বিয়ের আগে সৌন্দর্যের দেখভাল

এই অতিমারির আবহে স্বাস্থ্য নিয়ে সকলেই কমবেশি চিন্তিত। কিন্তু অনেক হবু দম্পতি আবার এই সময়টাই বেছে নিচ্ছেন দুই হাত একত্রিত করতে। তবে অবশ্যই সবরকম প্রতিবন্ধকতা স্বীকার করে নিয়ে। যেখানে একাধিক অতিথির উপস্থিতি ঘটতে চলেছে সেই পরিবেশে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করাটা একান্ত জরুরি। একই কথা প্রযোজ্য বিয়ে পাত্র-পাত্রীর ক্ষেত্রেও। আবার একথাও ঠিক, বিয়ের দিনটা বারবার ফিরে আসবে না। সুতরাং প্যান্ডেমিকের আবহ থাকুক আর না-ই থাকুক, নিজেকে বিশেষ দিনটির জন্য সুন্দর করে তোলার চেষ্টা মেয়েদের মনে থাকবেই।

এখন যেহেতু জিম-ই বলুন বা স্যালনগুলিও বলুন, প্রি-ওয়েডিং শরীরচর্চা বা রূপচর্চার জন্য মানুষ ওই সব জায়গায় যেতে ভয় পাচ্ছে, বাড়িতে থেকেই যতটা সম্ভব নিজেদের শরীর-স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে হবে। আর এটা সকলেই জানেন যে, সুস্বাস্থ্যের প্রতিফলন ঘটে সৌন্দর্য‌ে।

  • প্রথমেই মনে রাখতে হবে জিমে না যেতে পারার ফলে বাড়িতে বসে থাকতে থাকতে, শরীরে মেদ জমাটা কিছু আশ্চর্যজনক নয়। এর জন্য দরকার বাড়িতে থেকেই কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা। যারা যোগাসন করতে পারেন, তারা আসন প্রাকটিস করতে পারেন। এতে শরীর ফিট থাকবে
  • শরীরে কোথাও যাতে মেদ না জমে তার জন্য ডায়েট প্ল্যান বানিয়ে সেটা ফলো করুন। মেয়েদের স্বাভাবিক ভাবেই পেটে মেদ জমার প্রবণতা দেখা যায়। সাধারণত বিয়ের কনেকে একটা রুটিন ডায়েট চার্ট বানিয়ে চলতে হবে, যেটা কিনা দৈনন্দিনের ক্যালোরির প্রযোজনীয়তা মেটাবে।
  • এছাড়াও ফাইবার-যুক্ত খাবার যেমন, টাটকা ফল-সবজি, দানাশস্য, লো-ফ্যাট ডেয়ারি প্রোডাক্টস, লিন মিট, হেলদি ফ্যাট এগুলো ডায়েটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন। টাটকা ফল-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে প্রযোজনীয় ফাইবার ও নিউট্রিযে্টস থাকে, যা ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে
  • বাড়িতে থাকা সহজলভ্য হেলদি ফুড ট্রাই করুন
  • জাংক ফুড এবং প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন
  • রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটস যেমন হোয়াইট ব্রেড, পিত্জা, পাস্তা, ভাত (হোয়াইট রাইস), মিষ্টি, ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালস এগুলো এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও চিনি খাওয়া বন্ধ করুন
  • সারাদিনে প্রচুর জল খান। এতে হাইড্রেটেড থাকবেন এবং মেটাবলিজম বুস্ট করতে সাহায্য করবে। ফলে শরীরের ওজনও নিয়ন্ত্রিত হবে
  • জলখাবার স্কিপ করবেন না এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। বারেবারে অল্প অল্প করে খান
  • ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি অবশ্যই ডেলি রুটিনে থাকা একান্ত কাম্য। রাস্তায় হাঁটতে পারেন, জগিং অথবা সিঁড়ি ওঠানামাও করতে পারেন। এই নিয়মগুলো মানলেই দেখবেন শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার যেমন বাড়বে, তেমনি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল সৌন্দর্য‌ও ফুটে উঠবে। আপনার ত্বক, নখ, চুল উপকৃত হবে
  • ঘুম আমাদের শরীর স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য খুবই দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রতিদিন সময় দেখে একইসময় ঘুমোতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার নিয়ম, কনের শরীর-স্বাস্থ্য সঠিক রেখে মুখের ও ত্বকের গ্লো বজায় রাখবে।

হেলদি ব্যালেন্সড প্লেট

এক প্লেট খাবারে থাকা উচিত অর্ধেক প্লেট সেদ্ধ সবজি বা স্যালাড, অর্ধেকের অর্ধেক প্লেট প্রোটিন জাতীয় খাবার। যেমন চিকেন, ডিম, তোফু এবং বাকি অর্ধেকটা আনরিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেটস। যেমন ব্রাউন রাইস, আটার রুটি বা মাল্টিগ্রেন ব্রেড, ওটমিল ইত্যাদি রাখুন। সামান্য হেলদি ফ্যাট এর সঙ্গে যোগ করুন, যেমন অ্যাভোকাডো, ডার্ক চকোলেট, বাদাম (আমন্ড, আখরোট, চিয়া সিডস) অথবা এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল।

 

ডায়েটের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকচর্চাও কনের রোজকার রুটিনের একটা বিশেষ দিক। স্যালনে গিয়ে সেটা এখন করা সম্ভবপর না হলে, বাড়িতেই নেওয়া যেতে পারে একটু বিশেষ যত্ন। দেওয়া রইল প্রি-ওয়েডিং বিউটি বজায় রাখার ঘরোয়া ৫টি টিপস।

  • বিশেষ দিনটিতে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ত্বকের গ্লো বজায় রাখাটা খুব দরকার। প্রপার ডায়েটের সঙ্গে সঙ্গে ক্লিনজিং, টোনিং এবং ত্বককে মযে্চারাইজিং করাটা একান্ত জরুরি। এতে রোমছিদ্রে জমে থাকা ময়লা দূর হবে এবং ত্বক ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারবে। টোনিং ত্বককে টাইট রাখবে, ত্বকের ফাইন লাইনস রোধ করবে। মযে্চারাইজার ত্বককে কোমল রাখবে
  • ত্বককে এক্সফলিয়ে করাটা খুব জরুরি। এটি ত্বকের মৃত কোশ দূর করতে সহায়ক। এছাড়াও ত্বকে ব্ল্যাক হেডস-ও রোধ করে। এক্সফলিয়েট করার আগে ত্বক মাইল্ড ফেস ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এরপর বাড়ির তৈরি স্ক্রাব দিয়ে ত্বক এক্সফলিয়েট করতে পারেন, বিশেষ করে ত্বক যদি খুব স্পর্শকাতর হয়। আটা এবং চালের গুঁড়ো দিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে নিন
  • বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনটির অন্তত ৫-৬ মাস আগে থেকে চুলের যত্ন নিতে শুরু করে দিতে পারেন। বাড়িতেই উপযুক্ত প্রোডাক্ট দিয়ে হেয়ার স্পা করুন। এরপর দরকার ডিপ কন্ডিশনিং করানো। হেয়ার এক্সপার্ট-এর কাছে গিয়ে জেনে নিতে পারেন আপনার চুলের ধরন এবং কী ধরনের প্রোডাক্ট আপনার চুলের পক্ষে উপযুক্ত। প্রোডাক্টগুলি সংগ্রহ করে বাড়িতেই চুলের পরিচর্যা করুন
  • হাত এবং পায়ের যত্নেরও অবহেলা করবেন না। শোওয়ার আগে অলিভ অয়েল দিয়ে হাত ও পায়ের মাসাজ করাটা জরুরি। এতে ত্বক রুক্ষ হবে না এবং চামড়া উঠবে না। পিউমিস স্টোন দিয়ে পা ঘষুন। হালকা গরমজলে সামান্য শ্যাম্পু ফেলে তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ভালো করে পা ঘষে, পরিষ্কার জলে পা ধুয়ে ফেলুন
  • সবশেষে চোখের ডার্ক সার্কল এড়াতে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা টানা ঘুমোন।

তাহলেই দেখবেন এই অতিমারির আবহেও আপনি হয়ে উঠতে পেরেছেন সকলের আকর্ষণীয়। বিয়ের পিঁড়িতে আপনার চোখ প্রিয় মানুষটির উপর ন্যস্ত থাকলেও বাকি সকলের দৃষ্টি থাকবে আপনার উপরেই।

 

শাড়িতে হট্ লুক

শাড়ি ভারতের প্রাচীনতম পরিধান এবং পারম্পরিকও বটে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে, বিভিন্ন ভাবে শাড়ি পরার চল আজও বর্তমান। অনেকেরই ধারণা শাড়ি পরা মানেই ‘বেহেনজি  টাইপ, আউটডেটেড লুক । অথচ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। অন্যান্য পোশাকের তুলনায় শাড়িতেই সেক্সি ও আকর্ষণীয়া হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। আধুনিকারা হিন্দি ছবির হিরোইনদের আইডল মেনে তাদেরই ফ্যাশন ফলো করেন । আজকাল বহু হিন্দি ছবিতেই গ্ল্যামারাস হিরোইনরা শাড়ির সৌন্দর্যকে অন স্ক্রিন ফুটিয়ে তুলছেন। ফ্যাশনে শাড়ি আজও তাই স্ব-মহিমায় বিরাজমান। শুধুমাত্র শাড়ি পরার সময় কয়েকটি বিষয় যদি খেয়াল রাখা যায়, তাহলেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আপনি থাকবেন, এতে সন্দেহ নেই। সুতরাং কীভাবে শাড়িতে নিজেকে ফ্যাশনেবল করবেন, এখানে রইল তারই কিছু সাজেশন।

শাড়ির ফ্যাব্রিক

নিজেকে হট ও গ্ল্যামারাস করে তুলতে প্রথাগত সিল্ক শাড়ি বা অন্য ফ্যাব্রিক না বেছে শিফন, জর্জেট বা ক্রেপ বাছুন। শিয়ার শাড়ির ফ্যাশন এখন খুব চলছে। লাইট ফ্যাব্রিক ক্যারি করা খুব সুবিধা। শাড়ির প্রিন্ট এবং প্যাটার্নও খেয়াল রাখা উচিত। প্রিন্টেড শাড়ির থেকেও প্লেন শাড়িতে গ্ল্যামারাস হয়ে ওঠার সুযোগ অনেক বেশি। আজকাল হাফ শাড়ির প্যাটার্নও খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্যাটার্নে শাড়ির অর্ধেক প্রিন্টেড হয়, বাকি অর্ধেক প্লেন।

শাড়ি পরার নিয়ম

সঠিক উপায়ে শাড়ি পরাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাভির উপর থেকে শাড়িটা গোঁজা আরম্ভ করতে হয়। এতে আপনার ফিগার বা শরীরের শেপ স্পষ্ট হবে। কোমরের অংশ খোলা রাখতে চাইলে আঁচল প্লিট করা অবস্থায়  স্লিক ড্রেপ করুন। আর যদি কোমর ঢাকা রাখতে চান তাহলে আঁচলে প্লিট্‌স না করে হাতের উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিন।

ব্লাউজ

শাড়িকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্লাউজ অনেকটাই সাহায্য করে। আজকাল মিক্স এবং ম্যাচ ফ্যাশনের প্রচণ্ড ডিমান্ড।  প্লেন শাড়ির সঙ্গে প্রিন্টেড ব্নাউজ এখন ট্রেন্ডিং৷ব্লাউজ, শাড়ির স্টাইলকে অনেক বেশি ফুটিয়ে তোলে। নানা প্যাটার্নের আকর্ষণীয় ব্লাউজ বাজারে পাওয়া যায়৷

  • হল্টার নেক ব্লাউজ
  • স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপ ব্লাউজ
  • ফুলস্লিভ বা থ্রি কোয়ার্টার স্লিভ-এর ব্যাকলেস ব্লাউজ
  • ওয়াইড নেক ব্লাউজ
  • স্টাইলিশ র্যাপআপ শাড়ি ব্লাউজ
  • এমবস্ড এমব্রয়ডারি ব্লাউজ
  • মডার্ন চোলি ব্লাউজ
  • শিয়ার ব্যাক শাড়ি ব্লাউজ

শাড়ির সঙ্গে অ্যাক্সেসরিজ

খুব সামান্য অ্যাক্সেসরিজ পরেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন হট এবং গ্ল্যামারাস। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে স্টেটমেন্ট ইয়াররিংস পরলেই যথেষ্ট। স্টেটমেন্ট ক্লাচ ব্যাগটা ভুললে কিন্তু চলবে না। পেন্সিল হিল আপনার সাজ সম্পূর্ণ করবে।

Being Fashionable in Saree

হেয়ার স্টাইল

হাই বান হেয়ারস্টাইল – যদি ব্লাউজের নেকলাইন খুব ছড়ানো এবং বড়ো হয় অথবা স্ট্র্যাপলেস ব্লাউজ হয়, তাহলে এই হেয়ারস্টাইল খুব ভালো মানাবে।

স্ট্রেট হেয়ারস্টাইল – খুব তাড়াতাড়ি সাজ কমপ্লিট করতে চাইলে এই হেয়ারস্টাইল বেছে নিতে পারেন। এটি সিম্পল এবং এলিগ্যান্ট-ও বটে।

ব্যাগ্স হেয়ারস্টাইল – যাদের চুল লম্বা তাদের জন্য এই স্টাইল এখন ফ্যাশনে ইন। ওয়েস্টার্ন ড্রেসেজ এবং শাড়ি উভয়ক্ষেত্রেই এই স্টাইল খুব মানানসই।

সিম্পল শর্ট কাট হেয়ারস্টাইল – হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি-তে মন্দিরা বেদী খুব সুন্দর ভাবে এই হেয়ারস্টাইল ক্যারি করেন এবং তাঁর দৌলতেই এই স্টাইলটি ইয়ং জেনারেশনের মধ্যে এতটা পপুলার হয়ে উঠেছে। এই স্টাইলের সঙ্গে বড়ো ইয়াররিংস এবং নেকপিস খুব ভালো মানাবে।

সিম্পল পনিটেল -পনিটেলের সঙ্গে ডিজাইনার ব্লাউজ ম্যাচ করিয়ে নিজেকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলতে পারেন। এই হেয়ারস্টাইল আপনাকে দেবে ক্লাসিক লুক। শাড়ির সঙ্গে এই স্টাইলটি খুবই ভালো লাগে এবং ইয়ং জেনারেশনের কাছে এই স্টাইলটি খুবই পছন্দের।

ভারতীয় ডিজাইনাররা বরাবরই শাড়িতে নিজেদের ডিজাইনের নিজস্বতা প্রমাণ করে সারা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন৷ শাড়ির খ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মার্কেটে পৌঁছে দিতে সমর্থ হয়েছে।

প্রয়াত সত্য পল  নিজস্ব প্রিন্টেড ফাঙ্কি ডিজাইনের জন্য বিশ্ববন্দিত।মনীষ মালহোত্রা  বলিউড এবং ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে সুলতান অফ শাড়ি বলে খ্যাত।সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের ডিজাইন করা শাড়ির খ্যাতি সারা বিশ্বজোড়া।তরুণ তাহিলিয়ানী তাঁর ব্রাইডাল শাড়ির জন্য বিখ্যাত।শাড়ি এবং লহঙ্গার ফ্যাব্রিকের উপর হেভি ব্রাইডাল ডিজাইনার রেঞ্জ -এর জন্য ঋতু কুমারের প্রসিদ্ধি।গৌরাঙ্গ শাহ  হায়দরাবাদের ডিজাইনার। এনার জামদানী উইভার্স-এর একটি বড়ো ক্রিয়েটিভ টিম রয়েছে। এঁরা সাধারণত হ্যান্ডমেড মাস্টার পিস বানান। এছাড়াও অনিতা ডোগরে, অর্পিতা মেহেতা, রোহিত বাল, নীতা লুল্লা ইত্যাদি ডিজাইনাররাও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন এবং বিশ্বের বাজারে শাড়িকে বিশেষ পরিচিতি দিতে এঁদের অবদানও কিছুমাত্র কম নয়।

প্রক্সি

এয়ারপোর্ট থেকে কৌশিক কোম্পানির গাড়িতে যখন নতুন বাড়ির দরজায় এসে নামল, তখন বেলা গড়িয়ে গেছে। খুব ক্লান্ত না লাগলেও মনটা ভালো লাগছিল না। স্ত্রী রূপাকে সঙ্গে আনতে পারেনি।   ও নাঙ্গালেই বাপের বাড়িতে রয়ে গেছে। সাত মাস চলছে সুতরাং ওই অবস্থায় এই নতুন জায়গায় ওকে নিয়ে আসতে কৌশিক একেবারেই রাজি হয়নি।

একটা প্রোমোশন এবং ট্রান্সফার নিয়ে কৌশিক চণ্ডীগড় এসেছে। পঞ্জাবের নাঙ্গালেই কউশিকদেরও বাড়ি। ওখানেই ও বড়ো হয়েছে। অবশ্য চণ্ডীগড় আগেও বহুবার এসেছে তবে তখন হোটেলেই থেকেছে। এখন কোম্পানি ওকে বড়ো বাড়ি দিয়েছে।

গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল কৌশিক। বাড়ির সামনে সুন্দর কেয়ারি করা সবুজ লন। নানারকম ফুলের গাছ লাগানো। দুটো বড়ো গাছও চোখে পড়ল তবে কীসের গাছ বুঝতে পারল না কৌশিক। ওর গাড়ির ড্রাইভারই এগিয়ে এসে দরজার তালা খুলে দিল পকেট থেকে চাবি বার করে আর চাবিটা কৌশিকের হাতে ধরাল।

ততক্ষণে বাইরে অন্ধকার নেমেছে। ড্রাইভার গাড়ি থেকে কৌশিকের দুটো সুটকেস নামিয়ে এনে বাড়ির ভিতরে রেখে ওর অনুমতি নিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেল। কৌশিক ওর মুখেই জেনে নিল পরের দিন অফিস যাওয়ার জন্য ও-ই আবার গাড়ি নিয়ে নটায় উপস্থিত হবে।

কোম্পানির দেওয়া ফার্নিশড ফ্ল্যাটে প্রয়োজনের সবকিছুই রয়েছে সেটা কৌশিক আগেই খবর নিয়ে নিয়েছিল তাই জামাকাপড় এবং টুকিটাকি কয়েকটা জিনিস ছাড়া আর কিছুই সঙ্গে করে আনেনি। আর চণ্ডীগড় বড়ো শহর সুতরাং দরকারে সবকিছুই কিনে নেওয়া যাবে। সোফায় গা এলিয়ে চোখ বুজল কৌশিক। এক কাপ চা হলে মন্দ হতো না। রূপার কথা মনে হল। কী জানি কি করছে ও এখন। মোবাইলটা বার করে রূপার নম্বর মেলাতে যাবে বাইরের দরজায় টোকা দেওয়ার আওয়াজ কানে গেল। উঠে এসে দরজা খুলতেই দেখল তিরিশ একত্রিশ বছর বয়সি এক মহিলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন।

জিজ্ঞাসু দৃষ্টি তুলে ধরতেই ভদ্রমহিলা মৃদু হেসে বললেন, ‘ভিতরে আসতে পারি? আমি আপনার উলটো দিকের বাড়িতেই থাকি। কৌশিক তাকে ভিতরে আসতে বলে আবার সোফায় এসে বসল।

মহিলা উলটো দিকের সোফায় এসে বসলন, ‘আমার নাম শ্রীপর্ণা। স্বামী এবং দু’বছরের মেয়ের সঙ্গে থাকি। বাড়িওয়ালা আমাদের পরিচিত। ওনার কাছেই শুনলাম আপনারা আসছেন। একে শহরে আপনারা নতুন, তারপর ঠিক উলটো দিকে থাকি, কী দরকার না দরকার তাই খোঁজ নিতে এলাম।’

কৌশিক কিছুটা ভরসা পেল। রূপার অনুপস্থিতিতে কেউ তো একজন রইল খোঁজখবর নেওয়ার। মুখে হাসি এনে বলল, ‘আপনারা নয়, আমি এখন একাই এসেছি। রূপা, আমার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট। দুই আড়াই মাসে ডেলিভারি হয়ে গেলে তারপর এখানে নিয়ে আসব।’

এতক্ষণে কৌশিক লক্ষ্য করল, মহিলার হাতে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ রয়েছে। ওর নজর ব্যাগটির উপর পড়াতে সলজ্জ ভঙ্গিতে শ্রীপর্ণা বলে ওঠে, ‘নতুন জায়গায় এসেছেন, তাই ভাবলাম বাড়ি থেকে একটু চা বানিয়ে নিয়ে যাই’, এই বলে ব্যাগ থেকে ফ্লাস্ক ও দুটি কাপ বার করে টেবিলে নামিয়ে রেখে চা ঢালতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

কৌশিকের দিকে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিতে দিতে শ্রীপর্ণা বলল, ‘দেখুন, আমার বানানো চা আবার আপনার পছন্দ হয় কিনা? আমার স্বামী রজত আবার আমার বানানো চা খুব ভালোবাসে খেতে।’

শ্রীপর্ণার অফুরন্ত কথার তোড়ে কৌশিক কী বলবে ভেবে পেল না। মনে হল ভদ্রমহিলা একটু বেশি কথা বলেন। তাও ভদ্রতা করে বলল, ‘আপনার হাতের চা কিন্তু এই তৃষ্ণার্ত-কে খুবই তৃপ্তি দিল। আপনি চা না আনলে আমাকেই রান্নাঘরে গিয়ে কী ব্যবস্থা রয়েছে দেখতে হতো। আপনি বাঁচালেন।’

‘আরে না-না। গতকালই দেখলাম নেমপ্লেট বদলে নতুন লাগানো হচ্ছে। দেখলাম বাঙালি। তখনই ঠিক করে নিয়েছিলাম এলেই আলাপ করব। কর্মসূত্রে আমার স্বামীও এখানে বহুদিন কাটিয়ে ফেললেন। আমি আবার অতশত ফর্মালিটি মেনে চলতে পারি না। নতুন এসেছেন তাই আলাপ করতে চলে এলাম। দেখুন, একসঙ্গে বসে চা খেতে খেতে আলাপ পরিচয়ের পর্বটাও কেমন সারা হয়ে গেল’, এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলে শ্রীপর্ণা।

‘ধন্যবাদ, আমার ভালোই হল আপনি নিজে এসেই আলাপ করে নিলেন। আমার গিয়ে আলাপ জমানোর কষ্টটা লাঘব হল। রূপার আপনার সঙ্গে আলাপ করে খুব ভালো লাগবে।’

সঙ্গে সঙ্গে শ্রীপর্ণা বলে উঠল, ‘কাল রোববার, রজতের ছুটি। লাঞ্চ আমাদের সঙ্গে করবেন। কোনও অজুহাত শুনব না। আর আমি গিয়ে রাতের খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি। আমার মেড এসে আপনাকে দিয়ে যাবে। বাইরের গেট-টা খোলা রাখবেন।’

স্ত্রী-র অনুপস্থিতিতে কৌশিকের মনটা খুব খারাপ লাগছিল, তবু শ্রীপর্ণা আসাতে এবং ওর পরিবারের সঙ্গে আলাপ হবে এই আশায়, কৌশিকের ক্লান্ত চোখ, বিছানায় পড়তেই মুহূর্তে বুজে এল।

পরের দিন লাঞ্চের সময় কৌশিক উপস্থিত হল শ্রীপর্ণাদের বাড়িতে। রজত-ই দরজা খুলে বেরিয়ে এসে ওকে বাড়ির ভিতর নিয়ে গেল। খুবই মিশুকে এবং সরল প্রকৃতির ছেলেটি-র সঙ্গে আলাপ জমতেই কৌশিকের ভালো লেগে গেল ওকে। ওদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তেও বেশি সময় লাগল না। এই সুবাদে শ্রীপর্ণাদের বাড়ি ঘনঘন যাতায়াতও শুরু হয়ে গেল কৌশিকের। রজতেরও এ ব্যাপারে কোনও আপত্তি বা মাথাব্যথা ছিল না কারণ ও জানত শ্রীপর্ণা এরকমই। সুতরাং চেনা পরিচিতদের যাতায়াত লেগেই থাকত বাড়িতে।

শ্রীপর্ণা বরাবরই উচ্ছল এবং চঞ্চল স্বভাবের। নিজের সাজগোজ, পোশাক এই নিয়েই বেশিরভাগ সময়টা কাটাত ও। ফলে ওর সমবয়সি পরপুরুষরা সহজেই ওর প্রতি আকৃষ্ট হতো এবং ওদের মুখ থেকে নিজের প্রশংসা শুনতে ভালো লাগত শ্রীপর্ণার। অথচ রজতের মুখ থেকে কোনওদিন নিজের সম্পর্কে একটা প্রশংসাও শ্রীপর্ণা শোনেনি। এই নিয়ে রজতের প্রতি ওর ক্ষোভের শেষ ছিল না।

কৌশিকও বাড়িতে একা একা হাঁপিয়ে উঠছিল। সারদিন অফিসে কাজের পর বাড়ি ফিরে রূপার সঙ্গে ফোনে কথা সেরে পূর্ণ বিরতি। কিছু করার থাকত না। অফিসের ক্যান্টিন থেকেই খাবার প্যাক করিয়ে ড্রাইভার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যেত। চা, ব্রেড টুকিটাকি একটু-আধটু রান্নাঘরে নিজেই বানিয়ে নিত। শ্রীপর্ণাই ঝোড়ো হাওয়ার মতো সময় অসময় নেই পৌঁছে যেত কৌশিকের এই একাকিত্ব দূর করতে।

ওর প্রতি শ্রীপর্ণার দুর্বলতা বুঝতে অসুবিধা হতো না কৌশিকের সুতরাং সেও এর সদ্ব্যবহার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করত না। শ্রীপর্ণা বাড়িতে এলেই বলত, ‘দারুণ সুন্দর লাগছে তোমাকে দেখতে।’ আর ওমনি ঝলমল করে উঠতে শ্রীপর্ণার মুখমণ্ডল।

যখনই কৌশিকের বাড়িতে আসত শ্রীপর্ণা রোজই নতুন নতুন শাড়িতে সেজেগুজে। কখনও কৌশিককে নিজের মোবাইলটা ধরিয়ে ছবি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করত আবার কখনও নিজেই পোজ দিয়ে সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।

একদিন হঠাৎই শ্রীপর্ণা কৌশিককে বলল, ‘আমাকে তোমার বউয়ের ছবি দেখাবে?’

কৌশিক মোবাইল খুলে রূপার ছবি ওর সামনে ধরতেই শ্রীপর্ণা বলল, ‘বাঃ বেশ সুন্দরী তো তবে আমার মতো নয়।’

‘হ্যাঁ, ও খুব সাদাসিধে। সাজগোজ করে না বললেই চলে’, কৌশিক লক্ষ্য করল ওর কথা শুনে শ্রীপর্ণা বেশ খুশি হল।

কৌশিক বাড়িঘর পরিষ্কার করানো এবং রোজকার কাচাকুচির জন্য একটি লোক রেখে দিল। সারাদিন থেকে কৌশিক আসতেই ও বাড়ি চলে যেত। আবার পরের দিন সকালে হাজিরা দিত। মাঝেমধ্যে শ্রীপর্ণা এসে লোকটিকে দিয়ে ভালো করে সারাবাড়ি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পরিষ্কার করিয়ে কৌশিকের কোয়ার্টারটা ঝকঝকে করে তুলত।

নিজের বাড়িতেও মেয়েকে দেখাশোনার জন্য সবসময়ের একজন আয়া রেখে দিয়েছিল। কৌশিকের ওর বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন হলেই কোনও না কোনও কাজে মেয়েটিকে বাজারে পাঠিয়ে দিত শ্রীপর্ণা। রজতও সাড়ে নটা-দশটার আগে বাড়ি ফিরত না। সুতরাং বেশ অনেকটা সময় একসঙ্গেই কাটাত ওরা। একে অপরের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও মর্যাদার সীমা লঙঘন করার সাহস কেউ-ই দেখায়নি। ওদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক না হয়ে থাকলেও মাঝে মাঝেই কৌশিকের একাকীত্ব ওকে শালীনতার বেড়া ভেঙে দিতে প্ররোচিত করত। শ্রীপর্ণাও হয়তো কৌশিকের এই চাহিদার আগুন অনুভব করত কিন্তু কেন জানি না ভবিষ্যতের কোনও শুভ সময়ের অপেক্ষায় এই মিলনকে দুজনেই স্থগিত রেখে দিয়েছিল।

রজতের উপেক্ষাই হয়তো শ্রীপর্ণাকে ধীরে ধীরে কৗশিকের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। সমান্য সুযোগ পেলেই ও কৌশিকের বাড়িতে পৌঁছে যেত এবং সেবা যত্নের কোনও ত্রুটি রাখত না। নিজের ব্যবহার দিয়ে যেন পরপুরুষটিকে প্রলুব্ধ করারই চেষ্টা করত ও।

একদিন সন্ধেবেলা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে কৌশিক দেখল ওর ড্রয়িং রুমের সেন্টার টেবিলে ফুলদানিতে ফুল সাজানো রয়েছে। জিজ্ঞাসা করতেই কাজের লোকটি বলল, ‘মেম সাহেব এসেছিলেন। উনি এই ফুলগুলো রেখে গেছেন। বলেছেন ওনাকে ফোন করতে।’

কৌশিক ফোন করতেই শ্রীপর্ণার গলা ভেসে এল। ‘ধন্যবাদ শ্রীপর্ণা। হঠাৎ আজ ফুল রেখে এসেছ কেন?’

‘কৌশিক, যেদিন দেখবে ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে এসেছি বুঝবে রজত বাড়িতে নেই এবং ফিরতেও দেরি হবে। তুমি বিনা দ্বিধায় আসতে পারো।’

কৌশিক অফিসের জামাকাপড় না ছেড়েই কাজের লোক-কে ছুটি দিয়ে দিল। দরজায় তালা লাগিয়ে শ্রীপর্ণাদের বাড়ির দিকে পা বাড়াল। আকাশি নীল রঙের শাড়িতে অপূর্ব লাগছিল শ্রীপর্ণাকে। আজ যেন একটু বেশি-ই শৃঙ্গার করেছে ও। কৌশিককে দুই বাহুর আলিঙ্গনে অভ্যর্থনা জানিয়ে ড্রয়িংরুমে এনে বসাল। উচ্ছল শ্রীপর্ণার মায়াবী দুই চোখে কৌশিকের নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিল।

শ্রীপর্ণা জড়িয়ে ধরল কৌশিকের দুই হাত, ‘কৌশিক, তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে আমি যে কতটা আনন্দ পেয়েছি তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না।’

‘আজ তোমাকে দারুণ সুন্দর লাগছে’, কৌশিক নিজেকে রোধ করতে পারল না, ‘এত সুন্দর সেজেছ, অবশ্য না সেজেও তোমাকে সুন্দর লাগে।’

‘প্রশংসা করতে হলে তোমার থেকে শিখে যাওয়া উচিত। তুমি একটু বসো, টিভি-টা চালিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। আমি চট্ করে চা বানিয়ে আনি। মশাইয়ের খাওয়া হয়নি নিশ্চয়ই, মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে। আমি কিছু নিয়ে আসছি।’ রিমোট-টা কৌশিকের হাতে ধরিয়ে শ্রীপর্ণা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

খানিকক্ষণ পরেই ট্রে-তে করে দুই কাপ চা এবং প্লেটে কিছু স্ন্যাক্স সাজিয়ে কৌশিকের সামনে টেবিল রেখে ওর পাশে সোফায় এসে বসল। ‘কৌশিক, আজ রাতে রজতের ফেরার কথা ছিল। ওকে দিল্লি যেতে হয়েছে অফিসের কাজে। একটু আগেই ফোন করে জানাল ওর ফিরতে কাল রাত হবে। আজ কাজ শেষ হয়নি।’

কৌশিকের মুখে চিন্তার ছায়া পড়ল, ‘তাহলে আজ রাতটা বহ্নিকে নিয়ে তোমাকে একা কাটাতে হবে?’

‘একা কোথায়? তাই তো তোমাকে আসতে বলেছি। মেয়ের আয়াকে বিকেলে ছুটি দিয়েছি। দুদিন ধরেই ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাবে বলছিল। সুযোগ যখন এসেই গেল… আমাদের কাছে কাল সন্ধে অবধি অফুরন্ত সময়। আমরা ইচ্ছেমতো এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারব। কৌশিক, তুমি নিশ্চয়ই এতদিনে বুঝতে পেরে গেছ আমি তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসি।’

শ্রীপর্ণার মুখের কথা শেষ হতেই, কৌশিক নিজের হাত শ্রীপর্ণার বদ্ধমুঠি থেকে মুক্ত করে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে আনল শ্রীপর্ণার উষ্ণ সান্নিধ্য থেকে। ওর বিস্ময়মিশ্রিত দৃষ্টি থেকে চোখ সরিয়ে কৌশিক বলল, ‘শ্রীপর্ণা, আমাদের উচিত একটু সিরিয়াস হওয়ার। তোমাকে আমি কিছু বোঝাতে চাই সেটা হয়তো তোমার ভালো নাও লাগতে পারে। দ্যাখো আমি বিবাহিত, রূপা আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। আর রজতের অনুপস্থিতির সুযোগ আমি কিছুতেই নিতে পারব না। ও আমার বন্ধু। আমি বুঝতে পারি আমার প্রতি তোমার একটা আকর্ষণ আছে সেটা আমিও কিছুটা প্রশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমার অনুরোধ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করাটা খুব দরকার হয়ে পড়েছে এখন…’

কৌশিককে কথার মাঝেই থামিয়ে দেয় শ্রীপর্ণা, ‘কৌশিক, তুমি ভুল করছ। বি প্র্যাকটিকাল। আমি তোমার এবং তোমার স্ত্রীয়ের মধ্যে দেয়াল না তুলেও তো তোমার সঙ্গে প্রেম করতে পারি। আমাদের সম্পর্কটা গোপন থাকলেই হল। এতে অন্যায় বা কী?’

কথাগুলো বলতে বলতেই কিছু একটা ভাবল শ্রীপর্ণা। তারপর সামান্য হেসে বলল, ‘তুমি আমার থেকে বয়সে বড়ো কৌশিক আর এভাবে কেউ আমাকে কখনও বোঝায়নি। তোমাকে ভালোবেসে আর বন্ধুত্ব করে আমি অনেক কিছু পেয়েছি, শিখেছি সুতরাং এটার দরকার ছিল এবং থাকবেও। রজতকে বিয়ে করে স্ত্রীয়ের দায়িত্ব থেকে আমি কখনও পিছু হটিনি আর কখনও হটবও না কিন্তু ওকে কখনও ভালোবাসতে পারিনি আমি। জানো কৌশিক তোমরা সবাই বলো ও খুব সহজ সরল মানুষ। কিন্তু স্ত্রীকে ভালোবাসার ওর কাছে নাতো সময় আছে আর না ওর চিন্তাতেও এর কোনও গুরুত্ব আছে। স্ত্রীয়ের সুখ-সুবিধে দেখাটা যেমন স্বামীর কর্তব্য তেমন তার শারীরিক

সুখ-চাহিদা পূর্ণ করাটাও স্বামীরই দায়িত্ব’, বলতে বলতে শ্রীপর্ণা অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে, চোখের কোণটা ওর চিকচিক করে ওঠে।

কৌশিক ওর হাতটা নিজের হাতে তুলে নেয়, ‘দেখো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি এখনও তোমার বন্ধু, ভবিষ্যতেও থাকব। আমার মনে সব সময় তোমার জন্য একটা বিশেষ জায়গা তোলা থাকবে।’

রূপার ডেলিভারির সময় দশ দিনের ছুটি নিয়ে কৌশিক নাঙ্গাল চলে গেল। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর রূপাকে ওর বাপের বাড়িতে রেখে কৌশিক চণ্ডীগড় ফিরে এল। শ্রীপর্ণাদের বাড়ি

আসা-যাওয়া আগের মতোই বজায় থাকল কিন্তু দু’জনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি সংযত। অফিসের কাজেও অনেকটাই ব্যস্ততা বেড়ে গেল কৗশিকের।

মেয়ে জন্মাবার প্রায় দেড়মাস পর রূপার ভাই এসে বোনকে কৌশিকের বাড়ি ছেড়ে গেল। রূপার শরীরের জন্য ওর একটু যত্নের প্রয়োজন ছিল। দিনের বেলা শ্রীপর্ণা এসে রূপার হাতে হাতে অনেকটাই সাহায্য করে দিত। এটা-ওটা রান্না করে এনে রূপাকে খাইয়ে যেত। নতুন জায়গায় এসে রূপার প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও শ্রীপর্ণা ধীরে ধীরে ওর মন জয় করে নিল। ওদের বন্ধুত্ব দিনেদিনে আরও গাঢ় হয়ে উঠল। শ্রীপর্ণার মুখেই রূপা জানতে পারল যে মাত্র কুড়ি বছর পেরোতে না পেরোতেই ওর রজতের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে বিয়ের আগে কোনও পুরুষের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হওয়ার সুযোগই ঘটেনি শ্রীপর্ণার জীবনে।

একদিন দুই বন্ধুতে কথা হচ্ছিল স্বামী, সংসার ইত্যাদি নিয়ে। শ্রীপর্ণা খুব সহজ ভাবেই রূপাকে বলল, ‘তোমার স্বামীকে আমার খুব ভালে লাগে। উনি এতটাই দয়ালু আর মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা রাখেন যে, যে-কেউই সহজে ওনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। তোমাদের দুজনের জুটি ভগবান অনেক সময় ধরে খুব ধৈর্য নিয়ে বানিয়েছেন। তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখলে ঈর্ষা হয়।’

শ্রীপর্ণার কথার উত্তরে রূপা সামান্য হাসল, ‘ঠিকই বলেছ, আগের জন্মে সত্যিই কোনও ভালো কাজ করেছিলাম যার পুরস্কার হিসেবে কৌশিককে জীবনসঙ্গী হিসাবে পেয়েছি।’

রূপা চণ্ডীগড়ে আসার পর এই দুটো পরিবারের মধ্যে অন্তরঙ্গতা আগের থেকেও অনেক বেড়ে গেল। বাচ্চা, বড়ো সকলের জন্মদিনে, বিবাহবার্ষিকী সবকিছুই দুটো পরিবারের মধ্যে ধূমধাম করে পালন করতে শুরু করল ওরা। হইহই করে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, পিকনিকে যাওয়া ইত্যাদি লেগেই থাকত।

ডেলিভারির পর ধীরে ধীরে রূপার শরীরও আগের থেকে অনেক সুস্থ হয়ে উঠল। রজতের সামনে রূপা সবসময় শ্রীপর্ণার প্রশংসা করত। রজতও নিজের স্ত্রীয়ের প্রশংসায় গর্ববোধ করত। নিজেও স্বীকার করত, ‘পর্ণা বরাবরই এরকমই। সবাইকে সাহায্য করে ঠিকই কিন্তু ধন্যবাদ পাবার আশা ও কখনও রাখে না।’

রূপার কাছে রজতকে প্রথমবার নিজের প্রশংসা করতে শুনে শ্রীপর্ণার আনন্দের সীমা থাকে না। কৌশিককে ফোন করে বলে, ‘জানো আজ প্রথমবার রজত রূপার কাছে আমার প্রশংসা করেছে। এই আনন্দের জন্য একটা পার্টি তো হওয়া চাই-ই চাই। এই উপলক্ষ্যে তোমরা আজ সন্ধেবেলায় আমাদের বাড়িতে চা খেতে আসবে। আমি রূপাকে ফোন করে দেব।’ কৌশিকও শ্রীপর্ণার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।

একদিন অফিস ফেরত বাড়িতে এসে কৌশিক দেখল ড্রয়িংরুমে টেবিলের উপর ফুলদানিতে টাটকা ফুল রাখা রয়েছে। রূপাকে জিজ্ঞেস করতে ও বলল, ‘শ্রীপর্ণা এসেছিল, অনেকক্ষণ বসে আড্ডা মেরে চা খেয়ে একটু আগেই বাড়ি গেল। ওর আমার জন্য ফুল আনতে ইচ্ছে করছিল বলে ফুল নিয়ে এসে ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখল।’

কৌশিক, ফুল আনার কারণ আগেই বুঝে গিয়েছিল। রজত বাড়ি নেই তাই শ্রীপর্ণা কৌশিকের সঙ্গে ওর বাড়িতে একা দেখা করতে চায়। রূপার সঙ্গে বসে চা আর জলখাবার খেয়ে হাতমুখ ধুয়ে নিল কৌশিক। ঘুমন্ত মেয়েকে একটু আদর করে রূপাকে বলল, ‘অফিসের কাজে আমাকে একটু বেরোতে হবে। এক দেড় ঘন্টার মধ্যে ফিরে আসব।’

শ্রীপর্ণাদের বাড়ি পৌঁছে কৌশিক দেখল ড্রয়িংরুমে বসে শ্রীপর্ণা ওরই অপেক্ষা করছে। কৌশিক আসতেই ওর গলা জড়িয়ে ধরল শ্রীপর্ণা, ‘আজ কতদিন পর তোমাকে এখানে একা ডেকে আনলাম। রজত শহরের বাইরে গেছে কাজে সুতরাং তোমার সঙ্গে একান্তে সময় কাটাবার এটাই সুযোগ। তুমি একটু বসো, আমি চা বানিয়ে আনি’, বলে শ্রীপর্ণা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

কৌশিক সিলিং-এর দিকে তাকিয়ে সোফায় হেলান দিল। মনের মধ্যে ঝড় চলছিল কৌশিকের। রূপাকে মিথ্যে বলে ও শ্রীপর্ণার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। রূপার প্রতি কেন ও এই অন্যায় করছে? আবার নিজের মনকেই বোঝায় কৌশিক, লুকিয়ে শ্রীপর্ণার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে ঠিকই কিন্তু অন্যায় কাজ বা অশালীন আচরণ কোনওটাই ও করছে না। সুতরাং কেন শুধুশুধু নিজেকে দোষারোপ করা?

চিন্তায় এতটাই আচ্ছন্ন হয়ে ছিল কৌশিক, টের পায়নি কখন শ্রীপর্ণা পাশে এসে বসেছে। ঘোর ভাঙে শ্রীপর্ণার কথায়, ‘কৌশিক কী এত ভাবছ? আজ কিন্তু আমি তোমাকে ছাড়ছি না। তোমার সঙ্গে আজ আমি চূড়ান্ত সুখ অনুভব করতে চাই। প্লিজ আজ না কোরো না। রজতের ফিরতে রাত হবে।’

স্তম্ভিত হয়ে যায় কৌশিক। স্নায়ুশক্তি লোপ পায় ওর। বোধজ্ঞান সব লুপ্ত হতে থাকে। কলের পুতুলের মতন শ্রীপর্ণার হাত ধরে ওদের বেডরুমে গিয়ে ঢোকে। বিছানায় গিয়ে বসে কৌশিক। হঠাৎ-ই দুজনকে চমকে দিয়ে শ্রীপর্ণার মোবাইলটা বেজে ওঠে। শ্রীপর্ণা ফোনটা দেখে বলে, ‘রূপার ফোন।’

‘শ্রীপর্ণা, তুমি বাড়ি আছ? কৌশিক অফিসের কাজে একটু বেরিয়েছে। খুব বোর হচ্ছি, ভাবছি মেয়েকে নিয়ে তোমার কাছে চলে আসি।’

শ্রীপর্ণা উত্তর দিল, ‘রজতও বাড়ি নেই। আমি খাবার বানাচ্ছিলাম। তুমি বরং চলে এস আর রাতের খাবারও এখানেই খেয়ে নিও।’

ফোন নামিয়ে শ্রীপর্ণা কৌশিকের দিকে তাকায়। ওর সারা মুখে হাতাশার কালো মেঘ নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। কৌশিকের সংবিৎ ফেরে। ও তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে শ্রীপর্ণার বাড়ি থেকে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে পার্কের একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসে। গত এক ঘন্টার ঘটনাক্রম ভিড় করে আসে ওর চোখের সামনে।

কৌশিক আর শ্রীপর্ণা। দুজনের ভালোবাসার অভিব্যক্তি একেবারে আলাদা। ভালোবাসার সঙ্গে শ্রীপর্ণার চাহিদা দৈহিক মিলনসুখের কিন্তু কৌশিকের কাছে মনের মিলটাই চরম আত্মতৃপ্তির উপকরণ। বৈবাহিক সুখের চরম সীমায় কৌশিক রূপার সঙ্গে আগেই পৌঁছে গিয়েছিল সুতরাং নতুন স্বাদ গ্রহণ করার ইচ্ছা বা মানসিকতা কোনওটাই তার ছিল না।

অথচ শ্রীপর্ণার প্রতি রূঢ় ব্যবহার কিছুতেই করা সম্ভব ছিল না কৌশিকের। ওর জীবনের এই শূন্যতা কৌশিকের অজানা ছিল না। ও এও জানত শ্রীপর্ণা রূপাকে নিজের ছোটো বোনের মতোই স্নেহ করে, সেখানে কোনও ফাঁকি নেই। কৌশিকের একটা ভুল পদক্ষেপ শ্রীপর্ণা-রূপার সম্পর্ক খারাপ করে দিতে পারে একথা ভালো করেই জানত ও। নিজের উপরেই হাসি পায় কৌশিকের। দুই নৌকায় পা দিয়ে এভাবে কতদিন চালাতে পারবে সেটা কৌশিক নিজেও আন্দাজ করতে পারে না।

সেদিন কৌশিক আর রূপার বিবাহবার্ষিকী ছিল। অফিস থেকে বাড়ি ফিরে কৌশিক দেখল রূপা সুন্দর সেজেগুজে রয়েছে।

‘বাঃ আজ খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে। রোজ কেন এভাবে সেজে থাকো না?’ কৌশিক প্রশ্ন করে রূপাকে।

‘তুমি বোধহয় ভুলে গেছ আজ আমাদের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি। আজ আমরা বাইরে ডিনার করব’, রূপা বলে।

‘আমি ভুলিনি। ভেবেই রেখেছি বাইরেই ডিনার সারব। তুমি বরং একটা কাজ করো, শ্রীপর্ণা আর রজতকেও আমাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য বলে দাও।’

শ্রীপর্ণাকে ফোন করতেই শ্রীপর্ণা রাজি হয়ে যায় তবে রজতের অফিসের কাজ থাকায় ওরা তিনজনেই বিবাহবার্ষিকী সেলিব্রেট করে রাতে বাড়ি ফিরে আসে। আসার পথে শ্রীপর্ণাকে ওর বাড়ির দরজায় নামিয়ে দেয় কৌশিক।

পরের রবিবার রূপা, রজতকে ফোন করে, রজত আর শ্রীপর্ণাকে ডিনারে নিমন্ত্রণ জানিয়ে বলে, ‘দাদা, আপনি শ্রীপর্ণাকে নিয়ে রাতের খাবার আমাদের সঙ্গেই খাবেন। আপনি আমাদের বিবাহবার্ষিকীর দিন আসতে পারেননি। রবিবার আপনাকে আসতেই হবে।’

শ্রীপর্ণাদের আসার দিনে রূপাকে সুন্দর করে সাজতে দেখে কৌশিক একটু অবাক হল কারণ সচরাচর রূপা সাদামাটা থাকতেই বেশি পছন্দ করত। অবশ্য ও কিছু জিজ্ঞাসা করল না। যথারীতি শ্রীপর্ণা আর রজত সময়ে পৌঁছে গেল কৌশিকদের বাড়িতে। অন্যদিনের মতোই সেজেগুজে অসাধারণ সুন্দর লাগছিল শ্রীপর্ণাকে। কিন্তু রূপার সামনে শ্রীপর্ণার প্রশংসা করাটা কৌশিকের উচিত মনে হল না। কৌশিক ওদেরকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ড্রয়িংরুমে এনে বসাল। কিন্তু শ্রীপর্ণা নিজেকে সংযত রাখার কোনওরকম চেষ্টা না করেই কৌশিকের সামনে এসে জিজ্ঞেস করল, ‘বললে না তো আমাকে কীরকম লাগছে দেখতে?’

উত্তর দিতে ইচ্ছে করছিল না কৌশিকের, তবুও চাপা স্বরে বলল, ‘ভালো লাগছে।’

এরই মাঝে রূপা অতিথিদের জন্য শরবতের গেলাস নিয়ে ঘরে ঢুকল। সকলের হাতে গেলাস ধরাতে ধরাতে হঠাৎ-ই রজতের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে রূপা বলল, ‘দাদা, আজ কিন্তু আমি শুধু আপনার জন্যই সেজেছি। আশা করি আপনার চোখে আমি আজ সুন্দর হয়ে উঠতে পেরেছি। বলুন না… আমি চাই আজ অন্তত আমার প্রশংসায় আপনি দুটো কথা বলুন।’

রজত রূপার অনুরোধে অস্বস্তিতে পড়লেও মুখে কিছু প্রকাশ করল না, বরং সামান্য হেসে বলল, ‘বউদি, আপনাকে না সেজেও দেখেছি আবার আজ সেজেগুজেও দেখছি। দু’ভাবেই আপনাকে সুন্দর লাগে দেখতে।’

‘দাদা, এই কথাগুলো শ্রীপর্ণাকে বলাও এবার আপনাকে অভ্যাস করতে হবে।’ এই বলে রজতের হাত শ্রীপর্ণার হাতে তুলে দিয়ে রূপা বলল, ‘শ্রীপর্ণা, আজ এই উপলক্ষ্যে তোমাদের জন্য স্পেশাল রসোগোল্লার পায়েস বানিয়েছি। চলো সবাই মিলে একসঙ্গে খেতে বসা যাক। খেতে খেতেই গল্প করা যাবে।’

হইহই করে ডিনার খাওয়া শেষ হতে, রজত আর শ্রীপর্ণা বাড়ি ফেরার জন্য উঠে দাঁড়াল। রূপা ওদের দুজনের খুব কাছে সরে এসে রজতের উদ্দেশ্যে বলল, ‘দাদা, স্ত্রী সবসময় স্বামীর ভালোবাসা পাওয়ার় জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। মনে ভালোবাসা থাকলেও তার মৌখিক প্রকাশটুকুও কিন্তু স্ত্রীয়ের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রী এতে সুখী হয়। কাজের ব্যস্ততা অন্য জায়গায় কিন্তু স্ত্রী-পরিবারের সুখ দেখাটাও স্বামীর দায়িত্ব কর্তব্য। আমার কথা শুনুন, আজ থেকে শ্রীপর্ণার প্রতি ভালোবাসা মুখেও প্রকাশ করুন। ওর প্রশংসা করুন যা ও আপনার কাছ থেকে শুনতে চায়। কতদিন আর কৌশিক আপনার হয়ে প্রক্সি দেবে? এবার তো এই দায়িত্ব আপনাকেই নিজের কাঁধে তুলে নিতে হবে।’

 

বাড়িঘর এবং নিজেকে জীবাণুমুক্ত রাখুন

এখনও আমরা করোনার গ্রাস থেকে বেরোতে পারিনি। রয়েছি নিউ নর্মাল আবহে। তাই, এখনও অতি-সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। নিজেকে এবং বাড়িঘর জীবাণুমুক্ত রাখতেই হবে। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজড থাকা, ঠিকমতো স্নান করা, জামাকাপড় ধুয়ে জীবাণুমুক্ত রাখা প্রভৃতির পাশাপাশি, পরিষ্কার রাখতে হবে ঘরদোরও। কারণ, এতে পোকামাকড়, জীবাণু ইত্যাদির আক্রমণ থেকে বাঁচা যাবে এবং নিজের পরিচ্ছন্ন রুচির পরিচয়ও তুলে ধরা যাবে। আর এর জন্য যা যা করতে হবে, রইল তারই বিবরণ।

  •  ঘরে যেন পর‌্যাপ্ত আলো-হাওয়া ঢোকে। মেঝে এবং ঘরের দেয়াল যাতে স্যাঁতসেঁতে না থাকে, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। প্রযোজনে পাখা চালিয়ে শুকনো রাখুন ঘরদোর। দেয়ালে লাগান ড্যাম্প-প্রুফ রং
  • ঘরের কোথাও ফাটল থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করুন সিমেন্ট কিংবা পুডিং দিয়ে
  • ঘরের মেঝে মুছুন ভালো জীবাণুনাশক তরল দিয়ে সামান্য কেরোসিনও ব্যবহার করতে পারেন এ ক্ষেত্রে
  • বাথরুমের মেঝে এবং টাইলস পরিষ্কার করুন বেকিং পাউডার দিয়ে
  • ঘরের ভিতর কোথাও যেন ধুলো কিংবা ঝুল জমে না থাকে। ঝাড়ু এবং ঝুলঝাড়ু দিয়ে নিয়মিত ঘরদোর পরিষ্কার রাখুন
  • রান্নাঘর এবং শৌচালয়ে নিকাশিনালা পরিষ্কার রাখার জন্য, মাসে একবার ব্যবহার করুন ড্রেন-ক্লিনার পাউডার। রাতে শুতে যাওয়ার আগে, ড্রেন-এর মুখে পাউডার ছিটিয়ে এক গেলাস জল ঢেলে রেখে দিন এবং পরের দিন সকালে ভালো ভাবে জল দিয়ে ওয়াশ করুন ড্রেন
  • ঘরে এসি মেশিন ব্যবহার করলে সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার সামগ্রী কড়া রোদে রাখুন, এতে জীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন
  • শৌচালয়ে কোনও পাত্রে বেশিদিন জল ধরে রাখবেন না, বদলে ফেলবেন জল। নয়তো মশার জন্ম হবে
  • জানলায় কিংবা বারান্দায় গাছের টব থাকলে মাঝেমধ্যে কীটনাশক স্প্রে করবেন
  • ঘরে ভেজা জামাকাপড় মেলে রাখবেন না
  • বাইরে পরার জুতো স্যানিটাইজ করে ঘরের নির্দিষ্ট ঢাকা জায়গায় রাখুন
  • উচ্ছিষ্ট, পচা খাবার, সবজির খোসা ইত্যাদি একবেলার বেশি জমিয়ে রাখবেন না
  • দরজা-জানলার পর্দা প্রতি পনেরো দিন অন্তর কেচে-ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করুন
  • পোকামাকড় যাতে বাসা বাঁধতে না পারে, তার জন্য মাঝেমধ্যে পেষ্ট কন্ট্রোল করান পেশাদারদের দিয়ে।
  • ———

অস্থিসন্ধির ক্রনিক পেইন

পেশাগত বাধ্য-বাধকতার জন্য দীর্ঘসময় বসে কাজ করা এখন বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এরফলে অস্থিসন্ধির ক্রনিক পেইন-এর সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। অথচ, এই সমস্যা এক দশক আগেও এতটা ছিল না। তখন শুধু পঞ্চাশের বেশি বয়সিরাই ভুগতেন অস্থিসন্ধির ক্রনিক পেইন-এর সমস্যায় কিন্তু এখন কুড়ি-পঁচিশ বছর বয়সের ছেলেমেয়েরাও এই সমস্যার শিকার হচ্ছেন। আসলে, নানারকম কারণে এখন হাঁটা-চলা, শরীরচর্চা ইত্যাদি কমছে, আর বাড়ছে বসে থাকা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার জন্য নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা জরুরি। এরজন্য অবশ্য জিম-এ গিয়ে ঘাম ঝরাতে হবে না, বরং হাঁটাচলার পাশাপাশি কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করলেই চলবে। অস্থিসন্ধির ক্রনিক পেইন থেকে মুক্তির জন্য এবং দীর্ঘদিন সুস্থসবল থাকার জন্য উপযোগী কয়েকটি ব্যায়াম করার পরামর্শ দিলেন ডা. রণেন রায়।

ক্যাট-ক্যামেল স্ট্রেচঃ  দুই হাত, কাঁধ বরাবর ছড়িয়ে দিন, দুই হাঁটু আলাদা রাখুন, তলপেটের পেশি টেনে পিঠ সোজা করে দাঁড়ান। তলপেট এমনভাবে সংকুচিত করুন যেন নাভিকে শিরদাঁড়ার দিকে টেনে নিচ্ছেন বলে মনে হয়। সামনের দিকে বেন্ড করুন। মাথা ও ঘাড় স্বাভাবিক ভাবে দুই বাহুর মাঝে নামবে। গভীর ভাবে শ্বাস নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড ধরে রাখুন।

পুশ আপঃ  ম্যাটের ওপর স্টম্যাকে ভর দিয়ে শুয়ে পড়ুন, হাত ও তালু থাকুক কাঁধের নীচে। বাহু টানটান করে শরীরের উপরিভাগ মেঝে থেকে উপরে তুলুন। শ্রোণী লেগে থাকুক ম্যাটের সঙ্গে, আর নিতম্ব ধনুকের মতো উঠুক। এভাবে কয়েক সেকেন্ড থেকে ফের শুরুর অবস্থায় আসুন এবং আবার করুন।

নী-টু-চেস্টঃ  টেবিল বা কোনও শক্ত কিছুতে পিঠ রেখে শুয়ে পড়ুন। একটি পায়ের হাঁটুর উপর দুইহাত জুড়ে বুকের দিকে টানতে থাকুন। অন্য পা মেঝের সঙ্গে লেগে থাকবে। এরকম থাকুন ৩০ সেকেন্ড। পা বদল করে আবার করুন।

পেল্ভিক টিল্ট্ঃ  পিঠে ভর দিয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়ুন। হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা ও মাথা মেঝেতে সমান করে রাখুন। এবার পিঠ মেঝে থেকে সামান্য একটু তুলুন, যাতে তলপেটের পেশিতে টান পড়ে। পিঠ সোজা করে ধরে রেখে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন। পাঁচ সেকেন্ড থাকুন। শ্বাস আটকে রাখবেন না। আগের অবস্থায় ফিরে আসুন ও আবার করুন।

শোল্ডার শ্রাগ্ঃ  দুপাশে বাহু রেখে দাঁড়ান বা বসে থাকুন এবং সোজা সামনে তাকান। আস্তে আস্তে কানের দিকে কাঁধ তুলুন। এভাবে ১০ সেকেন্ড থেকে ফের আগের অবস্থায় ফিরে যান। এমনটা কয়েকবার করুন।

শোল্ডার স্কুইজঃ  সোজা হয়ে চেয়ারে বসে তালু সামনের দিকে রেখে সোজা করে বাহু তুলুন। দুই কাঁধ সংকুচিত করুন। ৫-র০ সেকেন্ড এরকম করুন, আবার ছেড়ে দিন। ৩ থেকে ৫ বার এই ব্যায়াম করুন।

নেক টার্নঃ  সামনের দিকে তাকিয়ে দাঁড়ান বা বসুন। আস্তে মাথা বাঁদিকে ঘোরান। ১০ সেকেন্ড রাখুন। ফিরে আসুন আগের অবস্থায়। এরপর মাথা অপরদিকে ঘোরান। ১০ সেকেন্ড রেখে ফের আগের অবস্থায় ফিরে যান। বিশ্রাম নিয়ে আবার করুন।

নেক টিল্ট্ঃ  সামনের দিকে তাকিয়ে বসুন বা দাঁড়ান। আস্তে মাথা বাঁদিকে হেলান। এভাবে পাঁচ সেকেন্ড থেকে শুরুর অবস্থায় ফিরুন। অপর পাশেও এরকম করুন। বিশ্রাম নিন। আরও কয়েকবার করুন।

ক্রান্চেস্ঃ  পিঠে ভর দিয়ে শুয়ে পড়ুন, হাঁটু ভাঁজ করুন। দুই হাত রাখুন মাথার পাশে। তলপেট খিঁচে রেখে মেঝেতে নিতম্ব চেপে রাখুন। এবার আস্তে আস্তে মেঝে থেকে কাঁধ ১-২ ইঞ্চি উঁচু করুন। ওঠার সময় শ্বাস ছাড়ুন, কয়েক সেকেন্ড থাকুন, তবে নিঃশ্বাস আটকে রাখবেন না। তলপেট টানা অবস্থায় আস্তে আস্তে নীচু হতে থাকুন। বিশ্রাম নিয়ে আবার করুন।

তবে, মনে রাখবেন, উপযুক্ত ব্যায়াম না করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এই প্রসঙ্গে ‘বোন এক্সপার্ট’ ডা. রণেন রায় জানিয়েছেন, কেউ যদি এই সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তাহলে তার উচিত, ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটিতে যুক্ত হওয়ার আগে, কোনও প্রশিক্ষিত ফিজিয়োথেরাপিস্ট-এর পরামর্শ নেওয়া। কারণ, ভুল শারীরিক ভঙ্গিমা ও অনুপযোগী ব্যায়াম ক্ষতিকারকও হতে পারে। 

——–          

করোনা এখনও নির্মূল হয়নি, তাই স্যানিটাইজেশন জরুরি

মানুষ হঠাৎ করেই খুবই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রায় এক বছর ঘরে করোনার আতঙ্কে দিন কাটানোর পর।রেস্তোরাঁ, হোটেল, বাজার, এমনকী গণউদ্যানেও যাতাযাত শুরু করেছে মানুষ। আর ঠিক এই কারণেই, প্রতি ২ থেকে ৩ ঘন্টার ব্যবধানে প্রত্যেকটি জায়গা স্যানিটাইজ করার প্রয়োজন অনিবার্য হযে পড়েছে। কারণ, করোনার সংক্রমণের থেকে বাঁচার জন্য, এটাই অন্যতম উপায়।

একদিকে যেমন বিভিন্ন দেশের এখন মুখ্য লক্ষ্য কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা, ঠিক তেমনই জারি রয়েছে সংক্রমণ আটকানোর প্রয়াসও। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ করোনার নতুন স্ট্রেনের ঘায়ে কাবু। এর জন্য সব সময় মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোওয়া এবং স্যানিটাইজেশন-এর নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বড়ো বড়ো কর্পোরেট সংস্থায় থার্মাল স্ক্যানিং এবং স্যানিটাইজেশন-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহেও থার্মাল স্ক্যানিং এবং স্যানিটাইজেশন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওযা হচ্ছে না। আর এই মারণ রোগের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওযার জন্য, সরকারের পক্ষ থেকেও বারবার হাত ধোওয়ার এবং স্যানিটাইজ করার নির্দেশ দেওযা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মাস্ক পরা এবং হাত ধোওয়ার পাশাপাশি, স্যানিটাইজ না করলে করোনার সংক্রমণ আটকানো সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হল এই যে, সবাই এই নিয়ম মানছেন না। আর কিছু মানুষের এই বেপরোয়া আচরণই বাড়িয়ে তুলছে বিপদ। ভুলে যাবেন না করোনা কিন্তু এখনও পৃথিবী ছেড়ে যায়নি। টীকাও সাধারণ মানুষের হাতে এয়ে পৌঁছোতে সময় লাগবে।তাই আগের মতোই সাবধানতা মেনে চলুন।

স্যানিটাইজেশনএর গুরুত্ব 

  • অনেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্যানিটাইজেশন-এর মধ্যে তফাত বোঝেন না কিন্তু দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয। আসলে ঝাড়পোঁছে ধুলোময়লা, পোকামাকড় ইত্যাদি আটকানো যায় কিন্তু স্যানিটাইজেশন জীবাণু আটকায়
  • করোনার মতো মারণ ভাইরাসও মেরে ফেলা যায় স্যানিটাইজ করে
  • ব্যাপক সংক্রমণকেও আটকানো গেছে স্যানিটাইজেশন-এর মাধ্যমে
  • স্যানিটাইজার-এর ব্যবহার সাবানের মতো নয়, শুধু স্প্রে করলেই একশো ভাগ কাজ করে স্যানিটাইজার
  • জায়গা ছোটো হোক কিংবা বড়ো, স্যানিটাইজার সর্বত্র ব্যবহার করা উচিত
  • স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাসপাতালে করোনা সংক্রমণ রুখতে গেলে, স্যানিটাইজার ছাড়া গতি নেই
  • ইট, কাঠ, পাথর, লোহা প্রভতি যেখানে যেমন অবস্থাতেই থাকুক না কেন, এইসবের উপর স্যানিটাইজার স্প্রে করে করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলা জরুরি।

হাত ধোওয়ার অভ্যাস ছাড়বেন না 

ভুলে যাবেন না আমরা কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত নই। তাই সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোওয়ার অভ্যাসটা চালিয়ে যান। সেইসঙ্গে, যেখানে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার সুবিধে নেই, সেখানে আগের মতোই ব্যবহার করুন অ্যালকোহল-যুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। আর মাস্ক প্রোটেকশক তো থাকছেই।এতদিনে সকলেই জেনে গেছি যে, করোনা শুধু হাঁচি, কাশি কিংবা সর্দি থেকে ছড়ায় না, ধাতব সামগ্রীতে হাত রাখলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, ধাতব জিনিসপত্রে প্রায় ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে করোনা ভাইরাস। অতএব, বাইরে বেরোলে, এমনকী বাড়িতে থাকলেও ভালো করে হাত ধোওয়া প্রয়োজন।

স্যানিটাইজার স্প্রে করার আবশ্যকীয় জায়গা

  • সুইচ বোর্ড
  • দরজার হাতল
  • কাজের বা কম্পিউটার রাখার টেবল
  • জলের বোতলের বাইরের দিক
  • অফিস বা প্রেক্ষাগৃহের চেয়ার
  • ডাস্টবিন
  • শোকেস-এর কাচ
  • আলমারির হাতল
  • জলের কল
  • ওয়াশবেসিন
  • দরজা, জানলার পর্দা
  • বারান্দা এবং সিঁড়ির রেলিং
  • টিভির রিমোট
  • কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ-এর কি-বোর্ড।

এই সমস্ত জায়গায় যেহেতু আমরা হাত রাখি, রোজকার মতো এগুলি স্যানিটাইজ করা চালিয়ে যান। আমরা সকলেই দিন গুনছি কবে আমাদের বিশ্ব থেকে চিরতরে বিদায় নেবে এই ভাইরাস। কবে আবার মাস্ক পরিত্যাগ করে আমরা খোলা হাওয়ায় নিঃস্বাস নিতে পারব।

বাঙালি পরিচালকের ওয়েব সিরিজে মল্লিকা শেরাওয়াত

রিমা লাম্বা নামটা শুনলে হয়তো অনেকেই তাঁকে চিনতে পারবেন না৷ ‘জিনা সির্ফ মেরে লিয়ে’ ছবির মাধ‍্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি।বলিউডে সাফল্য পাওয়ার তাগিদে নিজের আসল নামটা ত্যাগ করেছিলেন তিনি।বহু পুরুষের হার্টথ্রব একদা বলিউডের ‘সেক্স সিম্বল’ মল্লিকা শেরাওয়াত৷ সেই মল্লিকা শেরাওয়াত এবার কলকাতায় আসছেন নতুন ভাবে নিজের অভিনয়-জীবন শুরু করতে।

একসময়ে বলিউডে একের পর এক ছবিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করলেও, বিগত কয়েক বছর ধরে আর বড়োপর্দায় দেখা মিলছিল না মল্লিকা শেরাওয়াতের৷ অথচ মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘মার্ডার’, ‘প্যায়ার কে সাইড এফেক্টস’, ‘খোয়াইশ’-এর মতো ছবিতে এখনও জ্বলজ্বল করছে তাঁর চরিত্রগুলি৷ কখনও ফিলমি পত্রকার পাতায় তাঁর লাস্যময়ীর শরীরী বিভঙ্গ, তো কখনও ইমরান হাশমির বিপরীতে পর্দাজোড়া তাঁর বোল্ড দৃশ‍্যে অভিনয়৷ এককথায় তাঁর জন্য একসময় পাগল ছিলেন দর্শকরা। সেই অভিনেত্রীই এবার কলকাতায় আসছেন ওয়েব সিরিজের শুটিংয়ে এবং পরিচালনায় এক বঙ্গতনয়, সৌমিক সেন। এই প্রথম কোনও ওয়েব সিরিজের কাজে হাত দিয়েছেন তিনি।এই ওয়েব সিরিজেই ‘মার্ডার’ খ্যাত অভিনেত্রী নাকি বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সৌমিক বাঙালি হলেও বেশির ভাগটাই থাকেন বলিউডে৷ সেখানেই বেশ কিছু সিনেমা করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। ‘গুলাব গ্যাং’, ‘স্কাইফায়ার’, ‘হোয়াই চিট ইন্ডিয়া’র মতো ছবির পরিচালক তিনিই। বছর দুয়েক আগে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রর জীবনকাহিনি অবলম্বনে এনআইডিয়াস প্রযোজিত ছবি ‘মহালয়া’ পরিচালনা করেন তিনি৷ বাঙালি দর্শদের মনে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছিল এই ছবি।  অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, শুভাশীয় মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক অভিনেতা।

একটি সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, সৌমিক সম্প্রতি কলকাতায় ফিরেছেন। তাঁর ওয়েব সিরিজের সিংহভাগই শুটিং হবে কলকাতা এবং শহরতলীতে। আর সেখানেই অভিনয় করছেন মল্লিকা শেরাওয়াত। শুটিংয়ের বেশিরভাগটাই যেহেতু কলকাতাতেই হচ্ছে, তাই এই ওয়েব সিরিজে যে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরও কিছু প্রতিষ্ঠিত শিল্পিকে দেখতে পাওয়া যাবে, তেমনটাই আশা করা যাচ্ছে।

বৃষ্টির জলে চুল ভিজে গেলে বাঁচানোর ঘরোয়া উপায়

আমাদের শরীরের সৌন্দর্যের অন্যতম অংশ চুল। তাই, চুল বাঁচানোর চেষ্টা করা উচিত। বৃষ্টির জল খারযুক্ত এবং দূষিত হয়। তাই যদি মাথার চুল ভিজে যায় বৃষ্টির জলে, তাহলে তখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং যত্ন না নিলে, চুলের ক্ষতি হতে পারে। কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে কী ভাবে চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা করবেন, সেই বিষয়ে জেনে নিন।অতএব, এক্ষেত্রে যা করণীয়, তা হল—

  • বৃষ্টির জলে মাথার চুল ভিজে গেলে, বাড়ি ফিরে প্রথমে ভালো জলে চুল ধুয়ে নিন
  • চুলের রং এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কালারসেভ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
  • চুল ওয়াশ করার পর ভালো ভাবে শুকিয়ে নিন
  • শুকনো চুলে হালকা ভাবে নারকোল তেলের প্রলেপ দিয়ে এক রাত্রি কিংবা কয়ে ঘন্টা রেখে আবার ভালো শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে চুল নরম এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকবে।

ঘরোয়া উপায়

এগ মাস্ক : ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে চুলে লাগান ভালো ভাবে। তিরিশ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

কোকোনাট মিল্ক : ডাবের হালকা শাঁসের সঙ্গে গোলমরিচের গুঁড়ো এবং মেথিদানার গুঁড়ো মিশিয়ে মাথার চুলে মাখুন। কুড়ি মিনিট বাদে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

গ্রিন টি : দুপ্যাকেট গ্রিন টি গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ওই জল ঠান্ডা হলে, ধীরে ধীরে স্কাল্প-এ মাসাজ করুন। একঘন্টা পর চুল ধুয়ে নিন।

অনিয়ন অ্যান্ড আমলা : দুটেবিল চামচ ছোটো পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চা-চামচ আমলকীর রস মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। তিরিশ মিনিট বাদে শ্যাম্পু করে নিন।

তেলে উপকার

বর্ষাকালে  মাথার চুলে তেল মাখা নিয়ে নানা জনের নানা মতামত আছে। অনেকেই এই সময় চুলে তেল মাখতে চান না। কারণ তাঁরা মনে করেন এই সময় চুল এমনিতেই ভেজা ভেজা বা ড্যাম্প থাকে, তাই তেলের আর দরকার নেই। এই ধারণা ভুল।বলাই বাহুল্য আমরা মাথায় যতগুলো তেল মাখি তার মধ্যে Coconut Oil-এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। নারকেল তেল কেন এত জনপ্রিয় জানেন? কারণ এই তেলে আছে অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন ইত্যাদি। এগুলো আপনার স্ক্যাল্পে পুষ্টি যোগাবে এবং চুল গোড়া থেকে মজবুত করবে।বর্ষাকালে চুল নির্জীব ও ফ্রিজি বা জট পাকানো হয়ে যায়। প্রতিদিন নারকেল তেল মাখলে এই সমস্যা থাকবে না।

এছাড়া ব্যবহার করতে পারেন আমন্ড অয়েল৷আমন্ড অয়েলে আছে ভিটামিন ই। এই তেল স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে হেয়ার ফলিকল মজবুত হয় এবং শুষ্ক চুলে আর্দ্রতা আসে। আর্দ্রতা বজায় থাকলে চুল শুষ্ক হওয়ার সমস্যাও আর হয় না। এই তেলের সঙ্গে সামান্য একটু অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাসাজ করলে আরও ভালো ফল পাবেন।

নিয়ন্ত্রণে রাখুন কোলেস্টেরল-এর মাত্রা

কোলেস্টেরল শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শরীরে নির্দিষ্ট হরমোন তৈরি ছাড়াও, এটি কোশ গঠন করতে সাহায্য করে। আসলে এটি একটি রাসায়নিক যৌগ। ভালো এবং খারাপ এই দুরকম কোলেস্টেরল থাকে শরীরে। ভালো কোলেস্টেরল লাইপোপ্রোটিন নামে পরিচিত। আর এই লাইপোপ্রোটিন-এর ঘনত্বের উপর নির্ভর করে এর ভালো-খারাপের বিষয়টি এবং এই খারাপ কোলেস্টেরল-ই আসলে বিপদের ঝুঁকি বাড়ায়।

শরীরে ব্যবহারের জন্য যতটা ক্যালোরির প্রয়োজন, বেশি খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে তার চেয়ে যদি অতিরিক্ত ক্যালোরি তৈরি হয শরীরে, তখন ওই অতিরিক্ত ক্যালোরি ট্রাইগ্লিসারাইড-এ পরিণত হয়। আর এই ট্রাইগ্লিসারাইড হল রক্তে জমা হওযা অন্যরকম ফ্যাট। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, যদি আপনার শরীরে কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে রক্তবাহী ধমনীতে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমা হয়ে সঙ্কুচিত হয়ে পড়তে পারে ধমনীর রক্তবাহী পথ। আর এই অবস্থা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে, এমনকী হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

পরীক্ষা এবং চিকিত্সা :  সামান্য শ্বাসকষ্ট ছাড়া যেহেতু আর তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যায় না রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল-এর মাত্রা বেশি থাকলে, তাই বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। পরিবারে যদি মা কিংবা বাবা কারও-র হাই কোলেস্টেরল-এর ইতিহাস থাকে, তাহলে ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছরে একবার এবং ৪০ বছর বয়সের পর থেকে ছয় মাসের ব্যবধানে রক্তে কোলেস্টেরল-এর মাত্রা পরীক্ষা করানো আবশ্যক। এই পরীক্ষাটিকে বলা হয় লিপিড প্যানেল বা লিপিড প্রোফাইল। এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় এলডিএল কোলেস্টেরল, এইচডিএল কোলেস্টেরল, মোট কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড। এই পরীক্ষার ফল দেখে চিকিত্সক বুঝে যাবেন, আপনার রক্তে কোলেস্টেরল উপযুক্ত মাত্রায আছে নাকি বেশিমাত্রায ব্যাড কোলেস্টেরল রয়েছে এবং তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

চিকিত্সকরা সবদিক বিবেচনা করে ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন এ ক্ষেত্রে। তবে নির্দিষ্ট পাওয়ার-এর লিপিকাইন্ড কিংবা ড্যাজটোর নামের ওষুধ দিতে দেখা যায় সাধারণত। কিন্তু চিকিৎসকের  পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাবেন না। আর ব্লাডপ্রেশার হাই থাকলে কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন। সেইসঙ্গে, ধূমপান, মদ্যপান কিংবা কোনও তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ বন্ধ করতে হবে এবং মাছ, মাংস, ডিম প্রভৃতি খাদ্যগ্রহণও কমাতে হবে যদি কোলেস্টেরল হাই থাকে।

ডেস্টিনেশন কুম্ভলগড়

কুম্ভলগড়রাজস্থান যাচ্ছেন? তাহলে সেই ছকে বাঁধা চেনা সফর কেন? ছক ভেঙে এবার ঘুরে আসুন কুম্ভলগড়। এক রোমাঞ্চকর সফরের সাক্ষী থাকবেন আপনি। মরুপ্রদেশের ডেস্টিনেশন মানেই ভেসে ওঠে, প্রান্তর জোড়া বালির রাশি আর ইতস্তত কাঁটাঝোপ। কিন্তু কুম্ভলগড় শুধু এটুকুই দেয় না। আপনার সফরে যোগ হবে আরও কিছু অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতার টানেই আজ দেশি-বিদেশি পর্যটকরা পাড়ি জমাচ্ছেন কুম্ভলগড়ের উদ্দেশে।

উদয়পুর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান, সমুদ্রতল থেকে ১০৮৭ মিটারের উচ্চতায়। আরাবল্লি রেঞ্জের সবটুকু সুষমা আর রাজকীয় ঐতিহ্যের বুনিয়াদে গড়ে উঠেছে এই আস্ত শহর। দুর্গ, প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য, নিমেষে মনভালো করে দেওয়া ঝিল– সেই সঙ্গে রাজারাজড়াদের জীবনশৈলী ও ইতিহাসের উজ্জ্বল পটভূমি, এর ছত্রে ছত্রে গাঁথা। সব মরশুমেই এখানে পর্যটকদের যাতায়াত লেগে থাকে, তবে সবচেয়ে উপভোগ্য বোধহয় বর্ষাকাল ও শীত।

Kumbhalgarh Fort Rajasthan

উদয়পুর থেকে প্রাইভেট গাড়ি বুক করে পাড়ি দিতে হয় কুম্ভলগড়। দেখার জায়গা প্রচুর। কুম্ভলগড় দুর্গটাই যথেষ্ট দর্শনীয়। রয়েছে হামির কি পাল, কুম্ভলগড় ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি, হলদিঘাটি মিউজিয়াম –সবই ঘুরে দেখার মতো।

রাজস্থানের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কুম্ভলগড় নামক এই কেল্লার প্রাকার, চিনের প্রাচীরের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসাবে পরিচিত। দেড়শো কিলোমিটার এর ব্যাপ্তি। এই অঞ্চলের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া, আবিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। মূলত আমেরিকান, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও ইটালিয়নরা বেড়াতে আসেন কুম্ভলগড়ে।

বলা হয়, কুম্ভলগড়টি তৈরি করেছিলেন মেওয়ারের রাজা রণকুম্ভ। এই কেল্লা মেওয়ারের সংকটকালীন অবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। এটি মহারানা প্রতাপের জন্মস্থানও। এই কেল্লাটির অন্য নাম ‘অজেয়গড়’ কারণ এটি জয় করা এক কথায় অসম্ভব ছিল। এর নির্মাণকার্য সম্পন্ন হতেই ১০ বছর সময় লেগেছিল।

কেল্লার প্রবেশদ্বার, প্রাচীর, জলাশয়, গুপ্তপথ, মহল, স্তম্ভ, সবই ঐতিহাসিক সাক্ষ্য বহন করে আজও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। প্রায় ৩৬ কিমি বিস্তৃত এক প্রচীরের বেষ্টনিতে ঘেরা কেল্লা। এটিকে গ্রেট ওয়াল অফ ইন্ডিয়াও বলা হয়। ১৫ টাকা মূল্যে টিকিট কেটে ঢুকতে হয় কেল্লায়। ঢোকার সময় সকাল ৬টা থেকে। ২০১৩ সালে এটিকে ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭-টা থেকে ৮-টা লাইট অ্যান্ড সাউন্ড উপভোগ করাটাও একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা। এর দ্বারা কুম্ভলগড়ের পুরো ইতিহাস জানা হয়ে যায়। কুম্ভলগড় বেড়াতে এলে, ৪৮ কিমি দূরত্বে হলদিঘাটি ও ৬৪ কিমি দূরে অবস্থিত রনকপুরের জৈন মন্দিরটি অবশ্যই দেখে আসবেন।

travel rajasthan

ওয়াইল্ড লাইফ সাফারি

ফরেস্ট গাইড রতন সিং, গত ১৫ বছর ধরে কুম্ভলগড় ওয়াইল্ড লাইফ সাফারি করান। একসময় ১-২টি খোলা জিপে সাফারি হতো। বর্তমানে প্রতিদিন  ১৫-২০টি গাড়ি জঙ্গল সফর করায়। ঘন্টা তিনেক সময় লাগে গোটাটা ঘুরতে, ৫৭৮ বর্গ কিমি জোড়া এই বনস্থলি পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়। লেপার্ড, বারাসিঙ্গা, কোটরা হরিণ, সম্বর, বনবিড়াল, ভাল্লুক, নীলগাই, লঙ্গুর, সজারু প্রভৃতি পশু ও নানা ধরনের পাখির দেখা মেলে।

একসময় রাজারাজড়াদের মৃগয়াভূমি ছিল এই জঙ্গল। সরকার অধিগ্রহণের পর শিকার নিষিদ্ধ হয়েছে। জঙ্গলে মহুয়া, আম, দুর্লভ প্রজাতির সাইলেসিয়া প্রভৃতি গাছের দেখা মেলে। সাফারির সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিশেষ সাফারি হয় দুপুর ৩-টে থেকে ৫-টা এবং নাইট সাফারি, রাত ৯-টা থেকে ১১-টা। বেশিরভাগ টুরিস্ট-ই নাইট সাফারির রোমাঞ্চ উপভোগ করতে যান। মনসুন-এ বন্ধ থাকে সাফারি। অন্য সময়ে এই সাফারির খরচ ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা। টর্চ-এর আলো ফেলে বন্য পশু দেখান গাইড। কিন্তু এই সাফারিতে রোমাঞ্চের পাশাপাশি ঝুঁকিও আছে।

পর্যটকরা জঙ্গল ছাড়াও দেখেন হামির কি পাল তালাব। এই পুষ্করিণী খনন করেছিলেন হামির নামক রাজা। সেকালেই এক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল বলে এর অন্য নাম লাখেলা তালাব। এই পুষ্করিণীতে এখন হাজার হাজার ক্যাটফিশ খেলে বেড়ায়। গ্রামের লোকেরা এগুলি পালন করে।

এছাড়াও অবশ্যই দেখে নিন হলদিঘাটি সংগ্রহশালা। রাণা প্রতাপের স্মৃতিবহুল নানা স্মারক, অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক প্রভৃতি রয়েছে এই সংগ্রহশালায়। প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর এখানে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো হয়। যার দ্বারা রাণাপ্রতাপের জীবনের নানা অধ্যায় উদ্ভাসিত হয়।

Holiday in Kumbhalgarh

কখন যাবেন

সারা বছরই কুম্ভলগড় যাওয়া যায়। কিন্তু অক্টোবর থেকে মার্চ হল সেরা সময়। পর্যটকদের ভিড় এড়াতে অন্য মাসগুলোতেও যেতে পারেন। তবে বর্ষায় জঙ্গল বন্ধ থাকে।

কোথায় থাকবেন

কুম্ভলগড়ে থাকার জন্য প্রায় ৩০টি হোটেল আছে। পিক সিজনে ভাড়া একটু বেশি হলেও অন্য সময় ৫০০ টাকাতেও ঘর মেলে। রামাদা রিসর্ট, ক্লাব মাহিন্দ্রা রিসর্ট, মহুয়া বাড় রিসর্ট প্রভৃতি বিলাসবহুল ব্যবস্থাও রয়েছে।

কী খাবেন

পরম্পরাগত রাজস্থানি ভেজিটেরিয়ান ডিশ-এর মধ্যে পাবেন ডাল বাটি, কের সাগড়ি, গট্টে খিচাড়, বুন্দি রায়তা৷ সঙ্গে বাজরার রুটি, মকাই রোটি প্রভৃতি আঞ্চলিক ব্যঞ্জন । নন ভেজ খেতে হলে চিকেনের নানা প্রিপারেশন পাবেন। আঞ্চলিক ডিশ ডাল বাটির, বাটি প্রিপারেশনটি বালির উপর রেখে নীচে একটি আগুনের কুন্ডের উপর রান্না করা হয়। দেশি ঘি দেওয়া মুগের ডাল, ছোলার ডাল বা অড়হর ডালের সঙ্গে বাটি পরিবেশন করা হয়।মিস করবেন না৷

কী কিনবেন

হ্যান্ডিক্রাফট আইটেম, লহঙ্গা,ঘাঘরা চোলি, পটারি, বাঁধনি দুপাট্টা ও শাড়ি, কাঠের পুতুল এবং গালার চুড়ি সংগ্রহ করতে পারেন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব