স্পাইসি রেসিপিজ (পর্ব-০১)

যারা মুখরোচক খাবার খেতে এবং খাওয়াতে ভালোবাসেন, তারা বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন বেসন-বড়া পোলাও, রাজকীয় ভেণ্ডি কিংবা সয়া কিমা। সঠিক উপায়ে যদি এই তিনটি খাবার বানিয়ে খান কিংবা অতিথিদের খাওয়ান, তাহলে নিজের যেমন মন ভরে যাবে আনন্দে, ঠিক তেমনই অতিথিরাও এইসব খাবার খেয়ে আপনার রন্ধন প্রতিভার প্রশংসা করবেনই। পরিবেশন করা হচ্ছে উপকরণ এবং প্রণালী।

বেসন-বড়া পোলাও

উপকরণ: ২ কাপ বেসন, ১ কাপ পোলাও চাল, হাফ কাপ দই, হাফ চামচ আজোয়ান, হাফ ছোটো চামচ ‘সুমন” ব্র্যান্ড লাল লংকাগুঁড়ো, এক বড়ো চামচ চৌকো করে কাটা পেঁয়াজ, ২ চামচ পেঁয়াজ বাটা, ৪-৫টা রসুনের পেস্ট, এক টুকরো আদা বাটা, ৪-৫টা বড়ো এলাচ, ২ টুকরো দারচিনি, ৪-৫টা লবঙ্গ, ১ চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, সামান্য হিং, ২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, হাফ চামচ গরমমশলা, হাফ চামচ হলুদগুঁড়ো, সামান্য ধনেপাতা কুচো, ২ টো কাঁচালংকার কুচো, ২-৩টে তেজপাতা, পরিমাণ মতো সাদা তেল, ২ চামচ ঘি, নুন স্বাদ অনুসারে।

প্রণালী: বেসনের মধ্যে স্বাদমতো নুন, স্বাদ বাড়ানোর জন্য ‘সুমন’ ব্র্যান্ড লাল লংকাগুঁড়ো, আজোয়ান এবং চৌকো করে কাটা পেঁয়াজ মিশিয়ে নিন ভালো ভাবে। ওই মিশ্রণে সামান্য জল দিয়ে দু-মিনিট ভাপিয়ে নিন। ভাপানো হয়ে গেলে ঠান্ডা করে ছোটো ছোটো বড়ার আকার দিয়ে সামান্য ঘি দিয়ে ফ্রাইং প্যান-এ হালকা আঁচে লাললাল করে ভেজে রাখুন। এরপর ফ্রাইং প্যান-এ সামান্য ঘি গরম করে ওর মধ্যে লাল লংকাগুঁড়ো এবং গরম মশলা দিয়ে নাড়াচাড়া করে দই মেশান৷ এবার আদা, রসুন সহ সমস্ত মশলা মিশিয়ে ভালো ভাবে ভাজুন। বাদামি রং নিলে নামিয়ে রাখুন। মশলা বানিয়ে রাখার পর, চাল ধুয়ে ভাত বানিয়ে নিন। ভাতের ফ্যান ভালো ভাবে ঝরিয়ে নিয়ে রাখুন। সবশেষে, একটা হাঁড়িতে ঘি গরম করে আঁচ বন্ধ করুন এবং ওর মধ্যে ভাত এবং তৈরি করে রাখা মশলা মিশিয়ে নিলেই পোলাও তৈরি। এবার কাচ কিংবা চিনামাটির প্লেটে পোলাও দিয়ে, তার উপর বেসন বড়া, কাঁচালংকা এবং ধনেপাতার কুচো ছড়িয়ে দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

রাজকীয় ভেণ্ডি

উপকরণ: ২৫০ গ্রাম ভেণ্ডি লম্বা টুকরো করে কাটা, ২টো কাঁচালংকা, ১টা পেঁয়াজ কুচো, ১টা টম্যাটো কুচো, ১ চামচ কাজু বাদামের গুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ ক্রিম, হাফ ছোটো চামচ আজোয়ান, সামান্য হিং, হাফ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, হাফ ছোটো চামচ লাল লংকাগুঁড়ো, হাফ ছোটো চামচ গরম মশলা, পরিমাণ মতো সরষের তেল, সামান্য ধনেপাতা কুচো, ১ চামচ আদাকুচো, ৩- ৪টে রসুন কুচো এবং স্বাদমতো নুন।

প্রণালী: কড়াইতে তেল গরম করে কেটে রাখা ভেণ্ডি স্বাদমতো নুন দিয়ে হালকা ভেজে রাখুন। ভেণ্ডি নামিয়ে রাখার পর, ওই অবশিষ্ট তেলে কুচো পেঁয়াজ, টম্যাটো, আদা, রসুন, কাঁচালংকা, আজোয়ান, ক্রিম, হিং প্রভৃতি দিয়ে ভাজুন ভালো ভাবে। ওই মশলায় তেল ছাড়তে শুরু করলে আঁচ বন্ধ করে রাখুন। এরপর, আবার মশলা হালকা গরম করে, ওর মধ্যে কাজু বাদামের গুঁড়ো মিশিয়ে এক মিনিট নেড়ে নিয়ে, ভেজে ঠান্ডা করে রাখা ভেণ্ডিগুলো দিয়ে, একটু নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন এবং ধনেপাতার কুচো ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

সয়া কিমা

উপকরণ: ১ কাপ সয়া দানা, হাফ কাপ মটর দানা, ১ বড়ো চামচ আদা-রসুনের পেস্ট, ২ টো কাঁচালংকা কুচো, ১টা বড়ো পেঁয়াজ কুচো, ২ টো টম্যাটো কুচো, হাফ চামচ গরম মশলা, হাফ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, হাফ ছোটো চামচ গোটা জিরে, হাফ ছোটো চামচ লাল লাংকাগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, সামান্য ধনেপাতা কুচো, ২ চামচ ঘি এবং নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: প্রথমে, মটরদানা আগের রাতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন মটরদানা জল থেকে তুলে নিয়ে আবার জল দিয়ে সেদ্ধ করে জল ফেলে দিন। সয়াদানা গরম জলে কিছুক্ষণ রেখে তুলে নিয়ে পিষে রাখুন। এরপর কড়াইতে ঘি গরম করে পেঁয়াজ, টম্যাটো, আদা-রসুনের পেস্ট, কাঁচালংকার কুচো, সমস্ত মশলা এবং স্বাদমতো নুন দিয়ে হালকা আঁচে ভাজুন। বাদামি রং এসে গেলে, ওই উপকরণে পিষে রাখা সয়াদানা এবং সেদ্ধ করে রাখা মটরদানা মিশিয়ে ভালো ভাবে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। এরপর সামান্য জল ছিটিয়ে দিয়ে ঢেকে রাখুন। কিছুক্ষণ পর যখন জল শুকিয়ে যাবে, তখন নামিয়ে নিয়ে ধনেপাতার কুচো দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

(ক্রমশ…)

অতসী একটি ফুলের নাম (পর্ব-০১)

তখন গ্রীষ্মকাল। কলেজের বার্ষিক পরীক্ষা সবে মাত্র শেষ হয়েছে। লেখাপড়ার দায়-দায়িত্ব নেই বললেই চলে। তাই অফুরন্ত অবকাশ। অম্লানের বাড়ির ছাদে বসে বিকেলের চা পান করতে করতেই ওরা দু’জনে একসঙ্গে বসে গল্প করছিল। তাঁরা একই কলেজে না পড়লেও এক সময়ের স্কুলের বন্ধু। শৈশবের বন্ধুত্বটা এখনও সজীব, সতেজ ও সবুজ হয়ে আছে— শুকনো পাতার মতো হলুদ হয়ে যায়নি।

কথা প্রসঙ্গে অম্লান হঠাৎ বলে ওঠে— তোর তো এখন ভারি মজা। চুটিয়ে গল্প লেখার সুযোগ পেয়েছিস। তাছাড়া তুই নিজেও বলিস গ্রীষ্ম ও বর্ষা ঋতু দুটো তোর খুব প্রিয়। তোকে গল্প লেখায় অনুপ্রাণিত করে। তোর বিচারে ভীষণ প্রেরণাদায়ক। তোর গল্প লেখার পক্ষে নাকি উপযুক্ত ও আদর্শ সময়। আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে পুঞ্জিভূত মেঘ অলকাপুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মাত্র অভিশপ্ত যক্ষের ন্যায় তুইও রোমাঞ্চিত হয়ে গল্প লেখায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠিস তাই না? বর্ষা ঋতু আসন্ন। তোর সুদিন এল বলে!

শোভন জবাবদিহি করে— হ্যাঁ, লোকে যেমন বলে, তার নাকি সময় কাটে না। আমার কিন্তু কখনও সেরকম মনে হয় না। গল্পের কথা ভাবতে ভাবতেই আমার সময় কেটে যায়। তারপর থাকে লেখার পালা। হাতে যখন গল্প থাকে তখন প্রায়শই মনে হয় কেন আটচল্লিশ ঘণ্টায় দিন-রাত্রি হয় না? অম্লান শোভনের কথায় বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে অন্য প্রসঙ্গ উত্থাপন করে।

—জানিস, পিসেমশাই চিঠির উত্তরে কী লিখেছেন? শোভনকে বলে রেখো সে যেন তার স্বরচিত বাছাই করা গল্পগুলো আলাদা করে গুছিয়ে রাখে। আমি আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছেলের বিয়েতে দিল্লি আসছি। প্রথমে তোমাদের বাড়ি উঠব। পরের দিন যাব বিয়েবাড়ি। তারপরের দিন নতুন বউকে সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে উঠব।

শোভন দ্বিধাজড়িত স্বরে বলে ওঠে— ছিঃ! তুই আবার পিসেমশাইকেও আমার গল্পের কথা লিখে জানিয়েছিস? অতবড়ো রাঘববোয়াল সদৃশ ব্যক্তিত্বের কাছে আমার মতো ত্যালাপিয়া গোছের গল্পকারের তারিফ করেছিস? সত্যি, তোর বিদ্যা বুদ্ধি দিনে দিনে নিম্নগামী হয়ে পড়ছে দেখছি। তারপর একটু থেমে রসিকতা করে বলে, অবশ্য তোর কোনও দোষ নেই। কেমিস্ট্রি-পড়ুয়া দুনিয়ার সব ছাত্রদেরই একই অবস্থা। মাথায় একটু দোষ হয়েই যায়। করার কিছু নেই।

অম্লান কথাটা গায়ে না মেখে বললে— তাতে কী হয়েছে? পিসেমশাই কি পর? সে তো ঘরের লোক। তোর সম্পর্কে আমি বহুবার লিখেছি তাঁকে। এতদিন পরে তিনি এবার সশরীরে আসছেন। এলে তোকে প্রথমবার দেখবেন ঠিকই কিন্তু চিঠিপত্রের মাধ্যমে তুই তাঁর কাছে বহুল আলোচিত। আসল কথা কী জানিস, তোর লেখা গল্পগুলো আমার খুব ভালো লাগে। পড়লেই মনে হয় তোর প্রত্যেকটি গল্প একেবারে বাস্তব জীবন থেকে বেছে নেওয়া। গল্প যখন গল্প হিসেবে পাঠকের কাছে ধরা না পড়ে সেটাই প্রকৃত গল্প হয়ে ওঠে। ভাষার চাকচিক্য না থাকলেও ভাবের ঘরে অভাব চোখে পড়ে না। গল্পের ভালো-মন্দ কীভাবে বিচার করা হয়, অত শত বুঝি না। কিন্তু এইটুকু অন্তত স্বীকার করতে বাধ্য যে, গল্পটা যখন শেষ হয় তখন মনের কোণে একটা রেশ থেকে যায়। মনে হয় আরেকটু বড়ো হলে ভালো হতো। তখন তোর কথা ভেবে গর্বে আমার বুকটা স্ফীত হয়ে ওঠে। তাতেই মনে হয় তোর গল্প লেখার হাত ভালো। এই গুণ সবার থাকে না।

একটু থেমে সে আরও জানায়— আমার মনের ইচ্ছে কি জানিস? ‘পঞ্চম’ নামে পিসেমশাই-এর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকায় তোর গল্প যেন স্থান পায়৷ লোকে পড়ুক জানুক তোকে। গল্পগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে তোশকের তলায় রেখে কী লাভ? তোর প্রতিভার মূল্যায়ন হওয়া উচিৎ। কতদিন আর লুকিয়ে রাখবি নিজেকে?

—ওরকম ইচ্ছে তো আমারও হয়। কিন্তু কে আর ছাপতে চায় বল? জীবনে বেড়ে ওঠার পক্ষে একটা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। আমার ভাগ্যে সেটি জুটছে কোথায়? একেক সময় মনে হয় গল্প লেখার অভ্যেসটা ছেড়ে দেব। কিন্তু কয়েক দিন পরেই নিজের অজান্তে আবার খাতা- কলম নিয়ে বসে পড়ি। গল্প আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। ওকে পরিত্যাগ করা যাবে না কখনও। এক কথায় আমি ওর প্রেমে পড়ে গিয়েছি।

অম্লান সান্ত্বনা দিয়ে বলে— এবার দেখিস পিসেমশাই তোর একটা গল্প নিশ্চয়ই প্রকাশ করবেন। তোর লেখা গল্প যখন অন্য সকলের ভালো লাগে তাঁরও ভালো লাগতে বাধ্য। তিনিও রক্তে-মাংসে সৃষ্ট এক মানুষ। নিজেও সাহিত্যচর্চা করেন। তিনি যখন নিজে থেকে বলেছেন তোর গল্পের সমালোচনা করবেন তাহলে আর সমস্যা কোথায়! একজন বিদগ্ধ লোকের কাছ থেকে গল্পের দোষ-ত্রুটিগুলো জেনে নিতে আপত্তি করবি কেন? তোর পক্ষে এটা এক সুবর্ণ সুযোগ। কোনও মতেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। আমার একান্ত অনুরোধ গল্পগুলো তুই সত্ত্বর গুছিয়ে রাখিস। পরে যেন অনুতাপ করতে না হয় তোকে। মনে রাখিস আমি তোর ভালো বৈ খারাপ চাইব না কখনও।

—কবে আসছেন পিসেমশাই? শোভন নির্লিপ্ত স্বরে জানতে চায়।

—আগামী বুধবার। আর মাত্র পাঁচদিন বাকি। উনি পাটনায় থাকেন। মগধে আসছেন। তুই কিন্তু তৈরি হয়ে থাকিস। স্টেশনে যাব তাঁকে নিয়ে আসার জন্যে। সেই সুযোগে তোর সঙ্গেও পরিচয় হয়ে যাবে।

এই পাঁচটা দিন শোভনের যে কীভাবে কেটেছিল তা শুধু ওই জানে, বলে বোঝানো যাবে না। সর্বক্ষণ সে অনাগত পিসেমশাইয়ের ধ্যানে মগ্ন থাকত। তারই ফাঁকে চলত নিজের গল্পগুলোকে নিয়ে কঠিন গবেষণা। অসাবধানতাবশত যদি কোথাও কোনও বিচ্যুতি ঘটে থাকে সময় থাকতে তা সংশোধন করে নেওয়া। অর্থাৎ একাধারে সাহিত্যিক ও সমালোচক পিসেমশায়ের মুখোমুখি হওয়ার পক্ষে যথা সম্ভব নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছিল সে। একদিকে যেমন লজ্জা-ভয় মিশ্রিত আড়ষ্টতা ছিল, অন্যদিকে আবার সমস্ত মন-প্রাণ জুড়ে শোভনের অন্তর্গভীরে বয়ে যাচ্ছিল আনন্দের ফল্গুধারা। অব্যক্ত এক শিহরণ খেলা করছিল সমস্ত সত্তা জুড়ে। জীবনে চরম কিছু পাওয়ার নেশায় মানুষ বোধহয় এমনই উদ্বেল হয়ে ওঠে।

(ক্রমশ…)

আরও উন্নত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাপন

প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাপনের ধরন। আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারে আসছে আরও অত্যাধুনিক নিত্য ব্যবহার্য উপকরণ। এইসব উপকরণের মধ্যে সবচেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

গরমে হাওয়া দেওয়ার উপকরণ থেকে শুরু করে, রান্নাঘরে ব্যবহার্য উপকরন, এমনকী কৃষকদের ফসল বাঁচানোর জন্য জল সরবরাহকারী পাম্প, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ এমন সামগ্রী কিনতে চান, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে আরও সহজ এবং আরামদায়ক করে তুলবে। আর এই চাহিদা মেটানোর মাধ্যম হল–‘টেক উইদ হার্ট’ উদ্যোগ।  এ এমন এক প্রযুক্তিগত উদ্যোগ, যা আরাম, সুবিধা এবং সময় বাঁচাবে।

জীবনকে সহজ, স্মার্ট এবং আরও সুবিধাজনক করার জন্য তাই ডিজাইন করা হচ্ছে প্রতিটি বৈদ্যুতিক উপকরণ। আর এইসব উপকরণ যেমন গ্রাহকদের ইচ্ছেপূরণও করবে, ঠিক তেমনই দৈনন্দিন চাহিদাও মেটাবে। নিরলস গবেষণার মাধ্যমেই এই ধরনের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রিক্যাল উপকরণ আবিষ্কার করা সম্ভব।

কনজিউমার ইলেক্ট্রিক্যাল সল্যুশনস-এ অগ্রনী ভূমিকা  নেওয়ার পাশাপাশি,  অত্যাধুনিক উদ্ভাবনের সঙ্গে শিল্পের সর্বোচ্চ পরিবর্তন সূচিত করে চলা সংস্থা ‘ক্রম্পটন গ্রিভস কনজিউমার ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড’-এর এমডি ও সিইও প্রমিত ঘোষ এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘ভোক্তা-কেন্দ্রিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে কনজিউমার ইলেকট্রিক্যালসের ভবিষ্যতকে রূপ দেওয়া উচিত। কারণ ক্রেতারা এমন ইলেক্ট্রিক্যাল উপকরণ চান, যা তাদের জীবনযাপনকে আরও সহজ এবং আরামদায়ক করে তুলবে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ ক্যাম্পেনকে বাস্তবায়িত করে তোলার জন্য এই ধরনের বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন এবং জনগনের হাতে পৌঁছে দেওয়া খুবই জরুরি। ভারতের সাপ্লাই চেইনকে কাজে লাগিয়ে দেশীয় ভাবে নেওয়া যায় এই উদ্যোগ।’

সাম্প্রতিক  বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সরবরাহ তাই মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে চলেছে এবং আরও স্মার্ট লাইফ দিয়ে চলেছে। ইন্ডাকশন এবং বিএলডিসি ফ্যান-এর প্রযুক্তিও আরও উন্নত হয়েছে। ‘টেক উইদ হার্ট’ উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাসটেইনেবিলিটি।

‘টেক উইদ হার্ট’ ভোক্তাদের চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি স্মার্ট, নির্ভরযোগ্য এবং উচ্চ-পারফরম্যান্স প্রদানকারী উদ্যোগ। আর এ এমন এক উদ্যোগ, যা  প্রতিটি মানুষের চাহিদা মেটাবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও এই উদ্যোগ যথেষ্ট কার্যকরি ভূমিকা নেবে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, গরমকালে প্রতি দুই সেকেন্ডে একটি ফ্যান বিক্রি হয়। এই সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে, ২০২৪ সালে শুধু একটি ব্যান্ড-এরই ফ্যান বিক্রি হয়েছে দু’ কোটিরও বেশি।  নিউক্লিয়াস প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর, বৈদ্যুতিক পণ্যের ডিজাইন এবং অপারেটিং সিস্টেম আরও উন্নত হয়েছে। তাই বেড়েছে ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্যের উপর মানুষের নির্ভরতা।

ইতিহাসের শহর জাকার্তা (পর্ব-০৩)

ট্যাক্সি ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনারা কোথা থেকে এসেছেন?’

অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছি শুনে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কি সেলিব্রিটি?’

ও ঠিক কী বলতে চাইছে বুঝতে না পেরে আমি ওকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘সেলিব্রিটি মানে ?’ আমি মনে মনে ভাবলাম হয়তো ওদের ভাষায় কিছু বলতে চাইছে।

ড্রাইভারটি বেশ ভালো করেই আবার বলল, ‘আপনি কি কোনও ফেমাস কেউ, মানে কোনও সেলিব্রিটি?’

এবার আমার হাসার পালা। আমাকে এভাবে হাসতে দেখে ও কী ভাবল কে জানে। তবে চুপ করে রইল। অনেকক্ষণ পর হাসি থামিয়ে ওকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমাকে দেখে ওর সেলিব্রিটি মনে হল কেন?’ তার উত্তরে খুব সহজ ভাবে ও বলল, ‘এই মলে সেলিব্রিটি ছাড়া কেউ আসে না। দোকানে জিনিসপত্রের দাম দেখেছেন?’

আমার আবার হাসি পেল। হাসি থামিয়ে বললাম, ‘আমি তো এখানে কিছু কিনতে আসিনি। শুধু ডিনার করতে এসেছিলাম।’

এবার যেন আমাদের ড্রাইভার আরও বেশি চমকে উঠল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এখানে খাবারের দাম তো আকাশ ছোঁয়া। এখানে একবার ডিনার করলে যা খরচ হবে, সেই টাকায় আমার এক মাস চলে যাবে।’

এর কোনও উত্তর আমার কাছে ছিল না। তবে আমার ডিনারের বিল মোটেও অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। অন্য অনেক দেশের তুলনায় হয়তো বেশ সস্তাই বলা চলে। তবুও আর কথা না বাড়িয়ে চুপ করে বসে রইলাম। হোটেলে নেমে ওকে টাকা দেবার সময় ওর হাতে কিছু টাকা বেশিই দিলাম। অনেকবার আপত্তি করল। তবুও আমার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখে টাকাটা নিল। লিফট দিয়ে ওঠার সময় মনে হল জীবনের সব কিছুই কত আপেক্ষিক! তবে সারারাত ট্যাক্সি ড্রাইভারের কথাটা মনের মধ্যে কীরকম যেন কাঁটার মতো বিঁধে রইল।

আজ সকালে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। আজকের প্রথম গন্তব্যস্থল ন্যাশনাল মিউজিয়াম। ইন্দোনেশিয়ার সব থেকে পুরোনো আর বড়ো মিউজিয়াম। ১৭৭৮ সালে ডাচ ঔপনিবেশিকরা এই মিউজিয়ামটি তৈরি করেছিল। সেই সময় এর নাম ছিল ‘বাটাভিয়ান সোসাইটি ফর আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস’। পরবর্তীকালে বেশ কয়েকবার এর নাম পরিবর্তন হয়ে শেষ পর্যন্ত এটি ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম নামে এখন পরিচিত। এই মিউজিয়ামের আরেক নাম ‘গেদুং গাজাহ’, যার অর্থ ‘দ্য হাউজ অফ এলিফ্যান্ট’। ১৮৭১ সালে থাইল্যান্ডের রাজার উপহারস্বরূপ দেওয়া ব্রোঞ্জ নির্মিত একটি হাতির মূর্তি এই মিউজিয়ামের সামনে রাখা আছে, আর সেই থেকে স্থানীয় লোকেরা একে হাতির বাসস্থান বলেই জানে।

ন্যাশনাল মিউজিয়ামে ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক এবং প্রাকৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নিদর্শন এবং প্রদর্শনীর এক বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রাগৈতিহাসিক নিদর্শন, প্রাচীন শিলালিপি, ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইল, সেরামিক এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক জিনিসপত্র। তবে সব থেকে ভালো লাগল এখানকার প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের দেব-দেবীদের এক বিশাল সংগ্রহ দেখে। একদিকে রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো পার্বতী, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের মূর্তি, আবার তার পাশেই রয়েছে বুদ্ধ মূর্তি। এখানে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাটিক বস্ত্র শিল্পেরও রয়েছে এক বিপুল সমাহার। এছাড়াও রয়েছে ডাচ এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজা ও সুলতানদের সংগ্রহের নানা জিনিসপত্র, সোনা রুপোর অলংকার, রাজ পরিবারের ব্যবহৃত বাসনপত্র। ঠিক মতো সব কিছু ঘুরে দেখতে হলে একটা সম্পূর্ণ দিন হাতে রাখতে হতো। কিন্তু আমার এই ছোট্ট সফরে সে আশা নেই, তাই তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে হল।

সূর্য এতক্ষণে মাথার উপরে উঠে এসেছে। বাইরে বেশ গরম। এদিকে খিদেও পেয়েছে বেশ। কাছেই একটা রেস্তরাঁতে লাঞ্চ সেরে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেওয়ার জন্য ড্রাইভারকে বললাম, তামান সুরোপতি পার্কে নিয়ে চলো। দশ মিনিট লাগল পার্কে পৌঁছোতে।

এই পার্কটি জাকার্তার একটি আইকনিক ল্যান্ডমার্ক। ১৯১৯ সালে বাটাভিয়ার তৎকালীন মেয়র জি জে বিসচপ এই পাবলিক পার্কটি তৈরি করেছিলেন। তার নাম থেকেই এই পার্কের নাম হয়েছিল বার্গেমিস্টার (যার অর্থ মেয়র) বিসশোপলিন। স্বাধীনতার পর ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী উন্টুং সুরোপতির স্মরণে পার্কটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘তামান সুরোপতি’। জাকার্তার বায়ু দূষণের মাঝখানে প্রকৃতির কোলে এরকম একটা সবুজে ঘেরা, শান্ত পরিবেশ যেন “পাঁকের পদ্ম ফুল’। পার্কের চারদিকে উঁচু গাছ আর মাঝখানে একটা ফোয়ারা। পার্কের ভিতর রয়েছে বসার ব্যবস্থা। বেশ কিছু লোকজন চেয়ারে বসে আছে। কেউ লাঞ্চ করছে, আবার কেউ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বসে গল্প করছে। দেখে বোঝা যাচ্ছে এটা জাকার্তার লোকেদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে হোটেলে ফিরে যাব বলে ঠিক করলাম।

ফেরার পথে পার্ক থেকে বেরিয়ে চোখে পড়ল মেন্টেং অ্যান্টিক মার্কেট। এই অ্যান্টিক মার্কেটের নাম আমি আগেও শুনেছি, তবে এভাবে খুঁজে পাব সেটা ভাবিনি। অ্যান্টিক জিনিসের প্রতি আমার একটু দুর্বলতা আছে। তবুও এখানে সময় নষ্ট করব কিনা ভাবছি, এমন সময় আমার হাজব্যান্ড ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলল। আমিও হয়তো মনে মনে এটাই চাইছিলাম। এত দূর এসে এই অ্যান্টিক মার্কেট একটু ঘুরে দেখতে না পারলে খারাপ লাগত।

রাস্তার দুই ধারে অনেক জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই অ্যান্টিক মার্কেট। বিদেশি পর্যটকদের কাছে যে এই মার্কেট বেশ জনপ্রিয় সেটা বুঝতে অসুবিধা হল না। বাজারে বিদেশি পর্যটকই বেশি চোখে পড়ল। এখানে আসবাবপত্র, সেরামিক, নানা রকমের গয়না, টেক্সটাইল, শিল্পকর্ম এবং অন্যান্য সংগ্রহযোগ্য বিভিন্ন পুরোনো জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। শুনেছি অনেক ইউরোপীয় ট্যুরিস্ট এখানে আসে ডাচ ঔপনিবেশিক যুগের জিনিসপত্র সংগ্রহ করার জন্য। একটা পাথরের বুদ্ধ মূর্তি খুব পছন্দ হয়েছিল, তবে ওজনের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত তাকে স্বস্থানে রেখে ফিরে আসতে হল।

(ক্রমশ…)

Complete ওরাল হেলথ

ওরাল হেলথ মানে শুধু দাঁত পরিষ্কার রাখার বিষয় নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং এমনকি আপনার মানসিক সাস্থ্যের উপরও  প্রভাব ফেলে। তাই, সামগ্রিক সুস্থতার জন্য মুখের অভ্যন্তরীণ সম্পূর্ণ যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীন আয়ুর্বেদিক অনুশীলন, আধুনিক গবেষণার সঙ্গে মিলিত হয়ে, আপনার মুখের যত্ন কীভাবে আপনার সামগ্রিক সুস্থতার উন্নতি করতে পারে, সেই বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন ‘পাবলিক হেলথ ডেন্টিস্ট্রি’-র প্রফেসর ডা. সোনিয়া দত্ত।

মনে রাখবেন, আপনার মুখ আপনার শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই,  মুখের যত্ন না নিলে, মুখের গহ্বর বা মাড়ির সমস্যা হতে পারে। কারণ, অযত্নে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে আপনার মুখগহ্বরে। যার ফলে শরীরে তৈরি হতে পারে প্রদাহ। আর এই প্রদাহ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের যেমন কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে। কিন্তু আয়ুর্বেদিক যত্ন এইসব সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা রাখে। এটি মুখের সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। এরফলে মুখের অভ্যন্তর বিষমুক্ত থাকে এবং হজম ক্ষমতা সঠিক থাকে।

Doctor's photograph
Dr. Sonia Datta

প্রাচীন জ্ঞান এবং আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি: ডাবর রেড টুথপেস্টের -এর মতো আয়ুর্বেদিক পণ্য ব্যবহারের শিক্ষা এবং অভ্যাস, শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অয়েল পুলিং, জিহ্বা পরিষ্কার এবং প্রাকৃতিক ফর্মুলেশন ব্যবহারের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিগুলি তাদের পদ্ধতিগত সুবিধার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত হয়ে আসছে।

  • অয়েল পুলিং: মুখের মধ্যে তিল বা নারকেলের তেল মালিশ করলে, মুখ-গহ্বরের বিষক্রিয়া দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। গবেষণা এই বিষয়টিকে সমর্থন করে, যা দেখায় যে, অয়েল পুলিং স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্সের মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া কমাতে পারে, যা মাড়ির রোগ এবং গহ্বরের রোগের কারণ হিসেবে পরিচিত।
  • জিহ্বা পরিষ্কার: আয়ুর্বেদ জিহ্বা পরিষ্কারকে হজমের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য এবং মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার ভার কমানোর জন্য প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরে। এটি কেবল শ্বাসকে সতেজ করে না বরং স্বাদ উপলব্ধিও বাড়ায়, যা হজমে ভালো ভূমিকা নেয়। সমস্যা দেখা দেওয়ার পরে চিকিৎসা করার পরিবর্তে, এই অনুশীলনগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

প্রাচীন রীতিনীতি এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে সংযোগ: আয়ুর্বেদ যেখানে চিরন্তন জ্ঞান প্রদান করে, সেখানে আধুনিক বিজ্ঞান বিশ্বাসযোগ্যতার আরেকটি স্তর যোগ করে। অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, মৌখিক স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাব ফেলে।

অয়েল পুলিং এর সঙ্গে তিল তেল এবং ক্লোরহেক্সিডিন মাউথওয়াশের তুলনা করে একটি নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, উভয় পদ্ধতিই প্লাক এবং জিঞ্জিভাইটিস কমাতে সমানভাবে কার্যকর ছিল, যা আধুনিক সময়ে এই প্রাচীন অনুশীলনের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে।

ঐতিহ্য এবং সুবিধার মিশ্রণ: আয়ুর্বেদিক নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ মানে, আপনার রুটিনকে নতুন করে সাজানো নয়। ডাবর রেড টুথপেস্টের মতো পণ্যগুলি প্রাচীন জ্ঞানের সঙ্গে সমসাময়িক গবেষণার মিশ্রণ ঘটায়। এই টুথপেস্টটি প্রাকৃতিক উপাদানগুলিকে একত্রিত করে, যা ঐতিহ্যগত ভাবে মাড়িকে শক্তিশালী করতে এবং দাঁতের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, এটি ইন্ডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের সার্টিফিকেশন বহন করে, যা এর কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

আয়ুর্বেদিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য নির্বাচন করে, আপনি এই অভ্যাসগুলিকে আপনার দৈনন্দিন জীবনে নির্বিঘ্নে একীভূত করতে পারেন।

শিশুদের জন্য পারফেক্ট শপিং Tips

নানা ধরনের অ্যাক্সেসরিজ-এর বিকল্প রয়েছে সমস্ত মার্কেটে। তবে বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে বিভ্রান্ত না হয়ে, জিনিসপত্র কিনুন বুঝেশুনে। মনে রাখবেন, নিম্নমানের এবং কেমিক্যাল যুক্ত দ্রব্য শিশুরা ব্যবহার করলে, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে ওদের। বেবি-কেয়ার প্রোডাক্টস কেনার আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়।

পেডিয়াট্রিশিয়ান-এর পরামর্শ নিন

বেবি-কেয়ার প্রোডাক্টস কেনার আগে পেডিয়াট্রিশিয়ান-এর পরামর্শ নিন। আপনার সন্তানের জন্য উপযুক্ত এবং সুরক্ষিত প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চিকিৎসকরা দিতে পারবেন সঠিক ভাবে। কলকাতা-র এক পেডিয়াট্রিশিয়ান জানিয়েছেন, বাচ্চার জন্য যাই কিনুন না কেন, প্রোডাক্টটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নিন। প্রোডাক্টটির গায়ে লেখা পণ্যের বিবরণ দেখে নিন প্রথমে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই কিনুন। প্রোডাক্ট-টিতে কী কী কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্যাকেট-এর উপর লেখা থেকে জেনে নিন। প্রোডাক্টে ক্ষতিকারক কেমিক্যালস ব্যবহার হয়ে থাকলে, তা কেনা থেকে বিরত থাকুন।

মাইল্ড প্রোডাক্টস-ই বাছুন

বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি সাবান, শ্যাম্পু, তেল, ক্রিম ইত্যাদি কিনুন যেগুলি খুবই মাইল্ড এবং বাচ্চার কোমল ত্বকে কোনও ক্ষতি করে না। অর্গ্যানিক অথবা প্রাকৃতিক কম্পোনেন্টস দ্বারা এগুলি তৈরি হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং দেখে নেওয়া দরকার কোনও কার্সিনোজেনিক সাবস্টেনসেজ-এর ব্যবহার এতে করা হয়েছে কিনা। শিশুর ত্বক এমনিতেই খুব সংবেদনশীল, তাই খারাপ জিনিস ব্যবহার করলেই বাচ্চার ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। র‍্যাশ যাতে না হয়, তার জন্য সবসময় কটন বেসড স্পঞ্জ এবং কটন তোয়ালে কেনা উচিত। এ ছাড়াও বাচ্চার জন্য সবসময় বায়োডিগ্রেডেবল ডায়াপার ব্যবহার অপরিহার্য। এতে শুষে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে এবং বাচ্চার ত্বক শুষ্ক, কোমল রাখতে সাহায্য করে। ফলে র‍্যাশ হয় না। ডায়াপার বেশি হেভি হওয়া একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়, এতে শিশুর অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

প্লাস্টিক-ফ্রি অথবা ননটক্সিক প্রোডাক্টস

অনেক সময় সবকিছু মুখে পুরে দেওয়ার একটা অভ্যাস লক্ষ্য করা যায় শিশুদের মধ্যে। এই সময় বাচ্চাদের জন্য এমন জিনিস কেনা উচিত, যেটা বাচ্চা মুখে দিয়ে চিবোলেও তার ক্ষতির কোনও সম্ভাবনা থাকবে না। এই ধরনের খেলনাগুলোকে ‘টিথার’ বলা হয়। বাচ্চার দাঁত ওঠার সময় এই খেলনাগুলো চিবোলে বাচ্চা মাড়ি-তে আরাম পায়। নানা আকার, ডিজাইন এবং রঙে এই খেলনাগুলো পাওয়া যায়। এগুলি সাধারণত তৈরি হয় সিলিকন, কাঠ, ন্যাচারাল রাবার অথবা প্লাস্টিক দিয়ে। তবে প্লাস্টিক-ফ্রি খেলনাই বাচ্চার জন্য সব থেকে সুরক্ষিত।

ননটক্সিক মেটেরিয়াল দিয়ে তৈরি খেলনা বাচ্চার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না। বাচ্চার ফিডিং বোতল-ও ভালো কোয়ালিটির হওয়া উচিত। প্লাস্টিকের ফিডিং বোতল যদিও বহুদিন পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে, তবুও শিশুর শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সবসময় বিশ্বস্ত দোকান থেকেই বাচ্চার জিনিসপত্র কেনাটা বাঞ্ছনীয়।

সাইজ

বাচ্চার গ্রোথ খুব তাড়াতাড়ি হয়। তাই, বাচ্চার জন্য একসঙ্গে অনেক জিনিস কেনাটা কখনওই উচিত নয়। বাচ্চার প্রয়োজন অনুসারে শপিং করুন। কোনও কিছু কেনার আগে বাচ্চার সাইজের খেয়াল অবশ্যই রাখুন। নবজাতকের জন্য ‘জিরো’ সাইজের পোশাক পারফেক্ট হয়, তবুও কেনার সময় বাচ্চার সাইজের থেকে এক সাইজ বড়ো কেনাটাই সব থেকে ভালো।

ঢিলেঢালা পোশাক

বাচ্চার ত্বক অত্যন্ত সংবেদনীল। সুতরাং তার জন্য এমন পোশাক কেনা উচিত, যা সহজে পরানো এবং খোলা যাবে। পোশাকের গলা কখনওই ছোটো বাছবেন না, কারণ খোলা-পরানোর সময় বাচ্চার গলায় যেন পোশাকটি আটকে না যায়। এমন পোশাক কিনতে হবে, যেগুলি বাচ্চার আঙুল অথবা কানে আটকে থাকার সম্ভাবনা কম থাকে।

অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস

বাচ্চাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন তোয়ালে, রুমাল, মুখ মোছাবার কাপড় ইত্যাদি কেনার সময়ও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ফিডিং-এর সময় বাচ্চার জামাকাপড় নোংরা হলেও যাতে কেচে দিলে পরিষ্কার হয়ে যায়, এমন কোয়ালিটি-র জামা-কাপড় কেনা উচিত। বাচ্চাদের জন্য ডায়াপার ওয়াইপস কিনে রাখা খুব দরকার। মাল্টিপার্পাস ইউটিলিটির সঙ্গে সঙ্গে, এটি ক্যারি করাও সহজ। শীতকালের জন্য উলের পোশাক এবং কম্বল বাচ্চার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এগুলি নরম এবং আরামদায়ক হওয়াটা খুব দরকার।

ফ্যাব্রিক

বাচ্চার নরম ত্বকের জন্য ফ্যাব্রিক বেছে ব্যবহার করাটা খুব প্রয়োজন। নরম সুতির পোশাক বাচ্চার ত্বকের জন্য সব থেকে ভালো। বাচ্চারা প্রায়শই মুখ থেকে দুধ তোলে অথবা মুখ থেকে লালা বের করে জামা ভিজিয়ে ফেলে। তাই এমন ফ্যাব্রিক কেনা উচিত, যেটা ধোয়া সহজ। বাচ্চার কাপড় ধোয়ার জন্য অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত, যা বাচ্চাদের জামাকাপড় ধোয়ার জন্যেই বিশেষ ভাবে তৈরি। এই ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে বাচ্চার জামাকাপড় নরম এবং জীবাণুমুক্ত থাকবে।

ইতিহাসের শহর জাকার্তা (পর্ব-০২)

আজকের নেদারল্যান্ডসের আর্থিক সমৃদ্ধির পিছনে ইন্দোনেশিয়ার অনেক অবদান রয়েছে। প্রায় চারশো বছরের অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন ইন্দোনেশিয়ার মানুষদের আর্থিক ভাবে দুর্বল করে দিলেও তাদের মনোবলকে ভেঙে দিতে পারেনি। বছরের পর বছর তারা ডাচ শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছে। ১৮২৫ থেকে ১৮৩০ পর্যন্ত চলেছিল ‘জাভা ওয়ার’। তারপর শুরু হয় ‘আচেহ ওয়ার’। ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল এই যুদ্ধ।

ইন্দোনেশিয়ার লোকেদের উপর অত্যাচার আর শোষণের খেলা কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডাচদের তাড়িয়ে জাপানিজরা ইন্দোনেশিয়া দখল করে। যারা এতদিন ধরে ডাচদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল, জাপানিজদের অত্যাচার আর শোষণ দেখে হয়তো সেদিন তারাও লজ্জা পেয়েছিল।

তবে সব খারাপের হয়তো একটা ভালো দিক থাকে। এই সময় থেকেই ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হতে শুরু করে। সুকর্ণ আর মোহাম্মদ হাত্তার মতো দেশপ্রেমীরা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেরণায় দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয়তাবাদীরা সুকর্ণ এবং হাত্তার নেতৃত্বে ১৭ আগস্ট স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে আজ আমাদের দিন শুরু হল। সকালে উঠেই হোটেলে স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপিত হল। পতাকা উত্তোলন, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশন থেকে শুরু করে হোটেলের গেস্টদের জন্য স্পেশাল ব্রেকফাস্ট, কোনও কিছুই বাদ গেল না।

এরপর গেলাম জাকার্তার মারদেকা স্কোয়ার। এখানেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, যা মোনাস নামে পরিচিত। ১৩২ মিটার লম্বা এই স্মৃতি স্তম্ভটি ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক। এই স্তম্ভের চূড়ায় রয়েছে একটি গোল্ডেন ফ্লেম, যেটা ইন্দোনেশিয়ার জনসাধারণের সহনশীলতা আর আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এর রাজকীয় সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জন্য এটি ইন্দোনেশিয়ার সব থেকে পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। এই মনুমেন্টের ভেতরে একটি মিউজিয়ামও রয়েছে। সোমবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন মনুমেন্ট আর মিউজিয়াম দুটোই খোলা থাকে ট্যুরিস্টদের জন্য। রাতে এই মোনাস সেজে ওঠে এক অপরূপ আলোর অলংকারে।

এখানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হল। হাজার হাজার লোকের ভিড় এই স্কোয়ারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছে লোকজন। মারদেকা স্কোয়ারের একপাশে তৈরি করা হয়েছে বিরাট স্টেজ, যেখানে সারাদিন ধরে চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অন্যদিকে রয়েছে বিভিন্ন রকমের দোকান, খাবার স্টল, বাচ্চাদের খেলার জায়গা। এই দিনটি ইন্দোনেশিয়ার ছুটির দিন, তাই বাড়িতে সময় নষ্ট না করে সবাই এখানে চলে আসে। এবার ঝটিকা সফরে জাকার্তা এসে এত সুন্দর ভাবে স্থানীয় এবং বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে এই দেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সঙ্গী হব ভাবতেই পারিনি।

মারদেকা স্কোয়ার থেকে খুব কাছেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো মসজিদ, ইস্তিকলাল, আরবি ভাষায় যার অর্থ ‘স্বাধীনতা’। ১৯৬১ সালে ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি, সুকর্ণ, ডাচ শাসন থেকে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার স্মৃতি হিসেবে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। এটি ইন্দোনেশিয়ার ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং ঐক্যের প্রতীক। আর্কিটেক্ট ফ্রেডেরিক সিলাবান দ্বারা ডিজাইন করা গম্বুজ আকৃতির এই মসজিদটিতে প্রাচীন এবং আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে পাওয়া যায়।

সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি এই মসজিদ বিশুদ্ধতা ও শান্তির প্রতীক। দিনেরবেলা মসৃণ মার্বেলের উপর সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে এক অদ্ভুত সুন্দর মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। মসজিদের ভেতরে লক্ষাধিক মানুষ একসঙ্গে বসে প্রার্থনা করতে পারে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য এই মসজিদের দ্বার উন্মুক্ত। মসজিদের বাইরে চারপাশে রয়েছে প্রশস্ত বারান্দা আর সাজানো বাগান। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য সুন্দর জায়গা।

ইস্তিকলাল মসজিদ থেকে বেরিয়ে রাস্তার ঠিক উলটো দিকেই রয়েছে জাকার্তা ক্যাথিড্রাল। জাকার্তার ইতিহাসে এর অবদান অনস্বীকার্য। এই রোমান ক্যাথিড্রালের নিও-গথিক স্থাপত্য, উচ্চ-শিখর, দেয়ালের সূক্ষ্ম কারুকার্য শতাব্দী প্রাচীন ইউরোপীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ১৮১০ সালে ডাচ শাসকরা এখানে একটি ছোটো গির্জা তৈরি করেছিল। তারপর ১৯০১ সালে পুরোনো গির্জা ভেঙে সেই জায়গায় একটি নতুন গির্জা তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই গির্জাটি বোমার আঘাতে ভীষণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুদ্ধের পর গির্জাটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই গির্জাটি এখন শুধুমাত্র জাকার্তায় বসবাসকারী ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নয়। বরং সব ধর্মের পর্যটকদের মধ্যে একটি বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান। ধর্মীয় উপাসনা ছাড়াও এখানে নানা রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। ডাচ ঔপনিবেশিকরা ইন্দোনেশিয়া থেকে চলে গেলেও এই ক্যাথিড্রাল তাদের কয়েক শতকের দীর্ঘ শাসনকালের স্মৃতি নিয়ে আজও গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

দিনের শেষে এসে পৌঁছোলাম গ্র্যান্ড ইন্দোনেশিয়া শপিং মলে। এটি জাকার্তার সব থেকে বড়ো শপিং কমপ্লেক্স। একটি স্কাই ব্রিজ দিয়ে ইস্ট আর ওয়েস্ট দুটো মলকে একসঙ্গে জুড়ে তৈরি করা হয়েছে এই বিশাল কমপ্লেক্স। সেন্ট্রাল জাকার্তাতে অবস্থিত এই শপিং মল এক ছাদের নীচে নিয়ে এসেছে বিশ্বের নামী-দামি ব্র্যান্ডগুলিকে। সেই সঙ্গে আছে রেস্তোরাঁ এবং বিনোদনের ব্যবস্থা। এখানকার শপিং মল থেকে কিছু কেনার ইচ্ছে বা প্রয়োজন কোনওটাই আমার ছিল না। তাই দেখে শুনে একটা ভালো রেস্তোরাঁতে গিয়ে ডিনার শেষ করে বেরিয়ে এলাম। এবার হোটেলে ফিরতে হবে। সৌভাগ্যক্রমে একটি ট্যাক্সিও পেয়ে গেলাম, যার ড্রাইভার বেশ ভালোই ইংরেজি বলতে পারে। হোটেলের অ্যাড্রেস বোঝাতে এবার আর তেমন বেগ পেতে হল না।

ইতিহাসের শহর জাকার্তা (পর্ব-০১)

কয়েক হাজার দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত ভারতের খুব কাছের একটি দেশ ইন্দোনেশিয়া। দুটো দেশের নামের কিছুটা মিল ছাড়াও এদের মধ্যে আরও অনেক মিল রয়েছে। এই দুই দেশের প্রাচীন ঔপনিবেশিক ইতিহাস, ধর্ম, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, আচার-আচরণ, শিল্প, সংস্কৃতি, অনুষ্ঠান, অতিথিপরায়ণ মানুষজন— সব কিছুতেই যেন বেশ অনেকটাই দেশের ছোঁয়া পাওয়া যায়। আর সেই টানেই বেরিয়ে পড়া ইন্দোনেশিয়ার পথে।

পরিকল্পনা মতো যাত্রা শুরু হল প্রথমে বালি থেকে। সেখানে কিছুদিন কাটিয়ে রওনা দিলাম ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উদ্দেশে, ডাচ শাসনকালে যার নাম ছিল বাটাভিয়া। বালির ডেনপাসার এয়ারপোর্ট থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইটে মাত্র দু’ঘণ্টার পথ। বুকে একরাশ আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে জাকার্তা পৌঁছোলাম।

এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে একটা ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে যাবার জন্য তৈরি হলাম। কিন্তু তখনও বুঝতে পারিনি ট্যাক্সি ডেকে হোটেলে যাব বললেই হোটেলে পৌঁছে যাওয়া যায় না। অন্তত জাকার্তাতে তো নয়ই। ট্যাক্সিতে উঠে প্রথমেই বুঝতে পারলাম ট্যাক্সি ড্রাইভার ইংরেজি বুঝতে বা বলতে পারে না। আর দুর্ভাগ্যবশতঃ আমি ইন্দোনেশিয়ার ভাষা জানি না! জাকার্তাতে আসার আগে আমরা বেশ কিছুদিন বালিতে কাটিয়েছি। তবে বালিতে ইংরেজি বলতে পারে সেরকম ট্যাক্সি ড্রাইভার আগে থেকেই বুক করা ছিল বলে তেমন কোনও অসুবিধা হয়নি। ভেবেছিলাম জাকার্তা দেশের রাজধানী, এখানে নিয়মিত পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্যুরিস্ট আসে, কাজেই সবাই অন্তত কাজ চালানোর মতো ইংরেজি বলতে পারবে। কিন্তু ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের মিল যে সব সময় হয় না!

এবার কীভাবে হোটেলে পৌঁছোব যখন সেই চিন্তায় মগ্ন, তখন আমার ট্যাক্সি ড্রাইভার সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে দিল তার হাতের মোবাইল ফোন, অগতির গতি ‘গুগল ট্রান্সলেটর’। শুরু হল আরও এক সংগ্রাম, এটাকে ‘জাকার্তায় ভাষা সংগ্রাম’ বললে একটুও বাড়িয়ে বলা হবে না হয়তো। এরপর অনেক কষ্টে ড্রাইভারকে বুঝিয়ে বললাম আমাদের হোটেল মার্কিউর-এ পৌঁছে দিতে। আমি যতটা সহজে বললাম, ড্রাইভারের মুখটা ঠিক ততটাই বিহ্বল মনে হল। গুগল ট্রান্সলেটর আর আমাদের দুজনের যৌথ উদ্যোগে বুঝতে পারলাম, জাকার্তা শহরে বেশ কয়েকটি মার্কিউর হোটেল আছে। যাইহোক, শেষ পর্যন্ত ই-মেইল ঘেঁটে হোটেলের ঠিকানা বের করে ড্রাইভারকে দেওয়াতে এ যাত্রায় নিজেদের বুক করা হোটেলেই পৌঁছোলাম।

হোটেলটা বেশ সুন্দর। ম্যানেজার খুব দক্ষতার সঙ্গে চেক ইন করিয়ে আমাদের হাতে রুমের চাবি ধরিয়ে দিলেন। আমি চাবিটা হাতে নেবার সময় জিজ্ঞেস করলাম, ‘আগামীকাল আমাদের জন্য একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন?’

ভদ্রলোক হয়তো মনে মনে ভাবলেন, এটা আর এমন কী কাজ। তাই একটু হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের হোটেলের গাড়ি আপনি সারাদিনের জন্য বুক করতে পারেন। কোনও সমস্যা নেই।’

আমি যেন হাতে স্বর্গ পেলাম। খুশি হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ড্রাইভার ইংরেজি বলতে পারে তো? সে কি এখানেই আছে? আমি কি একটু তার সঙ্গে কথা বলতে পারব?’ কাল সকালে কোথায় যাব সেটা আজই ড্রাইভারকে বুঝিয়ে দেব ভেবেছিলাম।

হঠাৎ করেই ভদ্রলোক চুপ করে গেলেন। ব্যাপারটা কী হল ঠিক বুঝতে না পেরে আমিও চুপ করে ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ পর বললেন, “সরি ম্যাডাম, আমাদের এখানে ইংরেজি বলতে পারে এমন কোনও ড্রাইভার আপনি পাবেন না। হ্যাঁ, তবে আপনি গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে খুব সহজেই ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।’

ওনার মুখে ‘খুব সহজেই’ কথাটা শুনে হাসব না কাঁদব, ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। তবুও একটা গাড়ি বুক করতে বলে চাবি নিয়ে লিফটের দিকে এগোলাম। পনেরো তলায় আমাদের রুম। সন্ধে হয়ে এসেছে। সূর্যাস্ত দেখব বলে বাইরের ব্যালকনিতে বেরিয়ে আবার নিজের ভুল বুঝতে পারলাম। এটা জাকার্তা শহর। এখানে সূর্য প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। বায়ু দূষণে জাকার্তা পৃথিবীর মধ্যে প্রথম স্থানাধিকারী। আকাশে এক ফোঁটা নীল রং কোথাও খুঁজে পেলাম না। চারদিকে শুধু ধোঁয়াশা। বারান্দায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মনে হল যেন দমবন্ধ হয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার সময় মনে মনে ভাবলাম, মানুষ অভ্যাসের দাস। দিন কয়েক এখানে থাকলে নিশ্চয়ই এটাও অভ্যাস হয়ে যাবে।

এবারের এই জাকার্তা ভ্রমণ একেবারেই পরিকল্পনা বহির্ভূত ছিল। কোথায় যাব, কী করব, কোনও কিছুই প্ল্যান করে আসিনি। তাই এবার শুরু হল গুগল সার্চ। ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে আমার জ্ঞান যে খুবই সীমিত সেটা খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে পারলাম। গুগল সার্চ করতে গিয়ে প্রথমেই জানতে পারলাম আগামীকাল, মানে ১৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা দিবস। প্রথমেই বলেছি ইন্ডিয়ার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার অনেক মিল আছে। অবাক হলাম যখন ১৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের শরিক হলাম। ইন্দোনেশিয়া আমাদের থেকে দু’বছর আগে স্বাধীনতা লাভ করেছে। আর স্বাধীনতা দিবসও আমাদের ঠিক দু’দিন পর।

ইন্দোনেশিয়া বেশ কয়েক শতাব্দী ধরে বিভিন্ন বিদেশি শক্তির দ্বারা শাসিত এবং শোষিত হয়েছে। ইউরোপীয় শক্তির আগমনের আগে ইন্দোনেশিয়া শ্রীবিজয়া এবং মাজাপাহিতের মতো বিভিন্ন শক্তিশালী রাজ্য এবং সাম্রাজ্যের আবাসস্থল ছিল। এ সময় চীন ও ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, বিশেষত বাণিজ্যিক সম্পর্ক। ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে পর্তুগীজরা মশলা বাণিজ্যের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় আসে। আর সেই থেকেই শুরু হয় শোষণের ইতিহাস। তারপর সপ্তদশ শতকে পর্তুগীজদের তাড়িয়ে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইন্দোনেশিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। সেই সময় ইন্দোনেশিয়া মশলা, কফি, চা রপ্তানির জন্য বিখ্যাত ছিল।

(ক্রমশ…)

পুরোনো প্রেমিক বা প্রেমিকার উপস্থিতি ডিল করবেন কীভাবে?

সব প্রেম যে পরিণতিতে পৌঁছোবে এমন কোনও কথা নেই। অনেকের জীবনেই ঘটে এমন কোনও ঘটনা, যার জেরে পুরোনো প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিদায় জানিয়ে নতুন মানুষের সঙ্গে সংসার বাঁধতে হয়। মন হয়তো সবসময় সহমত হয় না কিন্তু পরিস্থিতি সওয়াল করে— ‘তাহলে এর নিদান কী?

মনকে গুছিয়ে নিতে হবে আপনাকেই। বুঝতে হবে প্রেম ভেঙে গেছে, কারণ সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ ছিল না। যে-প্রেম পরিণতির পথে এগোয় না, তাকে একটা সুন্দর বাঁকে এসে মুক্তি দিতেই হয়। কোনও কোনও জুটি এটা মেনে নিয়ে যে-যার জীবন পথে এগিয়ে যায়। কেউ কেউ পুরোনো প্রেমকে ভুলতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলার আগে, পুরোনো প্রেমিক বা প্রেমিকার উপস্থিতি কীভাবে ডিল করবেন, সেটা জেনে নেওয়া একান্ত জরুরি।

প্রথমেই বুঝতে হবে প্রেম ভেঙে যাওয়ার বিষয়টা সেনসিটিভ। আপনি যতটা স্পোর্টিংলি এটা নিতে পেরেছেন, হতে পারে আপনার প্রাক্তন সেভাবে হ্যান্ডেল করতে পারেনি। তাই সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার আপনারও, আর কী করবেন জেনে নিন।

ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়ান

আপনার বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়ে গেছে বলেই এক ঝটকায় পুরোনো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবেন— সব সময় এমনটা হয় না। মনে রাখুন একটা সম্পর্ক তৈরি হতেও যেমন সময় লাগে, সম্পর্ক ভাঙতে গেলেও তাতে সময় দেওয়া প্রয়োজন। ধীরে ধীরে সঙ্গীর থেকে দূরত্ব বাড়ান। তাকে বোঝান ঠিক কী কী কারণে সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বন্ধুত্বের হাত ছেড়ে দেবেন না এক ঝটকায়, তাহলে আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা হয়তো এই হঠাৎ একা হয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে না পেরে, ভুল পদক্ষেপ নিতে পারেন।

তার চেয়ে দু’জনে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটান ও পুরোনো ঘনিষ্ঠতা কাটিয়ে একটা সহজ বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। বন্ধুকে আশ্বাস দিন বিপদে আপনি সব সময় তার পাশে এসে দাঁড়াবেন। সেও স্বাধীন ভাবে নতুন সঙ্গী নির্বাচন করে জীবনের পথে এগিয়ে যাক, এটাই আপনি চান।

উপহার ভার যেন না বাড়ায়

সম্পর্কে থাকাকালীন আপনারা যে-সমস্ত উপহার আদানপ্রদান করেছিলেন, চেষ্টা করুন সেগুলো বাক্সবন্দি করে চোখের আড়ালে রাখতে। এতে পুরোনো স্মৃতি বারবার ফিরে এসে আপনাদের আবেগপ্রবণ করে তুলবে না।

সম্পর্ক ভাঙার কারণ বিশ্লেষণ

অনেক সময় সম্পর্ক ভাঙার অনেক কারণ থাকে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাহীন সম্পর্ক বেশিদূর এগোয় না। কেরিয়ার প্ল্যানিং না থাকা বা অতিরিক্ত কেরিয়ারিস্ট হওয়া, পরস্পরের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল না হওয়া, একে অপরকে সময় না দেওয়া, লং ডিস্ট্যান্স রিলেশনশিপ মেনে নিতে না পারা, পারিবারিক চাপে সম্পর্ক ভাঙা— এমন অনেক কারণ থাকে প্রেম ভেঙে যাওয়ার নেপথ্যে। আপনাদের কারণগুলি সুস্পষ্ট ভাবে আলোচনা করুন দু’জনে। যাতে কারও মধ্যেই এই নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি বা অপরাধবোধ না কাজ করে।

জীবনে প্র্যাকটিকাল সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আবেগের বশে ভুল সম্পর্ক টেনে হিঁচড়ে এগিয়ে নিয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই এব্যাপারে দু’জনেই নিশ্চিত ভাবে বিশ্লেষণ করুন সম্পর্ক ভাঙার কারণ।

ব্রেকআপএর পর নিজেকে সময় দিন

অনেকেই ব্রেক-আপ-এর শূন্যতা মেনে নিতে পারেন না। তখনই একটা সম্পর্ক তৈরি করে, বা হঠকারিতার সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, জীবনে নতুন অশান্তি ডেকে আনেন। এই পরিস্থিতি যাতে না হয়, তাই প্রেম ভেঙে যাওয়ার পর দু’জনেই কিছুদিন দূরত্ব রেখে একলা থাকুন। যখন বুঝবেন পুরোনো সম্পর্কের আঁচ সম্পূর্ণ ভাবে নিভে গেছে, তখনই নতুন করে ভাবনাচিন্তা করুন আগামী পদক্ষেপের বিষয়ে। বিয়ে করতে হলে এবার সঠিক সঙ্গীর চয়ন করুন।

পুরোনো সম্পর্ক থেকে শিক্ষা নিন

ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক থেকে শিক্ষা নিন। দ্বিতীয়বার সম্পর্কে জড়ানোর সময় আর পুরোনো ভুলগুলো রিপিট করবেন না। যদি নিজের চরিত্রের ভুলগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন মনে করেন— অবশ্যই তা করা উচিত। একটা ভাঙা-প্রেম কিন্তু আপনাকে অনেক গুনে ম্যাচিয়োর্ড করে তোলে। সুতরাং ইমোশনালি ব্যালেন্সড হয়ে তবে সিদ্ধান্ত নিন। নতুন জীবনকে স্বাগত জানান। পিছন ফিরে তাকাবেন না।

নতুন সঙ্গীর তুলনা প্রাক্তনের সঙ্গে নয়

অনেকেই নতুন সঙ্গী নির্বাচনের পরও মনে মনে তার সঙ্গে প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার তুলনা করতে থাকেন। এতে সুফল পাবেন না কিছুই, উলটে অতৃপ্তি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। মনে রাখবেন, প্রতিটা মানুষের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। কেউ কারও মতো হয় না, সেভাবে গড়েও নেওয়া যায় না। তাই যাকে জীবনে বরণ করছেন, তাকে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সমেত মেনে নিন। তাতেই সুখী হবেন।

বারবার প্রাক্তনের ছবি দেখবেন না

অনেকেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও ফোন বা কম্পিউটারে জমিয়ে রাখা প্রাক্তনের ছবিগুলি দেখতে থাকেন। এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন। স্মৃতি রোমন্থন সততই সুখের হয় না। এতে আপনি না তো পুরোনো সম্পর্কটায় ফিরে যেতে পারবেন, আর না নতুন সঙ্গীকে পুরোপুরি মনে ঠাঁই দিতে পারবেন। তার চেয়ে মনকে বুঝিয়ে নিন যে, পুরোনোকে চিরতরে বিদায় দিয়েছেন।

বিয়ের পর সঙ্গী প্রাক্তনের প্রসঙ্গ

নতুন সঙ্গীকে প্রাক্তনের প্রসঙ্গ তুলে এনে বিরক্ত করবেন না। আজকাল কলেজে প্রেম হওয়াটা খুব সাধারণ একটা ঘটনা। আপনি বা আপনার হবু স্বামী যদি এর আগে কোনও সম্পর্কে থেকে থাকেন, সেটাকে সাধারণ ঘটনা হিসাবে মেনে নেওয়াই ভালো। মাথায় রাখবেন, আগের সম্পর্কটা পরিণতি পায়নি বলেই তো আপনারা নতুন জীবন গড়ে তুলতে যাচ্ছেন। তাই প্রাক্তন নিয়ে আলোচনা একেবারে বন্ধ করে দিন। নতুন জীবন ও আগামীর পরিকল্পনা করুন।

প্রেম বিবাহ

বিবাহোত্তর জীবনে প্রেম থাকে না একথা সর্বৈব সত্য না। প্রেম বরং আরও অনেকগুলি ডায়মেনশনে বিভাজিত হয়। স্নেহ, মায়া, মমত্ব এবং ভালোবাসা- — একত্রে মিলেমিশে যায়। তাই বিয়ের আগের প্রেমের সঙ্গে এর মিল না-ই থাকতে পারে। কিন্তু জীবনকে সুন্দর ও প্রেমময় করে তোলার দায়িত্ব আপনাদেরই।

নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষা সুফলদায়ক

কিছু মানুষ আছেন, যারা অসুস্থ হলেই দিশাহারা হয়ে পড়েন। বিশেষকরে বয়স্ক লোকেরা অসহায়ত্ব ভোগ করেন বেশি। কোথায়, কোন চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে ভালো চিকিৎসা পরিসেবা পাওয়া যাবে কিংবা কোন ডক্টর কোন অসুখের জন্য সঠিক এবং উপযুক্ত, এইসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ধারণা থাকে না। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা উপযুক্ত চিকিৎসা পরিসেবা পাওয়ার জন্য ভিন রাজ্যের চিকিৎসা কেন্দ্র কিংবা চিকিৎসকের খোঁজ করেন কিন্তু সঠিক তথ্য পান না। অনেক সময় এমনও হয় যে, চিকিৎসা বিষয়ক সঠিক তথ্য কিংবা ধারণা না থাকার জন্য, আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন অনেকে।

মনে রাখবেন, যে-কোনওরকম দুশ্চিন্তা শরীরের পক্ষ্যে ক্ষতিকারক। তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে সতর্ক থাকুন আগে থেকেই। সেইসঙ্গে, স্বাস্থ্য পরিসেবা কোথায় সহজলভ্য, সেই বিষয়ে খোঁজখবর রাখুন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরিসেবা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিল বেহালায় অবস্থিত ‘হেলথ চেক’ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে, কলকাতা-র নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে, এই সেন্টার-এ চালু করা হয়েছে স্যাটেলাইট হেলথ চেক-আপ। অর্থাৎ, এবার থেকে এই ‘হেলথ চেক’ সেন্টার-এ গেলেই স্যাটেলাইট মাধ্যমে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসকদের থেকেও পরামর্শ নেওয়া যাবে সহজে। অবশ্য শুধু চিকিৎসকদের পরামর্শই নয়, প্রয়োজনে চেন্নাই গিয়েও যাতে ঝামেলাহীন চিকিৎসা পরিসেবা নিতে পারেন রোগীরা, সেই ব্যবস্থাও এই সেন্টার-এর মাধ্যমে করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অ্যাপোলো হসপিটালস চেন্নাইয়ের সঙ্গে যৌথ ভাবে এই স্যাটেলাইট কেন্দ্র চালু করেছে বেহালার এই ‘হেলথ চেক’ সেন্টার। চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের ট্রমা এবং অর্থোপেডিক সার্জন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মাধন থিরুভেনগাদা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, ‘এই স্যাটেলাইট স্বাস্থ্য পরিসেবার মাধ্যমে রোগীরা কলকাতায় থেকেই চেন্নাইয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন এবং সঠিক ভাবে চিকিৎসা পরিসেবা  পাবেন। এর ফলে রোগীরা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারবেন এবং আর্থিক ভাবেও অনেকটা সাশ্রয় হবে।’

এই প্রসঙ্গে ডা. নারায়ণ মিত্র জানিয়েছেন, ‘আসলে, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সতর্ক থাকা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, শরীরকে অবহেলা করার কারণে, বড়ো কোনও রোগে আক্রান্ত হন বহু মানুষ। তাই যেমন শরীরের নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি, ঠিক তেমনই নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও জরুরি। দেখা যায়, যারা নিয়মিত স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করান না, তাদের শরীরে অনেক সময় রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধে কিন্তু তা জানা যায় রোগ যখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কারণ, এমন অনেক রোগ আছে, যার উপসর্গ মেডিক্যাল চেক-আপ ছাড়া প্রাথমিক অবস্থায় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। আর তাই স্যাটেলাইট মাধ্যমের এই স্বাস্থ্য পরিসেবা সুফলদায়ক হবে।’

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব