গৃহ-অশান্তির সাক্ষী যখন নিজেদেরই সন্তান – (শেষ পর্ব)

মা বাবার সঙ্গে বাচ্চার Relationship কেমন হওয়া উচিত বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মা বাবা নিজেদের মধ্যে কীধরনের আচরণ করছেন সেটা শিশুর বেড়ে ওঠার ওপর খুব গভীর প্রভাব ফেলে। এতে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কেমন হবে, পড়াশোনায় সে কেমন করবে, এমনকি ভবিষ্যতে এই শিশু যেসব সম্পর্কে জড়াবে সেগুলো কেমন হতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। কখনও সখনও বড়োদের মধ্যে কলহ এতটাই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যে, স্বামী-স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের পথে পা বাড়ায়। একে অপরকে সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শুধু ডিভোর্সই নয়, অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী কেউ একজন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে যদি জড়িয়ে পড়েন, তাহলে বাড়িতে থাকা বাচ্চার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। কিন্তু সমস্যা হল এই পরিস্থিতি হলে বাচ্চাটি কোথায় যাবে? সে কী করবে আর না করবে বুঝে উঠতে পারে না।

কী কী কারণে বড়োদের আচরণ শিশুমনে প্রভাব ফেলে সেটা আমাদের জানতে হবে। আগেই বড়োদের নিজেদের মধ্যে ডিভোর্সের হুমকি এবং ব্যবহারে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, বাকি কারণগুলোও এখানে আলোচনা করা হল।

আর্থিক সমস্যার প্রভাব বাচ্চার উপর

কলকাতার বাসিন্দা অলোকের চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকে প্রায়শই বাড়িতে টাকা-পয়সা নিয়ে স্ত্রীয়ের সঙ্গে ঝগড়া চলতেই থাকত। ভালো আবাসনে ফ্ল্যাট ছিল, ছেলেমেয়েরাও ভালো কলেজে পড়ত। চাকরি যেতেই নিজের বাড়ি, ভাড়ায় দিয়ে, অল্প টাকায় বাড়ি ভাড়া করে পরিবার নিয়ে এসে উঠেছে টাকা সাশ্রয়ের জন্য। কম ফি যেখানে সেই স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করে দিয়েছে। কিন্তু ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোথাও থাকতে হলে সংসারে লড়াই ঝগড়া তো হবেই।

বাড়িতে সারাদিন বসে থেকে অলোক স্ত্রীয়ের গতিবিধির উপর নজর রাখা আরম্ভ করল। স্ত্রী কী করছে, ওটা কেন করছে না ইত্যাদি বলতে আরম্ভ করল স্ত্রীকে। স্ত্রীয়েরও ধৈর্যচ্যুতি ঘটল। একে তো অর্থের সমস্যা তার উপর স্বামীর এই নজরদারি। ঝগড়া এতটাই বেড়ে গেল রাগের মাথায় দু’জনেই সন্তানদের গায়ে হাত তুলতে আরম্ভ করল।

দুটি সন্তানই কৈশোর ছাড়িয়ে সবেমাত্র যৌবনে পদার্পণ করেছে। মা-বাবার কাছ থেকে টাকার খোঁটা শুনতে শুনতে বড়ো হচ্ছিল। কিন্তু ভাইবোন দু’জনে মিলে ঠিক করল নিজেদের খরচ ওরা নিজেরা চালাবে এবং বড়োদের ঝগড়ার প্রভাব নিজেদের জীবনে পড়তে দেবে না। অলোকের মেয়ে আশেপাশে বেশ কয়েকটা টিউশন জোগাড় করে নিজের হাতখরচের ব্যবস্থা করে নিল আর ছেলে একটা স্টোরে পার্ট টাইমের চাকরি জোগাড় করে নিল। এতে দুটো লাভ হল— মা-বাবার রোজের খিটমিট বন্ধ হল আর সন্তানরা আত্মনির্ভরও হতে শিখল।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক

অজয়কে প্রায়ই ব্যাবসার কাজে শহরের বাইরে যেতে হয়। দুটি সন্তান, মেয়ে দশম শ্রেণিতে আর ছেলে দ্বাদশ ক্লাসে। অজয়ের স্ত্রী চাকরি করে না। বাড়িতে থাকে বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ক্লাব পার্টি করে বেড়ায় সময় কাটাবার জন্য। অজয়ের নির্দেশ ওর অনুপস্থিতিতে বাচ্চারা যেন মায়ের কথা শুনে চলে এবং মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়।

একদিন ছেলে রাত করে পড়াশোনা শেষ করে নীচে বাগানে একটু হাঁটাহাঁটি করছিল। তখনই মা-কে এক অচেনা পুরুষের গাড়ি থেকে নামতে দেখে। তাও সবই ঠিক ছিল কিন্তু নিজের মা-কে পরপুরুষের বক্ষলগ্না হতে দেখে ও নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারে না। ছেলে চুপ করে থাকলেও এ ধরনের কথা বেশিদিন চাপা থাকে না।

কয়েকদিনের মধ্যেই পাড়াতে অজয়ের স্ত্রীকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। এ ফ্ল্যাট ও ফ্ল্যাট করে অজয়ের কানে এসে পৌঁছোল গুঞ্জন। শুরু হল অশান্তি। অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীকে কথা বলতে দেখলেই অজয়ের মনে সন্দেহ বাসা বাঁধতে আরম্ভ করত। সংসারে অশান্তি শুরু হল। বাচ্চাদের কানেও প্রতিবেশীদের চাপা ফিসফিসানি এসে পৌঁছোত। অনেকে ওদের দেখে হাসাহাসিও করত। বাচ্চাদের খারাপ লাগত আবার মা-বাবার উপর রাগও হতো। কিন্তু ছেলের নিজের কেরিয়ার তৈরির চিন্তা ছিল, ও ভালো করেই জানত পড়াশোনা না করলে রেজাল্ট খারাপ হবে।

অজয় এবং ওর স্ত্রী মাঝেমধ্যে সন্তানদের কাছে একে অপরের নামে নিন্দে করত। ছেলে একদিন স্পষ্টই জানিয়ে দিল, ‘তোমাদের ঝগড়া নিজেদের মধ্যেই রাখো, আমাদের নিজেদের জীবন নিজেদের মতো করে চালাতে দাও। ছেলে পড়াশোনা করে সময় পেলে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একটু ঘুরে আসত বা সিনেমা দেখতে যেত। ছোটো বোনও দাদার দেখাদেখি ওটাই করত।

নিজের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেওয়া

শো বিজনেস-এ থাকা নিহাল নিজের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে খুব ভালো এবং সৎ ব্যবহার করত ঠিকই কিন্তু নিজের স্ত্রীয়ের সঙ্গে নয়। সবসময় নিজের সন্তানদের বয়সি মেয়েদের দ্বারা ঘিরে থাকতে ভালোবসত নিহাল এবং নিজের স্ত্রীকে অসম্মান করত। অশান্তি এতটাই চরমে পৌঁছেছিল ওদের ডিভোর্স প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করা হলে ওরা জানায় মা-বাবা কারও সঙ্গে ওরা থাকতে চায় না। ওরা একলা কোথাও থাকতেও রাজি কারণ মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া ওরা সহ্য করতে পারে না।

আসলে অজয়ের সন্তানরা ওদের মা-বাবার ঝগড়া দেখতে দেখতেই বড়ো হয়েছে। তাই ওরা মা-বাবাকে কোনওদিন ভালোবাসতে পারেনি, তারাও কি সন্তানদের আদৌ ভালোবাসা দিয়েছিলেন? ঝগড়ার কারণে অনেকদিন বাড়িতে খাবার পর্যন্ত রান্না হতো না। কত উৎসবে হয়েছে, বাড়িতে যখন অতিথি এসেছে খুব এলাহি ভাবে তাদের খাতির করা হয়েছে। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরেই বাড়ির পরিবেশ আবার আগের অবস্থাতেই ফিরে গেছে। বাচ্চারা এই সত্যটা অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিল বলেই মা- বাবার সঙ্গে থাকতে তারা অস্বীকার করে।

এই প্রতিটা ঘটনায় বাচ্চারা মানসিক ভাবে মা-বাবার ঝগড়ার কারণে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু এটাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বড়োদের ঝগড়ার প্রভাব কিছুতেই নিজেদের জীবনে পড়তে দেবে না। সম্পর্ককে সম্মান করাটা সকলের উচিত আর বাচ্চাদের বড়োদের ঝগড়ায় কখনও টেনে আনা উচিত নয়। বাচ্চাদেরও বড়োদের এই ঝগড়ায় নিজের মন মেজাজ এবং জীবন নষ্ট করা বাঞ্ছনীয় নয়।

এখন বাচ্চারা অনেক বেশি মানসিক ভাবে পরিণত। তারা মানে যে, মা-বাবা যদি পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করে, Relationship  মেনটেইন করে পরিবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারে তাহলে সেই ভুলের দায়িত্ব তাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

 

আরও একটু বৃষ্টি নামুক ( শেষ পর্ব )

প্রায় কুড়ি মিনিট দূরত্বে একটা কফি শপে অনিন্দ্য দোয়েলকে নিয়ে এল। দোয়েল এমনিতেই স্মার্ট, সুন্দরী। কিন্তু আজ যেন দোয়েলকে সদ্য ফোটা গোলাপের মতো প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল।

অনিন্দ্য দোয়েলকে বসিয়ে রেখে বলল— ‘তুমি একটু বসো। আমি একটা ফোন কল করে আসছি। কিছুক্ষণ পর অনিন্দ্য ফিরে এসে বলল— ‘বোর ফিল হচ্ছে!’

একদম না। অনিন্দ্যদা, তুমি কী যেন বলবে বলছিলে!

বলব। তুমি ছাড়া আর কার সঙ্গে মনের কথা শেয়ার করব! সারপ্রাইজ তাড়াতাড়ি দিলে মজাটাই থাকে না। একটু ধৈর্য ধরো।

অনিন্দ্য কফি শপের ভিতর এদিক ওদিক বারবার চেয়ে দেখছিল। একটি ছেলে এসে অনিন্দ্যকে বলল— ‘স্যার, আপনাদের কী লাগবে?’

অনিন্দ্য বলল— ‘হুম, দুকাপ কফি।’

অনিন্দ্যর অনুসন্ধানী চোখের দিকে তাকিয়ে দোয়েল বলল— ‘অনিন্দ্যদা, তুমি কি কাউকে খুঁজছ?

অনিন্দ্য বলল— ‘না, না।’

কফি শপের ছেলেটি দুকাপ কফি দিয়ে গেল। দোয়েল কফির কাপে চুমুক দেবে এমন সময় একটি মেয়ে অনিন্দ্যর গলা পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল— ‘অনিন্দ্য, আমি এসে গেছি। আজ সকালের ফ্ল্যাইটে কলকাতা ফিরলাম। হাউ আর ইউ ডারলিং?’

মেয়েটির বয়স পঁচিশের ঊর্ধ্বে নয়। গায়ে পেস্তা রঙের স্লিভলেস টপ, হাঁটু পর্যন্ত লম্বা কালো জিন্স। গায়ের রং খুব ফরসা বলা চলে না। বুদ্ধিদীপ্ত মুখ। নুডুলসের মতো কোঁকড়ানো চুল ঘাড় পর্যন্ত নেমে এসেছে। লম্বা প্রায় পাঁচ ফুট আট ইঞ্চি। কাঁধে লেদারের ভ্যানিটি ব্যাগ।

মেয়েটি ভ্যানিটি ব্যাগটা রেখে দোয়েলকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, ‘হু ইজ শি অনিন্দ্য?’

অনিন্দ্য বলল— ‘কফি খেতে খেতে বলছি। বসো আগে। মেয়েটিকে বসিয়ে সে কফির অর্ডার দিল। দুমিনিটের মধ্যেই কফি চলে এল।’

দোয়েলের উদ্দেশ্যে অনিন্দ্য মেয়েটির দিকে হাত বাড়িয়ে বলল— ‘আলাপ করিয়ে দিই। ওর নাম শর্মিষ্ঠা বসু। বাড়ি কলকাতা। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে পিএইচডি করছে। ফেসবুকে আমার সঙ্গে আলাপ হয়। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। সামনেই আমরা বিয়ে করতে চলেছি। আমার দোয়েল ছাড়া সাতকুলে কেউ নেই। দোয়েল সেন আমার অফিসের সহকর্মী এবং সহমর্মী।’

শর্মিষ্ঠা উচ্ছ্বসিত গলায় বলল— ‘তুমিই দোয়েল! অনিন্দ্যর মুখে কতবার যে তোমার নামটা শুনেছি কী বলব! নাইস টু মিট ইউ। আমাদের বিয়েতে তোমাকে থাকতেই হবে।’

দোয়েল এই পরিস্থিতিতে কী বলবে বা কী তার বলা উচিত হবে, ভেবে পেল না। বাইরের আকাশে ঘন কালো মেঘের মতো দোয়েলের মনের আকাশেও ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে। সে ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি এনে বলল— ‘দারুণ সারপ্রাইজ অনিন্দ্যদা। তুমি শর্মিষ্ঠার কাছে আমাকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে। তোমাদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক। অনেক দেরি হয়ে গেল। আমি আসি।’ অনিন্দ্য আর শর্মিষ্ঠার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দোয়েল বাড়ি ফেরার বাসে উঠল।

সন্ধ্যা ছটা। বাসটা নিউ আলিপুরে স্টপেজ দিতেই দোয়েল নেমে পড়ল। অন্ধকারও চুপিসাড়ে রাস্তায় নেমেছে। হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাস্তাটা আজ বেশ ফাঁকা লাগছে দোয়েলের। তার মনের জমাটবাঁধা মেঘ অঝোরধারার শ্রাবণ হয়ে ঝরে পড়তে চাইছে। সে চলতে চলতে বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছিল। দোয়েলের মনে সেই অনামি ছেলেটার মুখ ভেসে উঠল, যাকে আজ সকালে সে অপমান করেছে।

ফ্ল্যাটের কাছে এসে দোয়েল লক্ষ্য করল যে, ছেলেটি বারান্দা এবং জানলা কোথাও নেই। নেই কোনও গানের আওয়াজ। দোয়েলের কাছে ছেলেটি অপমানিত হয়ে আর হয়তো কোনও দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেবে না। দোয়েলের চোখের পাতা ভিজে আসছিল। তার চোখের জলকে ধুয়ে দিতে আকাশভাঙা বৃষ্টি নামল।

গৃহ-অশান্তির সাক্ষী যখন নিজেদেরই সন্তান – (১ম পর্ব)

বাড়ির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়ে ওঠে যেসব শিশুরা, যারা বাড়িতে নিত্যদিন ঝগড়া, ঝামেলা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, মা বাবার অশান্তি, মারধর, অত্যাচার দেখে, তার মারাত্মক প্রভাব বাচ্চার পরবর্তী জীবনে পড়ে, মূলত Mental Health এবং সম্পর্কে। এই ঘটনাগুলো তাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভীষণ রকম প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক ক্ষতিও করে।

অনেক ক্ষেত্রে যারা এই জিনিসগুলো দেখতে দেখতে বড় হয় বা শৈশব থেকে সহ্য করার অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায় তারা পরবর্তীকালে নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই জিনিস করে থাকে অথবা ভয়ের কারণে নতুন সম্পর্কে যেতে দ্বিধা বোধ করে। খারাপ পরিবেশে বড় হওয়ার ট্রমা দীর্ঘদিন তাদের মনের ভিতরে থেকে যায়। অনেকেই সেটা ভুলতে পারে না।

বাড়ির পরিবেশ যে শুধুমাত্র দম্পতির নিজেদের কারণেই খারাপ হয় এমন নয়, পারিপার্শ্বিক নানা ঘটনাবলীও তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে এবং মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়, Mental প্রেশার তৈরি করে।

আত্মীয়স্বজনের কারণে ডিভোর্সের হুমকি

বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা নিখিল সফটওয়্যার প্রফেশনাল। স্ত্রীয়ের সঙ্গে বাড়িতে নিত্যদিন খিটমিট লেগেই আছে। আগে অফিসে দীর্ঘ সময় কাটাবার জন্য এগুলো নিয়ে খুব একটা কেউ মাথা ঘামাত না, Mentally খুব একটা প্রভাব ফেলত না। কিন্তু করোনায় লকডাউন শুরু হলে বাড়ি থেকে যখন অফিসের কাজ করা আরম্ভ হল, তখন ঝগড়া উত্তরোত্তর বাড়তে শুরু করল। সমস্যা হল দুই সন্তানকে নিয়ে। একজন কলেজে পড়ে অপরজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। দু’জনেই তখন বাড়ি থেকেই অনলাইনে ক্লাস করছে। সুতরাং মা-বাবার ঝগড়া হচ্ছে দু’জনের সামনেই।

ঝগড়ার কারণ অবশ্য বিশেষ কিছুই নয়। ছোটো ছোটো কাজ নিয়ে মনোমালিন্য, নিজেকে পার্টনারের থেকে সুপিরিয়র প্রমাণ করার প্রচেষ্টা এবং অপরজন যাতে মুখ বন্ধ করে তার জন্য তাকে নীচ প্রতিপন্ন করার নানা চেষ্টা৷

ঝগড়া হলেই নিখিল পুরোনো ঘটনার ঝুলি উপুড় করে ফেলত। কবে মায়ের সঙ্গে স্ত্রীয়ের ঝগড়া হয়েছে, কবে ননদকে ও বাড়িতে আসতে দেয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। আগে যৌথ পরিবারে ওরা ছিল যখন বাচ্চারা খুব ছোটো ছিল। শাশুড়ি-ননদের সঙ্গে নিখিলের স্ত্রী অ্যাডজাস্ট করতে না পারায় ওরা আলাদা হয়ে চলে আসে। দুটো পরিবারে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যবহারে পরিবর্তন

পাঁচ বছর আগে নিখিলের বোনের ছেলে বেঙ্গালুরুতে কলেজে চান্স পেয়েছিল। নিখিলের বোনের ইচ্ছে ছিল ছেলেকে ভাই নিখিলের কাছে রাখার। কিন্তু নিখিলের স্ত্রী রাজি হয়নি। এতে রেগে গিয়ে নিখিল স্ত্রীকে ডিভোর্সের হুমকি দেয়। সেই থেকে সম্পর্কে অবনতিই হয়েছে। রোজ ডিভোর্সের হুমকি শুনতে শুনতে নিখিলের স্ত্রী-ও মনে মনে বুঝে গেছে দাম্পত্য ওদের শেষ পর্যায় এসে ঠেকেছে। ফলে নিখিলের প্রতি ওর ব্যবহারও আমূল বদলে গেছে। দু’জনের একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা তলানিতে এসে ঠেকেছে। সুতরাং এখন ঝগড়া হওয়ার একটা কারণ রয়েছে। এতদিন ঝগড়ার কথা বাচ্চাদের কাছে চাপা থাকলেও করোনার কারণে দু’বছর বাড়িতে থেকে বাচ্চারা বুঝে গেছে মা-বাবা শুধু সম্পর্কটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে একটা প্রাণহীন কাঠামোর মতো। কাঠামোতে মাটি দিয়ে ভালোবাসার প্রলেপ পড়লেও আজ আর তার কিছু অবশিষ্ট নেই।

কলেজে পড়া ছেলে একদিন রাগত স্বরেই নিখিলকে বলল, “তুমি সবসময় মা-কে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দাও। ছোটো বোনের Mental কন্ডিশন-এর উপর তোমার এই ব্যবহার কী প্রভাব ফেলছে ভেবে দেখেছ কি একবার? আমি তো বড়ো হয়ে গেছি কিন্তু বোন, বাইরের লোককে কী উত্তর দেবে?’ কথা শুনেই বোঝা যায় বয়সের তুলনায় নিখিলের ছেলে অনেক বেশি ম্যাচিওর হয়ে গেছে এবং সেই কারণেই এতটা গাম্ভীর্যপূর্ণ কথোপকথন করতে পেরেছে নিজের বাবার সঙ্গে।

একদিন তো মা-বাবার ঝগড়ায় ও রাগ সামলাতে না পেরে দু’জনকেই মুখের উপর খারাপ মানুষ বলে দিয়েছে। ওর ছোটো বোন মা-বাবার এই ঝগড়া সহ্য করতে না পেরে খাওয়ার টেবিল থেকে আধখাওয়া অবস্থায় উঠে চলে গেছে। এইসব ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়, বড়োদের ঝগড়ায় সন্তানরা কতটা Mental ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

 

আরও একটু বৃষ্টি নামুক (পর্ব ২)

বিকালে কিছু জিনিসপত্র কিনতে দোয়েল বাইরে বেরোল। বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছেলেটি গান ধরেছে। সে কিছু বলবে ভেবেও বলতে পারে না ছেলেটাকে। ছেলেটার নাম-ধাম কিছুই সে জানে না। দোয়েলের ফ্ল্যাটের মুখোমুখি ফ্ল্যাটে অনামি ছেলেটির বাস। ছেলেটির বয়স বত্রিশের বেশি নয়। শ্যামবর্ণ লম্বা সুঠাম চেহারা। মুখভর্তি চাপ দাড়ি। মাথায় ঢেউখেলানো লালচে চুল। মুখটা বোকা বোকা। দোয়েলকে দেখার পর থেকেই ছেলেটির গান গাওয়া শুরু হয়। অফিসের বাস ধরার জন্য দোয়েল বাস স্টপেজে এলে ছেলেটিও প্রতিদিন তার পা অনুসরণ করে বাস স্টপেজে আসে। দোয়েল বাসে না ওঠা অবধি ছেলেটি সেখান থেকে নড়ে না। বেশ কয়েকদিন দোয়েল এসব লক্ষ্য করছে। রাস্তাঘাটে লোকজন থাকার ফলে ছেলেটাকে দোয়েল কিছু বলতে পারে না।

আজও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল। দোয়েলের পিছনে অনামি ছেলেটিও চলল। একটু তফাতে থেকেই ছেলেটি দোয়েলের পা অনুসরণ করল। দোয়েল ফেরার পর দেখল ছেলেটিকেও নিজের ফ্ল্যাটে ঢুকতে।

সকালবেলা। স্নিগ্ধ আলোর দেখা নেই। আকাশের আজ মুখ ভার। অঝোরে বৃষ্টি নামতে পারে। কলকাতায় অবশ্য বৃষ্টিটা একটু বিলাসিতা করেই হয়। রমাও তাড়াহুড়ো করে কাজ সেরে চলে গেছে। বৃষ্টি নামার আগে দোয়েল অফিসে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছিল। শ্রাবণের আকাশ যখন তখন জল ঢালবে এ আর নতুন কি!

দোয়েল ডার্ক ব্লু জিন্স, হোয়াইট টপ পরে অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। পাশের ফ্ল্যাটের সেই অনামি ছেলেটিও দোয়েলের পা অনুসরণ করে চলল। আকাশে মেঘের কারণে রাস্তায় লোকজন একটু কম। দোয়েল কিছুটা রাস্তা গিয়ে থেমে গেল। ছেলেটিও সঙ্গে সঙ্গে থেমে গিয়ে ঘাড়ে হাত দিয়ে পিছন ঘুরে দাঁড়াল। দোয়েল চলা শুরু করায়, সেও আবার চলতে শুরু করল। দোয়েল মনে মনে ঠিক করল আজ ছেলেটাকে মজা দেখাবে। বাস স্টপেজের কিছু আগে দোয়েল আবার কী মনে করে চারপাশটা দেখে ছেলেটির দিকে কয়েক পা পিছিয়ে এল।

দোয়েল ছেলেটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একটু গম্ভীর গলায় বলল— ‘পোশাক পরিচ্ছদ দেখে আপনাকে ভদ্র বাড়ির ছেলে মনে হয়। সবসময় আমাকে ফলো করেন কেন! মেয়ে দেখলেই বেসুরো গলায় সুর বেরোয় তাই না! ছেলেটির মুখটা আমচুরের মতো শুকিয়ে গেল।’

সে আমতা আমতা গলায় বলল— ‘দেখুন, আমার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নেই। আপনি যতটা আমাকে অভদ্র ভাবছেন ততটা অভদ্র আমি নই। আপনাকে দেখতে আমার কেন জানি না খুব ভালো লাগে। আপনাকে দেখতে তাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো ছুটে চলি।’

দোয়েল বিরক্তির সুরে বলল— ‘যাক মানছেন যে আপনি আমাকে প্রতিদিন ফলো করেন। আপনাকে যদি দেখি ফারদার আমাকে ফলো করতে তাহলে অন্য স্টেপ নিতে আমি বাধ্য হব।’ হঠাৎ দোয়েল তার অফিসের সুদর্শন, সুপুরুষ অনিন্দ্য রায়ের কথা ভেবে ছেলেটিকে বলল— ‘একটা কথা আপনার জানা দরকার। আমি এনগেজড।’

ছেলেটি কেমন অবাক দৃষ্টিতে দোয়েলের দিকে তাকাল। সে মুখ নামিয়ে বলল— ‘সরি। ভুল হয়েছে।’ সে বাড়ির পথে পা বাড়াল। টুপটাপ বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। দোয়েল হন্তদন্ত হয়ে বাসে উঠে পড়ল।

সারাদিন অফিসের কাজকর্মে দম ফেলার ফুরসত পায়নি দোয়েল। রবিবার অফিস বন্ধ থাকায় সোমবার কাজের চাপ একটু বেশিই হয়। ফাইলপত্র জমা দিয়ে দোয়েল অফিস থেকে বেরোবে এমন সময় অনিন্দ্য বলল— ‘দোয়েল, তোমার সঙ্গে আমার কিছু ব্যক্তিগত কথা আছে। ওয়েট ফর জাস্ট ফাইভ মিনিটস।’

দোয়েল মনে মনে বলল— ‘হয়তো অনিন্দ্যদা আজ তার কাছে ধরা দেবে। মুখ ফুটে বলবে ভালোবাসার কথা। লুকোচুরি শেষ হবে। এসব ভেবে ভোরের সূর‌্যের মতো লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল তার মুখ।’

অনিন্দ্য এসে দোয়েলকে বলল— ‘চলো আমরা একটা কফি শপে যাই।’

পারফেক্ট সেলফি তুলতে আইডিইয়াল মেক-আপ

আজকাল মানুষের মধ্যে সেলফি তোলার Fashion অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মেয়ে ও মহিলারা তাদের জীবনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোও সেলফির মাধ্যম সোশ্যাল পেজে তুলে ধরতে চান। এটাই এখন নতুন ফ্যাশন। পোশাকটি নতুন হোক বা হেয়ার স্টাইল বা মেক-আপ, সেরা স্টাইলে ছবি তোলার জন্য দিনে অনেকবার তাদের সেলফি তুলতে দেখা যায়। তবে মনে রাখা দরকার, Fashion করতে নিজের পারফেক্ট সেলফি তোলাটাও কিন্তু কোনও ছোট বা সহজ ব্যাপার নয়।

অনেক সময় এমন হয় যখন আয়নায় আমাদের চেহারা খুব হাসিখুশি দেখায় কিন্তু সেলফি তোলার সময় মুখের চেহারা অস্বাভাবিক মনে হয়। কখনও মুখের দাগ ফুটে ওঠে, আবার কখনও মুখের বাড়তি মেদ নজরে আসে। সেই সঙ্গে সেলফি পোজও আমরা যেভাবে নিতে চাই ঠিক সেভাবে ছবিটাও হয় না। এমন পরিস্থিতিতে মেক-আপ সম্পর্কিত কিছু আইডিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি, যার সাহায্যে আপনি পারফেক্ট সেলফি তুলতে পারবেন।

১) – সেলফি তোলার জন্য স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল ত্বক অপরিহার্য

আপনার ত্বক যদি ভেতর থেকে সুস্থ ও সতেজ থাকে, তাহলে আপনার মেক-আপও সুন্দর হবে।  আসলে কোমল, মসৃণ ও হাইড্রেটেড ত্বকে মেক-আপ ভালো দেখায। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো ক্লিনজার, এক্সফোলিয়েটর ও ময়েশ্চারাইজার কাস্টমাইজ করুন, যাতে সেলফি তোলার আগে হাইলাইটারের প্রয়োজন না হয়।

২) – সঠিক ফাউন্ডেশন-এর শেড বেছে নেওয়া প্রয়োজন

একটি ভালো সেলফি তোলার জন্য, নিখুঁত শেডের একটি নিখুঁত ফাউন্ডেশন দরকার যা সম্পূর্ণ কভারেজ দেবে আপনার ত্বককে। এর মাধ্যমে সেলফি তোলার সময় আপনার কোনও ধরনের ফিল্টারের প্রয়োজন হবে না। এটি প্রয়োগ করার পরে, আপনার ত্বকের রং সর্বত্র সমান দেখাবে এবং বেস কেকটি দৃশ্যমান হবে না। ফ্ল্যাশ লাইটে সেলফি তুলতে চাইলে সঠিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন এবং মুখের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে ফাউন্ডেশন-এর শেড নির্বাচন করুন।

৩) – সঠিকভাবে মিশ্রিত(blend) করুন

আমাদের জানতে হবে যে ক্যামেরা প্রায় প্রতিটি ছোট ছোট ডিটেলস ক্যাপচার করতে সক্ষম। অতএব, আপনি যে বেস বা ফাউন্ডেশনই ব্যবহার করুন না কেন, এটি ভালো ভাবে মিশ্রিত হওয়া দরকার। এর জন্য ব্রাশ, আঙুল বা মেক-আপ ব্লেন্ডার ব্যবহার করতে পারেন।

৪) – ম্যাট মেক-আপ ব্যবহার করুন

সেলফি তোলার সময় ম্যাট মেক-আপ লুক সবচেয়ে ভালো। কারণ এটি আলাদা ভাবে ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে না। সেলফি তোলার সময় শিমার ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়। এটি মুখকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মসৃণ করে তুলতে পারে। অতএব, একটি ভালো সেলফির জন্য ম্যাট বেস মেক-আপ চয়ন করাই সঠিক বলে মনে করা হয়।

) – চোখ নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন

সেলফি তোলার সময় ফোকাস থাকে চোখের দিকে। সুন্দর গভীর চোখ আপনার সেলফিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। আপনার চোখকে বড় দেখাতে কাজল ব্যবহার করুন। আইলাইনার ব্যবহার করার সময়, চকচকে নীল বা সবুজের মতো পপ রং ব্যবহার করুন। শুধু তাই নয়, মনে রাখবেন আপনার চোখের পাতা যত লম্বা হবে, চোখ তত বড় দেখাবে। এরজন্য আপনি মাস্কারা ব্যবহার করুন। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা মাস্কারা আপনার মুখের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। এর সঙ্গে আপনার সেলফিও সুন্দর দেখাবে। চোখের পাতার ভলিউম বাড়াতে, প্রথমে আপনার চোখের পাতাগুলি কার্ল করে নিন, তারপরে দুটি কোট মাস্কারা প্রয়োগ করুন। আরও বেশি ভলিউমের জন্য আপনি দুটির বেশি কোট চেষ্টা করতে পারেন।

) –  ভ্রূ-কে অবহেলা করবেন না

ভ্রূ আপনার মুখের সৌন্দর্যকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে। অতএব, সেলফি তোলার আগে এগুলি একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। আপনার ভ্রূদুটি সেট রাখুন বা ভ্রূ পেনসিল ব্যবহার করুন যাতে সেগুলি পুরু দেখায়। এতে করে আপনার সেলফি অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে।

) – প্রাকৃতিক ব্লাশ ব্যবহার করুন

প্রাকৃতিক ব্লাশ ব্যবহার করলে সেলফি আরও বেশি সুন্দর হবে। আপনি পিচ পপ ব্লাশ ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার গালের সঙ্গে চিকবোনস-এও প্রয়োগ করুন। এতে গাল মেদবিহীন দেখাবে এবং সেলফিতে আপনার মুখের সৌন্দর্য আরও দ্বিগুন বেড়ে যাবে।

) –  বোল্ড ঠোঁট-এ পোজ দিন

বোল্ড ঠোঁট দিয়ে পোজ দিন। সুন্দর হাসি এবং সুন্দর ঠোঁট সবারই পছন্দ। বোল্ড ঠোঁট মানে শুধু লাল লিপস্টিক লাগিয়ে নিলেই হবে না। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনি লিপস্টিকের যে শেডটি চয়ন করেছেন তা আপনার ত্বক এবং পোশাকের রঙের সাথে মিলে যায়। যারা খুব ফরসা তাদেরই বোল্ড লাল রং মানায়। খুব ফরসা বা গম রঙের জন্য নুড বা বোল্ড পিংক এবং ডাস্কি ত্বকের জন্য পিচ বা মেটালিক রং বিকল্প হিসেবে বাছা যেতে পারে।

৯) – কনট্যুরিং অবশ্যই করুন

আপনি যদি নিখুঁত সেলফি তুলতে চান তবে ক্যামেরায় ক্লিক করার আগে দেখে নিন আপনার চেহারার বৈশিষ্ট্যগুলি সঠিক উঠে আসছে কিনা। যদি তা না হয়, তবে এর জন্য কনট্যুরিং ব্যবহার করুন। আপনার গাল, নাকের পাশে এবং চোয়ালের উপর কনট্যুর পাউডার প্রয়োগ করুন। এর মাধ্যমে ছবিতে আপনার ফিচারগুলো অনেকটাই উঠে আসবে।

১০) – ভালো সেলফি তোলার জন্য প্যাস্টেল শেড এড়িয়ে চলুন

আরও ভালো এবং আকর্ষণীয় সেলফির জন্য, প্যাস্টেল শেডের পরিবর্তে রুবি লাল এবং সবুজ রং ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ডাল লিপস্টিক, লাইম ইয়েলো নেইল পেইন্ট এগুলি আপনার লুককে সেলফিতে খুব ক্লান্ত দেখাতে পারে। তাই এ ধরনের রং একেবারেই ব্যবহার করবেন না।

১১) – ফিল্টার করতেও ভুলবেন না

একটি ভালো সেলফির জন্য মেক-আপ যেমন প্রয়োজন, তেমনি একটি পারফেক্ট ফিল্টারও দরকার। ফিল্টারের মাধ্যমে আপনি ত্বকের দাগছোপ এবং বয়সের দাগ দূর করতে সক্ষম হবেন। যে-কোনও দাগও অপসারণ করতে পারবেন। এটি আপনার সেলফিকে উজ্জ্বলতা যেমন দেবে তেমনি  এর সৌন্দর্যও বহু গুনে বাড়িয়ে দেবে।

আরও একটু বৃষ্টি নামুক (পর্ব ১ )

সকাল সাড়ে ছটা। বদ্ধ ঘরের নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে মর্নিং অ্যালার্ম এবং কলিং বেল দুই-ই তারস্বরে বেজে উঠল। যৌথ শব্দে দোয়েলের ঘুমের বারোটা বেজে গেল। রাতের পোশাক পরিবর্তন না করেই মুখে একরাশ বিরক্তি এনে বলল— ‘রবিবার ছুটির দিনেও একটু শান্তিতে ঘুমাতে দেবে না রমা। ভালো লাগে না আর।’

রমা দোয়েলের ফ্ল্যাটের কাজের লোক। বছর পাঁচ হল সে দোয়েলের ফ্ল্যাটে কাজ করছে। দরজা খুলে দিয়ে দোয়েল বলল— ‘আসুন ম্যাডাম। আচ্ছা, তুই কি রাত্রে ঘুমোস না! আকাশে মেঘ মেঘ করেছে দেখে আমি ভাবলাম দেরিতে আসবি।’

দেরি করে এলে হবে নাকি! আরও দুবাড়ির কাজ আছে।

রমার কথায় দোয়েল আর কোনও প্রতিবাদ করল না। আজকাল খুব কাজের লোকের সমস্যা। রবিবার বলে দোয়েলের কোনও ব্যস্ততা নেই। অন্যদিন তো দশটার মধ্যে তাকে অফিস বেরোতে হয়।

রমা হাতের ব্যাগটা নামিয়ে দোয়েলকে বলল— ‘তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও না। আমি ঘরের কাজ সেরে তোমাকে ডাকব।’

তোর জন্য ঘুম হবে না। আগে আমায় চা করে দে।

চা দিচ্ছি গো। তোমাকে দেখতে কিন্তু হেবি লাগছে পোশাকটাতে।

দোয়েল স্মিত হেসে টাওয়েল কাঁধে নিয়ে বাথরুমে চলে গেল।

রমারও চোখ আছে। দোয়েল সত্যিই সুন্দরী। শর্ট নাইট ড্রেসে তাকে বেশ দেখাচ্ছিল। দুধের মতো সাদা গায়ের রং। মুখশ্রী পানপাতার মতো। বয়স সাতাশ বছর। মেদহীন ছিপছিপে শরীর। বটগাছের ঝুরির মতো পিঠে নেমে এসেছে ঘন স্টেপ কাট চুল। টানা টানা জলভরা দুটি চোখ। নাইট ড্রেসের বাইরে অনাবৃত লোমহীন দুটি পা দেখলে যে-কারওর চোখ আটকাতে বাধ্য।

রমা কিছুক্ষণ পর চা করে বাথরুমের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলল— ‘দিদিমণি, চা তৈরি।’

দোয়েল বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে বলল— ‘আমার চা রেখে দে। তুই চা খেয়েছিস?’

রমা বলল— ‘খেয়েছি।’

স্নান সেরে নীল সালোয়ার কামিজে দোয়েলের সর্বাঙ্গে একটা অদ্ভুত স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছিল। দোয়েল একটু ধমক দিয়ে বলল— ‘পাকামি করিস না তো।’

দোয়েল চায়ের কাপ হাতে নিয়ে হোয়াটস অ্যাপে ফেসবুকে চোখ বুলিয়ে নিল। হোয়াটস অ্যাপে, অনিন্দ্য রায়ের মেসেজ চোখে পড়ল। অনিন্দ্য রায় দোয়েলের অফিসের বস। ভদ্রলোকটি চ্যাট করতে ওস্তাদ। অফিসে প্রায়ই দোয়েলকে শোনান, তিনি কাছের মানুষদের ছাড়া কাউকে ফোন অথবা এসএমএস করেন না। দোয়েলকে তিনি কাছের ভাবেন বলেই খোঁজখবর নেন।

অনিন্দ্যর অনেক আচরণই দোয়েল তিন বছর প্রশ্রয় দিয়ে আসছে। দোয়েল কোনওদিনই অনিন্দ্যর মুখের উপর কিছু বলতে পারে না। প্রথমত, দোয়েলের অফিসের বস অনিন্দ্য রায়। দ্বিতীয়ত, দোয়েলের প্রতি অনিন্দ্য রায়ের আচরণ অন্য সকল অফিস স্টাফদের থেকে আলাদা। এই আলাদা হওয়ার কারণেই অনিন্দ্যর প্রতি দোয়েলের মনে একটা সুপ্ত দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল। দোয়েলের দৃঢ় বিশ্বাস গড়ে উঠেছে যে, অনিন্দ্য রায় তাকে ভালোবাসে।

দোয়েল এই যুগের মেয়ে হলেও মেয়ে তো। এখনও মুখ ফুটে সে অনিন্দ্যকে নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে বলতে পারেনি তার মনের কথা। তাই দোয়েল অনিন্দ্যকে সম্বোধনের সময় অনিন্দ্যদা-এর দা-টা এখনও ছেঁটে ফেলতে পারেনি।

অনিন্দ্য কাল রাত্রে দোয়েলকে ফোনে বলেছে বলো তো দোয়েল রবিবার আমাদের জীবনে কেন আসে! আই মিস ইউ। এই মিস করার কারণ দোয়েল অনুসন্ধান করতে পারে না।

কিছুক্ষণ আগে রমা কাজ করে চলে গেছে। ব্রেকফাস্ট করে নিজের অগোছালো বেডরুম গোছাতে গিয়ে জানালার দিকে দৃষ্টি যেতেই দোয়েলের মেজাজ হঠাৎ পালটে গেল। সে বিরক্তিতে বিড়বিড় করে বলে উঠলজানলা খুললেই ফাটা রেকর্ডের মতো চার বছর হয়ে গেল এক লাইন মেরে সামনে ওয়ালি খিড়কি মে এক চাঁদ কা টুকরা রহতে হ্যায় শুনে যাচ্ছি। জাস্ট অসহ্য। ছেলেটিকে নেওয়া যাচ্ছে না। সে জানলা বন্ধ করে দিয়ে ল্যাপটপে অফিসের কাজ সারছিল। কাল অনিন্দ্যদাকে সব ফাইল ক্লিয়ার করে তার জমা দেওয়ার কথা। দোয়েল বলেই অনিন্দ্য বেশি সময় দিয়েছে।

সংসারের নিত্য কলহ কি সন্তানের শান্তির বিঘ্ন ঘটাচ্ছে?

এখন প্রায় প্রতিটা পরিবারেই কখনও সাংসারিক কারণে, কখনও ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে আবার কখনও পারিপার্শ্বিক বা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকে। শহরে এখন বেশিরভাগ বাড়িতেই স্বামী-স্ত্রী উভয়েই কর্মরত। এর ফলে সংসার-ধর্ম পালন করাটা প্রায়শই মুশকিল হয়ে ওঠে। আর্থিক পরিস্থিতি শোধরালেও পারিবারিক সমস্যা লেগেই থাকে। আর যেখানে আর্থিক সমস্যা থাকে সেখানে সংসার খরচ চালানো নিয়েই তৈরি হয় বড়ো সমস্যা।

কখনও সখনও কলহ এতটাই দুর্বিষহ হয়ে ওঠে যে, স্বামী-স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের পথে পা বাড়ায়। একে অপরকে সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। শুধু ডিভোর্সই নয়, অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী কেউ একজন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে যদি জড়িয়ে পড়েন, তাহলে বাড়িতে থাকা বাচ্চার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। কিন্তু সমস্যা হল এই পরিস্থিতি হলে বাচ্চাটি কোথায় যাবে? সে কী করবে আর না করবে বুঝে উঠতে পারে না।

মা বাবার সঙ্গে বাচ্চার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মা বাবা নিজেদের মধ্যে কীধরনের আচরণ করছেন সেটা শিশুর বেড়ে ওঠার ওপর খুব গভীর প্রভাব ফেলে। এতে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য কেমন হবে, পড়াশোনায় সে কেমন করবে, এমনকি ভবিষ্যতে এই শিশু যেসব সম্পর্কে জড়াবে সেগুলো কেমন হতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই ঝগড়াবিবাদ নানা রকমের হয়ে থাকে। কোনও কোনও বিতর্কের হয়তো প্রভাব শিশুর ওপর পড়েই না, এমনকি শিশুর ভবিষ্যতের জন্যে সেটা হয়তো ভালোও হতে পারে। কিন্তু মা বাবা যখন একে অপরের প্রতি ক্রুদ্ধ আচরণ করেন, চিৎকার চেঁচামেচি করেন, বা তারা একে অপরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেন, তখনই হয়তো কিছু একটা সমস্যা দেখা দিতে পারে যেটার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে বাচ্চার ওপর।

বাচ্চার পরম নির্ভরতার স্থান তার বাবা মা। সেখানে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে সে অসহায় বোধ করে এবং বাচ্চা মাত্রই অনুকরণ প্রিয় । আপনার আচরণ আপনার কথাবার্তা তার মনে একটা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে সক্ষম । বাচ্চাদের সামনে বাবা মা ঝগড়া করলে বাচ্চা মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে সেই বাচ্চা ধরে নেবে, মেয়েদের বিয়ের পর তার স্বামীর কাছে তিরস্কারের স্বীকার হওয়া একটা স্বাভাবিক বিষয়। সেই সঙ্গে শিশুর বাবা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হ্রাস পায় এবং এই সহজেই অমনোযোগী হয়ে ওঠে। সুতরাং বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন, বাচ্চাকে সময় দিন এবং তার মানসিক বিকাশে সাহায্য করুন। আপনার উপরেই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

 

 

 

 

ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ সচেতনতা জরুরি

ক্যান্সার নাকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ভারতে। ক্যান্সারের কারণে প্রতিদিন অনেক লোকও নাকি মারা যাচ্ছেন। আইসিএমআর আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ১২% বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। যার অর্থ হল, এই বিষয়ে সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, আগামী দিনে আমাদের দেশের মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়বে।

ভারতে কেন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে?

পুরুষদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৫-টি সাধারণ ক্যান্সার হল-ফুসফুস, মুখ, প্রোস্টেট, জিহ্বা, এবং পাকস্থলি।   এগুলি দেখা যায় ৩৬% ক্ষেত্রে। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয়, কর্পাস জরায়ু এবং ফুসফুস-এর ক্যান্সার। এগুলি দেখা যায় ৫৩% ক্ষেত্রে।

ভারতে ক্যান্সারের প্রধান কারণ হল তামাক, সুপারি, পান, ভাইরাল সংক্রমণ, বায়ু দূষণ, ধুলোবালি এবং অ্যালকোহল সেবন। এর অর্থ হল যে, ভারতীয়দের অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারাই মূলত  ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ-এর জন্য দায়ী। প্রকৃতপক্ষে,  ভারতে সমস্ত ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ৩০%-এর জন্য দায়ী তামাক (সমস্ত ধরণের অর্থাৎ চিবানো, ধূমপান এবং প্যাসিভ ধূমপান)।

ভারতে ক্যান্সারের জন্য মৃত্যুহার কেন বাড়ছে?

ক্যান্সার, যেমনটি আমরা জানি, তার ৪টি পর্যায় রয়েছে- সি-টু, প্রাথমিক পর্যায়, লোকোরিজিওনাল এবং ডিসট্যান্স মেটাস্টেসিস। ভারতে, ৭০% ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শেষ দুটি পর্যায়ে সনাক্ত করা হয়। এর ২টি প্রভাব রয়েছে: মৃত্যুর উচ্চ হার (যেহেতু পরবর্তী পর্যায়ে চিকিৎসা কম কার্যকর হয়) এবং শেষ দুটি পর্যায়ে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয় (প্রায় ৩ গুণের মত)।

প্রাথমিক সনাক্তকরণের কারণে সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার হার নাটকীয় ভাবে উন্নত হচ্ছে। চতুর্থ পর্যায় রোগ শনাক্তকরণের পরে বেঁচে থাকার হার অনেক কম, ১৪% এর মত কিন্তু প্রথম পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের পর ৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার হার অনেক বেশি, ৯০%-এর মত।

দেরিতে রোগ শনাক্তকরণের বিষয়ে বিভিন্ন কারণকে এর জন্য দায়ী করা যেতে পারে। ক্যান্সারের বিষয়ে চারদিকে কুসংস্কারের কারণে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের অভাব (এর ফলে রোগটিকে লুকিয়ে রাখা হয়)। সবকিছু অসহনীয় হয়ে যাওয়ার পরেই রোগীদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সাধারণ এক ধরনের মানসিকতা কাজ করে এবং কাছাকাছি ক্যান্সার চিকিৎসার কেন্দ্রগুলিতে গুণমান সম্পন্ন চিকিৎসার সুযোগের অভাব।

আমরা কীভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারি?

গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রায় ২৫-৩০% ক্যান্সার-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে তামাকের কারণে। ৩০-৩৫% ক্ষেত্রে এর কারণ খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত, প্রায় ১৫-২০% ক্ষেত্রে হয় সংক্রমণের কারণে এবং অবশিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বিভিন্ন কারণ এই রোগের জন্য দায়ী। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক ও মানসিক চাপ, শারীরিক কার্যকলাপ, পরিবেশ দূষণকারী উপাদান ইত্যাদি।

ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

  • ধূমপান না করার মত সহজ অভ্যাস আয়ত্ব করুন
  • ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করুন
  • অ্যালকোহলেরসেবন বন্ধ করুন
  • ক্যালরির সীমাবদ্ধতা মেনে চলুন
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন
  • সূর্যের আলোতে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন
  • ন্যূনতম পরিমানে মাংস খান
  • গোটা দানা শস্যের ব্যবহার করুন
  • ভ্যাকসিনেশনের সাহায্য নিন (যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ক্যান্সারের বিকাশ-এ বাধা দেয়)
  • সর্বোপরি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য কেবলমাত্র নতুন হাসপাতাল তৈরি করলেই ভারতে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার কমবে না বলেই মত প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। এই সমস্যাটি কার্যকর ভাবে মোকাবিলার জন্য আমাদের একটি বহু-গতিশীল পদ্ধতির প্রয়োজন:

(১) সচেতনতা তৈরি করা: ক্যান্সার এবং ক্যান্সারের চিকিৎসার বিষয় সম্পর্কে আরও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।

(২) সক্রিয় স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে স্বাভাবিক নিয়মে করতে হবে: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে স্বাভাবিক করা দরকার।

(৩) গুণমানসম্পন্ন ক্যান্সার চিকিৎসা: ক্যান্সার চিকিৎসার নেটওয়ার্ককে দেশের প্রতিটি কোণায় সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।

ব্যাপক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে যেমন ক্যান্সারের প্রকোপ কমানো যায়, ঠিক তেমনই  প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ও করতে হবে এবং চিকিৎসাকে আরও সহজলভ্য এবং উন্নত করতে হবে। এই বিষয়ে বিশেষ সচেতনতা বৃদ্ধির নিয়েছে কার্কিনোস হেলথকেয়ার।

এইচপিভি ডিএনএ পরীক্ষাঃ

এইচপিভি পরীক্ষা হল- সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের জন্য একটি স্ক্রিনিং পরীক্ষা। এই পরীক্ষাটি আপনার সিস্টেমে এইচপিভি, যেটি সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত, তার উপস্থিতিকে শনাক্ত করে। টাইপ ১৬ ও টাইপ ১৮ সহ নির্দিষ্ট ধরণের এইচপিভি আপনার সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

আপনার এমন একটি এইচপিভি রয়েছে যা আপনাকে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকিতে রেখেছে কিনা সেটা জানার অর্থ হল আপনি এবং আপনার চিকিৎসক আপনার স্বাস্থ্যের যত্নের পরবর্তী পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে আরও ভালো ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে ফলো-আপ পর্যবেক্ষণ, আরও পরীক্ষা বা অস্বাভাবিক কোষগুলির চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ক্যামেরাবন্দিতেই আনন্দ

আজকাল লোকজন যে-কোনও টুরিস্ট স্পটে গিয়ে কোনও ঐতিহাসিক প্রাসাদ, পাহাড়, সমুদ্র, নদী, ঝরনা, সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত আর সরাসরি নিজের চোখে দেখেন না— সবই এখন মোবাইল-ক্যমেরার চোখ দিয়ে দেখেন। শুধু তাই নয়, ভালোমন্দ যেখানে যাই ঘটতে থাকুক না কেন, মোবাইল-ক্যামেরায় তুলে রাখতে দ্বিতীয়বার ভাবেন না।

আসলে এখন প্রায় প্রত্যেকের হাতেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং তা ক্যামেরা-সমৃদ্ধ। একান্ত আপনজন সামনে থাকলেও, তাদের সঙ্গলাভের থেকে যেন বেশি আনন্দ পান আপনজনের ছবি তুলে। এ  এক বিষম বদভ্যাসে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এখন সবসময় মোবাইল-ক্যামেরার সামনে থাকার সুবিধে ভোগ করতে চাইছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তাই নরেন্দ্র মোদীর মুখ-ই বেশি দেখা যাচ্ছে। আধুনিক সময়ে আত্মপ্রচারের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার মোবাইল ফোন৷ ফোটো-জার্নালিস্ট-দের ক্যামেরায় নয়, তিনি আমজনতার মোবাইল-ক্যামেরায় বন্দি হয়ে যেন এটাই প্রমাণ করতে চাইছেন যে, তিনি সবার নয়নের মণি। আসলে আমরা ক্রমশ মোবাইলের দাস হয়ে উঠছি। আমাদের ভালো মন্দ সবটাই নিয়ন্ত্রণ করছে মোবাইল৷ কোনও মুহূর্তটাই আর একান্ত ব্যক্তিগত হয়ে থাকছে না মোবাইল ফোনের কল্যাণে৷

ছবি হয়তো অনেক বিরল মুহূর্তকে ধরে রাখে, অনেক স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী হয় কিন্তু প্রতি মুহূর্তে সবকিছু ক্যামেরাবন্দি করে রাখলে প্রকৃত ফোটোগ্রাফির মাধুর্যটাই নষ্ট হয়। শুধু তাই নয়, অসংখ্য ছবির মাঝে যেমন ভালো মুহূর্তগুলো হারিয়ে যায়, ঠিক তেমন-ই মোবাইল ফোনটাও ভারী হয়ে ওঠে। ভেবে দেখুন, সবাই যদি এত এত ছবি তোলে, তাহলে কে কার ছবি দেখবে! কার হাতে এত সময় আছে যে, সারাক্ষণ ফেসবুকে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ-এ শুধু অন্যের ছবি দেখে সময় কাটাবে! এমনও অনেকে আছেন যারা একান্ত ব্যক্তিগত ছবি যা প্রকাশ্যে আনা অনুচিত, সেইসব ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দিচ্ছেন। একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত থেকে শুরু করে মৃত মানুষের সঙ্গে সেলফি ছবি, কোনও কিছুই যদি বাদ না যায়- – তাহলে আমরা আর সভ্য হলাম কীভাবে!

বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আশীর্বাদে সমাজের সর্ব শ্রেণির ও পেশার মানুষের হাতে মোবাইল ফোনের ছড়াছড়ি। আমরা জানি, প্রত্যেকটা জিনিসের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। তবে বর্তমানে শিশুরা যে হারে মোবাইল ব্যবহার করছে এতে দিন দিন তারা মানুষরূপী রোবট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উই আর সোশ্যাল ও হুট সু্যট নামক প্রতিষ্ঠানের করা এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত ও তার আশপাশের রাষ্ট্রগুলোতেই মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

গ্রীষ্মে ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বেশির ভাগ মেয়েরাই মনে করেন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বককে তৈলাক্ত ও আঠালো করে তোলে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার সাথে সাথে ত্বকে অনেক পরিবর্তন আসে। ত্বকের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল রেখে আমরা প্রসাধনী বেছে নিই। যেমন শীতকালে ময়েশ্চারাইজার অনেক বেশি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু গ্রীষ্ম আসার সাথে সাথে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার কমে যায়। আসলে গ্রীষ্মে স্টিকি ত্বকের ভয়ে, বেশিরভাগ মহিলারাই Moisturizer ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কিন্তু গ্রীষ্মে কি সত্যিই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়? জেনে রাখা উচিত যে, গ্রীষ্ম বা শীতকালীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু কেন গ্রীষ্মে Moisturizer ব্যবহার করা জরুরি: যারা এক্সপার্ট তাঁদের মতে, ‘বেশির ভাগ মেয়েরাই মনে করেন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক তৈলাক্ত ও আঠালো বোধ হবে। তাই গ্রীষ্মে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত নয়। আসলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার ত্বকের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর যারা এসিতে বেশি সময় ব্যয় করেন তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রীষ্ম শুরু হওয়ার সাথে সাথে গরম আবহাওয়ার প্রভাব ত্বকে দেখা দিতে শুরু করে। গ্রীষ্মকালে সাঁতার কাটা এবং ওয়াটার স্পোর্টসের মতো ক্রিয়াকলাপগুলিও আমরা শুরু করি, এবং সেই কারণে গ্রীষ্মের প্রখর রোদ, সুইমিং পুলের জলে উপস্থিত ক্লোরিন এবং সমুদ্রের লবণাক্ত জলের মতো জিনিসগুলির সংস্পর্শে আসার কারণে আমাদের ত্বক খারাপ হতে শুরু করে। বিশেষ করে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া না হলে। কিন্তু প্রথম থেকেই ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে আপনার ত্বককে ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। যে-কোনও ধরনের রাসায়নিক আমাদের ত্বকের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। ক্লোরিন নামক একটি রাসায়নিক সাঁতারের জলের পুলে দেওয়া হয় যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। বেশিক্ষণ সুইমিং পুলে সময় কাটালে আগে শরীরকে ভালোভাবে জল দিয়ে  পরিষ্কার করুন। ত্বক পরিষ্কার করার পর Moisturizer ব্যবহার করা জরুরি। ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বককে পুষ্ট করে। ত্বকের সঠিক পরিমাণে পুষ্টি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বকের ক্ষতি রোধ করে।

গ্রীষ্মের মরশুমে সূর্যের প্রখর রোদ ত্বককে পুড়িয়ে দেয়, যার ফলে ত্বকের সমস্যা যেমন স্যানবার্ন, ট্যানিং ইত্যাদি হওয়া শুরু করে। এরকম পরিস্থিতিতে সানস্ক্রিনের ব্যবহার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। কিন্তু ত্বকের যত্নের জন্য সানস্ক্রিনই যথেষ্ট নয়, সানস্ক্রিনের পর ত্বককে সঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করলে ত্বক কোমল থাকে এবং ত্বক সম্পর্কিত যে কোনও ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়। আপনি গ্রীষ্মে ময়েশ্চারাইজার-বেসড সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।

সকলেই মনে করেন গ্রীষ্মকালে আমাদের ত্বক শুষ্ক থাকে না কিন্তু দেখা যায় এই সময় আমাদের বেশির ভাগ সময়ই কাটে সূর্যের আলোতে, সুইমিং পুলে ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে। এমনকী গ্রীষ্মে আমরা এমন কিছু বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করি যাতে বেশি ক্লোরিন থাকে। এসব কারণে আমাদের ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন দেখাতে শুরু করে। এগুলির মোকাবেলা করার জন্য, ইমোলিয়েন্টস, যা আমাদের ত্বককে নরম রাখতে সাহায্য করে যেমন Moisturizer, আমাদের রোজ ব্যবহার করা উচিত।

 

 

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব