IVF-এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই শিক্ষিত এবং রুচিসম্পন্ন মানুষ। জীবনে স্বচ্ছলতার অভাব নেই। অভাব শুধু দুটি কচি হাতের আদরের। বিয়ের পাঁচ বছর বাদেও ওরা কেউ মা-বাবা ডাক শুনতে পাননি। আত্মীয় পরিজনেরা যে যেমন বলেছে, তেমনটি করেছেন। জ্যোতিষ, ঠাকুরের কাছে মানত কোনও কিছুই বাদ যায়নি। নিজেরা তাবিজ মাদুলিতে বিশ্বাস না করলেও, গুরুজনদের মুখ চেয়ে সবকিছু চুপচাপ মেনে নিতে হয়েছে।

আসলে, মা হওয়ার আকাঙক্ষায় মেয়েরা বোধহয় সবকিছুতেই বিশ্বাস রাখেন। আর যখন বিফল হন, তখন সবকিছুই ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দেন।

অনেক দম্পতি আছেন, যাদের মেডিকেল টেস্ট-এ তেমন ভাবে কোনও শারীরিক ত্রুটিবিচ্যুতি ধরা পড়েনি, তবু তাদের কোল শূন্য। বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আজ আইভিএফ অর্থাৎ ইনভিট্রোফার্টিলাইজেশন-এর সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে সন্তান ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে। নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে এটা একটা বড়ো আশীর্বাদ।

কে না চায় সন্তান সুখ

যে-কোনও মানুষের দুর্বলতম স্থান হচ্ছে নিজের সন্তান। এবিষয়ে বিখ্যাত মানুষের যে অনুভূতি, সেই একই অনুভূতি সাধারণ মানুষ তথা ভিখারিরও। নিজের সন্তানের জন্য মা-বাবা করতে পারে না হেন কাজ নেই। যারা নিঃসন্তান দম্পতি তারা সন্তানকামনায় কী না করে।

পুরাকালে অযোধ্যার রাজা দশরথ পুত্রলাভের জন্য যজ্ঞ করেন। এ কাহিনি প্রায় সকলেই জানে। আমাদের বাঙালিদের বারো মাসের ব্রতকথায়ও সন্তান কামনায় অনেক বার-ব্রতর প্রচলন আছে। ঈশ্বরী পাটনির বিখ্যাত উক্তি আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। যার সন্তান নেই, সেও কামনা করে সন্তানের সাফল্য।

আজকের মেডিকেল সায়েন্স জানাচ্ছে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬ জন মানুষ সন্তানহীনতার শিকার হয়। আরও জানা গেছে, প্রতি ৮ জনের মধ্যে এক দম্পতি দুবছরের মধ্যে সন্তান ধারণ করতেই পারে না। কিন্তু চিকিত্সা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে ৭৫ শতাংশ দম্পতি বিবাহের এক বছরের ভিতরে এবং ৮৮ শতাংশ দম্পতি আধুনিক চিকিত্সা পরিষেবা নিয়ে সন্তানলাভ করছেন।

নিঃসন্তান হওয়ার কারণ

আজকের আধুনিক লাইফস্টাইল কিংবা দূষিত পরিবেশ সব কিছুরই প্রভাব পড়ছে শরীরের উপর। চাপা টেনশন কিংবা নিদ্রাহীনতার ফলে ধীরে ধীরে মানব শরীরের স্বাভাবিক সুস্থতা অনেক কমে যাচ্ছে, ফলে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের সমস্যা। আমাদের খাদ্যাভ্যাস শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মূল কারণ। ফাস্ট ফুড, জাংকফুড, শরীরের প্রত্যঙ্গগুলোকে করে তুলছে দুর্বল। ফলস্বরূপ জন্ম হচ্ছে বিকলাঙ্গ শিশুর।

দূষণের কারণে দুই শতাংশ মানুষ হচ্ছে নপুংসক। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে দম্পতিরা জেনে যায় শিশুটি সুস্থ হয়ে পৃথিবীর আলো দেখবে কিনা? সুস্থ সবল সন্তান ধারণ না করতে পারলে জীবনটাই বৃথা। তাই কৃত্রিম উপায়ে সন্তানধারণের জন্য আইভিএফ এখন প্রচলিত উপায়। কৃত্রিম উপায়ে সন্তানধারণ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া-পদ্ধতি এখনও সব দম্পতির কাছে খুব স্বচ্ছ নয়।

নিঃসন্তান দম্পতিদের সকলের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকরী না হতেও পারে। ৩০-৪০ শতাংশ মানুষের জন্য এই প্রক্রিয়া কার্যকরী। আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তানধারণ বেশ খরচসাপেক্ষও বটে। তবে সন্তানলাভের আশায় দম্পতি এবং তার পরিবার অর্থব্যয় করতে কার্পণ্য করে না। আজ দিল্লি, মুম্বই, কলকাতার মতন বড়ো শহরেই শুধু নয়, গাজিয়াবাদ, লুধিয়ানার মতন ছোটো শহরেও আইভিএফ সেন্টার গড়ে উঠেছে। এদের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, লোভনীয় স্বপ্নপূরণের হাতছানি নিঃসন্তান দম্পতিদের প্রলুব্ধ করবেই।

রাজধানী দিল্লিতে রয়েছে প্রায় চল্লিশটির মতন আইভিএফ সেন্টার। প্রতিদিন এইসব সেন্টারে কৃত্রিম উপায়ে সন্তানলাভের আশায় নিজেদের পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর জন্য আসেন বহু নিঃসন্তান দম্পতি।

না জানার বিপত্তি

আইভিএফ পদ্ধতি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। মানুষ সন্তানের আশায় ছোটে। সবাই আশায় বুক বাঁধে যদি আমি সন্তানলাভ করি, যদি ঈশ্বর সদয় হন, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু শারীরিক ত্রুটি-বিচ্যুতি, মহিলা কিংবা পুরুষের শরীর কী ধরনের তার উপর নির্ভর করে সন্তান উত্পাদনের ক্ষমতা। সচরাচর মহিলাদের মধ্যে যে-ধরনের সমস্যা দেখা যায় তা হল-

  • ফ্যালোপিয়ান টিউবে কোনও সমস্যা
  • ওভারিতে সিস্ট
  • হর্মোনাল ডিসব্যালেন্স
  • নিষিক্ত ডিম্বাণু পরিণত না হওয়া।

এছাড়াও ১০ শতাংশ মানুষের অজ্ঞাত কারণে সন্তান লাভ হয় না। মেডিকেল টেস্টে সব ঠিক থাকলেও সন্তানধারণ করতে সক্ষম হয় না বহু সংখ্যক মহিলা। শুক্রাণু ঠিকমতন নিষিক্ত হলেও তিন-চার মাস পর্যন্ত গর্ভধারণ করার পর অজানা কারণে অনেক মহিলার গর্ভপাত হয়ে যায়। বারংবার এ ধরনের ঘটনা মহিলাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।

কিছু কিছু পুরুষ শরীরে শুক্রাণুর পরিমাণ কম থাকে। এটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবু সন্তানের আশায় ঠিক কবে থেকে আইভিএফে চিকিত্সা করানো উচিত, তা বুঝতে বুঝতে কখনও বা অনেক দেরি হয়ে যায়।

স্বামী-স্ত্রী মোটামুটি এক-দেড় বছর অপেক্ষা করে মা-বাবা হতে চান। আবার কেরিয়ারিস্ট দম্পতিরা পাঁচ-ছয় বছরের প্ল্যানিং নিয়ে চলেন।

আইভিএফ বিশেষজ্ঞ

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এক-দুই-তিনবার এই পদ্ধতির প্রয়োগ করা উচিত মহিলাদের শরীরে, নয়তো অন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে এই আইভিএফ শুধুমাত্র একজন বিশেষজ্ঞের কাজ নয়। এটি একটি টিমওয়ার্ক। একজন গাইনিকোলজিস্ট, একজন এমব্রয়োলজিস্ট, একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ এবং একজন আল্ট্রাসাউন্ড বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হয়। সর্বোপরি সার্জন তো আছেই। জটিলতা দেখা দিলে তবেই সার্জনের প্রয়োজন।

মহিলাদের শারীরিক জটিলতার তুলনায় পুরুষদের জটিলতা অনেক বেশি। শুনতে অবাক লাগলেও পুরুষরা চট করে নিজেদের পরীক্ষা করাতে আসতে সংকোচ বোধ করেন। স্বাভাবিক ভাবে সন্তান উত্পাদনে অক্ষম হলেও, পুরুষরা প্রথমে স্ত্রীদের এগিয়ে দেন পরীক্ষা করার জন্য।

খরচ

আইভিএফ পদ্ধতি যথেষ্ট খরচসাপেক্ষ। যখন দম্পতিরা ওষুধ, অপারেশন সব ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা করেও হতাশ, তখন আইভিএফ-এর দিকে ঝোঁকে। মোটামুটি খরচ লক্ষাধিক। ১৯৭৮ সালে লন্ডনে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। ১৯৯৮ সালে অর্থাৎ কুড়ি বছর বাদে দিল্লিতে প্রথম আইভিএফ-আইসিএসআই (In Vitro Fertilization-Intracytoplasmic Sperm Injection) শিশুর জন্ম হয়। আশার কথা এই যে, ভারতের মাটিতে এই পদ্ধতির খরচ লক্ষাধিক হলেও, ইউএস কিংবা ইউকে-র থেকে অনেক কম। তাই বিদেশি দম্পতিরা ভারতে আসছেন, রিপ্রোডাকটিভ টুরিজিমের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। যাইহোক, আশার কথা এই যে, নিজের উত্তরাধিকারের জন্য দম্পতিরা ধীরে ধীরে স্বাগত জানাচ্ছেন আইভিএফ বা ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিকে।

‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

একটা সময় ছিল যখন হার্ট অ্যাটাককে বার্ধক্যজনিত সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। তবে, আজকাল ৩০ বছর বয়সি, এমনকি ২০ বছর বয়সিদেরও প্রাণঘাতী হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে দেখা যায়। আসলে এখন এই বিষয়টি আর ব্যতিক্রমী নয়, এটি একটি প্রবণতা হয়ে উঠেছে এবং এই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবার সময় এসে গেছে। অন্তত, ‘ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে’ উপলক্ষ্যে হার্ট-কে সুস্থ রাখার জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ এবং শপথ নেওয়া উচিত। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন ফর্টিস হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের ডিরেক্টর ডা. কায়াপান্ডা মুথানা মান্দানা।

কেন এমনটা হচ্ছে? এর উত্তরের একটা অংশ জেনেটিক্সের মধ্যে নিহিত। যদি আপনার পরিবারে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে, আপনি যত কম বয়সি হোন না কেন, তাহলে হার্ট-এর সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিন্তু জীবনযাত্রা আরও বড়ো ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় ধরে কর্মক্ষেত্রে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ব্যায়ামের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং এমনকি বিশেষকিছু ওষুধও হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। এর সঙ্গে যোগ করুন তরুণদের মধ্যে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের নীরব বৃদ্ধি এবং বেশিরভাগই তা নির্ণয় করা হয় না। অর্থাৎ, আমাদের কাছে প্রাথমিক হার্ট অ্যাটাকের জন্য নিখুঁত উপাদান রয়েছে।

Dr. Kayapanda Muthana Mandana,
Dr. Kayapanda Muthana Mandana

পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তোলে, যখন অনেক তরুণ-তরুণী সতর্কতামূলক লক্ষণগুলিকে উপেক্ষা করে। বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ব্যাখ্যাতীত ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় করা প্রভৃতিকে গুরুত্ব না দেওয়া। তারা ধরে নেয় যে, ‘আমাদের কম বয়স, তাই আমাদের হার্ট-এর সমস্যা হতে পারে না।’ কিন্তু বিপদে পড়ে যখন তারা সাহায্য চায়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়, তেমন কিছুই আর করার থাকে না অনেকসময়।

তাই, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। ৫০ বছর বয়সের পর হৃদরোগের স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবলে হবে না। এটি এমন একটি বিষয়, যা আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় থেকেই ভাবতে হবে। নিয়মিত চেক-আপ, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস, ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করা, উপযুক্ত পরিমানে জলপান করা এবং ব্যায়ামের জন্য সময় বের করা জরুরি। এখন আর বিলাসিতা নয়, এগুলি বেঁচে থাকার কৌশল।

আসল কথা হল, আরও সচেতনতা জরুরি এবং প্রত্যেকের আরও সচেতন হওয়া দরকার। এই বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষ্যে শপথ নিন, কোনওরকম অবহেলা নয়, হার্ট-এর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে, নিয়মিত চেক-আপ এবং খাওয়া, ঘুম, শরীরচর্চার মাধ্যমে হার্ট-কে সুস্থ রাখবেন।

উৎসবে সুস্থ থাকুন

আমাদের ভালো থাকা নির্ভর করে জীবনযাত্রার ধরনের ওপর। মনে রাখবেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

লাইফস্টাইলের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ডায়েট। ব্যালান্সড ডায়েট শুধু আপনাকে শারীরিক ভাবে সুস্থ রাখে তা নয়, আপনার ত্বক, চুল ও মনকেও ভালো রাখে। তাই শারদোৎসবের দিনগুলিতে আপনার ডায়েট ও শরীরচর্চার ওপর নজর দিন। তাহলেই উৎসবের দিনগুলোতে খুব সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন এবং আনন্দে কাটাতে পারবেন।

কীভাবে শরীরের এক্সট্রা ফ্যাট কমাবেন?

অনেকেই আছেন যারা সারাবছর শরীরের ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে নজর দেন না কিন্তু উৎসবের দিনগুলিতে মনে হয়— একটু বাড়তি ফ্যাট যদি কমত, তাহলে বোধহয় ভালো হতো। তবে চিন্তা নেই, নীচের টিপ্‌সগুলো মেনে, কিছুটা বাড়তি ফ্যাট কমিয়ে নিজেকে হালকা ও ফিট রাখুন।

(১) চিনি ও চিনিযুক্ত খাবার যেমন কেক, প্যাস্ট্রি, আইসক্রিম, মিষ্টি ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

(২) ডুবো তেলে ভাজা খাবার পুরোপুরি বাদ দিন।

(৩) প্রতিদিন অন্তত একটি করে গোটা ফল খান।

(৪) দুপুরের ও রাতের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন রকম সবজি রাখুন।

(৫) কম ফ্যাট যুক্ত দই খান।

(৬) পেট ভরে সকালের জলখাবার খান। রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেট কম রাখুন। ভাত বা রুটি একটু কম কম খান এবং স্যালাড, সবজি, চিকেন, ডাল রাখুন খাদ্য তালিকায়।

(৭) ডায়েটের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

 

ত্বক সুন্দর রাখার জন্য কী খাবেন?

শুধু অতিরিক্ত ফ্যাট নয়, ত্বকেরও যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। রূপচর্চার জন্য অনেক কিছুই করে থাকেন অনেকে। স্যালনে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট করেন। কিন্তু শরীরের ভিতর থেকে ত্বককে ভালো না রাখলে, ত্বক ভালো থাকে না। খুব সহজে ব্রণ, বলিরেখা, মেচেতা এবং বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। ত্বক প্রাণহীন হয়ে পড়ে। উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ডায়েট-এ সমান ভাবে নজর রাখতে হবে। এই বিষয়ে রইল কিছু পরামর্শ:

(১) জল খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যাতে ত্বক থাকে তরতাজা।

(২) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, আমলকী, পেয়ারা, পেঁপে ডায়েট-এ যোগ করুন।

(৩) প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান পর্যাপ্ত পরিমাণে, যেমন— মাছ, ডাল, দুধ বা দই, চিকেন। ত্বক এবং চুল স্বাস্থ্যকর রাখতে হলে, ভালো প্রোটিন জরুরি।

(৪) ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে ভালো ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, চিয়া সিস, ফ্লাক্স সিডস ডায়েট- এ রাখুন।

(৫) অ্যালকোহল সেবন ও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

কী খাবেন, কী খাবেন না?

উৎসবের ক’দিন আমরা সমস্ত ডায়েট-এর বেড়াজালের বাইরে থাকি। উৎসবের দিনগুলিতে পেটপুজো সমান গুরুত্বপূর্ণ বাঙালির কাছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, উৎসব চলবে গোটা মরশুম জুড়ে। তাই আনন্দ করার পাশাপাশি, সুস্থ থাকাটাও দরকার। যে-জিনিসগুলো মাথায় রাখলে সুস্থ ভাবে উৎসব কাটাতে পারবেন, তা হল—

(১) যখন বেরোবেন অবশ্যই জলের বোতল সঙ্গে রাখবেন। জল পরিমাণমতো খেতে হবে

(২) জল তেষ্টা পেলে কার্বনেটেড বেভারেজগুলো খাবেন না। ডাবের জল, পুদিনার জল, লস্যি খেতে পারেন।

(৩) সঠিক সময়ে দুপুর ও রাতের খাবার খাবেন।

(৪) রাস্তার পাশের স্নাক্সজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন, হজমের সমস্যা হতে পারে।

(৫) সঙ্গে রাখুন ড্রাই ফ্রুটস, গোটা ফল – যাতে খিদে পেলে হেলদি অপশন হাতের কাছেই থাকে। ভালো ভাবে উৎসব কাটান, সাবধানে থাকুন, সুস্থ থাকুন।

এক নজরে

◌ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ক্যান্সার-সহ সমস্ত ধরনের অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে স্বাস্থ্যকর খাদ্য

◌ জীবনের প্রথম থেকে শুরু করা উচিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। যেমন— মা যদি তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান সঠিক সময়ে, তাহলে খুব ছোটো থেকেই মজবুত হয়ে উঠবে তার সন্তান

◌ প্রতিদিন লবণের পরিমাণ ৫ গ্রামের কম রাখলে, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে

◌ প্রক্রিয়াজাত খাবারের বর্ধিত উৎপাদন, দ্রুত নগরায়ন এবং পরিবর্তিত জীবনধারা খাদ্যের ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। তাই, ভালো থাকার জন্য হেলদি ডায়েট গ্রহণ জরুরি

◌ মাখন এবং ঘি-এর পরিবর্তে পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ তেল, যেমন সয়াবিন, ক্যানোলা (রেপসিড), ভুট্টা, কুসুম এবং সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করুন

◌ কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার এবং চর্বিহীন মাংস খাওয়া উচিত

◌ বেকড এবং ভাজা খাবার খাওয়া কমালে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে

◌ তাজা ফল এবং শাকসবজি খাওয়ার মাধ্যমে পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে

◌ চিনি খাওয়া কমান।

অনুশ্রী মিত্র, ডায়েটিশিয়ান।

উৎসবে নজর কাড়ুক নেল আর্ট

নেল আর্ট-এর আগে নখ পরিষ্কার করা, নখের শেপ এবং কন্ডিশনিং-এর খেয়াল রাখা— একান্ত জরুরি। নখ-কে প্রথমে খাবার সোডা এবং লেবুর রস মিশ্রিত ঈষদুষ্ণ জলে খানিকক্ষণ ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর নরম কাপড় দিয়ে নখ শুকনো করে মুছে নিন। ফাইলার-এর সাহায্যে নখ-কে মনের মতো শেপ দিন; যেমন— গোলাকৃতি, ডিম্বাকৃতি অথবা চৌকো।

এবার নখ-কে সুরক্ষিত রাখতে নখে প্রাইমার লাগানোর পর বেস কোর্ট লাগান। এর ফলে নখের রং হলুদ হবে না। বেস কোর্ট- এর প্রথম পরত শুকিয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয় কোট অ্যাপ্লাই করুন। পুরোটা শুকিয়ে গেলে অন্য ম্যাচিং নেল কালার দিয়ে ইচ্ছেমতোন ডিজাইন আঁকুন। বাড়িতে সরু ব্রাশের সাহায্যে ডিজাইন আঁকতে পারেন আবার বাজারে নেল আর্টের জন্য নানা ধরনের টুল্স পাওয়া যায়, যেগুলি ব্যবহার করে নেল পেইন্ট করা খুবই সহজ। চাইলে বেছে নিতে পারেন ডার্ক অথবা হালকা রং।

কয়েকটি ট্রেন্ডি নেল আর্ট

বনজারা নেল আর্ট: কালো নেলপলিশের উপর পছন্দ অনুযায়ী নানা আকারের স্টাস লাগিয়ে বানজারা নেল আর্ট নিজেই বানিয়ে নিতে পারবেন। কালো রঙের ম্যাট নেলপলিশ-এর একটা কোট লাগান এবং সেটা শুকিয়ে যেতে দিন। পরের পরতটি গাঢ় করে লাগান। নেলপেইন্ট শুকিয়ে যাওয়ার আগেই একটি চিমটের সাহায্যে স্টাস এক একটা করে তুলে নখের পেইন্টের উপর বসান এবং ডিজাইন ফুটিয়ে তুলুন। নেল পেইন্ট-এর উপর স্টাস পুরোপুরি সেট হয়ে গেলে, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নেল আর্ট টিকিয়ে রাখার জন্য নখের উপর ট্রান্সলুসেন্ট কোর্ট লাগিয়ে নিন। মিড নাইট ব্লু আর গ্রে নেল এনামেল-এর উপরেও এই ধরনের প্যাটার্ন বানানো যেতে পারে।

স্মাইলি নেল আর্ট: লেটেস্ট ট্রেন্ড-এ স্মাইলি নেল আর্ট ডিজাইন এখন ইন। আজকাল সমস্ত মেসেজের সঙ্গে স্মাইলি পাঠানো সকলের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। নখেও যদি সুন্দর একটা স্মাইলি বানানো যায় তাহলেও সকলের দৃষ্টি নখের প্রতি আকর্ষিত হবেই। এই ডিজাইনে সবগুলো নখেই আলাদা আলাদা রকম স্মাইলি বানানো হয়। কালো এবং হলুদ রং ছাড়াও এই ডিজাইনে সাদা, লাল এবং গোলাপি রং-ও ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ডিজাইন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

চেক বোর্ড ফ্রেঞ্চ নেল্: এই নেল আর্ট দেখতেও ভালো লাগে এবং এর কিউট লুক সব আকারের নখেই মানানসই লাগে।

পার্ল নেল আর্ট: কেভিয়ার অর্থাৎ মাছের ডিমের মতো নেল আর্ট এখন আধুনিকাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয়। এই নেল আর্টের থ্রিডি এফেক্ট-এর জন্য এবং এতে পার্ল-এর ব্যবহার হয় বলে একে পার্ল নেল আর্ট বলা হয়। গ্লসি ব্ল্যাক নেলপলিশের উপর পার্ল বিস চেপে রেখে এই আর্ট বানানো হয়। পার্ল ভালো ভাবে সেট করে গেলে উপর দিয়ে গ্লসি টপ কোট লাগিয়ে নিন।

মার্বেল টাইল্স: এই নেল আর্টের ট্রেন্ড এখন ফ্যাশনে ইন। দেখতে সুন্দর লাগে এবং নখকে কমপ্লিট লুক দেয়।

নিউজপেপার নেস: এই নেল ডিজাইন দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগে তেমনই সব রকম উৎসব-অনুষ্ঠান-অফিস সব জায়গার জন্যই অ্যাপ্রোপ্রিয়েট। হোয়াইট ব্রাইট বা লাইট কালারের নেলপলিশ লাগিয়ে শুকিয়ে নিন। এবার নখ, অ্যালকোহলের মধ্যে ২ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন এবং ভেজা নখের উপর খবরের কাগজ পেস্ট করুন। খানিকক্ষণ রেখে কাগজ সরিয়ে দিন। তৈরি আপনার নিউজপোর নেল আর্ট।

হাফ মুন: নখকে ক্লাসি এবং রয়্যাল লুক দিতে চাইলে হাফ মুন নেল আর্ট সিলেক্ট করাই যুক্তিযুক্ত। এই আর্ট-এ নখের নীচের অংশে ডিপ কালার দিয়ে হাফ মুন আঁকা হয় ও বাকি অংশে হালকা ম্যাট কালার ব্যবহার হয়।

পেটাল্স নেল আর্ট: ফুলের পাপড়ি শুকিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি জেল নেলপলিশ নখের সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এখন এই নেল আর্টের ট্রেন্ড খুব চলছে, কারণ এটি নখের সৌন্দর্য বাড়াবার সঙ্গে লুকটাও ন্যাচারাল রাখে।

লেসি নেল আর্ট: লেস লাগালে যেমন পোশাকের সৌন্দর্য বেড়ে যায়, তেমনই নখে লেস নেল আর্ট নখের সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে। এই নেল আর্ট-টির জন্য পারফেক্ট ফিনিশিং খুব দরকার।

ব্রেসলেট নেল আর্ট: এর জন্য নখে নেলপলিশ লাগাবার পর ভিজে থাকা অবস্থাতেই জুয়েলারি লাগিয়ে সেট করতে দিতে হবে এবং দীর্ঘসময় টিকিয়ে রাখতে এর উপর ফাইনাল কোটিং দিতে হবে। এর ফলে নখে লাগানো অ্যাক্সেসরি সঠিক ভাবে সেট হবে। ব্রেসলেট লুকের জন্য অন্য রঙের সুতো নিয়ে অনেক টুকরোয় সুতোটিকে কাটুন যাতে টুকরোগুলি নখের উপর ঠিকমতো ফিট করে। খেয়াল রাখতে হবে, অ্যাক্সেসরি যেন নখের উপরেই থাকে।

ওয়ার্ড প্লে: যদি মনের ভাবনা নেল আর্টের মাধ্যমে ব্যক্ত করতে চান, তাহলে ওয়ার্ড প্লে নেল আর্ট ব্যবহার করতে পারেন। এই নেল আর্ট বানানো খুবই সোজা এবং এটি খুবই ক্রিয়েটিভ একটি আর্ট।

হোলোগ্রাফিক কালার: ফ্ল্যাশি লুক, রং এবং স্টাইলিশ বলেই হোলোগ্রাফিক ক্রোম সকলেরই খুব পছন্দের। হোলোগ্রাফিক নেল্স-এর জন্য মার্কেটে অনেকরকম উপকরণ পাওয়া যায়। যেমন— হোলোগ্রাফিক সেলোফেন এবং ফয়েল পেপার।

গ্যালাক্সি নেল আর্ট: অ্যাস্ট্রোলজি যারা ভালোবাসেন তারা গ্যালাক্সি নেল আর্ট-ও খুবই পছন্দ করবেন। সিংগল অথবা কালারফুল মেটালিক নেলপলিশ লাগিয়ে উপরে জ্বলজ্বলে তারা লাগিয়ে ফিনিশিং টাচ দিতে পারেন এই ধরনের নেল আর্টে।

অ্যাকোয়ারিয়াল নেল আর্ট: নেল আর্টে যদি অ্যাকোয়ারিয়ামের ছোঁয়া আনতে চান তাহলে এই নেল আর্ট বেছে নিতে পারেন। এই ডিজাইনে ব্লু ক্রিস্টাল খুব সুন্দর লাগে দেখতে। জলের আভাস আনার জন্য নুড কালার ব্যবহার করা সব থেকে ভালো। এর উপর তুলোর সাহায্যে গ্লিটার অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

নেগেটিভ স্পেস: খুব কম নেল আর্ট এবং বেশিটা ব্ল্যাংক স্পেস দিয়ে খুব মজার নেল আর্ট বানানো সম্ভব। এই নেল আর্ট-কে নেগেটিভ স্পেস নেল আর্ট বলা হয়। এটি মেটালিক নেল কালারের উপর সবথেকে ভালো ফুটে ওঠে।

ট্রেন্ডি নেল আর্টের জন্য জরুরি টিপস

O নেল আর্টের জন্য ন্যাচারাল এবং ব্রাইট কালারের নেলপলিশ থাকা একান্ত জরুরি। ন্যাচারাল কালারের নেলপলিশ লাগিয়ে তার উপর ব্রাইট কালারের ট্রাইঅ্যাংগল বানাতে পারেন

O আলাদা রকমের নেল আর্ট বানানোর জন্য স্কচ টেপ ব্যবহার করুন। এর সাহায্যে নখে নানা রকমের ডিজাইন তৈরি করতে পারবেন

O ন্যাচারাল কালারের অথবা পছন্দমতো নেলপেইন্ট লাগিয়ে তার উপর সেলোফেন পেপারের ছোটো ছোটো টুকরো আটকে দিন। শ্যাটার্ড গ্লাস নেলস ডিজাইন তৈরি হয়ে যাবে। ছোটো নখেও এই আর্ট দেখতে ভালো লাগবে

O আলাদা আলাদা নেল কালার্স ব্যবহার করা যায় নেল আর্টে এবং ইচ্ছেমতো ডিজাইনও তৈরি করা যায়।

উৎসবের আবহে জীবনে আনুন নতুন ছন্দ

জীবন হয়তো কবিতার মতো নয়, বরং অনেকটাই গদ্যময়। তবুও জীবনকে ছন্দে বেঁধে রাখতে পারলেই অনেকটা হাসিখুশিতে থাকা যায়। কারণ জীবন কোন খাতে কখন বয়ে চলে, তা আমরা কেউই জানি না। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না, সে এগিয়ে চলে তার নিজস্ব ছন্দে। অতএব সময় এবং নদীর মতো জীবনও বহমান। তাই প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই আসবে সাফল্য। কিন্তু কীভাবে, কোন পথে, কোন কৌশলে এগোলে সাফল্যলাভ সম্ভব— তা হয়তো সবার জানা নেই।

সম্পর্ক অটুট রাখুন

জীবনকে সুন্দর করে তুলতে, বড়ো ভূমিকায় থাকে সম্পর্ক। যার সম্পর্কের বাঁধন যত মজবুত, সে জীবনে ততই সফল। মনে রাখবেন, যার যতই অর্থবল থাকুক না কেন, বিপদে পড়লে বোঝা যায় অর্থের পাশাপাশি লোকবলও কতটা প্রয়োজন। আসলে একা মানেই বেশিরভাগ সময় আমরা বোকা হয়ে যাই, বিশেষত বিপদের সময়। তখন সবকিছু জেনেও যেন কেমন অসহায় ভাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই। অর্থাৎ, একা থাকলে ঘাবড়ে গিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না অনেকসময়। শুধু তাই নয়, অসুখ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে আন্তরিক সেবাদান নিজের পরিবারের লোকজন ছাড়া প্রায় সম্ভব নয় বললেই চলে। টাকা দিয়ে লোক রেখে চব্বিশ ঘণ্টা সঠিক ভাবে সেবা নেওয়া সম্ভব হয় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

অবশ্য শুধু এই বিষয়টিই নয়, আর্থিক কষ্টের দিনে কিংবা কোনও জটিল পরিস্থিতির সময় মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষের সাহায্য লাগে। তবে মনে রাখবেন, একতরফা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। অন্যের থেকে ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকেও আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতে হবে অন্যকে। অন্যের বিপদের দিনে অর্থ এবং শ্রম দিয়ে নির্দ্বিধায় সাহায্য করতে হবে আপনাকেও। মনে রাখবেন, সম্পর্ক-ই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ জীবনে। সম্পর্কের ভিত যত মজবুত হবে, জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাও তত সহজেই দূর হয়ে যাবে।

কোনও অসাধু লোক আপনার ক্ষতি করার আগে দু’বার ভাববে এবং ভয় করবে। কারণ সে জানে, আপনার লোকবল আছে। শুধু তাই নয়, ভালোবাসার লোকজন থাকলে আপনার মনের জোরও অনেক বেড়ে যাবে, কোনও অসহায়তাই দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তাছাড়া, সবাই মিলে কাজ করলে সব কাজই অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এই সম্পর্কের ভিত শক্ত করার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন সবার সঙ্গে এবং মাঝেমধ্যে দেখা করে উপহার সামগ্রীও দিন।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন কোনওরকম দূরত্ব না রেখে। সাধ্যমতো পরস্পরকে সময় দিন, ভালোমন্দ ভাগ করে নিন, মেতে থাকুন হইহুল্লোড়ে।

সঞ্চয় করুন

জীবনে সুসম্পর্কের পর সবচেয়ে বড়ো ভূমিকায় থাকে সঞ্চয়ের বিষয়টি। সম্পূর্ণ না হলেও, অনেক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অর্থ। তাই টাকা জমান সাধ্যমতো। কর্মজীবনের পর থেকে মাথায় রাখুন অর্থ সঞ্চয়ের বিষয়টি। প্রথমে দেখে নিন আপনার মাসিক আয় কত, তারপর সেইমতো ব্যয় করুন। কোন খাতে কত খরচ করতেই হবে তা প্রথমে লিখুন। এরপর মোট খরচের সঙ্গে মিসলেনিয়াস খাতে আরও কিছু টাকা ধরে নিয়ে আয়ের পরিমাণ থেকে সেই টাকা বাদ দিয়ে দেখুন কত টাকা বাঁচাতে পারছেন। যতটুকু টাকা বাঁচাতে পারবেন, সেই টাকা বাড়িতে না রেখে ব্যাংক-এ রাখুন। কারণ, ব্যাংক-এ টাকা রাখলে তা যেমন সুরক্ষিত থাকবে অনেকটাই, ঠিক তেমনই মাসে মাসে সুদের টাকাও হবে বাড়তি পাওনা।

অবশ্য শুধু ব্যাংক-এ টাকা জমানোই নয়, সোনার গয়নাও কিনে রাখতে পারেন। বিপদের দিনে এই স্বর্ণালঙ্কার খুব কাজে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় উল্লেখ্য, কিছুদিন টাকা জমিয়ে জমি কিংবা বাড়িও কিনে রাখতে পারেন। কারণ, জমি-বাড়িও একরকম সঞ্চয়। শুধু তাই নয়, পিএফ বা পিপিএফ-ও বড়ো সঞ্চয়ের মাধ্যম। যারা চাকরি করেন, তারা এই সুবিধা নিতে পারেন। তবে শেয়ারবাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে ভালো ভাবে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।

একটু বিচক্ষণতার সঙ্গে চলতে পারলেই দেখবেন সুস্থ-সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এই যেমন আমাদের এখন অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া উচিত, ঠিক তেমনই অনেকটা সাশ্রয়ীও হওয়া উচিত।

সন্তানের জন্য সঞ্চয়

যে যত বিচক্ষণ, সে ততই আগাম পরিকল্পনার পথ বেছে নেয়। এই যেমন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমেই প্রতি মাসে কিছু টাকা রেখে দিন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য। এখন অনেক ব্যাংক এমন বিশেষ কিছু যোজনা যুক্ত করেছে, যা খুবই লাভদায়ক। প্রতি মাসে যদি ৫০০ টাকা করেও জমাতে পারেন সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য, তাহলে আপনিও যেমন ভবিষ্যতে চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন, ঠিক তেমনই আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ-ও অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। অবশ্য শুধু ব্যাংক-ই নয়, পোস্ট অফিসেও এমন অনেক যোজনা রয়েছে, যা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ করবে আপনাকে।

সুরক্ষা বিমা

এই জীবন সুরক্ষা বিমার দুটি ভাগ আছে। প্রথমটি স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যটি জীবনবিমা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে বিমা কোম্পানিতে। জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ নির্ভর করবে বয়স এবং বিমারাশির পরিমাণের উপর। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে যেমন আপনার জীবন বাঁচবে, ঠিক তেমনই হঠাৎ যদি পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে তাহলে জীবিত সদস্যরা মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে যাবেন বিমা কোম্পানির থেকে। তাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর জীবনবিমা করিয়ে রাখা উচিত। এতে তার উপর নির্ভরশীল পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিপদে পড়বেন না উপার্জনকারীর মৃত্যু ঘটলেও।

আর মনে রাখবেন, প্রতিদিন যেভাবে চিকিৎসার খরচ বেড়ে চলছে, তাতে মেডিকেল ইনশিয়োরেন্স করিয়ে রাখা জরুরি। অনেক দেশ আছে যেখানে চিকিৎসাবিমা বাধ্যতামূলক। এই বিমা না থাকলে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায় না। তাই মেডিকেল ইমারজেন্সির সময় যাতে বিপদে না পড়েন, তার জন্য স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা-ই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

এছাড়া, আপনার গাড়ি-বাড়ির বিমাও করিয়ে রাখুন। এই সুরক্ষা বিমার মধ্যে এখন ট্রাভেলিং ইনশিয়োরেন্স এবং ওয়েডিং ইনশিয়োরেন্সও যুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিলে আরও বিশদে জানতে পারবেন।

সাশ্রয়

মনে রাখবেন, সঞ্চয় বাড়াতে হলে সাশ্রয়ী হতে হবে। সচেতন থেকে যত বেশি খরচ কমাতে পারবেন, তত বেশি সঞ্চয় করতে পারবেন। এর জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো, পাখা, গিজার, এগজস্ট ফ্যান কিংবা এয়ারকন্ডিশনার বন্ধ রাখতে হবে। কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট-এর খরচ ইত্যাদিও কমাতে হবে। এছাড়া ঘনঘন রেস্তোরাঁয় খাওয়া বন্ধ করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে অপ্রয়োজনীয় শপিং।

প্রতিদিন পাঁচরকম রান্নার আয়োজন না করে মাঝেমধ্যে ভালো কিছু খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলেও রান্নার গ্যাস এবং রান্নার সামগ্রীর খরচ বাঁচানো যাবে। সেইসঙ্গে, খুব প্রয়োজন না হলে যাতাযাতের জন্য ক্যাব ভাড়া না করে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করলেও প্রতি মাসে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন। আর কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য সাইকেল ব্যবহার করলে তাও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য

সবাই জানেন যে, স্বাস্থ্য-ই অন্যতম সম্পদ। শারীরিক স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে জীবনের অনেক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় সহজে। তাই, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পুষ্টিকর খাবার খান। শাকসবজি এবং অন্যান্য ফলমূল ইত্যাদি ফাইবারজাতীয় খাবার খেয়ে স্বাস্থ্যরক্ষা করুন। প্রতিদিন পরিমাণ মতো (তিন থেকে চার লিটার) জল পান করুন এবং রাতে অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।

একটানা মোবাইল ফোন-এ চোখ রাখবেন না কিংবা একটানা ল্যাপটপ-এ বসে কাজ করবেন না, মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। রাতে মশারি টাঙিয়ে শোবেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন। বাড়ির আশেপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না কিংবা ময়লা জমিয়ে রাখবেন না।

মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান এবং মাঝেমধ্যে বাইরে কোথাও সুন্দর জায়গায় বেড়িয়ে আসুন। কোনও কাজ জমিয়ে রাখবেন না। কারণ, কাজ জমিয়ে রাখলে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বদা পজিটিভ ভাবুন। কোনও সমস্যায় পড়লে শুভাকাঙ্ক্ষীর সাহায্য এবং পরামর্শ নিন।

স্থানীয় সংবাদ (পর্ব-০২)

কথা বলার ফাঁকে যোগীর ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে হাসির রেখা। কারণ কথাটা যে নিতান্তই অবান্তর ও অবাস্তব সেটা ও ভালো করেই জানে। খবরের কাগজে ওর যে কোনওদিন ছবি ছাপা সম্ভব নয়, সেটা ওর কাছে প্রায় অলীক স্বপ্নবৎ। স্বপ্ন মানুষকে যতই প্রতারণা করুক তবু লোকে স্বপ্ন দেখে। যেমন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, তবু মৃত্যুকে মানুষ ভয় পায়।

—তোর ছবি দেইখা সবাই খুশিতে নাচব তাই না? সোনা যোগীর কথায় বিরক্তি প্রকাশ করে। তারপর কৃত্রিম গাম্ভীর্য প্রকাশ করে বলে, যা দুইটা বিড়ি ধরাইয়া আন। তুইও খা, আমিও খামু, তেষ্টা পাইছে।

—তোর তেষ্টা পাইছে তুই খা। তোরে আমি খাওয়ামু ক্যান? যোগী প্রতিবাদ জানায়।

—খাওয়াবি না ক্যান? চাইটা কাগজ বেশি বিক্রি করলি যে!

—তাতে কী? যোগীর প্রশ্ন।

—ধনীর কাছেই তো গরিবরাই হাত পাতে রে!

যোগীকে অতঃপর বাধ্য হয়ে মাশুল গুনতে হয়। সোনা পয়সা হাতে নিয়ে এক দৌড়ে ছুটে যায় দোকানের দিকে বিড়িতে অগ্নি সংযোগ করার উদ্দেশ্যে।

সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেরা যে সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দুপুরে ঘুম থেকে উঠে বিকেলের খাবার খায়, হতভাগ্য যোগী-সোনাদের মতো ছেলেরা সেই সময় খিদে মেটায় নেশা করে। ব্যাপারটা দৃষ্টিকটূ বা অশোভনীয় লাগলেও তাদের কাছে দ্বিতীয় কোনও বিকল্প নেই। প্রকৃত স্নেহ ভালোবাসার অভাবে মানুষ যে স্বভাবতই ডানপিটে হয়ে ওঠে।

সোনা বিড়িতে সুখটান দিয়ে বলে— তোর নাম তো যোগী, তুই তো আবার সাধু! কিন্তু সাধুরা তো নেশাখোর হয়। তুই খাবি না ক্যান? খাইয়া দ্যাখ এগুলা বিষ না।

তাৎক্ষণিক ব্যবহারটা যতই মধুর হোক কথাটার মধ্যে একটা তীর্যক ইঙ্গিত সুস্পষ্ট। যোগী সোনার মনের কথা বুঝতে পারে। যোগী জবাবদিহি করে এই বলে— -আমি এইসব জিনিস খাই না। আমারে মাফ কর। তোর তেষ্টা পাইছে, তুই খা।

সোনার আত্মসম্মানে ঘা লাগে। নিমেষে রেগে গিয়ে জ্বলন্ত বিড়িটা রাস্তার উপর নিক্ষেপ করে বলে— আমি খারাপ, আমি বিড়ি খাই তাই না? তুই খাইলে নষ্ট হইয়া যাবি। তুই যে কত ভালো মানুষের পো আমার জানতে বাকি নাই।

অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এখন কোন কথার পৃষ্ঠে কোন কথার জন্ম হতে পারে যোগী তা ভালো করে জানা। প্রতিবাদ না করে সে চুপ করে থাকে। লোকের কথাই ঠিক, কলঙ্ক একবার লাগলে সহজে মোছে না। পরিবারের একজন অন্যায় করলে ভুগতে হয় অন্য পরিজনদেরও। প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় বংশানুক্রমে, যুগ যুগব্যাপী।

সোনা অবজ্ঞার সুরে বলে ওঠে— তোর বাপটা তো একটা লম্পট। দীপুর মা’ডারে লইয়া পলাইছে। তোর লজ্জা করে না? আমি বিড়ি খাই আমি খারাপ আর তুই খাস না তুই খুব ভালো! তাই না?

অশ্রাব্য কথাগুলো শোনার পরে যোগীর সারা শরীরটা জ্বলে ওঠে অপমানে। মনে হয় চকিতে এক থাপ্পড়ে সোনার গাল দুটো ফাটিয়ে দেয়। কিন্তু সে অপারগ। সে দুর্বল। সেই কাজটা করতে গেলে তাকেই হয়তো দু’ঘা হজম করতে হবে। সাহসের অভাবে নীরব অভিমানে যোগী চুপ করে থাকে। শুধু ও কেন, বস্তির সবার মুখেই এখন একই আলোচনা। কার মুখে কুলুপ দেবে? যোগী দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে সোনার কথাগুলো।

আবার একসময় গাড়ি এসে দাঁড়ায়। পুত্তুলিকাবৎ ছুটে যেতে হয় জীবিকান্বেষণের প্রবল তাগিদে। এরকম কয়েকবারের প্রচেষ্টায় কাগজগুলো যখন একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন মনে পড়ে বাড়ি ফেরার কথা। অবসান হয় প্রতিযোগিতার। দু’জনে এক সাথে গল্প-গুজব করতে করতে বাড়ি ফেরে। তখন মনের কোণে কোথাও পূর্বের ঝগড়াঝাটি বা জয়-পরাজয়ের কথা মনে থাকে না। নিবিড় বন্ধুত্ব বলতে যে ছবিটা চোখের সামনে ফুটে ওঠে, ওদের তখনকার আচরণটাও ঠিক সেইরকম।

কয়েকদিন আগেই বৃষ্টি হয়েছিল, তাই বাতাস ছিল অপেক্ষাকৃত একটু ঠান্ডা। রাস্তা থেকে অনেকটা দূরে এক নর্দমার পাশে জনবসতিশূন্য একটা খোলা জায়গায় শবদাহ হচ্ছিল। জায়গাটা শ্মশান নয় কিন্তু শ্মশানে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। পথ যাত্রীদের প্রায়ই এই দৃশ্য চোখে পড়ে। সেদিন বাতাসের দাপটে আগুনটা ক্ষণে ক্ষণে দ্বিগুন হয়ে জ্বলে উঠছিল। তারই ফাঁকে অর্ধদগ্ধ মৃতদেহটা বারংবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছিল।

কারওর উপস্থিতি ছাড়াই আপন মনে শবদাহ হচ্ছিল। আশেপাশে পাহারা দেওয়ার মতো কোনও লোক ছিল না। যোগী মনে মনে ভাবছিল কী নিষ্ঠুর নির্দয় মানুষের মন! অন্তিমকালে কেউ কারও নয়। পাহারা দেওয়ার সময়টুকু পর্যন্ত কারও নেই। শিয়াল, কুকুর টেনে নিয়ে গেলেও বাধা দেওয়ার কেউ নেই।

দূর থেকে মৃতের সাদা পা দুটো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সেইদিকে একভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে যোগীর কৈশোর মনে ভাবালুতার সৃষ্টি হয়। যোগী হঠাৎ সোনার উদ্দেশ্যে বলে ওঠে— আচ্ছা সত্যি কইরা বল দেখি আমি মরলে তুই কাঁদবি তো? আমার জন্যে তুই দুঃখ করবি তো?

সোনার মনঃপূত হয় না কথাটা। শাসনের সুরে ধমক দিয়ে বলে— চুপ কর, বাজে বকিস না তো। প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাথে অন্তর জুড়ে একে অপরের প্রতি ভালোবাসাটাও নেহাত কম ছিল না। সেই অধিকারেই শাসন।

যোগী আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বলে— এইটা বাজে কথা না রে। আমি কি তোরে গালমন্দ করতাছি নাকি? আমি আমার মনের কথা কই। তোর সেই সাধুবাবাটার কথা মনে আছে? সাধুবাবাটা সেদিন কী কইছিল তুই ভুইলা গেছিস? কইছিল মৃত্যুচিন্তা করা খুব ভালো, তাতে মানুষের মৃত্যুভয় থাকে না। অহংকার দূর হয়। মানুষ পবিত্র হয়। বাল্মীকি মুনি যেমন ধ্যানে মরা মরা জপত।

সোনাকে নীরব থাকতে দেখে যোগী চুপ করে যায়। প্রসঙ্গটা হালকা করার অছিলায় বলে— তোর কী মজা তাই না। তুই বাড়ি গিয়া খাবি তারপর ঘুমাবি। আমার কপালে সেই সুখ নাই। ঘুম পাইলেও উপায় নাই। খাওয়ার পরে আবার রোজগারের ফিকিরে দৌড়ানো। দোকান পাহারা দিমু গিয়া। আর সারা রাত্তির মশার কামড় খামু। সকালে তোরা যখন ঘুম থিকা উঠবি আমি তখন ঘুমাইতে যামু।

ব্লাড ক্যান্সার-এর বিপদ এড়ানো জরুরি

প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে পালন করা হয় ব্লাড ক্যান্সার সচেতনতা মাস। এই মাসটিতে সচেতনতা বৃদ্ধি, জনসাধারণকে শিক্ষিত করা এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় করার উপর জোর দেওয়া হয়, যাতে অগণিত জীবন বাঁচতে পারে। কলকাতার ‘মেডেলা কার্কিনোস অনকোলজি ইনস্টিটিউট’ (কার্কিনোস হেলথকেয়ার কলকাতা), ব্লাড ক্যান্সার সচেতনতা মাস পালন করার জন্য একটি সচেতনতা অধিবেশনের আয়োজন করেছিল সম্প্রতি। ক্যান্সারের বিপদ কমাতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সচেতন করছে এই ইনস্টিটিউট। এই অধিবেশনে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সময়মত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর আলোকপাত করা হয়েছিল।

অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, ‘কার্কিনোস হেলথকেয়ার-এর পূর্বাঞ্চলের পরিচালক ডা. আখতার জাভেদ জানিয়েছেন, ‘চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে রক্তের ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং প্রিসিশন মেডিসিনের মতো চিকিৎসা রোগীদের বেঁচে থাকার হার এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য, অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপন হল সেরা বিকল্পগুলির মধ্যে একটি। অস্থি-মজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য চিকিৎসার বিকল্প হল কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপির ব্যবহার। কেমোথেরাপিতে রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ক্যান্সার প্রতিরোধের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। রেডিয়েশন থেরাপিতে ক্যান্সার কোষগুলি বিকিরণ দ্বারা ধ্বংস হয়ে যায়।’

It is important to avoid the risk of blood cancer
Dr Akhter Jawade

ডা. জাভেদ আরও জানিয়েছেন, ‘ব্লাড ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে, সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। ভারতে, যদিও বেঁচে থাকার হার উন্নত হয়েছে, তবুও আমরা এখনও বিশ্বব্যাপী গড়ের তুলনায় পিছিয়ে আছি। কারণ, বিলম্বিত রোগ নির্ণয় এবং কিছু অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসার সীমিত সুযোগ রয়েছে। তবে, সচেতনতা, প্রাথমিক স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান প্রাপ্যতা এই ব্যবধান কমাতে সাহায্য করছে, রোগীদের আরও ভালোভাবে লড়াই করার সুযোগ দিয়েছে।’

হাসপাতাল-ভিত্তিক উদ্যোগের বাইরে, এই অনকোলজি ইনস্টিটিউট উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদীয়া এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় সক্রিয় ভাবে সচেতনতা অভিযান এবং ক্যান্সার স্ক্রিনিং ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সময়মত সনাক্তকরণ অনেক রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করতে সক্ষম করেছে, যার ফলে বেঁচে থাকা এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার উভয়ই উন্নত হয়েছে।

ব্লাড ক্যান্সার হল এক ধরনের ক্যান্সার, যা রক্তের কোষের উৎপাদন ও কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। তিনটি প্রধান ব্লাড ক্যান্সার হল—-লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা এবং মাইলোমা। রক্ত এবং ইমিউন সিস্টেমের বিভিন্ন উপাদানকে প্রভাবিত করে প্রতিটি ব্লাড ক্যান্সার।

লিউকেমিয়া: লিউকেমিয়া রক্ত এবং অস্থি-মজ্জা থেকে উদ্ভূত হয়, যার ফলে অস্বাভাবিক শ্বেত রক্ত কোষের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা সুস্থ রক্তকণিকাকে নষ্ট করে। এটি তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়কেই প্রভাবিত করে।

লিম্ফোমা: লিম্ফোমা লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে টার্গেট করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। দুটি প্রাথমিক প্রকার রয়েছে—-হজকিনের লিম্ফোমা এবং নন-হজকিনের লিম্ফোমা। উভয়ই লিম্ফ নোড, প্লীহা এবং অন্যান্য অঙ্গকে প্রভাবিত করে।

মাইলোমা: মাইলোমা রক্তরস কোষকে প্রভাবিত করে, অস্থি-মজ্জাতে পাওয়া এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা। এই ক্যান্সারযুক্ত কোষগুলি স্বাভাবিক রক্তকণিকার উৎপাদনে বাধা দেয়, যার ফলে হাড়ের ক্ষতি, রক্তাল্পতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ

অস্বাভাবিক ক্লান্তি: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া সত্ত্বেও আপনি যদি অস্বাভাবিক ভাবে ক্লান্ত বা দুর্বল বোধ করেন,  তবে এটি ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

ঘন ঘন সংক্রমণ: বারবার সংক্রমণ বা অসুস্থতা, যেগুলি থেকে মুক্তি পেতে বেশি সময় লাগে। এই সমস্যা দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে নির্দেশ করতে পারে, যা রক্তের ক্যান্সার যেমন লিউকেমিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

ঘা এবং রক্তপাত: আপনি যদি ঘন ঘন ঘা, নাক দিয়ে রক্তপাত কিংবা আঘাত ছাড়াই মাড়ি থেকে রক্তপাতের সমস্যায় পড়েন, তাহলে এটি রক্তের ব্যাধির সংকেত দিতে পারে।

ফোলা লিম্ফ নোড: ঘাড়, বগলে কিংবা গ্রোইনে ব্যথাহীন ফোলা লিম্ফোমা বা অন্য ধরনের ব্লাড ক্যান্সারের পরামর্শ দিতে পারে।

হাড় বা জয়েন্টে ব্যথা: হাড় বা জয়েন্টে ক্রমাগত ব্যথা হলে মায়লোমার মতো ব্লাড ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।

রাতে ঘাম: রাতে হঠাৎ এবং তীব্র ঘাম হলে ব্লাড ক্যান্সার-এর লক্ষণ হতে পারে।

ওজন হ্রাস: খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়াম পরিবর্তন না করেও যদি দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে থাকে, তাহলে এটি ক্যান্সার সহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা: রক্তের ক্যান্সার স্বাস্থ্যকর রক্তকণিকার উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে রক্তাল্পতা কিংবা অন্যান্য অবস্থার কারণে শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হয়।

আপনি যদি এই উপসর্গগুলির মধ্যে এক বা একাধিক সমস্যা অনুভব করেন, তাহলে পরীক্ষার জন্য একজন চিকিৎসকের সঙ্গে দ্রুত পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক রোগ নির্ণয় সফল চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে ব্যাপক ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ

ব্লাড ক্যান্সারের সঠিক কারণ অস্পষ্ট, তবে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণ এটি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। যেমন—

  • বয়স বাড়লে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, বিশেষকরে লিম্ফোমা এবং মাইলোমা
  • ব্লাড ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আপনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে
  • যারা উচ্চ মাত্রার বিকিরণ বা বেনজিনের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসে, তারা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে
  • যে ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে, তারা উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হন।

তাই, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ফলাফল উন্নত করতে নিয়মিত স্ক্রিনিং, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং সচেতনতা কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়।

দেশি খাবারে বিদেশি স্বাদ

গ্রিক স্যালাড

উপকরণ: ১ টা শসা, ২ টো টম্যাটো, ১টা পেঁয়াজ, লাল, হলুদ এবং সবুজ ক্যাপসিকাম ১টা করে, ১০০ গ্রাম কালো আঙুর, ২-৩টে স্টবেরি, ১টা কিউই, ৭-৮টা জলপাই, ২০ মিলিলিটার কুকিং অলিভ অয়েল, সামান্য লেটুস পাতা, সামান্য কাসুন্দি, ১টা পাতিলেবু, ৫০ মিলিলিটার ভিনিগার, সামান্য লবণ, ‘সুমন’ ব্র্যান্ড-এর সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো এবং কিছুটা চাটমশালা।

প্রণালী: একটা ছোটো পাত্র নিন। পেঁয়াজ চৌকো আকারের কেটে রাখুন। পেঁয়াজে ভিনিগার মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পরে ভিনিগার থেকে পেঁয়াজ তুলে নিন। এবার একটা বড়ো কাচের পাত্র নিন। ওই পাত্রে ভিনিগার থেকে তুলে রাখা পেঁয়াজের টুকরোগুলো রাখুন। এবার তিনরকম ক্যাপসিকাম টুকরো, শসার টুকরো, স্টবেরির টুকরো, কিউই-র টুকরো, টম্যাটোর টুকরো এবং লেটুসপাতা কুচি করে মেশান পেঁয়াজের সঙ্গে। পাতিলেবু থেকে রস বের করে রাখুন। জলপাইগুলো সেদ্ধ করে কুচি করে নিন। এরপর, টুকরো এবং কুচি করে রাখা সমস্ত উপকরণের সঙ্গে পাতিলেবুর রস, চাটমশালা, গোলমরিচের গুঁড়ো এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। সবশেষে কুকিং অলিভ অয়েল এবং কাসুন্দি মিশিয়ে নিয়ে, উপরে আঙুর দিয়ে সাজিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন গ্রিক স্যালাড।

সুইস বার্চার মুয়েসলি (ওটস উইদ মিল্ক)

উপকরণ: ১৫০ গ্রাম ওটস, ৪০০ মিলিলিটার ফুলক্রিম দুধ, ৬০ মিলিলিটার অ্যাপেল জুস, ১টা আপেল, ২ চা চামচ মধু, ১ ছোটো চামচ দারচিনির গুঁড়ো, ২ ছোটো চামচ পেস্তাবাদামের গুঁড়ো, ২ ছোটো চামচ আখরোট গুঁড়ো, ২ চামচ নারকেলকুচি এবং কয়েকটা খেজুর।

প্রণালী: একটা বড়ো কাচের পাত্র নিন। ওই কাচের পাত্রে ওটস রাখুন। দুধ ভালো ভাবে ফুটিয়ে নিয়ে ওটসে মেশান। এবার ওই দুধ এবং ওটসের মিশ্রণে আপেলের টুকরো, পেস্তাবাদামের গুঁড়ো, আখরোট গুঁড়ো, বীজ বের করে নেওয়া খেজুরের টুকরো, নারকেলকুচি এবং দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। সবশেষে অ্যাপেল জুস এবং মধু মেশান সমস্ত উপকরণে। এবার সমস্ত উপকরণ সহ কাচের পাত্রটি ফ্রিজ-এ রেখে দিন এবং খাওয়ার ১৫ মিনিট আগে বের করে নিন ফ্রিজ থেকে। এই খাবারে আপনি চাইলে পার্সিমন এবং ড্রাগন ফ্রুটও টুকরো করে মিশিয়ে খেতে পারেন।

টম্যাটো স্যুপ উইদ বয়েলড অলিভ

উপকরণ: ২ ছোটো চামচ কুকিং অলিভ অয়েল, ২ টো তেজপাতা, ২ টো কাঁচালংকা, ৪টে পাকা টম্যাটো, ১টা কাঁচা টম্যাটো, ৩ ছোটো চামচ ভুট্টার দানা, কাঁচা পেঁপের টুকরো ২ বড়ো চামচ, ৫-৬টা জলপাই, ২ ছোটো চামচ পেস্তাবাদামের কুচি, ১ ছোটো চামচ বাটার, ১ ছোটো চামচ গোলমরিচের গুঁড়ো, ২০০ মিলিলিটার ফুলক্রিম দুধ, সামান্য পুদিনাপাতা, ১ ছোটো চামচ চিনি এবং স্বাদমতো লবণ।

প্রণালী: প্রথমে একটা পাত্রে জল দিয়ে জলপাই সেদ্ধ করে টুকরো করে রাখুন। এবার একটা বড়ো সসপ্যানে অলিভ অয়েল গরম করুন। চিনি, কাঁচালংকা কুচি এবং তেজপাতা দিয়ে ভাজুন। এবার টম্যাটো টুকরো করে নিয়ে পেঁয়াজ- তেজপাতা এবং চিনির সঙ্গে মিশিয়ে ভেজে নিন। ভুট্টার দানা এবং কাঁচা পেঁপের টুকরো দিয়ে পাঁচ মিনিট নাড়াচাড়া করুন হালকা আঁচে। এবার জল দিয়ে ফোটাতে থাকুন এবং সবকিছু সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। এরপর একটা পাত্রে ফুলক্রিম দুধ গ্যাস আভেনে বসিয়ে ভালো ভাবে ফোটান। দুধ গাঢ় হয়ে এলে, ওর সঙ্গে পেস্তাকুচি এবং আগে বানিয়ে রাখা সমস্ত উপকরণ যোগ করুন। ২ মিনিট ফোটানোর পর, নামিয়ে নিয়ে স্যুপের বাটিতে ঢেলে নিয়ে, সেদ্ধ করে রাখা জলপাইয়ের কুচি, বাটার এবং পুদিনাপাতা উপরে ছড়িয়ে দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

স্থানীয় সংবাদ (পর্ব-০১)

ছেলেটির হাবভাব দেখে তদুপরি শীতের রাতে ওর চোখের কোণে জলের ফোঁটা লক্ষ্য করে মনটা যারপরনাই একটু অনুসন্ধিৎসু হয়ে উঠেছিল। ভাঙা-ভাঙা হিন্দি সহযোগে ওকে বাংলা বলতে শুনে বুঝেছিলাম ছেলেটি নিঃসন্দেহে নির্ভেজাল এক বঙ্গ সন্তান। হিন্দি ভাষাটিকে সে তখনও ভালো মতো আয়ত্ত করতে পারেনি। আমার বাঙালিসুলভ মনটা ওর কথা শুনে সেদিন বড়োই বেদনা অনুভব করেছিল।

পাক-বাংলা যুদ্ধটাই ওদের গৃহছাড়া হওয়ার একমাত্র কারণ। পিতৃপুরুষদের ভিটে-মাটি ছেড়ে ওরা বাঁচার আশায় পালিয়ে এসেছিল এপারে — সুদূর দিল্লি শহরে। সেই সঙ্গে লাভ করেছিল এক নতুন উপাধি— উদ্বাস্তু। আশ্রয় বলতে আকাশের নীচে মাটির উপর শতাব্দী প্রাচীন গাছের তলায়। কারওর আবার কালো পলিথিনে ছাওয়া রোদ-বৃষ্টি থেকে কোনও মতে বাঁচার মতো ক্ষণস্থায়ী আচ্ছাদন। জীবিকা বলতে দিনমজুরি। কারওর আবার স্বাধীন ব্যাবসা অর্থাৎ পাঁপড়, বড়ি আর ঠোঙা বেচে দিনযাপন। ভদ্রলোকেরা সচরাচর বড়ো একটা পা মাড়ায় না এদিকটায়। ওটা সীমাপুরী বস্তিপাড়া নামে কুখ্যাত। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই আর খুন এই অঞ্চলের প্রতিদিনের ঘটনা।

বস্তিপাড়ার নাবালক দুটো ছেলে রোজ বিকেলে আইটিও-র চৌরাস্তায় এসে দাঁড়ায় রোজগারের ফিকিরে। এক নজরেই বয়সের তফাৎটা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। ছোটো ছেলেটির বয়স নয়-দশ, নাম যোগী আর বড়োটির নাম সোনা, বয়স তেরো-চৌদ্দ। যোগীর কঙ্কালসার চেহারা, পরনে ছিন্ন বস্তু। অবয়বে দুঃখ-বেদনার মলিন আস্তরণ। গায়ের রং ফরসা কিন্তু খুবই শান্ত প্রকৃতির। অন্যদিকে সোনা দেখতে কালো, স্বভাব হিংসুটে, বেপরোয়া এবং পরশ্রীকাতর। অবয়বে কমনীয়তার লেশমাত্র নেই।

লাল বাতির সংকেতে যানবাহনের গতি শ্লথ হতে দেখলেই দু’জনে যন্ত্রচালিত পুতুলের ন্যায় সিমেন্ট বাঁধানো ফুটপাথ ছেড়ে পিচ ঢালা রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। দু’হাতে কাগজগুলো শক্ত করে বুকে চেপে ধরে জেব্রা ক্রসিং-এ দাঁড়ানো গাড়িগুলোর দিকে ছুটে যায়। তারপর নিটোল অভ্যস্ত স্বরে একই অনুরোধ ও সকরুণ প্রার্থনা— বাবু, ইনভিং লিউজ পড়ুন, ইনভিং লিউজ! দম দেওয়া পুতুলের ন্যায় অবিরাম আওড়াতে থাকে ভুল শব্দগুলো। ওদের তখন আগু-পিছু দেখার সময় থাকে না। কে কত শীঘ্র বেশি কাগজ বিক্রি করতে পারে সেই চিন্তায় বিভোর হয়ে থাকে। মাত্র দেড় মিনিটের বিরতি, তার মধ্যে একজনও যেন বাদ না পড়ে। দু’জনার মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। তাদের লক্ষ্য করলে জীবনের একটি গূঢ় তথ্যের সন্ধান মেলে, অর্থাৎ যেহেতু মানুষের আদি জন্ম অরণ্যে, সেই হেতু মানুষ যত আধুনিকই হোক না কেন একে অন্যকে পরাস্ত করে বিজয়ী হওয়াতেই তার পরম শান্তি ও প্রধান লক্ষ্য। একে অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তার করার সূক্ষ্ম প্রবণতা সে এখনও মনের গভীরে লালন করে চলেছে সযত্নে।

রাতের অন্ধকারে শুভ্র চাঁদের আলোয় অভিভাবকেরা ছেলেদের হাত থেকে লাভের অংশটি বুঝে নিয়ে বিন্দুতে সিন্ধু গড়ার স্বপ্ন দেখে। লাভের অংশটি যেদিন বেশি হয় সেদিন নিজেদের অজান্তে খুশির জোয়ারে প্লাবিত হয়ে যায় তাদের সারা তনু-মন-প্রাণ। অধর কোণে ফুটে ওঠে স্মিত হাসি। হাসির মূল্যটা ওরা ছোটো বয়স থেকেই অনুধাবন করতে শিখে যায়। সেই কারণে ধনী ঘরের ছেলেদের তুলনায় অভাবী ছেলেরা হয় অতীব তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন আর সংসারের প্রতি প্রখর দায়িত্বশীল। অভাব থাকার দরুন এটা তাদের প্রতি বিধাতার অমোঘ আশীর্বাদের ফল বলা যায়।

কাগজগুলো অবশ্য একবারে কখনওই বিক্রি হয় না। তার জন্যে ঘাম ঝরাতে হয় প্রচুর। যতবার গাড়িগুলো লাল বাতিতে এসে থামে, ততবার নতুন আশায় বুক বেঁধে ছুটে যেতে হয় তাঁদের দিকে। অনুমান, ধারণা বস্তুগুলি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতাপ্রসূত। এখন চোখে চোখ পড়লে বুঝতে বাকি থাকে না যে, কার প্রয়োজন আছে বা নেই। তবুও যাচাই করতে হয় একে একে সবাইকেই।

মাত্র কিছুক্ষণের বিরতি। তারপর সবুজ বাতির সংকেতে গুটি গুটি পা ফেলে তারা পুনরায় ফুটপাথের সিমেন্ট বাঁধানো পরিত্যক্ত আসন দখল করে। পাশাপাশি বসে শুরু হয় হিসেব কষা। প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া পরাজিত সৈনিক সোনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিহঙ্গ দৃষ্টিতে ফিরে তাকায় যোগীর দিকে। সাধারণত সোনার কৌতূহলটাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি। বয়োকনিষ্ঠ যোগীর কাছে সোনা হার স্বীকার করতে নারাজ। বিশেষ করে আর্থিক পরাজয়টা সে মোটেই বরদাস্ত করতে পারে না। এটা আজ নতুন নয়, অতি পুরাতন দ্বন্দ্ব। অর্থাৎ যখন থেকে এই প্রতিযোগিতার সূত্রপাত।

একসময় সোনাই প্রথম মৌনতা ভঙ্গ করে প্রশ্ন করে জানতে চায়— কটা বেচলি?

যোগীর নির্লিপ্ত জবাব— সাতটা।

প্রত্যুত্তরে যোগীকে আর প্রশ্ন করতে হয় না। সোনা পরম নিরুৎসাহিত কণ্ঠে নিজের অক্ষমতার কথা ব্যক্ত করে এই বলে— আমি মাত্র তিনটা।

আবার কিছুক্ষণের নীরবতা। সোনার নীরব থাকার অর্থ অনুশোচনা। আরও চারখানা কাগজ বিক্রি করতে না পারার জন্য তীব্র হতাশা। যোগীর কাছে তার পরাজয় অনেকটা কষাঘাতের মতো।

অন্যদিকে যোগীর নীরব থাকার অর্থ সোনার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। কারণ প্রতিবারই জয়ের বরমাল্যটা ওর গলাতেই জড়িয়ে পড়ে। কোন দৈব প্রক্রিয়ায় এটা হয় সেটা যোগীর বিচারে এক পরম বিস্ময়। ও জয়ী হতে চায় না। ওর মনের ভাবখানা একটু অন্যরকম। সতীর্থ হয়ে একে অন্যকে ডিঙিয়ে যাওয়ার কথাটা ও কল্পনাও করতে পারে না।

কথার ফাঁকে যোগী একসময় তার মনের অবদমিত কৌতূহল প্রকাশ করে বলে ওঠে— দেখ, পত্রিকা জুইড়া কত ছবি! সোনাকে চুপ করে বসে থাকতে দেখে যোগীর দ্বিতীয় প্রশ্ন— এত ছবি ছাপে কী কইরা কইথে পারিস? একটু নীরবতা পালনের পরে সে আবার বলে ওঠে— ইশ যদি আমার ছবি ছাপত কোনওদিন, তাইলে খুব খুশি হইতাম। বস্তির সবাইরে গিয়া দেখাইতাম।

শিশুদের কর্কট রোগ

ক্যান্সার নামক মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। সাম্প্রতিকতম তথ্য অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩ লক্ষ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতি বছর। আমাদের দেশেও সংখ্যাটা বেশ উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতে প্রতি বছরে ৫০,০০০ শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে, আশার কথা হল— সঠিক সময়ে যথাযথ চিকিৎসা হলে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ নিরাময়যোগ্য। এক্ষেত্রে, যত তাড়াতাড়ি রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়, ততই সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে।

ক্যান্সারের ধরন :

শিশুদের মধ্যে লিউকেমিয়া, ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার, নিউরোব্লাস্টোমা, উইলমস টিউমার, লিম্ফোমা, রাবডোমায়োসারকোমা, রেটিনোব্লাস্টোমা, হাড় বা অস্থির ক্যান্সার, উইংস সারকোমা— এই ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর প্রায় ২৮ শতাংশ লিউকেমিয়া বা বোন ম্যারো এবং রক্তের ক্যান্সারের রোগীর প্রায় ২৬ শতাংশ ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার জনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

উপসর্গ :

ক্লান্তি, হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, রক্তপাত প্রভৃতি যদি লিউকেমিয়ার অন্যতম লক্ষণ হয়, ব্রেন ও স্পাইনাল কর্ডের টিউমার জনিত ক্যান্সারের রোগীদের মধ্যে হাঁটতে বা কোনও জিনিস হাত দিয়ে ধরতে অসুবিধা, বমি-বমি ভাব, মাথা-যন্ত্রণা, ঘুম-ঘুম ভাব, অস্বচ্ছ দৃষ্টি— এইসব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। নিউরোব্লাস্টোমার বিকাশ প্রধানত ভ্রূণ অবস্থাতেই হয় এবং ১০ বছরের বাচ্চাদের মধ্যেই দেখা যায়। এক্ষেত্রে, পেটে ফোলা ভাব ছাড়াও অনেক সময় জ্বর বা হাড়ের ব্যথার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

৩-৪ বছরের বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হয় উইলমস টিউমারে। এক্ষেত্রেও পেটে ফোলা ভাব, জ্বর, ব্যথা, বমি ভাব, খিদে না পাওয়া এই সব লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই আক্রমণ করে লিম্ফোমা। বিশেষত লিম্ফ নোডসে দেখা গেলেও অনেক সময় লসিকা গ্রন্থিতে, অস্থি মজ্জা বা অন্য অংশেও ছড়াতে পারে।

ক্লান্তি, ঘাড়, কুঁচকির নীচে ফোলা, জ্বর, ওজন হ্রাস এই রোগের প্রধান উপসর্গ।রাবডোমায়োসারকোমা মাথা, ঘাড়, পেট, কুঁচকি, হাত, পা অর্থাৎ শরীরের যে-কোনও অংশে হতে পারে এবং ব্যথা ও ফুলে যাওয়াই এর লক্ষণ।

রেটিনোব্লাস্টোমা হল রেটিনা বা চোখের ক্যান্সার, যা সাধারণত ২-৬ বছরের শিশুদের দেখা যায়। এক্ষেত্রে বাচ্চার চোখের মণি আলো পড়লে লাল দেখায়, কখনও-বা চোখের মণি সাদা বা গোলাপিও হয়। বোন বা হাড়ের ক্যান্সার একটু বড়ো বয়সে বা বয়ঃসন্ধিকালে দেখা যায়, তবে যে-কোনও বয়সেই এই রোগ হতে পারে।

অস্টিওসারকোমা হাত বা পায়ের হাড়ে হয়। এটা খুবই যন্ত্রণাদায়ক ও এতে আক্রান্ত হাড়ের কাছের অংশ ফুলেও যায়। উইংস সারকোমা-ও এক ধরনের হাড়ের ক্যান্সার যা সাধারণত হিপ জয়েন্টে, বুকের পাঁজরে, কাঁধের হাড়ে বা পায়ের হাড়ের মধ্যে হয়। এক্ষেত্রেও, আক্রান্ত হাড় ও তৎসংলগ্ন অংশ ফুলে যায় ও খুব যন্ত্রণা হয়।

কারণ:

আমরা জানি যে, বাচ্চাদের ক্যান্সার হওয়ার অন্যতম কারণ হল ডিএনএ-র মিউটেশন, যা জিনগত হতেও পারে আবার না-ও হতে পারে। এছাড়াও, মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠার সময় কোনও সংক্রমণ বা সঠিক ভাবে ভ্রূণের বিকাশ না হওয়া, অতিরিক্ত রেডিয়েশন, দুর্বল ইমিউনিটি সিস্টেম— শিশুদের ক্যান্সার হওয়ার কারণ হিসাবে চিহ্নিত।

বর্তমানে, অনেক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই দশকে শিশুদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বিগত কয়েক দশকের থেকে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সত্যিই দুঃশ্চিন্তার বিষয়। তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে? এই বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণায় প্রথমেই উঠে এসেছে পরিবেশ দূষণের বিষয়টি। সেইসঙ্গে, খাদ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং সেই রাসায়নিক আমাদের শরীরে প্রবেশ করা, উভয়েই বিবেচনাযোগ্য।

প্রতিরোধের উপায় :

গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড খাওয়া। জন্মের পর থেকে ৬ মাস পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো। ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে দূরে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা। সর্বোপরি হেলদি জীবনযাত্রা অনেকাংশে এই রোগ প্রতিহত করতে সক্ষম।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব