সম্পদ

পরিতোষের ধৈর্য এত কমে যাচ্ছে! পূর্ণিমা বেশ বিরক্তই হচ্ছেন মাঝেমধ্যে। সকালবেলা এত কীসের হাঁকডাক? বেশ তো চায়ের কাপ, খবরের কাগজ নিয়ে বসেছে, তবু পূর্ণিমা, পূর্ণিমা। রান্নাঘর থেকে হাত মুছে বেরোতে না বেরোতেই মুখোমুখি পরিতোষের। পূর্ণিমা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেলেও চুপ করে তাকিয়ে রইলেন স্বামীর মুখের দিকে। দ্যাখো দ্যাখো কী লিখেছে! সম্পত্তির জন্য ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে বুড়ো বাবা-মাকে খুন করিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি। কুপুত্তুর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সব কবুল করেছে। বুঝেছ, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। পূর্ণিমাকে পড়ে শোনানোর পরই পরিতোষ কেমন যেন উদাস হয়ে গেলেন। তাঁর নিজেরও তিন ছেলেমেয়ে।

আরে বাবা এত ভাবাভাবির কী আছে। কোন কালচারের লোকজন এমন করেছে সেটা তো দেখবে। শিক্ষিত না অশিক্ষিত সেটাও তো ভাবা উচিত। পরিতোষ ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, থামো তো, বলছি বাড়ি সম্পত্তি অর্থাৎ নিশ্চিত ভাবে বড়োলোক! তাছাড়া এমবিএ করেছে ছেলে, বিদেশ থেকে। বলতে বলতে যেন হাঁফিয়ে উঠলেন। বপকে আজকাল মাঝেমাঝেই এমন চাপ অনুভব হয় পরিতোষের। পূর্ণিমা তাই দেখে তাড়াতাড়ি এক গেলাস জল মুখের সামনে এগিয়ে ধরে বললেন- কাগজে কি পড়ার আর কিছুই থাকে না? খেলা, সিনেমা, রাজনীতি, তা না যত্তসব আজে বাজে খবরে আগে দৃষ্টি যায়! আর কদিন বাদেই তোমার রিটায়ারমেন্ট। নিজের বাড়ি-বউ-ছেলেমেয়ে পেনশনের মোটা টাকা- তোমার ভাবনা বা দুশ্চিন্তা কেন হয়? কী চাও তুমি?

পরিতোষ আবার এক ঢোঁক জল খেয়ে বললেন, এক পয়সাও আর কাউকে দেব না। ছেলেমেয়েদের যথেষ্ট পড়াশানো করিয়েছি, এবার নিজেরা বুঝে নিক। পূর্ণিমা চমকে উঠলেন, কী বলছ। পাপুর বিয়ে হয়ে গেছে। ঘরে বউ আছে। দুদিন পরে মেয়ে অর্থাৎ পাপিয়ার বিয়ে!আর কয়েকদিন আগেই তো পিকলু বলছিল আরও পড়বে।

-ব্যস চুপ। যথেষ্ট পড়িয়েছি, ইঞ্জিনিয়র হয়েছে, এবার যা করার নিজের টাকায় করো। আমার পেনশনের এক নয়া পয়সাও কাউকে দেব না। পরিতোষ উঠে বাইরে হাঁটা দিলেন।

আজ সকাল থেকে পরিতোষের মন ভালো নেই। সকালে মর্নিংওয়াকে গিয়ে দেখেন রতন চুপচাপ বসে আছে। খুঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। হঠাৎ স্থির হয়ে গিয়ে কঠিন গলায় বলে উঠল, ছেলে বলেছে, পরিবার নিয়ে চাকরির জায়গায় চলে যাচ্ছে। বউ-বাচ্চা নিয়ে দুকামরার ছোটো অফিস-ফ্ল্যাটে খুবই অসুবিধা হয় বেশি লোক হলে। ছেলের এটুকু কথাতেই রতন বুঝে নিয়েছে ছেলে-বউ কী বলতে চাইছে। জমানো টাকা যেটুকু ছিল স্ত্রীর অসুখে বেরিয়ে গেছে, চাকরির কোনও পেনশন নেই। নিজের বাড়ি ছিল। বন্ধক রেখে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিল, মানুষ হবে বলে। হায় রে!

রতনের মুখে ওই ঘটনা শুনে এবং বাড়ি গিয়ে খবরের কাগজ পড়ে পরিতোষের মনমেজাজ সবই তিরিক্ষে হয়ে গেল। সেই যে বাসের পিছনে একবার লেখা দেখেছিলেন। টাকা আপন, সবই পর টাকার টুঁটি চেপে ধর। সেদিন বিড়বিড় করে বলেছিলেন, দেশটা উচ্ছন্নে গেল! আজ চকিতে মনে পড়ে গেল সে কথা। ওই কথাগুলোই ঠিক। পূর্ণিমা জানতেন পরিতোষ একবার যা ভেবে নিয়েছেন তা-ই করবেন।

গত রাতে পিকলু আবদার করেই বলেছিল, বাবা, স্পনসরশিপের টাকাতেই বিদেশ যাব। কিন্তু আরও অন্যান্য খরচার জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা লাগবে। মাত্র চার-পাঁচ বছরের ব্যাপার। তারপর সব টাকা সুদে-আসলে আমাদের ঘরেই আসবে। পিকলু থামল, বাবার নিশ্চুপ মুখের দিকে তাকাল। তারপর মা-র দিকে। মায়ের চাহনি দ্বিধাবিভক্ত। পিকলু বুদ্ধিমান ছেলে। যা বোঝার সে বুঝে নিল।

রাতের সব কাজ সেরে পরিতোষের পাশে বসে পূর্ণিমা বেশ অভিমান করে বললেন, কী হয়েছে তোমার? যদি ছেলেদের সাথে এমন ব্যবহার করো, তাহলে সংসার টিকবে কী করে? রাতে টেবিলেও এলে না। ছেলেরা তোমার জন্য অপেক্ষা করে ছিল। দিন রাত কী ভাবছ? পরিতোষ ধীর-ঠান্ডা গলায় বলে উঠলেন, আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করেনি, অপেক্ষায় ছিল আমি টাকা দেব কিনা সেটা জানার জন্য। অবাক চোখে পূর্ণিমা তাকালেন স্বামীর দিকে। এ মানুষটাকে তিনি চেনেন না! এ কোন পরিতোষ! হলটা কী!

পরের দিন সকালে খাবার টেবিলে বসেই পাপু জিজ্ঞাসা করল পিকলুর কথা টাকার কথা। পূর্ণিমা চুপ। আবার প্রশ্ন করতে পিকলুই ঝাঝিযে উঠল, দাদা চুপ কর।

চুপ করব কেন? তোর বিদেশ যাওয়া হবে না? টাকার জন্য আটকে যাবি?

পরিতোষ বেশ জোর গলায় বলে উঠলেন, ইঞ্জিনিয়র করে দিয়েছি। তোমাদের দুজনের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি। আর নয়। এবার যা করবে, তা নিজেরাই করো। পিকলু মাথা হেঁট করে পাঁউরুটি চিবোতে থাকল। পাপু বেশ থতমত খেয়ে গেল বাবার এই আচরণে। নীচু স্বরে বলল সে, আমার ভাইয়ের বিদেশ যাওয়া টাকার জন্য আটকে যাবে? এ হতে পারে না। আমি দেখছি কী ব্যবস্থা করা যায়। পরিতোষ তাড়াতাড়ি করে খাওয়া শেষ করে উঠে গেলেন। নিজের মনেই, অথচ সবাই যেন শুনতে পায়, এমন স্বরে বলে চলে গেলেন, আমি কারুর কাছ থেকে কিছু আশা করি না, কেউ যেন আমার কাছ থেকে কিছু প্রত্যাশা না করে। সবাইকে বড়ো করে দিয়েছি, মানুষ করেছি, আর নয়।

মা, বাবার কী হয়েছে? পিকলুর প্রশ্ন শুনে পূর্ণিমা ঘুরে তাকালেন, চোখ ভর্তি জল নিয়ে জানি না, কী যে হয়েছে, বুঝি না। কাল রাতে শোবার সময় বললেন, পূর্ণিমা, আর টাকা-পয়সা কাউকে নয়। সব নিজেদের নিজেদের, বলে শুয়ে পড়লেন।

কি! আমরা বাবার টাকার ব্যাপারে লোভী?

ভাই-বোন, ছোটো থেকে এক সাথে বড়ো হওয়া, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, সব কিছুতেই যে তোমরা মা। বাবা কি বোঝে না! আমি তো এই বাবাকে চিনতেই পারছি না, পাপু উঠে চলে গেল।

পিকলু মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, বাবার দোষ কোথায়? দিনরাত কাগজে-টিভিতে খবর, সম্পত্তির লোভে বাবা-মাকে হেনস্তা, কখনও খুন। আকছার এমন খবর পড়া-শোনা-দেখার পর বৃদ্ধ, পেনশনভোগী মানুষটা নিজেকে কতটা ঠিক রাখতে পারে? চোখের সামনে রতন জ্যাঠার ছেলেটাকে দ্যাখো। কত ভালো মানুষ রতন জ্যাঠা, তার ছেলের এই ব্যবহার! বাবা তো ভয় পাবেই, এমন ঘটনা শুনে।

 

পরের মাসেই পিকলু চলে গেল বিদেশে। বোন পাপিয়াও ক্যাম্পাস-ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়ে খুশি। নিজেকে নিয়ে সে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সেই সকালে বেরিয়ে বাড়ি আসতে আসতে প্রায়দিনই আটটা বেজে যায়। এ নিয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে মাঝেমধ্যে মন কষাকষি হয়। পাপিয়া মাকে বুঝিয়ে হাল ছেড়ে দেয়, এখন অফিসে সকাল নটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত থাকতেই হয়। তারপর ওভারটাইম থাকলে তো কথাই নেই।

পূর্ণিমা হাল ছেড়ে দিয়েছেন। সারাদিন একা একা থাকতে হয় তাঁকে। একদিন রাতে পরিতোষের কাছে পূর্ণিমা কথাটা পাড়লেন- মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে কী চিন্তাভাবনা করছ? বয়স বাড়ছে। চাকরি করছে, এবার খোঁজখবর শুরু করো। পরিতোষ শুনলেন চুপচাপ।

দিনকয়েক পরে এক রাতে খাবার টেবিলে পরিতোষ সবাইকে জানালেন, কাল পাপিয়াকে দেখতে আসবে। পাপিয়া বেশ অবাক হয়ে গেলেও বাবাকে কিছু বলল না। পরে মাকে বলল, বেশি আয়োজন কোরো না। প্রথমবার দেখতে আসছে, চা, বিস্কুট দিলেই হবে। মা হেসে কিছুই বললেন না। মেয়ে অফিস গেলে নিজেই বসে গেলেন মিষ্টি তৈরি করতে। গোলাপজাম, নারকেল বরফি, নিমকি, সিঙাড়া, কাটলেট আর পনির মানচুরিয়ান। এছাড়া ঘরে জলজিরার শরবত তো আছেই।

সন্ধ্যায় যথা সময়ে পাত্রপক্ষ হাজির হলেন পরিতোষের বাড়িতে। পাত্র প্রমোদ বেশ সম্রান্ত পরিবারের ছেলে। সঙ্গে এসেছেন মা সৌদামিনী। বসামাত্রই সৌদামিনী শুরু করে দিলেন তার ছেলের প্রশংসা। ছেলেকে সিএ তৈরি করতে কত খরচ হয়েছে, তার হিসেবও তিনি দিতে ভুললেন না। পরিতোষ আর থাকতে না পেরে বলে উঠলেন, এগুলো তো সব মা-বাবারই কর্তব্য, সন্তানকে মানুষ করার জন্য যতটা প্রয়োজন তাদের দিকে হাত বাড়িযে দেওয়ার। আপনি টাকা-পযসার কথা কী যেন বলছিলেন? প্রমোদের মা বেশ হকচকিয়ে গেলেন পরিতোষের কথা এবং গলার গম্ভীর স্বর শুনে। পরিতোষ না থেমেই বলে উঠলেন, আমার মেয়ের বিয়ের জন্য যদি কোনও পণ, মানে টাকা পয়সার লেনদেনের কথা আপনারা বলেন, তাহলে এখানে আমার মেয়ে বিয়ে দেব না। ব্যস কথাবার্তার এখানেই ইতি। পূর্ণিমা স্বামীকে একলা পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন- কী ভেবেছ তুমি, এভাবে পাত্রপক্ষকে বললে কেউ কি আর বিয়ের কথা এগোবে!

পরিতোষ শান্ত গলায় পূর্ণিমাকে জবাব দিলেন, মেয়ের বিয়ে দেব, বেচব না। পূর্ণিমা মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদতে লাগলেন, মেয়ে বিয়েতে কোন বাবা না খরচ করে? তুমি কী রকম মানুষ! পরিতোষ উঠে চলে গেলেও পূর্ণিমা একা বসে কাঁদতেই থাকলেন। হঠাৎ কাঁধে মৃদু চাপ পড়তেই ঘুরে দেখলেন পাপিয়া-কে। মায়ের হাত ধরে নরম গলায় সে বলল, মা বাবা তো ঠিকই করেছে, তুমি কাঁদছ কেন? আমার শিক্ষাদীক্ষার কি কোনও দাম নেই? তুমি চিন্তা কোরো না, আমার জীবনসঙ্গী আমি নিজেই খুঁজে নেব। তুমি একটু ধৈর্য ধরো। মেয়ের আশ্বাসবাণীতেও মা শান্ত হলেন না, নিজের মনেই কেঁদে চললেন।

 

এরপর ছমাস কেটে গেছে। একদিন বিকেলে পাপিয়া তাড়াতাড়ি বাড়ি এল,

মা-বাবা দুজনেই সপ্রশ্ন দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকালেন। পাপিয়া হেসে বলল, আজ তোমাদের সঙ্গে একজনের আলাপ করিয়ে দেব, তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এলাম। এসো অমৃত, ভেতরে এসো।

পূর্ণিমা-পরিতোষ দুজনেই দরজার দিকে তাকালেন। দরজায় দাঁড়িয়ে একজন সুদর্শন যুবক। বয়সটা পাপিয়ার তুলনায় কিঞ্চিত বেশি। পরিচয়পর্বের পর জানা গেল লোকটি পাপিয়ার থেকে অন্তত বারো তেরো বছরের বড়ো এবং সে দক্ষিণ ভারতীয়। অপ্রস্তুত অবস্থাটা কাটিয়ে পূর্ণিমা পাপিয়াকে টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে গিয়ে বকুনির স্বরে বলে উঠলেন, এ কী করছিস তুই! ছেলেটি আমাদের স্বজাতি নয়, তোর থেকে এত বড়ো এমন একজনকে তুই ভালোবাসিস!

মা! পূর্ণিমার হাতটা চেপে ধরল পাপিয়া। কী আসে যায়, অমৃত খুবই মেধাবী ছেলে, ও বিজ্ঞানী। আজকাল নর্থ-ইন্ডিয়ান,সাউথ-ইন্ডিয়ান এসব পরিচয়ে কিছু এসে যায় না মা। আমরা কি ইডলি-ধোসা খাই না? হোটেলে গিয়ে রসম-ভাত খাই না? অমৃত তো রাজমা কিংবা অড়হড়ডাল-ভাত বেশ পছন্দ করে। আলুর পরোটা ওরও খুব প্রিয়, তোমারও প্রিয়, মা। আমরা দুজনে দুজনকে বুঝি, ভালোবাসি। আমি সারা জীবন ওর সঙ্গে সুখে থাকব। তুমি বাধা দিও না। বলতে বলতে পাপিয়ার দুচোখ জলে ভরে উঠল।

মেয়েকে বিহ্বল দেখে পূর্ণিমা বললেন, তোর সুখই আমার কাছে সব থেকে বড়ো পাওয়া, তুই যা ভালো বুঝিস কর মা, আমার কিছুই বলার নেই। পাপিয়া চোখের জল মুছে হাসতে হাসতে মাকে নিয়ে বাইরের ঘরে এসে দেখল, বাবা আর অমৃত দুজনে খোসগল্পে মেতেছে। সেদিন রাতে অমৃত ওদের বাড়িতে খেয়ে গেল, বেশ তৃপ্তি করে। পূর্ণিমা-পরিতোষ বেশ খুশি হলেন অমৃতর ব্যবহারে।

 

এই ঘটনার তিন মাসের মধ্যেই পাপিয়া-অমৃতর রেজিস্ট্রি হয়ে গেল, ছোট্ট এক পারিবারিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। পিকলু আসতে পারেনি। এজন্য সে দারুণ আপসোস করে দিদিকে মেল পাঠিয়েছে। বলেছে সে ফিরে এলে আবার অনুষ্ঠান হবে। পূর্ণিমা একটু নিমরাজি ছিলেন বিয়েতে তেমন ঘটা না হওয়ার জন্য কিন্তু অমৃতই বুঝিয়েছিল, শুধু শুধু খরচা করার কোনও মানে হয় না। পরিতোষ কিন্তু বেশ নিশ্চিন্ত এমন জামাই পেয়ে। সময় পেলেই অমৃতকে নিয়ে আড্ডা দিতে বসে যান। পাপুও তাই।

আস্তে আস্তে অমৃত-পাপিয়ার যাওয়া-আসা এ বাড়িতে কমে গেল। কাজের চাপ বেড়ে যাচ্ছে সকলের। এক বছরের মধ্যে পাপুও অন্য চাকরি নিয়ে পিকলুর কাছে চলে গেল সপরিবারে। চার বছরের কনট্র্যাক্ট। বাড়িটা একদম ফাঁকা। পরিতোষ চুপচাপ থাকেন, পূর্ণিমারও একইরকম অবস্থা।

বাড়িটা যেন খাঁ-খাঁ করছে। একসময় বাড়িটা ভরে থাকত। তিন ভাইবোনের হাসি ঝগড়া কান্নায়। বিশেষ করে পিকলুর। সবার ছোটো, অল্পেতেই বায়না। পাপু সব সময় পিকলুর পক্ষ নিত। দুভাই একদিকে, তো পাপিয়া একা। বেশ ছিল দিনগুলো। পরিতোষ না বুঝেই মেয়ের পক্ষ নিতেন। কি হইচই আনন্দের দিন ছিল সেগুলো।

একবার বেশ মনে আছে পূর্ণিমার, দুই ভাই কোথা থেকে কটা পেয়ারা নিয়ে এসেছে, বোধহয় রতনদাদের বাগান থেকে, এনে বাপ-ব্যাটারা মিলে সব খেয়ে নিয়েছে। হঠাৎ পাপিয়া সকুল থেকে ফিরেছে। দেখেই চিৎকার, আমার ভাগ কই? সবাই মুখ মুছে চুপচাপ। পাপিয়া ছুটে রান্নাঘরে গিয়ে নালিশ জানাতেই, পূর্ণিমা খুন্তি হাতে দুই ছেলের দিকে ছুটে গেলেন। পিকলু ছুটে পালাতে পালাতে জানাল, বাবা দুটো পেয়ারা খেয়েছে। রেগে পরিতোষের দিকে তাকাতে গিয়ে হেসে ফেলেছিলেন পূর্ণিমা।

বেচারা মাথা হেঁট করে বলির পাঁঠার মতো বসে আছে। সেবার পাপিয়া অভিমানে দু-তিন দিন বাবার সাথে কথা বলেনি। সেদিন রাতেই অবশ্য পরিতোষ মেয়ের মান ভাঙাতে একটা নতুন গল্পের বই কিনে এনেছিলেন। পাপিয়া ছুঁয়েও দেখেনি। সে রাত কাটলেও পরের দিনও পাপিয়া যখন কারুর সাথে কথা বলেনি, তখন দু-ভাই বেশ ভড়কে গিয়েছিল। চুপচাপ দুজনে দুটো পেয়ারা জোগাড় করে এনে দিয়েছিল। বাপরে কী জেদ ছিল মেয়ের। দেখতে বেশ শান্ত কিন্তু দারুণ একরোখা। কত সুখ-স্মৃতি।

 

আচমকা একদিন, পরিতোষ-পূর্ণিমা রাতের খাওয়া সেরে শুয়ে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরের দিন পূর্ণিমা সকালে উঠে অবাক! পরিতোষ রোজ ভোরবেলায় মর্নিংওয়াক করতে যান, আজ কী হল! এত ঘুমোচ্ছেন কেন?

তোমার হল কী! শরীর খারাপ নাকি? সাড়া না পেয়ে এবার একটু ধাক্কা দিতেই মানুষটার মাথাটা এক পাশে হেলে পড়ল।

 

পাপিয়া-অমৃত এল। ছেলেরা কেউ আসতে পারল না বাবার শেষকৃত্যে। পাপিয়ারা কয়েকদিন মায়ের কাছে থেকে গেল। দিনদিন বাড়িটা যেন পূর্ণিমাকে গ্রাস করে নিচ্ছে। পরিতোষের মৃত্যুর মাস চারেক পর পূর্ণিমা ছেলেদের আইএসডি করে খবর পাঠালেন একবার অন্তত তারা যেন আসে। এই বাড়ির কোনও ব্যবস্থা করতে হবে। যে যার সম্পত্তির ভাগ যেন বুঝে নেয়। পাপু-পিকলু সোজাসাপটা বলল, মা আমরা দুভাই কিছু চাই না। শুধু তোমায় চাই। তুমি পাপিয়া্কে দাও। কিংবা তোমার ইচ্ছামতো বাড়িটা কোনও অনাথালয় বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দান করে দিয়ে, তুমি আমাদের কাছে চলে এসো। বাবার আত্মা শান্তি পাবে।

পূর্ণিমার দুচোখে জল। পরিতোষের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই বলে উঠলেন, দ্যাখো, যে-সম্পত্তির জন্য তুমি ছেলেদের দূরে পাঠালে, যে-টাকাপয়সা তুমি কাউকে দিলে না, নিজের ভবিষ্যতের জন্য ভয় পেলে, সেই পয়সা আজ কারুর কাজে লাগল না। ছেলেরা শুধু মাকেই চায়। সময় বড়ো কম। আমি চলে যাব, আমি ওদের কাছেই থাকব। সব দিয়ে দেব গরিবদের। আমার সন্তানরাই আমার সম্পদ।

সাতপাড়া থেকে চিলিকা

লাক্ষাদ্বীপের আগত্তি দ্বীপে নেমে চূড়ান্ত আশ্চর্য হয়েছিলাম। ছোট্ট দ্বীপ আগত্তি, চওড়ায় কোথাও বা ৫০০ মিটারেরও কম। সেই দ্বীপের এক ধারে দেখেছিলাম সাদা-ঘোলাটে জলের উত্তাল সমুদ্র আর অপর পাড়ে তুঁতে নীল শান্ত সমুদ্র। চিলিকা হ্রদের মধ্যে এক ছোট্ট দ্বীপ রাজহংস সেখানে দেখলাম প্রকৃতির আর এক বিস্ময়। এক পাড়ে উত্তাল বঙ্গোপসাগর আর এক পাড়ে স্বল্প গভীরতার চিলিকার ঈষৎ লবণাক্ত জল। রাজহংস দ্বীপ যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে সাতপাড়া। আর সাতপাড়া ভ্রমণ করতে হলে শুরু করতে হবে পুরী থেকে।

পুরীতে আমরা এসেছিলাম ২০-২৫ জনের একটা বড়ো দল নিয়ে। মুখ্য উদ্দেশ্য এক ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপে যোগদান। তারই অঙ্গ হিসাবে আমরা যাত্রা করেছি পুরী থেকে চিলিকার পথে। আমাদের চিলিকা ভ্রমণ শুরু হবে সাতপাড়া থেকে। সাধারণত পর্যটকরা রম্ভা বা বরকুলের পর্যটন আবাস থেকে চিলিকা ভ্রমণ করেন কিন্তু পুরী থেকে সে দূরত্ব অনেকটাই বেশি। এদিকে পুরী থেকে সাতপাড়া মাত্র ৬০ কিমি, ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে সড়কপথে পৌঁছানো যাবে। চিলিকার কোলে তৈরি হয়েছে নব পর্যটন কেন্দ্র সাতপাড়া। এখানে পর্যটক আবাসও গড়ে তুলেছে ওড়িশা পর্যটন দফতর। আর এখান থেকেই প্রাইভেট বোটে বা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভেসে পড়া যায় চিলিকার বুকে।

পুরীর হোটেল থেকে ৩টি গাড়ি একসঙ্গে ছেড়ে দিল সাতপাড়ার উদ্দেশ্যে। পুরী শহর ছেড়ে গাড়ি এগিয়ে চলল। ঘন্টাখানেক চলার পর পেরিয়ে এলাম ব্রহ্মগিরি। এখানে দু-চারটে দোকানপাট চোখে পড়ল, গ্রামও রয়েছে। কাছেই আলারনাথ মন্দির। আমরা পুরী থেকে ২০-২৫ কিমি চলে এসেছি। একটু পরেই চোখে পড়ল দূরে চিলিকা হ্রদ। রাস্তার একপাশে চাষের জমি অন্যপাশে জলাভূমি পার হয়ে চিলিকার নীল জল। গাড়ি ছুটে চলেছে গ্রাম ছাড়িয়ে মাঠ-ঘাট পেরিয়ে রিঠা ফলের বড়ো বড়ো জঙ্গল ফেলে রেখে। পুরী জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সাতপাড়ার যোগসূত্র দহিখিয়া পুল দিয়ে। এপারে মানিক পাটনা আর ওপারে সাতপাড়া।

গাড়ি এসে থামল সাতপাড়া যাত্রীনিবাসের সামনে। পুরী থেকে সময় লাগল ঘন্টা-দুয়েকের একটু বেশি। বেলা এখন সাড়ে ন’টা। ব্রেকফাস্ট সেরেই আমরা বেরিয়েছি। যাত্রীনিবাসে রেস্তোরাঁ আছে, সেখানে দুপুরের খাবারের অর্ডার দিয়ে এখন শুধু এক কাপ চা নিয়ে বসলাম। সাতপাড়ার কাছাকাছি চিলিকায় দেখতে পাওয়া যায় ডলফিন। তাই চিলিকার এই দ্বীপটিকে পর্যটন দফতর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। দ্রুত উন্নতি ঘটে সাতটি পাড়া দিয়ে গঠিত এই দ্বীপগ্রাম সাতপাড়া পর্যটন কেন্দ্রের।

১৯৯৭ সালে ওড়িশার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জনকীবল্লভ পট্টনায়েক দ্বারোদ্ঘাটন করেন সাতপাড়া যাত্রীনিবাসের। আর এই সময়েই নির্মিত হয় দহিখিয়া পুল। যাতায়াতের পথ তাতে আরও সুগম হল, একদম লেকের কোলে এই যাত্রীনিবাস। খান দশেক দ্বিশয্যাবিশিষ্ট স্নানাগার সংলগ্ন ঘর। রেস্তোরাঁও রয়েছে। পাশেই জেটিঘাট, সেখান থেকেই চিলিকা ভ্রমণের সব নৌকো ছাড়ে। ঘাটের ধারেই বোট বুকিং-এর কাউন্টার বসেছে। এক ঘন্টা থেকে আট ঘন্টা সময়সীমার নানা ধরনের টুর সাজানো রয়েছে। তারই মধ্যে আমরা বেছে নিলাম একটি। সাড়ে ৩ ঘন্টার টুর, নিয়ে যাবে ডলফিন দেখাতে সঙ্গে রাজহংস দ্বীপ ও চিলিকা-সমুদ্রের মোহনা। ১্৩০০ টাকা যাতায়াত, যেতে পারবে বোটপিছু ৮ জন যাত্রী। আমাদের প্রয়োজন ৩টি বোট, তারই তোড়জোড় চলতে লাগল। বিভিন্ন রুটে বিভিন্ন সময় সীমায় পর্যটকদের বোট নিয়ে যায়। বোর্ডে তার গন্তব্য, সময় ও অর্থমূল্য লেখা রয়েছে।

জেটির আশেপাশে একটু ঘুরতে থাকি। বোট ছাড়তে আধঘণ্টা দেরি হবে। নতুন পাকা জেটির নির্মাণ কাজ চলছে, হয়তো বছর খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। কাছাকাছি কয়েকটি চা-জলখাবারের দোকানও গড়ে উঠেছে। মাঝি-জেলেরা সব দোকান ঘিরে গল্প-গুজব করছে। একটি মাছরাঙা পাখি অনেকক্ষণ ধরে গাছের এ-ডাল ও-ডাল ওড়াউড়ি করছিল। তার পিছনে অনেকক্ষণ ছুটোছুটি করে ছবি তোলা গেল।

আলাপ হল স্থানীয় এক দোকানদারের সঙ্গে। সে তো বেশ গল্প জমিয়ে দিল। কাছাকাছি গ্রামেই তার বাড়ি। তার কাছেই জানতে পারলাম সাতপাড়ার ৪ হাজার অধিবাসীর মধ্যে অধিকাংশই মৎস্যজীবী না হয় মাঝি সম্প্রদায়ের। তবে এখানকার গ্রাম আর পিছিয়ে পড়ে নেই। আধুনিকতার সব সরঞ্জামই এখানে উপস্থিত। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ টেলিফোন, কেবল টিভি সবই রয়েছে। আরও জানা গেল জেটির অন্যধারে রাস্তার ওপরেই গড়ে উঠেছে চিলিকা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি পরিচালিত ভিজিটিং সেন্টার আর চিলিকা ইকো পার্ক। এদিকে বোটে ওঠার ডাক পড়েছে, ভিজিটিং সেন্টার আর ইকো পার্ক ফিরে এসেই দেখব।

বোটের ব্যবস্থা খুব আরামপ্রদ বা সুখকর নয়। কাঠের পাটাতনেই বসার ব্যবস্থা, মাথার উপর ছাউনি আছে। জোরে বৃষ্টি হলে মাথা ছাড়া আর কিছু রক্ষা পাবে না। আজকে রৌদ্রজ্বল দিন বেলা তখন সাড়ে দশটা। মাছধরা জালের ঘেরাটোপ এড়িয়ে এগিয়ে চলেছে বোট। দু’একটা পানকৌড়ি ছাড়া আর কোনও পাখি নজরে আসছে না। মাঝি জানাল পাখি দেখতে হলে যেতে হবে নলবন এখান থেকে ঘণ্টা আড়াইয়ের জলপথ। মিনিট কুড়ি চলার পর মাঝি বোট থামাল। বলল চুপচাপ থাকুন এইখানেই দেখা যাবে ডলফিন। দূর থেকে ভেসে যাওয়া জলজ উদ্ভিদ বা জলের মধ্যে ডুবে থাকা ড্রাম দেখেই আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়ছি এই বুঝি ডলফিন দেখা গেল।

ইতিমধ্যে ওই স্পটে আমাদের বোটগুলি ছাড়াও আরও কয়েকটি নৌকো এসে জড়ো হয়েছে। সেই নৌকোর যাত্রীদের উদ্দেশ্যও এক– ডলফিন দর্শন। হঠাৎ-ই নজরে এল ডলফিনের ঝাঁক। কখনও পিঠ কখনও বা লেজের খানিকটা অংশ দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে জলে ডুব দিচ্ছে। অতি দ্রুত ডুবে লাফিয়ে চলেছে সাঁতার কেটে। চট করে নজর করতে না পারলে বোঝা মুশকিল, ছবি তোলাতো দূর অস্ত। অনেকগুলি ডলফিনই এভাবে দেহের আংশিক দেখিয়ে দ্রুত বেগে হারিয়ে গেল জলের অন্তরালে। ইরাওয়াড়ি ডলফিন নামে পরিচিত এই শুশুকগুলি আকারে অবশ্য বেশি বড়ো নয়।

ডলফিনের এলাকা ছেড়ে আমরা এগিয়ে চলি। লেকের জল স্থির, রং তার সবজে নীল, কাছে-দূরে ছোটো বড়ো দ্বীপ দেখা যাচ্ছে। কখনও আমরা দ্বীপের থেকে দূরে সরে যাচ্ছি আবার কখনও এগিয়ে যাচ্ছি তার দিকে। বর্ষার সময় চিলিকা হ্রদের এলাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬৫ বর্গ কিমি আর গ্রীষ্মে তা ছোটো হয়ে ৯৬০ বর্গ কিমি। ওড়িশার পুরী, খুরদা আর গঞ্জাম জেলার অংশবিশেষ নিয়ে এই হ্রদের বিস্তৃতি। এই বিশাল জলরাশির মধ্যে ছড়িয়ে আছে ২২টি ছোটো-বড়ো দ্বীপ। এই দ্বীপগুলির জনসংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ আর হ্রদের দুপাশ জুড়ে আছে প্রায় ১৪৪টি গ্রাম। প্রায় সকলেই এখানে ধীবর সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবী।

এই হ্রদের গভীরতা কিন্তু বেশি নয় ২ ফুট থেকে ৬ ফুটের মধ্যে। অল্প গভীরতায় বোট থেকে দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ জলের মধ্যে দিয়ে নীচের জলজ উদ্ভিদ, ছোটো ছোটো মাছের বিচরণ– ঠিক যেন এক বিশাল অ্যাকোয়ারিয়াম। প্রায় ২ছ৭ প্রজাতির মাছ আর ২৯ প্রজাতির চিংড়ি পাওয়া যায় চিলিকায়। এক বিশাল সংখ্যক ধীবরদের জীবিকা নির্ভর করে এই মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে। ৫চ্-টি নদী ও নালার জল এসে চিলিকাকে সমৃদ্ধ করেছে। এর সঙ্গে মেশে সমুদ্রের জল। মিষ্টি জলের সঙ্গে সমুদ্রের জল মিশে তৈরি হয় ঈষৎ লবণাক্ত জল। এই মিশ্র জলের পরিবেশে সৃষ্টি হয় নতুন নতুন প্রজাতির মাছ। আর এই বিশাল মাছের জোগানের জন্যই আকর্ষিত হয় ডলফিনের দল।

জলে ভেসে বেড়াচ্ছে এখন অনেক বোট। তার মধ্যে অধিকাংশই মাছ ধরার জন্য আর কয়েকটি ঘুরছে পর্যটকদের নিয়ে। রোদের তেজ ভীষণ বেড়ে গেছে। মাথার ওপর ছোটো আচ্ছাদনে আর তেজ রোখা যাচ্ছে না। ঘণ্টাখানেক জলবিহারের পর আমরা পৌঁছোই আমাদের পরবর্তী গন্তব্য রাজহংস দ্বীপে। ছোট্ট দ্বীপের ছোট্ট জেটিতে আমরা একে একে বোট থেকে নামলাম। সবুজ দ্বীপটি দেখেই মন ভরে যায়। দ্বীপটি বেরহামপুর বনবিভাগের অন্তর্গত।

চিলিকা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের মধ্যে সাতপাড়া রেঞ্জের মধ্যে এর অবস্থান। এগিয়ে চলি দ্বীপের অভ্যন্তরে। সামনেই এক নজরমিনার তবে খুব একটা উঁচু নয়। সিড়ি বেয়ে তার ওপর উঠে দ্বীপটি একটু নজরদারি করি। সারা দ্বীপ জুড়ে ঝাউবনের আধিক্য, সঙ্গে আছে পোলাং গাছ। এই পোলাং গাছ থেকে তেল পাওয়া যায়। তারই মধ্যে দিয়ে সবুজ মাঠের বুক চিরে চলে গেছে লাল টালির বাঁধানো পথ। এক শান্ত মায়াময় পরিবেশ, নির্জনতাকে যারা ভালোবাসে তাদের পক্ষে একেবারে আদর্শ। তবে জায়গাটি পর্যটনক্ষেত্র হিসাবে এখনও গড়ে ওঠেনি। দ্বীপটির আড়াআড়ি প্রস্থ বরাবর হাঁটতে থাকি লাল টালি বাঁধানো পথ ধরে। পথে পড়ল এক ফরেস্ট রেস্ট হাউস– দুটি ঘর রয়েছে সেখানে। একটা রাত এখানে কাটাতে পারলে এক অনন্য অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে, এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

রেস্টহাউসের গায়ে দিক নির্দেশ দিয়ে লেখা রয়েছে ‘ওয়ে টু বিচ’ অর্থাৎ সামনেই সমুদ্র সৈকত। সেই নির্দেশিত পথে মিনিট দশেক হেঁটে পৌঁছে গেলাম সমুদ্র-সৈকতে, যেখানে বঙ্গোপসাগরে জলরাশি গর্জন করে আছড়ে পড়ছে রাজহংস দ্বীপের বালুকাবেলায়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সুন্দর সৈকত– কটা লোকই বা আসে যে নোংরা করবে। হলুদ বালির সৈকতে ঢেউ আছড়ে পড়ে ফিরে যাচ্ছে ফেনা হয়ে। জুতো খুলে জলে পা ডুবিয়ে উপভোগ করি সমুদ্রের মাদকতা। ভাবতে থাকি প্রকৃতির কি অদ্ভুত সমন্বয়! এক ধারে হ্রদের জল মাঝে ঝাউবনের জঙ্গলে ঘেরা দ্বীপ আর অপর পারে উত্তাল সমুদ্র। ফিরে চলি বোটে সেই একই পথে। মনে মনে স্বপ্ন দেখি, দ্বীপের এই অপার নির্জনতার মধ্যে একটা রাত কাটানোর সৌভাগ্য কবে হবে!

বোট আবার ছেড়ে দেয়। সূর্যের আলোয় চিকচিক করছে জল। চেয়ে থাকি চিলিকার বিশালত্বের দিকে। বিশাল বালির চড়া সৃষ্টি করেছে এই বিশাল হ্রদ। সমুদ্রের নোনা জল, নদীর ও বৃষ্টির মিষ্টি জল সৃষ্টি করেছে এই অপার জলরাশি। আমরা চলেছি ‘সি-মাউথের’ উদ্দেশে অর্থাৎ যেখানে সমুদ্র প্রবেশ করেছে এই চিলিকা হ্রদে। আরো প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট নৌকোযাত্রার পর পৌঁছোলাম সি মাউথ তথা মোহনার কাছে। দূর থেকে অবশ্য সমুদ্র দেখা যাচ্ছে না। তীরে অনেকগুলি প্লাস্টিক শিট আচ্ছাদিত দোকানঘর, অনেকগুলি বোট বাঁধা, লোকজনের এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি।

এখানে সে রকম কোনও জেটি নেই। বালির উপর একে একে সবাই নামলাম। নামতেই দুজন লোক এগিয়ে এল। হাতের গামলায় রয়েছে বন্ধ ঝিনুক। ভেঙে দেখাল ভেতরে রয়েছে মু্ক্তো। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা মনে হল কেমন যেন লোক ঠকানো। প্লাস্টিক ছাউনির নীচে অনেক দোকান– চা, কফি, ডাব, ঠান্ডা পানীয় মাছভাজা, ভাত চিংড়ির পদ এমনকী চিলি চিকেনও পাওয়া যাচ্ছে। খদ্দেরও অনেক। হ্রদের ধারে বালি এসে উঁচু ঢিবির মতো চড়াই হয়ে গেছে। সেই বালির চড়াই ভেঙে উপরে উঠলাম। এবার সমুদ্র দর্শন হল। নীল আকাশ, নীল সমুদ্র, সাদা ঢেউ সাদা ফেনা সমুদ্র তটে হাতে গোনা দু-একজন। ডাবের মধ্যে স্ট্র ডুবিয়ে জল পান করতে করতে কিছুক্ষণ সমুদ্র দর্শন, ছবি তোলাও হল। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সমুদ্র ও হ্রদের মোহনা। বালির উপর দিয়ে হাঁটা বেশ পরিশ্রমসাধ্য, তার উপরে গনগনে রোদ। হ্রদের জল ও সমুদ্র যাতে মিশতে পারে তাই একফালি পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বালির চড়ার মধ্যে দিয়ে। সেই পথ দিয়ে সাদা ফেনার মুকুট পরা ঢেউ ঢুকছে চিলিকা হ্রদে।

এখানে আর বেশি সময় দেওয়া গেল না, দুপুরের খাওয়া সাতপাড়ার রেস্তোরাঁয় গিয়ে করতে হবে। অতএব আবার বালির পথ পার হয়ে নৗকোয় ফেরা। তীর ধরে বোট চলছে। নজরে এল তীরের ধারেই এক বালির টিলা তার মাথায় ঝাউগাছের সারি। পথে আর কোথাও থামা নয় একেবারে সোজা সাতপাড়া ঘাটে।

খিদেয় পেট জ্বলছে। তবে খাবার প্রস্তুতই ছিল। যাত্রীনিবাসের ডাইনিং হলে ভাত, ডাল, আলুভাজা, রুই মাছের ঝোল ও চাটনি খেয়ে পিত্ত রক্ষা করা গেল। হাতে বেশি সময় নেই, আধঘণ্টার মধ্যেই পুরীর উদ্দেশে রওনা হব। ছুটলাম ভিজিটিং সেন্টার দেখতে। চিলিকা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি পরিচালিত এই ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার। এই কেন্দ্রটি ২০০২ সালে ওড়িশার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক উদ্বোধন করেন। বাইরে থেকে বাড়িটি দর্শনীয়, চারদিকে বাগান ফুলগাছ। দশ টাকার টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি।

নানা তথ্যসমৃদ্ধ লেখা ও ছবির সাহায্যে দেখানো হয়েছে হ্রদের নানা বৃত্তান্ত। অনেকগুলো ঘর জুড়ে এই ভিজিটিং সেন্টার। একটি প্যানেলে মিষ্টি জলের মাছ সম্পর্কে তথ্য। এখানে জানানো হয়েছে ইলিশ সমুদ্রের জল থেকে এসে মিষ্টি জলের মোহনায় ডিম পাড়ে। চিলিকার ইলিশের উৎস বোঝা গেল।

অন্য একটি প্যানেলে প্ল্যাংকটন সম্পর্কে তথ্য– এরা হল অতি ক্ষুদ্র গাছ বা জীব যা শুধুমাত্র অনুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। এরা জলের উপরে ভাসমান ও মাছের খাদ্যের প্রধান উৎস। নলবন পাখিরালয় সম্পর্কেও তথ্য রয়েছে। শীতে এখানে ২২৫ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে, এই ১৫ বর্গ কিমি দ্বীপে। এই অঞ্চলে দেখা যায় এমন জীবজন্তু, পাখিদের মডেলও প্রদর্শিত হচ্ছে ভিজিটিং সেন্টারে।

এছাড়াও দেখানো হয়েছে নানা ধরনের পাখিদের খাওয়ার ধরন। এলাকার ধীবর সম্প্রদায়ের জীবন যাত্রা। মাছ ধরার নানা প্রণালী, নানা ধরনের মাছ ধরার জাল ও ফাঁদের বিশেষত্ব। একটি হাঙরের কঙ্কালও প্রদর্শিত হচ্ছে। একটি মডেলে ডলফিন সংরক্ষণে নাতিদীর্ঘ তথ্য ও আলোচনা রয়েছে।

ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার দেখা মোটামুটি শেষ করে ছুটি এবার রাস্তার ওপারেই চিলকা ইকো পার্কের গেটে। গেটের মুখেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়কের মূর্তি। এখানে প্রবশের জন্য কোনও মূল্য দিতে হল না। চিলিকা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই পার্ক। ঢুকেই চোখে পড়ে মখমলের মতো নরম সবুজ ঘাসের লন আর তাঁর মধ্যে দিয়ে লাল টালি বসানো আঁকাবাঁকা পথ বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।

ছোট্ট নালার উপর অলংকৃত ছোট্ট সেতু পেরিয়ে চললাম বাগানের এক প্রান্তে। সেখানে নারকেল গাছের সারি, একটি সাদা-কালো লাইটহাউস আর কাচের আচ্ছাদনের মধ্যে একটি হাঙরের কঙ্কাল। তার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চিহ্নিত করা রয়েছে। পার্কের মাঝখানে ফোয়ারা আর একটি ছোটো ঘর। হয়তো এটি বাগানের কেয়ারটেকারের বাসস্থান। এখন হু-হু করে হাওয়া দিচ্ছে। নারকেল গাছগুলি সেই হাওয়ায় দুলছে আর তার ছায়া, বাগানের ঘাসের উপর সৃষ্টি করছে এক রৌদ্রছায়ার দোদুল্যমান মানচিত্র। ঘড়িতে দেখি সময় অতিক্রান্ত, দ্রুত পায়ে এগিয়ে চলি যাত্রীনিবাসের দিকে, যেখানে আমাদের গাড়িগুলি অপেক্ষা করছে।

(১) ডলফিন ট্যুর এক থেকে দেড় ঘন্টা, ৭০০ টাকা

(২) ডলফিন হেভেন্স আইল্যান্ড লিটল বার্ড , ২ ঘন্টা, ১২০০ টাকা

(৩) ডলফিন, মোহনা, কালিজাই মন্দির , তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা, ১৩০০ টাকা

(৪) ডলফিন হেভেনস অ্যাইল্যান্ড, দেড় ঘন্টা, ১০০০ টাকা

(৫) ডলফিন, নলবন পক্ষীনিবাস , ৪ ঘন্টা, ১৫০০ টাকা

(৬) ডলফিন, নলবন, কালিজাই , ৭ ঘন্টা, ২৫০০ টাকা

(৭) ডলফিন, কালিজাই, বরকুল, ৮ ঘন্টা, ২৭০০ টাকা

প্রয়োজনীয় তথ্য

(১) পুরী থেকে সড়কপথে সাতপাড়ার দূরত্ব ৬০ কিমি। গাড়ি ভাড়া করে অথবা ওড়িশা পর্যটনের কনডাকটেড টুরে ঘুরে নেওয়া যায়।

(২) নিজের পছন্দমতো জলপথে চিলিকা ভ্রমণের রেট নির্দিষ্ট করা আছে।

(৩) পুরীতে অথবা সাতপাড়ার যাত্রীনিবাসে রাত্রিবাস করা যাবে।

(৪) যোগাযোগ ওড়িশা পর্যটন, উৎকল ভবন, ৫৫ লেনিন সরণি, কলকাতা-৭০০ ০১৩। ফোন – ২২৪৯-৩৬৫৩, ২২১৬-৪৫৫৬।

 

নজর কাড়ছেন ‘আটরঙ্গি রে’ ছবির নায়িকা সারা খান

বলিউডের নতুন তারকাদের মধ্যে বেশ সম্ভাবনাময়ী এবং উজ্জ্বল এক অভিনেত্রী হলেন সারা আলি খান। সইফ আলি খান ও অমৃতা সিংয়ের মেয়ে সারা, প্রথম ছবি থেকেই নজরে এসেছেন সকলের। সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে তাঁকে প্রথম বলিউডে পা রাখতে দেখা যায় ‘কেদারনাথ’ ছবি দিয়ে। এরপর রণবীর সিং থেকে বরুণ ধাওয়ান সকলের সঙ্গেই জুটি বেঁধে বেশ ক’টি ছবিতে কাজ করে ফেলেছেন তিনি।

তাঁর আসন্ন ছবি ‘আটরঙ্গি রে’  -এর শুটিং জোর কদমে চালিয়ে যাচ্ছেন সারা। আনন্দ এল রাই পরিচালিত এই ছবিতে, অক্ষয় কুমারের বিপরীতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন সারা আলি খান৷অক্ষয়ের মতো এত বড়ো মাপের অভিনেতার সঙ্গে স্ক্রিন স্পেস শেয়ার করতে পেরে খুব উত্তেজিত সারা। শোনা যাচ্ছে বিহার ও মাদুরাইতে হবে ছবির  শ্যুটিং। বিহারের মেয়ে সারাকে দেখা যাবে ছবির দুই অভিনেতা অক্ষয় এবং ধনুষের সঙ্গে রোম্যান্স করতে।  ২০২১ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তেই মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ‘আটরঙ্গি রে’। তবে শ্যুটিং পিছিয়ে যাওয়ার ফলে আপাতত মুক্তির তারিখ পিছিয়ে গিয়েছে৷ ২০১৮ সালে আনন্দ এল রাই-এর  ‘জিরো’ ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ার দু’বছর পর, বলিউডে তাঁর কাম ব্যাক হচ্ছে এই ছবি দিয়ে।

Sara Ali Khan with Mother Amrita Singh

ফিল্মি পরিবার থেকে আসা সারার অভিনয় বেশ হইচই ফেলেছে বলিউডে৷বস্তুত তার বাবা সইফ আলি খান ও মা, অভিনেত্রী অমৃতা সিং ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন। ১৩ বছর সংসার করার পর ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এই দম্পতির দুটি সন্তান, সারা আলি খান ও ইব্রাহিম আলি খান।বর্তমানে সইফ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনয়৷অমৃতাকে সর্বশেষ ২০১৯ সালে ‘বদলা’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। এই ছবিতে অমৃতা ছাড়া আরও অভিনয় করেন অমিতাভ বচ্চন ও তাপসী পন্নু।

সাইফ আলি খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মেয়ে সারা আলি খান ও ছেলে ইব্রাহিমকে অনেকটা একাই মানুষ করেন অভিনেত্রী অমৃতা সিং।ওদিকে দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন সইফ আলি খানের দ্বিতীয় স্ত্রী, অভিনেত্রী করিনা কাপুর। গোটা পরিবার যখন এসব নিয়ে ব্যস্ত,তখন নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে মায়ের তেষট্টিতম জন্মদিনে,  মায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে ছিলেন সারা দিন দুয়েক আগে৷বরাবরই মায়ের সাথে  ইকোয়েশনটা খুব ভালো সারার৷ স্পষ্টই বলেন, ‘মা-ই আমার চালিকা শক্তি। আমার অনুপ্রেরণা, জাদুকরের মতো মা আমার সমস্ত টেনশন নিজে নিয়ে নেন। আমার মুড সুইং থেকে চুল পড়া, শুকনো ত্বক, শরীরে জল ধরে রাখা, সব সমস্যারই উনি নিরামায়ক৷তাঁর বহুমুখী প্রতিভা, প্রতিশ্রুতি, ধৈর্য এবং নিঃস্বার্থতা, সবকিছু আমার বোঝার বাইরে। ওঁর আশেপাশে থাকলে কোনও দুঃখ, আশঙ্কা স্থায়ী হয় না’৷

নবজাতকের দেখাশোনায় বিশেষ যত্ন নিন

বাবা-মায়ের কাছে সন্তান অমূল্য ধন। একজন মায়ের নাড়ি ছেঁড়া ধন হল সন্তান। সন্তান আর মায়ের সম্পর্ক জন্মের আগে থেকে শুরু হয় আর এটি পূর্ণতা পায় সন্তান বড়ো হওয়ার সাথে সাথে। কিন্তু মায়ের কিছু ভুল আর অসাবধানতার কারণে সন্তানের নানা শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে৷নবজাতকের দেখাশোনায় কীভাবে যত্ন নিতে হয় মা-বাবাকে, তারই কয়েকটি টিপ্স এখানে দেওয়া হল।

  • হাত ধুয়ে বাচ্চাকে কোলে নিন
  • নবজাতকদের ইমিউন সিস্টেম খুব স্ট্রং হয় না তাই সংক্রমণের ভয় থাকে সব সময়। সুতরাং বাচ্চাকে স্পর্শ করার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন এবং অপরিষ্কার হাতে বাচ্চাকে ধরতে কাউকেই অনুমতি দেবেন না।
  • নবজাতকের মাথা এবং ঘাড়ে সাপোর্ট দিন। যখনই বাচ্চাকে কোলে নেবেন, ঘাড়ে এবং মাথার নীচে হাত রাখুন যাতে ঘাড় এবং মাথার পিছনে সাপোর্ট থাকে। বাচ্চাকে শোয়াবার সময়ও একই নিয়ম মেনে চলুন।
  • বাইরে বেরোবার সময় গাড়ি বা প্র্যামে ভালো করে বাচ্চাকে সিট বেল্ট-এর সাহায্যে সিকিওর করুন। বাচ্চাকে নিয়ে আসা যাওয়া করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে যাতে যাত্রাপথ খুব রাফ বা বাউন্সি না হয়।
  • বাচ্চাকে খুব বেশি নাড়াবেন না, রেগে গিয়ে অথবা খেলার ছলেও না। অনেক সময় খেলার ছলে অথবা বাচ্চা সমানে কাঁদতে থাকলে কেউ কেউ ভোলাবার জন্য বাচ্চাকে শূন্যে ছুড়ে, চুপ করাবার বা হাসাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাচ্চাকে অতিরিক্ত ঝাঁকানো একেবারেই অনুচিত। এতে শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলতে তাকে ঝাঁকাবার দরকার নেই বরং পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিন বা গালে আঙুল দিয়ে আলতো করে টোকা দিন।
  • শিশুর সঙ্গে বন্ডিং বাড়ানো। নবজাতকের যত্নে, মা-বাবার সঙ্গে বন্ডিং হওয়াটা খুব জরুরি। বাচ্চার সঙ্গে ফিজিক্যাল ক্লোজনেস, ইমোশনাল কানেকশন বাড়ায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে অ্যাটাচ্মেন্ট, বাচ্চার ইমোশনাল গ্রোথ হতে সাহায্য করে এবং শারীরিক ডেভেলপমেন্ট হতেও সাহায্য করে। বন্ডিং-এর শুরু হয় বাচ্চাকে যেই নিজের কোলে নিচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে তার সারা গায়ে হাত বুলোচ্ছেন। ব্রেস্ট ফিড করাবার সময়ও মা ও সন্তানের ত্বকের সংস্পর্শে বাচ্চা এবং মা উভয়ের মনেই আনকন্ডিশনাল ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়। বাচ্চারা গলার স্বর শুনতে ভালোবাসে, সুতরাং বাচ্চার সঙ্গে সমানে কথা বলুন, গান শোনান।
  • বাচ্চাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার যে, ডায়াপার ব্যবহার করবেন নাকি কাপড়ের ন্যাপি। যাই ব্যবহার করুন না কেন, দিনে অন্তত দশবার ন্যাপি বদলাবার দরকার পড়ে। সুতরাং মজুত রাখা দরকার পরিষ্কার ডায়াপার। কাপড় ব্যবহার করলে ডায়াপার পিনস, ডায়াপার ক্রিম এবং একটি পাত্রে হালকা গরমজল এবং মোছার নরম সুতির পরিষ্কার কাপড় এবং তুলো রাখা দরকার। বাচ্চাদের প্রায়ই ডায়াপার র্যাশ হতে দেখা যায়। সেই ক্ষেত্রে হালকা গরমজলে বাচ্চাকে পরিষ্কার করে ভালো করে সেখানে ক্রিম লাগিয়ে রাখতে হবে এবং ডায়াপার ছাড়া বাচ্চাকে কিছুটা সময় রাখতে হবে। ৩ দিনের বেশি র্যাশ না সারলে, ডাক্তার দেখাতে হবে কারণ ফাংগাল সংক্রমণের কারণেও এমনটা হতে পারে।
  • স্নানের নিয়মঃ নবজাতককে স্পঞ্জ বাথ দেওয়া বাঞ্ছনীয় যতদিন না আমবিলিকাল কর্ডটা পড়ে যায় এবং নাভি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার বাচ্চাকে স্নান করালেই যথেষ্ট কারণ বারবার স্নান করালে বাচ্চার ত্বক ড্রাই হয়ে যায়। বাকি দিনে স্পঞ্জ বাথ দিন বাচ্চাকে।
  • খাওয়ানো এবং ঢেঁকুর তোলানোঃ সাধারণত বাচ্চাকে খিদে পেলেই খাওয়ানো উচিত। খিদে পেলে বাচ্চা নয় কাঁদবে বা মুখে হাত ঢুকিয়ে চুষতে থাকবে। বাচ্চাকে ফিডিং করাবার সময় অনেকবার হাওয়া গিলে নেয় বাচ্চা ফলে পেটে ব্যথা হয় এবং বাচ্চা সমানে কাঁদতে থাকে। এই সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য মাঝেমধ্যেই খাওয়াবার মাঝে বাচ্চাকে পিঠের উপর ফেলে ঢেঁকুর তোলানো খুব জরুরি।
  • ঘুমের অভ্যাসঃ  নবজাতক সাধারণত ১৬ ঘন্টা বা তার বেশি ঘুমোয়। কিন্তু টানা এক ভাবে নয়। ২ থেকে ৪ ঘন্টা টানা ঘুমোয় বাচ্চা। ৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা ঘুম থেকে না উঠলে, বাচ্চাকে ঘুম থেকে তুলে ফিড করানো দরকার। বাচ্চারা নিজেরাই একটা ঘুমের প্যাটার্ন তৈরি করে নেয়। সাধারণত ৩ মাস বয়স থেকে বাচ্চা ৬ থেকে ৮ ঘন্টা টানা ঘুমোয়। যদি সেটা নাও হয়, ভয় পাবার কোনও দরকার নেই। যদি দেখেন বাচ্চার ওজন বাড়ছে এবং দেখে মনে হয় সুস্থ, তাহলে ৩ মাস বয়সে পুরো রাত না ঘুমোলেও চিন্তার কোনও কারণ নেই।

সব মিলিয়ে নবজাতকের দেখাশোনার জন্য মা-বাবা এবং বিশেষ করে মা-কে সবসময় সজাগ থাকতে হয়। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নিয়মেই শিশু বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখতে থাকে এবং তার জীবনযাত্রা ছন্দে ফিরতে আরম্ভ করে। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত শিশুকে সাবধানে রাখা মা-বাবার কর্তব্য।

সঞ্চয় শেখান শৈশবেই

শৈশবই প্রকৃত সময় শিক্ষার বীজ বপণ করার, কারণ শিশুমন তখন উদগ্রীব থাকে নতুন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যে। সুতরাং তখন থেকেই তাকে আর্থিক বিষয়ে ধীরে ধীরে সচেতন করে তুলতে বাধা কোথায়? তাই বলে, টাকা-পয়সা অথবা জমা-পুঁজি নিয়ে গুরুগম্ভীর পাঠ পড়ানোর প্রয়োজন নেই এই বয়সে। যদি সঠিক পথে আপনি শিক্ষা দিতে পারেন তাহলে দেখবেন খেলাচ্ছলেই আপনার সন্তান যা-কিছু গ্রহণযোগ্য সব আয়ত্ত করে নিচ্ছে। জেনে নিন ৮টি পদ্ধতি যা আপনি আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।

১)  সন্তানের সঙ্গে রোজকার কথাবার্তায় রোজগার, খরচ, টাকা জমাবার বিভিন্ন উপায় নিয়ে খুব হালকা এবং জানিয়ে রাখার মতো কিছু বেসিক আলোচনা করুন। সন্তান যত বড়ো হতে থাকবে শিক্ষার বিষয় এবং মান, সন্তানের বয়স অনুপাতে রাখার চেষ্টা করুন।

২)  অর্থের মূল্য কী, এটা বাচ্চারা একবার বুঝতে শিখলেই জমাবার অভ্যাস তাদের মধ্যে তৈরি করে দিতে হবে। তাদের একটা পিগি ব্যাংক উপহার দিতে পারেন এবং তাদের বলুন রোজ কম করে ওতে দুটো করে কয়েন ফেলতে।

৩)  বোঝার একটু বয়স হলেই সন্তানকে নিজের সঙ্গে ব্যাংক-এ নিয়ে যান এবং যেগুলো সহজ ব্যাংকিং পদ্ধতি সেগুলো বিশদে ওকে বুঝিয়ে বলুন। ব্যাংকিং টার্ম যেমন ‘সেভিংস অ্যাকাউন্ট’, ‘ফিক্সড্ ডিপোজিট’, ‘উইথড্রল’ এবং ‘ডিপোজিট’ এগুলির সঙ্গে বাচ্চাকে পরিচয় করান।

৪)  বাড়িতে বিভিন্ন পেমেন্ট যন্ত্রের সঙ্গে তাকে পরিচয় করান। চোখে দেখা জিনিস সহজে ভোলার নয়। তাই চোখের সামনে জিনিসগুলির ব্যবহারের নিয়ম দেখলে ওর মস্তিষ্কে সহজে জিনিসটা গেঁথে যাবে। কী করে চেক বুক, এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ব্যাবহার করতে হয় সন্তানকে দেখান এবং এগুলির কাজ ওদের কাছে ব্যাখ্যা করে বলুন।

৫)  সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফিল্ড ট্রিপ’ প্ল্যান করুন কাছের সুপারমার্কেটে। ধরুন মাসকাবারির বাজার করতে গেছেন। জিনিস কেনার সঙ্গে সঙ্গে দামটা আপনার সন্তানকে বলুন এবং মনে মনে যোগ করে একটা হিসেব রাখতে বলুন। ব্যালান্স টাকা ফেরত পাওয়ার হলে বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করুন কত টাকা আপনার ফেরা উচিত। এগুলি আপনার বাচ্চার অঙ্ক করার ক্ষমতা যেমন বাড়াবে তেমনি ভবিষ্যতে কেনাকাটার বিষয়ে তাকে স্মার্ট করে তুলবে।

৬)  এমন খেলনা বাচ্চাকে কিনে দিন যেটা খেললে টাকা-পয়সার হিসেবের অঙ্কটা তার মগজে গেঁথে যাবে। যেমন ‘মোনোপলি’ এমন একটা খেলা যার মাধ্যমে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত একটা পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। ট্র্যাডিশনাল বোর্ড গেমও বাচ্চাদের অর্থ-সংক্রান্ত জ্ঞানকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে।

৭)  যখন বাচ্চার উপযুক্ত বয়স হবে ‘পকেট মানি’ পাবার তখন তাদের প্রয়োজনমতো টাকা দিন। কীভাবে টাকাটা তারা খরচ করবে তাই নিয়ে খুব বেশি তর্কবিতর্ক করবেন না। কিন্তু খেয়াল রাখবেন পকেট মানি থেকে খানিকটা টাকা যেন তারা আলাদা বাঁচিয়ে রাখে ‘সেভিংস’-এর জন্য। কী খাতে তারা খরচ করছে তারও একটা খেয়াল আপনাকে রাখতে হবে। তাদের এমন পদক্ষেপ নিতে অ্যাডভাইস দিন যাতে ভবিষ্যতে তাদের আর্থিক স্বাধীনতা নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয়।

৮)  নানা ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাচ্চারা নিজেদের অজান্তেই, মা-বাবা যা করেন তাই অন্ধের মতো অনুসরণ করে। যদি মা-বাবা টাকা পয়সা দিয়ে সাবধানি হন তাহলে চান্স থাকে তাদের ছেলেমেয়েরাও ওই সঞ্চয়ের পথই অবলম্বন করবে। সুতরাং শিক্ষা দিন সন্তানকে, ভবিষ্যতে উপযুক্ত হয়ে নিজেদের যেন তারা গড়ে তুলতে পারে।

খেলার ছলে শিক্ষা

আমাদের জীবনশৈলীতে একটা বড়ো পরিবর্তন এসেছে এবং এর প্রভাব পড়ছে সকলেরই জীবনে। সময়ের অভাব, কর্মব্যস্ততা, অফিসের স্ট্রেস, মাল্টিটাস্কিং ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত মানুষ। আর প্রতিনিয়ত এই স্ট্রেস এর শিকার শুধু বড়োরা নয়, বাচ্চারাও এর চাপে ভারাক্রান্ত। তাই হামেশাই দেখা যায় বাচ্চারা খিটখিটে স্বভাবের হয়ে পড়ছে, কোনও কাজ মন দিয়ে করছে না, অলস হয়ে পড়ছে, এমনকী বড়োদের কথাও অমান্য করছে।

ছয় থেকে বারো বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের মধ্যে নানারকম পরিবর্তন হয়। শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বভাবেরও নানা পরিবর্তন এই সময় চোখে পড়ে। কিন্তু এই সময়টাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বাচ্চার জীবনে এবং এই পিরিয়ডটাতেই অভিভাবকদের কর্তব্য, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাচ্চাকে জানিয়ে রাখা।

বিশেষ করে চাকুরিরত অভিভাবকদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ-ই বলা যেতে পারে যে, নিজেদের সন্তানদের সঙ্গে তারা কী ধরনের আচরণ করবেন বা কী শিক্ষা দেবেন তাদের। বিশেষ করে উঠতি বয়সের বাচ্চাদের সঙ্গে ডিল করাটা রীতিমতো একটা আর্ট, যেটা বড়োদেরও রপ্ত  করা খুব জরুরি।

খেলার ছলে শিক্ষা দেবার অভ্যাস

  •  বাচ্চাদের ফান অ্যাক্টিভিটি-তে সহযোগিতা করুন।
  • সব বাচ্চাই অাঁকতে এবং রং নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসে। বন্ধুর মতো এগিয়ে এসে ওদের সাথে রঙের খেলায় মাতুন।
  • বিভিন্ন রং মিশিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করবার সাহস দিন বাচ্চাকে। নিজেদের জানা কোনও দুটো রং মেশালে নতুন কী রং সৃষ্টি হয় সেটাও বাচ্চাকে বলুন।
  • নিজেদের শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করুন সন্তানের সঙ্গে। সবসময় বলবেন না ছোটোবেলায় সব কাজই আপনি দক্ষতার সঙ্গে করতেন বরং বাচ্চাদের বলুন, ছোটোবেলায় কাজগুলো করতে আপনার অসুবিধাই হতো।
  • বাচ্চাদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান। বাচ্চার পছন্দ, অপছন্দ জানার চেষ্টা করুন।
  • দৈনন্দিন কাজে বাচ্চাকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজের উপর সেটা প্রয়োগ করে, ব্যাপারটাকে বাচ্চার কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলুন। যেমন বাইরের গরম থেকে বাড়িতে এসেই ঠান্ডা জল খেলে শরীর খারাপ হবে– এটা শেখাবার আগে নিজেই সেটা বাচ্চার সামনে মেনে চলুন।
  • স্কুলব্যাগ গোছাতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন। ছুটির দিনগুলোতে স্কুলব্যাগের কী অবস্থা নিজে চেক করুন। এতে খেলার ছলেই, বাচ্চা স্কুলে গিয়ে ঠিকঠাক শিক্ষায় মন দিচ্ছে কিনা অনেকটাই বুঝতে পারবেন।
  • নিজের পছন্দ বাচ্চার উপর চাপিয়ে দেবেন না বরং বাচ্চার পছন্দ জেনে নিয়ে সেটাতেই মনোযোগ দিন।
  • বাচ্চা দুষ্টুমি করবেই সুতরাং তাকে বকাঝকা না করে বোঝান যে, তার দুষ্টুমির কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, ভালো বা খারাপ। যেমন দুষ্টুমি করে বাচ্চা গাছে চড়লে তাকে বলা উচিত, গাছে চড়াটা সকলেরই জেনে রাখা দরকার কিন্তু গাছ থেকে পড়ে গেলে শরীরে ব্যথা লাগবে সে বিষয়ে সাবধান করতে হবে।
  • কোনও অজানা ব্যক্তির সঙ্গে বার্তালাপ করতে মানা করে রাখুন। সম্ভব হলে বাচ্চার বন্ধুদের সামনেই কথাটার গুরুত্ব বাচ্চাকে বোঝান।
  • ছুটির দিনে সকালে উঠে পার্কে বাচ্চাকে নিয়ে যান। সকালে জগিং, খেলাধুলা করলে শরীর ও মন ভালো থাকবে সেটা বাচ্চাকে বলুন।

গুড এবং ব্যাড টাচ্ সম্পর্কে ধৈর্যের সঙ্গে বোঝান

  •  বাচ্চা সাধারণত জিজ্ঞাসু স্বভাবের হয়ে থাকে। বিশেষ করে বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চারা যখন নিজেদের এবং বড়োদের মধ্যে শারীরিক পার্থক্য লক্ষ্য করা শুরু করে তখন তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন এসে ভিড় করে।
  • বিশেষ করে ছেলে এবং মেয়েদের শরীরের মধ্যে পার্থক্যটা বেশি করে তাদের চোখে পড়ে।
  • বাচ্চা প্রাইভেট পার্টস সম্পর্কে প্রশ্ন করা শুরু করলে বোঝাতে হবে যে ছেলে ও মেয়ের মধ্যে এই পার্থক্য তাদের প্রজনন অঙ্গের জন্য।
  • নিজের শরীর নিয়ে বাচ্চা প্রশ্ন করা শুরু করলে, অঙ্গের বৈজ্ঞানিক নাম বলতে লজ্জা পাবেন না। আপনি না বললে, বাচ্চা বাইরে থেকে অন্য কিছু শিখে আসবে।
  • সাধারণত বাচ্চাকে ভালো বা খারাপ স্পর্শ বোঝানোর সময় হচ্ছে তার ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে কিন্তু এখন সমসাময়িক ঘটনাক্রমকে মাথায় রেখে দুই-তিন বছর থেকেই বাচ্চাকে এই শিক্ষা দিতে আরম্ভ করে দেওয়া উচিত যখন ধীরে ধীরে তার মধ্যে বুদ্ধির বিকাশ ঘটছে।
  • বাচ্চাকে বোঝাতে হবে বাইরের কাউকে যেন সে নিজের প্রাইভেট পার্টস স্পর্শ করতে না দেয় শুধুমাত্র মা-বাবা ছাড়া।
  • বাইরের কেউ যদি বাচ্চার প্রাইভেট পার্টস-এ হাত দেওয়ার চেষ্টা করে তাহলে বাচ্চাকে কী করতে হবে সেটাও বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

ইভনিং Snacks

বিকেলবেলায় মুখোরোচক কিছু খেতে মন আনচান করে৷ এটা  শুধু ছোটোদের  নয়, বড়োদের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে সত্যি৷ প্রায়ই গৃহিণীদের হিমশিম খেতে হয় নতুন নতুন জলখাবারের পদ তৈরি করতে৷ এখানে ডালের তৈরি কয়েকটি  সুস্বাদু পদের রেসিপি দিচ্ছি আমরা, যা আপনি চটপট বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন৷

বিউলি ডালের পকোড়া

উপকরণ : ১ বাটি বিউলি ডাল জলে ভিজিয়ে রাখা, ১/৪ কাপ পেঁয়াজ কুচি করা, ১/২ বড়ো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১টা সেদ্ধ আলু, ১টা কাঁচালংকা কুচি করা, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১/২ কাপ ধনেপাতা, ১/২ কাপ বেসন, ১/৪ কাপ চালের গুঁড়ো, ১ কাপ ধনেপাতার চাটনি, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : বিউলি ডাল বেটে নিন। এর মধ্যে, পেঁয়াজ, আদা-রসুন পেস্ট, চটকানো আলু, কাঁচালংকা, নুন, চাটমশলা ও ধনেপাতা মিশিয়ে নিন। এবার এর মধ্যে বেসন ও চালগুঁড়ো দিন। প্রয়োজনমতো জল দিয়ে মিশ্রণ করে নিন। এবার কড়ায় তেল গরম করে, মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প করে নিয়ে ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন ধনেপাতার চাটনির সঙ্গে।

ছোলার ডালের নিমকি

Tea-time snacks

 

 

 

উপকরণ : ১ কাপ ছোলার ডাল, ১/২ কাপ চালের গুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ জোয়ান, ১ চিমটো হিং, ভাজার জন্য তেল, ১/২ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : কড়ায় ১ বাটি জল দিয়ে রাতভর ভিজিয়ে রাখা ডাল, ফুটিয়ে নিন। ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এবার ডালের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, নুন, হলুদগুঁড়ো, হিং ও জোয়ান মিশিয়ে চটকে মেখে নিন। একটু শক্ত যেন হয় মাখাটা। প্রযোজনমতো অল্প জল মেশাতে পারেন মাখার সময়। মণ্ড তৈরি হলে ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার এই মণ্ড থেকে ছোটো ছোটো লেচি কেটে রুটির মতো বেলে নিন। বেলার সময় রুটিটা যেন মোটা হয়। এবার ছুরির সাহায্যে নিমকির মতো টুকরো করে নিন। কড়ায় তেল গরম করে নিমকিগুলো ভেজে নিন। চায়ে সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

পটি ট্রেনিং দিন শিশুকে

বাচ্চাকে সঠিক সময়ে পটিতে বসার অভ্যাস গড়ে তোলানো অনেক বাবা-মায়ের কাছেই একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এর অনেক কারণ। অনিয়মিত ভাবে মলত্যাগ করার প্রবণতা যেমন থাকে শিশুদের, তেমন একজায়গায় টানা কিছুক্ষণ বসতেও চায় না তারা। তাই শিশু বসতে পারার মতো সক্ষম হলেই, তাকে শোওয়া অবস্থায় মলত্যাগ না করিয়ে, পটি ট্রেনিং দেওয়া উচিত।

অনেক সময় দেখা যায়, বাচ্চাকে পটিতে বসালেই সে কান্নাকাটি করতে শুরু করে। অনেক বাচ্চা আবার ডায়াপার-এ মলত্যাগ করার অভ্যাসটাই রপ্ত করে ফেলায়, তা থেকে বেরোতে চায় না। তাই বাচ্চা একটু বড়ো হলেই, মায়েদের উচিত তাকে ডায়াপারের অভ্যাস ত্যাগ করিয়ে, রোজ একটা নির্দিষ্ট সময়ে পটিতে বসানো। ডায়াপার-এ মলত্যাগ করায় স্কিন অ্যালার্জির সমস্যায় পড়তে হয় শিশুদের। তাই এই হ্যাবিট যত তাড়তাড়ি সম্ভব ছাড়ানো উচিত। সঠিক সময়ে পটিতে বসানো শুরু করুন, এর ফলে বাচ্চা নিয়মিত ভাবে নির্দিষ্ট সময় মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলবে, যা তাদের বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত সুফলদায়ী হয়ে উঠবে।

মায়েদের ধৈর্যশীল হওয়া দরকার

পেডিয়াট্রিশিয়ানদের মতে বাচ্চাদের এই অভ্যাস গড়ে তুলতে সময় লাগে কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মায়েরা ধৈর্য ধরে নিয়মিত বাচ্চাকে পটিতে বসান না। প্রথম প্রথম ধীরস্থির হয়ে বাচ্চারা বসবে না, এটাই স্বাভাবিক। ফলে মা-কে ধৈর্য ধরে তার সঙ্গে খেলতে খেলতে বা কথা বলতে বলতে তাকে পটিতে বসিয়ে রাখতে হবে। এটা দৈনিক করলে তবেই বাচ্চার স্টিমুলি রেসপন্স করবে। প্রাকৃতিক ভাবে সাড়া দিতে সে নিজেই পটিতে বসতে চাইবে একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে।

প্রতিটি বাচ্চার মানসিক বিকাশ একই গতিতে হয় না, এটা স্বাভাবিক। তাই কোনও হ্যাবিট তৈরি হতে কেউ দ্রুত সময় নেয়, কেউ আবার দেরিতে শেখে। কিন্তু ডায়াপার পরিয়ে রেখে দায়িত্ব ঝেড়ে না ফেলে, একটু কষ্ট করে হলেও শিশুকে পটি ট্রেনিং রপ্ত করান।

১)  ১৮ থেকে ২০ মাস পর থেকেই বাচ্চার পটি ট্রেনিং শুরু করে দিন। ২ বছর পর্যন্ত বাচ্চা পটিতে বসতে পারে। তারপর আস্তে আস্তে বাড়ির কমোডে টয়লেট সিট দিয়ে তাকে বসানোর অভ্যাস করান।

২)  ম্যাচিয়োর হবার সঙ্গে সঙ্গেই বাচ্চা অন্য সমস্ত নির্দেশ ফলো করার সঙ্গে সঙ্গে, পটি ট্রেনিং-এর ইনস্ট্রাকশনও বুঝতে শুরু করবে।

৩)  পটিসিট-এর সাইজ যেন বাচ্চার বসার পক্ষে আরামদায়ক হয়।

৪)  বাচ্চা অনেক সময় ইঙ্গিত দেয়। মলত্যাগ করার আগে হয় সে খেলতে খেলতে আড়ষ্ট হয়ে যায় কিংবা হঠাৎ এক কোণে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, মুখের ভঙ্গি বদলায়, বা পেটে হাত দিয়ে ব্যথার অনুভূতি বোঝায়। এসব সঙ্কেতে বুঝতে হবে বাচ্চাকে পটিতে বসানো প্রয়োজন।

৫)  বাচ্চাকে ভরপেট খাওয়ানোর পর একটি নির্দিষ্ট সময় রোজ পটিতে বসান।

৬)  অনেক বাচ্চাই খুব চঞ্চল প্রকৃতির হয়। পটিতে বসেই উঠে পড়তে চায়। এক্ষেত্রে খেলনা দিয়ে বা গল্প বলে বসিয়ে রাখুন।

৭)  অন্তত পনেরো মিনিট ধরে পটিতে রোজ বসানোর চেষ্টা করুন।

৮)  যদি বাচ্চা পটিতে বসতে কান্নাকাটি করে জোর করবেন না। দু-একদিন পরে আবার চেষ্টা করুন।

৯)  ডায়াপারের অভ্যাস একটু একটু করে ছাড়ান। দিনের কিছুটা সময় ডায়াপার না পরিয়ে প্রাকৃতিক কাজগুলি পটিতে বসিয়ে করানোর চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন প্রতিটি শিশুই আলাদা স্বভাবের হয়। তাই অন্যের বাচ্চা এই অভ্যাস এত তাড়াতাড়ি রপ্ত করল, আমার শিশু করল না কেন –এটা ভেবে অশান্তি ভোগ করবেন না। শিশুকে সময় দিন, যে-কোনও নতুন অভ্যাস রপ্ত করার। কিছু শিশু ২ বছরের বেশি সময় নেয় পটি ট্রেনিং-এ অভ্যস্ত হতে।

 

 

 শীতের সফরনামা

ইতিহাসমাখা মালুটি

ঝাড়খন্ড ও বাংলার সীমান্তে দুমকায় এই মালুটি পর্যচকদের চোখ এড়িয়ে যায়৷। অথচ এখানে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ১০৮-টি টেরাকোটা মন্দির।

ইতিহাস বলে গৌড়ের বাদশাহ আলাউদ্দিন হুসেন শাহ (১৪৯৫-১৫২৫) তাঁর সৈন্য সামন্ত নিয়ে ছাউনি গেড়েছিলেন মালুটিতে। সেইসময় নাকি তার বেগমের পোষা বাজপাখিটি খোয়া যায়। বেগম-কে খুশি করতে বাদশাহ ঘোষণা করেন যে এই বাজপাখি খুঁজে দিতে পারবে, তাকে উপযুক্ত পারিতোষিক দেওয়া হবে। বসন্ত নামের এক রাখাল নাকি খুঁজে এনে দেয় সেই পাখিটি। সুলতান খুশি হয়ে বসন্তকে কয়েক বিঘা জমি উপহার দেন। সেই জমিতে কোনও খাজনা বসানো হয় না।

বসন্ত রাজা হয়ে দখল নেন সেই ভূখন্ডের এবং পত্তন করেন বাজ বসন্ত রাজত্বের। এই বাজ বসন্তের প্রপৌত্র রাজচন্দ্রের ছেলে, রামচন্দ্রের রাজত্বকালে টেরাকোটা শিল্পীরা গড়ে তোলেন এই মন্দির। চার-চালা স্থাপত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন, সঙ্গে পুরাণ কাহিনি সম্বলিত টেরাকোটার কাজ। বাবু কাহিনি থেকে ব্রিটিশ রাজের নানা ঘটনাও খুঁটিয়ে দেখলে, দেখতে পাবেন এই টেরাকোটা টাইলস-এ।

কীভাবে যাবেন : রামপুরহাট থেকে ১৬ কিমি দূরত্বে এর অবস্থান। রামপুরহাট স্টেশন থেকে অটো বুক করে ঘুরে আসতে পারেন মালুটি।

Destination Raghurajpur

বর্ণময় রঘুরাজপুর

পুরী থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে এই গ্রামটি পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এই গ্রামের নিজস্ব শিল্পকলা দেশে-বিদেশে খ্যাত। রঘুরাজপুর বিখ্যাত এর পটচিত্রের জন্য। শিল্পী জগন্নাথ মহাপাত্রের বংশ-পরম্পরায় এই শিল্পের কাজ এখন অনেকেই শিখে ফেলেছেন। ফলে এ এক শিল্প-গ্রামে রূপান্তরিত হয়েছে। মন্দির ছাড়িয়ে শিল্পীদের গ্রামে এলে দেখা যাবে নানারকম পটচিত্র, কাঠের খেলনা, পাথরের ভাস্কর্য প্রভৃতি। রামায়ণ, মহাভারত থেকে দেবদেবীর চিত্রকলা চোখে পড়ার মতো। সুভেনিয়র হিসাবে সংগ্রহ করা যায়।

কীভাবে যাবেনঃ পুরী থেকে অটো বা গাড়ি ভাড়া করে যাওয়াই শ্রেয়। পুরীর ভুবনেশ্বর রোডে চন্দনপুর। এখানে এসে নির্দেশমতো রাস্তার ডানদিকে রেলগেট পেরিয়ে নদীর ধারে রঘুরাজপুর গ্রাম।

Wild destination Belghar

বেলঘরের নির্জনে

সুন্দর নির্জন পাহাড়, নদী আর অরণ্য দিয়ে ঘেরা বেলঘর এক অসাধারণ জায়গা। সমুদ্রতল থেকে এর উচ্চতা ২,২৫৫ ফুট হওয়ার দরুণ, এখানকার তাপমাত্রা, সারা বছরই বেশ মনোরম থাকে। রাতে ভালোই ঠান্ডার অনুভব হয়। সেগুন, শাল, পিয়াশাল, ইউক্যালিপ্টাস, সিলভার ওক এমন নানা গাছে ঘেরা জঙ্গল আর তার মাঝে এক নির্জন বনবাংলো। একটু অ্যাডভেঞ্চার আর নির্জনতা-প্রিয় পর্যটকের জন্য অপূর্ব এক ঠাঁই।

বাংলোতে সোলার লাইটের ব্যবস্থা। তাই রাত দশটা অবধি আলো জ্বালানোর অনুমতি মেলে। তারপরের সময়টা তারা আর চাঁদের আলো উপভোগ করার দারুণ অবকাশ। পরিবেশের গুণে, নির্জনতায় ভরা এই বনবাংলোয়, অনায়াসে দু-এক রাত কাটানো যেতে পারে। তবে সঙ্গে করে অবশ্যই রেশন নিয়ে আসবেন। খাবার জল-ও সঙ্গে আনা বাঞ্ছনীয়। রান্নার ব্যবস্থা করে দেবে কেয়ারটেকার। বাংলোর হাতায় একটা ছোট্ট নদী তির তির করে বয়ে চলেছে। তার ওপারেই অরণ্য আর পাহাড়। জঙ্গলে একা ঘুরে বেড়ানোটা অবশ্য সেফ নয়। বন্য পশুর মুখোমুখি হতে পারেন। হাতি, চিতা, হরিণ প্রভৃতি পশু-সহ বহু পাখির বাস এই অরণ্যে। জ্যোত্স্নারাতে চরাচরজুড়ে চাঁদের আলো পড়ে এক মায়ার পৃথিবী তৈরি হয়। শীতকালে এলে অবশ্যই পর্যাপ্ত শীত-পোশাক আনবেন।

বেলঘর বস্তুত দারিংবাড়ি থেকে ১১৪ কিলোমিটার। পূর্বঘাট পর্বতমালার একই রকম সৌন্দর্য এখানেও পাবেন। কোন্ধা উপজাতির বাস এখানে। তাই জেলার নাম কান্ধামাল। এক ফালি অবকাশে অবশ্যই বেড়িয়ে নিন ওড়িশার এই অচেনা স্পট।

কীভাবে যাবেন : বেরহামপুর নেমে গাড়িতে পেঁছোতে পারেন বেলঘর। ভূবনেশ্বর দিয়ে ভঞ্জনগর, দারিংবাড়ি হয়ে আসতে পারেন।

কোথায় থাকবেন : ফরেস্ট রেস্ট হাউস-এ থাকতে হলে যোগাযোগ করুন ডিএফও, বালিগুড়া রেঞ্জ, ফ্যাক্স : ০৬৮৪৬-২৪৩২৪৯।

এছাড়াও আছে বেলঘর নেচার ক্যাম্প। অনলাইন বুক করা যাবে www.ecotourodisha.com ৷ অঞ্চলটি ম্যালেরিয়াপ্রবণ। তাই অবশ্যই মশা নিরোধক ক্রিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চ ও খাবার জল সঙ্গে আনবেন।

চাষির ছেলের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ওঠার গল্প ‘ম্যায় মুলায়ম’

আজ ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ডন সিনেমা’-তে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ম্যায় মুলায়ম সিং যাদব’ ছবিটি। বলিউডের এই বায়োপিক-টির পরিচালক শুভেন্দু রাজ ঘোষ। টলিউডের পর বলিউডে ছবি পরিচালনার  কাজ শুরু করেছেন এই বাঙালি পরিচালক। এই ছবিতে কাজ করেছেন এক বাঙালি অভিনেতাও। তাঁর নাম রণজয় বিষ্ণু।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি ছবিটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হল কলকাতার কোয়েস্ট মল-এর আইনক্স-এ।এই উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন ছবির প্রযোজক মিনা শেঠি মন্ডল,নির্দেশক শুভেন্দু রাজ ঘোষ, চিত্রনাট্যকার রাশিদ ইকবাল, রণজয় বিষ্ণু , পাপিয়া অধিকারী, কাঞ্চনা মৈত্র  প্রমুখ।

পরিচালক শুভেন্দু রাজ ঘোষের শুরুটা বাংলা ছবি দিয়ে হলেও, বর্তমানে একাধিক বলিউড ছবি পরিচালনার কাজে ব্যাস্ত। এই ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন রাশিদ ইকবালের মতো স্ক্রিপ্ট রাইটার। এর আগে ইকবাল একাধিক হিট বলিউড ছবির স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। গত বছর ১৫ আগস্ট ফাইনাল ডেট ছিল রিলিজের। লকডাউনের কারণে তখন সকলেই গৃহবন্দি, সব কাজই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

এই ছবি আদতে একটি  অরাজনৈতিক ছবি, বলা চলে উত্তর প্রদেশের গ্রাম-জীবনের পটভূমিকায় তৈরি মুলায়ম নামের একটি সাধারণ অ্যামেচার কুস্তিগিরের কাহিনি। এক চাষির ছেলের গল্প, যিনি পরবর্তীকালে একজন শিক্ষক হয়ে ওঠেন এবং কালক্রমে ‘নেতা’ হিসাবে পরিচিতি পান।বস্তুত এই অনুপ্রেরণামূলক ছবির মধ্যে দিয়ে, উঠে এসেছে মুলায়ম সিংয়ের জীবনের নানা  অজানা কাহিনি।

ছবিতে রণজয় অভিনীত চরিত্রটার নাম অজিত সিং।দেশের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী চরণ সিং-এর ছেলের চরিত্রে অভিনয়। ষাট ও সত্তরের দশকে জাতীয় তথা উত্তরপ্রদেশের রাজনীতির অন্যতম মুখ ছিলেন ভারতীয় জনতা দলের নেতা চরণ সিং। অজিত সিং বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে আসা, মুলায়াম সিং যাদবের সময়কার একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি রাষ্ট্রীয় লোকদল পার্টির প্রতিষ্ঠাতাও।

চরণ সিং-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা গোবিন্দ নামদেব। এছাড়াও ছবিটিতে অভিনয় করেছেন বলিউডের অনেক স্বনামধন্য অভিনেতারা। মুলায়ামের সিং- এর চরিত্রে  রয়েছেন অমিত শেঠি।  মুলায়মের ছোটো ভাইয়ের চরিত্রে দেখা যাবে মিঠুন-পুত্র মিমো-কে। আর আছেন জরিনা ওয়াহাব, মুকেশ তিওয়ারি সহ অনেকেই।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব