হয়তো বাধ্য হয়েই নিয়ম ভাঙে জনগণ

ইচ্ছে থাক বা না-থাক, এখন গ্রামের মানুষও শহরে এসে থাকতে চাইছেন। ভিড়, যানজট, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, জল জমে থাকার সমস্যা, জমিবাড়ির দাম আকাশছোঁয়া হোক কিংবা একাকিত্ব, শহরে যে সমস্যা-ই থাক-না কেন, তবুও গ্রাম ছেড়ে শহরে থাকা ভালো মনে করছেন গ্রামের অনেক মানুষ। কারণ, তাদের ধারণা, গ্রামে কোনও সুযোগ-সুবিধা নেই, যত সুবিধে পাওয়া যায় সব ওই শহরে। বিশেষকরে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা তো এখন আর গ্রামে থেকে চাষাবাদ করতে চাইছে না, তারাও চাইছে ষুরে-জীবন। আর সমস্যার সূত্রপাত এখান থেকেই।

অবশ্য এই সমস্যা শুধু ভারতেই নয়, আমেরিকার গ্রামে থাকা মানুষগুলোও হয়তো একই ভাবে ওখানকার শহরে থাকতে পছন্দ করছেন। মানুষের শহরমুখী হওয়ার এই যে ইচ্ছে কিংবা আকাঙ্খা, তা ক্রমশই বাড়ছে। আর ঠিক এই চাহিদা এবং আর্থিক লাভের কথা মাথায় রেখে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, শহরের অনেক জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি, তাই লোকসংখ্যা, সমস্যা এবং অপরাধও বাড়ছে শহরে।

সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল এই যে— জমি কিংবা ফ্ল্যাট-এর দাম যে ভাবে বেড়ে চলেছে, এর ফলে ছোট্ট জায়গায়ও বে-আইনি নির্মাণ বাড়ছে। জল নিকাশের ব্যবস্থা কিংবা আগুন লাগলে নেভানোর ব্যবস্থা না থাকলেও, কারওর কোনও মাথা ব্যাথা নেই। কিন্তু মজার বিষয় হল এই যে, প্রভাবশালীরা বে-আইনি নির্মাণ করে নিশ্চিন্তে থাকলেও, সৎ-সাধারণ শহুরে নাগরিকরা আইন মেনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে চাইলে নানারকম ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটে পড়েন। তাদের ‘তোলা’ দিতে হয় নেতা কিংবা সিন্ডিকেট-এর পাণ্ডাকে। শুধু তাই নয়, বাড়ি তৈরির বৈধ কাগজপত্র পেতে গেলেও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয় কিংবা সমস্যায় পড়তে হয়। তাই হয়তো বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষও কেউ কেউ অনেক সময় নিয়ম কিংবা আইন ভেঙে নির্মাণকাজ করান।

অনেকের মতে, গ্রামে সুযোগ-সুবিধে বাড়িয়ে দিলে, শহরে আসার প্রবণতা কমবে গ্রাম্য মানুষের। এর ফলে শহরের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং গ্রামে চাষাবাদ বন্ধ হবে না। শুধু তাই নয়, কর্মপ্রার্থীরা গ্রাম থেকে শহরে আসা কমালে, শহরের কর্মক্ষেত্রেও কর্মীদের চাপ কমবে। আর শহরে  জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে যেমন আইন-শৃঙ্খলাও প্রশাসনের আয়ত্তে থাকবে শহরে, ঠিক তেমনই গ্রামে চাষাবাদ ঠিকঠাক হলে খাদ্যের জোগানেও ঘাটতি থাকবে না। এতে সবদিকে ভারসাম্য থাকবে এবং সরকার ও নাগরিক সমাজ সকলেরই মঙ্গল হবে।

ধোঁয়াশা (শেষ পর্ব)

এক বস্ত্রেই বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। এতক্ষণে বাড়িতে নিশ্চয়ই উৎসব লেগে গেছে। ওদের আজ বড়ো আনন্দের দিন। এক দীর্ঘ চিঠিতে সব লিখে পোস্ট করেছেন নিজের ঠিকানায় গতকাল। বাড়ির লোক চিঠিতে সব জেনে বলবে— আপদ বিদেয় হয়েছে।

খানিক বিশ্রামের পর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। সন্ধ্যার আগে আরও খানিকটা পথ পেরিয়ে যেতে হবে। রাতে কোনও এক স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। নদীর জলে হাত মুখ ধুয়ে নিলেন। চোখেমুখে জল দিয়ে অনেকটা ভালো লাগছে তাঁর। হাঁটুজল পেরিয়ে নদীর ওপারে উঠলেন। এক চায়ের দোকানে একটু জল চেয়ে খেলেন। দোকানের মালিক কী ভেবে যেন সমরবাবুকে চা বিস্কুট খেতে দিলেন। সমরবাবু প্রথমটা আপত্তি জানালেও পরে খেলেন। অবশ্য দামও মেটালেন।

—কোথা থেকে আসছেন? কোথায় যাবেন আপনি? দোকানের মালিক গুণধর শুধালেন।

সমরবাবুর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। ক্লান্ত শরীরে তিনি খালি বেঞ্চটায় শুয়ে পড়লেন। দোকানি ছুটে এলেন। সমরবাবু হাত নেড়ে বললেন, ‘ক্লান্ত লাগছে তাই একটু শুলাম। আপনার আপত্তি নেই তো।”

—না না ঠিক আছে। গত রাতে ঘুমাননি, তারপর এতটা পথ সারা সকাল জুড়ে হাঁটছেন। স্বাভাবিকভাবেই অসুস্থ বোধ করলেন। একসময় ঘুমিয়ে পড়লেন সমরবাবু।

রাতে দোকানি দোকান বন্ধ করার সময় ডাকলেন সমরবাবুকে। তিনি একপ্রকার জোর করেই সমরবাবুকে নিজের বাড়ি নিয়ে গেলেন।

রাতটুকু এখানে থেকে না হয় কাল সকালে চলে যাবেন। গুণধরের কথায় সমরবাবু অনিচ্ছা সত্ত্বেও থেকে গেলেন। রাতে খাওয়ার পর সব জানালেন তিনি। সংসারে তার অবস্থান কোথায়।

আসলে তিনি হারিয়ে যেতে চান। সবার অলক্ষ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে চান। এই সংসারে তার কাজ শেষ হয়েছে। এবার নিজ নিকেতনে ফেরার পালা।

পরদিন ভোরবেলা বেরিয়ে পড়লেন সমরবাবু। আবার চলার পালা। চলতে চলতে বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে ধীরে। এভাবেই চলতে চলতে তাঁর পোশাক একে একে খুলে ফেলে দিলেন। লজ্জা নিবারণের জন্য একটুকরো কাপড় কোমরে বেঁধে এগিয়ে চললেন তিনি। ওদিকে পশ্চিমের আকাশ বেয়ে আঁধার নামতে শুরু হয়েছে। তিনি দ্রুত পায়ে এগোতে লাগলেন।

এক শিবমন্দির দেখে মনস্থির করলেন রাতটা ওখানেই কাটাবেন তিনি। মন্দির চাতালে টান টান হয়ে শুয়ে পড়লেন। কিন্তু খিদের জ্বালায় পেটে মোচড় দিচ্ছে। আশপাশে কোনও দোকানও নেই যে, কিছু কিনে খাবেন। খিদে আর ক্লান্তিতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখলেন মাকে। অনেক কথা হল মায়ের সঙ্গে। ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই একটা অব্যক্ত কষ্ট অস্থির করে তুলল। আর এ জীবন রেখে কী লাভ। কিন্তু কীভাবে শেষ করবেন নিজেকে। ক্লান্ত পায়ে আবার যাত্রা শুরু করলেন তিনি।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সমরবাবুর মনে হল কে যেন ওনাকে অনুসরণ করছে। পিছনে পিছনে হাঁটছে কেউ। পিছন ফিরে বার বার দেখছেন অথচ কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না। সমরবাবু খানিক থামলেন। পিছনে ফিরে তাকালেন আবার। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। কিন্তু অনুভব করছেন কে যেন ওনাকে অনুসরণ করছে। সমরবাবু দ্রুত হাঁটতে লাগলেন। তাছাড়া সন্ধে গড়িয়ে রাত নামছে চুপিসারে।

সমরবাবু এবার দৌড়াতে শুরু করলেন। বুকের ভিতর হাঁফ ধরে। পাঁজরখানা এবার বুঝি খান খান হয়ে পড়বে। এই বয়সে কি আর দৌড়ানো যায়। একসময় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন তিনি। ওঠবার চেষ্টা করতে গিয়ে একেবারে অন্ধকার খাদে গড়িয়ে পড়লেন। নরম মাটিতে পড়ে একটু দম নিলেন। হাপর টানা বুকের ভিতর দমবন্ধ বাতাস থমকে গেছে। নিকষ অন্ধকার। কিছু দেখা যাচ্ছে না।

সমরবাবু হাতড়ে হাতড়ে হামাগুড়ি দিয়ে সামনের দিকে এগোতে লাগলেন। কতক্ষণ এভাবে চলেছেন জানা নেই। মনে হচ্ছে এই বুঝি প্রাণটা বেরিয়ে যাবে শরীর থেকে। ক্লান্ত অবসন্ন। শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছে। আর ঠিক তখনই একটা আলোর বিন্দু চোখে পড়ল তাঁর। এবার মনে বল পেলেন। আলোর বিন্দু লক্ষ্য করে তিনি এগোতে লাগলেন। ক্রমশ আলো বড়ো হচ্ছে। সমরবাবু প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারছেন। একসময় গুহামুখে এসে পড়লেন। তারপর আলো শুধু আলো। চোখ ঝলসানো আলো। নিমেষে চোখ বন্ধ করলেন তিনি৷

একটা হইচই কানে এল। ধীরে ধীরে চোখ খুললেন সমরবাবু। দেখলেন অনেকগুলো মুখ তাঁর মুখের সামনে ঝুঁকে আছে। ঝাপসা চোখে দেখতে দেখতে তিনি ক্রমশ মুখগুলো চিনতে পারছেন। আরে এঁরা তো সব তারই পূর্বপুরুষ। সবাই এসে দাঁড়িয়েছেন। হাত বাড়িয়েছেন তাঁর দিকে। মহা আনন্দে আত্মহারা সমরবাবু হাত বাড়িয়ে দিলেন। উনি উঠে দাঁড়ালেন। সবাই ঘিরে ধরেছেন তাঁকে। এবার সব স্পষ্ট দেখতে পারছেন আর চিনতেও পারছেন।

এক উন্মুক্ত প্রান্তরে নরম ঘাসের উপর তিনি দাঁড়িয়ে দেখছেন সামনে চিতা জ্বলছে দাউ দাউ। তাঁর পূর্বজরা, যাঁরা আর ইহলোকে নেই, তাঁরা গোল করে এক বৃত্তের মধ্যে করজোড়ে দাঁড়িয়ে।

কখন যেন অরণ্য এসে দাঁড়িয়েছে। ওর হাতে জ্বলন্ত কাঠ। ক্রমশ এগিয়ে আসছে সে। ওর দু’ চোখে অশ্রুধারা। সমরবাবু খুশিতে কিছু বলতে গেলেন আর তখুনি দেখলেন, চিতায় পুড়ছে যে শরীর সে তো তার নিজের। কী আশ্চর্য। একসময় চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। চিতার আগুন নিভে গেছে। একটা ধোঁয়াশা। হালকা নীলচে ধোঁয়া আকাশমুখী। সমরবাবু এখন তাঁর পূর্বপুরুষদের হাতে হাত রেখে ভেসে চলেছেন পিতৃলোকে। নীচে তাকিয়ে দেখলেন হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর প্রিয় ভাইপো অরণ্য।

ঠিক সেই মুহূর্তে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিধারা ধুয়ে দিচ্ছে অলৌকিক প্রান্তরের মায়াবী আচ্ছাদন। ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে ধোঁয়াশা। সমরবাবু এতদিনে সংসার সমর জিতে ফেলেছেন। আর কোনও ধোঁয়াশা নেই।

(সমাপ্ত)

সমস্যা থাকলে সমাধানের উপায়ও আছে

এক আমেরিকান সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী জানানো হয়েছে যে, দুই সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না করতে যে সময় এবং শ্রম দান করেন মা, আউটসোর্স করলে এর জন্য ব্যায় করতে হবে ৪,৫০০ থেকে ৫,২০০ ডলার। যে-সব পরিবারে মাসে ৩,০০০ ডলার আয়, সেই পরিবারগুলোকে মধ্যবিত্ত পরিবার ধরা হয় আমেরিকায়। এর থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, পরিবারের মহিলা সদস্যটি যদি অন্যের বাড়িতে একই শ্রম দান করেন, তাহলে তিনি তার পারিবারিক উপার্জনের থেকে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ভারতেও মহিলাদের পরিস্থিতি খুব আলাদা কিছু নয়। এখানে হয়তো বাড়িতে শ্রমদানকারী আয়াদের পারিশ্রমিক আমেরিকার মতো অত বেশি নয় কিন্তু আয়াদের দুর্ব্যবহার সহ্য করতে হয় গৃহিণীদেরই। তাই, শিক্ষিত, বুদ্ধিমতী মায়েরা যদি কোনও চাকরি করে থাকেন, তাহলে কোনও অবস্থাতেই সেই চাকরি ছাড়া উচিত নয় তাদের। কারণ, বাইরের কাজে যে সন্তুষ্টি কিংবা অর্থলাভ হয়, তা বাড়ির কাজে কখনও-ই সম্ভব নয়। কিন্তু অনেক পরিবারে দেখা যায় যে, পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে কিংবা চাপে পড়ে অনেক মহিলা মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

অবশ্য বিষয়টা এমন নয় যে, সন্তানকে অবহেলা করে কিংবা তার শৈশব ছিনিয়ে নিয়ে মা যাবেন চাকরি করতে! আসলে নিজের স্বপ্নপূরণ করেও কীভাবে সন্তান লালনপালন করা যায়, সেই বিষয়ে দেখানো হচ্ছে সুন্দর সমাধানের পথ। কিন্তু কী সেই পথ?

নারী-পুরুষ উভয়কেই সন্তানের যত্ন নিতে হবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই যদি উপার্জন করেন, তাহলে সন্তানকে বড়ো করে তুলতে কর্মী নিয়োগ করলে, সেই খরচের অর্থ মা-বাবা দু’জনে মিলে বহন করতে পারেন। মোটকথা সন্তান যখন দু’জনেরই ভালোবাসার ফসল, তখন সন্তানের দায়-দায়িত্ব বহনও করতে হবে দু’জনকেই।

সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে শুধু মা যদি অমানুষিক পরিশ্রম করেন, তাহলে এক সময় তিনি বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেন। আর এর ফলে যদি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে সন্তানের। তাই, মায়ের উপর সমস্ত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাবা যদি নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোন, তাহলে পরোক্ষে তিনি সন্তানের শৈশব ছিনিয়ে নিচ্ছেন, সন্তানের চরম ক্ষতি করছেন। অতএব, সমস্যার শিকড় গভীরে যাওয়ার আগে, সমাধানের উপায় খুঁজে বের করুন। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন। দায়িত্ব এড়িয়ে নয়, নিজে কিছুটা দায়িত্ব নিয়ে স্ত্রী এবং সন্তানের পাশে দাঁড়ান।

এবারও ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চ আলোকিত করলেন ব্যতিক্রমী মানুষরা

যাদের নিঃস্বার্থ সেবা অন্যদের জীবন বাঁচায়, প্রেরণা জুগিয়ে সমাজকে আলোকিত করে, তাঁরাই এবার আলো ছড়ালেন মঞ্চে। আর দেশে-বিদেশে আলো ছড়ানো এইসব নক্ষত্রদের সম্মান জানাল টিভি নাইন বাংলা। তাই, ১৯ মার্চ-এর রাতে কলকাতা শহরের এক অভিজাত হোটেলের ব্যাংকোয়েট হল-এর মঞ্চ হয়ে উঠেছিল বর্ণময়। আলোকিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘নক্ষত্র সম্মান’।

এই ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চে কুর্নিশ জানানো হয়েছে ক্রীড়া, নাটক, চিকিৎসা-গবেষণা, ইতিহাস-গবেষণা, মানবসেবায় ব্রতী বাংলার ৬জন কৃতী সন্তানকে। পাশাপাশি, নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে চলা একঝাঁক রিয়েল হিরোকেও সম্মান জানানো হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।

যাঁর পরিকল্পনা, সক্রিয় উদ্যোগ এবং অংশগ্রহণে বাংলার দ্বিতীয় এই ‘নক্ষত্র সম্মান’ অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত হয়ে উঠেছিল, সেই মানুষটি হলেন—টিভি নাইন নেটওয়ার্ক-এর এমডি বরুণ দাস। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’ অনুষ্ঠানটি টিভি নাইন বাংলা-য় সম্প্রচারিত হবে ৩০ মার্চ,(২০২৫)রবিবার বিকেল ৫টা থেকে।

এই অনুষ্ঠানে ‘প্রথম থেকে প্রথমে’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ‘জীবনকৃতি’ সম্মান দেওয়া হয় প্রবীণ নাট্যকর্মী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তকে। এ ছাড়া, ক্যানসার গবেষণার জন্য ডা. অসীমা মুখোপাধ্যায়, সিন্ধুলিপির পাঠোদ্ধারের দিশা দেখানোর জন্য বহতা অংশুমালী, দৃষ্টিহীনদের নিয়ে নাটক পরিচালনার জন্য শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং শবর জাতির শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ড. অরূপ রায়কে দেওয়া হয় নক্ষত্র সম্মান।

প্রচারের আলোর বাইরে কাজ করে চলা যে পাঁচজনকে এই অনুষ্ঠানে আলোকবৃত্তের মাঝে এনে সম্মানিত করা হল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একক উদ্যোগে বনসৃজন করা দুখু মাঝি, গরীবদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠাকারী রেবা মুর্মু, বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষক প্রবীর পাল এবং ভবঘুরেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে দেওয়া সাজু তালুকদার।

”এই ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চে আমরা যে মানুষগুলোকে দেখতে পাই, তাঁরা সারা বছরে দৌড়ে বেড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগান। আমরাও তাঁদের থেকে প্রেরণা নিয়ে চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে, কারণ মানুষ সত্যি-সত্যি কিছু-কিছু ক্ষেত্রে খুব একলা। মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, এটার জন্য একটা অদ্ভূত লড়াই দরকার হয়, অদ্ভূত একটা মানসিকতার দরকার হয়, যেই মানসিকতার জায়গায় অনেক কিছু ছাড়তে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এগুলো করার কথা ভাবতে গেলে, বাইরে থেকে অনেকেই রয়েছেন যারা সত্যি-সত্যি আমাদের পথ দেখান, আমরা তাঁদেরকে সব সময় দেখতে পাই না, কিন্তু তাঁদের নিঃস্বার্থ কাজগুলো আমাদের কোথাও গিয়ে অনুপ্রাণিত করে। যাঁরা আমাদের এ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, তাঁদের সম্মান জানিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার বেশ একটা রসদ জোগাব। ৩০ মার্চ টিভির পর্দায় যাঁদের দেখবেন এবং জানবেন, তাদের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা তাই এই বিশেষ সম্মান জানানোর ক্ষেত্রটিকে ‘নক্ষত্র সম্মান’ প্রদানের মঞ্চ আখ্যা দিয়েছি।’’—এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কথাগুলো জানিয়েছেন টিভি নাইন বাংলা নিউজ চ্যানেল-এর ম্যানেজিং এডিটর এবং বিজনেস হেড অমৃতাংশু ভট্টাচার্য।

টিভি নাইন নেটওয়ার্ক-এর এমডি বরুণ দাস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা যদি ইতিহাসের পাতা ওল্টাই, প্রথম থেকেই ভারত যখন সাফল্যের মুখ দেখেছিল, তখন বাংলা নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৮৯৩ সালে মহাসম্মেলনে শিকাগোতে স্বামীজি যেখানে ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতির আদর্শে গোটা পৃথিবীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রামদুলাল দে প্রথম মাল্টিনেশন্যাল কোম্পানিতে নিজেকে ভারতীয় শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর পর একের পর এক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়, অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন, অভিজিৎ বিনায়ক। বিশ্ব স্তরে ভারত যেখানেই সাফল্য পেয়েছে, বাঙালিরা নেতৃত্ব দিয়েছে। সঙ্গে আছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটকে কোথায় তিনি নিয়ে গেছেন, আমরা তা জানি। তাই আমার আশাবাদী মন বলছে, একটা সুবর্ণ সুযোগ আছে, বিশ্বস্তরে বাঙালিদের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক ক্ষমতা আছে, যে বাঙালিরা আবার নেতৃত্ব দিতে পারে। আমি বাঙালি যুবসমাজকে বলছি, বড়ো স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নের পেছনে নিরলস ভাবে ছুটতে। যখন আমরা স্বপ্নের পিছনে ছুটি, আমাদের আবেগ, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আর এই অনুপ্রেরণার খোঁজে টিভি নাইন বাংলার ‘নক্ষত্র সম্মান’-এ আমরা কয়েকজন কৃতি বাঙালিকে সম্মান জানাতে পারলাম। এঁরা আমাদের প্রত্যেকের অনুপ্রেরণা হতে পারেন আর এই অনুপ্রেরণাই পারে আমাদের লক্ষ্যে  পৌঁছে দিতে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’’

ধোঁয়াশা (পর্ব-০১)

সনাতন সমাদ্দার। চন্দনপুর গ্রামের নামী মানুষ। ধানকলের ব্যাবসা তাঁর। বেশ রমরমা ব্যাবসা। বেশ দু’পয়সা করেছেন। গ্রামে প্রথম পাকাবাড়িখানা তাঁরই। ‘সনাতন নিবাস’।

সনাতন দাওয়ায় বসে হুঁকোয় টান দিচ্ছেন আর তাঁর ইয়ার দোস্তদের নিয়ে জমিয়ে আড্ডা চালাচ্ছেন পড়ন্ত বিকেলে। এখন বড়ো ছেলে সমর ব্যাবসার হাল ধরেছেন। ছোটো ছেলে শ্যামল নেহাতই ছোটো। মেয়ে ইন্দু অবশ্য ডাগরটি হয়েছে। তার বিয়ের কথাবার্তা চলছে।

সনাতন এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত। ব্যাবসা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে একটু আয়েশ করে সময় কাটাতে চান। তাছাড়া বড়ো ছেলে সমর লায়েক হয়ে গেছে। সমরই সামলে নিতে পারবে সব— এ বিশ্বাস তার আছে।

বেশ কাটছিল দিন আরামে। সেবার স্ত্রী অন্নপূর্ণাকে ডেকে রাতে শোওয়ার আগে তীর্থে যাবার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন সনাতন। গিন্নি খুব খুশি, কারণ ব্যাবসা দেখতে গিয়ে বিয়ের পর খুব একটা ঘোরা হয়ে ওঠেনি।

না, তীর্থে যাবার ইচ্ছেটা আর পূরণ হল না। পরদিন সকাল থেকে তুমুল জ্বর সনাতনকে কাহিল করে দিল। দু’দিন পর সনাতনের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। বাধ্য হয়ে সমর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিল। কিন্তু চিকিৎসায় সাড়া মিলল না। জ্বরের ঘোরেই সনাতন সমাদ্দার দেহ রাখলেন। চোখে অন্ধকার দেখল সমর।

বাবা মারা যাওয়ার পর সমরের কাঁধে সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ল। ভাই-বোনের পড়াশোনা, সংসার চালানো। এমনকী বোনের বিয়ে। সব সমরের ঘাড়ে। হিমসিম খাচ্ছে সে। তখন কতই বা বয়স তার।

বোনের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল ঠিকই, কিন্তু তা ভেঙে গেল সনাতনবাবুর মৃত্যুর পর। ব্যাবসায় ক্রমশ মন্দা হতে লাগল। বাজারে প্রচুর দেনা করে ফেলেছিলেন সনাতনবাবু, তা কেউই জানতেন না। শেষমেশ ধানকল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হলেন সমরবাবু। সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ল। সমরবাবু চাকরির চেষ্টা করতে লাগলেন। কলকাতায় একটা চাকরি পেলেন ঠিকই, তবে মাইনে বেশ কম। কোনওরকমে খুব কষ্ট করেই সংসার চালাতে লাগলেন সমরবাবু।

সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বোনের বিয়ে দিলেন ভালো পাত্র দেখে। ছোটো ভাইয়ের পড়াশোনা শেষ করালেন। ভালো চাকরি, এমনকী বিয়েও দিলেন তিনি দাঁড়িয়ে থেকে। অথচ নিজে আর বিয়ে করার সময় পেলেন না। যেমনটা হয় আর কী!

কেউ জোর করেনি তাকে। আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী — সবাই সমরের জয়জয়কার করে। এমন দায়িত্ববান ছেলে পাওয়া কঠিন। বাবার অবর্তমানে বড়ো ছেলে হিসেবে সমরবাবু যেভাবে সংসারের হাল ধরেছেন, তা অব্যশই প্রশংসার দাবি রাখে। মৃত্যুশয্যায় বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোলেনি সমর। শতায়ু মা’র সেবাযত্ন নিজের হাতেই করেন তিনি। দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন সমরবাবুর মা অন্নপূর্ণাদেবী। ভালোই চলছিল সব। কিন্তু ভাইয়ের বিয়ের পর সুখের সংসারের ভাঙন শুরু হল।

অসম্মান আর অপমানই জুটেছে সমরবাবুর কপালে। সমরবাবু হাসেন নিজের মনেই। সামান্য চাকরি করে এতকিছু করা চাট্টিখানি কথা নয়। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে নানান রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। শরীর ভেঙে পড়েছে। কিন্তু এখন আর সহ্য হয় না। বয়স তো আর কম হল না। সত্তর ছুই ছুই। অকৃতজ্ঞ বেইমান ভাইকে চেনা হয়ে গেছে তার। চা-মুড়ি আর দু-মুঠো ভাতের জন্য কত কথা শুনতে হয়। একবারের বেশি দু’বার চা চাইলেই কুরুক্ষেত্র। সত্যি তো এতদিন চাকরি করেও কিছুই জমাতে পারেননি তিনি। কী করে করবেন আর। রোজগারের টাকা তো সংসারেই খরচ করেছেন।

সমর হাসেন। সত্যি তার নামের সার্থকতা আছে। সারাটা জীবন যুদ্ধ করেই যেতে হল। সংসার যুদ্ধ। এতদিন মা ছিলেন, তাই সেই বন্ধন থেকে বের হতে পারছিলেন না। দু’মাস আগে মা চলে যাওয়ায় সমর এখন মুক্ত। যত বন্ধন ওই মায়ের জন্যই ছিল।

ভাই ও তার বউয়ের চাপের মুখে সহজ সরল সমরবাবু বিষয় সম্পত্তি ভাইয়ের নামে লিখে দিলেন। সত্যিই তো তার আর কে আছে। ভাইপো অরণ্যকে খুব ভালোবাসেন সমরবাবু। তাতেও ওদের আপত্তি। ওদের ছেলেটার মাথাটা নাকি নষ্ট করছেন তিনি এমনই অভিযোগ। সমরবাবু দুঃখ পান। ছেলেটা এখন বেশ বড়ো হয়েছে। বুঝতে শিখেছে। জেঠুকে কিছু বললে ওর গায়ে লাগে। রুখে দাঁড়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে। তাতেও ওদের জ্বালা। ক্রমশ অসহ্য হয়ে উঠছে সব। উঠতে বসতে এই অপমান আর অসম্মান নিয়ে থাকা যায় না। কিন্তু যাবেন কোথায়? কেইবা ওকে রাখবেন।

সমরবাবু সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি বাড়ি ছাড়বেন। নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করবেন। যেদিকে দু-চোখ যায় চলে যাবেন। এখানে আর নয়। আগের রাতে সমরবাবু অনেক ভাবলেন। কী করা উচিত তার এসময়। সংসারে তার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। কাজেই এখনই সঠিক সময় নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার।

নির্ঘুম একটা গোটা রাত কাটিয়ে সমরবাবু টাটকা ভোরের হালকা ঠান্ডা হাওয়া গায়ে মেখে চুপিচুপি ঘর ছাড়লেন। বাপের ভিটে। নিজের জন্মস্থান। এতদিনের সম্পর্ক সব ছিন্ন করে সমরবাবু সমস্ত স্বার্থ ত্যাগ করে, যাবতীয় স্মৃতি পিছনে ফেলে এগিয়ে চললেন। ভিটেমাটি ছেড়ে, উঠোন, বাগান, পরিচিত চৌহদ্দির মায়া দু-হাতে সরিয়ে তিনি একবুক চাপা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পা রাখলেন নিরুদ্দেশের পথে। তিনি জানেন না কোথায় যাবেন। কার কাছে যাবেন। তবুও হাঁটতে লাগলেন ধীর পদক্ষেপে।

অসহায় নিরুত্তাপ হৃদয়ে মুখে হালকা হাসির রেশ নিয়ে সামনে এগোতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন একটি বট গাছের নীচে। সামনে দিয়ে শীর্ণ এক নদী বয়ে যাচ্ছে। ওপারে অন্য এক গ্রাম। কত যে গ্রাম পেরিয়ে এসেছেন তিনি। একটু জিরিয়ে নিয়ে আবার রওনা দেবেন। সকাল থেকে কিছুই খাওয়া হয়নি। সঙ্গে সমান্য কিছু টাকা আর মায়ের দেওয়া সোনার হার। অনেক কষ্টে ভাইয়ের হাত থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন হারটা।

(ক্রমশ…)

দাম্পত্য-সুখের কৌশল রপ্ত করুন

সম্প্রতি এক বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলার শুনানিতে রায় দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনও স্ত্রী তার স্বামীকে ইচ্ছাকৃত ভাবে যৌনসুখ দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন মোতাবেক, দোষী সাব্যস্ত হবেন ওই স্ত্রী। আদালত এও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকে থাকার অন্যতম উপায়ের মধ্যে আছে শারীরিক সুখভোগ। আসলে এই রায় সত্যিই অভিনব, কারণ বাস্তবে স্ত্রী যদি যৌনসুখ না পান স্বামীর দ্বারা, তাহলে তিনি অভিযোগের আঙুল তোলেন স্বামীর দিকে। কিন্তু এক্ষেত্রে অসুখী স্বামীর পক্ষে প্রথম রায় দিয়েছে আদালত।

এখন প্রশ্ন, নারী-পুরুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় কি শুধু শারীরিক সুখলাভ আর বাচ্চার জন্ম দেওয়ার জন্য? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো ‘না’ হবে। কারণ, দাম্পত্য সম্পর্কের আরও অনেকগুলি স্তর আছে। ধর্মমত যাইহোক না কেন, বিবাহ মানে নারী শুধু বাচ্চার জন্ম দেবে আর স্বামীকে যৌনসুখ দিয়ে খুশি রাখবে, আজকের নারী সমাজ আর তা মেনে নিতে নারাজ। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে যৌনসুখ দেবেন এবং সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাবেন, এই দুটি বিষয় অবশ্যই বিয়ের অলিখিত চুক্তি কিংবা প্রতিশ্রুতি। তবে এটাই যে বিবাহের একমাত্র উদ্দেশ্য, তা কিন্তু নয় নিশ্চয়ই।

বিবাহের পর আইনি বন্ধন এক বিষয় আর দাম্পত্যে ভালোবাসা, সম্মান প্রদর্শন কিংবা সংবেদনশীলতা অন্য এক বিষয়। আসলে আইনের বাইরে আছে অন্য এক মানবিক দিক। তাই দাম্পত্যে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন, এটাই কাম্য। কিন্তু তার পরিবর্তে যদি কেউ একজন অতিরিক্ত অধিকার ফলান, অসম্মান কিংবা ইমোশনাল অত্যাচার করেন, তাহলে তা আদালতের বিচারে যে রায়-ই ঘোষিত হোক-না কেন, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এক্ষেত্রে ক্ষতির শিকার হবেন, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

দাম্পত্যে যৌনসুখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তা একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে না। সুখ-দুঃখে পরস্পরের সঙ্গে থাকা এবং শারীরিক- মানসিক অসুবিধা কিংবা যন্ত্রণায় সহানুভূতিশীল হওয়া অবশ্যই কর্তব্য। সঙ্গীর মৃত্যুর পর তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যেমন আইন মাফিক ভোগ করার অধিকার পেয়ে যান জীবিত ব্যক্তিটি, ঠিক তেমনই, এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে সঙ্গীর জীবদ্দশায় তার প্রতি যতটা সম্ভব মানবিক হওয়া উচিত।

বুদ্ধিধারীরা জানেন যে, দাম্পত্য সম্পর্কের ভালোমন্দের বিষয়টি একটি সরু সুতোর উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তাই সর্বদা সতর্ক থাকতে হয় যে, সুতোর উপর দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ভারসাম্য রেখে এমন ভাবে চলতে হবে, যাতে পড়ে না যান কিংবা সুতোটা ছিঁড়ে না যায়।

আরও যে বিষয়টি দাম্পত্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে, তা হল – স্পেস। পরস্পরকে বিশ্বাস রেখে স্পেস দিতে হবে। কারণ, বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হলেও, প্রত্যেক মানুষের একটা ব্যক্তিগত জীবন আছে। আর তাই প্রত্যেককে সেই ব্যক্তিগত জীবন- যাপনের জন্য সুযোগ দিতে হবে। এটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। তবে স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়, এটাও মাথায় রাখতে হবে স্বামী- স্ত্রী দুজনকেই।

আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের বাইরে আর যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন না নীতিগত ভাবে। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে পরিবার কিংবা সমাজ বহুগামিতার অনুমতি দেয় না সাধারণত। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউ একজন যদি পরকীয়াতে জড়িয়ে পড়েন কিংবা চিট করেন পার্টনার-কে, তাহলে সেক্ষেত্রে বেশিরভাগই সম্পর্ক ভেঙে যায়। অবশ্য শুধু শারীরিক-ই নয়, মানসিক সম্পর্কও অনুমোদন পায় না স্বামী-স্ত্রীর বাইরে।

এই ব্যাপারে আমাদের ভারতীয় নাগরিকদের মানসিকতা এখনও সেই প্রাচীন যুগেই বিরাজমান। তাই, বিবাহিত সম্পর্ককে টিকিয়ে রেখে, এক্সট্রা অ্যাফেয়ার্স সম্ভব হয় না বেশিরভাগ দাম্পত্যে। এর ফলে, কেউ স্বাধীন ভাবে শারীরিক সুখভোগ করতে চাইলে, বিবাহবিচ্ছেদ করে যৌন স্বাধীনতা উপভোগ করেন। অবশ্য এর ব্যতিক্রমও আছে।

এখন যেহেতু বেশিরভাগ মেয়েরা আর্থিক ভাবে সাবলম্বী এবং আধুনিক মনস্ক, তাই তারা স্বামীর বাধ্য না হয়ে, ভয়হীন কিংবা দ্বিধাহীন ভাবে গোপনে অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে শারীরিক কিংবা মানসিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। আর এক্ষেত্রে পুরুষদের কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। কারণ, অনেক পুরুষ দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেও অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন।

আসলে, সম্পর্কের বিষয়টিতে পুরুষরা ভারসাম্য বজায় রাখতে অনেক বেশি পারদর্শী কিন্তু এক্সট্রা রিলেশন-এর ক্ষেত্রে শুরুর দিকে মেয়েরা গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, কিছুদিন পরে আবেগে অতিরিক্ত সাহসী হয়ে ওঠেন এবং স্বামী কিংবা সমাজের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেন না কিংবা তোয়াক্কা করেন না।

অতএব ধরা পড়ার পর মেয়েরা স্বামীর সঙ্গে আর বিবাহিত সম্পর্কে থাকতে পারেন না এবং যার পরিণতি বিবাহ-বিচ্ছেদ কিংবা মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত গড়ায়। শুধু তাই নয়, এই এক্সট্রা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার্স-এর জন্য অনেক সময় আত্মহত্যা কিংবা খুনের ঘটনাও ঘটে যায়।

আসলে, বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রী ‘মেড ফর ইচ আদার’ হয়ে উঠতে না পারলেই অশান্তি চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে। যৌনসুখ না পেলেই যে শুধু বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে কিংবা দাম্পত্য অশান্তি তৈরি হয় এমনটা নয়। নানারকম কারণে ঘটতে পারে বিবাহ-বিচ্ছেদ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কেউ একজন কিংবা দুজনেই বদমেজাজি হলে, কেউ একজন অসুস্থ থাকলে, আর্থিক অভাব-অনটন থাকলে, বিচক্ষণ না হলে, মতের মিল না থাকলে, একজন অন্যজনের কেয়ার না নিলে কিংবা দুজনে সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রের হলেও সংসার ভাঙতে পারে। তাই, যৌনসুখের অভাব বিবাহ-বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ হতে পারে না।

কথায় আছে, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। তাই, বিয়ের আগে পরস্পরকে ভালো ভাবে জেনেবুঝে তারপর যদি মনে হয় লাইফ পার্টনার হওয়ার উপযুক্ত, তবেই বিয়ে করুন। আর সবকিছু দেখেশুনে বিয়ে করার পরও যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে রাগ না দেখিয়ে, মন খারাপ না করে, ধৈর্য নিয়ে সমস্যার উৎস খুঁজুন এবং সমাধানের পথ বের করুন।

মনে রাখবেন, সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। কারণ, যে সমস্যার সমাধান নেই, সেটা কোনও সমস্যাই নয়। আর এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কারওর যদি লাইফ পার্টনার-কে পছন্দ না হয়, তাহলে সন্তানের জন্মের আগেই বিবাহ-বিচ্ছেদ করে নেওয়া ভালো। নয়তো, স্বামী-স্ত্রীর বোকামোর কারণে, সন্তানকে অকারণে শাস্তি ভোগ করতে হতে পারে আজীবন।

পুরুষদের মতো মহিলাদেরও চাই সমান স্বাধীনতা

যে-কোনও নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর, জয়ী দলের মহিলা সমর্থকদের আনন্দানুষ্ঠান করার জন্য উৎসাহিত করা হয়। তবে হ্যাঁ, এই আনন্দানুষ্ঠান তাদেরই করতে বলা হয়,  যাদের মগজ ধোলাই করা সহজ। বিশেষকরে যারা ঘন্টার পর ঘন্টা পূজাপাঠ করেন, ভজনকীর্তন করেন, ব্রত-উপবাস করেন, মাথায় জলের কলসি রেখে শীত, গ্রীষ্ম বর্ষায় ঘুরে-বেড়ান, স্বামীকে পরমেশ্বর ভাবেন—তাদের। কারণ, তাদের যারা মগজ ধোলাই করে পরাধীনতার শৃঙ্খল পরিয়ে রেখেছে, সেই দল এবং দলের জনকের পায়ের নীচের মাটি শক্ত করার এ এক কৌশল।

কিছু মহিলা নিজেদের ধন্য মনে করেন, যখন তারা পূজাপাঠ করেন, মাতৃমন্দিরে প্রসাদ গ্রহণ করেন কিংবা ভণ্ড সাধু- সন্ন্যাসীদের চরণ ধরেন। আসলে, সমাজ যতই আধুনিক হয়েছে বলে দাবী করা হোক না কেন, কিছু মহিলা এখনও স্বেচ্ছায় দাসত্ব করেই খুশি থাকেন। যখন থেকে মন্দিরের সংখ্যা বেড়েছে, তখন থেকেই ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত বহুসংখ্যক মহিলা ধর্মের শৃঙ্খল পরে নিয়েছেন মনে মনে।

হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার প্রভৃতিকে মাধ্যম করে, মহিলাদের পৌরাণিক যুগের মানসিকতা তৈরি করা শুরু হয়ে গেছে। মর্ডান এডুকেশন কিংবা উন্নত শহরের আবহ বদলে দিয়ে যেন সেই আদিম যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। আসলে চাল-চলন কিংবা পোশাকে নিজেকে আধুনিক প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও, আজও অনেক মহিলা মনে মনে সেই সাবিত্রী, দ্রৌপদী কিংবা শকুন্তলা হয়ে আছেন।

শুধু বাংলা কিংবা হিন্দি ভাষায় নয়, এখন ইংরেজি ভাষায়ও পৌরাণিক কাহিনি প্রচার করে মহিলাদের মনে ধর্মের নামে অধর্মকে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরকে এমন ভাবে প্রোমোট করা হচ্ছে, যাতে মহিলারা মন্দির লাগোয়া রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবার খান, নাম-সংকীর্তনে যোগ দেন, মার্বেলের মেঝেতে বসে ধ্যান করেন।

নির্বাচনের আগে একটি দল প্রচার করেছিল, তারা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে মেয়েদের সুযোগ-সুবিধে বাড়াবে। আর এক দল তুলে ধরেছিল তাদের দেওয়া বিভিন্ন যোজনার বিষয়। কিন্তু মেয়েরা পুরুষদের সমান স্বাধীনতা ভোগ করুক, এমন ইচ্ছের কথা একবারও কোথাও বলেনি কেউ। অবশ্য সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেই প্রতিশ্রুতি যে ওরা রক্ষা করত এমন কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। কারণ অনেক বিষয়েই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ওরা। কিন্তু যাই করুক না কেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আটকাতে পারেনি কোনও দল। যেমন মহিলা কুস্তিগিরদের বিরোধ বন্ধ করতে পারেনি, ঠিক তেমনই মহিলাদের সঠিক মর্যাদাও দেওয়া হয় না।

আসল কথা, আইন মোতাবেক মহিলারা যে সুরক্ষা পাচ্ছেন, সেই আইন ২০১৪ সালের আগে তৈরি। এখন শুধু কার্যকর হয়েছে ৩৭০ ধারা, কৃষি আইন, নোটবন্দি এবং জিএসটি আইন। আর কেড়ে নিয়েছে লিভ-ইন-রিলেশনশিপ-এর অধিকারকে। সেইসঙ্গে, হিন্দু ব্যক্তিগত আইনের সংশোধন তো দূরস্ত, কমবেশি যে সংশোধন আগে হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেই রয়েছে সমর্থন। আসলে স্বাধীনতা নয়, ওরা চায় মহিলারা ত্যাগ এবং ধর্মে মনোনিবেশ করুক। কিন্তু এটা মনে রাখা দরকার যে, অতি অহংকারে ব্রেক না লাগালে, ভরাডুবি হতে বেশি সময় লাগবে না।

বন পলাশের দেশে (শেষ পর্ব)

ঘুম থেকে উঠেই জানতে পারি, আজ সারাদিন রিমঝিম দারুণ সব ইভেন্ট। প্রাতঃরাশ সেরে গাড়িতে উঠে ১৪ কিলোমিটার দূরে দলমা পাহাড়ের অংশে ২০০০ ফিট উচ্চতায় অযোধ্যা পাহাড়ে অবস্থিত রাঙাগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। নামটা ভারি মিষ্টি! গাড়ির স্পিডমিটারের কাঁটা তথৈবচ কারণ পুরুলিয়া সমতল নয়। অনেকটা মানুষের মনের মতো উঁচুনীচু। উত্তল-অবতল পথ এখানে নিত্যসঙ্গী।

জনপদ আসে, রাস্তায় গাড়ির জ্যাম, রিকশার প্যাঁকপ্যাঁক আওয়াজ, বাজারে মানুষের ঢল, বাসের হর্ন, নগরকেন্দ্রিক ব্যস্ততা— সব ঠেলে সরিয়ে এগোতেই আবার নীলচে পাহাড়। এই পাহাড়ের নাম অযোধ্যা। ডিনামাইটের বিস্ফোরণে অযোধ্যার পাথুরে বুকে রক্ত ঝরিয়ে রাস্তার প্রতিটি বাঁক মসৃণ করে এক তুমুল জলপ্রকল্প তৈরি হয়েছে। তাই আজ বাস্তবিক-ই খোলা পাতার মতো অবিরল পড়ে নেওয়া যায় পাহাড় পাঠের শিলালিপি।

পাহাড়ের মাথায় রাঙাগ্রাম-কে দেখে মনে হল এ যেন পুরুলিয়ার শেষের কবিতা। অল্প সময়ের মধ্যেই মেন্টর আদিবাসী নাচের দল জোগাড় করে ফেলল। বিস্ময়ে দেখি দাক্ষিণাত্যের ভগ্নাংশে ছিন্ন আগ্নেয় আত্মা বাংলার শালতরুর লাবণ্যে বিকশিত উচ্ছ্বসিত মঞ্জরিত। তারই মাঝে মাদলের দ্রিমদ্রিম, মন পাগল করা বাতাসিয়া সাঁওতালি সুর লাল পেড়ে হলুদ শাড়িতে দুলে দুলে নেচে বেড়াচ্ছে। পলাশের ফোঁটা ফোঁটা লাল তাদের শাড়ির পাড়কে বেড় দিয়ে রেখেছে; চলকে যেন না পড়ে! কিছু অর্থের বিনিময়ে এই নৃত্য পরিবেশনের ব্যবস্থা ও চিত্রগ্রহণ। নাচের শেষে চকোলেট, বিস্কিট, লজেন্স — সব বিলি করা হল।

আজ বিকেলের পাঠে রয়েছে আদি নৃত্যশৈলী ছৌ নাচ প্রদর্শন। পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত খ্যাতনামা শিল্পী শ্রীগম্ভীর সিং-এর তত্ত্বাবধানে ও পরিবেশনায় এই অনুষ্ঠান হবে ছাতাটাঁড় নামে এক মাঠে। গাড়ি করে পৌঁছে দেখি চৈত্রের অস্তমিত সূর্যের আলো মাঠের একলা পলাশ গাছকে আগলিয়ে রেখেছে। ছাতাটাড়ের একটা ঐতিহাসিক পটভূমি আছে। প্রাচীনকালে রাজারা নিজের ঐশ্বর্য ও প্রতিপত্তি দেখানোর জন্য এই মাঠে রাজছত্র লাগাতেন এবং প্রজাসাধারণ এসে ওই ছাতার তলায় প্রণাম করে আনুগত্য প্রকাশ করত। এখনও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে এই মাঠে বিশাল পরব হয় এবং এই উপলক্ষ্যে মেলা বসে।

যথাসময়ে ছৌ নাচ শিল্পীরা এসে ওই পলাশ গাছের গোড়ায় জড়ো হয়ে অঙ্গসজ্জা শুরু করলেন। আস্তে আস্তে প্রচুর স্থানীয় লোকের সমাগম হতে লাগল। গাছের তলায় বসে শিল্পীরা তাদের মেকওভার করলেন। কিছু পুরুষ শিল্পী আব্রু রেখে একটু একটু করে পূর্ণাঙ্গ রমণীতে পরিণত হলেন। অদ্ভুত! খুব কাছ থেকে দেখলাম যারা রমণী হলেন মেকআপ পরবর্তীকালে তাদের চলন বলন একেবারে পালটে গিয়ে তারা যেন সত্যি সত্যিই রমণী হয়ে উঠলেন। চিত্রগ্রাহক বন্ধুরা হুমড়ি খেয়ে ছবি তুলছে।

একটু গুছিয়ে বসতেই শুরু হল নাচ। মেঠো এই মঞ্চসজ্জায় ক্রমশ ধুলোর ঝড় উঠল। মল্ল রাজাদের ভূমি যার ব্যাকড্রপে আগুনে পলাশ আর দৃশ্যত কিছু সৈনিক যারা শারিরীক নিপুণতায় দর্শকের চোখের বলয়ে উড়িয়ে আনল আস্ত এক যুদ্ধেক্ষেত্র। সেই ভয়ংকর ছৌ নাচের যুদ্ধের শেষে শিব এসে বলে গেলেন পুরুলিয়ার আদি ইতিহাস। আমাদের কপালে পরিয়ে দিলেন রাঙামাটির টিপ। সেই টিপ পড়ে আমরা বন পলাশী হলাম!

সূয্যি গেছে পাটে। সন্ধ্যার নিমন্ত্রণ ছাড়াই রুপোলি চাঁদ মুখ বাড়িয়েছে আকাশের আয়নায়। রাতের নীহারিকায় আমরা কতিপয় মানুষ ঝিরিঝিরি দক্ষিণা বাতাসের পরশে পরিতৃপ্ত হয়ে হোটেলমুখো। পথে খয়েরাবেড়া ড্যামের জঙ্গল ঘেঁষে গাড়ি দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নেমে চলে গেলাম পলাশের কাছে। বনজোৎস্না না চাঁদের মিতালিকা— কোন নামে ডাকব পলাশ? প্রাক দোল পূর্ণিমার চাঁদকে সঙ্গী করেই আজ রাতের মতো লালমাটির গল্পগাছা শেষ হল।

আজ ফিরতে হবে তাই মন শরীর দুই বিষণ্ণ, ক্লান্ত! সকালে গিয়েছিলাম শাড়ির পাড়ের মতো বান্দুদি গ্রাম দেখতে। এই গ্রাম বাস্তবিকই রঙিন চিত্রপট, শুধু চিত্রনাট্যের অপেক্ষা। তবে গ্রামের আদিবাসীরা ছবি তোলার ব্যাপারে খুব রক্ষণশীল। রঙিন শাড়ির পাড়ের মতো এই রমণীয় গ্রাম দেখে মনে হল এদের জীবনধারা জীবনমুখী গান না গীতবিতান! শেষবেলায় ফোটোগ্রাফার বন্ধুরা যাদেরকে ছবি তোলার বিষয় হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছে, তাদের অনেক কিছুই আজ বিশ্বের দরবারে উন্মোচিত। ফেরার তাগিদে পেছন ফিরে দেখি দিনশেষের কাজ সেরে মুচকি হেসে নীল পাহাড়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ক্যানভাস গ্রাম বান্দুদি!

কী হবে এখানে এসে? কি পাব? পাওয়ার পাল্লা যে অনেক ভারি হয়ে গেল। সময়বিধি মেনে পুরুলিয়া স্টেশনে ‘রূপসি বাংলা’ ট্রেন অপেক্ষারত কলকাতাগামী হবে বলে। ট্রেনের কামরা থেকে আমার চোখের শেষ পরশ— যদি তুমি ডাকো অথবা না-ই ডাকো, আবার আসব আমি বনপলাশী হতে। একমুঠো পলাশের আবীর তোমায় মাখিয়ে দিলাম এবারের মতো।

(সমাপ্ত)

এবারের ‘নাদ’ ফেস্টিভ্যাল-এ থাকবে একাধিক চমক

কলকাতায় শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর নতুন নয়। কিন্তু ‘নাদ’ এমন উচ্চমানের এক অভিনব মনোজ্ঞ ফিউশন শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর, যেখানে শ্রোতারা বিরল যুগলবন্দির সুর-তাল-ছন্দে নিজেদের জারিয়ে নিতে পারবেন। ‘নাদ’-এর বিগত আসরগুলির মতো এবারেও থাকবে চমক। ‘ভারতীয় বিদ্যা ভবন’ এবং ‘পন্ডিত শংকর ঘোষ তবলা ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে, বসন্ত-সন্ধ্যায় ‘নাদ’-এর আসর বসতে চলেছে জি ডি বিড়লা সভাঘরে। গোটা অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে থাকবেন তবলাবাদক পন্ডিত বিক্রম ঘোষ।

‘নাদ’-এর বয়স মোটে চার। শাস্ত্রীয় সংগীত জগতের ঐতিহ্যে নতুন পালক। কিন্তু এই চার বছরেই কলকাতার মানুষের মন জয় করে নিয়েছে এই সংগীতানুষ্ঠান। এবারে ২১ থেকে ২৩ মার্চ এই তিনদিন ধরে জি ডি বিড়লা সভাঘরে সন্ধ্যে ৬ টা থেকে বসছে ‘নাদ’-এর আসর। শাস্ত্রীয় সংগীতের তাবড় তাবড় শিল্পীরাই এবারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে থাকছে ফিউশন।  ‘নাদ’-এর প্রথম দিনে থাকছে আমন আলি বঙ্গাসের সরোদ, তবলায় অনুব্রত চট্টোপাধ্যায়। থাকছে অদিতি মঙ্গলদাসের কত্থক, অজয় পহঙ্কার এবং অভিজিৎ পহঙ্কারের যুগলবন্দি ‘সাউন্ডস্কেপ’। একক হারমোনিয়ামে মঞ্চ মাতাবেন তন্ময় দেওচকে। তবলায় সংগত করবেন সোহম গোরানে। এছাড়া, তবলায় থাকছেন যোগেশ সামসি, বাঁশিতে পণ্ডিত প্রবীন গোদখিন্দি, ম্যান্ডোলিন-এ ইউ রাজেশ এবং কাঞ্জিরায় মাতাবেন স্বামিনাথন সেলভাগণেশ। এবারের ‘নাদ’ উৎসবে অন্যতম চমক থাকছে শেষদিনে। ওইদিন আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে বিক্রম ঘোষের ব্র্যান্ড নিউ ‘ট্রান্সফর্মশন’। তবলা, মৃদঙ্গম, ভায়োলিন, কিবোর্ডের মিশ্রনে এক অভিনব ফিউশন।  পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ ছাড়াও, ‘ট্রান্সফর্মশন’-এ অংশ নেবেন ভোকাল-এ অঞ্জনা পদ্মনাভন, জিওশ্রেড-এ মহেশ রাঘবন, ভায়োলিন-এ নন্দিনী শংকর, ম্রিদংগম-এ বিসি মঞ্জুনাথ, ড্রামস-এ প্রণব ডি এবং কীবোর্ড-এ অনয় গাদগিল।

‘ভারতীয় বিদ্যা ভবন’-এর পক্ষ থেকে জি ভি সুব্রহ্মমনিয়ম এবং অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক বিক্রম ঘোষ জানিয়েছেন, কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যে অন্য মাত্রা আনতে চাইছেন তাঁরা। বলা বাহুল্য, কলকাতায় শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যে ‘নাদ’ সেই নতুন পালক। বিক্রম ঘোষ আরও জানিয়েছেন,, “বিগত বছরগুলিতে ‘নাদ’ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তাই, প্রত্যেক বছরের মতো এবারে থাকছে আরও অনেক চমক। তবে এবারে প্রবেশমূল্য থাকবে। অতএব, আপনারা আজই টিকিট কেটে আসন সংরক্ষণ করুন। বসন্ত সন্ধ্যায় তিনদিন ধরে ‘নাদ’ ফেস্টিভ্যালে ভাসবে কলকাতা। আর প্রতি বছরের মতো এবছরও আপনারা পাবেন অন্যরকম স্বাদ।”

গভীরে (শেষ পর্ব)

আজ আর কলম নিয়ে বসে লাভ নেই। বেশ ভালো একটা প্লট মাথায় এসেছিল কিন্তু ঝগড়াঝাঁটির মধ্যে পড়ে সেই প্লটটা হুস করে কোথায় যে পালিয়ে গেল! বাড়া ভাতে ছাই ফেলল ওই সুনুর মা। আজ রানুকে সারাক্ষণ ওদের দু’জনকে সামলাতে হবে। একটু চোখের আড়াল হলেই সুনুর মা খ্যাঁক খ্যাঁক করবে বেচারা সেলিমের ওপর! খুঁটে খুঁটে কত যে দোষ বার করবে। বারান্দায় বসে রইল রানু। প্রাচীরের দিকে নজর গেল। এখনও খাঁচাটা পড়ে আছে।

আজ-ই ওটা ফেলে দিতে বলবে। আহারে। খাঁচাটা দেখলে কান্না পায়। ময়না পাখিটা মরে গেল। কে জানত রোজ বেলা দুটো থেকে তিনটে পর্যন্ত খাঁচাটা সরিয়ে রাখত সুনুর মা। ক’দিন ছুটি নিয়েছিল। রানু জানতই না তাই খাঁচাটা সরায়নি। আর মধ্যগগনের গনগনে রোদ তখন খাঁচায় এসে পড়েছিল। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ সূর্যের তাপে ময়নাটা মরে গেল !

একটু একটু আনু আনু বলে ডাকতেও শিখেছিল। সেই কত বছর আগে ছোটো ভাইটাও আনুদিদি আনুদিদি যেই বলতে শিখল, কী যে হল! ক’দিন জ্বর হল আর ফিরল না। রানু মনে মনে ভাবে, আর কেউ যেন ওকে আনু বলে না ডাকে। ওই ডাকে মৃত্যুর ডাক আসে। রানুর জন্যই তো এমনটা হল। সুনুর মা যদি ছুটি না নিত তবে তো ময়নাটা আজও আনু আনু বলে চ্যাঁচাত। এই জন্যই এত দরকার সুনুর মাকে। সুনুর মা থাকলে দুর্ঘটনাটা এড়ানো যেত!

গতকাল রানুর ভাই এসে অনেকগুলো আপেল দিয়ে গেছে। লাল টকটকে, একেবারে গাছপাকা। কে খাবে এত? ক’টা আপেল ঝুড়িতে এনে সুনুর মার সামনে রাখল। রানু বলল, ‘এগুলো নিয়ে যাস বাড়ি। সবাই খেয়ে নিস।’ এমন প্রাপ্তি সুনুর মায়ের কপালে হামেশাই জোটে। কিছু বেশি মানেই ব্যাগ ভর্তি চলল সুনুদের বাড়ি। সুনুর মা-ও ভাবে এসব তারই হকের জিনিস! অন্য কেউ ভাগ বসাবে কেন?

অত্তগুলো লাল টকটকে আপেল। চোখ দুটো চকচক করে উঠল সুনুর মায়ের। হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল, গন্ধ শুকল। একটু আঙ্গুলের নখ দিয়ে খুঁচিয়ে বলল, “খুব রস। খুব মিঠা হইব গো বউমণি। আমার সুনুর বড়ো প্রিয় ফল।’ —হ্যাঁ খুব মিষ্টি, খুব রস। বাচ্চাদের দিস।

—বাড়ি যাওনের সময় নিয়া যামু।

রানু লক্ষ্য করল মাঝেমাঝেই সুনুর মা এসে আপেলগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে আবার চলে যাচ্ছে। কিছু যেন একটা বলতে চায়। মনে হয় ওর মন ভরেনি। আরও খানকতক চাই।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা প্রায় হয়ে এল। আকাশে মেঘের আনাগোনা, মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের চমক। বৃষ্টি হয়তো শিগগির নামবে। সেলিম এসে রানুর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়াল,

—মা আমার কাজ শ্যাস। সব গাছ গুল্যান ছাইটা দিছি। তয় মা লাউ গাছের লাউড়া দুই-একদিনের মধ্যেই পাড়তে হইব। সকল গামলায়, গাছে সার দিছি। এইবার ফুল খুব খ্যালব। মোর ট্যাকাটা…

—এইতো বসেই আছি তোকে টাকা দেব বলে।

হাত পেতে টাকা নিয়ে রওনা হল সেলিম।

হঠাৎ নজরে পড়ল রানুর। সুনুর মা কেমন যেন একটু অন্যমনস্ক, চুপচাপ। অন্যদিন হলে দৌড়ে এসে হুড়মুড় করে বলত, ‘কত টাকা নিল। কত টাকা নিল বউদিমণি। এই হাবদা অনেক বেশি নেয় বউমণি। অন্য কোনও মালি এত টাকা নেয় না।’

আজ কী হল ওর। এত দাপুটে মহিলা হঠাৎ এমন মিইয়ে গেল কেন! কিচ্ছুটি জিজ্ঞেস করল না। অবশ্য যদি তেমন কিছু হয় নিজে থেকেই বলবে। যা মেজাজ সুনুর মার। কী জিজ্ঞেস করবে রানু। সঙ্গে সঙ্গে বাঁকা উত্তর দেবে। মুখে তার বড়ো বড়ো কথা লেগেই আছে। রানু তাই আগ বাড়িয়ে কিছু জিজ্ঞেস করল না।

সুনুর মা একটা একটা করে আপেল ক্যারিব্যাগ-এ ভরছে। ধীরে ধীরে বলল,

—একটা কথা কই বউমণি।

—এত ভাবছিস কী? বলে ফেল। কত কী-ই তো বলিস।

—কই? আচ্ছা বউমণি, আপেলগুলান তো তুমি আমরে দিছ।

—হ্যাঁ। তো আর কাকে দেব? আমি বা কত খাব।

—আপেলগুলান সেলিমরে দিলে তুমি রাগ করবা বউমণি! ওর শরীলড়া বড়ো দুর্বল। শরীলে পুষ্টির অভাব। ওর শরীলডা… আমরা নয় পরে খামুনি, বউমণি। আইজ দুপুরে দেখছিলাম, এহেবারে শরীল ছাইড়া শুইয়া ছিল। জোরে জোরে দম নেয়। ঘরে ছাওয়াল মাইয়া আছে। বউড়া বড়ো চুপ থাকে। মুখে রা করে না। মায়া লাগে! নিজে প্যাঁট ভইরা খায় না। কুনদিন। বরের লিগা রাইখ্যা দেয়।

চমকে উঠল রানু। সে কী! ভূতের মুখে রাম নাম! বলল, “তো আমাকে জিজ্ঞেস করার কী আছে। রাগ করব কেন। কিন্তু আগে বলবি তো। ও তো চলে গেল।”

রানুর কথা শেষ হতে না হতেই পড়ি কী মরি করে ছুট লাগাল সুনুর মা, একেবারে ঊর্ধ্বশ্বাসে। রানু পেছন থেকে চিৎকার করে উঠল, “দেখে। দেখে। বৃষ্টি নামল বলে। এমনিতেই মাটি ভিজে আছে। পা পিছলে যেন না পড়িস।”

কে শুনে কার কথা। সুনুর মা তখন সব আপেল নিয়ে দে দৌড়। যেন তার প্রাণ মন কায় / এক খানি বাহু হয়ে, সেলিমকে ধরিবারে যায়। সেলিমকে ধরতেই হবে। আপেলগুলো ওকে দিতেই হবে। ওর শরীর খারাপ।

রানু হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইল। মুহূর্তে কী যে হয়ে গেল। সুনুর মা যে কীভাবে ছুটে গেল। রানুর চোখের সামনে কেবল সেই ছবিটা বারেবারে ভেসে উঠছে। রানুর মুখে একটা হালকা হাসির আভা। সত্যিই বড়ো ভুল বুঝেছে রানু। রানু সুনুর মার মনের সমুদ্রে কোনও দিন ডুব দেয়নি। ওপর থেকেই সেই মন সমুদ্র দেখেছে। সুনুর মায়ের মনের গভীর তলদেশে পৌঁছোতে পারেনি রানু। সেই গভীরে যে এত প্রেম, এত ভালোবাসা, এত মানবিকতা, এত মায়া — চুপটি করে ডানা গুটিয়ে বসে আছে সে খবর রাখেনি রানু। সে শুধু সুনুর মায়ের ওপরের ঠোঁটকাটা, স্বার্থপর, কর্কশ চেহারাটাই দেখেছে। সেলিমের জন্য এমন ভালোবাসা, এমন মমতা। সত্যি।

রানু আজ সুনুর মা-কে নতুন করে জানল, নতুন করে চিনল। সুনুর মার একটা সুন্দর মন আছে, আছে মমতাভরা একটি প্রেমময় হৃদয়। আছে ফুলের মতো নরম একটি মন। তাই সেলিমের হাড়জিরজিরে শরীরে, বুকের পাঁজরের ভেতর, হৃপিণ্ডের ক্লান্ত ধুকপুকানি সুনুর মায়ের চোখে পড়েছে।

সুনুর মা এসে দাঁড়াল। বেশ হাঁপাচ্ছে। ওর মুখে একরাশ আনন্দ, চোখ দুটো চকচক করছে। বলল, ‘বাপরে কোনওরকমে চিল্লায় চিল্লায় ডাকছি, তয় শুনতে পাইছে। সবগুলান দিয়া দিছি। পেটে কয়দিন ভালো জিনিস পড়ব। শরীলডা একটু সারব, রক্ত গরম হইবনি।’

সুনুর মার মুখে একটা তৃপ্তির হাসি দেখে রানুর মনটাও তৃপ্তিতে ভরে উঠল।

রাত হয়ে এল। নিজের ঘরে এল রানু। চোখে ঘুম নেই মোটে। আজ রাতে রানুর আর ঘুম হবে না। বরং একটা গল্প লিখবে। এই গল্পের মুখ্য চরিত্রে থাকবে ওরা দু’জন, সুনুর মা আর সেলিম।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব