জন্মস্থান কলকাতা-য় এসে নিজের শিল্পকর্ম তুলে ধরলেন নিউইয়র্ক প্রবাসী কুহু মিত্র

২১ বছর বয়সি তরুণী কুহু মিত্র-র প্রতিভা বহুমুখী। মূলত তিনি চিত্রশিল্পী। অ্যাক্রিলিক, ওয়াটার কালার,  পেন অ্যাণ্ড ইংক, চারকোল প্রভৃতি মাধ্যমে ছবি আঁকেন তিনি। বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ কিংবা গল্প-প্রবন্ধের অলংকরন করেও ইতিমধ্যে দেশে-বিদেশে নজর কেড়েছেন কুহু মিত্র। ১৬ জুন রবিবার ‘ক্যালকাটা রোয়িং ক্লাব’-এ কুহু-র যাবতীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হল আনুষ্ঠানিক ভাবে।

প্রসঙ্গত কুহু জানিয়েছেন, ছোটোবেলা থেকেই আঁকা-র প্রতি তাঁর ঝোঁক ছিল প্রবল। মা, বাবা-র সঙ্গে আর্ট গ্যালারিতে গিয়ে ছবি দেখতেন কুহু। তাই বলা যায়, আঁকার প্রতি কুহু-র ভালোবাসা জন্মায় সেই ছোটো থেকেই।

স্কুলে পড়াকালীন বিভিন্ন আর্ট কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করেছেন কুহু। তাঁর আঁকা ছবি ‘দ্য টেলিকিডস-এ’ ছাপা হয়েছে একাধিকবার। পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ‘ইনট্যাক্ট’ পরিচালিত একটি সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় স্কুলের পক্ষ থেকে অংশ নিয়ে ‘রিজিওনাল উইনার’ (২০১৭-২০১৮) ট্রফিও জিতেছেন কুহু।

নার্সারি থেকে ক্লাস টুয়েল্ভ পর্যন্ত মর্ডান হাই স্কুল ফর গার্লস -এ শিক্ষা নিয়েছেন তিনি। স্কুলের টিচাররা অনেকেই কুহু-কে চিত্রকলা নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। স্কুল ম্যাগাজিন-এর ডিজাইন টিম-এর অন্যতম সদস্যও ছিলেন কুহু।

কম বয়সিদের জন্য ছবির বই তৈরি করতে চান কুহু। বাংলা এবং বাঙালির ঐতিহ্যকেও তুলে ধরতে চান চিত্রশিল্পের মাধ্যমে এবং সেই বই পৌঁছে দিতে চান আবিশ্বে। শারদোৎসব-কে থিম করে ছবি সহ ১৫ পাতার একটি বইও তৈরি করেছেন কুহু।

ক্লাস টুয়েল্ভ-এর পর ২০২১-এ কুহু মিত্র নিউ ইয়র্ক  চলে যান। নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ‘স্কুল অফ ভিসুয়াল আর্টস’-এ ‘ইলাস্ট্রেশন’-এ ব্যাচেলর অফ ফাইন আর্টস-এর ছাত্রী কুহু কলেজ থেকে আংশিক স্কলারশিপও পেয়েছেন। গল্প এবং কবিতা-র বইয়ের প্রচ্ছদের ছবি এঁকেও ইতিমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন কুহু মিত্র।

বর্ষায় করুন শখের বাগান

মধ্যবিত্তের কাছে শখের বাগান বলতে ফ্ল্যাটবাড়ির স্বল্প পরিসরে কিছু টব আর অল্প গাছপালা নিয়ে স্বপ্নের সাধপূরণের একান্ত প্রচেষ্টা। প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করা সেইসঙ্গে নিজেকে পরিবেশবান্ধব করে তোলা। শখের বাগান সকলেই করতে আগ্রহী। বর্ষার সময় সবুজ সতেজ প্রকৃতির রূপ সকলকেই যেমন আকর্ষিত করে, তেমনই মনে আনে গভীর প্রশান্তি। বড়ো বাগান না থাকলেও, সকলেই নিজের নিজের ফ্ল্যাটের জায়গা বুঝে বারান্দার খোলা জায়গায় অথবা বাড়ির অন্দরসজ্জায় টবে রকমারি গাছ লাগিয়ে থাকেন। তবে অনেকেই বর্ষার সময় গাছের ঠিকমতো পরিচর্যা করতে না পারার জন্য সাধের গাছ হামেশাই মরে যায়।

বর্ষাকালে বৃষ্টির জল গাছের জন্য খুবই উপকারী। বৃষ্টির জলে থাকে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফেট, নাইট্রেট ও আয়রন। এছাড়াও বৃষ্টির জলে রয়েছে নাইট্রোজেন যা গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য সুনিশ্চিত করে। এক পশলা বৃষ্টির পর ছাদ বা বারান্দার গাছগুলোকে অন্যরকম লাগে। গাছের সবুজ পাতাগুলো এতটাই সতেজ নির্মল হয়ে ওঠে— যা দৃষ্টি নন্দিত মনে হয়। সাধারণ ট্যাপের জলের থেকে বৃষ্টির জল অনেক বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ, যার জন্যে বর্ষাকালে গাছের পাতাগুলো আরও সজীব আরও সবুজ মনে হয়।

তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি আবার গাছের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির ফলে অনেক গাছ মারাও যেতে পারে। বর্ষাকালে গাছের এই ক্ষতিকর দিকগুলি কী এবং কীভাবে সমাধান করা যেতে পারে তাই আজকের আলোচনার বিষয়।

উপযুক্ত মাটি তৈরি করুন গাছ লাগাবার আগে

ছোটো কিংবা বড়ো যেমন বাগানই করুন না কেন অথবা টবেই গাছ বসান না কেন— প্রথমেই দরকার মাটি তৈরি করা। তবে বাগানে গাছ লাগানোর জায়গার বেশ কিছুটা অংশের মাটি তৈরি করে নিতে হবে। প্রথমে মাটি খুঁড়ে কিছু কম্পোস্ট জাতীয় সার দিয়ে রাখা ভালো। খুঁড়ে রাখার কিছুদিন পর সেখানে আবার মাটি আলগা করে রাখতে হবে। এরপর গাছের চারা বা বীজ রোপণ করতে হবে। মাটি তৈরির ক্ষেত্রে মাটির সাথে সার মেশানোর সাথে সাথে বালি ও নুড়িপাথর বেশি পরিমাণে মিশিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোকোডাস্ট বা পার্লাইট মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিতে হবে।

অতিবৃষ্টির সময়ে অবশ্যই এমন ধরনের মাটি নির্বাচন করতে হবে যাতে মাটি খুব দ্রুত জল শোষণ করতে পারে। এর জন্য এঁটেল মাটি ব্যবহার করা উপযোগী। গরমে যেমন টবের মাটি কয়েক ইঞ্চি নীচ পর্যন্ত ভরাট করতে হয়, তেমনই বর্ষাকালে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য টবে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া উচিত, যাতে জল তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। মাটি তৈরি ছাড়া দায়সারা ভাবে গাছের চারা বা বীজ রোপণ করলে কিছুদিন পরই গাছটি মরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। যদি গাছটি বেঁচেও যায়, তবুও এটির স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং ফুল বা ফল ভালো হবে না। বরং আপনার সাধের বাগানের শোভা নষ্ট করবে।

গাছকে ছায়ায় রাখুন

বর্ষাকালের অতিবৃষ্টি কিছু কিছু গাছের প্রচুর ক্ষতি করে। ক্যাকটাস বা সাকুলেন্ট সদস্যদের গাছ বেশি জল সহ্য করতে পারে না— তাই এদের খোলা আকাশের নীচে না রাখাই ভালো। এই জাতীয় গাছগুলোকে ছায়ার মধ্যে বা ঘরের মধ্যে রাখা উচিত। বাগানে গাছ লাগানোর সময় বড়ো হলে গাছের আকার কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা রাখা উচিত। কারণ গাছ বড়ো হওয়ার সময় যদি অবাধে ডালপালা বিস্তার করতে না পারে, তবে ফল বা ফুল দেবে না। তাই ছোটো জায়গায় বেশি গাছ লাগানো যাবে না। এছাড়া যেসব গাছের সূর্যের আলো সহন করার ক্ষমতা নেই, সেসব গাছ ছায়াযুক্ত স্থানে লাগানো উচিত।

বর্ষায় গাছে বেশি জল দেওয়া চলবে না

অনেকেই এটা নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকেন যে, বর্ষার মরশুমে গাছে জল দেওয়া উচিত হবে কিনা? খোলা আকাশের নীচে যদি টব রাখা থাকে তাহলে জল দেওয়ার দরকার পড়ে না। অতিবৃষ্টির ফলে গাছে জলের ঘাটতি পূরণ হয়। যে-টগুলি শেডে থাকে সেগুলিতে সপ্তাহে দু’বার জল দিলেই যথেষ্ট। মনে রাখবেন গাছের মাটি না শুকানো পর্যন্ত জল দেওয়া উচিত নয়। জলের অভাবে গাছ মরে না কিন্তু জলের পরিমাণ বেশি হলে গাছ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গাছের গোড়ায় মাত্রাতিরিক্ত জল ঢালবেন না। এছাড়া তীব্র রোদের মধ্যে দুপুরে জল দিলেও গাছ মারা যেতে পারে। সাধারণত সন্ধ্যার পর এবং সকালে গাছে জল দেওয়া ভালো।

জল নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা রাখুন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল গাছে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বাড়িতে রাখা যে-কোনও গাছের জন্য এমন টব বা পাত্র বাছাই করা দরকার যেটায় জল নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনমতো ছিদ্র থাকে। যদি বৃষ্টির পরে টবে জল জমে থাকতে দেখা যায় তাহলে টব একদিকে কাত করে জল ফেলে দিতে হবে। আর মাটি না শুকালে একটু খুঁচিয়ে দিতে হবে, যাতে মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। যদি গাছের মাটি শুকানোর ব্যবস্থা না থাকে তাহলে ঝড় বৃষ্টির সময় গাছ ঘরে এনে রাখাই শ্রেয়। বর্ষাকালে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয় তার অন্যতম একটি কারণ টবে জল জমে থাকা। তাই নিয়মিত গাছের টবগুলি দেখা দরকার, যেন জল জমে না থাকে।

মাঝে মাঝেই গাছের টব সরিয়ে দিন

বর্ষাকালে অনেক সময় পিঁপড়ে বা অন্যান্য ছোটো ছোটো পোকা টবের নীচে বাসা তৈরি করে। এসব পোকামাকড় গাছের ক্ষতি করে। তাই গাছের টব সরিয়ে নিয়ে পোকামাকড় মারার ব্যবস্থা করতে হবে।

চারা বা বীজ বাছাই করা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের দেশের আবহাওয়া ক্রমে উষ্ণ হয়ে উঠছে। ফলে আপনার বাগানে এবং টবে গাছ রোপণের আগে কী ধরনের বা কোন কোন জাতের গাছ লাগাবেন তা ঠিক করুন। আবহাওয়া ও বাগানের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারবে এমন জাতের গাছের চারা বা বীজ রোপণ করা উচিত। অন্যথায় শখের বাগান গড়ে তোলার শখ পূরণ হবে না।

কীটনাশক সারের ব্যবহার

আবহাওয়া উষ্ণ হলে গাছের পাতায় ও কাণ্ডে নানা ধরনের পোকা বাসা বাঁধে। গাছের পাতা খেয়ে ফেলায় একপর্যায়ে গাছ মারা যায়। সেজন্য কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শখের বাগানে ক্ষতিকর পোকা দমনে, ব্যবহারবিধি মেনে কীটনাশক দিতে হবে। কীটনাশক কেনার সময় ব্যবহারবিধি অবশ্যই জেনে নিতে ভুল যেন না হয়। তবে প্রচণ্ড বাতাসের দিনে ভুলেও কীটনাশক ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে বাকি পাশাপাশি থাকা অন্য গাছের ক্ষতি হতে পারে। সারের মতোই বর্ষাকালে কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভালো। তবে পোকামাকড় মারতে জৈব কীটনাশক প্রয়োগ করা উচিত।

৫ মিলি লিটার নিমের তেল, ১০ ফোঁটা সাবান জল ও জল মিশিয়ে গাছের পাতায় স্প্রে করে দিতে হবে। গাছে যদি মুকুল ধরে তখন কীটনাশক প্রয়োগ করা উচিত তাতে অন্যান্য মুকুল বা পাতায় পোকা আক্রমণ করার আশংকা কমে যায়। বর্ষাকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রতি ৭ দিন অন্তর অন্তর ফান্সিসাইড স্প্রে করা। কারণ বর্ষায় বৃষ্টির জল জমে ছত্রাক হয়ে থাকে, ফলে গাছের ডালপালা নষ্ট হয়ে যায়। তাই হাতের কাছে যে-কোনও ফান্সিসাইড স্প্রে করে দেওয়া উচিত।

এছাড়া অতিরিক্ত সার ব্যবহারেও গাছ মারা যেতে পারে। বর্ষাকালে সার প্রয়োগ না করাই ভালো। কেন না বৃষ্টির জলে যে পরিমাণে নাইট্রোজেন বা অন্যান্য উপাদান থাকে তা গাছের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। তাই সার দেওয়া উচিত নয়। যদি একান্তই সার দেওয়া দরকার মনে হয় তখন জৈব সার দিতে হবে। অন্য কোনও রাসায়নিক সার না দেওয়াই ভালো।

গাছের অবলম্বনের জন্য খুঁটির ব্যবহার

ঝড় বৃষ্টি হলে অনেক সময় গাছ, বিশেষ করে চারাগাছ একদিকে হেলে যায়। তাই গাছের অবস্থান ঠিক রাখার জন্যে গাছের সাথে খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।

কেঁচোর উপদ্রব

মাঝে মাঝে দেখা যায় গাছের মাটিতে অনেক কেঁচো হয়েছে। তবে, এতে ঘাবড়ানোর কোনও কারণ নেই। কেন না কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙল বা কৃষকবন্ধু বলা হয়। কেঁচো মাটিতে গর্ত করে মাটি আলগা করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে থাকে।

মরা ডালপালা কেটে ফেলা উচিত

গাছের মরা ডাল, পচা পাতা বা মরা ফুল-ফল কেটে ফেলা উচিত। শুকনো, অপ্রয়োজনীয় কাণ্ড বা পাতা থাকলে গাছকে যেমন অসুন্দর লাগে, তেমনি গাছে খাদ্য বা জল চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গাছ বড়ো হলে নিয়মিত ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে। শুকনো ডাল কেটে ফেলতে হবে। বাগানকে আকর্ষণীয় কারতে ডালপালা ছাঁটাই করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি পরিকল্পিত ডালপালা ছাঁটাই, গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

এছাড়াও বর্ষায় টবের মধ্যে আগাছা, শ্যাওলা জন্মায়। এগুলি মাটির মধ্যে থাকা খাদ্য রস শুষে নেয়, যার ফলে মূল গাছটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা দরকার এবং টবের মাটিতে চারকোলগুঁড়ো দিলে শ্যাওলা জমতে পারবে না।

বর্ষার সময় টগর, জবা, জুই, হাসনুহানা, বেল, নয়নতারা, জিনিয়া, অ্যালামন্ডা, রজনীগন্ধা, ডুয়াজাতীয় টেকোমা গৌরী, গন্ধরাজ প্রভৃতি ফুলের গাছ লাগাতে পারেন বারান্দার টবে। এছাড়াও এই মরশুমে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে রেইন লিলি এবং বিভিন্ন ধরনের অর্কিড। এগুলোতে যেমন কম পরিচর্যা লাগে তেমনি প্রচুর পরিমাণে ফুল ভরে থাকে— যা আপনার ব্যালকনির শোভা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেবে। বর্ষার গাঁদাফুল করতে পারেন। এটা শুধু শীতকাল নয়, বর্ষাকালেও হয়।

আজকাল টেবিল কামিনীও পাওয়া যায়। বনসাই টবে এই জাতীয় কামিনী ফুলের গাছ খুবই ভালো হয়। ড্রেসিং রুমের জানলা বা টেবিলে খুব সহজে রাখা যায়। গোটা গাছ সুগন্ধী ফুলে ভরে থাকে, সেইসঙ্গে এর পাতাও খুব আকর্ষর্ণীয়। এই গাছ-সহ গোটা টবটা দেখতে খুবই দৃষ্টিনন্দন। তবে মরশুমি ফুল গাছই সব থেকে ভালো কারণ দীর্ঘজীবী অথবা বৃক্ষ জাতীয় গাছ টবে বাঁচিয়ে রাখা খুব মুশকিল।

বর্ষাকাল হচ্ছে গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। অল্প যত্নেই জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে রোপণ করা গাছ বাঁচানোর সম্ভবনা অনেক বেশি। ফলে যারা বাড়ির বারান্দায় বা ছাদে শখের জন্য ছোট্ট বাগান করতে চান, তাদের এখনই কাজে লেগে পড়া উচিত। বাগান করার আগে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। ইচ্ছে থাকলে কাজটা খুব সহজ। তবে সামান্য ভুলে মাঠে মারা যেতে পারে আপনার পরিশ্রম। সেই সঙ্গে বাগান করার শখও মাটি হতে পারে।

বর্ষায় টাওয়েল হাইজিন

প্রতিদিন স্নানের সময় ত্বকের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমরা সকলেই বেশ যত্নশীল থাকি। বডি স্ক্রাব, বডি ওয়াশ, বডি অয়েল প্রভৃতি প্রসাধনীর পিছনে ব্যয়ও করি, যাতে নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়। বর্ষায় এই সতর্কতা তো আরও বেশি। কারণ বৃষ্টির জলে ভিজে বা নোংরা কর্দমাক্ত পথে বেরোলে ত্বকে নানারকম সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। তাই পার্সোনাল হাইজিন, টয়লেট হ্যাবিটস, বাথরুমের পরিচ্ছন্নতা প্রভৃতিতে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকে। কিন্তু একইরকম সতর্কতা কি আমরা আমাদের তোয়ালের প্রতি দেখাই? আপনি শেষ কবে আপনার স্নানের তোয়ালেটি কেচেছেন? ১ সপ্তাহ আগে নাকি ১৫ দিন আগে?

হ্যাঁ অবাক হবেন না, তোয়ালে কাচার বিষয়ে অনেকেরই একটা স্বভাবসিদ্ধ আলস্য কাজ করে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি, দামি বডিওয়াশ ব্যবহার করে, ত্বক তো পরিচ্ছন্ন করলেন কিন্তু স্নানের পরই যখন শরীর মোছার প্রয়োজন হয়— তখন আপনি না কাচা অস্বাস্থ্যকর তোয়ালেটাই প্রতিবার ব্যবহার করেন।

এই বদভ্যাস থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসুন। আপনার জানা দরকার যেভাবে আপনি অতি সতর্কতার সঙ্গে শরীরে ময়লা জমতে দেন না, একই ভাবে তোয়ালেরও ময়লা পরিষ্কার করা উচিত। বর্ষাকালে ত্বকের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়। তাই তোয়ালে পরিচ্ছন্ন না হলে নানা ধরনের চর্মরোগের কবলে আপনি পড়তে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক এর থেকে বাঁচতে কীভাবে তোয়ালে পরিচ্ছন্নতায় সজাগ হবেন।

ভেজা তোয়ালে ক্ষতির মুখে

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল মোটা তোয়ালে বর্ষাকালে শুকোতে চায় না, আর ভেজা তোয়ালে ব্যবহারের ফলে ত্বকে নানা সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিদিন তোয়ালে সাবান দিয়ে কাচা সম্ভব হয় না। তাই চেষ্টা করুন যখনই রোদ উঠবে, তখনই তোয়ালেটা কড়া রোদে ফেলে রেখে সম্পূর্ণ শুকনো ও জার্ম ফ্রি করে নিতে। ভেজা স্যাঁতসেতে তোয়ালে ব্যাক্টিরিয়ার আঁতুড়ঘর। যেটা সরাসরি আপনার ত্বকের সংস্পর্শে এলে ক্ষতি হবে। তাই চেষ্টা করুন বর্ষাকালে একদিন ছাড়া অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড মেশানো জলে, তোয়ালে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে।

টাওয়েল ক্লিনিং

সে যে-তোয়ালেই হোক— আপনার স্নানের টাওয়েল, ফেস টাওয়েল বা হ্যান্ড টাওয়েল, পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টিকে অবহেলা করলে চলবে না। টাওয়েল ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শে আসে। ফলে আপনার ত্বকের ডেডস্কিন বা ঘাম সরাতে এটিকে ব্যবহার করা হয়। সপ্তাহে ২-৩ বার টাওয়েল ডিটারজেন্ট ও গরমজলের মিশ্রণে ডুবিয়ে রাখুন, তারপর রগড়ে কেচে নিন।

পরিষ্কারের পদ্ধতি

পরিষ্কারের আরও একটি পদ্ধতি হল, স্বাভাবিক তাপমত্রার জলে ডিজারজেন্ট ছাড়াও একটু ভিনিগার দিন। এর ফলে তোয়ালেতে জমে থাকা সমস্ত ব্যাক্টিরিয়া সহজে বেরিয়ে আসবে। এটা শুধু জার্ম ফ্রি করতেই সহায়তা করে না, ভেজা তোয়ালের বিশ্রি গন্ধ থেকেও মুক্তি দেয়।

আপনি তোয়ালেটি জার্ম ফ্রি করতে বেকিং সোডাও ব্যবহার করতে পারেন। ডিটারজেন্ট-এ তোয়ালে কাচার পর জলে বেকিং পাউডার গুলে, তোয়ালে ডুবিয়ে নিন। তারপর ভালো ভাবে চেপে জল ঝরিয়ে নিয়ে কড়া রোদে তোয়ালে শুকোতে দিন।

জিম টাওয়েল ধুয়ে নিন প্রতিদিন

জিম টাওয়েলের ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন। আমরা নিজেদের ফিটনেসের বিষয়ে যতটা সচেতন, ততটাই উদাসীন জিম টাওয়েলের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে। ভেবে দেখুন জিমে আপনি কতটা ঘাম ঝরানোর ব্যায়াম করেন, তারপর সেই ঘাম মুছতে সাহায্য নেন জিম টাওয়েলের। আফটার জিম স্নান সেরে আপনি ঘর্মাক্ত টাওয়েলেই আবার গা মুছে নেন। এটা কি সত্যিই হাইজিনিক? আপনি নিজে স্নান শেষে ফ্রেশ ফিল করতে পারেন ঠিকই কিন্তু আপনার তোয়ালে তো বহন করছে ঘাম থেকে জন্ম নেওয়া ব্যাক্টিরিয়া।

তাই জিম টাওয়েল যদি প্রতিদিন ব্যবহারের পর না কেচে রাখেন ত্বকের সংক্রমণ এড়ানো কঠিন হবে। টাওয়েল হাইজিন তাই হেলাফেলার বিষয় নয়। প্রত্যেকবার ইউজ-এর পর টাওয়েল ধোয়া মাস্ট। এই পদ্ধতি যদি আপনি নিয়মিত অবলম্বন করেন, তাহলে তোয়ালেতে তৈরি হওয়া জার্ম থেকে অ্যালার্জি হবে না। ভাইরাস প্রভৃতি তোয়ালে থেকে আপনার শরীরে প্রবেশ করবে না। যে-কোনও বড়ো সংক্রমণের সম্ভাবনাও কমবে।

জিম টাওয়েল ধোওয়ার পদ্ধতি

এই টাওয়েল পরিষ্কার করতে হলে ভালো ভাবে ডিটারজেন্ট জলে গুলে নিন। এতে কয়েক ফোঁটা ভিনিগার বা বেকিং সোডা এক চিমটে দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ এই মিশ্রণে তোয়ালে ডুবিয়ে রেখে, তারপর কাচুন। এবার একটি বালতিতে কয়েক ফোঁটা ডিসইনফেকট্যান্ট লিকুইড দিয়ে দিন। তোয়ালে এই জলে ভালো ভাবে ধুয়ে নিয়ে তারপর শুকোতে দিন। বেকিং সোডা বা ভিনিগারের অন্য গুণও আছে। এটা তোয়ালেকে জার্ম ফ্রি তো করবেই, সেইসঙ্গে তোয়ালের সফটনেস বজায় রাখতেও সাহায্য করবে। স্যাঁতসেঁতে গন্ধও দূর হবে।

কিচেন টাওয়েলও রাখুন সুরক্ষিত

আমরা রান্নার পর বা খাবার খাওয়ার পর বাসন যেমন পরিষ্কার করি, ততটা কি মনোযোগ দিই কিচেন টাওয়েলের ব্যাপারে? বেশির ভাগ মহিলাই উত্তরে ‘না’ বলবেন। সত্যিই আমরা কিচেন টাওয়েলটিকে অবহেলা করে থাকি। মাল্টিপারপাস কিচেন টাওয়েল, হাত মোছা, ভিজে বাসন মোছা— সব কাজেই লাগে। ফলে এতে ব্যাক্টিরিয়া জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে ষোলোআনা। বিশেষ করে এই টাওয়েল যারা একইসঙ্গে কিচেন স্ল্যাব মোছা, গ্যাস আভেন বা মাইক্রো আভেন মোছার কাজেও ব্যবহার করেন— তাদের তো পরিচ্ছন্নতার দিকে আরও নজর দেওয়া উচিত।

প্রতিদিন এই তোয়ালে না ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করবেন না। এই অস্বাস্থ্যকর তোয়ালে কিন্তু আপনার শরীরে জীবাণু বহন করে আনবে। বর্ষাকালে বিশেষ করে এই তোয়ালে দিয়ে বাসন মুছে যদি সেই বাসনে খাবার খান, পেটের অসুখ ঠেকানো মুশকিল হবে। এই তোয়ালে বস্তুত ব্যাক্টিরিয়া লালন করে সবচেয়ে বেশি, তাই স্বাস্থ্যের ক্ষতি যাতে না হয়, এখনই সচেতন হোন।

কী বলছে গবেষণা

লভ ২ লন্ড্রি নামক সংস্থার রিসার্চ বলছে, খুব অল্প সংখ্যক মানুষ প্রতিবার ব্যবহারের পর নিজের তোয়ালে ধুয়ে রাখেন। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মনেই করতে পারেন না তেয়ালে শেষ কবে ধুয়েছেন। একটা সার্ভেতে দেখা গেছে মাত্র ৪৬ শতাংশ মানুষ, সপ্তাহে একবার করে ব্যক্তিগত টাওয়েল ধুয়ে পরিষ্কার করেন। ৯ শতাংশ মাসের অধিক সময়কাল ধরে তোয়ালে ধোওয়ার কথা ভাবেনই না। তোয়ালে থেকে চর্মরোগ হওয়ার সম্ভাবনা তাই সবচেয়ে বেশি। নিজেকে স্নানের দ্বারা পরিষ্কার করলেও এরা টাওয়েল হাইজিনের বিষেয়ে মোটেই সচেতন নন।

স্নানের পর তোয়ালের সাহায্যে অনেকেই গা ঘষতে থাকেন। এতে ডেডস্কিন তোয়ালেতে ট্রন্সফার হয়ে যায়। আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে এটাই ব্যাক্টিরিয়ার জন্ম দেয়। না ধুয়ে যখন এই তোয়ালে ব্যবহার করা হয়, এই ব্যাক্টিরিয়া সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ইনফেকশন, অ্যালার্জি, ত্বকে প্রদাহ, ফুসকুড়ি, প্যাচি স্কিন, র‍্যাশ প্রভৃতি সমস্যার শিকার হতে হয়। তাই টাওয়েল হাইজিন-কে আপনার জীবনের অঙ্গ করে ফেলুন।

পরিষ্কার করবেন কীভাবে?

এই তোয়ালে প্রতিদিন কাচুন। তাহলে এর দুর্গন্ধ দূর হবে। বাসনে এই অস্বাস্থ্যকর তোয়ালের গন্ধ লেগে থাকবে না। গরম জলে ভিনিগার ফেলে, কিচেন টাওয়েলটি অন্ততপক্ষে ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। এতে ব্যাক্টিরিয়া এবং দুর্গন্ধ— দুই-ই নির্মূল হবে। আজকাল কাপড়-জামা ধোওয়ার জন্য যে-সুগন্ধী পাওয়া যায়, দু-চার ফোঁটা সেই তরল জলে গুলে কিচেন টাওয়েল ধুয়ে নিন। পরিচ্ছন্ন ফিল আসবে।

নির্দিষ্ট সময়ের পরে টাওয়েল বদলান

একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে যাবেন না। তোয়ালের রোঁয়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। তখন তা পরিচ্ছন্নতার বা ত্বক শুকনো করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এই ধরনের তোয়ালেতে নোংরা জমেও থাকে বেশি। তাই দু- তিনমাস অন্তর হ্যান্ড টাওয়েল বা জিম টাওয়েল বদলান।

তোয়ালে বদলাবার সময় হয়েছে কীভাবে বুঝবেন? এটা কাচার পরও যদি দেখেন তোয়ালে থেকে দুর্গন্ধের ভাবটা পুরোপুরি যায়নি, তখন বুঝতে হবে এর ফাইবারে ব্যাক্টিরিয়া রয়ে গেছে। এই তোয়ালে আপনার ত্বকের জল শুষে নেওয়ার ক্ষমতাও হারাতে থাকবে। তাই এটাই সঠিক সময় তোয়ালে বদলানোর।

তোয়ালে শেয়ার করবেন না

অনেকের অভ্যাস থাকে অন্যের তোয়ালে ব্যবহার করার। এই অভ্যাস দ্রুত পালটান। আপনার তোয়ালে কাউকে দেবেন না। নিজের ব্যক্তিগত তোয়ালে ব্যবহার করাই স্বাস্থ্যকর। এর কারণ আপনি যাকে তোয়ালে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন, হতে পারে তিনি কোনও ব্যাক্টিরিয়া বহন করছেন, যা তোয়ালের মাধ্যমে সহজেই সংক্রামিত করবে আপনার ত্বককেও। তাই চর্মরোগের সম্ভাবনা থেকে বাঁচতে নিজের তোয়ালে ও ডিসইনফেকট্যান্ট অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। পুলে যদি তোয়ালে নিয়ে যান, তাহলে অন্যের ভেজা টাওয়েল ব্যবহার করার থেকে বিরত থাকুন। ভেজা তোয়ালেতে ফাংগাল ইনফেকশনের সম্ভাবনা খুব বেশি। বর্ষায় ইউরিন ইনফেকশনের মতো সমস্যাতেও পড়তে পারেন, যদি না পার্সোনাল হাইজিন বজায় রাখেন।

শ্বাসযন্ত্রের যত্নে অভিনব উদ্যোগ ‘Chest Tree’

সুস্থ, স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকতে হলে, শ্বাসযন্ত্রকে ভালো রাখতেই হবে। কিন্তু নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করলে কিংবা সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না করালে দেখা দিতে পারে শ্বাসযন্ত্রের নানারকম সমস্যা। আর ঠিক এই বিষয়টিকে মাথায় রেখে, শ্বাসযন্ত্রের যত্ন বিষয়ক সর্বাধুনিক পরিষেবা প্রদানের জন্য একটি অনন্য এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি ‘চেস্ট ট্রি’ চালু করার কথা  ঘোষণা করল কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত এইচপি ঘোষ হাসপাতাল৷ এই ‘চেস্ট ট্রি’ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসকদের একটি দল সহ শ্বাস-প্রশ্বাসের সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিনব উদ্যোগ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

‘চেস্ট ট্রি’ ইনিশিয়েটিভের উদবোধন ও উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচপি ঘোষ হাসপাতালের সিইও সোমনাথ ভট্টাচার্য, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অংশুমান মুখোপাধ্যায়, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুমিত সেনগুপ্ত, Sleep Medicine- এর পরামর্শদাতা  ডা. সংঘব্রত সুর এবং হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘চেস্ট ট্রি’ হল একটি ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা, যা এইচপি ঘোষ হাসপাতালে চিকিৎসা করা বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের অবস্থাকে হাইলাইট করে। এর  মধ্যে রয়েছে সিওপিডি, হাঁপানি, যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সার, শ্বাসযন্ত্রের অ্যালার্জি, ঘুমের ব্যাধি, পালমোনারি হাইপারটেনশন এবং ধূমপান রোধ। প্রতিকী গাছের প্রতিটি শাখা বিশেষজ্ঞের একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিকে তুলে ধরে, যা রোগীদের উপলব্ধ পরিষেবার বিস্তার বোঝা সহজ করে তোলে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে এইচপি ঘোষ হাসপাতালের সিইও  সোমনাথ ভট্টাচার্য প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘সিটি স্ক্যান, ব্রঙ্কোস্কোপি, এন্ডোব্রঙ্কিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড, থোরাকোস্কোপি, অত্যাধুনিক পিসিআর এবং দ্রুত কালচার সিস্টেম সহ শ্বাসযন্ত্রের যত্ন, শ্বাসযন্ত্রের মাইক্রোবায়োলজি ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এইচপি ঘোষ হাসপাতাল। কলকাতার প্রথম মাল্টিডিসিপ্লিনারি আইএলডি ক্লিনিক এবং শহরের প্রথম ফুসফুসের ক্যান্সার স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম সহ হাসপাতালের বহু-বিভাগীয় ক্লিনিকগুলি রোগীদের বিশেষ যত্ন প্রদান করে। হাসপাতালটি কনসালটেন্ট কভারের সঙ্গে চব্বিশ ঘন্টা আন্তরিক পরিষেবা প্রদান করে। সেইসঙ্গে  রোগীরা যাতে দিনের যে কোনও সময় সর্বোচ্চ স্তরের যত্ন পান, তা নিশ্চিত করে। রেসপিরেটরি মেডিসিনে ডেইলি বহির্বিভাগের রোগীদের (OPD), বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী রোগীদের জন্য ডে-কেয়ার মূল্যায়ন এবং আউট-অফ-আওয়ার কনসালট্যান্ট রেসপিরেটরি ক্লিনিকগুলি রোগীর যত্ন এবং সুবিধার সুব্যবস্থা করে চলেছে এইচপি ঘোষ হাসপাতাল’।

AI নির্ভর রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম

রোগীর নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং রোগীকে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দিতে, কলকাতা-য় শুরু হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার করে রোগীর সুচিকিৎসা।  এই চিকিৎসা পরিষেবা-র পোশাকি নাম–‘এনহ্যান্সড পেশেন্ট কেয়ার প্রোগ্রাম’। কলকাতার চার্নক হাসপাতালের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ডোজি-র চিকিৎসা উপকরণের সাহায্যে, সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে এই পদ্ধতি বলে দাবী করা হয়েছে।

‘এনহ্যান্সড পেশেন্ট কেয়ার প্রোগ্রাম’ চালু করার কথা ঘোষণা করেছে কলকাতা-র চার্নক হাসপাতাল। নন-আইসিইউ ওয়ার্ডের বেড-এ থাকবে ডোজি-র অত্যাধুনিক এআই-চালিত রিমোট পেশেন্ট মনিটরিং এবং আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (ইডব্লিউএস) দ্বারা যোগাযোগহীন এবং অবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা দূর থেকে রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার যেমন হৃদস্পন্দনের মাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, রক্তচাপ, তাপমাত্রা এবং ইসিজি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন এবার ডোজি-র আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (ইডব্লিউএস)-এর সাহায্য নিয়ে। এমার্জেন্সি প্যারামিটারের প্রবণতা ট্র্যাক করে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা রোগীর সম্ভাব্য ক্লিনিকাল অবনতি শনাক্ত করে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ করে দেবেন এই সিস্টম-এ। কন্ট্যাক্টলেস ভাইটাল মনিটরিং-এর জন্য ডোজি এআই-ভিত্তিক ব্যালিস্টো-কার্ডিওগ্রাফি (বিসিজি) ব্যবহার করে। এই প্রযুক্তি রোগীর নিরাপত্তা, ক্লিনিকাল রেজাল্ট এবং শল্য চিকিৎসাকে  উল্লেখযোগ্য ভাবে সুফল দেয়।

ডোজি-র সিটিও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা গৌরব পারচানি প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘রোগীর নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করা-ই আমাদের লক্ষ্য। এআই-চালিত সতর্কতা ব্যবস্থা (ইডব্লিউএস) ক্লিনিকাল অবনতির প্রাথমিক কারণ শনাক্তকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করে এবং জরুরী পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। হাসপাতালের কার্যক্রমে ডোজি-র স্বতন্ত্র মনিটরিং সিস্টেমের সফল সংযোজন, স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়ে থাকে। এই প্রচেষ্টা স্বাস্থ্যসেবার মান রক্ষা করে এবং হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মী ও রোগীর মধ্যে সুন্দর যোগাযোগ করিয়ে দেয়।’

কলকাতার চার্নক হসপিটালের চিফ অফ মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডা. সুমন ঘোষ জানিয়েছেন, ‘সবার আগে আমাদের ফোকাস হল রোগীর নিরাপত্তা এবং সহানুভূতিশীল যত্ন প্রদান৷ উন্নত প্রযুক্তি এবং এআই-চালিত বেড-এ ‘এনহ্যান্সড পেশেন্ট কেয়ার’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে, রোগীর নিরাপত্তাকে উন্নত করা এখন সম্ভব। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা রোগীর অত্যাবশ্যক বিষয়গুলি বাস্তবে নিরীক্ষণ করে, রোগীর দ্রুত কোনও শারীরিক ক্লিনিকাল অবনতি শনাক্ত করতে এবং কোড ব্লুজ কমানোর জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’

‘এনহ্যান্সড পেশেন্ট কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে, নন-আইসিইউ ওয়ার্ডের জন্য রোগীর কনটিনিউয়াস মনিটরিং-এর বিষয়টি নিশ্চিত করবে, যা ক্লিনিকাল অবস্থার অবনতি আগে থেকেই বুঝতে পেরে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

সুফিয়ানি চিকেন বিরিয়ানি আর ওয়ালনাট প্যানকেক

মাঝেমধ্যে মুখের স্বাদ বদল করতে ইচ্ছে করে সবার। আর এই স্বাদ বদলের ইচ্ছেপূরণ করতে হলে জমিয়ে খান সুফিয়ানি চিকেন বিরিয়ানি আর ওয়ালনাট প্যানকেক। বাড়িতেই নিজের হাতে বানিয়ে নিতে পারবেন এই দুটি পদ। একটু ঝালঝাল স্বাদের পর মিষ্টিমুখ হলেই মন ভরে উঠবে খুশিতে।

সুফিয়ানি চিকেন বিরিয়ানি

উপকরণ: ১ কেজি বাসমতী চাল, ১১/২ কেজি চিকেন (হাড় সমেত), ২০ গ্রাম আদা-রসুন পেস্ট, ১০ গ্রাম কাঁচালংকা, ৪-টে লবঙ্গ, ৬০ গ্রাম কাঁচালংকাবাটা, ১ গ্রাম দারচিনি, ৫ গ্রাম শাহ জিরা, ১০ গ্রাম পুদিনা ও ধনেপাতা, ১০০ গ্রাম ভাজা পেঁয়াজ, ৫০ মিলি ঘি, ৮০ মিলি রিফাইন্ড তেল, ২৫০ গ্রাম দই, নুন স্বাদমতো।

প্রণালী: চাল ভালো ভাবে ধুয়ে রাখুন। এবার একটা পাত্রে ৫ লিটার জলে চাল, লবঙ্গ, শাহ জিরে ও দারচিনি দিয়ে চাল ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সেদ্ধ হতে দিন। তারপর ফ্যান ঝেড়ে আলাদা রাখুন।

বিরিয়ানি বেস তৈরির জন্য: একটা হাঁড়িতে তেল ও বাকি উপকরণ দিন, যা বিরিয়ানির বেস তৈরি করবে। চিকেনটা শুধু আলাদা রাখুন। এবার মশলাটা নাড়াচাড়া করে চিকেন দিয়ে কষান। হাঁড়িতে একটা করে ভাতের লেয়ার তৈরি করুন, মধ্যে দিন চিকেন কষানোটা। এর উপর আবার ভাতের লেয়ার তৈরি করুন এবং ঘি ছড়িয়ে দিন। ভাপে দেওয়ার আগে হাঁড়ির মুখ ফয়েল পেপার দিয়ে মুড়ে দিন। ভাপানো হলে ফয়েল সরিয়ে একটা পাত্রে রাখা জ্বলন্ত কাঠকয়লা হাঁড়ির ভেতর বসিয়ে চাপা দিয়ে দিন। মিনিট পাঁচেক রেখে কয়লার পাত্রটা বের করে নিন, ভালো ভাবে বিরিয়ানিটা ঝাঁকিয়ে গরম গরম সার্ভ করুন।

ওয়ালনাট প্যানকেক

উপকরণ: প্যানকেকের জন্য: ১ কাপ ময়দা, ২টো ফেটানো ডিম, ১ চামচ গলানো মাখন, ১১/২ কাপ দুধ, নুন স্বাদমতো৷

উপকরণ: সসের জন্য: ১/২ কাপ গুড়, ১ কাপ দুধ, ১/২ কাপ ওয়ালনাট, ছড়ানোর জন্য মাখন।

উপকরণ: গার্নিশিং-এর জন্য: মধু প্রয়োজনমতো, এডিবল ফ্লাওয়ারস্।

প্রণালী: একটা বোল-এ প্যানকেকের সামগ্রী একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ননস্টিক প্যান গরম করে, মাখন গলিয়ে নিন। এবার হাতায় করে প্যানকেকের মিশ্রণ থেকে অল্প করে নিয়ে প্যানকেক ভেজে নিন। দুপিঠ ভালো ভাবে ভাজা হলে নামিয়ে নিন। এবার একটা প্যানে দুধ ফুটতে দিন। এর সঙ্গে গুড় মেশান সস তৈরি করার জন্য। প্যানকেকের উপর এই সস ছড়িয়ে দিন। উপর থেকে ওয়ালনাট ও এডিবল ফ্লাওয়ার্স ছড়িয়ে সাজিয়ে দিন।

মিষ্টি-কথা

মিষ্টি খেলে মুখের স্বাদ ফেরে। তাই মাঝেমধ্যে মিষ্টি খেয়ে দেখবেন, মন ভালো হয়ে যাবে। তবে দোকান থেকে মিষ্টি না কিনে, নিজের হাতে মিষ্টি বানিয়ে খাওয়া কিংবা কাউকে খাওয়ানোর মজা-ই আলাদা। কিছু সুস্বাদু মিষ্টি বানানোর পদ্ধতি দেওয়া হল এখানে।

মাখানা লাড্ডু

উপকরণ: ১০০ গ্রাম মাখানা, ৫০ গ্রাম খোয়াক্ষীর, ৩০ গ্রাম ক্যাস্টর সুগার, অল্প কাজু-কিশমিশ, ১/২ চামচ এলাচগুঁড়ো, প্রয়োজনমতো ঘি।

প্রণালী: প্যানে ঘি গরম করে মাখানা কড়কড়ে না হওয়া অবধি ভাজতে থাকুন। তারপর মিক্সিতে দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। এবার প্যানে খোয়াক্ষীর দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। চিনি ও ড্রাইফ্রুট্স দিয়ে পাক দিতে

থাকুন। খেয়াল রাখবেন খোয়াক্ষীরের যেন রং না বদলায়। মিশ্রণ শুকনো হলে এর মধ্যে মাখানাগুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন। হাতে ঘি বুলিয়ে এই মিশ্রণ থেকে লাড্ডু তৈরি করুন।

গাজরের কালাকাঁদ

উপকরণ: ৮০ গ্রাম গাজর গ্রেট করা, ২০০ গ্রাম পনির মশলা, ৬০ গ্রাম মিল্ক পাউডার, ৬০ গ্রাম কনডেন্সড্ মিল্ক, ২ চামচ ঘি, ১/২ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১৫ গ্রাম চিনি, অল্প বাদাম পেস্তা সাজানোর জন্য।

প্রণালী: একটা পাত্রে গাজর, পনির, মিল্ক পাউডার ও কনডেন্সড মিল্ক ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এবার আঁচে বসিয়ে ফুটতে দিন। অল্প ঘি ও এলাচগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন।

ফ্রুটি গাজর হালুয়া

উপকরণ: ২ বড়ো চামচ কিশমিশ, ১/২ কাপ অরেঞ্জ জুস, ১/৪ কাপ ঘি, ৮-১০টা গাজর গ্রেট করা, ১ লিটার দুধ, ১ কাপ খোয়াক্ষীর, ১ ছোটো চামচ এলাচগুঁড়ো, ১/২ কাপ চিনি, কমলালেবুর ছোটো ছোটো টুকরো, বাদাম ও পেস্তা, সাজানোর জন্য কাজু।

প্রণালী: অরেঞ্জ জুস-এর মধ্যে কিশমিশগুলো ভিজিয়ে রাখুন। একটা গভীর তল-যুক্ত কড়ায় ঘি গরম করুন। গ্রেট করা গাজর এতে নাড়তে থাকুন। গাজরের জল শুকিয়ে নরম না হওয়া অবধি নাড়তে হবে। এবার অন্য একটি পাত্রে দুধ ফুটতে দিন। দুধ একটু ঘন হলে এতে খোয়াক্ষীর দিয়ে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ভালো ভাবে মিশে যায়। এবার কমলালেবুর রসে ভেজানো কিশমিশ এতে ঢেলে দিন। সঙ্গে দিন গাজর। চিনি দিয়ে রান্না হতে দিন। একটু চটচটে ভাব এলে আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। লেবুর টুকরো, বাদাম, পেস্তা ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। কাজু দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

রং নাম্বার (শেষ পর্ব)

বুঝতে পারলাম কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আমরা তিন শতাব্দী পিছিয়ে আধুনিক শহর কলকাতা ছেড়ে জব চার্নকের সুতনুটি গ্রামে পৌঁছে গেছি। আমি হলফ করে বলতে পারি এখানে আমাকে একলা ছেড়ে দিলে আমি এ গলি থেকে বেরুতে পারব না। শেষ পর্যন্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করে আমাদের ঈপ্সিত ঠিকানায় পৌঁছোলাম।

একটা টিনের চালের একতলা বাড়ি। কোনও সদর দরজা বলে কিছু নেই। একেবারে সোজা শোয়ার ঘরে। চিরকুটে লেখা ঠিকানার সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম কাঠের দরজায় চক দিয়ে লেখা, সেও প্রায় মুছে যাবার মতো মলিন। ভবতোষ কাগজের লেখা মিলিয়ে আস্তে দরজায় কড়া নাড়ল। কোনও সাড়া না পেয়ে এবার ভবতোষ জোরে কড়া নাড়ল। তাতেও কোনও ফল হল না দেখে দরজায় ধাক্কা দিতেই পুরোনো দরজাটা ক্যাঁচ শব্দ করে খুলে গেল। সঙ্গে সঙ্গে একটা তীব্র স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নাকে এল। ভবতোষ আমার দিকে তাকিয়ে পকেট হাতড়ে রুমাল বের করে নাকের আগায় ধরল। আমি আধো অন্ধকারে চোখকে অভ্যস্ত করে নিচ্ছিলাম।

এই ঘরটা পেরিয়ে আর একটা ঘরে ঢুকতেই গন্ধটা ভীষণ তীব্র ভাবে নাকে ঝাপটা মারল। ঘরে কোনও আলো নেই, ছাদের কোণে একটা ঘুলঘুলি দিয়ে বাইরের আলো চুইয়ে ঢুকছিল, তাতে আলোকিত না হলেও অন্ধকার কমে এসেছিল বা আমাদের চোখ ততক্ষণে অন্ধকারে ধাতস্থ হয়ে গিয়েছিল। ঘরের মধ্যে আসবাব বলতে কেবল একটি কাঠের তক্তাপোষ আর ঘরের কোণে রাখা মলিন ‘জলচৌকি’ যার উপরে রাখা আছে একটি জলের কুঁজো।

প্রাগৈতিহাসিক তক্তাপোষের উপরে ততোধিক মলিন বিছানায় শুয়ে ছিলেন অস্থি-চর্ম সর্বস্ব এক অশীতিপর কঙ্কালসার বৃদ্ধ। আমাদের দিকে চেয়ে বিছানার একপাশে রাখা ছোটো লাঠিটা তুলে কয়েকবার তক্তাপোষে আঘাত করলেন।

কোথা থেকে একটি অল্পবয়সি মেয়ে এগিয়ে এল! সম্ভবত আমাদের দেখেই ঘরে ঢুকেছিল আমাদেরই পিছু পিছু। বৃদ্ধ এক অবোধ্য অস্পষ্ট গোঙানির স্বরে কিছু বললেন মেয়েটিকে। আমার মনে পড়ে গেল টেলিফোনের কথাগুলি আর আমার অকারণ অসন্তোষ প্রকাশের কথা। মনে মনে লজ্জিত বোধ করলাম।

মেয়েটি আমাদের বলল, “উনি আপনাদের বসাতে আর জল দিতে বলছেন আমাকে।”

মেয়েটি জলচৌকি থেকে কুঁজোটা নামিয়ে আমাদের বসার জায়গা করে দিল। আমি বিছানার এক কোণে বসে ভবতোষকে জলচৌকিতে বসার ইশারা করলাম।

এরপর আমরা ওদের কথোপকথন শুনতে লাগলাম। মেয়েটি বৃদ্ধের কানের সঙ্গে মুখ রেখে বলতে লাগল আর ঘাড় নেড়ে অস্পষ্ট গোঁঙানির ভাষা শুনতে লাগল। কয়েক মিনিট এভাবে ওদের কথোপকথন চলার পর মেয়েটি আমাদের দিকে চেয়ে বলতে লাগল— উনি বলছেন, দু’বছর আগে ওঁর ছেলের কিডনির অপারেশন হয়েছিল। উনি নিজের একটা কিডনি দিয়ে ছেলেকে বাঁচান। তারপর ভালো হয়ে ছেলেটি চাকরি নিয়ে আরব দেশে কোথাও চলে যায়। মাসে মাসে টাকা পাঠাত সেখান থেকে। একটা পুরোনো সস্তা মোবাইল ফোনও রেখে গিয়েছিল। মাঝে মাঝে ফোন করত। কিন্তু গত ছ’মাস হল ফোনও আসছে না টাকাও বন্ধ। আমি দিনে দু’তিনবার এসে খাবার আর জল বিছানার উপর রেখে যাই।

এবার মেয়েটি বিছানা থেকে দূরে আমাদের কাছে এসে নীচুস্বরে বলল, ‘ছেলেটির সঙ্গে আর যারা গিয়েছিল তাদের একজন ফিরে এসে বলেছিল, কী একটা রোগে ওর ছেলে নাকি মারা গেছে ওখানে। তারপর থেকে উনি ওই নম্বরে প্রায়ই ফোন করেন, ঠিক করে নম্বর টিপতে পারেন না। যেখানে সেখানে ফোন চলে যায়৷”

বৃদ্ধ আবার লাঠি ঠক ঠক করতেই মেয়েটি ফিরে গেল। আবার সেই অবোধ্য কথোপকথন চলল কিছুক্ষণ। মাথা নেড়ে মেয়েটি ফিরে এল আমাদের কাছে।

—উনি বলছেন, ওঁর আয়ু আর বেশিদিন নেই! তাই ওনার ইচ্ছে অবশিষ্ট কিডনিটা আর শরীরের বাকি কেজো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করে যেতে চান। আপনারা দয়া করে তার ব্যবস্থা করে দিন।

আমি আর ভবতোষ স্তম্ভিত হয়ে অসীম শ্রদ্ধাভরে অশীতিপর বৃদ্ধের দিকে চেয়ে ঘাড় নেড়ে আর হাত তুলে ওঁকে আশ্বস্ত করে মেয়েটির সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এলাম।

‘জি বাংলা সিনেমা’-য় আজ রাতে দেখুন নতুন কমেডি শো ‘তাং মত্ করো’

নতুন একটি কমেডি শো-র সম্প্রচার শুরু করার কথা ঘোষণা করেছে ‘জি বাংলা সিনেমা’। এই কমেডি শো-টির শিরোনাম ‘তাং মত্ করো’।  বাংলা সিনেমার সেরা এবং মজার নির্বাচিত মুহূর্তগুলিকে একত্রিত করে তৈরি করা হয়েছে তিরিশ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই শো-টি।

জনপ্রিয় বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রের সেরা কমেডি দৃশ্য এবং মজার সংলাপগুলিকে কিউরেট করে, একটি অর্থবহ বিষয়বস্তুতে এনে, মালা গাঁথা হয়েছে এই শো-তে।  বর্তমানে মানুষের ব্যস্ত এবং উদ্বেগপূর্ণ জীবনে কিছু সময়ের জন্য হাসিমজার ভীষণ প্রয়োজন। তাই, এমন একটি বিষয়কে মাথায় রেখেই এই কমেডি শো-টি পরিবেশন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই শো-এর কনসেপ্ট সত্যিই অভিনব, কারণ এই শো শুধু বাংলা সিনেমার সমৃদ্ধ হাস্যরসাত্মক ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে না, পাশাপাশি, বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে দর্শকদের নতুন কিছু বার্তা দেবে। বিভিন্ন বাংলা সিনেমার সংলাপ নির্ভর এবং সিচুয়েশন  নির্ভর কমেডি দৃশ্যগুলোকে খুঁজে বের করে, সুন্দর ভাবে সম্পাদনার মাধ্যমে প্রতিটি পর্ব তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ‘জি সিনেমা’-র পক্ষ থেকে। কখনও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কোনও সিনেমার বিশেষ কোনও কমেডি চরিত্রকে, আবার কখনও বেছে নেওয়া হয়েছে কোনও কমেডিয়ানকে। সব মিলে বলা যায়, দর্শকদের হাসিমজার উপকরণ উপহার দেওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা থাকছে প্রতিটি পর্বে।

দর্শকরা যাতে সারাদিনের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে পারেন অল্প সময়ের মধ্যে, তাই প্রতিটি শো-এর দৈর্ঘ্য রাখা হয়েছে মাত্র তিরিশ মিনিট। তবে প্রতিটি পর্বে যাতে বৈচিত্র্য বজায় থাকে, সেই চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। আর এ এক এমন কমেডি শো পরিবেশিত হতে চলেছে প্রতিদিন, যা দেখতে-দেখতে দর্শকরা তিরিশ মিনিট আর অন্য কোনও কিছুর দিকে নজর দিতে পারবেন না বলেও দাবি করা হয়েছে। এক কথায়, এই কমেডি শো চলাকালীন দর্শকরা টিভি-র সামনে থেকে উঠে যেতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। তাই, ‘তাং মত্ করো’, এই মজাদার এক নামকরণও করা হয়েছে শো-টির।

‘জি বাংলা সিনেমা’-র চিফ চ্যানেল অফিসার এবং বিপণন বিভাগের প্রধান (পূর্ব ক্লাস্টার) জালালুদ্দিন মন্ডল প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘জি বাংলা সিনেমা’ কর্তৃপক্ষ তাদের দর্শকদের কাছে সেরা বাংলা সিনেমা কিংবা শো নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই, ‘তাং মত্ করো’ শুধু একটি কমেডি শো নয়, এটি আবেগের একটি রোলারকোস্টার, যেখানে হাসিই চূড়ান্ত গন্তব্য। এই শো-টি দর্শকদের ভরপুর আনন্দ দেবে, একথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।’

আজ ৭ জুন, ২০২৪ তারিখ থেকে রাত ১১- টায় ‘জি বাংলা সিনেমায়’ ‘তাং মত্ করো’ শো-টির প্রদর্শন শুরু হবে। দেখা যাবে সোমবার থেকে রবিবার প্রতিদিন।

এমন জ্ঞান অর্থহীন

আপনার কোনও কিছু জানার থাকলে গুগল সার্চ করলেই তা জানতে পারবেন, এর জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। আপাত ভাবে এটা মনে হলেও, আসলে আপনাকে খরচ করতেই হয়। কারণ ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়ার জন্য আপনাকে অর্থ খরচ করতেই হচ্ছে আগে। অতএব ডেটা কানেকশনের ওই খরচটাই গুগল পরিষেবা পাওয়ার খরচের মধ্যে পড়ে।

আসলে কোনও পরিষেবাই বিনামূল্যে পাওয়া যায় না। ডেটা কানেকশন-এর জন্য যেমন আপনাকে খরচ করতে হয়, ঠিক তেমনই গুগল-এ কোনও কিছু সার্চ করলে আপনাকে বিজ্ঞাপন দেখিয়েও আয় করে গুগল। এই ধরুন আপনি গুজরাতের বিষয়ে কোনও কিছু জানতে গুগল সার্চ করেছেন, আর ঠিক তখনই গুজরাতের হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল কিংবা সরকারের জনসেবামূলক কাজের বিবরণ দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখানো হবে আপনাকে।

মনে রাখবেন, গুগল-এ যে তথ্য আপনি পাচ্ছেন, তা আসলে সংবাদপত্র, বই প্রভৃতি থেকেই সংগৃহীত। কিন্তু যেখান থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে গুগল, বিনিময়ে কোনও অর্থ এতদিন এদের দেওয়া হতো না। কিন্তু সময় বদলেছে। তাই এখন বিনামূল্যে কোনও কিছু নিয়ে আর ব্যাবসা করা যাবে না। অতএব গুগলকেও এখন তথ্য নেওয়ার জন্য খরচ করতে হচ্ছে।

সরকারি চাপে পড়ে কানাডাতে ৬১২ কোটি টাকা (ভারতীয় মূল্যে) দিতে হবে মিডিয়া ফার্মগুলোকে, তাদের থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য। তবে এই টাকা কীভাবে দেওয়া হবে তা স্পষ্ট না হলেও, এটা অবশ্যই ভালো সূচনা বলা যায়। কিন্তু জ্ঞান বিনিময়ের এই সহজ রাস্তা বের করে অনেকের যা ক্ষতি করেছে গুগল, তা অভূতপূর্ব। লেখক, প্রকাশক এবং বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এতে। তবে ক্ষতি যার যাই হোক না কেন, গুগল আয় করে নিচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা, এটাই বাস্তব। আজ তাই পণ্ডিতরা আর জ্ঞানের অহংকার করার সুযোগ পান না, তাঁদের সব জ্ঞান এখন গুগল-এর হাতের মুঠোয়।

পৃথিবীর সমস্ত দেশের সরকারও এতে কোনও বাধা দেয়নি কারণ সরকারের কাজের ভালো দিকগুলিই কেবল তুলে ধরা হয়েছে এখানে। আর সাধারণ মানুষ এইসব তথ্যে বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে জিতিয়ে চলেছে সরকারকে। অথচ আপনি যদি ভারতের দলিত সম্প্রদায়ের দুঃখকষ্টের বিষয়ে জানতে চান, তাহলে সেই বিষয়ে সামান্য তথ্যই পাবেন।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এই যে, গুগল-এর উপর মানুষ বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কারণ, বেশিরভাগ নিউজ মিডিয়া এখন শুধু সরকারের প্রশংসামূলক খবর প্রচার করতেই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু এটাই তো হওয়া উচিত, যে-তথ্য পরিবেশিত হবে তা সত্যনির্ভর এবং বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। কারণ, জনগণকে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে যদি কেউ মোটা টাকা আয় করে থাকে, তাহলে তারও দায় থাকে জনগণকে সঠিক তথ্য এবং সঠিক জ্ঞান দান করার। অবশ্য এই ইচ্ছে কোনও দিন পূরণ হবে কিনা জানা নেই!

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব