পোষ্য রাখার আগে কী করবেন জেনে নিন

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের একাকিত্ব বাড়ছে।চোখে পড়ার মতো বাড়ছে শহরে সিংগলদের  সংখ্যা। বাড়িতে শুধু পোষ্য কুকুর নিয়ে থাকাটা এখন কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। শুধু যে কুকুর ভালোবাসেন বলেই পোষেন অনেকে তা নয়। মানুষের প্রতি সততা ও সাহসিকতা দিয়ে প্রভুকে রক্ষা করতেও জুড়ি নেই এই প্রাণীর।তাই অনেকেই বাড়িতে পোষ্য হিসেবে কুকুরকে নিয়ে আসেন। কুকুর বিভিন্ন প্রজাতির হয়। তবে কুকুরকে পোষ্য হিসেবে রাখতে চাইলে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। নাহলে পোষ্য রাখার কোনও যুক্তি নেই।

কুকুর কিনতে গেলে প্রথমে কুকুর নিয়ে একটু পড়াশোনা করে নেওয়াটা খুব জরুরি। বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি কুকুর রয়েছে সেই কুকুরগুলো কোন আবহাওয়ায় থাকতে পারে, কী ধরনের খাবার খায়, তাদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয় সেগুলো  জানা আবশ্যক। তারপর পছন্দসই কুকুরটিকে আপনি কিনে আনতে পারেন। তবে কিনে আনার দরকার নেই , তার থেকে দত্তক নেওয়া ভাল। দত্তক নেওয়া কুকুর অনেক বেশি প্রশিক্ষিত হয় এবং তাকে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। তাই পোষ্যকে বাড়িতে আনবার আগে ভালো করে দেখে নিন কোন প্রজাতির কুকুর আপনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে । আপনার লাইফস্টাইলের সঙ্গে সে কতটা মানিয়ে নিয়ে থাকতে পারবে।

যদি কুকুরকে পোষ্য হিসেবে পেতে চান তাহলে :

  • অবশ্যই কুকুরের খাবার দাবারের বিষয়ে আপনাকে নজর রাখতে হবে। তাকে কখনওই চকোলেট বা দুধ জাতীয় খাবার দেবেন না।এগুলো সে হজম করতে পারে না। এগুলো তার জন্য ক্ষতিকারক
  • কুকুরের নির্দিষ্ট একটা খাবারের নিয়ম রয়েছে। সকাল বিকেল যখন মন চাইল তাকে খাইয়ে দেবেন না । তার জন্য একটা নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট বানান। অভ্যস্ত করে তুলুন সেই ডায়েট চার্টে।
  • কুকুর কিনতে যাওয়ার আগেই ঠিক করে নিন তাকে রাখবেন কোথায়। সেটা আপনার নিজের শোবার ঘরে হতে পারে। আপনার বসার ঘরে হতে পারে , বারান্দায়ও হতে পারে। যেখানে আপনি সুবিধে মনে করবেন সেখানে তার নির্দিষ্ট একটি শোয়ারজায়গা যেনথাকে। প্রথম দিন থেকেই তাকে এমন প্রশিক্ষণ দিন যাতে সে তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমোতে যেতে পারে
  • তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে রাখুন।আগের থেকে একজন ভালো পশু চিকিৎসকের খোঁজ নিয়ে রাখুন। কেননা যে কোনও সময় আপনার পোষ্য অসুস্থ হতে পারে তখন তাকে যেন সঠিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তা নিশ্চিত করুন। তবে খেয়াল রাখবেন প্রচুর ভুয়া চিকিৎসক রয়েছেন যাদের দেওয়া ভুল ওষুধে প্রিয় পোষ্যর জীবনহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে
  • কুকুরকে নিয়মিত স্নান করান।বাথরুমে নিয়ে গিয়ে তাকে শ্যাম্পু করিয়ে সতেজ রাখুন
  • আপনার পোষ্য কিন্তু ঘুরতে যেতে চায়। ছুটির দিনে তাকে নিয়ে বাইরে বেরোন। পার্কে যান যদি সময় থাকে। প্রতিদিন কোনও এক সময়ে তাকে বাইরে বের করুন তাকে নিয়ে হাঁটতে যাওয়া খুব জরুরি। তবে কুকুর রোদ্দুর বেশিক্ষন সহ্য করতে পারেনা তাই রোদ্দুরে নিয়ে গেলে ফিরে এসে ঠান্ডায় রাখুন
  • আপনি ফ্ল্যাটের উঁচু তলায় থাকলে অবশ্যই ব্যালকনিতে গ্রিল লাগিয়ে রাখুন। না হলে যেকোনো সময় সে নিচে পড়ে যেতে পারে। একইভাবে বড় বাড়ি হলে বাউন্ডারি ওয়ালের গেটে তালা দিয়ে রাখুন।না হলে যেকোনো সময় বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে আপনার কুকুর।কুকুরের যত্ন নিন, কুকুর সুস্থ থাকবে । তাকে ভালোবাসুন, আপনার বাধ্য হবে । উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিন , আপনার কথা মেনে চলবে। নিঃসঙ্গ জীবনে কুকুরের চেয়ে ভালো বন্ধু আর হয় না।

আমি আইভিএফ করাতে চাই, এতে কী সমস্যা হতে পারে?

আমার বয়স ৩৩ বছরআমি চাকরি করি না১২ বছর হয়ে গেছে আমার বিয়ের কিন্তু আমাদের কোনও সন্তান নেইআমি আইভিএফ করাতে চাই কিন্তু শুনেছি এই পদ্ধতিতে জন্মানো বাচ্চার মধ্যে জন্মগত শারীরিক বিকৃতি ঘটার সম্ভাবনা বেশি থাকেএটা কি ঠিক?

স্বাভাবিক ভাবে জন্মানো বাচ্চার থেকে আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্মানো বাচ্চার জন্মগত শারীরিক বিকৃতি হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ বেশি থাকে। স্বাভাবিক গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা প্রতি ১৫টি বাচ্চার মধ্যে ১জনের হওয়ার ভয় থাকে। সেই তুলনায় আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে প্রতি ১২টি বাচ্চার মধ্যে ১জনের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অ্যাসিস্টেড রিপ্রোডাক্টিভ টেকনিকের সাহায্যে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে। যারা কোনও কারণবশত সন্তান ধারণ করতে পারেননি তাদের এবং বংশানুক্রমে সুস্থ বাচ্চা যাতে জন্ম দেওয়া যায়, এই দুটোর ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি অনেকটা সাহায্য করবে।  স্বাভাবিক কোনও দম্পতি যাদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নেই অথচ এমন কোনও জিন তাদের শরীরে রয়েছে যেটা সম্পূর্ণ বংশানুক্রমিক যেমন থেলাসিমিয়া, ইনটেসটাইন ডিজিজ, ডাউন সিন্ড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম ইত্যাদি, এই পদ্ধতিটিতে  সেই সব দম্পতিও যাতে সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে তাতেও সাহায্যে করবে। ভ্রূণকে বিকশিত করার পর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। যে-সব ভ্রূণে, জেনেটিকালি কোনও সমস্যা থাকে না, সেই ভ্রূণই একমাত্র মহিলাদের গর্ভে ইমপ্লান্ট করা হয়।

প্রথম প্রথম আইভিএফ-এর সাফল্য ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হতো। এখন পরীক্ষানিরীক্ষায় জানা গেছে যে, সর্বশ্রেষ্ঠ ভ্রূণ বেছে নেওয়ার অত্যাধুনিক যে-পদ্ধতি বার হয়েছে, তার সাফল্য আইভিএফ-এর সাফল্যকে ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সাহায্য করেছে।

 

 

 

ইউরিন ধরে রাখতে সমস্যা হয়।সমাধান কী ?

আমার বয়স ৩৫ বছরইউরিন ধরে রাখতে সমস্যা হয়ফলে বারবার টয়লেট যেতে হয়এর জন্য অনেক সময় আমি লজ্জায় পড়ে যাইআমি কী করব?

এটা কোনও বড়ো সমস্যা নয়। অনেক মহিলারাই এই সমস্যার শিকার। চা, কফি, জল, কোল্ডড্রিংক প্রভৃতি কম খান। অ্যালকোহল একেবারেই খাবেন না। ব্লাডারের মাংসপেশি শক্ত করতে নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। ব্লাডারের হাইপার অ্যাকটিভিটি কমাবার জন্য ওষুধও দেওয়া হয়। যদি এক্সারসাইজ এবং ওষুধে কাজ না হয় তাহলে বোটক্স ট্রিটমেন্ট করা হয়। এগুলির কোনওটা যদি কাজ না করে তাহলে শেষ বিকল্প হল সার্জারি।

আরও পড়ুন 

আমার বয়স ৪৫ বছর এবং দুই সন্তানের মাআমার যখনই কাশি হয় অথবা কোনও কারণে পেটে চাপ পড়লেই ইউরিন লিক হতে থাকেকীভাবে এই সমস্যার সমাধান করব?

এই সমস্যার নাম হল প্রেশার ইনকন্টিনেন্স। পেটে কোনও কারণে চাপ পড়লেই ইউরিন লিক হয়ে যায়। এটা হওয়ার কারণ হল, যে মাংসপেশিগুলি ইউরিন ধরে রাখে সেগুলি লুজ হয়ে পড়ে। যে-সব মহিলার সাধারণত নর্মাল ডেলিভারি হয় তাদের মধ্যেই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া খুব দরকার।

ডাক্তারের পরামর্শ মতো এক্সারসাইজ করা দরকার যাতে ব্লাডারের মাংসপেশি মজবুত হতে পারে। চা, জল এগুলি কম খান। ১-২ ঘন্টা পর পর টয়লেট যাওয়া অভ্যাস করুন যাতে ব্লাডারের উপর প্রেশার না বাড়ে। ব্লাডার বেশি ভরা থাকলেই ইউরিন লিক হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যাবে।

এই পদ্ধতিগুলি অভ্যাস করার পরেও যদি সমস্যা না মেটে তাহলে অপারেশন করিয়ে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। সার্জারিতে মাংসপেশিগুলি টাইট করে দেওয়া হয়।

উইক-এন্ড পার্টির মেক-আপ রুলস

সারা সপ্তাহ অফিসের ধকল সামলে উইক-এন্ড-এ পার্টি বা নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে হয় অনেক সময়। চাইলেও সোশ্যালাইজ করার দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে। আর অফিস থেকে সরাসরি পার্টিতে যেতে হলে, তো আরও চিন্তায় পড়তে হয়। কীভাবে চোখমুখের ক্লান্তি দূর করে, নিমেষে হয়ে উঠবেন সতেজ ও সুন্দর। এখানে কিছু পরামর্শ দেওয়া হল যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

প্রথমেই মুখটা ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করে নিন। গোলাপজলে তুলো ডুবিয়ে, বন্ধ চোখের উপর রেখে পাঁচ মিনিট রিল্যাক্স করুন। এরপর মুখের মেক-আপ শুরু করুন। মেক-আপ করার আগে মুখে একটু বরফ বুলিয়ে নিন, এর ফলে মেক-আপ চট করে নষ্ট হবে না।

লিকুইড ফাউন্ডেশন – ক্লান্তির কারণে আপনার ত্বক কিছুটা শুষ্ক ও ডাল লাগতে পারে। তাই মেক-আপ বেস হিসাবে পাউডার ফাউন্ডেশন লাগানোর ভুল করবেন না। এতে মুখ আরও শুষ্ক ও প্যাচি মনে হবে। ফ্রেশ লুকের জন্য বেছে নিন লিকুইড ফাউন্ডেশন। এটা মুখের ত্বকে সহজেই সেট হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় অক্ষুণ্ণ থাকে।

আইক্যাচি আইলাইনার – হেভি মেক-আপ না করে চোখদুটিকে হাইলাইট করার চেষ্টা করুন। এর জন্য জেট ব্ল্যাক, ডার্ক ব্রাউন বা রয়্যাল ব্লু শেডের আইলাইনার নির্বাচন করুন। আপনার পোশাকের সঙ্গে যেটা সবচেয়ে মানাবে, সেই অনুযায়ী এই তিনটির মধ্যে থেকে রং বাছুন। চোখের উপরের পাতায় একটু চওড়া করে লাইন টানুন। এর ফলে চোখ গভীর দেখতে লাগবে। রেখাটা চোখের শেষ প্রান্তে এলে একটু উপরের দিকে উঠিয়ে দিন। ঠিক এর নীচেও ফিশ টেইল-এর মতো একটা রেখা টানুন। এতে চোখ আকষর্ণীয় হয়ে উঠবে। এবার নীচের পাতার মাঝখান থেকে কাজলের রেখা টানুন। এই ধরনের হেভি আইলাইনার লাগালে আইশ্যাডোর রং হালকা বাছুন।

আইশ্যাডোয় মোহময়ী – চোখের ডালনেস কমাতে, আইশ্যাডোর একটা বড়ো ভূমিকা আছে। কিন্তু এর জন্য আপনাকে সঠিক আইশ্যাডো নির্বাচন করতে হবে। আইশ্যাডো অ্যাপ্লাই করার সঠিক ধরনটাও রপ্ত করতে হবে। শ্যাম্পেন, ব্রোঞ্জ বা হোয়াইট শেড বাছুন। আজকাল এই তিনটি রং-ই ফ্যাশনের শীর্ষেও আছে। আইক্যান্ডি লুক-এর জন্য শ্যাম্পেন আইশ্যাডো চোখের পাতার উপরের অংশে লাগান। যদি সাদা আইশ্যাডো নির্বাচন করে থাকেন, তাহলে পুরো চোখের বদলে চোখের কোণা দুটোতেই কেবল লাগান। এর ফলে চোখে একটা ড্রিমি এফেক্ট দেওয়া যাবে। একই ভাবে ব্রোঞ্জ আইশ্যাডো নির্বাচন করলেও শুধু চোখের দুটো কোণাতেই লাগান।

মাসকারা ম্যাজিক – আপনি যদি চোখের মেক-আপটা হেভি না করতে চান, তাহলে আইলাইনার বা আইশ্যাডো ব্যবহার করবেন না। তার বদলে কাজল লাগান, সেইসঙ্গে চোখের পাতায় দিন মাসকারার পরত। হেভি এবং লাইট, প্রয়োজনে যাতে দুরকমের আই মেক-আপ করতে পারেন, তাই ব্ল্যাক, ব্রাউন, ব্লু বা ট্রান্সপ্যারেন্ট

শেড-এর মাসকারা কিনে রাখুন। আইল্যাশে মাসকারা লাগানোর সময়, চোখের পাতা উপরের দিকে কার্ল করুন। নীচের চোখের পাতাগুলি নীচের দিকে কার্ল করুন। এর ফলে পাতলা আইল্যাশও ঘন দেখাবে। তবে খুব পাতলা চোখের পাতা হলে, আর্টিফিশিয়াল আইল্যাশ ব্যবহার করুন। চোখ অ্যাপিলিং লাগবে আর্টিফিশিয়াল আইল্যাশে মাসকারার পরত পড়ার পর। এর সঙ্গে সবচেয়ে মানাবে ন্যুড শেডের লিপস্টিক।

বোল্ড লিপ কালার – আপনি চাইলে আই মেক-আপ যথাসম্ভব লাইট রেখে, আপনার ঠোঁট দুটিকে বোল্ড লুক দিতে পারেন। এরজন্য ব্রাইট শেডের লিপস্টিক বাছুন। যেমন ব্রাইট অরেঞ্জ, ব্রাইট পিংক, হট রেড, ম্যাজেন্টা প্রভৃতি। এই শেডগুলো আপনার মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করে তুলবে।

পারফেক্ট লিপ মেক-আপের জন্য প্রথম ঠোঁটে ময়শ্চারাইজার লাগান। এবার লিপলাইনার দিয়ে আউটলাইন করুন। তারপর লিপস্টিক দিয়ে ঠোঁট রাঙিয়ে নিন। গ্লসির বদলে ম্যাট টেক্সচারের লিপস্টিক চুজ করুন। এগুলিই এখন ফ্যাশনে ইন। তবে গ্ল্যাম লুকের বদলে যদি সেক্সি লুক দিতে চান, তাহলে ব্যবহার করুন ন্যুড শেডের লিপস্টিক। ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গে এটাও ট্রাই করতে পারেন।

বিউটিফুল ব্লাশার – আই মেক-আপ বা লিপ মেক-আপের মতোই গুরুত্বপূর্ণ চিক মেক-আপ। গাল দুটিকে হাইলাইট করার জন্য পিচ, পিংক, রোজ, কোরাল রেড ব্লাশ অন ব্যবহার করতে পারেন। এখন পাউডার-এর বদলে ক্রিম ব্লাশ অন-ই বেশি পছন্দ করছেন সকলে। এতে মুখের ত্বকে একটা ইভননেস আসে। মুখটা গ্লসি ও ফ্রেশ দেখতে লাগে। ত্বকের শুষ্কতা নজরে পড়ে না। তবে খেয়াল রাখবেন ব্লাশ অন লাগালে, হেভি আই মেক-আপ বা ডার্ক লিপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।

কিছু পরামর্শ

ক)  আপনার পোশাকটি আপনার লুক-কে রিফ্রেশ করতে পারে। তাই মুড অনুযায়ী ইন্ডিয়ান বা ওয়েস্টার্ন ওয়্যার বাছুন

খ)  হেভি ইয়ার রিংস, লং নেকপিস, বিগ রিং, জাংক রিস্টলেট প্রভৃতির স্টক রাখুন আপনার গয়নার বাক্সে

গ)  কিছু হাইহিল্স ও সেক্সি স্যান্ডাল অবশ্যই কিনে রাখুন এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য

ঘ)  কিছু স্টাইলিশ হেয়ারস্টাইল অবশ্যই করুন পার্টিতে যাবার আগে। হাই পনি বা হাই বান করলে হেয়ার অ্যাক্সেসরি লাগাতে পারেন

ঙ)  স্টাইলিশ ট্রেন্ডি হ্যান্ড ব্যাগ অবশ্যই ক্যারি করুন

চ)  সাজগোজ করার সময় পছন্দের মিউজিক চালিয়ে নিন। মুড ভালো হলে তার ভালো ছাপ পড়বে আপনার সাজে।

 

জবাবের অপেক্ষায়

অফিসে লাঞ্চটাইম চলছে। অসিত খেয়াল করল শ্রেয়া এক মনে নিজের টেবিলে বসে কাজ করছে। ওর পিছনে লাগার ইচ্ছেটা কিছুতেই দমন করতে পারল না অসিত। শ্রেয়ার টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল, কী ম্যাডাম, এরকম একজন স্মার্ট হ্যান্ডসাম পুরুষমানুষ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে অথচ আপনার চোখ টেবিলে রাখা খাতায় নিবদ্ধ। এটা আমার প্রতি অবিচার নয়?

কোনওরকম ভনিতা ছাড়াই শ্রেয়া মুখ তুলে অসিতের দিকে চাইল, মুখে একটু হাসি টেনে উত্তর দিল, উফঃ অসিত আবার তুমি আরম্ভ করেছ?

ম্যাডাম আমি এটাই জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলাম আজ রাতের ডিনার কি আমাকে একাই খেতে হবে, নাকি ম্যাডাম তাঁর মহামূল্যবান সময়ে কিছুটা আমার জন্য ব্যয় করতে পারবেন?

অসিতের অতি নাটকীয়তা দেখে শ্রেয়া আর গম্ভীর থাকতে পারে না, হেসে ফেলে।

কারণটা জানতে পারি অসিত?

একটা ভালো রেস্তোরাঁর কথা সন্দীপ বলছিল।

আমাকে এসব বলার মানে কি?

ওখানকার ইটালিয়ান ফুড নাকি দারুণ পপুলার।

তো?

প্লিজ আজ রাতে আমার সঙ্গে ওখানে ডিনারের জন্য হ্যাঁ করে দাও।

সরি, অসিত, আমার একটা…।

কাজ আছে। এই ডায়লগ আমি রোজ শুনি তোমার মুখে। এবার অ্যাটলিস্ট ফর এ চেঞ্জ হ্যাঁ বলে দাও।

না, আর এবার আমার মাথা খাওয়া বন্ধ করো। হাসতে হাসতে ধমকের সুরে বলে শ্রেয়া।

অসিত শ্রেয়ার সামনে রাখা চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসতে বসতে আহত স্বরে বলে, শ্রেয়া, আমাকে কি তুমি ভালো বন্ধু বলে মনে করো না?

তোমার থেকে ভালো বন্ধু আমার আর কেউ নেই।

তাহলে তুমি আমার সঙ্গে কেন ডিনারে যেতে পারো না?

কারণ তুমি বন্ধুত্বের সীমা লঙ্ঘন করে আমাকে ফাঁসাবার চক্করে রয়েছ।

আমাদের বন্ধুত্ব ভালোবাসার পরিণতি পেলে বরং ভালোই। এতে তোমার এত আপত্তি কেন? কখনও না কখনও তো তোমাকে নিজের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতেই হবে, তাই না? সুতরাং আমার থেকে ভালো জীবনসঙ্গী তুমি কোথায় পাবে? অসিত খুব কায়দা করে নিজের কলার উঠিয়ে এমন মুখভঙ্গি করল, শ্রেয়া খিলখিল করে হেসে উঠল।

তাহলে কটার সময় এবং কোথায় দেখা হচ্ছে? শ্রেয়াকে হাসতে দেখে সাহস করে অসিত প্রশ্ন করল।

কোথাও না।

আবার কী হল। এই তো রাজি হয়েছিলে।

এখন এটা হল যে, তোমার মতো ছেলেরা যারা মেয়েদের পিছনে ঘুরঘুর করে, আমার তাদের একদম পছন্দ নয়। কেউ আমার মিথ্যে প্রশংসা করে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে পারবে আমি একেবারেই এই ধরনের মেয়ে নই অসিত। এখন প্লিজ আর আমায় বিরক্ত করো না, হাতজোড় করে মিনতি করে শ্রেয়া।

উঁহু, এখুনি ছাড়ছি না। প্রথম কথা হল মেয়েদের পিছনে নয়, শুধুমাত্র একটি মেয়ের পিছনেই ঘুরঘুর করি, যদি তার মনে আমার জন্য একটুও দুর্বলতা জন্মায়, এই আশায়। আর দ্বিতীয়ত আমি কখনওই তোমার মিথ্যা প্রশংসা করি না। আমার চোখে তুমিই সবথেকে সুন্দরী। অসিতের চোখে নিজের প্রতি গভীর প্রেম অনুভব করে শ্রেয়া, জুতসই কোনও জবাব দিতে পারে না।

গভীর শ্বাস নেয় শ্রেয়া। তারপর খুব কোমল স্বরে বলে, অসিত তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। প্রেম এবং বিয়ে এই দুটোতেই আমার আপত্তি আছে। তুমি খুব ভালো মনের মানুষ। বরং তুমি অন্য কোনও মেয়ের মন জয় করার চেষ্টা করো। আমি তোমার উপযুক্ত জীবনসঙ্গিনী কোনওদিন হতে পারব না।

ঠিক আছে, কিন্তু এই কথাগুলো আমরা ডিনার করতে করতেও তো আলোচনা করতে পারি।

আজ বাবার সঙ্গে ডিনার করার কথা আছে। সরি অসিত অন্য কোনওদিন।

তাহলে আজ তোমার বাবার সঙ্গেই আমাকে আলাপ করিয়ে দাও। বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে কখনও না কখনও তোমার মা-বাবার সঙ্গে গিয়ে আমাকে দেখা করতেই হতো।

অসিত মজার ছলে কথাগুলো বললেও, শ্রেয়া হঠাৎই গম্ভীর হয়ে উঠে। মুহূর্তে কিছু একটা ভেবে নিয়ে বলে, ও কে। আজ রাত ৯টায় এই ঠিকানায় আমাদের বাড়িতে চলে এসো, বলে একটা কাগজে নিজের ঠিকানা লিখে অসিতের হাতে ধরিয়ে দেয়।

অসিত এতটাও ভাবেনি। শ্রেয়া যে এরকম একটা পদক্ষেপ করবে তা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। কিছুটা আমতা আমতা করেই বলল, থ্যাংক ইউ শ্রেয়া। দেখো আজ আমি তোমার মা-বাবার মন জয় করে নেব। অসিতকে খুবই আনন্দিত মনে হচ্ছিল। শ্রেয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করল।

 

রাত্রে ঠিক সময় অসিত শ্রেয়াদের বাড়ি উপস্থিত হল। স্মার্টলি ড্রেসআপ করে এসেছে অসিত। তাকে দেখে শ্রেয়া হেসে ফেলল। অসিত ভ্রূকুটি করে বলল, কী স্মার্ট লাগছি কিনা বলো?

দারুণ! হাসতে হাসতেই শ্রেয়া অসিতের হাত ধরে ওকে ড্রযিংরুমের দিকে নিয়ে চলল।

এই হাত আর কখনও ছেড়ো না শ্রেয়া, রোমান্টিক স্বরে আস্তে আস্তে শ্রেয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে অসিত বলল।

শাট আপ, ধমক দিল শ্রেয়া। ততক্ষণে ড্রযিং রুমে এসে দাঁড়িয়েছে ওরা। অসিত লক্ষ্য করল তিনজন রয়েছে সেখানে।

অসিত, এই সুন্দরী মহিলা হলেন আমার মা। আমরা দুজন একসঙ্গে কোথাও গেলে লোকে মাকে আমার দিদি বলে ভুল করে! ইনি হলেন আমার বাবা, রাজনীতি নিয়ে আজকাল একটু বেশিই মাথা ঘামাচ্ছেন তাই খাদির কুর্তা-পাজামা ছাড়া কিছুই পরেন না এখন আর। ইনি হলেন আমার স্টেপফাদার… অরুণকাকু। আমার যখন বারো বছর বয়স তখন মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে যায় এবং এর কিছুদিন পরেই মা অরুণকাকুকে বিয়ে করে। এই বাড়িটাও অরুণকাকুর।

আর এ হচ্ছে অসিত, আমরা একসঙ্গে কাজ করি আর অফিসের ছুটির পরেও অসিত আমার সঙ্গে সময় কাটাবার নানা রকম বাহানা খুঁজতে থাকে। আমি নানা ভাবে ওকে না বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাকে বিয়ে করার ইচ্ছে মন থেকে কিছুতেই সরাতে পারেনি। এখন তোমরা পরস্পরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করো, আমি ততক্ষণে টেবিলে খাবার সাজাবার ব্যবস্থা করছি, শ্রেয়ার হাসিতে ব্যঙ্গ ফুটে ওঠে যেটা অসিতের চোখে পড়ে যায়। নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় শ্রেয়া।

শ্রেয়ার মা-বাবার ডিভোর্স সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না অসিতের। সেই মুহূর্তে ওখানে বসে অসিতের মনে হল, সত্যি সত্যি শ্রেয়ার ব্যক্তিগত জীবনটা তার একেবারেই অজানা। মনে মনে নিজেকে প্রস্তুত করে নিল অসিত। আজেবাজে চিন্তা মাথা থেকে বার করে তিনজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি হয়ে নিল সে।

শ্রেয়ার মা অসিতের পরিবারের সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। অসিতের শখ, ভবিষ্যতে কী করার ইচ্ছে, এসব নিয়ে প্রশ্ন করা শুরু করলেন। অসিতও যথাসম্ভব উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছিল, তাও ভদ্রমহিলার প্রশ্ন করার ধরন দেখে তার বারবার এটাই মনে হচ্ছিল, মহিলা কিছুতেই তার উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।

বরং শ্রেয়ার নিজের বাবা মানুষটা অনেক সহজ মনে হল। কিছুটা মন খুলে অসিত ওনার সঙ্গে কথা বলতে সফল হল। মনে হল অসিতের প্রতি ভদ্রলোক বেশ সন্তুষ্ট হয়েছেন। শ্রেয়ার সৎ বাবা কম কথা বলছিলেন। কিন্তু মুখের ভাব দেখে বেশ বোঝা যাচ্ছিল সকলের কথাই উনি মন দিয়ে শুনছেন। যতবার অসিতের চোখ পড়ছিল ওনার উপর, ততবারই তার নজরে পড়ল ভদ্রলোকের মুখের অমাযিক হাসিটা। ওই হাসি যেন অসিতের মনোবল বাড়াবার কাজেই লাগছে।

যেটা বলার জন্য এতক্ষণ ছটফট করছিল অসিত, সুযোগ বুঝে মুখ খুলল, দেখুন আমি শ্রেয়াকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। আপনারা প্লিজ ওকে বিয়ে জন্য রাজি করাতে আমাকে সাহায্য করুন। আমি কথা দিচ্ছি ওকে আমি সবসময় সুখে আর আনন্দে রাখব।

এতক্ষণ কথাবার্তার মধ্যে শ্রেয়া এসে একবারও তাদের মধ্যে বসল না। বেশ অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পর শ্রেয়ার গলার আওয়াজ শোনা গেল, সকলকে টেবিলে খেতে ডাকছে।

খাওয়া শেষ করে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে অসিত বাইরে এসে দাঁড়াল। শ্রেয়া এসেছিল ওকে বাইরে অবধি ছাড়তে। শ্রেয়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে অসিত বলল, তোমার মা-কে শুধু রাজি করাবার ভার তোমার উপর। তোমার বাবা আর অরুণকাকুর আমাকে পছন্দ হয়ে গেছে।

অরুণকাকু একটু তোমার সঙ্গে বেরোবেন। যা বলবেন তাই করবে, শ্রেয়া ধীর স্বরে অসিতকে এই কথা বলতেই অসিত চমকে উঠল। এরকম একটা আকস্মিকতার জন্য সে একেবারেই তৈরি ছিল না।

আমি একটু বাজার হয়ে আসছি, বলে অরুণকাকু অসিতের মোটরবাইকে উঠে বসলেন।

 

ভিতরে এসে শ্রেয়া প্রথমে ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করে তারপর অবশিষ্ট খাবার ফ্রিজে তুলে রাখে। তারপর ড্রইংরুমে এসে কোনও ভমিকা না করেই বলল, আসিতকে বিয়ে করতে আমি খুব একটা উৎসুক নই। কিন্তু ও আমাকে বিয়ে করার জন্য একমাস ধরে পাগল করে দিয়েছে। এখন তোমরা দুজন কী ভাবছ আমার আর অসিতের বিয়ে নিয়ে সেটা আমি এখনই স্পষ্ট করে তোমাদের মুখ থেকে শুনতে চাই।

আমার তো অসিতকে বুদ্ধিমান এবং গুণী ছেলে বলেই মনে হল। আমার মতে ও তোর জন্য খুবই ভালো পাত্র, নির্দ্বিধায় ওকে বিয়ে করতে পারিস, মনের কথা জানালেন শ্রেয়ার বাবা।

আমার তো মনে হয়, তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। যতক্ষণ না শ্রেয়া তোমার মন এই বিয়ে জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো হবে। শ্রেয়ার মায়ে গলার আওয়াজে এটা স্পষ্টই বোঝা গেল যে, তিনি অসিতকে জামাই হিসেবে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

মা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা বোলো না। পরিষ্কার করে বলো তো কেন তোমার অসিতকে পছন্দ হয়নি? তীক্ষ্ণ স্বরে শ্রেয়া মা-কে চ্যালেঞ্জ করল।

এমনিতে ছেলেটির স্বভাব-চরিত্র ভালোই মনে হল কিন্তু তোদের দুটিকে ঠিক যেন মানাচ্ছে না। ছেলেটি একটু বেশি রোগা আর পার্সোনালিটির বড়োই অভাব। তার উপর চোখে চশমা, অসিতকে পছন্দ না হওয়ার কারণ পরিষ্কারই মেয়ের কাছে স্বীকার করলেন তিনি।

শ্রেয়া, মায়ের বুদ্ধিহীন কথাবার্তায় একেবারে কান দিস না। শ্রেয়ার বাবা রীতিমতো বিরক্ত হলেন, শ্রেয়া, তোর মা মানুষের সৌন্দর‌্য দেখে তার ক্ষমতা কতদূর সেটা ডিসাইড করে। মানুষের ভিতরটা দেখার চেষ্টা করে না। অসিত তোকে সত্যিই ভালোবাসে এটার কোনও গুরুত্ব নেই তোর মায়ে কাছে।

শুধু ভালোবাসলেই পেট ভরে যাবে? ব্যক্তিত্ববান পুরুষ হলে শ্রেয়া নিশ্চয়ই ওর প্রতি আকর্ষিত হতো, শ্রেয়ার মা-ও থেমে থাকার পাত্রী নন।

দুজনেই ভালো রোজগার করে। আমার বিশ্বাস শ্রেয়াকে ও সুখেই রাখবে।

নিজের স্ত্রীকে সুখী করতে হলে শুধু টাকাপয়সা হলেই হয় না, একে অপরকে বোঝাটাও খুব দরকার হয়। নিজেদের মধ্যে সঠিক বোঝাপড়া এবং একে অপরকে ভালো লাগাটা গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রেয়া, বিবাহিত জীবনে নিশ্চিন্ত থাকার জন্য ব্যাংকে মোটা টাকা থাকা বেশি জরুরি। বাড়ির ভিতর সুখ-শান্তি থাকলে ভালোবাসা আর বোঝাপড়া ঠিকই আপনে আপ তৈরি হয়ে যায়।

তাহলে আমাদের ডিভোর্স কেন হয়েছিল? ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন শ্রেয়ার মা।

তোমার অকৃতজ্ঞতা এবং চরিত্রহীনতার কারণে, শ্রেয়ার বাবা কথাগুলো বলতেই আগুন ছিটকে পড়তে থাকে শ্রেয়ার মায়ে চোখ দিয়ে।

-তোমার হাতে দিনরাত অসম্মানিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য আমি ডিভোর্স চেয়েছিলাম। তুমি তো টাকা রোজগারের মেশিন ছিলে। আমার জন্য তোমার কাছে এতটুকু কোনও সময় ছিল? যখনই তোমার সঙ্গে নিজের মনের কথা শেয়ার করতে চেয়েছি, তুমি মারধোর করে আমার মুখ বন্ধ করে দিয়েছ। ডিভোর্স না হলে হয়তো আমি পাগল হয়ে যেতাম, আর নয়তো আমাকে আত্মহত্যা করতে হতো।

-তোমার এইসব মিথ্যা কথা শ্রেয়া এখন আর বিশ্বাস করে না। কেন শুধু শুধু মিথ্যা কথাগুলো বলছ? সবাই জানে অরুণের হিরোর মতো চেহারা দেখেই আমাকে ঠকাবার কথা তোমার মাথায় আসে। তুমি শরীরের সৌন্দর্য ছাড়া কখনও কিছু বোঝোনি আর আজও কিছু বোঝো না। আর এই জন্যই শ্রেয়াকেও ভুল উপদেশ দিচ্ছ।

-নিজেকে বেশি স্মার্ট দেখাবার চেষ্টা কোরো না।

একে অপরকে দোষারোপের পালা চলল অন্তত পনেরো-কুড়ি মিনিট ধরে। কেউ-ই ছাড়বার পাত্র নয়। শ্রেয়া এতক্ষণ চুপ করেই বসে ছিল। হঠাৎই উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে পা বাড়াল। শ্রেয়াকে উঠতে দেখে ওর মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া যেমন হঠাৎ করে শুরু হয়েছিল, তেমনি হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে গেল।

কোথায় যাচ্ছিস? মায়ের এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে শ্রেয়া ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

খানিকক্ষণ পর শ্রেয়া আবার ঘরে ঢুকল। এবার সঙ্গে অরুণ আর অসিত। মা-বাবাকে আশ্চর্য হতে দেখে এবার শ্রেয়া মুখ খুলল, অবাক হওয়ার কিছু নেই, ওরা দুজন বাইরে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে তোমাদের ঝগড়া শুনেছে। আমি এখন অসিতের সঙ্গে কথা বলব। আর এর মধ্যে তোমরা যদি কেউ কথা বলেছ, তাহলে আমি এই মুহূর্তে বাড়ি ছেড়ে চলে যাব আর নিজের থাকার আলাদা ব্যবস্থা করে নেব।

শ্রেয়ার বাবা-মা মেয়েকে এতটা রাগতে কোনও দিন দেখেননি। সুতরাং ওনারাও আর কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ বসে রইলেন। শ্রেয়া এবার অসিতের দিকে সোজাসুজি তাকাল, এবার বুঝতে পারছ তো বিয়ের উপর কেন আমার এত ঘেন্না! এতটা অ্যালার্জি! বারো বছর বয়স পর্যন্ত খুব কমই আমি এদেরকে ভালো ভাবে কথা বলতে দেখেছি বা শুনেছি। বাবা যখন মায়ের গায়ে হাত তুলত, মাকে বাঁচাতে গিয়ে কতবার যে বাবার হাতে মার খেয়েছি, গুনে বলতে পারব না। ডিভোর্সের পর মা সকলের সামনে প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে, মা একলাই আমাকে ভালো ভাবে বড়ো করে তোলার ক্ষমতা রাখে। আমার কেরিয়ার গড়ে দেওয়ার নাম করে মা-ও শারীরিক আর মানসিক ভাবে কিছু কম অত্যাচার করেনি আমার উপর।

এরা কোনওদিনই ভালো স্বামী-স্ত্রী হতে পারেনি। আর ভালো মা-বাবাও না। এদের জন্যই আমি সারা জীবন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অসিত, তুমি আমাকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দাও। বাড়ি যাও, অনেক ভালো মেয়ে ভালো পরিবার তুমি পাবে।

এই প্রথম অসিত কোনও উত্তর খুঁজে পেল না। শ্রেয়ার মা-বাবার ঝগড়া তাকে ভিতরে ভিতরে অনেকটাই বিহ্বল করে দিয়েছিল। খুব ডিপ্রেসড মনে হচ্ছিল।

এতক্ষণ অরুণ একটা কথাও বলেননি। অসিতকে চুপ করে থাকতে দেখে প্রথম কথা বললেন, এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু কথা আমারও মনে হচ্ছে, সেটা আমি তোমাদের দুজনের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। হয়তো আমার কথা শুনলে তোমরা সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারবে। ডিভোর্সের আগে আমি আর সীমা মানে শ্রেয়ার মা ভালো বন্ধু ছিলাম। সীমা আমার সঙ্গে তার দুঃখ, ডিপ্রেশন, একাকিত্ববোধ সব কিছুই শেয়ার করত। ভালো বন্ধু হিসেবে এবং সীমার মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে, তার জন্য যতটুকু আমার পক্ষে সম্ভব করতাম। সীমাকে খুশি রাখা, ওকে হাসতে, কথা বলতে দেখলে তখনও আমি আনন্দ পেতাম আর এখনও পাই। সীমা অসম্ভব মুডি একটা মানুষ কিন্তু তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যে-কোনও পরিস্থিতিতে আমি ওকে শুধু খুশি দেখতে চাই।

আমি তোমাদের দুজনকে কিছু প্রশ্ন করতে চাই এবং আশা রাখি সততার সঙ্গে তোমরা উত্তর দেবে। অসিত, শ্রেয়াকে খুশি হতে দেখে তুমিও কি মনে আনন্দ পাও?

হ্যাঁ, প্রচণ্ড আনন্দ পাই। কাকু, শ্রেয়া যখন আমার কোনও কথায় হেসে ওঠে, আমি যখন ওর কোনও কাজে আসতে পারি কিংবা ও যদি হঠাৎ হঠাৎ ব্যক্তিত্বের পর্দা সরিয়ে স্বভাবসুলভ মিষ্টি ভাবে আমার সঙ্গে কথা বলে, তখন সেই আনন্দ আমি কোথায় রাখব বুঝতে পারি না।

শ্রেয়া, অসিতের কোন গুণ তোমাকে সব থেকে বেশি আকর্ষণ করে? কোমল স্বরে অরুণ শ্রেয়ার কাছে প্রশ্নটা রাখেন।

কিছুক্ষণ ভেবে শ্রেয়ার ঠোঁটের কোণায় অল্প একটু হাসি ফুটে ওঠে। অসিতের দিকে তাকিয়ে শ্রেয়া জবাব দেয়, এই পাগলটা আমাকে

যে-কোনও পরিস্থিতিতে হাসাতে পারে। অসিত পুরো জোকার।

আমার প্রশংসা করার জন্য ধন্যবাদ, নাটকীয় ভঙ্গিতে সামনে অল্প ঝুঁকে অসিত বলে।

এবার শ্রেয়া খিলখিল করে হেসে ওঠে। কাকু তুমি দ্যাখো অসিতকে।

শ্রেয়া, অসিত তোমাকে হাসাতে পারে, এটাকে কিন্তু খুব ছোটো করে দেখো না। তোমরা দুজনে এমনিতেই খুব ভালো বন্ধু। এই বন্ধুত্বের ভিতকে আরও শক্ত করার লক্ষ্যে তোমরা দুজনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাও।

তোমার বাবা-মার জীবনে যেটা হয়েছে সেটা তোমার জীবনেও ঘটবে এমন কোথাও লেখা আছে কি? অসিত তোমাকে জীবনসঙ্গী করতে চায় সুতরাং ওকে সুযোগ তো দাও। নিশ্চয়ই তোমাদের বিয়ে সফল হবে। শ্রেয়া তুমি খুব ভালো করেই জানো একটা বিয়ে একটা সম্পর্ক কী কী কারণে ভাঙতে পারে। সুতরাং বিয়ে না করার ভাবনা মন থেকে সরিয়ে সম্পর্কের ভিত কী ভাবে মজবুত করবে, সেটা চিন্তা করো। তোমার মা-কে বোঝাবার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। কথা দিচ্ছি আমাদের সকলের আশীর্বাদ তোমাদের সঙ্গে থাকবে। অরুণ স্নেহভরে শ্রেয়ার মাথায় হাত রাখে আর অসিতকে আলিঙ্গনবদ্ধ করে।

শ্রেয়া অসিতকে বিয়ে করে নে। একলা জীবন কাটানো খুব কঠিন। একাকিত্ব আমাকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে, তোর মা যদি অরুণকে ছেড়ে আমার কাছে ফিরে আসতে চায়, তাহলে এই বদমেজাজি মহিলাকেও ফিরিয়ে নিতে দ্বিধা করব না, শ্রেয়ার বাবার রসিকতায় সকলেই হেসে ওঠে। পরিবেশ অনেকটাই হালকা হয়ে ওঠে।

শ্রেয়া প্লিজ, এবার তো হ্যাঁ বলে দাও। কালকের পার্টি-টা নিয়ে আলোচনা করতে হবে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে ওঠে অসিত।

কী পার্টি অসিত? অবাক হয় শ্রেয়া।

আমার হবু বউয়ে সঙ্গে অফিসের কলিগদের পরিচয় করাব আর ওরা পার্টি না নিয়ে আমাদের ছেড়ে দেবে ভেবেছ?

শ্রেয়া অসিতের চোখে চোখ রাখে। সেখানে নিজের প্রতি অসিতের ভালোবাসা, সম্মান, সমস্ত অনুভতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজের মনের ভিতর উঁকি দেয় শ্রেয়া। অসিতের জন্য ভালোবাসা, প্রেম ছাড়া কিছুই নজরে পড়ে না তার। এগিয়ে এসে অসিতের চোখে চোখ রেখেই ছোট্ট একটা হ্যাঁ বলে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করে অসিতের বাহুবন্ধনে।

বরুণের বিয়ে, আলিবাগে আয়োজন

স্কুল জীবনের প্রেম বেশির ভাগ সময়েই পরিণতিতে পৌঁছোয় না৷ কিন্তু এমনটা ঘটল না অভিনেতা বরুণ ধাওয়ানের ক্ষেত্রে৷ ছোটোবেলার বান্ধবীকেই বিয়ে করছেন বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান।প্রেমিকা নতাশা দালালের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন জানুয়ারি মাসের শেষেই। এই মুহূর্তে তাই জোর কদমে চলছে বিয়ের প্রস্তুতি৷ মুম্বইয়ের অদূরে আলিবাগে স্থির হয়েছে তাঁদের ওয়েডিং ডেস্টিনেশন৷  আয়োজন এলাহি! পাকা হয়ে গেছে বিয়ের  মেনুও৷

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বাস শুরু করেছেন অনুরাগীরা৷ বিয়ের দিনক্ষণ সব স্থির হয়ে গিয়েছে।  আলিবাগের একটি পাঁচতারা হোটেলে বসবে বরুণ ধাওয়ান এবং নাতাশা দালালের বিয়ের আসর৷পঞ্জাবি ওয়েডিং-এর যাবতীয় ফ্লেভার থাকবে আয়োজনে ,জানানো হয়েছে দুই পরিবারের তরফে৷

তৈরি হয়ে গেছে আমন্ত্রিতের তালিকা৷ কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কথা ভেবে, যথাসম্ভব কাটছাঁট করা হয়েছে সেই তালিকায়৷এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়েছে, ২০০জন অতিথি বিবাহ আসরে উপস্থিত থাকবেন।তবে কাদের নাম থাকছে চুড়ান্ত তালিকায়, সে খবর এখনও প্রকাশ করা হয়নি পরিবারের তরফে৷

বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে গোপনীয়তা বজায় রাখতে পছন্দ করেন বলিউডের এই নায়ক। তবে সম্প্রতি নিজেই নাতাশার কথা জানিয়েছিলেন প্রকাশ্যে। প্রসঙ্গত, ঠিক ছিল এই তারকাজুটি ২০২০ সালেই বিয়ে সেরে ফেলবেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জেরে এই বিলম্ব৷বেশ কিছুদিন আগে ছেলের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করায় বলিউড অভিনেতার বাবা তথা বিখ্যাত পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান বলেছিলেন, ‘জানি, অনেকেই বরুণের বিয়ের দিনক্ষণ জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আমরাও সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি। ধুমধাম করেই ছেলের বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে এখনও পর্যন্ত দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। হলেই আপনাদের জানানো হবে।’

সেই ক্ষণ এবার আগত৷জানা গেছে,বরুণ নাকি নতাশার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কেই থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাদ সাধেন বরুণের বাবা । লিভ-ইন সম্পর্কে না থেকে সরাসরি বিয়ে করার পরামর্শই দেন তিনি ছেলেকে। তার জেরেই এবার তড়িঘড়ি ছাদনাতলায় বসতে চলেছেন বরুণ ও নাতাশা৷ প্রস্তুতি পর্ব এখন প্রায় শেষ৷ এবার চার হাত এক হোক, সুখী হোক দম্পতি– সেই প্রার্থনাই করছেন উভয়ের পরিবার৷

সু-অভ্যাস শেখান বাচ্চাকে

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সু-অভ্যাস শৈশব থেকেই বাচ্চাকে শেখানো দরকার, যাতে ভবিষ্যতে সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে এবং তার আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। শৈশবে যে অভ্যাস বাচ্চার মধ্যে গড়ে তোলা হয়, সারাজীবনেও বাচ্চা সেই অভ্যাস ছাড়তে পারে না।

ওরাল হাইজিন – প্রত্যেক শিশুর দৈনন্দিন জীবনে ওরাল হাইজিন মেনে চলাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ওরাল হাইজিন মেনে চললে, বাচ্চা অনেক রকমের অসুখ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারবে যেমন ক্যাভিটি, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং হার্টের অসুখ।

কী করা উচিত

১)  সারা দিনে ২ মিনিট করে অন্তত দু-বার বাচ্চাকে শেখান দাঁত ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পর দাঁত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি

২)  শৈশব থেকেই বাচ্চাকে রোজ দাঁত ব্রাশ করতে এবং কুলকুচি করতে শেখানো উচিত

৩)  টাং ক্লিনার দিয়ে জিভ কীভাবে পরিষ্কার করতে হবে, বাচ্চাকে ছোটো থেকেই শেখাতে হবে

৪)  নিয়মিত বাচ্চার দাঁত ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত

বডি হাইজিন

১) বাচ্চার মধ্যে রোজ স্নান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। রোজ স্নান করলে শরীর যেমন পরিষ্কার থাকবে তেমনি ত্বকের মৃত কোশও উঠে যাবে

২)  স্নানের সময় বাচ্চারা যেন শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন হাত, পা, বগল, কোমর, নাভি, হাত ও পায়ের জয়েন্টস, কুঁচকি এবং হাত ও পায়ের আঙুলের মধ্যের অংশগুলি ভালো ভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলে, সেটা অভিভাবকদেরই খেয়াল রাখতে হবে

৩)  স্নানের পর বাচ্চাকে পরিষ্কার ধোয়া জামাকাপড় পরাবার অভ্যাস করান এবং এটাও খেয়াল রাখুন রোজের ইনার গারমেন্টস্ যেন বাচ্চা রোজ বদলায়

৪)  সপ্তাহে দু’বার বাচ্চার চুল শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার রাখার অভ্যাস করানো দরকার, যাতে বাচ্চার স্ক্যাল্পে তেল, ধুলোময়লা জমতে না পারে

হ্যান্ড হাইজিন

১)  বাচ্চাকে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করান। প্রতিবার খেতে বসার আগে হাত ধোয়া দরকার। হাত ধুলে রোগের জীবাণু যেমন ছড়ানো থেকে আটকানো যায় তেমনি সংক্রমণ এবং অসুস্থতা থেকে বাঁচার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়

২)  দৈনন্দিন জীবনে বাচ্চার মধ্যে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফেরার পর, কাশি অথবা হাঁচি হলে, খেলাধুলো করার পর অথবা ওয়াশরুম থেকে বেরোলে হাত ধোয়াটা খুব দরকার

৩)  হাত ধোয়ার সময় সাবান, হ্যান্ডওয়াশ এবং জলের সঠিক ব্যবহার শেখান বাচ্চাকে

ফুট হাইজিন

১)  বাচ্চাকে শেখানো উচিত, পা-ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাটা খুব দরকার। নোংরা পা থেকে দুর্গন্ধ বেরোয়। এছাড়াও দাদ এবং অন্যান্য সংক্রমণের ভয়ও বেড়ে যায়।

২)  সারাদিনে দুবার অন্তত বাচ্চাকে পা ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। আঙুলের মধ্যের অংশগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে মুছে নিতে শেখাতে হবে। কারণ আঙুলের মধ্যের অংশ ভিজে রয়ে গেলে ফাংগাস হওয়ার ভয় থাকে

টয়লেট হাইজিন

১)  শৌচকৃত্য করার সঠিক পদ্ধতি বাচ্চাকে শৈশবেই শেখানো দরকার। সবসময় সামনের দিক থেকে পিছন দিকটা ধোয়া উচিত। পিছন থেকে সামনের অংশ ধুলে, সংক্রমণ হওয়ার বিপদ থেকেই যায়। এগুলো বাচ্চাকে আগে থেকেই শিখিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয়

২)  টয়লেট ব্যবহার করার পর বাচ্চাকে ফ্লাশ করার অভ্যাস করান

৩)  সবসময় বাচ্চাকে মনে করান যখনই সে টয়লেট থেকে আসবে, সংক্রমণ আটকাতে অবশ্যই হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে যেন হাত ধুয়ে নেয়

নেল হাইজিন

১   বাচ্চাকে শেখাতে হবে নখ পরিষ্কার রাখার তাৎপর্য, কারণ নখে ময়লা জমলে, নানারকম রোগের জীবাণু তার মধ্যে বাসা বাঁধবে, ফলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়বে

২)  খেয়াল রাখতে হবে, বাচ্চা যেন দাঁত দিয়ে নখ না চিবোয়। বাচ্চার জেনে রাখা ভালো, দাঁত দিয়ে নখ খেলে, নখের ভিতরে থাকা ময়লা এবং রোগজীবাণু সব তার পেটে গিয়ে তাকে অসুস্থ করে তুলবে

স্লিপ হাইজিন

১)  ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বাচ্চাকে ঘুমোবার অভ্যাস করান। বাচ্চাকে জানিয়ে রাখুন ভালো ঘুম হলে বাচ্চার শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ সঠিক হবে

২)  ঢিলেঢালা পোশাকে বাচ্চাকে শোয়ার অভ্যাস করান যাতে আরামে বাচ্চা গভীর ভাবে ঘুমোতে পারে

৩)  পরিষ্কার বিছানায় বাচ্চাকে শোওয়ার অভ্যাস করান। সপ্তাহে দু’বার অন্তত বিছানার চাদর বদলে দিন এবং পরিষ্কার কাচা চাদর পেতে দিন

৪)  রাত্রে ব্রাশ করে হাত-পা ভালো করে ধুয়ে বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস করান বাচ্চকে

৫)  শোওয়ার আগে মূত্রত্যাগ করে তবেই বাচ্চাকে বিছানায় গিয়ে শুতে শেখান যাতে, রাতে বারবার ওঠার জন্য ঘুমের না ব্যাঘাত ঘটে

ফুড হাইজিন

১)  হাত এবং মুখ মোছার জন্য যেন পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করে

২)  ফল খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে যেন খায়

সারাউন্ডিং হাইজিন

১)  বাচ্চাকে অভ্যাস করান চটি-জুতো এদিক ওদিক না খুলে, শু-র‍্যাক-এ যেন গুছিয়ে রাখে

২)  নোংরা জিনিস, আবর্জনা ইত্যাদি ডাস্টবিনে ফেলার অভ্যাস করান

৩)  নিজের পোশাক গুছিয়ে আলমারিতে তুলে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন বাচ্চার মধ্যে

 

বয়স বাড়ুক রিংকল্স নয়

সাধারণত যা বয়স, তার চাইতে বেশি বয়স্ক দেখাবার জন্য তিনটি কারণ মূলত দায়ী। আলাদা আলাদা ভাবে এগুলি লুকস-কে প্রভাবিত করে।

বলিরেখা – ২৫ বা তার বেশি বয়স হয়ে গেলে, মুখের বিভিন্ন জায়গায় বলিরেখার প্রকোপ পড়তে দেখা যায় এবং বলিরেখা দৃষ্টিগোচর হলেই বয়সের একটা অনুমান করা শুরু করে দেয় বেশিরভাগ মানুষ। আসল বয়সের চেয়ে অনেক বয়স্ক দেখতে লাগে বলিরেখার কারণে। সর্বপ্রথম চোখ এবং চোখের আশেপাশের অংশে বলিরেখা পাতলা লাইনের আকারে চোখে পড়া শুরু হয়। এছাড়াও গাল, কপালেও পাতলা লাইনগুলি ধীরে ধীরে দেখা যেতে লাগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখাগুলি আরও বাড়তে থাকে এবং মুখের হাবভাবের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার দৃষ্টিগোচর হয়।

লস অফ ভলিউম – এই সমস্যা অনেক সময় বোঝাটাই মুশকিল হয়ে যায়। ত্বকে এই সমস্যা তখনই প্রকট হয় যখন ত্বক নিজের ইলাস্টিসিটি হারিয়ে ফেলে এবং ত্বক ঢিলে হওয়া আরম্ভ হয়। এর কারণ গলার ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং রং-ও ফ্যাকাশে হতে থাকে। মুখের ভাবভঙ্গিতে এই সমস্যা ধরা পড়ে।

ঘনত্বের অভাব – মেনোপজ হয়ে যাওয়ার পর মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ ওই বয়সে ত্বক ঢিলে ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। বলিরেখার কারণেই এমনটা হয় ফলে ত্বকও নিজের স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলে।

বয়স্ক দেখাবার অভ্যন্তরীণ কারণ – বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক দেখাবার কারণ হিসেবে, ত্বকের গঠনও অনেকাংশে দায়ী। ত্বকের গঠন পরিবর্তন করাও সম্ভব নয়। শরীরের অর্গানিক (জৈব) পরিকাঠামো, ত্বকের পরিকাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন আনে এবং এটা নির্ভর করে কোশগ্রন্থির কর্মদক্ষতার উপর। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোশগ্রন্থির কর্মদক্ষতা কম হতে থাকে। এছাড়াও ত্বকে রক্ত চলাচল কম হয়ে যাওয়া মানে, ত্বকের ভিতর পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং পুষ্টির অভাব থেকে যাওয়া।

বংশগত কারণেও অনেক সময় কাউকে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক বলে মনে হয়। আমাদের ত্বকের প্রকৃতি কী রকম হবে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই সেটা ঠিক হয়ে যায়। যেমন স্বাভাবিক ত্বকের থেকে যাদের ত্বক ফরসা, তাদের ত্বকে সময়ের আগেই বলিরেখা পড়তে দেখা যায়।

বয়স্ক দেখাবার বাহ্যক কারণ – বহিরাগত অনেকগুলি কারণ মানুষকে বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক করে তোলে। যেমন

সূর্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি – সূর্যের রশ্মি শরীরের জন্য যেমন প্রয়োজন তেমনি ক্ষতিকারকও বটে। সরাসরি রোদ ত্বকের উপর পড়লে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায় এবং ত্বকের বয়সও বেশি বলে মনে হয়। আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির কারণে ত্বকে যে ক্ষতি হয়, তাকে ফোটো প্রোলংগড্ এক্সপোজার বলা হয়।

দূষণ – দূষণ-ও ত্বকের ক্ষতি করে। শহরে এই সমস্যা সবথেকে বেশি। দূষণের কারণে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির প্রভাব ত্বকে তীব্রভাবে পড়ে, ফলে ত্বক আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ধূমপান –  সিগারেটে কেমিক্যাল এবং নিকোটিন থাকে। মানুষের ইমিউন সিস্টেমের উপর নিকোটিনের ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে ফলে বয়সজনিত সমস্যায় ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধূমপান বেশি করলে শরীরে অক্সিডেন্ট-এর লেভেলও কম হতে থাকে।

আমাদের জীবনশৈলীর প্রভাবও পড়ে ত্বকের উপরে। সময়ের আগেই বেশি বয়স্ক দেখাবার জন্য আমাদের জীবনশৈলী এবং খাওয়াদাওয়া সবকিছুই দায়ী। কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলে বয়স বেশি দেখাবার প্রক্রিয়া রোধ করা যেতে পারে।

চিনি কম খান – চিনি শরীরের ইনসুলিন লেভেল বাড়িয়ে দেয় ফলে সারা শরীরে তৎক্ষণাৎ প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহের ফলে শরীরে এনজাইম তৈরি হয় যেটি কোলাজেন এবং ইলাস্টিনকে ভেঙে দেয়। এরই ফলস্বরূপ ত্বক জীর্ণ হয়ে পড়ে এবং বলিরেখায় ভরে যায়।

সবজি বেশি করে খান – বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে টক্সিন এবং মেটাবলিজম, কারণ এগুলি শরীরের অক্সিডেন্ট লেভেল কমিয়ে দেয়। সুতরাং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যুক্ত সবজি বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন।

ভিটামিন ‘ডি খান – পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ভিটামিন ‘ডি’ বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে আস্তে করতে সাহায্য করে। এই ভিটামিন ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, অধিক মাত্রায় ভিটামিন ‘ডি স্বাস্থ্যের সঙ্গে সঙ্গে সৗন্দর্যেরও ক্ষতি করতে পারে।

ডেয়ারি প্রোডাক্ট ক্ষতিকারক – বহু পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে দুধ এবং দুধের তৈরি অন্যান্য প্রোডাক্ট বেশি খেলে ব্রণ, মেচেতা ইত্যাদি হওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যে কারণে বয়স বেশি হয়েছে বলে মনে হয়।

ফাউন্ডেশন এবং মেক-আপ পাউডার লাগাবেন না – ত্বকে সরাসরি মেক-আপ লাগালে ত্বক, লালিত্য এবং আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে রুক্ষ হয়ে ওঠে। তাই সপ্তাহে এক-দু’বারের বেশি মেক-আপ লাগানো ঠিক হবে না। মাস্কারা এবং লিপস্টিক দিয়েই প্রয়োজন মেটাবার চেষ্টা করুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান – জীবনযাপন এবং পুষ্টির জন্যই শুধু নয়, সুস্থ থাকার জন্যও জলের ভূমিকা অপরিসীম। জল, ত্বকে পুষ্টি জোগায়, ফলে ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং ত্বকের যৌবনও বজায় থাকে।

 

বেলা জুড়ে বেলপাহাড়ি

বাতাসে আর বারুদের গন্ধ নেই। হাতে নেই অত্যাধুনিক অস্ত্র। চিড় ধরা অবিশ্বাসী মনে উন্নয়নের অনুকূল প্রলেপ। সবুজ হয়েছে আরও সবুজ। লাল ভাঙাচোরা পথে অজগর সদৃশ পিচ সড়ক। বাধা কাটিয়ে সেই সবুজ সমুদ্রে গা ভাসতে চলে যান জঙ্গল মহল। হয়তো ঝাড়া হাত পায়ে দুদিনের ছুটিতে ঝাড়গ্রাম গেছেন। রাজবাড়ি, চিড়িয়াখানা আর চিলকিগড় গিয়ে চিলতে ভ্রমণের ইতি টানতে চান। কিন্তু দিন বাড়িয়ে যদি পা বাড়ান বেলপাহাড়ি, তাহলে কেমন হয়?

দহিজুড়ি, বিনপুর, শিলদা হয়ে ৩৮ কিলোমিটার দূরে বেলপাহাড়ি। এখানে শাল, মহুয়া, সোনাঝুরি, পিয়াল, ইউক্যালিপটাস ও কেন্দুগাছের নিবিড় সমাবেশ। আদিবাসী অধু্যষিত এই অঞ্চলকে সাজাতে ঈশ্বর এতটুকু কার্পণ্য করেননি। যেখানে প্রকৃতির কোলে এক অদ্ভুত মাদকতা মিশে রয়েছে। লাল কাঁকুড়ে পথঘাটের সঙ্গে মিশে রয়েছে মহুয়ার মৌতাত।

travelogue
Belpahari

বেলপাহাড়ি বাজারে আসতেই দেখবেন, রাস্তা বেঁকেছে নানাদিকে। জিপিএস থমকে গেলে, বাজারের মুখটায় বোর্ডটা দেখে নিন। স্থানীয়দের সহযোগিতা পাবেন একশো শতাংশ।

প্রথমে গ্রাম্য পথ দিয়ে গাড়ি ছুটবে কানাইশোল। লাল কাঁকুড়ে পথ এখন পিচমোড়া। আদিম জঙ্গলে মোড়া পাহাড়তলির কানাইশোল-এর সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। তবে পাহাড় ঘেরা ছোট্ট লেক দেখতে হলে চড়াই রাস্তায় উঠতে হবে অনেকটা। রাজ্য বিভাজনের পাহাড়ও বলা চলে কানাইশোলকে। এই পাহাড়ের উলটো দিকেই ঝাড়খণ্ড রাজ্য। উদার আকাশ আর নয়নাভিরাম সবুজের সৌন্দর্য আগত পর‌্যটকদের বিমুগ্ধ করবে। ভিন্ন রাস্তায়, ভিন্ন গ্রাম্য পরিবেশকে দুচোখে দেখতে দেখতে, আবার বেলপাহাড়ি বাজার।

এবার গাড়ি ঘুরবে ঘাঘরা-র দিকে। বাজার থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে ঘাঘরা। ঘাঘরা পাথুরে রূপকথার চঞ্চলমতি এক ঝরনা। তাকে পাহারা দিচ্ছে শাল, পিয়াল, অমলতাস, ইউক্যালিপটাস-এর ছড়ানো প্রকৃতি। শীতে তার জলধারা ক্ষীণ। সবুজ দিগন্তের মাঝে বিস্তীর্ণ ব্ল্যাকস্টোনের কোলে সবুজ নীলাভ স্বচ্ছ জল। জলের আঘাতে পাহাড়গুলোর আকৃতি স্থানীয় ভাষায় গাগরি, অর্থাত্ কলশির মতো।

travelogue
Belpahari

এখানকার নির্জন পথে দেখবেন মাথায় জ্বালানি কাঠের বোঝা নিয়ে চলেছে স্থানীয় মহিলারা। রোজ সকালে এরা কাঠ কুড়োতে জঙ্গলে যায়। কাঠ বিক্রি করেই এদের সংসার চলে। অতীতে ১৮৭০ সালে বেলপাহাড়ির ব্রিটিশশাসক, ঘোড়ায় চড়ে ঘুরতে ঘুরতে ঘাঘরা-য় উপস্থিত হয়েিলেন। সেখানে দলবল নিয়ে বনভোজনও করেছিলেন। ক্রমেই এখানকার সৌন্দর্য মানুষের মুখে মুখে ফিরতে থাকে।

ঘাগরা থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছে তারাফেনি ব্যারেজ। কংসাবতী নদীকে জলবন্দি করা হয়েছে এখানে। ১০ লকের বাঁধ নীল সাদা রঙে আবদ্ধ। ব্যারেজের পাশেই পুলিশ ক্যাম্প। উলটো দিকের প্রকৃতি জুড়ে খেজুর গাছের ব্যাপ্তি। শীতে এখানে ভালো খেজুরগুড় মেলে। এখান থেকে জল শোধিত হয়ে বেলপাহাড়ি যাচ্ছে। তবে এর আর-একটা পরিচয়ও আছে। ঘাগরা সংলগ্ন তারাফেনি অববাহিকা অঞ্চলে, প্রাচীন জীবাশ্ম ও প্রস্তর যুগের কিছু চিহ্ন মিলেছে।

এবার মধ্যাহ্ন ভোজনের পালা। তার জন্য বেলপাহাড়ি বাজারে কাঁচালংকা রেস্টুরেন্টকে চুজ করতে পারেন। আবার গাড়ি ছুটবে ১২ কিলোমিটার দূরে গাড়রাসিনির দিকে। ঝিলিমিলি-র দিকে কয়ে কিলোমিটার দৌড়ানোর পরই বাম দিকের পথ ধরুন। সর্পিল পাহাড়ি পথ ধরে গাড়রাসিনির আঙিনায়। পাহাড় পাদদেশে অরণ্য মাঝে এক ধর্মীয় আশ্রম। তার চূড়ায় মন্দির। সেখানেই সিদ্ধি লাভ করেছিলেন সন্ন্যাসী সত্যানন্দ মহারাজ। এই গাড়রাসিনি পাহাড়ের পূর্বদিকে পড়বে খাঁদারানি ড্যাম। এই বাঁধের পান্না সবুজ জল আর পারিপার্শ্বিক সবুজ অরণ্যের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবেন।

হাতে সময় থাকলে চলে যেতে পারেন ২২ কিলোমিটার দূরে কাঁকড়াঝোড়। পাহাড়ঘেরা ঝরনা ঝংকৃত সবচেয়ে সুন্দর বনাঞ্চল এই কাঁকড়াঝোড়। এখনও পড়ে রইল লালজল গুহা, মযূর ঝরনা, তালবেড়িয়া ড্যাম। এসব দেখতে আরও একটা দিন অন্তত হাতে সময় রাখুন। এবার ঝাড়গ্রাম ফিরবেন, না ঝিলিমিলি, রানিবাঁধ, মুকুটমণিপুর-এর দিকে গাড়ি ছোটাবেন সেটা আপনার মর্জি।

কীভাবে যাবেন : হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রাম পৌঁছোতে দক্ষিণ পূর্ব রেলপথের ট্রেন ধরুন। তালিকায় রয়েছে ইস্পাত, স্টিল, লালমাটি, হাতিয়া, জনশতাব্দীর মতো ট্রেন। ঝাড়গ্রাম থেকে ৩৮ কিলোমিটার দূরে বেলপাহাড়ি ঘুরতে নিজস্ব গাড়ি রাখলেই ভালো হয়।

কোথায় থাকবেন : সরকারি গেস্ট হাউসের মধ্যে ঝাড়গ্রাম টুরিস্ট কমপ্লেক্স (০৩৩-২২৩৩৪০), ঝাড়গ্রাম টু্যরিজম ডেভলপমেন্ট কমিটি (৯৪৩৪৫০৮০২৮), ঝাড়গ্রাম প্রকৃতি পর্য‌্যটন কেন্দ্র (০৩৩-২২২৮৫৪৯)। ভাড়া ২০০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও বিভিন্ন মানের বিভিন্ন দামের অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে। ভাড়া মোটামুটি ৬০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

প্রযোজনীয় তথ্য : এই রুটে বাস চললেও ঝাড়গ্রাম থেকে ভাড়া গাড়ি করে নেওয়াই সুবিধা। বেলপাহাড়ি ঘুরতে ১৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে গাড়ি ভাড়া পড়বে।

ঝাড়গ্রামে সরকারি রুম বুকিং-এর জন্য কলকাতায় যোগাযোগের ঠিকানা : ৩/২ বিবিডি বাগ, কলকাতা-৭০০ ০০১ এবং ৬৫, রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার, ৭ম ফ্লোর, কলকাতা-৭০০ ০১৩।

কাজের ফাঁকে মুখরোচক

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন? বাড়িতে থাকলে হঠাত করেই বেশি ক্রেভিং হয়৷ তখন কিছু একটা মুখোরোচক খেতে ইচ্ছে করে৷ অথচ হাতে বেশি সময় নেই৷ এই পরিস্থিতিতে আপনাকে বাঁচাতে পারে ঘরে সহজে পাওয়া যায়, এমন দুটি সবজি৷ আলু এবং টম্যাটো৷ শুধু এদুটি থাকলেই আপনি নিমেষে তৈরি করে নিতে পারবেন দুটি টেস্টি টিট-বিট৷ রইল তারই রেসিপি৷

বাটার জ্যাকেট পট্যাটোজ

উপকরণ -৮-১০টা মাঝারি আকারের আলু, ১/২   বড়ো চামচ তেল, ১/২  কাপ মাখন, নুন, চাটমশলা প্রয়োজনমতো, ১টা লেবুর রস।

প্রণালী -আলু ধুয়ে একটি কাঁটার সাহায্যে আলুর গায়ে বেশ কিছু ফুটো করে নিন। হাতে ঘি বা মাখন লাগিয়ে আলুর গায়ে হাতটা ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। এবার আলুগুলো গ্রিলারে রাখুন বা শিকে গেঁথে নিন। উপর থেকে গলানো মাখন আর লেবুর রস ও নুন ছড়িয়ে গ্রিল করুন। সেদ্ধ হয়েছে বুঝলে গ্রিলার থেকে বের করে পুনরায় মাখন মাখিয়ে আরও একবার গ্রিল হতে দিন। গরম গরম জ্যাকেট পট্যাটোজগুলি ডিপ চাটনি, সস ও স্যালাডের সঙ্গে পরিবেশন করুন। প্লেটে সার্ভ করার আগে অবশ্যই আলুর উপর চাটমশলা ছড়িয়ে নিন।

Recipe Spicy Tomatoes

স্পাইসি টম্যাটো

উপকরণ– ৪-৫টা মাঝারি আকারের টম্যাটো, ১-১  ছোটো চামচ অলিভ অয়েল, অরিগ্যানো, নুন ও চাটমশলা, গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী – টম্যাটোগুলি ধুয়ে অল্প মাখন হাত নিয়ে মাখিয়ে নিন। একটু নুন-ও বুলিয়ে নেবেন একই সঙ্গে। এরপর শিকে গেঁথে গ্রিল করুন। টম্যাটো সেদ্ধ হয়ে খোসাটা ফাটাফাটা হয়ে এলে বের করে নিন। ২ ভাগে কেটে চাটমশলা, গোলমরিচ ছড়িয়ে নিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব