রাজকুমারী

‘সুমন শুধু শরীর বোঝে। ও অন্য একটা মেয়ের সাথে ইনভলভড। সেই মেয়েটা আনম্যারেড, বয়স চব্বিশ। তাই আমাকে প্রতিদিন শুনতে হয়, ইউ আর ভেরি মাচ লুজ অন বেড…’

তিন্নির চোখ ভিজে ওঠে। আমি অস্বস্তি নিয়ে বসে থাকি। কী বলব বুঝতে পারি না।

বিগবাজার থেকে বের হবার মুখে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তিন্নির সাথে। তিন্নি আমার শৈশবের সহপাঠী। যাকে দেখলে বুকের মধ্যে মেঘ ডাকার শব্দ পেতাম। যার হাসিতে তুফান উঠত মনের সাগরে। আছড়ে পড়া স্রোতের ঢেউ বেলাভূমিতে রেখে যেত অজস্র মণি-মুক্তো। তার আলো সারারাত ঘিরে থাকত নির্ঘুম আমাকে। তিন্নিকে বলিনি কখনও। অন্য কাউকেও নয়।

ক্লাস সেভেন এইটে এসে সব সহপাঠিনীর শরীরেই পরিবর্তন এল। আমরা ছেলেরা চুরি করে দেখতাম। আর কল্পনা করে নিতাম স্বর্গের সমস্ত সৗরভ। কিন্তু তিন্নি একই রয়ে গেল। মানে তিন্নির শরীর। তার বুকের সোনালি উপত্যকায় দেখা গেল না কোনও বন্ধুরতার আভাস। নাইন টেনে উঠে ছেলেদের গুরুতর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়াল সেটা। কিন্তু ওকে কেউ ‘নিমাই’ বললে আমার সেটা পছন্দ হতো না। কারণ তিন্নিকে ভালোবাসতাম আমি।

তিন্নি আমার পাড়ার মেয়ে। তবু কিছু বলা সম্ভব ছিল না। কারণ দু’বাড়ির বৈভবে তফাত ছিল অনেকটা। আমি স্কুল মাস্টারের ছেলে। আর তিন্নির বাবার কলকাতায় বিরাট ব্যাবসা। কয়েক বছর আগে আমার জ্যাঠতুতো দাদার সাথে তিন্নির দিদির প্রেম ধরা পড়ে যায়। তিন্নির বাবা রাস্তায় দাদাকে জুতো দিয়ে মেরেছিলেন।

তার কয়েকদিন পরেই ডেন্টাল কলেজের হস্টেলে দাদার ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। তাই এক তরফা স্বপ্নেই মশগুল ছিলাম।

হঠাৎ তাতেও বিঘ্ন ঘটে গেল। কলকাতা থেকে তিন্নির দিদির দেওর এল ওদের বাড়িতে। লম্বা, ফরসা, সুপুরুষ, সরু কার্তিকের মতো গোঁফের অধিকারী এক যুবক। কায়দা করে সিগারেট ধরিয়ে শূন্যে রিং ছাড়ত। তা ছাড়ুক। কিন্তু ও যে তিন্নিকে ছাড়বে না তা আমার মন বলছিল।তিন্নি আমার পাড়ার মেয়ে। ক্লাসের সব ছেলেদের টপকে ওর জীবনের একমাত্র পুরুষ হবার দৗড়ে আমার অগ্রাধিকার। হয়তো বোকার মতো সেটা ভাবতাম আমি। তাও ক’দিনেই উবে গেল। বুঝে গেলাম ক্লাসের কাউকে নয়, তিন্নি পছন্দ করতে শুরু করেছে তাদের নতুন আত্মীয়কে। আমার আকাশ বাতাস সব যেন কালো হয়ে গেল।

কার্তিকটির বাইকে হঠাৎ একদিন তিন্নিকে দেখা গেল। পিছনের সিটে সবুজ শাড়ি পরে। উড়ন্ত চুল কপালে লেপটে। মাঠ পেরিয়ে ওরা চলে গেল দিঘির পাড়ে। গাছের সারির ভিতর দিয়ে ওরা নেমে গেল দিঘির ভিতরে। যতক্ষণ না সন্ধ্যা নেমে আসে আমি তাকিয়ে থাকলাম সেদিকে। একসময় অন্ধকার ফুঁড়ে জ্বলে উঠল রাজকীয় বাইকের জোরালো হেডলাইট। চোখের জল মুছতে মুছতে আমি অন্ধকার মাঠের আলপথের উপর বসে নিঃশব্দে কাঁদছিলাম।তারপর আমি খেলা ও আড্ডার সব সাথিকে এড়িয়ে মাঠের এককোণে লুকিয়ে যেতাম রোজ বিকেলে। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকিয়ে থাকতাম দিঘির পাড়ের ক্রমশ আবছা হতে থাকা দুই নর-নারীর দিকে।

কয়েক মাসের মধ্যেই তিন্নির শরীরে যেন পাহাড়ি নদীর বন্যা। ছলকে ওঠা লাবণ্যের বাড়তি ঢেউ। সেই লাবণ্যের ছোঁয়ায় উচ্চাবচ বুকের মাঝে গজিয়ে ওঠা হঠাৎ স্পর্ধা। আমার পৃথিবীটা আস্তে আস্তে ছোটো হয়ে যেতে লাগল।

বিয়ে করে তিন্নি চলে গেল কলকাতায়।আমি বুঝতে পারছিলাম, তিন্নি সুখী হবে না। দুদুল-এর মতো ছেলে এক নারীতে খুশি হবার নয়। আহত বুকের রক্তক্ষরণ থেমে গেল আস্তে আস্তে।

দু’বছর পর শুনলাম ছেলে হয়েছে তিন্নির। তিন বছরের মাথায় শুনলাম ডিভোর্স হয়ে গেছে ওর। তারপর চাকরি পেয়ে আমি মুম্বই চলে যাই। আর তিন্নির সাথে দেখাও হয়নি কোনওদিন। আমার একাকী হৃদয়ের এক নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে রয়ে গেছিল তিন্নি।বহুদিন পর বাড়ি ফিরে শুনি তিন্নির দ্বিতীয় বিয়েও ভেঙে গেছে। তারই জিম ট্রেনার, তিন নম্বর বরের সাথে চলছে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

 

আজ আবার তিন্নির সাথে দেখা। প্রাথমিক কথাবার্তার পর জানলাম ও ওর বরের জন্য ওয়েট করছে। তিন্নির ফরসা মুখের উজ্জ্বল ত্বকের মধ্যেও দু’চোখের নীচে যেন কালির আভাস। উচ্ছলতার বদলে রূপসি মুখে কেমন যেন একটা ব্যথাময় মালিন্য। দু’জনে গিয়ে কফিশপে বসলাম।

‘তুই তো বহুদিন গ্রামে যাসনি। সেই কবে তোকে দেখেছি শেষ…’

‘হুম, যদিও বা দু’একবার গেছি, খুবই সামান্য সময়ের জন্য।’

‘বিয়ে করবি না…?’

একটু অপ্রস্তুত লাজুক হাসি আসে আমার মুখে। ‘হ্যাঁ, করব। দেখি…’

‘আর কবে করবি-রে, ছত্রিশ পেরিয়ে গেল…’

সত্যি তাই। মাঝে মাঝে খেদ হয়। প্রতিষ্ঠার পিছনে দৗড়াতে গিয়ে প্রথম ও মধ্য যৗবনের সোনালি সময় পেরিয়ে গেছে। বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি। এটাই সবাই জানে। আর একটা কারণ কেউ জানে না। সেটা আজ আর তিন্নিকেও বলা সম্ভব নয়। হেসে এড়িয়ে যাই প্রশ্নটা।

‘জানিস তো এটা তিন নম্বর বিয়ে। এটা অবশ্য বাবা-মার অমতে নিজের চয়েসে করেছি।’

‘শুনেছি।’ সংক্ষেপে উত্তর দিই আমি।

‘এই সাহসটা আঠারো বছর আগে দেখাতে পারলে ভালো হতো, বুঝলি…’

তিন্নির কথা শুনে চমকে উঠি আমি।

‘কিন্তু তখন সম্ভব ছিল না। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে, আর্থিক ভাবে স্বাধীন হবার পর, বিয়ের ক্ষেত্রে অনেকটা স্বাধীনতা পাওয়া যায়। কিন্তু কম বয়সে বাবা-মা’র আঁচলের তলায় থেকে মেয়েদের সব কিছু অগ্রাহ্য করা সম্ভব হয় না…

তিন্নি কি জানত আমি ওকে ভালোবাসি! মনে মনে ভাবতে থাকি আমি। আর তার পরেই চমকে উঠি ওর কথায়।

‘আর আমার যখন বিয়ে হল… তখন তুই তো নেহাতই পুঁচকে…!’ হাসে তিন্নি।

আমি অস্বীকার করতে পারি না, প্রতিবাদও নয়। ধরা পড়ে চোরের মতো আমি তাকিয়ে থাকি মাটির দিকে।

‘ঋষি, তুই আমার একটা উপকার করে দিতে পারবি…?’ হঠাৎ আমার হাত চেপে ধরে তিন্নি।

আমি আমার সারা জীবনের স্বপ্নকে সামনে বসে দেখছি।

‘হ্যাঁ, কী…বল…’

‘আমি আমার বরকে তোদের কথা বলেছি। যারা আমার সাথে পড়েছিস। তোকে একটা কাজ করতে হবে। কথায় কথায় আমার বরকে বলবি যে আমরা ২০০১-এ মাধ্যমিক দিয়েছি।’

আমি চমকে যাই। ‘কী! ২০০১-এ? কেন?’

আমার চমকে ওঠা দেখে তিন্নি যেন একটু নিভে যায়।

আমরা মাধ্যমিক দিয়েছি ১৯৯১-এ। আর ও পাক্বা দশ বছর কমিয়ে বলতে বলছে! যাকে বলব জানি না তার মনে কী প্রতিক্রিয়া হবে…

‘তুই যদি এইটুকু কষ্ট করিস তাহলে আমার এই সংসারটা টিকে যায়…’

তিন্নির মুখ গ্লানির ভারে নত হয়ে যায়। আমি বুঝে উঠতে পারি না। চোখের জল সামলে নিয়ে তিন্নিই খোলসা করে ব্যাপারটা।

ওর এখনকার বর সুমনের বয়স সাতাশ। আর তিন্নির এখন ছত্রিশ। বয়স বেশি এই অভিযোগ তুলে সুমন এখন তিন্নিকে ছাড়তে চাইছে। সংসার বাঁচাতে তিন্নি ভুরি ভুরি মিথ্যা বলেছে ওকে। মাধ্যমিকের সাল দশ বছর কমিয়ে বলেছে তিন্নি। তিন্নির সৗন্দর্য আর শরীরের গড়ন তার মিথ্যা চার-পাঁচ বছর অনায়াসে লুকিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দশ বছর! বলা অসম্ভব কিনা জানি না। তবে এটা একটা বেশ সাহসী মিথ্যা…

‘জানিস, ও এই কথাটাই বলেছে। বলেছে তোমার সাথে মাধ্যমিক দিয়েছে এমন কাউকে মিট করিয়ে দাও…’

পুরোনো বন্ধুর রিকোয়েস্টে দু’এক বছর অনায়াসে কমিয়ে বলাই যেত। কিন্তু দশ বছর! আমার দ্বিধা দেখে ফের আমার হাত মুঠোর মধ্যে ধরে তিন্নি। আমার দিকে কাতর ভাবে তাকিয়ে থাকে।

‘প্লিজ এটুকু একটু বলে দে…’

‘ওকে…তুই যখন বলছিস…’

এমন গ্লানিময় একটা বন্ধনকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিন্নিকে এতটা মরিয়া দেখতে ভালো লাগে না। ও আমার মনের রাজকুমারী। আমি নিঃশব্দে কফিতে চুমুক দিতে থাকি।

তিন্নির চোখ যেন সামান্য ভিজে। সামলে নেয় তিন্নি। ধরে আসা গলা কিছুটা স্বাভাবিক করে নেয়।

‘এই বিয়েটা ভেঙে গেলে সবাই আমাকে কী বলবে জানিস?’ কফি কাপের উপর খেলা করতে থাকে তিন্নির লজ্জিত আঙুল।

‘খ-এ আকার দিয়ে একটা তিন অক্ষরের খুব লব্জ শব্দ ,যেটা পুরুষরা আমাদের সম্বন্ধে খুব নির্দ্বিধায় বলে ফেলে। আর সেটা চাই না বলেই…’

আমি চুপ করে থাকি।

‘সুমন শুধু শরীর বোঝে। ও অন্য একটা মেয়ের সাথে ইনভলড। সেই মেয়েটা আনম্যারেড, বয়স চব্বিশ। তাই আমাকে প্রতিদিন শুনতে হয়, ইউ আর ভেরি মাচ লুজ অন বেড…’

আবার তিন্নির চোখ ভিজে ওঠে। আমি অস্বস্তি নিয়ে বসে থাকি। কী বলব বুঝতে পারি না।

‘ও অনেক আগেই ছেড়ে চলে যেত। যাচ্ছিলও। আমিই আটকে রেখেছি। বিনিময়ে ও বলেছে কলকাতার ব্যাবসা পুরোটা ওর নামে লিখে দিতে হবে। অর্ধেকেও রাজি হয়নি। জানি এরমধ্যে ভালোবাসা বলে কিছু নেই। জানি পুরোটা হাতে পেলে ও যে-কোনও দিন ডিভোর্স দিয়ে ওই মেয়েটাকে বিয়ে করবে… তবু এই ভাবে আটকে রেখেছি। কারণ মেয়েদের একা থাকার মধ্যে অনেক গ্লানি। ছাড়াছাড়ি হলে সবাই ধরে নেয় মেয়েটিরই দোষ। আর তারপর একা থাকা মেয়েদের দিকে বয়সে ছোটো-বড়ো অনেক লোভী হাত, স্পর্শ, ইশারা..। কেউ মেয়েটির মনের খোঁজ নিতেই চায় না। সবাই চায় শরীরের চাহিদা দাবিদারহীন মেয়েটিকে দিয়ে মিটিয়ে নিতে। এই জীবনে কম তো দেখলাম না…’

আমি শুধু দেখছিলাম আমার শৈশব ও কৈশোরের মনের রাজকুমারীকে।

‘আচ্ছা ঋষি, তোর সেই পেন ভেঙে যাবার ঘটনাটা মনে আছে…’

চট করে মনে করতে পারি না কোন ঘটনার কথা বলছে তিন্নি।

‘সুদর্শন মির্ধার কোচিং এ…’

হঠাৎ মনে পড়ে যায় সেই ঘটনার কথাটা। কোচিং-এর এক এক ব্যাচে আমরা কুড়ি-বাইশজন করে পড়তাম। কিন্তু তিন্নির বাবার তো অনেক টাকা। তাই তিনি কোনও টিচারের এক ব্যাচে যা রোজগার ,তাকে তার থেকে বেশি টাকা মাসোহারা দিতেন। তিন্নি শুধু একা পড়ত এক ব্যাচে।

রবিবার তিন্নির সময় ছিল দুপুর একটা থেকে তিনটে। আমাদের তিনটে থেকে পাঁচটা। আমাদের ব্যাচের মধ্যে সবার আগে আমি গিয়ে পৌঁছেছি সেদিন। ঢুকে তিন্নিকে অঝোর নয়নে কাঁদতে দেখে অবাক হই।

‘ও। তোরা এসে পড়েছিস…’ স্যার অপ্রস্তুত স্বরে বলেন, ‘এই দ্যাখ্ না…। ইয়ে…জানলা দিয়ে একটা উড়ো জাহাজ যাচ্ছিল, বুঝলি… তিন্নি দেখতে গেছে উবু হয়ে। ওর উইংসান পেনটা ভেঙে গেল… তাই কাঁদতে লেগেছে… বোকা মেয়ে…!’

বলে বোকা বোকা হাসেন সুদর্শন স্যার।

ঘটনাটা আমার অনেকদিন মনে ছিল। ভুলিনি। কিন্তু কৗতূহল থাকলেও কোনওদিন তিন্নিকে জিজ্ঞেস করতে পারিনি কী ঘটেছিল সেদিন।

‘জননতন্ত্র বুঝতে গিয়ে সেদিন আমার কুমারীত্ব নাশ হয়েছিল, সুদর্শন মির্ধার হাতে বুঝলি…! যাকে পিতার মতো শ্রদ্ধা করতাম, সেই শিক্ষাগুরু সেদিন আমার সমস্ত বাধার প্রাচীর তছনছ করে দিয়ে শরীরটাকে খুবলে খুবলে খেয়েছিলেন। কাউকে বলতে পারিনি। একটা মেন্টাল ট্রমার মধ্য দিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলাম…’

আমি তেমন কিছুই একটা এতদিন আন্দাজ করে এসেছিলাম। তবু ওর মুখ থেকে শুনে গা শিউরে ওঠে।

‘তারপর নিজেরই শরীরের প্রতি কেমন একটা ঘৃণা চলে আসে। নিজেকে অশুচি মনে হতো। সে সময় এল দুদুল। বুঝতে পারতাম ও আমাকে খুব করে চাইছে। আটকাতে চেষ্টা করিনি। মনে হতো ঘৃণার এই অশুচি শরীর আর কাকে দেব!’

‘ও আমাদের গ্রামে আসার আগেই একটা অ্যাফেয়ারে জড়িয়ে ছিল, জানতাম। কিন্তু বিয়ের পর আরও ভুল ভাঙল। দেখলাম, নিজের বৗদির সাথেও শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত। একটা ছেলে হল। তবুও বদলাল না। সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে এলাম।’

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তিন্নি।

‘দ্বিতীয় বিয়েটা বাব-মা’র অনুরোধেই করলাম। ছেলেটা ছিল মায়ের ভেড়ুয়া। ওর মা-র সাথে বুলাই সামন্ত বলে একটা লোকের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বিয়ের পর একদিন আমি দেখে ফেলি। বুলাই ওদের জন্য দু’হাতে টাকা ওড়াত। তাই সে চাইতেই মা ছেলে দু’জনেই আমাকে চাপ দিতে লাগল তার সাথে শোবার জন্য। একদিন ওরা জোর করতে যায়। বুলাইকে আহত করে বেরিয়ে চলে আসি।’

আমিও দীর্ঘশ্বাস ফেলি এবার।

‘আর এই হল তিন নম্বর। যার কথা তোকে প্রথমেই বললাম।’

গল্প করতে করতেই সুমন এসে পৌঁছোয়। আলাপ করিয়ে দেয় তিন্নি। কাঁধ ঝাঁকিয়ে কায়দা করে ‘হ্যালো’ বলে সুমন। পুরোনো কথা গল্প করার ছলে সাহসী মিথ্যেটা শেষ পর্যন্ত বলেই ফেলি আমি। সুমন সামান্য চোখ কুঁচকে একবার আকাশের দিকে চায়। তারপর মুখ নামিয়ে মৃদু হাসে।

তিন্নির মুখও হাসিতে ভরে যায়। কিছু হারিয়ে আবার ফিরে পাবার মতো সেই হাসি।

তবে সে হাসি ওর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তিন মাস পরে পুজোর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাই আমি। বন্ধুদের সাথে একদিন ব্রিজ খেলতে খেলতে তিন্নির কথা ওঠে। সঞ্জয় বলে, ‘কালই শুনলাম, ওর তিন নম্বর বর সুমনের সাথেও নাকি ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে, জানিস?’

আমি চমকে উঠি। আবার!

অন্যরাও সে খবর তখনও শোনেনি। কাইজার শুনে মুখে চুকচুক আওয়াজ করে। ক্লাসমেট হলেও আজ ওদের কাছে তিন্নি আর ছোটোবেলার সেই মানস কন্যা নয়। আজ সে যে-কোনও এক নারী। যার বুকে আজ শুধুই মাংসের গন্ধ!

দীপাঞ্জন বলে ওঠে, ‘হুঁ! তিন তিনটে বর!! শালী পুরো একটা খা–’

হাতের তাস ফেলে তড়িৎ গতিতে ওর মুখে হাতচাপা দিই আমি। সবাই অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায়। তাকাক। দীপের আর সেই বিশেষণটি উচ্চারণ করা হয়ে ওঠে না।

আমার দুঃখী রাজকুমারী যা শুনতে চায়নি। কোনও দিন…

প্রস্টেট ক্যানসার

প্রস্টেট একটি গ্ল্যান্ড। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই গ্ল্যান্ড শুধু পুরুষদের শরীরেই থাকে। এই গ্ল্যান্ড পুরুষদের সিমেন-এর ফ্লুইড কম্পোনেন্ট রিলিজ-এ সাহায্য করে।  কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় Prostate-এর নানা সমস্যা

প্রস্টেট-এর কী সমস্যা হলে তা রোগের রূপ নেয়?

বয়স বাড়লে শারীরিক কিছু পরিবর্তন আসে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। পুরুষদের প্রস্টেট বেড়ে যাওয়াও এমনই একটি পরিবর্তন। সাধারণত, পঞ্চাশ বছর বয়সের পর অনেকেরই প্রস্টেট বেড়ে যায়। এই বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হয়, বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়ার বা ‘বিপিএইচ’। এই বিপিএইচ-এর সমস্যা চল্লিশ পার করা পুরুষদের ক্ষেত্রেও হতে পারে। যদি পঞ্চাশের আগে প্রস্টেট বেড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়, তাহলে তা দুশ্চিন্তার বিষয়।

বিপিএইচ মানেই কি ক্যানসার?

বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়ার বা বিপিএইচ খুব কমন প্রস্টেটিক রোগ। পঞ্চাশ বছর বয়স পার হলে বিপিএইচ-এর শিকার হন অনেকেই। কিন্তু বিপিএইচ মানে প্রস্টেট ক্যানসার নয়। শুধু তাই নয়, বিপিএইচ হওয়া মানেই ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়া নয়। অন্য ক্যানসার যেভাবে হয়, প্রস্টেট ক্যানসারও ঠিক সেইভাবেই হয়।

শুধু বিপিএইচ-এর শিকার নাকি Prostate Cancer আক্রান্ত– এটা বোঝার উপায় কী? 

যদি ঘনঘন মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয়, মূত্রত্যাগের সময় জ্বালা-যন্ত্রণা হয় কিংবা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিপিএইচ-এর শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরকম উপসর্গ দেখা দিলে চিকৎসকের সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ এবং যাবতীয় পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা উচিত। আর যদি প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয় কেউ, তাহলে শুরুর দিকে এর কোনও উপসর্গ প্রকট হয় না। তাই, ‘প্রিভেনশন বেটার দ্যান কিওর’ –অর্থাৎ, রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করা উচিত। চল্লিশ বছর বয়সের পর থেকে পুরুষদের প্রস্টেট ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। তাই চল্লিশ বছর বয়সের পর সতর্কতা জরুরি। যদি বাবা, কাকা কিংবা পরিবারের পূর্বসূরির প্রস্টেট ক্যানসার হওয়ার রেকর্ড থাকে, তাহলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।

চল্লিশ বছর বয়স পার হলেই প্রতি বছর নিয়ম করে প্রস্টেট পরীক্ষা করানো উচিত। সেইসঙ্গে, রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে রক্তে কতটা পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) আছে। কারণ, ক্যানসারে আক্রান্ত কিনা তা বোঝা যাবে পিএসএ-র মাত্রার উপর। তবে এর সঙ্গে ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা করা উচিত। প্রস্টেট-এ কোনও রকম সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে বায়োপসি করা দরকার। আসলে, প্রস্টেট ক্যানসার হলে শুরুর দিকে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। যখন রোগটি অ্যাডভান্সড স্টেজ-এ চলে যায়, তখন উপসর্গ প্রকট হয়। মূত্র কিংবা বীর্যের সঙ্গে রক্ত পড়ে, তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা হয়, মূত্রনালিতে কিছু আটকে রয়েছে এমন অনুভূতিও হতে পারে। আবার, প্রস্টেট ক্যানসারের অ্যাডভান্সড স্টেজ-এ প্রস্রাব বন্ধও হয়ে যেতে পারে। আর তা যদি হয়, তাহলে যন্ত্রণা তলপেট থেকে শুরু করে কোমরেও ছড়িয়ে পড়বে।

প্রস্টেট বড়ো হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য কী করা উচিত?

ঘুমে যেন ব্যাঘাত না ঘটে। সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমোনো উচিত রাতে। পরিমাণ মতো জলপান করুন। প্রস্রাব চেপে রাখবেন না। ধূমপান এবং মদ্যপান করা চলবে না। শরীর ঠিক রাখার জন্য উপযুক্ত পরিশ্রম কিংবা ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করুন। আর চল্লিশ বছর বয়সের পর প্রস্টেট পরীক্ষা করান নিয়মিত।

প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা করা হয় কীভাবে?

প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিরাচরিত কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি তো আছেই, এছাড়া, ক্রায়ো সার্জারির মতো উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতিও রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ক্যানসারের কোশগুলিকে ঠান্ডায় জমিয়ে মেরে ফেলা হয়। আর রয়েছে আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি এবং হরমোন থেরাপি। নির্দিষ্ট মাত্রায় শব্দতরঙ্গ কিংবা হরমোন প্রয়োগ করে ক্যানসারের কোশগুলিকে মারা হয় এক্ষেত্রে। আর যদি এইসব থেরাপিতেও কাজ না হয়, তাহলে অস্ত্রোপচার করা ছাড়া উপায় থাকে না।                                                                                

ভণ্ড যোগীর মুখোশ খুলতে গিয়ে, বিতর্কে ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজ

ধর্মের আফিমে বুঁদ হয়ে যাঁরা একসময় মন, ধন ও সম্পদ সমর্পণ করেছিলেন গুরুর পায়ে, তাদের অনেকেরই এখন ভুল ভেঙে গেছে তথাকথিত বাবাজিদের স্বরূপ প্রকাশিত হওয়ার পর৷সমাজের নানা জায়গায় এই সব ভণ্ড যোগীদের দাপট প্রভাব বিস্তার করছে মানুষের জীবনে৷তারই প্রতিফলন দেখা গেছে সম্প্রতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ওয়েব সিরিজে৷পরিচালক প্রকাশ ঝা নির্মিত তাঁর ডেবিউ ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম’-এর প্রতিটি পরতে রয়েছে স্বঘোষিত গডম্যান রাম রহিমের ছায়া। জাতপাতের বৈষম্য, মানুষের অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে খুন, ধর্ষণ থেকে নির্বীজকরণ-এমন নানা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন ভণ্ড যোগীর ভক্তরা৷। সমস্ত উপাদানই মজুত রয়েছে এই সিরিজে। প্রথম সিজনের সাফল্যের পর এসেছে দ্বিতীয় সিজনও৷পরিচালক প্রকাশ ঝার সিগনেচার  কাজগুলির ছাপ এতে স্পষ্ট৷

গণতন্ত্রের চেনা চেহারা দিয়েই কাহিনির সূত্রপাত হয়। সেই সূত্র ধরেই স্বঘোষিত গডম্যান কাশীপুরওয়ালে বাবা ওরফে বাবা নিরালা ওরফে মন্টির কাহিনিতে পৌঁছায়। বাবা নিরালার চরিত্রে ববি দেওলকে বেছেছেন পরিচালক। তাঁকে সেই চেহারাও দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেরিয়ারের এই পর্যায়ে ববি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি চরিত্রে অভিনয় করলেন যা তাঁর মেনস্ট্রিম সিনেমার থেকে একেবারেই আলাদা৷ মন্টির ভয় মেশানো হিংস্রতার সময়ে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন তিনি। বাবা নিরালার ডানহাত ভোপার ভূমিকায় চন্দন রায় সান্যাল নিজের প্রতিভার সদ্ব্যবহার করেছেন।পোড় খাওয়া অভিনেতাদের পাশাপাশি নতুনদের নিয়ে কাজ করেছেন প্রকাশ। পম্মির চরিত্রে অদিতি পোহাঙ্কর, সত্তির চরিত্রে তুষার পাণ্ডের অভিনয়ে সাবলীল। বাঙালির কাছে অন্যতম পাওনা ত্রিধা চৌধুরী৷ সবচেয়ে বেশি প্রশংসা যদি কারও প্রাপ্য হয় তা অভিনেতা দর্শন কুমারের। রাফ অ্যান্ড টাফ পুলিশ উজাগর সিংয়ের চরিত্রে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন দর্শন।

কিন্তু দর্শকদের ভালো লাগা বা পছন্দের উর্ধে গিয়েও একটি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না, সেটা হল বিতর্ক৷ ধর্মীয় ভাবাবেগে বিশ্বাসী আমাদের দেশে যেখানে যুগ যুগ ধরে গুরুবাদ প্রাধান্য পেয়ে এসেছে, সেখানে এই সাহসী বিষয়টিকে উপস্থাপিত করা নিয়ে বিতর্ক তো হবেই৷ কিছুদিন আগেই বড়োসড়ো বিতর্কের জেরে জেরবার হয়েছিল এই জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ। হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে ও সংষ্কৃতিতে আঘাত হেনেছে ববি দেওল  অভিনীত ‘আশ্রম’ ওয়েব সিরিজটি, এই অভিযোগে কর্ণি সেনার তরফে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল ওয়েব সিরিজ ‘আশ্রম’ এর সম্প্রচারকারী ওটিটি প্ল‍্যাটফর্মকে। সেই সঙ্গে ওয়েব সিরিজের পরিচালক প্রকাশ ঝা-কেও পাঠানো হয়েছিল নোটিস।।কর্ণি সেনার ক্ষোভ থেকে রেহাই পাননি সিরিজের পরিচালক প্রকাশ ঝাও।

এর আগে সমস‍্যার মুখে পড়ে আরেক অত‍্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’ এর দ্বিতীয় সিজন। তবে দর্শকদের দিক থেকে নয়, অভিযোগ আসে অন‍্য এক অপ্রত‍্যাশিত দিক থেকে। মির্জাপুর সাংসদ অনুপ্রিয়া প‍্যাটেল অভিযোগ করেন, এই ওয়েব সিরিজ তাদের শহরের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করছে।মির্জাপুরের সাংসদের অভিযোগ, এই ওয়েব সিরিজের মাধ‍্যমে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানো হচ্ছে। মির্জাপুরের সম্পর্কে ভুল ধারনা রটানো হচ্ছে। এই ওয়েব সিরিজের বিরুদ্ধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপযুক্ত ব‍্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।এই পরিস্হতিতে ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে কতদিন পর্যন্ত গণসচেতনতার কাজটি করে যাওয়া যাবে, তা নিয়েই দানা বাঁধছে সন্দেহ৷

 

 

ব্রেক আপ – এর পরেও ছেলেটিকে ভুলতে পারছি না

আমার এখন ২৬ বছর বয়সসম্প্রতি আমার বয়ফ্রেন্ড-এর সঙ্গে ব্রেক-আপ হয়ে গেছেপাঁচ বছর ধরে আমার বয়ফ্রেন্ড ছিলআমার সমস্যা হচ্ছে আমি কিছুতেই ওকে ভুলতে পারছি নাআমার সমস্ত মন জুড়ে এখনও ওই রয়েছেঘুম থেকে উঠেই ওর কথা আমার প্রথমেই মনে পড়েতারপরই মনে হয় ওর সঙ্গে এখন আমার ব্রেকআপ হয়ে গেছেএখনও ওর কথা মনে হলে আমার চোখে জল এসে যায়ওর ইনস্টাগ্রাম পেজ খুললে দেখতে পাই মুভ অন করতে পেরেছেআনন্দেই আছেআমার বন্ধুরা আমাকেও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কিন্তু আমি কিছুতেই নিজেকে সব ভুলে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি নাআমি এই ট্রমা থেকে বোরোতে চাইএর জন্য আমাকে কী করতে হবে বা এই সমস্যার সমাধান কী?

 

সিগারেট, মদ, ড্রাগস ইত্যাদির প্রতি মানুষের মানুষের আসক্তি যেমন তৈরি হয় তেমনি সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে প্রেমের নেশাও মস্তিষ্কের উপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। নেশা যারা করে তাদের যদি হঠাৎ করে নেশার দ্রব্য না দেওয়া হয় তাহলে তাদের অবস্থার সঙ্গে, সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানুষের যা অবস্থা হয়, সেই অবস্থার তুলনা করা যেতে পারে। সম্পর্কে ভাঙন ধরলেও, তার কষ্ট, যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠা মুশকিল হয়। কয়েকটি উপায় আপনাকে জানাচ্ছি যেটা আপনাকে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতে পারে।

ক)   আপনার এক্স-এর স্মৃতি মাথা থেকে মুছে ফেলতে ছেলেটিকে কনট্যাক্ট করার সমস্ত পথ বন্ধ করে দিন। নিজের ফোন থেকে ওর নম্বর ডিলিট করে দিন। নিজের সোশ্যাল সাইটের অ্যাকাউন্ট-এ গিয়েও ওকে ব্লক করে দিন

খ)   রেগুলার ব্রিদিং এক্সারসাইজ করুন। মেডিটেশন করা শুরু করুন। যতক্ষণ না ছেলেটিকে মিট করার ইচ্ছা দমন করতে পারছেন ততদিন অন্তত মেডিটেশন প্র্যাকটিস করুন। দেখবেন কয়েক দিনেই এই ইচ্ছাকে নিজের বশে নিয়ে আসতে পারছেন

গ)  নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। সবসময় নানারকম কাজের মধ্যে ডুবে থাকুন যাতে ছেলেটিকে নিয়ে ভাবার সময় না পান

ঘ)   এক্স-এর সঙ্গে তোলা পুরোনো ছবিগুলি দেখবেন না। মোবাইল থেকে সেগুলি ডিলিট করে দিন। আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ভালোবাসার পাত্রটি একটা সময় আপনার খুশির কারণ ছিল কিন্তু এখন সে আপনার অতীত। একে ভুলে আপনাকে ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে হবে। সুতরাং নিজেকে শক্ত করুন, মন-কে দৃঢ় রাখুন। আপনি এই সমস্যা থেকে অবশ্যই নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন।

 

 

 

 

 

অন্য শহরের মেয়ের সঙ্গে বাবা বিয়ে দিতে রাজি নন। কী করব ?

আমি ২০ বছর বয়সি যুবকবছর ধরে একটি মেয়েকে ভালোবাসিমেয়েটিও আমাকে খুবই ভালোবাসেআমরা আলাদা আলাদা শহরে থাকি তাই খুব কমই আমাদের দেখা হয়কিন্তু ফোন এবং হোয়াট্‌অ্যাপ চ্যাটিং-এর মাধ্যমে আমাদের কথা হতেই থাকেআমরা দুজনেই ব্রাহ্মণ সুতরাং জাত-ধর্ম নিয়ে কোনও ঝামেলা হওয়ার কথা নয়বাড়িতে আমি এখনও মা-বাবাকে মেয়েটি সম্পর্কে খোলাখুলি কিছু জানাইনিবাড়িতে আমি সবথেকে ছোটো, তাই বড়োদের সামনে বিয়ে বা ভালোবাসার কথা বলতে সাহস হচ্ছে নাএকমাত্র দিদিকে বলেছিদিদি, বাবা-কাকার সঙ্গে কথা বলেছেওনাদের একটাই আপত্তি যে মেয়ের বাড়ি অনেক দূরেঅন্য শহরে বরযাত্রী নিয়ে যাওয়া অত খরচ করতে ওনারা রাজি ননওনাদের ইচ্ছে আশেপাশে থাকে এমন কোনও মেয়ের সঙ্গে আমার বিয়ে দেওয়াদিদি বাবাকে বলেছে, ভাই ওই মেয়েটিকে ভালোবাসে এবং ওকেই বিয়ে করবে ঠিক করেছেএতে বাবা উত্তর দিয়েছেন যে, প্রেম-ভালোবাসার কথা সিনেমার পরদাতেই নাকি ভালো লাগেআমাদের এখানকার সংস্কৃতি হল বিয়ের পর ভালোবাসামেয়েটি আমাদের শহরের হলেও কথা ছিল, মেনে নেওয়ার একটা কারণ ছিলকিন্তু এখন বাবা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন মেয়েটিকে ভুলে যেতেমেয়েটির বাড়িতেও এই একই সমস্যামেয়েটির দাদা আমার বন্ধু তাই ওদের বাড়িতেও আমি কয়েকবার গিয়েছিওরা সকলেই আমাকে দেখেছে, কথা বলেছেপাত্র হিসেবে আমাকে ওনাদের পছন্দ কিন্তু অত দূরে অন্য শহরে ওরা মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ননমেয়ের দাদাও নিজের মা-বাবাকে বোঝাবার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু কিছুতেই রাজি করাতে পারছে নাআমরা দুজন কী করব ভেবে পাচ্ছি নাবাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে আমরা বিয়ে করতে চাই নাএতে উভয়ের পরিবারেরই বদনাম হবেআমি এই অশান্তিতে নিজের কেরিয়ারের উপরও মনোযোগ দিতে পারছি নাএই অবস্থায় আমার কী করা উচিত?

 

আপনার এখনও বিয়ের বয়স হয়নি। আপনার এখন মাত্র কুড়ি বছর বয়স। এখন কেরিয়ার নিয়ে ভাবার সময়। সুতরাং পড়াশোনা বা চাকরি আপনি এখন যা করছেন তাতে মনোযোগ দিন এবং সেটার জন্য পরিশ্রম করুন। কেরিয়ার-কে প্রাধান্য দিন, তারপর আর সব কিছু। একবার লক্ষ্য পূরণ হয়ে গেলে, কেরিয়ারে নিশ্চয়তা আসলে, হয়তো বাড়ির চিন্তাধারাও অনেকটা বদলাবে। বাড়ির লোক হয়তো কোনও শর্ত ছাড়াই আপনাদের দুজনের সম্পর্কটা মেনে নেবে।

 

 

বিয়ের আগেই বহুবার শারীরিক সম্পর্ক গড়েছি সাবধানতা ছাড়া

আমি ২৬ বছর বয়সি যুবতিআমি খুবই স্বাধীনচেতাআমার যা-যা করতে ভালো লাগে আমি করিআমার কাজের কী পরিণাম হবে অতশত আমি কখনও চিন্তা করি নাস্কুলে থাকতেই আমি ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে দ্বিধাবোধ করতাম নাএমনকী যৗন আনন্দও উপভোগ করেছি বেশ কয়েকবারপ্রথম প্রথম ২-বার আমি প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ি এবং গর্ভপাত করাইকিন্তু তারপর আমি আমার স্টেডি বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কোনওরকম প্রোটেকশন ছাড়াই বহুবার শারীরিক সম্পর্ক গড়েছি কিন্তু গর্ভধারণ করিনিএখন ঠিক করেছি বিয়ে করব এবং এই বয়ফ্রেন্ডকেই বিয়ে করছিসম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেতেই আমি এই বিয়ে করছিএকটা শুধু সমস্যা যে এতদিন এতবার আমি প্রোটেকশন ছাড়া সহবাস করেছি কিন্তু প্রেগন্যান্ট হইনিএমন নয়তো যে প্রথম প্রথম ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত করানোর জন্য আমার শরীরে এমন কিছু হয়েছে যাতে আমি আর কোনওদিন গর্ভধারণ করতে পারব না? এর আর কী কারণ থাকতে পারে? যদি আমি কোনওদিন ‘মা না হতে পারি তাহলে বিয়ে করাটাই আমার উচিত নয়আমি আমার হবু স্বামীকে কিছুই জানাইনি এই ব্যাপারেসহবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করলে আমিই এখন পিছিয়ে যাইআমার চরিত্রের পরিবর্তনে খুব চিন্তিত হয়ে পড়ছেআমি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাব?

 

অল্প বয়স থেকেই একাধিক ছেলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া এবং একাধিকবার সেক্স করার সঙ্গে এতবার ওষুধ খেয়ে গর্ভপাত করানো আপনার জীবনে বিপদ ডেকে আনতে পারত এবং আপনি যে-কোনও যৗনরোগেরও শিকার হতে পারতেন।  আপনি এতদিন যেভাবে জীবন কাটিয়ে এসেছেন তার কী পরিণাম হতে পারে, মা হতে পারবেন কিনা ইত্যাদি এখন ভাবতে বসেছেন যখন বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এখন এগুলো ভাবার কোনও মানে হয় না। যখন ভাবা উচিত ছিল তখন শুধু লাইফটাকে এনজয় করে গেছেন সুতরাং এখন সব চিন্তা ছেড়ে বিয়ের চিন্তা করুন।

বিয়ের পর যদি গর্ভধারণে সমস্যা হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মতন চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারেন। এছাড়াও গর্ভধারণের জন্য অনেক বিকল্প টেকনিক-ও এখন অ্যাভেলেবল রয়েছে। সুতরাং আগে ভালো স্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করুন, মা হওয়ার চিন্তা তারপর না হয় করবেন। তবে একটা উপদেশ দিতে চাই, আপনি অতীতে যা করেছেন সেটা অন্যায় করেছেন মনের মধ্যে এই নৈতিক বোঝা নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না। চেষ্টা করুন ভবিষ্যৎ-কে এই অনৈতিক চরিত্রের বোঝা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে সুখে সংসার করুন, এই কামনা করি।

 

 

কাজ শিখতে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি

আমি ২২ বছরের তরুণী। বড়ো ফিল্ম-মেকার হতে চাই আমি। নামি ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। এরপর এক নামি চলচ্চিত্র পরিচালকের কাছে অবজারভার হিসাবে কাজ শিখছি। আমি ওই পরিচালকের গুণে মুগ্ধ। আমার ডেডিকেশন দেখে তিনিও আমাকে প্রায় হাতে ধরে কাজ শেখান। এভাবেই মাসকয়েক একসঙ্গে কাজ করতে করতে আমি তাঁর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে থাকি। বয়সের তফাত এবং তিনি যে বিবাহিত একথা ভুলে যাই আমি। কাজের শেষে রাতে যখন তিনি মদ্যপান করতেন, তখনও তাঁকে আমি সঙ্গ দিতাম। এভাবেই একসময় তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লি৫ হয়ে পড়ি আমি। তিনি আমাকে ভালোবেসে লিভ্ ইন রিলেশন করছেন এমনটাই বুঝিয়েছিলেন কিন্তু কিছুদিন আগেই আমার সেই ভুল ভেঙে গেল। জানতে পারলাম, এরকম সম্পর্ক তিনি এর আগে অনেক মেয়ের সঙ্গেই করেছেন। এও জানতে পেরেছি, কিছুদিন কাউকে কাজ শিখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর স্বাদ মিটে গেলে ‘তুমি কাজ শিখে গেছো’ বলে বিদায় দিয়ে নতুন মেয়েকে কাজ শেখান। এখন সবকিছু জেনে ব্যক্তি মানুষটির প্রতি আমার শ্রদ্ধা চলে গেছে। কিন্তু কাজের ব্যাপারে তিনি এতটাই গুণী মানুষ যে, আরও কিছুদিন তাঁর কাছে কাজ না শিখতে পারলে আমার শিক্ষা অসম্পূর্ণ থাকবে। কিন্তু তাঁর প্রতি অশ্রদ্ধা এবং যে-কোনও সময় তিনি তাড়িয়ে দিতে পারেন এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়। আমাকে পথ দেখান প্লিজ।

 

আপনার স্বপ্ন বড়ো ফিল্ম-মেকার হওয়া। যদি সেই যোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাস আপনার মধ্যে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হচ্ছে, সাধারণ মানুষের থেকে আপনি বেশি বিচক্ষণ এবং জ্ঞানী। তাই, ভালোমন্দ বুঝবার ক্ষমতা আপনার আছে। আপনার কাহিনি জেনে মনে হয়েছে, আপনি কেরিয়ারিস্ট। অতএব, ওই পরিচালককে ভালোবেসে তাঁর বেড পার্টনার হয়েছেন– এসব যুক্তি তেমন গ্রহণযোগত্যা পাচ্ছে না বরং মনে হয়েছে, আপনি তাঁর গুণের ভক্ত হয়ে কাজ শেখার বিনিময়ে ‘কম্প্রোমাইজ’ করেছেন। তবে এটা তাৎক্ষণি আবেগও হতে পারে। আর তাঁর প্রতি এখন অশ্রদ্ধা যে কথা আপনি জানিয়েছেন, তা আসলে তিনি আপনাকে কাজ না শিখিয়ে নতুন কাউকে কাজ শেখাবেন এই রাগের প্রতিফলন। কারণ, তিনি বিবাহিত, বয়সের তফাত রয়েছে, আপনাদের সম্পর্কের কোনও ভবিষ্যৎ নেই জেনেও আপনি তাঁর সঙ্গে শরীরী সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। আর উনি জাস্ট এসব উপভোগ করেছেন কাজ শেখানোর বিনিময়ে। তাই বিষয়টা ভালোবাসার নয়, বরং অনেক বেশি বিনিময়ের। আর যদি মনে হয়, ভালোবাসার ভান করে ওই পরিচালক আপনাকে ঠকিয়েছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিন। কিন্তু আপনি সম্ভবত তা করবেন না, কারণ আপনি তাঁর কাছে কাজ শিখে আরও নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চান। অতএব, যা ঘটেছে তা গুরুদক্ষিণা ধরে নেওয়া ছাড়া আপনার কাছে আর কোনও পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না।

 

ব্রাইডাল মেক-আপ

বিয়ের দিনটা সকলের কাছেই একটি বিশেষ দিন। নতুন সঙ্গীর হাত ধরে নতুন জীবনে প্রবেশ করার শুরু-টা তাই চিরজীবনের জন্য স্মরণীয় করে তোলাটাও একান্তই কাম্য। বিয়ের বিশেষ দিনটাতে কনের সাজ শুধুমাত্র বর বা বরপক্ষকে মোহিত করার জন্য নয়, সমস্ত নিমন্ত্রিত অতিথিরাও উদগ্রীব হয়ে থাকেন, Bridal Make-up কীরকম হল তা দেখার জন্য।

আজকাল বেশিরভাগ বিয়েতেই মেক-আপ আর্টিস্ট-ই দায়িত্বে থাকেন Bridal Make-up করার। যারা কনের সাজ নিয়ে বিভিন্নরকম এক্সপেরিমেন্ট করেন, তারা প্রথমেই কনের পার্সোনালিটি, স্কিন টাইপ, স্কিন টোন, চুলের টেক্সচার, কালার, আইব্রো-র শেপ, ফেস-কাট ইত্যাদি খুঁটিয়ে দেখে নেন। যদি কনের মধ্যে সৌন্দর্যের কোনও সমস্যা থাকে, তাহলে কনেকে এক্সারসাইজ এবং স্কিন কেয়ার রুটিন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা শুরু হয়ে যায় বিয়ের অনেক আগে থেকেই। এতে বিয়ের দিনের মেক-আপ শুরুর আগেই ত্বক হয়ে ওঠে প্রাণোচ্ছল।

ত্বক পরিচর্যার রুটিন

বিয়ের কনেকে প্রথমেই জানতে হবে, তার নিজের ত্বক কী ধরনের। বিয়ের আগে রেগুলার ক্লিনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং-এর রুটিন ফলো করা উচিত। যদি ত্বক খুব রুক্ষ হয় তাহলে সোপ-ফ্রি কন্সিলার ব্যবহার করা উচিত। সারাদিনে অন্তত দুবার ত্বক ময়েশ্চারাইজ করাও খুব জরুরি।

যদি ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে ক্লিনজিং-এর সঙ্গে সঙ্গে দিনে ২ থেকে ৩ বার মুখে জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলা বাঞ্ছনীয়। অয়েলি ত্বকের জন্য টোনিং খুবই জরুরি। এতে ত্বকের পোর্স বন্ধ হয়ে যায় এবং ত্বকে তেল বেরোনোও বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করার জন্য ওয়াটার বেসড ময়েশ্চারাইজার লাগানো খুব জরুরি৷  ফেস মাস্কও অতি প্রয়োজনীয়। এর ফলে ত্বকের মৃত কোশ দূর হয় এবং ত্বক নিঃশ্বাস নিতে পারে।

কীভাবে বাছবেন ওয়াটার এবং ক্রিম বেসড মেক-আপ

ভারতীয়দের মধ্যে তিন ধরনের কমপ্লেকশন সাধারণত দেখতে পাওয়া যায়– ফরসা, গমের মতো রং এবং শ্যামলা।

কমপ্লেকশন অনুযায়ী এইভাবে মেক-আপ বাছুন

ফরসা ত্বকের জন্য – ত্বকের রং ফরসা হলে রোজি টিন্ট বেস কালার এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে শাইনিং কালারের ফাউন্ডেশন বেস খুব ভালো মানাবে। চোখের মেক-আপ করার সময় ভ্রূ হাইলাইট করুন ব্রাউন কালার দিয়ে। ফরসা ত্বকে পিংক এবং হালকা লাল রঙের ব্লাশার খুব ভালো মানায়। ঠোঁটের জন্য হালকা রং বাছাই বুদ্ধিমানের হবে।

গম রঙের ত্বকের জন্য – গম রঙের ত্বক হলে, ত্বকের রঙের সঙ্গে ম্যাচ করে ওয়াটার বেসড ফাউন্ডেশন লাগানো সব থেকে ভালো। লাইট কালারের ফাউন্ডেশন একেবারেই ব্যবহার করবেন না। চোখের মেক-আপের জন্য ব্রোঞ্জ বা ব্রাউন ব্যবহার করা উচিত। গালে ব্রোঞ্জ কালারের ব্লাশার মানাবে ভালো। স্কিন টোন অনুযায়ী ডার্ক রঙের লিপস্টিক পুরো সাজের সঙ্গে মানানসই হবে।

শ্যামলা রঙের ত্বকের জন্য – শ্যামলা বর্ণ হলে মেক-আপ করার আগে খুব সাবধানে করতে হবে। রং যদি শ্যামলা হয় তাহলে ওয়াটার বেসড ন্যাচারাল ব্রাউন টোন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়াও ফাউন্ডেশন ব্লেন্ডিং করার ক্ষেত্রেও বিশেষ যত্ন নিতে হবে, নয়তো ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ ফুটে উঠবে।

খেয়াল রাখতে হবে ত্বকের রঙের থেকে বেশি গাঢ় রঙের ফাউন্ডেশন ব্যবহার যাতে করা না হয়। চোখের মেক-আপের জন্য লাইট কালারের আইব্রো কালার একেবারেই ব্যবহার করা উচিত হবে না, কিন্তু আউটলাইনের জন্য কাজল ব্যবহার করা যেতে পারে। প্লাম এবং ব্রোঞ্জ কালারের ব্লাশার ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত হবে। ঠোঁটের জন্য পার্পল, রোজ এবং পিংক গ্লস মানানসই হবে। কনেকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে মেক-আপ বেশি না হয়ে যায়, তাতে বেশি বয়স বলে মনে হবে। সুতরাং হেভি মেক-আপের রাস্তায় হাঁটবেন না।

সাবধানে লিপস্টিক চয়ন করুন

রুপোলি পর্দার নায়িকারাই হচ্ছেন আলটিমেট ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। তাঁরা কী পরছেন, চুলের স্টাইল কেমন রাখছেন, কোন রঙের লিপস্টিক বা নেলপেইন্ট ব্যবহার করছেন, সকলেরই দৃষ্টি সেইদিকে– বিশেষ করে আধুনিকাদের তো বটেই। এখন নায়িকারা কম মেক-আপ এবং হালকা রঙের লিপস্টিকের শেড পছন্দ করছেন। হাই ডেফিনেশন ক্যামেরার যুগে, ছবি তুলতে গেলেই ধরা পড়বে অত্যধিক মেক-আপ করা মুখের খুঁটিনাটি। ফলে ফটোগ্রাফও বিসদৃশ লাগবে। সুতরাং মেক-আপ সবসময় হালকা রাখাই ভালো এমনকী বিয়ের দিনটাতেও।

আজকাল ট্রেন্ড হিসেবে মার্কেটে অনেক রকম লাইট শেডের লিপস্টিক পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো ডার্ক লিপস্টিকের মতোই লুক দেবে। এতে ঠোঁটের পাউট লুক্সও আসবে। একটা কথা মনে রাখা আবশ্যক যে, লিপস্টিক যদি গাঢ় রঙের হয়, তাহলে হালকা আই মেক-আপ করলেই চলবে। আর যদি হেভি আই মেক-আপ করতেই হয় তাহলে লাইট শেডের লিপকালার ব্যবহার করাই বাঞ্ছনীয়।

বাছুন কালার্ড লেন্স

ত্বকের রং যেমনই হোক, আই লেন্স সবসময় হালকা রঙের বাছাই করাই শ্রেয়। আই লেন্সে গ্রিন এবং ব্রাউন মিশিয়ে নতুন একটি রং তৈরি করা হয়েছে যেটি ভারতীয় ত্বকের জন্য খুবই মানানসই। নীল রং একেবারেই বাছা উচিত নয়, ভারতীয় স্কিন টোনের জন্য।

মেক-আপের আগে ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ টেস্ট

স্টেজে পারফর্ম করার আগেই হোক অথবা বিয়ের কনে, যেখানে মেক-আপের প্রয়োজন আছে সেখানে মেক-আপ বেস বা ফাউন্ডেশন পারফেক্ট হওয়াটা খুব জরুরি। ক্যামেরার ফ্ল্যাশে মেক-আপ এমনিতেই ধূসর লাগে দেখতে। উচিত হচ্ছে মেক-আপ বেস লাগাবার পর নিজের ফোনের ক্যামেরায় ফ্ল্যাশ অন করে নিজের একটা ছবি তোলা। এতে বোঝা যাবে ফাউন্ডেশনের প্রয়োগ ঠিকমতো হয়েছে কিনা। এই পদ্ধতিটিকে মেক-আপ আর্টিস্টরা ফ্ল্যাশ টেস্ট বলে থাকেন।

যতটা সম্ভব মেক-আপ বেস-এর প্রয়োগ কম করে এবং কম ফাউন্ডেশন, লাইট কালারের ব্লাশ এবং হালকা রঙের লিপস্টিক লাগিয়ে নিজেকে প্রেজেন্ট করুন। কনের এই হালকা সাজই কনের সৗন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং এর সঙ্গে আর একটা কথা মনে রাখতে হবে, মেক-আপ যেন কনের পার্সোনালিটিরি অনুরূপ হয়।

জরুরি মেক-আপ টিপ্স

  • কনের কাছে সবসময় তার নিজের স্কিনটোনের সঙ্গে ম্যাচিং কনসিলার রাখাটা খুব দরকার যাতে চোখের নীচে কালি এবং ত্বকের যে-কোনও দাগ-ছোপ সহজেই লুকোতে পারে।
  • এছাড়াও টিনটেড ময়েশ্চারাইজার রাখাটাও খুব দরকার। এটি লাগালে মুখে একটা হালকা গ্লো আসে।
  • বিয়ের দিন চুলের স্টাইল আপনার সৌন্দর্য আরও অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে যদি প্রপার স্টাইলিং করা হয়। কোঁকড়ানো চুল আপনাকে যেমন গ্ল্যামারাস লুক দেবে তেমনি স্ট্রেট চুলের স্টাইল, দেবে ম্যাচিওরড লুক।

উৎসবে অনুষ্কার বিশেষ বার্তা

আগস্ট মাসের শেষে দুই থেকে তিন হওয়ার খবর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান বিরুষ্কা। অনুষ্কা শর্মার খবরে গোটা বলিউড যখন সরগরম, ঠিক তখনই  করোনার বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করতে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল-এ একটা দৃষ্টান্তমূলক পোস্ট করলেন অভিনেত্রী। বাড়িতে বসে দিওয়ালি উদযাপন করে ছবি পোস্ট করলেন অনুষ্কা শর্মা। দুবাই থেকে বহুদিন পর মুম্বই ফিরেছেন তিনি। আইভরি কুর্তি-চুড়িদারে অসাধারণ লুকসে ধরা দিয়েছেন ছবিতে। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সাজগোজ করেছি ঘরে বসে থাকব আর খাব বলে। এটা দারুণ ব্যাপার। আশাকরি তোমাদের দিওয়ালি দারুণ কাটছে।‘

এবছরের নিউ নর্মাল পরিস্থিতিতে, খোদ বলিউডেও এবারের দিওয়ালি অনেকটাই ফিকে।  বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দিওয়ালি স্পেশ্যাল সাজ ছাড়া, সেভাবে কোনও পার্টির ছবি দেখা যায়নি। তবে বেশিরভাগ সেলেবই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যানেদের জন্য দিওয়ালির শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছিলেন ।

দীপাবলি উৎসব ঘরে বসেই কাটালেন অনুষ্কাও। ফুলের রংগোলি করা হয়েছিল বিরুষ্কার বাড়িতে। উৎসবের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ির ফ্লাওয়ার ডেকোরেশন -এর সঙ্গে , হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ফোটো পোস্ট করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন অনুষ্কা। সঙ্গে থালা ভর্তি সাজানো ফুল। ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘হ্যান্ড স্যানিটাইজারগুলিও সাজানোরই অংশ। যে-সময়ে আমরা বাঁচার চেষ্টা করছি।’

প্রথমবার মা হতে চলেছেন বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা। মাঝে মাঝেই ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করছেন নিজের বর্তমান জীবনের টুকরো ছবি। অনুষ্কা এবং বিরাট নতুন বছরের জানুয়ারিতে তাঁদের প্রথম সন্তান আসার অপেক্ষায়। তাই হয়তো করোনার আবহে এই বিশেষ সাবধানতার বার্তা দিতে চাইলেন অভিনেত্রী। ঘরে বসেই বেশিরভাগ সময়ে ছবি পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে এখন তাঁকে। আপাতত ভারতীয় দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সফরে বিরাট কোহলি। করোনার জেরে লকডাউনের পর বড়ো টুর্নামেন্ট।

 

গাজরের কালাকাঁদ

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাজরে রয়েছে, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে. ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস, বিটা কেরোটিন প্রভৃতি পুষ্টিগুণ৷ গাজরের উজ্জ্বল রঙকে এর পুষ্টিগুণের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয় ৷ আজকাল বিজ্ঞানীরা হলুদ, লাল এবং গাঢ় কমলা রঙেরও গাজর তৈরি করছেন। চোখ, ত্বক, চুল এবং শরীরের অন্যান্য অংশের জন্যও গাজরের উপকারিতা প্রচুর। প্রমাণিত, গাজরে প্রচুর পরিমানে ফাইটোকেমিক্যালস থাকে, যা অ্যান্টি-ক্যান্সারের উপাদান বহন করে ৷ এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনকে সক্রিয় করে, যা ক্যান্সারের কোশকে রোধ করতে পারে। এছাড়া গাজরের রস লিউকোমিয়া সারাতেও উপযোগী ৷

আজ আমরা সেই উপকারিতার কথা মাথায় রেখেই, এখানে দিলাম গাজর দিয়ে তৈরি চমৎকার একটি মিষ্টির রেসিপি ৷

উপকরণ – ২০০ গ্রাম গাজর গ্রেট করা, ১/২ লিটার ফুলক্রিম দুধ, ২ বড়ো চামচ টক দই, ২ ছোটো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১ কাপ গুঁড়োদুধ, ১/২ চামচ ছোটো এলাচগুঁড়ো, ১ বড়ো চামচ চিনি, ১ বড়ো চামচ ঘি, ১ বড়ো চামচ বাদাম ও পেস্তা কাটা।

প্রণালী – গাজর গ্রেট করে হাত দিয়ে চেপে নিন। ১ ছোটো চামচ ঘি দিন ননস্টিক প্যানে। এতে গাজর ভেজে নিন। এবার দুধ আলাদা পাত্রে ফুটিয়ে ঘন করে নিন। কর্নফ্লাওয়ার ১ বড়ো চামচ জলের সঙ্গে গুলে নিন। এবার দুধে এক চামচ দই দিন। দুধ ঘন হয়ে এলে এতে কর্নফ্লাওয়ার গোলা দিয়ে দিন। গাজর দিন ও চিনি দিয়ে ফুটতে দিন। ৫ মিনিট পর বাকি দইটা এই মিশ্রণে দিন। এবার মিল্ক পাউডার মিশিয়ে শুকোতে থাকুন। নামানোর আগে ঘি দিয়ে নাড়াচাড়া করে নিন। একটা প্লেটে ঘি মাখিয়ে শুকনো হয়ে আসা গাজরের হালুয়াটা চারিয়ে দিন। এলাচগুঁড়ো ও বাদাম-পেস্তাকুচি ছড়িয়ে দিন। ঠান্ডা হলে চৗকো টুকরোয় কেটে নিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব