মন রাঙানোর রং

রং আমাদের চিন্তা-ভাবনা, বোধ-বুদ্ধিকে বিকশিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আকর্ষণীয় এবং সহজে দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে  রং-এর বাহার। শুধু তাই নয়, রং আমাদের এনার্জি লেভেলকেও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। সঠিক অনুপাতে যদি রঙের ব্যবহার করা হয় তাহলে বিশেষ কিছু রং এবং তাদের মিশ্রণ মুহূর্তে ঝিমিয়ে পড়া পরিবেশে প্রাণের স্পর্শ এনে দিতে পারে।

আলাদা আলাদা সাজাবার জিনিস যেমন পেন্টিং, ল্যাম্প, ফুলদানি, ওয়ালপেপার, গাছ, ফুল, লাইট, শিল্পকলা, মূর্তি, ফার্নিচার ব্যবহার করে বিভিন্ন রং-এর সমাবেশ করা যায়। এগুলোর সঙ্গেই সাজাবার জিনিসপত্র যেমন, মোমবাতি থেকে শুরু করে সফ্ট ফার্নিশিং যেমন পরদা, ড্রেপ, কুশন, টিউব পিলো, বেড ও বাথরুম লিনেন, ডাইনিং টেবিল সেট, ম্যাট, রানার ইত্যাদির রং, ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

রান্নাঘরে কিচেন ওয়্যার যেমন ক্রকারি, বেক অ্যান্ড সার্ভ ওয়্যার, ট্রে ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন রং মিলিয়ে মিশিয়ে ঘরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলাই যায়। ট্রেন্ডি শেড্‌স, প্যাটার্ন এবং প্রিন্ট-এর সমন্বয়ে তৈরি ফ্যাব্রিক ব্যবহার করে বাড়ির সৌন্দর্য-কে সম্পূর্ণ করে তুলতে পারেন।

অনেক সময় রং বাছতে গিয়ে কনফিউশন তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রং বাছার দায়িত্বে প্রফেশনাল হায়ার করাও যেতে পারে।

এক্সপার্ট-ই বলে দিতে পারবেন গৃহকর্তার জন্য কোন কোন রং উপযুক্ত এবং বাড়ির সকলের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সেই রং কতটা সাহায্য করতে পারে।

লাল রং

গতিশীলতা, উৎসাহ এবং দৃঢ় সংকল্পের রং হল লাল। আবার স্বেচ্ছাচারিতা, ক্রোধ সংবরণ করতে না পেরে মুহূর্তে ক্রোধিত হয়ে ওঠারও প্রতীক হল লাল রং। লাল রং এতটাই ডায়নামিক যে, এই রং যারা পছন্দ করে তারাও ততটাই উৎসাহী এবং বর্হিমুখী স্বভাবের এবং একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।

নীল রং

এই রং বিশ্বাস, নিষ্ঠা, সুব্যবস্থা, শান্তি এবং ধৈর্যের প্রতীক। যারা এই রং পছন্দ করে তারা সাধারণত দয়ালু, আশাবাদী এবং অনুমান করার ক্ষমতা রাখে। তাছাড়াও এরা কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে সহজে তাকে ক্ষমা করতে পারে না এবং ব্যক্তিগত ভাবে তারা খুব একাকী হয়।

সবুজ রং

সবুজ রং যারা পছন্দ করে তাদের মস্তিষ্ক এবং হৃদয়ের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া চলতে থাকে। এরা সাধারণত সংবেদনশীল, প্রকৃতিপ্রেমী, ব্যবহারকুশল এবং পরিবারের জন্য সমর্পিত হয়।

হলুদ রং

পজিটিভ এবং নেগেটিভ মানসিকতার মিশ্রিত রং হল হলুদ। এই রং যেমন আশাবাদী, উৎসাহ, বুদ্ধমত্তা এবং তার্কিক স্বভাবের প্রতীক তেমনই এই রং কোনও ব্যক্তিকে বিশ্লেষণধর্মী, কুণ্ঠিত স্বভাব এবং অহংকারীও করে তোলে।

সাদা রং

পূর্ণতার রং হল সাদা। স্বতন্ত্রতা এবং পবিত্রতার প্রতীক এই রং যেমন প্রেরণা জোগায় তেমনি ঐক্য, সদ্ভাব, সমানাধিকার এবং পূর্ণতা প্রদান করে।

বেগুনি রং

এই রং যারা পছন্দ করেন তারা সৗম্য, উৎসাহী এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। অপরের উপর নির্ভরশীল হন ফলে সংসারের দৈনন্দিন দায়িত্বগুলি এড়িয়ে চলাই পছন্দ করেন। লোক চিনতে এদের ভুল হয় না এবং নিজেকে সিংহাসনে আসীন দেখতে ভালোবাসেন।

ধূসর রং

গ্ল্যামারাস রং হিসেবে এটিকে গণ্য করা হয়। নিরাশাজনক, বোরিং, উদাসীন হওয়া সত্ত্বেও এটি সুন্দর, পরিপক্ব এবং ক্লাসিক একটি রং। এটি স্থিরতা এবং শালীনতার সঙ্গে সঙ্গে সৗম্য ব্যক্তিত্বেরও পরিচয় বহন করে।

কালো রং

দৃঢ়, সীমিত, সুন্দর, আকর্ষণীয়, ঠান্ডার আমেজ এনে দেয় কালো রং। গাঢ় এই রংকে অনেকে অশুভ মনে করে। এই রং-এ লুকিয়ে আছে রহস্যের ছোঁয়া, নিরাশা এবং জীবনকে প্র্যাকটিকাল হয়ে বিচার করার মানসিকতা।

বাদামি রং

যারা এই রং পছন্দ করেন তারা স্বভাবে গম্ভীর এবং মাটির খুব কাছাকাছি মানুষ হন। ভদ্র স্বভাবের এই মানুষরা খুব সহজ সরল এবং নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও কৃপণ স্বভাবের হয়ে থাকে সাধারণত।

কমলা রং

উচ্ছলতা এবং রোমাঞ্চ যারা ভালোবাসেন, আকর্ষণীয় এই রং-টি তাদের জন্য। সহৃদয়, আশাবাদী, খোশমেজাজি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এরা অসামাজিক এবং অত্যন্ত অহংকারী প্রকৃতির হয়ে থাকেন।

দুই পাহাড়-সুন্দরী বড়ামাঙ্গোয়া-স্যাংশের

রাস্তার পাশে সবুজ গালিচায় রঙবেরঙা পাহাড়ি ফুল। দূরে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে বরফের চাদর।নীচে তিস্তা৷ নদীর বয়ে আনা নুড়ি-পাথরের স্তূপ বাঁচিয়ে আঁকাবাঁকা পাথুরে পথ। উত্তরের পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা নালায় সেই পথও কোথাও কোথাও আবার বরফগলা জলের তলায় মুখ লুকিয়েছে।পাকদণ্ডি বেয়ে যত উপরে উঠবেন, নীচে বয়ে চলা তিস্তা নদী ততই ফিতের মতো সরু দেখতে লাগবে।। উপত্যকা জুড়ে সবুজের উপস্থিতি৷ এভাবেই উঠতে উঠতে একসময় পোঁছে যাবেন বড়ামাঙ্গোয়ায়৷

বড়ামাঙ্গোয়া : দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে নানা ছোটো ছোটো গ্রামে এখন গড়ে উঠেছে ইকোটুরিজম বা হোমস্টে। তারই অঙ্গ হিসেবে পর্যটন ম্যাপে উঠে এসেছে বড়ামাঙ্গোয়ার নাম। এই অঞ্চলের মানুষজনের বাগান ঘেরা বাড়িতেই, পর্যটকরা গিয়ে থেকে আসতে পারেন। পাহাড়ি মানুষের আন্তরিকতা আর নিসর্গের উষ্ণ আলিঙ্গনে, দিন তিনেক কাটবে বেশ। নেপালি রান্নার স্বাদ, রং-বেরঙের ফুল আর পাহাড়ের সৌন্দর্যে মন ভরে যাবে। হোটেলে থাকার চেয়ে একদমই আলাদা এক অভিজ্ঞতা।

তিস্তাবাজার থেকে চড়াই রাস্তা গেছে তাকদার দিকে। এই পথেই ৬ কিলোমিটার বেঁকে গেলেই বড়ামাঙ্গোয়া। বাগানের মাঝে রয়েছে সাজানো ছবির মতো কটেজ। সামনের পাহাড়টাই কালিম্পং।

এই পাহাড় সুন্দরীর দিনের রূপ আর রাতের সৌন্দর্য দুই-ই বর্ণনাতীত। রাতে কালিম্পং শহরের আলোগুলো হাজার হাজার তারার মতো মিটিমিটি জ্বলতে থাকে। পূর্ণিমার রাত হলে তো কথাই নেই। অপার্থিব এক দৃশ্যের শরিক হবেন। শীতে গোটা গ্রামটাই ভরে ওঠে কমলালেবুতে। অজস্র কমলালেবুর গাছ এই অঞ্চলে। আছে একটি মনাস্ট্রি আর একটা গুহাও। ডে-ট্রিপে ঘুরে নিতে পারেন তাকদার অর্কিড হাউস, চা-বাগান প্রভতি। প্রকৃতির সান্নিধ্যে মন ভালো করার ঠিকানা বড়ামাঙ্গোয়া।

কীভাবে যাবেন : এনজেপি থেকে দার্জিলিং বা সিকিমগামী বাসে বা গাড়িতে তিস্তাবাজার। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিন বড়ামাঙ্গোয়ার।

কোথায় থাকবেন : এম কে প্রধান- ৯৮০০০ ৭২৬৩৯।

Travelogue Sangser

স্যাংশের

জায়গাটার নাম স্যাংশের। ছবির মতো সুন্দর এক পাহাড়ি গ্রাম। কালিম্পঙের অদূরে হিমালয়ে কোলে, জঙ্গুলে পরিবেশে যারা নির্জনবাসের কথা ভাবেন স্যাংশের তাদের হতাশ করবে না। কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ ভিউ, আর অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ঠিকানা স্যাংশের। শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ৮০ কিমি দূরে, সমুদ্রতল থেকে ৪০০০ ফিট উচ্চতায় এর অবস্থান।

গ্রামের নীচ দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা আর পাহাড়ি ফুলে ঢাকা পথ সহজেই মন কেড়ে নেয় পর্যটকদের। সিল্ক রুট টুরের আগে কেউ কেউ এখানে এক রাত কাটিয়ে যান। বার্ড ওয়াচারদের জন্যও খুব আইডিয়াল এই জায়গা।

কীভাবে যাবেন : শেয়ার জিপে-এ শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং। গাড়ি স্ট্যান্ডে নেমে স্যাংশের যাওয়ার গাড়ি ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন : একটা মাউস ক্লিকেই স্যাংশের-এ থাকার জন্য পাবেন একাধিক হোম স্টে-র হদিশ। ইকো কটেজগুলি ইকো ফ্রেন্ডলি। পাবেন আন্তরিক আতিথেয়তা আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ অভ্যর্থনা। ভাড়া ১২০০ টাকার মধ্যে।

সাদা চা-এ ফিটনেসের রহস্য

চায়ের নেশা কমবেশি সকলেরই আছে। কেউ হয়তো দিনের শুরুটা করেন লেবু-চা দিয়ে বা দুধ দেওয়া আদা চায়ে,কারও আবার গ্রিন-টি পছন্দ। যেভাবেই পান করুন, চায়ে কিছু কার্যকরী গুণাগুণ রয়েছে, একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের শরীরের সর্বাঙ্গীন স্বাস্থ্যরক্ষা হয় চায়ে৷

আর এই বিবিধ চায়ের রাজ্যে, একটি জাত হল হোয়াইট টি৷এই চা তৈরি হয় ক্যামেলিয়ার পাতা থেকে।এই সাদা চা, শরীরে মজুদ ফ্রি র‌্যাডিকেল্স-এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়৷অসম্ভব শক্তিশালী হোয়াইট-টি-তে থাকা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস্। এছাড়া এর পলিফিনিয়ল তত্ত্বও একই ভাবে সুরক্ষা দেয় হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যা থেকে।

রোজ এক কাপ করে হোয়াইট-টি পান করার ফলে, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই চায়ের অন্যান্য গুণগুলি হল–

  • ইনসুলিনের মাত্রায় তারতম্য হওয়ার কারণে, শরীরে প্রাণহানীর সংশয় পর্যন্ত হতে পারে। এই চা প্রাকৃতিক ভাবে ডায়াবেটিজ জনিত সমস্যাগুলি থেকে সুরক্ষা দেয়
  • স্কিন এবং এজিং রোধ করে
  • ক্যানসার-এর সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা প্রদান করে
  • স্ট্রেস কমায়।

Tea variants

আয়ু বাড়াতে চা

চা খেতে ভালোবাসেন যারা, তারা এবার চা-পানের স্বপক্ষে আরও একটি যুক্তি দেখাতে পারবেন। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা জানিয়েছে, বেশিদিন বাঁচতে সহায়তা করছে চা। আপনি যদি ততটা চা-প্রেমী না-ও হন, তাহলেও কিন্তু এই তথ্যটা আপনার জেনে রাখতে বাধা নেই।

চাইনিজ আকাদেমি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সের একটি গবেষণা পত্রে প্রকাশিত হয়েছে, ইউরোপের কার্ডিয়োলজি বিষয়ক একটি বিশেষ বিজ্ঞানপত্র। সেখানে বলা হয়েছে, দিনে তিনবার বা তার বেশি চিনি ছাড়া লিকার চা পান করলে, কার্ডিয়োভাস্কুলার রোগের সমস্যা অনেক কমে যায়।

চায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থিওব্রোমাইন রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। থিওফিলিন আবার শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত চলাচল-কে যথাসম্ভব স্মুদ রাখে। সুতরাং চা খাওয়ার অভ্যাস আপনার ক্ষতি তো করবেই না, হৃদযন্ত্র-কে সচল সজীব রাখবে। ফলত বাড়বে আপনার আয়ু।

সুপার পেরেন্ট সিন্ড্রোম

ক্লাস সিক্স-এর ছাত্র অর্ণব, তিন দিন হল বাড়ি ফেরেনি। খাতা কিনতে গিয়ে আর ফেরেনি। বাড়ি থেকে পুলিশে জানানো হয়েছে কিন্তু লাভ হয়নি। চতুর্থ দিনে হঠাৎই একজন ভদ্রলোক এসে অর্ণব-কে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। উনি জানান মর্নিং ওয়াক করতে গিয়ে লেকের ধারে বেঞ্চিতে ওকে শুয়ে থাকতে দেখেন। পোশাক-আশাক দেখে সন্দেহ হওয়াতে পাশে বসে জিজ্ঞেস করতেই অর্ণবই সবকিছু খুলে বলে। পরীক্ষায় নম্বর কম পাওয়ায় বাবার বকুনি আর মার খাওয়ার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে।

ছোট্ট রিমা এখন ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। কখনও গলায় কিছু আটকেছে বলে দাবি করে তো কখনও পেট ব্যথার ওজর। সবসময় চুপচাপ, ভয়ে ভয়ে থাকে। ঠিক করে খাবারও খায় না, একটু কিছু বললেই কেঁদে ফেলে। অথচ ডাক্তারের পরামর্শে সবকিছু পরীক্ষা করানোর পরে দেখা যায় সবই নর্মাল। আসলে এই দুটি বাচ্চাই নিজের আভিভাবকদের সুপার পেরেন্ট সিন্ড্রোমের শিকার।

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের মতে, বহু অভিভাবকই নিজের সাফল্যের জন্য বাচ্চার উপর প্রেশার দেন এবং নিজেদের অজান্তেই বাচ্চাকে স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশনের শিকার করে তোলেন। এই সব পেরেন্ট-রা নিজের বাচ্চাকে অপরের বাচ্চাদের থেকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে দেখতে চান। পড়াশোনা, খেলাধূলা, আরও নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটিতে বাচ্চাকে পুশ করতে থাকেন। বাস্তব থেকে সরে গিয়ে যখন এই সন্তানরাই মা-বাবার আশা পূরণ করতে পারে না, তখন বাচ্চাদের মনে দ্বিধা, অবসাদ, দুঃখের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সাইকোলজিস্টদের মতে সাধারণ পরিবারের বাচ্চাদের থেকে ধনী পরিবারের বাচ্চারা ৩ গুণ বেশি চিন্তা এবং ডিপ্রেশনে ভোগে। এই বাচ্চাদের ভুল রাস্তায় পা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকেই ড্রাগ নেওয়া শুরু করে। কখনও কখনও বাচ্চাদের নিজেদের উপরেই ঘৃণা তৈরি হয়। সুস্থ বিকাশের জন্য বাচ্চার যে-ধরনের পরিবেশের দরকার হয় সেটা তারা পায় না। স্কুলের লম্বা সময় কাটানোর পর, কোচিং ক্লাসের পড়া, নানা ধরনের অ্যাক্টিভিটির ক্লাস করার পরে, বাচ্চারা নিজের ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশের অথবা লুকোনো ট্যালেন্ট দেখাবার সুযোগ এবং সময়, কোনওটাই পায় না।

সব মা-বাবাই চান তাদের সন্তান শুধু যে ক্লাসের পড়াতেই সব থেকে এগিয়ে থাকবে তা নয়, অন্যান্য অ্যাক্টিভিটিতেও পারদর্শিতা অর্জন করবে। পড়াশোনায় ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কালচারাল ফিল্ডই বলুন বা স্পোর্টস– সব ক্ষেত্রেই বাচ্চাকে টপ্ পজিশনে থাকার জন্য অভিভাবকেরা জোর দিতে থাকেন।

আপনিও যদি সুপার পেরেন্ট সিন্ড্রোম-এর শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে মনোবিদদের দেওয়া এই টিপসগুলির উপর চোখ রাখুন এবং নিজের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন।

ভালোবাসা দিয়ে বোঝান

বাচ্চার ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা করাটা খুবই স্বাভাবিক। অনেক সময় মনোবল কম হওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক নিজেকে অসুরক্ষিত ভাবে এবং এই মনোভাব বাচ্চার উপরেও প্রয়োগ করা শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে বাচ্চা নিজের উপর বিশ্বাস হারাতে থাকে। সুতরাং অভিভাবকদের উচিত, ভালোবাসার ছত্রছায়ায় বাচ্চাকে রেখে ভরসা দেওয়া যে, সে মা-বাবার কাছে সবদিক থেকে সুরক্ষিত। সব সময় আনন্দে থাকা এবং মুখে হাসি বজায় রাখা হল পজিটিভ মনোভাবের পরিচয়। অভিভাবককে দেখে বাচ্চাও শিখবে হাসিমুখে থাকতে। এতে বাচ্চার মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং অভিভাবকদের উপর ভরসা বাড়বে, যে সে যেমনই হোক, মা-বাবার সে প্রিয় পাত্র।

অপরের সঙ্গে তুলনা নয়

কোনও বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনের বাচ্চার সঙ্গে নিজের বাচ্চার তুলনা কখনও করা উচিত নয়। কোনও পরীক্ষা বা প্রতিযোগিতায় যদি বাচ্চা কম নম্বর পায় বা অন্য বাচ্চাদের কাছে হেরে গিয়ে থাকে, তাহলে প্রথম হওয়া বাচ্চা বা জিতে যাওয়া বাচ্চাদের সঙ্গে তার তুলনা কখনওই করা উচিত নয়। বরং আদর করে বোঝানো উচিত, একবার হেরে গেলে কোনও ক্ষতি নেই, পরের বার আবার চেষ্টা করলেই হল। সাফল্য যে তার আসবেই সেই ভরসা বড়োদেরই বাচ্চাকে দিতে হবে। এতে বাচ্চার আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে না।

উপদেশ দেওয়া বন্ধ করতে হবে

কথোপকথন অনেক সময় সমস্যার সমাধান করে কিন্তু এমনও হওয়া উচিত নয় যে বড়োরা খালি উপদেশ দেবার নামে চাপ সৃষ্টি করবে আর বাচ্চাকে সব শুনতে হবে। যদি এমনই পরিবেশ বাড়িতে হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়, বাচ্চা বড়োদের কোনও কথাই শুনবে না।

বাচ্চার ক্ষমতা এবং সীমা বুঝতে হবে

বাচ্চাকে একের পর এক ক্লাস অথবা টিউশন জয়েন করিয়ে অভিভাবকেরা ঠিক কি ভুল করছেন সেটা বাচ্চার দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিচার করাটা বাঞ্ছনীয়। এমন না হয় যে অন্যের দেখাদেখি বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে মা-বাবা বাচ্চার উপর প্রেশার দিয়ে ফেলছেন। বাচ্চার নেওয়ার ক্ষমতা বা বোঝার শক্তি কতটা, সেটা না যাচাই করেই তাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জোর দিতে গিয়ে অভিভাবকেরা, বাচ্চাদের ক্ষতি করেন। অপরের সন্তানের যোগ্যতা বিচার করে তার সঙ্গে নিজের বাচ্চার তুলনা করা কখনওই সঙ্গত নয়। বরং অপরের বাচ্চাকে ছেড়ে দিয়ে নিজের বাচ্চার মধ্যে যা যা গুণ আছে সেগুলোই আরও ভালো ভাবে চর্চা করার সুযোগ করে দেওয়া দরকার। ধৈর্য ধরে ধীরে ধীরে যে অগ্রসর হতে পারে, তার জেতার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে।

বাচ্চার ইচ্ছেকে সম্মান করুন

বাচ্চাকে শাসন করা এবং আজ্ঞানুসারী হতে শেখানো খুবই দরকার এতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু কখনও কখনও বাচ্চাদের প্রতি বড়োদের উদারতা দেখানোও খুব প্রয়োজন। বাচ্চা যদি কখনও একলা থাকতে চায়, ইন্টারনেট অথবা মোবাইলে কারও সাথে চ্যাটিং করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাহলে মা-বাবার সেটা করতে দেওয়া উচিত। যদি বড়োরা বোঝেন যে বাচ্চা কিছু অন্যায় করছে তাহলে অতিরিক্ত শাসন বা অত্যাচার করার বদলে, বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন। মাঝেমধ্যে তাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে, স্বতন্ত্র ভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং ভরসাও রাখতে হবে তার উপর।

ভালো কাজের প্রশংসা করুন

বাচ্চা ভুল করলে বড়োরা বকাবকি করেন কিন্তু ভালো কাজ করলে প্রশংসা করতে ভুলে যান কী করে? বাচ্চার প্রশংসা খালি ওর স্কুলের রিপোর্ট কার্ড অবধি সীমিত রাখা উচিত নয়। পড়াশোনা ছাড়াও সব ক্ষেত্রেই ওর পারফর্মেন্সের প্রশংসা করুন এবং বাচ্চাকে কিছু না কিছু উপহার দিন। একই সঙ্গে কাছে টেনে নিয়ে আদর করুন।

বাচ্চাটি যদি বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে কোনও ভালো কাজ করে, অপরের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, অপরের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলেও বাচ্চার প্রশংসা করুন নয়তো সে ভালো কিছু করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

হেরে যাওয়ারও দরকার আছে

বাচ্চাকে এমনভাবে তৈরি করা দরকার যাতে জীবনে শুধুমাত্র জিত হাসিল করার জন্য নয়, বরং ভালো কিছু করার লক্ষ্যে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্যে সে যেন কাজ করে যায়। জীবনে সাফল্য সবসময় আসে না, তাই বলে বাচ্চার প্রচেষ্টা-কে হেয় না করে তাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

অনেক অভিভাবকেরা বাচ্চার সঙ্গে খেলার সময়, বাচ্চাকে খুশি করতে ইচ্ছে করেই হার স্বীকার করে নেন। এটা কখনওই করা উচিত নয়। বাচ্চাকে সবসময় চেষ্টা করার জন্য প্রেরণা দিতে হবে, নয়তো বাচ্চা কষ্ট না করেই সব ব্যাপারে জেতার চেষ্টা করবে। জেতার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের হার-টাকেও সহজ ভাবে যাতে সে মেনে নিতে পারে, সেটা ছোটো থেকেই তাকে শেখাতে হবে।

বাড়ির পরিবেশ দায়ী

বাচ্চার শিক্ষা শুরু হয় বাড়ি থেকেই। বড়োদের মধ্যে থেকেই আত্মবিশ্বাস, বিবেচনাবোধ, সাহস, দৃঢ়তা এবং ইতিবাচক ভাবনা নিয়ে বেড়ে ওঠে সে। বাড়িতে বড়োদের অসম্মান করা, ঝগড়াঝাঁটি, গালিগালাজ, মা-বাবার মদ-সিগারেটে আসক্তি ইত্যাদি বাচ্চার মনকে প্রভাবিত করে। বাচ্চা যা দেখে তাই শেখে।

বড়োদের ফ্রাসট্রেশন বাচ্চার উপর বার না করা

অফিস এবং বাড়ির টেনশন বাচ্চার সামনে প্রকাশ হওয়া উচিত নয়। এতে সে ওই পরিবেশ এড়ানোর চেষ্টা করবে এবং বাড়িতে সময় না দিয়ে বাইরে থাকাই পছন্দ করবে বেশি। বাচ্চা অভিভাবকদের আনন্দে থাকতে দেখতে চায়, যাতে তারা নিজেদের সমস্যা বড়োদের কাছে খুলে বলতে পারে। বাইরের ঘটনায় হওয়া টেনশন বা রাগের কারণে বাচ্চার উপর হাত তোলা কখনও বাঞ্ছনীয় নয়।

নিজের সঙ্গে তুলনা কখনও করবেন না

নিজের শৈশবে যা কিছুর অভাব ঘটেছে সেগুলো মা-বাবা হয়ে যাওয়ার পর, বাচ্চাকে দিতেই হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। মা-বাবা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গায়ক বা গোল্ড মেডেলিস্ট হতে পারেন, নামি খেলোয়াড় হওয়াও অসম্ভব নয়। তাই বলে বাচ্চাকেও মা-বাবার পেশায় যেতে হবে, এই আশা রাখাটা উচিত নয়। বাচ্চার নিজের শখ এবং সীমাবদ্ধতা আছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। নিজের কর্তব্য শুধু পালন করে যেতে হবে। বাচ্চার প্রতিভা বিকশিত করার জন্য সঠিক পরিবেশ তৈরি করাটার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই।

 

 

সৌন্দর্য বাড়াতে মেক-আপ যথেষ্ট নয়

বেশিরভাগ মহিলাই স্বীকার করেন যে, বাড়ি থেকে বেরোবার আগে আয়নার সামনে বেশ কিছুটা সময় ব্যয় করতে হয় তাদের। আয়নার সামনে বসে রূপচর্চার জন্য বেশ কিছু দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেই তারা সৌন্দর্য বাড়াবার চেষ্টা করেন।

মেক-আপ করতে ভালোবাসেন না এরকম মহিলা খুবই কম পাওয়া যায়। তারা তাদের সৗন্দর্য বাড়াবার জন্য একটা বড়ো পরিমাণ অর্থও খরচ করতে কার্পণ্য করেন না।

শুধুমাত্র মেক-আপ যথেষ্ট নয়

 অনেক সময়ই মনে প্রশ্ন জাগে, এই নানা ধরনের  মেক-আপ প্রোডাক্টস-এর উপর নির্ভরতা আসলে অর্থ এবং সময়ের অপচয় নয় তো? সত্যিই কি এইসব মেক-আপ প্রোডাক্টস লুক-কে আশ্চর্যজনক ভাবে পরিবর্তন করে কারও সৗন্দর্য এবং আকর্ষণ বাড়াতে সক্ষম?

এই নিয়ে বহু রিসার্চ করা হয়েছে এবং প্রমাণিত তথ্যটি হল – মহিলাদের সৗন্দর্য বাড়াবার ক্ষেত্রে মেক-আপের অবদান খুবই কম। বস্তুত নারীর ন্যাচারাল লুক-ই তার সৌন্দর্যের আকর্ষণ বাড়াতে অথবা কমাতে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে। কাউকে দেখতে খারাপ হলে শত মেক-আপেও তিনি কখনও সুন্দর হয়ে উঠতে পারবেন না অথচ সুন্দরী মহিলা মেক-আপ না করেও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

আমেরিকার নর্থ ওয়েলস-এর একটি ইউনিভার্সিটি-তে আন্ডার গ্রাজুয়েট মেয়েদের উপর একটা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ১৮ থেকে ২১ বছরের ৪৪ জন মেয়েকে বাছা হয়েছিল। তাদের মেক-আপ শুদ্ধু এবং মেক-আপ ছাড়া ছবি তোলা হয়। এই ছবিগুলি, ৬২ জনের অন্য একটা দলে যেখানে ছেলে এবং মেয়ে দুই-ই ছিল, তাদের দেখানো হয়। তাদেরকে বলা হয় সৌন্দর্যের নিরিখে ছবিগুলিকে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত সাজাবার জন্য। যুবকদের, যাদের ছবিগুলো দেখানো হয়, একটি মেয়ের একটি করেই ছবি তাদের দেখার জন্য দেওয়া হয়। কারও মেক-আপ শুদ্ধু ছবি তো কারও মেক-আপ ছাড়া। রেটিং-এর বিশ্লেষণ করে দেখা যায় মেক-আপ করা সৌন্দর্য-র রেটিং মাত্র ২ শতাংশ। অথচ মেয়েদের ন্যাচারাল ফিচার্স এবং পার্সোনালিটি, তাদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত সাহায্য করেছে।

আসল সৗন্দর্য

 আসলে অনেক কিছুর উপরেই সৌন্দর্য নির্ভর করে। হাই চিকবোন্স, বড়ো বড়ো চোখ, এক মাথা ঘন চুল এবং মোলায়েম দাগহীন ত্বক মেয়েদের, সকলের চোখে আকর্ষণীয় করে তোলে। মেক-আপ, ফিচার্স এবং ত্বকের রং ছাড়াও আরও অনেক কিছুই মেয়েদের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

স্মাইলিং ফেস

 মেয়েদের সদা হাস্যময়ী চেহারা সহজেই অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম। অনেকেই হাসিমুখের মেয়েদের অনেক বেশি সুন্দরী বলে মনে করেন। হাসিমুখ দেখতেই সকলে ভালোবাসে এবং এটা সত্যি যে, স্বাভাবিক ভাবে হাস্যময়ীদের চেহারায় একটা আলাদা গ্লো থাকে।

পারফেক্ট ফিগার

 যদি ফিগার ৩৬-২৪-৩৬ মাপ অনুযায়ী মেনটেন করা হয়, তাহলে রং শ্যামলাই হোক অথবা মেক-আপ নাই বা থাকুক, কিছুই আসবে যাবে না। স্বাভাবিক ভাবেই তার সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। সেখানে মেদবহুল চেহারায় যতই মেক-আপ করা থাকুক না কেন, আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা মুশকিল।

স্মার্ট বিহেভিয়ার

 কথাবার্তার স্টাইল, চলা-বসার ঢং, পোশাকের চয়ন, অপরের কথায় কীভাবে রিঅ্যাক্ট করছেন সবকিছুই সৌন্দর্য বাড়াবার ক্ষেত্রে একটা বড়ো ভূমিকা পালন করে।

ইনার বিউটি

 অন্যের প্রতি আপনার ব্যবহার কেমন, আপনার চিন্তাধারা কতটা পজিটিভ, অপরকে কতটা সাহায্য করেন, রাগ এবং অবসাদকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন ইত্যাদি ব্যাপারগুলোও ব্যক্তিবিশেষকে ভিতর থেকে সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করে।

স্টাইলিশ ড্রেসেস

 যতই মেক-আপ করে বাইরে যান, আপনার পোশাক যদি আপনার ব্যক্তিত্ব এবং ফ্যাশনের অনুরূপ না হয়, তাহলে আপনাকে কখনওই সুন্দর লাগবে না দেখতে।

দাগহীন কোমল ত্বক

 সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দাগহীন মসৃণ কোমল ত্বক হওয়া বাঞ্ছনীয়। উজ্জ্বল রং এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক সহজেই অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ঘন কালো চুল

 মেয়েদের কালো চুলের বর্ণনা কবিদের কবিতায় প্রায়শই দেখতে পাওয়া যায়। মহিলাদের ঘন কালো চুল তাদের সৌন্দর্যেরই একটা অঙ্গ।

এগুলো ছাড়াও রয়েছে ভালো স্বাস্থ্য, প্রখর বুদ্ধি, লুকিয়ে থাকা গুণ এবং জীবনে তার সাফল্যও তাকে অপরের চোখে আকর্ষণীয় করে তোলে।

 

 

পরিহাস

জানলার পাশ দিয়ে আদিম শীত এসে পড়ছে। ট্রেনের সাইড-বার্থের খিড়কি দিয়ে অদম্য শীতল হাওয়া মুছে দিচ্ছে অনুভবের বের না হয়ে আসা চোখের জল। ট্রেন কোন আদিম লগ্ন থেকে এখানে দাঁড়িয়ে তা মনে নেই। আর জেনেই বা কি হবে! সকাল আটটার পর থেকেই বুঝতে পেরেছিল, এ বছরকার মতো সব সম্ভাবনা শেষ। কী কষ্ট করে কারখানার কাজ শেষ করেও পড়াশুনা করেছে নিজে নিজে!

বাবা আগেই গেছেন, মাও যখন চলে গেলেন তখন এক্কেবারে শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল অনুভব। একমাত্র মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওর জ্যাঠা। অবিবাহিত মানুষ, ওড়িশার রৌরকেল্লায় একলা থাকেন মেদিনীপুরের বাড়িঘর ছেড়ে। সেই মানুষটাই অনুভবের পিঠ হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন, “চল, এখানে আর থাকতে হবে না। আমার সাথে ওড়িশায় যাবি চ। কারখানায় কাজ জুটিয়ে দেব, মাইনেপত্তর মোটামুটি দেয়। হাতখরচাটা তো হবে। আমার অবস্থা তো জানিসই, দুজনের খরচা চালানোর মতো নয়।”

অনুভব সবে তখন গ্র‍্যাজুয়েশন শেষ করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। কলকাতায় এসে কোচিং সেন্টারে পড়াশুনো করা তখন ওই অবস্থায় সম্ভবপর ছিল না। উপায় বলতে অনলাইন কোর্স। ও একটু ইতস্তত করছিল দেখে জ্যাঠা ভরসা দিয়েছিলেন, “আরে তোর পড়া তো ফোনে বসেও হবে। আর তোর তো ভোটার কার্ড, আধার- সব তো বাংলারই। আমার ওখানে বসেও তো তুই নেট ভরিয়ে পড়ে নিতে পারবি। কাজও করবি, দেখবি মনটাও ভাল্লাগবে। ফর্ম বেরোলে এখানে এসে পরীক্ষা দিয়ে যাস।”

ধীরে ধীরে একটা বছর যে কীভাবে কেটে গেলো বুঝতে পারেনি অনুভব। কিন্তু বিগত এক বছরের সব পরিশ্রম, ঘামজলে ভেজা দিনরাত, মিথ্যে করে দিল খড়গপুরের কাছে এই অবরোধ। আর কিচ্ছু ভালো লাগছে না ওর। সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটে অবধি দাঁড়িয়ে এখানে ট্রেন। লোকজনও তুমুল অস্থির হয়ে উঠেছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে অন্য লোকেদের সাথে ঠিক করে নিয়ে গাড়িভাড়া করে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও অনুভব এটা পারবে না। কারণ, পকেটের কাছে ওর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ। স্টেশনের অ্যানাউন্সমেন্টে পাতা কানের পাশ দিয়ে আগন্তুক হাওয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে বুকের মধ্যে এক অজানা উদ্বেগ।

হাওড়া স্টেশনের বড়ো ঘড়িটার দিকে তাকাল সে, রাত এগারোটা চল্লিশ। ট্রেন যে কতক্ষণ লেটে ঢুকেছে তা মনে করতেই বিরক্তিতে মাথা গরম হয়ে গেল অনুভবের। মানসিক ও শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত সে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই অবশ্য একটা কাজের কাজ করেছিল অনুভব। জ্যাঠাকে জানিয়ে কোনওমতে কাল সকালের ট্রেনে আবার ফেরার ব্যবস্থা করতে পেরেছে সে। খুব ভাগ্য ভালো ছিল বলে স্লিপার ক্লাসের একটা আরএসি সিট, তৎকাল বুকিং-এর পরেও বেঁচেছিল। শুধু আজকের রাতটা কোনওমতে কাটাতে হবে স্টেশনের মধ্যেই পাতা চেয়ারে, ওয়েটিং এরিয়াতে।কিন্তু হিমেল রাত কাটানোর মতো সরঞ্জাম তো আনেনি সে। হুহু করে ঠান্ডা বাড়ছে। কাউন্টার থেকে তিনবার লেবুচা খেয়েও শীতকাঁপুনি কমেনি তার একটুও।

চেয়ারে আর তেমন কেউ নেই। অন্য গাড়ি ধরার লোকজন নিশ্চয়ই ওয়েটিং রুম নিয়ে নিয়েছে। ওই কথা মনে হতেই সেখানেও কথা বলতে গেল কিন্তু ফিরল নিরাশ হয়েই। কারণ কোনও রুম খালি নেই। সব বুকড। অতএব এই চেয়ারেই চার-পাঁচ ঘন্টা শুধু একটা সোয়েটার পরিহিতবস্থায় কাটাতে হবে।

অনুভব বুঝতে পারল,শরীরটা কীরকম জানি খারাপ করছে। মাথায় হাত ঠেকিয়ে দেখল একটু উত্তাপ বেড়েছে দেহের। তাহলে কি জ্বর আসছে? কী করবে এখন সে? হাত-পাটাও তো বড়ো অবশ হয়ে আসছে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে ওষুধ কিনতে যাওয়ার ক্ষমতাটুকুও ওর গায়ে নেই। ঘুমে চোখ জুড়ে আসছে, বাড়ছে দেহতাপমাত্রা। আচ্ছন্ন অবস্থায় চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল। ওই অবস্থায় শুধু দেখতে পেলো ধূধূ এই ফাঁকা আসনে কোথা থেকে একজন লোক এসে বসল।

( )

“ভাই… ও ভাই…” ডাকটা শুনে চোখ মেলার চেষ্টা করে অনুভব। কিন্তু যেন কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সব ঝাপসা। তারই মধ্যে দেখল একটা লোক ওর মুখের এক্কেবারে কাছে এসে ওকে ডাকছে।

“আরে ওঠো ভাই। শরীর খারাপ লাগছে? পুরো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে তো।” লোকটার কথা শুনে কোনও মতে একটু মৃদু হাসার চেষ্টা করে ঘোরের মধ্যেই।

“আর কিছু আনোনি? একটা সোয়েটার মাত্র? আমার কাছে চাদর আছে দিচ্ছি দাঁড়াও। ওঠো তো ওঠো দেখি।” বলে কোনওমতে ওকে বসিয়ে দেয় লোকটি।

ধীরে ধীরে জ্বরের ঘোর থেকে বাইরে আসার চেষ্টা করে অনুভব। আবছা মনে পড়ে, শুতে যাওয়ার আগে বোধহয় এই লোকটিকেই দেখেছিল সে।

“এই নাও, একটা সিক্সফিফটি আছে আমার কাছে, ক্যালপল। চাপ নেই এতে কোনও সাইডএফেক্ট নেই। আমি এমআর, নিশ্চিন্ত থাকো। জল আছে? আচ্ছা ছাড়ো আমিই দিচ্ছি। ”

ঘোরের মধ্যেই তখন ওই লোকটাকে দেবদূত বলে মনে হচ্ছে ওর। সত্যিই ওর তো ওঠার ক্ষমতাটুকু পর্যন্ত ছিল না; বাড়ি ফেরার ট্রেনটা পর্যন্ত মিস হত।

এক ঘন্টা কেটেছে ওষুধ খেয়ে। ভদ্রলোক চা-বিস্কুটও খাইয়েছেন। শরীরটা আগের থেকে অনেকটা চাঙ্গা লাগছে অনুভবের। সৌজ্জন্যের খাতিরে কথাবার্তা বলতে শুরু করল ভদ্রলোকের সাথে।

ভদ্রলোক বললেন, উনি নাকি কোনও কোম্পানির এমআর। কোম্পানির পার্টি থেকে ফিরতে গিয়ে জ্যামে ফেঁসেছিলেন। লাস্ট ব্যান্ডেল লোকালটা মিস করেছেন। রাত কাটানোর জন্যে এখানে সাথের ব্যাগটাকেই বালিশ বানিয়ে সিটে ঘুমোতে এসেছিলেন। সেখানে তিনি অনুভবকে আবিস্কার করেন। অনুভব নাকি জ্বরের ঘোরে ভুল বকছিল। কথা বলতে বলতেই এভাবে পেরিয়ে গেল সময়। হাতঘড়িতে দেখল সাড়ে তিনটে বাজছে। ভোর ৪-টের ট্রেন, বোর্ড দিয়ে দিয়েছে। এবার সেই মানুষটিকে বিদায় জানাবার পালা। তবে এই দিনটার কথা বোধহয় কোনওদিন ভুলতে পারবে না অনুভব।

 

গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। মনের মধ্যে দুশ্চিন্তাগুলো বাসা বেঁধেই আছে। এই নিয়ে আর চিন্তা করতে পারছে না অনুভব। শরীর বড়োই দুর্বল। সে ভাবছে পৃথিবীটাতে এখনও অনেক ভালো মানুষ থাকে। আর এই মানুষটির আদিবাড়িও তার আদিভিটের কাছাকাছিই বালিচকে, সেটাও কথায় কথায় জেনেছে। ভদ্রলোক চাকরিসূত্রে ব্যান্ডেলে থাকেন। কথায় কথায় বলেছিলেন যে, ওঁদের পৈতৃক বাড়িতে নাকি ঝামেলা চলছে। আগে সব্বাই একসাথে থাকত। এক উনুনে রান্না হতো এখন আর সেদিন নেই।

তার বাবা মারা যেতেই ওই অঞ্চল ছেড়ে চলে আসেন। ভাগের ঘরটা যদিও আছে। জ্বরের ঘোর কেটে যেতে অনুভব বসে বসে এসব কথাই শুনছিল। ওদের বাড়ির পাশে নাকি পুকুর ছিল, সেখানে মাছচাষ করা হত। এখন পুকুরটা থাকলেও… নেই! মানে সবকিছুই কাকা-জ্যাঠারা দখল করে বসে আছেন। এখন তাদের সাথে আত্মীয়তার কোনও সম্পর্কই নেই আর।

কতকাল তাই আর সেই টাটকা মাছ খাওয়া হয় না। একথা শুনে সে অবশ্য জানিয়েছিল যে, তার এই দেশের বাড়ির পুকুরের মাছ না খাওয়ার আক্ষেপ দূর করবেই। অনুভব তাকে বলেছে যে, এবার যখনই দেশের বাড়ি তিনি আসবেন আগে থেকে তাকে জানাতে। অনুভব তো এক-দু‌’মাস অন্তর দেশের বাড়ি আসেই দেখভাল করতে। সেই সময় ভদ্রলোক যদি ভিটেয় আসেন তাহলে অনুভব নিজের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ভদ্রলোকের জন্য টাটকা মাছ নিয়ে যাবে। আসলে ভদ্রলোক যা উপকার করেছেন, এ হয়তো সামান্যই। তবু অনুভব বারবার চাইছে তা কোনও ভাবে ফিরত দিয়ে ঋণমুক্ত হতে।

ট্রেন ছুটছে। আঁধারি দু:স্বপ্ন কেটে আসছে ভোরের আলো। চোখে মুখে লাগছে সেই সোনার ঊষার ছিটে। মন? না: ভালো নেই তেমন। শরীর, সে তো পাঠকেরা ইতিমধ্যে জেনেই গেছেন। তবু কিছু সুন্দর মুহূর্ত পেয়েছিল কাল রাতে। বড়োই টুকরো সাধারণ ঘটনা, অথচ কীরকম মায়াবী ভাবে অসাধারণ।

অনুভব জানে তার একটা বছর নষ্ট হল। তবু ভেঙে পড়লে চলবে না। এই অসম ভাগ্যের লড়াইকে যে তাকে জয় করতেই হবে। সে আবার প্রস্তুতি নেবে। রণাঙ্গনে নামবে আবার। সবই হয়তো হবে কিন্তু এরকম মেলোড্রামাটিক দিন বোধহয় আর আসবে না।

 

( )

বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে হাতের টিফিন কেরিয়ারের বাক্সটা ভালো করে দেখে নিল অনুভব। পাড়ারই ছেলে সুমন, বালিচক যাবে টেম্পো নিয়ে কাজে। তাই আগে থেকেই বলে রেখেছে। সেদিনের ঘটনার পর প্রায় পাঁচ মাস কেটে গেছে। হোয়াটস্যাপ আর ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল তাঁর সাথে। যেদিন সে জানতে পেরেছে যে, ভদ্রলোক ভিটেবাড়িতে আসছেন, তড়িঘড়ি করে সে ছুটি নিয়ে এই বাড়ি এসেছে। অবশ্য সেদিন রাতের তার সেই হঠাৎ পাওয়া বন্ধু ভদ্রলোককে তেমন কিছুর আভাস দেয়নি সে।

অনুভব বাড়িতে ক’টা দিন আগে এসে পৌঁছালেও কিন্তু কিছু কাজ থাকার দরুণ আর সময় করে ভদ্রলোকের বাড়ি গিয়ে উঠতে পারেনি। এই ক’দিন ফোন বা মেসেজও করেনি, যাতে সারপ্রাইজের প্ল্যানটা না ভেস্তে যায়। অবশেষে ভাবল আর না, অনেক হয়েছে গড়িমসি! এবার যেতেই হবে। সাতসকালেই জাল ফেলে ধরা টাটকা মাছ নিয়ে সে রওনা দিল তাঁর বাড়ির উদ্দেশ্যে।

বাড়ি চিনতে বিশেষ অসুবিধে হয়নি। ঠিকানা আগেই নেওয়া ছিল। কিন্তু বাড়ির সামনে এত ভিড় কেন? তাহলে কোনও উৎসব! লজ্জায় জিভ কাটল অনুভব। এ বাবা! না বলেকয়ে এরকম দুম করে উপস্থিত হওয়া উচিত হয়নি তার।

“আসুন আসুন ভিতরে আসুন।” কথাটাতে সম্বিৎ ফেরে তার। সে দেখল এক ভদ্রলোক কখন তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে, ও খেয়ালই করেনি।

অনুভব একটু ভুরু কুঁচকে তাকাতেই তিনি শুকনো মুখে বললেন, “আর কি বলি দাদা! এরকম হবে কে জানত। সুস্থ ছেলে আমাদের, বলুন! কোনও রোগভোগ নেই। স্টেশন থেকে নেমে হেঁটে এই বাড়ির দিকেই আসছিল। হঠাৎই স্ট্রোক হয়ে…

‌‘‌‘আপনি কি ওনার আত্মীয় বা বন্ধু? মানে আপনাকে তো ঠিক চিনি না। আমি পাড়ারই ছেলে। আজকে তো নিয়মভঙ্গ, মৎস্যমুখী…।”

আরও কিছু বোধহয় বলছিলেন ভদ্রলোক। কথা আর কানে যাচ্ছে না। অনুভবের হাতে ধরা ব্যাগ। টিফিনকেরিয়ারের দিকে চোখ চলে যাচ্ছে। জীবন এত অসহায় কেন? ভদ্রলোককে তো সামান্য একটা উপহার দিতে চেয়েছিল। একী নির্মম পরিহাস ভাগ্যের!

চোখের কোণ থেকে কয়েকটি জলকণা ঠোঁটের কাছে এসে জমা হল অজান্তেই। অনুভবের ডান হাতটা ঘামছে। সেই হাত-ব্যাগেই রয়েছে কয়েকটা টাটকা কাটা মাছের পিস…

কিচেন-এ আনুন স্টাইলিশ লুক

সারা বাড়িতে রান্নাঘর কিংবা কিচেনের গুরুত্ব সবথেকে বেশি কারণ বাড়ির সদস্যদের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা শুরু হয় এই কিচেন থেকেই। সুতরাং এই বিশেষ জায়গাটি পরিস্কার এবং গুছিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব পালন করা কর্তব্য বাড়ির সমস্ত সদস্যদেরই।

বর্তমানে কিচেনকে মডার্ন এবং পরিস্কার রাখার নানা বিকল্প রয়েছে। এই বিকল্পগুলি কিচেনকে মডার্ন এবং পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে কিচেনকে নতুন রূপও প্রদান করে।

মডিউলার কিচেন নামে বহুল প্রচলিত এই বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে উড্ ওয়ার্ক, টাইলস ওয়ার্ক, স্টিল আয়রন ওয়ার্ক ইত্যাদি। পরিষ্কার, স্টাইলিশ কিচেনে কাজ করার মনস্তাত্বিক প্রভাবও পড়ে ব্যক্তির উপরে। এই রকম পরিবেশে আনন্দে কাজ করা যায়, ফলে মন-ও ভালো থাকে এবং কাজের কোয়ালিটিও অনেক বেটার হয়।

অর্গানাইজড এবং স্পিক অ্যান্ড স্প্যান

কিচেনকে ঝকঝকে এবং অর্গানাইজড করার জন্য কিছু টিপ্স জেনে নিন।

  • কিচেন ক্যাবিনেটের নীচে যদি জায়গা খালি থাকে তাহলে ওই জায়গায় বক্সেস লাগিয়ে নিতে পারেন। তাহলে আপনাকে আলাদা করে ডাস্টবিন রাখতে হবে না রান্নাঘরে।
  • আকর্ষণীয় রঙিন কাচের জার, কিউব, কোস্টার্স, টুথপিক হোল্ডার, আর্টিফিশিয়াল ফ্রুট্‌স, ভেজিটেবলস, নানা রঙের বাস্কেটস এবং ন্যাপকিন ইত্যাদি দিয়ে কিচেন সাজান।
  • কিচেনের সৌন্দর্য বাড়াবার জন্য কন্ট্রাস্ট রঙের টাইলস, বর্ডার এবং নানা ডিজাইন আঁকা টাইলস লাগাতে পারেন।
  • ফ্লোর-এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে ভিনায়েল ফ্লোরিং, সিরামিক টাইলস, ল্যামিনেটেড টাইলস্ নিজের প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।
  • কিচেনে রাখুন মডার্ন কিচেন অ্যাপ্লায়েনসেস যার সাহায্যে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার থেকে বাঁচবে এবং আপনার রান্নাঘরটিও মডার্ন গ্যাজেটস-এ সজ্জিত থাকবে।
  • কিচেনের কাউন্টার পরিষ্কার রাখুন। যে-গ্যাজেটস রোজ দরকার লাগে যেমন ইলেকট্রিক কেটল, কফি মেকার, মিক্সার গ্রাইন্ডার, চপার ইত্যাদি কাউন্টারে গুছিয়ে রাখুন। বাকি গ্যাজেট্‌স, যেমন টোস্টার, এয়ারফ্রায়ার ইত্যাদির জন্য ক্যাবিনেটে জায়গা রাখুন। এর ফলে কাজ করার যেমন সুবিধা হবে তেমনি কিচেন দেখতেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন লাগবে।
  • কাঠ অথবা কাচের ওয়াল ইউনিট বানান যেখানে ক্রকারি এবং অন্যান্য কাচের বাসন সাজিয়ে রাখতে পারবেন। এর ফলে রান্নাঘর আকর্ষণীয় লাগবে এবং ওয়েল ম্যানেজডও মনে হবে
  • আজকাল কমপ্যাক্ট ফ্ল্যাটে কিচেন স্পেস খুব কম থাকে, সুতরাং কিচেনের হাইজিন বজায় রাখাটা খুব জরুরি। এই ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক কিচেন চিমনি খুব প্রয়োজনীয়। এটি রান্নাঘরকে পরিষ্কার রাখার সঙ্গে সঙ্গে স্টাইলিশ লুক-ও দেয়।

কিচেনে খাবার বানাবার সময় কিচেন নোংরা হবেই সুতরাং দেয়াল এবং রান্নাঘরের ফ্লোর পরিষ্কার রাখতে টাইলস্ ব্যবহার করুন। টাইলস্ পরিষ্কার করা সহজ এবং একই সঙ্গে কিচেনকে মডার্ন লুক দিতে সাহায্য করে।

Modular Kitchen

কিচেন ডিজাইনিং টিপ্স

কিচেন আপনার পছন্দ-অপছন্দ, আপনার জীবনযাপনের আয়না, সুতরাং এর ইন্টিরিয়র করার সময় বিশেষ খেয়াল রাখুন৷

  • মডিউলার কিচেনে আলমারি, তাক এবং শেল্ফ সাধারণত মিডিয়াম ডেনসিটির ফাইবার বা কাঠের তৈরি হয়। এই ধরনের কিচেনে খুব সুন্দর ভাবে জায়গার ব্যবহার করা হয়। আপনি নিজের প্রয়োজন এবং পছন্দ অনুযায়ী এগুলি অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন। এর মধ্যে বিল্ট ইন সিংক, আভেন, চিমনি গ্রিল এবং মাইক্রো আভেনের সুবিধা পাওয়া যায়। কিচেনের যে-কোনও ডিজাইন বানাতে পারেন কিন্তু খেয়াল রাখবেন গ্যাসস্টোভ, ফ্রিজ এবং সিংক যেন ট্রায়াংগুলার ওয়ার্ক এরিয়ায় থাকে।
  • কিচেন কাউন্টারের টপ্, গ্র্যানাইটের বানান। গ্র্যানাইট পাথর পরিষ্কার করার সুবিধে। কিচেনের ডেকরেশনের সঙ্গে ম্যাচ করে গ্র্যানাইটের রং বেছে নিতে পারেন। বাজারেও অনেক রকমের রেডিমেড কাউন্টার কিনতে পাওয়া যায় যেগুলি আপনার কিচেনের ডিজাইন বা রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে যাবে।
  • কিচেন ডিজাইন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়। ন্যাচারাল এবং ইনডাইরেক্ট –এই দুরকমই আলোর ব্যবস্থা থাকা উচিত রান্নাঘরে। ইনডাইরেক্ট লাইটিং-এর ক্ষেত্রে হ্যালোজেন বা ফ্লুরোসেন্ট লাইটিং করাতে পারেন। আরও যদি অন্যরকম লুক দিতে চান তাহলে পেনডেন্ট লাইটিং-ও করাতে পারেন। অনেক রকম ডিজাইনে পাওয়া যায় এই লাইট। সিলিং থেকে একটি মেটাল রডে আটকানো এই লাইটিং যেমন সুন্দর লাগে দেখতে তেমনি কার্যকরীও বটে।
  • মডিউলার কিচেনকে মডার্ন টাচ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেকরেটিভও বানান। এতে রান্নাঘরের আকর্ষণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। নানা রঙের প্লেট এবং ক্রকারি রাখুন। এছাড়াও বিড্‌স বা সেন্টেড ক্যান্ডলস রাখুন। কিচেনের দেয়ালকে স্টাইলিশ লুক দেওয়ার জন্য কিচেনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে পেইন্টিং টাঙাতে পারেন। এর ফলে কিচেনের পরিবেশে একটা ফ্রেশ অনুভূতি আসবে।

Kitchen Decoration

ক্লিনিং টিপস

কিচেন পরিষ্কার রাখার জন্য ঘরোয়া কয়েকটি টিপস এখানে দেওয়া হল

  • বাসন পরিষ্কার করার ডিশ বার, কিচেন পরিষ্কার করতেও কাজে লাগে। কুকিং টপ, কিচেন কাউন্টার এবং সিংক পরিষ্কার করতে ডিশ বার ব্যবহার করা যায়। অল্প গরমজলে সামান্য ডিশ বার মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিন। তারপর স্্ক্রাবার কিংবা সুতির কাপড় ওই মিশ্রণে ডুবিয়ে হালকা ভাবে কুকিং টপ, কিচেন টপ মুছে নিন এবং পরে শুকনো সুতির কাপড় দিয়ে দ্বিতীয়বার মুছুন। সিংক-ও একই পদ্ধতিতে স্্ক্রাবার দিয়ে পরিস্কার করুন। এই একই মিশ্রণ দিয়ে কিচেন ফ্লোর-ও পরিষ্কার করা যাবে।
  • কিচেন ফ্লোর ঝকঝকে করতে ব্লিচও ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু টাইলস লাগানো থাকলে ব্লিচ ব্যবহার করবেন না। টাইল্স-এ দাগ লাগলে সামান্য গরমজলে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে দাগের উপর ঢেলে দিয়ে খানিকক্ষণ রেখে দিন। তারপর স্্ক্রাবার দিয়ে সামান্য ঘষে দিলেই দাগ মুছে যাবে।
  • খেয়াল রাখুন যেখানে বাড়ির মহিলাদের বেশিরভাগ সময় কাটে সেই জায়গাটা যেন আরামপ্রদ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়।

গৃহিণীদের জন্য কিচেন টিপ্স

বাড়ির সবার আবদার মেটাতে রবিবারের সকালটা কিচেনে আপনার উপস্থিতি মাস্ট। সবার মনের মতো সুস্বাদু রান্নায় যে আপনি সিদ্ধহস্ত, তা এতদিনে জেনে গেছে বাড়ির সকলে। সারা সপ্তাহ নানা কাজ সামলে রান্নার কাজটাও আমার গুরুদায়িত্ব। তবে কিচেন ম্যানেজমেন্ট-এর কঠিন কাজটা সহজ করার জন্য বিশেষ দক্ষতা লাগে না। লাগে কিছু জরুরি পরামর্শ। আপনার জীবনযাপনকে সহজ করতে আমাদের কিছু সহজ টিপ্স।

শেফ ছুরিতে কেল্লাফতে

এই ছুরিগুলি রান্নাঘরের অত্যন্ত অপরিহার্য জিনিস। ৭টি ছুরির এই সেট আপনার গৃহস্থালীর কাজকর্ম অনেক সহজ করে দেবে। যদি ৭টি ছুরি একবারে না কিনতে চান তাহলে কোনও বড়ো দোকান থেকে, ৩ঙ্ম০ থেকে ৭ঙ্ম০ টাকার মধ্যে ভালো একটা শেফ নাইফ কিনুন। বছরে একবার করে ছুরিতে ধার অবশ্যই দেওয়ান। ভুলেও এটা ডিশওয়াশার বা অ্যালুমিনিয়াম স্্ক্রাবের দিয়ে পরিষ্কার করতে যাবেন না। স্পঞ্জ দিয়ে হালকা হাতে সাফ করুন।

মাংস পরিষ্কার জরুরি

ফল-সবজি বাজার থেকে কিনে যে-ভাবে ভালো করে ধুয়ে ব্যবহার করেন, মাংসের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। ধুলে মাংসের স্বাদ কমে যায়, এই ধারণা ভুল। মাংস কাটার পর পরিষ্কার করে ধুয়ে তবেই রান্না করুন।

মাল্টিপারপাস বাসন

বাসন কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, যেন আপনার ব্যবহূত পাত্রটি একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়। যেমন কড়াইয়ের গভীরতা এমন হওয়া উচিত যাতে সেটা ডিপফ্রাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে সবজি রান্নাতেও কাজে দেবে। আবার ফ্রাইং প্যানটাও যেন গভীর হয়, যাতে বিভিন্ন সবজি রান্নার কাজেও লাগে। প্রয়োজন ও পদ অনুযায়ী আপনি বাসন কিনতেই পারেন। কিন্তু অতিরিক্ত বাসন কিনে ঘর ভরাবেন না। মাল্টিপারপাস বাসন সেদিক থেকে অনেক লাভদায়ক।

কিচেন ম্যানেজমেন্ট জরুরি

কিচেনের মধ্যে বাসনপত্র ছড়িয়ে রাখবেন না। এর ফলে রান্নার সময় হাতের কাছে জরুরি সরঞ্জাম পাওয়া মুশকিল হবে। রান্নার কাজও বিলম্বিত হবে। প্রতিটি বাসন তার নির্দিষ্ট ড্রয়ারে রাখুন। ক্যাবিনেটে মশলার পাত্রও গুছিয়ে রাখুন।

সবজি স্টোর করাও একটা আর্ট। বাঁধাকপি, ব্রোকোলি আর অন্য সবজি স্টোর করার পদ্ধতি আলাদা আলাদা। প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট বাক্সে রাখুন। মশলা দীর্ঘদিন তাজা রাখতে হলে রোদে একবার করে শুকিয়ে কৗটোয় ভরুন, নয়তো শুকনো খোলায় নাড়াচাড়া করে নিন। ইন্টারনেটে পড়তে পারেন, কোন মশলা কীভাবে স্টোর করা যায়, সেই বিষয়ে।

তাজা হার্বস-এর ব্যবহার

আপনার রান্নার স্বাদে একটা পরিবর্তন আনতে পারে তাজা হার্বস-এর ব্যবহার। এর ব্যবহারে খাবার সুস্বাদু হয়ে ওঠে। হার্বস কেনার একটাই সমস্যা, এটি রান্নায় অল্প পরিমাণে লাগলেও, কেনার সময় অনেকটা বেশি কিনতে হয়। রোজমেরি, বেলিভ্স, থাইম প্রভৃতি হার্ব, ড্রাই পেপারে জড়িয়ে ফ্রিজে রাখবেন। এক সপ্তাহ তাজা থাকে।

ঋতু অনুযায়ী ফল-সবজির ব্যবহার

খাবার সুস্বাদু করতে সিজনাল ফ্রুটস ও ভেজিটেবল্স ব্যবহার করুন। এর ফলে সময়কালীন ফল-সবজির গুণাগুণে যেমন আপনার শরীর উপকৃত হবে, তেমন খাবারের স্বাদেও বৈচিত্র্য আসবে।

মেথডিক্যাল হোন

পরিশ্রম বাঁচাতে হলে আপনাকে আরও কিছুটা মেথডিক্যাল হতে হবে। ঘরেই রান্না করুন বা অন্যত্র, একটা কুকিং প্ল্যান আগাম বানিয়ে নিন। এর ফলে টাইম ম্যানেজমেন্ট করতে সুবিধা হবে। একটা রান্নার ফাঁকে অন্য পদ তৈরির প্রস্তুতি নেওয়াও সহজ হবে। সবজি, মশলা সব নির্দিষ্ট পরিমাণে প্লেটে বা বোল-এ ঢেলে রাখুন। রান্নার পর যে-পাত্রে খাবারটা রাখবেন, সেটাও আগে থেকে রেডি রাখুন। এর ফলে রান্না এবং সার্ভ করা, দুটোই তাড়াতাড়ি হবে।

দূর নয় বেশি দূর

বুকের ভেতর  ভ্রমণের ইচ্ছেটা যেই হামাগুড়ি দিতে শুরু করে, অথচ খুব বেশি ছুটি জমে নেই দেখে মন খারাপ হয়ে যায়— তখন ভরসা সপ্তাহান্তের ছুটিগুলো৷ তেমনই দু-তিনটে দিন হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন বাংলার গাঁ-ঘেঁসে থাকা  ওড়িশা এবং ঝারখণ্ড  এই দুটি রাজ্যে৷ অপূর্ব মালভূমির মনোরম পরিবেশ৷খারাপ লাগে না দিনদুয়েক কাটাতে৷এখানে রইল তেমনি কয়েকটা ডেস্টিনেশন৷

মাসাঞ্জোর : প্রকৃতি যারা ভালোবাসেন তাদের অবশ্য গন্তব্যই এই ছোট্ট অবকাশযাপনের ঠাঁই মাসাঞ্জোর। পাহাড় ও নদীকে আলিঙ্গন করার, এক বুক অক্সিজেন নেওয়ার, হাতের কাছে এমন মনোরম স্থান কমই আছে। নীরবতার মাঝে মনের মানুষকে নতুন করে আবিষ্কারের জন্য, এ এক নিরিবিলি জায়গা। পাহাড়-জঙ্গল আর তার দোসর মযূরাক্ষী নদী। ঝাড়খণ্ডের দলমা পাহাড়ের রেঞ্জ আর মাসাঞ্জোর জলাধার, সৌন্দর্যে একে অন্যের পরিপূরক। এই প্রকৃতিবাসরে কীভাবে দুটো দিন কেটে যাবে তা আপনি বুঝতেই পারবেন না।

মালভূমি আর অরণ্যে ঘেরা ঝাড়খন্ডের সৌন্দর্য অপার। আর যাতায়াতে তেমন ঝামেলা নেই বলে, বাংলার পর্যটকরা পাড়ি দেন এই প্রতিবেশী রাজ্যে। মাসাঞ্জোরের সূর্যাস্ত সারা জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে। আর যদি ভাগ্য সহায় হয়, দেখা যেতে পারে বন্য হরিণ, বুনো শুয়োর কিংবা দলমা পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পাল। স্থানীয়দের বললে জমিয়ে দিতে পারে সাঁওতালি নাচের আসরও।

কীভাবে যাবেন : ট্রেনে বা বাসে সিউড়িতে নেমে পড়ুন। এখান থেকে মাসাঞ্জোরের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে নিন সিউড়ি থেকে।

কোথায় থাকবেন : সেচ দফতরের বাংলা ছাড়াও, যুব আবাস আছে। কলকাতা যুব কল্যাণ দফতর থেকে বুকিং হয়, ফোন : ০৩৩-২২৪৮০৬২৬। মযূরাক্ষী রিসর্ট-এ থাকতে হলে অনলাইন বুক করতে হবে।

Keonjhar Travelogue

 

কেওনঝড় : কলকাতার ধর্মতলা থেকে কেওনঝড়ের বাস তো রয়েছেই। আপনি চাইলে বম্বে রোড ধরে গাড়ি নিয়ে সরাসরি পেঁছোতে পারবেন কেওনঝড়। মহানদীর উপর ব্রিজ। এপারে মযূরভঞ্জ জেলা শেষ। ওপারে কেওনঝড় শুরু। পাহাড়, জঙ্গল, নদীর শোভা এই নিয়ে কেওনঝড়।

মূল শহর ছেড়ে বম্বে রোড ধরে আরও ৫ কিলোমিটার এগোলে বাঁহাতে জঙ্গলের রাস্তায় বড়াঘাঘরা জলপ্রপাত। বর্ষায় জলে টইটম্বুর হয়ে থাকে বড়াঘাঘরা । পথনির্দেশ নেই। স্থানীয় মানুষের দিক চিহ্নই ভরসা। অরণ্য প্রকৃতির মাঝে ২০০ ফুট উঁচু থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে জলধারা। আরও কিছু পথ গাড়ি নিয়ে এগোলে আরও এক ঝরনা নাম সানাঘাঘরা। এর পাশে সাজানো পার্ক। ছোটো পাহাড়ের বনবীথিকা ও পার্কের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নীচে নামলেই মূল জলরাশির দেখা পাবেন। লেকের জলে রয়েছে বোটিং-এর ব্যবস্থা।

কেওনঝড়ে একটা সপ্তাহান্তের ছুটি অনায়াসেই কাটানো যায়। মূল শহর থেকে ৩০ কিমি দূরে সীতাভঞ্জ। যাজপুরের পথে ২৩ কিমি দূরত্বে কাতারবেদা। এরপর ডানদিকে আরও ৭ কিমি এগোলেই সীতা নদীর ধারে অসাধারণ স্পট। প্রবাদ আছে লব-কুশের জন্মস্থান এটিই।

পরের দিন কেওনঝড় থেকে ঘুরে আসুন ৫০ কিমি দূরত্বে অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে খণ্ডধর জলপ্রপাত। এখানে থাকার জন্য একটা সরকারি বাংলো আছে। বারসূয়া স্টেশনের কাছে টেনসা থেকেও এখানে আসা যায়।

কীভাবে যাবেন : ধর্মতলা থেকে বাসে আর হাইওয়ে দিয়ে সরাসরি গাড়িতে আসা যায়।

কোথায় থাকবেন : পি ডব্লিউডি বাংলো ছাড়াও রয়েছে সাধারণ মানের তিন-চারটি হোটেল।

Dubrajpur Travelogue

 

দুবরাজপুর : অভিযান সিনেমার সেই অসম্ভব সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ মনে পড়ে? সেই মালভূমি আর মামা-ভাগ্নে পাহাড়? জায়গাটার নাম দুবরাজপুর। পাহাড়ের শীর্ষে পাহাড়েশ্বরের মন্দির। মন্দিরের পূর্বদিকে একটি পাথরে সব সময় জল ভরে থাকে। এ এক প্রাকৃতিক বিস্ময়। পাহাড়ের উপর থেকে নীচের প্রাকৃতিক দৃশ্য অপূর্ব। শীতকালের ছোট্ট ছুটিতে অনন্য এই স্থান।

দুবরাজপুরে মহাদেবের মন্দির আছে। অধিকাংশ মন্দিরেই রয়েছে পোড়ামাটির অপূর্ব অলংকরণ। এখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন হেতমপুর রাজবাড়ি। হেতমপুর, দুবরাজপুর থেকে মাইল খানেক পথ। হেতম খাঁ-এর নামানুসারে জায়গাটির নামকরণ। এখানে হেতম খাঁ-এর দুর্গ রয়েছে। ঘুরে দেখতে পারেন। আর রয়েছে হেতমপুরের রাজবাড়ি। দেখার মতো এই অট্টালিকা। রাজাদের প্রতিষ্ঠা করা বেশ কয়েকটি মন্দিরও আছে প্রাসাদ চত্বরে।

এ অঞ্চলের জল খুব ভালো। একসময় বাঙালি তাই হাওয়া বদলের জন্য এসব জায়গায় বেড়াতে যেত। খনিজ পদার্থে ভরা জলে রয়েছে হজম প্রক্রিয়া সুচারু করার গুণ। একদিন ঘুরে নিন বক্রেশ্বর। সেখানে রয়েছে বাবাধামের উষ্ণপ্রস্রবণ।

কীভাবে যাবেন : দুবরাজপুর যেতে হলে ট্রেন বা বাসে সিউড়ি আসতে হবে। সিউড়ি থেকে দুবরাজপুরগামী বাস তো পাবেনই। চাইলে গাড়িভাড়াও করতে পারেন। ট্রেনে এলে অন্ডাল হয়ে দুবরাজপুর স্টেশনে নামতে হবে।

কোথায় থাকবেন : দুবরাজপুরে তেমন ভালো থাকার ব্যবস্থা নেই। সিউড়িতে থাকতে হবে, সরকারি বা বেসরকারি লজে।

মিনিম্যালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি

চিকিৎসকরা হার্ট সার্জারির কথা বললেই, রোগী কিংবা তাঁর বাড়ির লোকেদের মধ্যে খুব ভয় কাজ করে। ভয় হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, কর্মজীবন থেকে দীর্ঘ বিরতি, এমনকী জীবনহানির আশঙ্কাও থাকে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতির ফলে, এই ভয় এখন অনেকটাই কমেছে। মিনিম্যালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস) অনেক বেশি নিরাপদ বলে এখন দাবি করছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, এমআইসিএস-এর ক্রমসাফল্যে এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। কিন্তু, হার্টের কী ধরনের সমস্যার সমাধানে এমআইসিএস উপযুক্ত, কীভাবে হয় এই সার্জারি এবং কেন এই ধরনের সার্জারির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এই সমস্ত বিষয়ে সম্প্রতি কৗতূহল মেটালেন ডা. সুশান মুখোপাধ্যায়।

বাড়ছে হার্ট ডিজিজ। প্রচুর মহিলাও হার্টের নানারকম অসুখেঞ্জভুগছেন এখন। এর কারণ কী?

এত বেশি সংখ্যক লোক হার্টের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন এখন, যা খুবই উদ্বেগজনক। এর মুখ্য দুই কারণ হল– ফুড হ্যাবিট এবং লাইফস্টাইল-এর পরিবর্তন। ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া, মিনিমাম আট ঘন্টা না ঘুমোনো, ধূমপান, মদ্যপান প্রভৃতি ছাড়াও, হার্টের অসুখের জন্য দায়ী মানসিক চাপ। কারণ মানসিক চাপ যত বাড়বে, ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততই বাড়বে। আর ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত হওয়া মানেই হার্টের অসুখকে আমন্ত্রণ জানানো। তবে মহিলাদের হার্টের অসুখ বাড়ছে অন্য কারণে। যেসব মহিলা দীর্ঘদিন কন্ট্রাসেপ্টিভ পিলস সেবন করছেন কিংবা হরমোন থেরাপি করেছেন, সেইসব মহিলারা হার্টের অসুখে ভুগতে পারেন।

সাধারণত কমবয়সি মহিলাদের যেসব হার্টের সমস্যা লক্ষণীয়, তা হল– হার্টের পর্দার মধ্যে ছিদ্র বা অ্যার্টিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট বা ভেন্টিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট। এই ধরনের সমস্যা খুবই সাধারণ।ঞ্জএছাড়াও হার্টের মধ্যে যে কপাটিকা বা ভাল্ভ আছে, তারও সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ভাল্ভ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। আর যে- সমস্ত সমস্যা দেখা যায়, তারমধ্যে অন্যতম হল হার্টের মধ্যে টিউমার। এটি মিক্সমা নামে পরিচিত। এর ফলে ক্যালসিফায়ড ভাল্ভ সংকুচিত হয় এবং অ্যাওঠিক স্টেনোসিস দেখা যেতে পারে, যার জন্য সার্জারির প্রয়োজন। তবে যে- সমস্যাটি আমাদের দেশে মহামারির আকার ধারণ করেছে, তা হল– করনারি আর্টারি ডিজিজ। অর্থাৎ, যার জন্য হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মহিলাদের করনারি ভাস্কুলার ডিজিজ হয়ে থাকে, যা ঋতুকালীন সময় কিছুটা কম থাকে। তবে ঋতুবন্ধের  পর এই সমস্যা পুরুষদের মতোই হয়। আসলে নানা কারণে বাড়ছে করনারি ভাস্কুলার ডিজিজ। শরীরচর্চার অভাব, ওজন বেড়ে যাওয়া, ফ্যাট এবং ব্যাড কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণেও বাড়ছে এই ডিজিজ।

হার্টের কী ধরনের সমস্যায় সার্জারির প্রয়োজন হয়?

আর্টিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট (এএসডি), মাইট্রাল ভাল্ভ ডিফেক্ট, অ্যাওঠিক ভাল্ভ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, এলএমিসোমা প্রভৃতি ক্ষেত্রে হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়।

সাধারণ হার্ট সার্জারি এবং মিনিম্যালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারির মধ্যে তফাত কী?

সাধারণ হার্ট সার্জারির ক্ষেত্রে বুকের পাঁজরের কিছুটা হাড় কেটে সার্জারি করতে হয়। এরজন্য চার থেকে ছয় ইঞ্চির ক্ষত তৈরি হয়। রক্তক্ষরণও হয় অনেকটাই। এই শল্য চিকিৎসা কিছুটা ঝুঁকিসাপেক্ষও। তাছাড়া, প্রায় দু’মাস বিশ্রামে থাকার পর কর্মজীবনে ফেরা যায়। কিন্তু এমআইসিএস বা মিনিম্যালি ইন্ভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য মাত্র দেড় ইঞ্চি কাটতে হয়। বেশি রক্তক্ষরণেরও ভয় থাকে না। সার্জারি হয় ক্যামেরাকে মাধ্যম করে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে। সার্জারির তিন দিন পর রোগী বাড়ি ফিরে যেতে পারেন নিশ্চিন্তে এবং পনেরো দিন পর কাজে যোগ দিতে পারেন অনায়াসে।

এমআইসিএস-এর জনপ্রিয়তা কি বাড়ছে?

মিনিম্যালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি বা এমআইসিএস নিয়ে প্রায় আট বছর ধরে কাজ চলছে। প্রথম দিকে এই পদ্ধতিতে নিয়মিত সার্জারি হতো না। কারণ, এই পদ্ধতির সুফল প্রসঙ্গে রোগী এবং তার পরিবারের লোকেরা অবগত ছিলেন না এবং তাদের বোঝানোও একটু কঠিন ছিল। তাছাড়া শুরুতে সার্জারির ব্যাপারে বিভিন্ন জায়গা থেকে এর কার্যকরী দক্ষতার শিক্ষালাভ করে আসতে হতো চিকিৎসকদের। তখন শুধু জার্মানির বিখ্যাত ‘লাইভ জিগ হার্ট সেন্টার’-এ নিয়মিত ভাবে এমআইসিএস হতো। তো ওখান থকে দক্ষতার শিক্ষা নিয়ে আসতে হয়েছে এবং ওদের অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হয়েছে। তবে এখন আমরা এখানেও দক্ষতার সঙ্গে এই সার্জারি করি এবং আমাদের সাফল্যের কারণে এমআইসিএস-এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।

হার্টের সমস্যা এড়াতে মহিলারা কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

যেসব মহিলাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের হার্ট অ্যাটাক আটকানোর জন্য অগ্রিম সতর্কতার প্রয়োজন। চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার পরই জেনারেল চেক-আপ করানো জরুরি। সেইসঙ্গে, ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি, সিটিএনজিও কিংবা কার্ডিয়াক ভেসেল-এ কোনও স্নেহজাতীয় পদার্থ রয়েছে কিনা মাঝেমধ্যে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার।ঞ্জএছাড়া, কিডনির সমস্যা কিংবা ডায়াবেটিসঞ্জআছে কিনা সেই পরীক্ষাও করিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ আমাদের দেশের মহিলাদের যে শারীরিক বৈশিষ্ট্য আছে, অর্থাৎ মহিলাদের ছোটোখাটো গঠন কিংবা ওবেসিটি থাকলে করনারি আর্টারির মাপ ছোটো হয়। এরজন্য যদি করনারি আর্টারিতে কোনও ব্লকেজ দেখা যায়, তাহলে এমআইসিএস-এর প্রয়োজন হয়। সেইসঙ্গে ব্লকেজ না থাকলেও যদি ছোটো ভেসেল হয়, তাহলেও বুকে ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে কিছু ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে। এছাড়া বন্ধ করতে হবে ফাস্ট ফুড খাওয়া, ঘুমোতে হবে পর্যা৫ (কমপক্ষে আট ঘন্টা), শারীরিক ব্যায়ামও জরুরি। বন্ধ করতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপান। টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

এমআইসিএস কি খুব কস্টলি ট্রিটমেন্ট?

একেবারেই নয়। সাধারণ হার্ট সার্জারির থেকে সামান্য বেশি খরচ হলেও, তা আয়ত্তের মধ্যে থাকে। বরং সাধারণ হার্ট সার্জারির ক্ষেত্রে বেশি দিন হাসপাতালে থাকার খরচ বহন করতে হয় এবং কাজে যোগ দিতেও সময় লাগে (দু’মাস)। কিন্তু এমআইসিএস-এ মাত্র তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হয় এবং পনেরো দিন পর কাজে যোগ দেওয়া যায়। অতএব, সেদিক থেকে এমআইসিএস সাশ্রয়কারী বলা যায়। তবে পেশেন্ট-এর শারীরিক অবস্থা যদি খুব খারাপ হয় কিংবা অসুখ যদি জটিল রূপ নিয়ে থাকে, তাহলে তো খরচ বাড়বেই।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব