষের কাছে সরষের তেলের নস্টালজিক গন্ধ আর ঐতিহ্যবাহী রেসিপির স্বাদ পৌঁছে দেয়।  আসলে, ব্র্যান্ডের সাফল্যের ২৫ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যেই এই আয়োজন। এই সরষে-ইলিশ ক্যাম্পেইন, প্রতিটি বাঙালি রান্নাঘরের জন্য এক অবিস্মরণীয় উৎসব হয়ে উঠেছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আম

আম খাওয়ার আশ্চর্যজনক বিপাকীয় উপকার পাওয়া গেছে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার প্রমাণও পাওয়া গেছে– সাম্প্রতিক দুটি গবেষণায় পর এমনটাই জানিয়েছেন  গবেষকরা।

ইউরোপীয় জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন (প্রকাশনার জন্য গৃহীত) এবং জার্নাল অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস-এ ( অনলাইন ৬ আগস্ট, ‘২৫-এ ) প্রকাশিত হয়েছে, ডায়েটে আম অন্তর্ভুক্ত করার প্রমাণ-ভিত্তিক উপকার পাওয়া গেছে টাইপ-টু ডায়াবেটিস-এর ক্ষেত্রে।

নয়াদিল্লির ফোর্টিস C-DOC হাসপাতাল ফর ডায়াবেটিস অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডায়াবেটিস, ওবেসিটি অ্যান্ড কোলেস্টেরল ফাউন্ডেশন (এন-ডক) দ্বারা পরিচালিত সাম্প্রতিক ক্লিনিকাল গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাদ্য-তালিকার আম রাখলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধান গবেষক এবং ফোর্টিস সি-ডক হসপিটাল ফর ডায়াবেটিস অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস-এর ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর ডা. অনুপ মিশ্র এবং গবেষণার অন্যতম লেখিকা ডা. সুগন্ধা কেহার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিস্তারিত।

ডা. অনুপ মিশ্র জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো দুটি গবেষণায় প্রমাণ পেয়েছি যে, সকালের খাবারে কার্বোহাইড্রেট (রুটি) এর পরিবর্তে অল্প পরিমাণে আম খেলে উপকার পাওয়া যাচ্ছে। যা এর ব্যবহারের প্রতিকূল বিপাকীয় প্রভাব সম্পর্কে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। তবে, খাদ্য-তালিকায় আম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত পুষ্টিবিদদের তত্ত্বাবধানে এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে,  অতিরিক্ত নয়।’

ডা. সুগন্ধা কেহর জানিয়েছেন, ‘আম একটি অত্যন্ত প্রিয় ফল এবং আম নিয়ে করা গবেষণাগুলি দেখায় যে, আম খাওয়া রক্তের গ্লুকোজের জন্য ক্ষতিকারক নয়, এমনকি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারীও হতে পারে।’

স্টাডি ১: ইউরোপীয় জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন– স্টাডি উইথ কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরিং অ্যান্ড ওরাল টলারেন্স টেস্ট (প্রকাশনার জন্য গৃহীত)—

গবেষণার ফলাফল:

• ডায়াবেটিস এবং অ-ডায়াবেটিস উভয় ক্ষেত্রেই রুটির মতোই আম একই রকম বা কম (অ-উল্লেখযোগ্য) গ্লাইসেমিক (রক্তে শর্করার) প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

• আম খাওয়ার পরে (রুটির তুলনায়) গ্লাইসেমিক প্রতিক্রিয়া (MAGE, ক্ষতিকারক গ্লুকোজ পরিবর্তনশীলতার একটি পরিমাপ) উল্লেখযোগ্য ভাবে কম ছিল, যা বৃহত্তর গ্লাইসেমিক স্থিতিশীলতা (একটি উপকারী প্রতিক্রিয়া) নির্দেশ করে।

পদ্ধতি:

EJCN-এ প্রকাশিত এই গবেষণায়, গবেষকরা ৯৫ জন অংশগ্রহণকারীর (৪৫ জন T2D এবং ৫০ জন অ-ডায়াবেটিস ব্যাক্তি) মধ্যে পরীক্ষা (২৫০ গ্রাম আম বা অনুরূপ ক্যালোরির রুটি খাওয়ার পরে দু’ ঘন্টার পরীক্ষা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা সহ) এবং ক্রমাগত গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ ( তিন দিনের একটানা সেন্সর ভিত্তিক সুগার অবজার্ভেশন) করে মূল্যায়ন করেছেন, যাতে তিনটি সাধারণ ভারতীয় আমের জাত– সফেদা, দশেরি এবং ল্যাংড়ার প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়।

স্টাডি ২: জার্নাল অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারস– ৮-সপ্তাহের র‍্যান্ডামাইজড ট্রায়াল (অনলাইনে ৬ আগস্ট, ২০২৫, https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/40761695/)

স্টাডি-র ফলাফল:

• আম রক্তে গ্লুকোজ (গড় গ্লুকোজের দীর্ঘমেয়াদী পরিমাপ) উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

• আম খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন, কোমরের পরিধি (অস্বাস্থ্যকর পেটের চর্বি ) এবং ত্বকের ভাঁজের ঘনত্ব (ত্বকের নীচে বিপাকীয় ভাবে অস্বাস্থ্যকর চর্বি) হ্রাস পেয়েছে।

• এইচডিএল-এর (ভালো কোলেস্টেরল) মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত হয় আম খাওয়ার পর।

পদ্ধতি:

এটি এমন একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা ছিল, যা প্রাপ্তবয়স্কের উপর করা হয় এবং  (যারা T2D-তে আক্রান্ত) যারা ৮ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম সফেদা আম, দশেরি আম অথবা ল্যাংড়া আম খেয়েছিলেন।

আসলে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক T2D রোগী রয়েছে ভারতে এবং তাদের জন্য আম একটি উপকারী ফল। তাই, আম এখন পরিমিত, ক্যালোরি-সীমাবদ্ধ খাবার পরিকল্পনার একটি কার্যকর উপাদান হিসাবে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, বিশেষকরে যখন রুটির মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট প্রতিস্থাপন করা হয়।

উষ্ণতা উপভোগ করুন (শেষ পর্ব)

তাপমাত্রার হেরফেরের সঙ্গে শরীরকে অভ্যস্ত করাটা বেশ বড়োসড়ো একটা চ্যালেঞ্জ। এই সময় শরীরের সঠিক যত্ন নিলে, রোগভোগের থেকেও রেহাই পেতে পারেন। আবার ডিহাইড্রেশন, অ্যালার্জি, ব্রণ, ঘাম কিংবা ময়লা জমে ফাংগাল ইনফেকশন, চুলকানি, ঘামাচি, র‍্যাশ প্রভৃতি সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় জানা থাকলে, উষ্ণতাও হয়ে উঠতে পারে উপভোগ্য।

জরুরি বিষয়

১) হাইপার হাইড্রোলিসিস অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশে যেমন হাতের পাতা, পায়ের তলা প্রভৃতি অতিরিক্ত ঘামতে থাকে। এর ফলে অস্বস্তি তৈরি হতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ডার্মাটোলজিস্ট-এর পরামর্শ মতো অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘাম কম পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এছাড়া হাত-পা বেশিবার ধোওয়ার চেষ্টা করুন। হাইজিন-এর বিষয়টি মাথায় রেখে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করুন।

২) গরমে আন্ডারআর্মস পরিচ্ছন্ন রাখতে মুলতানি মাটির প্রলেপ লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত নারকেল তেল মাসাজ করলে, আন্ডারআর্মস-এর ঘাম কমবে এবং সেই সঙ্গে দুর্গন্ধও।

৩) রোদে বেরোনোর সময় ব্যাগে অবশ্যই ওয়েট ওয়াইন্স ও সুতির রুমাল রাখুন। মুখ পরিচ্ছন্ন থাকলে র‍্যাশ বেরোবে না। চুলকানি, র‍্যাশ বা ফাংগাল ইনফেকশন রোধ করতে গোলাপজলে মুখ ধুয়ে নিন। রাতে নারকেল তেল মাসাজ করুন।

৪) কেউ কেউ বছরভর হালকা গরমজলে স্নান করতে অভ্যস্ত। এটি করা উচিত নয়। গরমকালে স্বাভাবিক জলে স্নান করুন। একান্তই যদি অভ্যাস ত্যাগ করতে না পারেন, চেষ্টা করুন বেশিক্ষণ ধরে গরমজলে স্নান না করতে। ত্বকের উপর গরমজলের ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

৫) বেশি সময় ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে না থাকার চেষ্টা করুন, কারণ এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে চেহারা রুক্ষ হতে থাকে।

৬) মুখের ত্বক সজীব ও কোমল রাখতে দিনে অন্তত তিনবার জলের ঝাপটায় মুখ ধোন এবং মাইল্ড ক্লিনজারের সাহায্যে মুখ পরিষ্কার করুন।

৭) একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, শতকরা ৯০ শতাংশ এজিং-এর সমস্যা সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত সময় রোদে ঘুরে কাজ করার জন্য। তাই রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন মাস্ট এবং ফিরে আসার পর স্ক্রাবার ব্যবহার করাও সমান জরুরি।

৮) গরমে পরিশ্রান্ত হয়ে এনার্জি লেভেল ড্রপ করে যায়। তাই তাজা ফলের রস নিয়মিত ভাবে পান করুন।

৯) সপ্তাহে দুবার এক চামচ মধু, ২০ ফোঁটা লেবুর রস, আধা চামচ দুধের সর, ১ চামচ দেশি ঘি ও ১ চামচ জবের ভুসি একসঙ্গে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সমস্ত গায়ে লাগান। আধঘণ্টা পর ঈষদুষ্ণ গরম জলে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভিটামিন ‘ই’-যুক্ত ক্রিম লাগান।

১০) আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, দুধের সর ব্যবহার করবেন না এবং মাস্ক ধোওয়ার পর ভিটামিন ‘ই’-ক্রিমের বদলে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

ডা. পায়েল কে রায়, প্রধান ডায়েটিশিয়ান এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার নিউট্রিশনিস্ট, টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় হালকা এবং সহজ পাচ্য খাবার রাখা উচিত। এই জাতীয় খাবার ফিজিক্যাল এনার্জি বজায় রাখতে সাহায্য করে। প্রচুর তাজা ফল এবং স্যালাড খান। কারণ, ফল এবং স্যালাড হজমে সাহায্য করে। তাছাড়া, এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে, তাই হাইড্রেশনে সাহায্য করে শরীরকে সতেজ রাখে।

তবে, ভাজাভুজি এবং জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলি হজম হতে সময় নেয় এবং মশলাদার খাবার শরীরের তাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে গ্রীষ্মকাল অবিশ্বাস্য ভাবে ক্লান্তিকর হতে পারে। তাই, দ্রুত হজমে সাহায্যকারী খাবার এবং সুস্বাদু পানীয় দিয়ে নিজেকে সতেজ করার চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। অতএব, গরমকালে তরমুজ এবং শসা খান। সেইসঙ্গে, অ্যাসিডিটির সমস্যা না থাকলে, লেবুর জল পান করুন প্রতিদিন। মনে রাখবেন, বিভিন্ন ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

আর তাপপ্রবাহের প্রতিকূল প্রভাব থেকে শরীরকে বাঁচাতে কিছু অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন—

  • ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন, কিন্তু বারবার নয়। নরমাল জলে মুখ ধোওয়ার পর, মুখে বরফ ঘষুন
  • রোদে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন লোশন লাগান। এটি ত্বকের কালো দাগ এড়াতে সাহায্য করবে এবং ঘাম ও তাপ থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভবনা কমাবে
  • খাদ্যতালিকায় আরও ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
  • শরীরকে ভালো ভাবে হাইড্রেটেড রাখার জন্য আরও বেশি জল বা তরল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
  • জোজোবা তেল, ল্যাভেন্ডার তেল, রোজশিপ তেল এবং আঙুর বীজের তেলের মতো হালকা তেল গরমকালে ব্যবহার করা ভালো। কারণ, এই তেলগুলির ঘনত্ব কম, তাই রোমকূপ বন্ধ করে না, বরং ত্বককে হাইড্রেট রাখে।

ডা. এম এস পুরকাইত, মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট, টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতাল

তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার কারণে, বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য ইতিমধ্যেই দুপুরের ‘হিট অ্যালার্ট” জারি করা হয়েছে। সূর্যের রশ্মির তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, দুপুরে প্রচণ্ড তাপ এবং শুষ্কতা অনুভূত হচ্ছে। আর এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের কারণে হালকা জ্বর, মাথা ঘোরা, তীব্র ঘাম, বমি, ক্লান্তি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

আসলে, অস্বাভাবিক তাপ-প্রবাহের কারণে শরীর থেকে তরল পদার্থের ক্ষয় হয়, যার ফলে শরীর গরম হয় এবং অস্বস্তি হতে থাকে। গত ২ সপ্তাহে, এই ধরনের সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী ওপিডিতে এসেছেন। কেউ-কেউ আবার পেটের সংক্রমণের কারণে শরীরে জলের অভাব হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। আর গর্ভবতী মহিলারা অনেকে বমির সমস্যা এবং ডায়রিয়ার সমস্যায় পড়ছেন।

অতএব, এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহেও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য যা যা করণীয়, তা হল—

  • আরামদায়ক তাপমাত্রা এবং ছায়াযুক্ত অঞ্চলে থাকার চেষ্টা করুন এবং ঠান্ডার জায়গায় ভ্রমণ করুন
  • ORS এবং গ্লুকোজ-জল গ্রহণের পরিমাণ বাড়ান
  • ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরুন, যাতে অস্বস্তি এড়াতে পারেন এবং আপনার শরীর শ্বাস নিতে পারে
  • মাথার উপর তাপ এড়াতে আপনার মাথা সুরক্ষিত রাখুন। রোদে বেরোলে টুপি এবং ছাতা ব্যবহার করুন
  • ঠান্ডা জল বহন করুন এবং সারাদিনে ৩-৪ লিটার জল পান করুন
  • গরমকালে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং হালকা খাবারের উপর নির্ভর করুন। ফল খান বেশি পরিমাণে
  • খুব প্রয়োজন না হলে দুপুরে রোদে বেরোবেন না
  • তীব্র গরমে ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন, বিশেষকরে যাদের শ্বাসকষ্ট আছে। পরিবর্তে, বেশি গরমে হালকা ব্যায়াম করুন।

(সমাপ্ত)

 

মুগ্ধ করবে মরিশাস (শেষ পর্ব)

মাদাগাস্কার থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে এই দ্বীপটির অবস্থান। দ্বীপটি প্রবাল বেষ্টিত। ১৭২১ সালে ফরাসিরা এবং ১৮১০ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এখানে উপনিবেশ গড়ে তোলে।

মরিশাসে বসবাসকারী বেশির ভাগ মানুষই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। প্রায় এক শতাব্দী আগে এদের পূর্বপুরুষরা ভারত থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ মরিশাসে আখের চাষ করতে আসে। তারপর তারা পাকাপাকি ভাবেই মরিশাসে থেকে যায়। শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন নয়, মরিশাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকতের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত যে-কোনও পর্যটককে মুগ্ধ করবেই। তাছাড়া, অবাঙালি ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ভাষাও কোনও অন্তরায় নয়। এখানে স্বচ্ছন্দে হিন্দিতে কথা বলে স্বদেশের আনন্দ উপভোগ করা যায়। এখানে বাঙালিও আছেন অনেক। তাছাড়া, ভারতীয় খাবার যেমন এখানে পাওয়া যায়, তেমনই দেখা যায় ভারতীয় সিনেমা। গান শুনতে চান? হ্যাঁ, শুনতে পাবেন ভারতীয় গানও।

মরিশাসের মূল ভাষা হল মরিশিয়ান ক্রেওল। তবে নানা ভাষা নানা মতের মতো এখানে হিন্দি, ইংরেজি, ফরাসি, তামিল, উর্দু, ভোজপুরি, বাংলা ভাষাও চলে। তাইতো এত সুন্দর ও সমৃদ্ধ মরিশাস সবারই ভালো লাগে৷

কীভাবে যাবেন?

ভারত থেকে মরিশাস যাওয়ার দ্রুততম উপায় হল বিমান। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরিশাস যাওয়া যায়। দিল্লি থেকে মরিশাসের দূরত্ব প্রায় ৩৬২২ মাইল। বিমানে সময় লাগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। ভারতের অন্যান্য শহর থেকেও মরিশাস যাওয়া যায়। যেমন— মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি।

মরিশাসের প্রধান বিমানবন্দরের নাম – স্যার সিউসাগুর রামগুলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটি রাজধানী পোর্ট লুইস থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট মরিশাস যায়। তাছাড়া, এয়ার সেশেলস, এমিরেটসের মাধ্যমে ভারতের অনেক শহর থেকে সংযোগকারী ফ্লাইট ধরা যায়।

ফ্লাইটের বিকল্প হিসেবে সমুদ্রপথেও মরিশাস যাওয়া যায়। সেজন্য রয়েছে বিলাসবহুল ক্রুজ। সেক্ষেত্রে মুম্বাই বন্দর থেকে মরিশাস যেতে সময় লাগবে প্রায় ১৩ দিন। চেন্নাই বন্দর থেকে মরিশাস সমুদ্রে ভ্রমণ করতে লাগবে প্রায় ১২ দিন।

মরিশাস এক আশ্চর্য দ্বীপ। দর্শনীয় স্থানও আছে অনেক। পরিবহণ ব্যবস্থারও অনেক সুবিধা আছে। অনেক বাস রয়েছে যা যাত্রীদের সহজে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়। যাত্রীরা পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন স্ট্যান্ডার্ড বাস বা এক্সপ্রেস বাস। এক্সপ্রেস বাসগুলির স্টপেজ কম এবং বেশিরভাগ বাসই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ট্যাক্সিও পাওয়া যায়। বিশেষকরে বিমানবন্দরের বাইরে প্রচুর ট্যাক্সি অপেক্ষারত থাকে। বলাবাহুল্য, ট্যাক্সি এখানে অপেক্ষাকৃত বেশি ব্যয়বহুল।

মরিশাস ভ্রমণের জন্য প্যাকেজ ট্যুরেরও ব্যবস্থা আছে। কেউ একা বা সঙ্গী সংখ্যা কম হলে প্যাকেজ ট্যুরে বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করা যেতেই পারে। আবার এখানে কিছু কিছু কোম্পানি বা সংস্থা স্কুটার, সাইকেল, গাড়ি ভাড়া দেন ন্যায্য মূল্যে। তাছাড়া, ট্যাক্সি তো আছেই।

কেউ যদি মনে করেন আকাশপথে মরিশাস ঘুরে দেখবেন, তারও ব্যবস্থা আছে। সেজন্য পাওয়া যায় হেলিকপ্টার। তবে হেলিকপ্টার পেতে গেলে যোগাযোগ করতে হবে— এয়ার মরিশাস বা সেখানকার পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে।

আবার যাদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে গাড়ি বা স্কুটার ভাড়া করে নিজেরাই তা চালাতে পারেন। কারণ, মরিশাস সরকার বিদেশি লাইসেন্সে আপত্তি করে না। মরিশাস ছোটো দ্বীপ হলেও, ভ্রমণের পক্ষে আদর্শ। কারণ, আপনি যেখানেই যেতে চান না কেন, যানবাহনের কোনও অভাব হবে না। ভাড়ার জন্য প্রচুর ক্যাব, ট্যাক্সি ইত্যাদি যানবাহন আছে, এমনকী ড্রাইভারও ভাড়া পাওয়া যায়।

যদি কেউ জলপথে যেতে চান বা নৌকাবিহার করতে চান তো তারও ব্যবস্থা আছে। এখানে মোটরচালিত ছোটো নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া যাবে ক্যাটামারান এবং স্পিড বোট।

বড়ো গ্রুপে গেলে বাস ভাড়া নেওয়া যেতে পারে। সেইসব বাসে করে শহর এবং গ্রামীণ এলাকাগুলিও ঘুরে দেখা যায়। মরিশাসে প্রচুর হোটেল এবং রিসর্ট আছে। হোটেল বা রিসর্টের বাইরে অপেক্ষায় থাকে প্রচুর ট্যাক্সি। অনেক জায়গায় মিনিবাসও ভাড়ায় পাওয়া যায়। যা দ্বীপের ভ্রমণের উপযোগী গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি সাদরে ঘুরিয়ে আনতে পারে।

মরিশাস যেতে গেলে ট্যুরিস্টদের জন্য ভিসার কোনও খরচ লাগে না। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য On Arrival ভিসা থাকলেই চলবে। আগমনের দিন থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়। তবে ৬০ দিনের বেশি সময় থাকতে চাইলে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সে ব্যবস্থা করে দেন। ভারতীয় নাগরিকদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট, আনুমানিক খরচের টাকা, কোথায় গিয়ে থাকবেন সেই বিবরণ থাকলেই চলবে।

কেউ মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নিতে চাইলে তারও ব্যবস্থা আছে। সেই প্রক্রিয়ার জন্য আনুমানিক ৫ থেকে ৭টি ওয়ার্কিং ডে লাগতে পারে। মরিশাস বেড়াতে যাওয়ার সেরা সময় হল এপ্রিল থেকে জুন মাস, আর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস।

সব শেষে জানিয়ে রাখি, বিশেষকরে ভারতীয় পর্যটকদের কাছে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি সুন্দর, মনোরম, সমৃদ্ধ দ্বিতীয় স্বদেশ। তাইতো প্রত্যেক বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ মরিশাস ভ্রমণে গিয়ে অনুভব করেন স্বাচ্ছন্দ্য।

(সমাপ্ত)

দুর্ঘটনা (শেষ পর্ব)

সমরের মনে হল কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই জিজ্ঞাসা করল— আপনার নাম আপনার মনে পড়ছে কি? —পড়েছে, হ্যাঁ, অনামিকা। ডাক্তারবাবু তো তাই বলেই ডাকছিলেন।

—আপনার কি কিছুই মনে পড়ছে না? কোথায় থাকেন, আপনার নাম কী ইত্যাদি।

—আমার আগের কিছুই তো মনে পড়ছে না। ডাক্তারবাবুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উনি উত্তর দিলেন মাথায় চোট-টা একটু বেশি লেগেছে তো, তাই এমন লাগছে। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।

কথাগুলো শুনেই সমর বেশ গম্ভীর হয়ে গেল, বুঝতে পারল যে, ঘটনা এবার অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে। তাই কী করবে ভেবে না পেয়ে চুপ করে গাড়ি চালাতে লাগল। সমরের মনে নানা প্রশ্ন, নানা দ্বন্দ্ব উঁকি মারতে লাগল। এসব আবোল তাবোল ভাবতে ভাবতে বাড়িতে পৌঁছে গেল। ভাবল খেয়ে দেয়ে ভালো করে একটা ঘুম মারলেই হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।

( চার )

খাওয়াদাওয়ার পর সমর অনামিকাকে খাটে বিছানা করে দিয়ে, নিজে মাটিতে বিছানা করে শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়ে নানা অজানা আশঙ্কার কথা ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল খেয়াল নেই। ঘুম ভাঙল অনামিকার ডাকে।

—উঠে পড়ো। চা খেয়ে নাও।

সমর চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল প্রায় সন্ধ্যা নেমে এসেছে। অনামিকা চা বানিয়ে নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

সমর নিঃশব্দে যখন চা-এ চুমুক দিচ্ছে, তখন সব নীরবতা ভঙ্গ করে অনামিকা বলে উঠল— অ্যাই জানো, গতকাল বা তার আগের দিনের কোনও ঘটনাই আমার মনে পড়ছে না। তুমি আমাকে একটু সাহায্য করবে?

সমর দেখল এই সুযোগ। সে সমস্ত ঘটনা অনামিকাকে শোনাল, কিন্তু মনে হল অনামিকা যেন কিছুই বিশ্বাস করতে পারছে না। অনামিকা বলে উঠল— তাহলে ডাক্তাররা কি মিথ্যে বলল যে তুমি আমার স্বামী!

সমর কী উত্তর দেবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তাই চুপ করে রইল।

এভাবেই কেটে গেল বেশ কিছু দিন। ওরা দু’জনেই বেশ স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। একে অন্যকে বুঝতে পারছে। ঘনিষ্ঠতাও বেড়েছে। সমর আর আজকাল অফিসে লেট সিটিং করে না। অনামিকাকে না দেখলে যেন মনটা কেমন ছটফট করে। তাহলে কি অনামিকার ব্যপারে দুবর্লতা দেখা দিল।

অন্যদিকে অনামিকারও ঠিক তেমন অবস্থা। একই ঘরে একজন খাটে শোবে আর অন্যজন নীচে বিছানা পেতে শোবে তা কী করে হয়! আজকাল ঘরের সব কাজকর্ম অনামিকাই করে। আগুনের সামনে ঘি থাকলে যেমন আপনা থেকেই জ্বলে ওঠে, ঠিক তেমনই একদিন সমর অফিস থেকে ফেরার পর অনামিকা বলল – তোমার সঙ্গে আজ কথা আছে। আগে হাত, পা ধুয়ে নাও।

অনামিকা রান্নাঘর থেকে ততক্ষণে চা বানিয়ে নিয়ে এল। দু’জনেই চায়ে চুমুক দিতে দিতে গল্প শুরু হল। অনামিকা বলে উঠল— শোনো, আমরা দু’জনে

স্বামী-স্ত্রী হয়ে এভাবে আলাদা আলাদা থাকব, এ কীভাবে সম্ভব?

—অনামিকা, আমি জেনেশুনে এমন কিছু করতে চাই না যাতে তোমার বা আমার কোনও ক্ষতি হোক। তবে তুমি চাইলে এ ব্যাপারে আমরা ম্যারেজ রেজিস্টারের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিতে পারি। উনি যদি বলেন কোনও আপত্তি নেই তবে আমরা রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করতে পারি।

মনে হল অনামিকার কথাটা পছন্দ হয়েছে। পরের দিন সমর আর অনামিকা একজন ম্যারেজ রেজিস্টারের সঙ্গে দেখা করে সব পাকা করে এসেছে এবং কিছুদিনের মধ্যে ওদের রেজিস্ট্রি ম্যারেজও উনি করিয়ে দিলেন। এরপর থেকে ওদের সংসার বেশ আনন্দেই কাটছিল। ছুটির দিন হলেই ওরা দু’জনে গাড়ি নিয়ে বেড়াতে চলে যেত লং ড্রাইভে।

এক রবিবার সমর বলল— অনামিকা, চলো আজ তোমাকে বনগাঁ-তে বাংলাদেশের সীমান্তটা দেখিয়ে নিয়ে আসি। আসলে আমিও বই-এ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এর কথা পড়েছি কিন্তু কখনও দেখিনি। চলো, আজ বনগাঁ ঘুরে আসি। শুনেছি ওখানে নাকি খুব ভালো ও সস্তায় মিষ্টি পাওয়া যায়। যাবে নাকি সেখানে?

—আমি অত বুঝি না বাপু। তুমি যেখানে নিয়ে যাবে আমি সেখানেই যেতে রাজি। তুমি সঙ্গে থাকবে এটাই অনেক। আমি আর কিছু চাই না। আমি আর পুরোনো জীবনেও ফিরে যেতে চাই না।

সকালবেলায় প্রাতঃরাশ, স্নান সেরে দু’জনেই চলল বনগাঁর উদ্দেশ্যে। রাস্তায় যেতে যেতে দু-দিকে বড়ো বড়ো গাছ আর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে দু’জনেই খুব খুশি হচ্ছিল। হঠাৎ ওদের চোখে পড়ল একটা বড়ো ট্রাক ওদের উলটোদিকের গাড়িটাকে ওভারটেক করতে গিয়ে ওদের দিকেই ধেয়ে আসছে। সমর নিমেষের মধ্যে গাড়ির স্টিয়ারিংটা বাঁদিকে ঘুরিয়ে নিল কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারল না। গাড়িটা গিয়ে ধাক্কা খেল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটা বড়ো গাছের সঙ্গে। এর পর আর সমরের কিছুই মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরল তখন নিজেকে দেখল হাসপাতালের বিছানায়। জ্ঞান ফিরতেই নার্সকে জিজ্ঞাসা করল। আমার সঙ্গে যিনি ছিলেন তিনি কেমন আছেন।

—ওঁকে তো আজ সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওঁর মাথায় একটু আঘাত ছিল। ওটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। আপনি তিনদিন অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন।

সমর কী বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। কিন্তু অবাক হল অনামিকা তাকে একটিবার দেখতেও এল না! তাহলে ও গেল কোথায় ? ও তো এ শহরের কিছুই চেনে না।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার দিন রিসেপশন থেকে খবর নিয়ে জানতে পারল অনামিকা ওর বাড়িতে ফোন করে ওর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তারাই নাকি ওর হাসপাতালের বিল মিটিয়ে দিয়েছে। তাই সমরকে আর তার বিল দিতে হবে না। ওর নাম নাকি মধুছন্দা বলেছে। এর পর সমর পাগলের মতো খুঁজেও অনামিকার কোনও সন্ধান না পেয়ে অফিস থেকে দিল্লিতে ‘ট্রান্সফার’ নিয়ে চলে যায়। ওর স্মৃতি থেকে এখনও অনামিকার ছবি মুছে ফেলতে পারেনি। আজও রোজ বাড়ি ফিরে অনামিকার ছবি নিয়ে বহুক্ষণ কাটিয়ে দেয়। ছবির সামনে বসে চোখের জল ফেলে। কিছুতেই মন থেকে ভুলতে পারছে না তাকে। মনে হয় ওর মরুভূমির মতো জীবনে অনামিকা মরুদ্যান হয়ে আবির্ভূত হয়েছিল।

এভাবে কেটে গেল দু’বছর। অনামিকার দেখা পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিল প্রায়। এমন সময় একদিন অফিসের এক সহকর্মী কৌশিকের বউভাতে নিমন্ত্রণ খেতে গিয়ে সমর চমকে উঠল। এ কী? এ তো অনামিকা। ওর বন্ধু তাহলে অনামিকাকেই বিয়ে করেছে। সমরের তখন বাকরুদ্ধ অবস্থা। মাথাটা কেমন ঝিম ঝিম করছে। শরীরে কেমন একটা অস্বস্তি অনুভব করছে। কাউকে কিছু না বলেই ধীর পায়ে গেটের বাইরে বেরিয়ে আসছিল। হঠাৎ কৌশিকের সঙ্গে দেখা। কৌশিক বলল— কিরে কোথায় চললি?

—আমার শরীরটা ভালো লাগছে না রে। বাড়ি যাচ্ছি। পরে একদিন হবে। আচ্ছা, তোর বউ-এর নাম কিরে?

—মধুছন্দা।

সমরের আর বুঝতে বাকি রইল না যে, অনামিকা তার জীবনে এখন অতীত। তাই ধীর পায়ে বিয়েবাড়ি থেকে ঘরে ফিরে এসে, অনামিকার সব ছবিগুলো নামিয়ে রাখল। অব্যক্ত এক গভীর বেদনায় চোখ জলে ভরে এল।

(সমাপ্ত)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব