বদহজম থেকে বাঁচুন

আমাদের দেশ তথা পৃথিবী এখন অতিমারির গ্রাসে বিপর্যস্ত। এখনও আমরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রেহাই পাচ্ছি না। তাই স্বাভাবিক জীবনযাপনে এখনও আমরা ফিরতে পারিনি। কমেছে বাইরে বেরোনো কিংবা হইহুল্লোড়। তাই এখনও আমরা ঘামঝরানো পরিশ্রম করতে পারছি না। এক কথায় বলতে গেলে, অনেকটাই বদলে গেছে আমাদের জীবনশৈলী।

সকাল ১০টা থেকে ১১টায় হয়তো আমরা ব্রেকফাস্ট করছি, লাঞ্চ করছি ৩-টে বা ৪-টের সময়, ডিনার করছি হয়তো রাত ১২টায়। শুধু তাই নয়, পরিশ্রম কমে যাওয়ার জন্য রাতে কম সময় ঘুমোচ্ছি কিংবা হয়তো ঘুম গভীর হচ্ছে না। সেইসঙ্গে, বাড়িতে থাকার কারণে, তেলঝাল-যুক্ত মুখরোচক খাবার হয়তো বেশি খেয়ে নিচ্ছি। ফলে, অনেক সময় প্রকট হচ্ছে বদহজমের সমস্যা। এরই পাশাপাশি, বেশি খাওয়া এবং তুলনায় কম পরিশ্রম, বাড়ছে দেহের ওজনও। আর, এই ওজন বৃদ্ধি এবং বদহমজ মানেই হার্ট এবং লিভারের উপর চাপ পড়া।

এর ফলে, যে-কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক কিংবা লিভারের বড়ো অসুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। আর এইসব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে বিপদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে অনেকটাই। অতএব, সতর্কতা এবং সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

সুস্থ থাকার উপায়

প্রথমে নিজেকে সুস্থ রাখার মানসিক প্রস্তুতি নিন। আগের মতো নিয়ম-নিষ্ঠার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করুন। ভোরবেলা বিছানা ছাড়ুন, যোগাসন করুন অথবা হাঁটুন অন্তত তিরিশ মিনিট। এর ফলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এরপর হালকা গরম জলে এক চা-চামচ পাতিলেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এতে শরীরে ভিটামিন সি যুক্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং পেট পরিষ্কার থাকবে।

দিনের এবং রাতের খাবার খেতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে এবং খাবারের পরিমাণও থাকবে অল্প। বেশি তেলঝাল-যুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে। পরিবর্তে শাকসবজি, স্যালাড এবং ফলমূল রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়। ডিম, মাছ এবং মাংস, অর্থাৎ প্রোটিন-যুক্ত খাবার খেতে হবে খুব অল্প পরিমাণে।

এ প্রসঙ্গে মনে রাখবেন, আগের স্বাভাবিক জীবনে (অতিমারির আগে) যে-পরিমাণ খাবার খেতেন, তার থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ খাবার কম খাবেন এখন কিন্তু প্রোটিন এবং ভিটামিন-এ ব্যালান্স রাখতে হবে। কমাতে হবে কার্বোহাইড্রেট-যুক্ত খাবার। হাই-ক্যালোরিযুক্ত খাবার এবং পানীয়, যেমন চকোলেট, আইসক্রিম, পেস্ট্রি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ননভেজ চাউমিন, ঠান্ডা পানীয় প্রভৃতি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে, বন্ধ করতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপানের কু-অভ্যাস।

আর ফেসবুক-এর আসক্তি কমিয়ে যতটা সম্ভব কোয়ালিটি টাইম পাস  করুন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। কারণ, হাসি মজা আর হুল্লোড়ে কিছুটা সময় কাটাতে পারলে, মন ভালো থাকবে।                                                        অনুলিখনঃসুরঞ্জন দে

পুনর্জন্ম

থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল ইলা। মায়ের ঘরে আধাখোলা দরজাটার ভিতর থেকে কথাগুলো ভেসে এসে ইলার কানে তপ্ত  তরল ঢেলে দিল যেন… অফিস থেকে ফিরে বাইরের ঘরের দরজাটা খোলা দেখেই মেজাজ-টা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল ইলার। সবাই নিশ্চয়ই ভিতরে বসে গল্পে মশগুল… পাড়ায় আজকাল দিনে দুপুরে চুরি হচ্ছে… অথচ বাড়িতে দ্যাখো কারও হুঁশ নেই…। মনে মনে তৈরি হয়ে ছিল মা-কে ঝাড়বে বলে কিন্তু মায়ের ঘরের সামনে এসে আর এগোতে পারল না ইলা, ওখানেই পাথরের মতো দাঁড়িয়ে পড়ল।

ঘরের ভিতর থেকে ছোটো ভাই শিবুর গলা ভেসে এল, ‘দ্যাখো মা, এরপর আমি আর এখানে আসব না। সারা পাড়ায় দিদিকে নিয়ে যেভাবে চর্চা চলছে তাতে লজ্জায় আমার মাথা কাটা যাচ্ছে। কারও সঙ্গে দেখা হলে লজ্জায় চোখ তুলে কথা বলতে পারি না। কী দরকার দিদির, সম্রাট স্যারের সঙ্গে টুরে যাওয়ার? নিজের কথা নাই বা ভাবল, অন্তত বাড়ির লোকেদের সম্মানের খেয়ালটা তো রাখা উচিত।’

আধখোলা পাল্লাটার ভিতর থেকে মায়ের উপর দৃষ্টি পড়ল ইলার। শাড়ির আঁচলে চোখ মুছে খানিকক্ষণ চুপ করে থাকল মা। তারপর ভাইকে উদ্দেশ্য করে মা-কে বলতে শুনল, ‘আমিই বা কী করি বল? বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব ও নিজের কাঁধে নিয়ে আমারও তো মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু বলতে গেলেই রেগে ওঠে। আমার এই বাড়িতে দম বন্ধ হয়ে আসে। কিছু বললেই আত্মহত্যা করবে বলে ভয় দেখায়। এবার আমি তোর সঙ্গে তোর ওখানে চলে যাব, ও থাকুক এখানে একা। বাপের সব দায়িত্ব নিয়েছে বলে কি মাথায় চড়ে নাচবে? এমন কার্যকলাপ করছে যে মুখে কালি লাগতে আর দেরি নেই। কত সম্বন্ধ এল কিন্তু তোর দিদির কাউকেই পছন্দ হল না। এখন এত বয়সে কোন ছেলেই বা ওকে বিয়ে করবে? তার উপর একবার যদি বদনাম রটে যায়…’

মায়ের পুরো কথাটা কানে ঢুকল না ইলার। মাথাটা ঝাঁ ঝাঁ করতে লাগল ওর। অনেক কষ্টে চোখের জল আটকাবার চেষ্টা করতে করতেই ছোটো বোন এষার গলা কানে এল, ‘দিদি আর সম্রাটের গল্প আমার শ্বশুরবাড়িতেও পৌঁছে গেছে। শাশুড়ি তো আমার মুখের উপরেই দিদিকে ‘নির্লজ্জ বলতে দ্বিধা করেন না। এমনকী দেওরও কথায় কথায় আমাকে বলে, তোমার দিদির অফিসে এত হোল্ড, তা দিদিকে বলো না সম্রাট-কে বলে ওখানে আমার একটা চাকরি করে দিতে। অনিলও মাঝেমধ্যেই দিদিকে নিয়ে আমায় পরিহাস করে। সত্যিই মা, লজ্জায় শ্বশুরবাড়িতে আমার মাথা কাটা যায়।’

‘ঠিকই বলেছিস এষা, বেয়ান বাড়িতে আমার সম্মানটা ধুলোয় মিশে গেল। এসব কথা আরও বাড়িয়ে চড়িয়ে সকলে আলোচনা করে। কারও সাহস আছে ইলাকে কিছু বোঝাবার। মায়ের কথাগুলো ইলার মনে ছুরির মতো বিঁধে গেল, দরজায় দাঁড়িয়ে একটা প্রতিবাদের শব্দও মুখ থেকে বেরোল না।

‘দিদি সবাইকে জ্ঞান দিত, এটা করিস না, এই জামাটা পরিস না, অমুকের সঙ্গে মিশিস না, ছেলেদের সঙ্গে বেশি কথা বলা উচিত নয়– আর এখন দ্যাখো নিজেই এর একটা কথাও মেনে চলে না, এষার কথাগুলো ইলাকে সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

মনে মনে ইলা ভাবে পরিবারের কাছ থেকে এটাই ওর পাওনা ছিল অথচ এই পরিবারের জন্যই সমস্ত স্বার্থত্যাগ করে এই কঠিন দায়িত্বভার অক্লেশে নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল বাবার মৃত্যুর পর। না চাইতেও চোখে জল চলে এল ইলার। ওর প্রতি সকলের অভিযোগের কারণ কী সেটা জানতে এবং তার একটা সুযোগ্য উত্তর দেওয়ার জন্য ঘরে ঢুকতে গিয়েই আবার থেমে গেল ইলা। সব থেকে ছোটো বোন ইমনের কথাগুলো কানে গেল ওর, ‘আমার শ্বশুরবাড়িও দিদির ব্যাপারে সব কিছুই জানে কিন্তু আমার সামনে কখনও কিছু বলে না। অলোক একদিন আমাকে বলছিল, ‘তোমাদের উচিত সকলে মিলে একটা ভালো পাত্র দেখে দিদির এবার বিয়ে দিয়ে দেওয়া। তোমাদের জন্য দিদি যতটা স্বার্থত্যাগ করেছে তাতে তাকে নিয়ে এইসব আলোচনা করা একেবারে অনুচিত। শিবুকে বলো ভালো পাত্র খোঁজ করে দিদির বিয়ে দিতে আর মা-কে নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে রাখতে।’ মা, আমারও এই ব্যাপারে একই মত। এত আলোচনা না করে দিদিকে সংসারী করে দেওয়াটা এবার আমাদেরই দায়িত্ব।’

শিবু সব শুনে রাগত স্বরে বলে, ‘তাহলে ইমন, তুই অলোককেই বল না দিদির জন্য একটা ভালো পাত্রের সন্ধান করতে। বসে বসে অমন লেকচার সবাই দিতে পারে।’

ইমনের কথায় ইলা একটু হলেও স্বস্তি অনুভব করে। পরিবারে কেউ তো একজন এমন আছে যে ওর সম্পর্কে কিছু ভালো ভাবে। ভাবতে ভাবতে ইলা দরজা ঠেলে ঘরের ভিতর ঢুকে আসে। হঠাৎ ওকে দেখে সকলেরই মুখ বন্ধ হয়ে যায়, ঘরের মধ্যে নেমে আসে এক অস্বস্তিকর নীরবতা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মা-ই প্রথম এগিয়ে আসেন, ‘আরে ইলা, তুই ভিতরে কীভাবে ঢুকলি? নিশ্চয়ই এষা আজও দরজা বন্ধ করতে ভুলে গেছে?’ থেমে থেমে জিজ্ঞেস করেন মেয়েকে।

‘বোধহয় নিয়তির এটাই ইচ্ছে… ওই ইচ্ছে করে দরজা খোলা রেখে দিয়েছে যাতে আমি আমার আপনজনদের মুখোশের তলায় লুকিয়ে থাকা আসল মুখটাকে দেখতে পাই। আমার সম্পর্কে তোমাদের মনে এতটা বিষ জমা হয়েছিল সেটা হঠাৎ করে না এসে পড়লে আমি জানতেই পারতাম না। আমার জন্য তোমাদের সকলের সামনে লজ্জিত হতে হয়! ভালোই হল সবকিছু আমি নিজের কানে শুনে নিলাম। ’ কোনওমতে চোখের জল আটকে ইলা মায়ের দিকে ফিরল, ‘মা, আমি আগে তোমার অভিযোগের উত্তর দিতে চাই। তুমি সত্যিই কি সেই দিনগুলো ভুলে গেলে যখন বাবার মৃত্যুর পর সব আত্মীয়স্বজনরা আমাদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেছিল? তোমার সামনে তখন পাহাড় প্রমাণ দায়িত্ব… তুমি কী করবে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলে, সবসময় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আত্মহত্যার কথা ভাবতে। তোমাদের চারজনের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি কত রাত যে ঘুমোতে পারিনি সেটার হিসেব আজ কে করবে? তিন ভাইবোনের ভবিষ্যতের প্রশ্ন আমার সামনে তখন, সুতরাং নিজের স্বপ্নের গলা টিপে ধরা ছাড়া আমার আর কোনও উপায় ছিল না। নিজের পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে বাবার জায়গায় ওই কোম্পানিতে চাকরি নিতে বাধ্য হই… আইএএস হওয়ার স্বপ্ন আমার চুরমার হয়ে যায়। পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হই। মা, আমারও অনেক স্বপ্ন ছিল। আমিও চেয়েছিলাম আমার নিজের সংসার, যেখানে আমি সকলের মধ্যমণি হয়ে থাকব। তুমি তো মা, তুমি কেন আমার সেই রামধনুরঙের স্বপ্নগুলো দেখতে পাওনি? নিজের স্বামীর সমস্ত দায়িত্ব আমার কাঁধে ফেলে দিয়ে নিজে সুখের নিদ্রায় ডুবে গেছ। শিবু, এষা, ইমন যে-যার জীবনে সেটেল হয়ে গেছে। আজ এতদিন পর তোমরা আমার খারাপটা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছ, অথচ ভালোটা কখনও তোমাদের চোখেই পড়ল না। মা, আমিও তোমার মেয়ে। তুমি কেমন মা যে-কিনা নিজের তিন সন্তানের জীবন সুন্দর করে গড়ে দিতে গিয়ে বড়ো মেয়ের জীবন ছারখার করে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করোনি?’

মা-কে পাথরের মূর্তির মতো বসে থাকতে দেখে ইলা চুপ করে যায় কিন্তু নিজের রাগকে কিছুতেই সংযত করতে পারে না। ভাইয়ের দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে, ‘আজ লজ্জায় তুই মাথা তুলতে পারছিস না… সেদিন এই বস্তুটা কোথায় ছিল যখন মেডিকেল এন্ট্রান্স পরীক্ষায় তিন তিনবার ফেল করেছিলি? ডোনেশন দিয়ে নাম ঢোকানোর জন্য বেশ কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন হয়েছিল? এর জন্য কতটা মূল্য আমাকে দিতে হয়েছিল কোনওদিন খোঁজ নিয়েছিস… তোকে ডাক্তার বানাবার জন্য আমার কুমারীত্ব বিসর্জন দিতে হয়েছিল। তখন তোদের বয়স এতটাও কম কিছু ছিল না যে তোরা কিছুই বুঝতে পারিসনি এত টাকা দিদি কীভাবে নিয়ে এল? অথচ আজ যখন তোদের দরকার ফুরিয়েছে তখন আমি তোদের চোখে এত খেলো হয়ে গেলাম?’

শিবু মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইল, কী উত্তর দেবে ভেবে পেল না। তবুও ইলার জিজ্ঞাসু দৃষ্টির সামনে মুখ খুলতে বাধ্য হল, ‘তুই ভুল বুঝছিস দিদি… আমি ঠিক এটা বলতে চাইনি।’

আহত বাঘিনির মতো গর্জে উঠল ইলা, ‘চুপ কর… আমি নিজের কানে শুনেছি তোরা আমার সম্পর্কে কী ভাবছিস… আর এষা তুই কী করে ভুলে গেলি যেদিন পাড়ার ওই গুন্ডা ছেলেটার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়েছিলি? ভাগ্যিস সম্রাট স্যারের ড্রাইভার তোদের দেখে ফেলে স্যারকে তৎক্ষণাৎ জানিয়েছিল…। সেদিন ওই সম্রাট-ই আমাকে জানাবার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ থানায় যাওয়ার জন্য গাড়িটাও আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। তোকে পাত্রস্থ করার জন্য কতটা কাঠখড় আমাকে পোড়াতে হয়েছিল কোনওদিন খবর নিয়েছিস… তোর শ্বশুরবাড়ির ডিমান্ড পূরণ করার জন্য কত টাকা আমি ধার নিয়েছি জিজ্ঞাসাও করিসনি কখনও। বাড়ির কেউ জানতে চায়নি কখনও এত টাকার ব্যবস্থা আমি একা কীভাবে করলাম? আর আজ আমার জন্য শ্বশুরবাড়িতে তোকে লজ্জা পেতে হচ্ছে! পাঠিয়ে দিস তোর দেওরকে। কিছু না কিছু বন্দোবস্ত আমি আমাদের কোম্পানিতে ঠিকই করে দিতে পারব।’

দিদির মুখে পুরোনো কথাগুলো শুনে হঠাৎই অনুতাপে দগ্ধ হতে থাকল এষা। সত্যিই দিদির এতবড়ো ত্যাগ স্বীকারের বদলে ওরা দিদির জন্য কী করেছে? চোখের জল মুছে নিয়ে দিদিকে যেন নতুন করে দেখল। সবার সামনেই বলে উঠল, ‘সেদিন পালিয়ে যেতে দিতিস আমাকে ছেলেটার সঙ্গে…। কী দরকার ছিল আমার জন্য নিজের এত বড়ো ক্ষতি করার…। পড়াশোনা করিয়ে আমাদের যোগ্য করে তুলেছিস, আমাদের উচিত ছিল বাড়ির দায়িত্ব ভাই-বোন সকলে মিলে তোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। নিজের জন্য বিষটা তুলে রেখে আমাদের অমৃত খাইয়েছিস, আর আমরা তোর এই ভালোবাসার কী প্রতিদান দিলাম? কেন আমাদের জন্য নিজেকে এভাবে নিঃশেষ করে দিলি? নিজে জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গেলি অথচ আমাদের গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগতে দিলি না।’, আর কথা বলতে পারল না এষা, কান্নায় ভেঙে পড়ল।

মা এতক্ষণ মুখ নীচু করে সবকিছু শুনছিলেন, এবার বড়ো মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সত্যি ইলা, আমরা এতটা নির্দয় কী করে হতে পারলাম। মেয়ের স্বার্থত্যাগকে সম্মান করার বদলে তোর প্রতি এতটা কঠোর কীভাবে হয়ে উঠলাম… ইমন যা তো মা, তোর দিদির জন্য চা করে নিয়ে আয়।’

‘আমার জন্য কাউকে চা করতে হবে না’, বলে ইলা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।

বিছানায় এসে বসতেই পুরোনো সব স্মৃতি এক এক করে চোখের সামনে ভিড় করতে লাগল। এই পরিবারটার জন্য কী না করেছে ও। সম্রাট স্যার ওর জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু উনিও তো সবকিছু পাওনা-গন্ডা পুরোপুরি উশুল করে নিয়েছেন ওর দেহটাকে ব্যবহার করে। তা সত্ত্বেও পরিবারের সকলকে সুখী করতে পেরেছে এই ভেবে নিজের ক্ষতিটা নিয়ে কোনও অনুতাপ ও কোনওদিন করেনি। সবকিছু ভুলে জীবনে এগিয়ে যাওয়ারই চেষ্টা করেছে। যখনই দায়িত্বের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে, তখনই তার মূল্য দিতে হয়েছে শরীর দিয়ে। অথচ এই নিয়ে কারও কাছে কোনওদিন নালিশ জানায়নি ইলা।

অথচ একটা সময় কত স্বপ্ন ছিল ওর চোখে। কিন্তু অন্যদের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়ে নিজের দিকে তাকাবার সময় পেল কোথায়? হঠাৎ করে আজ এতদিন পর শেখরের চেহারাটা ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল যে কিনা ইলাকে নিজের প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসত। যার সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত ইলা।

অথচ ইলাকে তিল তিল করে পরিবারের জন্য মরতে দেখতে পারত না শেখর। বহুবার বিয়ের প্রস্তাব রেখেছে ইলার সামনে। ইলাই পারেনি সেই ডাকে সাড়া দিতে। শেষে অভিমান করে সরে গেছে শেখর। শুধু ইলার উপরেই অভিমান নয়– সমস্ত পৃথিবীর প্রতি দুর্বার অনীহা নিয়ে ঈশ্বরের কোল-কে বেছে নিয়েছিল শেখর।

আজ এত বছর পর আপশোশের আগুনে দগ্ধ হতে থাকে ইলা। শেখর চেয়েছিল ইলার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে কিন্তু আত্মসম্মান হারাবার ভয়ে সেদিন ইলা শেখরকে ফিরিয়ে দিয়েছিল খানিকটা জেদবশতই। কঠোর করে নিয়েছিল নিজেকে। আজ, কে মূল্য দেবে তার চোখের জলের?

অনেকটা সময় পেরিয়ে যেতেও ইলা দরজা না খোলাতে ইলার বাড়ির সকলে চিন্তিত হয়ে পড়ল, যদি মেয়েটা অভিমান করে খারাপ কিছু একটা করে বসে। সকলে দরজার বাইরে ওকে ডাকাডাকি আরম্ভ করে দিল। কিন্তু বাড়ির সকলের থেকে পাওয়া আঘাত ইলাকে পাথর করে তুলেছিল। ভাই-বোনের শত ডাকাডাকিতেও ইলার আচ্ছন্ন ভাব কাটল না। মরার মতো পড়ে রইল বিছানায়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব শিবুকে চিন্তায় ফেলে দিল। ঘাবড়ে গিয়ে এবং মায়ের পীড়াপীড়িতে ও ইলার অফিসের সহকর্মী জাভেদকে ফোন করল তাড়াতাড়ি ওদের বাড়িতে চলে আসার জন্য। জাভেদের বাড়ি ইলার বাড়ি থেকে খুব দূরে নয় বলেই পনেরো মিনিটের মধ্যে জাভেদ পৌঁছে গেল ইলাদের বাড়ি।

জাভেদ এসে ইলার নাম ধরে ডাকাডাকি করতেও দরজা বন্ধই রইল। জাভেদ এবার ভয় পেল, ঝোঁকের বশে ইলা কিছু করে বসেনি তো?

‘শিবু, আমার মনে হয় দরজা ভেঙে ফেলাই উচিত হবে, জাভেদের গলার স্বরে ব্যাকুলতা স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠল।

বহু বছরের দৗড়ঝাঁপের পর ইলার নিজেকে বড়ো ক্লান্ত লাগছিল। ঘুমে আচ্ছন্ন হয়েছিল ওর মস্তিষ্ক, ওর সারা শরীর। হঠাৎ ঘোরের মধ্যে দূর থেকে বহু পরিচিত একটা কণ্ঠ ভেসে আসতে শুনল। হঠাৎই মনে হল ওর নাম ধরেই ডাকছে পরিচিত কণ্ঠটি। কোনওমতে টেনে তুলল শরীরটাকে, টলতে টলতে এসে দরজা খুলে দিল। দরজা খুলতেই প্রথমে যার উপর দৃষ্টি পড়ল, নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারল না ইলা। টলোমলো পায়ে এগিয়ে আসতেই জাভেদের মজবুত বাহু জড়িয়ে ধরল ইলাকে শক্ত করে। জাভেদের চোখের গভীরে লুকিয়ে থাকা নিশ্চুপ ভালোবাসার সমুদ্রে তলিয়ে যেতে যেতে নতুন করে আবার যেন বাঁচার ইচ্ছা জেগে উঠল ইলার মনে। ধবংসের অতলে তলিয়ে যেতে যেতেও বাঁচার স্পৃহা ইলাকে চেপে ধরল।

একমাসের মধ্যে জাভেদের সঙ্গে ইলার কোর্ট ম্যারেজ হয়ে গেল। জাভেদের স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েই মারা যায়। জাভেদের বৃদ্ধা মা ফতিমা বেগমও জাভেদের দুই সন্তানের দেখাশোনাও আর করতে পারছিলেন না। একই কলেজে পড়ার সময় থেকেই ইলাকে নিজের জীবনসঙ্গিনী করার স্বপ্ন ছিল জাভেদের। কিন্তু ধর্মের দূরত্ব জাভেদের পায়ের বেড়ি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কলেজের দিনগুলোতে সেটা লঙঘন করার ক্ষমতা জাভেদের ছিল না। ইলাও কোনওদিন জানতে পারেনি ওর প্রতি জাভেদের মনোভাব, আর জানলেও হয়তো সম্পর্কের মান রাখা সেদিন তার পক্ষেও সম্ভব হতো না।

জাহিদার সঙ্গে বিয়ের পরেও ইলাকে মন থেকে মুছে ফেলতে পারেনি জাভেদ। জাহিদার মৃত্যুর পর ইলাকে নিজের করে পাওয়ার ইচ্ছা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল। ইলাও জাভেদের চোখের ভাষা পড়তে ভুল করল না। অফিস থেকে আসতে যেতে মাঝেমধ্যেই ইলা চলে যেত জাভেদের বাড়ি। ওখানে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে নিজের অতৃপ্ত মাতৃত্বের অভাব পূরণ করার চেষ্টা করত। জাভেদের সঙ্গে সঙ্গে ফাতিমা বেগমও ইলার আসার অপেক্ষায় চোখ চেয়ে থাকতেন। বহুবার ইলা জাভেদের দ্বিতীয় বিয়ে দেবার কথা তুলেছে কিন্তু ফাতিমা বরাবরই বাচ্চাদের সৎমার কথা ভেবে শিউরে উঠেছেন।

বাচ্চাদের প্রতি টান অনুভব করলেও জাভেদকে বিয়ে করে ধর্মের উঁচু দেয়াল পেরোবার সৎসাহস ইলা তখন জোটাতে পারেনি কিন্তু আজ এই কাঁটাতার ও অনায়াসে পার করে নিতে পারল। কে কী বলবে, পারিবারিক বা সামাজিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, এসব ভাবনা দূরে সরিয়ে রেখে জাভেদের সবল বাহুতে নিজের ক্লান্ত শরীর মনকে একসাথে সঁপে দিল। জাভেদেরও বহু বছরের জমে থাকা ভালোবাসা ফল্গুনদীর ধারায় ইলার প্রতি ঝরে পড়তে বিলম্ব হল না। ফাতিমা বেগমও নিজের বিয়ের ওড়না দিয়ে ইলাকে জড়িয়ে দুহাতে নিজের বুকে টেনে নিলেন।

ইলার অফিসেও এই বিয়ে নিয়ে আলোচনার বদলে সকলে খুশি হয়ে একটা পার্টির আয়োজন করল। সম্রাট স্যারও অনুষ্ঠানের অনেকটা দায়িত্বই নিজের উপর নিয়ে নিলেন। বিয়ের সাজে সজ্জিত হয়ে ইলা আর জাভেদ অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠল। ছাইয়ের গাদায় অগ্নিস্ফুলিঙ্গ-কে পুনরুজ্জীবিত করতে, নতুন আলোয়, নতুন খুশিতে জীবনকে ভরে তুলতে দুজনে একে অপরের কাছে অঙ্গীকার বদ্ধ হলও।

বাঙালির প্রিয় ভাজাভুজি

একটি গ্লোবাল সার্ভে অনুসারে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভারতীয় দুপুরের বা রাতের খাবারের থেকে ভাজাভুজি বেশি পছন্দ করেন এবং প্রায় ৫৬ শতাংশ মানুষ, রাতের এবং দুপুরের খাবার না খেয়ে ভাজাভুজি বেশি খেয়ে থাকেন।

এখন প্রশ্ন হল,ভাজাভুজি খাওয়ার ফলে কি আমাদের শরীরের উপর প্রভাব পড়তে পারে?

একটা জরুরি কথা মাথায় রাখতে হবে সেটা হল ভাজাভুজি খেলে কেউ মোটা হয়ে যায় না, তবে ক্যালোরি-যুক্ত ভাজাভুজি খেলে বা শরীরের পক্ষে অস্বাস্থ্যকর ভাজাভুজি বেশি খেলে, শরীরের ওজন বেড়ে যায়। তাই ভাজাভুজিকে বদনাম না করে বা দোষ না দিয়ে, সচেতন হোন,কোন খাবারগুলো আমাদের শরীরের পক্ষে ভালো সে ব্যাপারে। তাই ভাজাভুজি খাওয়ার সময় সঠিক এবং স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বেছে নিয়ে তা নির্দ্বিধায় খান।

আর নিয়ম ভেঙে এক-আধ দিন, চায়ের সঙ্গে বানিয়ে ফেলুন এই সুস্বাদু রেসিপিগুলি।

অনিয়ন রিংস

উপকরণ : দেড় কাপ ময়দা, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, অল্প ধনেপাতাকুচি, ২টো কাঁচালংকাকুচি, আড়াই কাপ বিয়ার, অল্প গোলমরিচের গুঁড়ো, ভাজার জন্য তেল, ৩টে বড়ো পেঁয়াজ রিং আকারে কাটা, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী : একটা মিক্সিং বোল-এ ময়দা ঢেলে বেকিং পাউডার ধনেপাতা আর কাঁচালংকা ছড়িয়ে ভালো ভাবে মেশান। এতে বিয়ার, নুন আর গোলমরিচের গুঁড়ো দিয়ে ফেটাতে থাকুন। গাঢ় মিশ্রণ তৈরি হলে সরিয়ে রাখুন।

এবার কড়ায় তেল গরম করে, একটা করে পেঁয়াজের রিং এই মিশ্রণে ডুবিয়ে ভেজে নিন। টিশু পেপারে রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিয়ে চাটনির সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

Fried snacks

করিয়ান্ডার স্পিনাচ ফ্রিটার্স

উপকরণ : ৩০০ গ্রাম পালংশাককুচি, ৩/৪ কাপ বেসন, ১/৩ কাপ চালগুঁড়ো, ১/২ কাপ ইয়োগার্ট, ৪ বড়ো চামচ ধনেপাতাবাটা, ২ বড়ো চামচ কাঁচালংকার পেস্ট, ১ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ জোয়ান, ভাজার জন্য তেল, নুন স্বাদমতো।

 প্রণালী : একটা মিক্সিং বোল-এ তেল বাদ দিয়ে অন্য সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। অল্প জল দিয়ে গাঢ় মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার কড়াই মিডিয়াম আঁচে রেখে, তেল গরম করুন। তেল ভালো ভাবে গরম হলে, অল্প একটু তেল নিয়ে মিশ্রণের উপর ছড়িয়ে দিন। তারপর ভালো ভাবে আরও একবার ফেটান। এবার মিশ্রণ থেকে অল্প করে হাতে নিয়ে পকোড়া, তেলে ভাজতে থাকুন। টিশু পেপারে তুলে তেল ঝরিয়ে নিন। চায়ের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

শিশুদের খাবার

যারা মা হতে চলেছেন কিংবা হয়েছেন, তারা তাদের বাচ্চাদের কী খাওয়াবেন, তাই নিয়ে চিন্তায় থাকেন। কারণ, বাচ্চারা সব খাবার খেতে চায় না কিন্তু তাদের শরীরে পুষ্টির জোগান দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরীর এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কোন বয়সের বাচ্চাদের কী খাওয়ানো উচিত, সেই  Healthy diet প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন বিশেষজ্ঞরা।

শিশুর প্রথম আহার

সদ্যোজাতদের প্রথম এবং প্রধান আহার হল মায়ের বুকের দুধ। হালকা হলুদ রং-এর এই দুধ শিশুর আদর্শ খাবার। এই দুধকে বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক। শিশুদের ইমিউন সিস্টেমকে মজবুত করে এই দুধ। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং শরীরে পুষ্টি ও শক্তি জোগায়। মা হওয়ার একঘন্টা পর থেকে শিশুকে খাওয়াতে পারেন এই দুধ। মনে রাখবেন মাতৃদুগ্ধের কোনও বিকল্প নেই।

মাস পর্যন্ত শিশুদের আহার

জন্ম নেওয়ার পরই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার তন্ত্র বিকশিত হয় না এবং খাবার হজম করানোর ব্যাক্টেরিয়াও পাকস্থলীতে থাকে না। তাই শিশুখাদ্য এমন হওয়া চাই, যা হালকা, সুপাচ্য এবং পুষ্টিকর। মায়ের বুকের দুধে থাকে সঠিক মাত্রায় শর্করা, জল এবং প্রোটিন। এসব শিশুর স্বাস্থ্য এবং বিকাশের জন্য জরুরি। মায়ের দুধের এইসব উপাদান থাকার কারণে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরামর্শ দিয়েছে, ৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে Breast Milk খাওয়ানো আবশ্যক।

থেকে ১২ মাস পর্যন্ত Baby diet

৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত শিশুদের মিনারেলস, ভিটামিন প্রভৃতির ভীষণ দরকার। কারণ এই বয়স সঠিক বিকাশের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার সময়। অনেক বাচ্চা এই সময় অ্যানিমিয়াতে আক্রান্ত হয়, তাই অ্যানিমিয়া আটকাতে পুষ্টিকর খাবার জোগান দেওয়া জরুরি। বাচ্চা সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, তা দেখার দায়িত্ব মা-বাবার। তাই এই বয়সের শিশুদের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে কলা, গাজর, আড়ু, রাঙাআলু, আলু, মটর প্রভৃতি। এসবের মিশ্রণে তৈরি চিকেন স্যুপ খাওয়ানো জরুরি। সেইসঙ্গে চিনি ছাড়া দই, ওট্‌স প্রভৃতি খাওয়ানো যেতে পারে।

থেকে বছর বয়স পর্যন্ত

সকালের খাবার – ভালো মানের বিস্কুট জলে ভিজিয়ে খাওয়ান প্রথমে। তারপর দুধে ভিজিয়ে খাওয়ান স্যাঁকা ব্রেড এবং কাঠালি কলার অর্ধেক।

দুপুরের খাবার – ভাতের সঙ্গে আলু, পেঁপে, গাজর, বিন্স প্রভৃতি সেদ্ধ করা সবজি চটকে, অল্প ঘি মাখিয়ে খাইয়ে দিন। সেইসঙ্গে খাওয়ান সেদ্ধ ডিমের কুসুম।

রাতের খাবার – ডাল, ব্রাউন রাইস, সবজি প্রভৃতির খিচুড়ি বানিয়ে খাইয়ে দিন।

থেকে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত

স্তন্যপান বন্ধ হওয়ার পর শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো জরুরি। কারণ এই সময় শরীর এবং  মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। তাই, জেনে নিন কোন বয়সের শিশুর কতটা ক্যালোরির প্রয়োজন–

২ থেকে ৩ বছর ছ ১০০০-১১০০ ক্যালোরি

৩ থেকে ৫ বছর ছ ১১০০-১২০০ ক্যালোরি

৫ থেকে ৮ বছর ছ ১২০০-১৪০০ ক্যালোরি

৮ থেকে ১২ বছর ছ ১৪০০-১৬০০ ক্যালোরি (মেয়ে) এবং ১৬০০-১৯০০ ক্যালোরি (ছেলে)

পুষ্টিকর জোগান

কার্বোহাইড্রেট – সবজি থেকে ৩৩ শতাংশ

ভিটামিন এবং মিনারেল্স – ফল এবং সবজি থেকে ৩৩ শতাংশ

আমিষযনিরামিষ প্রোটিন – ১২ শতাংশ

ডেয়ারি প্রোটিন – ডেয়ারিজাত দ্রব্য থেকে ১৫ শতাংশ

শর্করা – মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য থেকে ৭ শতাংশ

জল

২ থেকে ৩ বছর – ১ থেকে ২ গেলাস

৩ থেকে ৫ বছর – ২ থেকে ৩ গেলাস

৫ থেকে ৮ বছর – ৩ থেকে ৪ গেলাস

৮ থেকে ১২ বছর – ৪ থেকে ৫ গেলাস

(১ গেলাস – ২৫০ মিলিলিটার)

পর্যা৫ প্রোটিন এবং ভিটামিনের জন্য অঙ্কুরিত মুগ, অঙ্কুরিত ছোলা, আপেল, বেদানা, আঙুর, ডিমের কুসুম প্রভৃতি উপযুক্ত আহার।

সতর্কতা

আজকাল জাংক ফুড খুব পছন্দ করে বাচ্চারা। কিন্তু এই জাংক ফুড অত্যন্ত ক্ষতিকারক। জাংক ফুড বেশি খেলে শরীরে তার কুপ্রভাব পড়তে বাধ্য। এই জাংক ফুড-এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়  লিভার। তাই, জাংক ফুড থেকে দূরে রাখুন বাচ্চাদের। ওদের খাওয়ান বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার। সবুজ শাকসবজি এবং ফল খাওয়ান যাতে ঘাটতি না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সফ্ট ড্রিংক যাতে বেশি পান না করে, তাও দেখা উচিত। বিশুদ্ধ জল পানে যাতে ঘাটতি না হয়, সেই ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিদিন অন্তত একবার, বিশেষ করে দুপুরে খাওয়ানোর পর, ফলের জুস খাওয়াতে হবে বাচ্চাদের। খাদ্য তালিকা থেকে মাছ, মাংস এবং ডিমও যাতে বাদ না যায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা চাই।

ড্রাই সিজন, হেলদি হেয়ার

বাতাসে শীতের আমেজ। হাওয়ার শুষ্কতা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন। ফেস্টিভ মুড এবং শীতের রুক্ষতায় ব্যালেন্স করতে হবে সৌন্দর্য-কে। সেখানে কোনও আপস করা চলবে না। তার জন্য আগাম তৈরি রাখতে হবে নিজেকে। বিশেষ করে যত্নের প্রয়োজন ত্বক এবং চুলের। শীতের এই রুক্ষ আবহাওয়ায় চুলের যত্ন নেওয়া একান্ত কাম্য কারণ বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঠান্ডার মরশুমে চুলের সৌন্দর্য অক্ষত রাখতে মেনে চলতে হবে কিছু সহজ উপায়–

ঘরোয়া উপায় 

  • চুল রুক্ষ হয়ে পড়লে জল বেশি খান, কারণ যত বেশি আপনি জল খাবেন ততই আপনার বডি হাইড্রেট থাকবে
  • একটি পাত্রে দুটি লেবুর রস বার করে তাতে একটু জল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আঙুলের সাহায্যে স্ক্যাল্পে হালকা করে মালিশ করুন। খানিক্ষণ রেখে ঠান্ডা জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের আর্দ্রতা বজায় থাকবে
  • ডিম, চুলের জন্য একটি ন্যাচারাল কন্ডিশনার। একটি পাত্রে দুটি ডিম ভেঙে তার মধ্যে লেবুর রস এবং সামান্য অলিভ অয়েল মিশিয়ে, স্ক্যাল্পে লাগান। শুকিয়ে গেলে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন
  • অ্যালোভেরা জুস এবং দই সমান মাত্রায় মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রাখুন এবং ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুবার এই পদ্ধতি মেনে চললে চুলের রুক্ষ ভাব একেবারে চলে যাবে
  • জোজোবা অয়েল, অলিভ অয়েল অথবা নারকেল তেল রুক্ষ চুলের জন্য খুবই উপকারী। সপ্তাহে অন্তত দু’বার-এর মধ্যে যে-কোনও তেল দিয়ে রাতে ভালো করে চুলে মালিশ করুন এবং পুরো মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে শুয়ে পড়ুন। সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন৷
  • বিশেষজ্ঞের মতামত, সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার নারকেল তেল,অ্যাভোকাডো অয়েল, ক্যাস্টর অয়েল এবং বাদাম তেল সমান মাত্রায় মিশিয়ে আঙুলের সাহায্যে হালকা করে স্ক্যাল্পে মালিশ করতে হবে। রাতভর মাথায় এটি লাগিয়ে রেখে সকালে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এর ফলে চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টির জোগান থাকবে৷

ডায়েটে পরিবর্তন জরুরি

শুধু চুলের ট্রিটমেন্টই নয়, ডায়েটে পরিবর্তন এনেও চুলের ঔজ্জ্বল্য, আর্দ্রতা ফিরে পাওয়া সম্ভব। খাবারে এই পুষ্টিকর তত্ত্বগুলি যোগ করে চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেনঃ

  • আয়রনের অভাবে শরীরে রেড সেল্স ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, যেটা কিনা শরীরের কোপ পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছোতে সাহায্য করে। স্ক্যাল্পে অক্সিজেন পৌঁছোতে পারে না বলে চুলের গ্রোথ রোধ হয়ে যায়। সুতরাং ডায়েটে আয়রন-যুক্ত পদার্থ যেমন পালংশাক, রেড মিট, বিন্স, ব্রোকোলি, সিফুড, টম্যাটো, মুসুর ডাল ইত্যাদি রাখা অত্যন্ত জরুরি
  • জিংক শুধুমাত্র শরীরে নয়, স্ক্যাল্পেও হরমোন লেভেল ব্যালেন্স করে চুলপড়া কম করে। জিংক-এর অভাবে চুলের প্রোটিন স্ট্রাকচার ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। এছাড়াও জিংক চুলের টিসু বাড়াতে সাহায্য করে। সুতরাং ঘন, লম্বা চুলের জন্য ডায়েটে বাদাম, বিনস, ডিম, রাঙাআলু ইত্যাদি অবশ্যই রাখুন
  • ম্যাগনেসিয়াম চুলের কোশ সুস্থ রেখে চুল বাড়তে সাহায্য করে। এর অভাবে স্ক্যাল্পে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে। ফলে মাথার ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারে না। চুল পড়ে যেতে থাকে। চুল যদি বেশি ঝরতে থাকে তাহলে ডায়েটে মাছ, ড্রাই ফ্রুট্‌স, কলা, সবুজ শাকসবজি, ডার্ক চকোলেট, দই, বিনস, বাদাম, ডাল, আনাজপাতি ইত্যাদি রাখুন
  • প্রোটিন ফাইবার-এর সাহায্যে চুল ঘন হয়। এর অভাবেও চুল পড়ে যেতে থাকে। সুতরাং যাদের চুল বেশি পড়ে তারা ডাল, ডিম, মাছ, দুধ, খেজুর, স্প্রাউট, চিকেন ইত্যাদি ডায়েটে রাখতে পারেন
  • চুলের জন্য ভিটামিনও খুব জরুরি। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ এবং ‘ই ড্যামেজ হেয়ার টিশুগুলি রিপেয়ার করে কোশ গ্রন্থি বাড়াতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পের রক্ত সঞ্চালনও সঠিক রাখে। ভিটামিন ‘এ-র জন্য রাঙাআলু, ডিমের কুসুম, দুধ, পালংশাক, মাখন, গাজর, আম, ব্রোকোলি ইত্যাদি খাওয়া দরকার এবং ভিটামিন ‘ই-র জন্য বাদাম, মাছ, পেঁপে, অ্যাভোকাডো, পেস্তা, কিউয়ি, পালংশাক, ক্যাপসিকাম, টম্যাটো ইত্যাদি খাওয়া জরুরি

বিশেষজ্ঞের মতামত

বিশেষজ্ঞদের মতে এইসব খাদ্যদ্রব্য ছাড়াও বায়োটিন-যুক্ত ট্যাবলেট্‌স খাওয়া যেতে পারে যা-কিনা ভিতর থেকে চুলের স্বাভাবিক সৗন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও সাপ্লিমেন্ট হিসেবে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট-ও খাওয়া যেতে পারে। চুলের সঠিক গ্রোথের জন্য শরীরে হিমোগ্লোবিনের সঠিক মাত্রা থাকাটা একান্ত প্রয়োজন। সুতরাং আয়রন ট্যাবলেট রোজ একটি করে খান। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াবে।

শরীরের জন্য প্রয়োজন ওমেগা এবং ফ্যাটি অ্যাসিড-যুক্ত খাবার। যারা আমিষ খান তারা মাছ, রেড মিট এবং ডিম খেতে পারেন। নিরামিষাশী যারা, তারা অ্যাভোকাডো, ফ্লেক্স সিড, ওট্‌স, মিল্ক প্রোডাক্ট ইত্যাদি খান। সঙ্গে ফল, সবজি ইত্যাদিও খাওয়া উচিত যেমন গাজর, বিট, আপেল ইত্যাদি।

প্রফেশনাল ট্রিটমেন্ট ট্রাই করতে পারেন

প্রফেশনাল হেয়ার স্টাইলিস্ট শাহজাদ খান জানালেন, অনেক সময় মহিলাদের চুল এতটাই রুক্ষ হয়ে যায় যে তাদের প্রফেশনাল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ট্রিটমেন্ট ডার্মাটোলজিস্ট অথবা প্রফেশনাল স্যালন-এ গিয়ে পেতে পারেন।

কেরাটিন ট্রিটমেন্ট -এটি এক ধরনের প্রোটিন ট্রিটমেন্ট, যার সাহায্যে চুলের ভিতরের সারফেস, কটেক্স রিপেয়ার করা হয়। এই ট্রিটমেন্টের সাহায্যে ড্রাই এবং নিষ্প্রাণ চুল, চুল পড়া, চুল নীচে থেকে ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি রিপেয়ার করা হয়। এতে চুলের ঔজ্জ্বল্য যেমন ফিরে আসে তেমনি চুল মজবুত এবং ঘন হয়।

সিস্টিন ট্রিটমেন্ট – এটিও কেরাটিন-এর মতো একটি প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। জট পাকিয়ে যাওয়া চুল ঠিক করতে এবং রুক্ষ চুলে পুষ্টি ফিরিয়ে আনতে এই ট্রিটমেন্ট সাহায্য করে।

রুক্ষ, নিষ্প্রাণ চুলের জন্য দুই ধরনের ট্রিটমেন্ট রয়েছ। একটি হল লেজার ট্রিটমেন্ট যাতে লেজার কোম্ব-এর সাহায্যে চুলের ভিতরের পরত রিপেয়ার করা হয় এবং দ্বিতীয়টি হল মিজো থেরাপি। এক ধরনের তরল মিশ্রণ স্ক্যাল্পে ঢেলে চুলের গোড়ায় প্রোটিন দেওয়া হয়। এই দুই ধরনের ট্রিটমেন্ট-ই খুবই লাভদায়ক।

নিষ্প্রাণ এবং রুক্ষ চুলের জন্য কিউআর ৬৭৮ থেরাপির ৮ থেকে ১০টি সিটিং নেওয়া খুব জরুরি। পিআরপি থেরাপিও এই ক্ষেত্রে খুব সুফল দেয়। এই থেরাপিতে শরীর থেকে রক্ত নিয়ে স্ক্যাল্পে ইনজেক্ট করা হয়ে থাকে।

এই প্রোডাক্টগুলি ব্যবহার করুন

 অনেক সময় মহিলারা ভুল প্রোডাক্ট ব্যবহার করে স্ক্যাল্প ড্যামেজ করে ফেলে। সুতরাং এমন প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত যা চুলকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়।

বোয়ার ব্রিস্টল ব্রাশ – এই ব্রাশ চুলের ন্যাচারাল অয়েলকে স্ক্যাল্পে ভালো করে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে চুলের ফ্রিজিনেস কম হয় এবং স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

হিট প্রোটেক্টিং স্প্রে – আপনি যদি স্টাইলিং টুলস ব্যবহার বেশি করেন, তাহলে আপনার প্রয়োজন এই প্রোডাক্টটির। হেয়ার স্ট্রেটনার হোক অথবা ড্রায়ার, এগুলি ব্যবহারের আগে আপনার উচিত হিট প্রোটেক্টিং স্প্রে লাগানো যা আপনার চুলের উপর একটা পরত তৈরি করে দেয়। এর ফলে চুল ড্যামেজ হয় না।

লিভ অন কন্ডিশনার – এটি ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চুল নরম, মসৃণ থাকে এবং চুলও ম্যানেজ করা সহজ হয়ে যায়। চুল ধুয়ে ফেলার পর চুলের মাঝখান থেকে চুলের আগা অবধি এই কন্ডিশনারটি লাগিয়ে রেখে দিন। এটি ধুয়ে ফেলার দরকার হয় না।

বিশেষজ্ঞের মতামত – সবসময় চুলের জন্য কম ইনগ্রিডিয়েন্ট শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত যেটা খুব মাইল্ড এবং সোপ ফ্রি হবে। যদি চুলে খুশকি থাকে তাহলে সোপ-যুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।

যে-মহিলাদের বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের রোজ শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রে সালফেট ফ্রি মেডিকেটেডে শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত, যাতে চুলের কোনও ক্ষতি না হয়।

কর্মক্ষেত্রে কীভাবে স্ট্রেস দূরে রাখবেন

কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস নিয়ে সকলকে চলতে হয়। এর গভীর প্রভাব পড়ে মন এবং শরীরের উপরেও। যার ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি-ফ্লু থেকে শুরু করে, প্রাণঘাতী অসুখ, যেমন হার্টের সমস্যা, মেটাবলিক সিনড্রোমের শিকার হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

সাধারণ ভাবে অফিসে স্ট্রেসের কারণগুলি হল

.    শারীরিক অস্বস্তি বা অসুবিধা এবং অস্বচ্ছন্দ্য বোধ করা

.    একসঙ্গে অনেক রকম কাজের বোঝা বা মাল্টিটাস্কিং

.    সহকর্মী বা বস-এর সঙ্গে মতের বনিবনা না হওয়া

.    কাজের জায়গায় বিশৃঙ্খলা।

কী ভাবে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস দূরে রাখবেন?

ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে দিন শুরু করুন: আগে থেকে প্ল্যানিং করে রাখুন যাতে অফিস পৌঁছোবার মুখে বাড়ি বা রাস্তায় আপনাকে স্ট্রেসে না পড়তে হয়। প্রপার প্ল্যানিং, গুড নিউট্রিশন এবং পজিটিভ অ্যাটিটিউড কর্মক্ষেত্রের স্ট্রেস অনেকটা কমাতে সাহায্য করবে।

আপনার কাছে কী চাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে পরিষ্কার থাকুন: ওয়ার্ক প্লেসে আপনার জব রিকয়্যারমেন্ট কী, সেটা ভালো করে জেনে নিন। কম সময়ে নোটিসে কাজের ধারা বদলানো হলে, সেটা স্ট্রেসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং আপনার টিম-হেড-এর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনে নিন আপনার কাছে ঠিক কী কী চাওয়া হচ্ছে এবং কী ভাবে আপনি সেই প্রযোজন মেটাবেন। এতে স্ট্রেস অনেকটাই কমবে।

সহকর্মী এবং বসের সঙ্গে মনোমালিন্যে বা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না: কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বেন না। পরচর্চা, ধর্ম এবং রাজনীতি নিয়ে খুব বেশি ব্যক্তিগত অভিমত ব্যক্ত করবেন না। কালারফুল অফিস হিউমার অ্যাভয়েড করুন। অন্যের সঙ্গে যাদের ব্যবহার ভালো নয়, তাদের এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে স্ট্রেস কমবে।

কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখুন: কাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখলে কাজের দক্ষতা বাড়বে, ফলে কর্মক্ষেত্রে স্ট্রেস এড়াতে পারবেন।

যেখানে বসে কাজ করছেন, সেটা আরামদায়ক হওয়া বাঞ্ছনীয়: যেমন যে চেয়ার বা ডেস্ক-এ বসে কাজ করছেন, সেটা কমফর্টেবল হওয়া জরুরি। আশেপাশে চ্যাঁচামেচি হলে কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সুতরাং আশেপাশের পরিবেশ যাতে শান্ত রাখা যায় সেই চেষ্টা করুন।

একসঙ্গে অনেক কাজ করার চেষ্টা করবেন না: ফোনে কথা বলছেন সঙ্গে সঙ্গে ক্যালকুলেশন-ও করছেন, এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একবারে একটাই কাজ করুন, তাতে ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

লাঞ্চে হেঁটে আসুন: সময় থাকলে লাঞ্চ টাইমে একটু বাইরে বেরিয়ে হাঁটাচলা করে আসুন। এতে বদ্ধভাব কেটে যাবে এবং রিল্যাক্স করার সঙ্গে সঙ্গে মুড ঠিক হয়ে যাবে।

সব কাজে পার্ফেকশন আশা করবেন না: সব কাজ পার্ফেক্টলি করতে পারলে নিজের উপর বিশ্বাস বাড়ে ঠিকই কিন্তু সবসময় কর্মক্ষেত্রে সব কাজ পার্ফেক্ট হবেই, সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। বিশেষ করে ফাস্ট-পেস্ড জব-এ। আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব ভালো করে করার চেষ্টা করুন কিন্তু পার্ফেকশনিস্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এর ফলে কাজের স্ট্রেস অনেকটাই কমবে।

বাড়ি ফেরার সময় গান শুনুন: কাজের পরে মিউজিক বা গান স্ট্রেস লেভেল কমাতে সাহায্য করে।

জানেন কি, অ্যালোভেরাও ক্ষতিকারক হতে পারে?

অ্যালোভেরার গুণাগুণ নিয়ে আমরা সকলেই এখন বেশ ওয়াকিবহাল। আমাদের জীবনশৈলীর সঙ্গে নানা ভাবে মিশে গেছে অ্যালোভেরা। মুখের ক্রিম থেকে চুলের জেল, সবেতেই এই গাছটির ভেষজগুণের আমরা সদ্ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু অত্যন্ত ভালো ওষুধেরও যেমন কিছু সাইড এফেক্টস আছে, অ্যালোভেরার ক্ষেত্রেও তাই।

অ্যালোভেরার জুস পান করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যে-কোনও ওষুধের ক্ষেত্রে যেমন কতটা পরিমাণে, কখন তা গ্রহণ করবেন, তার একটা নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে- এক্ষেত্রেও সেটা মানা প্রয়োজন। দেখবেন ভেষজগুণে সমৃদ্ধ অ্যালোভেরা, লাভের বদলে যেন ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

অ্যালোভেরা কতটা আপনার উপকারে লাগবে, তা নির্ভর করে এটা কীভাবে প্রসেস করা হয়েছে, তার উপর। একটা পদ্ধতিতে অ্যালোভেরার পাতাগুলি রং-মুক্ত করার জন্য চারকোল ফিল্টার করা হয়। এর দ্বারা অ্যালোভেরায় মজুদ একটি রাসায়নিক, অ্যালোইন বেরিয়ে যায়। পশুদের উপর এই অ্যালোইন প্রয়োগ করে দেখা গেছে যে, এর থেকে টিউমার হতে পারে। অ্যালোভেরা থেকে তৈরি কিছু প্রোডাক্ট-এ এই অ্যালোইন বের করা হয় না। এছাড়া অ্যালোভেরায় থাকে ল্যাটেক্স (রাবার জাতীয় পদার্থ)। অতি মাত্রায় অ্যালেভেরার রস পান করলে, পেটে ব্যথা শুরু হতে পারে। দীর্ঘকালীন ব্যবহারে কিডনির সমস্যা, মাসল্ পেইন, ওজন হ্রাস পাওয়া, হৃদয়জনিত সমস্যা, এমনকী লিভারের সমস্যাও হতে পারে।

 

অ্যালোভেরায় কখন ক্ষতি?

  • বাচ্চাদের ত্বকে এটি লাগাতে পারেন কিন্তু পান করালে পেটের সমস্যা বাড়বে
  • অ্যালোভেরার জুস ব্লাড সুগার কমায়। সুতরাং আপনি ডায়াবেটিজ-এর রোগী হলে এটি সেবন করাকালীন নিয়মিত সুগার লেভেল চেক করা জরুরি। না হলে যে-কোনও সময় সুগার ফল করবে
  • যেহেতু এটা ব্লাড সুগার-কে প্রভাবিত করে, কোনও সার্জারির আগে বা পরে এটি সেবন করা বিপদ ডেকে আনবে
  • অর্শের সমস্যা বাড়ায় অ্যালোভেরায় মজুদ ল্যাটেক্স ত্বকে লাগানোর পরে অনেকেরই অ্যালার্জির সমস্যা হয়
  • গর্ভাশয়ে সংকোচনে সাহায্য করে অ্যালোভেরা। তাই গর্ভবতী অবস্থায় এর রস পান করলে বিপদ বাড়বে
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় অ্যালোভেরা উপকারী কিন্তু মাত্রায় তারতম্য হলেই পেট খারাপ এবং ডিহাইড্রেশনের সমস্যা তৈরি হবে
  • এর জুস লাগাতার পান করলে, পটাশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে শরীরে। এর ফলে হৃদয়ের গতিতে প্রভাব পড়তে পারে। ক্লান্তি ভাব আসতে পারে। বয়স্কদের সাবধান থাকা কাম্য
  • অ্যালোভেরার কিছু রাসায়নিক পদার্থ, লিভারের ক্রিয়াকর্মে বাধাদান করে। ফলে সমস্যা বাড়ে
  • কিডনির সমস্যা বাড়ে ল্যাটেক্স থাকার কারণে
  • এটি ক্যান্সার-এর সম্ভাবনা বাড়ায়।

 

শুটিংয়ের মাঝেই করোনা আক্রান্ত বরুণ ধাওয়ান

রাজ মেহতা পরিচালিত ‘যুগ যুগ জিও’ ছবির শুটিংয়ে তিনি ব্যস্ত ছিলেন চণ্ডীগড়ে। করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশনের ব্যানারে চলছিল শুটিং। এরই মধ্যে বাধল বিপত্তি। করোনা আক্রান্ত হলেন ছবির মুখ্য অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান ৷

এর আগে গুজব রটেছিল, করোনা আক্রান্ত হয়েছেন অনিল কপূর৷ কিন্তু পরে সেই খবরের সত্যতা অস্বীকার করেন তাঁর মেয়ে সোনম৷বরুণের খবরটা প্রকাশ পেতেই, এ নিয়ে অকারণ জল ঘোলা হওয়া বা আতঙ্ক ছড়ানোর আগে, আজ নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর জানিয়েছেন অভিনেতা৷ করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বরুণ স্বীকার করে নিয়েছেন, প্রোডাকশন হাউসের তরফে সবরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সত্বেও, শুটিংয়ের সময় তাঁর নিজস্ব অসতর্কতার জন্যই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তিনি৷

সোশ্যাল মিডিয়ায় বরুণ লিখেছেন,  ‘অতিমারির মধ্যেই কাজে ফেরার পর আমি করোনায় আক্রান্ত হয়েছি৷ প্রোডাকশনের তরফে সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু বর্তমান এই সময়ে সবকিছুই অনিশ্চিত৷ বিশেষত করোনার বিষয়টি৷ সবাইকে অনুরোধ, সতর্ক থাকুন৷ আমিও হয়তো আরও বেশি করে সতর্ক হতে পারতাম৷’ অর্থাৎ নিজের উদাহরণ দিয়েই তিনি মানুষকে প্রকারান্তরে সচেতন থাকতে বলছেন।

এর আগে করোনা মোকাবিলায় দেশবাসীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বরুণ। পিএম কেয়ারস ফান্ডে ৩০ লক্ষ টাকা এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর করোনা তহবিলে ২৫ লক্ষ টাকার অনুদানও দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি মুম্বইয়ের গৃহহীন, দুঃস্থ মানুষদের এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের, খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছিলেন।

নিউ নর্মালে সার্বিক পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর, দিওয়ালির আগে বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে যুগ যুগ জিও-র শুটিংয়ে যোগ দিয়েছিলেন অনিল কপূর, কিয়ারা আডবাণী প্রমুখ৷ স্বামী ঋষির মৃত্যুর পর এ ছবির সূত্রেই সেটে ফিরেছেন নিতু কপূর। কিন্তু শ্যুটিং শুরুর পরেই টিম-এর কয়েকজন করোনা আক্রান্ত হওয়ায়, শুটিং বন্ধ করে দিতে হয় সাময়িক ভাবে। পরে আবার তা শুরু করা হলে অনেকটাই কাজ এগোয় এ ছবির।সম্প্রতি ছবির ফার্স্ট লুকও প্রকাশ্যে এসেছে। বর্তমানে  ছবির দুই মুখ্য চরিত্র করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তড়িঘড়ি সিনেমার শুটিং বন্ধ করে দিতে হল। কোভিড আক্রান্ত এই দুই তারকা, নীতু কাপুর ও বরুণ ধাওয়ান ছাড়া আর কেউ নন। ইতিমধ্যেই বরুণকে সুস্থ হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা৷

এদিকে সুরক্ষাবিধি মেনে, সেটে ক্রিউ মেম্বাররা সকলে পিপিই কিট, মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করে। এত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেও কীভাবে নীতু ও বরুণ করোনায় আক্রান্ত হলেন, তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন নির্মাতারা। যতদিন না তারকারা সকলে সেরে না উঠছেন, ততদিন সিনেমার শুটিং বন্ধ থাকবে বলেই জানা গিয়েছে।

 

 

সোশ্যাল লিমিট বাড়ানোর উপায়

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভিযোগ করা বন্ধ করুন এতে সোশ্যাল ইন্ট্যারঅ্যাকশন বাড়বে। বন্ধু দুঃখ শেয়ার করতে সাহায্য করে ঠিকই কিন্তু সবসময় সব অবস্থাতেই যদি অভিযোগ তুলে কাঁদতে শুরু করেন, তাহলে নিতান্ত চেনা-পরিচিতরাও আপনাকে এড়িযে যেতে শুরু করবে

কেউ আপনাকে নিমন্ত্রণ করলে সেটা রক্ষা করার চেষ্টা করুন। মুখের উপর না বলবেন না বা না-যাওয়ার বাহানা বানাবেন না। এটাও মনের মধ্যে আনবেন না যে, নিমন্ত্রণকারী ব্যক্তিটি আপনার অপছন্দের সুতরাং ওখানে না গেলেও চলবে। একবার গিযে দেখুন, পরিবেশ দেখে হয়তো বারবার যাওয়ার ইচ্ছে হবে। অনেক পরিচিতি বাড়বে। এছাড়াও নিমন্ত্রণ বারবার অস্বীকার করতে থাকলে অন্যদের মনেও আপনার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে

আপনার যদি কোনও হবি থাকে বা কোনও বিশেষ জিনিসের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে আপনার এলাকার আশেপাশে এ ধরনের কোনও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেন, যেখানে আপনার মতো একই রুচির মানুষদের সান্নিধ্য আপনি পাবেন। স্পোর্টস ক্লাব, বুক ক্লাব, লাইব্রেরি, হাইকিং গ্রুপের মেম্বার হতে পারেন। এগুলো কোনওটাই যদি ভালো না লাগে তাহলে নতুন হবি খুঁজুন। কিন্তু মনে রাখবেন গ্রুপের মধ্যে থেকেই যেন সেই হবি পূরণ করতে পারেন

যেসব সংস্থা সমাজসেবার কাজে ব্রতী, তেমন কোনও সংস্থাতে যোগ দিতে পারেন। সপ্তাহে একটা দিন আপনার মহামূল্য সময় সেখানে ব্যয় করতে পারেন। গরিব বাচ্চাদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতে পারেন, এতে মনে শান্তি বোধ করবেন। প্রযোজনে অপরকে সাহায্য করুন। এতে লোক আপনাকে জানবে এবং তারাও আপনাকে সাহায্য করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

নেশামুক্তি-র উপায় কী ?

নেশা শব্দটি শুনলেই, প্রথমে চোখের সামনে ভেসে ওঠে মদ বা মাদকজাত দ্রব্য পান বা সেবনের বিষয়টি। কিন্তু শুধু তাই তো নয়, নেশা শব্দটি ব্যবহৃত্ হয় একাধিক অর্থে। সে যাইহোক, নেশা আমাদের শরীর এবং মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

প্রথমেই মনে রাখা দরকার, কোনও কিছুর প্রতি আসক্তিই হল নেশা। অর্থাৎ, যার থেকে সহজে বিরত হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে, তাকেই আমরা আসক্তি বা নেশা বলে থাকি। তবে, মাদকাসক্তি ছাড়া, অন্য আসক্তি বা নেশার কিছু ভালো দিক আছে। যেমন বই পড়ার নেশা, লেখার নেশা, আকার নেশা, খেলার নেশা, নাচ-গান-বাজনার নেশা, অভিনয়ে নেশা, বেড়ানো প্রভতি নেশার বেশির ভাগটাই সুফল ভোগ করে থাকি আমরা।

কিন্তু সব ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে, কোনও কিছুই মাত্রাতিরিক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। কারণ, কোনও একটি বিষয়ে অতিরিক্ত টান থাকলে, অন্যান্য অত্যাবশকীয় বিষয় অবহেলিত হতে পারে। এরফলে আর্থিক, মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতির শিকার হতে পারেন আপনি নিজে। আপনজনের সঙ্গে মনোমালিন্য, ঝামেলা প্রভতিও হতে পারে। কারণ, একটি বিষয়ে অতিরিক্ত আসক্তি থাকলে, আপনি আপনার দাযিত্ব-কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হতে পারেন। যেমন ধরুন, বারবার প্রেমে পড়ার নেশা, অতিরিক্ত যৌনাশক্তির কারণে বহুগামিতা প্রভতি সিংহ ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। কারণ, এর জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয়, অর্থ ব্যয়, বাড়তি মানসিক চাপ প্রভতির শিকার হতে হয়।

এবার আসা যাক মাদকাশক্তির বিষয়ে প্রথমে কৌতূহলবশত কিংবা সাধ করে ধূমপান, মদ্যপান কিংবা অন্যান্য মাদক দ্রব্য পান বা সেবনের ইচ্ছে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে নেশাখোর বন্ধু বা পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে শুরু হয় নিষিদ্ধ জিনিস পান বা সেবন। তারপর মস্তিষ্ক যখন আচ্ছন্ন হয়, তখন নিয়মিত পান বা সেবনের ইচ্ছে কিংবা চাহিদা তৈরি হয় এবং একসময় সেই অভ্যেস আসক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

অবশ্য শুধু মাদকাশক্তিই নয়, জুয়া বা লটারি খেলার নেশা, ব্লু-ফিল্ম দেখার নেশা, এমনকী সারাক্ষণ ফেসবুক-এ ব্যস্ত থাকাও অত্যন্ত ক্ষতিকারক নেশার মধ্যে পড়ে। এসব শরীর এবং মনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ভুলে যাওয়া, বুদ্ধি লোপ পাওয়া, অলসতা, ঘুমের সমস্যা, মাথা ব্যথা, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা, খিটখিটে মেজাজ, স্নাযু বিকল প্রভতি সমস্যা ছাড়াও, আরও অনেক বড়ো রোগের শিকার হতে পারেন এইরকম ক্ষতিকারক নেশার কবলে পড়ে।

নেশামুক্তির উপায়ঃ

অতএব, এসব নেশা থেকে বিরত থাকতেই হবে। আর বিরত থাকার জন্য প্রথমেই মনকে আয়ত্তে রাখতে হবে। এর জন্য কঠিন জেদ দরকার। কারণ, নেশা ছাড়ব ছাড়ব করলে ছাড়া যায় না। ছাড়তে হবে হঠাত্ই। আর তা যদি না পারেন, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের (মনোরোগ) সাহায্য নিন। প্রযোজনে, হাসপাতালে কিছুদিন ভর্তি থেকে নেশামুক্তি ঘটান। কারণ, হাসপাতালে ভর্তি থাকলে নেশার সামগ্রী পাবেন না সহজে এবং কিছুদিন নেশা থেকে দূরে থাকলে নেশামুক্তি ঘটবেই।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব