জেদি বাচ্চাকে করে তুলুন বিচক্ষণ

বাড়িতে কিছু অতিথি এসেছিলেন। সঙ্গে তাঁদের ৬ বছরের একটি ছেলে। শীতকাল অথচ ছেলেটির জেদ, রোজ ওকে আইসক্রিম কিনে দিতেই হবে। দু-তিনদিন ওর মা-বাবা আইসক্রিম কিনে দিলেও, পরের দিন আমি ধৈর্য হারিয়ে বাচ্চাটিকে শাসন করলাম। আইসক্রিম সেদিন ও পাবে না। এতে বাচ্চাটি রেগে গিয়ে, টেবিলে খাবার সার্ভ করে রাখা কাচের প্লেট তুলে মাটিতে ফেলে ভেঙে দিল।

এতে প্লেট-টাও ভাঙল আর খাবারও চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। রাগে আমার মুখ দিয়ে কোনও কথা বেরোল না। মনে মনে জানতাম, বাচ্চাটি যদি আমার সন্তান হতো, অবশ্যই আমার হাতে ও এখন মার খেত। অতিথি, তাই কিছু বলার উপায় নেই। সবথেকে আশ্চর্যের ব্যাপার, বাচ্চাটির মা, ছেলের ব্যবহারকে শৈশবের দুষ্টুমি বলে হাসতে শুরু করলেন!

আমি বলতে বাধ্য হলাম, বাচ্চাকে এতটা স্বাধীনতা দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। তাতে বাচ্চার মা উলটে বললেন, একটা প্লেট-ই তো ভেঙেছে! আমরা চাইলে আমার স্বামী একডজন প্লেট কিনে এনে দেবেন। একটি মাত্র সন্তান, ওর জন্যই তো তার বাবা রোজগার করছেন।

বুঝতে পারলাম আসলে বাচ্চাটির নয়, মা-বাবাই তার জেদি Stubbornness ব্যবহারের জন্য দাযী। আমাদের সমাজে এমন অনেক অভিভাবকেরা আছেন, যাদের কাছে সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিজের সন্তান। যার ফলে তাদের কোনও দোষই মা-বাবার চোখে ধরা পড়ে না। বরং বাচ্চার হয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়তেও তারা দ্বিধাবোধ করেন না।

বাচ্চাও এইক্ষেত্রে অনুচিত চাহিদা পূর্ণ হতে দেখে, ভিতরে ভিতরে স্বেচ্ছাচারী হতে আরম্ভ করে। যার পরিণতি দাঁড়ায় বাচ্চার মধ্যে রাগ, জেদ ইত্যাদি বাড়তে থাকা। বাচ্চার স্বভাব নষ্ট হয়ে যাওয়ার পিছনে প্রধান ভমিকা মা-বাবার। বাচ্চাকে মানুষ করার পিছনে মা-বাবার অসফলতার উদাহরণ এক এক পরিবারের এক একরকম হয়ে থাকে।

খেয়াল রাখা জরুরি

যে-বাচ্চারা ছোটো থেকেই জেদি হয়ে ওঠে, তারা ভবিষ্যতেও নিজেদের ব্যবহার বদলাতে পারে না। কোনওরকম শাসন ছাড়াই, তাদের অন্যায় আবদার মিটিয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের মানুষ করেন। কিন্তু সমাজে এরা যখন নিজেদের পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তখন সমাজে এদের জায়গা হয় না। এইসব বাচ্চারা বড়ো হয়ে রাগি, অসহিষ্ণু, বিবাদের মানসিকতা নিয়ে বড়ো হয়। সুতরাং মা-বাবা যদি সন্তানের ভবিষ্যতের চিন্তা সময় থাকতেই করেন, স্বভাব সংশোধন করতে চান, তাহলে শৈশব থেকেই সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যতে বাচ্চা জেদি স্বভাবের না হয়ে ওঠে।

সাধারণত মা-বাবা ভেবে নেন, বাচ্চা যা চাইছে সেটা না দিলে সে রেগে যাবে। এই ভেবে তারা সন্তানের চাহিদা পূরণ করে দেন। ধীরে ধীরে এই অভ্যাসেই বাচ্চা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। কেঁদে-কেটে, রাগ দেখিয়ে যেনতেন প্রকারেণ তারা নিজেদের Stubbornness মা-বাবাকে মানতে বাধ্য করে। উদাহরণস্বরূপ সত্যেন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিন সন্তানের জন্য তিনটি চকোলেট কিনে বাড়ি ফিরলেন। প্রত্যেকের জন্য এক একটি করে। কিন্তু ছেলে, দুটো নেওয়ার জন্য এমন চ্যাঁচামেচি কান্নাকাটি আরম্ভ করে দিল যে, বাধ্য হয়ে ছেলেকে দুটি দিয়ে একটি চকোলেট মেয়েদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন। ছেলেও বুঝল মা-বাবাকে জোর করে রাজি করানোর এটি একটি সহজ উপায়। অথচ ভাই-বোনে ভাগ করে খাওয়ার মতো শিক্ষাটা কিন্তু ওর শেখাই হল না। এবং মা-বাবার দুর্বলতার জায়গা-টাও ওর কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল।

মা-বাবার কর্তব্য

সুদেষ্ণা ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে বান্ধবী রুনার বাড়ি সারাদিন স্পেনড করতে এসেছিল। বাচ্চা ছেলেটি রুনার মেয়ের সাইকেল নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দিল। সন্ধেবেলা যখন বাড়ি ফেরার সময়, তখন ছেলে বায়না ধরল রুনার মেয়ের সাইকেলটা ও নিজের বাড়ি নিয়ে যাবে। সুদেষ্ণা ওর জেদের তোয়াক্কা না করে স্পষ্ট কঠিন স্বরে জানিয়ে দিল, কোনও সাইকেল নিয়ে ওর যাওয়া চলবে না। ও যদি জেদ না ছাড়ে, তাহলে ওকে ওখানেই রেখে দিয়ে সুদেষ্ণা চলে যাবে। ওকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যাবে না। বাধ্য হয়ে সাইকেল ছেড়ে ছেলে সুদেষ্ণার সঙ্গে বাড়ি গেল।

বাচ্চা যাতে জেদি না তৈরি হয়, তার জন্য মা-বাবার উচিত তাদের শাসন করা। বাচ্চাকে অভ্যস্ত করে তোলার জন্য ওর অন্যায়, অপ্রযোজনীয় জেদগুলো মেনে নেওয়া উচিত নয়। বাচ্চাকে শৈশব থেকেই বুঝিয়ে দেওয়া উচিত বেশি জেদ করলে বড়োদের থেকে মার, বকাও খেতে হতে পারে।

জেদি বাচ্চার মানসিকতাও বোঝার চেষ্টা করতে হবে

নিজের সন্তানকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বাচ্চারা মনে মনে ধরে নেয় যেটা ওরা মা-বাবাকে বলতে চায়, তার উত্তর বাবা-মা কী দিতে পারেন? বাবা এবং মায়ের প্রতিক্রিয়া আলাদা হবেই সেটা ওরা ধরেই নেয়। অতীতে যা যা দুষ্টুমি, শয়তানি বাচ্চা করে এসেছে এবং তার কী পরিণাম তাকে ভুগতে হয়েছে সেসব মনের মধ্যে রেখেই বাচ্চা নতুন বদমায়েসি করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বড়োদের ক্ষেত্রেও, আগেকার কোন শাসন কার্যকরী হয়েছে, সেটা মাথাতে রেখে তবেই বাচ্চাকে কীভাবে শেখাবেন বা বোঝাবেন তা মনস্থির করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মায়ের কাছেই বাচ্চা বেশি জেদ করে অথবা অতিথিদের সামনে। কারণ বাচ্চা বোঝে ওই সময়ে তার জেদ বড়োদের মেনে নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি!

বাইরের লোকের সামনে বাচ্চার অন্যায় নিয়ে বেশি চ্যাঁচামেচি করা উচিত নয়। এমনকী মারা বা খুব বকাবকি করাও কাম্য নয়। বাচ্চা হলেও তারও সম্মান রাখাটা অবশ্য কর্তব্য, নয়তো জেদের বশে একই অন্যায় দ্বিতীয়বার করার সাহস তার বেড়ে যেতে পারে। বাড়িতে আলাদা করে ভুলটা বুঝিয়ে বলতে হবে।

জেদি বাচ্চাকে সামলাবার উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে জেদি বাচ্চারা খুবই সংবেদনশীল হয়। তার প্রতি মা-বাবার ব্যবহার কীরকম, সেই বিষয়ে সংবেদনশীলতা তাদের বেশি থাকে। বড়োদের উচিত সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় টোন, বডি ল্যাংগুয়েজ এবং শব্দ চয়নের উপর বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখা। সন্তান যদি ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই অভিভাবকদের সঙ্গে কমফর্টেবল হয়ে কথা বলতে পারে, তাহলে তাদের ব্যবহারে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে।

সন্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য সন্তানের কথা মন দিয়ে শুনুন। তার বিপদে তাকে দোষ না দিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। কারও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগকারী এবং আপনার সন্তান দুজনকে সামনে রেখে সমস্যার সমাধান বার করার চেষ্টা করুন। বাইরের লোকের কথায় পুরো দোষ, সন্তানের উপর চাপিয়ে দেবেন না।

সন্তানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে কোনও কাজ করাবেন না। বরং কাজটা করার ইচ্ছা না থাকলে সন্তানকে কয়েকটি বিকল্প রাস্তা দিতে পারেন, যাতে কাজটা করতে তার ইচ্ছা জন্মায়। যেমন সোজা শুয়ে পড়তে বললে তার সেটা করতে ইচ্ছে না-ও করতে পারে। বরং বলুন, শুলে ওকে আপনি একটা গল্প শোনাবেন বা ও নিজেও খানিক্ষণ গল্পের বই পড়ে ঘুমোতে যেতে পারে। তাছাড়াও বাচ্চার জেদ কমাতে, বাড়ির পরিবেশও এমন রাখা বাঞ্ছনীয়, যাতে বাচ্চাও সহজে বুঝতে পারে বড়োদের কথা শোনা বাচ্চাদের কর্তব্য।

 

বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান

আমের তলায় ঝামুর ঝুমুর কলাতলায় বিয়া…

বাঙালি বিয়েতে আচার অনুষ্ঠানের এই পরম্পরা চিরাচরিত ভাবে চলে আসছে। এতে যেমন নিয়মের কিছু কড়াকড়ি আছে, তেমনি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা স্ত্রীআচারের মধ্যে রয়েছে সমাজেরও একটা সক্রিয় যোগদান।

শাঁখ বাজিয়ে বিয়ের শুভানুষ্ঠান শুরু করা থেকে, মহিলারা একত্রিত হয়ে উলুর মধ্যে দিয়ে বিয়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বাঙালি বিয়ের এটা মূল অংশ। বাঙালি বিয়ে অথচ সানাই বাজছে না এমনটাও ভাবা যায় না। সানাইয়ের মধুর আওয়াজের গুঞ্জন অতিথি-অভ্যাগতদের আমন্ত্রণ জানায় যেমন, তেমনি পাড়া-প্রতিবেশীকেও জানান দেয় যে, এই বাড়িটি বিয়ে বাড়ি।

বিয়ে বাড়িতে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পাত্র এবং কনের আশীর্বাদের অনুষ্ঠান দিয়ে। পাত্র ও পাত্রীর Wedding ঠিক হয়ে যাওয়ার পর ‘পঞ্জিকা’ দেখে একটি বিশেষ দিন ধার্য করা হয়। পাত্রর বাড়ি থেকে পাত্রীকে এবং পাত্রীর বাড়ি থেকে পাত্রকে দূর্বা-ধান চন্দন ইত্যাদি সহযোগে আশীর্বাদ করা হয়। স্বর্ণালংকারও উপহার হিসেবে দুজনকেই দেওয়া হয়। উভয় পরিবারের কাছে তারা যে স্বীকার্য, তারই সিলমোহর হচ্ছে আশীর্বাদ পর্ব।

বিয়ের আগের দিন কনে এবং পাত্রকে আলাদা ভাবে তাদের নিজেদের বাড়িতে আইবুড়ো ভাত খাওয়ানো হয়। এর অর্থ হল তাদের ব্যাচেলার জীবনের ইতি। পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। হাসি, ঠাট্টার মধ্যমে একটা সামাজিক মেলবন্ধনের উপস্থিতির আভাস পাওয়া যায়।

বিয়ের দিন ভোরবেলায় বিজোড় সংখ্যায় এয়ো স্ত্রীয়েরা (বিবাহিত স্ত্রী) মিলে গঙ্গা (নদী)কে নিমন্ত্রণ জানাতে যায়। এরপর কনের হাতে পরিয়ে দেওয়া হয় একজোড়া করে শাঁখা ও পলা। দই দিয়ে চিঁড়ে মেখে কনে এবং পাত্র উভয়কেই খাওয়ানো হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান না-মেটা পর্যন্ত এই খেয়েই দু’জনকে থাকতে হয়। এইজন্য অনুষ্ঠানের নামই হয়েছে দধিমঙ্গল।

বিয়ের দিন সকালেই নান্দীমুখের আয়োজন করা হয়। পাত্রীর বাবা অথবা জেঠু, পুরোহিতের সঙ্গে বসে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে এই অনুষ্ঠানে। হলুদ কোটা এবং গায়ে হলুদে বিজোড সংখ্যায় বিবাহিত স্ত্রীয়েরা (এয়োস্ত্রী) মিলে হলুদ বেটে সেটা পাত্রের সারা গায়ে মাখায়। এরপর সেই হলুদই তত্ত্বের সঙ্গে কনের বাড়ি পাঠানো হয় যেখানে চারটি কলাগাছে ঘেরা একটি স্থানে কনের গায়ে সেই হলুদ মাখিয়ে এয়োস্ত্রীয়েরা তাকে স্নান করায়। তার আগে কনে পায়ের চাপে ভাঁড় ভেঙে ‘আইবুড়ো’ নাম খণ্ডন করে।

এরপর আসে Wedding সময়। বর এবং তার পরিবারের লোক ও বন্ধুবান্ধব পৌঁছোয় মেয়ের বাড়ি বরযাত্রী হিসেবে। মেয়ের মা, পাত্রের গাড়ির চাকায় জল ঢেলে, বরকে বরণডালা সাজিয়ে বরণ করে ঘরে তোলে। মিষ্টি এবং পানীয় সহযোগে বরযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানানো হয়।

পঞ্জিকা মতে বিয়ের জন্য ধার্য সময়ের মধ্যে বর এসে বসে ছাঁদনাতলায় (বিবাহমন্ডপ)। সেখানে উপস্থিত থাকে পুরোহিত, বিবাহকার্য সম্পন্ন করার জন্য। পাত্রীকে পরে নিয়ে আসা হয় এবং যিনি কন্যাকে সম্প্রদান করবেন তাকেও উপস্থিত থাকতে হয় মন্ডপে। মেয়ের হয়ে যিনি সম্প্রদান করবেন তিনিই পাত্রকে নতুন পট্টবস্ত্র দেন পরার জন্যে। কনেকে নীচু পিঁড়িতে বসিয়ে ভাইয়েরা সেই পিঁড়ি বহন করে পাত্রের চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করায়। সাতপাকে বাঁধাপড়া মানে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়া। এরপর তিনবার পাত্র-পাত্রীর মধ্যে মালাবদল এবং শুভদৃষ্টির পালা শেষ হয়। সমাজের চোখে প্রথম স্বীকৃতির সিলমোহর পড়ে দম্পতি যুগলের বিবাহকার্যের উপর।

এরপর আসে কনেকে সম্প্রদানের পালা। কনের বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠ সমগোত্রের কেউ কনেকে পাত্রের হাতে সম্প্রদান করেন। আগুনকে সাক্ষি রেখে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে বিয়ের আচার মানা হয়। অগ্নিকে প্রদক্ষিণ করে বরকনে (সাতবার)। কুলোয় খই নিয়ে কনে আগুনে অঞ্জলি দেয় আর পাত্র মেয়ের পিছনে থেকে কনের হাত ধরে থাকে। এরপর আবার নতুন কনে এবং বর ছাঁদনাতলায় এসে বসে। নতুন শাড়িতে মাথা ঢেকে কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেয় ছেলে। পাকাপাকি ভাবে বিবাহকার্য সম্পন্ন হয়। ওপার বাংলা আর এপার বাংলায় সিঁদুর দান প্রথার সামান্য তফাত দেখতে পাওয়া যায়। কারও বিয়ের রাত্রিতেই কুসুমডিঙার অনুষ্ঠান শেষ হয় কারও বা বাসিবিয়ের পর্ব চলে পরের দিন সকাল পর্যন্ত।

মেয়ের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে, মেয়ের বাড়ির বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়। ছেলের বাড়িতে, ছেলের মা, বউ এবং ছেলেকে বরণ করে ঘরে তোলে। এখানেও রয়েছে পুরোনো রীতি মেনে কিছু স্ত্রীআচার যেমন বউ শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার আগে দুধ উথলে পড়তে দেখবে। বউয়ের হাতে দেওয়া হয় জ্যান্ত মাছ। আবার থালায় আলতা ঢেলে তার উপর পা দিয়েও নতুন বউ প্রথম শ্বশুরবাড়িতে পা রাখে।

কালরাত্রির সেই দিনটা পেরিয়ে পরের দিন বউভাত। স্বামী, সমস্ত পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সামনে স্ত্রীয়ের ভাতকাপড়ের দায়িত্ব নিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। নতুন বউ প্রথম শ্বশুরবাড়িতে রান্না করে বাড়ির সকলকে খাওয়ায়। রাত্তিরে ঘটা করে অনুষ্ঠান করে হয় বৌভাত। আত্মীয়স্বজনদের নতুন বউয়ের মুখ দেখা এবং উপহার দেওয়ার পালা। সবশেষে ফুলশয্যা। স্বামী ও স্ত্রীয়ের উভয়কে জানার ও চেনার সুযোগ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও বাঙালি Wedding নিয়মের রদবদল খুব একটা হয়নি। তবুও এত অনুষ্ঠান ও রীতি-আচার মানাটাও প্রচুর সময় সাপেক্ষ। তাই সময় এবং পকেট বাঁচাতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন রেজিস্ট্রি ম্যারেজ এবং তারপর ছোট্ট করে একটা অনুষ্ঠান। আইনগত ভাবে আজ রেজিস্ট্রি ম্যারেজের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান কারণ প্রতিটি পদক্ষেপেই প্রয়োজন হচ্ছে বিবাহের প্রমাণের যেটা রেজিস্ট্রি করানো ছাড়া সম্ভব নয়।

 

পছন্দসই টেবিল লিনেন

বাড়িতে কোনও আনন্দানুষ্ঠান উপলক্ষ্যেই হোক বা অন্য কোনও কারণে, অতিথি-অভ্যাগতদের আসাযাওয়া লেগেই থাকে। পার্টি বা অনুষ্ঠানের আয়োজন এক শৈল্পিক কাজ। সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়ে নজর রাখতে হয়। চুলের কাঁটা থেকে আলপিন, সবকিছুতেই যেন থাকে আপনার স্পেশাল টাচ। খাওয়াদাওয়া বা আপ্যায়নের জায়গাটিও সুন্দর হওয়া প্রয়োজন। বিশেষকরে, টেবিল সাজানোর দক্ষতা, রুচিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়, খাবারগুলোও হয়ে ওঠে চিত্তাকর্ষক। অনুষ্ঠানের বিভিন্নতায়, টেবিল সাজানোয় রকমফের হয়। বদলে যায় Table Linen – এর ধরনও।

শিশুদের জন্মদিনের পার্টি

সুন্দর ডিজাইনের, গাঢ় রং-এর (লাল, নীল, হলুদ, গোলাপি) টেবিল-লিনেন আপনার সন্তানের বার্থডে পার্টিকে করে তুলবে অনন্যসাধারণ। সমস্ত ঘরের চেহারা বদলে যাবে নকশাকাটা লিনেনের এক্সক্লুসিভ লুক-এ।

কিটি পার্টি

যদি আপনি কিটি পার্টির আয়োজন করেন, তাহলে নিজের সেলাই-ফোঁড়াই-এর দক্ষতাকে তুলে ধরুন টেবিল-লিনেনের মাধ্যমে। আপনার হাতের ছোঁয়ায় টেবিল-লিনেন-এ ফুটিয়ে তুলুন দারুণ সব নকশা, হয়ে উঠুন সার্থক ‘হোস্ট’। বাজারের রেডিমেড জিনিসের তুলনায় আপনার হাতের করা সেলাই-এর কারুকাজ পার্টিতে এনে দেবে আন্তরিকতার সুর।

ফর্মাল পার্টি

অফিসের কলিগ বা বস্-কে নিমন্ত্রণ করেছেন, পদোন্নতি বা অন্য কোনও বিশেষ কারণে পার্টির আয়োজন করেছেন? তাহলে টেবিল-লিনেন সাদা, ক্রিম, ধূসর বা অন্যান্য ফর্মাল রং-এর হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এমন প্রিন্ট বেছে নিন, যাতে ছোটো-বড়ো চেক্স এর প্রাধান্য।

তারুণ্যে উচ্ছল পার্টি

তরুণ-তরুণীদের জন্য পার্টি আয়োজন করলে, যে-কোনও প্রিন্ট বা কালার-এর টেবিল-লিনেন পছন্দ করতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখা জরুরি যে, সেটি যেন আউট অফ ফ্যাশন না হয়।

পারিবারিক আনন্দানুষ্ঠান

যদি অনুষ্ঠান হয় পারিবারিক, তাহলে ঐতিহ্য এবং পরম্পরাকে মাথায় রেখে Table Linen – এর ডিজাইন বেছে নিন। ছোটো ছোটো মোটিফ বা গ্রাম্য নকশায় সাজানো আধুনিক প্রিন্ট-এর লিনেন অন্য মাত্রা এনে দেবে। হলুদ লিনেনে উট-এর সারি বা বাঙলার আদি-অকৃত্রিম নকশি কাঁথার স্টিচ বা পট-চিত্রের ছবি টেবিল-সজ্জায় নান্দনিকতা নিয়ে আসবে।

বিয়ের আগের প্রস্তুতি পর্ব

বিয়ে মানেই সুন্দর পবিত্র একটি সম্পর্কের গোড়াপত্তন। এই সম্পর্ক আরও সুন্দর হয়ে ওঠে যদি নবদম্পতি শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকেন। কীভাবে নিতে হবে যত্ন শরীর এবং মনের, তাই নিয়ে আজ আমাদের আলোচনা…

শারীরিক প্রস্তুতি

বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরত্বপূর্ণ। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে পড়ে উভয়ের মেডিকেল চেকআপ, রক্তের গ্রুপ যাচাই, বংশগত কারও কোনও রোগ আছে কিনা দেখে নেওয়া, উভয়ের বয়স, এছাড়াও রক্তের সম্পর্কে আত্মীয়ে মধ্যে Marriage হচ্ছে কিনা সেটাও দেখে নেওয়া। এগুলোর সবকটিই প্রযোজন ভবিষ্যত্ জীবনে দাম্পত্যকে আরও সুমধুর করে তুলতে।

এবার Marriage দিনটির জন্যও উভয়েই কিছু প্রস্তুতি দরকার হয়। বিয়ের দিনে কনের সৌন্দর্যে আলাদা মাত্রা যোগ করতে শরীরেরও কিছু যত্নের প্রযোজন পড়ে। বিয়ের দিনে অতিথিদের দৃষ্টি থাকে বর-কনের উপরেই। তাই কনের নিজেকে আকষর্ণীয় করে তুলতে দরকার বিয়ের আগে থেকেই বিশেষ পরিচর্যার।

সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ের আযোজনের অনেকটাই দাযিত্ব থাকে বর-কনের উপর। বিয়ের শপিং, বিয়ে এবং অতিথিদের অভ্যর্থনার সব আয়োজন করা, প্ল্যানিং, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর আগের মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভীতি সবকিছুই চাপ সৃষ্টি করে পাত্র-পাত্রীর উপর। ফলে টেনশন, পরিশ্রম চেহারায় ফেলে ক্লান্তির ছাপ। চোখের নীচে কালি পড়ে, মুখের এবং চামড়ার উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। অনেকেই ত্বক নিয়ে সমস্যায় পড়েন। সুতরাং নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি কয়েক মাস আগে থেকেই পুরো শরীরের যত্ন নেওয়া শুরু করে দিতে হবে। পার্লারে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতেও আপনি ত্বক, চুল, হাত-পায়ে এবং মুখের যত্ন নিতে পারেন।

ত্বকের যত্ন

(ক) ত্বকের আর্দ্রভাব ধরে রাখতে পারলে তবেই ত্বক হয়ে উঠবে সতেজ এবং সুন্দর। ত্বকের প্রাণোচ্ছল টাটকা টানটান ভাব ধরে রাখতে সারাদিনে প্রচুর জল পান করুন এবং টাটকা ফল খান।

(খ) ক্লিনজার দিয়ে সারাদিনে দুবার মুখ পরিষ্কার করুন। তারপর মুখ শুকিয়ে গেলে টোনার ব্যবহার করুন। সবথেকে শেষে ত্বকে ভালো করে মযে্শ্ছারাইজার লাগিয়ে নিন।

(গ) ত্বকের মরা কোশ ঝরিয়ে ফেলতে ২ টেবিল চামচ ওটমিল ও অ্যালোভেরা জেল, ২চা চামচ চিনি এবং সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে সারা মুখে এবং ত্বকের খোলা অংশে লাগিয়ে নিন। ত্বকে ৫-৭ মিনিট রেখে ভিজে হাতে ত্বকে মাসাজ করুন এবং হালকা গরমজলে রগড়ে পুরোটা ধুয়ে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে প্রক্রিয়াটি ত্বকে প্রযোগ করলে ত্বকের মরা কোশ দূর হয়ে যাবে।

পেডিকিওর-ম্যানিকিওর

হাতের এবং পায়ের নখ পছন্দমতন কেটে শেপ দিন এবং নখের উপর ক্রিম লাগিয়ে রাখুন। এবার একটি বড়ো গামলায় গরমজল নিন এবং তাতে শ্যাম্পু, লবণ এবং লেবুর রস মিশিয়ে হাত ও পা ওই জলে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর তোয়ালে দিয়ে হাত-পা ভালো করে মুছে মযে্শ্ছারাইজার লাগান।

চুলের যত্ন

ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে খুব সহজেই চুলের যত্ন নিতে পারেন। সপ্তাহে তিনদিন একটি করে ডিম মাথার ত্বক ও চুলে লাগিয়ে আধঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে নিতে পারেন। টাটকা অ্যালোভেরা জেল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রেখে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন। বিয়ের তিন-চার মাস আগে থেকেই এই পরিচর্যা শুরু করে দিতে পারেন। এছাড়াও সপ্তাহে ২-৩দিন নারকেল দুধের সঙ্গে নিমপাতাবাটা ও পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করেও চুলে লাগালে উপকার হবে। সবশেষে কাঁচা দুধে মধু মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

যদি মনে করেন চুল রুক্ষ হয়ে পড়ছে, চুল স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে তাহলে ১ চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল, ১ চামচ ভিনিগার, এক চামচ শ্যাম্পু, ১ চামচ মধু ও একটি পাকাকলা মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে চুলে লাগান। ভিনিগারের বদলে পাতিলেবুও ব্যবহার করতে পারেন। আধঘন্টা চুলে লাগিয়ে রেখে চুল ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। তবে মনে রাখতে হবে প্যাকটি লাগাবার আগে চুলে ভালো করে তেল লাগিয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে তিনদিন এই প্রক্রিয়াটি মেনে চললে উপকার পাবেন।

পার্লারে গিয়ে যারা ফেসিয়াল ও হেয়ার স্পা করাতে ইচ্ছুক থাকেন তাদের জেনে রাখা ভালো বিয়ের তিনমাস আগে থাকতেই এটা শুরু করে দেওয়া উচিত। সাধারণত ত্বক পরীক্ষা করে ভালো পার্লারগুলিতে ফেসিয়াল করা হয়। বিয়ের আগে তিনবার ফেসিয়াল করলেই যথেষ্ট। তবে শেষেরটা বিয়ের ১ সপ্তাহ আগে হতে হবে। হেয়ার স্পা-এর ক্ষেত্রে বিয়ের আগে দুবার হেয়ার স্পা অবশ্যই করানো উচিত। ১৫দিন আগে একবার হেয়ারকাট করিয়ে নেবেন। শারীরকে রিল্যাক্স রাখতে বডি মাসাজ বা অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে নিতে পারেন। এছাড়াও নিয়ম করে ডায়েট চার্ট মেনে খাওয়াদাওয়া করুন। রেগুলার এক্সারসাইজ, যোগ ব্যায়াম করুন শরীর ফিট রাখতে। মেডিটেশন করতে পারলে বিয়ের সময় সুফল পাবেন, শরীর মন স্ট্রেস ফ্রি থাকবে। এছাড়া জল, টাটকা ফল-সবজি ডায়েটে রোজ রাখলে ত্বকের গ্লো স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে।

বিয়ের এক সপ্তাহ আগেই ওয্যাক্সিং এবং আইব্রো করিয়ে নিতে হবে যাতে ত্বকে র‌্যাশ বেরোলেও ৭দিনের মধ্যে তা মিলিয়ে যায়।

শারীরিক প্রস্তুতির সঙ্গে কনের মানসিক প্রস্তুতিও দরকার।

বিয়ে মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিবাহিত জীবনে পথচলার সময়টাও দীর্ঘ। তাই বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর একে অপরকে ভালো করে জেনেবুঝে নেওয়া দরকার।

লভ ম্যারেজ বা অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ উভয় ক্ষেত্রেই পাত্র-পাত্রীকে সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। দুজনেরই পরস্পরের পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে চলারও মানসিকতা থাকা দরকার। সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে নিজের স্বাধীনতা কমে যাবে এ ধারণা থাকা ভুল। সঙ্গীকে যখন জীবনসঙ্গী করেছেন তখন তার ভালোর সঙ্গে সঙ্গে দোষত্রুটিকেও মেনে নিতে হবে, তার সমস্যা মেটানোর দাযিত্বও আপনাকে আন্তরিকতার সঙ্গে নিতে হবে। তাই সংসার নিয়ে হতাশামুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

প্রত্যেক পরিবারের নিয়মকানুন, রীতিনীতি সবকিছুই আলাদা আলাদা। তাদের আচার ব্যবহারও আলাদা। এই ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়কেই সহযোগিতাপরায়ণ হতে হবে। নিজের পরিবার ও সমাজের প্রতি দাযিত্ববান হতে হবে এবং নিজের স্বভাবের নেতিবাচক দিকগুলি সংশোধন করার চেষ্টা করতে হবে। দুটো পরিবারের পারস্পরিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের মাধ্যমেই দুটো পরিবার কাছাকাছি আসবে এবং এতে সবথেকে বেশি সুফল পাবে বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে চলা নতুন যুগলটি।

 

দাও ফিরে সে শৈশব

শৈশব থেকে কৈশোর এবং তারপর যৌবনে পদার্পণ মানুষের জীবনে খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। মা-বাবার কাছেও সন্তানের প্রথম হাঁটতে পারা, প্রথম কথা ফোটা, প্রথমবার স্কুলে যাওয়ার স্মৃতি এক মধুর অনুভূতি। এটাই শিশুর স্বাভাবিক গ্রোয়িং প্রসেস।

কিন্তু জীবনছন্দের এই প্রাকৃতিক গতি কখনও-সখনও ব্যহত Child Problems হয় বই-কি। দেখা যায় পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটি মেক-আপ ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতেই চায় না। ১০ বছর হতে না হতেই অনেকেই আলমারি ভর্তি নিজস্ব জামাকাপড় ছেড়ে বড়োদের জামাকাপড়, এমনকী অন্তর্বাস পরতে বেশি আগ্রহ বোধ করছে। ছোট্ট বয়সেই বাইরের পৃথিবীতে পা রাখতে চাইছে। পরিবারের গন্ডি তার কাছে মনে হচ্ছে দমবন্ধ করা পরিবেশ। বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার এখানেই শুরু।

এখন সময়টাই এমন যে বাচ্চারাও নিজেদের বড়ো ভাবতে শুরু করেছে। এমন জামাকাপড় পরছে যাতে সকলের চোখে নিজেদের সেক্সি এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। টিভির পর্দায় রিয়্যালিটি শো-গুলোতে সেক্সি গানের সঙ্গে ওদের যেভাবে নাচতে শেখানো হয়, তা আর যাই হোক শৈশবের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনও কোনও অভিভাবক হয়তো সন্তানের এই ধরনের অ্যাটিটিউড দেখে লজ্জিত বোধ করেন। টিভি, ইন্টারনেটের লাইন কাটিয়ে দেন, এমনকী প্রয়োজনে বাচ্চার অজান্তেই তার উপর নজর রাখেন। কিন্তু একবারও কী তারা ভেবে দেখেন যে, পরোক্ষে এসবের জন্যে তারাই নিরানব্বই শতাংশ দায়ী। অলক্ষ্যে তারাই, সন্তানদের শিশুমনের স্বাভাবিক ছন্দকে কেড়ে নিয়ে তাদের ঠেলে দিচ্ছেন পরিণত মনোভাবের দিকে। ভেবে দেখুন তো অজান্তে মা-বাবাই কি দায়ী নন, শিশুর জীবন থেকে শৈশবকে কেড়ে নেওয়ার জন্যে?

কী ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় অভিভাবকদের –

সন্তান যখন শাসনের বাইরে চলে যেতে থাকে অথবা মা-বাবার শাসনে, কথা শোনার পরিবর্তে উলটে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তখন সেই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মানসিক যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যেতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সন্তানের ইচ্ছের কাছে তাদের হার স্বীকার করে নিতে হয়। অপরাধবোধে তারা ভুগতে থাকেন। তাদের মনে হয় হয়তো দরকারের বেশিই তারা সন্তানকে আদর দিয়ে ফেলেছেন। শিশুর অন্যায় আবদারে একবার ‘না’ বলে কতজন অভিভাবক পারেন সেই ‘না’-তেই অনড় থাকতে?

অনেক সময় দেখা যায় মা-বাবা তাদের সন্তানদের শিশু বয়সেই একাধিক এমন কারিকুলাম-এর সঙ্গে যুক্ত করে ফেলেন যেগুলি কোনও ভাবেই শিশুসুলভ ক্রিয়া বলা চলে না। ফলত বাচ্চারাও সেক্ষেত্রে আনন্দ করার পরিবর্তে কাজের জগতে ঢুকতে বাধ্য হয়। গরমের ছুটি হলেই মা-বাবাদের টেনডেন্সি থাকে অ্যাকটিভিটি ক্লাস, সাইন্স ক্যাম্প, কম্পিউটার ক্লাস, স্পোকেন ইংলিশ ক্লাস ইত্যাদিতে বাচ্চাদের নাম এনরোল করানো, যা বাচ্চাকে অলরাউন্ডার করে তুলবে। অথচ শৈশবের যা স্বাভাবিক ক্রিয়া যেমন খেলা, মজা করা, বন্ধুরা মিলে মজা করে হইচই করা, এগুলো থেকেই তাদের বিরত করা হয়। এইভাবেই শৈশবকালটা শিশুর জীবন থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। বাচ্চারা বয়সানুযায়ী বেশি মাত্রায় ম্যাচিওরড হয়ে ওঠে।

অভিভাবকের দায়িত্ব –

বাচ্চাকে বাচ্চার মতো থাকতে দেওয়াটা খুবই জরুরি। বাচ্চারা ভুল করবে, ভুল করতে করতেই শিখবে এটাই স্বাভাবিক। বড়োদের কখনও ভাবা উচিত নয় যে, তাদের সন্তান অতিমাত্রায় প্রতিভাবান হবে, সবকিছু তার জানার মধ্যে হবে। এমনিই বাচ্চারা তাদের বয়সের তুলনায় আজকাল অনেক বেশি জানে। বয়স অনুপাতে বেশি জেনে গেলে শিশুর শৈশবের ইনোসেন্স ভাবটাও হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে।

কিশোরাবস্থায় তারা নিজেদের আগ্রহ মেটাতে বিভিন্ন সোর্স থেকে নানা তথ্য জোগাড় করে। এর বেশির ভাগই আনসেন্সার্ড হয়। এই বয়সটাতে জানার ইচ্ছা প্রবল হয় ফলে মিডিয়া, বিভিন্ন পত্রিকা, ইন্টারনেট তাদের জানার ক্ষুধা নিবৃত্তি করে। মা-বাবাও কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকেন, সুতরাং চোখে চোখে রাখার লোকের অভাব। বয়সানুযায়ী, নতুন পাওয়া তথ্যগুলি নিজেদের উপর পরীক্ষা করতে গিয়েই শৈশব ক্ষতিগ্রস্ত Child Problems এর সূত্রপাত হয়।

প্রাপ্তবয়স্ক তথ্যগুলি যাতে অপরিণত বয়সি কিশোর-কিশোরীদের হাতে না পড়ে তার একমাত্র উপায় হল সর্বক্ষণ তাদের উপর লক্ষ্য রাখা। আর একটা উপায় হল সন্তানের সঙ্গে বন্ধুর মতো মেশা। তারা যাতে নির্ভয়ে মনের কথা মা-বাবার কাছে ব্যক্ত করতে পারে। যা কিছু জিজ্ঞাস্য সব শেয়ার করার সাহস যাতে সঞ্চয় করতে পারে। শিশুর মন সবসময় নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। যেখানে সে তার সব প্রশ্নের উত্তর পায়, স্বভাবতই সেদিকে ঝোঁকার প্রবণতা বেশি থাকে। বহুক্ষেত্রেই মা-বাবা সন্তানের সঙ্গে সেক্স, পিউবার্টি, যৌনরোগ, অ্যালকোহল ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেন। সেইক্ষেত্রে অভিভাবকদের কাউন্সেলিং-এর প্রয়োজন হয়, কীভাবে এরকম স্পর্শকাতর বিষয়ে সন্তানদের অবগত করা যায়। সন্তানের এই ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হলে, ভুল উত্তর দিয়ে বাচ্চাদের মন ভরানোর চেষ্টা না করাই বাঞ্ছনীয়। প্রশ্ন করার জন্য তার মনের মধ্যে অপরাধবোধও জাগিয়ে তোলা উচিত নয়। প্রশ্ন করা থেকে তাদের বিরত করাও উচিত নয়। উপরন্তু যদি শিশুর মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়া হয় যে মা-বাবাকে মনের মধ্যে ওঠা যে-কোনও প্রশ্ন অনায়াসেই করা যায় এবং সঠিক উত্তরও পাওয়া যায় তাহলে বেঠিক সোর্স-এর সাহায্য না নিয়ে মা-বাবাকেই বাচ্চারা বেশি মূল্য দেবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে বহু সংখ্যক বাচ্চারা, নিজেদের বয়স বাড়িয়ে সদস্যপদ লাভ করেছে। বাড়ির বড়োদের কাছে ঘটনাটা অজানা নয় সুতরাং মনে করা যেতে পারে বড়োদেরও এতে স্বীকৃতি রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে প্রভোকেটিভ জামাকাপড়ে নিজেকে সজ্জিত করা, অশ্রাব্য গানের তালে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে নেচে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ইত্যাদি। বাচ্চাদের এই ধরনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলেই আজ প্রি-টিন সেক্স, চাইল্ড ড্রাগ কেস, ড্রিংকিং হ্যাবিট এবং সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ, টিন-এজারদের মধ্যে এত বেশি। আগে লিভ-ইন কালচারের এতটা রমরমা ছিল না অথচ আজ আর এই নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না, যেন এই জীবনযাত্রাটাই স্বাভাবিক। কম বয়সেই যদি এতটা স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়

তাহলে তার পরিণাম দেখেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

আপনার সন্তান কি খুব তাড়াতাড়ি বাড়ছে?

বয়সের তুলনায়, শারীরিক বা মানসিক ভাবে বাচ্চারা বেশি বেড়ে উঠতে থাকলে মা-বাবার কাছে একটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নিজেদের চারিত্রিক গঠনের থেকে শরীরের সৌন্দর্যকে বাচ্চারা বেশি প্রেফারেন্স দিয়ে ফেলে। আপনার সন্তান সত্যিই কী বয়স অনুপাতে বেশি পরিণত হয়ে উঠছে সেটা নিজেই খেয়াল রাখুন।

নিজের কাছে নিজেই কয়েকটা প্রশ্ন রাখুন যেমন –

– আপনার সন্তান যেসব গল্পের বই পড়ছে সেগুলি কি তার বয়স অনুপাতে ঠিক?

– আপনার সন্তানের আচরণ কি শিশুসুলভ নাকি শৈশবের স্বাভাবিকতার তুলনায় বেশি ম্যাচিওরড।

– সন্তান কি বড়োদের মতন পোশাক পরতে আগ্রহী বেশি অথবা বড়োদের নকল করতে চেষ্টা করে?

– বড়োদের জিনিসে কি তাদের বেশি ঝোঁক রয়েছে?

– আপনার সন্তান কি অস্থির প্রকৃতির অথবা সবসময় ‘বোর’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে?

– খেলনার প্রতি আগ্রহ কতটা?

– আপনার সন্তানের যারা বন্ধুবান্ধব তারা কি ওর থেকে বয়সে বড়ো?

 

 

10টি সহজ উপায়ে সাশ্রয় করুন

যখনই কোনও জিনিস কেনার কথা মনে হবে সেটি একটি ফর্দ-তে আপডেট করতে থাকুন।সময়ের আগেই কি আপনার সব টাকা খরচ হয়ে যায়? এখনও পর্যন্ত যদি আপনি কোনও টাকা বাঁচাতে পারেননি? তাহলে আমাদের দেওয়া এই সাধারণ টিপসগুলি আপনার দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলুন। দেখবেন কিছু না কিছু আপনি বাঁচাতে  পারছেন।

1) ভালো একটি প্ল্যান বানান

কি খুব আশ্চর্য হচ্ছেন তো? জেনে রাখুন শপিং করতে যাওয়ার ঠিক আগেই কখনও ডিসাইড করবেন না কী কিনবেন দোকান থেকে। বরং যখনই কিছু কেনার কথা মনে হবে একটি ফর্দ-তে সেটি আপডেট করতে থাকুন। দোকানে গিয়ে সেটি চোখে পড়লেই কিনে ফেলুন প্রয়োজন অনুযাযী।

2) কেনার কী কী আছে সেই হিসেবমতো লিস্ট বানান

যা যা কেনার আছে সেগুলি গ্রুপে ভাগ করে নিন। এতে বুঝতে পারবেন কোন দোকানে গেলে কোন জিনিস পাবেন এবং মোট কটা আলাদা আলাদা দোকানে আপনাকে যেতে হবে। এই প্ল্যানিং করা থাকলে আপনার টাকা ও সময় দুটোই বাঁচবে। যেমন মুদির দোকানের আলাদা, সবজির দোকানের আলাদা লিস্ট, এইভাবে চাহিদাটাকে গুছিয়ে নিন।

3) লিস্ট-টাকে এড়িয়ে যাবেন না

বিশেষ কারণের জন্যই আপনি লিস্ট-টা বানিয়েছেন, সুতরাং সেটাই ফলো করুন। ফর্দ অনুযাযী চললে আজেবাজে জিনিস কেনা আটকাতে পারবেন এবং অর্থেরও সাশ্রয় Save Money হবে।

4) একমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসই একসঙ্গে অনেকটা কিনুন

বেশিরভাগই আমরা নানা অফার্স, ফ্রি গিফট বা একটার সঙ্গে আরেকটি ফ্রি ইত্যাদি লোভনীয় প্রস্তাব দেখে, কেনার সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে ফেলি। বরং ভ্যারাইটি জিনিস কিনুন যাতে দু’দিন পরেই জিনিসটির প্রতি আপনার বিতৃষ্ণা না আসে এবং একসঙ্গে একই জিনিস একগাদা কেনার ফলে জিনিসটির অপচয়ও যেন না হয়।

5) এক সপ্তাহের প্রয়োজনের লিস্ট তৈরি করুন

রোজ কিছু না কিছু কিনতে দোকানে যাওয়ার বদলে আপনি পুরো সপ্তাহে কী কী লাগবে তার একটা লিস্ট তৈরি করুন এবং সেইমতো জিনিস কিনুন। নেক্সট কবে আবার শপিং করবেন সেটাও ঠিক করে নিন। এর ফলে বাড়িতে হঠাৎ কোনও জিনিস ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যায় আপনাকে পড়তে হবে না।

6) পিক আওয়ার্স-এ শপিং করবেন না

যখন ভিড়ভাট্টা কম হয়ে যায় তখনই শপিং করতে যান। এতে পেমেন্ট করার সময়ও সুবিধা হবে, ছোটো লাইনে দাঁড়াতে হবে। সাধারণত সন্ধের পর থেকে কিংবা রবিবারের দুপুরে শপিং করাটা এড়াতে পারলেই ভালো হয়। এই সময় বেশিরভাগ মানুষই দোকান বাজার করতে বেরোয় এবং ভিড়ের মধ্যে হামেশাই প্রয়োজনীয় জিনিসটাই আমরা কিনতে ভুলে যাই।

7) শপিং-এর লিস্ট সবসময় কাছে রাখুন

দোকানে পৌঁছে যাবার পর আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি লিস্ট-টা বাড়িতেই ফেলে এসেছি। তাই শপিং করতে যাওয়ার আগে মনে করে লিস্ট-টা সঙ্গে রাখুন। যখন আপনার হাতে শপিং-এর জন্য সময় কম থাকবে তখন দেখবেন লিস্ট-টার থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

8) এক্সপায়ারি ডেট চেক করুন

যখনই কোনও প্রোডাক্ট কিনছেন, এক্সপায়ারি ডেট অবশ্যই দেখে নিন। প্যাকিং-ও ঠিকঠাক আছে কিনা চেক করে নিন। যখন কোনও জিনিস সস্তাতে বিক্রি করা হচ্ছে দেখবেন তখন হয়তো এমনও হতে পারে খুব শিগগিরি জিনিসটির এক্সপায়ারি ডেট ফুরোতে চলেছে। এই ক্ষেত্রে প্যাকিং-এও অনেক সময় ফাটা ছেঁড়া থাকে। স্পষ্ট কথায় জিনিসটির কোয়ালিটি নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

9) বন্ধুর সঙ্গে শপিং-এ যান

সম্ভব হলে এমন বন্ধু বা প্রতিবেশীর সঙ্গে শপিং করতে যান যিনি খুবই স্বাস্থ্য সচেতন। শপিং করতে গিয়ে জাংক ফুড খাওয়ার একটা ইচ্ছা মনের মধ্যে জাগে। বিশেষ করে যখন জাংক ফুডের সঙ্গে ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ অফার দেওয়া থাকে। সেই মুহূর্তে স্বাস্থ্য সচেতন বন্ধুটিই এই ধরনের খাওয়া থেকে আপনাকে বিরত করতে পারে।

10) প্রোডাক্ট-এর লেবেলটা পড়তে ভুলবেন না

অনেক প্রোডাক্টস-এর লেবেলে লো-ফ্যাট-এর মতো শব্দ লেখা থাকে। বেশিরভাগই আমরা এগুলো বুঝতে পারি না। লো-ফ্যাট ফুডে সাধারণত প্রচুর পরিমাণে শর্করা কিংবা লবণ থাকে যা কিনা স্বাদ বাড়াবার জন্য মেশানো হয়। খাওয়ার জিনিস কেনার সময় তাতে কতটা পরিমাণে ক্যালোরি আছে জানার জন্য নিউট্রিশনাল লেবেল অবশ্যই পড়ুন। কোনও জিনিসে ক্যালোরি কম থাকা মানে সেটি হেলদিও হবে এমন কোনও অর্থ নেই। ক্যালোরি নয় বরং কোয়ালিটি দেখে খাবার খান।

সাম্প্রতিক পরিবেশ ও বাচ্চাদের জন্য সতর্কতা

নানা জাতি, সম্প্রদায়, বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ জুড়ে আমাদের এই দেশ। তার মধ্যে হই-হুল্লোড়, চারপাশে ভিড়, দূষণের চোখরাঙানি আর সবথেকে ভযংকর করোনার দাপট এইসব থেকে বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখতে অভিভাবকদের কিছুটা সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

করোনার দীর্ঘ প্রভাব কাটিয়ে উঠে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে আমাদের দেশ। চারপাশে উচ্ছ্বাসের ঢল, হইচই, খুশির স্রোতে ভেসে চলা। স্কুল কলেজ অফিস রেস্তোরাঁ সব কিছুই আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। কিন্তু দুবছর ধরে সকলের জীবনশৈলীতেই বেশ একটা বড়ো পরিবর্তন এসেছে। আনন্দ উচ্ছ্বাসে সামান্য হলেও ভাটা পড়েছে। করোনার থাবা সরাসরি বসে গেছে মানুষের আনন্দ উদযাপনের মানসিকতার উপর।

এই সংকট বড়োদের সঙ্গে বাচ্চদের উপরেও প্রভাব ফেলেছে। বাচ্চারা এতদিন হয়ে পড়েছিল গৃহবন্দি। এর ফলে বাচ্চাদের মধ্যেও অবসাদের বীজ বপন হয়েছে। করোনার টীকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বড়োরা এই সুবিধা গ্রহণ করে অনেকটাই সংকট মুক্ত হয়েছেন। তারা সবরকম সাবধানতা অবলম্বন করে স্বাভাবিক জীবনের আনন্দে শামিল হচ্ছেন। বাচ্চাদের স্কুলে স্কুলেও এই টীকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু বাচ্চাদের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কমেনি। কারণ করোনার টীকাকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় বহু বাচ্চারা এখনও পড়েনি।

বর্তমানে করোনার তৃতীয় ঢেউ আমরা কাটিয়ে উঠেছি সাফল্যের সঙ্গে। শিশুদের উপর হওয়া ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফলও হাতে পেয়ে গেছে সারা বিশ্ব। সুতরাং নতুন এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাচ্চাদের সুরক্ষা দেওয়ার Safety of children দাযিত্ব পুরোপুরি অভিভাবকদের।

বছরের শুরু থেকে শেষ অবধি নানা উৎসব চলে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এতদিন এই আনন্দঅনুষ্ঠান গুলো থেকে মানুষ বঞ্চিত থেকেছে। কিন্তু আর গণ্ডিবদ্ধ হয়ে থাকতে মানুষ চাইছে না। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া দোল এবং হোলির মাতামাতিই এই বার্তা বহন করছে। আসতে চলেছে বাঙালির নতুন বছরের উন্মাদনা। নতুন পোশাক, এলাহি খাওয়াদাওয়ার আয়োজন সবই পরিকল্পনায় রয়েছে। সুতরাং বড়োদেরও উচিত নিজেদের সঙ্গে বাচ্চাদেরও শামিল করা। সুতরাং তাদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না করে, প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে আগলে রাখতে বড়োদের বিশেষ কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে।

সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে, যে বাচ্চারা এখনও বাইরে যেতে আরম্ভ করেনি তারাও বাইরের সংক্রমণের শিকার হতে পারে কারণ বড়োরা যেহেতু বাইরে বেরচ্ছেন তাই বাড়ির বড়োরাই সংক্রমণের বাহক হতে পারে। দুবছর বয়সের ঊর্ধ্বে সব বাচ্চাদেরই মাস্ক পরানো উচিত। একত্রে অনেকে মিলে খেলাধুলা করতে না দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো উচিত।

বাচ্চারা নানা কারণে জ্বরে পড়ে। হালকা জ্বর, সর্দি-কাশি, নাক দিয়ে জল পড়া, গলা ও সারা শরীরে ব্যথা, বমি ভাব, পেট জ্বালা, পাতলা পায়খানা, ক্লান্তি এগুলি বাচ্চাদের খুব কমন লক্ষণ। সাধারণত ডাক্তাররা এর জন্য জ্বরের ওষুধ দিয়ে থাকেন। বাড়ির বড়োদের উচিত বাচ্চার মধ্যে এই ধরনের লক্ষণ ফুটে উঠলে বাড়িতে থেকে ২-৩ দিন তাদের পর্যবেক্ষণ করা।

যে-কোনও ভাইরাস সাধারণত জলবাহিত বা বাযুবাহিত। জল ফুটিয়ে খাওয়ানো উচিত বা ফিল্টারড জল, বাইরের যে-কোনও পানীয় না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। এ ছাড়া সর্বসাধারণের জন্য যেসব খেলার মাঠ বা পার্ক রয়েছে সেখানে বাচ্চাদের না পাঠানোই ভালো এবং প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোনোও যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। তবে উৎসব অনুষ্ঠানে একান্তই বাইরে নিয়ে যেতে হলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। ২ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে বাচ্চাদের পাবলিক প্লেসে এবং বাড়িতে বাইরের লোকজন এলে, মাস্ক পরিয়ে রাখা উচিত। একইসঙ্গে ছ’ফুটের দূরত্বও মেনে চলাটা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

যদি কোনও শিশু সংক্রমিত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠে তাহলে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা মোটামুটি ছয় থেকে দশ মাস পর্যন্ত স্থাযী হবে। শিশুর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে ব্যালেন্স ফুড, পুষ্টিকর, আয়রন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দেওয়া উচিত। এছাড়াও মাল্টি ভিটামিন এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিযেনট বাচ্চাদের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, খেলাধুলো এবং পর্যাপ্ত ঘুম-সহ সুষম জীবনযাত্রা বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে।

জ্বর হলে কী করতে হবে

  • বাচ্চার ঘরটি ঠান্ডা রাখুন
  • গরমে একগাদা ভারি পোশাক পরিয়ে রাখবেন না, সুতির হালকা পোশাক পরান
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে তাকে তরল খাওয়ান। যেমন জল, টাটকা ফলের রস, ডাবের জল, ইলেক্ট্রলের জল ইত্যাদি
  • নিশ্চিত করুন যেন সে অত্যধিক পরিশ্রম না করে
  • ডাক্তারের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়াতে থাকুন।

বাচ্চাদের Depression হওয়ার কারণ

অবসাদ বলতেই আমাদের মনে বড়োদের কথাই আগে মনে হয়। শিশুমনে যে অবসাদ শিকড় গাড়তে পারে এ ধারণা সচরাচর কারও মনেই আসে না। অথচ জানা দরকার যে বড়োদের মতো বাচ্চারাও অবসাদের শিকার হতে পারে। অবসাদের কারণ আলাদা আলাদা হয়। যদি কোনও বাচ্চা বহুদিন ধরে বিমর্ষ বা খিটখিটে স্বভাবের হয়ে পড়ে, সেটার কারণ অবসাদ না-ও হতে পারে। কিন্তু বাচ্চা যদি সবসময় উদাস হয়ে থাকে, কারওর সঙ্গে মিশতে বা কথা বলতে না চায়, খিদে এবং ঘুমের ওপর এর প্রভাব পড়া শুরু হয় তাহলে অভিভাবকদের সাবধান হতে হবে। তাদের নিশ্চিত হতে হবে যে তাদের সন্তান অবসাদের শিকার হয়ে পড়েনি তো? সন্তানদের ব্যাপারে মা-বাবাকে সচেতন থাকতে হবে এবং জানতে হবে কী কী কারণে ডিপ্রেশন হতে পারে এবং তার লক্ষণগুলি।

বাচ্চাদের মধ্যে Depression এর কারণ

অনেক বাচ্চা স্কুলে অন্যান্য বাচ্চা কিংবা বড়োদের উৎপীড়নের শিকার হয় এবং মাত্রাতিরিক্ত উৎপীড়নের কারণে বাচ্চা অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। স্কুলে অথবা যে-কোনও পাবলিক প্লেস-এ বাচ্চা যদি প্রতিনিয়ত উৎপীড়িত হতে থাকে, তাহলে তার আত্মবিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকে। চুপচাপ, বিষণ্ণ হয়ে পড়াতে ধীরে ধীরে তাকে অবসাদ গ্রাস করে। এছাড়াও সব সময় বাচ্চাকে মানসিক ভাবে প্রেশার দিতে থাকলেও বাচ্চার মধ্যে অবসাদ জন্মাতে পারে। এটা পড়াশোনারও চাপ হতে পারে।

(ক) বংশানুগত কারণ : যে-শিশুর পরিবারে কোনও সদস্যের অবসাদগ্রস্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের তুলনামূলক ভাবে অবসাদের শিকার হওয়ার ভয় বেশি থাকে, অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায়। তবে পরিবারে কারও যদি ডিপ্রেশন-এর ইতিহাস না-ও থাকে তাহলে ওই শিশুর কোনও দিনই ডিপ্রেশন হবে না, এমন ধারণা রাখাও ভুল। যদি বড়োদের মনে হয় সন্তানের মধ্যে অবসাদের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে তাহলে, তার ক্রিয়াকলাপ, মানসিকতা এবং ব্যবহারের উপর কড়া নজর রাখতে হবে।

(খ) জীবনশৈলীতে পরিবর্তন : বয়স্কদের মতোই বাচ্চরাও চট করে কোনও পরিবর্তন স্বীকার করে নিতে পারে না। নতুন বাড়ি বা নতুন স্কুলে যাওয়া, মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া বা বিচ্ছেদ দেখলে, ভাই-বোনের থেকে আলাদা হয়ে পড়লে, দাদু-ঠাকুমার স্নেহছায়া থেকে দূরে যেতে হলে, বাচ্চার মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যদি মনে হয় আপনার সন্তান এর ফলে প্রভাবিত হয়ে পড়ছে তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব এই ব্যাপারে আপনার সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। যদি কোনও দুর্ঘটনার পর বাচ্চার ব্যবহারে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তাহলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে সন্তানের মধ্যে অবসাদের লক্ষণগুলি ফুটে উঠছে কিনা খেয়াল রাখুন এবং প্রযোজনে শীঘ্রই চিকিৎসা শুরু করে দিন।

(গ) রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা : কোনও কোনও বাচ্চার শরীরে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার কারণে, সেই বাচ্চা অবসাদের শিকার হয়ে পড়ে। বাচ্চার গ্রোযিং এজ-এ হরমোনাল পরিবর্তন-এর কারণেও অনেক সময় রসায়নের ভারসাম্য নষ্ট হয় শরীরে। অপুষ্টি এবং শারীরিক গতিবিধি সীমিত হওয়ার ফলেও এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চার সঠিক বিকাশ হচ্ছে কিনা পরীক্ষা করতে বাচ্চার রেগুলার চেক-আপ করান। এর ফলে অবসাদের হাত থেকে বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

বাচ্চার মধ্যে Depression এর লক্ষণ

  • খিটখিটে স্বভাবের হয়ে ওঠা, কথায় কথায় রেগে ওঠা
  • সবসময় বিমর্ষ, বিষণ্ণ হয়ে থাকা
  • বাইরের জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
  • কথাবার্তা, মেলামেশা বন্ধ করে দেওয়া
  • অপরের কাছে স্বীকৃতি না পাওয়ার ভয় মনের মধ্যে পোষণ করা
  • খিদে, ঘুম অনিয়মিত হয়ে পড়া এবং এগুলির ঘাটতি
  • কথায় কথায় কেঁদে ফেলা
  • মনোযোগের অভাব
  • এনার্জির অভাব এবং ক্লান্তি
  • কোনও কারণ ছাড়াই পেটব্যথা এবং মাথাব্যথা
  • যে-কোনও কাজ করার অনিচ্ছা প্রকাশ
  • মনের মধ্যে অপরাধবোধ জন্ম নেওয়া
  • আত্মহত্যার মতো মারাত্মক চিন্তাধারার শিকার হয়ে পড়া।

বাচ্চার  মধ্যে এর যে-কোনও একটি লক্ষণ প্রকট হয়ে উঠলেই অভিভাবকদের সাবধান হতে হবে এবং সেই মতো ডাক্তারের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ পরামর্শ করে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার রাস্তা বেছে নিতে হবে। বাচ্চা যাতে অবসাদের শিকার হয়ে না পড়ে সেটা খেয়াল রাখার গুরুদাযিত্ব অভিভাবকদেরই নেওয়া দরকার।

সন্তানের সঠিক পুষ্টি নিয়ে আপনি কি সচেতন?

এখন সারা বিশ্ব প্যানডেমিকের থেকে অনেকটাই অব্যাহতি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু কোভিড-১৯-এর মতো অতিমারির কারণে আমাদের জীবনশৈলীতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে যা কিনা আমাদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। নতুন এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ জনসাধারণ বাড়িতে থাকতে বাধ্য হয়েছে। এতে বাচ্চা ৱুড়ো সকলেই আছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ধীরে ধীরে এখন ফিরছে ঠিকই কিন্তু মানুষ বাড়িতে থেকে থেকে অলসতার কারণে স্থূল হয়ে পড়েছেন, চট করে বাইরে বেরোতে তারা চিন্তায় পড়ে যাচ্ছেন। লকডাউন চলাকালীন সময় কাটাবার জন্য এমন খাওয়াদাওয়ায় তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যা মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এটা কারও অজানা নয় যে আমাদের খাওয়াদাওয়া আর জীবনশৈলীর সঙ্গে ইমিউনিটির গভীর সংযোগ রয়েছে। এখন আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। বিশেষ করে ইমিউন সিস্টেমের যে ক্ষতি হয়ে গেছে সেই প্রসঙ্গে আমাদের সাবধান হওয়া খুব দরকার। সবথেকে ক্ষতির মুখে পড়েছে বাচ্চারা। যেমন তাদের মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে তেমনি বাড়িতে সর্বক্ষণ কাটাবার ফলে খেলাধুলা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে তাদের যারপরনাই শারীরিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সময়ে চাহিদা অনুযাযী জীবনশৈলীতে পরিবর্তন আনাটা Nutrition in children খুব জরুরি যাতে আমাদের বর্তমানের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যত্ও উত্তম হয়ে উঠতে পারে।

আমাদের বাচ্চাদের জীবন যেখানে খেলাধূলায়, হাসি-আনন্দে ভরে থাকা উচিত সেখানে তারা বাধ্য হয়েছে বাড়িতেই ব্যস্ত থাকার প্রয়াস করতে। এমনকী ভার্চুয়াল স্কুলিং-এর চাপে তাদের দমবন্ধ হয়ে আসার অবস্থা হয়েছে। এছাড়াও দেখা গেছে এই অতিমারীর আগে যেসব বাচ্চারা সঠিক পুষ্টির থেকে এমনিতেই বঞ্চিত ছিল এখন তারা আরও বেশি অপুষ্টির শিকার হয়ে পড়েছে। দ্য ল্যানসেট-এ (বিশ্বের সবথেকে পুরোনো এবং প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল জার্নালগুলির মধে অন্যতম) প্রকাশিত একটি অধ্যায়ন অনুসারে, কোভিড-19 অতিমারীর আবহে বাচ্চাদের মধে অপুষ্টির একটা নতুনরূপ চোখে পড়ছে। এতে উদ্বেজনিত অপুষ্টি এবং গ্রোথ না-হওয়া শামিল রয়েছে। বাচ্চাদের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ওজন এবং স্থূলতার সমস্যা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওদের শরীরে অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টির অভাব রয়েছে। সুতরাং এটা জরুরি যে অতিমারীর আবহ এখন কাটিয়ে ফেলার পর সীমিত গতিবিধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবর্ধক খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা, অ্যাক্টিভ থাকা এবং অবসাদ দূরে রাখার নানা উপায়ের প্রতি মানুষের মনে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা।

লকডাউন চলাকালীন বাচ্চারা যেসব খাবারের যেমন, ফাস্টফুড, ফ্যাটজাতীয়, নোনতা, মিষ্টি ইত্যদির প্রতি অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে সেগুলি মোটেই পুষ্টিকর নয়। মায়েরাও বাচ্চাদের চাহিদামতো ওদের ইচ্ছাপূরণ করতে রোজ নতুন নতুন রেসিপি ট্রাই করেছেন এতদিন। কিন্তু ভাবনাচিন্তা না করে কোনও খাবার বানাবার চেষ্টা করা হলে তাতে পুষ্টিকর তত্ত্বের ব্যালেন্স-এ গণ্ডগোল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেই। হতে পারে খাবারে অ্প্রয়োজনীয় তত্ত্ব যেমন কার্বোহাইড্রেটস এবং ফ্যাটের মাত্রা বেশি হয়ে যায় অথবা প্রয়োজনীয় তত্ত্ব যেমন ভিটামিন এবং মিনারেলের মাত্রা কম হয়ে যায়। যদি বাচ্চা দীর্ঘসময় ধরে এইধরনের খাবার খেতে থাকে তাহলে অপুষ্টির শিকার হতে পারে বাচ্চা এবং ইমিউন সিস্টেম-এরও ক্ষতি হতে পারে।

খাবারে বিশেষ ধরনের পুষ্টিকর তত্ত্বের সংযোজনই ইমিউন সিস্টেমকে লাভ দেয়। এছাড়াও বাচ্চার শারীরিক বিকাশেও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। পর্যাপ্ত মাত্রায় আয়রন, জিংক, ভিটামিন এ, সি, ই, বি6 এবং বি12-এর সেবন বাচ্চার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সঠিক ভাবে কার্যকরী থাকতে সহায়তা করে। এছাড়াও ডায়েটে ফাইবার রাখলে শিশুর পেটের স্বাস্থ্য ঠিক থাকে যার ফলে ইমিউনিটির লাভ শরীরের সব জায়গা সঠিক ভাবে পেতে পারে। সুতরাং বাচ্চার দৈনন্দিন ডায়েটে টাটকা ফল, সবুজ শাক-সবজি, স্যালাড এইধরনের পুষ্টিকর তত্ত্বগুলি সংযোজন করা একান্ত জরুরি। এই ধরনের খাওয়াদাওয়া শরীরে পুষ্টিকর তত্ত্বের ভাণ্ডার নির্মাণ করতে সাহায্য করবে। অতিমারির সময় টাটকা, সুরক্ষিত এবং আলাদা আলাদা ধরনের খাদ্যদ্রব্য জোগাড় করা মুশকিল ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি শোধরাবার পর এগুলির প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখাটা অভিভাবকদের একান্ত প্রয়োজন। এখন শরীরের পুষ্টিকর তত্ত্বের ভাণ্ডার ঠিক রাখলে তবেই সেটি শরীরকে সঠিক পুষ্টি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা অসুখ থেকে সুরক্ষা দেবে। সুতরাং বাচ্চাদের ডায়েটে তরল পদার্থ, ডেয়ারি প্রোডাক্টস, নানা রকম ফল-সবজি এবং বাদাম শামিল করা খুব জরুরি। শুধু তাই নয়, বাচ্চার খাওয়ার, জলখাবারের, খেলার, পড়ার এবং শোওয়ার সময়ও নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত।

 

 

চটজলদি রান্না সারুন

সমস্ত বিশ্বজুড়ে এত তো লকডাউন গেল কিন্তু বাড়ির বাইরে পৃথিবী অচল হয়ে পড়লেও বাড়ির ভিতরে কর্মবিরতির বদলে বাড়ির গৃহিণীদের উপর কাজের চাপ বৃদ্ধি-ই পেয়েছে। বাড়ির মধ্যে মহিলারা দশভুজা হয়ে সংসার সামলাবার সবরকম গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন এবং আজও করছেন। কিন্তু সংসারের কাজই তো শুধু নয়, আজকাল বেশিরভাগ মহিলাই বাড়ির বাইরে চাকরি করেন তাই বাড়ি থেকেই হোক বা বাড়ির বাইরে বেরিয়েই হোক তাকে বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে অফিসের পুরো দায়িত্বও পুরো করতে হচ্ছে, যেটা সত্যি করেই বেশ চাপের বিষয়। বাড়িতে বেশ কিছুটা সময় যায় Cooking-এও। পুষ্টিকর, ভালোমন্দ খাবারের চাহিদা সব পরিবারেই রয়েছে কিন্তু রান্নাঘরে অনেকটা সময় ব্যয় করার মতো মানসিকতা বা পর্যাপ্ত সময় আজকের মহিলাদের কাছে নেই। তাই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে কীভাবে চটজলদি পুষ্টিকর এবং ভালোমন্দ, সকলের পছন্দসই খাবার তাঁরা পরিবেশন করতে পারবেন তারই কটা টিপস দেওয়া হল।

তাড়াতাড়ি বাড়িতে Cooking সারতে হলে

1) সকালে উঠেই সবজির ট্রে ফ্রিজ থেকে বার করে এবং ফ্রিজার-এ রাখা আমিষ যা যা আছে দেখে ঠিক করে নিন কী কী রান্না হবে। ফ্রিজ হয়ে থাকা মাছ বা মাংস জলে ভিজিয়ে রেখে দিন।

2) সপ্তাহে দু’দিন করে সমস্ত সবজি গুছিয়ে কেটে জিপ লক ব্যাগে ভরে রাখুন এবং রাখার আগে বড়ো একটি পাত্রে বেকিং সোডা ও সাইট্রিক অ্যাসিড মিশিয়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে ব্যাগে ভরুন। দিনের যে-কোনও সময় এই কাজটা সেরে রাখুন যাতে রান্নার সময় ব্যাগ থেকেই কড়াইতে ঢালতে পারেন।

3) রান্নার জন্য প্রযোজনীয় বাসনপত্র হাতের কাছে রাখুন যাতে কাবার্ড আতিপাতি করে খুঁজতে না হয়।

4) কোনটার পর কোনটা রান্না করবেন সেটা হাতের কাছে গুছিয়ে নিন। একটা শেষ হলেই যাতে পরেরটা চড়াতে পারেন।

5) একটা পাত্রে জল ফুটন্ত গরম রাখুন। সেটা রান্নার কাজে ব্যবহার করলে রান্না তাড়াতাড়ি হবে। নয়তো ঠান্ডা জল গরম হতে সময় নেবে।

6) সবসময় চাপা দিয়ে রান্না করুন, এতে তাড়াতাড়ি খাবার সেদ্ধ হবে। প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে আরও ভালো।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব