কেক (পর্ব-০৩)

সোনালি আর দাঁড়ায়নি। একছুটে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গিয়েছিল। সারারাত কেঁদে কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিল। বেশ কিছুদিন ঝুনুদির দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারেনি। ঝুনুদির রাগ হওয়া স্বাভাবিক। অন্ধকার ছাদে প্রায়ই ঝুনুদি আর পার্থদার মধ্যে একটা নিষিদ্ধ খেলা চলত। ঝুনুদি ইশারা করলেই পার্থদা ছাদ ডিঙিয়ে তাদের ছাদে চলে আসত। ব্যাপারটা সোনালি ছাড়া কেউ জানত না। একদিন গরমের সন্ধেতে গা ধুয়ে সে ছাদে উঠেছিল, পার্থদা হয়তো ভুল করেই তাকে ঝুনুদি ভেবে এপাশে চলে এসেছিল। তারপর জাপটে ধরে…

এখনও সোনালির সারা শরীর বিবশ হয়ে ওঠে। সেই পার্থদা, যাকে সবাই ভালো ছেলে বলে জানত, সে কিনা নিজের দোষ ঢাকার জন্য ক্লাস নাইনের একটা মেয়ের উপর কাপুরুষের মতো সব দোষ চাপিয়ে দিল? খুব রাগ হয়েছিল সেদিন সোনালির। কিন্তু পরে বুঝেছে এ ছাড়া ঝুনুদির কাছে বাঁচার উপায় ছিল না। মনে মনে পার্থদাকে সে ক্ষমাই করে দিয়েছে।

এইসময় কে আবার ফোন করল? কলিগ অহনাদি। ‘অফিসে কেউ কিছু বলছিল নাকি? বসকে যাব না জানাতে যা একখানা এক্সপ্রেশন দিলেন, সামনে না থাকলেও বুঝতে পেরেছি।”

অহনাদি দু’দিন আসেনি। সোনালি খবর নেবে ভেবেছিল কিন্তু ভুলে গেছে একদম।

—না, না কে আবার কী বলবে! তোমার ছুটি তুমি নিয়েছ। আসছ না কেন? শরীর ঠিক আছে তো?

—আর বলিস না, আমি কি তোর মতো ভাগ্য করে এসেছি! ননদের মেয়ের শখ হয়েছে পুজোর শপিং কলকাতায় করবে, অতএব ওরা তিনজন তো এসেইছে সঙ্গে আবার আমার শাশুড়ি ঠাকরুণ হাজির। সবার সেবা করে মাজা টনটন করছে রে। একটু কষ্ট হচ্ছে ঠিকই তবে সবাই মিলে শপিং, বাইরে খেতে যাবার মজাই আলাদা। ওটুকু কষ্ট তাই মানিয়ে নিচ্ছি। যাইহোক কাল অফিস যাব। টিফিন আনিস না, আমি নিয়ে যাব।

ওদের কথায় সুখ উপচে পড়ে, নাই বা হল নিজের সুখ। এই ঢেউয়ে ভিজতে সোনালির ভালোই লাগে। সোনালি একা মানুষ, তার একলা জগত, বারান্দার গাছ, ঘর ভর্তি বই তার সঙ্গী- – এসব নিয়েই সে ভরে আছে। অন্যকে হিংসা করার মতো নীচতাকে স্থান দেবার মতো সময় তার নেই।

রাত্রে ওটসের বাটিতে গরম দুধ ঢেলে মধু মেশাল, উপর থেকে এক চামচ মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস ছড়িয়ে দিল। অনেকদিন থেকেই ভাবছে রাত্রের খাবারটা লিকুইডে সারবে, কিন্তু হয়ে উঠছে না। নিউজ চ্যানেল খুলে সোফায় বসল। মুখে এক চামচ খাবার তুলেছে ওমনি ফোনটা বেজে উঠল। আননোন নাম্বার রাত সাড়ে দশটায়? বুকটা ধক করে উঠল। পার্থদাই কি? ফোনের দিকে হাত বাড়াতে গিয়েও পারল না, কে যেন শ্যাওলার শিকলে হাতটা বেঁধে দিয়েছে। সম্পর্কে শ্যাওলা পড়ে গেলে এমনই হয়। যাহ এসব কী ভাবছে সে? সম্পর্ক আবার কবে ছিল? টিভির স্ক্রিনে জোর করে চোখ রেখে খেতে শুরু করল সোনালি।

( তিন )

ফোনটা রাত্রে আরও একবার এসেছিল। সোনালি হাত বাড়াতে পারেনি, সকালে বাজতেই সাহস সঞ্চয় করে তুলে ফেলল, “ফোন ধরছিলি না কেন? জানিস কত বড়ো বিপদ আমাদের। তৃষা হসপিটালে। কাল থেকে থানা পুলিশ সব সামলে তোর মেসো ক্লান্ত।’ ঝরনামাসি হাউমাউ করে কী যে বলে যাচ্ছে, সোনালি বুঝতে পারছে না। শুধু হসপিটাল, পুলিশ এই শব্দগুলো কানে যেতেই তার স্নায়ু টানটান হয়ে উঠল। তারপর মাসিকে শান্ত করে যা শুনল ওর শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল।

—পিনাকি এত হিংস্র একটা ছেলে? এভাবে দিনের পর দিন তৃষাকে অত্যাচার করত, আর সে তোমাদের কিছুই জানতে দেয়নি? শুধুই অভিনয় করে গেছে! এ কেমন বাঁচা মাসি?

ঝরনামাসি তোতলাতে থাকে, “আসলে মারধোরের পরেই দামি গয়না, বিদেশে টুর এসব নিজেই ব্যবস্থা করত। তৃষা ভাবত নেশার ঘোরে ভুল করে ফেলেছে, মানুষটা তো তাকে ভালোইবাসে।’

—একে ভালোবাসা বলে না মাসি! ঘুষ দিয়ে তৃষাকে আটকে দিয়েছে। সোনালি আর কথা বাড়ায় না, হসপিটালের নামটা জেনে নেয়।

ঝরনামাসি বলে, “একটু টাকা পয়সা সঙ্গে আনিস মা। আমার মোবাইলে ব্যালেন্স নেই বলে তোর মেসোর ফোনটার থেকে…. আর মেয়েটা যদি বেঁচে ওঠে একটা উকিল ঠিক করে দিস, ডিভোর্সটা করিয়ে নেব।”

সোনালির খুব অসহায় লাগে। তৃষার মনের মধ্যে এত কষ্ট জমা ছিল? একবারও বুঝতে দেয়নি মেয়েটা? আচ্ছা কেন এই ভালো থাকার অভিনয়? ভালো থাকাই কি জীবনের মাপকাঠি! মেয়েরা এই খারাপ থাকাটুকু মেনে নিক না একবার। খারাপ থাকাটুকু অস্ত্র করে ঝলসে উঠুক একবার। অনেক অন্যায় থেমে যাবে।

ঝুনুদি কয়েকদিন ফোন করে না। ছোটো ছেলের কাছে খুব ব্যস্ত আছে হয়তো। বলেছিল শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংটা ঘুরে আসবে। ঘুরুক, আনন্দ করুক, মুর্শিদাবাদের ওই গ্রাম ছাড়া কিছুই সে দেখেনি। এক গ্রামে শ্বশুরবাড়ি, বাপেরবাড়ি হওয়া খুব মুশকিল।

সোনালি চাপা হেসে বলেছিল, ‘সেকী! তুমি তো পাশের বাড়িতেই থেকে যাবার প্ল্যান করেছিলে ঝুনুদি।’

—তোর যেমন কথা! পার্থ আমায় বিয়ে করত কেন?

—করত না? তাহলে ছাদে তোমাদের খেলাগুলো সব মিথ্যা ছিল? সোনালি অষ্টমঙ্গলায় আসা দিদিকে কোণঠাসা করে মজা দেখছিল।

ঝুনুদির চোখে আর্তি, ‘সনু, সঙ্গে ননদ এসেছে, বারো বছরের মেয়ে হলেও বেশ পাকা, কথা কানে গেলে আর রক্ষে নেই।’ সোনালি ছোবলটা তুলেই পিছিয়ে এসেছিল। কেন এমন করছে সে? ঝুনুদির সঙ্গে কীসের প্রতিযোগিতা? আর পার্থদার সঙ্গেও তার কোনওদিন সম্পর্ক বা আলাদা আগ্রহ ছিল না। শুধু সেই সন্ধের রেশটুকু এখনও ঠোঁটের মধ্যে ধরা আছে। এর বেশি কিছু না।

(ক্রমশ…)

বর্ষায় ফার্নিচারের যত্ন

প্রাকৃতিক নিয়মেই বর্ষাকালে কাঠের আসবাবপত্র ময়েশ্চার অ্যাবজর্ব করতে শুরু করে। ফলে দরজা জানলা থেকে শুরু করে কাঠের আসবাবপত্রের স্ট্রাকচারে খানিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় অর্থাৎ এই সময় কাঠ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ফাংগাসের সমস্যাও পিছু ছাড়ে না। তাই বর্ষায় ফার্নিচার সুরক্ষিত রাখতে হলে দরকার অতিরিক্ত যত্নের।

বিশেষজ্ঞরা সর্বদাই বলে থাকেন, যে-কোনও আসবাব বানানোর আগে কাঠকে সিজন করে নেওয়া জরুরি। ওয়াটারপ্রুফ প্লাইউড দিয়েও ফার্নিচার বানাতে পারেন, তবে ফার্নিচার জোড়ার আঠাও হতে হবে যথোপযুক্ত, যাতে বর্ষাকালে কোনওরকম ভাবে প্রভাব না পড়ে আসবাবপত্রে।

বর্ষার আবহে আসবাবপত্রের সুরক্ষার জন্য কিছু সহজ উপায়

o কোনও অবস্থাতেই কাঠের ফার্নিচার জানলার পাশে রাখবেন না

o অবিরাম বৃষ্টির ফলে ফার্নিচারের জোড়া অংশ খুলে যেতে পারে। সেই কারণেই সংযুক্ত জায়গাটিতে সর্বদা ওয়াটারপ্রুফ অ্যাডহেসিভ-ই ব্যবহার করুন

o সোফা বা চেয়ার পরিষ্কার করতে হলে ভিজে কাপড়ের প্রয়োগ করবেন না। বরং নরম আর শুকনো কাপড় কাজে লাগান

o ওয়ার্ডরোব বা আলমারি যাই হোক না কেন, দেওয়াল থেকে এক ইঞ্চি হলেও দূরে রাখুন। এই সময় আলমারির ভিতরে ন্যাপথলিন রাখতে ভুলবেন না। প্রয়োজনে নিমপাতাও রাখতে পারেন। এতে পোকামাকড়ের উপদ্রব কমবে

o বর্ষায় কাঠের দরজা জ্যাম হয়ে যায়। সহজে দরজা খোলা বন্ধ করতে হলে দরজায় পিতলের হাতল লাগানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে

o যদি উডেন ফ্লোর হয়, সেক্ষেত্রে এই সময় ভালো করে পালিশ করিয়ে নেওয়া উচিত

o বৃষ্টি থামলেই দরজা জানলা খুলে রাখবেন

o আপনার বাড়ির গ্যাজেটের মধ্যে সিলিকনের প্যাকেট রাখুন। সিলিকন আর্দ্রতা টেনে নেয়

o বর্ষায় কলিন ব্যবহার করবেন না

o ফার্নিচার-এ ফাংগাসের কারণে অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশন হওয়ার সম্ভাবনা অতিমাত্রায় থাকে, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাজমা, কাশি এবং শ্বাস সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগ অন্যতম। শুকনো কাপড় দিয়ে অবিলম্বে কালো ফাংগাস রগড়ে তুলে ফেলুন

o আর্দ্রতার কারণে এই সময়ে ফার্নিচারে উইপোকা হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। এই কারণেই অ্যান্টি টার্মাইট সলিউশন প্রয়োগ করুন বা পেস্ট কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞকে খবর দিন।

পরিচর্যা: ফ্লোরের ধুলোমাটি, পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কাঠের মেঝে হলে বর্ষার আগে অন্তত একবার মেঝে পালিশ করানো বাঞ্ছনীয়। মেঝের উপর যদি কোথাও কোনও দরজা জানলা দিয়ে জল ঢোকে, তাহলে জল আটকাবার ব্যবস্থা করুন। কারণ বৃষ্টির জলে ফ্লোরের রং হালকা হয়ে যেতে পারে এবং ফ্লোরে ব্যবহৃত কাঠ ফুলে গিয়ে কিংবা পচে গিয়ে নষ্ট হতে পারে।

যা যা করণীয়:

o যে-ঘরে কাঠের ফ্লোর থাকবে সেখানকার আসবাবপত্রের নীচে তুলোর প্যাড অথবা ফার্নিচার প্যাড লাগাবেন, যাতে ফ্লোরে স্ক্র্যাচ না পড়ে

o দরজার বাইরে পাপোশ রাখবেন এবং তা যেন নিয়মিত রোদে দেওয়া হয়

o ভ্যাকুম ক্লিনার সফট ব্রাশের সঙ্গে ব্যবহার করুন

o বাড়িতে যদি কুকুর, বিড়াল থাকে, তাহলে খেয়াল রাখবেন, তারা যদি বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ঢোকে তাহলে তাদের গায়ের জল যেন ফার্নিচার-এ না লাগে

o ভালো কোম্পানির ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহার করবেন

o ফ্লোর পরিষ্কার করার জন্য ভালো মপ ব্যবহার করা উচিত

o অ্যামোনিয়া বা অন্য কোনওরকম অ্যাসিড ব্যবহার করবেন না

o কাঠের ফ্লোর পরিষ্কার করতে জলের ব্যবহার করবেন না।

অনেকেই শখ করে পারস্পরিক কিংবা হাল ফ্যাশনের আসবাবে ঘর সাজান। কিন্তু শুধু আসবাব দিয়ে ঘর ভরিয়ে ফেললে হবে না। আসবাবেরও চাই নিয়মিত যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিশেষকরে বর্ষাকালে। দীর্ঘদিন সাফসুতরো না করার ফলে ফার্নিচারে ধুলো জমে, দাগ পড়ে, এমনকী এতে পোকামাকড়ও জন্মায়। তাই সময় থাকতে সজাগ হোন। বর্ষার আবহে আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মেনে চলুন কয়েকটি সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম।

(১) পরিষ্কার করার জন্য সপ্তাহে একদিন ভ্যাকুম ক্লিনার ব্যবহার করুন, বাকি দিনগুলিতে কাপড়ের সাহায্যে ডাস্টিং করুন।

(২) সোফায় বা অন্য কোনও ফার্নিচারে দাগ-ছোপ লাগলে, তা পরিষ্কার এবং শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

(৩) চামড়ার ফার্নিচার পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট লেদার ফার্নিচার কেয়ার লিকুইড-ই ব্যবহার করুন।

(৪) কাঠের ফার্নিচারে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট মেলামাইন পালিশ করানো ভালো। এর ফলে বর্ষাকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াতেও আসবাবগুলি ভালো থাকবে।

(৫) কাঠ ও চামড়ার তৈরি আসবাবের উপরেই পোকামাকড়ের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় বর্ষাকালে। তাই এই ধরনের আসবাবের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

(৬) স্টেনলেস স্টিলের দেখভালের জন্য চিন্তা না করলেও চলবে। কারণ এই ধরনের আসবাবে বর্ষাকালেও তেমন মেন্টেনেন্সের প্রয়োজন হয় না। শুধু কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, স্টিলের গুণগত মান যেন ভালো হয়।

(৭) ফার্নিচারগুলিকে সবসময় শুকনো কাপড়ের সাহায্যেই পরিষ্কার করুন। ভেজা কাপড় একেবারেই ব্যবহার করবেন না। এর ফলে ফার্নিচারের পালিশ নষ্ট হয়ে যায়। সেইসঙ্গে কাঠও কমজোরি হয়ে যায়।

(৮) যদি কাঠের আসবাবই আপনার বেশি পছন্দের হয়ে থাকে, তাহলে বর্ষাকালের কথা ভেবে অবশ্যই ভালো কাঠের, সলিড উড ফার্নিচারই ব্যবহার করুন।

(৯) রট আয়রনের তৈরি ফার্নিচার বা পিতলের ফার্নিচার, বর্ষাকালে সরংক্ষণ করতে রেড অক্সাইড ব্যবহার করুন।

(১০) আসবাবের জয়েন্টের জায়গাগুলি যাতে মরচে পড়ে নষ্ট না হয়ে যায় বর্ষাকালে, তাই এর উপর রেড অক্সাইড লেপে দিন।

(১১) বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই আসবাবে পেইন্ট বা ভার্নিশ ব্যবহার করুন। এর ফলে আসবাবে ঘুণ ধরবে না।

(১২) লিভিং-রুম বা বাগানে ব্যবহৃৎ বেতের আসবাবগুলি যাতে বৃষ্টির জলে না ভেজে, সেদিকে নজর দিন। কারণ এই ধরনের আসবাব ভিজে গেলেই এতে কালচে ছোপ ধরে ও ফাংগাস পড়ে যায়।

(১৩) দীর্ঘদিন যদি ঘর বন্ধ করে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে বর্ষাকালে, তাহলে অতি অবশ্যই আসবাবগুলি কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে যাবেন। এর ফলে আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

(১৪) যদি আসবাবে ফ্রেঞ্চ পালিশ থাকে, তাহলে এই ফার্নিচারের এক্সট্রা কেয়ার প্রয়োজন বর্ষাকালে। খেয়াল রাখবেন এগুলি যেন কোনও ভাবেই জলের সংস্পর্শে না আসে।

সম্প্রতি কলকাতা-য় অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক নৃত্য-উৎসব

সম্প্রতি সুন্দর এক আন্তর্জাতিক নৃত্য-উৎসব উপভোগ করল কলকাতাবাসী। কলকাতার আইসিসিআর-এর সহযোগিতায়, এই ৬ষ্ঠ ‘রুক্মিণী দেবী অরুন্দালে আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব’-টির আয়োজন করেছিল ‘সর্বাণী-অজন্তা কলাসঙ্গম’। ভারতীয় এবং অনাবাসী ভারতীয় শিল্পীদের নিয়ে আইসিসিআর-এ আয়োজিত হয় এই নৃত্য-উৎসব। ভরতনাট্যম, ওড়িশি, কত্থক, মণিপুরি, শাস্ত্রীয়নৃত্য এবং রবীন্দ্রনৃত্য সহ বিভিন্ন ধরনের নৃত্য পরিবেশিত হয়েছে উৎসবে এবং একক, দ্বৈত ও সমবেত ভাবে নৃত্য পরিবেশন করে মোট ১৫-টি গ্রুপ।

‘রুক্মিণী দেবী অরুন্দালে আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব’-এর প্রতিষ্ঠাতা, কুচিপুডি এবং ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী সর্বাণী ঘোষ এই বছর কলকাতায় নৃত্য উৎসব নতুন করে শুরু করেছেন। এবারের উৎসব তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, কারণ, সর্বাণী ঘোষ তাঁর শ্রদ্ধেয় গুরু ভরতনাট্যম নৃত্যশিল্পী পদ্মবিভূষণ ড. যামিনী কৃষ্ণমূর্তিকে এই অনুষ্ঠানে আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের মাত্র এক সপ্তাহ আগে, গত ৩ আগস্ট, ২০২৪-এ মারা গিয়েছেন ড. যামিনী কৃষ্ণমূর্তি।

ড. যামিনী কৃষ্ণমূর্তি`র সঙ্গে সর্বাণী ঘোষের সম্পর্ক ছিল তাঁর নৃত্যশিল্প যাত্রার একটি বিশেষ সময় জুড়ে, যেখানে তিনি কিংবদন্তি এই নৃত্যশিল্পী`র কাছে ছয় বছর ধরে প্রশিক্ষণ নেবার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই মেন্টরশিপ কেবলমাত্র সর্বাণী`র দক্ষতাকেই বাড়িয়ে তোলেনি, বরং তাঁর মধ্যে থাকা শিল্পীগুণ ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও বেশি করে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন সর্বাণী।

সিলেকশন কমিটি দিল্লি, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ এবং মুম্বই থেকে প্রতিভাবান শিল্পীদের এবং সেইসঙ্গে জার্মানির একজন বিশিষ্ট পারফর্মারকে তাঁদের পারফর্মেন্স এবং নৃত্যশিল্প ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে বেছে নিয়েছিল। যদিও এই অনুষ্ঠানের জন্য নিউ ইয়র্ক থেকে প্রতিভাবান কত্থক নৃত্যশিল্পী বরখা প্যাটেলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

‘সর্বাণী-অজন্তা কলাসঙ্গম’-এর শিক্ষার্থীদের বিষ্ণু স্তূতি-র মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এই বিষ্ণু স্তূতি-র প্রিমিয়ার হয়েছিল লন্ডন-এর নেহেরু সেন্টার-এ(ভারতীয় হাই কমিশন)।এরপর অসমের জনপ্রিয় শিল্পী তটিনি দাস সমবেত শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশন করেন এবং দিল্লি থেকে আসা অনসূয়া ও তাঁর গ্রুপের সদস্যরা ওড়িশি নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলেছিল নৃত্যানুষ্ঠানটিকে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পরিবেশনার মধ্যে ছিল সংগীত-নাটক আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ডক্টর শ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা সোমভা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মণিপুরি নৃত্য পরিবেশনা। সমিতা দাশগুপ্ত এবং অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুটি তাঁদের ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন।

‘মনোরথ গ্রুপ’-টি সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাজের ওপর একটি সূক্ষ্ম গবেষণা-ভিত্তিক নৃত্য পরিবেশন করে। এছাড়াও শিল্পী মহুল মুখোপাধ্যায় একটি সুন্দর ভরতনাট্যম ট্রায়ো পরিবেশন করেছেন।

প্রবীণ নৃত্যশিল্পী নন্দিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর ভরতনাট্যম নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হয়েছিলেন। তরুণ ও প্রতিভাবান শিল্পী সৌরমি মুখোপাধ্যায় এবং লাবণ্য ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করেন এবং শর্মিলা বিশ্বাসের শিষ্য কৌশিক দাস একটি মনোমুগ্ধকর একক ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করেন।

রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ড. কাবেরী সেন তাঁর গ্রুপ-এর সঙ্গে ওড়িশি নৃত্য পরিবেশন করেন। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের কত্থক নৃত্যশিল্পী ড. মানব পারাই তাঁর গ্রুপ নিয়ে পরিবেশন করেন কত্থক।

এছাড়াও, আঙ্গিক পারফর্মিং আর্টস পরিবেশন করে সীতার স্বয়ম্ভর সভা। বেহালা শান্তিনিকেতন ডান্স আকাদেমি, বিম্ববতি দেবির শিষ্যরা, গুরু রীনা জানার শিষ্যরা, সুচেতা সরকার, শুভদীপা দে, শর্মিলা বিশ্বাস-এর শিষ্য কৌশিক দাস এবং ‘মনোরথ’-এর পরিচালক ড. ইলিয়া দাস মুখোপাধ্যায়-এর রবীন্দ্রনৃত্য ‘ঐক্য’ সাফল্যমণ্ডিত করে তুলেছিল অনুষ্ঠানটিকে।

বদলান অন্দরসজ্জা

ঘরের ভেতরের সাজসজ্জা যাতে একঘেয়ে না লাগে, তার জন্য অনেকেই চান অন্দরসজ্জায় কিছু পরিবর্তন আনতে। বিশেষকরে যারা কিছুটা শৌখিন, তারা বদলাতে চান ঘরের সাজ। আর এই সাজ বদলের বিষয়টি নিয়ে অনেককে তো আবার চিন্তিত থাকতেও দেখা যায়। কোথায় কী পরিবর্তন করবেন, কী পরিবর্তন করলে দৃষ্টিনন্দন হবে, এর জন্য কত খরচ হবে, প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে যায় নতুন বছর শুরু হওয়ার এক-দু’মাস আগে থেকেই।

বৈঠকখানা বা বসার ঘরের ডেকোরেশন নিয়ে বেশিরভাগ মানুষকেই আগাম প্ল্যান করতে দেখা যায়। কারণ বহিরাগত অতিথিদের জন্য যেহেতু বসার ঘরটি বরাদ্দ থাকে, তাই এই বসার ঘর বা ড্রয়িং রুমটির সৌন্দর্য বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন — গৃহস্থের রুচি এবং আভিজাত্যের প্রতিফলন ঘটে ড্রয়িংরুমে। তাই বসার ঘরের সোফা, চেয়ার-টেবিল, অন্যান্য ফার্নিচার কিংবা জানলা-দরজার পর্দা বদলে নতুন রূপ দিতে চান শৌখিন মানুষেরা। তাই আপনজনের সঙ্গে আলোচনা পরামর্শ করে পরিবর্তন আনুন অন্দরসজ্জায়।

গৃহসজ্জায় কীভাবে এবং কতটা বদল আনলে অতিথিরা আপনার রুচি ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করবেন, তা জেনে নেওয়া আবশ্যক। সেইসঙ্গে, কতটা কম খরচে অন্দরসজ্জায় পরিবর্তন এনে আপনার মনের ইচ্ছে পূরণ করতে পারবেন, সেই বিষয়ে আপনার জন্য রইল গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

ড্রয়িংরুম-ডেকর

ফ্যাশনের মতো, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জারও পরিবর্তিত করা উচিত প্রতি বছর। মনে রাখা দরকার যে, বসার ঘরটি হল কেন্দ্রবিন্দু। এখন সহজ এবং মার্জিতশৈলী পছন্দ করেন বেশিরভাগ মানুষ। বাড়ির আভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার পরিবর্তন করতে চাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। যেমন আমরা প্রতিদিন একই জিনিস দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। যা আমরা আগে ভাবিনি, তেমনই কিছু পরিবর্তন করে অর্থাৎ কিছু আসবাবপত্রের স্থান পরিবর্তন করে কিংবা দেয়ালের রং পরিবর্তন করে ঘরের আভ্যন্তরীণ রূপ বদলে ফেলা যায়।

বাড়ির বসার ঘরের রূপ পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে গাছপালা এবং ফুল দিয়ে সাজাতে হবে। কারণ প্রাকৃতিক আবহ সর্বদা পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রথমে, আপনার বাড়ির বসার ঘরের রং পরিবর্তন করুন বছর শুরুর আগেই। হালকা নীল, হালকা সবুজ এবং ফ্যাকাশে হলুদের প্যাস্টেল শেড ব্যবহার করতে পারেন। রং হয়ে গেলে ওয়াল হ্যাঙ্গিং-সহ কিছু বেতের ফ্রেম ঝুলিয়ে রাখুন দেয়ালে এবং কয়েকটি সস্তা ফ্লোর ল্যাম্পের সঙ্গে একাধিক স্ট্রিং লাইট যুক্ত করুন। অ্যাকসেন্ট লাইট, স্ট্রিং লাইট, এলইডি লাইট, বিভিন্ন রঙের বাল্ব, লকেট লাইট, ঝাড়বাতি, টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প এবং সিলিং লাইট সমান পরিমাপের ব্যবহার করুন। আপনার বাড়ির নকশার থিমের উপর ভিত্তি করে এমন লাইট ব্যবহার করুন, যা আপনার ঘরকে আলোকিত করবে এবং নান্দনিকতাও বজায় রাখবে। এর জন্য কান্ট্রি এবং রেট্রো ল্যাম্পশেড স্ট্রিং লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

বসার ঘরের দেয়ালের রং এবং মাপ অনুযায়ী মানানসই সোফা সেট রাখুন। সঙ্গে ম্যাচ করে রাখুন কুশন। যদি দুটো সোফা থাকে, তাহলে ওই দুটো সোফার মাঝখানে রাখতে পারেন বাহারি ল্যাম্প শেড। এছাড়া ড্রইং রুম-এর যে-কোনও কোণ-এ রাখতে পারেন কোনও পাতাবাহার গাছ। মেঝেতে লাল কিংবা নীল রং-এর কার্পেট বিছিয়েও বসার ঘরের ভোল বদলে দিতে পারেন অনায়াসে।

বসার ঘরে গাছ রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন পিতলের পাত্র কিংবা টেরাকোটার পাত্র। রাখতে পারেন ফিশ অ্যাকোয়ারিয়াম। যদি বেশি জায়গা থাকে তাহলে বিদ্যুৎ চালিত কৃত্রিম ঝরনার ব্যবস্থাও করতে পারেন। এতে ঘরের শোভা যেমন বাড়বে, ঠিক তেমনই পজিটিভ এনার্জিও তৈরি হবে ঘরে।

বসার ঘরের সেন্টার টেবিলটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অতিথিকে চা কিংবা খাবার দেওয়ার জন্য এটি যেমন ব্যবহার করবেন, ঠিক তেমনই আপনার নিজের নানারকম কাজেও ব্যবহার করতে পারবেন। তাই সেন্টার টেবিলটির রূপও যেন সুন্দর হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। কাঠ এবং কাচ দিয়ে তৈরি সেন্টার টেবিলই এক্ষেত্রে ব্যবহার করা ভালো। আর বসার ঘরের জানলার পর্দা ব্যবহারেও যত্নশীল হবেন। কারণ পুরো ঘরের সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করবে এই পর্দার উপর। ঘরের রং-এর সঙ্গে মানানসই রং-এর পর্দা কিনে এনে ব্যবহার করুন। তবে যে রং-এর পর্দাই ব্যবহার করুন না কেন, বসার ঘরে যদি নেটের পর্দা ব্যবহার করেন, তাহলে বেশি ভালো লাগবে। এই নেটের পর্দাগুলো দেখতে যেমন ভালো লাগবে, ঠিক তেমনই আলো-বাতাসও ঢুকবে।

ডাইনিং-ডেকর

মনে রাখবেন, ডাইনিং-এর প্রধান ফার্নিচার হল ডাইনিং-টেবিল এবং চেয়ার। আজকাল রট আয়রন, পিভিসি ও স্টিলের নানারকম ডাইনিং সেট পাওয়া যায়। জায়গা অনুযায়ী গোল টেবিল সেট কিনে নিতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন ডাইনিং টেবিল রাখার পর চেয়ার রাখার জন্য যেন ভালোমতো জায়গা থাকে। ডাইনিং এরিয়ার সাইডে একটি ফোল্ডিং সেলফ এবং কিচেন ট্রলি রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করুন। একটা এক্সট্রা ছোটো টেবিলও রাখতে পারেন ডাইনিং এরিয়ায়। এতে রান্নাঘর থেকে খাবার এনে ওই টেবিলের উপর রাখতে পারবেন।

ডাইনিং এরিয়ায় একটি ঝুলন্ত লাইট (পেনডেন্ট লাইট) ব্যবহার করতে পারেন। এতে ডাইনিং রুম-এর শোভা বাড়িয়ে তুলবে। দেয়ালে কিছু ছবি লাগাতে পারেন। তবে যদি একাধিক ছবি ব্যবহার করেন তাহলে তা সরলরেখা বরাবর রাখবেন। ফল কিংবা সবজির ছবি ল্যামিনেশন করে ব্যবহার করতে পারেন দেয়ালে।

কিচেন-ডেকর

কিচেনে বাড়তি জিনিস থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। নতুন বছরে কিচেনকে ছিমছাম এবং পরিচ্ছন্ন রূপ দিন। কিচেন স্টোরেজ-এ বাসনপত্র সাজিয়ে রাখুন ঠিক ভাবে। সহজেই যাতে বাসনপত্র বের করা যায় কিংবা ব্যবহারের পর আবার সহজেই রাখা যায়, সেইমতো শেলফ ব্যবহার করুন। বাজারে খুব কম দামে আজকাল পিভিসি স্টোরেজও পাওয়া যায়। আপনি এক্ষেত্রে ওপেন স্টোরেজও ব্যবহার করতে পারেন। এই ওপেন স্টোরেজ-এর দামও খুবই কম। যদি একাধিক শেলফ ব্যবহার করেন, তাহলে সবক’টি শেলফ-এর রং যেন একই হয় এবং তা যেন ঘরের রং-এর সঙ্গে মানানসই হয়।

বেডরুম-ডেকর

যদি পরিকল্পনা মাফিক বেডরুম না সাজানো থাকে, তাহলে বেডরুম-এর সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হবে, ঠিক তেমনই মানসিক শাস্তিও বিঘ্নিত হবে। মনে রাখবেন, শোয়ার ঘরটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিন পরিশ্রমের পর শরীর-মনের আরাম একান্ত ভাবেই জরুরি। তাছাড়া শোয়ার ঘরের নান্দনিকতা আপনাকে আরও রোমান্টিক করে তুলবে। তাই ভালো মানের খাট ব্যবহার করুন এবং সেই মতো বিছানা পাতুন। প্রতিদিন বদলে ফেলুন বেডকভার

শোয়ার ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা যেমন রাখবেন, ঠিক তেমনই এমন আলোও রাখবেন, যা আলো-আঁধারি ব্যালেন্স করে সুন্দর এক আবহ তৈরি করবে। আর এরই পাশাপাশি, শোয়ার ঘরের দেয়ালটাকেও সাজিয়ে তুলুন সুন্দর কিছু পেইন্টিং দিয়ে। ঘরের কোণে সুন্দর টবে রাখতে পারেন গ্রিন প্ল্যান্ট। আর বেডরুম-এর সিলিং ফ্যানটাও যেন সুন্দর দেখতে হয়। এয়ারকন্ডিশনার থাকলে তা অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।

স্পেশাল টিপ্‌স

  • বাড়িতে পোষ্য থাকলে ওদের জন্য সুন্দর ভাবে থাকা-খাওয়া এবং শোওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। এতে পরিচ্ছন্নতা এবং নান্দনিকতা বজায় থাকবে
  • জুতো রাখার জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করুন। তবে যেখানেই জুতোর তাক করুন-না কেন, তা যেন ঢাকা থাকে
  • ড্রয়িং রুমে ফিশ অ্যাকোয়ারিয়াম রাখলে, সুন্দর দেখতে মাছ রাখুন সেখানে। নিয়ম মতো জল বদলান অ্যাকোয়ারিয়াম-এর। এতে সৌন্দর্য বজায় থাকবে
  • বসার ঘরে ব্যবহার করুন ডিজাইনার কুশন
  • যদি পিতলের টব না কিনতে পারেন বেশি দামের জন্য, তাহলে মাটির হাঁড়ি কিংবা কলসি কিনে নিজেই তেল রং দিয়ে সুন্দর রূপ দিয়ে তা গাছ লাগানোর টব হিসাবে ব্যবহার করুন
  • বসার ঘরে ব্যবহার করুন বড়ো মিরর। আর সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলতে, ওই মিরর-এর চারপাশে ভালো আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিন শামুক কিংবা ঝিনুকের খোল
  • ঘরে প্লাস্টিকের ফুল গাছ থাকলে তা মাঝেমধ্যে অবশ্যই সাবান দিয়ে ওয়াশ করে রাখবেন।

কেক (পর্ব-০২)

কতদিন খোলা ছাদের তলায় এভাবে শুয়ে থাকেনি সে। বারান্দা বা ঘরের জানলা দিয়ে রাতের আকাশ যতটুকু দেখা যায় তাতে মন ভরে না। ঝুনুদি কিছুটা জোর করেই ছাদে নিয়ে এসেছিল। দুই বোনে নক্ষত্রখচিত আকাশের নীচে শুয়ে শুয়ে ছোটোবেলার দিনগুলোতে হারিয়ে গেল। ঠান্ডা একটা হাওয়া দিচ্ছিল। সোনালির ভালো লাগছিল খুব। ভাগ্যিস ঝুনুদি জোর করে তার এখানে চলে এসেছে, তাই হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছু তার জীবনে আবার ফিরে এল।

ঝুনুদি অনেকক্ষণ কী যেন বলার জন্য উশখুশ করছিল, টের পেয়েও সোনালি চুপ করেছিল। একসময় ঝুনুদি জিজ্ঞেস করেই ফেলল, ‘পার্থর খবরটা শুনেছিস তো?’ বুকের ভিতরটা ধক করে ওঠে সোনালির। পার্থদা? খুব একটা স্মৃতি নেই তাকে ঘিরে, শুধু একটিমাত্র ঘটনার জন্যই আজও মানুষটার নাম মনে আসলে বুকের রক্ত ছলাৎ করে ওঠে।

—সে তো বাইরে কোথাও থাকে, আমেরিকার কোনও অঞ্চলে।

—থাকত, ওদেশের পাট চুকিয়ে ফিরে এসেছে। ওদের পুরোনো বাড়িটা সংস্কার করে ওখানেই থাকছে। বিশাল ফার্ম হাউস করেছে। সবজি, ডিম, দুধ বিক্রি করার পরও যা থাকে, গরিব লোকজনের মধ্যে বিলিয়ে দেয়। দেখা হয়েছিল কিছুদিন আগে। তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল। আর তোকে একটা কথা জানাতে চায়। ফোন নাম্বার নিবি সনু? সোনালি এই মধ্য চল্লিশেও একটু যেন কেঁপে যায়। কী কথা জানাতে চায়? এতকাল পরে? কিছুটা সজাগ হয়েই যেন নিজেকে কঠিন আবরণে মুড়ে নেয় সে।

—পার্থদা যে ফিরে এলেন, ওঁর বউ, ছেলেমেয়েরাও আমাদের মুর্শিদাবাদের গ্রামে রয়ে গেল?

সোনালিকে অবাক করে দিয়ে ঝুনুদি বলে উঠল, “দূর ও দেশে আবার বিয়ে, সংসার! ওই আমেরিকান মহিলা গুচ্ছের টাকার বিনিময়ে কবেই ডিভোর্স নিয়ে কেটে পড়েছে। আর ছেলেমেয়ে কোথায় পাবি? পার্থ নিঃসন্তান।”

সোনালি চোখ বন্ধ করে হারিয়ে যাচ্ছিল কিশোরিবেলার দিনগুলোতে। এমনি এক তারাভরা আকাশের নীচে… পার্থদা এতকাল পরে কী বলতে চায় তাকে!

( দুই )

তৃষা আর ঝরনামাসি ফোন করেই এল। ‘অন্নপ্রাশনে তুই ফাঁকি দিয়েছিলি, পাঁচ বছরের জন্মদিনে কিন্তু আসতেই হবে।” ঝরনামাসির কথায় সোনালি মৃদু মৃদু হাসছিল। তারপর কার্ডে ডেটটা দেখে বলল, ‘এবারেও যাওয়া হবে না, ওই সময়টা বেড়াতে যাচ্ছি।’

ঝরনামাসির মুখে অসন্তোষ, ‘তুই কেন আত্মীয়স্বজনকে এড়িয়ে যাস বুঝি না? সবাই এক কথা জিজ্ঞেস করে, তোর অস্বস্তি হয়। তা সময় থাকতে দেখেশুনে একটা বিয়ে করলেই পারতিস, তাহলে এমন করে মুখ লুকিয়ে ঘুরতে হতো না, এখন তো পস্তাচ্ছিস। মেয়ে মানুষের এত গুমোর ভালো না।

–আহ মা! চুপ করো না। দিদিভাই তো আর তিতলির বার্থডে’র খবর আগে জানত না। তারপর সোনালির কান বাঁচিয়ে বলে, বুঝতেই পারছ তো মা, আমরা ভালো আছি সহ্য করতে পারে না। আমাদের ভরভরন্ত সংসারটা দেখলে হিংসায় জ্বলে মরে।

কিচেনে কফি বানাতে বানাতে কথাটা সোনালির কানে ঠিকই গেল। কফির কাপ তুলে দিতে দিতে সোনালি বলল, ‘রাগ করছ কেন? আমি এর মধ্যেই একদিন তিতলিকে আশীর্বাদ করে আসব। ঢাকুরিয়া আর পাটুলি কতটুকুই বা রাস্তা!”

তৃষার চোখ দুটো চকচক করে ওঠে। দিদিভাইয়ের আশীর্বাদ মানে তো মোটা অঙ্কের উপহার। কিন্তু একটু আপশোশ থেকেই গেল, নিজের সংসারের উপচে পড়া সুখটা দেখাতে পারবে না বলে।

সোনালিকে এই সমস্ত কথাগুলো আর ছোঁয় না। ও এসব কথা শুনতে শুনতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ওরা চলে যাবার পর বারান্দায় এসে বসল। শখ করে একটা দোলনা বসিয়েছে কিছুদিন হল, তাতেই বসল। মনটা নির্ভার হয়ে গেল পলকেই। সত্যি তো ওরা কত ভালো আছে।

জয়া সেদিন বলছিল, “জানিস সোনালি, জ্বরে দু’দিন কাতরালাম, অর্ণব অফিস টুরে। তাথৈ কী যত্নটাই না আমার করেছে। ওষুধ এনে খাওয়ানো, দুধ গরম করে মুখের সামনে ধরা থেকে মাথা ধুইয়ে দেওয়া সব এইটুকু মেয়ে করেছে। কতই বা বয়স ওর বল? এই তো ক্লাস এইটে উঠল।’

সত্যি জয়া ভাগ্যবতী। সোনালি জানে সে জ্বরে কাতরালেও মুখের সামনে জল ধরার কেউ নেই। সুস্থ থাকলে তো দরজা খুলে দেবে, তবে তো কাজের মেয়েরা আসবে!

তৃষাও খুব ভালো আছে। পিনাকির সঙ্গে আজ সিঙ্গাপুর, কাল শ্রীলঙ্কা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কী সুন্দর সব স্মার্ট ড্রেস, ব্রান্ডেড সানগ্লাস পরে ছবি আপলোড করে! সত্যি ওরা তো ভালো আছে। সোনালির বেড়ানোর এত শখ। কিন্তু সঙ্গী কই? সবাই ফ্যামিলি নিয়ে আনন্দ করবে তার মাঝে সোনালিকে নেবে কেন? তাই সে ট্রাভেল কোম্পানির সঙ্গে একাই বেরিয়ে পড়ে। একা দেখে লোকজনের সেই একঘেয়েমি কৌতূহল, বেড়ানোর আনন্দটাই অর্ধেক নষ্ট হয়ে যায়। তবু জোর করেই প্রতি বছর একটা লং-টুর আর দুটো শর্ট-টুর করে ফেলে।

ঝুনুদির ফোন আসে, এটা ওটা কত কথাই কলকল করে বলে যায়। ‘আর বলিস না, আমার হয়েছে মরণ। ছোটো ছেলে আর বড়ো ছেলের মধ্যে কম্পিটিশান চলছে কে মাকে কতদিন নিজের কাছে রাখতে পারে। আমার তো নিজের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে ইচ্ছা করে না। এত খোলামেলা বাড়ি ছেড়ে দেশলাই বক্সের মতো ফ্ল্যাটবাড়িতে দম বন্ধ হয়ে আসে রে। সামনের সপ্তাহেই ছোটোর কাছে যেতে হবে শিলিগুড়ি। তাই বড়োর কী রাগ! আগের বার তো বেশিদিন থাকতেই পারলাম না।”

হ্যাঁ সোনালির মনে আছে তার কাছেই ক’টা দিন কাটিয়ে গিয়েছিল ঝুনুদি। ছেলে বলেছিল, এভাবে একা তোমাকে রেখে যেতে পারি নাকি? হয় আমাদের সঙ্গে চলো না হয় কোথাও থেকে যাও। তারপর এর ওর কাছে সোনালির ঠিকানা জোগাড় করে ঝুনুদিকে ক্যাবে তুলে দিয়েছিল। জীবন সত্যি মধুর। সোনালি এইসব ছোটো ছোটো সুখ থেকে বঞ্চিত। যাহ এসব কী ভাবছে সে! বয়স হবার সঙ্গে সঙ্গে কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করল?

—এই শোন যে জন্য ফোন করেছিলাম, পার্থ তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল। তুই তো ফোন করিসনি। তোর নাম্বারটা আমি কিন্তু দিয়ে দিয়েছি।

সোনালির এবার খুব রাগ হয়। ঝুনুদি একটু বেশিই তার উপর দখলদারি শুরু করে দিয়েছে। পার্থদার সঙ্গে সে আদৌ যোগাযোগ করতে চায় কিনা সেটা আগে বুঝুক। বিরক্তিতে ফোনটা কেটে দেয়।

এতকাল পরে কী কথা থাকতে পারে তার? সেদিন তো তার সঙ্গে একটা কথাও বলেনি, উলটে ঝুনুদির জেরার মুখে বলেছিল, “অন্ধকারে আমি বুঝতে পারিনি ঝুনু। সনু এমন ভাবে হাত নেড়ে ডাকল!”

ঘৃণায় ঝুনুদির মুখটা কুঁকড়ে গিয়েছিল, এক দলা থুতু ফেলে হিস হিস করে বলেছিল, “তুই নাকি এ বংশের সবথেকে সেরা মেয়ে, সবার থেকে এগিয়ে আছিস রূপে, পড়াশোনায়। তোর মায়ের তো তোকে নিয়ে গর্বের শেষ নেই, সেই তুই এত খারাপ?’

(ক্র্মশ…)

কেক (পর্ব-০১)

( এক )

রবিবারের সকালটা আলস্যে মুড়ে কাটিয়ে দেয় সোনালি। এইদিন কাজের লোকদের ছুটি। কলিংবেলের আওয়াজ নেই। কী রান্না হবে? বারান্দার টবগুলো সরিয়ে মুছবে কিনা! এই সব হাজার প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নেই। সপ্তাহে এই একটা দিন সোনালি নিজের মতো করে কাটায়। ইচ্ছা হলে রান্না করে, নাহলে হোম ডেলিভারিতে একটা ফোন করে দেয়। আবার এসব ইচ্ছা না করলে ফ্রুট জুস আর ফ্রুট স্যালাড নিয়ে কাটিয়ে দেয়।

কলিংবেলটা দু’বার বাজতে তাই একটু অবাক হল। কে এল এত সকালে? আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ নেই, তাদের বিপদে আপদে অবশ্য সোনালি সবসময় পাশে দাঁড়ায় কিন্তু তা বলে হুটহাট করে তারাও কেউ চলে আসবে না।

আসার আগে অন্তত তৃতীয়বার কলিংবেলটা বাজতেই সোনালি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। হাউসকোটটা পরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজা খুলতেই অবাক। ঝুনুদি এত সকালবেলা? আর তার ঠিকানাই বা পেল কার কাছে? সোনালিকে ঠেলে ভিতরে ঢুকে পড়ে ঝুনুদি। তারপর চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ওর সুসজ্জিত ড্রয়িংরুমটা দেখতে দেখতে ধপ করে সোফায় বসে পড়ে।

সোনালির সঙ্গে শেষ দেখা বছর দশেক আগে, আগের থেকে অনেকটা মোটা হয়ে গেছে, তবুও চিনতে অসুবিধা হল না।

—বাপরে কুম্ভকর্ণের মতো ঘুম তোর, কতবার যে কলিংবেল বাজালাম!

সোনালি এখনও বুঝতে পারছে না ঝুনুদির এই সাতসকালে আসার কারণ। আর তাছাড়া মুর্শিদাবাদ থেকে কি সাতসকালে সোজা তার কাছেই উঠল নাকি অন্য কোথাও ছিল? হাজার প্রশ্ন সোনালির মাথায় ভিড় করছে।

—আদা দিয়ে কড়া করে এক কাপ চা বানিয়ে দে তো! উফ মাথাটা ধরে গেছে।

সোনালি এই সব হুকুমে অভ্যস্ত নয়, একা থাকতে থাকতে খুব একটা অতিথি আপ্যায়নেও আগ্রহী নয়। তবু চোখে মুখে জল দিয়ে কিচেনে ঢুকল। কিছুক্ষণ পরে দু’কাপ চা নিয়ে ঝুনুদির মুখোমুখি বসল। তারপর সরাসরি জিজ্ঞেস করেই ফেলল, “তারপর কী মনে করে?”

—আরে বাবা নিজের আপনজন, বোনের বাড়িতে আসব, ক’টা দিন হাত পা ছড়িয়ে থাকব। তার আবার মনে করা-করির কী আছে!

সর্বনাশ ক’টা দিন থাকবে! সোনালির প্রাইভেসির দফারফা। আর তাছাড়া এই রবিবারের নিজস্ব মাধুর্যটা নষ্ট হল বলে। ঝুনুদিকে তো চেনে, সারাক্ষণ অন্যের সমালোচনা করতে ব্যস্ত। শেষ যে বার বাপ্পার মেয়ের অন্নপ্রাশনে দেখা হয়েছিল, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা কথাই শুধু বলছিল, “চাকরি করে এক কাঁড়ি টাকা রোজগার করলেই তো হল না, স্বামী সন্তান নিয়ে সংসার না করলে ষোলো আনাই মাটি!’

তারপর সোনালির কান বাঁচিয়ে বলেছিল, ‘যেসব মেয়েরা একলা থাকে তাদের স্বভাব চরিত্রও ভালো হয় না। অমন বারমুখো মেয়েদের কোন পুরুষ ঘরে তুলবে?” সেই ঝুনুদি তার সামনে বসে তার বানানো চা খাচ্ছে। সোনালির মাথার মধ্যে একরাশ অশান্ত পাখি ঠোকরাতে শুরু করেছে। সে খবরের কাগজটা তুলে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসল। নিজের হাতে যত্ন করে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট আর মরশুমি ফুলের গাছ লাগিয়েছে। তাছাড়া বেশ কিছু সাকুলেন্টও তার সংগ্রহে আছে, বেশিরভাগটাই অন লাইনে কিনেছে। এই সবুজের দুনিয়াতে ঢুকে গেলে সোনালি সবচেয়ে শান্তি পায়।

ঝুনুদি স্নান সেরে তার সামনে এসে দাঁড়াল। রান্নাবান্না কখন করবি? জলখাবারে কী খাবি? কাগজ থেকে মুখ না সরিয়েই সোনালি জবাব দেয়, ফ্রিজে ব্রেড আছে আর কন্টেনারে মিষ্টি, ওই দিয়ে চালিয়ে নাও। দুপুরে বাইরে থেকে খাবার আনিয়ে নিচ্ছি। রবিবার আমার বাড়িতে রান্নাবান্নার পার্ট নেই।

ঝুনুদি যেন অবাক কথা শুনছে, মুখের অভিব্যক্তি তেমনই হয়ে গেছে। মুখ গোঁজ করে কিচেনের দিকে চলে গেল। সোনালির এবার খারাপ লাগছে, এত রুড হচ্ছে কেন? ঝুনুদি তার মেজ জেঠুর মেয়ে, একসঙ্গে যৌথ পরিবারে বেড়ে উঠেছে, সুখ দুঃখের অনেক স্মৃতি। খবরের কাগজটা বন্ধ করে সোনালিও উঠে পড়ল। ঘরটা ডাস্টিং করে স্নানে ঢুকে পড়ল। স্নান সেরে বেরোতেই দেখে, মুচমুচে টোস্ট, মিষ্টি আর সুজি রেডি। সুজি যে কিচেন ক্যাবিনেটের এক কোণায় পড়ে আছে সোনালি নিজেই ভুলে যায়।

রান্নার মেয়েটি মাঝেমাঝে ঝাল সুজি বানিয়ে দিয়ে যায়। মিষ্টি খেতে ভালোবাসলেও একটু এড়িয়ে চলে। কালেভদ্রে কিনে আনে, আর মিষ্টি সুজি কতকাল যে খায়নি। ঝুনুদির ইশারায় চেয়ার টেনে বসে পড়ল সে। এত যত্ন করে কতদিন কেউ তার সামনে খাবার সাজিয়ে দেয়নি, ঝুনুদির প্রতি কৃতজ্ঞতায় মন ভরে গেল। যদিও বাইরে সেটা প্রকাশ করল না। ঝুনুদি খেতে খেতে বলল, গোবিন্দভোগ চাল আছে দেখলাম, একটু ভাতে ভাত করে নেব। বাইরের খাবার নাই বা খেলি?

সোনালি হাঁ হাঁ করে উঠল। রান্না মানেই গুচ্ছের বাসন, তাকেই মাজতে হবে। ঝুনুদিকে দিয়ে তো আর বাসন ধোয়াতে পারে না। যদিও গোবিন্দভোগ চালের ভাত, এক টুকরো গন্ধরাজ লেবু আর ঘি দিয়ে তো দেবভোগ্য।

—আরে এত ভাবিস না তো। এইটুকু কাজ আমি সামলে নেব, তোকে রান্নাঘরে ঢুকতেই দেব না।

ঝুনুদি আরেকটু সুজির হালুয়া সোনালির প্লেটে তুলে দিল। সোনালির মনে পড়ে যাচ্ছিল, ছোটোবেলায় সুজির ভাগ নিয়ে ভাই বোনেদের মধ্যে রীতিমত প্রতিযোগিতা চলত। সেসব দিনগুলোই মনে হয় ভালো ছিল। ঝুনুদির মধ্যে সেই রুক্ষতাটা নেই, বেশ একটা আপনজন আপনজন ভাব। তবে হঠাৎ তার এখানে এল কেন এই বিষয়টা পরিষ্কার হচ্ছে না সোনালির।

—সপ্তাহ খানেক তোর এখানে থাকলে কি খুব অসুবিধা হবে সনু? আসলে আমি বড়োছেলের কাছে এসেছিলাম। কাল সকালে ওর বাড়িতে যাবার পর জানতে পারলাম আজ সন্ধের ফ্লাইটে ওদের পন্ডিচেরি বেড়াতে যাবার কথা। তাই তোর এখানেই চলে এলাম।

—পিন্টু এখন কলকাতায় পোস্টিং? এটা জানতাম না তো! সোনালি অবাক হয়, ওরা বেড়াতে যেতেই পারে তার জন্য মাকে অন্যের বাড়িতে চলে আসতে হবে কেন? আর তাছাড়া, মা তো ক’দিন ছেলের বাড়ির দেখভালও করতে পারত। সোনালির মাথায় সংসারের এসব জটিলতা ঢোকে না। সে এঁটো প্লেটগুলো তুলে নিয়ে সিঙ্ক-এর দিকে এগিয়ে যায়।

(ক্রমশ…)

শ্যাম্পু হেয়ার কালার কি ব্যস্ত জীবনধারার জন্য একটি গেম চেঞ্জার?

দ্রুতগতির বিশ্বে সময় খুবই মূল্যবান। ক্যুইক ডেলিভারি থেকে শুরু করে, অন-ডিমান্ড স্ট্রিমিং পর্যন্ত, আমরা আমাদের ব্যস্ত সময়সূচীর সঙ্গে মানানসই সঠিক সমাধান খুঁজছি। ঠিক তেমনই, প্রাচীন পদ্ধতিতে চুল রং করার জন্য যে পরিমাণ সময় লাগে, সেই পরিমাণ মূল্যবান সময় আসলে অপচয় করেন অনেকে। অথচ, ইন্সট্যান্ট শ্যাম্পু হেয়ার কালার ব্যবহার করলে সময় যেমন বাঁচবে, ঠিক তেমনই চুলের সঠিক স্বাস্থ্যরক্ষাও হবে।

শ্যাম্পু হেয়ার কালার হল এমন একটি উদ্ভাবনী হেয়ার কালারি, যা চুলের মধ্যে আটকে থাকা ধুলোময়লা দূর করার পাশাপাশি, পাকা চুলকে কালো করে। অর্থাৎ, হেয়ার ডাই-এর রূপান্তরকারী শক্তিকে একত্রিত করে। চুলের প্রাচীন রঞ্জকগুলির পরিবর্তে, হেয়ার কালার-এর এই আধুনিক উপকরণ ধীরে-ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। আসলে, চুলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে শ্যাম্পু হেয়ার কালার খুবই কার্যকরী একটি উপকরণ। ব্যবহারকারীদের কাছে এটি একটি অতন্ত সহজ এবং ঝামেলামুক্ত প্রক্রিয়া। কিন্তু, হেয়ার কালার শ্যাম্পু ব্যস্ত জীবনধারার জন্য কেন একটি গেম চেঞ্জার উপকরণ, এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দিয়েছেন এইচআরআইপিএল-এর গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান শৈবাল পট্টনায়েক।

সুবিধাজনক উপাদান: শ্যাম্পু হেয়ার কালার এর স্ট্যান্ডআউট বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হল এর অতুলনীয় সুবিধা। চুল রঙ করার ঐতিহ্যগত পদ্ধতিগুলি সময়সাপেক্ষ হতে পারে, প্রায়শই একাধিক পদক্ষেপ এবং সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। বিপরীতে, শ্যাম্পু হেয়ার কালার প্রক্রিয়াটিকে এক ধাপে সরল করে দেয় – ধোয়া এবং রঙ করা সবটাই। শ্যাম্পু হেয়ার কালার এর অন্যতম সুবিধা হল– আপনার চুল কালার করার জন্য কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। আপনি নিজেই চুলে রং করতে পারবেন। কোনও মিশ্রণের প্রয়োজন নেই। কোনও ব্রাশ ব্যবহারের ঝামেলাও নেই। এই পণ্যটি ব্যবহারকারীদের অতিরিক্ত সময় বা পরিশ্রমের প্রয়োজন ছাড়াই তাদের চুল রং করতে সাহায্য করে।

সময় এবং মান বাঁচায়ঃ শ্যাম্পু হেয়ার কালার দ্রুত কার্যকরী একটি গেম-চেঞ্জার। ঐতিহ্যগত সামগ্রীর ব্যবহারে চুলের  রং ক  লে, সেই সুফল প্রকাশ পেতে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা সময় নিতে পারে, তবে শ্যাম্পু হেয়ার কালার ৫ থেকে ১০মিনিটের মধ্যে কাজ করে। উদ্ভাবনী সূত্রগুলি নিশ্চিত করে যে, রঙের রঞ্জকগুলি দ্রুত এবং কার্যকর ভাবে প্রবেশ করছে। গতি সত্ত্বেও, মানের সঙ্গে কোনও আপস করতে হয় না। শ্যাম্পু হেয়ার কালার প্রাণবন্ত, দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল প্রদান করে, যা ঐতিহ্যবাহী রঞ্জকগুলির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বাদাম তেল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানে সমৃদ্ধ, এই উপকরণগুলি শুধুমাত্র রং-ই করে না বরং চুলকে কন্ডিশন করে, এটিকে চকচকে, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর চেহারা দেয়।

একাধিক ভূমিকাশ্যাম্পু হেয়ার কালার অবিশ্বাস্যভাবে বহুমুখী। কারণ, যে-কোনও রকম চুলের সমস্যা দূর করে। আপনি ধূসর রঙ ঢাকতে চান, আপনার বর্তমান রঙ রিফ্রেশ করতে চান কিংবা একটি নতুন শেড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান, আপনার জন্য একটি শ্যাম্পু হেয়ার কালার-ই যথেষ্ট। গ্রে কিংবা ব্ল্যাক শ্যাম্পু হেয়ার কালার সবার মনের ইচ্ছে পূরণ করে।

উপরন্তু, শ্যাম্পু হেয়ার কালারটির অ্যাক্সেসযোগ্যতা এটিকে আরও কার্যকরী করে তোলে। কারণ, যাদের কাছে নিয়মিত পার্লারে যাওয়ার সময় বা সংস্থান নেই, তাদেরও ইচ্ছেপূরণ করে খুব সহজে এবং অল্প খরচায়। তাই বলা যায়, এটি চুলের রং করার প্রক্রিয়াকে সর্বজনীন করে, প্রত্যেককে ঘরে বসে পেশাদার-চেহারার ফলাফল উপভোগ করতে দেয়। এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী কিংবা পেশাদার,  সবাইকে সুবিধে দেয়। তাই, যারা সুন্দর এবং স্বাস্থ্যোজ্জল চুল পেতে চান, তাদের জন্য শ্যাম্পু হেয়ার কালার নিখুঁত সমাধান দেয়।

বাড়িতে নিজের হাতে বানিয়ে খান এবং খাওয়ান স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস

চিঁড়ে-পনির চাপ, টিক্কি পেঁয়াজি কিংবা মুচমুচে আলুবড়া-য় জমে উঠুক প্রতিটি বিকেল কিংবা সন্ধে। বাড়িতে নিজের হাতেই বানিয়ে নিন এইসব মুখরোচক স্ন্যাকস।

চিঁড়েপনির চাপ

উপকরণ: ১ কাপ চিঁড়ে, ১৫০ গ্রাম পনির, ২টো আলু সেদ্ধ, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা কুচো, ১ চামচ কাঁচালংকা কুচো, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১ ছোটো চামচ আমচুর, ১ বড়ো চামচ সাদা তিল, ১ বড়ো চামচ চালমগজ, ১ বড়ো চামচ পেঁয়াজকুচো, ৮-১০টা লম্বা টুথপিক, স্বাদমতো নুন এবং স্বাদ বাড়াতে নিন ‘সুমন’ ব্র্যান্ড-এর রিফাইন্ড তেল পরিমাণ মতো।

প্রণালী: চিঁড়ে ধুয়ে জল শুকিয়ে নিন। পনির ভেজে নিয়ে তার সঙ্গে চিঁড়ে, সেদ্ধ আলু, পেঁয়াজ, লংকাকুচো, ধনেপাতাকুচো, চালমগজ, আমচুর, চাটমশলা এবং স্বাদমতো নুন মিশিয়ে চটকে নিন ভালো ভাবে। এবার লম্বা লম্বা আকারে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রাখুন। ওর উপর সাদা তিল চেপে বসিয়ে দিন। এবার টুথপিক দিয়ে গেঁথে নিন প্রত্যেকটিকে এবং ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যখন খাওয়ার ইচ্ছে হবে তখন ফ্রিজ থেকে বের করে, ‘সুমন’ ব্র্যান্ড-এর রিফাইন্ড তেল দিয়ে ভেজে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

টিক্কি পেঁয়াজি

উপকরণ: ১ কাপ চালের গুঁড়ো, ২ টো লাল পেঁয়াজ, সামান্য পেঁয়াজপাতা, ১ চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ চামচ কাঁচালংকার কুচো, ১ চামচ আজোয়ান, ১ ছোটো চামচ লাল লংকার কুচো, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১ বড়ো চামচ মুগ ডাল ভেজানো, ১ বড়ো চামচ ধনেপাতা কুচো, পরিমাণ মতো তেল, ছোলার বেসন এক বড়ো চামচ এবং নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: প্রথমে পেঁয়াজ লম্বা লম্বা করে কুচিয়ে রাখুন। পেঁয়াজপাতাও কুচিয়ে নিন। এবার হলুদগুঁড়ো, কাঁচালংকার কুচো, আজোয়ান, লাল লংকার কুচো, চাটমশলা, ভেজানো মুগ ডাল, পেঁয়াজ কুচো, কুচোনো পেঁয়াজপাতা, স্বাদমতো নুন এবং ধনেপাতা কুচো ভালো ভাবে মিশিয়ে রাখুন। এর সঙ্গে সামান্য জল সহযোগে চালের গুঁড়ো আর ছোলার বেসন মিশিয়ে ছোটো ছোটো ভাগ করে চ্যাপটা আকার দিন এবং পরিমাণ মতো তেল গরম করে ভাজুন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেছে সুস্বাদু টিক্কি পেঁয়াজি৷ প্লেটে সাজিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম।

মুচমুচে আলুবড়া

উপকরণ: ৩-৪টে আলু সেদ্ধ, রসুনকুচো ১ চামচ, ১ ছোটো চামচ আদাকুচো, ১ ছোটো চামচ লাল লংকার গুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১ ছোটো চামচ কসৌরি মেথিপাতা, স্বাদমতো নুন এবং পরিমাণ মতো তেল।

প্রণালী: সেদ্ধ আলুর খোসা ছাড়িয়ে চটকে রাখুন। কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে রসুন এবং আদাকুচো, নুন ও লাল লংকার গুঁড়ো দিয়ে ভেজে নিন। এবার চটকে রাখা সেদ্ধ আলুর সঙ্গে আদা-রসুন ভাজা মিশিয়ে, ওর সঙ্গে চাটমশলা, কসৌরি মেথিপাতা এবং নুন মেশান। এরপর সমস্ত মিশ্রণ ছোটো ছোটো ভাগ করে চ্যাপটা আকার দিন এবং ননস্টিক প্যান-এ হালকা আঁচে ভাজুন মুচমুচে করে। সবশেষে ধনেপাতার চাটনি দিয়ে পরিবেশন করুন গরম গরম।

বর্ষাকালে হিরে এবং হিরের গয়নার যত্ন নেবেন কীভাবে?

বর্ষা-র প্রকৃতি বড়ো খামখেয়ালী। এই বৃষ্টি তো এই রোদ। তাই কখনও অনুভূত হয় অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, আবার কখনও ভ্যাপসা গরম। তবে বর্ষাকালে যা তীব্র হয়ে ওঠে, তা হল-স্যাঁতস্যাঁতে ভাব। সবকিছুর উপর যেন একটা জলীয় আস্তরন পড়ে যায়। আর ঠিক এই কারণে বর্ষাকালে অনেক মূল্যবান জিনিসের রক্ষণাবেক্ষণ খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। বিশেষকরে হিরের গয়না-র বাড়তি যত্ন নিতে হয় বর্ষাকালে। কারণ,   বর্ষাকালে ভ্যাপসা গরমে অনেক সময় শরীরে ঘামের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই বর্ষাকালে হিরের গয়না ব্যবহার করলে,  সেই ব্যবহৃৎ গয়নার সঠিক যত্ন না নিলে, গয়নার দীপ্তি এবং সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতএব, বর্ষাকালে অস্বস্তি কাটাতে শরীরের যেমন বাড়তি যত্ন নেবেন, ঠিক তেমনই আপনার ব্যবহৃৎ দামি  রত্নালংকারের যত্ন নেওয়াও আবশ্যক।

মাথায় রাখতে হবে, হিরে এক মূল্যবান রত্ন, তাই হিরের অলংকারের যত্ন নিতে হবে বিশেষ ভাবে।  শুধু তাই নয়, বর্ষাকালে ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে ত্বককে বাঁচানোর জন্য যে-সব কেমিক্যাল (প্রসাধন) ব্যবহার করেন অনেকে, তারও কিছু কু-প্রভাব পড়ে ব্যবহৃৎ হিরের গয়নার  উপর।  তাই, হিরের সৌন্দর্য এবং মান বজায় রাখার পদ্ধতি জেনে রাখা জরুরি। এই বিষয়ে তুলে ধরা হচ্ছে  ‘সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মণ্ডস’-এর  বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

রাসায়নিক থেকে  আপনার হিরেকে রক্ষা করুন। লোশন এবং স্প্রে সরাসরি যেন হিরের গয়নায় না লাগে। কারণ, এই সমস্ত কেমিক্যাল হিরে এবং হিরের গয়নার ক্ষতি করতে পারে। মনে রাখবেন, হিরে যদি কোনও কেমিক্যালের সংস্পর্শে আসে, তাহলে শুধু সৌন্দর্যই নষ্ট নয়, হিরের ক্ষয়ও হতে পারে। অতএব, এই মূল্যবান রত্নের সৌন্দর্য এবং গুণমান বজায় রাখার চেষ্টা করুন। বর্ষাকালে ত্বক বাঁচানোর জন্য কোনও লোশন ব্যবহার করার আগে হিরের গয়না খুলে রাখুন এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করার একটু পরে আবার পরুন। এরফলে মূল্যবান হিরেকে কেমিক্যাল-এর ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন।

সমুদ্রের নোনা জল এবং ক্লোরিন জল এড়িয়ে চলুন। সমুদ্রের জলে স্নান করার আগে হিরের গয়না খুলে রাখুন। কারণ, নোনা জল হিরের জন্য ক্ষতিকারক। এরই পাশাপাশি সুইমিং পুল-এ থাকা ক্লোরিন থেকেও হিরেকে বাঁচান।  মনে রাখবেন, নোনা জল এবং ক্লোরিন যুক্ত জল হিরেকে বিবর্ণ করে দিতে পারে এবং ক্ষয়ও হতে পারে। শুধু তাই নয়, নোনা জল এবং ক্লোরিন যুক্ত জল হাতের আঙুলে লাগলে আঙুল শিথিল হয়ে হিরের আংটি খুলে পড়ে যেতে পারে। তাই সতর্কতা জরুরি।

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন – সঠিক স্টোরেজ আপনার হিরের গয়নার সৌন্দর্য রক্ষা করতে সাহায্য করবে। তাই জেনে নিন কোথায়, কীভাবে সংরক্ষণ করবেন হিরের গয়না। সাধারণত হিরের গয়না সবসময় পরেন না বেশিরভাগ মানুষ। তাই যখন হিরের গয়না পরবেন না, সেই সময় এর সংরক্ষণ করুন সঠিক ভাবে। হিরেকে রাখুন স্বাভাবিক তাপমাত্রা যুক্ত জায়গায়। সেইসঙ্গে আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, হিরের গয়না যেন অন্যান্য অলংকারের সঙ্গে না থাকে। কারণ, অন্য গয়নার সঙ্গে থাকলে স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। তাই ‘সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মণ্ডস’-এর বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আপনার হিরের গহনাগুলিকে আলাদা জিপ পাউচে সংরক্ষণ করুন। অথবা  সাধারণ নরম মসলিন কাপড়ে মুড়িয়ে রাখুন৷

হিরের অলংকারগুলিকে পরিষ্কার রাখুন, কারণ বর্ষাকালে ঘাম এবং ময়লা জমতে পারে আপনার হিরের গয়নায়। তাই হিরের গয়নাকে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সপ্তাহে একবার, আপনার হিরের গয়না কয়েক ফোঁটা লিক্যুইড সাবান দিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য জলে ভিজিয়ে রাখুন। নীচের দিকে এবং খাঁজে থাকা কোনও ময়লা পরিষ্কার করতে একটি নরম টুথব্রাশ বা অন্য কোনও ছোটো ব্রাশ ব্যবহার করুন। এরপর একটি নরম কাপড় দিয়ে মুছে রাখুন।

যত্ন সহকারে ব্যবহার করুন, কারণ হিরে কঠিন পদার্থ হতে পারে, কিন্তু সবকিছুরই ক্ষয়ক্ষতি আছে। দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি রোধ করতে আপনার হিরের গয়না যত্ন সহকারে ব্যবহার করুন। খেলাধুলা, বাগান করা বা বাড়িতে ধোয়ামোছার কাজ করার সময় হিরের গয়নার যত্ন নিন।

এই সহজ কিন্তু কার্যকর টিপস অনুসরণ করলেই, আপনি আপনার হিরে রক্ষা করতে পারবেন সহজেই।

ই’বেবি (শেষ পর্ব)

—এখন দেখলে তোমার কষ্ট হবে। হুইলচেয়ারেই সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। যেদিন মন ভালো থাকে ওই অবস্থাতেই আমার জন্যে চা করে, টিফিন বানায়, না হলে গুম মেরে বসে থাকে। প্রথম প্রথম দেখে দুজনেরই খুব কষ্ট হতো। এখন মনে হয় কষ্টটাকেই ও নিজের পোশাক করে নিয়েছে।

শেষের কথাগুলোর সাথে অলোকাদির ফোঁপানির শব্দও সুমনার কানে গেল।

—ঘুড়ির হাজব্যান্ডের চাকরির কিছু হয়নি?

—চেষ্টা করলে হয়ে যেত। কিন্তু এই রকম একজন যার দুটো পা নেই, তার কী করে কাজ হবে বলো? তাছাড়া ওকে নিয়ে বারবার অফিসেই বা কীভাবে যাব? শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা পয়সাও কিছু দেবে বলে মনে হয় না! উলটে ওর নামে নানারকম অপবাদ দিচ্ছে। আমার আর এই সব ভালো লাগে না। তার থেকে মনে হয় এই ভালো আছে। তবে একটা চিন্তা তো সব সময় থাকে, আমার অবর্তমানে ঘুড়ির কী হবে?

—আবার দেখাশোনা করে বিয়ে দিয়ে দাও।

—একটা খোঁড়া মেয়ের কি অতো সহজে বিয়ে হয়? তোমার ব্যাপারটা শুনে তাই তাড়াতাড়ি চলে এলাম। এবার যদি একটু গাইড করে দাও। এখানেও ভয়, যদি সাকসেসফুল হয় তাহলে যে আসবে তারই বা ভবিষ্যৎ কী?

—তোমরা কোনও হাসপাতালে যাচ্ছ না কেন?

—গেছিলাম, কয়েক মাস আগে ঘুড়ি কোনও একটা ম্যাগাজিনে আইভিএফ, আইইউআই, নিয়ে কী সব পড়ছিল। তারপর একদিন ডাক্তারের কাছেও নিয়ে গেলাম। ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াটাও খুব কঠিন৷ ওকে যে-ডাক্তার দেখছিল তাকেও ব্যাপারটা জানালাম। আসলে সাধারণ ভাবে তো ওর কিছু হবে না। দুটো পায়ের থাইয়ের নীচ থেকে বাদ হয়ে গেছে। তার উপর অ্যাক্সিডেন্টের সময় একটা ওভারিতেও একটু সমস্যা হয়।

—তাহলে তুমি কিন্তু ভালো ভাবে ডাক্তারের সাথে কথা বলে এগোবে। আমাকেও ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হয়েছে, একটা সার্টিফিকেট নিতে হয়েছে।

—সে ঠিক আছে। তুমি আমাকে পুরো প্রসেসটা একবার বলে দাও।

—সে রকম কিছু না। ইনসেমিনেশন কিট অর্ডার দিলাম। ওটা পৌঁছোনোর পর অনলাইনে স্পার্ম অর্ডার দিলাম। এটা একটু দেখেশুনে দিতে হবে। আইইউআই, রেডি স্ট্র স্পার্ম— এই হোম ইনসেমিনেশনের জন্যে খুব এফেক্টিভ। আইসিআই-এর দু’গুন বা আইইউআই মোটো টেন স্ট্র স্পার্মের প্রয়োজন হয়। মোটো টেন মানে প্রতি মিলিলিটারে টেন মিলিয়ন মুভিং স্পার্ম সেল। পিরিয়ডসের দিনটা একটু খেয়াল রাখতে হবে।

—অনলাইনে এটা কি সম্ভব?

—দ্যাখো আমাদের দেশে এখনও স্পার্মের হোম ডেলিভারি আরম্ভ হয়নি। বিদেশে এটা খুব সাধারণ ব্যাপার। আমি একটা সেন্টারের স্পার্ম ব্যাংক থেকে আনিয়েছিলাম। ওরা একটা খুব সুন্দর কন্টেনার করে পাঠানোর ব্যাবস্থা করেছিল। আসলে স্পার্মকে ঠিক রাখতে খুব ঠান্ডা লাগে, লিক্যুইড নাইট্রোজেনের প্রয়োজন হয়— এটাই বেশ ঝামেলার। ওরা আগে আমাকে একটা ডেটাবেস পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি একজন ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করে তবে নিয়েছিলাম। আসলে ডোনারের ফ্যামিলি হিস্ট্রি, রোগ ব্যাধি এমনকী জেনেটিক স্ট্রাকচার, এডুকেশন, আইকিউ— এই সব কিছু এক্ষেত্রে খুব ম্যাটার করে। তার পর অ্যাডভোকেটের সাথেও কথা বলেছি।

—অ্যাডভোকেট!

—হ্যাঁ। আমি অ্যানোনিমাস ডোনার নিয়েছি। কিন্তু বলা যায় না, কোথা থেকে কে এসে যদি পেরেন্টহুড দাবি করে? বিদেশে এরকম বহু ঘটনা ঘটেছে।

সুমনার বাড়ি থেকে বেরিয়ে অলোকাদির মনটা সেরকম খুশি হল না। সুমনা কী কিছু লুকিয়ে গেল, কিন্তু আর ঠিক কি লুকাবে? একটা ব্রোশিয়োর দিল। কী যেন নাম বলল, মোসি কিট। দামও বিরাট! কী আমড়ার জিনিস আছে, ওই তো ছোটো বাটি, তাকেই কন্টেনার বলছে। একটা সিরিঞ্জ আর চামচ। নাইট্রোজেন না কীসের যেন একটা কন্টেনার বলল। অলোকা সব কিছু মনে করতে পারলেন না।

বাসে চেপেও ইউটিউবে ভিডিও দেখছিলেন। মেয়েটা কি একটু অন্যরকম ভাবে থাকতে পারবে? কে জানে প্রতিদিন অফিস এসে ভয়ে ভয়ে থাকে। আয়া মেয়েটাকে প্রতি ঘন্টায় ফোন করে খোঁজ খবর নেয়। একা রাখতে এক্কেবারে সাহস হয় না। কিন্তু আজকালকার যুগে কেউ কি মানুষকে, কোনও উপকার করে? এটা করতে গেলেও তো সাত ঝামেলা।

ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই আয়া ভদ্রমহিলার পানসে মুখটা দেখে অলোকা ম্যাডাম আবার ঘাবড়ে গেলেন।

—আজ আবার কী হল?

—কিচ্ছু খায়নি, নামেওনি। বিছানায় বসে শুধু কেঁদে যাচ্ছে। ওর দুই বান্ধবীর একজনের বিয়ে, আরেক জনের বাচ্চা হয়েছে। তোমাদের ওই ফেসবুক না কিসে দেখে কান্নাকাটি করছে।

অলোকা ম্যাডাম একটু থমকে দাঁড়ালেন। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতরে একটা ব্রোশিয়োর আছে। ফোনে ভিডিও-র লিংক। কিন্তু এখন কি ঘুড়ির কাছে গিয়ে সব কিছু বলা ঠিক হবে? অবশ্য বললেই তো আর…।

কিছু সময়ের জন্যে ড্রয়িং রুমের চেয়ারে বসলেন। চোখ দুটো বন্ধ করলেও রাস্তা পেলেন না। উঠে ঘুড়ির রুমে গিয়ে দেখলেন ও বিছানায় বসে কেঁদেই যাচ্ছে। পাশে আয়া দাঁড়িয়ে আছে। অলোকাদি চোখের ইশারাতে আয়াকে বাড়ি যেতে বললেন তারপর বিছানাতে বসে ঘুড়ির মাথায় হাত বুলিয়ে সুমনার কথাগুলো বললেন।

ঘুড়ি সব কিছু শোনবার পর চোখ দুটো বন্ধ করে কী সব ভাবল। কেঁদে কেঁদে ওর চোখদুটো কেমন যেন হয়ে গেছে। মায়ের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলে উঠল, ‘মা, তুমি আমার এই দুটো পা ঠিক করবার একটা ব্যবস্থা করে দাও। মা হতে গেলে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, একটা কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। আজ সারাদিন এই সব ভাবলাম।’

অলোকা ম্যাডাম কথাগুলো শুনতে শুনতে ঘুড়ির দুটো কাটা পায়ের মাঝের শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকলেন! কী দেখছিলেন কে জানে?

(সমাপ্ত)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব