দূর করুন গলার বলিরেখা

বয়স থেমে থাকে না। ত্বকে ভাঁজও পড়তে থাকে। কিন্তু চেষ্টা করলে ত্বকের ভাঁজ বা বলিরেখার পরিমাণ এবং গতি কমানো যায়। অ্যান্টি এজিং প্রোডাক্টকে মাধ্যম করে এবং অন্যান্য উপায়ে বার্ধক্যের ছাপ আটকানো যায় অবশ্যই। আর এটা করা জরুরি। কারণ, কোনও শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অযত্নের জন্য অনেকসময় অকালে ভাঁজ পড়ে ত্বকে এবং দৃষ্টিকটু লাগে। বিশেষকরে মুখমণ্ডলে কিংবা গলায় যদি বলিরেখার সমস্যা দেখা দেয় অল্প বয়সে, তবে তা আপনার তারুণ্যের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেবে নিশ্চিত ভাবে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, মুখমণ্ডলের মতো গলাও দৃশ্যমান, তাই গলার ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বলিরেখা পড়ার কারণ

নানারকম কারণে গলায় বলিরেখা পড়ে। বাহ্যিক কারণগুলির মধ্যে অন্যতম হল– সূর্যের ক্ষতিকারক আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি। যারা গরমকালে স্কার্ফ দিয়ে গলা না ঢাকেন কিংবা কোনওরকম সানসি্্ক্রন লোশন ব্যবহার না করে রোদে ঘোরেন, তাদের গলায় বলিরেখা পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। আর অভ্যন্তরীণ কারণগুলির মধ্যে রয়েছে বদহজম এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পেটের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা, অতিরিক্ত ধূমপানের শারীরিক কুপ্রভাব প্রভৃতি। এছাড়া, জল কম খেলে কিংবা ধুলো-ধোঁয়ার দূষণের ফলেও ত্বকের তারুণ্য নষ্ট হয়ে ভাঁজ পড়তে দেখা যায়। তবে, কিছু সতর্কতা এবং যত্ন দূর করতে পারে ত্বকের অকাল বলিরেখা।

স্কিন কেয়ার

শরীরের দৃশ্যমান অংশের মধ্যে গলা অন্যতম। কারণ, গলার সৗন্দর্য নষ্ট হলে বার্ধ্যক্য প্রকট হয়। তাই গলার ত্বকের যত্ন নেওয়াও জরুরি।

মুখের জন্য যে ভাবে যতটা যত্ন নেন, ঠিক সেইভাবেই নিন গলার যত্ন। বাইরের ধুলো, ধোঁয়া, রোদ থেকে বাড়ি ফিরে ভালো করে মুখ, হাত-পা ধোয়ার সময় গলাও ধুয়ে নিন পরিস্কার জল দিয়ে। এরপর নরম কাপড়ে জল মুছে শুকিয়ে নেওয়ার পর ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এতে ত্বকের কোমলত্ব বজায় থাকে। আর যারা ঘরোয়া প্যাক ব্যবহার করতে চান, তারা নারকেলের দুধ, অলিভ অয়েল এবং জোজোবা অয়েল-এর মিশ্রণ তৈরি করে গলায় লাগিয়ে দশ মিনিট পর ধুয়ে, মুছে নিন। এছাড়া, বাড়িতে যদি অ্যালোভেরা গাছ থাকে তাহলে তার থেকে জেল বের করে সরাসরি গলায় প্রলেপ দিয়ে রেখে কিছুক্ষণ বাদে ধুয়ে নিন।

বাড়ি থেকে রোদে বেরনোর আগে অবশ্যই গলায় মাখুন সানস্ক্রিণ লোশন। রোদে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে ব্যাগে রাখুন সানস্ক্রিণ লোশন এবং মাঝেমধ্যে তা ব্যবহার করুন।

বন্ধ করুন ধূমপান। কারণ, ধোঁয়া শরীরের আভ্যন্তরে হার্ট, লাং ও লিভারে কুপ্রভাব ফেলে এবং সেই কুপ্রভাবে গলার ত্বকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে না, ফলে ত্বকে ভাঁজ পড়তে থাকে অকালে।

পরিমাণমতো জল পান করুন। কারণ, শরীরে জলের প্রয়োজন না মিটলে ত্বকে তার কুপ্রভাব পড়বেই এবং ত্বক রুক্ষ্ম হয়ে উঠবে।

রাতে কমপক্ষে আট ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। ঘুম ভালো না হলে লিভারে চাপ পড়বে, ফলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

খাদ্য-তালিকায় শাকসবজি এবং ফলমূল রাখুন অবশ্যই। কারণ, ফাইবারজাতীয় খাবার খেলে পেট পরিষ্কার থাকবে এবং পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বক ভালো থাকবে।

নিয়মিত পান করুন গ্রিন টি। আখরোট, বাদাম, বিন্স, টম্যাটো প্রভৃতি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-যুক্ত খাবার খেলেও ত্বক ভালো থাকবে।

ঘরোয়া উপায়

পাকা কলা (কাঁঠালি) এবং পাকা পেঁপের মিশ্রণ বানিয়ে গলার ত্বকে ভালো ভাবে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। তিরিশ মিনিট রাখার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন।

ডিমের সাদা অংশ, লেবু এবং মধু মিশিয়ে গলার ত্বকে লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ বাদে লিকুইড সোপ দিয়ে ধুয়ে দিন। এতে মিনারেল্স, ভিটামিন সি এবং জলের অভাব দূর হবে, ফলে ত্বকের তারুণ্য বজায় থাকবে।

প্রতিদিন রাতে ঘুমোনোর আগে গলার ত্বকে হাত দিয়ে হালকা মাসাজ করুন। এতে গলার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভালো হবে এবং ত্বক ভালো থাকবে।

কস্মেটিক পদ্ধতি

ত্বকে যদি অতিরিক্ত ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে ত্বক প্রায় ঝুলে পড়ার অবস্থা হয়, তাহলে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কিংবা কস্মেটিক ট্রিটমেন্ট ছাড়া উপায় থাকে না। আর এই কস্মেটিক ট্রিটমেন্টগুলির মধ্যে রয়েছে–

মাইক্রোডার্মাব্রেশনঃ ফাইন লাইন্স এবং ভাঁজ দূর করার জন্য এক বিশেষ মেশিন দিয়ে গলার ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরানো হয়। আর এই পদ্ধতিকে বলা হয় মাইক্রোডার্মাব্রেশন।

ফোটোফেসিয়ালঃ এই বিশেষ পদ্ধতিতে রোদে পুড়ে যাওয়া গলার ত্বক ঠিক করা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ত্বকের স্বাস্থ্য ফিরে আসবে এই পদ্ধতিতে।

লেজারঃ ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং তারুণ্য ফিরিয়ে আনার জন্য লেজার পদ্ধতিকে মাধ্যম করা হয়।

বোটুলিনম টক্সিন বোটক্সঃ গলার ত্বকের যদি ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গিয়ে থাকে, অর্থাৎ ত্বক ঝুলে যায়, তাহলে এটাই একমাত্র পদ্ধতি, যার দ্বারা ত্বকের স্বাস্থ্য ফেরানো যায় দ্রুত।

এইসব পদ্ধতি ছাড়াও, অ্যান্টিরিংকল্স ওষুধ-যুক্ত লিকুইড ইনজেক্ট করা হয় গলার ত্বকে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ট্যাবলেট এবং অ্যান্টিরিংকল্স ক্রিম, রেটিনোইড ক্রিম প্রয়োগ করেও গলার ত্বকের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা হয়ে থাকে।

ভাইরাল

বলছি আপনার প্রোফাইলটা একটু বলুন দিকি।

রায়বাবুর কথা শুনে অবাক চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল লোকটা।

রায়বাবু তাড়া দিলেন, আচ্ছা লোক তো মশায় আপনি, প্রোফাইল বোঝেন না? মানে কী করেন? পলিটিকাল লিংক আছে কী না? মানে ধরুন মাঝামাঝি মানের নেতা হলেও চলবে। ভিআইপি-দের সাথে লিংক আছে? নিদেনপক্ষে ওনাদের সাথে কযেটা সেলফি, কিংবা কোনও এমএলএ বা মিনিস্টার রেকমেন্ডেশন?

লোকটা আবার চুপ।

রায়বাবু আর একটু ব্যাখ্যা করে বললেন, বলছি বিদেশ গেছেন কখনও? এনআরআই ছাপ আছে? বাড়ির কেউ বড়ো ডাক্তার বা নামকরা ইঞ্জিনিয়র আছেন? বা ধরুন কবি। মানে রিলেটিভে কি কোনও সেলিব্রিটি আছে?

লোকটা আবার চুপ। এবার রায়বাবু বিরক্ত।

আরে দূর মশাই আপনি কালা নাকি? আচ্ছা, ফেসবুক আইডি-টা বলুন, দেখি ভেরিফায়েড আইডি কিনা। লেখা শেযার করেন তো নাকি? তা ফ্যান ফলোয়ার কেমন আপনার? বলছি লাইক-টাইক পড়ে? শেযার হয় আপনার লেখা? কতগুলো পেজে লেখা বেরোয় আপনার? নিজের বন্ধু বান্ধবের ফলোয়ার আছে? কমেন্ট টমেন্ট পড়ে? ওই ম্যাগগুলোতে রেগুলার লেখেন তো না কী?

লোকটা আবার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে চুপ।

রায়বাবু বিরক্ত হয়ে হাঁক পাড়েন, কী রে কেষ্ট, যাকে তাকে অফিসে ঢোকাস কেন? যতসব সময় নষ্ট। দাদা আপনি আসুন, অনেক কাজ বাকি। আসুন তো মশাই।

লোকটা এবার আমতা আমতা করে বলল, মানে কোনও ভাবেই কী লেখা বের করা যাবে না?

রায়বাবু তাচ্ছিল্য করে বললেন, দূর মশাই আপনার তো কোনও প্রোফাইলই নেই। অচেনা লোকের লেখা লোক পড়বে কেন? চোখ ছোটো করে বললেন ৩০ হাজার দিতে পারবেন, ভাইরাল করে দেব আপনাকে।

লোকটা আবার চুপ।

 

লোকটা মানে আকাশ মুখার্জি। ১০ ফুট বাই ৯ ফুট-এর খুপরিতে ছেলে বউ নিয়ে অশান্তির সংসার। অশান্তিরই বললাম, এত অশান্তি আগে ছিল না, ভালোবাসার বিয়ে উদ্দাম আঠারোর আবেগের দিনে, আকাশের প্রায় সব কিছু ভালোলাগা নিয়ে ওর হাত ধরেছিল কুর্চি। কুর্চি নামটাও আকাশেরই দেওয়া। ছেলে বিতান আসার সময় পর্যন্ত সম্পর্কটা বেশ ছিল। তারপর অভাবের কালো হাঁ সব সম্পর্কগুলোকে কেমন যেন গিলে খেল। আকাশ গুণী ছিল কিনা সেটা কোনও দিন ভেবে দেখেনি কুর্চি। কিন্তু আকাশের সততা আর সারল্য কাছে টেনেছিল তাকে। আজ বিয়ের এত বছর পর কুর্চির মনে হয় কোথাও হয়তো একটা ভুল হয়ে গেছে। লোকটার সততা বা সারল্য-টা ভন্ডামি। আসলে লোকটা অলস আর ভীতু টাইপের। পরিবর্তনের নামে লোকটার গায়ে জ্বর আসে। সারাক্ষণ বইয়ে মুখে গুঁজে বসে থাকলে সংসার চলে না, এটা লোকটা বোঝে না। বিতানের মুখ চেযে চুপ থাকে। অন্য কেউ হলে কবে সংসার ছেড়ে চলে যেত। এখন কুর্চির একটাই স্বপ্ন বিতানটার কিছু একটা হোক।

অভাব যখন চাওয়া পাওয়ার থেকে কম হয়, তখন ভিখারীও রাজা হয় এই প্রবাদটা আকাশের জীবনের এক অমোঘ সত্যি। ছোটো থেকে অভাবের সংসার আকাশকে অতটা আঘাত দেয়নি যতটা আঘাত করত ওর না-পারা নিয়ে সমাজের পরিহাস। না, আকাশ কিচ্ছু পারত না। মানে যেগুলো পারলে সমাজ ওকে মনে রাখবে সেগুলোর প্রায় কিছুই আকাশ কোনও দিন পারেনি। আকাশ কোনও হোমড়াচোমড়া ক্লাবের মেম্বার ছিল না, না ক্রিকেট বা ফুটবল টিমের ক্যাপ্টেন, না স্টেজ পারফর্মার। আর পড়াশোনা! টিউশন ছাড়া পাশ করে যেত কোনওরকমে। তবে আকাশ কবিতা লিখত, গল্প বুনত। যে-কবিতা কেউ পড়েনি, আকাশও কাউকে পড়ায়নি। সারাদিন ফ্যাক্টরির কালো ঘামে নিজেকে নিংড়ে যখন রাতের কালো হাতগুলো তাকে ভবিষ্যতের ভয় দেখাত, তখন আকাশ আর ওর লেখাগুলো, দিস্তাখাতায় জীবন্ত হয়ে জীবনের প্রতিটা বাস্তবকে কল্পনার চাদরে জড়িয়ে ওম দিত সুখের। কুর্চিকে নিয়ে লিখেছিল জীবনের প্রথম অনু কবিতা ইচ্ছে। ওর ব্যাগে চুপিচুপি ফেলেছিল চিরকুটটা,

ইচ্ছেটা ছিল সুযোগ হয়নি

এক থেকে মুহূর্তে একশো দেখার ইচ্ছে ছিল

এক থেকে দোকা হয়ে হারানোর ইচ্ছে ছিল

কাঁধে নির্ভরতা খোঁজার হাতকে উড়িয়ে নিয়ে যাবার ইচ্ছে ছিল

মেঠো ধুলোয় নিজেকে ঝাপসা দেখার ইচ্ছে ছিল

পাহাড়ি রাস্তায় চুপিসারে বৃষ্টি ভেজার ইচ্ছে ছিল

পেট্রল পোড়া গন্ধে নিকোটিনের গন্ধ মেলানোর ইচ্ছে ছিল

ইচ্ছে কী জানে?

উত্তরটা কুর্চি দিয়েছিল। জীবনসঙ্গী হয়ে কী মধুরই না ছিল দিনগুলো। এখন সাধ্যগুলো সব একই আছে, ইচ্ছেটাই শুধু নেই। কুর্চিকেও দোষ দেয় না আকাশ, ব্যর্থ স্বামী নিয়ে সংসার করা সহজ নয়! আকাশেরও চাওয়া-পাওয়া কোনও দিন ছিল না, আজও নেই। শুধু দিস্তাখাতায় স্বপ্নগুলো বেড়েই চলত, পাতার পর পাতা, দিস্তার পর দিস্তা।

 

প্রিন্টিং প্রেসের মালিক যেদিন প্রুফ রিডার রায়বাবুকে কোরাল ড্র বা অ্যাডোব ফটোশপের কাজ শিখতে বলেছিল, সেদিনই মাথায় আকাশ ভেঙেছিল। সারা জীবন হাতে কালি লাগিয়ে কাজ করা আর বানান ভুল ধরা প্রিন্টিং-এর মানুষ রায়বাবু। দুম করে কম্পিউটার শেখা, তাও আবার যেগুলো কখনও নাম শোনেনি, সেগুলো শেখা অসম্ভব, রায়বাবু তা জানত। মারওয়াড়ি মালিক বলত, বেওসা চেঞ্জ হচ্ছে রায়বাবু। সোব কম্পুটারিজ হবে, না শিখলে আর আগে বাড়বে কী করে?

চাকরিটা হারাবে এটা জেনে আর পোযাতি বউটার ভবিষ্যৎ-এর চিন্তায় যখন বাজারে ফলিডলের খোঁজে রায়বাবু ব্যস্ত, তখন কেষ্টর সাথে আলাপ। কেষ্টর আসল নাম কী, কেউ জানে না। সবাই কেষ্ট দাস নামেই চেনে। লেখালিখি বলে একটা অনলাইন ফেক পাবলিকেশন চালায় বেনামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মাতাল, প্রেমে ধোকা খাওয়া সাপ-ব্যাঙ-আগডুম-বাগডুম লেখাগুলোকে ফলস পাবলিসিটি দিয়ে লেখার রিচ বাড়ায়। তারপর শখের কবিদের লেখা বই করে ছাপাব বলে, হাজার হাজার টাকা ডোনেশন নেয়। ভালো ব্যাবসা। রায়বাবুকে পার্টনারশিপের কথা বলতেই, রায়বাবু রাজি। এখন দুজনের যৌথ ব্যাবসা। ইনভেস্টমেন্ট বলতে একটা অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্ট ফোন, একটা কম্পিউটার, কয়েকশো ফেক সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট।

ফ্রাস্ট্রু খাওয়া হযবরল লেখাগুলোকে নিপুণ হাতে রায়বাবু বেছে নেন। কেষ্ট হাজারখানেক লাইক আর শেযার করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর দম দেখে একদিন ফোন করে লেখক বা লেখিকাকে, সেটাও পোর্টফোলিও দেখে ডিমান্ড। ওনাদের টার্গেট ক্ষেত্র একটু অন্যরকম, বেশিরভাগই গৃহবধূ। যেমন বড়ো সরকারি নেতার বউ, ডাক্তারদের বউ, ইঞ্জিনিয়রদের বেকার বউ, সরকারি অফিসারদের বউ কিংবা এনআরআই-দের বউ।

শুধু গৃহবধূই নয়, আছে ফাস্ট্রেটেড যুবসমাজ, বাউন্ডুলে বড়োলোক আর তাদের সুপুত্ররা। প্রথমে ওনাদের প্রতিভার মেকি প্রশংসা তারপর ডিমান্ড। আর ডিমান্ড পেলেই একটা ভুলভাল প্রিন্টিং সেন্টার থেকে একটা বই। আর বই বেরোলেই হাজারটা ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকশো শেয়ার। মালিক আর ক্লায়েনট দুজনেরই প্রফিট আর দুজনেই খুশ। মানে পুরো সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর লেখার মাফিয়া নেটওয়ার্ক, ফেলো কড়ি ছাপো লেখা, প্রতিভা কী আর দেখা যায়।

 

ডুবন্ত শিল্পরাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ইউনিয়ন বাজিতে অনেকে ছাঁটাই হবার পরেও পুরোনো লোক হিসেবে আকাশকে রেখে দিয়েছিল কোম্পানি। শুধু ভালো কর্মীর জন্য নয়, এই ফ্যাক্টরির সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের লেখালেখির সব কাজ এতদিন আকাশই করে এসেছেন। সে ফ্যাক্টরির উদযাপন দিবস হোক বা শ্রমিকদের মে দিবস, লেবার ইউনিয়নের নেতা হোক বা কোম্পানির অবাঙালি ইঞ্জিনিয়র সবাই শুধু একবার বলে দিত আকাশদা কাল ভাষণ দিতে হবে, একটু লিখে দিও তো। ব্যস আকাশ নিজের ভঙ্গিতে সাবলীল ভাবে লিখে দিতেন। স্টেজে ওর লেখা অন্য কেউ পড়ে যখন হাততালিতে পুরো মঞ্চটা ভেসে যেত, তখন একবারও কেউ ওর নাম উচ্চারণ না করলেও আকাশ নিজের থেকেই খুশি হতো, এতদিন এটাই চলছিল।

এবারের রবীন্দ্র জয়ন্তীতে আকাশকে কেউ কিছু না বলায় খানিকটা অবাক হয়েছিল। অনুষ্ঠানের দিন শুনল ফ্যাক্টরির নতুন জয়েন করা এক ফিটার ওয়ার্কার, নাকি সব লেখালেখি করছে। প্রোডাকশনের জমাদারবাবুকে জিজ্ঞেস করাতে জানল, নতুন ছেলেটা নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনসেশন। ইদানীং নাকি কী সব ব্যাপারে ভাইরাল হয়েছে। ফ্যান ফলোয়ারও নাকি অনেক। তাই এবার ম্যানেজারবাবু ওকে দাযিত্ব দিয়েছেন। এইসব অত্যাধুনিক ভাষাজ্ঞান বা উন্নত প্রযুক্তির কোনওটাই আকাশের কোনওদিন ছিল না। আর ইন্টারনেটটা এখনও গরিবের কাছে আলাদিনের প্রদীপ। আঘাতটা লেগেছিল। কুর্চিকে এগুলো বলেও লাভ নেই । বাড়ি ফিরে রাতের কালো অন্ধকারে চোখের জল লুকিয়ে বাঁধাই করা লেখাবোঝাই দিস্তাখাতাটা বুকে চেপেই শুয়ে পড়েছিল।

লেখালিখি পাবলিকেশন-এর খবরটা ফ্যাক্টরির নতুন ছেলেটাই আকাশকে দিয়েছিল। নিজে থেকেই এসে বলেছিল, কাকা তোমাদের ওই পুরোনো খাতা কলমে লেখা আর চলে না। আজকাল জো দিখতা হ্যায়, ওহি বিকতা হ্যায়। নতুন নতুন পেজে মিউজিক দিয়ে লেখা ইন্টারনেটে বেরোয় কাকা, পাবলিক ওটাই খায়। ঠিকানা নিয়ে বুকে সাহস করে কেষ্ট দাসের অফিসে এসে হাজির হয়েছিল আকাশ। যদি তার সারাজীবনের লেখাগুলো ইন্টারনেটে দেওয়া যায়। তারপর ওপরের ওই আলাপচারিতা। রায়বাবুর কাছ থেকে প্রশ্নগুলো শুনে বাড়ি ফেরার পথে কুর্চির জন্য প্রেশার-এর ওষুধটা একপাতা বেশি কিনল। সাথে একটা পঞ্চাশ টাকার স্ট্যাম্প পেপার। ওদের যাতে উইল নিয়ে কোনও অসুবিধা না হয়।

 

আজ বিতান জয়েন করল। বাবা সুইসাইড করার পর মাকে নিয়ে দাঁত চেপে লড়ে আজ বিতান বড়ো সরকারি আধিকারিক। পুরোনো ঘর ভেঙে নতুন ঘর হয়েছে। বাবার দিস্তামার্কা খাতাটা এ পর্যন্ত কয়েক হাজারবার ওর পড়া। প্রায় সব লেখাগুলোই ওর মুখস্থ।

এই দিনটার জন্য বিতান অনেক দিন অপেক্ষা করেছে। এখন গভীর রাত। ফেসবুক প্রোফাইলে বিতান জব প্রোফাইলটা আপডেট দিল। সাথে দফতরের মন্ত্রী আমলাদের সঙ্গে কয়েকটা সেলফি নেওয়া পোস্ট। তারপর দশ বছর ধরে অপেক্ষা করা দুটো ফ্রেন্ড রিকোয়েসট পাঠাল, একটা কেষ্ট দাস আর একটা রায়বাবুকে, সাথে লেখালিখি পেজে একটা মেসেজ,  অনেকগুলো লেখা ভাইরাল করতে চাই, যা লাগে দেব।

যৌন-সম্পর্কে উদাসীনতা কেন

যৌন-সম্পর্ক ছাড়া নারী-পুরুষের সম্পর্ক অসম্পূর্ণ। সেক্স-কে ‘ভালো’, ‘মন্দ’ যে যাই বলুন না কেন, নারী-পুরুষের ভালোবাসা কিংবা সম্পর্কের বাঁধনের সঙ্গে যৌনতার নিবিড় যোগ আছে। কিছু নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে হয়তো যৌনতা কয়েক মিনিটের সুখানুভূতি ছাড়া আর কিছু নয়, যৌনসুখ মিটে গেলে তারা হয়তো বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, কিন্তু এটাই আসল ছবি নয়। যৌনসুখের পাশাপাশি পেট ভরাও জরুরি। কারণ, পেট না ভরলে মনোরঞ্জন অসম্ভব।

আমেরিকার একটি সংস্থা ওদের দেশে সেক্স-এর বিষয়ে সম্প্রতি এক সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, এখন আমেরিকাতেও সেক্স-এর চাহিদা কমেছে। বরং ওদেশের মানুষ এখন ভিডিয়ো গেমস কিংবা কেরিয়ার নিয়েই বেশি ব্যস্ত। ১৮ শতাংশ যুবক এবং ২৩ শতাংশ যুবতি জানিয়েছেন, গত এক বছরে একবারও তারা যৌনসুখ উপভোগ করেনি। ৬০ বছর বয়সি ৫০ শতাংশ লোক জানিয়েছেন, যৌনতার সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই এখন। বৈরাগ্যময় জীবনসুখের মহিমাকীর্তন অনেকেই করেন হয়তো কিন্তু এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায় না। আসলে, নারী-পুরষের যৌনতা একটি প্রকৃতিগত বিষয়। তাই, আনন্দ পাওয়া কিংবা না-পাওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিনির্ভর।

তবে যেভাবেই বিষয়টি দেখা হোক না কেন, স্থায়ী সঙ্গী এবং সুরক্ষিত যৌনতার চাহিদা থেকেই সমাজে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে। আর এই বৈধ বিবাহের ফলে-ই নারী-পুরুষ সুখে ঘর বাঁধবে, ঘর বাঁধলে সুস্থ সমাজ তৈরি হবে, সুস্থ সমাজ গ্রাম কিংবা শহর গড়বে এবং এর ফলে উন্নত দেশ তৈরি হবে। কিন্তু যারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে যৌনতাবিহীন জীবনযাপন করছেন, তাদের জীবনবোধও বদলে যাবে। আসলে, নারী-পুরুষের মধ্যে সখ্যতা থাকলে তবেই প্রকৃত যৌনসুখ পাওয়া যায়। ভালোবাসাহীন যৌনতা সমস্যার জন্ম দেয়। অন্যত্র যৌনসুখ পেতে গিয়ে কেউ দাসত্ব করেন, কেউ বিধর্মী হন, কেউ আবার আশ্রম কিংবা মঠে চলে যান। তাই, বিষয়টি পরিষ্কার যে, যৌনতার চাহিদা যদি না থাকত, তাহলে অনেক অপ্রিয় সত্য সামনে আসত না এবং জীবনে জটিলতা কমত।

আজকের এই ডিজিটাল দুনিয়ায় বাড়ছে পর্নোগ্রাফি এবং নারী শরীরের ব্যাবসা। আসলে এখান থেকেই তো বেশি অর্থাগম হচ্ছে, তাই এসবের চাহিদাও বাড়ছে। একটা সময় ছিল যখন যৌনতা এত প্রকাশ্যে আসত না। তাই যৌন-আকর্ষণ অনেক বেশি ছিল। অবশ্য তখন সৎ সঙ্গী এবং সময় দুই-ই ছিল কিন্তু এখন সময়ও কম এবং নির্ভরযোগ্য সঙ্গীরও অভাব। সবচেয়ে বড়ো কথা, যৌন চাহিদাটাও এখন পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর হয়ে উঠেছে।

ব্যক্তিস্বাধীনতা বিপদগ্রস্ত

হোয়াট্‌সঅ্যাপ, টুইটার এবং ফেসবুকের মাধ্যমে এখন আবিশ্বের সরকার এবং সমাজের ছবি প্রতিফলিত হচ্ছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য যখন থেকে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা-কে বিক্রি করে দেওয়ার খবর সামনে এসেছে, তখন থেকে ডিজিটাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল খবর প্রশ্নের মুখে। ‘গুগল-এর সুন্দর পিচাই আমেরিকান সংসদকে জানিয়েছিলেন, জি-মেল অ্যাকাউন্ট-এ পাঠানো সমস্ত তথ্য চাইলে পড়তে পারে ‘গুগল’।

আসলে, ডিজিটাল নির্ভরতা সারা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ডিজিটাল দুনিয়া আজ প্রায় পরমাণু বোমার মতোই বিস্ফোরক। পরমাণু বোমা নিষ্ক্রিয় করার যত-না উদাহরণ সামনে এসেছে, এই বোমা পরীক্ষার ফলে নির্গত রেডিয়েশন-এর কুপ্রভাব বেশি ছড়িয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়ার বিষয়টি অবশ্য একটু অন্যরকম। প্রথমে এর লাভজনক দিকটি সামনে এলেও, পরে এর ক্ষতিকারক দিকটিই প্রকট হয়েছে। বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে যেমন দ্রুত তথ্য সরবরাহ করা যায় সহজে– ঠিক তেমনই এই ডিজিটাল মাধ্যমে খারাপ কিংবা ভুল কিছুও ছড়িয়ে দেওয়া যায় মুহূর্তের মধ্যে।

তাই সর্বত্র ফেক মেসেজ-এর ছড়াছড়ি। স্ক্রীন-এর পিছনে কে লুকিয়ে রয়েছে, এ আজ বুঝে ওঠা দুরূহ। আর ঠিক এই কারণে, কোটি কোটি মানুষকে যেমন বোকা বানানো হচ্ছে, ঠিক তেমনই, লক্ষ লক্ষ মানুষকে লোটার পথও সহজ হয়েছে। সত্যতা যাচাই না করেই এখন অনেকে ফেসবুক কিংবা হোয়াট্‌সঅ্যাপকে মাধ্যম করে প্রেম করছে। যে-বিষয়টি প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল, না-জানি সেই একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়টি এখন কতটা ছড়িয়ে পড়ছে! অবশ্য এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আজ সরকারের জন্য অনেকটাই ফায়দা লুঠছে। বিরাধীদের মেল, মেসেজ, কথাবার্তা সবকিছুই চাইলে জেনে নিতে পারছে সহজেই।

মোবাইল ফোন-এ কথা বলাটাও এখন সুরক্ষিত নয়। কারণ, কথোপকথন রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু কে কাকে ফোন করল তা-ই নয়, কতক্ষণ, কী বললেন, তার পুরোটাই অন্যত্র সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে বিরোধীদের সমস্ত গতিবিধি, সরকার চাইলে জেনে নিতে পারছে। তাই, ব্যক্তি-স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে আজকের ডিজিটাল দুনিয়ার মাধ্যমে। যতই আপনি গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা করুন না কেন, আপনি সরকারি নজরদারির আওতাতেই আছেন সর্বদা।

পোলাও এবং ভাতের ভুরিভোজ

চলুন, আজ নতুন কিছু করা যাক। পোলাও, কালিয়া এসব খাবার জন্যেও সঠিক সময় এবং সুস্থ মন চাই। তাই বাড়ির সামান্য কিছু উপকরণ জোগাড় করে চেষ্টা করতেই পারেন খুব সাধারণ একটি খাবার। মন্দ খেতে নয়, আর এই যা সাউথ ইন্ডিয়ান পদ। একটু নতুন স্বাদের, মুখের টেস্টও বদলাল। গ্যারান্টি হেলদি ও পুষ্টিকর। পাতিলেবু আর চাল দিয়ে তৈরি সহজ একটি পদ্ধতি। গাল ভরা নাম আছে, লাইম রাইস। আর একটা মজার কথা হল লেফটওভার ভাত দিয়ে এই সুস্বাদু পদটি সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন। সঙ্গে দেওয়া হল আরও দুটি আসাধারণ রেসিপি৷ কাশ্মীরি মুতানজান এবং মাশরুম পোলাও৷ ট্রাই করে দেখুন৷

লেবু ভাত

উপকরণ : ভাত (ঝরঝরে যেন থাকে, গলে গেলে বিশ্রী হবে খেতে ), আদা সামান্য গ্রেট করে নেওয়া, পাতিলেবুর রস প্রয়োজনমতো (তবে খুব বেশি হলে টক হয়ে যাবে তাই নিজের স্বাদমতো), ১ চামচ হলুদগুঁড়ো, এক চিমটে হিং, নুন, কালো সর্ষে, কারিপাতা, ১ চা চামচ করে ছোলার ডাল আর বিউলি ডাল, ২ টেবিল চামচ সাদা তেল।

প্রণালী : ভাত আগে করে রাখতে হবে অথবা আগের দিনের ভাত হলেও অসুবিধে নেই। কড়াইতে তেল গরম হলে কারিপাতা, সর্ষে, ছোলার ডাল আর বিউলির ডাল, হিং গরম তেলে দিয়ে দিন। ডালটা একটু ফ্রাই হলে আদাকুচি আর হলুদগুঁড়ো কড়াইতে দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে রান্না করে রাখা ভাতটা ওতে দিয়ে দিন। স্বাদমতো নুন দিন। খুব ভালো করে নাড়াচাড়া করে কড়াইতে ৫ মিনিট রেখে গ্যাস বন্ধ করে দিন বা আগুন থেকে কড়াই নামিয়ে রাখুন। এবার উপর থেকে ভাতের উপর ছেঁকে রাখা লেবুর রসটা ছড়িয়ে দিন। পুরো ভাতটা ভালো করে নাড়িয়ে নিন যাতে লেবুর রস পুরো ভাতে ছড়িয়ে পড়ে। দেখবেন ভাতের রং চেঞ্জ হয়ে গেছে। একটু ঢাকা দিয়ে রেখে গরম গরম পরিবেশন করুন।

Recipe of Kashmiri rice dish Mutanjan

কাশ্মীরি মুতানজান

উপকরণ : ১ কেজি হাড়া ছাড়া মুরগি, ৬টি লবঙ্গ, ৬টি ছোটো এলাচ, ৩ কাপ চাল, ৪ কাপ চিনি, ১/২ কাপ টক দই, ১১/২ কাপ মাখন, ২০টি কাঠবাদাম (সেদ্ধ করা), ২০টি পেস্তা (সেদ্ধ করা), আদা রসুনের পেস্ট ১ টেবিল চামচ, ২ কাপ নানা রঙের মোরোব্বা (টুটিফ্রুটি)।

প্রণালী : চাল ভালো করে ধুয়ে আধঘন্টা ভিজিয়ে রাখুন। লবঙ্গ ও ছোটো এলাচ দিয়ে আধসেদ্ধ করে সরিয়ে রাখুন। একটি বড়ো পাত্রে মাখন গরম করে আদা-রসুন পেস্ট এবং হাড় ছাড়া মাংস দিয়ে ভাজা ভাজা করুন। টক দই-টা ওতে দিয়ে দিন এবং জল না শুকোনো পর্যন্ত নাড়াচাড়া করুন। এবার চিনি, মোরোব্বা, সেদ্ধ ও খোসা ছাড়ানো কাঠবাদাম-পেস্তা আধসেদ্ধ করে রাখা, ভাতটার সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পুরো ভাতের মিশ্রণটি এবার কড়াইতে ঢেলে মাংসের টুকরোর সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে রান্না হতে দিন। কম আঁচে রান্না করুন চাল পুরো সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত। সেদ্ধ হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ব্যস তৈরি আপনার কাশ্মীরি মুতানজান গরম গরম পরিবেশনের জন্য।

Recipe of Mushroom pulao

মাশরুম পোলাও

উপকরণ : ১ কাপ বাসমতি চাল জলে ভেজানো, ১০০ গ্রাম মাশরুমকুচি, ১টা বড়ো পেঁয়াজ কুচি করা, ২-৩টি কাচালংকা কুচি করা, ২ ছোটো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ৩ বড়ো চামচ দই, ১ বড়ো চামচ তেল, ১ টুকরো দারচিনি, ১টা তেজপাতা, ৫টা লবঙ্গ, ৪টে এলাচ, নুন স্বাদমতো, জল প্রযোজনমতো।

প্রণালী : একটা পাত্রে তেল গরম করুন। তেজপাতা, লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি ভাজুন। এবার পেঁয়াজ ভেজে নিন। আদা-রসুন পেস্ট, কাচালংকা দিয়ে সঁতে করুন। মাশরুম, ধনেপাতা, দই দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এতে চাল দিন, নুন দিয়ে ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এবার জল দিন ও ঢাকনা বন্ধ করে রান্না হতে দিন। স্যালাডের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ডাস্ট-অ্যালার্জি থেকে বাঁচুন ঘরোয়া উপায়ে

নানা কারণে ডাস্ট-অ্যালার্জির শিকার হন অনেকে। আসলে, বাতাসে ভাসমান ধুলিকণার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র জীবাণু। আর এই অদৃশ্য় শত্রু আমাদের নাক-মুখ দিয়ে ঢুকে য়খন শ্বাসনালিতে আক্রমণ করে, তখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি আক্রান্ত হন। হাঁচি, কাশি ছাড়াও, শ্বাসকষ্ট প্রভৃতি সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু খুব প্রয়োজন না হলে অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, বেশি ওষুধ খেলে তার কু-প্রভাব পড়তে পারে আমাদের শরীরে। তাই, এরজন্য যেমন ধুলো-ময়লা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে, ঠিক তেমনই ডাস্ট-অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হলে ঘরোয়া উপায়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। এরজন্য় কী কী ব্য়বস্থা নেবেন, রইল তারই পরামর্শ।

  • সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূল খান প্রচুর পরিমাণে। কারণ, টাটকা সবজি এবং ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে
  • সপ্তাহে অন্তত দুদিন ঘি খান। কারণ ঘি খেলে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে এবং জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে শরীর
  • এক চা-চামচ মধু খান সপ্তাহে তিন দিন। কারণ, মধু যেমন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ঠিক তেমনই, র‌্যাশ কমাতে সাহায্য় করে
  • প্রতিদিন সকালে পান করুন গ্রিন-টি। কারণ, গ্রিন-টি অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস্ সমৃদ্ধ। তাই, অ্যালার্জি আটকায়
  • অ্যালার্জির কারণে য়দি খুব হাঁচি, কাশি হয়, তাহলে এক কাপ তেঁতুল জলে একটা লবঙ্গ ভেঙে, মিশিয়ে সেই জল পান করলে উপকার পাবেন
  • অ্যালার্জির শিকার হলে, হালকা গরম জলে সামান্য় নুন মিশিয়ে গার্গল করুন।

এঁচোড় খান সুস্থ থাকুন

এখন প্রায় সব বাজারেই পাওয়া যাচ্ছে এঁচোড়। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন-এ, সি, বি-৬, বি-১২ প্রভৃতিতে সমৃদ্ধ রান্নার এই উপকরণটি। শুধু ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়ানোই নয়, এঁচোড় খেলে প্রতিরোধ করতে পারবেন আরও অনেক রোগ। তবে শুধু স্বাস্থ্যগত লাভ-ই নয়, এঁচোড় যেহেতু এক অতি সুস্বাদু খাবার,তাই রসনা-তৃপ্তও করবে। যারা ভালো নিরামিষ খাবার পছন্দ করেন,তাদের জন্য এঁচোড় আদর্শ খাবার। অতএব জেনে রাখুন, কী কী উপকার পাবেন এঁচোড় খেলে।  আর জেনে নিন কীভাবে বানাবেন এঁচোড়ের কচুরি।

স্বাস্থ্যরক্ষায় এঁচোড়-এর ভূমিকা

  • শরীরে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করে
  • দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়
  • চুল পড়া আটকায়
  • ব্রণ দূর করে
  • হজমশক্তি বাড়ায়
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে
  • মানসিক চাপ কমায়
  • ত্বক ভালো রাখে
  • রক্তাল্পতা দূর করে
  • ব্যাড কোলেস্টেরল কমায়
  • কোলন ক্যানসার রোধ করে
  • থাইরয়েড আয়ত্তে রাখে
  • রক্তচাপ কমায়
  • অ্যাস্থমার সমস্যা আয়ত্তে রাখে
  • হাড় শক্ত করে।

স্বাদে ভরা এঁচোড় দিয়ে তৈরি এই জিভে জল আনা রেসিপি রইল আপনাদের  জন্য৷

এঁচোড়ের কচুরি

উপকরণঃ ২০০ গ্রাম এঁচোড়।৫০০ গ্রাম ময়দা,প্রয়োজন মতো নুন,জিরে গুঁড়ো, আদা বাটা, লংকাগুঁড়ো এবং কচুরি ভাজার সাদা তেল।

পদ্ধতিঃ এঁচোড় কেটে সিদ্ধ করে কড়াতে মশলা, তেল দিয়ে ভালো করে কষুন।ময়দাতে ময়েন মিশিয়ে লেচি তৈরি করে এঁচোড়ের পুর ভিতরে ভরে ভাজুন। ভাজা হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

 

এঁচোড় স্বাদে আর গুণে ভরপুর৷এটি তরকারি হিসেবে খুবই সুস্বাদু৷ তবে বেশি খেলে হজমে গোলযোগ হতে পারে৷ টাদের ডায়াবেটিজ আছে, তারাও সতর্ক থাকুন৷ এছাড়া কিডনির অসুখে আক্রান্তদের, বা যাদের রক্তে পটাশিয়াম বেশি—তাদেরও এই সবজি এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়৷

ঋভু দাশগুপ্ত-র হিন্দি সাইকো-থ্রিলারে পরিনীতি চোপড়া   

বাথটাবে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে রয়েছেন পরিনীতি চোপড়া।মাথায় গভীর ক্ষত৷ ছবিটা হঠাত দেখে চমকে যাবে৷ এ কী হল বলিউডের সুন্দরী নায়িকার? আসলে এভাবেই তাঁর সাম্প্রতিক ছবির ফার্স্ট লুক –এ চমকে দিয়েছেন পরিনীতি৷ সদ্য মুক্তি পেল তাঁর ছবি, দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন-এর ফার্স্ট লুক এবং ছবির ট্রেলার।সেই ছবি নিজের ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করেছেন নিজেই। হলিউডের সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন ছবির হিন্দি রিমেক এটি। সিনেমার নামটাও বদলানো হয়নি। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এমিলি ব্লান্ট। পরিনীতি ছাড়াও ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রয়েছেন কীর্তি কুলহারি।এই থ্রিলার মুভিতে অভিনয় করে দারুণ খুশি পরিণীতি।এই ছবি তাঁর  ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করে তাঁর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ পরিনীতি লিখেছেন, ‘আমার জীবনে এমন কঠিন চরিত্র আমি কখনও করিনি’।

আসলে বেশ কিছুদিন দরে তাঁর লাক তেমন কাজ করছে না ছবির ক্ষেত্রে৷ পরপর ছবি ফ্লপ করায় একটু যেন মুষড়েই পড়েছিলেন পরিনীতি৷এবার এই সম্পুর্ণ ভিন্ন এক এক্সপেরিমেন্টাল চরিত্র করতে গিয়ে, বেশ উত্তেজিত নায়িকা৷পরিনীতি ছাড়াও ইংল্যান্ডের ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রয়েছেন কীর্তি কুলহারি।

এই বিচিত্র সাইকোলজিক্যাল হিন্দি থ্রিলার, তৈরি করেছেন বাঙালি পরিচালক ঋভু দাশগুপ্ত।অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী,অদিতি হায়দারি-সহ বেশ নামজাদা  অভিনেতারা।

পলা হকিন্সের একদা বেস্টসেলার  ‘দ্য গার্ল অন দ্য ট্রেন’ অবলম্বনে এই ছবি তৈরি করেছেন ঋভু। এক মদ্যপ ডিভোর্সি নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন পরিণীতি। ট্রেলারে কখনো ট্রেনের ভেতর আবার কখনো বা রাস্তা দিয়ে অত্যন্ত সতর্কভাবে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে পরিণীতিকে। ভয়, সন্দেহ, উত্তেজনা ফুটে উঠছে তাঁর চোখমুখে। এর আগেও পলার উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমা হয়েছে হলিউডে, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন এমিলি ব্লান্ট। রিমেকে প্রায় একি রকম চরিত্রে অভিনয় করছেন পরিণীতি।অ্যামনেশিয়া আক্রান্ত এক মদ্যপ  যুবতী যে পরে মনেই করতে পারে না ঘটে যাওয়া ঘটনার অগ্রপশ্চাত। অথচ তাকে সারাক্ষণই তাড়া করে বেড়াতে থাকে তার অতীত জীবন। না পাওয়ার যন্ত্রণায় যে মাঝে মাঝেই ডুবে যায় গভীর হতাশায়৷ পরক্ষণেই তার মনে হয় যেন প্রতিশোধ দরকার এখনই। এমনকি হঠাৎ করেই এক প্রতিবেশী মহিলার হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।

এমনই নানা ঘটনার মোড়ক পরতে পরতে উন্মোচিত হবে এই ছবিতে৷ ছবির শুরুতেই মনে আসবে নানা প্রশ্ন–সত্যিই কি সে খুন করেছে, নাকি তাকে ব্যবহার করে এই কাজটা করেছে অন্য কেউ? সে কি তবে কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার? সব প্রশেনের উত্তর নিয়ে রহস্য-রোমাঞ্চকর এই সিনেমা, নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৬ তারিখ।

নবজাতকের আগমনে খুশি থাকুক প্রথম সন্তান

দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে বাড়িতে যেমন খুশির প্লাবন বয়ে যায়, তেমনি কিছু দায়িত্বও বহন করে আনে বাড়ির বড়োদের জন্য। দ্বিতীয় সন্তান আসাতে, বাড়ির প্রথম সন্তানের জীবনে কী পরিবর্তন আসতে চলেছে, সেগুলি দ্বিতীয় শিশুর জন্মের আগে থেকেই প্রথমজনকে ধীরে ধীরে বোঝাতে হবে। যদিও দ্বিতীয়টি আসাতে প্রথম বাচ্চার একাকিত্ব বোধটা অনেকটাই কমবে, তবুও সেই খেলার সঙ্গীটির সঙ্গেই তাকে মা-বাবার ভালোবাসাটা হঠাৎ-ই ভাগাভাগি করে নিতে হবে। মা-বাবার অ্যাটেনশনও ছোটোটাই বেশি পাবে, নিজের সময়টাও ভাগ করে নিতে হবে –এমনই ছোটো ছোটো কিছু বিষয়ের সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রথম সন্তানকে তৈরি করাটা পুরোটাই মা-বাবার দায়িত্ব হয়ে যায়।

এখানে কিছু টিপ্স দেওয়া হল যেগুলো মেনে চললে এই দায়িত্ব আরও ভালো ভাবে পালন করার সুবিধে হবে

সম্পর্কের শুরুর দিনগুলি – অনেক সময় ছোটো বাচ্চারা মানসিক ভাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না যে, এতদিন যেখানে সে একাই মা-বাবার পুরো অ্যাটেনশন পাচ্ছিল, হঠাৎ-ই অন্য কেউ এসে সেটাতে ভাগ বসাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে ইমোশনালি ডিল করতে হবে কারণ যদি মানসিক ভাবে তাকে তৈরি করা না হয় তাহলে শিশুর কোমল মনে এর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। নবজাতকের প্রতি তার ঘৃণার মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে অথবা মনে মনে তার আগমনকে সে কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারে না। এমনকী মা-বাবার উপরেও তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ করার পর থেকেই প্রথম সন্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক যাতে দৃঢ় এবং মধুর হতে পারে সেই চেষ্টা শুরু করে দেওয়া উচিত। এর ফলে আপনার প্রথম সন্তানের ভাই বা বোন যাই হোক না কেন, তার সঙ্গে ইমোশনালি অ্যাটাচ হতে তার সুবিধা হবে এবং তার আগমনকেও সে স্বাগত জানাবে।

প্রথম সন্তানকে বেশি অ্যাটেনশন দিন – এটা সত্যিই যে দ্বিতীয় সন্তান জন্মাবার পর তার প্রতি অ্যাটেনশন দেওয়াটা বেশি দরকার। কিন্তু যাতে দ্বিতীয় বাচ্চাটির সঙ্গে প্রথমটির বন্ডিং যথার্থ হয় তার জন্য প্রথম সন্তানকে বেশি অ্যাটেনশন দেওয়া দরকার। সাধারণত প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মধ্যে বয়সের পার্থক্য খুব বেশি হয় না, তবুও প্রথম সন্তান ম্যাচিয়োর হলেও শুরুতে ইমোশনাল থাকে খুব। সুতরাং দ্বিতীয় সন্তানকে যাতে সে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভাবে এবং তার সঙ্গে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট বাড়তে পারে, সেইজন্য প্রয়োজন প্রথমজনকে বেশি গুরুত্ব এবং অ্যাটেনশন দেওয়া। এমনিতেও গর্ভাবস্থা চলাকালীন এবং ডেলিভারি হয়ে যাওয়ার পর, প্রথম সন্তান সবকিছুই খুব মনোযোগ সহকারে অবজার্ভ করে, সুতরাং তাকে সর্বক্ষণ নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করুন। ভাই-বোনের কথা বলার সময়ও তাকেই পুরো অ্যাটেনশন দেওয়ার চেষ্টা করুন।

গর্ভাবস্থায় অনাগত সন্তানের জন্য শপিং করার সময় প্রথম সন্তানকে জিজ্ঞেস করে তার পছন্দমতো পুরো শপিং করুন। এতে তাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তার মনেও আপনার অনাগত সন্তানের প্রতি ঈর্শার মনোভাব জন্মাবে না। আসন্ন সন্তানের় প্রতি তার টানও মজবুত হবে।

বাচ্চার জন্মের পর

১)  ছোটোটার ডায়াপার বদলাবার সময়, ওকে স্নান করাবার সময় জ্যেষ্ঠ সন্তানের সাহায্য নিন। এর ফলে ও সবসময় আপনার এবং কনিষ্ঠটির সঙ্গে থাকতে পারবে এবং একাকিত্ব বোধও করবে না। এছাড়াও বড়ো ভাই বা বোন হিসেবেও ছোটোটার প্রতি তার দায়িত্ববোধ বিকশিত হতে পারবে

২)  যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, বড়োটার সমস্ত অ্যাকটিভিটি-তে আগের মতোই অংশ নিন

৩)  মা যদি কনিষ্ঠটিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাহলে বাবাকে দায়িত্ব নিতে হবে জ্যৈষ্ঠ সন্তানের। তাকে পুরো মনোযোগ দিতে হবে, তার সঙ্গে খেলা করতে হবে এবং তাকে নিয়ে ঘুরতেও যেতে হবে

৪)  বড়ো সন্তানটিকে, ছোটোটার কাছে আসার থেকে আটকাবেন না বরং ছোটো ভাই বা বোনের কাছে ওকে থাকতে দিন। মাঝেমধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান একটু বড়ো হলে ওকে বসিয়ে ছোটোটিকে ওর কোলে দিন এবং আপনিও সামনে থাকুন। বড়োকে বলুন, সেও যখন ছোটো ছিল ঠিক এমনটাই ছিল। সুতরাং যখন ছোটোটা বড়ো হবে তখন বড়ো ভাই বা বোনের সঙ্গেই খেলা করবে, তার হাত ধরেই প্রথম স্কুলে যাবে। এরকম বললে, বড়োটারও ছোটো ভাই-বোনের প্রতি ইমোশনাল বন্ডিং বাড়বে।

যখন বাড়ির জ্যেষ্ঠ সন্তানকে জানানো হয় যে তার ভাই বা বোন হতে চলেছে তখন অনেক সময় তাদের মনে হয়, ভাই বা বোন আসার কী দরকার? এও মনে হয় এতদিন সে-ই বাড়ির মধ্যমণি হয়ে সকলের অ্যাটেনশন পেয়ে এসেছে আজ হঠাৎ করে আর একজন নতুন সদস্য এসেই তার প্রাপ্য ভালোবাসায় ভাগ বসাবে, সেটা সে কেমন করে মেনে নেবে? আগত সন্তানের প্রতি অগ্রজের এই মনোভাব পরিবর্তন করার জন্য তাকে বোঝানো দরকার, বাড়িতে ছোটো ভাই বা বোন থাকা খুব দরকার যে কিনা বন্ধু, খেলার সঙ্গী হতে পারবে। কনিষ্ঠটি আসাতে বড়োর প্রাপ্য ভালোবাসায় কোনও অভাব হবে না এই আশ্বাস দেওয়া খুব জরুরি। অন্য বাচ্চাদের উদাহরণের সাহায্যে তার মনে বিশ্বাসবোধ জাগানো দরকার যে, সে-ও ছোটো ভাই বা বোনের সঙ্গে খুব মজায়, আনন্দে থাকতে পারবে। তার একাকিত্ব দূর হবে।

উক্ত উপায়গুলি অবলম্বন করে জ্যেষ্ঠ সন্তানের মন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব, নিরাপত্তাহীনতার বোধ দূর করে কনিষ্ঠটির প্রতি প্রেম ও ভালোবাসার মনোভাব গড়ে তুলুন।

 

 

লিপস্টিক ব্লান্ডার থেকে বাঁচুন

ঠোঁটের সৌন্দর্য বাড়াতে লিপস্টিকের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেক মহিলাই সঠিক লিপস্টিক বাছতে পারেন না ফলে তার প্রভাব পড়ে তার লুক্স-এর উপর। খুব ভেবে চিন্তে লিপস্টিক বাছা উচিত। পোশাক নির্বাচন করার সময় মহিলারা সাধারণত চোখে কুলিং এফেক্ট দেবে, এমন রং বেছে পরেন। ঠিক সেরকমই লিপস্টিকের শেড এবং ফিনিশ মরশুমের অনুকূল হওয়া উচিত। নিজের স্কিন টোনের বিষয়টা খেয়াল রাখাটা একান্ত জরুরি কারণ লিপস্টিকের শেড স্কিন টোন-কে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এই মরশুমে গ্লসি-র বদলে ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক-ই ব্যবহার করা উচিত কারণ এটি লাইট এবং সোবার লুক দিতে সাহায্য করে।

কোন স্কিন টোনের জন্য কী রং

স্কিন টোন বোঝার সবথেকে ভালো উপায় হল হাতের কবজিতে যে শিরাগুলি দেখতে পাওয়া যায় তার রং দেখে নেওয়া। শিরার রং যদি নীল হয় তাহলে সেটা কুল স্কিন টোনের প্রতীক এবং শিরার রং যদি সবুজ হয় তাহলে স্কিন টোন ওয়ার্ম হয় সাধারণত। যে-সব মহিলাদের কুল স্কিন টোন হয় তাদের ত্বকের রং পেল হোয়াইট এবং হোয়াইট হয়। কিন্তু ওয়ার্ম স্কিন টোনের মহিলারা হুইটিশ, ডাস্কি অথবা ডিপ ডার্ক কালারের হন। সব রঙের ত্বকের জন্য আলাদা আলাদা রঙের লিপস্টিক লাগানো বাঞ্ছনীয়।

ফরসা অথবা প্রচণ্ড ফরসা (হোয়াইট এবং পেল হোয়াইট) ত্বকে পিংক, কোরাল, নুড এবং বেজ রং খুব ভালো মানাবে

হুইটিশ অর্থাৎ গমরঙা মহিলাদের ত্বকে রোজ রেড, মভ ও বেরি শেড-এর লিপস্টিক খুব ভালো মানায়। এই বর্ণের মহিলাদের কপার এবং ব্রোঞ্জ কালারের লিপস্টিকও খুব ভালো সুট করে

যদি ত্বকের বর্ণ শ্যামলা হয় তাহলে ব্রাউন অথবা পার্পল-এর কোনও শেড-এর লিপস্টিক লাগানো একেবারেই উচিত নয়। অরেঞ্জ রং এই গাত্রবর্ণের সঙ্গে খুবই মানানসই

গাঢ় শ্যামবর্ণের মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্রাউন, প্লাম এবং ওয়াইন কালারের লিপস্টিক খুব ভালো মানায়

লিপস্টিক কেনার সময় খেয়াল রাখুন

ত্বকের রং অনুযায়ী লিপস্টিক কেনার সময়, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি। কোনও কোনও মহিলা চার্ট দেখে অথবা উপর থেকে লিপস্টিকের রং দেখেই লিপস্টিক কিনে নেন। প্রত্যক ব্র্যান্ডেই একটি লিপস্টিকের-ই ২-্৩টি কালার টোন থাকে। কোন রং-টা ঠোঁটের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করবে সেটা সবসময় ট্রাই করে তবেই লিপস্টিক কেনা উচিত।

কয়েকটি জিনিসের খেয়াল অবশ্যই রাখা উচিত 

নীচের ঠোঁটের রং থেকে ২টো শেড-এর ডার্ক লিপস্টিক বাছা উচিত। রং, ত্বকের রঙের সঙ্গে মানাচ্ছে কিনা পরীক্ষা করার জন্য নীচের ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে রং ভরুন। এবার উপরের ঠোঁটের সঙ্গে মানানসই হচ্ছে কিনা আয়নায় দেখুন। যদি উপর এবং নীচের ঠোঁটের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ফুটে না ওঠে তাহলে নিশ্চিত হয়ে ওই রঙের লিপস্টিক কিনতে পারেন

লিপস্টিকের আসল কালার এফেক্ট দেখার জন্য, মেক-আপ ছাড়া অরিজিনাল স্কিন টোনের উপর লিপস্টিক লাগিয়ে দেখুন

যদি একসঙ্গে অনেকগুলি লিপস্টিকের শেড কিনতে যান তাহলে প্রথম শেড ঠোঁট থেকে ভালো করে পরিষ্কার করার পরেই পরের শেড-টি ট্রাই করবেন

ম্যাট ফিনিশের জন্য ঠোঁটকে তৈরি করুন

গরমের সময় ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক সবথেকে ভালো বিকল্প কারণ এটি গলে গিয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে না। দেখতেও সুন্দর লাগে কিন্তু এটি লাগাবার কয়েকটি নিয়ম আছে। সেই অনুযায়ী ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক ব্যবহার করা না হলে লুক নষ্ট করে দিতে পারে।

ফাটা ঠোঁটে কখনও ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক লাগানো উচিত নয়। যদি ঠোঁট ফাটা হয় তাহলে ঠোঁট স্ক্রাব করে এক্সফলিয়েট করুন।

ম্যাট ফিনিশ লিপস্টিক ঠোঁট রুক্ষ করে দেয়, সুতরাং এটি লাগাবার আগে বেবি অয়েল দিয়ে ঠোঁট মাসাজ করে নেওয়া উচিত যাতে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ফাইন লাইন্স দেখতে না পাওয়া যায়।

ম্যাট লিপস্টিকের ভালো এফেক্ট দেখতে চাইলে, ঠোঁটে প্রথমে কনসিলার লাগান। এতে লিপস্টিকের রং-টা ঠিকমতো ফুটবে

ম্যাট লিপস্টিক লাগাবার সময় ঠোঁটে ২টি কোট লাগানো উচিত এবং ঠোঁট রাব করবেন না।

ম্যাট লিপস্টিক লাগাবার আগে লাইনার ব্যবহার করে ঠোঁট-কে শেপ দিন। গ্লসি লিপস্টিকের মতো ম্যাট লিপস্টিক নিজে নিজে ছড়িয়ে যায় না সুতরাং আউটলাইন এঁকে নিয়ে পুরো ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে নেওয়ার দরকার পড়ে

এই ভুল কখনও করবেন না

পোশাকের রং-কে কমপ্লিমেন্ট করবে, এমন শেডের লিপস্টিক লাগান। তাই বলে পোশাকের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে কালার বাছবেন না। এই ভুল, পোশাক এবং মেক-আপ, দুটোরই লুক খারাপ করে দেবে

খুব পাতলা ঠোঁটে, গাঢ় রঙের লিপস্টিক কখনও লাগানো উচিত নয়। ঠোঁট আরও বেশি পাতলা মনে হবে

যদি চোখের মেক-আপ হেভি হয় তাহলে ঠোঁট-কে হাইলাইট করার প্রয়োজন হয় না

 

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব