বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’

‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’– সিজন সাতে বসন্তের রং ও শিল্পের এক সুন্দর মিলনোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘সুলগ্না আকাদেমি ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে। নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন সুলগ্না ভট্টাচার্য।

বসন্তের কোমল আলো আর ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে দিতে আবার অনুষ্ঠিত হল ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’। এবার সিজন সাত। হোলি ও বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে এই অনুষ্ঠান প্রতিবারের মতোই একত্রিত করে নানান ঘরানার শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষদের।

এই বার্ষিক উৎসবটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি এমন এক মঞ্চ, যেখানে ঐতিহ্য আর নতুন ভাবনার মিলন ঘটে। এখানে নবীন শিল্পীদের স্বপ্ন যেমন জায়গা পায়, তেমনই অভিজ্ঞ শিল্পীর সাধনাও সমান ভাবে সমাদৃত হয়। শিল্পের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমষ্টির মধ্যে গড়ে ওঠে এক অনন্য সুন্দর সেতুবন্ধন। অতিথি শিল্পী ও বিশেষ পরিবেশনায় ছিলেন সৌমেন কুণ্ডু ও তনিমা বর্ধন। সমবেত নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন তিথি দাস ও তাঁর দল ‘প্রভাকুঞ্জ’-র শিল্পীরা। ‘ত্রয়ী’ পরিবেশন করে ‘কবিতার এলোমেলো ছন্দ’। নিবেদনে ছিলেন অভিষেক রায়, শৌভিক শাসমল ও মৌলি দাশগুপ্ত। কবিতা ও নৃত্যের সংলাপে নির্মিত এক অনন্য ভাবনিনির্ভর উপস্থাপনা ছিল এটি।

একক নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন রূপসা পাকড়াশি, এশা গোস্বামী এবং প্রকৃতি বসু। প্রত্যেক শিল্পী তাঁদের নিজস্ব ভঙ্গি ও শিল্পীসত্তা দিয়ে অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। ছিল ‘সুলগ্না ডান্স আকাদেমি ট্রাস্ট’-এর শিক্ষার্থীদের বিশেষ প্রযোজনা—- ঋতুচক্র। ঋতুর আবর্তন, পরিবর্তন ও তার চিরন্তন ধারাবাহিকতাকে কেন্দ্র করে উপহার দেওয়া হয় এই মননশীল প্রযোজনা।

অনন্ত প্রেম-ভালোবাসার সীমাহীন রূপকে নৃত্য এবং সংগীতের মাধ্যমে হৃদয়স্পর্শী করে তোলেন শিল্পীরা। এই প্রযোজনাগুলি ‘সুলগ্না আকাদেমি ট্রাস্ট’-এর শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, সাধনা ও দলগত প্রচেষ্টার সুন্দর এক প্রকাশ। এই আয়োজন নিয়ে সুলগ্না ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “রাঙিয়ে দিয়ে যাও – সিজন সাত শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি এক শিল্প সম্মেলন। এখানে হোলির রং হয়ে ওঠে আনন্দ ও একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতীক।

সংগীত, নৃত্য, কবিতা ও অনুভূতির রঙে বসন্তকে আরও রঙিন করে উদযাপন করতে, বিভিন্ন ঘরানার নৃত্যশিল্পী এবং  সংগীতশিল্পীরা হাওড়ার নেতাজী সংঘ ক্লাব গ্রাউন্ড-এ একত্রিত হয়ে অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলেন সম্প্রতি।

অন্নপূর্ণা দেবীর স্মরণে কলকাতায় চলছে শাস্ত্রীয় সংগীত সম্মেলন

মাইহার ঘরানার শিল্পী অন্নপূর্ণা দেবী-র জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে এক বিশেষ শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান চলছে কলকাতা-র জিডি বিড়লা সভাঘরে। ‘অন্নপূর্ণা দেবী ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে এই শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ৬ মার্চ শুরু হওয়া এই সংগীতানুষ্ঠান চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। জিডি বিড়লা সভাঘরে, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হচ্ছে এই শাস্ত্রীয় সংগীতের অনুষ্ঠান। এর আগে ‘অন্নপূর্ণা দেবী ফাউন্ডেশন’ সরোদ, বেহালা, সেতার সম্মেলন করেছে এই শহরে।

উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা দেবী একজন মহিলা সুরবাহার শিল্পী। তাঁর বাবা প্রখ্যাত আলাউদ্দিন খান এবং দাদা উস্তাদ আলি আকবর খান। মাইহার ঘরানার শিল্পী অন্নপূর্ণা দেবীর উল্লেখযোগ্য ছাত্ররা হলেন পন্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, আশিস খান, দক্ষিণা মোহন ঠাকুর, বসন্ত কাবরা, সুধীর ফাডকে, নিত্যানন্দ হলদিপুর প্রমুখ। জন্মসূত্রে মুসলিম পরিবারে জন্ম হলেও, মাইহার স্টেটের মহারাজা ব্রীজনাথ সিং-এর দেওয়া ‘অন্নপূর্ণা’ নামেই (আসল নাম রোশনারা খান) সকলের কাছে তিনি পরিচিত।

যাইহোক, অন্নপূর্ণা দেবীর জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বৈচিত্র্যময় নানা আঙ্গিকের মধ্য দিয়ে একটি মনোমুগ্ধকর সংগীত সফর বলা যায়। আমাদের দেশের বিভিন্ন ঘরানা এবং শৈলীর প্রতিনিধিত্বকারী শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পীরা যন্ত্রসংগীত ও কন্ঠসংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে অন্নপূর্ণা দেবীকে স্মরণ করছেন। প্রত্যেক শিল্পী এমন সংগীত পরিবেশন করে চলেছেন এই সংগীত সম্মেলনে, যা স্বতন্ত্র এবং শাস্ত্রীয় সংগীত  ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করছে। তবে, ‘অন্নপূর্ণা দেবী ফাউন্ডেশন’ শুধু বিখ্যাত উস্তাদদের মঞ্চে নিয়ে আসে না,পাশাপাশি, স্বল্প পরিচিত কিন্তু ব্যতিক্রমী প্রতিভাধারীদেরও সামন ভাবে গুরুত্ব দিয়ে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ করে দেয়।

প্রথম দিনে মঞ্চ মাতিয়েছেন পন্ডিত মিলিন্দ রাইকার (বেহালা), বিদূষী শুভ্রা গুহ (কন্ঠসংগীত), দ্বিতীয় দিনে মঞ্চ মাতাবেন পন্ডিত শান্তনু ভট্টাচার্য (কন্ঠসংগীত), পন্ডিত বসন্ত কাবরা (সরোদ) এবং তৃতীয় দিন মঞ্চ মাতাবেন পন্ডিত রাজেন্দ্র প্রসন্ন ও রীতেশ প্রসন্ন (বাঁশি), বিদূষী অশ্বিনী ভিডে দেশপান্ডে (কন্ঠসংগীত )।

আর আগামী ৯ মার্চ, (২০২৬) ভারতীয় ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হবে ‘অন্নপূর্ণা দেবীর জন্ম শতবর্ষে ‘বিশেষ কভার’, জিপিও কলকাতায় বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক একদিন পরেই ভারতীয় ডাক বিভাগের এই বিশেষ সম্মাননা, এই শতবর্ষ উদযাপনে এক অন্য মাত্রা যোগ করল।

সংস্থার পক্ষে নিত্যানন্দ হলদিপুর জানিয়েছেন, “এই অসাধারণ আয়োজন এই শহরের শাস্ত্রীয় সংগীত অনুরাগীদের উপস্থিতি এবং সমর্থন পাচ্ছে এবং পাবে, এই আশা রাখছি। আপনাদের এই  সমর্থন শিল্পীদের আরও উৎসাহিত করবে। সেইসঙ্গে, ভারতীয় ডাক বিভাগের সম্মান প্রদানের এই উদ্যোগ, এই সংগীতানুষ্ঠানটিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে ভালো লাগছে।”

রাজার চোখে জল (পর্ব-০৩)

রাজা: (রাজা আরও জোরে কেঁদে ওঠে) মিথ্যে সান্ত্বনা দিও না মা। কেসটা গেছে খুব পাকিয়ে। নতুন কিছু ভাবো। নাকি সোজা ভিয়েনা চলে যাব? সেখানে হয়তো আছে কোনও চিকিচ্ছে।

রাজমাতা: কী জানি, মা সন্তোষির কী ইচ্ছে। আমি তো নিয়মিত মা সন্তোষির ব্রত করি। কোনও শুক্কুরবার বাদ রাখি না। তবে কি কিছু ত্রুটি হল? দেবী সন্তোষির অসন্তোষেই কি তোর এই সর্বনাশ?

(রাজা ফের ডুকরে ডুকরে কেঁদে ওঠে)

রাজা: সে তোমার সন্তোষিমাকেই জিজ্ঞেস করো। তাকে কী করে সাইজ করে লাইনে আনা যায় দেখো।

রাজমাতা: দেবী সম্পর্কে অমন কথা বলিস নারে। দেবীই পারে এই অসাধ্য সাধন করতে। ওরে আমি দেবীর উদ্‌যাপন করব বেশ জাঁকজমক করেই। বালক ভোজন করাব। তুই খাজাঞ্চিবাবুকে বলে দে যেন আমায় লাখ পাঁচেক টাকা দেয়।

রাজা: লাখ পাঁচেক কেন?

রাজমাতা: পুজোর খরচ বাঁচিয়ে একটা বড়ো মাপের অ্যান্ড্রু টিভি কেনার ইচ্ছে আছে। রাজা: অ্যান্ড্রু টিভি কী?

রাজমাতা: ওই যে রে অ্যান্ড্রুট না কী টিভি বলিস তোরা? কী ডিজিটাল যেন!

রাজা: অ্যান্ড্রয়েড টিভি। স্মার্ট টিভি? ডলবি ডিজিটাল?

রাজমাতা: হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি তার নাম দিয়েছি অ্যান্ড্রু।

রাজা: কথা হচ্ছিল মা সন্তোষি। চলে এল স্মার্ট টিভি! আমার মাথাটাই তো এখন টিভির স্ক্রিন। দেখবে কোনও স্যাটেলাইট চ্যানেলের ছবি এসে যাবে একদিন।

রাজমাতা: সত্যিই তো মা সন্তোষির মধ্যে বিষয়ি ভাবনা! দোষ নিও না হে মা সন্তোষি। ওরে এই শুক্কুরবারেই আমি উদ্‌যাপন করব। তোরা সব জোগাড়যন্ত্র কর।

দৃশ্যান্তর

উদ্‌যাপন চলবে। (রাজমাতা এয়োতিদের নিয়ে গান গেয়ে আরতি করবেন)

গান—

তোমার আরতি করি গো মা

সন্তোষি মা আমার

জয় জয় সন্তোষি মাতা জয় জয় মা…। (সান্ধ্য অনুষ্ঠানে ভাংরা নাচের দল গাইছে)

গান—

দুঃখহরণ তুমি, কষ্টহরণ তুমি

বিপদতারিণী তুমি মা

আমার সন্তোষি মা আমার সন্তোষি মা

জলে আছো আছো স্থলে

ফুলে ফলে শতদলে

আকাশে বাতাসে আছো মা

আমার সন্তোষি মা আমার সন্তোষি মা

দৃশ্যান্তর

মঙ্গল: না। রাজার মাথায় চুল গজানোর কোনও মহিমা দেখাতে পারলেন না মা সন্তোষি। রাজার হতাশা বেড়ে গেল দ্বিগুন। কী করলে, কাকে ধরলে ফলবে ফল। সে নিয়ে ভেবে ভেবে রাজার চোখে অবিরত ঝরছে জল।

রবি: মরাকান্না ভেউ ভেউ। যেন সমুদ্দুরের ঢেউ। একটা ঢেউ ভেঙে পড়লে যেমন আর একটা ঢেউ ধেয়ে আসে, তেমনই অবিরাম ঢেউয়ের মতোই চলছে রাজার ভেউ ভেউ।

সোম: বিরক্তির একশেষ। মাঝে মাঝে লাগছেও বেশ। কিন্তু এভাবে চললে তো রসাতলে যাবে দেশ।

মঙ্গল: যাবেই তো। একটা এত বড়ো রাজ্যের রাজা। বলিহারি তার বায়নাক্কা। তিনরানি। তাদের কী হয়রানি।

রবি: তা এখন রানিরা কী বলছে? তাদের কী ইচ্ছে?

মঙ্গল: রানিদের আবার ইচ্ছে! কে পাত্তা দিচ্ছে? মুখ খুলবার উপায় আছে? বড়ো রানি ছাড়া আর দুই রানি ঘেঁষছেই না রাজার কাছে।

সোম: তাদের অবস্থা তাহলে সত্যিই খুব করুণ?

মঙ্গল: আরে করুণ বলে করুণ? একেবারে নিদারুণ। সারারাত্তির বসে বসে তিন রানিতে শুধু জটলা। কী করলে রাজার এই মরাকান্না থামবে? কীভাবে ভোলানো যায় রাজার এই চুলের শোক? ভেবে ভেবে শেষপর্যন্ত বড়ো রানি বলল….

দৃশ্যান্তর
(রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল)

বড়ো রানি: রাজপ্রাসাদে নিশ্চয়ই কারও কুদৃষ্টি পড়েছে। নইলে এমন অলক্ষুণে কাণ্ড কেন ঘটবে বল। যমে মানুষে টানাটানি হল। যদিও বা রাজাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলুম, তো ঘটল এই বিপদ। (মেজোরানি, ছোটোরানি ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে)। কাঁদিস নে। কাঁদিস নে তোরা। তোরা কাঁদলে আমি কী করি? কোথায় যাই? কাকে ধরি? (খানিক ভেবে নিয়ে) হ্যাঁ, আমার গুরুদেবের কাছেই যাব।

দৃশ্যান্তর
(রবি, সোম আর মঙ্গল নেচে নেচে গায়)

গান—

এই মরেছে, এই মরেছে রাজপ্রাসাদে কুদৃষ্টি পড়েছে

এতদিনে বড়োরানির টনক নড়েছে।

বিহিত কিছু না করলে কুদৃষ্টি কাটবে না

ধ্বংস হবে বংশ রাজার কিছুই বাকি থাকবে না বলব কী আর রাতদিন তাই

রানিমাকে সেই চিন্তাই পাগল করেছে। ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি রাজার বাড়াবাড়িতে

বড়ো রানি ছুটে এলেন গুরুদেবের বাড়িতে

সপ্তগ্রামে খুব হইচই, সেপাই সান্ত্রী সব গেল কই?

দেখতে রানি ভিড় থইথই উপচে পড়েছে।

এই মরেছে এই মরেছে…

(গুরুদেবের বাড়ি)

গুরুদেব: মন গুরু নাম করো, গুরু নাম করো, গুরু নাম করো।

বড়ো রানি: গুরুদেব, বড়ো বিপদে পড়ে ছুটে এসেছি। আপনি দয়া না করলে পরিত্রাণ নেই গুরুদেব।

গুরুদেব: গুরুদেব দয়া করো দীনজনে… দীন অভাজনেরই তো দয়ার প্রয়োজন। কিন্তু, তুমি তো রাজমহিষী। তোমার একটু দয়া পেলে আমি বর্তে যাই। সেই আমারই দয়া চাই?

বড়োরানি: রাজপ্রাসাদে অলক্ষুণে সব কাণ্ড ঘটছে গুরুদেব।

গুরুদেব: মন গুরু নাম করো গুরু নাম করো গুরু নাম করো… জানি না? সেকি আমি জানি না? রাজার মাথা সাফ। ভাবছ কার পাপ? কার অভিশাপ? হে হে হে…(আচমকা মুড পালটে রাগত স্বরে) মাচণ্ডী হয়েছেন রুষ্ট। আগে দেবী চণ্ডীকে করো তুষ্ট। রাজপ্রাসাদে শান্তি সংস্থানের ব্যবস্থা করো। যাগযজ্ঞ, ব্রাহ্মণভোজনের ব্যবস্থা করো। আসছে বিষুদবারেই শুভদিন। যাও। বড়োরানি: আমি সব ব্যবস্থা করব। গাড়ি পাঠাব। আপনি সময় মতো চলে যাবেন।

গুরুদেব: সময়ের কথাই যখন তুললে, তখন বলি, ঘড়ি ধরে চলতে হয়। একটা এসমার্ট ওয়াচের বড়ো শখ ছিল। আমি ঠিক সময়ে পৌঁছে যাব। বিলিতি মদ, পমফ্রেট মাছভাজা আর মাটন বিরিয়ানি ছাড়া আমাকে অন্য কিছু খাওয়ার অনুরোধ কোরো না। সে অনুরোধ আমি রাখতে অক্ষম। আর একটা কথা রানিমা। কথাটা বলা কি সমীচীন হবে?

বড়োরানি: বলুন গুরুদেব। সংকোচ করবেন না।

গুরুদেব: রাজপুরোহিতের কার্য সমাধা করব। আমার অনামিকায় একটা হীরকখণ্ড বসানো সোনার অঙ্গুরীয় না থাকলে কি রাজার মান থাকবে?

বড়োরানি: বেশ তো৷ সেই অঙ্গুরীয় পরেই আপনি শুভকাজ করবেন।

গুরুদেব: বেশ বেশ। দক্ষিণা আর দানসামগ্রী ছাড়া আমাকে আর কিছু নেওয়ার অনুরোধ করতে পারবে না কিন্তু। মন গুরু নাম করো গুরু নাম করো গুরু নাম করো।

দৃশ্যান্তর

মঙ্গল: রাজবাড়িতে মহা ধুমধাম হল। ঢাক-ঢোল কাঁসরঘণ্টার সুতীব্র আওয়াজে রাজপ্রাসাদ গমগম করে উঠল। হাজার মানুষ পাত পেড়ে খেল। গুরুদেবের মন্ত্র উচ্চারণ মাইকে ছড়িয়ে পড়ল দূরদূরান্তে। দিনের শেষে পাঁচটি গাড়িভর্তি দানসামগ্রী নিয়ে টলতে টলতে গুরুদেব সপ্তগ্রামে ফিরে গেলেন। কিন্তু সবই বিফলে গেল। রাজার মাথার পিছন দিকে যে দু-চারগাছা চুল ছিল, তা-ও ঝরে পড়ে গেল। এদিকে রাজার চোখে যেন ভর করেছে ভারত মহাসাগর। লোনা জল ঝরছে তো ঝরেই চলেছে।

রবি: একেই বলে কারও পৌষমাস। কারও সর্বনাশ। কী বলো সোম, মঙ্গল?

সোম/মঙ্গল: কেন? হঠাৎ একথা কেন?

রবি: রাজার মন খারাপ। এই সুযোগে গরিবগুর্বো প্রজারা খাজনা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে কী বলো?

রাজার চোখে জল (পর্ব-০২)

রাজা: রেসপেক্ট? হাউ কুড ইউ এসপেক্ট? বুড়ো সেয়ানা ঘুঘু। আমি তোমাকে শূলে চড়াব। শূল চেনো, শূল? সব চিকিৎসা ভুল। এখন ভালোয় ভালোয় ফিরিয়ে দাও আমার চুল। (কাঁদতে কাঁদতে) আমার চুলের কী কোয়ালিটি ছিল তুমি বলো রানি?

বড়োরানি: জানি গো জানি। চুলে বিলি কাটব কিগো, এত ঠাস বুনোট, আঙুলই বিধত না চুলে।

রাজা: আর এখন এই হতচ্ছাড়া রাজবদ্যির চিকিৎসার ভুলে… মাথাটা আমার তবলার বাঁয়া করে দিয়েছে গো। আর কী? এবার ছোটোরানি গান ধরো। আর বড়োরানি চুলে বিলি কাটার বদলে এখন সঙ্গত করো। টাকে তবলা বাজাও। মেজরানি তামাশা দেখুক। কই ছোটো রানি? এসো গান ধরো, সেই যে। সেই গানটা। না বুঝে কারে তুমি ভাসালে আঁখিজলে, না বুঝে… (প্রবল কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজা)।

রাজবদ্যি: মহারাজ, আপনার যে অসুখ করেছিল, তাতে হাজারে একজন বাঁচে। আর সে বাঁচাও মরারই শামিল। পঙ্গু হয়, নয়তো অঙ্গহানি হয়। তবু তো ওষুধের জোরে আপনার প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক ঠিকই আছে। শুধু চুলটাই যা বিট্রে করল!

রাজা: চুল বিট্রে করল? না তোমার ওষুধ বিট্রে করল? তুমি বুড়ো হয়েছ। তোমায় বাহাত্তরে ধরেছে। তোমাকে রাখতে অনেকেই মানা করেছে। কোনও ইয়াং ডাক্তারকে রাখা উচিত ছিল আমার। তোমাকে চাকরিতে রাখাটাই আমার ভুল। দিতে হল সেই ভুলের মাশুল। ঝরে গেল আমার সাধের চুল।

দৃশ্যান্তর

মঙ্গল: রাজা চন্দ্রকিরণ তালুকদারের মাথার চুল শীতের ঝরাপাতার মতো ঝ’রে পড়ে গেছে। দেশেবিদেশে সর্বত্র এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে হাওয়ার আগে। এদিকে প্রতিবেশী রাজ্য উলুকনগরের রাজার সঙ্গে আমাদের এই সুলুকনগরের রাজার সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। সাপে-নেউলে। তা সেই উলুকনগরের রাজা আমাদের এই রাজা চন্দ্রকিরণের বিপর্যয়ে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা দিয়েছেন। একেবারে মোক্ষম ঘা।

রবি: মোক্ষম ঘা? কীসের মোক্ষম ঘা? কেন?

মঙ্গল: আরে গতবছর। বুঝলে এই গতবছরে রাজাদের মধ্যে যারা পদ্যটদ্য লেখে, তাদের নিয়ে একটা বিশ্বকবি সম্মেলন হল উলুকনগরে। সেই সম্মেলনে পদ্যের মাধ্যমে এক রাজা আরেক রাজাকে ঠেস দিচ্ছে। ডাউন দিয়ে গায়ের জ্বালা মেটাচ্ছে। আর আমাদের রাজার টার্গেট হল আয়োজক উলুকনগরের রাজা ত্রিভঙ্গমুরারী চাকলাদার। রাজা চন্দ্রকিরণ দেখলেন, উলুকনগরের রাজার চুলে অকালে পাক ধরেছে। ব্যস, আমাদের রাজাকে আর পায় কে। তিনি রসিয়ে রসিয়ে ছড়া কাটলেন, ‘হায় প্রজারা রাজার আসল খবর রাখেনি। চুল পেকেছে কিন্তু রাজার বুদ্ধি পাকেনি।’ শুনে তো উলুকনগরের রাজার মুখ একেবারে চুন।

সবাই বলল— কই হে জবাব দাও, জবাব দাও। কিন্তু সে রাজার মুখে আর বাক্যি সরে না। এখন আমাদের রাজার মাথা ফাঁকা গড়ের মাঠ হওয়ার খবর পেয়ে উলুকনগরের সেই রাজা ওই অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছে।

সোম: কী প্রতিশোধ?

মঙ্গল: উলুকনগরের রাজা সেই অপমানের জবাবে লিখে পাঠিয়েছে, বেল পাকলে কাকের কী? আর চুল পাকলে টাকের কী? খামের উপর আবার লিখেছে, হাতে গড়া গরম ছাড়া।

রবি: এ তো সত্যিই মোক্ষম ঘা।

মঙ্গল: মড়ার উপর সেই খাঁড়ার ঘা খেয়ে রাজার আরও দশগুন কান্না বেড়ে গেছে।

সোম: তাই এত কান্না ভেউ ভেউ। যেন সমুদ্দুরের ঢেউ।

দৃশ্যান্তর

রাজা: শোনো রাজবদ্যি, তোমাকে আমি একমাস সময় দিলাম। এই একমাসের মধ্যে তুমি আমার চুল গজানোর ব্যবস্থা করো। নতুন ফর্মুলা বের কর। ওষুধ তৈরি করো।

রাজবদ্যি: চিকিৎসায় আমি রাখিনি কোনও ফাঁক। তবু কেন যে এই অলক্ষুণে টাক! আমি বলি কী যা গেছে তা যাক৷ কোনও কিছুই কি চিরকাল থাকে? ধরে রাখতে পারবেন এই দেহটাকে? হা ঈশ্বর। এই দেহটাই তো নশ্বর। চুল কোন ছার। তবু তো আপনার টাকটাকে রেখে চুল উড়ে গেছে। যদি দেহটাকে রেখে প্রাণপাখিটাই উড়ে যেত?

রাজা: (ভেঙায়) উড়ে যেত? তাহলে নগরকোটাল তোমার মুণ্ডুটাকে নুন মাখিয়ে চিবিয়ে খেত।

রাজবদ্যি: মহারাজ, আপনি মিছিমিছি রাগ করছেন। ধরুন বয়স হলে চোখের দৃষ্টি কমে যায়। দাঁত নড়ে, পড়ে যায়। আর চুলে হয় ধরবে পাক, নয়তো ঝরে হবে টাক।

মেজোরানি: পাক ধরলে কালো মেহেন্দি লাগিয়ে দিতুম, কেউ ধরতেই পারত না।

রাজবদ্যি: আচ্ছা রানিমা, মহারাজের দৃষ্টি ক্ষীণ হলে উনি কি চশমা নেবেন না। দাঁত নড়ে পড়ে গেলে উনি কি দাঁত বাঁধাবেন না? চুল পাকলে রং করাতে আপত্তি নেই যখন, তখন টাকে পরচুলা পরিয়ে দিন না।

রাজা: না না। পরচুলা নয়। নো ভেজাল। নো ভুজুং ভাজুং। আসল চুল চাই আমার। ঘোড়ার ল্যাজের মতো থিকনেস চাই। রাজবদ্যি: (জনান্তিকে) মাথাটা কি ধানের খেত? লাঙল দিলাম, বিচন করলাম, সার দিলাম, অমনি ধানের চারার মতো গজিয়ে উঠবে চুল।

রাজা: কী বিড়বিড় করছ?

রাজবদ্যি: না মহারাজ ফর্মুলার কথা ভাবছি।

রাজা: ভাবো, ভাবো, ভেবে ভেবে ফর্মুলা বের করো। নইলে তোমার গর্দান নেব আমি।

দৃশ্যান্তর

(রাজপ্রাসাদের অন্দরমহল। রাজা বিছানায় বসে বসে অঝোরে কাঁদছে আর মনের দুঃখে শ্যামাসংগীত গাইছে৷)

রাজা: আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরাল, সকলি ফুরায়ে যায় মা… (রাজমাতার প্রবেশ, মাকে দেখে) মা, মাগো, দেখো রাজবদ্যি আমার কী হাল করেছে।

রাজমাতা: মরেছে! ও মা, এ কীগো! কার অভিশাপে ঠাকুর আমার সোনার চাঁদ ছেলের এমন দশা করলে গো ঠাকুর? ওরে তোদের বংশে তো কারও মাথায় টাক ছিল নারে। তবে তোর এমন দশা হল কী করে?

রাজা: (প্রবল কান্নায় ভেঙে পড়ে) ওই রাজবদ্যি মা। সে-ই যত নষ্টের গোড়া।

রাজমাতা: রাজবদ্যি না ঘোড়া। দূর করে দে বজ্জাতটাকে। আমি আর দোষ দেব কাকে? সবই আমার কপালের দোষ। আপশোস করে কী লাভ এখন?

রাজা: মা, মাগো, এ আমার কী হল মা?

রাজমাতা: (রাজার টাকে হাত বোলায়) কাঁদিস নারে বাছা আমার, কাঁদিস না। (রাজা রাজমাতার আঁচলে সর্দি মোছে) ধ্যাৎ, কী নোংরা ছেলেরে বাবা! দিলি তো শাড়িটার বারোটা বাজিয়ে। আজই ভাঙলুম। সর্দি মাখালি তো? ছাড় ছাড়। আঁচল ছাড়।

রাজা: সর্দি নয় মা। সর্দি নয়। জল। নাকের জলে চোখের জলে একাকার। জানো মা? চান করতে গিয়ে আয়নায় দেখি, মাথায় শাওয়ারের জল পড়ে নাচছে তা তা থই থই। সাজানো শ্যাম্পুর শিশিগুলো যেন আমায় বিদ্রুপ করে বলছে, তোর চুল কই? তোর চুল কই? অভ্যেসের বশে চিরুনি নিচ্ছি হাতে আরও কান্না পাচ্ছে তাতে। মা, আমার বাঁচার সাধ নেই মা।

রাজমাতা: ও কথা বলতে নেই বাছা আমার। বুকের পাঁজর, চোখের মণি, সোনার খনি। মাথায় তোর বেসন আর ডিমের পেস্ট বানিয়ে লাগিয়ে দেব কাল থেকে। রাতে সাঁচি পেঁয়াজের রস দেব মাখিয়ে। দেখবি কেমন চুল উঠবে জাঁকিয়ে।

সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের জন্য চাই সুচিন্তিত পরিকল্পনা

“বড়ো হয়ে তুমি কী হতে চাও?”—- এই প্রশ্নটি ছোটোবেলায় সবাই শোনে এবং উত্তর দেয়। কেউ বলে সে মহাকাশচারী হতে চায়, কেউ ডক্টর হতে চায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়, কেউ শিক্ষক হতে চায়, কেউ আবার হতে চায় শিল্পী। তাদের কল্পনার কোনও সীমা নেই কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য অভিভাবকরা সবাই সঠিক ব্যবস্থা করতে পারেন না নানারকম কারণে কিংবা বলা যায় প্রতিবন্ধকতার জন্য। এখন প্রশ্ন, সন্তানের শিক্ষার স্বপ্নগুলি পূরণ করার জন্য অভিভাবকরা কতটা সচেতন? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বন্ধন লাইফ-এর মুখ্য পণ্য ও বিপণন অফিসার মনীশ মিশ্র।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুসারে, ভারতে শিক্ষার খরচ প্রায় প্রতি ছয় বছরে দ্বিগুন হয়ে চলেছে। ভারতের শহরাঞ্চলে সন্তানকে প্রি-স্কুল থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষাদানের জন্য খরচ হতে পারে ৩৮ লক্ষ থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। যদি আপনি কোচিং, গ্যাজেট এবং অন্যান্য চাহিদা অন্তর্ভুক্ত করেন, তাহলে এই অর্থের পরিমাণ ৮৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। আর যদি আপনি আপনার সন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে খরচ আরও বেশি।

আসলে, মা-বাবার ভালোবাসা সন্তানদের স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়, কিন্তু পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতিই সেই স্বপ্নগুলোকে ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করে, এমনকি যখন জীবন অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, তখনও। কিন্তু সন্তানের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নপূরণের জন্য শক্তিশালী উপায় কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, একটি সুপরিকল্পিত জীবন বীমা পলিসির মাধ্যমে সন্তানের উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়।

জীবন বীমা: নিরাপত্তার থেকেও বেশি কিছু

অনেকেই এখনও জীবন বীমাকে কেবল অকাল মৃত্যুতে নির্ভরশীলদের আর্থিক নিরাপত্তার উপায় হিসেবে ভাবেন। কিন্তু আজকের বীমা পরিকল্পনাগুলি বিকশিত হয়েছে। শুধু আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে, যা আপনার সন্তানের শিক্ষাগত লক্ষ্যে অর্থায়নের জন্য নিখুঁত। তা সে স্কুল ফি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, অথবা একটি পেশাদার কোর্স যাই হোক না কেন, শিশু-কেন্দ্রীক বীমা পরিকল্পনা আপনাকে একটি নিরাপদ আর্থিক সহায়তা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে, যা নিশ্চিত করে যে, আপনার সন্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়ে কখনওই আপস করা হবে না।

সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা

  • নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা: আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত
  • লক্ষ্য-ভিত্তিক সঞ্চয়: পরিকল্পনাগুলি আপনাকে ভবিষ্যতের শিক্ষাগত মাইলফলকগুলির সঙ্গে ট্র্যাকে থাকতে সাহায্য করে
  • ট্যাক্স: ধারা 80C-এর (পুরাতন কর ব্যবস্থা) অধীনে প্রিমিয়ামগুলি ছাড়ের জন্য যোগ্য এবং মেয়াদপূর্তির সুবিধাগুলি সাধারণত করমুক্ত (যদি কিছু শর্ত পূরণ করা হয়)
  • জরুরি সহায়তা: অনেক পরিকল্পনা জরুরি প্রয়োজনের জন্য ঋণ নেওয়ার সুবিধা প্রদান করে।

সঠিক পরিকল্পনা

  • Endowment Plans:

যারা নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য আদর্শ, এই পরিকল্পনাগুলি মেয়াদোত্তীর্ণতার সময় নিশ্চিত রিটার্ন প্রদান করে। বাজারের ওঠানামা সম্পর্কে চিন্তা না করেই যদি আপনি একটি নিরাপদ শিক্ষা তহবিল তৈরি করতে চান, তবে এগুলি নিখুঁত।

  • ইউনিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স পরিকল্পনা (ULIP):

যাদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি, তাদের জন্য, ULIPগুলি আপনার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বাজারে বিনিয়োগ করে, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাব্য উচ্চতর রিটার্ন প্রদান করে। আগেভাগে পরিকল্পনা করলে এগুলি সবচেয়ে ভালো কাজ করে, আপনার বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সময় দেয়।

  • সঞ্চয় পরিকল্পনা:

এগুলি লাইফ কভার এবং কাঠামোগত সঞ্চয়কে (structured savings)একত্রিত করে। স্কুল-এ ভর্তি কিংবা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানের সময় নির্ধারণ করা হয়, যা আপনাকে প্রয়োজনের সময় ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে।

শিক্ষা পরিকল্পনার জন্য জীবন বীমা কেন এত ভালো কাজ করে?

জীবন বীমা মানসিক প্রশান্তির চেয়েও বেশি কিছু প্রদান করে, কারণ, এটি আপনার যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখন ব্যবহারিক, কাঠামোগত সহায়তা প্রদান করে। অনেক পরিকল্পনা স্কুল, কলেজ কিংবা উচ্চশিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগত ক্ষেত্রে গ্যারান্টিযুক্ত অর্থ প্রদানের সঙ্গে আসে, যা আপনাকে শেষ মুহূর্তের আর্থিক চাপ এড়াতে সাহায্য করে। পিতামাতার অকাল মৃত্যুতে, বেশিরভাগ পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের প্রিমিয়াম মুক্ত হতে সাহায্য করে, যাতে আপনার সন্তানের সুবিধাগুলি কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকে। আপনি বাজার-সংযুক্ত বৃদ্ধির জন্য একটি ULIP কিংবা একটি গ্যারান্টিযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নিন, আপনি সুরক্ষা এবং সম্পদ সৃষ্টির দ্বৈত সুবিধা উপভোগ করুন এবং একইসঙ্গে আপনার সন্তানের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকুন।

আপনার সন্তানের স্বপ্ন এবং আপনার আর্থিক সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন একটি পরিকল্পনা খুঁজে পেতে একজন বিশ্বস্ত আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।

সেরা উপহার

যারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসেন এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিদিন লালন করেন, তাদের নিরাপত্তা এবং সাফল্যের জন্য উপহার দেওয়াও সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে একটি সুচিন্তিত বীমা পরিকল্পনা হয়তো আপনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে।

রাজার চোখে জল (পর্ব-০১)

(রাজবাড়িতে ঢাক-ঢোল, কাঁসরঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি বাজছে। চণ্ডীপাঠ, স্তোত্রপাঠের কণ্ঠস্বর ভেসে আসছে। শব্দ জোরালো হতে হতে ফেড আউট হয়ে যায়। এবার জোরালো কান্নার শব্দ ভেসে আসে। ধীরে ধীরে সেই কান্নার শব্দও ফেড আউট হয়ে যায়। মঞ্চে আলো পড়ে। তিনজন নাচের তালে তালে এগিয়ে এসে গান ধরে)।

গান—

রাজার চোখ কেন ছলছল? রাজা কাঁদছে কেন বল…. রাজার দু’চোখ ভেসে যায় ও চোখে জল কি শোভা পায়! কাঁদছে রাজা, কাঁদছে শয়নে, বান এল ওই রাজার নয়নে, রাজার এত দুঃখ কীসের বল… রাজার কেন কান্নাই সম্বল!

রাজার চোখে জল

কেন ঝরছে অনর্গল?

কান্না শুনে তিন রানিমার

মন হল চঞ্চল

কাঁদছে রাজা,

কাঁদছে কেন বল…

রবি: চোখের জল, কান্না এসব তো গরিবগুর্বো প্রজাদেরই মনোপলি। তা সেই গরিবদের একচেটিয়া অধিকারে রাজার হস্তক্ষেপ! এ তো ভালো কথা নয়।

সোম: ভালো কথা নয়ই তো। তাছাড়া রাজারা তো চিরকাল কাঁদিয়েই এসেছে। সেইটেই তো স্বাভাবিক। সত্যিই তো ক্রন্দন বিষয়টিতে তো প্রজাদেরই একচেটিয়া অধিকার। সেখানে স্বয়ং রাজা কাঁদছে, এ তো ভালো কথা নয়। কিন্তু, কথা হল গিয়ে রাজার এরকম ভেউ ভেউ করে কেঁদে এমন অস্বাভাবিক আচরণ ও অনধিকার চর্চার কারণ কী?

মঙ্গল: কারণ, রাজা শোক পেয়েছে। বড়ো শোক পেয়েছে রে। শোক সইতে পারছে না। তাই কাঁদছে।

রবি: শোক পেয়েছে? তা শোক পেলে কাঁদবে কেন? রাজারা তো শোক পেলে কাঁপা কাঁপা গলায় লেকচার দেয়। তাই তো দেখে এসেছি। খামোখা কাঁদে কেন?

মঙ্গল: আরে এ তো আর যুদ্ধে মৃত বীর শহীদদের উদ্দেশ্যে শোক নয়। আবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মৃতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেবারও শোক নয়। খরায় পোড়া বা বানভাসি দুর্গতদের প্রতি শোকজ্ঞাপনও নয়।

রবি: তবে কি রাজার ঘোড়া ম’লো?

মঙ্গল: ঘোড়া কেন? রাজার বাপ, দাদা, ভাই, বোন, মা, ঠাকমা— কেউ মলেই এমন মরাকান্না কাঁদে না। শোকে পাথর হয়ে গেছে এমন ভাব করে। তবু যদি প্রোটোকল ভেঙে কোনও কোনও রাজা কেঁদেও ফেলে, সে কান্না এত লাস্টিংও করে না। হাসিচাপা কান্না কিনা। সম্পত্তির উত্তরাধিকার যত কমে, রাজার ততই পোয়াবারো। অবশ্য পুত্রশোকে কোনও কোনও রাজা সত্যিই কাঁদে। সোম: তা এই রাজার তো পুত্তুরই নেই। সুতরাং এখানে তো পুত্রশোকের প্রশ্নই নেই।

রবি: তবে কীসের শোক? বলছ যখন খুলেই বলো না। ঝেড়েই কাশো না হে মঙ্গল।

মঙ্গল: রাজা কাঁদছে চুলের শোকে।

রবি: চুলের শোকে!

সোম: সেটা কেমন?

মঙ্গল: রাজার তো জ্বরই সারছিল না। পাক্কা দু’মাস ভুগল রাজা। যমে মানুষে টানাটানি চলছে। রাজার একহাত ধরে টানছে যম। আর এক হাত ধরে টানছে রাজবদ্যি। কবরেজ দিনরাত নানা ধরনের ওষুধ গুলে গুলে রাজাকে খাওয়াচ্ছে। জ্বর কিছুতেই সারে না। কপালে জলপট্টি দিতে দিতে তিন রানির হাতে হাজা হওয়ার উপক্রম হল। তবু জ্বরের নট নড়নচড়ন। শেষে রাজবদ্যি এমন কড়া দাওয়াই চার্জ করল যে, জ্বর তো বাপ-রে মা-রে বলে পালাল। তবে পালানোর সময় মাটি থেকে দু’হাতে ঘাস ছেঁড়ার মতো করে রাজার মাথার চুল সব টেনে তুলে নিয়ে গেছে।

রবি: তার মানে?

সোম: সেটা কেমন?

মঙ্গল: মানে রাজবদ্যি এমন কড়া দাওয়াই দিয়েছে, তাতে জ্বর তো সেরেছে বিলক্ষণ। কিন্তু কুলক্ষণ হল এই যে, রাজার মাথার চুল সব ঝরে পড়ে ময়দান একেবারে ফাঁকা। এবার জ্বরের ঘোর কাটার পরে নিজের মাথায় হাত বোলাতে গিয়ে তারপর আয়না দেখে সে এক বীভৎস কাণ্ড। রাজার সে কী গলাফাটানো চিৎকার!

দৃশ্যান্তর

রাজা: একি! আমার মাথায় কে ফুটবলের ব্লাডার সেঁটে রেখেছে? খোলো খোলো। শিগগির খোলো এটাকে। (বিছানায় উঠে বসেছে রাজা। পাশে থতমত, ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজবদ্যি। মেজোরানি ও ছোটোরানি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। বড়োরানি রাজার বুকে হাত বোলাচ্ছে। সান্ত্বনা দিচ্ছে। রাজাকে থামাবার চেষ্টা করছে)।

রাজা: রাজবদ্যি, চুপ করে দাঁড়িয়ে আছো কেন? আমার মাথা থেকে এই ফুটবলের ব্লাডারটা টেনে খোলো।

রাজবদ্যি: আজ্ঞে, ওটা তো খোলার নয়। ওটা যে খুলি। ওটা কী করে খুলি?

রাজা: কী করে খুলবে মানে? যেভাবে বসিয়েছ, সেভাবেই টেনে খোলো।

রাজবদ্যি: আজ্ঞে মহারাজ, ওটা টেনে খোলার অসুবিধে আছে।

রাজা: অসুবিধে? কীসের অসুবিধে?

রাজবদ্যি: আজ্ঞে, ওটা তো ফুটবলের ব্লাডার নয়। লোকে বলে ওটা টাক।

রাজা: টাক!

রাজবদ্যি: লোকে তাই বলে। তবে আমি বলব, ওটা টাক না। ওটা আপনার মাথার ঘিলুর ঢাকনা। ওটা যেমন আছে থাক না।

রাজা: মাথার ঘিলুর ঢাকনা? টাক না?

বড়োরানি: (রাজার বুকে হাত বোলাচ্ছে) ওগো, তোমার শরীর দুর্বল। এখন ও প্রসঙ্গ থাক না।

রাজা: থাকবে মানে কী? অ্যাঁ? থাকবে মানে কী? (ফের হাতের আয়না মুখের সামনে ধরে) ছ্যা ছ্যা ছ্যা। এ তো রাজবদ্যি আমার সাড়ে সর্বনাশ করে ছেড়েছে। দু-মাসের জ্বরে চুল সব ঝরে গিয়ে মাথা একেবারে ফাঁকা! এত্ত বড়ো পেল্লাই টাক! আর তুমি কিনা বলছ, ও প্রসঙ্গ থাক! এ তো আমি নিজেকে নিজেই চিনতে পারছি না গো রানি। এই কুৎসিত চেহারা নিয়ে রাজ দরবারে গেলে হবে আমার সম্মানহানি। (ভেউ ভেউ করে কাঁদতে শুরু করে রাজা)

বড়োরানি: ওগো, তুমি কেঁদো না। চুপ করো। তোমার শরীর দুর্বল।

রাজা: (তীব্র স্বরে কাঁদে) চুপ করব কীগো রানি? আমার কী চুল ছিল আমি জানি। আমার তো বিষ খেয়ে মরতে ইচ্ছে করছে। একি! এ তো আমার একপাটি দাঁতও দেখছি নড়ছে। হারামজাদা রাজবদ্যি আমি তোমার গর্দান নেব। ফাঁসির হুকুম দেব।

রাজবদ্যি: (স্বগতোক্তি) রাজবদ্যিকে হারামজাদা! অসম্মানজনক উক্তি। নেই মিনিমাম রেসপেক্ট!

জমিয়ে খান ডাল-কড়ি এবং ডাল-পনির

ছুটির দিনের আড্ডায় মেতে উঠুন আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে আর ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে খান সুস্বাদু ছোলার ডাল-কড়ি এবং ডাল-পনির। রইল রেসিপিজ।

ছোলার ডাল-কড়ি

উপকরণ: ১ কাপ ছোলার ডাল, ১ কাপ টক দই, আধা কাপ বেসন, ১ চামচ আদার টুকরো, ২ চামচ কাঁচালংকার টুকরো, ১ চামচ মেথিদানা, ধনেপাতাকুচি সামান্য পরিমাণে, এক চিমটে হিং, আধা চামচ হলুদগুঁড়ো, আধা চামচ জিরেগুঁড়ো, আধা চামচ লাল লংকার গুঁড়ো, ২ চামচ তেল এবং নুন স্বাদমতো।

পদ্ধতি: দই, বেসন, হলুদ এবং নুন মিশিয়ে ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন। উপযুক্ত পরিমাণ জল দিয়ে ঘোল মতো তৈরি করুন। প্রেশারকুকার আঁচে বসিয়ে তেল ঢালুন। তেল গরম হলে তার মধ্যে মেথিদানা, হিং এবং আদার টুকরো দিয়ে ভাজুন। লাল লাল ভাজা হয়ে গেলে দই-বেসনের ঘোল মেশান এবং ওর মধ্যে ভেজানো ছোলার ডাল আর কাঁচালংকার টুকরো মিশিয়ে হালকা আঁচে ফোটাতে থাকুন। ছোলার ডাল গলে ভালোমতো গাঢ় হয়ে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। এর উপর যে-কোনও বড়ি ভেজে মিশিয়ে দিন। এবার আলাদা একটা পাত্রে সামান্য তেল গরম করে, ওর মধ্যে জিরেগুঁড়ো আর সামান্য লাল লংকার গুঁড়ো গরম করে তৈরি হওয়া ছোলার ডাল-কড়িতে ঢেলে দিন। সবশেষে ধনেপাতার কুচি ছড়িয়ে দিয়ে গরমগরম পরিবেশন করুন।

ডাল-পনির

উপকরণ: ১ কাপ ছোলার ডাল, ১০০ গ্রাম পনির, ১ চামচ আদাকুচি, ১ চামচ কাঁচালংকার কুচি, ২ চামচ টম্যাটো পেস্ট, ২ চামচ পেঁয়াজবাটা, ১ চামচ লেবুর রস, ১ চামচ গোটা জিরে, ১ চামচ ধনেগুঁড়ো, সামান্য কালোজিরে, ৩-৪টি লবঙ্গ, আধা চামচ হলুদগুঁড়ো, আধা চামচ লাল লংকার গুঁড়ো, আধা চামচ পাঁচফোড়ন, আধা চামচ আমচুর, আধা চামচ গরমমশলা, ১ চামচ ঘি এবং নুন স্বাদমতো।

পদ্ধতি: প্রথমে ছোলার ডাল ভিজিয়ে রাখুন ৩-৪ ঘন্টা। পনির ছোটো ছোটো টুকরো করে কেটে এবং ভেজে রাখুন। ভেজানো ডাল প্রেসারকুকার-এ ভালো ভাবে সেদ্ধ করে নিন নুন এবং হলুদ পরিমাণ মতো দিয়ে। এরপর কড়াইতে তেল গরম করে, ওর মধ্যে জিরে, কালোজিরে, পাঁচফোড়ন এবং কাঁচা লংকার কুচি দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। ওর মধ্যে পেঁয়াজের পেস্ট মিশিয়ে ভাজুন। এরপর ধনেগুঁড়ো, লাল লংকার গুঁড়ো, টম্যাটো এবং আমচুর মিশিয়ে ভাজতে থাকুন লাল না হওয়া পর্যন্ত। এবার সেদ্ধ করা ডাল ঢেলে হালকা আঁচে কিছুক্ষণ রাঁধুন। মাখোমাখো হয়ে এলে ভাজা পনিরের টুকরো মিশিয়ে নিন এবং সবশেষে লেবুর রস এবং গরমমশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন রুটি কিংবা ভাতের সঙ্গে।

বসন্ত উৎসবকে বর্ণময় রূপ দিলেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়

এবারের বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে পয়লা মার্চ ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণটি বর্ণময় রূপ নিয়েছিল নাচে, গানে এবং কথায়। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে, ভারতীয় জাদুঘর, ‘প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘দীক্ষা মঞ্জরী’ আয়োজিত বসন্ত উৎসবের বর্ণময় এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করলেন শিল্পপ্রেমী সাধারণ মানুষ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এই উৎসবে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর ওড়িশি নৃত্য প্রতিষ্ঠান ‘দীক্ষা মঞ্জরি’-র কৃতী ছাত্রছাত্রীরা নৃত্য পরিবেশন করে বসন্তের চেতনাকে সুন্দর ভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন। তাই বলা যায়, ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য-পরিকল্পনা ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক প্রাঙ্গণটিকে নৃত্যে ছন্দময় রূপ দিয়েছিল। সেইসঙ্গে, আনন্দ গুপ্ত-র পরিচালনায় রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর।

অনুষ্ঠানের অবসরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বসন্ত নবায়ন, আশা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। বসন্ত উৎসবের মাধ্যমে আমরা কেবল ঋতুর সৌন্দর্যই নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাও উদযাপন করি। আমার ছাত্রছাত্রীরা আন্তরিকতা এবং আবেগের সঙ্গে ওড়িশি নৃত্যের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতীয় জাদুঘরের মতো ঐতিহাসিক স্থানে নৃত্য পরিবেশনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ঐতিহ্য সর্বদা জীবন্ত এবং বিকশিত হওয়া আবশ্যক।”

‘জয় হো’ থেকে শুরু করে ‘ওরে গৃহবাসি’ গানে-নাচে জমজমাট ছিল এই বসন্ত উৎসব। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিচালনা, আনন্দ গুপ্ত এবং দক্ষিণায়ন ইউকে-র শিল্পীদের রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিতে অন্য মাত্রা যোগ করেছিল।

এবার বসন্ত উৎসব উপলক্ষ্যে কলকাতা শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে এই অনুষ্ঠানটি সত্যিই সেরা অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল বলা যায়। কারণ, ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই বসন্ত উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেছেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়-এর ‘দীক্ষা মঞ্জরি’-র পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। বাংলার দোলের আর অন্যান্য প্রদেশের হোলির গানে-নাচে আর আবিরের রঙে ভরে উঠেছিল ভারতীয় জাদুঘরের প্রাঙ্গণ।

দোলের আগে প্রায় ২০ বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে। কয়েক বছর ধরে কলকাতার জাদুঘরের সঙ্গে যৌথ ভাবে বসন্ত উৎসব পালন করা হয় এই হেরিটেজ স্পেসে। এই প্রসঙ্গে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এখন অনেক ছাত্রছাত্রী, তাই  বাড়িতে জায়গা হয় না। ভাললাগে অনেক গুণী মানুষ ভারতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এই রঙের  অনুষ্ঠানে সমবেত হন। বাড়ির অনুষ্ঠান বড়ো হতে হতে এখন এই জায়গায় এসেছে। নাচ, গানের মাঝে আবির মাখতে ভালোই লাগে। এখানে অনেক স্কুল থেকে পড়ুয়ারা ঘুরতে আসে। আগে একটা ওয়ার্কশপ করা হয়। এতে খুব খুশি হয়ে সবাই অংশগ্রহণ করেন।”

প্রসঙ্গত আনন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, “আমাদের সংস্থার সঙ্গে দীক্ষা মঞ্জরি-র বেশ কিছু প্রোডাকশন-এর কাজ আগে হলেও, বসন্ত উৎসবে এই প্রথম যোগদান। একসঙ্গে এত নৃত্যশিল্পী, বিশেষকরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে পেরে আমার বেশ ভালো লাগছে।”

রং-এর উৎসবে সেরা পানীয়

আত্মীয়-বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠুন রং-এর খেলায় আর জমিয়ে পান করুন দই-বাদামের শরবত এবং স্টবেরি স্মুদি। রইল রেসিপিজ।

শুধু রং খেললেই তো আর রং-এর উৎসব সম্পূর্ণ হয় না, সঙ্গে চাই ভালো পানীয়। রং-এর উৎসব উপলক্ষ্যে রইল তেমনই কিছু রেসিপি।

দই-বাদামের শরবত

উপকরণ: ১ বড়ো চামচ ঘি, ১ কাপ দই, ২ চামচ মিল্ক পাউডার, ২ চামচ বাদাম পাউডার, বড়ো এলাচের দানা, পেস্তার টুকরো ২ চামচ, ১ চামচ গুড়, দেড় কাপ জল এবং এক চিমটে নুন।

পদ্ধতি: একটা গভীর তলযুক্ত পাত্রে ঘি গরম করুন। ঘি গরম হলে ওর মধ্যে দই দিয়ে হালকা আঁচে ১ মিনিট ফোটান। এরপর বাদাম পাউডারের গুঁড়ো মিশিয়ে জল ঢালুন। জল ঢালা হয়ে গেলে হালকা আঁচে নাড়াচাড়া করতে করতে সামান্য সময় ফোটাতে থাকুন। এরপর মিল্ক পাউডার মিশিয়ে নিন এবং বড়ো এলাচের দানা নিন। এবার এক চিমটে নুন এবং গুড় মিশিয়ে নামিয়ে রাখুন আঁচ থেকে। ঠান্ডা হলে মিক্সিতে ফেটিয়ে নিন এবং সুন্দর কাচের গেলাসে ঢেলে, উপরে পেস্তা বাদামের টুকরো ছড়িয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।

স্ট্রবেরি স্মুদি

মূল উপকরণ: এক কাপ স্ট্রবেরির টুকরো, ২ কাপ ফেটানো দই, ১ কাপ দুধ, ৬-৭টি পেস্তার টুকরো এবং ২ চামচ মধু। লেয়ারিং-এর উপকরণ: আধা কাপ খোসা ছাড়ানো তিল ভিজিয়ে রাখুন এবং ভাজা ভুট্টার গুঁড়ো।

গার্নিশিং-এর উপকরণ: ২ চামচ পেস্তা বাদামের টুকরো এবং সামান্য পুদিনাপাতা৷

স্মুদি তৈরির পদ্ধতি: স্ট্রবেরি, দুধ এবং দই ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন মিক্সারে। এরপর দুটো কাচের গেলাস নিন। লেয়ারিং-এর পদ্ধতি: প্রথমে ভাজা ভুট্টার গুঁড়ো ঢালুন গেলাসে। এরপর স্ট্রবেরি, দুধ, দইয়ের মিক্সচার ঢালুন সামান্য পরিমাণে। এবার দিন ভেজানো তিল। এর উপর আবার ঢালুন দুধ, দই এবং স্ট্রবেরির মিশ্রণ। এবার উপরে ছড়িয়ে দিন পেস্তা বাদামের টুকরো এবং পুদিনাপাতা। ব্যস স্মুদি তৈরি, এবার ট্রে-তে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

তমসারেখা (শেষ পর্ব)

পরদিন আমরা হালকা ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়লাম। অভিদা আফটারনুন সেশনে অফিস থেকে সরাসরি এসে জয়েন করবে। বেনাচিতি মার্কেটে দু’বার ফুচকা খেয়ে ফুটপাত ধরে হাঁটছি আর হা হা করে হাসছি। হঠাৎ অভিদার গাড়ি ঘ্যাঁচ করে ব্লেক মেরে দাঁড়িয়ে গেল। ড্রাইভার নেমে আমাদের হাত থেকে প্যাকেটগুলো নিয়ে ডিকিতে রাখল। আমরা হুড়মুড় করে পিছনের সিটে বসে গেলাম। গাড়ি বেশ কিছুটা গিয়ে একটা সুন্দর পার্কের সামনে থামল। নেমে দেখি একটা নামি রেস্তোরাঁ। সবাই হই হই করে ভিতরে ঢুকলাম। ওরা দুই বোন ওয়াশরুমে গেলে, অভিদা আমায় দেখাল, একটা রাস্তা সোজা বিশাল শপিং মলে মিট করেছে। সেখানে সব চোখধাঁধানো শোরুম। অভিদা ফিসফিস করে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলল, ‘সারপ্রাইজ আছে।”

জমিয়ে মোগলাই লাঞ্চ সেরে আমরা শপিং মলে ঢুকলাম। এবার অভিদা হাটে হাঁড়ি ভেঙে বলল, ‘আমি আমার সুন্দরী স্ত্রী-কে একটি হিরের সেট প্রজেন্ট করব। তোমরা সেটা পছন্দ করে দেবে।’ টাপুর আর আমি লাফিয়ে উঠলাম। টুপুর কিন্তু একদম উলটো সুর গাইল। বলল, ‘কী দরকার অভি, এত খরচ করে দামি গিফট দেবার; সত্যিই চাই না।’

টাপুর বলল, ‘দেখলি বস; বর দিতে চাইছে বউ নিচ্ছে না। ওহ, পুরো কেস জন্ডিস!”

দোকানে ঢোকামাত্র কোক-এর গেলাস এগিয়ে ধরল নীল বসনা এক সুন্দরী। ম্যানেজার সায়ন্তিকা এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করল অভিদার সঙ্গে। ওরা সবাই পূর্ব পরিচিত। কারণ অভিদা বিয়ের সব গয়না এখান থেকেই কিনেছিল, তাই খুব খাতির। আমার আবার গয়না-গাটিতে বিশেষ আকর্ষণ নেই। কিছুক্ষণ দেখে আমি সোফায় বসে কোকে সিপ দিয়ে ম্যাগাজিনের পাতা ওলটাতে লাগলাম।

আমি জরিপ করছি ম্যানেজার মেয়েটি ভাবছে তার টার্গেট রিচ করতে হলে এই ‘মেড ফর ইচ আদার’ কাপলকে বধ করতেই হবে। নামতার মতোন বিভিন্ন ডিসকাউন্টের টোপ এগিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে টাপুর আমার দিকে কটমট করে তাকাচ্ছে। অবশেষে মিয়া-বিবির পছন্দ হল একটা সেট। অপূর্ব সুন্দর পেন্ডেন্ট আর ম্যাচিং কানের দুল। পেন্ডেন্টের মাঝখানে একটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো ছোট্ট নীলা, যার চারপাশ হীরককুচি শোভিত। পুরো সেটটা পরে টুপুর-কে ঠিক পরীর মতো লাগছিল। আমি আবার যথাস্থানে গা হেলিয়ে দিলাম। মনে মনে ওই ম্যানেজারের তারিফ না করে পারলাম না। অভিদা ক্লিন বোল্ড। টাপুর টুপুর দু’জনেই ফিল্ডিং করে অভিদা কে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু যে হারবে ঠিক করে আছে, তাকে কে বাঁচায় !

ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছুঁতে চলল, আমি গার্জেনের মতো তাড়া লাগিয়ে ওয়াশরুম ঘুরে এসে কাউন্টারে ওদের কাউকে দেখতে পেলাম না। একটু পরে টাপুর ছুটে এসে বলল, “টুষ্কা তোর কাছে ক্যাশ হবে? প্রচুর টাকার বিল হয়েছে। এই মুহূর্তে এত ফান্ড নেই অভিদার৷’ বললাম, “আইটেম কমিয়ে দে, বিল হুহু করে নেমে যাবে।” তাকিয়ে দেখি টাপুরের চোখভর্তি জল।

টাপুর নিচু স্বরে বলল, “ওরা বলছে টুপুর ওই সেটটা ছাড়া আরও একটা ব্রেসলেট নিয়েছে।’ শুনে আমার মাথাটা চোঁ করে একটা চক্কর দিয়ে উঠল। কোনও মতে সামলে ফ্লোর ম্যানেজারের ঘরে ছুটলাম। গিয়ে দেখি টুপুর সিদ্ধের শাড়ির আঁচলের কোনা কামড়ে প্রায় ছিঁড়ে ফেলেছে। অভিদা প্রাণপণে বোঝাচ্ছে, “বিশ্বাস করুন ম্যাম, আমার মিসেস এমন কাজ করতেই পারে না, নেভার। নিশ্চিত ভুল হচ্ছে।’’

অভিদার কাছে গিয়ে বললাম, “তুমি আমার কার্ডটা ইউজ করো।’ তখনই সেই টার্গেট ফিক্স করা ম্যানেজার প্যাঁচার মতো মুখ করে বলল, ‘উইথ অল রেসপেক্ট স্যার, এতক্ষণ কনসিডার করেছি। প্লিজ লুক থ্রু দ্য ভিডিও ফুটেজ অ্যান্ড সি ইট থরোলি।”

ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, টাপুর আমার কাছে এসেছে, আমরা কথা বলছি। অভিদা ফোনে ক্যালকুলেট করছে আর টুপুর কোনওদিকে না তাকিয়ে ব্রেসলেটটা ওর হ্যান্ড ব্যাগে ভরে ফেলল। সেই দৃশ্য দেখে অবাক বিস্ময়ে অভিদা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে ধপাস করে চেয়ারে বসে পড়ল। ততক্ষণে দু’জন লেডি সিকিউরিটি চলে এসেছে। তাই দেখে ঘাবড়ে গিয়ে টাপুর ম্যানেজার-সহ সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করল, “প্লিজ পার্ডেন অ্যাজ মাই সিস্টার ইজ আ ক্লেপ্টোম্যানিয়াক পেশেন্ট। শি ইজ আন্ডার ট্রিটমেন্ট।’’

এটা শুনে অভিদা চিৎকার করে বলল, ‘হোয়াট?’

টুপুরের কেমন একটা হিস্টিরিয়া অ্যাটাক হল যেন। ও ছুটে গিয়ে অভিদার পা জড়িয়ে ধরল। অভিদা ‘না না’ বলে টুপুরকে তুলে দাঁড় করিয়ে গালে হাত বুলিয়ে চুল সরিয়ে দিয়ে বলল, ‘এদের তিনজনকে এখানে রেখে দিন আর আমার সঙ্গে একজন চলুন। আমি আমার অন্য কার্ড নিয়ে এসে পেমেন্ট ক্লিয়ার করে, ওদের নিয়ে যাব।” বলে আর দাঁড়াল না, গটগট করে বেরিয়ে গেল। আমি ছুটে গেলাম। “প্লিজ অভিদা ইউ ক্যান ইউজ মাই কার্ড প্লিজ।’ অভিদা আমার হাত ধরে ফিসফিস করে বলল, “সারপ্রাইজ টুঙ্কা, রিয়েলি সারপ্রাইজ ফর মি!’

প্রায় দু-ঘণ্টা হতে চলল অভিদা আসছে না, কত রাত হয়ে গেল। ফোন নটরিচেবল শুনতে শুনতে হয়রান। টুপুর-কে আর আটকে রাখা যাচ্ছে না, পাগলের মতো করছে। লেডি সিকিউরিটিকে অনুরোধ করায় তারা তৎপর হয়ে, যিনি সঙ্গে গেছেন তাকে ফোন করলেন। আরও মিনিট চল্লিশেক পর একটা পুলিশের জিপ এল। ওসি আমাদের কাছে এসে অভিদার নাম বলায় আমরা ঘাড় নাড়তেই বললেন, ‘জিপে উঠুন।’ বললাম, ‘হোয়াই? হোয়াট হ্যাপেন্ড অফিসার?’

উনি তাচ্ছিল্য ভরে তাকিয়ে বললেন, “গিয়েই দেখতে পাবেন। কাম অন লেডিস, হ্যারিয়াপ।’ আমি বললাম, ‘ওয়েট আ মিনিট অফিসার।’ ম্যানেজার সায়ন্তিকা-কে চিবিয়ে বললাম, “আই ওয়ান্ট টু পে দ্য ডিউ অ্যামাউন্ট ইমিডিয়েটলি, প্লিজ প্রসিড।”

আমি কোথাও গেলে এখনও বাবা টুক করে নিজের এটিএম কার্ডটা আমায় দিয়ে দেয়। সেই বাবার কার্ডটা দিয়ে আমি ডিউ পেমেন্ট অল ক্লিয়ার করে গাড়িতে উঠে বসলাম। সারাটা রাস্তা অভিদার ‘সারপ্রাইজ’ কথাটা কানে বাজতে লাগল। কে কাকে সারপ্রইজ দিল!

বাংলোয় পৌঁছে দেখি, সবদিকে লাইট জ্বালানো। অনেক লোকজন জমা হয়েছে। মিত্র দম্পতি আরও অনেকে। টুপুর নেমেই ছুটতে শুরু করেছে। আমরাও পিছন পিছন দৌড়ে ড্রইংরুম পার করে ওদের বেডরুমে ঢুকে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে টুপুরের দোপাট্টা দিয়ে অভিদার ঝুলন্ত দেহ হালকা দুলছে। বিছানার উপর সাইড টেবিল ব্যবহার করে ঝুলছে, তাই কোনও শব্দ হয়নি। আমি আর টাপুর আর্তনাদ করে উঠলাম— ‘অভিদা’। টুপুর একদম পাথর হয়ে গেল।

বাবা, মা, সেন কাকু-কাকি প্রায় ভোরের দিকে এসে পৌঁছোল। টুপুর শুধু একটা কথা বলছে, ‘কেন? কেন? কেন বলতে দিলে না মা ওকে? ও যে আমায় ভীষণ ভালোবাসত! খুব ভালোবাসত মা…! অ-ভি-গো অভি, ক্ষমা করো।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব