রং নাম্বার (পর্ব-০১)

ওই আবার ফোনটা বাজতে আরম্ভ করল। গতকাল থেকে ওই একই নাম্বার থেকে বারবার ফোন আসছিল। ফোনটা তুললেই একটা অস্পষ্ট গোঙানির মতো আওয়াজ আসে। অবোধ্য ভাষায় কেউ যেন কিছু বোঝাবার চেষ্টা করছে। প্রথমবার রং নম্বর, প্লিজ বলে লাইন কেটে দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই অবোধ্য স্বর থামেনি। সেই একই সুরে একই যেন কথা বলে যাচ্ছিল। আমি আবার বলার চেষ্টা করি কিন্তু সেই কণ্ঠ থামেনি। হয়তো আমার কথা শুনতে পাচ্ছে না বা বুঝতে পারছে না!

এরপর ওই নাম্বার থেকে ফোন এলে আমি লাইন কেটে দিচ্ছিলাম। বিরক্তিতে মন ভরে যাচ্ছিল। কিন্তু কোনও উপায়ও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এবার রাগ না করে যুক্তি দিয়ে বোঝবার চেষ্টা করলাম— আমার নাম্বার পেল কী করে? আমি এ শহরে নতুন এসেছি, নাম্বারটাও খুব পুরোনো নয়। আমারই কোনও পরিচিত মজা করে এমন করছে না তো? কোনও নিকট আত্মীয়, যেমন আমার ছোড়দি যাকে সপ্তাহে একবার ফোন না করলে রাগ করে কথা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে, সে নয়তো? ছোড়দি, সুব্রতদা, রথীন, বুদ্ধদেব, ওমপ্রকাশ, রাণা কাপুর— এদের সবাইকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কেউ ফোন করেনি গত দু’দিন। তাহলে কে?

ওই আবার ফোনটা তিনবার বেজে বন্ধ হয়ে গেল। আমি হাঁফ ছেড়ে, থ্যাংক গড বলে লেখায় মন দিলাম। কিন্তু কয়েক মিনিট পরেই আবার বাজতে শুরু করল। আমি ফোনটা তুলে চিৎকার করে উঠলাম, “ইউ ফুল, কী চাই? আমি বারবার বলছি রং নাম্বার, তবুও…। কিন্তু সেই অবোধ্য ভাষায় একই সুরে আওয়াজ ভেসে এল।

আমি রাগ করে ফোনটা সুইচঅফ করে দিলাম; কিন্তু লেখায় মন বসাতে পারলাম না। কয়েকটা প্রয়োজনীয় আর জরুরি ফোন আসার কথা ছিল। প্রকাশকদের কাছ থেকেও ফোন আসার কথা, ফোন না পেয়ে ওরা ভাববে আমি ইচ্ছে করে ফোন বন্ধ করে রেখেছি। এ তো মহা বিপদে পড়া গেল দেখছি!

বোতাম টিপে ফোন বন্ধ করলেও ভাবনা থেকে মনকে সরাতে পারলাম না। কেবলই মনে হচ্ছিল, এর মধ্যে কোন রহস্য থাকতে পারে! বার বার একই ফোনে, একই গলার স্বরে রং নাম্বার আসতে যাবে কেন? আর একবারও ‘সরি’ না বলে বিড়বিড় করে অস্পষ্ট কিছু বলার চেষ্টা করছে। শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম এর একটা শেষ দেখতে হবে। একটা যেন অজানা ‘চাপ’ অনুভব করলাম মনে।

হঠাৎ মনে পড়ল প্রায় ভুলে যাওয়া স্কুলের বন্ধু ভবতোষ দত্তকে। শুনেছি ও আজকাল পুলিশের একজন ‘হোমড়া-চোমড়া’ কর্তাব্যক্তি। লালবাজারে কয়েকটা ফোন করতেই ওর নাম্বার পেয়ে গেলাম।

সামান্য দ্বিধাভরে ওর নাম্বারে ফোন করতেই বাজখাঁই গলার জবাব পেলাম। নিজের নাম উচ্চারণ করতেই একটা ছোটোখাটো ভদ্র-গোছের গালাগাল দিয়ে বলল, “শালা, কোনও বিপদে পড়েছিস নিশ্চয়ই তা নাহলে এত দিন পরে পুলিশ বন্ধুকে ফোন করবি কেন?”

আমি হেসে হালকা স্বরে বললাম, “ফ্রেন্ড ইন নিড ইজ এ ফ্রেন্ড ইনডিড।’ আবার একটা গালাগাল দিয়ে বলল, ‘বুঝলাম, এবার শালা ঝেড়ে কাশো তো।’ ব্যাপারটা ওকে খুলে বললাম। আরও বললাম ফোন ট্রেস করতে ওর সাহায্য চাই। প্রথমে ও ব্যাপারটা হেসে উড়িয়ে দিতে চাইল, বলল— এটা তোর পাড়ার কোনও চ্যাংড়ার কাজ। কোনও চ্যাংড়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল? বা পুজোর চাঁদা দিসনি, বা কম দিয়েছিলি।

আমি বললাম, ‘এসব কিছু নয় ভাই, আমি এ পাড়ায় নতুন, আর ফোন নাম্বারটাও নতুন।”

এবার উঁচু-মানের সরকারি অফিসার কী যেন একটু ভাবল। জাতে পুলিশ তো, রহস্যের গন্ধ নিশ্চয়ই নাকে লেগেছে এতক্ষণে। বলল, ‘ফোন নাম্বারটা আমাকে হোয়াটস অ্যাপ করে দে, কাল সকালে আসব তোর বাড়ি। ঠিকানাটাও পাঠিয়ে দিস।’ বলেই লাইন কেটে দিল ভবতোষ।

পরের দিন সকাল সকাল এসে পৌঁছোল ভবতোষ৷ একেবারে সাধারণ পোশাকে, এমনকী পুলিশের গাড়িও নয়, নিজের ছোটো মারুতি গাড়িটা নিয়ে এসেছে। চা খেতে খেতে পুরো ঘটনাটা আর একবার ওকে খুলে বললাম, আরও বললাম এর মধ্যে যেন কোনও “ক্রিমিনালিটি’র গন্ধ পাচ্ছি। ভবতোষ আবার একটা ‘নিরামিষ’ গালাগাল দিয়ে বলল, ‘চল বেরিয়ে পড়ি।’

ওর পকেটে রাখা একটা চিরকুটে লেখা টেলিফোনের ঠিকানাটা আমার হাতে দিয়ে বলল, ‘জানিস জায়গাটা?’

আমি একনজরে ঠিকানাটা পড়ে নিলাম। কলেজজীবনে হাওয়াই চপ্পল পরে সারা শহর ‘চষে’ বেড়িয়েছি কিন্তু এমন রাস্তার নাম মনে করতে পারলাম না। ডাইনে-বাঁয়ে ঘাড় নাড়লাম, ‘এ কোন দেশে? কলকাতায়?”

অবশ্য গত দুই দশকে এই শহরের ইতিহাস-ভূগোল অনেক বদলে গেছে। সামান্য হেসে ভবতোষ আশ্বাস দিল, ও মোটামুটি আঁচ করতে পারছে কোথায় জায়গাটা। পুলিশের লোক তো, জানবে না-ই বা কেন? ভবতোষ নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিল, সঙ্গত কারণেই ড্রাইভার আনেনি।

উত্তর কলকাতার এক পরিচিত মোড়ে এসে গাড়ি ঢুকল ছোটো রাস্তায়, তারপর আর গাড়ি চালানোর মতো রাস্তা নেই। গাড়ি দাঁড় করিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম দু’জনে। ডাইনে, বাঁয়ে, গলি, উপ-গলি, তস্য উপ-গলি পেরিয়ে এমন একটা গলিতে ঢুকলাম যেখান দিয়ে দু’জন একসঙ্গে সোজা হয়ে চলা সম্ভব হয় না। একজনকে কাত হয়ে দাঁড়াতে হয়, তবেই অন্য দিক থেকে আসা মানুষ পার হতে পারেন।

(ক্রমশ…)

পতি এখন আর পরমেশ্বর নয়

পুনেতে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। রেনুকা খন্না নামের এক মহিলা যে- ঘটনা ঘটিয়েছেন, সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার দিকে আঙুল উঁচিয়ে শুধু দোষারোপ করা উচিত, নাকি ইউনিক ঘটনার ট্রেন্ড স্টোর আখ্যা দেওয়া উচিত— তা বোঝা যাচ্ছে না! আসলে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে পুনের এক শহর এলাকায়। বিল্ডার স্বামী নিখিল খন্না-র সঙ্গে বচসার জেরে স্বামীর নাকে ঘুসি মারেন রেনুকা। এর ফলে শুধু নাকের হাড় ভেঙে যাওয়াই নয়, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়ার কারণে স্ত্রীর হাতে মার খাওয়া ওই ব্যক্তির মৃত্যুও হয়।

রেনুকাকে দোষারোপ এই কারণে করা যেতে পারে যে, তিনি এমন জোরে ঘুসি মেরেছিলেন যে, তার মারের চোটে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। আর ইউনিক ঘটনার ট্রেন্ড স্টোর এই কারণে বলা যেতে পারে যে, মহিলারাও এখন এক ঘুসিতে স্বামীকে মেরে ফেলতে পারেন! তাই এক্ষেত্রে প্রমাণিত যে, ঘুস না খাওয়া সরকারি কর্মচারীর যেমন সংখ্যা কম, ঠিক তেমনই মুখ বুজে মার খাওয়া মহিলাদের সংখ্যাও কমছে। এখন এটাও বোঝা যাচ্ছে না যে, রেনুকা শুধু হাতে ঘুসি মেরে নিখিলের নাক ফাটিয়েছিলেন নাকি ভারী কোনও বস্তু ব্যবহার করেছিলেন! আর যদি সত্যিই শুধু রেনুকার হাতের ঘুসিতেই নিখিলের মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে পুরুষ সমাজের কাছে এটা বড়ো বার্তা যে, নারীকে আর অসহায় কিংবা কমজোর ভাবা উচিত নয়।

মনে রাখতে হবে, সেই রামায়ণের রামও এখন নেই, আবার সীতাও নেই। অতএব, সাধু সাবধান! কারণ, নারী এখন আর অবহেলার পাত্রী নয় কিংবা মুখ বুজে হিংসার বলি হওয়ার জন্যও নয়। নারী এখন শারীরিক কিংবা মানসিক ভাবে সক্ষম। কারণ আজ তারা শিক্ষিতা, আর্থিক ভাবে সাবলম্বী এবং লড়াই করে বাঁচতে জানে। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়েও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে মেয়েরা।

পুনের ওই ঘটনার থেকে শিক্ষা নিয়ে বিবাহিত পুরুষদের সতর্ক থাকা উচিত বলেই অনেকে মনে করছেন এখন। তাই পতি এখন পরমেশ্বর নয় ববং প্রতিদ্বন্দ্বী বলা যায়। হয়তো আইন আইনের পথে চলবে কিংবা রেনুকার বিরুদ্ধে আদালত কী ব্যবস্থা নেবে তা আমাদের জানা নেই— তবে এখন স্ত্রী-র সঙ্গে ঝগড়া কিংবা মারামারি করার আগে দু’বার অবশ্যই ভাববেন স্বামীরা।

সবুজে মোড়া অজানা কৰ্ণাটক (শেষ পর্ব)

উদুপি বাজারে এসে স্থানীয় এক রেস্তোরাঁতে বসে উদুপির বিখ্যাত রন্ধনশৈলীর স্বাদ নিয়ে, দক্ষিণ ভারতীয় শাড়ি কিনে চলে এলাম মনিপালে।

পরদিন চললাম টিপু সুলতানের কেল্লা দেখতে। আজ আমরা পরবর্তী কয়েকদিনের টুরের জন্য একটা গাড়ি ভাড়া করে নিলাম। সেই গাড়িতেই আমরা চললাম কারওয়ারের দুর্গা মন্দির ও টিপু সুলতানের দুর্গ দেখতে। পথে পড়ল মারাবাস্থে। মারাবাস্থের বিচে লোকজনের ভিড়, কোলাহল কিছুই নেই। কেবল ছোটো ছোটো ঢেউ ছলাৎ ছলাৎ শব্দ করে সাদাবালির বিচের পা ছুঁয়ে ফিরে যাচ্ছে গাঢ় নীল সমুদ্রের বুকে। বিচে খানিকক্ষণ থেকে চলে এলাম গাড়িতে। গাড়ি চলল সমুদ্রের উপরের ব্রিজের রাস্তা ধরে।

এই ব্রিজেরই একদিকে আরব সাগর আর একদিকে সুপর্ণিকা নদী। কিন্তু নদী এখানে সাগরে মেশেনি। বরং সাগরের বুক ছুঁয়ে ইউটার্ন নিয়ে চলে গেছে আরও ৬.২ কিলোমিটার। ব্রিজের উপর থেকে সেই অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই গাড়িতে করে আমরা এগিয়ে গেলাম কারওয়ারের দিকে। প্রথমে দুর্গা মন্দির দেখে, তারপর চললাম টিপুসুলতানের দুর্গে। দুর্গের উপর থেকে পাহাড়ঘেরা নীল সাগরের জলে, ঢেউয়ের দাপাদাপি মুগ্ধ হয়ে দেখলাম। তারপর নীচে সমুদ্রের বিচে এসে সাগরের জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকলাম। একসময় সূর্য আকাশকে আবিরের রং-এ রাঙিয়ে সেদিনের মতো বিদায় নিল। আমরাও আবার মনিপালে চলে এলাম।

পরের দিন আমরা সকাল সকাল বেরিয়ে পড়লাম। প্রায় দু’ঘন্টা বাস জার্নির পরে আমরা এসে পৌঁছোলাম কুল্লুরের কোডাচাড্ডি পাহাড়ের পাদদেশে মুকাম্বিকাদেবীর মন্দিরে। কথিত আছে আদি শঙ্করাচার্য এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে গেলে পুরুষদের খালি গায়ে আর মহিলাদের অঙ্গ ঢাকা পোশাক পরতে হবে। এখানে দেবী জ্যোতির্লিঙ্গ হিসাবে পূজিত হন। যার অর্দ্ধেক শিব ও বাকি অর্দ্ধেক শক্তি বলে মনে করা হয়।

মন্দির দেখে ওখান থেকে জিপে করে চলে গেলাম ৮ কিলোমিটার দূরে, কোডাচাড্ডি পাহাড়ের মাথায় শঙ্করাচার্যের মন্দিরের উদ্দেশ্যে। প্রথম পাঁচ কিলোমিটার জিপ গেলেও শেষের তিন কিলোমিটার পথ পাহাড়ের চড়াই ভেঙে ট্রেক করেই যেতে হয়। শঙ্করাচার্য মন্দির দেখে আমরা পাহাড় থেকে নীচে নেমে এলাম। তারপর ফিরে গেলাম মনিপালে। এটাই ছিল আমাদের ভ্রমণের শেষ দিন।

মনিপাল থেকে আমারা আজ গেলাম কালাসা-তে। অপূর্ব সুন্দর পথশোভা দেখতে দেখতে আমরা চললাম পাহাড়ের কোলে এই নির্জন অরণ্যের সাথে একাত্ম হতে। পথে একদিকে পড়ল কফিখেত, অন্যদিকে চা-বাগান। সেখানেই কিছুক্ষণ কফিপানের বিরতি নিয়ে আমরা আবার চললাম। পথে পড়ল অপূর্ব সুন্দর এক মন্দির। সেই মন্দির দেখে তার সংলগ্ন চা বাগনে ঘুরে আবার আমরা এগিয়ে চললাম।

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সবুজে মোড়া অরণ্যের মাঝে কালাসা-র অবস্থান। এখানে এসে আমরা উঠলাম ‘প্রিন্স অফ কালাসা’ নামের অপূর্ব সুন্দর এক হোমস্টেতে। সেখান থেকেই গেলাম ভদ্রা নদীর ধারে। পাহাড়ের উপরে ক্ষীণ অথচ খরস্রোতা এই নদীর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হলাম। তারপর গেলাম কফিখেত পার হয়ে অরণ্যের গভীরে। সেখানে দেখা হল এক অনিন্দ্য সুন্দর ঝরনার সাথে।

গভীর অরণ্যের মাঝে ভদ্রা নদীর উপরে কাঠের ছোটো ব্রিজ পার হয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে চলে এলাম। সেখানে বসেই সঙ্গে আনা খাবার দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজনের পর্ব মেটালাম। সবুজ অরণ্য, পাহাড়, নদী— সব কিছু দেখতে দেখতে কখন যেন প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে গেলাম। আস্তে আস্তে দুপুর পার হয়ে বিকেল হয়ে গেল। দিনের আলো থাকতে থাকতেই আমরা আবার হোমস্টে-তে ফিরে এলাম। সেখানে এসে পকোড়া সহযোগে কফি পান করেই চলে গেলাম পাহাড়ের মাথায়— দেখলাম সূর্যাস্ত। সেই দিনটা হোমস্টে-তে থেকে পরের দিন চলে এলাম ৬৫ কিলোমিটার দূরের শহর ম্যাঙ্গালোরে। সেখান থেকে বেঙ্গালুরু এসে কলকাতার ফ্লাইট ধরলাম।

প্রয়োজনীয় তথ্য:

১) শালিমার স্টেশন থেকে Vivek Express রাত ১১ টায় ছেড়ে ৪১ ঘন্টা পরে ম্যাঙ্গালোরে পৌঁছায়। এছাড়াও কলকাতা থেকে ম্যাঙ্গালোরের ফ্লাইটও আছে। তবে বেঙ্গালুরু থেকে ট্রেন, বাস বা ফ্লাইটে খুব সহজেই ম্যাঙ্গালোরে যাওয়া যায়। এই পুরো টুরটাই ম্যাঙ্গালোর থেকেও করা যায়। তবে মনিপাল থেকে করলে ওখানকার প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য ও মনোরম আবহাওয়া একটা বাড়তি পাওনা। দু-জায়গাতেই বিভিন্ন দামের হোটেল আছে।

২) নিজস্ব গাড়িতে ঘুরলে ইচ্ছেমতন ঘোরা যায়। তবে এখানের সরকারি বাসের পরিষেবাও খুব ভালো।

৩) বর্ষাকাল বাদ দিয়ে অন্য যে-কোনও সময়েই যেতে পারেন।

৪) এখানে চুরি, ডাকাতির কোনও ভয় নেই। তাই নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করুন। স্থানীয় বাসিন্দরা খুবই শান্তিপ্রিয়।

বিকল্প রাস্তা (শেষ পর্ব)

অঞ্জলি বেশ জোরের সঙ্গে বলতে শুরু করল, “আপনাদের তিনজনকে ঘুরতে ফিরতে দেখে লোকে হয়তো ভেবে নেয় মানসী রোহিতের গার্লফ্রেন্ড। কিন্তু আসলে ওর সঙ্গে আপনার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সঞ্জীবদা, আমি এই মুহূর্তে ঠিক করলাম রোহিত এবং আপনার সুখশান্তির জন্য রোহিতকে, আমন সম্পর্কে সব খুলে বলব। কিন্তু আমি চাই আপনিও এই মুহূর্ত থেকে রোহিতের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।’

—অঞ্জলি, তুমি চাইলেই আমি রোহিতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করব, এই ধারণা খুব ভুল। সঞ্জীব ইরিটেডেড হয়ে বলল।

—এই বন্ধুত্ব তো আমি ভেঙেই ছাড়ব কারণ আপনাদের দুজনের বন্ধুত্ব বজায় থাকলে আমার ক্ষতিই হবে। এটা তো আমার সৌভাগ্য যে, আমি জানতে পেরেছি রোহিতের মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ফলেই মানসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক শিখা বউদির থেকে এতদিন লুকিয়ে রাখতে পেরেছেন। কালকে রোহিতও এরকম অন্যায় কাজ করতে পারে! আর এই জন্যই আপনাদের দুজনের বন্ধুত্ব আমার বিবাহিত জীবনের ভবিষ্যৎ সুখ-শান্তির জন্য বিরাট ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। ইমোশনাল হওয়ার ফলে অঞ্জলির গলার স্বর সামান্য কেঁপে গেল।

—তুমি ফালতু কথার পাহাড় দাঁড় করাচ্ছ অঞ্জলি।

—আপনি যা ভাবছেন ভাবুন। কিন্তু রোহিতের সঙ্গে আপনাকে বন্ধুত্ব ভাঙতেই হবে।

—অঞ্জলি, তুমি বুঝতেই চাইছ না, রোহিতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভেঙে গেলে আমি খুব একলা হয়ে যাব। সঞ্জীবের গলায় হতাশা ঝরে পড়ল।

—আপনি আমার দিকটাও একটু দেখুন সঞ্জীবদা। আমি চাই না মানসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক বজায় রেখে আপনি রোহিতের কাছে ভুল উদাহরণ তুলে ধরুন। আমি নিজেকে শিখা বউদির পরিস্থিতিতে দেখতে চাই না।

—তুমি তো কিছুতেই বুঝতে চেষ্টা করছ না অঞ্জলি যে, রোহিতকে ছেড়ে দিলে আমার কাছে বাঁচা-মরা সমান হয়ে যাবে! সঞ্জীবের গলা ধরে এল।

—মানসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কটার থেকে রোহিতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আপনার কাছে যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাহলে আপনি মানসীর সঙ্গে সম্পর্কটা থেকে কেন বেরিয়ে আসছেন না? অঞ্জলি উত্তেজিত হয়ে সঞ্জীবের দিকে প্রশ্নটা ছুড়ে দিল।

সঞ্জীব নিরুত্তর হয়ে বসে থাকল। অঞ্জলি নরম স্বরে বোঝানোর চেষ্টা করতে লাগল, ‘দাদা, আপনি যদি শান্ত ভাবে বিশ্লেষণ করেন তাহলে বুঝতে পারবেন যে আমি আপনাকে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছি। শিখা বউদির শারীরিক যা কিছু দুর্বলতা সেটা দূর করার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি। বউদির এক্সট্রা মেদ ঝরানোর জন্য আমি নিয়মিত বউদিকে নিয়ে জিমে যাব। বিউটি পার্লারে যাওয়ারও অভ্যাস করাব। আমরা সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি তাহলে দেখবেন — বিয়ের সময় বউদি ঠিক যেমন ছিলেন আবার সেরকমই হয়ে যাবেন।

অনেকক্ষণ দু’জনে চুপচাপ বসে রইল। সঞ্জীব কিছু একটা ভাবছিল। হঠাৎই ভাবুক কণ্ঠে বলে উঠল, ‘মনে হচ্ছে মানসীর সঙ্গে আমার সম্পর্কে ইতি টানার সময় চলে এসেছে। শিখার থেকে এই সম্পর্কটা লুকিয়ে রাখার টেনশন এবং বিবেকের দংশন ও অপরাধবোধের ফলে এই বয়সেই আমি উচ্চ রক্তচাপের শিকার হয়ে পড়েছি। অঞ্জলি, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি মানসীর সঙ্গে সব সম্পর্ক আমি ত্যাগ করব।”

—দাদা, আমাকে দেওয়া কথা যেন মিথ্যা না হয়, তাহলে কিন্তু আমি খুব দুঃখ পাব। অঞ্জলির চোখ জলে ভরে গেল।

—আমি রোহিতের নামে শপথ করছি, আমার বলা সমস্ত কথা আমি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব।

—তাহলে আমিও আপনাকে কথা দিচ্ছি আমনের সঙ্গে যেদিন দেখা করতে যাব সেদিন ওকেও আমি বলে দেব যে, ওর সঙ্গে আমি আর দেখা করতে আসব না।

সঞ্জীবের হঠাৎই মনে হল, ওর সঙ্গে মানসীর সম্পর্কটা ভাঙার জন্যই হয়তো অঞ্জলি আমনের সঙ্গে বিয়ের পরেও সম্পর্কটা বাঁচিয়ে রাখার একটা নাটক করল। কিন্তু অঞ্জলির সামনে সঞ্জীব ওর প্রশংসা করে বলল, ‘তুমি সত্যি খুব বুদ্ধিমতি মেয়ে অঞ্জলি।’ মনের থেকে সাহস করে সব সংশয় দুর করে ফেলল সঞ্জীব।

—ধন্যবাদ দাদা। নিজের প্রশংসা শুনে অঞ্জলি খুব খুশি হল।

সঠিক রাস্তায় আমাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘ধন্যবাদ’ তো তোমারই প্রাপ্য। মানসীর সঙ্গে অন্যায় সম্পর্ক শেষ করার সিদ্ধান্ত সঞ্জীবের মনকে এক অদ্ভুত আনন্দ এবং খুশিতে ভরিয়ে তুলল।

অঞ্জলির শুধু একটাই ভয় ছিল যে রোহিত হঠাৎ করে আমনের খোঁজখবর নিতে শুরু না করে কারণ গত ছয় বছর ধরে আমন নিজের শহর থেকে অনেক দূরে বেঙ্গুলুরুতে বসবাস আরম্ভ করেছে। যদি এই সত্যি সকলের সামনে চলে আসে তাহলে অঞ্জলি এবং সঞ্জীবের মধ্যেকার বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং রোহিতের সঙ্গেও ওদের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়তে পারে।

রোমান্টিক কমেডি ছবি ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’-এর ট্রেলার লঞ্চ করা হল সম্প্রতি

পারিবারিক ছবি – ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’-এর ট্রেলার লঞ্চ করা হল সম্প্রতি৷ ছবিটি পরিচালনা করেছেন ইশরাত আর খান।  ‘ভানুশালী স্টুডিয়ো-জ লিমিটেড’-এর ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন বিনোদ ভানুশালি এবং কমলেশ ভানুশালি। ছবিটির সহযোগী প্রযোজক ‘থিঙ্কিঙ্ক পিকচারেজ লিমিটেড’।

সাজানো বিয়ে এবং অপ্রচলিত প্রেম বিষয়ক কাহিনিতে আধারিত এই ছবি। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সানি সিং, অবনীত কউর, অন্নু কপূর, সুপ্রিয়া পাঠক এবং রাজপাল যাদব।

‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ ছবির কাহিনিতে দেখা যাবে, দুই কেন্দ্রীয় চরিত্রের প্রাথমিক পরিচয় পর্ব খুব প্রীতিকর ছিল না। ছিল মতভেদ এবং বাকযুদ্ধ। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ভাবে তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হতে শুরু করে ধীরে-ধীরে। এক সময় তারা যখন তাদের অভিভাবকদের জানায় তাদের সম্পর্কের বিষয়ে, তখন ছবির কাহিনি অন্য দিকে মোড় নেয়। দেখা যাবে, ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রের (সানি) বিপত্নীক বাবা ( অন্নু কপূর), ছেলের প্রেমিকা-র (অবনীত কউর) সিঙ্গল মাদার-এর (সুপ্রিয়া পাঠক) প্রতি দুর্বল। আবার অন্য দিকে সুপ্রিয়া পাঠকের প্রেমে পাগল রাজপাল যাদব। তৈরি হয় অদ্ভূত এক জটিল রোমান্টিক বাতাবরণ। কিন্তু সানি এবং অবনীত কি বিয়ে করবে, নাকি বাবা-মায়ের জন্য তাদের ভালোবাসা বিসর্জন দেবে, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ছবিটি দেখলে।

ZEE5-এর চিফ বিজনেস অফিসার মনীশ কালরা প্রসঙ্গত জানিয়েছেন,  ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’-এর মাধ্যমে চূড়ান্ত পারিবারিক বিনোদন নিয়ে আসতে পেরে আনন্দিত৷ এটি একটি অনন্য আখ্যান এবং  রোমান্টিক কমেডি, যা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে প্রেম এবং বিবাহ সম্পর্কে ইউনিক বার্তা দেবে।’

প্রযোজক বিনোদ ভানুশালি জানিয়েছেন, ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’ রাজ শাণ্ডিল্যের লেখা অসাধারণ একটি গল্প। খুব সুন্দর কমিক টুইস্ট আছে এই ছবির কাহিনিতে। ছবিটি পরিবারকে একত্রিত করবে এবং হাসি ও আনন্দের বিভিন্ন মুহূর্ত তৈরি করবে৷ আমরা Zee5 এর মাধ্যমে শ্রোতাদের ঘরে ঘরে এমন একটি কাহিনি আধারিত সিনেমা উপহার দিতে চলেছি ভেবে ভালো লাগছে।’

সৃজনশীল প্রযোজক রাজ শাণ্ডিল্য জানিয়েছেন, ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’, সত্য ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত। সানি সিং, অবনীত কউর, অন্নু কপূর, সুপ্রিয়া পাঠক এবং রাজপাল যাদবের অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের কাছে অবশ্যই উপভোগ্য হয়ে উঠবে।’

পরিচালক ইশরাত খান জানিয়েছেন, ‘ZEE5-এ ‘লভ কি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ’-এর প্রদর্শনের ঘোষণা ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। ছবিটি দেখার পর দর্শকরা আরও আনন্দ পাবেন বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’

ছবিটি-র সাফল্যের বিষয়ে পরিচালক, প্রযোজকদের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ভীষণ আশাবাদী। ১৪ জুন ZEE5-এ হবে এই ছবির প্রিমিয়ার।

ফাইটো কেমিক্যালস-এর প্রয়োজনীয়তা

চিকিৎসকদের মতে, ‘সুস্থ জীবন-ই হল রঙিন জীবন।’ অর্থাৎ আমরা সুস্থ থাকলে মন রঙিন থাকবে। আর আপনি জানেন কি, শারীরিক সুস্থতার জন্য আমাদের খাবারও রঙিন হওয়া দরকার।

ডায়েটিশিয়ান অনুশ্রী মিত্র এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন— আমাদের খাবারের প্লেট-এ নিয়মিত রাখতে হবে রঙিন খাবার। কারণ বিভিন্ন রঙের সবজি এবং ফল-এ আছে ফাইটো কেমিক্যালস, যা আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রকৃতি বিভিন্ন সবজি এবং ফল-এ বিভিন্ন রং দিয়েছে। আর এই প্রাকৃতিক রং-গুলির অনেক পুষ্টিগুণ আছে।

এক নজরে

লাল: লাল রঙের সবজি বা ফলের কথা বললে আমাদের মাথায় আসে তরমুজ, বেদানা, টমেটো, চেরি, স্ট্রবেরি, আপেল। লাল রঙের খাবার-এ থাকে লাইকোপিন। লাইকোপিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই লাল রঙের খাবার আপনি নিয়মিত খেলে আপনার শরীরে বিভিন্ন ক্যানসার-এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে, বিশেষত প্রোস্টেট ক্যানসার-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে লাল রঙের সবজি ও ফল। শুধু তাই নয়, লাল রঙের সবজি এবং ফল-এ অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ থাকায়, শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যা কমে যাবে।

কমলা: কমলা রং মানে মনে আসে গাজর, কুমড়ো, কমলালেবু। কমলা রঙের সবজি বা ফল-এ থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন। বিটা ক্যারোটিন আমাদের চোখের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের ত্বক এবং চুল ভালো রাখতে কমলা রঙের খাবার-এর জুড়ি মেলা ভার। তাই ঋতু অনুযায়ী কমলা রঙের সবজি এবং ফল নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

সাদা: সাদা রং মানে রসুন, কলা, মাশরুম, ফুলকপি ইত্যাদি। সাদা রঙের সবজি বা ফল-এ থাকে অ্যান্থজেন্থিন। এটা আমাদের রক্তের ট্রাইগ্লিসেরাইড-এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ কম করে। হার্ট ভালো রাখতে সাদা রং- এর খাবার ভীষণ উপকারী। আমাদের হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতেও এই সাদা রঙের সবজি এবং ফল সাহায্য করে। এছাড়া কোলন, প্রস্টেট ও স্তন ক্যানসারও প্রতিরোধ করে সাদা রং-এর সবজি এবং ফলমূল।

সবুজ: আমাদের হাতের কাছে রয়েছে প্রচুর সবুজ রঙের ফল এবং সবজি। যেমন— শসা, বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ক্যাপসিকাম, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, করলা, শসা, সবুজ রঙের শাক, পুদিনাপাতা, ধনেপাতা ইত্যাদি। সবুজ রঙের সবজিতে থাকে ফাইবার, ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, ভিটামিন কে, পটাসিয়াম, ক্যানসার প্রতিরোধক আইসোসায়ানেট। সবুজ সবজি সারাদিনে অন্তত এক বাটি রাখতেই হবে। সবুজ সবজি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

নীল ও বেগুনি: যারা তারুণ্য ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য নীল ও বেগুনি রঙের সবজি ও ফলের জুড়ি নেই। অ্যান্থোসায়ানিন নামক শক্তিশালি অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট রয়েছে এসবে, যা ত্বক সুন্দর ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না নীল কিংবা বেগুনি রঙের সবজি এবং ফলমূল। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। নীল ও বেগুনি রঙের সবজির মধ্যে বেগুন, বেগুনি বাঁধাকপি অন্যতম। আর ফলের মধ্যে ব্লুবেরিস, আলুবোখারা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

আসলে শাকসবজি থেকে যে পুষ্টিবৈচিত্র্য আমরা পাই, এককথায় তা অতুলনীয়। তাই এক রঙের ফল কিংবা সবজি না খেয়ে, দু-তিন রঙের সবজি ও ফল খান নিয়মিত। অতএব এবারের রং-এর উৎসবে মেতে ওঠার পাশাপাশি, শরীরস্বাস্থ্যের খেয়ালও রাখতে শুরু করুন নতুন ভাবে। প্রতিদিন আপনার শরীরকে জোগান রঙিন সবজি এবং ফলমূল আর সুস্থ থাকুন আজীবন।

বিকল্প রাস্তা (পর্ব-০২)

শিখার কথায় খানিক্ষণ কিছু ভাবল অঞ্জলি, তারপর বলল, “বউদি, আমনের থেকে এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ওকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারব না আমি। আমার কর্মফলের শাস্তি ও কেন ভুগবে?” নিজের মতামত জানিয়ে অঞ্জলি পিছন ফিরে সদর দরজার দিকে পা বাড়াল।

সেদিন রাত্রে অনেক দেরিতে বাড়ি ফিরল সঞ্জীব। সে প্রপার্টি কেনাবেচার সাইড বিজনেস করে। জয়পুরের কাছে নতুন কিছু ফ্ল্যাট দেখতে সকাল সকাল রওনা দিয়েছিল রোহিতের সঙ্গে।

রাত্রে খাওয়াদাওয়া সেরে বেডরুমে ঢুকে শিখা নিজের স্বামীকে অঞ্জলির সঙ্গে হওয়া সব কথোপকথন সবিস্তারে খুলে বলল। বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও অঞ্জলি পুরোনো প্রেমিক আমনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে শুনে সঞ্জীব খুব রেগে গেল।

—এই বিয়েটা যেমন করেই হোক আমাকে বন্ধ করতেই হবে। রাগত স্বরে শিখাকে জানাল সঞ্জীব। আমার তো মনে হচ্ছে আমনের সঙ্গে অঞ্জলির এখনও অবৈধ সম্পর্ক রয়েই গেছে। যদি আমি ভেবেও নিই যে অঞ্জলির মনে কোনও পাপ নেই, তবুও রোহিতের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর যদি অঞ্জলি আমনকে বেছে নেয়— তাহলে রোহিতের কী হবে? এই পরিস্থিতিতে বেকার বেকার এতটা রিস্ক নেওয়ারই কী দরকার?

শিখা রোহিতের কথা ভেবে দুঃখিত স্বরে বলল, ‘এই সম্বন্ধ ভেঙে গেলে রোহিত খুব কষ্ট পাবে।’

—হ্যাঁ সেটা ঠিকই, রোহিত এখনই অঞ্জলিকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের ঝঞ্ঝাট এড়াতে হলে অঞ্জলিকে বিয়ে করাটা ঠিক হবে না।

শিখা স্বামীকে জিজ্ঞেস করল, ‘কাল তুমি নিজে একবার অঞ্জলিকে বোঝাবার চেষ্টা করতে পারো না?

—মনে তো হচ্ছে না ওকে কোনও ভাবে বোঝানো সম্ভব হবে বলে। এর থেকে ভালো, চুপচাপ রোহিতের জীবন থেকে ওর সরে দাঁড়ানো। কঠোর স্বরে নিজের রায় জানিয়ে সঞ্জীব পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল।

পরের দিন সকাল দশটায় সঞ্জীব অঞ্জলির সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করতে গেল। রেস্তোরাঁয় একটা কোণা বেছে নিয়ে ওরা দু’জন চেয়ার টেনে বসল এবং আমন সম্পর্কে আলোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

সঞ্জীবই শুরু করল, “অঞ্জলি তুমি আমনের সঙ্গে বিয়ের পরেও যদি সম্পর্ক রাখো তাহলে তোমার আর রোহিতের সম্পর্কে ভাঙন ধরতে বেশি দেরি লাগবে না। আমি তো রোহিতকে কিছুতেই তোমাকে বিয়ে করার পরামর্শ দেব না।”

—কিন্তু সঞ্জীবদা, আমার আর রোহিতের বিয়ে কেউ আটকাতে পারবে না কারণ আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। অঞ্জলির কণ্ঠে দৃঢ়তার কোনও অভাব সঞ্জীব লক্ষ্য করল না। অঞ্জলি আরও বলল, আমি তো শিখা বউদিকে এই সমস্যা থেকে বেরোবার রাস্তা আগেই বলেছি।

—রোহিতকে অন্ধকারে রেখে তুমি আমনের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাবে, এটার জন্য শিখা তোমাকে কিছুতেই সাহায্য করবে না। স্পষ্ট জানাল সঞ্জীব।

—তাহলে আমি অন্য কোনও উপায়ে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করব। কিন্তু প্লিজ আপনি রোহিতকে এই ব্যাপারে কিছু বলবেন না। এটা কখনওই সম্ভব নয় অঞ্জলি। আমার বন্ধুকে এসব কথা আমি অবশ্যই জানাব।

—আপনি যদি রোহিতকে এই ব্যাপারে কিছু বলেন তাহলে ফল কিন্তু ভালো হবে না। থ্রেট দেওয়ার ভঙ্গিতে অঞ্জলি বলল সঞ্জীবকে। অঞ্জলির কথা শুনে সঞ্জীব খুব রেগে গেল। রাগত স্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি আমাকে ভয় দেখাচ্ছ?’

—হ্যাঁ, এরকমই একটা কিছু আপনি ভেবে নিন।”

—তাহলে তো আমি, এখনই ওকে গিয়ে সব কিছু বিস্তারিত বলব।

—ঠিক আছে। আমিও এখনই শিখা বউদির কাছে যাচ্ছি।

—তুমি কেন শিখার কাছে যাবে? আশ্চর্য হল সঞ্জীব!

—আমি বউদিকে মানসী সম্পর্কে সবকিছু বলে দেব।

—মানসী কে? সঞ্জীবের চোখে সঙ্গে সঙ্গে একটা ভয় ফুটে উঠল। যা দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল অঞ্জলির কথা শুনে ও একটা বিরাট শক পেয়েছে।

—কেন এখন চিনতে পারছেন না? শিখা বউদিকে বিয়ে করার পরেও আপনি মেয়েটির সঙ্গে এখনও দিবিব প্রেম চালিয়ে যাচ্ছেন।

—বাজে কথা কেন বলছ? আমার কারও সঙ্গে কোনও প্রেম নেই।

—সঞ্জীবদা তাহলে আপনিও জেনে রাখুন, আমি এমন একজন মানুষকে চিনি, যিনি আপনাদের এই অবৈধ মেলামেশা সম্পর্কে সবকিছু খবর রাখেন।

—তাহলে তো তিনি এটাও নিশ্চয়ই তোমাকে বলেছেন যে, মানসী আর আমি শুধুমাত্র খুব ভালো বন্ধু আর কলেজ থেকে আমি মানসীকে চিনি।

—এগুলো ছাড়াও উনি আরও বলেছেন যে এখন মানসী আপনার প্রেমিকা।

—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। মানসী আমার প্রেমিকা নয়। লোকে বললেই এটা সত্য প্রমাণিত হয় না। অন্তত আমার ক্ষেত্রে একেবারেই নয়। —লোকের পরোয়া আমিও করি না সঞ্জীবদা। কিন্তু বউদি যখন আমার মুখ থেকে শুনবে যে প্রপার্টি কেনাবেচার জন্য শনিবার আর রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি যখন বাড়ির বাইরে থাকেন তখন কে আপনার সঙ্গে থাকে, তখন কী হবে ভাবতে পারছেন?

—শিখা জানে তখন আমি রোহিতের সঙ্গে থাকি।

—হ্যাঁ, এটাই তো আমি বলব যে আপনি জোরজবরদস্তি করায় রোহিত মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়। রোহিতের উপস্থিতিকে আপনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মানসীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।

—এসব কি তোমাকে রোহিত বলেছে? সঞ্জীবের মুখে ভয় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠল।

—আপনি খুব ভালো করেই জানেন যে, রোহিতের মতো বন্ধু আপনার বিরুদ্ধে কখনওই মুখ খুলবে না।

—তাহলে কে তোমাকে এইসব ভুলভাল বোঝাচ্ছে?

—পুরুষ না হয়ে মানসীরই কোনও মেয়েবন্ধুও তো আমাকে এই খবরগুলো দিতে পারে এবং আমি জানি এটা সত্যি।

অঞ্জলির এই কথায় সঞ্জীবের মুখে কোনও উত্তর জোগাল না। সঞ্জীব নিরুত্তর থাকায় অঞ্জলির সাহস আরও বেড়ে গেল।

(ক্রমশ…)

বিকল্প রাস্তা (পর্ব-০১)

শিখার স্বামী সঞ্জীব, রোহিতের ভালো বন্ধু ছিল। এক মাস আগেই রোহিতের সঙ্গে অঞ্জলির বিয়ের সব ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ এক শনিবার ফোন না করেই অঞ্জলি শিখার সঙ্গে দেখা করতে ওদের বাড়ি এসে হাজির হল। হাসিখুশি অঞ্জলিকে কিছুটা উদাস দেখে শিখা একটু আশ্চর্য হল!

প্রথমটা ও কিছু বলল না, গল্পগুজবে অঞ্জলিকে ব্যস্ত রাখল। বেশ অনেকক্ষণ কথা বলার পর শিখা জিজ্ঞেস করল, ‘আজ তোমাকে কেন এত উদাস লাগছে?’

অঞ্জলি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘শিখা বউদি, আমি আমন সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলতে চাই।”

—আমন কে হয় তোমার?

—একসময় আমরা একে অপরকে খুব ভালোবাসতাম’, লজ্জিত স্বরে অঞ্জলি শিখাকে খুলে বলল।

—তাহলে তোমরা দু’জনে বিয়ে কেন করলে না? অবাক হয়ে শিখা প্রশ্ন করল!

—আমার আর আমনের জাত আলাদা। ও ওবিসি ক্যাটাগোরির কিন্তু পড়াশোনায় দারুণ। বিরাট চাকরি করে কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার বাড়ির সকলে ওর সঙ্গে আমার বিয়ের বিরুদ্ধে ছিল। ছয় মাস আগে ওর পরিবার, নিজের জাতেরই একটি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে আমনের বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু নতুন বউকে আমন মন থেকে স্বীকার করতে পারেনি। আজও মোবাইলে আমাদের পাঠানো মেসেজ আর ছবি ও সেভ করে রেখেছে। আর ওগুলো দেখে এখন ও চোখের জল ফেলে। কিছুদিন আগেই এসব দেখে ওর বউ ওকে ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে ওরা আলাদাই থাকছে।

—তোমার সঙ্গে এখনও আমনের দেখা হয়?

—হ্যাঁ হয়। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর অঞ্জলি আমনের সঙ্গে মেলামেশার কথা স্বীকার করে নিল।

—আমনের সঙ্গে দেখা করার পরেই জানতে পারি যে, আমন আমাকে না পেলে আত্মহত্যা করতেও প্রস্তুত!

শিখা প্রথম ধাক্কাটা থেকে নিজেকে একটু সামলে নিয়ে অঞ্জলিকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি, আমন সম্পর্কে আর কী কথা আমাকে বলতে চাও?’

—এখনও ওর সঙ্গে আমাকে দেখা করতে যেতে হয়। বউদি, আমি যদি দেখা করতে না যাই তাহলে আমন হতাশ হয়ে পড়ে আর খালি মরার কথা বলতে থাকে।

—কিন্তু অঞ্জলি, আমার মনে হয় তোমার এখন বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। সুতরাং আমনের সঙ্গে তোমার এখন আর দেখা করা উচিত নয়। রোহিত যদি এটা জানতে পারে, ও পছন্দ করবে না জেনে রাখো।

—বউদি, আমিও এটা খুব ভালো ভাবেই বুঝি। কিন্তু আমি বাধ্য হচ্ছি ওর সঙ্গে দেখা করতে যেতে। ওকে হতাশা এবং অবসাদ থেকে বার করে নিয়ে আসাটা আমি নিজের দায়িত্ব বলে মনে করি।

—অঞ্জলি কয়েক সপ্তাহ পরেই রোহিতের সঙ্গে তোমার বিয়ে হতে যাচ্ছে সুতরাং এই সময় ইমোশনাল হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জুয়া খেলো না। এতে তোমারই ক্ষতি হবে।

এই ব্যাপারেই আমার তোমার সাহায্য চাই বউদি। অঞ্জলির কথায় ওর ভিতরের মানসিক যন্ত্রণা স্পষ্ট ফুটে উঠল।

—আমার কাছে তুমি কী সাহায্য আশা করো?

—বউদি, আমি চাই রোহিতের সঙ্গে বিয়ের পরেও যেন আমন সম্পর্কে রোহিত কিছু জানতে না পারে আর এটা তোমার সাহায্য ছাড়া একেবারেই অসম্ভব।

—আমাকে কী সাহায্য করতে হবে? শিখা অজান্তেই একটা বিভ্রান্তির শিকার হয়ে পড়ল।

—বউদি আমি তোমার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার অছিলায় আমনের সঙ্গে দেখা করতে যাব।

—অঞ্জলি, তুমি এসব কথা বলে আমার মাথা একেবারে খারাপ…

—বউদি, তুমি প্রথমে আমার কথা শোনো প্লিজ। অঞ্জলি শিখাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে বলল, তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকো তাহলে রোহিত আমাকে সন্দেহ করবে না। এই পরিস্থিতিতে তোমায় সাহায্য করতেই হবে আমাকে। কারণ যদি আমন আত্মহত্যা… —সরি অঞ্জলি, আমি কিছুতেই তোমার এই অন্যায় কাজে সাহায্য করতে পারব না।

অঞ্জলি অবশ্য শিখার কথায় এতটুকু না দমে বলে যেতে লাগল, ‘আমন আমার মামার বাড়ির পাশেই থাকে। কখনও যদি রোহিত বা সঞ্জীবদা জিজ্ঞাসা করে তাহলে আমরা বলে দেব যে মামা-মামির সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। আমনের মা আমাকে দেখে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়েছে। তুমি আমার সঙ্গে থাকলে রোহিত বা সঞ্জীবদা কেউ আমাকে সন্দেহ করবে না।”

—তুমি সঞ্জীবের রাগ জানো না অঞ্জলি। এই বিষয়ে তুমি আমার সাহায্যের আশা কোরো না। সোজাসাপটা ভাবে শিখা নিজের মতামত জানিয়ে দিল।

—তাহলে বউদি একটা কাজ করো। আমার দিক থেকে সঞ্জীবদাকে আশ্বস্ত করো যে, আমন মানসিক ভাবে সুস্থ হয়ে গেলে, ওর সঙ্গে দেখা করা আমি পুরোপুরি বন্ধ করে দেব।

—সঞ্জীব এই কাজে তোমাকে সাহায্য করতে কিছুতেই রাজি হবে না।

—তুমি আমাকে বোঝার চেষ্টা করো বউদি। প্লিজ দাদাকে তুমি বোঝাও আর নয়তো আমি ওনার সঙ্গে কাল দেখা করব। অঞ্জলি ক্লান্তস্বরে বলে উঠে দাঁড়াল। তুমি দাদাকে এটুকু অবশ্যই বোলো যে, আমন সম্পর্কে দাদা যেন রোহিতকে কিছু না বলে।

—তুমি যদি বুদ্ধিমতি হও তাহলে আমনের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দাও অঞ্জলি। রোহিত…..

(ক্রমশ…)

শিশুদের সঞ্চয় শেখানোর ৭টি টিপস

যে-কোনও শিশু বাবা-মায়ের মাধ্যমেই গোটা পৃথিবীকে দেখে। দৈনন্দিন বিভিন্ন অভ্যাস থেকে শুরু করে নানাবিধ অনুভব, মনোভাব, উপলব্ধি প্রভৃতি সে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে।

আজকের পৃথিবীতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন অর্থের। দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে কিংবা শখ-আহ্লাদ মেটাতেও প্রয়োজন হয় অর্থের। সেই অর্থের সংকুলান আমাদের মাসিক নির্দিষ্ট আয় থেকে না মেটানো গেলে তখনই পড়তে হয় অসুবিধায়। সেই মুহূর্তে আপনার সঞ্চিত অর্থই আপনাকে সাহায্য করবে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে। তাই সঞ্চয় করা আমাদের প্রতিটি মানুষেরই অবশ্য-কর্তব্য বিষয়।

আপনার নিজস্ব সঞ্চয়ের পরিমাণ যত বেশি থাকবে, আপনি তত সহজেই বিভিন্ন কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। এই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ছোটো থেকেই। আপনার স্নেহের সন্তানকে যদি ছোটো থেকেই সঞ্চয়ের ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তুলতে পারেন, তাতে ভবিষ্যতে আপনার সন্তানেরই মঙ্গল। কম বয়স থেকেই সন্তানকে সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব ও মূল্য বোঝাতে হবে। যদিও এটা রাতারাতি হওয়ার বিষয় নয়। ধীরে ধীরে ওদের এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

অর্থের মূল্য বোঝান

মুদ্রাস্ফীতির এই কঠিন সময়ে বাচ্চাদেরও অর্থের মূল্য বোঝা প্রয়োজন। ওদের বোঝাতে হবে যে, আপনি অর্থ উপার্জনের জন্য সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করেন। এছাড়াও তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, তারা যেটা চায়, সেটা কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে আপনি দিনে কয়েক ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। এটাও বুঝিয়ে দিন যে, তাদের সব অন্যায় বায়না মেটাতে গেলে পরিবারকে ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে যেতে হতে পারে।

প্রতিটি চাহিদা পূরণ করবেন না

আপনি যদি এমন একজন অভিভাবক হন, যিনি সন্তানদের প্রতিটি ছোটো-বড়ো চাহিদাই তৎক্ষণাৎ পূরণ করেন, তাহলে আপনাকে আপনার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। কারণ পরবর্তীকালে আপনার এই মনোভাব আপনার সন্তানদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা জেদি ও একগুঁয়ে স্বভাবের হয়ে উঠতে পারে। এমনকী উশৃঙ্খল হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। সোজা পথে তারা চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম হলে, হয়তো-বা অসদুপায়ও অবলম্বন করতে পারে। মনে রাখবেন, এরফলে ওরা নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়াও ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের প্রয়োজন ও বিলাসের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখান।

বাচ্চাদের পিগি ব্যাংক দিন

যদি আপনি চান আপনার শিশুরা সঞ্চয় করতে শিখবে, তাহলে শৈশব থেকেই তাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার করতে শেখান। ওদের ছোটো থেকেই শেখাতে থাকুন যে, কিছু অর্থ ব্যয় করো এবং কিছুটা পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করো। এখন প্রশ্ন, এই সঞ্চিত অর্থ ছোটোরা রাখবে কোথায়? এখানেই বাবা-মায়েদের একটু অভিনবত্বের পরিচয় দিতে হবে। ছেলেমেয়েদের সঞ্চয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে ওদের হাতে তুলে দিন— কার্টুন চরিত্রসহ একটি পিগি ব্যাংক। ওরাও ওদের প্রিয় কার্টুন চরিত্রের পিগি ব্যাংক-এ টাকা জমা করতে পেরে দারুণ আনন্দ পাবে। সেইসঙ্গে ওদের সঞ্চয় করার অভ্যাসও সহজেই গড়ে উঠবে। পিগি ব্যাংক-এর ঝনঝন শব্দ সবসময় ওদের কিছু টাকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।

ব্যাংক-এ সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট খুলুন

আপনি সন্তানদের সঞ্চয়ের অভ্যাসের ইতিবাচক দিকগুলি সম্পর্কে বুঝিয়ে বলুন। ওদের এটাও বলুন যে, প্রতি মাসে ওদেরই জমানো অর্থ কীভাবে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এজন্য ওদের নিয়ে যান আপনার নিকটবর্তী কোনও ব্যাংক-এর শাখা অফিসে। সেখানে গিয়ে ওদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন। মনে রাখবেন, আজকাল ব্যাংকগুলিতে বাচ্চাদের নামেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা রয়েছে। ওদের অ্যাকাউন্টে ওদেরই টাকা জমা করতে শেখান। এতে ওরা আরও উৎসাহিত বোধ করবে। ওদের আজকের জমানো এই ছোটো-ছোটো অর্থরাশি ভবিষ্যতে পরিমাণে আরও বড়ো হয়ে অতি প্রয়োজনীয় কোনও চাহিদা পূরণে হয়তো সক্ষম হবে।

সঞ্চয়কৃত অর্থ থেকে উপহার দিন।

বাচ্চাদের জমানো অর্থ থেকে ওদেরই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিতে পারেন। এমনও হতে পারে যে, অনেক দিন ধরে আপনার সন্তান একটি টেবিল ল্যাম্প কেনার কথা বলছে, কিংবা পীড়াপীড়ি করছে পড়াশোনার জন্য আলাদা একটি টেবিল বা চেয়ার কেনার। প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলি সন্তানের সঞ্চিত অর্থ থেকেই ওকে কিনে দিতে পারেন। এছাড়া গল্পের বই, ভিডিও গেমস বা খেলার সরঞ্জাম কেনার আবদারও ওরা নিজেদের জমানো টাকা থেকেই মেটাতে পারবে। এতে করে ওদের সঞ্চয়ের উৎসাহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। পছন্দের জিনিস কেনার জন্য আরও বেশি করে টাকা জমাতে চাইবে। শুধু তাই নয়, নিজের জমানো অর্থ থেকে কেনা বলে জিনিসগুলি আরও বেশি করে যত্নও করবে।

পকেট মানি রোজগার

আপনার সন্তানদের প্রতি মাসে নিশ্চয়ই কিছু পকেট মানি দেন। এরই পাশাপাশি ওদের নিজেদেরও পকেট মানি উপার্জন করতে উৎসাহিত করুন। এটি নানা উপায়ে করা যেতে পারে। ওদের দিয়ে মাঝেমধ্যে গৃহস্থালীর কিছু কাজ করান এবং সেই বাবদ পুরস্কার হিসেবে কিছু টাকা দিতে পারেন। আবার আপনার সন্তানকে মাঝেমধ্যে ওর নিজের ঘর পরিষ্কার করতে বলুন। এইজন্য আপনি কিছু টাকা ওকে দিতে পারেন। এছাড়া ভাই বা বোনকে হোমওয়ার্ক করালেও কিছু টাকা ওর হাতে তুলে দিন। এতে করে একই সঙ্গে দু’টি কাজ হবে। প্রথমত, আপনার সন্তান গৃহস্থালীর কাজ করার অভ্যাস ছোটো থেকেই রপ্ত করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, ও কিছুটা বাড়তি পকেট মানি পেয়ে যাবে, যেটা থেকে কিছুটা আবার সঞ্চয়ও করে ফেলতে পারবে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, কোনও কাজের জন্য কত টাকা ওদের হাতে তুলে দেবেন, তা ঠিক করবেন কাজটা কতটা কঠিন বা কতটা সময়সাপেক্ষ তার উপর নির্ভর করে। মনে রাখবেন, শিশুরা টাকা পেলে খুব উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত হয়। শুধু তাই নয়, পরিশ্রমের গুরুত্ব বোঝার সঙ্গে সঙ্গে ওরা পয়সার মূল্যও বুঝতে শেখে।

সঞ্চয়ের জন্য পুরস্কার

আপনার সন্তানকে নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সঞ্চয়ের একটি লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিন। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করলে ওর হাতে উপহার তুলে দিন। উপহারস্বরূপ নতুন কোনও জামা-প্যান্ট কিনে দিতে পারেন কিংবা ওকে কেক বা আইসক্রিমও খাওয়াতে পারেন। এতে ও সঞ্চয়ের ব্যাপারে আরও আগ্রহী হবে। এছাড়াও আপনার সন্তানের জমানো অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আপনি নিজের থেকে দিয়ে ওর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারেন। এতে আপনার সন্তানের উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আরও বেশি করে সঞ্চয়ের প্রতি মনোনিবেশ করবে।

সবুজে মোড়া অজানা কৰ্ণাটক (পর্ব-০১)

কর্ণাটক বললেই আমাদের চোখের সামনে প্রথমেই ভেসে আসে বেঙ্গালুরু শহর। ভারতের আইটি হাব। এবারের ভ্রমণ সেই বেঙ্গালুরু থেকেই শুরু করেছিলাম। গিয়েছিলাম কর্ণাটকের পরিচিত জায়গাগুলোর বাইরে বেশ কিছু অফবিট জায়গায়। কোঙ্কন উপকূলের শান্ত, স্থিতধী, রহস্যময় রূপটি দেখার জন্য কর্ণাটকের এই অঞ্চলগুলো একদম আদর্শ টুরিস্ট ডেসটিনেশন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর উদুপি, মারাবাস্থে, কারওয়ার, মালপে বিচ, সেন্ট মেরিস আইল্যান্ড প্রভৃতি জায়গাগুলোই এবারের ভ্রমণের প্রধান দ্রষ্টব্য তালিকায় ছিল। পাহাড়, অরণ্য, সমুদ্র সবকিছু নিয়ে এই জায়গাগুলো— একদিকে যেমন মনোমুগ্ধকর সুন্দর, তেমনি আবার অপেক্ষাকৃত কম টুরিস্ট হওয়ায় জায়গাগুলোর নির্জনতাও মানসিক শান্তি দেয়।

কলকাতা থেকে বিকেলের ফ্লাইট ধরে সন্ধে সাতটা নাগাদ বেঙ্গালুরু এসে পৌঁছোলাম। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই ঝকঝকে পরিষ্কার, সুন্দর রাস্তা পার হয়ে চলে এলাম সরকারি বাসস্ট্যান্ডে। এখান থেকেই রাত সাড়ে আটটায় মনিপালের বাস ছাড়বে। সাড়ে আটটা বাজার মিনিট দশেক আগেই বাস চলে এল। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বাসে বসার ব্যবস্থা খুবই আরামদায়ক।

বাসে ওঠার পরেই যাত্রীদের দেওয়া হল একটি করে কম্বল ও জলের বোতল। তাছাড়া বাসে রয়েছে একটি ছোটো টয়লেটও। সারারাত বাস জার্নির পরে সকালবেলা এসে পৌঁছোলাম ভারতের অন্যতম পরিষ্কার ও সমৃদ্ধশালী শহর মনিপালে। ম্যাঙ্গালোর থেকে ৬৪ কিলোমিটার এবং উদুপি থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে মনিপাল শহরটি একটি মালভূমির উপরে অবস্থিত। এখান থেকে আরব সাগরের অসাধারণ সুন্দর একটি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।

মনিপাল শহরটাকে ঘুরে দেখার জন্য পরদিন সকালবেলাই আমরা বেরিয়ে পড়লাম। পশ্চিমঘাট পাহাড়ের গায়ে, সমুদ্রে ঘেরা মালভূমির উপরে ছোট্ট এই শহরটা অবস্থিত। এই শহরের অনেকটা জায়গা জুড়েই রয়েছে মেডিকেল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ- সহ অনেকগুলো কলেজ, ইউনিভার্সিটি। শহরের ঝাঁ চকচকে পরিষ্কার রাস্তাঘাট, শপিংমল, সুন্দর সুন্দর বাড়ি, রোস্তারাঁ— সবকিছু দেখে মন ভরে গেল।

তবে সবরকম আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকলেও শহরটা মোটেই ঘিঞ্জি নয়। বরং দেখে মনে হয় সবুজে মোড়া অসাধারণ এক সুন্দর উপত্যকার, খাঁজে খাঁজে কোনও শিল্পী যেন নিখুঁত ভাবে বাড়িঘরগুলো সাজিয়ে রেখেছে। এটি ভারতের অন্যতম পরিষ্কার শহরও বটে। ছোট্ট একটা রেস্টুরেন্টে সকালের খাবার খেয়ে আমরা মালপে বিচে যাওয়ার বাস ধরলাম।

বাসে করে প্রথমে এলাম উদুপি শহরের কেন্দ্রস্থলে। তারপর ওখান থেকে আবার বাস ধরে গেলাম মালপে বিচে। মে মাসের দীর্ঘ তপ্তদিনের গরমকে উপেক্ষা করে আমরা যখন মালপে ফিশিং হারবারে এলাম, ততক্ষণে সূর্য প্রায় মাথার উপরে উঠে গেছে। চারিদিকের বাতাসে মাছের আঁশটে গন্ধ। তারই মাঝে মাছের কেনাবেচা চলছে। ব্যস্ত জনজীবনের ছবি দেখতে দেখতে আমরা ফিশিং হারবার পার হয়ে চলে এলাম মালপে বিচে। সমুদ্রের হাওয়ায় এতক্ষণের ঘামে ভেজা ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকি করা সমুদ্র দেখতে দেখতে কিছুটা হেঁটে আসার পরেই পড়ল সেন্ট মেরিস বিচে যাওয়ার লঞ্চঘাট। মাথাপিছু ২৫০ টাকা টিকিট কেটে আমরা লঞ্চে চড়ে বসলাম।

প্রথমে লঞ্চে চড়ে সমুদ্রের মধ্য দিয়ে চললাম। তারপর তীরের কাছাকাছি এসে সেই লঞ্চ থেকেই স্পিডবোটে উঠে, স্পিডবোট চড়েই চলে এলাম সেন্ট মেরিস আইল্যান্ড। ১৪৯৪ সালে এই সেন্ট মেরিজ দ্বীপপুঞ্জেই ভাস্কো দা গামা প্রথম এসেছিলেন। তিনি এই দ্বীপের নাম দিয়েছিলেন পাদ্রাও দে সান্তা মারিয়া। তবে কালিকট যাওয়ার আগে তিনি এই দ্বীপপুঞ্জটিকে মাদার মেরির নামে উৎসর্গ করে যান। সেই থেকেই এই দ্বীপপুঞ্জের নাম সেন্ট মেরিজ আইল্যান্ডে। মোট চারটি দ্বীপ নিয়ে এই আইল্যান্ডটি। দ্বীপে অসংখ্য নারকেল গাছ। তাই এই দ্বীপপুঞ্জকে কোকোনাট দ্বীপও বলা হয়। নারকেল গাছে ছাওয়া সবুজ দ্বীপের তটভূমিতে দাঁড়িয়ে আরব সাগরের জলে আসমানি রং এর খেলা দেখতে বেশ লাগছিল।

তবে জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষার জন্য এই দ্বীপ পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। দ্বীপের মাঝে মাঝেই সমুদ্রের জল ঢুকে অগভীর জলা তৈরি করেছে। আরব সাগরের নীল জল সেখানে টলটল করছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে সেখানে কাউকে নামতে দেওয়া হয় না। দ্বীপের মাঝে ইতিউতি ছড়িয়ে আছে আগ্নেয়শিলা। ভালো লাগল দ্বীপের পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা। ঘন্টা দুয়েক থেকে আবার আমরা চলে এলাম মালপে বিচে। সমুদ্রের নোনতা বাতাস মেখে বিচের সামনের একটা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেলাম। তারপর আরও কিছুক্ষণ মালপে বিচে বসে থেকে চলে এলাম মন্দির শহর উদুপিতে।

প্রথমে দেখলাম প্রাচীন দুটি শিবমন্দির, একটি চন্দ্রমৌলিশ্বর ও দ্বিতীয়টি অনন্তেশ্বর। তারপর গেলাম তেরোশো শতকের পুরোনো বিষ্ণুমন্দিরে। ততক্ষণে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এসেছে। মাথার উপরে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে ফানুসের মতো দেখতে সাদা কাপড়ে ঘেরা এক বিশেষ ধরনের সন্ধ্যা প্রদীপ। রাস্তার ধারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে ফুল, মালা। স্থানীয় মেয়েরা সেখান থেকে মালা কিনে চুলে জড়াচ্ছে।

(ক্রমশ……)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব