শ্রবণ-সমস্যা এবং সঠিক চিকিৎসা

সবাই চান শ্রবণসুখ উপভোগ করতে। কিন্তু নানারকম কারণে এই শ্রবণসুখ থেকে বঞ্চিত হন অনেকে। শুধু বার্ধক্যজনিত কারণেই নয়, অকালেও অনেকে কানে শুনতে পান না ঠিক ভাবে। তাই, চাই সর্তকতা এবং সঠিক চিকিৎসা। মনে রাখবেন, আমাদের কান মস্তিষ্কের সঙ্গে যেমন যোগাযোগ রক্ষা করে, ঠিক তেমনই শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে। অতএব, প্রত্যেকে যাতে কানের যত্ন এবং সুরক্ষা নিয়ে শ্রবণসুখ উপভোগ করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে কানের স্বাস্থ্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন কনসালট্যান্ট ইএনটি অ্যান্ড হেড নেক সার্জন ডা. দেবায়ন তরফদার।

শ্রবণশক্তি হ্রাসের কারণ

শব্দদূষণ: আমাদের কোলাহলপূর্ণ বিশ্বে শব্দদূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস (NIHL) একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। কল-কারখানায় যন্ত্রপাতির শব্দ, কনসার্ট, এমনকী ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস থেকেও নির্গত উচ্চ মাত্রার শব্দের আবহে দীর্ঘক্ষণ থাকা, কানের ভিতরের সূক্ষ্ম কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই কোষগুলি শব্দ কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠায়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এই কোষগুলি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।

সংক্রমণ: কানের সংক্রমণের মধ্যে রয়েছে ‘ওটিটিস মিডিয়া’ (মধ্যকর্ণের সংক্রমণ) এবং ‘ওটিটিস এক্সটার্না’-র (সাঁতার কাটার সময় দূষিত জল থেকে কানে সংক্রমণ) সমস্যা।

ওটিটিস মিডিয়া: প্রায়শই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে এই সমস্যা হয়। এটি কানে ব্যথা, গায়ে জ্বর, কানের পর্দার পিছনে তরল জমা হওয়া ইত্যাদির সমস্যা তৈরি করে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে (CSOM) কানের পর্দায় স্থায়ী ছিদ্র হতে পারে, যা আরও সংক্রমণ এবং গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

প্রতিরোধ: ঘন ঘন হাত ধোয়া, নোংরা জলের সংস্পর্শে না আসা এবং শিশুদের টিকাদান করা ইত্যাদি। বিশেষকরে যেসব শিশু বারবার ঠান্ডা লাগা এবং কানের ব্যথায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করলে সংক্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কানের পর্দা স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কান পরিষ্কার করা। কিন্তু কানের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল হলে, সেক্ষেত্রে (CSOM) সার্জারি-র প্রয়োজন হতে পারে।

ওটিটিস এক্সটার্না: সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের কারণে চুলকানি, লাল ভাব এবং কানে পুঁজ জমে যেতে পারে। প্রতিরোধ: কান শুষ্ক রাখা, তুলো দিয়ে পরিষ্কার এড়িয়ে চলা (যা আরও ভিতরে ময়লা ঢুকিয়ে দিতে পারে) এবং সাঁতার কাটার সময় ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করা কানের স্বাস্থ্যরক্ষায় সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল কানের ড্রপ এবং খাওয়ার ওষুধ।

প্রাথমিক লক্ষণ এবং চিকিৎসা

প্রায়শই ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। যার ফলে প্রাথমিক লক্ষণগুলি প্রকট হয় না অনেক সময়। তাই সজাগ থাকা প্রয়োজন এবং সময়মতো চিকিৎসার প্রয়োজন।

সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ:

  • দূরভাষে কথা শুনতে অসুবিধা, বিশেষকরে কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে।
  • ঘন ঘন লোকেদের কথা পুনরাবৃত্তি করতে বলা
  • টিভি বা রেডিওর শব্দ অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেওয়া • উচ্চ শব্দ শুনতে অসুবিধা
  • মানুষ বিড়বিড় করছে বলে মনে হওয়া।

ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্ট

Chronic Suppurative Otitis Media বা CSOM ( মধ্যকর্ণের সংক্রমণ) কিংবা অটোস্ক্লেরোসিস (স্টেপস ফিক্সেশন) ইত্যাদি সার্জারির মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা যেতে পারে। কানের সার্জারি সাধারণত মাইক্রোস্কোপ বা এন্ডোস্কোপের সাহায্যে করা হয়। তাই এগুলি রোগীদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এক্সপোজার সীমিত করুন: উচ্চ শব্দের আবহে থাকা বন্ধ করুন অথবা সময়কাল কমিয়ে দিন।

কানের সুরক্ষা: কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ইয়ার প্লাগ বা ইয়ারমাফ ব্যবহার করুন।

৬০/৬০ নিয়ম: ব্যক্তিগত অডিও ডিভাইস ব্যবহার করার সময়, একবারে ৬০ মিনিটের বেশি কিছু শুনবেন না এবং সর্বোচ্চ ভলিউমের ৬০ শতাংশের বেশি শব্দ কানে নেবেন না।

দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ: শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বাড়ান।

নিয়মিত পরীক্ষা: যারা কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, তাদের মাঝেমধ্যে কানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।

অডিওলজিক্যাল মূল্যায়ন: শ্রবণশক্তি হ্রাসের ধরন এবং মাত্রা নির্ধারণের জন্য একজন অডিওলজিস্ট দ্বারা শ্রবণশক্তি পরীক্ষা অপরিহার্য।

শ্রবণযন্ত্র: এই হিয়ারিং ডিভাইস শ্রবণ সমস্যা দূর করে এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নতি করতে পারে।

কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট: তীব্র শ্রবণশক্তি হ্রাসের ক্ষেত্রে, কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট শ্রবণ স্নায়ুকে সুস্থ-স্বাভাবিক করতে পারে। পরামর্শ এবং সহায়তা: শ্রবণশক্তি হ্রাস পেলে, মানসিক এবং সামাজিক প্রভাব মোকাবিলা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা: নিয়মিত শ্রবণশক্তি পরীক্ষা এবং শব্দের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি এড়ানো। এছাড়া, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে শ্রবণ সমস্যা দূর করতে পারে।

শ্রবণতন্ত্রের স্বাস্থ্য: শ্রবণতন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে হলে ছোটোবেলা থেকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য সুষম খাদ্য অপরিহার্য হলেও, কিছু পুষ্টি কানের স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করে। সেইসঙ্গে, এড়িয়ে চলতে হবে শব্দদূষণ।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ভিটামিন সি, ই এবং বিটা-ক্যারোটিন, কানের ভিতরের সূক্ষ্ম কোষগুলিকে র‍্যাডিক্যাল দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। ফল, , শাকসবজি এবং বাদামে পাওয়া যায় এইসব ভিটামিন।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: স্যামন এবং টুনার মতো মাছে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর চর্বিগুলি। তাই এইসব মাছ মাঝেমধ্যে খাওয়া উচিত। এর ফলে কানের ভিতরের রক্তপ্রবাহ উন্নত হবে।

জিঙ্ক: এই খনিজটি কোষের বৃদ্ধি এবং মেরামতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং টিনিটাস থেকে রক্ষা করতে পারে। শামুক এবং কুমড়োর বীজে পাওয়া যায় এই জিঙ্ক।

ম্যাগনেসিয়াম: গবেষণায় দেখা গেছে যে, ম্যাগনেসিয়াম শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাস থেকে রক্ষা করতে পারে। পালং শাক, বাদাম এবং মটরশুটিতে পাওয়া যায় ম্যাগনেসিয়াম।

ফলিক অ্যাসিড: এই ভিটামিন-বি কানের ভিতরের রক্ত প্রবাহ উন্নত করতে পারে। শাকসবজি, সাইট্রাস ফলে পাওয়া যায় ফলিক অ্যাসিড।

অতিরিক্ত সোডিয়াম এড়িয়ে চলুন: উচ্চ সোডিয়াম গ্রহণের ফলে কানের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

জীবনযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ প্রাথমিক পর্যায়ে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা এবং লাইফস্টাইল ডিজিজ-এর সঠিক চিকিৎসা আপনার শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করবে। সামগ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ

কানের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একটি বহুমুখী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যার মধ্যে রয়েছে শব্দ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সংক্রমণের দ্রুত চিকিৎসা, শ্রবণশক্তি হ্রাসের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং চাই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। আপনার কানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে যদি আপনার কোনও উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন ইএনটি স্পেশালিস্ট-এর পরামর্শ নিন।

গারদ (শেষ পর্ব)

নিজের কথা বলবার আগে গৌতম সেই ডকুমেন্টের শেষ পাতায় চোখ রাখে। সত্যি, কী নেই সেখানে। প্রথম বিয়ের কার্ড থেকে আরম্ভ করে, তাদের ডিভোর্স-এর কাগজ। তারপর একই ভাবে দ্বিতীয় বিয়ের কার্ড ও তাদের মধ্যে ডিভোর্স না হওয়ার কাগজ, সব এক্কেবারে পরপর সাজানো। সঙ্গে একগুচ্ছ বধূ নির্যাতনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রায় পঁচিশ পাতার জেরক্স করা ডকুমেন্ট। পুরো সেটটা এক্কেবারে মন্ত্রি পর্যন্ত কপি ফরোয়ার্ড করা হয়েছে।

—ওর মায়ের সঙ্গে কথা বলব ভাবছি। যেভাবেই হোক বড়োছেলের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় না এলে এই ছেলে তো মারা যাবে। উনি কেন যে বুঝছেন না, আগে তো পরিবার তারপরে তো বাড়ি।

গৌতম এই প্রসঙ্গে কোনও কথা না বলে আগেরদিন সঞ্জীবকে কেমন দেখেছে, সেই কথাগুলোই বলতে লাগল। আরও সব শিক্ষক ও শিক্ষিকা ছিলেন। সঞ্জীবের অবস্থাতে সবার কষ্ট হলেও কারওর কিছুই করবার নেই। এদিকে ছয়জনের মধ্যে একজন চলে যাওয়াতে বাকিদের উপর চাপ পড়ছে। প্রাইমারি স্কুল হলেও বড়ো স্কুল। প্রতিটা ক্লাসের দুটো করে সেকশেন। এই অবস্থাতে একজন চলে যাওয়া মানে…।

ছাত্র-ছাত্রীরাও সঞ্জীবের কথা প্রায় জিজ্ঞেস করছে। কিন্তু গৌতমদের কাছে সঞ্জীবের অনুপস্থিতির কারণ হিসাবে তার শরীর খারাপ ছাড়া আর কিছু বলবার নেই।

সপ্তাহ তিনেক এমনি ভাবেই কেটে যায়। ইতিমধ্যে স্কুলে সঞ্জীবের সাসপেনশনের অর্ডার চলে আসে। অরুণবাবু সপ্তাহে একদিন সঞ্জীবের বাড়িতে ফোন করে তার মায়ের খবর নেবার পাশে সঞ্জীবেরও খবর নিতেন। সেই ভাবেই একদিন ফোন করে জানতে পারলেন সঞ্জীবের জামিন হয়েছে। অবশ্য অফিস থেকে আগেই স্কুলে জানিয়ে দিয়েছিল, ‘সঞ্জীববাবু এলেও ওনাকে সই করতে দেবেন না। ক্লাস করতে পারেন, তবে এই সময় না আসাটাই ভালো।’

অবশ্য পাঁচদিন পর সঞ্জীব নিজে এসে জানালেন, তিনি এখন ক্লাস করবেন না। অরুণবাবু অফিসে ফোন করে সাসপেন্ড থাকাকালীন কী করতে হবে ও কী কাগজ জমা দিতে হবে সেইসব জেনে নিলেন। বেচারা এক মাসের পেমেন্ট তো পেলই না, পুলিশ কাস্টডিতে থাকাকালীন যে কয়েকদিনের টাকা পেমেন্ট হিসাবে ঢুকেছে সেটাও ট্রেজারিতে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে। অবশ্য সেসব পরে জানানো হবে। সঞ্জীব সেইসব জেনে স্কুল থেকে অফিস হয়ে বাড়ি যাবার কথা জানাল। কিন্তু তিনদিন পর গৌতম স্কুলে আসতেই শুনল, সঞ্জীবের বাড়ি যে পঞ্চায়েত এলাকায় সেখান থেকে কোনওরকম সাহায্য পাচ্ছেন না। সে যে আর কোনও কিছু রোজগারের সঙ্গে জড়িত নয়, এই মর্মে পঞ্চায়েত থেকে তাকে একটা সার্টিফিকেট এনে অফিসে জমা দিতে হবে। কিন্তু পঞ্চায়েতের কেউ তাকে সাহায্য করছে না।

গৌতম এই স্কুলে খুব অল্পদিন হল ট্রান্সফার হয়ে এসেছে। কিন্তু এখানে এসেই জেনেছে সঞ্জীব এই স্কুল ছাড়া আর কোথাও যায় না। পাড়ার কোথাও, কারওর সঙ্গে মেশে না। তার না আছে কোনও বন্ধু, না আছে কোনও কথা বলবার লোক। শোনা যায় তার শরীরেও নাকি পৌরুষ সম্পর্কিত কী সব সমস্যা আছে। তার জন্যেই তার প্রথম বউ বিয়ের মাত্র দু’মাস পরেই বাপের বাড়ি চলে গেছে। তার দাদা-বউদি এই সবকিছু জানত, তাও বউদি নিজের বোনের সঙ্গে বিয়ে দিল। বোনেরও মাথার ঠিক ছিল না। এই কথাগুলো অবশ্য সঞ্জীবের মুখ থেকেই শোনা। এদিকে সঞ্জীবের শরীর খারাপের ব্যাপারে তার দাদা ডাক্তার দেখানোর কথা বললেও মা বলেন, ‘ছেলেদের আবার ওইসব দিকে কিছু সমস্যা হয় নাকি, ওরা সব বানিয়ে বানিয়ে বলছে।”

এমনি ভাবেই আরও কয়েকমাস পেরিয়ে যায়। সঞ্জীবের সাসপেনশনকালীন ভাতা আরম্ভ হয়। পঞ্চায়েতের সার্টিফিকেট না পেলেও অফিস থেকে অন্য আরেকটা উপায়ে ব্যবস্থা করেছে। পিএফ-এর সাবক্রিপশনটা কয়েক হাজার কমিয়ে দিয়ে হাতে যেটা পাচ্ছে সেটাতে মা-ছেলের মোটামুটি চলে যাবার কথা। সঞ্জীব অবশ্য অরুণবাবুকে প্রতিমাসে একবার ফোন করে বিল হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করে। অরুণবাবু প্রতিমাসেই জানান, ‘তোমার বিল আমাদের সঙ্গে হয় না, একটু পরে হয়। তবে আমাদের স্যালারি হবার পরের দিনেই তোমার হবে।”

সঞ্জীব ছাড়াই স্কুল চলতে থাকে। তার অনুপস্থিতিটাও যেমন করে হোক ঢেকে যায়। আসলে সরকারি প্রাইমারি স্কুলে খাতায়-কলমে ঠিক যতজন ছাত্র বা ছাত্রী থাকে, বাস্তবে তার অর্ধেকও থাকে না। বেশিরভাগই আশেপাশে গজিয়ে ওঠা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়ে। সরকারি স্কুলে শুধু নামটাই লেখা থাকে। কেউ কেউ শনিবার অথবা সেই স্কুলের ছুটির দিনে এই স্কুলে আসে। কেউ কেউ এক্কেবারেই আসে না। পরীক্ষাগুলো দেয় অথবা দেয় না। সুযোগ সুবিধা বিশেষ করে পোশাকটা নিতে আসে। আর আসে আধার কার্ডের বা কোনও ভ্যাকসিনের ক্যাম্প হলে, সেখানে। স্বভাবতই বেশি সংখ্যায় ছাত্র বা ছাত্রী অফিসিয়ালি থাকলেও আসলে খুব কমজনই আসে। তাই সঞ্জীব স্কুলে না এলেও অসুবিধা হয় না। এমনকী সঞ্জীব যে এই স্কুলে কোনওদিন ছিল, সেটাও কেউ না বললে মনে হয় না। শোনা যায় সঞ্জীব নিজেও নাকি বলেছে, ‘স্কুলে না এলেও টাকাটা তো পেয়ে যাচ্ছি। কেসের টাকাপয়সা দিতে হচ্ছে, না হলে ঠিক ছিল।’

অরুণবাবু এর মাঝে নিজের থেকে বহুবার সঞ্জীবের মাকে ফোন করে বড়োছেলের সঙ্গে ঝগড়া-ঝামেলা মিটিয়ে নেবার কথা বলেন। সেই উকিলবাবুও জামিনের জন্যে অনেক টাকা চেয়েছেন৷ সেটাও একদিন ফোনে সব শোনেন।

আরও কয়েকমাস পরে সঞ্জীব স্কুলে আসেন। চেহারাটা একটু ঠিক লাগে। মুখ চোখের কালিটা ফিকে হয়েছে বলে মনে হয়। অফিসে ঢুকেই খুব উত্তেজিত হয়ে অরুণবাবুর দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, ‘এবার মুক্তি বুঝলেন স্যার। বাড়িটা ষাট লাখ টাকায় বিক্রির কথা হয়েছে। মা রাজি হয়েছে, মায়ের নামেই তো বাড়িটা আছে।”

গৌতমরা খুশি হয়েই জিজ্ঞেস করে, “তার মানে তোমাদের হাতে টাকাপয়সা আসছে। দাদাও রাজি হল তো?”

—হ্যাঁ। দাদা পঁচিশ লাখ নেবে, মাকে রাখবার জন্যে আরও পাঁচ লাখ।

—বাকিটা তোমার? খুব ভালো। এবার দেখে শুনে আরেকটা বিয়ে করো। অরুণবাবু হাসিমুখে কথাগুলো বলেন। সঞ্জীব মুচকি হেসে উত্তর দেন, ‘কেসটা তোলার জন্যে শালাবাবু কুড়ি লাখ টাকা নিচ্ছে।”

—তোমার মাত্র দশ লাখ! গৌতম জিজ্ঞেস করে।

—না না, ওটা তো উকিল নেবে।

—কিন্তু তুমি থাকবে কোথায়? মা, দাদার কাছে থাকলে তুমি খাবে কী? তোমার সাসপেনশন এখনও ওঠেনি।

এইসব প্রশ্ন সঞ্জীবকে পরের পর করে গেলেও সঞ্জীব কোনও উত্তর দেন না। গুম হয়ে থাকা মুখে অন্ধকার নেমে আসে। স্কুলের অফিসরুম থেকে বেরিয়ে বাইকে চাপে। গৌতম সহ বাকিরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। জামিন পাবার কতদিন পর সাসপেনশন উঠবে কে জানে…

(সমাপ্ত)

গারদ (পর্ব-০৩)

কী বিচিত্র অবস্থা, সবাই দোষ করে? কেউ কেউ তো পরিস্থিতিরও শিকার হয়? সঞ্জীব কি দোষ করেছে? সংশোধনাগার নাম হলেও আসলে এটা কিন্তু জেল। বড়ো বড়ো জল্লাদ প্রাচীর, লোহার দরজা, আর ভিতরে আত্মীয় পরিজনদের থেকে আলাদা থাকা কিছু মানুষ। গৌতমের মাথার মধ্যে জেল সম্পর্কিত বিভিন্নরকমের কথা ও ঘটনা ভেসে বেড়াতে লাগল। সেই ও’হেনরি থেকে তার দেখা বিভিন্ন হিন্দি ও ইংরেজি সিনেমা, যেখানে জেল একটা চরিত্র হয়ে উঠেছে।

দুটো বড়ো বড়ো লোহার গেটের পরে একটা জায়গা আছে। ওখানে দু’জন পুলিশ বসে আছেন। একজন টেবিল চেয়ারে আরেকজন এমনি চেয়ারে। তারপর আরেকটা বড়ো লোহার গেট। সেই গেটের সঙ্গে আছে একটা ছোটো গেট। সেটা খুলেই সেই রোগা ভদ্রলোক বেরিয়ে এসে একজনের নাম ধরে জোরে হিন্দিতেই চিৎকার করে বললেন, ‘কে এসেছে এনার বাড়ি থেকে…, খাবার দাবার যা কিছু এনেছেন, ওই ট্রেতে রাখবেন।’

গৌতম একপাশে দাঁড়িয়ে সব কিছু দেখে। কীভাবে বাইরের লোহার বড়ো গেটটার একপাশে রাখা প্লাস্টিকের ট্রেতে ভিতরের এক বন্দির সঙ্গে দেখা করতে আসা একজন বিস্কুট, মুড়ি আরও অনেক কিছু এক এক করে রেখে দিলেন। রেখে দিলেন বিড়ি, এমনকী খৈনির প্যাকেট। কিছু সময় পর এক ভদ্রলোক ভিতরের লোহার বড়ো গেটটার নীচে থাকা ছোটো গেটটার ভিতর দিয়ে মাঝের জায়গাটাতে এসে কিছু সময় দাঁড়ালেন। এদিকে তখন দাঁড়িয়েছিলেন বাকি দু’জন ভদ্রলোক। গৌতমের বুঝতে অসুবিধা হল না এনারা সবাই কাঁদছেন।

জেল অফিসের সেই রোগা ভদ্রলোক ততক্ষণে সেই প্লাস্টিকের ট্রে থেকে এক এক করে সব খাবার জিনিস বের করে একটা বড়ো প্লাস্টিকের প্যাকেটের ভিতরে ভরে মুখটা সুতো দিয়ে বেঁধে দিলেন। সেই সঙ্গে আরেকবার হিন্দিতেই ‘দেখা করবার জন্যে বেশি সময় দেওয়া যাবে না’ সেটাও জানালেন। পাশে একটা জানলাতে কথা বলবার ব্যবস্থা আছে, সেটা বোঝা গেল। গৌতম অপেক্ষা করতে লাগল।

বাচ্চা দুটোর বাবাও মাঝের জায়গায় এল। তাদেরও এক প্রস্থের কান্নাকাটি হল। এনারাও খাবারের প্যাকেট দিলেন। তাদের চলে যাবার কিছু সময় পর গৌতমের সুযোগ এল। কিন্তু এই সঞ্জীবকে তার খুব অচেনা লাগল। সঞ্জীবও গৌতমকে দেখে খুব অবাক হয়ে গেল। পরনে একটা জিন্সের প্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি। দুটোই খুব নোংরা হয়ে গেছে। সঞ্জীবের চোখ মুখটাও কালো হয়ে গেছে। ওর সুগার আছে সেটা গৌতম আগেই শুনেছিল। স্কুলে মিষ্টি আনলে সঞ্জীবের জন্যে সুগার ফ্রি সন্দেশ আনানো হতো। একটা জানলার দু’পাশে দু’জন দাঁড়িয়ে। সরু জালের বেড়ার পাশে দু’জনের দূরত্বও পাঁচফুটের কম নয়। গৌতমকে দেখে সঞ্জীবের ভিতর থেকে একটা কষ্ট বেরিয়ে এল। কিন্তু খুব অসহায়ের মতো বলে উঠলেন, ‘দেখলে কেমন ফাঁসিয়ে দিল।”

সঞ্জীবের মুখেই গৌতম শুনল তার দ্বিতীয় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার সঙ্গে তার মায়ের নামেও কেস করেছে। তাকে তুলে এনেছে কিন্তু বয়সের জন্যে তার মাকে আর পুলিশ আনেনি। তবে এখান থেকে নিজে জামিন পেলে মাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। খুব অল্প সময় হলেও গৌতমের সঙ্গে সঞ্জীবের কথাবার্তাতে অনেক বিষয় উঠে এল। গৌতম সঞ্জীবের মুখেই জানতে পারল টাকা দিলে জেলের ভিতর সব কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু তার মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন থানা সিজ করে নেওয়ার জন্যে সেই মুহূর্তে তার হাতে এক নয়া পয়সাও নেই। গৌতম কথাগুলো শুনলেও তার কিছু করবার নেই। কোনও অবস্থাতেই তার হাতে টাকা দেওয়া যাবে না। চলে আসবার সময় সঞ্জীবের গলাতে আবার কষ্ট ঝরে পড়ল, ‘চাকরিটা থাকবে তো?”

গৌতম একটা লম্বা শ্বাস ফেলে উত্তর দিল, ‘থাকবে, তবে আটচল্লিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে তো সাসপেনশনের অর্ডার বেরোবে, সেরকম শুনছিলাম।’

—এই রে, তাহলে তো মাকে নিয়ে না খেয়ে মরব। উকিলই তো সব নিয়ে নিচ্ছে। শরীরের অবস্থাও ভালো নয়। পুলিশ তুলে আনবার সময় তাড়াতাড়িতে প্রেশক্রিপশনটা আনা হয়নি। আমার সুগারের ওষুধ প্রেশক্রিপশন ছাড়া দিচ্ছে না, এদিকে ডাক্তারের কাছেও নিয়ে যাচ্ছে না।

গৌতম সব শুনে গেলেও তার করবার কিছু নেই। একে তো তার সঙ্গে সঞ্জীবের কোনও আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই, সেখানে দেখা করতে দিয়েছে এটাই বিরাট। এরপর আর কোনওদিন আসতে হবে কিনা জানে না। এখানে সঞ্জীবের অনেক কিছু লাগবে। তার উকিল একজনের হাত দিয়ে কয়েক প্যাকেট বিস্কুট পাঠিয়েছিল। কিন্তু সঞ্জীবের একটা তেলের বাটি, আরেক সেট জামা-প্যান্ট, অনেক কিছুই লাগবে। কিন্তু পৌঁছাবে কে? স্কুলের বাকি কেউ আসবে না। এলে তাকেই আসতে হবে। প্রথমে সঞ্জীবের বাড়িও যেতে হবে। সেখানে তার মায়ের থেকে সব কিছু নিয়ে তারপর আবার এখানে আসা। ঝামেলার থেকে বড়ো কথা হল কিছু সমস্যা হলে তার পাশে কে দাঁড়াবে। সঞ্জীবের কথা শুনে যা মনে হল তার নিজের দাদা এই সমস্ত ঘটনার পিছনে আছে।

পরেরদিন স্কুল যেতে গৌতমের একটু দেরি হল। কিন্তু সঞ্জীবের সঙ্গে দেখা করবার ব্যাপারে কথা বলবার আগেই শুনল সঞ্জীবের শালা স্কুল ও অফিসে পঁচিশ পাতার একটা ডকুমেন্ট পাঠিয়েছে। হেডস্যার অরুণবাবু গৌতমকে দেখেই মুখ ছোটো করে বলে উঠলেন, ‘ছেলেটা মনে হয় বেরোতে পারবে না। এই দ্যাখো ওর শ্বশুরবাড়ি থেকে কীসব পাঠিয়েছে। শুধু আমাদের স্কুলে নয়, কত জায়গায় পাঠিয়েছে একবার দ্যাখো।’

(ক্রমশ…)

মশাবাহিত রোগের থেকে বাঁচার উপায়

২০শে আগস্ট থেকে বিশ্ব মশা দিবস পালিত হচ্ছে। মশাই পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্মক প্রাণী, যা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং অন্যান্য রোগ ছড়ায়। ভারত ম্যালেরিয়া হ্রাসে করতে সক্ষম হলেও, এখনও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে। তাই, মশাবাহিত সমস্ত রোগের থেকে কীভাবে বাঁচাবেন নিজেকে,সেই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা-র আনন্দপুরের  ফোর্টিস হাসপাতাল-এর ইন্টারনাল মেডিসিন-এর কনসালটেন্ট ডা. জয়দীপ ঘোষ।

মূল বার্তাটি হল— প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভালো। মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নেওয়া জীবন বাঁচাতে পারে।

এডিস মশার কামড়, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া বা জিকা সংক্রমণ করতে পারে, সাধারণত অন্যান্য মশার কামড়ের মতোই ছোটো লাল দাগের মতো দেখা যায়, যার সঙ্গে চুলকানি অথবা হালকা ফোলাভাব থাকে। তবে, এটি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে, যখন জ্বর বা ফ্লু-র মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এডিস মশা প্রায়ই শরীরের উন্মুক্ত অংশে, বিশেষকরে হাত, বাহু, পা এবং গোড়ালিতে কামড়াতে পছন্দ করে।  কারণ, দিনের বেলায় যখন মানুষ সক্রিয় থাকে, তখন শরীরের এই জায়গাগুলো  সবচেয়ে বেশি অ্যাক্সেসযোগ্য। রাতে ম্যালেরিয়া বহনকারী মশা কামড়ায়, দিনের বেলায় এডিস মশা কামড়ায়, সূর্যোদয়ের পরে ভোরে এবং সূর্যাস্তের আগে শেষ বিকেলে তাদের কার্যকলাপ সর্বোচ্চ হয়। এই সময় কামড় সম্পর্কে সতর্ক থাকা, প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা এবং প্রতিরোধক ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক মশার কামড়ের পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Ways to prevent mosquito-borne diseases
Dr Joydeep Ghosh

ডেঙ্গু জ্বর হল মশাবাহিত একটি ভাইরাল রোগ, যা সংক্রমিত এডিস ইজিপ্টাই মশা মানুষকে কামড়ালে এবং শরীরে ভাইরাস সংক্রমণ হলে ছড়িয়ে পড়ে। নিজেদের রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল— মশার কামড় প্রতিরোধ করা। এর অর্থ হল আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, মশার বংশবৃদ্ধির জন্য কোনও স্থির জল না রাখা নিশ্চিত করা এবং বাড়িতে এবং বাইরে মশা নিরোধক ব্যবহার করা। সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঋতু বা প্রাদুর্ভাবের সময়, মশার কামড় আটকাতে পূর্ণ-হাতা শার্ট এবং ট্রাউজার পরা সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে, ডেঙ্গুর জন্য কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। এই অসুস্থতা সাধারণত হঠাৎ করে উচ্চ জ্বরের সূত্রপাতের মাধ্যমে হয় এবং তীব্র মাথাব্যথা, পেশী ও জয়েন্টে ব্যথা এবং কখনও কখনও ফুসকুড়ি দেখা দেয়।

চার থেকে পাঁচ দিন পর, রোগীর প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে, পেটে ব্যথা হতে পারে, অথবা রক্তপাতের প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা জটিলতা নির্দেশ করে। মাড়ি, নাক, প্রস্রাব কিংবা মল থেকে রক্তপাত হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানিও ঘটতে পারে। চিকিৎসা প্রাথমিক ভাবে সহায়ক। হাইড্রেশন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা মৌখিক তরলের মাধ্যমে হোক বা আরও গুরুতর ক্ষেত্রে শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে হোক। যত্নের মধ্যে রয়েছে জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা, অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ দিয়ে ফুসকুড়ি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্লেটলেটের সংখ্যা বারবার পর্যবেক্ষণ করা। যদি প্লেটলেট অত্যন্ত কম মাত্রায় নেমে যায়, তাহলে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। সময়মত চিকিৎসা পরিসেবা এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, বেশিরভাগ রোগী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে সেরে ওঠেন।

সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হল

প্রান্তিক অঞ্চলের শত শত শিশুর কাছে ডিজিটাল জগৎ একসময় স্বপ্ন ছিল। অনেকেই কখনও কম্পিউটার স্পর্শ করেনি। আজ, সবকিছু বদলে যাচ্ছে। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এগিয়ে আসছে বিভিন্ন সংস্থা। এই যেমন তাজ বেঙ্গল কলকাতা, IHCL-এর অধীনে, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত কুলতলি ব্লকের ‘বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়’-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে স্কুলের প্রথম সম্পূর্ণ সজ্জিত আইটি ল্যাব উন্মোচন করেছে, যা প্রায় ৩০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

অনেকের কাছে, এটি কম্পিউটার এবং ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে তাদের প্রথম সরাসরি পরিচিতি, যা তাদের শিক্ষাগত এবং আধুনিক জীবনযাপনের স্বপ্নপূরণ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং অনু চৌধুরী মেমোরিয়াল এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত,  ‘বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়’-টি নার্সারি থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত শিশুদের শিক্ষা প্রদান করে, যাদের বেশিরভাগই দিনমজুর, অভিবাসী শ্রমিক এবং জেলে পরিবারের সন্তান। স্কুলটিতে পর্যাপ্ত জায়গা এবং ইচ্ছাশক্তি ছিল কিন্তু একটি আইটি ল্যাব তৈরি করার মতো অর্থের অভাব ছিল, যার ফলে মেধাবী এবং আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

‘আজকের বিশ্বে, ডিজিটাল সাক্ষরতা ঐচ্ছিক নয় – এটি একটি প্রয়োজনীয়তা’,  ‘অনু চৌধুরী মেমোরিয়াল এডুকেশনাল ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, ‘আমাদের শিশুরা মেধাবী এবং প্রতিভাবান, কিন্তু প্রযুক্তির অ্যাক্সেস ছাড়া তারা পিছিয়ে থাকে। আমরা এমন একটি ল্যাবের স্বপ্ন দেখেছিলাম, যা তাদের জন্য বিশ্বের জানালা খুলে দিতে পারে। তাজ বেঙ্গল কলকাতা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। ২০টি কম্পিউটার দান করেছে এবং শ্রেণীকক্ষকে একটি প্রাণবন্ত, আধুনিক আইটি ল্যাবে রূপান্তরিত করেছে। ল্যাবটি সম্পূর্ণরূপে নতুন রং,  নতুন মেঝে এবং কার্পেট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে, যা একটি অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করেছে,  যেখানে শিশুরা নতুন কিছু শিখতে এবং স্বপ্ন দেখতে পারবে।’

শিক্ষার্থীরাও সমান ভাবে রোমাঞ্চিত। ২০২৩ সালের সেরা ছাত্রী এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মন্দিরা দাস তার উত্তেজনা ভাগ করে নিয়ে জানিয়েছে, ‘আমরা অত্যন্ত খুশি যে আমরা স্কুলেই কম্পিউটার শিখতে পারি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে সাধারণত কম্পিউটার থাকে না। সম্ভবত কাছাকাছি সমস্ত গ্রামে একই অবস্থা। আজ আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা আমাদের স্কুলে শেখার জন্য কম্পিউটার এনেছেন এবং উপহার দিয়েছেন।’ ২০২৪ সালের সেরা ছাত্রী এবং ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত তিথি সরদার জানিয়েছে, ‘আমি কম্পিউটারে ডিজিটাল আর্ট শিখতে চাই।’

‘যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে আমরা গভীর ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ জানিয়েছেন তাজ বেঙ্গল কলকাতা-র জেনারেল ম্যানেজার অর্ণব চট্টোপাধ্যায়।  প্রসঙ্গত তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘প্রথমবার লগ ইন করার সময় এই শিক্ষার্থীদের মুখে উত্তেজনা দেখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এই আইটি ল্যাব তাদের স্বপ্নপূরণ করবে, তাদের ডিজিটাল অ্যাক্সেস প্রদান করবে। আসলে, আমরা তাদের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তোলার দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস দিলাম। এটি সুন্দরবনের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’

উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়

যত রকম কারণে অতিরিক্ত উদ্বেগ হয়, পরীক্ষার জন্য উদ্বেগ (Exam Anxiety) তার মধ্যে অন্যতম। পরীক্ষার আগে আপনার সন্তান অতিরিক্ত উদ্বেগের শিকার কিনা, তা শনাক্ত করার জন্য কোন লক্ষণগুলির দিকে নজর দেওয়া উচিত, তা জানতে হবে পিতামাতাকে। কেন অতিরিক্ত উদ্বেগের শিকার হচ্ছে পড়ুয়ারা কিংবা উদ্বেগের উপসর্গ চোখে পড়লে কী করতে হবে অভিভাবকদের, সেই বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট প্রজ্ঞাপ্রিয়া মণ্ডল।

অতিরিক্ত উদ্বেগ কী?

পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, পরীক্ষা দেওয়ার কৌশল বা অধ্যয়নের পদ্ধতি সম্পর্কে কম জ্ঞান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার ভয়, পরীক্ষায় ব্যর্থতার প্রবল ভয় প্রভৃতি থেকেই মূলত অতিরিক্ত উদ্বেগের শিকার হন বেশিরভাগ পড়ুয়া।

উদ্বেগের কারণ

নানারকম ভাবে উদ্বেগের শিকার হন অনেকে। কিন্তু পরীক্ষার আগে পড়ুয়াদের উদ্বেগ বাড়ছে। আসলে, অনেক পড়ুয়া একটি বড়ো ভুল করে। সারাবছর ধীরে ধীরে পরীক্ষার প্রস্তুতি না নিয়ে, পরীক্ষার ঠিক আগেই হঠাৎ খাওয়া-ঘুম ভুলে গিয়ে, রাতদিন মুখ গুঁজে লেখাপড়া করে। অনেক মা-বাবা পরীক্ষার আগেই বেশি করে লেখাপড়া করতে উৎসাহ জোগান সন্তানদের। কিন্তু, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিরামহীন লেখাপড়া করা যে কতটা চাপ তৈরি করে সন্তানের শরীরে-মনে, সেই বিষয়ে খুব বেশি ভাবিত নন কিংবা গুরুত্ব দেন না বেশিরভাগ অভিভাবক। কিন্তু পরীক্ষার আগের এই বাড়তি উদ্বেগ আপনার সন্তানের জন্য ভবিষ্যতে চরম বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর অতিরিক্ত উদ্বেগ নীরবে ঘাতকের ভূমিকা পালন করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

তাছাড়া, পরীক্ষার সময় টিভি দেখা নেই, গল্পের বই পড়া নেই, ফোনে কথা বলা নেই, পরিবার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো নেই— ঘুম থেকে জেগে শুধু পড়া আর পড়া। ধারাবাহিক ভাবে একা-একা শুধু পড়তে থাকা, একঘেয়েমি তৈরি করে মনের মধ্যে। এর ফলে অনেকে অবসাদের শিকার হন।

পরীক্ষায় ভালো ফল হবে না— এই আশঙ্কাতেও বহু ছেলেমেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। মা-বাবার স্বপ্ন সফল করতে পারবে না, এই হতাশায়ও অনেক সময় আত্মহননের পথ বেছে নেয় কেউ-কেউ। আগে মা-বাবারা সন্তানকে মেধাবী করে তোলার প্রতিযোগিতায় এমন নেমে পড়তেন না। পঠনপাঠন শেষ করে দীর্ঘদিন বেকার হয়ে থাকা সন্তানকে কায়ক্লেশহীন ভাবে মেনেও নেওয়া হতো বহু পরিবারে। এইসব নানারকম কারণে পড়ুয়া এবং অভিভাবক উভয়েরই বাড়ছে উদ্বেগ।

আজকাল তো মনোবিদরা অনেকেই চেষ্টা করছেন মা-বাবাকে বোঝাতে, যাতে সন্তানের উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তারা সৃষ্টি না করেন নিজেদের স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা নিয়ে। নতুন প্রজন্ম যাতে তার ইচ্ছেমতো বাঁচার পথ খুঁজতে পারে, সেই স্বাধীনতা দেওয়া হোক তাদের— এই বার্তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটি। অতএব, শুধু মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়াই যেন জীবনের লক্ষ্য না হয়, পৃথিবীতে আরও অনেক কিছুই করা যেতে পারে, যা হয়তো জীবনকে সার্থক করে তুলবে। অবশ্য এই ভাবনা অভিভাবকদের মনে কবে আশ্রয় নেবে, তা জানা নেই।

মা-বাবারা মনে করেন, মোটা অঙ্কের ফিজ দিয়ে সন্তানকে নামজাদা স্কুলে পড়ানোর উদ্দেশ্যই হল, তার একটি সুনির্দিষ্ট কেরিয়ার তৈরি করে দেওয়া। এরপর আছে এক্সট্রা-টিউটোরিয়াল, সিলেবাসের বাইরের নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানোর চাপ।

অবশ্য মা-বাবাকে পুরোপুরি দোষও দেওয়া যায় না। বিপুল প্রতিযোগিতা অতিক্রম করে সন্তান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, তা অভিভাবক মাত্রেই চান। কিন্তু শুধু ভাগ্যগুণে এই সাফল্য আসে না। এর মধ্যে বিপুল পরিশ্রমও জড়িয়ে থাকে। মা-বাবাদের দোষ আরও একটি কারণে দেওয়া যাবে না, তা হল বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে সন্তানরা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে আসক্ত। তাই দোষ দেওয়া উচিত প্রযুক্তির আবহকেও, যা ছেলে-মেয়েদের পরিশ্রম বিমুখ করে তুলছে।

দোষ স্কুলের সংগঠকদেরও দেওয়া উচিত, যারা পড়ুয়াদের অতিরিক্ত প্রতিযোগী করে তুলছেন। যে-একনিষ্ঠতা এবং পরিশ্রম সাফল্য এনে দেয়, সেই একাগ্রতা দিয়ে বহু ছেলেমেয়েই পড়াশোনা করে না, ফলে ব্যর্থতা আসছে। যা মেনে নিতে না পেরে তারা উদ্বেগের শিকার হচ্ছে।

সন্তানদের ভাবা উচিত, মা-বাবার প্রত্যাশা বা স্বপ্ন দেখায় অন্যায় নেই। অন্যায় হচ্ছে, নিজেকে ও তাদের ঠকানো। বিনা পরিশ্রমে সাফল্য আসে না। পরিশ্রম না করে পরীক্ষায় বা কেরিয়ারে অকৃতকার্য হয়ে অত্মহননে সমস্যা বাড়ে বই কমে না।

উদ্বেগের উপসর্গ

পরীক্ষার আগে যদি আপনার সন্তান খিটখিটে হয়ে ওঠে কিংবা কথায় কথায় মেজাজ হারিয়ে ফেলে, তাহলে বুঝতে হবে, সে অতিরিক্ত উদ্বেগে রয়েছে। যদি খুব চুপ করে থাকে, তাহলেও তা উদ্বেগের শিকার হওয়ার সংকেত হতে পারে। আর যদি ‘আমি পাশ করতে পারব না’ বলে কান্নাকাটি করে, তাহলে বুঝতে হবে উদ্বেগ বিপদের দরজায় কড়া নাড়াচ্ছে।

মাথা ঘোরা, বমি-বমি ভাব, বমি হওয়া, সবসময় মলমূত্র ত্যাগের বেগ অনুভব করা কিংবা কন্ট্রোল করতে না পারা ইত্যাদি, অতিরিক্ত উদ্বেগে শিকার হওয়া নিশ্চিত করে। আর এরকম পরিস্থিতিতে সন্তানকে নিজে সুস্থ করে তোলার ঝুঁকি না নিয়ে, যত দ্রুত সম্ভব মনোবিদ কিংবা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করা উচিত। তবে, উদ্বেগের শিকার হওয়া পড়ুয়াদের চিকিৎসার পাশাপাশি, তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবকদেরই।

উদ্বেগ কমানোর উপায়

কী কী কারণে পরীক্ষার আগে এবং পরীক্ষাকক্ষে আপনার সন্তান বিব্রত বোধ করে, তা জেনে নিন সন্তানের থেকে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চয়ই সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরতে পারবে আপনার সন্তান এবং সেই মতো সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করতে পারবেন আপনারা। উদ্বেগ কমানোর জন্য পড়ুয়াদের ভেবে নিতে হবে যে, পরীক্ষার উদ্বেগ একটি সাধারণ বিষয় এবং এটি মোকাবিলা করা সম্ভব। অতীতে পরীক্ষার সাফল্যের বিষয়টি মাথায় রেখেও উদ্বেগ কমানো যায়।

পরীক্ষার সময় মানসিক চাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সেই বিষয়ে শিক্ষাবিদ এবং মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারে পড়ুয়ারা। আর পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারবে কিনা, এই ভয় যদি থাকে আপনার সন্তানের, তাহলে পুরোনো প্রশ্নপত্র নিয়ে বাড়িতে পরীক্ষায় বসান আপনার সন্তানকে। এতে ভয় এবং উদ্বেগ দুটোই কমবে। এছাড়া, নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে পাওয়া যাবে সুফল। পরীক্ষার উদ্বেগ এড়াতে গেলে ক্যাফেইন, চিনি, নিকোটিন কিংবা সবরকম মাদকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে পড়ুয়াদের।

মনে রাখবেন, মস্তিষ্ক বিশ্রাম না পেলে, স্মরণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। যদি আমাদের মস্তিষ্ককে মেমরি স্টোর করার বাক্স হিসাবে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে সেই বাক্সটিরও যত্ন নিতে হবে। আর এই যত্ন নেওয়ার মধ্যে প্রধান ভূমিকায় থাকে বিশ্রাম। উদ্বেগ কমাতে হলে, বিশ্রাম নেওয়া আবশ্যক।

যদি সম্ভব হয়, তাহলে সপ্তাহে যে-কোনও একটি দিন, কয়েক ঘণ্টা বাড়ির আশপাশে কোথাও কোনও সুন্দর প্রকৃতিতে নিয়ে যান আপনার সন্তানকে এবং তার সঙ্গে আপনিও কিছুটা সময় কাটিয়ে আসুন

হাসি-মজা করতে করতে। এতে অতিরিক্ত উদ্বেগ দূর হবে। আর জানেন তো, শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ না হওয়া আপনার সন্তানের শরীরের পক্ষে ভালো।

লেখাপড়া করার পরে ঘুমানো অত্যন্ত উপকারী। স্মৃতিশক্তি মজবুত করতেও ঘুমের জুড়ি নেই। এছাড়া, প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ আন্তরিক কথোপকথন, প্রাণভরে হাসা, হালকা যোগব্যায়াম করা, অল্প হাঁটাহাঁটি করা কিংবা দশ মিনিটের জন্য নাচ-গান করেও উদ্বেগ কাটানো যায়।

সন্তানের মানসিক ভারসাম্য এবং সুস্থতা বজায় রাখার জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক আহার এবং চাপমুক্ত মন। এর জন্য সতর্ক থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে অভিভাবকদের। এক্ষেত্রে যদি নিজেরা বিফল হন, তাহলে মনোবিদের সাহায্য নিন সঠিক সময়ে।

প্রেমের সম্পর্ক সর্বদা মধুর হয় না কেন?

সব প্রেমের সম্পর্কই কি মধুর হয়? -এই প্রশ্নের উত্তরে নির্দ্বিধায় বলা যায় — হয় না। কিন্তু সম্পর্কে যারা সততা রাখেন, তারা সুখের স্বপ্নে বিভোর থাকেন। আসলে, যে আবেগ নিয়ে প্রেমের সম্পর্কের সূচনা হয়, সেই আবেগের বশেই কিছু ভুল করে বসেন অনেকে। তরুণ-তরুণীরা প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত হলে বেশিরভাগ সময় যে ভুলটি করে বসেন, তা হল— প্রি-ম্যারিটাল সেক্স। অভিভাবকরাও বুঝতে পারেন না যে, তরুণ প্রজন্মের এই যৌন স্বাধীনতার বিষয়টিতে ঠিক কতটা অভিভাবকত্ব দেখাবেন কিংবা কী ভূমিকা নেবেন। কিন্তু, বাস্তব এটাই যে, প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর প্রবণতা বাড়ছে।

আসলে, সেক্স বিষয়টিকে খুব সাধারণ ভাবে দেখা ভুল হবে। বয়ঃসন্ধি থেকে শরীরে যে হরমোনাল পরিবর্তন আসে, তার ফলে অবধারিত ভাবে তৈরি হয় যৌন চাহিদা। তাই, সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও মনের পাশাপাশি প্রচ্ছন্ন শরীরের টানও থাকে অনিবার্য ভাবে। কেউ হয়তো সংযম মেনে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকেন, কেউ আবার তা পারেন না। আবার কেউ হয়তো সামাজিক অনুশাসনের কথা মাথায় রেখে কিংবা ভয়ে নিজেকে সংযত রাখেন। আসলে প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর বিষয়টির ভালো-মন্দ নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষে।

তরুণ-তরুণীর সম্পর্কের ভিত কতটা মজবুত তার উপরও প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর ভালো-মন্দ অনেকাংশে নির্ভরশীল। দু’জন-দু’জনকে ভালো ভাবে জানা, বোঝার পর উভয়ের সম্মতিতে প্রি-ম্যারিটাল সেক্স হলে তার ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হয়তো হবে না। তবে বিষয়টি এত সহজ নয়, এর অনেক জটিল দিক আছে। যেমন, একবার শারীরিক তৃপ্তির স্বাদ পেয়ে গেলে, পরস্পরকে ছেড়ে থাকা প্রায় অসম্ভব। তখন, ওই উঠতি বয়সে বারবার যৌনসুখ লাভের ইচ্ছে হবে।

যদি কেরিয়ার গড়ার জন্য কিংবা অন্য কোনও কারণে বিয়ে করতে দেরি হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সেক্স-এর চাহিদা ঘনঘন মেটাতে পারলে ভালো, নয়তো সম্পর্ক বজায় রাখার ব্যাপারে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই সময় হবু বউ কিংবা বর যদি একজন অন্যজনকে শারীরিক ভাবে না পান, তাহলে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে তৃতীয় কারওর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ারও একটি দ্বিতীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা সুখকর নয়।

প্রি-ম্যারিটাল সেক্স-এর অন্য একটি দিকও আছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েসঙ্গী শারীরিক সুখ দিয়ে ছেলেটির প্রতি তার প্রগাঢ় ভালোবাসা জাহির করতে চায়। আর পুরুষসঙ্গীটি প্রমাণ করতে চায় তার পৌরুষত্ব। এটা কোনও খারাপ বিষয় হয়তো নয়। কিন্তু বিবাহপূর্ব দীর্ঘ এই শারীরিক মিলনের পর যদি কোনও কারণে সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে, সমূহ বিপদ মেয়েটির।

প্রথমত, যার সঙ্গে সে এতদিন শরীরী সুখ পেয়েছে, তাকে ভুলে থাকা খুব কঠিন। দ্বিতীয়ত, এই শারীরিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি যদি জানাজানি হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনও ছেলে সহজে বিয়ে করতে চাইবে না ‘ভার্জিন’ নয় বলে। এক্ষেত্রে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোয় ছেলেটির খুব একটা ক্ষতি হবে না। কারণ, যে যাই বলুক, বাস্তব হল, প্রেমিক-প্রেমিকার শারীরিক মিলনের বিষয়টি লোকে জেনে গেলে, পুরুষসঙ্গীর ভার্জিনিটি নিয়ে কেউ তেমন প্রশ্ন তোলেন না। দোষারোপের আঙুল ওঠে মেয়েটির উপরই বেশি। যেন গর্হিত অপরাধটা মেয়েটি একাই করেছে। সমাজ প্রাক বৈবাহিক যৌনতাকে এখনও অনুমোদন করে না।

বিবাহ-পূর্ব যৌনতার প্রতারণার বিষয়টিকেও মাথায় রাখতে হবে। ছেলে এবং মেয়ে যে-কেউ প্রতারণার শিকার হতে পারেন। কীভাবে? দু’ভাবে। এক- অনেক পুরুষ আছে যারা শরীরী সুখ পাওয়ার জন্য ভালোবাসার ভান করে মেয়েটির সঙ্গে। তারপর সাধ মিটে গেলে কিংবা বিয়ের চাপ দিলেই নিজেকে সরিয়ে নেয় কিংবা ঝগড়া ঝামেলা অথবা মেয়েটিকে দোষারোপ করে সম্পর্কের ইতি টানে। দুই- কোনও ছেলে যদি মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার পর মেয়েটিকে একাধিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে দেখে কিংবা কোনও অপছন্দের কারণে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে তখন তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কারণ, মেয়েটির মনে কুমতলব থাকলে সে হাতিয়ার করতে পারে যৌনমিলনকে। গুরুতর অভিযোগ আনতে পারে পুরুষ সঙ্গীটির বিরুদ্ধে।

‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস’-এর অভিযোগ আনলে ছেলেটি গুরুতর শাস্তি পেতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে জেল এবং জরিমানা দুই-ই হতে পারে ছেলেটির। এরকম ঘটনার খবর মাঝেমধ্যেই হইচই ফেলে দেয়। টলিউডের এক অভিনেতা ঠিক এই অভিযোগে জেলও খেটেছেন কিছুদিন। এক বিশিষ্ট তরুণ রাজনৈতিক নেতাও এই অভিযোগে আইনি সমস্যায় জড়িয়েছিলেন কিছুদিন আগে।

আসলে, প্রেম ও যৌনতার অবস্থান খুবই কাছাকাছি। প্রেম এলে যৌনতা পিছু নেবেই। বয়ঃসন্ধিকালে যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকে তীব্র। তাই ওই সময়ের প্রেমে বিয়ের আগে সেক্স ঢুকে পড়ে সহজেই। যদি উভয়ে সম্পর্কে সৎ এবং দায়বদ্ধ থাকেন, তাহলে সুরক্ষিত যৌন সম্পর্কে হয়তো তেমন কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু বিয়ের আগে দীর্ঘদিন যদি শারীরিক মিলন ঘটে, তাহলে তা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, বিয়ের পরে পরস্পরকে নতুন করে আর আবিষ্কার করার থাকে না এবং একঘেয়েমি থেকে তৃতীয় সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার চান্স থাকে প্রবল। তাছাড়া, এমন অনেক ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে, সম্পর্কের অন্ধ আবেগে কিংবা অল্প বয়সের অজ্ঞতার কারণে অনেকে ভুল করে বসেন। কেউ বিয়ের আগেই ‘মা’ হয়ে যান, কেউ বা আবার সঙ্গীর সম্পর্কে বিশদে খোঁজখবর না নিয়ে প্রতারিত হন। অতএব যাই করুন না কেন, সতর্কতা জরুরি।

স্পেশাল হিং-কচুরি আর হিং-আলুর দম

জমিয়ে খেতে ইচ্ছে করে সবার। আর ভালো খাবারের মধ্যে পছন্দের তালিকায় থাকে হিং-কচুরি আর হিং-আলুর দম। এই খাবার যেমন মুখরোচক, তেমনই ছোটোবড়ো সব্বাই খেতে পারে সকাল- বিকেল যে-কোনও সময়। খুবই সামান্য উপকরণ দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু খাবার। আপনিও ট্রাই করতে পারেন যে-কোনও দিন।

হিং-কচুরি

উপকরণ: ১/২ কাপ চিনা বাদাম, ২ ছোটো চামচ বাটার, ১ ছোটো চামচ গোটা ধনে, ১ ছোটো চামচ ‘এলজি’ ব্র্যান্ড-এর হিং, ১ ছোটো চামচ কাশ্মীরি লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ কাজুবাদামকুচি, ভাজার জন্য রিফাইন্ড তেল, ২৫০ গ্রাম ময়দা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ১ চামচ বাটার দিন প্যানে। বাটার গরম হলে চিনা বাদাম ভেজে নিন। সুগন্ধ বের হতে শুরু করলে গ্যাস অফ করে দিয়ে ঠান্ডা করুন। এবার এই ভাজা বাদাম মিক্সিতে দিয়ে মিহি করে বেটে নিন। এতে ধনে, জিরে,  হিং ও কাশ্মীরি লংকাগুঁড়ো দিয়ে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করুন। এবার ওই মিশ্রণে দিন কাজুবাদাম, নুন ও ২-৩ ফোঁটা তেল৷ আবার মিক্সিতে পেস্ট করুন।

অন্য একটি পাত্রে ময়দা ঢালুন। এতে ময়ানের জন্য তেল, অল্প নুন আর জল দিন। ময়দা মাখতে থাকুন। সমান আকারের লেচি কেটে নিন মাখা ময়দা থেকে। এবার তৈরি করা মিশ্রণ থেকে অল্প পরিমাণে নিয়ে ময়দার ভিতরে পুর হিসেবে ভরুন। পুরভরা লেচি বেলে নিন। কড়ায় তেল গরম করে, কচুরি ভেজে নিন। এগুলি এয়ারটাইট কন্টেনার-এও স্টোর করতে পারেন অতিথিদের জন্য।

হিং-আলুর দম

উপকরণ: আধা কিলো আলু, ২৫০ গ্রাম টম্যাটো, ৪ ছোটো চামচ টক দই, ৫০ গ্রাম আদা, ৪-৫টা কাঁচা লংকা, ২ ছোটো চামচ ঘি, হাফ ছোটো চামচ ‘এলজি’ ব্র্যান্ড-এর হিং, ২-৩টে শুকনো লংকা, ১ ছোটো চামচ গোটা জিরে, ১ ছোটো চামচ জিরেগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, আধা চামচ হলুদগুঁড়ো, চিনি, সামান্য নারকেল কোরা এবং নুন স্বাদমতো, ২-৩টে তেজপাতা, কাশ্মীরি লংকার গুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ গরমমশলার গুঁড়ো, সামান্য ধনেপাতা এবং পরিমাণ মতো তেল।

প্রণালী: প্রথমে আলু ধুয়ে কেটে নুন ও হলুদ মাখিয়ে গরম তেলে ভেজে নিন। টম্যাটো, আদা এবং লংকা বেটে রাখুন। এবার কড়াইতে পরিমাণ মতো তেল গরম করে চিনি দিন। চিনি লাল বর্ণ ধারণ করলেই ভেজে রাখা আলু দিন। ঠিক এক মিনিট পর বেটে রাখা মশালা দিয়ে আলুর দম কষতে থাকুন। আলু- মশালা বাদামি বর্ণ হয়ে এলে একটু ঘি মিশিয়ে তাতে হিং, জিরে, শুকনোলংকা, তেজপাতা এবং গুঁড়ো মশলা দিয়ে ভালো ভাবে নাড়াছাড়া করতে থাকুন ২ মিনিট। এবার টক দই মেশান এবং আবার কষতে থাকুন। এরপর সামান্য জল ঢেলে ঢেকে রাখুন ২ মিনিট। নামানোর আগে গরমমশলার গুঁড়ো, নারকেল কোরা এবং ধনেপাতাকুচি যোগ করে হিং-আলুর দম পরিবেশন করুন হিং-কচুরির সঙ্গে।

মধ্যপ্রদেশের অফবিট গন্তব্য

মধ্যপ্রদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সন্দেহাতীত ভাবে পর্যটকদের মুগ্ধ করে চলেছে। বলা যায়, ঐতিহ্য রক্ষায় মধ্যপ্রদেশ একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছে। সেইসঙ্গে, ভাগোরিয়া নৃত্য, গণ্ড চিত্রকলাও নজর কেড়ে চলেছে পর্যটকদের। আর এই অপার সৌন্দর্যের কারণে বহু সিনেমার শ্যুটিং হয়ে চলেছে মধ্যপ্রদেশে। মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ত্রী টু’ এবং ‘লাপাতা লেডিস’ সহ বেশ কয়েকটি সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এই রাজ্যে। এছাড়া, ২০২৪ সালে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর অভিনয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে ‘মোহ লিয়া রে’ শীর্ষক একটি ভিডিয়ো ক্যাম্পেইন। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র, উজ্জইন, ওরছা, খাজুরাহো, বান্ধবগড়, কানহা, পান্না, পেঞ্চ এবং সাতপুরার জঙ্গলকে তুলে ধরা হয়েছে এই ট্যুরিজম বিজ্ঞাপনে। আর এবার এই পর্যটন সাফল্যকে মাথায় রেখে, মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ২০২৫ সালে রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও ঢেলে সাজাবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্রুজ পর্যটন, টেক্সটাইল পর্যটন, গ্রামীণ পর্যটন এবং কুলুঙ্গি পর্যটনের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে চলেছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দপ্তর।

মেঘনাথ ঘাট সংযোগকারী ভারতের প্রথম আন্তঃরাজ্য ক্রুজ রুট চালু করতে চলেছে মধ্যপ্রদেশ। এই সংযোগ তৈরি হবে সাকারজা মধ্যপ্রদেশের হাফেশ্বর এবং গুজরাটের মোখাদির সঙ্গে। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটটি দিয়ে যাতায়াতের সময় দুই পাড়ের শান্ত এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। সাকারজাতে একটি অত্যাধুনিক সৌরশক্তিচালিত ক্রুজ টার্মিনালও নির্মাণ করা হচ্ছে, যা প্রধান শহরগুলির সঙ্গে সংযোগ ঘটাবে। গান্ধীসাগর, চান্দেরি এবং কুনো ছাড়াও, নতুন নতুন পর্যটন গন্তব্য চালু করার পরিকল্পনা চলছে মধ্যপ্রদেশে। মাঞ্জু, ওরছা, তামিয়া এবং আরও কয়েকটি জায়গায় সারাবছর আরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনাও রয়েছে এই রাজ্যে।

২০২৫ সালে নতুন বিমান পরিসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে ভোপাল, জবলপুর এবং খাজুরাহো থেকে সাতনা পর্যন্ত। ভোপাল মিন্টো হলের কাছে গড়ে উঠতে চলেছে ১০০ কোটি টাকা বাজেটের একটি নতুন বিশ্বমানের কনভেনশন সেন্টার। গ্রামীণ পর্যটন মিশনের অধীনে ৩৫০টি হোমস্টে চালু হবে ২০২৫ সালে। নর্মদা পর্যটনেরও প্রসার ঘটানো হবে। এই বছর স্কাইডাইভিং ফেস্টিভ্যালকে আরও বর্ণময় করে তুলবে বলেও এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দপ্তর।

হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের উৎসব ছাড়াও, ভোপালের গীতা মহোৎসব, উজ্জইনের ‘ডমরু’ উৎসব এবং খাজুরাহোর নৃত্য উৎসব উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। সম্পূর্ণ মহিলাচালিত রেস্তোরাঁর খাবার খেয়েও তৃপ্তিলাভ করার সুযোগ আছে মধ্যপ্রদেশে।

হিস্টোরিক্যাল হেরিটেজ

মধ্য প্রদেশের হিস্টোরিক্যাল হেরিটেজ সাইটগুলি পেয়েছে বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ইউনেস্কো-র সম্ভাব্য তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই রাজ্যের চারটি স্থান। মধ্য প্রদেশের অশোকের শিলালিপি স্থান, চৌষট যোগিনী মন্দির, গুপ্ত আমলের মন্দির এবং বুন্দেলদের প্রাসাদ (দুর্গসমূহ) ইউনেস্কোর মনোনয়নে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সম্প্রতি। এই অন্তর্ভুক্তি ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করা হয়েছে মধ্য প্রদেশের পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে।

মৌর্যপথ বরাবর অশোকের শিলালিপি স্থল ভারতের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে বৌদ্ধধর্ম, শাসনব্যবস্থা এবং নীতিশাস্ত্র সম্পর্কে সম্রাট অশোকের বার্তা প্রকাশকারী শিলা এবং স্তম্ভের শিলালিপিগুলি ২,২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ পর্যটকদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে সাঁচি স্তম্ভের শিলালিপি, জবলপুরে রূপনাথ মাইনর শিলালিপি, দাঁতিয়ায় গুজ্জারা মাইনর শিলালিপি এবং সেহোরে পাঙ্গুরারিয়া মাইনর শিলালিপি।

চৌষট যোগিনী মন্দিরগুলি নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর নিদর্শন। খাজুরাহো, মোরেনা, জবলপুর, মান্দসৌর এবং শাহদোল-এর অনন্য রাউন্ড শেপ, উপরে খোলা আকাশ, জটিল পাথরের খোদাই প্রভৃতি দেখে মুগ্ধ হতে হবেই পর্যটকদের।

রায়সেন জেলার সাঁচিতে গুপ্ত মন্দির, বিদিশা জেলার উদয়গিরি, পান্না জেলার নাচনা মন্দির, কাটনি জেলার তিগাওয়া, সাতনা জেলার ভুমারা, দামোহ জেলার সাকোর, সাগর জেলার দেওরি এবং গোয়ালিয়র জেলার পাওয়া-সহ উত্তর ভারতের গুপ্ত মন্দিরগুলি মন্দির স্থাপত্যের এক যুগান্তকারী মোড়ককে তুলে ধরেছে।

গড়কুণ্ডার, রাজা মহল, জাহাঙ্গীর মহল, দাঁতিয়া প্রাসাদ এবং ধুবেলা প্রাসাদের মতো বুন্দেলাদের প্রাসাদ-দুর্গ রাজপুত এবং মুঘলশৈলীর এমন এক অত্যাশ্চর্য মিশ্রণ প্রদর্শন করে, যা বুন্দেলা যুগের কারুশিল্প, সামরিক দক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে তুলে ধরে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরও জানানো হয়েছে, গত বছর ইউনেস্কো মধ্য প্রদেশের ছয়টি ঐতিহ্যবাহী স্থানকে তাদের অস্থায়ী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেমন— গোয়ালিয়র দুর্গ, বুরহানপুরের খুনি ভাণ্ডারা, চম্বল উপত্যকার শিলা শিল্প স্থান, ভোজপুরের ভোজেশ্বর মহাদেব মন্দির, মণ্ডলার রামনগরের গোণ্ড স্মৃতিস্তম্ভ এবং ধমনারের ঐতিহাসিক সমাহার। এই সর্বশেষ অন্তর্ভুক্তি মিলে মধ্যপ্রদেশের মোট ১৮টি স্থান ইউনেস্কো-র স্বীকৃতি পেল। এর মধ্যে স্থায়ী তালিকায় স্থান পেয়েছে তিনটি (খাজুরাহো মন্দির, ভীমবেটকা শিলা আশ্রয়স্থল এবং সাঁচির বৌদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ) এবং অস্থায়ী তালিকায় স্থান পেয়েছে ১৫টি।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব