দিকবদল (শেষ পর্ব)

ফোনের রিংটোন। খেয়াল করে বুঝতে পারল সুকুমার, বাজছে ওর নিজেরটাই। সকালবেলাই ফোন করে বউ খোঁজ নিয়েছিল ঠিক কখন সব মিটতে পারে।

ব্যাগ থেকে ফোন বের করে দেখল ছেলে। সাধারণত বেলার দিকে করে না। রাতে ফোন করে মায়ের সঙ্গে কথা বলে। রিসিভ করে কানে দিল সুকুমার।

—মা বলল ভ্যাকসিন নিতে এসেছ, সহজ গলায় বলল বাপ্পা। গরমটা এর মধ্যে আরও বেড়েছে। ঘাম আর অস্বস্তিও।

লাইনে চোখ রেখে সুকুমার বলল, “হ্যাঁ, মাঝরাত থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি।’

—মাঝরাত! কই, মা তো কিছু বলল না। ফোনের অন্যপ্রান্তে বাপ্পা যেন অবাক !

বেশি কথা শুধু ছেলের সঙ্গে নয়। কারওর সঙ্গেই আজকাল এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। বলল, ‘কী করব! খুব ভিড় হচ্ছে।’

—খুব সাবধান। ভিড় থেকেই স্প্রেড করছে বেশি। ঠিক আছে, রাতে ফোন করছি। উপদেশ সেরেই ফোন ব্যস্ত ভাবে ছেড়ে দিল ছেলে।

ফোন ব্যাগে ঢুকিয়ে সুকুমার দেখল, ভ্যাকসিন নিয়ে তিনজন গটগট করে বেরিয়ে এল। যতটা তাড়াতাড়ি হবে মনে হয়েছিল, ততটা হচ্ছে না। সামনে দাঁড়িয়ে স্বপন এখন নিজের ফোন ঘাঁটছে। একমনে কীসব টাইপ করছে।

সূর্যের তাপ ক্রমশই বাড়ছে। পিছনে হই হট্টগোলের আওয়াজ বাড়তে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল সুকুমার। পুলিশ এসে হাজির। লাঠি হাতে কয়েকজনকে কড়া গলায় কিছু বোঝাচ্ছে। সামনে তাকিয়ে দেখল আরও দু’জন ভ্যাকসিন নিয়ে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে এল। এখনও আঠারোজন। সময় অনেকটাই লাগবে মনে হচ্ছে। শরীরটাও বেকায়দা লাগছে।

ব্যাগ থেকে ছাতাটা বের করে খুলে নিজের মাথার উপর মেলল। আর কিছুক্ষণ। তারপর বাড়ি ফিরে গেলেই ঝামেলা থেকে মুক্তি। বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর মাথাটা শুধু একবার ঝিমঝিম করে উঠল। তারপর চোখের সামনে খুব গাঢ় অন্ধকার। সুকুমারের মনে হল, ওকে যেন কেউ এক ঝটকায় ধরে নিল।

চোখ মেলার পর সামনে কয়েকজনের জটলা। কাছাকাছি কেউ নেই। দূর থেকে কথা চালাচালি। পিপিই কিট পরা একজন একটু দূর থেকে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘প্রেসার আছে আপনার?’

মাথা দু’দিকে নেড়ে উঠে বসার চেষ্টা করল। পান মশলার গন্ধ পাচ্ছিল বেশ কিছুক্ষণ ধরে। বুঝতে পারল, ওকে ধরে সামনের সিঁড়িতে বসিয়েছে স্বপন।

সামনে একটু ফাঁকা হতে মাস্কের আড়াল থেকে যেন একটু চাপা হাসি এল স্বপনের, “মাইরি! ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন কাকু। ভাগ্যিস ধরে নিয়েছিলাম না হলে তো মাথাটা ফট হয়ে যেত। একটু জল মারুন মুখে।

—না, না, আমি ঠিক আছি, সোজা হয়ে বসল সুকুমার। আসলে সকাল থেকে কিছু খাওয়া হয়নি তো…

—এক কাজ করুন কাকু। আপনি ভ্যাকসিনটা এখুনি নিয়ে বাড়ি চলে যান। স্বপনের চোখে ইশারা খেলে গেল।

—কী ভাবে… মানে আমার তো নাম্বার আসতে এখনও দেরি।

—ধুর। আপনি এখানকার ব্যাপার-স্যাপার কিছু জানেন না। গলা একটু নামিয়ে মুখটা সামান্য এগিয়ে নিয়ে এল স্বপন, ‘আমি ভ্যাকসিন ফ্যাকসিন নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে নেই।”

অবাক হল সুকুমার। বলল, ‘মানেটা কী!”

—কাকু, ভ্যাকসিন লাইনে এখন জায়গা বিক্রি হয়। বোঝেন সেটা? বোকার মতো তাকিয়ে সুকুমার।

স্বপন বলল, “আমি আর দু’জন রোজ রাতে অন্যের হয়ে লাইনে দাঁড়াই। সময় এলে পার্টিকে ফোন করে আনিয়ে নিই। তারা ভ্যাকসিন নেয়। আর আমরা দাঁড়ানোর কিমৎ বুঝে নিই।

উঠে দাঁড়িয়ে সুকুমার কঠিন গলায় বলল, “আমার কাছে টাকা নেই। চাকরিটা গেছে। টাকা দিতে পারব না আমি।”

—কে বলেছে দিতে আপনাকে, জিন্সের পেছন পকেট থেকে পানমশলার প্যাকেট বের করল স্বপন, চাকরি তো আমারও গেছে এই লকডাউনে। তা ছাড়া চারদিকে এত সেবা করার ধুম পড়েছে। দেখে আমাদেরও তো দিমাগ কখনও কখনও নড়ে ওঠে নাকি!

চুপ করে দাঁড়িয়ে, হাঁ করে স্বপনের পানমশলা চেবানো মুখ দেখতে থাকে সুকুমার। ওদিকে সোজা লাইন তখন অনেকটাই বেঁকে গেছে…

(সমাপ্ত)

এফএমডি বাংলা নিবেদন করল মিউজিক ভিডিয়ো ‘ফাউ–দ্য ফুচকা সং’

শুধু কলকাতাতেই নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয় ফুচকা। ‘ফুচকা’ ছাড়াও ‘গোলগাপ্পা’, ‘পানিপুরি’ প্রভৃতি নানারকম নামে পরিচিত এই মুখরোচক খাদ্যবস্তুটি। শুধু বাঙালিরাই নন, বিভিন্ন ভাষাভাষির মানুষ ভালোবাসেন ফুচকা খেতে। তবে ফুচকা প্রেমীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

লোভনীয় এই খাদ্যবস্তুটিকে নিয়ে হঠাতই গান তৈরির পরিকল্পনা করেন দীপঙ্কর নাগ। এরপর পরিকল্পনা মাফিক দীপঙ্কর নাগ গানটি লেখার দায়িত্ব দেন সৌম্য দেব বসু-কে। সেইমতো সৌম্য লিখে ফেলেন সুন্দর একটি গান। সৌম্য-র লেখা গানের কথায় খুব স্বাভাবিক ভাবে এসে যায় ‘ফাউ’ অর্থাৎ ‘এক্সট্রা’ শব্দটি। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১০ টাকার ফুচকা খেলেও ক্রেতা একটা ‘এক্সট্রা’ ফুচকা আবদার করে চেয়ে নেন ফুচকা বিক্রেতা-র থেকে।

যাইহোক, সবার ভালোলাগার এই খাদ্যবস্তু ফুচকা নিয়ে সৌম্য দেব বসু লিখেছেন ‘লংকা আলু আর গন্ধরাজ, তেঁতুল জলের সাথে অন্য স্বাদ, হোক যতই শাড়ি বা স্কার্ট, বাঙালি ফাউ না পেলে হয়ে যায় হার্ট’। আর সৌম্য-র লেখা এই গানে সুরারোপ করেছেন দীপজ্যোতি দে। গেয়েছেন সমীধ মুখার্জি এবং লগ্নজিতা চক্রবর্তী। মিউজিক অ্যালবামটির শিরোনাম ‘ফাউ—দ্য ফুচকা সং’।

কলকাতা-র গড়িয়াহাট অঞ্চলে গতকাল লঞ্চ করা হল ‘ফাউ—দ্য ফুচকা সং’ শীর্ষক এই মিউজিক ভিডিয়োটি। এটির আনুষ্ঠানিক লঞ্চ করেন গীতিকার সৌম্য দেব বসু, সুরকার দীপজ্যোতি দে, প্রযোজক রমেশ ভান্ডারি, মিউজিক ভিডিয়ো-র পরিচালক দীপঙ্কর নাগ এবং এই মিউজিক ভিডিয়োর দুই পারফর্মার শুভঙ্কর সাহা এবং  মাধুরিমা চক্রবর্তী।

পরিচালক জানিয়েছেন, শুভঙ্কর সাহা এবং মাধুরিমা চক্রবর্তী ছাড়াও, সৌমিলি চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় বিশ্বাস অভিনয় করেছেন এই মিউজিক ভিডিয়োতে।

মিউজিক ভিডিয়োটি প্রকাশিত হয়েছে এফএমডি বাংলা-র ইউটিউব চ্যানেলে। উদিতা পারফর্মিং আর্টস-এর সহযোগিতায় এফএমডি বাংলা নিবেদন করছে এই ‘ফাউ—দ্য ফুচকা সং’ শীর্ষক মিউজিক ভিডিয়োটি।

দিকবদল (পর্ব-০২)

পানমশলাখোর ফিরে এসেছে। বারে বারে কাকু বলছে বলে অস্বস্তি লাগছে সুকুমারের। মাথা দু’দিকে নেড়ে আবার লোকটার থেকে চোখ সরিয়ে নিল।

একটানা দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। অনেকেই সিমেন্টের মেঝের ওপর খবরের কাগজ পেতে বসে পড়েছে। কেউ কেউ লাইন রাখতে বলে দূরের সিঁড়িতে গিয়ে বসেছে। হসপিটাল থেকে বাড়ি খুব দূরে না হওয়ার জন্য হেঁটে আসতে দশ-পনেরো মিনিট লেগেছিল সুকুমারের। ভোররাতে এসেও চোখ ছানাবড়া! এখনই তেইশজন দাঁড়িয়ে পড়েছে। সময় এগিয়েছে, অস্বাভাবিক হারে লোক বেড়েছে। শরীরটা একেবারেই ভালো লাগছে না। এবার মনে হচ্ছে, বাড়ি ফিরে গেলেই হয়। দরকার নেই আর ভ্যাকসিন নিয়ে।

—হেব্বি ঝাড়পিট হবে জানেন তো, মশলাখোর ঠেলে মাস্ক নাকে তুলে বলল।

অন্যমনস্ক ভাবে সুকুমার বলল, ‘কীসের!”

—যাঃ বাওয়া! বুঝতে পারছেন না, এত লোকের তো ভ্যাকসিন জুটবেই না কপালে৷

—না পেলে তো ফেরত যেতেই হবে। কী আর করার আছে। কাল এসে আবার লাইন দিতে হবে।

—আর কালকে আব্বার কিচাইন। সবাই এখন ভ্যাকসিন মারতে চাইছে না…।

কথার পিঠে কথা আর টেনে নিয়ে যেতে ইচ্ছে করল না সুকুমারের। লোকটাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার নাম কী?’

—স্বপন মন্ডল। আসলে গত হপ্তা থেকে সব বয়সের লোককে দেবে বলল না? ভিড়টা এর জন্য বহুত বেড়ে গেছে।

কথা অন্যদিকে যতই ঘোরানোর চেষ্টা করুক সুকুমার, বোঝা যাচ্ছে লোকটা মানে স্বপন এখন এসব নিয়ে কথা বলার মুডেই আছে। নিজের প্রথম ডোজটা নেওয়া হয়ে গেলেই ঠিক করে ফেলেছে, প্রতিমা মানে নিজের বউকেও প্রথম ডোজের ভ্যাকসিন দিইয়ে নেবে। ছেলেটা সে রকম টাকা পয়সা পাঠায় না, নিজের চব্বিশ বছরের চাকরিটা চলে গেল। না হলে সরকারি হসপিটালে বিনা পয়সায় টিকা নিতে আসত! প্রাইভেটে টাকা খরচ করে ঠিক ব্যবস্থা করে ফেলত। এত ঝক্কি বা ভিড় থাকতই না হয়তো।

তিনজন পিপিই কিট পরে ওয়ার্ড রুমের দরজা খুলে ফেলল। এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোকজন প্রায় হন্তদন্ত হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। পেছন থেকে কে যেন চেঁচিয়ে উঠল, আরে একটু দূরে দাঁড়ান না। কখন থেকে বলছি। ঘাড়ের উপর উঠে পড়ছেন তো।

একজন পিপিই কিট পরে একটা টুলের ওপর ওয়ার্ড রুমের বাইরে এসে বসল। তার মুখ-চোখ-শরীর কিছুই দেখার উপায় নেই। গ্লাভস পরা বাঁ হাতে স্যানিটাইজার স্প্রেয়ার। ডানহাতে থার্মাল গান জ্বর পরীক্ষার জন্য। প্রথম দাঁড়িয়ে থাকা দু’তিন জনকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘ভোটার আই কার্ড বা আধার কার্ড যা এনেছেন, সঙ্গে নিয়ে নেবেন ভেতরে দেখাতে হবে। অরিজিনাল কিন্তু। প্রথমবারে ক’জনকে দেওয়া হবে একটু পরেই জানিয়ে দিচ্ছি। ধাক্কাধাক্কি করবেন না।’

সঙ্গে আনা ছোটো বাজার ব্যাগটায় রেডি করে রেখে দিয়েছে নিজের অরিজিনাল আধার কার্ড। কেউ কেউ বের করে হাতে নিয়ে নিল। সুকুমার দেখল, স্বপনও কার্ড হাতে নিয়ে নিল। সুকুমারের মনে হল, কমবয়সি থেকে বেশিবয়সি— মৃত্যুভয় ধরেছে এ শহরের সকলের।

ওয়ার্ডের ভেতর থেকে দু’জনের মধ্যে একজন এসে দাঁড়িয়েছে দরজার সামনে। গ্লাভস পরা হাতে একটা কাঠবোর্ডের উপরে কাগজ দেখে নিয়ে বেশ চেঁচিয়েই বলতে শুরু করল আজ ফার্স্ট ডোজ। মোট একশো পঁচাশি জন পাবেন প্রথমে। তিনটের মধ্যে মিটে গেলে আরও তিরিশ জনকে দেওয়া হবে। যারা আগে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তাদেরকেই দেওয়া হবে। অযথা ভিড় না বাড়িয়ে দু’শো কুড়ির পরে যারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তারা ফেরত যান। কালকে এসে আবার লাইন দেবেন।’

মুখস্থর মতো কথাগুলো বলে লোকটা ওয়ার্ডের ভেতরে বড়ো বড়ো পা ফেলে ঢুকে গেল। পেছনদিকে তাকিয়ে দেখল সুকুমার। লোকটার কথা শেষ হতেই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গেছে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে যারা, মাথা তুলে ওয়ার্ডের দিকে দেখছে।

(ক্রমশ…)

দিকবদল (পর্ব-০১)

লোকটাকে আর সহ্য হচ্ছিল না সুকুমারের। প্রায় সাত-আট ঘন্টা ধরে একটানা চোখের সামনে। কত বয়স হবে, ওর থেকে ছোটোই হবে। বোধহয় চল্লিশের আশেপাশে। একটা টাইট রংচটা নীল কম দামি জিনসের সঙ্গে কালো গেঞ্জি পরে আছে। বুকের ওপর সাদা অক্ষরে ইংরাজিতে লেখা, তেরে পাস কেয়া হ্যায়?

লাইনে সবাই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে শুধু দাঁড়িয়ে আছে তাই নয়, বেশ কয়েকজনের মুখে মাস্ক নেই। যাদের আছে, এলিয়ে পড়েছে নাকের ছিদ্রের নীচে। এ লোকটার মাস্ক থাকলেও অসংখ্যবার রাত তিনটে থেকে মুখ খোলা অবস্থায় দেখেছে সুকুমার। আর ততবার পানমশলার বিচ্ছিরি গন্ধ।

রাত পৌনে তিনটে থেকে চন্দননগর হসপিটালের এই ভ্যাকসিন ওয়ার্ডের সামনে লাইন দিয়েছে সুকুমার। বউ-এর সঙ্গে বেশ ক’দিন আলোচনা করেছে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে। প্রথমে একটু দ্বিধার মধ্যেই ছিল। বউই জোর দিয়ে পাঠিয়েছে। বলেছিল, ‘আমার তো পঁয়তাল্লিশও হয়নি। আর তুমি পঞ্চাশ পেরিয়েছ— মানেই রিস্ক তোমার একটু বেশি!”

সুকুমার নিজেও সে কথা জানে। বাহান্নর শরীরে কোনও রোগের বাস নেই। আছে শুধু একগাদা উদ্বেগ। বউ-এর কথা ভেবেই কেমন কিন্তু কিন্তু হচ্ছিল। পরে ভেবে দেখল, নিজে দোকান-বাজারটা করতে তাও বেরোয়। রোগ-জীবাণু কোথা থেকে বয়ে আনবে তার ঠিক ঠিকানা নেই। ভ্যাকসিন নেওয়া মানে বউকে কিছুটা হলেও সুরক্ষা দেওয়া।

কয়েকদিন খোঁজখবর করে যা জেনেছিল, তাতে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। রোজ প্রথম ডোজ পাবে দু’শো জন। এদিকে লাইন পড়ছে চারশোর উপর। মারামারি হাতাহাতি। বাঁচতে চাওয়ার কম্পিটিশন। ভিড়ে এখনও বিধিনিষেধ। সেসবের পরোয়া আর করছে কে। ফলে মাঝরাতে বেরিয়ে এসে সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছে।

সুকুমারের একমাত্র ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে চাকরি নিয়ে বেঙ্গালুরু গেছে, ঠিক ভাইরাস ঝামেলা শুরু হওয়ার আগে। লকডাউন হলেও ফেরেনি। বেঙ্গালুরুতে থেকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালিয়ে গেছে। ও শহরে থাকার খরচ খুব। বাবা-মা’কে টাকা পয়সা সেভাবে পাঠাতে পারে না। কলকাতার যে-জুতোর শোরুমে সুকুমার ম্যানেজারের চাকরি করত, লকডাউনের দু’মাসের মধ্যেই হাটিয়ে দিয়েছে। শেষ ক’মাস জীবন যে কোন দিকে যাচ্ছে, ঠিক বুঝে ওঠা যাচ্ছে না কিছুতেই!

—কাকু, জায়গাটা দেখবেন তো। একটু আসছি। কাউকে ঢুকিয়ে-ফুকিয়ে দেবেন না, বাওয়াল হয়ে যাবে কিন্তু! ডান হাতের কড়ে আঙুল তুলে টয়লেটের ভঙ্গিমা করে চলে গেল পানমশলাখোর।

কথার জবাব দিল না সুকুমার। এমনকী মাথাও নাড়েনি। নিজের পৃথিবীতে আজকাল এত হারিয়ে থাকে, অন্যের কথার জবাব কী দেবে, বুঝে উঠতে পারে না। লোকটার পোশাক, বলার ধরন কিছুই ভালো লাগার নয়।

চারিদিকে মাথা ঘুরিয়ে দেখল সুকুমার। ভিড় ক্রমশই বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না, ধাক্কাধাক্কি বা ঘেঁষাঘেষি যেভাবে চলছে ভয়ের কারণ। কে যে এর মধ্যে রোগ নিয়ে চলে এসেছে, বলা শক্ত।

পকেট থেকে মোবাইল বের করে সময় দেখল, পৌনে এগারোটা। পনেরো মিনিট এখনও বাকি কাজকর্ম শুরু হতে। তার আগে কিছুটা ধানাইপানাই চলবে।

ও দাঁড়িয়ে আছে চব্বিশ নম্বরে। যা জেনেছে, তাতে দু’শো জনকে দিতে ঘন্টা চারেক সময় লাগছে। বারোটার মধ্যেই সেক্ষেত্রে ওর ঝামেলা মিটে যাওয়া উচিত।

একমাত্র এই মহকুমা হসপিটালে এখন পুরোমাত্রায় কোভিড চিকিৎসা চলছে। খুব অবাক হয় সুকুমার। গোটা শহরে কি তার মানে আর কোনও রোগই হচ্ছে না! হলে তারা যাচ্ছে কোথায়? প্রাইভেট তো আর সবাইকার কম্ম নয়।

পিপিই কিট পরা একটা লোক হাতে ফাইল নিয়ে ঢুকল। উৎসুক চোখে অনেকেই তাকিয়ে দেখল। পুরো ভিড়টাকে যেন মেপে নিয়ে লোকটা আবার বেরিয়ে গেল।

মে মাস। ভীষণ গরম লাগছে সুকুমারের। পিছনের ভদ্রলোকের বয়স অনেকটাই। অপেক্ষা করছেন প্রায় সাড়ে তিনটে থেকে। ভোর হতেই ব্যাগ থেকে ফ্লাক্স বের করে চা খেয়ে একটা খবরের কাগজ পড়ে চলেছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে চায়ের তেষ্টা মিলিয়ে গিয়ে খিদে পাচ্ছে। হসপিটালের ক্যান্টিন খোলেনি কেন, বোঝা যাচ্ছে না! অক্সিজেন সিলিন্ডার একটা ট্রলিতে শুইয়ে একজন ওয়ার্ডবয় হন্তদন্ত হয়ে এমার্জেন্সির দিকে চলে গেল।

—কখন শুরু হবে, কিছু বলল কাকু?

(ক্রমশ…)

ডকু-ফিকশন ‘লাইটস ক্যামেরা মেগা’ উপহার দিলেন ড. তন্বী চৌধুরি

কলেজ অধ্যাপিকা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক তন্বী চৌধুরি তাঁর তৈরি ৫২ মিনিটের ডকু-ফিকশন ‘লাইটস  ক্যামেরা মেগা’-র পোষ্টার লঞ্চ করলেন দক্ষিণ কলকাতা-র একটি ক্যাফেতে। তন্বী ছাড়াও এই আনুষ্ঠানিক পোষ্টার লঞ্চ-এ অতিথি হিসাবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, ফিলম-মেকার পারমিতা মুন্সি, লেখিকা অমৃতা মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

তন্বীর এই ডকু-ফিকশনের বিষয় মেগা সিরিয়ালস এবং মেগা সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের অভিনয়-জীবন। তাই পোষ্টার লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে, টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত মেগা সিরিয়ালস এবং মেগা সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের অভিনয়-জীবন বিষয়ক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিচালক তন্বি এবং অতিথিরা প্রত্যেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

কলকাতার টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অসংখ্য মেগা সিরিয়াল বছরের পর বছর দর্শকদের মন মাতিয়ে রেখেছে। সেই টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে মেগা সিরিয়ালের জন্য বহু অভিনেত্রী প্রতিদিন আসেন নানারকম চরিত্রে অভিনয়ের উদ্দেশ্যে। তাদের মধ্যে কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন কেউ বা কিছু কাজ করে হারিয়ে যান। এই মহিলাদের অভিনয় জীবন, অভিনয়ের পথের নিরলস লড়াইয়ের কথা উঠে আসে অনন্যা, অমৃতা, পারমিতা এবং তন্বীর আলোচনায়। আসলে এই আলোচনা খুবই প্রাসঙ্গিক ছিল কারণ তন্বীর ডকু-ফিকশন-এ উঠে এসেছে এইসব বিষয়-ই।

বিদেশে বসে টিভি সিরিয়াল দেখতে-দেখতে এই ইন্ডাস্ট্রির সুখ-দুঃখ নিয়ে ছবি তৈরি করার তাগিদ অনুভব করেন তন্বী। রোড আইল্যান্ড কলেজের অধ্যাপিকা এবং পরিচালক ড. তন্বী চৌধুরি প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘লাইটস ক্যামেরা মেগা’ শীর্ষক এই ডকু-ফিকশনটি তাঁর ফিফথ প্রজেক্ট। যেহেতু মেগা ধারাবাহিকের অভিনেত্রীদের জীবন-জীবিকার বিষয় নির্ভর এই ডকু-ফিকশন, তাই নির্বাচিত কয়েকজনের সাক্ষাৎকারে সমৃদ্ধ এই ডকু-ফিকশন।

অবশ্য শুধু মেগা ধারাবাহিকের মুখ্য চরিত্রে রূপদানকারীরাই নয়, পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতাদের ক্ষমতায়ন ও লড়াইও নথিবদ্ধ করা হয়েছে এই ডকু-ফিকশনটিতে। এই প্রসঙ্গে তন্বী চৌধুরি আরও জানিয়েছেন, এই ডকু-ফিকশন-এর চল্লিশ শতাংশ ফিকশন।

বর্তমানে বাংলা ধারাবাহিকে ১৮ থেকে ৮৫ বছর বয়সি অভিনেত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি থেকে উঠে এসেও নিজেদের প্রতিভাকে তুলে ধরছেন। শুধু তাই নয়, প্রান্তিক মহিলাদের অভিনয়-সফরের তথ্যও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি যাঁরা এদের কাস্ট করেন, সেইসব নির্মাতা ও প্রযোজকদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে ‘লাইটস ক্যামেরা মেগা’ ডকু-ফিচারটিতে।

একজন মেয়ের অভিনয়ে আসার ইচ্ছে থেকে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করা পর্যন্ত তার ব্যক্তিগত জীবন যে নাট্যশাস্ত্রের ‘নব রস’ অর্থাৎ নয়টি রসের মধ্যে দিয়ে যায়, সেটিও এই ডকু-ফিকশনটিতে তুলে ধরেছেন পরিচালক।

এই তথ্যচিত্রটি একটি নন প্রফিটেবল রিসার্চ ওয়ার্ক। মেগা সিরিয়ালের অভিনেত্রীদের  উপার্জন, তাদের অধিকারবোধ, পরিবারের সদস্যদের সমর্থন অথবা বিরোধিতা এবং যাবতীয় প্রতিকূলতার কথা মূলত স্থান পেয়েছে এই ডকু-ফিকশনটিতে। কলকাতা-র নন্দন প্রেক্ষাগৃহ এবং এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের পর,  বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে এই ডকু-ফিকশনটি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তন্বী চৌধুরি।

তিলোত্তমা টরোন্টো (শেষ পর্ব)

মিউজিয়াম থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলাম জ্যাক লেটন ফেরি টার্মিনালে। এখান থেকেই ফেরি করে যেতে হবে টরোন্টো আইল্যান্ডে। টিকিট কেটে ফেরিতে করে টরোন্টো আইল্যান্ডে পৌঁছোতে পনেরো মিনিট মতো লাগল। ফেরি করে যাবার সময় টরোন্টো শহরকে দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল। ওন্টারিও হ্রদের বুকে এই আইল্যান্ড অনেকগুলো ছোটো ছোটো আইল্যান্ড নিয়ে তৈরি। ৫ কিলোমিটার লম্বা এই টরোন্টো আইল্যান্ডের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুব সহজেই হেঁটে যাতায়াত করা যায়। ফেরি থেকে নেমে আইল্যান্ডের দিকে এগোতেই দেখতে পেলাম ভীষণ ভিড়। এত ভিড় নায়াগ্রা ফলসেও চোখে পড়েনি। আরও একটু এগিয়ে গিয়ে বুঝতে পারলাম ভিড়ের মধ্যে সবাই প্রায় ইন্ডিয়ান। কাছেই একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম আমরা আজ একটা বিশেষ দিনের সাক্ষী হতে চলেছি।

টরোন্টোতে প্রতি বছর জুলাই মাসে ইন্ডিয়ান ফেস্টিভ্যাল হয়। অনেক রকম গান-বাজনা, নাটক, ধর্মীয় আলোচনা, খাবার দোকান— সব মিলে একটা ‘লিটল ইন্ডিয়া’র স্বাদ পেলাম বলা যেতে পারে। অনেকের সাথেই পরিচয় হল। জানতে পারলাম আমেরিকা থেকেও কিছু লোক এসেছে এই আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য। বিদেশের মাটিতে বসে একসাথে এতজন দেশের লোক দেখতে পেয়ে মনটা একটা অন্যরকম অনুভূতিতে ভরে গেল। অপ্রত্যাশিত ভাবেই একটা খুব সুন্দর দুপুর কাটিয়ে আবার ফেরি করে টরোন্টোতে ফিরে এলাম।

হোটেলে ফিরে একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার বেরোলাম টরোন্টোর বিখ্যাত সিএন টাওয়ারের উদ্দেশ্যে। রেস্তোরাঁ ৩৬০-তে ডিনারের জন্য বুকিং করা আছে। ১৯৭৬ সালে তৈরি এই টাওয়ার পৃথিবীর সর্বোচ্চ টাওয়ার হিসেবে গণ্য হতো। ২০০৯ সালে দুবাই এর বুর্জ খলিফা ‘সর্বোচ্চের’ খেতাবটি ছিনিয়ে নিলেও সিএন টাওয়ার আজও তার স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। ৫৫৩ মিটার উঁচু এই টাওয়ারে অনেক কিছু করার বা দেখার আছে। টাওয়ারের নীচে কফিশপে কিছুক্ষণ কফি খেয়ে সময় কাটানো যায়। সাথে যদি ছোটো বাচ্চা থাকে তবে তারা ছোটোদের ‘কিড জোন’-এ গিয়ে খেলাধুলো করতে পারে। কিছুটা সময় পাশের গিফট শপে কাটিয়ে কিছু সুভেনিয়র জাতীয় গিফট কিনে নেওয়া যেতে পারে।

এরপর উচ্চ স্পিড এলিভেটর পৌঁছে দেবে গ্লাস ফ্লোরে। অনেকের মতে এটাই টরোন্টোর সব থেকে জনপ্রিয় আকর্ষণ। প্রতি বছর দুই মিলিয়নের উপর টুরিস্ট এই টাওয়ারে ঘুরতে আসে। দর্শনার্থীরা গ্লাস ফ্লোর থেকে বাইরে বেরিয়ে দড়ি বাঁধা পথে হাঁটতে পারে। ৩৪২ মিটার উপর থেকে শূন্যে ঝুলে নীচের রাস্তা আর মানুষ জনের চলাফেরা দেখাটা যে গায়ে শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতা, সেটা হয়তো আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে একটাই সমস্যা, এটা দুর্বল চিত্তের লোকেদের জন্য নয়। এর পর ৩৪৬ মিটার উপরে মেইন অবজারভেশন লেভেলে কাচের জানালা দিয়ে ‘বার্ডস আই ভিউ’-এ টরোন্টো শহর দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই বলার নয়। আরও উপরে রয়েছে ‘স্কাই পড়’। এখানে উঠলে হাওয়ার সাথে সাথে টাওয়ারের দুলুনি স্পষ্ট অনুভব করা যায়।

আমাদের যেহেতু রেস্তোরাঁ ৩৬০-তে বুকিং করা ছিল তাই আমাদের টাওয়ারের বিভিন্ন লেভেলে ঘুরে দেখার জন্য আর আলাদা করে টিকিট কাটতে হয়নি। সিএন টাওয়ার শুধুমাত্র স্থাপত্য শিল্পের জন্য বিখ্যাত বললে হয়তো একটু কম বলা হবে, সেটা টের পেলাম ৩৬০ রেস্তোরাঁতে ঢুকে। এই রেস্তোরাঁ যে রন্ধন শিল্পেও বিশ্বের সেরাদের সাথে এক সারিতে দাঁড়াতে পারবে, সে বিষয়ে মতান্তরের অবকাশ খুব কম। রেস্তোরাঁটি অনবরত ৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরে চলেছে বলেই এই নামকরণ। রেস্তোরাঁর যে-কোনও জায়গায় বসলেই ডিনার শেষ হবার আগে বেশ কয়েকবার সম্পূর্ণ টরোন্টো শহর দেখা যাবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে কোনও কোনও সময় নায়াগ্রা ফল্সও দেখা যায়।

৩৬০ রেস্তোরাঁতে অনেক রকম খাবারের তালিকা আছে। নিজের ভোজন বিলাসী মনকে পরিতৃপ্ত করার জন্য এখানে কোনওরকম বেগ পেতে হবে না। সাথে পাওয়া যাবে কানাডা-সহ সারা পৃথিবীর বিখ্যাত পানীয়৷ রোজ না হোক, একদিনই না হয় রাজার মতো করে ডিনার করলাম। ডিনার শেষে মেইন অবজারভেশন আর গ্লাস ফ্লোর লেভেল ঘুরে হোটেলে ফিরলাম।

এটাই আমাদের টরোন্টোতে কাটানো শেষ রাত। কাল সকালের প্লেনে ভ্যাঙ্কুভারের পথে পা বাড়াব। এই কয়েক দিনে টরোন্টো শহর আমার মনের মণিকোঠায় অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছে। সময় সুযোগ করে হয়তো আবার আসব এই মোহময়ী তিলোত্তমা টরোন্টোকে দেখতে।

(সমাপ্ত)

তিলোত্তমা টরোন্টো (পর্ব ০৬)

এরপর গেলাম নায়াগ্রা হর্ন ব্লোয়ার ক্রুজ-এ। যাত্রীদের নিয়ে এই ক্রুজ নায়াগ্রা ফল্স-এর একদম কাছে চলে যায়। সবাইকে লাল রঙের প্লাস্টিকের রেইন কোট পরতে হল। তবে নায়াগ্রার জলের বিপুলতার কাছে এই রেইন কোট নিতান্তই হাস্যকর। বোটে করে আমেরিকান ফল্স, ব্রাইডাল ভেইল ফল্স এবং সবশেষে কানাডিয়ান হর্স শু ফল্স ঘুরে ফিরে আসা। যে দিকে চোখ যায় শুধুই জল। প্রকৃতির এই রূপ বর্ণনা করা সত্যিই অসম্ভব। একমাত্র হৃদয় দিয়েই একে উপলব্ধি করা যায়।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে এল। সামনেই একটা রেস্তোরাঁতে ডিনার করার জন্য আগে থেকেই বুকিং করা হয়েছিল। জানলার ধারের টেবিল থেকে নায়াগ্রার অপরূপ রূপ দেখতে দেখতে ডিনার করার সুখ হয়তো এ জীবনে দ্বিতীয় বার আসবে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হল আলোর খেলা, সাথে অন্ধকারের বুক চিরে আতশবাজি আর আলোর ফুলকি। এখানে প্রতি শুক্রবার রাতে টুরিস্টদের মনোরঞ্জনের জন্য আলো আর আতশবাজির খেলা চলে। ডিনারের পরও অনেক রাত পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে এই আলো আঁধারি নায়াগ্রার সৌন্দর্য উপভোগ করে, বুকে এক রাশ ভালো লাগা নিয়ে প্রায় মধ্য রাতে হোটেলে ফিরলাম।

টরোন্টোতে আজই আমাদের শেষ দিন। কাল সকালে বিদায় জানাতে হবে এই মনোরম শহরকে। তাই সকালে উঠেই সারাদিনের পরিকল্পনা করে বেরোলাম। মিউজিয়ামের প্রতি আমার আসক্তি বরাবরের। নতুন কোনও জায়গায় যাবার আগে খুঁজে দেখি সেখানে মিউজিয়াম আছে কিনা। অনেক দেশের অনেক মিউজিয়াম ঘুরে দেখেছি, তবে কানাডার রয়াল ওন্টারিও মিউজিয়াম সত্যিই চিত্তাকর্ষক। মিউজিয়ামের প্রতিটি কোণায় কোণায় আমার মতো মিউজিয়ামপ্রেমী মানুষদের জন্য অপেক্ষা করে আছে বিস্ময় আর ভালো লাগা। এটাই কানাডার সব থেকে বড়ো মিউজিয়াম। এখানে পুরাতত্ত্ব (Archaeology), জীবাশ্ম বিজ্ঞান (Palaeontology), খনিজ বিদ্যা (Mineralogy), প্রাণী বিদ্যা (Zoology) এবং ভূ-তত্ত্ব (Geology) বিষয়ক বিভিন্ন বস্তু স্ব- মহিমায় নিজেদের স্থান করে নিয়েছে।

মিউজিয়ামে ঢুকে মনে হল যেন কোনও পাঁচ তারা হোটেলে ঢুকছি। মিউজিয়ামে ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়ল বিশালাকার ডাইনোসরের কঙ্কাল। এতই বড়ো যে উপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে দেখলে ঘাড় ব্যাথা শুরু হবে। এর আশেপাশে কয়েক শো বিভিন্ন আকারের ডাইনোসরের কঙ্কাল সাজানো রয়েছে। এরপর দেখলাম রোমান, মিশর এবং চীনের সভ্যতার নিদর্শন। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই চোখ আটকে গেল ভারতীয় সভ্যতার প্রদর্শনীতে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের রাজপরিবারের বিভিন্ন সময়ের কতরকম শিল্পকলার নিদর্শন পেলাম এই মিউজিয়ামের প্রদর্শনীতে। তার মধ্যে চিত্র, সোনা এবং নানারকম মণিমুক্তাখচিত অলংকার থেকে শুরু করে মহারাজ মান সিং এবং তার পরিবারের অনেক রকমের আসবাবপত্রও রয়েছে।

রয়াল ওন্টারিও মিউজিয়ামের আরেক দিকে রয়েছে খনিজ পদার্থের প্রদর্শনী। এখানে তিন হাজারেরও বেশি দেখার মতো বস্তু আছে। খনিজ পদার্থ, রত্ন, উল্কা পিণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের অমূল্য পাথর দিয়ে সাজানো এই প্রদর্শনী। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এদের সংগ্রহ করা হয়েছে। এই মিউজিয়ামের সুবিপুল আর্ট কালেকশনের মধ্যে স্থান পেয়েছে স্বনামধন্য বাঙালি পেইন্টার যামিনী রায়-এর নৃত্যরত গোপীর পেন্টিং। ১৯৫০ সালে আঁকা এই চিত্রটি শুধু বাঙালির গর্বের বিষয় নয়, এটা অনেক চিত্রপ্রেমী টুরিস্টের মনে একটা বিশেষ দাগ রেখে যাবে।

(ক্রমশ…)

হাইড্রা ফেসিয়ালে ত্বক সতেজ

আজকাল প্রায় সমস্ত মহিলাই নিজের ত্বককে চিরতরুণ রাখতে চান। বয়স বাড়লেও যাতে ত্বকে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব না পড়ে, তাই আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নিতে সকলেই প্রস্তুত। সৌন্দর্যের দুনিয়ায় নবতম জনপ্রিয়তার কারণ হয়েছে হাইড্রা ফেসিয়াল। তাই যারা এতদিন বহুবিধ প্রসাধনী বা ব্লিচ ব্যবহার করেও সুফল পাননি, তারাও সাহায্য নিচ্ছেন এই বিশেষ ধরনের ফেসিয়ালের।

নিজেকে সুন্দর করে তোলার প্রতিযোগিতায় নামেন মহিলারা। কিন্তু তার আগে নিজের ত্বকের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। হাইড্রা ফেসিয়ালের মাধ্যমে স্কিনের ডিপ এক্সফলিয়েশন সম্ভব। এর ফলে স্কিনের টেক্সচার এবং টোন— দুটোই উন্নত হবে।

হাইড্রা ফেসিয়াল কী?

এটি এক ধরনের কসমেটিক প্রক্রিয়া, যা ত্বককে ডিপ ক্লিন করার সঙ্গে সঙ্গে, হাইড্রেটও করে। একটি বিশেষ ডিভাইস-এর সাহায্যে, ত্বকের পোরস থেকে ডেড স্কিন বের করে দেওয়া হয়। এরপর ত্বকে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট-যুক্ত সিরাম প্রবেশ করানো হয়। এর ফলে ত্বক হাইড্রেটেড হয় এবং অ্যান্টি এজিং ব্যারিয়ার সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ৩০ মিনিট। কিন্তু এই ফেসিয়ালে স্কিন এতটাই নারিশড হয় যে, ত্বকে সহজে বয়সের ছাপ পড়ে না। স্ট্রেস দূর হয়ে ত্বক ঝলমলিয়ে ওঠে।

অ্যাকনে নিকেশ করে

যখন ত্বক ডিপ ক্লিন করার সুযোগ থাকে না এবং এক্সফলিয়েশন ঠিকমতো হয় না— সে সব ক্ষেত্রে অ্যারে-র প্রকোপ দেখা যায়। স্কিন ম্লান লাগে। কিন্তু এই সমস্যা দূর করা সম্ভব হয় যখন ত্বকের উপর মাইক্রোডার্মাব্রেশন টেকনিক ব্যবহার করা হয়। এটার সাহায্যে বন্ধ পোরসগুলি খুলে, ডেড সেলস পুনরুজ্জীবিত করে তোলা হয়। এর ফলে অ্যাকনে-সহ নানা দাগছোপ দূর হয়ে যায়।

ব্ল্যাক হেডস তাড়ানোর উপায়

ত্বকে যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ডেড সেল্স জমা হয়, তখন ব্ল্যাক হেড্‌ড্স দেখা দিতে থাকে। এগুলি দেখতে যেমন খারাপ লাগে, তেমনই ত্বকে নানারকম সংক্রমণের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। হাইড্রা ফেসিয়াল, এক্সফলিয়েটিং এবং এক্সট্র্যাক্টিং পদ্ধতির দ্বারা অ্যাকনে কন্ট্রোল করা সম্ভব। ব্ল্যাকহেড্সও কমে এই প্রক্রিয়ায়। ফলে ত্বক অনেক পরিচ্ছন্ন দেখতে লাগে।

স্কিন এজিং রোধ করতে

কেউ-ই চায় না মুখের রেখায় বয়সের ছাপ পড়ুক। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে-মহিলারা নিয়মিত হাইড্রাফেসিয়াল করান, তাদের মুখে সহজে বয়স ছাপ ফেলতে পারে না। এই ফেসিয়াল ডিপ ক্লিনিং-এ সহায়কই শুধু নয়, পোরসগুলি সংকুচিত করে এবং হাইপার পিগমেন্টেশন ও ফাইনলাইন্স হ্রাস করতেও সক্ষম।

কীভাবে হয় এই ফেসিয়াল

স্টেপ ১: ক্লিনিং: সবচেয়ে আগে স্কিন মসৃণ করা প্রয়োজন। তাই স্কিন টাইপ অনুযায়ী ত্বকের উপর ক্লিনিং প্রোডাক্ট-এর সাহায্যে ক্লিনিং করা হয়। ত্বক যত পরিচ্ছন্ন করা হবে, তত ভালো রেজাল্ট দেবে এই ফেসিয়াল। স্কিন এক্সফলিয়েশন এই ক্লিনিং-এর অঙ্গ। এতে পোরস সংকোচন হয় এবং ডেড স্কিন রিমুভ করাও হয়।

স্টেপ ২: কেমিক্যাল পিলিং: এই পদ্ধতিতে স্যালিসিলিক অ্যাসিড, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ও সিরাম ব্যবহারের মাধ্যমে আরও গভীর ভাবে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। ত্বকের ভিতরে এই সিরাম প্রবেশ করানো হয়, যাতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকে।

স্টেপ ৩: এক্সট্র্যাকশন: এই স্টেপ-এ ব্যবহৃত হয় ভ্যাকুয়াম এক্সট্র্যাকশন টুল। এর সাহায্যে পোরস-এর মধ্যে জমে থাকা ময়লা বের করে আনা হয়। ত্বকের লেয়ারগুলো ক্লিন করার এ এক অব্যর্থ পদ্ধতি।

স্টেপ ৪: হাইড্রেটিং সিরাম : সব শেষে স্কিনে হাইড্রেটিং সিরাম প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে। ত্বকের টেক্সচারে সামঞ্জস্য আনার এ এক আধুনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করার পর, আপনি নিজেই স্কিন টোনের বদলটা লক্ষ্য করবেন।

সব ত্বকের জন্যই উপযুক্ত

সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হল— এই হাইড্রা ফেসিয়াল সমস্ত স্কিন টাইপস-এর জন্যই উপযুক্ত। পিম্পল, অ্যাকনে, দাগছোপ ছাড়াও হাইপার পিগমেন্টেশন-এর সমস্যা থেকে মুক্ত করে। টিন এজার বা তরুণি থেকে চল্লিশোর্ধ মহিলারা— সকলেই সুফল পেতে পারেন এই বিউটি ট্রিটমেন্ট-এ। আসন্ন উৎসবে আপনিও ভেবে দেখতে পারেন।

তিলোত্তমা টরোন্টো (পর্ব ০৫)

টরোন্টো থেকে নায়াগ্রা ফল্স যাবার পথে আঙুরের বাগান আর ওয়াইনারি না দেখলে যে বেড়ানোটা অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে, তাই কিছুটা সময় বের করে চলে গেলাম পিলিটেরি এস্টেট ওয়াইনারিতে। মিসিসউগা ফোর্ট থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরেই এই ওয়াইনারি। এখানে অনেক টুরিস্ট আসে ওয়াইন টেস্টি-এর জন্য। আমরা এখানে ওয়াইন টেস্টিং-এর সাথে সাথে লাঞ্চও করে নিলাম। এখানেই প্রথম স্বাদ নিয়েছিলাম কানাডার বিখ্যাত আইসড ওয়াইনের। কানাডাতেই সব থেকে বেশি আইসড ওয়াইন তৈরি হয়। শীতের শুরুতে যখন প্রথম বরফ পড়তে শুরু করে, তখন আঙুর গাছের আঙুরগুলো বরফে জমে যায়। আর সেই আঙুর দিয়েই তৈরি হয় পৃথিবী বিখ্যাত আইসড ওয়াইন।

পিলিটেরি এস্টেট ওয়াইনারি থেকে গাইডেড টুর-এরও ব্যবস্থা আছে। ৪৫ মিনিটের টুর-এ কীভাবে ওয়াইন বানানো হয়, কোথা থেকে আঙুর আসে, সব দেখানো হয়। তাছাড়াও টুরিস্টদের ওয়াইন টেস্ট করতে দেওয়া হয়। এই টুর-এ খরচ হয় ২৫ কানাডিয়ান ডলার। একটা অন্য রকমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পিলিটেরি এস্টেট ওয়াইনারিকে বিদায় জানিয়ে এবার যাত্রা শুরু করলাম আমাদের আজকের শেষ গন্তব্য স্থল, নায়াগ্রা ফল্স-এর দিকে।

পিলিটেরি এস্টেট ওয়াইনারি থেকে আধ ঘন্টার দূরত্বে পৃথিবী বিখ্যাত নায়াগ্রা ফল্স। আমি ইচ্ছে করেই নায়াগ্রা জলপ্রপাতে আসার পরিকল্পনাটা একটু বিকেলের দিকে করেছিলাম। গাইডেড টুর কোম্পানিগুলো সাধারণত সকালে বেরিয়ে দুপুর বা বিকেলের মধ্যে টুরিস্টদের টরোন্টো-তে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু নায়াগ্রা ফলসে শুক্রবার রাতে যে আলো আর আতশবাজির খেলা হয়, সেটা আমি কিছুতেই মিস করতে চাইনি। বিকেল চারটে নাগাদ পৌঁছোলাম নায়াগ্রা ফলসে। তখনও চারিদিকে বেশ ভিড়। গাড়ি পার্ক করে উপরে উঠে গেলাম সেই পরমা সুন্দরীর দর্শন লাভের আশায়, যে কিনা ১২০০০ বছর ধরে স্ব-মহিমায় বিরাজমান। প্রথমেই চোখে পড়ল সুদূর বিস্তৃত কুয়াশা। আর কানে এসে বিধল সেই বজ্রধ্বনি। পড়ন্ত বেলায় সূর্যের সোনালি আভায় সেজে উঠেছে এই জলপরি।

উপরে দর্শকদের স্ট্যান্ডিং ডক থেকে এই প্রথম দেখতে পেলাম সম্পূর্ণ জলপ্রপাতকে। নায়াগ্রা বিশ্বের সব থেকে বড়ো জলপ্রপাত না হলেও সব থেকে প্রশস্ত জলপ্রপাত তো বটেই। নায়াগ্রা আসলে তিনটি জলপ্রপাতের সম্মিলিত রূপ, হর্সশু ফল্স বা কানাডা ফল্স, আমেরিকান ফল্স আর ব্রাইডাল ভিল ফল্স। নায়াগ্রা নদীর উপর এই জলপ্রপাত ইরি হ্রদের জলকে বয়ে নিয়ে প্রথমে ওন্টারিও হ্রদে মিলছে, তারপর সেখান থেকে কানাডার সেন্ট লরেন্স নদী হয়ে শেষে আটলান্টিক মহাসাগরে তার যাত্রা শেষ করে। এই বিশ্বসুন্দরী নায়াগ্রা ফল্স একদিকে যেমন ওন্টারিওকে ‘হানিমুন ক্যাপিট্যাল’-এর সুনাম এনে দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে কানাডা আর আমেরিকার জলবিদ্যুতের চাহিদাও পূরণ করে চলেছে।

প্রথমেই গেলাম এক ঘন্টার গাইডেড টুর ‘জার্নি বিহাইন্ড দ্য ফল্স’। গায়ে হলুদ রঙের প্লাস্টিকের রেইন কোট চাপিয়ে টানেল দিয়ে প্রায় ১৫০ ফিট নীচে নামতে হল। তারপর আরও কিছুটা হেঁটে টানেলের বাইরে এসে ডেকে দাঁড়িয়ে মনে হল ঠিক যেন নায়াগ্রা জলপ্রপাতের বুকের উপর দাঁড়িয়ে আছি। গায়ে জলের ছাট এসে পড়ছে। প্রকৃতির এই বিশালাকার ভয়ংকর দুর্নিবার মোহময়ী রূপের সামনে নিজের অস্তিত্ব খুবই ক্ষীণ মনে হল। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে এই রূপ উপভোগ করে ফিরে এলাম।

(ক্রমশ…)

ব্যঞ্জনে বাঙালিয়ানা (শেষ পর্ব)

নিরামিষ ঘুঘনি

উপকরণ : ১ কাপ মটর, ১/২ কাপ নারকেলকুচি, ১ ছোটো চামচ আদাবাটা, ১/২ কাপ টম্যাটোকুচি, ১/২ ছোটো চামচ জিরেবাটা, ১-২ টো তেজপাতা, ২টো শুকনোলংকা, ১/২ চামচ গোটা জিরে, ১/২ চামচ হলুদগুঁড়ো, ১/২ চামচ লংকাগুঁড়ো, ১/২ ছোটো চামচ ধনেগুঁড়ো, ২ চামচ তেল, নুন-মিষ্টি স্বাদমতো।

প্রণালী: অল্প তেলে নারকেলকুচি ভেজে তুলে রাখুন। মটর ধুয়ে প্রেশারে অল্প জল দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এবার প্যানে তেল গরম করে জিরে, তেজপাতা, শুকনোলংকা ফোড়ন দিন। এতে বাকি সমস্ত উপকরণ দিয়ে কষতে থাকুন। নুন-মিষ্টি । দিন। সবশেষে সেদ্ধমটর জলসুদ্ধ ঢেলে দিন। ভালো ভাবে রান্না হতে দিন। নামানোর আগে নারকেলকুচি দিয়ে দিন। লুচির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ছোলার ডাল

উপকরণ : ১০০ গ্রাম ছোলার ডাল, ১/২ কাপ নারকেল কোরা, ১ ছোটো টুকরো আদা, ২-৩টে লবঙ্গ, ২টো শুকনোলংকা, ১ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, ১ ছোটো চামচ জিরে, ১ ছোটো টুকরো দারচিনি, ১ ছোটো চামচ জিরেগুঁড়ো, ১টা কাঁচালংকা কুচোনো, ১ ছোটো চামচ চিনি, ২ বড়ো চামচ তেল, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: ছোলার ডাল ধুয়ে, অল্প নুন দিয়ে প্রেশারে সেদ্ধ করে নিন। একটা নারকেল অল্প কুচিয়ে নিন বাকিটা কোরানো অবস্থায় রাখুন। প্যানে তেল গরম করে গোটা গরম মশলা ও জিরে ফোড়ন দিন। তেজপাতা ও শুকনোলংকা দিন। নারকেলকুচি ভেজে নিন। তুলে রাখুন। এবার আদাবাটা, জিরেগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো, নুন ও চিনি দিয়ে কষুন। এর মধ্যে নারকেলকোরা দিয়ে দিন। এবার সেদ্ধ ডালটা জলসমেত এতে ঢেলে দিন। ঘন হওয়া অবধি রান্না করুন। নারকেলকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

নারকেল নাড়ু

উপকরণ : ১টা নারকেল কোরানো, ১৮-২০টা কিশমিশ, চিনি স্বাদমতো, ৩-৪ বড়ো চামচ মিল্ক পাউডার, ২ চিমটে এলাচগুঁড়ো, ১ কাপ খোয়া ক্ষীর, ১/২ কাপ কনডেন্সড মিল্ক, ১ ছোটো চামচ ঘি।

প্রণালী: একটা প্যানে ঘি গরম করে নারকেলকোরা দিয়ে দিন। ভালো ভাবে নাড়তে থাকুন। এবার এতে চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে দিন। পাক দিতে থাকুন। এর মধ্যে এলাচগুঁড়ো দিন। তারপর মিল্ক পাউডার দিয়ে আরও খানিকক্ষণ নাড়তে থাকুন। খোয়াক্ষীর মসৃণ করে চটকে এর সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এবার পুরো মিশ্রণটা ঠান্ডা হতে দিন। হাতে ঘি বুলিয়ে অল্প করে মিশ্রণ নিয়ে নারকেলনাড়ু গড়ে নিন। কিশমিশ দিয়ে সাজিয়ে দিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব