মেক-আপে ট্র্যাডিশনাল লুক

যে কোনও অনুষ্ঠান বা উৎসবে তরুণী, যুবতি, বয়স্কা মহিলা সকলেই পরিধান এবং সাজগোজকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। উৎসব এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় পোশাকই সবথেকে বেশি মানানসই। এর সঙ্গে সঠিক মেক-আপেরও প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেক-আপ করা হলে পোশাকের ওভারঅল লুকটাই বদলে যায়। অথচ ভুল মেক-আপ দামি ট্র্যাডিশনাল ওয়্যারের গর্জাস লুকটাকে মুহূর্তে নষ্ট করে দিতে পারে। সুতরাং, উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য মেক-আপ করার সময় এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন –

ফাউন্ডেশন মুখের গ্লো বাড়াবে – শাড়ি অথবা ইন্ডিয়ান আউটফিটের সঙ্গে মেক-আপের বেস হিসেবে ফাউন্ডেশন লাগান। এটা মুখে আনবে ইনসট্যান্ট গ্লো। মুখের স্কিন টোন হালকা করার সঙ্গে সঙ্গে এটি মুখের যে-কোনও দাগ-ছোপ লুকোতেও সাহায্য করে। অনেকেই ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করে শুধুমাত্র কনসিলারের সাহায্যে দাগ-ছোপ লুকোবার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ভুল। ফাউন্ডেশন স্কিনের কালার সব জায়গায় সমান রাখে ফলে মুখের টেক্সচার মসৃণ মনে হয়। সুতরাং কনসিলারের সঙ্গে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করাটাও জরুরি।

পারফেক্ট লুক দেয় হাইলাইটার – পারফেক্ট লুক পেতে ফাউন্ডেশনের পর ম্যাট হাইলাইটার ব্যবহার করুন। যদি পোশাকের রং হয় ব্ল্যাক, আইভরি, ব্লু, গ্রিন বা অন্য কোনও রঙের এবং ভারতীয় ট্র্যাডিশনাল পোশাকই বেছে থাকেন– তাহলে নিজের নোজ ব্রিজ, চিক বোন্স এবং চিন, গোল্ড কালার দিয়ে হাইলাইট করুন। এর ফলে আপনার মুখশ্রী শার্প মনে হবে। স্কিন টোন এবং নিজের পছন্দ অনুসারে ব্রোঞ্জ, পিচ, পিংক শেডের হাইলাইটার বেছে নিতে পারেন।

চোখের সৗন্দর্যের জন্য – মেক-আপের মাধ্যমে চোখের সৗন্দর্য  বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। ট্রেন্ডি আইশ্যাডো, মাসকারা এবং কাজল ব্যবহার করে নিজের লুক একেবারে বদলে ফেলুন। আজকাল উইংগড আইলাইনার এবং কালার্ড আইলাইনার ফ্যাশনে ইন।

ঠোঁট সুন্দর দেখাতে – লিপস্টিক মেক-আপ-কে দেয় ফিনিশিং লুক। সুতরাং পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে লিপস্টিক বাছুন। ম্যাট না গ্লসি লিপস্টিক লাগাবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার পছন্দের উপর নির্ভর করবে। যদি আই মেক-আপ ডার্ক হয় তাহলে মুখের মেক-আপ ব্যালেন্স করতে ঠোঁটে লাইট শেডের লিপস্টিক লাগান যেমন লাইট পিংক বা পিচ। আবার ঠোঁটের জন্য রেড শেড বেছে নিতে পারেন বোল্ড লুক ক্যারি করতে চাইলে।

ব্যালেন্স থাকা জরুরি – ট্র্যাডিশনাল, এথনিক ওয়্যারের মধ্যে পড়ে এমব্রয়ডারি ব্লাউজ, লহঙ্গা, হেভি শাড়ি ইত্যাদি। সুতরাং এগুলোর সঙ্গে মেক-আপ করার সময় খেয়াল রাখতে হয় উভয় যেন একে অপরের পরিপূরক হয়। সুতরাং হেভি ড্রেস এবং জুয়েলারির সঙ্গে ম্যাট মেক-আপ মানানসই হবে কিন্তু যদি কনটেম্পোরারি লুক চান, তাহলে নিউড মেক-আপ করলেই বেশি মানাবে।

জেনে রাখুন

আজকাল নিউড মেক-আপের ফ্যাশন ইন। এটি মুখের ন্যাচারাল বিউটি বজায় রাখে। আজকাল সেলিব্রিটিরা বেশির ভাগই এই মেক-আপ করার পক্ষপাতী

১)       উইংগড আইলাইনারের ক্রেজ এখন ভীষণ ভাবে ইন। অনেক মেয়েরাই ট্র্যাডিশনাল ড্রেসের সঙ্গে পুরো আই মেক-আপ না করে উইংগড আইলাইনার লাগান। এতে লুকটাও পালটে যায়

২)       লাল লিপস্টিক দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন্ড-এ রয়েছে এবং এটি বোল্ড লুক দেয়

৩)      চোখকে আরও সুন্দর করে তুলতে চাইলে নকল আইল্যাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চোখ আরও বড়ো লাগবে

৪)       ট্র্যাডিশনাল লুকের সঙ্গে স্মোকি আই মেক-আপ খুব মানানসই লাগে। আপনার পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে, এমন কালার বাছুন এবং চোখের কাজলের সঙ্গে সেই রং অ্যাড করে নিয়ে আসতে পারেন স্মোকি লুকের ট্রেন্ডিং সাজ

৫)       জেল আইলাইনার ব্যবহার করে পান টাইমলেস বিউটি

৬)      দীর্ঘ সময় ধরে যদি মেক-আপ টিকিয়ে রাখতে চান তাহলে মেক-আপের শুরুতে প্রাইমার লাগান, যাতে ক্যামেরার লেন্সেও ধরা পড়ে আপনার মুখের ফ্রেশনেস

স্ট্রোক

করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্বেগ, আতঙ্কে রয়েছেন সবাই। তার উপর কমেছে হাঁটাচলা, পরিশ্রম। সাবধান! করোনা থেকে বাঁচলেও, এই সময় হতে পারে স্ট্রোক। বিশেষ করে যাদের ব্লাড প্রেসার হাই কিংবা যারা ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত, সেইসব মানুষের স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য, স্ট্রোক-এর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ দিলেন ডা. অমিত হালদার।

স্ট্রোকের বেশ কয়েকটি আগাম লক্ষ্মণ

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • হাত বা পা দুর্বল হওয়া
  • অস্থিরতা বা কম্পন
  • দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা দ্বিগুণ দর্শন।

কেমন করে জানতে পারব যে আমি অথবা আসপাশের কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত কী না?

স্ট্রোকের আগাম লক্ষ্মণগুলি হলঃ

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া
  • হাত বা পা দুর্বল হওয়া
  • অস্থিরতা বা কম্পন
  • দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা দ্বিগুণ দর্শন

এই লক্ষণগুলি হঠাত্ই শুরু হয়। এগুলির কয়েকটি বৈশিষ্ট্যগত সূচক হলঃ

  • মুখের বৈসাদৃশ্য
  • অঙ্গশক্তি হ্রাস
  • অসংলগ্ন চক্ষু সঞ্চালন বা ঢোক গেলা

স্ট্রোকের কারণ বা রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো কী কী?

স্ট্রোকের প্রধান রিস্ক ফ্যাক্টরসমূহ হলঃ

  • পারিবারিক ইতিহাস
  • বয়স
  • ডায়াবেটিস মেলিটাস
  • ডিস্লিপিডেমিয়া বা রক্তে অস্বাভাবিক পরিমাণ লিপিডের উপস্থিতি
  • হাইপারটেনশন
  • ধূমপান
  • স্থুলতা

প্রথম দুটি ফ্যাক্টর অশোধনযোগ্য হলেও ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বাকিগুলি সংশোধন করা যেতে পারে।

আসপাশের কাউকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে দেখলে কী করা উচিত?

প্রথম পদক্ষেপ হল, ওই রোগীকে যথাসম্ভব দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করা। যথোপযুক্ত (ওয়ে ইকু্ইপড) অর্থে আমরা বলতে চাইছি যে, হাসপাতালটিতে যেন সিটি স্ক্যানার ও নিউরোলজিস্ট-সহ আইসিইউ থাকে, যিনি অ্যাকিউট স্ট্রোক মোকাবিলা করতে সক্ষম।

সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ? স্ট্রোকের পর প্রতি মিনিটে ২ মিলিয়ন নিউরনের মৃত্যু ঘটে! সেই কারণে টাইম ইজ ব্রেন।

স্ট্রোক কি শুধু বৃদ্ধ বয়সে ঘটে?

স্ট্রোক যে-কোনও বয়সে হতে পারে। কমবয়সে এটা হয় হৃদরোগ বা ভাস্কুলাইটিস বা থ্রম্বোফিলিক ডিসঅর্ডারের কারণে। ৪৫-এর পর, এটা বেশিরভাগ সময়ে হয় চিরাচরিত রিস্ক ফ্যাক্টর সমূহের কারণে।

কারও কি একাধিকবার স্ট্রোক হতে পারে?

হ্যাঁ পারে। রিস্ক ফ্যাক্টরগুলি সংশোধন করা না হলে স্ট্রোক বারবার হতে পারে। কি ধরনের চিকিত্সা হয়েছে তার উপর এটা নির্ভর করে।

দুটি মুখ্য টাইপের স্ট্রোক রয়েছে ইস্কেমিক স্ট্রোক ও হেমারেজ। ইস্কেমিক স্ট্রোক বা ইনফার্ক্ট-এর জন্য একটি ক্লট লিটিক এজেন্ট পাওয়া যায়। স্ট্রোকের প্রথম সাড়ে চার ঘন্টার মধ্যে দেওয়া হলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এই কারণে যত দ্রুত সম্ভব ইকু্ইপড এমার্জেন্সি-তে যেতে হবে রোগীকে।

ডা. অমিত হালদার

কনসালটেন্ট নিউরোলজিস্ট অ্যান্ড এপিলেপ্টোলজিস্ট

ফর্টিস হসপিটাল, আনন্দপুর, কলকাতা

রিলেশনশিপ Goals ২০২১

আপনি কি ডেটিং-এর প্রথম স্টেজে আছেন? সদ্য এনগেজ্ড হয়েছেন, কিংবা সদ্যবিবাহিত? নাকি ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছেন দাম্পত্যের ২০টি বসন্ত? যেমনই হোক আপনার সম্পর্কের ইকোয়েশন, প্রত্যেকটি সম্পর্কের থাকে একটি স্বতন্ত্র রসায়ন। রস ও রসায়ন, দুয়ে মিলে তৈরি হয় একটি পারফেক্ট সম্পর্কের ব্লেন্ড। তবেই সেই সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়। দুজনে একসঙ্গে চলার পথ মসৃণ হয়। পরস্পরের জন্য বাঁচার, জীবন-কে সুন্দর করে তোলার একটা তাগিদ থাকে।

আপনার উপযুক্ত সঙ্গী-কে? সে-ই যে আপনার আগ্রহের বিষয়গুলিতে আগ্রহী, আপনার স্বপ্ন দেখার শরিক, আপনার বিশ্বাস, আশা, ভরসার ক্ষেত্র। ভয় সরিয়ে যে আপনাকে দেয় নির্ভরতার আশ্বাস। কিন্তু সম্পর্ক তখনই সার্থক হবে যখন আপনারা পরস্পরকে ঠিক মতন বুঝতে পারবেন। পরস্পরের মতামত ও ভাবনা সম্পর্কে শ্রদ্ধাশীল হতে পারবেন। দ্বিমত থাকলেও, অন্যের চিন্তার মূল্য দেবেন।

বাহ্যিক সৌন্দর্যও একসময় ম্লান হয়ে যায়, বয়স একজায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না কিন্তু সম্পর্ক চিরস্থায়ী করাটা সম্পূর্ণ আপনারই হাতে। সম্পর্কের মধ্যে নানা সময়ে নানা সংঘাত বা মতবিরোধ আসতে পারে। কিন্তু আপস কিংবা ত্যাগ স্বীকারের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সম্পর্ককে স্থায়ী করার রহস্য। কোনও সম্পর্ক সম্পূর্ণতা লাভ করতে পারে না, যদি আপনি যা নন তা হবার ভান করে চলেন। আপনি যা– সেভাবেই নিজেকে প্রকাশ করুন। দোষ-ত্রুটি মুক্ত নয় কোনও মানুষ। আপনার সঙ্গী যদি সত্যিই কমিটেড হন, তবে আপনি ‘আসলে যেমন’, আপনার সেই সত্তাটাকেই ভালোবাসবেন। কাজেই নিজের সত্যিকারের চরিত্রটাকে লুকোনোর চেষ্টা না করাই ভালো। কারণ আপনার সঙ্গী যদি কখনও উপলব্ধি করেন এই মিথ্যেটা, তাহলে তার হতাশা আসতে বাধ্য এই ভেবে যে, যার জন্য তার এত কমিটমেন্ট, এত ভালোবাসা– সে আসলে একজন অসৎ মানুষ।

এখানে দেওয়া হল ২০-টি টিপ্স যা আপনার সম্পর্ককে সমধুর করে তুলবে। ২০২১ আপনার জন্য সুখকর হয়ে উঠুক এই ২০-টি পরামর্শের জোরে।

  • পরস্পরের বিশ্বাস কে গুরুত্ব দিনঃ  পরস্পরের ভাবনা চিন্তাকে গুরুত্ব দিন। এর ফলে ভবিষ্যৎ জীবনে যখন আপনারা সন্তানের মা-বাবা হবেন, তখন তাদের শিক্ষা, দীক্ষা, ভাবনার প্রসারতা দিতে পারবেন। নিজেদের মানসিকতা স্বচ্ছ হলে সমাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি উদার হয়। অনেক মা-বাবা সেই কারণেই তাদের সন্তান সমকামী হলে, অন্য জাতির পাত্র বা পাত্রীকে বিয়ের জন্য নির্বাচন করলে বা নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শকে অবলম্বন করলে, মা-বাবা তা মেনে নিতে পারেন। অর্থাৎ আপনার উদার মানসিকতাই ভবিষ্যতে আপনার জীবনের অনেক জট সহজে খুলে দিতে সাহায্য করবে।
  • বিয়ে করবেন নাকি করবেন নাঃ আপনাদের সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে প্রথাগত ভাবে দম্পতি হবেন কিনা, প্রথমত সেটা ঠিক করে নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আজকাল লিভ-ইন করার পথও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন লিভ-ইন করার ফলে ট্যাক্স বেনিফিট, হেলথ বেনিফিট প্রভৃতি পার্কস্-এর সুযোগ এখন আইনসিদ্ধ ভাবে লিভ-ইন করা কাপলরা পেয়ে থাকেন সাধারণ দম্পতিদের মতোই। একটা কথা ভুলবেন না, ‘ম্যারেজ ইজ নট আ স্টোরি বুক রোম্যান্স’। কাজেই এর সঙ্গে কিছু দায়িত্বও এসে পড়ে। পরস্পরের জন্য আপনারা সেই দায়দায়িত্ব বহন করতে নিশ্চিত জেনে, তবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন।
  • সন্তান চান নাকি চান নাঃ  এই ভাবনাটা আগেই ভেবে নেওয়া ভালো। এতে সন্তান জন্মানোর পর তার জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করার পরিস্থিতি হয় না। দুজনে দায়িত্বশীল অভিভাবক হবেন নাকি নিঃসন্তান থাকবেন, এটা সম্পূর্ণই আপনাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সন্তানের জন্মের পর, ডিভোর্সের মতো কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই উচিত।
  •  মানি ম্যাটার্সঃ  টাকা যে-কোনও সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করতে পারে। তাই প্রথম থেকেই পরস্পরের উপার্জন ও তার ব্যবহার কীভাবে হবে, সে ব্যাপারে স্বচ্ছ ভাবনা গ্রহণ করুন। যে-আয় দুজনে মিলে করছেন, তা একক ভাবে না রেখে, সংসারের সামগ্রিক আয় হিসাবে ভাবলে সুবিধে হবে। ক্রমে পরিবারে স্বচ্ছলতাও আসবে।
  •  কোথায় বাসা বাঁধবেনঃ  বিয়ের পর দুজনে কোথায় থাকবেন সেটাও অগ্রিম ভেবে নেওয়া ভালো। স্ত্রীর বাবা-মা বা আপনার বাবা-মা উভয়ের কাছেই একই পরিবারের সদস্য হয়ে থাকতে পারেন। আর একান্তই নিজেরা আলাদা থাকতে হলেও উভয়ের মা-বাবার দায়িত্ব এড়াবেন না।
  • ফিটনেস ও হেলথ্ গোলঃ  দুজনের বয়স কম থাকতে থাকতে এই জিনিসগুলোকে গুরুত্ব দিন। এতে অসুস্থ কম হবেন। সংসারের ভালো অনেকটাই আপনাদের ভালো থাকার উপর নির্ভরশীল। অতএব ফিটনেস-এর প্রতি যত্নশীল হোন।
  • বাকেট লিস্ট তৈরি করুনঃ  দুজনের মিলিত ইচ্ছে ও স্বপ্নের একটা বাকেট লিস্ট বানান। তারপর একে অপরকে সাহায্য করুন যাতে দুজনে মিলে সেই স্বপ্নকে ছুঁতে পারেন। সেটা যদি বিশ্বভ্রমণ হয় –তাহলে তার জন্য ফিন্যান্স প্ল্যান করুন। সেটা যদি গান-বাজনা বা ক্রিয়েটিভ কোনও কাজ হয়, তাহলে সেই হারিয়ে যাওয়া প্যাশন আবার শুরু করুন।
  • সারাদিন পর একটি ঘন্টা কোয়ালিটি টাইমঃ  প্রতিদিন সমস্ত কাজ সেরে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলার জন্য অন্তত একঘন্টা সময় হাতে রাখুন। দুজনে টিভি দেখা, মিউজিক শোনা বা একসঙ্গে রান্না করার মধ্যে দিয়েও কোয়ালিটি টাইম কাটানো যায়। উইক এন্ড-এ শপিং বা ডাইন আউট বা সিনেমা দেখার প্ল্যান রাখলেও মন্দ হয় না।
  • ডিসিপ্লিনকে নিত্য সঙ্গী করুনঃ  সংসারের মধ্যেও কিছু ডিসিপ্লিন থাকা জরুরি। কাজের ফাঁকে পরস্পরের খোঁজ নেওয়া, সময় মতো বাড়িতে ঢোকা-বেরোনো, লোক-লৗকিকতা করা –সবই সেই ডিসিপ্লিনের অঙ্গ। বাড়িতে বাচ্চাদেরও একটা ডিসিপ্লিনের মধ্যে রাখুন। সব জেদ মেটাবেন না, দোষ করলে শাস্তি দিন বা ভুলগুলো বুঝিয়ে সুধরে দিন।
  • নাইট ডেটঃ মাঝে মাঝে স্ত্রী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে নাইট ডেট করুন। পরস্পরের জন্য তার পছন্দের সাজ সাজুন। সারপ্রাইজ ফুরিয়ে যেতে দেবেন না জীবন থেকে। সেটা উপহারের মধ্যে দিয়ে হোক বা পছন্দের রান্না রেঁধে– উদ্দেশ্য পরস্পরকে আনন্দ দেওয়া।
  • কিছু গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি করুনঃ  পরিবারের সকলে মিলে কিছু গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি করুন। কোনও অ্যাক্টিং বা ড্রয়িং ওয়ার্কশপ করুন আপনার প্রতিবেশি বাচ্চাদের নিয়ে। উৎসবে একসঙ্গে নাটক করুন। চাইলে শীতে পিকনিক করুন। এতে শুধু নিজের পরিবারের মধ্যেই নয়– সম্পর্কের বাঁধন মজবুত হবে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও।
  • পার্সোনাল স্পেস কে সম্মান করুনঃ  যতই কেন- না দুজনে দুজনের মননের সঙ্গী হোন– প্রত্যেক মানুষের কিছু প্রাইভেট স্পেস থাকে। সেই পার্সোনাল স্পেসটাকে সম্মান দিন। দিনের মধ্যে একঘন্টা সময় নিজের জন্যও রাখুন। নিজের শখ বা পছন্দের কাজে ইনভলভ্ড হোন।
  • অজুহাত বাদ দিনঃ  ভুল করলে স্বীকার করুন। অজুহাত সরিয়ে দিন। কোনও কমিটমেন্ট ফেইল করলে, সত্যি করে বলুন কেন সেটা পূরণ করতে পারবেন না। মনে রাখবেন ‘ব্রোকেন প্রমিসেস ব্রিড আনহ্যাপিনেস’। তাই কাউকে কোনও প্রতিশ্রুতি দিলে, কথা রাখার চেষ্টা করুন।
  •  রাগ করে ঘুমোতে যাবেন নাঃ  যে-কোনও সিরিয়াস সম্পর্কে রাগ-অভিমান হয়েই থাকে। যদি তা কলহের দিকে মোড় নেয়, তাহলে একটা সময়ের পর তর্ক করা বন্ধ করুন। নিজের ভুল হলে, ক্ষমা চান। অন্যজনের ভুল হলে সাময়িক ভাবে মেনে নিন। পরে রাগ পড়লে তার ভুলটা তাকে বুঝিয়ে শুধরে দিন। কিন্তু রাগ পুষে রেখে ঘুমোতে যাবেন না। এটা দু’ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর– আপনার মনের এবং সম্পর্কের।
  • সঙ্গী ও পরিবার, ব্যালেন্স জরুরিঃ  আপনার পরিবার যদি আপনার সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রুখে দাঁড়ায়, তখন একরোখা না হয়ে চেষ্টা করুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে পরিচয় করাতে। হতে পারে তার ব্যবহারে আপনার পরিবার হয়তো মত পালটাবে। বিয়ের পরেও যদি মনোমালিন্য লেগে থাকে, কোনও এক পক্ষকে সমর্থন না করে, চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ থাকার।
  • স্পষ্টবক্তা হোনঃ  আপনার পছন্দ-অপছন্দ স্পষ্ট ভাবে সঙ্গিনী বা সঙ্গীকে জানান। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার চেয়ে প্রাথমিক ভাবে কিছু অভ্যাস বদলে নেওয়া ভালো। এতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক সুখকর হয়। নিজের বদ অভ্যাসও একই সঙ্গে বদলানোর চেষ্টা করুন, যাতে অন্যজন আপনার দিকে অভিযোগের আঙুল না তুলতে পারে।
  • পরস্পরের জন্য ভাবুনঃ  মনে রাখবেন একটা সম্পর্কে কিন্তু আপনি একা নেই। দুজনে আছেন। কাজেই দুজনেরই পক্ষে যা কল্যাণকর– তেমন সিদ্ধান্তই নিন। স্বার্থপরতার কোনও জায়গা নেই যৌথ জীবনে। তাই পরিকল্পনাগুলো যেন পরস্পরের জন্য হিতকর হয়। শারীরিক পরিশ্রম করার ক্ষেত্রেও অন্যজনকে মাঝেমাঝে রিলিফ দিন।
  • কমপ্লিমেন্ট দিনঃ  স্ত্রী বা স্বামী বহুদিন একসঙ্গে রয়েছেন বলেই যে পরস্পরের প্রতি মুগ্ধতা হারিয়ে ফেলবেন– সেটা অনুচিত। পরস্পরকে কমপ্লিমেন্ট দিতে ভুলবেন না। এতে পরস্পরের কাছে পরস্পরের গুরুত্ব ও ভালোবাসা বাড়বে। আজকের গতিহীন জীবনে ছোটো ছোটো অনুভূতিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলোকে আগলে রাখুন।
  • নতুন কিছু করুনঃ  দুজনে মিলে নতুন কিছু করার উদ্যম হারিয়ে ফেলবেন না। অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস বা ট্রেক-এ যেতে পারেন। ছবি অাঁকা বা ছবি তোলা, যেটাই করুন, দুজনে দুজনের সঙ্গী হোন। শেখার কোনও বয়স হয় না। বাল্য বয়সে বা যৌবনে যা শিখতে চেয়েও শেখা হয়নি, সেটা নতুন করে শুরু করতে বাধা নেই।
  • পজিটিভ থাকুনঃ  বেঁচে থাকাটা মূল্যবান মনে করুন ছ  কথায় কথায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বেন না। জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো-কে দেখতে শিখুন। কাউন্ট ইয়োর ব্লেসিংস। অর্থাৎ এই জীবনটা খুব মূল্যবান। মনুষ্য জন্মটাকে আশীর্বাদ হিসাবে নিন। ভালো কাজের মধ্যে থাকুন। আক্ষেপ নিয়ে বাঁচবেন না। যা পাচ্ছেন, যা পেয়েছেন সেটাকে নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা করুন।

ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে আলোচনায় মলায়ালম ছবির নায়িকা সাই পল্লবী

কিছুদিন আগেই কঙ্গনা রানাওয়াতও একটি ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বলে শোনা গিয়েছিল।এবার দক্ষিণী নায়িকা সাই পল্লবী, ফরসা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপন করার জন্য ২ কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন।
সাই পল্লবী বর্তমানে তেলুগু ভাষার ‘লাভ স্টোরি’ ও ‘বিরতা পারভাম ১৯৯২’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ৷তারই মাঝখানে এসেছিল এই প্রস্তাব৷গায়ের রঙয়ের বিষয়টি যে তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বহীন, এই প্রত্যাখ্যানে তা বুঝিয়ে দিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী৷  সাই সরাসরি অস্বীকার করেছেন ফর্সা হওয়ার ক্রিমের বিজ্ঞাপনের মডেল হতে। “দেড় কোটি টাকার অফার এক কথায় ছেড়ে দিয়েছি,”৷এক সাক্ষাতকারে বলেছেন তিনি, “ওই ঘৃণ্য শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারব না মানুষ হয়ে, নারী হয়ে ”৷

বস্তুত ফর্সা হওয়াকেই সৌন্দর্যের মাপকাঠি বলে মনে করে ভারতীয় সমাজ৷ প্রচলিত এই ধ্যান-ধারণা বদলানোর সময় এসে গিয়েছে এবার৷ সেই ধারণার গায়েই প্রবল ধাক্কা দিয়েছেন রুপোলি পর্দার এই অভিনেত্রীরা৷ তবে বলিউড-সহ একাধিক তারকাই ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন এর আগে। এর প্রতিবাদস্বরূপ, নন্দিতা দাস একবার ডার্ক ইজ বিউটিফুল নামের একটি ক্যাম্পেন শুরু করেছিলেন। কয়েকদিন আগে সাই পল্লবীকে, একটি সাক্ষাত্কারে বর্ণ নিয়ে পক্ষপাত প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেছিলেন, “এটাই তো ভারতীয়দের গায়ের রং।আমরা কোনও বিদেশিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারি না কেন আপনার গায়ের রং সাদা।সবার আলাদা গায়ের রং রয়েছে।আর সেটাই স্বাভাবিক৷ আফ্রিকানদেরও নিজস্ব রং রয়েছে। এবং এরা সবাই নিজের মতো করে সুন্দর ”৷

সাই পল্লবী প্রতিটি সিনেমাতেই তাঁর লুক খুবই সাদামাটা রাখেন। মেকআপ দিয়ে মুখের কোনো দাগ ঢাকেন না। আর তাই ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি৷জানা গেছে, একটি শপিং মলের প্রচারের জন্য পোশাকের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন সাই পল্লবী। কিন্তু বিজ্ঞাপনে কাজ করতে একদমই আগ্রহী নন এই নায়িকা। তাই এক কোটি টাকার এই প্রস্তাব পেয়েও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

 

সৌন্দর্যের ২০-টি টিপস

সৌন্দর্যের পূজারি কে নয়? সৌন্দর্য-কে ধরে রাখতে সকলেই নানাপ্রকার প্রচেষ্টা করে থাকেন। সৌন্দর্যের মূল উৎস কিন্তু মানুষের অন্তর আত্মা। ভিতরের সৌন্দর্যই প্রস্ফুটিত হয়ে মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।  আত্মার সৌন্দর্য কখনওই নষ্ট হওয়ার নয় কিন্তু মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের উপর প্রভাব পড়ে বয়স, পরিবেশ, আবহাওয়া, দূষণ ইত্যাদির। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল রাখতে হয় ডায়েট-এরও। বিশেষ যত্ন নিতে হয় ত্বক, চুল, মুখের। হাত-পায়ের সৌন্দর্যও কিন্তু অবহেলা করার নয়।

ত্বকের যত্ন

সৌন্দর্য বজায় রাখতে ত্বকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণ, কেমিক্যালস, ধুলোমাটি, দূষণ ইত্যাদির প্রভাবে ত্বক রুক্ষ প্রাণহীন হয়ে পড়ে। ত্বককে হাইড্রেট করতে প্রচুর পরিমাণে জল খান। এছাড়াও রয়েছে ত্বকের সঙ্গে যুক্ত কিছু সমস্যা এবং তার সমাধান।

(১)   ট্যানিং – সূর্যের রশ্মি-তে রয়েছে আল্ট্রা-ভায়োলেট-রে যা ত্বককে প্রাণহীন করে তোলে। বেশিক্ষণ রোদে থাকলে ত্বকে ট্যান-এর সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্যা রোধ করতে রোদে বেরোবার আগে কমপক্ষে ২০ এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রীন অবশ্যই লাগান। যদি রোদে আপনাকে বেশিক্ষণ থাকতে হয় তাহলে ৩ ঘন্টা অন্তর একবার করে সানস্ক্রীন লাগান। সুইমিং করার আগেও সানস্ক্রীন অবশ্যই লাগাবেন, তাতে ত্বকে ট্যানিং হবে না। এছাড়াও রোদচশমা, ছাতা, টুপি অবশ্যই ব্যবহার করুন যাতে ত্বক সুরক্ষিত থাকে।

(২)   টাইট পোশাক থেকে সংক্রমণ – ফ্যাশনের চক্বরে পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে উদগ্রীব হয়ে থাকেন। মাঝেমধ্যে এমন টাইট পোশাক পরিধান হিসেবে তারা বেছে নেন যেটা ত্বকের সঙ্গে টাইট হয়ে লেগে থাকে। ফলে ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারে না, ত্বকে দাগ পড়ে যায়, এমনকী অনেকসময় ত্বকে পোশাক কেটে বসে যায়। ত্বকে চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের মতো গরমের দেশে ত্বকে ঘাম জমে সংক্রমণ হওয়ার ভয় বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অথবা রোজ রোজ টাইট পোশাক পরলে ক্যানসার হওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। গরমের মরশুমে সুতির ঢিলাঢালা বা কমফর্টেবল পোশাক নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের। এরই মধ্যে ফ্যাশনেবল পোশাকও পেয়ে যাবেন। এছাড়া অন্যসময় স্কিন ফ্রেন্ডলি, হালকা, আরামদায়ক পোশাকই বাছুন।

(৩)    রুক্ষ, প্রাণহীন ত্বক – শরীরের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে দরকার পর্যাপ্ত জল খাওয়া। জলের অভাবে ত্বকে বলিরেখা পড়ে যায় এবং ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বক ফেটে ফেটে যায় এবং ওই জায়গায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাস বাসা বাঁধে। এই সমস্যা রোধ করতে দিনে অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার জল খাওয়া আবশ্যক। স্নানের পর ময়েশ্চারাইজার লাগানো জরুরি। ত্বক বেশি রুক্ষ হলে ৩-৪ ঘন্টায় ত্বক ময়েশ্চারাইজ করুন। ত্বক মোলায়েম রাখতে নারকেল তেলও লাগাতে পারেন।

(৪)    ব্রণ, মেচেতা, হরমোনাল চেঞ্জেস – এর কারণে সাধারণত ব্রণ, মেচেতা ইত্যাদি হয়ে থাকে। কিন্তু এছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মুখে তাপ লাগা, অবসাদগ্রস্ত হয়ে থাকা, ত্বকে বারবার হাত দেওয়া ইত্যাদি কারণেও ব্রণ, ছুলি, মেচেতা ইত্যাদির সমস্যা বাড়তে পারে। বারবার সাবান দিয়ে মুখ ধুলে ব্রণ বা মুখের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার সঙ্গে সঙ্গে অবসাদ থেকেও দূরে থাকুন। ত্বকে বারবার হাত লাগাবেন না। সমস্যা বেড়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

(৫)   ত্বকের হলদেটে ভাব বেড়ে যাওয়া – অতিরিক্ত ধূমপান করলে বয়সের আগেই ত্বক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলে এবং বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ত্বকের উপরের পরতে থাকা শিরা-উপশিরাগুলি আকারে কুঁকড়ে যায় ফলে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হতে পারে না। ত্বকে হলুদ ভাব প্রকট হয়ে ওঠে। এছাড়াও ত্বকের অক্সিজেন প্রবাহ এবং পুষ্টিকর তত্ত্বের উপরেও প্রভাব ফেলে। বেশি ধূমপান করলে ঠোঁট এবং চোখের নীচেও কালি পড়ে। ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে তোলে। এই সমস্যার একটাই সমাধান হল ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।

(৬)    স্কিন ইরিটেশন – জীবাণু, তেল, নোংরা ও মৃত কোশ দূর করতে নিয়মিত ভাবে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। স্ক্রাবিং বেশি করলে ত্বকে ইরিটেশন হতে পারে ফলে ত্বকে রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অনেকেই জোর দিয়ে রগড়ে স্ক্রাব বা ফেস ওয়াশ করে থাকেন যেটা করা অনুচিত। জেন্টল স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস ব্যবহার করা উচিত। হালকা গরম জল এবং মাইল্ড ক্নিঞ্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা উচিত। সার্কুলার মোশনে আঙুল দিয়ে মুখে মাসাজ করুন। সাবান বা সাবানের ফেনা ত্বকে যাতে এতটুকুও লেগে না থাকে তারজন্য মুখ ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ঘষে ঘষে মুখ না মুছে তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুখের জল মুছে ফেলুন।

চুলের যত্ন

কেশ বা চুল, সৌন্দর্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত। সুতরাং চুল পড়া বা চুলের যে-কোনও সমস্যায় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, বিশেষ করে মেয়েরা। নানা কারণে চুল পড়তে পারে যেমন হরমোনাল ইমব্যালেন্স, পুষ্টির অভাব, থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভনিরোধক ওষুধের অতিরিক্ত সেবন, স্ট্রেস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, বিভিন্ন কেশসজ্জার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা এবং জিনগত সমস্যা ও মেডিকেল কন্ডিশন-এর কারণে।

চুল পড়ার সমস্যায় ঘরোয়া সমাধান

১)       শ্যাম্পু – আপনার মাথার ত্বকের (স্ক্যাল্প) ধরন বুঝে তবেই শ্যাম্পু বাছবেন। স্ক্যাল্পের উপর নির্ভর করেই কতবার চুল ওয়াশ করবেন ডিসাইড করুন। ড্রাই স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে বেশিবার চুল ধুলে চুলপড়া বেড়ে যাবে আবার সপ্তাহে অন্তত ৩ বার অয়েলি হেয়ার ধোয়া প্রয়োজন। এটাও শিওর হয়ে নেওয়া দরকার আপনার শ্যাম্পুতে সালফেট, প্যারাবেন এবং সিলিকন-এর মতো কেমিক্যাল যেন না থাকে

২)       কন্ডিশনার – কন্ডিশনার-এ থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ড্যামেজড হেয়ার রিপেয়ার করে চুল রাখে মজবুত এবং মসৃণ

৩)      উপযুক্ত ডায়েট এবং এক্সারসাইজ – চুলের জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টির, বিশেষ করে প্রোটিন এবং আইরনের। ব্যালেন্সড ডায়েটের সঙ্গে যোগ ব্যায়াম এবং মেডিটেশন চুলপড়া কমাতে সাহয্য করবে

৪)       কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট – চুলের স্ট্রেটনিং, পার্মিং, কালারিং ইত্যাদি চুলের যথেষ্ট ক্ষতি করে। এছাড়া ব্লো ড্রায়ার, কার্লিং রড বিশেষ করে ভেজা চুলে ব্যবহার করলে এগুলি চুলকে ভঙ্গুর করে তোলে। ব্যবহার যদি করতেই হয় শুরু করুন ফর্টিফায়িং লিভ ইন কন্ডিশনার দিয়ে এবং শেষ করুন প্রোটেক্টিভ স্প্রে প্রয়োগ করে

৫)       অয়েলিং – সপ্তাহে ১ বার চুলে অয়েল মাসাজ করুন এবং ২ ঘন্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে এবং চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছোবে। চুলপড়া রোধ করতে কেমিক্যাল-যুক্ত প্রোডাক্ট চুলে ব্যবহার না করে, ন্যাচারাল হোমমেড রেসিপি চুলে ব্যবহার করা ভালো

৬)      এগ মাস্ক – ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে ১ টেবিলচামচ অলিভ অয়েল এবং মধু মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে চুলের গোড়া থেকে আগা অবধি লাগান। ২০ মিনিট পর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন

৭)       যষ্টিমধুর শিকড় – একের চার চামচ কেসরের সঙ্গে এক টেবিলচামচ যষ্টিমধুর শিকড় পিষে এক কাপ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। সারা মাথায় লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন। সকালে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করুন

8)       নারকেল তেল – নারকেল দুধের সঙ্গে ১ চা-চামচ করে গোলমরিচগুঁড়ো এবং পেষা মেথিদানা মিশিয়ে স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন

৫)       গ্রিন টি – গরমজলে গ্রিন টি-র ২-৩ টি প্যাকেট ভিজিয়ে রাখুন। জল ঠান্ডা হলে সেটি মাথায় ঢেলে ধীরে ধীরে স্ক্যাল্প মাসাজ করুন। ১ ঘন্টা পর পরিষ্কার জলে চুল ধুয়ে ফেলুন

৬)      বিটরুটের জুস – ভিটামিন সি ও বি৬, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম-এ ভরপুর, চুলের হেলদি গ্রোথের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। বিটরুটের ৭-৮ টি পাতা গরমজলে ফুটিয়ে ৫-৬ টি হেনা পাতার সঙ্গে পিষে স্ক্যাল্পে লাগান। ১৫-২০ মিনিট বাদে হালকা গরম জলে মাথা ধুয়ে ফেলুন

৭)       মেথি আমলকী – সারা রাত মেথিদানা জলে ভিজিয়ে রেখে পেস্ট বানিয়ে নিন। সেটি স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধঘন্টা রাখুন ও পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক মাসে, সপ্তাহে দু’বার করে এই পদ্ধতি মেনে চললে চুল পড়া কমে যাবে এবং চুল সজীবতা ফিরে পাবে

৮)         আমলকী পাউডার -লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্প ও চুলে লাগান এবং শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন যাতে চুল শুকিয়ে না যায়। ১ ঘন্টা রেখে জল দিয়ে মাথা পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন

৯)       পেঁয়াজের রস – এতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রপার্টিজ যা স্ক্যাল্পে সংক্রমণ হতে দেয় না এবং এতে থাকা সালফার, ব্লাড সার্কুলেশন বাড়িয়ে চুলের গ্রোথ উন্নত করে এবং চুলপড়াও বন্ধ করে

১০)     অ্যালোভেরা – অ্যালোভেরার পাল্প বার করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে দিন। নর্মাল জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন-চারবার এই পদ্ধতি ট্রাই করতে পারেন

১১)     টক দই মধু – একটি পাত্রে ২ চা-চামচ টক দই মিশিয়ে নিন একটি লেবুর রস এবং ১ চামচ মধুর সঙ্গে। মিশ্রণটি স্ক্যাল্প এবং চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধ ঘন্টা রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার এটি ট্রাই করতে পারেন

 

 

 

কনকচাঁপা

সারাদিনের কাজের ফাঁকে এই বিকেলটুকুই, নন্দিতার মিনিট কুড়ির নিজস্ব সময়। এই সময় সে দক্ষিণের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুলের জট ছাড়িয়ে চুল বাঁধে। কোমর অবধি লম্বা চুল। এই সামান্য পরিচর্যাটুকু তার অনেক দিনের অভ্যাস। বিয়ে হয়েছে মাস দুয়েক। কলকাতা ছেড়ে ধানবাদ চলে আসতে প্রথমে মন চায়নি। কিন্তু সত্যি বলতে কী, তাকে অন্য কোনও বিকল্পও দেওয়া হয়নি।

বাবাকে হারিয়েছে নন্দিতা, মাত্র দশ বছর বয়সে। তার থেকে আট বছরের বড়ো দাদা আর মা-ই তার পৃথিবী ছিল। বাবার পেনশনের টাকায় মা সংসার চালিয়েছে, দাদা যতদিন না নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। দাদা স্বাবলম্বী হওয়ার অনেকদিন পরে বিয়ে করেছে। একটু লেট ম্যারেজ-ই বলা যায়। বউদির সঙ্গে নন্দিতার খুব বেশি বয়সের তফাত নয়। তার বিয়ে, কাগজে বিজ্ঞাপন দেখেই দাদা আর মা মিলে দিয়েছে। সত্যি বলতে কি, বেশি বাছাবাছির অবকাশ ছিল না। সাধারণ পরিবারের মেয়েকে পার করতে বেশি বাছাবাছির বিলাসিতা করা চলে না।

চুলে বিনুনি বাঁধতে বাঁধতে নন্দিতার আজ বড্ড বাপের বাড়ির জন্য মনকেমন করতে লাগল। কেমন আছে তার গল্পের বইগুলো, তার ছাদের পায়রাগুলো, আর বারান্দায় গা ঘেঁষে ওঠা কনকচাঁপা গাছটা! ওই গাছ আর ফুলের গন্ধ খুব মিস করে নন্দিতা। ওই ফুলগুলো সে নিজের হাতে কুড়িয়ে এনে তার পড়ার টেবিলে জড়ো করে রাখত। সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ত ফুলের গন্ধটা। অভ্যেসেই যেন একবার জোরে নাক টেনে বাতাসে সেই গন্ধটাই খোঁজার চেষ্টা করল নন্দিতা। নাহ্ এই ধুলোধুসরিত কোলিযারি শহরে, ফুলের মতো নরম সব অনুভতিগুলোই মরে গেছে তার গত দুমাসে।

খুব অভিমান হল তার মায়ের উপর, দাদার উপর। কেন তারা এরকম একটা সম্বন্ধ দেখে বিয়ে দিয়ে দিল তার। কেন সুখী হতে পারছে না নন্দিতা? সে আর যাই হোক তার নিজের বাড়িতে অসম্ভব আদরের ছিল। যে-দাদার চোখের মণি ছিল নন্দিতা, বিয়ের পর সেই দাদাও যেন বেশি ঝুঁকে পড়ল তার বউয়ের দিকে। নন্দিতার ভালোমন্দ নিয়ে কি সেই জন্যই তেমন বিচলিত হল না দাদা?

বউদিকে কি মনে মনে ঈর্ষা করতে শুরু করেছিল নন্দিতা? তার আদরের জায়গাটা কি ক্রমশ দখল করে ফেলছিল তার বউদি? নতুন বলে বাড়ির সবার থেকে বাড়তি মনোযোগ পেতে শুরু করেছিল কি সে? মা কথায় কথায় বলত, আহা নন্দু ও তো তোরই মতো ছেলেমানুষ। মা-বাবাকে ছেড়ে এখানে এসেছে। আমাদের উচিত ওর বাড়ির ওই অভাবটা ওকে বুঝতে না দেওয়া। কই এমন করে তো এ বাড়িতে কেউ তার কথা ভাবে না!

(২)

ঘড়ির অ্যালার্মটা আবার তারস্বরে বাজছে। ৬টা বাজে বুঝতে পারছিল নন্দিনী কিন্তু ঘুম ভাঙতে চাইছে না। ক্লান্তি আর ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছে সে। বিরক্ত হয় সঞ্জয়, উঠতে পারো না তো অ্যালার্ম দাও কেন।

সঞ্জয়ের ঝাঁঝিয়ে ওঠার জন্যই ধড়ফড় করে উঠে বসে নন্দিতা। নাইটিটা ঘামে ভিজে তখনও গায়ে সঙ্গে লেপটে আছে। খুব বিরক্ত লাগে নন্দিতার, সঞ্জয়ের উপর। দুমাস হয়েছে বিয়ে বলেই যেন তাকে প্রতিরাতে নিজেকে সঞ্জয়ের ভোগের সামগ্রী হয়ে উঠতে হবে। এটা সঞ্জয়ের একটা অধিকারের মতো। অনেক রাত অবধি সে তার সেই অধিকার ফলায়। তখন তার খেযাল থাকে না নন্দিতাকে সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে, নাহলে কপালে জুটবে ননদ আর শাশুড়ির বাক্যবাণ।

নন্দিতা তাড়াহুড়ো করে ঢুকে যায় বাথরুমে। ফ্রেশ হয়ে বেরোতে বোরোতে প্রায় সাতটা হয়ে গেল। নীচে থেকে কেতকীর গলা ভেসে এল, চা হয়ে গেছে বউদি। কেতকীর মুখ না দেখেও নন্দিতা যেন তার গলার বিরক্তি আর রাগটা বেশ টের পেল। ঠিক তখনই শাশুড়ির গলা ভেসে এল। রেখে দে চা, বউ তো নয় নবাবনন্দিনী!

আর দাঁড়িয়ে থাকা গেল না, সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নেমে এল নন্দিতা। শাশুড়ি আর কেতকী মুখ চাওয়াচাই করল। নন্দিতা টেবিলে রাখা, ঠান্ডা চা-টা কোনওরকমে গলাধঃকরণ করে রান্নাঘরে ঢুকে এল।

এত দেরি কীসের বউমা?

জামাকাপড় কাচতে গিয়ে একটু দেরি হল মা।

তোমাদের বাড়িতে কী নিয়ম জানি না বাপু, আমাদের এখানে স্নান না করে অপরিষ্কার কাপড়ে রান্নাঘরে ঢোকার নিয়ম নেই। শাশুড়ির কড়া কথায় নন্দিতা কিছু না বলে মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেতকী আটা চালতে চালতে ফুট কাটে, বউদির বাড়িতে বোধহয় সবাই এরকম কুম্ভকর্ণের মতোই বেলা অবধি ঘুমোয়, তাই না বউদি?

শ্লেষটা গায়ে এসে বিঁধল নন্দিতার। কিন্তু সে রাগটা চেপে নিয়ে বলল, তুমি তৈরি হয়ে নাও ঠাকুরঝি, আমি রুটি করে দিচ্ছি।

কেতকী যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। আটার থালাটা এগিয়ে দিয়ে সে অফিসের জন্য তৈরি হতে গেল।

কেতকীর ডিভোর্স হয়ে যাওযার পর থেকেই সে এই সংসারে এসে বসেছে। রোজগেরে বলে কেউ তাকে ঘাঁটায় না। সংসার খরচ দেয়, তাই তার মেজাজও বেশি। শ্বশুর মারা যাওযার পর থেকে তার স্বামী সঞ্জয় হোলসেল ব্যাবসাটা চালায়। এ-বাড়িতে শাশুড়ির প্রতাপ অতিমাত্রায় চলে। সঞ্জয় একেবারে মায়ের কথায় ওঠে বসে। মা তাকে প্রথম থেকেই শিখিয়ে রেখেছে, বউ-কে টাইট রাখবি বাবা। সঞ্জয়ও সেই নীতিবাক্য মেনেই চলে। তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা এসবের কোনও মূল্যই দেয় না সঞ্জয়।

এ বাড়িতে আরও একজন আছে অবশ্য। সে সঞ্জয়ের ভাই সৌরভ। নন্দিতা আর সৌরভ, বয়সে পিঠোপিঠি। সৌরভ একেবারেই বাড়িছাড়া। সে তার দাদার মতো একেবারেই নয়। ব্যাবসাতেও যে খুব মন আছে তা নয়। একটু খামখেযালি প্রকৃতির। সে বই পড়ে, ছবি আঁকে আর মাঝেমধ্যে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দোকান সামলায়। তার সঙ্গে নন্দিনীর একটা আলাদা ইকয়েশন কোথাও যেন কাজ করে, টের পায় নন্দিতা। সেটা হয়তো সৌরভ বোঝে। নন্দিতা একেবারেই আলাদা। সে ঠিক এ-বাড়ির মতো নয়। তাই তার মানিয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও, এ-বাড়ির মতো হয়ে উঠতে পারছে না।

টেবিলে খবরের কাগজ পড়তে পড়তে সকালের পুরো ঘটনাটাই দেখেছে সৌরভ। নন্দিতা লজ্জায় পড়ে গেছে এত অপমানিত হয়ে তাই সরাসরি চোখ তুলে তাকাতে পারছে না, সে জানে। কেতকী তৈরি হয়ে নেমে আসতে, মা তাকে এক গেলাস গরম দুধ আর খান চারেক বিস্কুট ধরিয়ে দেয়। সে সেটা খেয়ে, মা আসছি বলে দরজার দিকে পা বাড়ায়।

নন্দিতা রান্নাঘরের ভেতর থেকে একটা টিফিনবক্স নিয়ে ছুটে বেরিয়ে আসে, ঠাকুরঝি এটা নিয়ে যাও, এটা নিয়ে যাও। কেতকী যেন ইচ্ছাকৃত ভাবেই তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলে, থাক বউদি, আর দাঁড়ালে চাকরিটা খোয়াব, তখন তোমরাই বলবে ঘাড়ে বসে খাচ্ছি। নন্দিতা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে, কিন্তু খুব দেরি তো হয়নি ঠাকুরঝি…। তার কথাকে সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে কেতকী বেরিয়ে যায়। নন্দিতার মুখটা কালো হয়ে যায়। সে জানে এবার শাশুড়িমা তাকে আরও খারাপ কিছু কথা শোনাবেন। তার চোখদুটো ছলছল করে ওঠে।

ব্যাপারটা চোখ এড়ায় না সৌরভের। সে বলে, যাক নিয়ে যখন এসেছ শিগগিরি ওগুলো প্লেটে ঢালো তো বউদি। পেটে ছুঁচোয় ডন মারছে।

নন্দিতা হেসে ফেলে, বলে দাঁড়াও প্লেট নিয়ে আসি।

তোমার খাবারটাও আনো, একসঙ্গে খাব।

না-না, বাড়ির সবাইকে আগে দিই। তুমি খেয়ে নাও সৌরভ।

শাশুড়িমা ঝাঁঝিয়ে ওঠেন সৌরভকে, তোকে আর আশকারা দিতে হবে না। তুই তোর খাবারটা খেয়ে কী রাজকার্য আছে কর গিয়ে। সৌরভও দমবার পাত্র নয়। বলে, তুমি আর বদলালে না মাম্মি ডার্লিং।

দুপুরে চোখটা একটু লেগে এসেছিল। তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় যেন সে গন্ধ পাচ্ছিল, তার ঘরজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ওই কনকচাঁপার সৌরভ। কিন্তু গন্ধটা যেন তার চৈতন্যের স্তরের চেয়ে এবার আরও স্পষ্ট। চোখ খোলে নন্দিতা। তার খাটের একদিকে একটা প্লেটের উপর ৬-৭টা কনকচাঁপা ফুল রাখা, আর সামনের চেযারে বসে মিটিমিটি হাসছে সৌরভ।

এ কি এগুলো কোথায় পেলে! বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে বলে ওঠে নন্দিতা।

কেন খারাপ? হাসে সৌরভ।

খারাপ কেন হবে, তুমি জানলে কী করে এগুলো আমার প্রিয় ফুল?

ও মা জানব না? এই দু-মাসে অন্তত সাতাশ বার বলেছ তোমাদের বাড়ির কথা, তোমার নানা প্রিয় জিনিসের কথা, আর তোমাদের বারান্দার পাশের ওই কনকচাঁপা গাছের কথা। আস্ত গাছটা তো আনতে পারতাম না। তাই ফুলগুলোই দেখতে পেয়ে নিয়ে এলাম। আমার বন্ধুর বাড়ির গাছের। সৌরভের মুখের হাসিটা তখনও মেলায়নি। ফুলগুলো দেখে নিমেষে মন ভালো যায় নন্দিনীর। সে থালাটা নাকের কাছে এনে বড়ো করে নিঃশ্বাস টানে। চোখদুটো আবেশে বুজে যায়। এ বাড়িতে এই প্রথম যেন তার একটা নিজস্ব ভালোলাগার জায়গা অনুভব করে। সৌরভ তার দিকে অপলকে চেয়ে আছে। নন্দিতার কেমন অস্বস্তি হয়। ক্ষণিকের জন্য যেন ভালো লাগার আবেশটা দুটো হৃদয়ের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। কিন্তু দুজনেই আবেগের ঢেউটাকে প্রাণপণে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে।

দিন তিনেক পর একদিন সকালে নন্দিতা রান্নাঘরে জলখাবার বানাতে ব্যস্ত। সৌরভ পেছনে এসে চুপিচুপি বলে, বউদি খুব বেশি করে লংকাকুচো দিয়ে ঝাল ঝাল আলুর পরোটা করে দাও তো।

কিন্তু বাড়িতে বাকিরা তো ঝাল খায় না।

তাতে কী? আমারটা স্পেশাল, বলে চোখ টিপে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যায় সৌরভ।

খাবার টেবিলে আলুর পরোটা খেতে খেতে প্রশংসা করছিল সৌরভ, উফ বউদি তোমার রান্নার কোনও জবাব নেই!

কেতকী যেন বিরক্ত হয়ে ওঠে, একটা ছুটির দিন একটু আয়েস করে খবরের কাগজ পড়ছি, বড়ো বেশি কথা বলিস তুই ভাই।

শাশুড়িও যেন সইতে পারেন না নন্দিতার প্রশংসা, থাম তুই। আমার রান্না খেয়ে এত বড়ো হলি, আর দুদিনের রাঁধুনির প্রশংসা!

সঞ্জয়ের সব কথাতেই মাকে সাপোর্ট করা অভ্যাস। সে সঙ্গে সঙ্গে বলে, হ্যাঁ মা তোমার হাতের নারকেল চিংড়ি, আর কষা আলুর দম! আজও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খাবার। নন্দিতা মাঝে মাঝে, মায়ের থেকে রান্না করাটা শিখলেই তো পারো।

নন্দিনী অপমানিত হয়, কিছু বলে না। বলে সৌরভ, বউদি এত ভালো পরোটা খাওযালে, এর জন্য তোমার একটা প্রাইজ প্রাপ্য। চলো আজ তোমায় দঙ্গল দেখাতে নিয়ে যাব। বিকেলে তৈরি হয়ে থেকো। সৌরভ কথা বলে বেরিয়ে যায় তখনকার মতো। কিন্তু নন্দিতা লক্ষ্য করে কেতকী ব্যাপারটা ভালো ভাবে নেয় না। সে চোখের আড়াল হওয়া মাত্র, কেতকী সঞ্জয়কে বলে, দাদা বউকে অত ছাড় দিস না। বেশি সুতো ছাড়লে পরে আর গোটাতে পারবি না। ভাই যেন একটু বেশিই বউদির ব্যাপারে…

সঞ্জয় কথাটা শোনে, নন্দিতা এসে পড়ায় কিছু আর বলে না। কিন্তু নন্দিতা টের পায় কেতকীর কথার কিছু একটা প্রভাব সঞ্জয়ের ওপর পড়েছে। সিনেমা দেখে ফিরে আসার পর থেকেই তার মুখ ভার। রাত্রে সেটা আরও বেশি করে টের পায় নন্দিতা। সঞ্জয়ের আদর করার মধ্যে কোনও আবেগ নেই, পাশবিক ভাবটা যেন বেশি। সে ওই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তেও বলে, সিনেমা যাওযার ফূর্তিটা না করলেই চলছিল না? নন্দিতা যেন ভেতর থেকে আড়ষ্ট হয়ে যায়। শরীরে আর কোথাও সে থাকে না। তার মন তখন অনেক দূরে। বড্ড বাড়ির জন্য মনকেমন করে।

সপ্তাহখানেক পর এক সন্ধ্যায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ঢোকে সঞ্জয়। এসেই গায়ে ঘামে ভেজা শার্টটা বাথরুমে ছুড়ে দিয়ে টিভির ঘরের মেঝেতে এসে বসে। পাশের ছোট্ট খাটে গা এলিয়ে ছিলেন শাশুড়ি। মায়ের কোলে মাথা রেখে আধশোয়া হয়ে টিভি দেখতে থাকে সঞ্জয়। নন্দিতা আমতা আমতা করে অনুমতি নেবার মতো করে বলে, বলছি বড্ড বাড়ির জন্য মনকেমন করছে, কটা দিন মায়ের কাছে যেতে চাই। একটু পৌঁছে দেবে এই রবিবার?

শাশুড়ি যেন তিরিক্ষে হয়ে উঠলেন, কেন এখানে তোমার আরাম আয়েসটা কম কী হচ্ছে, যে বাপের বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে? সঞ্জয়ও মায়ের পক্ষ নেয়, তুমি চলে গেলে মায়েরও পরিশ্রম বেড়ে যাবে। আমার বিয়ে মা দিয়েছে, যাতে মা একটু বিশ্রাম পায়। নন্দিতা আর কিছু বলে না। রান্নার কাজ শেষ করে।

এরপর তাসের আসর বসল। কেতকী, সঞ্জয় ও মা। রোজই খেলা চলে অনেক রাত পর্যন্ত। সৌরভের তাসের নেশা নেই। সে তার ঘরে ছবি আঁকে বা বই পড়ে। নন্দিতা ওপরে উঠে এল। মনটা খুব খারাপ হয়ে আছে। নন্দিতার বাড়িতে তার বউদিকে এরকম ব্যবহার পেতে সে দ্যাখেনি। বউদি ওখানে মেয়ের মতোই আদর পায়। মা তার আলমারি গুছিয়ে দেয়, জামাকাপড় ইস্ত্রি করে দেয়, নন্দিতারগুলো যেভাবে করে দিত। এতটা তফাত দুটো বাড়ির মানসিকতায়!

নিজেকে প্রশ্ন করে নন্দিতা, আচ্ছা মা কিংবা দাদা যদি জানতে পারে নন্দিতা এতটা কষ্টে আছে, তারা কি তার পাশে দাঁড়াবে না? তারা কি ওকে পর করে দিয়েছে। ভাবতে ভাবতেই চোখে জল চলে আসে নন্দিতার। রোজই সকালে একবার করে মা-কে ফোন করে সে। খোঁজখবর নেয়। কিন্তু তার নিজের কথা বলতে, কোথাও যেন বাধে।

ভাবনার জাল ছিঁড়ে যায় দরজার একটা টোকায়। পরক্ষণে সৌরভ মুখ বাড়িয়ে বলে, কী ম্যাডাম, আসব? নন্দিতা নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে বলে, কী ব্যাপার, আজ ছবি আঁকতে ইচ্ছে করছে না বুঝি?

এঁকেছি তো। দ্যাখো কেমন হল। একটা ছোট্ট ক্যানভাস এগিয়ে দেয় সৌরভ। নন্দিতার বুঝতে ভুল হয় না ক্যানভাস-এ কার মুখ। সে বলে, এতো দেখছি আমার ছবি! খুব ভালো হয়েছে সৌরভ। তারপর একটু ইতস্তত করে বলে, তুমি এবার একটা বিয়ে করো। মা-কে বলি তোমার জন্য মেয়ে দেখতে!

খেপেছ, বিয়ে করে তোমার যা হাল দেখছি এ বাড়িতে। আবার কাকে নিয়ে আসব তার কপাল পোড়াতে! হা হা করে হেসে ওঠে সৌরভ। খাটের একপাশে সে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে। নন্দিতা শিঁটিয়ে খাটের এক কোণায় বসে থাকে। সৌরভ হঠাৎই বলে, তোমার ডায়েরিটা বের করো তো বউদি।

কোন ডায়েরি?

আরে কবিতার ডায়েরি, আবার কোন ডায়েরি?

কী হবে ওসব হাবিজাবি দেখে। লিখিও না কতদিন!

লেখো না বলেই তো বের করতে বলছি।

একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে নন্দিতা। সত্যি সে কত বদলে যাচ্ছে। দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এ বাড়িতে আসার পর থেকেই ভুলে গেছে তার একটা নিজস্ব সত্তা ছিল, তার একটা লেখালেখির জগৎ ছিল।

কলেজে-ইউনিভার্সিটিতে সে লিটল ম্যাগাজিনে রীতিমতো জনপ্রিয় ছিল তার লেখার গুণে। ডায়েরিটা বের করে পরম মমতায় হাত বোলাচ্ছিল পাতায়, সৌরভ কেড়ে নিতে আসে। নন্দিতাও দেবে না আর সৌরভেরও চাই ওটা। এই কাড়াকাড়ি করতে করতে কখন যে তারা খুব কাছে চলে এসেছে পরস্পরের, খেয়ালই করেনি নন্দিতা। হঠাৎই সেই হাসাহাসিকে থামিয়ে দিয়ে সজোরে একটা চড় এসে পড়ে নন্দিতার গালে।

যন্ত্রণায় ককিয়ে উঠে দেখে সঞ্জয় দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। মুখ গনগনে আগুনের মতো লাল। দরজায় শাশুড়ি ও কেতকী। সবার চোখ তার দিকে। সৌরভও যেন কুঁকড়ে গিয়ে কিছুটা সরে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সে নিজেও অবাক। নন্দিতার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসে।

সে এই চূড়ান্ত অপমানটার জন্য তৈরি ছিল না। আজ পর্যন্ত কেউ এভাবে গায়ে হাত তোলেনি তার। সৌরভ ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। যাওযার আগে তার দাদার দিকে তাকিয়ে বলে, ছিঃ। আমার লজ্জা হচ্ছে নিজেকে তোর ভাই বলে ভাবতে।

সঞ্জয় চিৎকার করে বলে, যাও, সরে যাও সবাই। নাটক দেখছ নাকি! কেতকী শাশুড়িমাকে নিয়ে সরে যায় দরজা থেকে। সঞ্জয় সশব্দে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। নন্দিতা জানে, সঞ্জয়ের এর পরের প্রতিক্রিয়া কী হবে। কিন্তু না, আর এই পাশবিকতা সে সহ্য করবে না। বিছানায় মরার মতো পড়ে থাকে নন্দিতা। সঞ্জয় তার শারীরিক পশুবৃত্তি শেষ করে ক্লান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে। ভোর হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নন্দিতা।

(৩)

ট্রেনের কামরায় বসে আজ অনেকদিন পর যেন অনেকটা আকাশ দেখল নন্দিতা। তার যা কিছু সামান্য জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে সে চলে এসেছে। আর একটা চিঠিতে জানিয়ে এসেছে, বরাবরের মতো চলে যাচ্ছে সে বাড়ি ছেড়ে। এই সম্পর্কের বোঝা আর সে টানতে চায় না। সৌরভকেও আর কষ্টে রাখতে চায় না সে। বাড়িতে ফিরে গেলে নিশ্চয়ই তার মা কিংবা দাদা তাড়িয়ে দেবে না তাকে। কিন্তু এভাবে নিজের জীবনটাকে নষ্ট করতে রাজি নয় আর। একটা চাকরির তার ভীষণ দরকার। একটা আত্মনির্ভর জীবন। কারও অঙ্কশাযিনী হওয়াটাই তার নারী জীবনের মোক্ষ নয়। সে বাঁচতে চায় তার নিজের শর্তে।

শিকড়ের টান বড়ো প্রবল। সে জানে ওই বাড়িটা, তার জন্ম ভিটেটা কী ভীষণ ভাবে আজ টানছে তাকে। তাই বইয়ের হলদে পাতাগুলোয় বহুক্ষণ মুখ ডুবিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। আর ইচ্ছে করছে ওই কনকচাঁপা গাছটার গায়ে হাত বোলাতে। নাক ভরে গন্ধ নিতে ফুলগুলোর।

 

বদহজম থেকে বাঁচুন

এক কথায় বলতে গেলে, অতিমারির  পর বদলে গেছে আমাদের জীবনশৈলী।অনেকদিন গৃহবন্দি থাকার পর মুক্ত হয়ে ইদানীং  তেলঝাল-যুক্ত মুখরোচক খাবার হয়তো বেশি খেযে নিচ্ছি আমরা। ফলে, অনেক সময় প্রকট হচ্ছে বদহজমের সমস্যা। এরই পাশাপাশি, বেশি খাওয়া এবং তুলনায় কম পরিশ্রমের জন্য, বাড়ছে দেহের ওজনও। আর এই ওজন বৃদ্ধি এবং বদহজম মানেই হার্ট এবং লিভারের উপর চাপ পড়া। ফলে, যে-কোনও সময হার্ট অ্যাটাক কিংবা লিভারের বড়ো অসুখে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে৷ এই সব শারীরিক সমস্যার সঙ্গে যদি কেউ করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে বিপদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে অনেকটাই। অতএব, সতর্কতা এবং সমস্যার সমাধান করা জরুরি।

প্রথমেই বুঝতে হবে, একেক জনের মেটাবলিজিম বা হজমশক্তি একেক রকম হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে, একই রকম খাবার খেয়েও একজন মোটা হয় কিন্তু আরেক জন হয় না।অনেকের ল্যাকটো বা দুধ হজম করতে সমস্যা হয়। সেক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার একেবারে বাদ না দিয়ে, ধীরে ধীরে সেটার সহ্য ক্ষমতা বাড়াতে হবে। কারণ দুধ হজমে দরকারি ল্যাকটোজ নামে এক ধরনের এনজাইম শরীরে নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলেও, তা আবার নিঃসরণ শুরু করা সম্ভব। আর এ জন্যই কোন খাবারে হজম প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় বা সমস্যা হয় সেটি জানাটা জরুরি।এছাড়া অনেক সময় নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের অভাবেও হজমশক্তি দুর্বল হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিলে তা শক্তিশালী করা সম্ভব।

Avoid in between meals

সমস্যামুক্ত হওয়ার উপায়

  • প্রথমে, নিজেকে সুস্থ রাখার মানসিক প্রস্তুতি নিন। আগের মতো নিয়ম-নিষ্ঠার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করুন।
  • ভোরবেলা বিছানা ছাড়ুন, যোগাসন করুন অথবা হাঁটুন অন্তত তিরিশ মিনিট। এর ফলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে।
  • এর পর হালকা গরম জলে এক চা-চামচ পাতিলেবুর রস মিশিযে পান করুন। এতে শরীরে ভিটামিন সি যুক্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং পেট পরিষ্কার থাকবে।
  • দিনের এবং রাতের খাবার খেতে হবে নির্দিষ্ট সময়ে৷ খাবারের পরিমাণ থাকবে অল্প। বেশী তেলঝাল-যুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে। পরিবর্তে শাকসবজি, স্যালাড এবং ফলমূল রাখতে হবে খাদ্য তালিকায়। ডিম, মাছ এবং মাংস, অর্থাত্ প্রেটিন-যুক্ত খাবার খেতে হবে অল্প পরিমাণে।
  • এ প্রসঙ্গে মনে রাখবেন, আগের স্বাভাবিক জীবনে (অতিমারির আগে) যে-পরিমাণ খাবার খেতেন, তার থেকে অন্তত ৩০ শতাংশ খাবার কম খাবেন এখন। কিন্তু প্রোটিন এবং ভিটামিন-এ ব্যালেন্স রাখতে হবে।
  • কমাতে হবে কার্বোহাইড্রেট-যুক্ত খাবার। তাই ক্যালোরি বেশি আছে এমন খাবার এবং পানীয়, যেমন চকোলেট, আইসক্রিম, পেস্ট্রি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ, ননভেজ চাউমিন, ঠান্ডা পানীয প্রভতি খাওযা বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে, বন্ধ করতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপানের কু-অভ্যাস।

নতুন বছরে ফিটনেস Unlimited

নতুন বছরে শরীর-স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে বিশেষ সংকল্প অলরেডি নিয়ে ফেলেছেন? কী ঠিক করলেন? নিজেকে ফিট রাখতে কিছু বাড়তি ওজন ঝরাতে হবে, না কি নিজের হারানো ফিটনেস ফিরিয়ে এনে তাকে মেইনটেন করবেন? এমন নয় তো যে, চট্জলদি ফিট্নেস ফিরে পেতে কিছু শর্টকাট পদ্ধতি ট্রাই করতে শুরুও করে ফেলেছেন?

তাহলে আপনার জানা উচিত, আপনার এই প্রচেষ্টার ফল সুদূরপ্রসারী নয়। সুতরাং বুঝেশুনে এমন চেষ্টা করা উচিত, যাতে ওজন লাগাতার কমার সঙ্গে সঙ্গে সেটা কন্ট্রোলেও থাকে। এই ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে জুম্বা এবং ওয়েট লিফটিং ব্যায়াম।

জুম্বা-র গুরুত্ব

রোগা হওয়ার উপায় হিসাবে, অনেকেই জিম যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু জিমে সাধারণত যেসব উপকরণ এবং মেশিন থাকে সেগুলিতে গতানুগতিক ভাবে ওয়ার্কআউট করে যাওয়া তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পছন্দ করেন না। তাঁরা ফিট্নেস পেতে কিছু অন্যরকম চেষ্টা করে দেখতে চান। আর জুম্বা তাদের মনোরঞ্জন করবে সঙ্গে উৎসাহও জোগাবে।

৯০-এর দশকে কলোম্বিয়ান ডান্সার অ্যালবার্তো ‘বেটো’ পেরেজ, জুম্বা ফিটনেস প্রোগ্রাম-টির সূচনা করেন। এটি নাচ এবং অ্যারোবিক এক্সারসাইজের একটি সমন্বয়। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন ডান্স শৈলীর উপর নির্ভর করে এই জুম্বা শৈলী গড়ে তোলা হয়েছে। এই ওয়ার্কআউট খুব দ্রুত ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে। পায়ের উপর ভর করে হিপহপ এবং সালসার সংমিশ্রিত বিট্‌স ফলো করে বডি-কে মুভ করাতে হয়।

এই ডান্স সাধারণত ভরপুর এনার্জির সঙ্গে  দল বেঁধে করা হয়ে থাকে এবং এর মূল লক্ষ্য হল ফিট্নেস কায়েম রাখা। জুম্বা যেহেতু খুব দ্রুতগতির ওয়ার্কআউট, তাই ট্রেডমিল অথবা ক্রসট্রেনার-এর চাইতে অনেক তাড়াতাড়ি ফ্যাট বার্ন করতে সক্ষম।

ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়েঃ কার্ডিওভাস্কুলার এক্সারসাইজের খুব ভালো বিকল্প হল জুম্বা। দ্রুত এবং মধ্যম গতিতে এই এক্সারসাইজটি করতে হয় এবং ইন্টারভাল ট্রেনিং-এর মতো কাজ করে। ফলে শরীরের সমস্ত মাংসপেশি, বিশেষ করে পিঠ এবং পেটের জন্য খুব লাভদায়ক। জুম্বা-য় ব্যবহৃৎ জটিল মুভমেন্ট, শরীরের মাংসপেশির ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়, শরীরকে ব্যালেন্সড রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও শক্তিতে ভরপুর এই ওয়ার্কআউটের আর একটা লাভ হল – শরীরের সমস্ত মাংসপেশিকে সক্রিয় রেখে শরীর ফিট রাখতে সাহায্য করে। যে-কোনও বয়সেই এই এক্সারসাইজ-টি করা যেতে পারে। কারণ, শরীরের জয়েন্টের উপর এর প্রভাব খুব কম পড়ে। ফিট থাকার জন্য ৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি যে-কোনও ব্যক্তি জুম্বা প্রাকটিস করতে পারেন।

——-

 

ভরাডুবি

হ্যালো, অ্যাম আই টকিং টু মিস্টার মৃণাল সোম? একটি মিষ্টি সুরেলা নারীকণ্ঠ ভেসে এল ফোনের ভিতর থেকে।

ইয়েস, স্পিকিং, মৃণালও বিনম্র স্বরে প্রত্যুত্তর দিল।

স্যার, দিস ইজ নিশা ফ্রম হোটেল সানস্টার। উই ফাউন্ড আ ওয়ালেট হ্যাভিং সাম মানি, এটিএম কার্ড অ্যান্ড আদার ইমপর্টেন্ট কার্ডস উইথ ইযোর আইডেন্টিটি ইন আওয়ার কনফারেন্স হল। ইউ আর রিকোযে্টেড টু কালেক্ট ইট ফ্রম রিসেপশন, থ্যাংক ইউ।

লাইন কেটে গেল। এই অপ্রত্যাশিত আনন্দে ঠিক কী রিঅ্যাক্ট করা দরকার ভেবে পেল না মৃণাল। চেয়ারটা টেনে বসে পড়ল। রাতের সমস্ত টেনশন এক মুহূর্তে ছু-মন্তর হয়ে যেতে শারীরিক ভাবে যেন কিছুটা নিজেকে দুর্বল মনে হল মৃণালের। রাতের ঘটনাটা মনে পড়ল। গতকাল রাতে অফিসেরই একটা সেমিনার অ্যাটেন্ড করতে ওই হোটেলে গিয়েছিল সে। রাতে বাড়ি ফিরে একটা কাগজ পার্স থেকে বার করতে গিয়ে খেয়াল হয়, প্যান্টের পকেট তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেছে মৃণাল। কোথাও নেই। সেই থেকে টেনশন শুরু হয়েছে তার। সকালে উঠে পার্স পাওয়া গেছে জেনে স্বস্তি অনুভব করল সে।

তাড়াতাড়ি স্নান, ব্রেকফাস্ট সেরে সে সোজা হোটেলের রাস্তা ধরল। হোটেলের সামনে যখন পেঁছোল তখন ঘড়িতে প্রায় দশটা বাজতে চলেছে। হোটেলে ঢুকে মৃণাল সোজা রিসেপশনের দিকে পা বাড়াল। রিসেপশনে বসে থাকা মেয়েটিকে দেখে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল মৃণাল। লক্ষ্য করল মেয়েটি সুন্দরী এবং স্মার্ট। মৃণালকে দেখে এক মুখ হাসি নিয়ে মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ স্যার?

আই অ্যাম মৃণাল, মৃণাল সোম। ইউ আর নিশা আই থিংক। ইউ কলড মি ইন দ্য মর্নিং।

ও… ও… ইয়া…, বলতে বলতেই মেয়েটি কাউন্টারের নীচে রাখা মৃণালের পার্স-টা বার করে মৃণালের ছবিটা দেখে শিওর হয়ে পার্স-টা মৃণালের হাতে ধরিয়ে দিল।

থ্যাংকস এগেন নিশা। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড ক্যান উই হ্যাভ আ কাপ অফ কফি টুগেদার প্লিজ। নিশাকে থ্যাংক ইউ জানাবার একটা রাস্তা খুঁজছিল মৃণাল।

সরি, ইটস ডিউটি টাইম, ক্যাচ ইউ লেটার, বলে মিষ্টি হেসে নিশা অন্য কাজে মন দিল।

চলে যাওয়ার স্পষ্ট ইশারা সত্ত্বেও মৃণাল নড়ল না। মুখে হাসি টেনে বলল, অ্যাজ ইউ উইশ। বাই দ্য ওয়ে ক্যান আই হ্যাভ ইযোর কনট্যাক্ট নাম্বার প্লিজ?

সরাসরি এবার নিশা তাকাল মৃণালের দিকে। মৃণাল একটু ইতস্তত করে আবার বলল, আপনাকে কফির জন্য ইনভাইট করতে চাই, তাই কনট্যাক্ট নাম্বারটা থাকলে সুবিধা হবে।

নিশা একটা ভিজিটিং কার্ড মৃণালকে দিতেই মৃণাল একবার চোখ বুলিয়ে সেটা পার্সে ঢুকিয়ে নিল। থ্যাংক্স জানিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াল।

গতকাল সেমিনারের পর আজ মৃণালের ছুটি ছিল অফিসের। তাই হোটেল থেকে সোজা বাড়িতে ফিরে এল। বাড়ি ঢুকে ঊষাকে চা তৈরি করতে বলে জামাকাপড় বদলাতে ঘরে ঢুকে গেল সে। মেজাজটা বেশ ফুরফুরে মনে হচ্ছিল, তাই নিজের অজান্তেই একটা গানের কলি গুনগুনিয়ে উঠল। সেই মুহূর্তে ঊষা চা নিয়ে ঘরে ঢুকতেই, মৃণালকে দেখে একটু অবাক হল। কী ব্যাপার হঠাৎ এত রোমান্টিক হয়ে উঠলে? গান গাইতে তো কখনও শুনি না। কাউকে নতুন মনে ধরল নাকি?

কেন গান গাওয়াটা কি দোষের? বিরক্ত হয়ে জবাব দিল মৃণাল।

গান গাওয়াটা দোষের সেটা তো আমি একবারও বলিনি। তোমার সঙ্গে কথা বলাটাই আমার দোষ হয়েছে, ঝাঁঝিয়ে ওঠে ঊষা।

বাইরে যতক্ষণ থাকো ততক্ষণ ফুল এনার্জি। আর বাড়িতে ঢুকলেই, কী হয় কে জানে, খুশির বেলুন চুপসে গেছে মনে হয়, বলে বিড়বিড় করতে করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায় ঊষা।

চা খেয়ে মৃণাল নিশার কার্ডটা পার্স থেকে বার করে মোবাইল নম্বরটা নিজের মোবাইলে সেভ করে নেয়। হোয়াটস অ্যাপে একটা মেসেজ লেখে, হাই… দিস ইজ মৃণাল। সকালে হোটেলে আপনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ইউ রিটার্নড মাই পার্স। আশা করি ভবিষ্যতেও আমরা আবার দেখা করব।

সারা রাত অপেক্ষা করার পর সকালে মোবাইলে চোখ পরতেই নিশার পাঠানো গুড মর্নিং সঙ্গে স্মাইলি দেখে মৃণাল খুশিতে ডগমগ হয়ে উঠল। সঙ্গে একটা উত্তেজনাও অনুভব করল।

রোজকার মতো তৈরি হয়ে অফিস চলে গেল মৃণাল। কিন্তু সারাটা দিন কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারল না। চোখের সামনে নিশার টানা দুটো চোখের লুকিয়ে থাকা অভ্যর্থনা খালি তাকে আকর্ষিত করতে থাকল।

কোনওক্রমে অফিসে বিকেল অবধি কাটিয়ে বাইরে এসে নিশাকে ফোন করল মৃণাল। তার মধুর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে উঠেছিল সে। সাধারণ কিছু কথাবার্তা হওয়ার পর নিশা জানাল, সে এখনও ডিউটিতে রয়েছে।

ঠিক আছে সময় হলে প্লিজ একটা ফোন করবেন, বলে মৃণাল ফোন ছেড়ে দিল।

নিশাও ভিতরে ভিতরে একটা দুর্বার আকর্ষণ বোধ করছিল মৃণালের প্রতি। হোটেলের কাজে রোজই নতুন নতুন পুরুষের সঙ্গে তার কথা হয়, কখনও সেটা আলাপ পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু মৃণালের জন্য আলাদা করে একটা টান, উত্তেজনা বোধ করে নিশা। সুতরাং আটটায় ডিউটি শেষ হতেই মৃণালকে, কল করে সে বলে, এই এতক্ষণে ছাড়া পেলাম।

আমি তো ভাবলাম আপনি ভুলেই গেছেন আমার কথা, মৃণাল একটু অভিমান ভরা স্বরে বলে। কিন্তু নিশার কথার জাদুতে উপলব্ধি করে, বাস্তব থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে সে। নিশার জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলছে।

প্রায় দশদিন ফোনেই চলল বার্তালাপ। কিন্তু এই কটা দিনে, তারা আরও পরস্পরের মনের কাছাকাছি চলে এল। আরও ভালো করে একে অপরকে জানল। একদিন মৃণাল সাহস করে নিশাকে কফি খেতে যাওয়ার প্রস্তাব দিল। নিশাও মৃণালের সান্নিধ্য পেতে চাইছিল। এর পর প্রায়শই নিশাকে মৃণালের অফিসে আবার কখনও মৃণালকে নিশার হোটেলে দেখা যেতে লাগল।

নিশার সঙ্গে আলাপের দুমাস কেটে যাওয়ার পরও মৃণাল কিছুতেই এই সম্পর্কটা থেকে, নিজেকে নিশার আকর্ষণ থেকে মুক্ত করতে পারল না। হয়তো মনে মনে সে এটাই চাইছিল। তার বোরিং জীবনে নিশার উপস্থিতি মৃণালকে মুক্ত বাতাসের অনুভতি এনে দিত। নিশার প্রেমে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিল সে। একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে বলে মনে হতো মৃণালের। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে আসার ইচ্ছেটাও ধীরে ধীরে ক্ষীণতর হয়ে যাচ্ছিল মৃণালের মনে।

আগে আট দশদিনের মধ্যে একবার হলেও শারীরিক প্রয়োজন মেটাতে ঊষার দ্বারস্থ হতে হতো তাকে। তার জন্যে ঊষার গঞ্জনা সহ্য করতে হতো মৃণালকে। কিন্তু নিশার সঙ্গে আলাপের পর, ঊষার প্রতি, এই দাম্পত্যের প্রতি একটা বিতৃষ্ণার মনোভাব তাকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে বুঝতে পারল মৃণাল। কল্পনার জগতে সেই প্রয়োজন মেটাতে নিশাকেই বেছে নিয়েছিল সে। শুধু অপেক্ষায় দিন গুনছিল কবে এই স্বপ্নের জগত বাস্তবে রূপান্তরিত হবে।

মৃণাল কখনও কখনও নিশাকে রোমান্টিক কবিতা লিখেও পাঠাত। নিশা উত্তর দিতে দেরি করত না। শোবার ঘরের বন্ধ দরজার আড়ালে মেসেজগুলো পড়তে পড়তে মৃণালের মুখে হাসি ফুটে উঠত। ল্যাম্পের মৃদু আলোয় নিশার বিবস্ত্র দেহটা পাশেই অনুভব করত। ভিতরে ভিতরে কামনার আগুনে জ্বলতে থাকত মৃণাল।

নিশার প্রতি আকর্ষণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ঊষার সঙ্গে সম্পর্কটা আরও শীতল হয়ে উঠল। এক বিছানায় শুয়ে থাকলেও নিজেদের মধ্যে হাজার মাইলের দূরত্ব অনুভব করত তারা দুজনেই। মৃণালের যেন দমবন্ধ হয়ে আসত বাড়িতে ঢুকলে। কথাতেই আছে ভালোবাসা আর সুগন্ধ লুকোনো যায় না। মৃণালের চরিত্রের পরিবর্তনও ঊষাকে সন্দিগ্ধ করে তুলছিল। একদিন মৃণাল যখন বাথরুমে ঢুকেছে, ঊষা ওর মোবাইল চেক করতে গিয়ে নিশার পাঠানো মেসেজগুলো এক এক করে পড়তে লাগল। সবকিছু তার চোখের সামনে উন্মোচিত হল।

রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে মনে হল, তখনই মৃণালকে বাথরুম থেকে টেনে বের করে জিজ্ঞেস করে এসবের মানে কী? কিন্তু কী ভেবে ঊষা নিজেকে সামলে নিল। আরও মজবুত প্রমাণের অপেক্ষায় সেদিনের মতো নিজেকে নিরস্ত করল। ফোন সঠিক জায়গায় রেখে দিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করার জন্য ঘর ছেড়ে রান্নাঘরে কাজ সারতে চলে গেল, যেন কিছুই হয়নি।

সেদিন মৃণালের অফিসের বার্ষিক গেট-টুগেদার পার্টি ছিল। মৃণালের সঙ্গে ঊষাও এসেছিল পার্টিতে। ঊষাকে একা দেখতে পেয়ে মৃণালের কলিগ মৃদুলা ঊষার কাছে এসে দাঁড়াল, কী বউদি, কেমন আছেন?

মৃদু হেসে ঊষা জবাব দিল, ভালো। আপনি?

মৃদুলা, ঊষার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে চারপাশ দেখে ঊষার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে প্রশ্ন করল, বউদি এতদিন ধরে আপনাদের দেখছি, এখন মনে হচ্ছে আপনি দাদাকে একটু বেশিই স্বাধীনতা দিয়ে ফেলেছেন। দাদা তো দেখি সবসময় আকাশে উড়ছেন।

কেন কী হয়েছে? আমার তো এই ব্যাপারে কোনও আইডিয়া নেই। বরং অফিসে সারাটা দিন কী হচ্ছে সেটা আপনিই ভালো বলতে পারবেন। কী হয়েছে?

ঊষা, মৃদুলার মনের কথা পড়ার চেষ্টা করে।

খুব বেশি কিছু জানি না, তবে লাঞ্চ টাইমে প্রায়ই দেখি একটা ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গে দাদা বাইরে চলে যান। একদিন দেখেছিলাম একটি সুন্দরী মেয়ে নীচে অপেক্ষা করছিল দাদার জন্য। বুঝতে পারলাম কারণ দাদা ওর হাত ধরে কথা বলতে বলতে অফিস থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেন, মৃদুলার বর্ণনায় ঊষা ভিতরে ভিতরে দাবানলের মতো জ্বলে ওঠে কিন্তু মুখে কিছু প্রকাশ করে না।

পার্টিতে ঊষার মন ছিল না, তাই মৃণাল বাড়ি ফেরার প্রস্তাব দিতেই সঙ্গে সঙ্গে ঊষা রাজি হয়ে গেল। বাড়ি ঢুকতেই নিজেকে আর চেপে রাখতে পারল না ঊষা। সোজা মৃণালের মুখোমুখি হল সে, মৃদুলা একটি মেয়ে কথা বলছিল, মেয়েটি কে?

মৃণাল একটুও অবাক না হয়ে বলে, আমার একজন বান্ধবী, এনি প্রবলেম?

আমার কেন প্রবলেম হবে? যার স্বামী বাইরে প্রেম করে বেড়াচ্ছে, তার স্ত্রীয়ের জন্য সেটা তো খুব গর্বের। তাই না! খোঁচা দেওয়ার ভঙ্গিতে বলে ঊষা।

কখনও নিজেকে আয়নায় দেখেছ? যে-কোনও ভালো লোকেরও মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে তোমায় দেখলে। নিশার সঙ্গ যদি আমার ভালো লাগে, তাতে তোমার কী ক্ষতি হচ্ছে? তোমার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা তো আমি করেই রেখেছি, মৃণাল ধৈর্য হারিয়ে ফেলে।

আমার কোনও উপকারে কোনও দিন লেগেছ যে, আজ আমার নতুন করে কোনও ক্ষতি হবে? আমার নিজের কপাল যেখানে খারাপ সেখানে অন্য কাউকে দোষ দিয়ে কী হবে? বলে ঊষা চোখের জল চাপতে বাথরুমে গিয়ে ঢুকল।

আসছে শনিবার নিশার জন্মদিন মৃণাল জেনে নিয়েছিল। সেই দিনটায় তিন-চার ঘন্টা সময় শুধু নিজের জন্য চেয়ে নিয়েছিল মৃণাল নিশার কাছে। রাজিও হয়ে গিয়েছিল নিশা।

কথামতো নির্ধারিত সময়ে কিছু আগেই মৃণাল সানস্টার হোটেলে পৌঁছে গেল। অদ্ভুত এক উৎসাহ আর উত্তেজনায় শিহরিত হচ্ছিল মৃণালের শরীর। নিশা তাকে একটা ভিআইপি রুমে নিয়ে গেল। ঘরে ঢুকে ফুলের বোকেটা নিশার হাতে দিতে দিতে, নিশাকে হ্যাপি বার্থ ডে উইশ করল মৃণাল। একটু ইতস্তত করে নিশার গালে একটা হালকা চুম্বন এঁকে দিল।

এই প্রথম মৃণাল নিশাকে স্পর্শ করল। দ্বিধা একটু ছিলই কারণ এতে নিশার কী প্রতিক্রিয়া হবে সেটা মৃণালের জানা ছিল না। কিন্তু নিশা মৃণালকে কোনও বাধা দিল না। এতে মৃণালের সাহস আর একটু বাড়ল। সে নিশাকে হাত দিয়ে টেনে নিয়ে আরও অন্তরঙ্গ হতে চাইল। নিশার তরফে কোনও বাধা এবারও এল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইরের জগতটা ভুলে গিয়ে দুজনে একে অপরের কাছে আত্মসমর্পণ করল।

রুমের ইন্টারকমটা বেজে উঠতেই দুজনের সম্বিৎ ফিরে এল। বিকেলে এই ঘরটার বুকিং আছে, তাই তক্ষুণি রুম ছাড়তে হবে। মৃণালের কিছুতেই ইচ্ছে করছিল না নিশার সঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তটা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। দশ বছরের বিবাহিত জীবনে মৃণালের কাছে যা-কিছু অধরা ছিল, তার দ্বিগুন সে আজ নিশার কাছে পেয়ে তৃপ্তি বোধ করছিল। জামাকাপড় পরে তৈরি হয়ে বেরোবার আগে মৃণাল ভালোবাসার প্রমাণ-স্বরূপ নিজের সোনার আংটি-টা নিশার আঙুলে পরিয়ে দিল।

সারাদিন ফোনে কথা, মেসেজ, হোয়াটস অ্যাপ, চ্যাটিং এই নিয়ে মৃণালের ব্যস্ততা দিন দিন বাড়তে শুরু করল। এমন হয়ে দাঁড়াল পরিস্থিতি প্রায় পাগলামির পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছল। অফিসের কাজে মন বসানো দায় হয়ে উঠল। অস্থিরতা যেদিন সহ্যের বাইরে চলে যেত, কাজ ছেড়ে মৃণাল, নিশার সঙ্গে দেখা করতে ছুটত। নিশার ডিউটি থাকলে, নিজেই হোটেলে গিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করত। মাসে দুতিনবার হোটেলের রুম সারাদিনের জন্য বুক করে, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে রাত করে বাড়ি ঢুকত মৃণাল।

প্রতি মাসে স্যালারির একটা বড়ো অংশ নিশার জন্য খরচ করে ফেলত সে। ফলে সংসারে টাকা দেওয়াটা ধীরে ধীরে কমতে লাগল। প্রথম প্রথম ঊষা অনেক বোঝাবার চেষ্টা করল মৃণালকে। সমাজে থাকতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করল কিন্তু এই মৃণাল যেন একেবারে অন্য মানুষ। কাউকেই তোয়াক্কা করে না। অগত্যা ঊষাও কিছু বলা ছেড়ে দিল। এটাই নিজের ভবিতব্য মেনে নিল সে। কারণ ঊষারও কোথাও যাওয়ার উপায় ছিল না। পাছে পরিস্থিতি ডিভোর্স অবধি পৌঁছোয়, এই ভেবে সে মুখে কুলুপ আঁটল। মৃণাল ছাড়া তার আর কে আছে যার কাছে গিয়ে বাকি জীবনটা কাটাতে পারে? ভেবে দেখল কেউই নেই! এই তার নিয়তি, সুতরাং ভরসা যদি করতেই হয়, তাহলে সময়ের উপরেই করা ভালো।

এই ভাবেই বহমান নদীর ধারার মতোই দিনগুলো হাসি-কান্না নিয়ে বয়ে যেতে থাকল। প্রায় এক বছর হতে চলল নিশার সঙ্গে মৃণালের পরিচয় হয়েছে। মৃণাল মনে মনে ঠিক করে রাখল এক বছর যেদিন পূর্ণ হবে, সেদিনটা নিশার সঙ্গে খুব এনজয় করবে। লং ড্রাইভে কোথাও যাওয়ার প্ল্যানিং করে রাখল। বেশ কদিন হল মৃণালের খালি মনে হচ্ছে নিশা যেন অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত। মৃণালের ফোন কখনও কখনও ধরছে না। কারণ জিজ্ঞেস করলে এটা-সেটা বলে এড়িয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ সময়ে নিশার ফোন ব্যস্ত থাকছে।

একদিন প্রথম চেষ্টাতেই নিশাকে ফোনে পেয়ে গেল মৃণাল, নিশা আজ প্লিজ সন্ধেবেলায় দেখা করো। জরুরি আলোচনা আছে, কাকুতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে মৃণালের গলায়।

মৃণাল প্লিজ, আজ কিছুতেই হবে না। ডিউটির পর আমার অন্য কাজ রয়েছে। ওয়েট ফর নেক্সট টাইম ডার্লিং, নিশার লাইন কেটে যায়।

আজ প্রথমবার নয়, মৃণাল এই নিয়ে সাত-আটবার তাকে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেছে। প্রতিবারই নিশা কিছু না কিছু অজুহাত দেখিয়ে মৃণালকে এড়িয়ে গেছে। আজ প্রথম মৃণালের খটকা লাগল, তাহলে কি ইচ্ছে করেই মৃণালের সঙ্গে দেখা করতে চাইছে না নিশা? সন্দেহটা পাকাপাকি ভাবে মৃণালের মনে গেঁথে বসল।

হঠাৎই পরের দিন নিশাকে কিছু না জানিয়ে, মৃণাল তার হোটেলে গিয়ে উপস্থিত হল। রিসেপশনে নিশাকে দেখতে না পেয়ে একজন ওযেটারকে দেখে দাঁড় করাল মৃণাল। নিশা কোথায়, জিজ্ঞেস করতেই লোকটি জানাল, ম্যাডাম একজন অতিথির সঙ্গে ডাইনিং হলে রয়েছেন।

মৃণাল হোটেলের ডাইনিং হলের দিকে পা বাড়াল। হলের দরজায় আসতেই চোখে পড়ল, দরজার দিকে পিঠ করে নিশা সোফায় বসে। পাশে একজন পুরুষ যার কাঁধে মাথা রেখে দুজনে নিজেদের মধ্যে মৃদুস্বরে কথোপকথনে ব্যস্ত। দরজার দিকে দুজনের পিঠ থাকায় মৃণালের উপর কারওরই নজর পড়ল না।

চুপচাপ মৃণাল রিসেপশনে ফিরে এল। ওখানে সোফায় বসে নিশার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। প্রায় আধঘন্টা পর দেখল নিশা, পুরুষবন্ধুটির হাত ধরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসছে। মৃণালের দিকে চোখ পড়তেই নিশার মুখ-চোখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। তাড়াতাড়ি হাত ছেড়ে দিয়ে বন্ধুটিকে দরজা অবধি পৌঁছে দিয়ে এসে, মৃণালের সামনে এসে দাঁড়াল।

এসব কী নিশা? ছেলেটি কে? রাগ সামলে কোনও মতে জিজ্ঞেস করল মৃণাল।

কেন কী হয়েছে? আমার কোনও বন্ধু থাকতে পারে না? তোমার চোখমুখ দেখে মনে হচ্ছে যেন সপ্তম আশ্চর্যের একটা তুমি হঠাৎ দেখে ফেলেছ। এত উত্তেজিত হওয়ার কী আছে? অবহেলার স্বরে কথাগুলো বলে নিশা মুখ বিকৃতি করল।

দ্যাখো নিশা এসব আমার একদম পছন্দ নয়। তোমরা যেভাবে হাত ধরেছিলে তাতে এটা স্পষ্ট যে, ছেলেটি তোমার বন্ধু নয়। কে ছেলেটি? গলার জোরে প্রকাশ পায় মৃণাল নিজের রাগ চেপে রাখতে পারছে না।

বললাম তো আমার বন্ধু। গলার স্বর নামিয়ে কথা বলো। আমি তোমার কেনা সম্পত্তি নই যে, আমার উপর অধিকার ফলাচ্ছ, নিশাও অধৈর্য হয়ে ওঠে।

মৃণাল নীচু গলায় বলে, কিন্তু তুমি তো আমাকে ভালোবাসো নিশা। তুমিই বলেছিলে আমিই তোমার প্রথম ভালোবাসা। হতাশ শোনায় মৃণালের কণ্ঠস্বর!

হ্যাঁ, তখন বলেছিলাম। কিন্তু বইতে কি কোথাও লেখা আছে, মানুষের জীবনে ভালোবাসা একবারই আসে? দ্বিতীয় কিংবা ততীয়বারও তো মানুষ অপর কাউকে ভালোবাসতেই পারে। দ্যাখো মৃণাল এটা আমার জীবন। এতে অন্য কেউ নাক গলাক আমি চাই না। তুমি আমার ভালো বন্ধু, এর বেশি কিছু নও। বন্ধু হয়ে যদি থাকতে পারো… ওয়েল অ্যান্ড গুড আর নয়তো, তুমি সম্পূর্ণ স্বাধীন, যেখানে খুশি যেতে পারো। এই বলে নিমেষে মৃণালের মুখ বন্ধ করে দেয় নিশা।

কিন্তু আমাদের সম্পর্ক, সেটার কী হবে? আমাদের এত দিনের মেলামেশা, স্বপ্ন দেখা, তোমাকে আংটি পরানো এই সব কিছু এত সহজে এক ঝটকায় শেষ করে ফেলতে চাইছ তুমি, তোমার বিবেক তোমাকে প্রশ্ন করবে না? মৃণাল কিছুতেই বাস্তব-টাকে মেনে নিতে পারছিল না।

মৃণাল বিবেকের দংশন কি আমি একাই সহ্য করব? তুমি যখন ঊষাকে ছেড়ে আমার কাছে এসেছিলে তখন তোমার বিবেক কোথায় ছিল? একবারও কি ঊষার কথা তোমার মনে হয়েছিল? বাঃ মৃণাল! তুমি করলে সেটা ভালোবাসা, আর আমি করলে সেটা ঠকানো। এ কী রকম পরস্পরবিরোধী চিন্তাধারা তোমার? নিজের খুশি খুঁজে নেওয়ার অধিকার কি কেবল তোমাদের পুরুষদেরই আছে? আমাদের মেয়েদের কি কোনও অধিকারই নেই? ওদের সম্পর্কের রসায়ন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে নিশা মৃণালকে একা বসিয়ে রেখে, ঝড়ের গতিতে হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে এল।

আজ এতদিন পর মৃণাল উপলব্ধি করল, ঊষাকে সে কতবড়ো আঘাত দিয়েছিল। এই সম্পর্কের ভরাডুবি, ঊষা হয়তো অনেক আগেই উপলব্ধি করে ফেলেছে। নিজের ব্যথার থেকেও আজ ঊষার মনের ব্যথাটা মৃণালকে বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলল। কোনওমতে নিজেকে টেনে তুলল মৃণাল, মন্থর গতিতে হোটেল ছেড়ে রাস্তায় পা বাড়াল। এখুনি বাড়ি ফিরতে হবে। হয়তো এখনও খুব বেশি দেরি হয়নি। ঊষা হয়তো রোজের মতো আজও জানলায় চোখ রেখে তার ফেরার অপেক্ষা করছে।

 

‘বেগ ফর লাইফ’ ছবির ট্রেলার লঞ্চ করা হল সম্প্রতি

শুভেন্দু দাস পরিচালিত ‘বেগ ফর লাইফ’ ছবির কাহিনির কেন্দ্রীয় বিষয় হল—ভিক্ষাবৃত্তি এবং মাফিয়ারাজ। এক মা তাঁর সন্তানকে অপরাধীর হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন নাকি নির্মম পরিণতির শিকার হবেন, তা-ই এই ছবির ক্লাইম্যাক্স। ছবিটি ইতিমধ্যেই হাফ ডজনের বেশি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত,সম্মানিত এবং পুরস্কৃত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। এই তালিকায় আছে দাদাসাহেব ফালকে ফিলম ফেস্টিভ্যাল, টেগর ইন্টারন্যাশনাল ফিলম ফেস্টিভ্যাল, ইন্ডিয়ান সিনে ফিলম ফেস্টিভ্যাল মুম্বাই প্রভৃতি। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার প্রাপ্তির তালিকায় আছে রাষ্ট্রীয় প্রেরণা অ্যাওয়ার্ড এবং গোল্ডেন ফক্স অ্যাওয়ার্ড।

film beg for life
Moment of ‘Beg For Life’ film’s press conference.

পরিচালক শুভেন্দু দাস এর আগেও তাঁর বিভিন্ন ছবি এবং তথ্যচিত্রের মাধ্যমে পরিবেশন করেছেন জোরালো সামাজিক বক্তব্য। ‘বেগ ফর লাইফ’-এও তিনি বজায় রেখেছেন একই ধারা।

‘সৌম্যদীপ ফিলমস’-এর ব্যানারে ‘বেগ ফর লাইফ’ প্রযোজনা করেছেন সৌম্যদীপ মণ্ডল। এই ছবিতে জীবনের শেষতম অভিনয় করেছেন প্রয়াত তাপস পাল। অন্যান্য চরিত্রে রূপদান করেছেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, স্নেহা বিশ্বাস, শ্রীকান্ত মান্না, রনি বিসোয়াল, রূপম দাস, সৌমাল্য সাধুখাঁ, সায়নদীপ দে, প্রীতি নায়েক প্রমুখ।

ছবিটির চিত্রগ্রহনের দায়িত্বে ছিলেন আবির দত্ত। গান লিখেছেন সুরজিত বারিক। সুরারোপ করেছেন সুমন্ত সামন্ত। কন্ঠদান করেছেন স্নেহা বিশ্বাস এবং জয়দীপ সেন। ২৫ ডিসেম্বর মুক্তি পেতে চলা ‘বেগ ফর লাইফ’ ছবিটি সবার মন জয় করে নেবে, এমন-ই আশা প্রকাশ করেছেন পরিচালক শুভেন্দু দাস।

beg for life
Shooting still of film ‘Beg For Life’. Actor Tapas Pal (late).

——

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব