৪০ পেরোলে এই ওয়ার্কআউটগুলো করবেন না

৪০ পেরোলেই শরীর ফিট রাখার জন্য এক্সারসাইজ করা খুবই জরুরি। কিন্তু অনেক মহিলাই মনে করেন এই বয়সে ব্যায়াম করলে শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি বাড়বে। অনেকে তো আবার ওয়ার্কআউট করা শুরুও করেন কিন্তু চটজলদি ফলাফল না পেয়ে বন্ধ করে দেন। এটা ভুলে যান যে, চল্লিশ পেরোবার পর বডির মেটাবলিজম স্লো হয়ে যাওয়ার জন্য, হাতেনাতে ফল পেতে দেরি হয়।

আমরা অনেকেই জানি না, চল্লিশোঊর্ধ্ব মহিলাদের জন্য এমন অনেক এক্সারসাইজ আছে, যেগুলো করা উচিত নয়। সুতরাং এ ব্যাপারে এক্সপার্টের মতামত নিয়ে তবেই ওয়ার্কআউট করা উচিত। এখানে কয়েটি এক্সারসাইজের কথা বলা হল যেগুলো চল্লিশ পেরোবার পর একেবারেই করা উচিত নয়।

 

১) ক্রাঞ্চেস: পেটের মেদ ঝরাবার জন্য এই এক্সারসাইজ করা হয়। এতে শিরদাঁড়ার উপর প্রেশার পড়ে। ৪০-এর পর আমাদের শিরদাঁড়ার ফ্লেক্সিবিলিটি কম হতে থাকে। তখন বেশি করে এ্যাংগল আর পজিশনের খেয়াল রাখতে হয়। সঠিক উপায় মেনে এক্সারসাইজ করার পরেও যদি পিঠে এবং ঘাড়ে ব্যথা হয় তাহলে সব ধরনের ক্রাঞ্চেস এড়িয়ে চলুন।

২) ইনটেন্স কার্ডিও ওয়ার্কআউট: জাম্পিং জ্যাক, স্কোয়াট জাম্পস, কিক বক্সিং, বার্পিজ, দৌড়ে সিঁড়ি ওঠানামা, জায়গায় দাঁড়িয়ে জগিং ইত্যাদি হল কার্ডিও ওয়ার্কআউট। এগুলোর কোনওটা করতেও যদি ব্যথা অনুভব করেন তাহলে তত্ক্ষণাত্ সেটা করা বন্ধ করুন। বডির স্ট্রেস লেভেল বেড়ে গেলে কর্টিসোল হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের ওজন কমাবার বদলে ওজন বাড়িয়ে তোলে।

৩) ইনটেন্স স্ট্রেচিং: ৪০-এর পর পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই বয়সে নিজের ক্ষমতার বেশি শরীর স্ট্রেচ করার চেষ্টা করলে পেশি মাসল পুল হওয়ার ভয় থাকে।

৪) স্কোয্যাট: হিপ, নি জযে্ট এবং অ্যাংকল জযে্ট-এর জন্য খুব ভালো এক্সারসাইজ। কিন্তু বেশি বয়সে হাঁটুর পেশিতে অতিরিক্ত জোর পড়লে মাসল পুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এতে সিরিয়াস ইনজুরি হওয়ার প্রবণতাও বাড়বে।

৫) নেক এক্সারসাইজ: ৪০-এর পর সার্ভাইকাল-এর সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। সার্ভাইকাল সমস্যা না থাকলেও ইনটেন্স নেক এক্সারসাইজ থেকেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। যাদের পেশি এবং হাড় দুর্বল তারা কোনওভাবেই এই ওয়ার্কআউট করবেন না।

৬) লেগ এক্সারসাইজ: পায়ে এক্সারসাইজ করার সময়, উপরের দিকে ওযে পুশ করলে হাঁটু এবং গোড়ালিতে বেশি চাপ পড়ে। ফলে ইনজুরি হওয়ার সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

৭) পুশ-আপ: পুশ-আপে, লোয়ার ব্যাক এবং কাঁধের উপর শরীরের পুরো ওজন পড়ার ফলে ব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ভেজাল মিষ্টি চিনবেন কীভাবে ?

উৎসব-অনুষ্ঠান মানেই চাই মিষ্টি। এ যেন আনন্দ-আহ্লাদের এক অপরিহার্য রসদ। শুধু নিজে খেয়ে তৃপ্ত হওয়া-ই নয়, আত্মীয়-স্বজনদের খাইয়ে কিংবা উপহার দিয়েও মানসিক তৃপ্তি পাওয়া যায়, সম্পর্কের বাঁধন মজবুত করা যায়। কিন্তু, তৃপ্তিলাভের অন্যতম রসদ মিষ্টি যদি ভেজাল হয়, তাহলে আনন্দে কিছুটা হলেও ভাটা পড়বে। কারণ, ভেজাল মিষ্টি শরীর এবং মনের উপর কুপ্রভাব ফেলবেই।

বছরের নানারকম উৎসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিষ্টি বিক্রি হয় সম্ভবত দীপাবলি উপলক্ষ্যে। মিষ্টির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় দেখেই মিষ্টির চাহিদার বিষয়টি বেশ বোঝা যায় এই সময়। আর ভিড় যত বাড়ে, মিষ্টির চাহিদা তত বাড়ে, তা চটজলদি যোগান দিয়ে বেশি মুনাফার আশায় অনেক মিষ্টি ব্যবসায়ী বিক্রি করেন ভেজাল মিষ্টি। এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে বিক্রেতাদের মধ্যে। গুণমান পরীক্ষাকারী সরকারি দফতর মাঝেমধ্যে অসৎ ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় করলেও, তা সবসময় ফলপ্রসূ হয় না। আসলের পরিবর্তে ভেজাল মিষ্টি কিনে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা তাই থেকে যায়।

মিষ্টির প্রধান উপকরণ ছানা থেকে শুরু করে রং– সবকিছুই ভেজাল বা নকল হয় চাহিদা বাড়লে। যে-সব মিষ্টির বিক্রি যত বেশি, সেইসব মিষ্টি ভেজালযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ততই বেশি। ক্রেতাদের ঠকানোর এই প্রবণতা অনেক বিক্রেতার মধ্যেই রয়েছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে মিষ্টি কেনার সময়।

ভেজাল ছানা

১ কিলোগ্রাম দুধ থেকে মাত্র ২০০ গ্রাম ছানা তৈরি হয়। এতে ছানার ব্যবসায়ী এবং মিষ্টি বিক্রেতা বেশি লাভ করতে পারে না। তাই তারা ভেজাল ছানা দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের পথ বেছে নেয়। এরজন্য আটা, ময়দা, রাঙাআলু এবং সুজি অল্প ছানার সঙ্গে মিশিয়ে মিষ্টি তৈরি করে বিক্রি করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে সতর্ক থাকলে আসল ছানায় তৈরি মিষ্টি এবং ভেজাল মিষ্টির তফাত বোঝা যাবেই।

প্রথমত, ভেজাল মিষ্টি নষ্ট হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি। দ্বিতীয়ত, আসল ছানার মিষ্টি থেকে শুধু ছানার গন্ধ পাওয়া যাবে। যদি মিষ্টির গন্ধ অন্যরকম হয়, তাহলে তখনই সেই মিষ্টি না কেনার সিদ্ধান্ত নিন। তৃতীয়ত, আসল ছানার মিষ্টি খুব ভারী হয় না। আটা, ময়দা, আলু কিংবা সুজি মেশানো মিষ্টি-ই ভারী হয়। অতএব, মিষ্টির কোয়ান্টিটির তুলনায় যদি বেশি ভারী মনে হয়, তাহলে সেই মিষ্টি না কেনা-ই ভালো।

আপাতদৃষ্টিতে আসল আর ভেজাল মিষ্টির তফাত যাতে না বোঝা যায়, তার জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে কোনটা খাঁটি ছানায় বানানো, তা বোঝবার জন্য গন্ধ নিয়ে দেখতে হবে। কারণ, খাঁটি ছানার একটা আলাদা গন্ধ হয়।

অল্প মিল্ক পাউডার, ময়দা আর বনস্পতি ঘি মিশিয়ে ছানার বিকল্প ভেজাল মিষ্টি তৈরি করে বিক্রি করেন কিছু আসাধু ব্যবসায়ী। তাছাড়া, বাজারে এখন সিন্থেটিক গুঁড়ো দুধও পাওয়া যায়। যার সঙ্গে অল্প ছানা এবং অন্যান্য সামগ্রী মিশিয়ে মিষ্টি তৈরি করা হয়।

সিন্থেটিক দুধের সঙ্গে ইউরিয়া মিশিয়ে হালকা অাঁচে ফুটিয়ে, ওর সঙ্গে কাপড় কাচা সাবান, সোডা এবং কিছুটা আসল দুধ যোগ করে ছানা তৈরি করেন অনেক মিষ্টির দোকানি। এই ছানা সবচেয়ে ক্ষতিকারক।

শারীরিক ক্ষতি

ভেজাল ছানা থেকে খাবারে বিষক্রিয়া হতে পারে। সিন্থেটিক দুধ, ওয়াশিং পাউডার, কেমিক্যাল-যুক্ত রং প্রভৃতি ব্যবহার করে তৈরি ভেজাল মিষ্টি, কুপ্রভাব ফেলতে পারে কিডনি এবং লিভারে। হতে পারে স্কিন ডিজিজ। শুধু তাই নয়, ভেজাল মিষ্টি খেলে স্কিন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার প্রভৃতিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে। অতএব, শারীরিক ক্ষতি এড়ানোর জন্য প্রথমে মিষ্টির ঘ্রাণ নিয়ে পরীক্ষা করুন এবং অল্প পরিমাণ মিষ্টি মুখে দিয়ে দেখুন। যদি ডিটারজেন্ট, কেমিক্যাল ইত্যাদির গন্ধ পান কিংবা মিষ্টিতে আসল ছানার টেস্ট না পান, তাহলে ওই মিষ্টি পরিবারের সকলের জন্য কিনে না আনাই ভালো। প্রয়োজন হলে একটু ক্ষতি স্বীকার করে একটি মিষ্টি জলে ফেলে দেখুন জলের রং দেখা যায় কিনা কিংবা জলটা নাড়া দিলে ফেনা উঠছে কিনা দেখে নিন। যদি জলে রং এবং ফেনা দেখা যায়, তাহলে সেই মিষ্টি না খাওয়াই ভালো।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

ছানা দিয়ে তৈরি আসল মিষ্টি আর ভেজাল মিষ্টি চেনার জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি। কেনার সময় যদি আসল আর ভেজালের তফাত বুঝতে না পারেন, তাহলে মিষ্টি বাড়ি নিয়ে এসে পরীক্ষা করুন। যদি মিষ্টির গুণগত মান ঠিক থাকে তাহলে খান, আর যদি ভেজাল সন্দেহ হয়, তাহলে দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে মিষ্টি ফেরত দিয়ে টাকা ফেরত নিন এবং ওই দোকান থেকে মিষ্টি কেনা বন্ধ করে দিন। কিন্তু, তার আগে আপনি জেনে নিন কীভাবে ভেজাল মিষ্টি ধরবেন।

> মিষ্টি ভেজাল কিনা তা বুঝবার জন্য একটু আয়োডিন ছড়িয়ে দিন মিষ্টির উপর। যদি মিষ্টি কালো হয়ে যায়, তাহলে সেই মিষ্টি ভেজাল ধরে নিতে হবে

> দুই আঙুলে মিষ্টি চেপে ধরে ডলে দেখুন, যদি আঙুলে মসৃণ না মনে হয়, অর্থাৎ দানা-দানা লাগে, তাহলে সেই মিষ্টি ভেজাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি

> যে-কোনও মিষ্টি খাওয়ার আগে যদি ভেজাল বলে সন্দেহ হয়, তাহলে প্রথমে অন্তত একটা মিষ্টি একটা সাদা টিস্যু পেপার-এ মুড়ে কিছুক্ষণ রাখুন। যদি দেখা যায় সাদা টিস্যু পেপার অন্য কোনও রং ধারণ করেছে, তাহলে বুঝতে হবে, মিষ্টিতে ভেজাল আছে

একটা মিষ্টিকে জলে দিয়ে একটু ফোটান, যদি দেখা যায় জলে ফেনা হচ্ছে এবং সেই ফেনা ক্রমশ বাড়ছে, তাহলেও জানবেন ওই মিষ্টিতে ওয়াশিং পাউডার জাতীয় উপকরণ যোগ করা হয়েছে

 

অনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা

অনলাইন কেনাকাটার সূত্রপাত হওয়ার ফলে, কিছুটা হলেও ভিড় কমেছে দোকানে। এখন আর শুধু উৎসবের আগে কেনাকাটার হিড়িক পড়ে না, অনলাইন-এ প্রায় সারা বছর ধরেই চলতে থাকে কেনাকাটা। বাজারের থেকে কিছুটা হলেও কম দামে কেনাকাটার সুযোগ পাওয়া যায় অনলাইন-এ।

উৎসবে যেহেতু সবরকম খরচা অনেকটাই বেড়ে যায়, তাই খানিকটা সাশ্রয় করতে অনলাইন বাই-এর সুযোগ নেন অনেকেই। মোবাইলের ইন্টারনেট অন্ করে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড-এর জিনিসপত্রের ছবি এবং বিবরণ দেখে নিয়ে কেনাকাটা করা যায় এই মাধ্যমে। অনলাইন কেনাকাটায় দাম অনেকটা কম পড়ে কারণ, এক্ষেত্রে দোকান চালানোর খরচ নেই, শুধু ক্যুরিয়ারে জিনিসটি ক্রেতার ঠিকানায় পৌঁছে দিতে পারলেই কাজ শেষ। এক্ষেত্রে আগাম পেমেন্টও করা যায়। জামাকাপড়, জুতো, গয়না, প্রসাধন সামগ্রী, ব্যাগ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ প্রভৃতি প্রায় সবকিছুই অনলাইন-এ বিক্রি করছে বিভিন্ন সংস্থা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও, অনলাইন কেনাকাটার সুবিধে-অসুবিধে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অনেক সময় কেউ-কেউ নানা সমস্যায়ও পড়ছেন। প্রতারণারও শিকার হয়েছেন অনেকে।

ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা

কম দামে ব্র্যান্ডেড জিনিস পাওয়ার লোভে ক্রেতারা বেশি ঝুঁকছেন অনলাইন-এ কেনাকাটার দিকে। কিন্তু যে-সব জিনিস অনলাইনে কিনছেন ক্রেতারা, সত্যিই কি সেসব আসল ব্র্যান্ড-এর, নাকি বেশিরভাগই নকল?

চকচকে, আকর্ষণীয়, কম দাম এবং নামকরা ব্র্যান্ড-এর ট্যাগ দেখে ক্রেতারা অর্ডার করছেন অনলাইন-এ কিন্তু জিনিস ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই ভুল ভাঙছে ক্রেতাদের। নকল জিনিস যেমন সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, নামি ব্র্যান্ড-এর ট্যাগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই খারাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন ক্রেতারা। শুধু নকল কিংবা খারাপ জিনিস-ই নয়, অনেক সময় প্যাকেট-এর মধ্যে ইট, কাঠ, পাথর ভরেও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অবশ্য এসব, জনপ্রিয় ই-কমার্স সংস্থাগুলি করে না। বড়ো সংস্থার নামে যারা প্রতারণার জাল বিছিয়ে রেখেছে ইন্টারনেট-এ, তারাই ঠকায় ক্রেতাদের। এক্ষেত্রে সংস্থার নামের বানানে সামান্য হেরফের করে ওয়েবসাইট খুলে রাখে প্রতারকরা। ক্রেতারা সে-সব নিখুঁত ভাবে না দেখে অর্ডার করে দেন কম দামে জিনিস কেনার লোভে। প্রি-পেমেন্ট না করে কেউ যদি পোস্ট পেমেন্টও করেন, তা হলেও ঠকে যাওয়া থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হয় না। কারণ, আপনি ডেলিভারি নেওয়ার সময় জিনিসের মূল্য না চুকিয়ে জিনিস হাতে পাবেন না এবং প্যাকেট খুলতে পারবেন না।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রায় ৬২ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছেন, ই-কমার্স সংস্থাগুলির ওয়েবসাইট-এ ক্রেতাদের করা যে-সব রিভিউ এবং রেটিং দেখে কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আসল নয়, ক্রিয়েটেড। কিছু নামি ই-কমার্স সংস্থাও নাকি ক্রেতাদের বড়োসড়ো অভিযোগগুলি শো করে না, মুছে ফেলে।

ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার-ক্রাইম ব্রাঞ্চ মাঝেমধ্যে ধরপাকড় করলেও কিংবা অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ালেও, প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং, প্রতিদিন প্রতারণার নতুন জাল পাতছে প্রতারকরা।

উৎসব অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে যেহেতু বেশি কেনাকাটা করেন ক্রেতারা, তাই প্রতিটি উৎসবের প্রাক্বালে প্রতারকরাও বেশি করে প্রতারণার জাল পাতে অনলাইন কেনাকাটায়। এই সময় যেহেতু ক্রেতারা বেশি ব্যস্ত থাকেন কিংবা আনন্দে থাকেন, তাই তাদের মধ্যে সতর্কতার অভাবও থাকে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লোক ঠকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা জিনিসপত্রের উপর ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।

অনেক সময় দেখা যায় যে, কাউকে উপহার দেওয়ার জন্য আপনি অনলাইন-এ জিনিস কিনলেন। আপনি হয়তো মোটা টাকা খরচ করে নামি ব্র্যান্ড-এর জিনিস ভেবে কিনলেন, কিন্তু যাকে উপহার দিলেন, তিনি তা ব্যবহার করার পর দেখলেন জিনিসটা নকল। হয়তো লজ্জায় অনেকে সে-কথা জানালেনও না, কারণ, আপনি ভালোবেসে তাকে উপহার দিয়েছেন। তাই আপনি জানতেও পারলেন না যে, মোটা টাকার বিনিময়ে কিনে দেওয়া উপহারটি আপনার প্রিয়জনকে খুশি করতে পারল না।

স্মার্ট-চিটিং

অনেক ব্র্যান্ড কয়েকমাসের ব্যবধানে স্মার্ট ফোন-এর নতুন মডেল বাজারে আনে। আরও আপডেটেড, আরও ভালো এইসব স্মার্ট ফোন যেই বাজারে এল, ক্রেতারাও পুরোনো মডেল রেখে দিয়ে মোটা টাকা দিয়ে সেইসব স্মার্ট ফোন কিনতে শুরু করলেন। কিন্তু কেনার ইচ্ছে থাকলেও, মোটা টাকা খরচ করে নতুন মডেল-এর স্মার্ট ফোন কেনার সামর্থ সব ক্রেতার থাকে না। আর এই সমস্ত ক্রেতাদের-ই ‘টার্গেট কাস্টমার’ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এরা কোনও টিভি চ্যানেল-এ এমন ভাবে বিজ্ঞাপন করে যে, ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়ে পড়েন।

যেমন– ‘লিমিটেড অফার, এখনই ফোন করলে কুড়ি হাজার টাকার লেটেস্ট স্মার্ট ফোন পেয়ে যাবেন মাত্র বারো হাজার টাকায়। নীচে দেওয়া নম্বর-এ তাড়াতাড়ি কল করুন, সময় শেষ হতে চলেছে, আর মাত্র দশটি স্মার্ট ফোন হাতে রয়েছে’ –এমনই কিছু বিজ্ঞাপনকে মাধ্যম করে লোক ঠকানোর পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে। এই রকম আরও অনেক ফন্দি-ফিকির বের করে চলছে স্মার্ট-চিটাররা। এদের প্রলোভনে পা দিলে ঠকতে হবে আপনাকেও।

ফেরতের ঝামেলা

যে-সমস্ত ই-কমার্স সংস্থা নকল ব্র্যান্ড-এর জিনিস বিক্রি করে সাধারণত লোক ঠকায় না, তাদের থেকে কেনা জিনিসও অনেক সময় ফেরত দেবার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, ছেঁড়া কিংবা মাপে ছোটো জামাকাপড়, ত্রুটিযুক্ত কোনও ইলেক্ট্রনিক্স জিনিসপত্র প্রভৃতি অনেক সময় বদলে ঠিকঠাক জিনিস নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু, অনলাইন কেনাকাটায় একবার যদি কোনও জিনিস ত্রুটিযুক্ত বেরোয়, তাহলে বিশাল ঝামেলার ব্যাপার। প্রথমে চিঠি লিখতে হবে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেই অভিযোগ-পত্র পাঠাতে হবে ই-কমার্স সংস্থার মাধ্যমে এবং এরপর ধৈর্য নিয়ে কার্যসিদ্ধির অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে। আর দামি জিনিস সহজে যদি বদলে না নেওয়া যায়, তাহলে আইনি সাহায্য নিয়ে সেই জিনিস আদায় করাও খুব কঠিন কাজ। অর্থাৎ, অনলাইন কেনাকাটায় সুবিধের থেকে অসুবিধেই বেশি। অতএব, অনলাইন-এ কেনাকাটা করার আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

_____   

নেল আর্টে ট্রেন্ডি ডিজাইন

নেল আর্টের মাধ্যমে নিজের নখ-কে আপনি যে-কোনও রং, থিম, প্রকৃতি অথবা মুড-এর বিভিন্ন দৃশ্যে সাজিয়ে তুলতে পারেন। চাইলে ডার্ক অথবা হালকা রং-ও বেছে নিতে পারেন। নেল আর্ট-এর আগে নখ পরিষ্কার করা, নখের শেপ এবং কন্ডিশনিং-এর খেয়াল রাখা, একান্ত জরুরি। নখ-কে প্রথমে খাবার সোডা এবং লেবুর রস মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ জলে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর নরম কাপড় দিয়ে নখ শুকনো করে মুছে নিন। ফাইলার-এর সাহায্যে নখ-কে মনের মতো শেপ দিন যেমন গোলাকৃতি, ডিম্বাকৃতি অথবা চৗকো।

এবার নখ-কে সুরক্ষিত রাখতে নখে প্রাইমার লাগানোর পর বেস কোট লাগান। এর ফলে নখের রং হলুদ হবে না। বেস কোট-এর প্রথম পরত শুকিয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয় কোট অ্যাপ্লাই করুন। পুরোটা শুকিয়ে গেলে অন্য ম্যাচিং নেল কালার দিয়ে ইচ্ছেমতন ডিজাইন আঁকুন। বাড়িতে সরু ব্রাশের সাহায্যে ডিজাইন আঁকতে পারেন আবার বাজারে নেল আর্টের জন্য নানা ধরনের টুল্স পাওয়া যায়, যেগুলি ব্যবহার করে নেল পেইন্ট করা খুবই সহজ।

কয়েকটি ট্রেন্ডি নেল আর্ট

বনজারা নেল আর্টঃ কালো নেলপলিশের উপর পছন্দ অনুযায়ী নানা আকারের স্টাড্‌স লাগিয়ে বানজারা নেল আর্ট নিজেই বানিয়ে নিতে পারবেন। কালো রঙের ম্যাট নেলপলিশ-এর একটা কোট লাগান এবং সেটা শুকিয়ে যেতে দিন। পরের পরতটি গাঢ় করে লাগান। নেলপেইন্ট শুকিয়ে যাওয়ার আগেই একটি চিমটের সাহায্যে স্টাড্‌স এক একটা করে তুলে নখের পেইন্টের উপর বসান এবং ডিজাইন ফুটিয়ে তুলুন। নেল পেইন্ট-এর উপর স্টাড্‌স পুরোপুরি সেট হয়ে গেলে, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নেল আর্ট টিকিয়ে রাখার জন্য নখের উপর ট্রান্সলুসেন্ট কোট লাগিয়ে নিন। মিড নাইট ব্লু আর গ্রে নেল এন্যামেল-এর উপরেও এই ধরনের প্যাটার্ন বানানো যেতে পারে।

স্মাইলি নেল আর্টঃ লেটেস্ট ট্রেন্ড-এ স্মাইলি নেল আর্ট ডিজাইন এখন ইন। আজকাল সমস্ত মেসেজের সঙ্গে স্মাইলি পাঠানো সকলের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। নখেও যদি সুন্দর একটা স্মাইলি বানানো যায় তাহলেও সকলের দৃষ্টি নখের প্রতি আকর্ষিত হবেই। এই ডিজাইনে সবগুলো নখেই আলাদা আলাদা রকম স্মাইলি বানানো হয়। কালো এবং হলুদ রং ছাড়াও এই ডিজাইনে সাদা, লাল এবং গোলাপি রং-ও ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ডিজাইন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

চেক বোর্ড ফ্রেঞ্চ নেল্সঃ এই নেল আর্ট দেখতেও ভালো লাগে এবং এর কিউট লুক সব আকারের নখেই মানানসই লাগে।

পার্ল নেল আর্টঃ কেভিয়ার অর্থাৎ মাছের ডিমের মতো নেল আর্ট এখন আধুনিকাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এই নেল আর্টের থ্রিডি এফেক্ট-এর জন্য এবং এতে পার্ল-এর ব্যবহার হয় বলে একে পার্ল নেল আর্ট বলা হয়। গ্লসি ব্ল্যাক নেলপলিশের উপর পার্ল বিড্‌স চেপে রেখে এই আর্ট বানানো হয়। পার্ল ভালো ভাবে সেট করে গেলে উপর দিয়ে গ্লসি টপ কোট লাগিয়ে নিন।

মার্বেল টাইল্সঃ এই নেল আর্টের ট্রেন্ড এখন ফ্যাশনে ইন। দেখতে সুন্দর লাগে এবং নখকে কমপ্লিট লুক দেয়।

নিউজপেপার নেল্স: এই নেল ডিজাইন দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগে তেমনি সব রকম উৎসব-অনুষ্ঠান-অফিস সব জায়গার জন্যই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। হোয়াইট ব্রাইট বা লাইট কালারের নেলপলিশ লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। এবার নখ, অ্যালকোহলের মধ্যে ২ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন এবং ভেজা নখের উপর খবরের কাগজ পেস্ট করুন। খানিকক্ষণ রেখে কাগজ সরিয়ে দিন। তৈরি আপনার নিউজপোর নেল আর্ট।

হাফ মুন: নখকে ক্লাসি এবং রয়্যাল লুক দিতে চাইলে হাফ মুন নেল আর্ট সিলেক্ট করাই যুক্তিযুক্ত। এই আর্ট-এ নখের নীচের অংশে ডিপ কালার দিয়ে হাফ মুন আঁকা হয় ও বাকি অংশ হালকা ম্যাট কালার ব্যবহার হয়।

পেটাল্স নেল আর্ট: ফুলের পাপড়ি শুকিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি জেল নেলপলিশ নখের সৗন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এখন এই নেল আর্টের ট্রেন্ড খুব চলছে কারণ এটি নখের সৗন্দর্য বাড়াবার সঙ্গে লুকটাও ন্যাচারাল রাখে।

লেসি নেল আর্ট: লেস লাগালে যেমন পোশাকের সৗন্দর্য বেড়ে যায়, তেমনি নখে লেস নেল আর্ট নখের সৗন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। এই নেল আর্ট-টির জন্য পারফেক্ট ফিনিশিং খুব দরকার।

ব্রেসলেট নেল আর্ট: এর জন্য নখে নেলপলিশ লাগাবার পর ভিজে থাকা অবস্থাতেই জুয়েলারি লাগিয়ে সেট করতে দিতে হবে এবং দীর্ঘসময় টিকিয়ে রাখতে এর উপর ফাইনাল কোটিং দিতে হবে। এর ফলে নখে লাগানো অ্যাক্সেসরি সঠিক ভাবে সেট হবে। ব্রেসলেট লুকের জন্য অন্য রঙের সুতো নিয়ে অনেক টুকরোয় সুতোটিকে কাটুন যাতে টুকরোগুলি নখের উপর ঠিকমতো ফিট করে। খেয়াল রাখতে হবে, অ্যাক্সেসরি যেন নখের উপরেই থাকে।

ওয়ার্ড প্লে: যদি মনের ভাবনা নেল আর্টের মাধ্যমে ব্যক্ত করতে চান তাহলে ওয়ার্ড প্লে নেল আর্ট ব্যবহার করতে পারেন। এই নেল আর্ট বানানো খুবই সোজা এবং এটি খুবই ক্রিয়েটিভ একটি আর্ট।

হোলোগ্রাফিক কালার: ফ্ল্যাশি লুক, রং এবং স্টাইলিশ বলেই হোলোগ্রাফিক ক্রোম সকলেরই খুব পছন্দের। হোলোগ্রাফিক নেল্স-এর জন্য মার্কেটে অনেকরকম উপকরণ পাওয়া যায় যেমন হোলোগ্রাফিক সেলোফেন এবং ফয়েল পেপার।

গ্যালাক্সি নেল আর্ট: অ্যাস্ট্রোলজি যারা ভালোবাসেন তারা গ্যালাক্সি নেল আর্ট-ও খুবই পছন্দ করবেন। সিংগল অথবা কালারফুল মেটালিক নেলপলিশ লাগিয়ে উপরে জ্বলজ্বলে তারা লাগিয়ে ফিনিশিং টাচ দিতে পারেন এই ধরনের নেল আর্টে।

অ্যাকোয়ারিয়াল নেল আর্ট:  নেল আর্টে যদি অ্যাকোয়ারিয়ামের ছোঁয়া আনতে চান তাহলে এই নেল আর্ট বেছে নিতে পারেন। এই ডিজাইনে ব্লু ক্রিস্টাল খুব সুন্দর লাগে দেখতে। জলের আভাস আনার জন্য নুড কালার ব্যবহার করা সব থেকে ভালো। এর উপর তুলোর সাহায্যে গ্লিটার অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

নেগেটিভ স্পেস: খুব কম নেল আর্ট এবং বেশিটা ব্ল্যাংক স্পেস দিয়ে খুব মজার নেল আর্ট বানানো সম্ভব। এই নেল আর্ট-কে নেগেটিভ স্পেস নেল আর্ট বলা হয়। এটি মেটালিক নেল কালারের উপর সবথেকে ভালো ফুটে ওঠে।                            ঞ্জ

ট্রেন্ডি নেল আর্টের জন্য জরুরি টিপ্স

> নেল আর্টের জন্য ন্যাচারাল এবং ব্রাইট কালারের নেলপলিশ থাকা একান্ত জরুরি। ন্যাচারাল কালারের নেলপলিশ লাগিয়ে তার উপর ব্রাইট কালারের ট্রাইঅ্যাংগল বানাতে পারেন

> আলাদা রকমের নেল আর্ট বানানোর জন্য স্কচ টেপ ব্যবহার করুন। এর সাহায্যে নখে নানা রকমের ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন

> ন্যাচারাল কালারের অথবা পছন্দমতন নেলপেইন্ট লাগিয়ে তার উপর সেলোফেন পেপারের ছোটো ছোটো টুকরো আটকে দিন। শ্যাটার্ড গ্লাস নেলস ডিজাইন তৈরি হয়ে যাবে। ছোটো নখেও এই আর্ট দেখতে ভালো লাগবে

> আলাদা আলাদা নেল কালার্স ব্যবহার করা যায় নেল আর্টে এবং ইচ্ছেমতন ডিজাইনও তৈরি করা যায়

______

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মূলস্রোতের অঙ্গ হিসেবে ভাবুন

ওরা পুরোপুরি অসুস্থ কিন্তু নয়, ওরা স্পেশাল চাইল্ড। কারণ ওরা কোনও না কোনও দিক থেকে স্পেশাল। ওদের মধ্যেও প্রতিভা থাকে। সমাজ তবু ওদের অবহেলা করে৷এই পরিস্থতিতে একমাত্র সিনেমা, পত্রপত্রিকা–সহ এবং নানা গণ-মাধ্যমই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা যারা সামাজিক সচেতনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ভালো সিনেমার পক্ষে কথা বলি, তারা প্রত্যেকেই এই বিষয়টা জানেন। কারও আপনজনের যদি কোনও সম্যস্যা থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই পরামর্শ দেওয়া উচিত একজন কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়ার। কারণ এই বিষয়টাকে তারাই অনুধাবন করতে পারবেন। আমারা যারা ওই শিশুদের অন্যভাবে দেখে অভ্যস্ত, তাদেরও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা দরকার৷

আমাদের চারপাশে বিভিন্ন মানুষের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা , খালি চোখে যা সব সময় ধরা পড়ে না৷ ‘হু’-র এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন সময়ে প্রতি ১০০টি শিশুর মধ্যে ২০টি শিশু জন্মাবে বিশেষ চাহিদা নিয়ে৷ থাকবে গগনচুম্বী প্রতিবন্ধকতা৷ যাদের চিরস্থায়ী বিকলাঙ্গতা মন বা মস্তিষ্কে থেকেই যাবে৷ বহিরঙ্গে আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে দৃশ্যতই যার কোনও ফারাক নেই৷ কিন্তু  সে স্বাভাবিক সামাজিক আদানপ্রদানে যেমন অক্ষম, তেমনই অপারগ প্রাত্যহিক কাজকর্মেও৷ তার থাকতে পারে অটিজম , থাকতে পারে সেরিব্রাল পালসি , কস্টেলো বা ন্যূনান -এর মতো সিনড্রোম , থাকতে পারে স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ-কমিউনিকেশন নিড, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টাল ডিলে বা অ্যাটেনশন-ডেফিসিট-হাইপার-অ্যাক্টিভিটি -ডিসঅর্ডার ৷ এক মুহূর্তও চুপটি করে এক জায়গা. বসে থাকতে পারবে না সে,সব সময় তার আচরণে থাকবে অস্বাভাবিক ছটফটানি৷ছোটো থেকেই এই আচরণ দেখেও অনেক মা-বাবা অবহেলা করেন৷ কারণ এটা যে মানসিক রোগ, তা তারা মানতেই পারেন না৷  হৃদরোগ -ক্যানসার -ডায়াবেটিসের মতো এগুলিও যে এক ধরনের অসুস্থতা, আর এর যে নিরাময় সম্ভব– বাবা-মায়েদের আগে তা বোঝা জরুরি৷না হলে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটি , সমাজ -সংসার -স্কুলের অবিমৃষ্যকারিতায় ও অবহেলায় , ক্রমশ আরও বিপর্যস্ত হবে৷

শিশুর মায়েরা যদি গোড়া থেকেই শিশুর বিকাশে কোনও অস্বাভাবিকতা খেয়াল করেন, তাহলে আনেক আগে থেকেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়৷  সেক্ষেত্রে অনেক  প্রতিবন্ধকতাকে শৈশবেই বিনাশ করা সম্ভব৷ প্রয়োজন ‘আর্লি ইন্টারভেনশন ও আর্লি ডায়াগনোসিস ’৷যত আগে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করবেন শিশুবিকাশ বিশেষজ্ঞ, তত ভালো ফল পাওয়া যাবে৷

কয়েকটি বিপজ্জনক মাইলস্টোন ডেভেলপমেন্টের কথা বলা যাক৷ ৬ মাস বয়সে শিশু যদি উপুড় না হয় , এপাশ ওপাশ না করে , কোনও কিছু ধরার চেষ্টা না করে , অদ্ভুত শব্দ করে ফোকলা দাঁতে না হাসে , মা -বাবাকে আদর না করে, তাহলে সতর্ক হোন৷ ১ বছর বয়সে যদি হামাগুড়ি দিতে বা কোনও কিছু ধরে না দাঁড়াতে পারে , বাবা /মামা না বলতে পারে , শেখা জিনিস ভুলে যায় ও কোনও কিছু আঙুল দিয়ে দেখাতে না পারে– তাহলে সেটা অস্বাভাবিক৷ ২ বছর বয়সে যদি দুধ খাব, বাড়ি যাব-র মতো শব্দ না বলতে পারে , পেন -ব্রাশ -সাবান -চামচের কী কাজ না বুঝতে পারে , কোনও কাজ বা বলা শব্দ নকল না করতে পারে , সোজা হয়ে হাঁটতে না পারে ও ছোটোখাটো সাধারণ নির্দেশ বুঝতে না পরে – তাহলে বিষয়টিকে মোটেই অবহেলা করবেন না৷৪ বছরে যদি লাফাতে না পারে , আঁকিবুঁকি না কাটে , অন্য শিশু বা বাইরের লোকের কাছে যেতে না চায় , জামা পড়া -ঘুম -চান -টয়লেট সবেতেই বিস্তর ঝামেলা করে , নিজের প্রিয় গল্প না বলতে পারে , আমি বা তুমির ব্যবহার না শেখে , সদৃশ -বিসদৃশের ফারাক না বোঝে এবং কথা অস্পষ্ট বলে– তাহলে সেটা মোটেই স্বাভাবিক নয়৷

শিশুকে যদি এই অবস্থায় বুলি করে কিংবা অবহেলা করে সমাজ, স্কুল ও বাড়ির লোক– তাহলে অল্পেই সে অধৈর্য-বিরক্ত -অসুখী হয়ে পড়বে , স্কুলের রেজাল্ট খারাপ হতে থাকবে , অন্যকে উত্ত্যক্ত করবে,  বিপজ্জনক ঝুঁকি নেবে , নিয়ম মানতে  চাইবে না৷  প্রাথমিক শিক্ষকেরা এই ধরনের অসঙ্গতি বাবা -মার নজরে আনলে ও তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট শুরু হলে ,এই  শিশুদেরও সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব৷

ওদের পাশে থাকুন, সহানুভূতির সঙ্গে৷সমাজকে সুন্দর করে তোলার এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ৷

কোষ্ঠকাঠিন্য

লক্ষ লক্ষ মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। দৈনিক একটি নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে না। মলত্যাগের জন্য বহু সাধ্যসাধনা করতে হয়। কারণ যেটুকু বর্জ্য তারা ত্যাগ করতে পারেন, হয় পরিমাণে তা খুব অল্প অথবা খুব শক্ত। Constipation সমস্যার এটাই সূত্রপাত।

Constipation নিয়ে উদাসীনতা কতটা ক্ষতিকারক?

প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সমস্যাটা কখনও আসে, কখনও চলে যায়। মানে, সর্বদাই যাওয়া-আসার পর্বে থাকে সুতরাং এটাকে গুরুত্ব না দিলেও চলে। অথবা তারা ভেবে নেন, এই সমস্যার কোনও চিকিৎসা হয় না। আর যারা জানেন যে এর চিকিৎসা রয়েছে, তারা মনে করেন, এধরনের বিষয়ে কারও-র সঙ্গে কথা বলাটা অন্তত তাদের পক্ষে রুচিসম্মত নয়। যে-কোনও রোগের মতোই কোষ্ঠকাঠিন্যকেও চিহ্নিত করতে হয় এবং প্রথমদিকেই চিকিৎসা করাতে হয়। এতে ভবিষ্যতে অন্ত্রের ক্ষতি এড়ানো যায়। অন্যভাবে বললে, কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে জীবনযাপন মোটেই স্বস্তির ব্যাপার নয়।

কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?

শরীরকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা – বিশেষত যারা বয়স্ক, তারা শারীরিক পরিশ্রম বিশেষ করেন না। তাদেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা বেশি। কিছু বিশেষজ্ঞ একথা বিশ্বাস করেন যে, শারীরিক পরিশ্রম বিপাক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এতে দেহের নানা প্রক্রিয়া আরও বেশি বার এবং আরও দ্রুত ঘটে।

গর্ভাবস্থা – এই পর্বে মহিলাদের হরমোনের পরিবর্তন হয়। এর ফলে একজন মহিলার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়তে পারে। আবার জরায়ু অন্ত্রের ওপর চাপ দিতে পারে, এতে খাবার যাওয়ার রাস্তা সরু হয়ে যায় এবং খাবার যেতে বেশি সময় লাগে।

Irritable Bowel Syndrome – যারা এই রোগের খপ্পরে পড়েছেন অন্যদের চেয়ে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় ঘন ঘন।

মলাশয় মলদ্বারের সমস্যা – টিউমার থাকলে তা মলাশয় ও মলদ্বারে চাপ দিতে পারে অথবা যাতায়াতের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। আবার যদি টিস্যু ছিঁড়ে যায়, মলাশয় ও মলদ্বার যদি  অস্বাভাবিক ভাবে সংকীর্ণ হয়ে যায়, তখন ওই অবস্থাকে বলা হয় কলোরেক্টালের কঠোরতা। এতেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

বেশি করে জোলাপ ব্যবহার করা – কেউ কেউ মনে করেন দিনে একবারই টয়লেট যাওয়া উচিত। না, এটা ঠিক নয়। এটাই যাতে হয় সেজন্য কেউ কেউ নিজে নিজেই জোলাপ ব্যবহার করেন। কোষ্ঠ সাফ করতে জোলাপ সাহায্য করতে পারে কিন্তু এটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। যখন কেউ জোলাপের ওপর পুরোপুরি  নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তখন জোলাপে একবার কোষ্ঠ সাফ হওয়া বন্ধ হলে কোষ্ঠকাষ্ঠিন্যের ঝুঁকি থেকে যায়।

 বয়স – যখন মানুষ বুড়ো হয়, তখন পরিপাক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অন্ত্র কম কাজ করে। হজম নালিপথের পেশিগুলি তখন আর আগের মতো কাজ করে না।

রুটিনে পরিবর্তন – যখন কেউ বাইরে কাজে বা বেড়াতে যান, তখন স্বাভাবিক রুটিন বদল হয়ে যায়। হজম প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে। অনেক সময় এর থেকেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। তখন খাবার সময়, রাতে শোওয়া বা সকালে ওঠার সময়, টয়লেট যাওয়ার সময়গুলো বদলে যায়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।

কতগুলি রোগ অবস্থা – মলাশয়, মলদ্বার, কিংবা পায়ুর মধ্যে দিয়ে মলের যাতায়াতের গতি কমিয়ে দিতে পারে  কিছু রোগ। তাতেও কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এই রোগগুলি হল–

১) স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা ২) এন্ডোক্রিন ও পরিপাকের অবস্থা ৩) সিস্টেমেটিক রোগ ৪)  ক্যানসার

তাহলে কি খাবারে ফাইবার বা তন্তুর পরিমাণ বাড়াতে হবে?

কেউ কেউ ভাবেন তাদের শরীরটা যেন আবর্জনা ফেলার জায়গা। তারা যা খুশি খান এবং তাতে তাদের সমস্যা বাড়ে। লাগামছাড়া খাবারের অভ্যাস হল অন্যতম প্রধান কারণ, যা পেটে বায়ু জমতে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্যরক্ষা করতে হলে খেতে হবে তন্তুসমৃদ্ধ খাবার। কোষ্ঠ ভালো ভাবে সাফ করানোর জন্য ফাইবার খাওয়া অবশ্যই দরকার। যাদের পেটে বায়ু জমছে তাদের প্রতিদিন অবশ্যই ফল ও সবজি খেতেই হবে। মাংস, দুগ্ধপণ্য খেতে পারেন অল্প পরিমাণে, তবে জাংক ফুড এড়িয়ে চলতে হবে। মাঝেমধ্যে মশলাদার ফাস্ট ফুড খাওয়া যেতে পারে কিন্তু সময় এসেছে যখন আমাদের বুঝতে হবে, যা কিছুই সুস্বাদু তাই স্বাস্থ্যকর নয়।

এক্ষেত্রে কি বেশি করে জল খাওয়া উচিত?

নিশ্চয়ই। সাদা, পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধ জল। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অ্যালকোহল, উত্তেজক পানীয়, অথবা খুব বেশি ক্যাফিন রয়েছে এমন পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তার মানে এই নয় যে, দিনে পাঁচ বা সাত লিটার জল খেতে হবে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক বলে দেবেন, দিনে কতটা জল খাওয়া দরকার। কিন্তু যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের অবশ্যই তরল খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। তাহলে ক্ষুদ্রান্ত্রের মধ্যে দিয়ে শরীরের বর্জ্য সহজে যেতে পারবে। সুতরাং, জলকে বলুন চিয়ার্স আর জল খেয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখুন।

মানসিক চাপও কি সমস্যা তৈরি করে?

মানুষের মস্তিষ্ক যে ভাবে সাড়া দেয়, তাতে ঝটকা লাগলে মানবদেহে পরিবর্তন হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। কারণ মানসিক চাপ বাড়লে বিশেষ ভাবে হজম প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়ে। তাই চাপের উৎসকে চিহ্নিত করা দরকার। অফিসের কাজের জন্য ঘন ঘন বাইরে যাওয়া কিংবা অন্য কোনও কারণে চাপ কিনা তা দেখতে হবে। যদি চাপের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, তাহলে সমস্যাটা মেটাতে চিকিৎসকের পরামর্শ লাগবে। আবার চাপের কারণকেও হিসেবে নিতে হবে। অতএব যদি দেখেন মানসিক চাপে আপনার অবস্থা বেশ কাহিল, তাহলে ভাগ্যের ভরসায় বসে না থেকে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

মলত্যাগের চাপ এড়িয়ে যাওয়া কতটা ক্ষতিকারক?

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। আজকের দিনে লোকেরা এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে, তারা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়াটাও স্থগিত রাখেন। কেউ কেউ চাপ এলে তা ঠেকিয়ে রাখেন কারণ সকলের সামনে শৗচাগারে যেতে চান না। দেরি করলেও চলতে পারে এমন ভাবনা কিংবা নিজের টয়লেট ছাড়া অন্যদের টয়লেটে যাব না, কারণ যাই হোক না কেন, চেপে রাখার বিষয়টি খুবই বাজে। যদি প্রকৃতির ডাক আপনি উপেক্ষা করতেই থাকেন, তাহলে, পরে কোনও সংকেতই আর অনুভব করতে পারবে না আপনার শরীর। অতএব আটকে রাখাটা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

মানসিক চাপ কাটিয়ে ফেলুন

আপনার স্বাস্থ্যের কি ক্ষতি করছে মানসিক চাপ? দিনের শেষে নিজেকে মনে হচ্ছে বিধদস্ত? চাপ কমানোর কয়েকটি উপায় হল

১)       এড়িয়ে চলুন – আশপাশের পরিবেশের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখুন। বিরক্ত করে এমন লোকজনকে এড়িয়ে চলুন। লোককে ‘না’ বলতে শিখুন।

২)      যা করবেন – লোকের সঙ্গে কথা বলুন, লোককে ক্ষমা করুন, নিজের বিষয়ে ইতিবাচক কথা বলুন, ভুলথেকে শিখুন।

৩)      বদলান – সবাইকে ভালো ভাবে বলুন তাদের ব্যবহার বদলাতে, যা ভাবছেন স্পষ্ট বলুন। নিজের সময় ভালো ভাবে কাজে লাগান।

৪)       অভ্যস্ত হোন – নিজের অবস্থান কোথায় ঠিক করুন, বেশি ভাবনাচিন্তা বন্ধ করা অভ্যাস করুন। ইস্যুগুলি নতুন করে সাজান এবং সবকিছুকে বড়ো চালচিত্রে দেখুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচুন

 খাবারে রাখুন শাকসবজি ফল

১)       আপেল – আপেলে বেশি তন্তু রয়েছে। একটা খোসা সহ মাঝারি মাপের আপেলে (প্রায় ১৮২ গ্রাম) থাকে ৪.৪ গ্রাম ফাইবার, যা সারা দিনে মোট যত ফাইবার দরকার তার ১৭ শতাংশ। কাঁচা চিবিয়ে খেতে পারেন, রস করে খেতে পারেন, স্যালাড বা সিদ্ধ খাবারে দিয়ে খেতে পারেন।

২)       কিউয়ি – একটা কিউয়ি ফলে থাকে ২.৩ গ্রাম ফাইবার (ওজন প্রায় ৭৬ গ্রাম), এর মধ্যে থাকে সারা দিনে দেহে যত ফাইবার দরকার তার ৯ শতাংশ। ফ্রুট স্যালাডে দিতে পারেন অথবা ফ্রুট স্মুদিতে দিতে পারেন।

৩)      নাশপাতি – ফাইবারে সমৃদ্ধ আরেকটা ফল হল নাশপাতি। মাঝারি সাইজের (ওজন ১৭৮ গ্রাম) নাশপাতিতে থাকে ৫.৫ গ্রাম ফাইবার। রোজ যত ফাইবার দরকার তার ২২ শতাংশ থাকে নাশপাতিতে। কাঁচা খান, চিজের সঙ্গে রান্না করে খান, স্যালাডে দিন কিংবা মিষ্টির পাতে কিংবা সিদ্ধ খাবারে দিন।

৪)       পালং শাক অন্য সবজি – পালং শাক, ব্রাসেলসের কল, ব্রোকোলি ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং এগুলোয় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে ও ফোলেট। মলের ওজন বাড়ায় এই সব সবজি, ফলে তা বেরিয়ে যাওয়াও সহজ হয়।

৫)      রাঙালু   – মাঝারি সাইজের একটা রাঙালুতে (ওজন ১১৪ গ্রাম) থাকে ৩.৮ গ্রাম ফাইবার, যা রোজকার প্রয়োজনীয় ফাইবারের ১৫ শতাংশ। ঝলসে নিয়ে, ভাপে সেদ্ধ করে কিংবা চটকে নিয়ে রাঙালু খাওয়া যায়।

বাচ্চার জেদ কীভাবে কমাবেন

শপিং করতে গিয়ে অনেক সময়ে নজরে আসে মা-বাবার সঙ্গে আসা বাচ্চারা, কোনও কিছু কিনে দেওয়ার জন্য অথবা চিপ্স, কোল্ড ড্রিংক অথবা কোনও ফাস্ট ফুড খাওয়ার জন্য এতটাই জেদ করতে থাকে যে, তাদের মা-বাবাকে সমস্ত লোকের সামনে রীতিমতো লজ্জায় পড়তে হয়। জেদ মাঝেমধ্যে এমন পর্যায় পৌঁছোয় যে, বাচ্চা চ্যাঁচামেচি করতে করতেই জেদ বজায় রাখতে রাস্তাতে শুয়ে পড়তেও দ্বিধাবোধ করে না।

অনেক সময় খিদে পেলে অথবা ঘুম পুরো না হলেও বাচ্চা ঠিকমতো অসুবিধাটা বোঝাতে পারে না। চ্যাঁচামেচি  করে বা জেদ দেখিয়ে অসুবিধাটা অন্য ভাবে প্রকাশ করতে চেষ্টা করে।

বাচ্চাদের অযথা এই ধরনের টেম্পারামেন্ট এবং ট্যানট্রাম অভিভাবকদের চিন্তা, অবসাদ, ফ্রাস্ট্রেশনের কারণ হয়ে ওঠে। বাচ্চাদের জেদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া বড়োদের জন্য বেশিরভাগ সময়েই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রাগের বহিঃপ্রকাশ, জেদ প্রকাশ করার নানা উপায় বাচ্চা নিজেই বার করে। রাগ দেখিয়ে, কেঁদে, চ্যাঁচামেচি করে, জিনিসপত্র ছুড়ে, ভেঙে, মাটিতে শুয়ে পড়ে, এমনকী বড়োদের গায়ে হাত তুলেও নিজেদের জেদ মেনে নেওয়ার জন্য বড়োদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এই ক্ষেত্রে বাচ্চাদের বমি করতে দেখা যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ করে রাখতে, এমনকী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্তও বহু রয়েছে। এই সবই, জেদ বজায় রাখার জন্যই বাচ্চারা সাধারণত করে থাকে।

সাধারণত ১ থেকে ৪-৫ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের মধ্যে ট্যানট্রামের সমস্যা বেশি দেখা যায়। এই বয়সে বাচ্চাদের মধ্যে সোশ্যাল এবং ইমোশনাল স্কিল্স ডেভেলপ হওয়া শুরু হয়ে যায় অথচ নিজেদের ইমোশন এক্সপ্রেস করার মতো মাধ্যম ওদের কাছে তখনও অজানা থাকে। সেই সময় বড়োদের থেকে স্বাধীনতা কাম্য হলেও বাচ্চারা অভিভাবকদের ছত্রছায়া থেকে দূরে যেতেও ভয় পায়। এই অবস্থায় বাচ্চারা চায়, বড়োরা ওদের কথা শুনে চলুক, ওদের হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাক যাতে তারা নিজেদের ইচ্ছে বড়োদের উপর সহজে চাপাতে পারে।

বাচ্চাদের জেদ করার প্রধান কারণ

টেম্পারামেন্ট – যে-বাচ্চারা খুব সামান্য কারণে আপসেট হয়ে পড়ে তাদেরই বেশি জেদ দেখাবার প্রবণতা থাকে।

স্ট্রেস – একাকিত্ব, খিদে, ক্লান্তি ইত্যাদি ইমোশন বাচ্চারা ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে পারে না। ফলে জেদ দেখিয়ে ওই অভাবটা পূরণ করে নেওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়াও কেউ ওদের পছন্দের খেলনা জোর করে কেড়ে নিলে কিংবা ওদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হলে, ওদের প্রতিবাদ জানাবার ভাষা হল জেদ।

স্ট্রং ইমোশনস ভয়, চিন্তা, রাগ, শক ইত্যাদি। জেদ করাটা বাচ্চাদের বিকাশ প্রক্রিয়ার একটা স্বাভাবিক অংশ। এটা কিছুতেই অ্যাভয়েড করা সম্ভব নয়। কিন্তু চেষ্টা করলে বাচ্চার জেদ অবশ্যই কম করা যেতে পারে। প্রত্যেক বাচ্চার স্বভাবই একে অপরের থেকে আলাদা। সুতরাং একজন বাচ্চার জেদ কম করবার জন্য যে উপায় নেওয়া হবে, সেটা অন্য বাচ্চার উপর কার্যকরী নাও হতে পারে।

বাচ্চার এই সমস্যা দূর করার কয়েকটি উপায়

বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন – বাচ্চা যদি একাকিত্ব অনুভব করে বা বোর ফিল করে, তাহলে নিজের বিরক্তি এবং খিটখিটে মেজাজ কোনও ভাবে বাইরে প্রকাশ করবেই এবং কোনও কারণ ছাড়াই কান্নাকাটি, চ্যাঁচামেচি করে সকলকে নাজেহাল করে ছাড়বে। তাই বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখুন। নানারকম মজাদার অ্যাক্টিভিটি করান বাচ্চাকে, অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলা করার সুযোগ করে দিন। এতে বাচ্চার জেদ অনেকটাই কন্ট্রোল করা যাবে।

জেদের কারণ বোঝার চেষ্টা করুন – বাচ্চা যখন কিছু নিয়ে জেদ করবে এবং সেটা না পাওয়া বা না হওয়া পর্যন্ত  জেদ দেখাতেই থাকবে, তৎক্ষণাৎ চেষ্টা করুন বুঝতে যে বাচ্চাটির, কথা না শোনার পিছনে কী কারণ রয়েছে। যদি জেদের মাত্রা বাড়াবাড়ির পর্যায় চলে যায় তাহলে সেই মুহূর্তে বাচ্চাকে কিছু না বলাই বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চা কোনও জিনিস চাওয়া নিয়ে জেদ করতে থাকলে মুখের উপর ‘না’ বলে না দিয়ে বরং কেন জিনিসটি আপনি দিতে চান না তার কারণ বিস্তারিত ভাবে বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন। এতে বাচ্চা কারণটি সম্পর্কে জানতেও পারবে আবার তার ইগো-ও আঘাত পাবে না।

দীর্ঘ শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে বলুন – বাচ্চা জেদ দেখানো শুরু করলে সঙ্গে সঙ্গে ওর সঙ্গে একটি ব্যায়াম করা শুরু করুন। আপনার পাশে বসিয়ে ওকে দীর্ঘ শ্বাস নিতে বলুন। এতে ইমোশনাল রিয়্যাকশনের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। বাচ্চা যদি এই ব্যায়াম করতে অস্বীকার করে তাহলে আপনি নিজেই এটা ট্রাই করে দেখুন। ডিপ ব্রিদিং আপনার নিজের ইমোশনকে কন্ট্রোল করতে সাহায্য করবে। এতে আপনার স্ট্রেস-ও কম হবে।

শাস্তি দেবেন না – বড়োরা সবথেকে বড়ো ভুল করেন, বাচ্চা জেদ দেখালে তাকে শাস্তি দিয়ে। এতে বরং বাচ্চা আরও বেশি জেদি হয়ে পড়ে। অভিভাবকেরা এই ক্ষেত্রে ভেবে নেন, তাদের বাচ্চার মধ্যেই কোনও অসঙ্গতি রয়েছে যার জন্য বাচ্চা জেদী হয়ে যাচ্ছে অথবা মনে করেন নিজেরাই বাচ্চার ঠিকমতো প্রতিপালনে অক্ষম এবং সেই কারণেই বাচ্চার স্বভাব বিগড়ে যাচ্ছে। আসলে এসব কোনও কারণই নয়। বাচ্চা মানুষ করতে ধৈর্যের প্রয়োজন। নিজেকে শান্ত রাখা খুব দরকার এবং প্রয়োজনে বড়োদের নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে সঠিক রাস্তা বেছে সেইমতো বাচ্চাকে শিক্ষা দিতে হবে।

শান্ত করার চেষ্টা করবেন না – বাচ্চা যখন জেদ করতে থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ইগনোর করা উচিত যতক্ষণ না সে নিজের কোনও ক্ষতি করবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাচ্চাকে ছেড়ে ঘর থেকে বাইরেও বেরিয়ে আসতে পারেন। যদি বাচ্চা রাগের মাথায় কাউকে মারা (গায়ে হাত তোলা) কামড়ানো, লাথি মারা ইত্যাদি করতে থাকে বা জিনিসপত্র ছুড়ে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে– তাহলে বাচ্চাকে তৎক্ষণাৎ ওই জায়গা থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিন। বাচ্চাকে বুঝতে দিন ওর এই অত্যাচার করা বা জিনিস ছুড়ে ভেঙে ফেলার মতো ব্যবহার কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। যতটা সম্ভব হয় ততক্ষণ পর্যন্ত নিজের কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। এতে বাচ্চাটি বুঝতে পারবে এই ধরনের জেদ দেখিয়ে ও কারও মন জয় করতে পারবে না, কেউ ওকে সমর্থন করবে না।

তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাচ্চাকে কখনও কখনও নিজের রাগ বাইরে প্রকাশ করতে দেওয়া উচিত। এর ফলে ভিতরের ফিলিংস বাইরে বেরিয়ে এসে বাচ্চাকে অবসাদমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

বাচ্চার প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করুন – কখনও কখনও বাচ্চা যখন জেদবশত ট্যানট্রাম দেখাতে থাকে তখন কিছু না বলে বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরে নিজের বুকে টেনে নিন এতে বাচ্চা নিজেকে সুরক্ষিত মনে করবে। আপনার ভালোবাসা পেলে ও বুঝতে পারবে আপনি বাচ্চার ভালো-মন্দ বিষয়ে কেয়ার করেন। ক্লান্তি এবং খিদে সাধারণত বাচ্চার জেদ বাড়ায়। তাই সব সময় খেয়াল রাখা দরকার বাচ্চা যেন অভুক্ত না থাকে এবং ঠিকমতো যেন তার ঘুম হয়। সময় নিয়ে দুধ এবং জল খাওয়ান এবং বাচ্চার কমফর্ট-এর সবসময় খেয়াল রাখুন।

আবহাওয়া অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেক-আপ টিপ্স

আমাদের দেশে  মেক-আপ করার মূল সমস্যা হল, বাতাসে যখন তখন আর্দ্রতার পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়৷ ফলে ঘামে মেক-আপ ধুয়ে-মুছে যায়, আর নয়তো ক্র‌্যাক ফুটে ওঠে। তাই অনেকেই এই ভয়ে  মেক-আপ ছাড়াই বাড়ির বাইরে যাওয়া পছন্দ করেন। কোথাও গিয়ে মেক-আপ গলে পড়ছে, চোখের কাজল, আইলাইনার ঘামে ধেবড়ে গিয়ে চোখের চারপাশ কালো করে তুলেছে, এই অবস্থায় কেউই পড়তে চান না। সুতরাং সঠিক মেক-আপ ট্রিক্স এবং বছরভর ত্বককে উজ্জ্বল ও হাইড্রেটেড রাখার সঠিক নিয়ম জানা থাকলে, সকলের সামনে লজ্জিত হতে হবে না।

০ ত্বককে হাইড্রেট করা খুব জরুরি যাতে তা রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে না পড়ে

০ নিয়মিত এক্সারসাইজ ত্বকের গ্লো বজায় রাখতে সাহায্য করে

০ মুখে টোনার ব্যবহার করুন যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং ত্বক ব্যাকটেরিয়া-মুক্ত থাকে

০ ফাউন্ডেশন লাগাবার আগে মুখে সানস্ক্রিন অবশ্যই লাগাবেন

বাতাসে আর্দ্রতা থাকলে হালকা মেক-আপই ভালো, তবে প্রয়োজনে জায়গা এবং পোশাক অনুযায়ী একটু ভারী মেক-আপ করার প্রয়োজন হতেই পারে। খেয়াল রাখুন এই বিষয়গুলিঃ

০ নুড মেক-আপ দেখতে খুব ন্যাচারাল লাগে। স্কিন টোন অনুযায়ী করা মেক-আপ আপনাকে স্টাইলিশ করে তোলে

০ প্রথমে টোনার লাগাবার পর ময়েশ্চারাইজার লাগান। সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে বাঁচতে ফাউন্ডেশনের আগে সানস্ক্রিন লাগানো খুব জরুরি। গরমে হালকা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়

০ ফাউন্ডেশন লাগাতে ইচ্ছে না করলে বিবি ক্রিম ব্যবহার করেও মেক-আপ লুক পেতে পারেন

০ ডাস্ট পিংক, বেইজ, চেরি রেড, ক্যারামেল, মোকা, নুড লিপস্টিক এই সবগুলোই ইন্ডিয়ান স্কিন টোনের জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। ব্রাইট রেড ও পিংক কালারের লিপস্টিক পার্টি বা যে-কোনও অনুষ্ঠানের জন্য পারফেক্ট

০ চোখের জন্য উইংগড আইলাইনার বর্ষাতেও সফ্ট লুক নিয়ে আসে। অবশ্য কাজল ব্যবহার করেও মেক-আপ লুক পারফেক্ট করে তুলতে পারেন

০ গ্রিন,নীল, অরেঞ্জ অথবা পিংক আইলাইনারও ব্যবহার করতে পারেন ভাইব্র‌্যান্ট লুক পাওয়ার জন্য

০ এখন শীত শীত ভাব, তাই মেক-আপ উঠে যাওয়ার ততটা ভয় নেই৷ কিন্তু গরমে এবং বর্ষায় ওয়াটার প্রুফ মেক-আপ ব্যবহার করা উচিত যাতে ঘামে মেক-আপ ধুয়ে না যায়। স্মোকি আইজ সব মরশুমেই মুখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু গরমে ও বর্ষায় ওয়াটার প্রুফ আইলাইনার এবং মাসকারা ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়, যাতে কোনও ভাবেই চোখের মেক-আপ নষ্ট না হয়।

 

কিচেন এবং গ্যাজেটস-এর পরিচ্ছন্নতা জরুরি

অপ্রয়োজনীয় জিনিস রান্নাঘরে জমিয়ে রাখা, খাবার শেষ হলে কৌটাগুলো অযথা জমিয়ে রাখা, রান্নার সময় কিচেনের টেবিলে অসাবধানতায় তরকারির ঝোল পড়ে গেলে বা তেলের ছিটে লাগলে দ্রুত পরিষ্কার না করা, প্রতি মাসে ১-২ বার অন্তত পুরো ফ্রিজ পরিষ্কার না করা– এই অপরিচ্ছন্নতাই নানা অসুখ বিসুখের কারণ হতে পারে৷ অপরিচ্ছন্নতাই রোগ জীবাণুর জন্ম দেয়৷রাতের বাসন পরদিন সকালের জন্য ফেলে রাখবেন না। কারণ খাবারের সন্ধানে রাতের বেলা  নানা পোকামাকড় রান্নাঘরে ঢুকবেই।  পোকামাকড় ঠেকাতে স্প্রে করলে সেটি নিজের জন্যও ক্ষতিকর। চেষ্টা করুন রাতের বাসন রাতেই মেজে রাখতে। এতে রান্নাঘর পরিষ্কার থাকবে, স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকবে না।

রান্নাঘরের মেঝে, সিংক, নর্দমা অবশ্যই প্রতি রাতে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। এক টুকরো কর্পূর রেখে দিতে পারেন সিংকে বা নর্দমার মুখে। এতে পোকার আক্রমণ কমবে।রান্না ও খাওয়া শেষে রান্নাঘরটা ভালো করে পরিষ্কার না করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে যায়। অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে জীবাণু। তাই নিয়মিত রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যক।

বাসনপত্রের পরিচ্ছন্নতা

সুবিন্যস্ত ভাবে বাসন রাখা যাবে এমন শেল্ফ তৈরি করুন অথবা কিনে এনে বসান রান্নাঘরে। এক্ষেত্রে কাঠের শেল্ফ ব্যবহার করলে আগুন লাগার ভয় থাকে। তাই স্টিল-এর শেল্ফ ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। কী ভাবে যত্ন নেবেন বাসনপত্রের, তা জেনে নিন এই পরিসরে।

  • পেটের অসুখ থেকে বাঁচার জন্য অর্থাৎ জীবাণুর সংক্রমণ আটকানোর জন্য ভালো মানের স্টিলের ও কাচের বাসনপত্র ব্যবহার করুন এবং ভালো মানের লিকু্ইড বাসন মাজার সাবান দিয়ে বাসনপত্র ধোয়ার ব্যবস্থা করুন
  • সিংক-এ এঁটো বাসন জমিয়ে রাখবেন না। এতে পোকামাকড় জন্মাতে পারে। বেড়ে যেতে পারে আরশোলা এবং আরশোলা বাড়লে টিকটিকির উপদ্রবও বাড়বে
  • ছুরি, বঁটি, মিক্সার, জুসার প্রভতি জিনিসপত্র ব্যবহারের পর ভালো ভাবে ধোয়া হচ্ছে কিনা দেখে নেবেন অবশ্যই। কারণ, সামান্য খাদ্যকণা থেকে গেলেও জীবাণু গ্রাস করতে পারে
  • লোহার কড়াইতে রান্না ভালো হলেও, কড়াই এবং রান্নায় ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রীও আজকাল ননস্টিক বেছে নেওয়ার চলন বেশি। কারণ, এতে পরিষ্কার করতে অসুবিধে হয় না এবং সামান্য অমনোযোগী হলেও রান্না পুড়ে যাওয়া কিংবা ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে না। আর পুড়ে যাওয়া খাবার যেহেতু খেতে অসুবিধে হয় এবং স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক- তাই ননস্টিক-ই দ্য বেস্ট। কিন্তু যে-সব মহিলারা এখনও মা হতে চান, তারা রান্নায় ননস্টিক বাসন ব্যবহার কমান। কারণ, সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে ননস্টিক বাসনে ব্যবহৃত টেফলন থেকে
  • রুটি কিংবা লুচি বেলার জন্য অনেকে কিচেন টেবিল-এর স্ল্যাব ব্যবহার করেন সরাসরি কিন্তু এটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এর জন্য ধোয়া ব্যালন-চাকি ব্যবহার করুন অথবা লিকু্ইড সোপ এবং জল দিযে ভালো ভাবে স্ল্যাব পরিষ্কার করে, পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিয়ে রুটি কিংবা লুচি বেলুন। সবজি কিংবা অন্যান্য সামগ্রীর কাটিং-বোর্ডও ব্যবহার করার আগে একই ভাবে পরিষ্কার করে নিন
  • টেবিল টপ পরিষ্কার রাখতে, হাতের কাছে সব সময় কিচেন টাওয়েল রাখুন। এই টাওয়েল অবশ্যই রোজ পরিষ্কার করতে হবে। চপিং বোর্ড এবং ছুরিও রোজ পরিষ্কার করা উচিত।

বিশেষভাবে সক্ষমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে আবেদন রানির

অভিনয় জীবনে বার বার নিজের পারফরম্যান্সে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন রানি মুখার্জি। সঞ্জয় লীলা বনশালী পরিচালিত ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে রানির অভিনয়কে ফিল্ম বোদ্ধারা ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আবার সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত ‘হিচকি’-তে তাঁর অনবদ্য কাজও সকলের নজর কাড়ে। ‘ব্ল্যাক’ ছবিতে মিশেল ম্যাকনালি নামের দৃষ্টিহীন যুবতীর ভূমিকাতেই হোক কিংবা টরেট সিনড্রোম রোগী নয়না মাথুরের ভূমিকায় হিচকি ছবিতেই হোক, বার বার অডিয়েন্সকে চমকিত করেছেন এই অভিনেত্রী। বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে ডিফারেন্টলি এবলড-সহ সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের স্বশক্তিকরণের ব্যাপারে সোচ্চার হলেন রানি। তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাক এবং হিচকি-র মতো ছবিগুলোয় কাজ করে আমি মানবিকতা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমি মনে করি আমাকে উন্নততর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে এই ছবিগুলি।নিজেকে আমি খুব ভাগ্যবতী বলে মনে করি যে এই মানের ছবিগুলোয় আমি অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছি। এই ছবিগুলো সমাজের সকল মানুষকে সমান চোখে দেখার শিক্ষা দেয় বলে আমি মনে করি।‘

মিশেল ম্যাকনালি এবং নয়না মাথুরের মতো চরিত্রগুলো তাঁকে ভিতর থেকে মজবুত একজন মানুষ হতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন রানি। ‘সমস্ত বাধা-বিঘ্নের মধ্যেও দৃঢ় সংকল্প থাকলে মানুষ কেমন করে জয়ী হতে পারে তা আমি এই চরিত্রদুটোর মধ্যে দিয়ে বুঝতে পেরেছি। এঁদের লড়াইয়ের শক্তি, অদম্য জেদ আমাকেও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে’, সংযোজন রানির।বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের প্রতি সমাজের সকলের সহানুভূতির সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত বলে মনে করেন রানি।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব