স্পর্শকাতর ত্বকের প্রয়োজন বিশেষ ক্লিনজার

সকলেই গ্লোয়িং, অ্যাট্রাক্টিভ ত্বকের যেমন আকাঙ্ক্ষা করেন, তেমনি সমস্যা থেকেও নিজের ত্বককে মুক্ত রাখার জন্য পরিশ্রম করতে হয় বিস্তর। কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও সকলের ত্বক সমস্যামুক্ত হয় না কারণ ত্বক একটি প্রোটেক্টিভ লেয়ার দ্বারা তৈরি হয়। জলবায়ু পরিবর্তনে, স্কিন কেয়ার পণ্যে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারে, ধুলোময়লা দূষণের সংস্পর্শে যখনই আমাদের বেশি থাকতে হয়, তখনই ত্বক এগুলোর কারণে স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে আর ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর জন্য ত্বকের যেমন সঠিক যত্নের প্রয়োজন তেমনি সঠিক স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টসও ব্যবহার করা উচিত যাতে ত্বকের গ্লো সর্বদা বজায় থাকে।

এই ক্ষেত্রে বাজারে নানা ধরনের নামি ব্র্যান্ডের Cleanser পাওয়া যায়। জেল ক্লিনজার, ফোম ক্লিনজার, ক্রিম ক্লিনজার, লিকুইড ক্লিনজার, অয়েল বেসড ক্লিনজার, মাইমেলার ক্লিনজার, ক্লে ক্লিনজার। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার বেছে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

কী কারণে ত্বক স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে

পণ্যে থাকা ক্ষতিকারক উপাদান: দীর্ঘ সময় ধরে এমন প্রোডাক্ট আপনি ব্যবহার করছেন যাতে রয়েছে মিনারেল অয়েল, সিলিকোনস, যা ত্বকের ক্ষতি করবে এমন সব উপাদান। এর ফলে পোরস বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে ত্বকে অ্যাকনে, জ্বালা ভাব ইত্যাদি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দরকার, স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট। এটি কেনার সময় কী কী উপাদানে সেটি সমৃদ্ধ সেটা ভালো করে দেখে তবেই প্রোডাক্টটি কেনা উচিত। প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ মাইল্ড প্রোডাক্টস-ই ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া রাতে শোওয়ার আগে মেক-আপ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে শুতে যাওয়া উচিত।

দূষণ: বাড়িতেই থাকি অথবা বাড়ির বাইরে কোথাও বেরোই, আমরা সর্বক্ষণ দূষণ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকি। এর ফলে ত্বক নোংরা হয় এবং দূষণের কারণে কিছু কিছু কেমিক্যাল্স আমাদের ত্বকের পরতের মধ্যে ঢুকে যায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস উৎপন্ন করে। এর ফলে আমাদের ত্বকের প্রোটেকটিভ ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে। ফুলে যাওয়া, এজিং ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। H2O ক্লিনজার এই ক্ষেত্রে ত্বককে পুরো সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

ত্বকের নোংরা: ত্বক সাধারণত কেমিক্যালস এবং দূষণের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। যদি ত্বকের প্রপার হাইজিন মেনে চলা হয় অর্থাৎ রোজ ত্বক পরিষ্কার করা হয়, তাহলে ত্বকের মৃত কোশ, নোংরা, রোগজীবাণু দূরে রাখতে সক্ষম হব আমরা।

কলের জল: কলের জলে ক্যালশিয়াম, ব্যাকটিরিয়া এবং আরও নানা ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে। এগুলি ত্বকে বাইরের পরত এপিডার্মিস-এর ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বক জ্বালা করা, অ্যালার্জি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং ত্বকের উপযুক্ত সঠিক ক্লিনজার চয়ন করে এই সমস্যাগুলির সঙ্গে লড়বার শক্তি অর্জন করতে পারেন।

ফেস মাস্ক: কোভিড ১৯ ভাইরাস-এর কারণে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে মাস্ক-এর ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছিল ঠিকই কিন্তু এর ফলে ত্বকেরও ক্ষতি আমাদের স্বীকার করতে হচ্ছে। কারণ মাস্ক ব্যবহারের ফলে মুখের নীচের অংশে ব্রন, মেচেতা ইত্যাদির সমস্যা দেখা দিয়েছে। যাদের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর তাদের ত্বকে লাল ফুসকুড়ি, জ্বালা ভাব এমনকী এগজিমার মতো সমস্যা এখনও হচ্ছে। এজন্য সবসময় ত্বক পরিষ্কার রাখাটা একান্ত জরুরি, যাতে ত্বকে ঠান্ডা ভাব বজায় থাকে। •

স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য কিছু নিয়ম

  • দিনেরবেলায় পরিবেশ দূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ত্বক সুরক্ষামূলক ভূমিকা গ্রহণ করে। এর জন্য সারারাতের জমা ময়লা দূর করতে ত্বককে জেন্টল ক্লিনজার ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন। একই ভাবে সারাদিনের জমা নোংরা মুখ থেকে দূর করা প্রয়োজন, নয়তো মুখে জমে থাকা সারাদিনের ময়লা ত্বকের ভিতরে প্রবেশ করে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য দিনে এবং রাত্রে Cleanser-এর সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার রাখা একান্ত জরুরি।
  • যাদের ত্বক স্পর্শকাতর তাদের মনে রাখা উচিত কোনও প্রোডাক্ট দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বকে টাইটনেস ফিল করলে বুঝতে হবে প্রোডাক্টটি ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়।
  • সানস্ক্রিন, মেক-আপ বা ক্রিম সারারাত মুখে লাগিয়ে রেখে শুয়ে পড়বেন না বরং ক্লিনজারের সাহায্যে মুখ পরিষ্কার করে ত্বককে ডিটক্স করুন।

 

সোহিনী (শেষ পর্ব)

ওই চিঠিটায় সোহমের মায়ের বয়ান-এ লেখা ছিল— আপনাদের মেয়ের ফটো দেখে খুব ভালো লেগেছে, চাইলে নীচের নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

সোহমদের ল্যান্ডলাইন নম্বর ছিল সেটি। তার মায়ের বয়ানের নীচে সোহম লিখে দিয়েছিল ‘না যোগাযোগ করলে আমি পনেরো দিন পরে বাইক নিয়ে গিয়ে সোহিনীকে হরণ করে নিয়ে আসব। একদম পৃথ্বীরাজ-সংযুক্তা কেস!’

দিন সাত-আট পরে ফোন এল, সোহমের বাবা ধরলেন। কথা শেষ হতেই তিনি রাগে ফেটে পড়লেন— এ কোন মেয়েকে পছন্দ করেছ তোমরা! সোহিনী খুব অসভ্য বাজে মেয়ে! সে তার পাড়ার ‘পম’ নামে একটা ছেলের সঙ্গে লেপটে রয়েছে, এদিকে তোমার ছেলে সেই মেয়ের জন্য পাগল। ওদিকে ‘পম’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যদি আমাদের ছেলে সোহিনীকে হরণ করার জন্য যায়, তার আর লাশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমরা আমাদের একমাত্র ছেলেকে এমন বিপদের মুখে কি ঠেলে দিতে পারি!

সোহম এসব মানতে চায়নি তবু তাকে মানানো হল। সোহিনীরই সমবয়সি প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী ঊষসীর সঙ্গে গত সপ্তাহে সোহমের বিয়ে হয়ে গেল। আজ ওরা অষ্টমঙ্গলায় যাচ্ছে শুনেই চলে এলাম।

নয়নার কথা শেষ হতেই সোনালি বলে ওঠে— কে এই ‘পম’?

চোখে জল, কণ্ঠে গর্জন, সোহিনী বলে ওঠে— ‘চিনতে পারলি না ওটা তো ডাবলু শয়তান রে! ভালো নাম আবার অনুপম। সংক্ষেপে বলেছে পম। পিয়নের থেকে চিঠিটা বাগিয়ে এমন কাণ্ড বাধাল! আমাদের লক্ষ্য করে তো কত কথাই বলে যায়, আমরা পাত্তা দিই কী! আমাদের সর্বনাশ করেই ছাড়ল গাড়োলটা !’

সেদিন চৈত্রের দুপুর, সোহিনী কলেজ থেকে ফিরছিল। রোয়াকে আড্ডা দেওয়া ‘পম’ এগিয়ে এসে বলল, “আরে সংযুক্তা যে! শুনলাম তোমার পৃথ্বীরাজ নতুন বউ নিয়ে হনিমুনে গেছে। ফোনে জানলাম আর কী! এখন তো আমিই একমাত্র পুরুষ যে তোমায় বিয়ে করে বাইকে চাপিয়ে বেড়াতে নিয়ে যেতে পারি। চাও তো রেডি হই, সামনের বৈশাখেই না হয়… ‘

আগুনের ভাঁটার মতো জ্বলছিল সোহিনীর দুই চোখ। কঠিন স্বরে বলে উঠল, ‘তোকে বিয়ে করার চেয়ে গলায় দড়ি দেওয়া ভালো। প্রয়োজনে তোকে গুলি করে মেরে ফাঁসিতে ঝুলব। বুঝলি পিশাচ!’

যাকে পাওয়ার আশা ছিল একশো ভাগ, তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে বাবা-মায়ের পছন্দ করা সৌরাশিসের সঙ্গেই সোহিনীকে ঘর বাঁধতে হয়েছে। দেখতে দেখতে কাটতে চলল বারোটা বছর। সত্যিই জীবনটা খোলামেলা একটা হাট-এর মতো। কারও কারও স্বপ্ন হয়তো সত্যি হয়, তবে বেশির ভাগ স্বপ্নেরই সমাধি তৈরি হয়ে যায় এই হাটের মাঝখানে।

(সমাপ্ত)

কীভাবে করবেন সঠিক এডুকেশন প্ল্যানিং (শেষ পর্ব)

সব অভিভাবকেরাই চান তাদের যথাসাধ্য সামর্থ্য দিয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে এবং এই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা সারা জীবন পরিশ্রম করেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অর্থের অভাবের কারণে ব্যক্তিকে পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক সময়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও নামি স্কুল, কলেজে পড়াবার সামর্থ্য তাদের থাকে না। যার ফলে তাদের সন্তানরা কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড পড়াশোনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। অভিভাবকদের বুঝতে হবে যেমন গাছ রোপণ করলেই ফল দিতে শুরু করে না, তাকে সার এবং যত্ন দিয়ে বড়ো করলে তবেই ফল পাওয়ার আশা করা যায়— ঠিক তেমনি একটি বাচ্চাকে সঠিক ভাবে শিক্ষিত করে তুলতে ঠিক সময় Education Planning শুরু করে দিতে হয়।

সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা

এটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি যোজনা যেখানে কম পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করে ভবিষ্যতে বাচ্চার পড়াশোনার জন্য বেশ বড়ো অঙ্কের অর্থ জমা করতে পারবেন। এই যোজনাটি তাদেরই উপকারে আসবে, যাদের রোজগার স্বল্প এবং খুব কম বাজেটে সংসার চালাতে হয়। তবে মনে রাখতে হবে যোজনাটি শুধুমাত্র কন্যা সন্তানের জন্য।

এই যোজনায় আপনি তখনই উপকৃত হবেন, যদি আপনার কন্যা সন্তানের জন্মের ১০ বছরের মধ্যে এই যোজনায় এনরোল করেন। এর জন্য অ্যাকাউন্ট খুলতে প্রয়োজন মাত্র ২৫০ টাকা।

এই অ্যাকাউন্টে বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকার বেশি জমা করা যায় না। যদি বছরে ১০ হাজার টাকা জমা করেন তাহলে যোজনার নিয়ম অনুযায়ী শেষে গিয়ে ৪ লক্ষ টাকা পাবেন। বেশি টাকা জমা করলে লাভও বেশি পাবেন। কন্যা যখন ১৮ বছরের হবে তখন পড়াশোনায় এই অর্থ ব্যয় করতে পারবে। অভিভাবকদের এর প্রমাণ-পত্রের বিনিময়ে জমানো অর্থ তুলতে দেওয়া হবে।

বর্তমানে বহু অভিভাবকই এই যোজনার মাধ্যমে সন্তানকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে সক্ষম হচ্ছেন। জমা অঙ্ক সামান্য হলেও লং টার্ম-এর পর সেই অর্থ লক্ষ পার করবে। এটি সম্পূর্ণ ভাবে ট্যাক্স ফ্রি।

ফিক্সড ডিপোজিট

অভিভাবকদের মধ্যে এফডি অর্থাৎ ফিক্সড ডিপোজিট খুবই জনপ্রিয়। এতে গ্যারান্টি রিটার্ন পাওয়ার ক্ষেত্রে রিস্কও থাকে না বললেই চলে। এছাড়া সহজেই বিনিয়োগ উইথড্র করেও নিতে পারেন। আলাদা আলাদা ব্যাংকে আলাদা আলাদা রকমের ফিক্সড ডিপোজিট প্ল্যান থাকে। সেটা আপনাকে দেখে নিতে হবে কোন ব্যাংকে এফডি করলে লং টার্ম-এ আপনি বেশি লাভবান হবেন।

বাচ্চারা এফডি টার্ম শেষ হতেই বা ১৮ বছরের পরেই এটি থেকে উপকৃত হতে পারবে। এটাতে জমানো অর্থ সন্তানের পছন্দের কোর্স, অ্যাডমিশন অথবা হায়ার এডুকেশনের জন্য খরচ করতে পারবেন।

স্মার্ট চ্যাম্প ইনশিয়োরেন্স প্ল্যান

এসবিআই-এর স্মার্ট চ্যাম্প, ইনশিয়োরেন্স প্ল্যান বাচ্চাদের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এই প্ল্যানে অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বিনিয়োগ করে বাচ্চার শিক্ষার জন্য বেশ মোটা অঙ্ক জমা করতে পারেন। এর প্রিমিয়াম ও সুবিধামতো বার্ষিক, মাসিক বা ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে জমা করা যায়।

শর্ত এটাই যে, পলিসি যে-নিচ্ছে তার বয়স ২১ থেকে ৫০ এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং বাচ্চার বয়স শূণ্য থেকে ১৩- র মধ্যে। কিন্তু বাচ্চার ২১ বছর হলে তবেই স্কিম ম্যাচিওর হয়। এটি বাচ্চার হায়ার এডুকেশন, কোর্স-এর ফিজ ইত্যাদিতে ব্যয় করতে পারেন। এই পলিসির আর একটি ভালো দিক হল কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সংকটের মুহূর্তে পরিবারকে একটা পরিমাণের অর্থ দেওয়া হয়। এছাড়াও এই স্কিম নিলে ট্যাক্স-এও কিছুটা রিবেট পাওয়া যায়।

পিপিএফ

পিপিএফ-এ অনেক কারণেই বিনিয়োগ করা যেতে পারে এবং তা যদি বাচ্চার এডুকেশনের জন্য হয় তাহলে সেটা আরও ভালো। কারণ শুধু বিনিয়োগ করলেই হয় না বরং সঠিক সময়ে সঠিক স্কিমে ইনভেস্ট করাটা খুবই জরুরি।

এই স্কিমটির মেয়াদকাল ১৫ বছর। ব্যাংকের সুদের হারের থেকে এখানে সুদের হারও অনেক বেশি। এমনকী সেকশন ৮০ সি-এর মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিবেট পেতে পারেন। ৫০০ টাকা দিয়ে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায় এবং বার্ষিক দেড় লক্ষ টাকা জমা করত পারবেন। স্কিম ম্যাচিওর করলে আপনি যত বেশি জমা করবেন, তত বেশি পরিমাণ টাকা আপনি পাবেন। এই পুরো অর্থ আপনি বাচ্চাকে ভালো এডুকেশন দিতে ব্যয় করতে পারবেন।

স্মার্ট প্ল্যানিং

প্রতি বছর শিক্ষা আরও বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। বাচ্চাকে পড়াশোনা করানো এখন আর সহজ নয়। সুতরাং শুরু থেকেই পড়াশোনার জন্য স্মার্ট প্ল্যানিং না করলে লোনের বোঝায় চাপা পড়তে হবে অথবা কোয়ালিটি এডুকেশন দিতে সমস্যায় পড়তে হবে। এর জন্য সময় থাকতে যথাযথ বিনিয়োগ করার সঙ্গে সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, মুদ্রাস্ফীতির হিসেবে শিক্ষার জন্য মোট কত ব্যয় করতে হতে পারে এবং সেই হিসেবে বিনিয়োগ করতে হবে।

যেমন ধরুন শিক্ষাক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ১০-১২ শতাংশ এবং যদি ইনফ্লেশন মোটামুটি ৬ শতাংশ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে কোর্স-টি করতে বর্তমানে ৫-৬ লক্ষ টাকা খরচ হয় সেটাই ১৫ বছর বাদে ১৪-১৫ লক্ষ টাকা লাগবে কোর্স-টি করতে। সুতরাং বাচ্চার সু-ভবিষ্যতের জন্য স্মার্ট প্ল্যানিং করা খুবই জরুরি।

 

শীতের রূপচর্চা

শীত মানেই নলেন গুড়ের সন্দেশ, টাটকা খেজুর রস আর কমলালেবুর মিষ্টি স্বাদ। কিন্তু শীতের সাইড এফেক্ট হিসেবে এড়ানো যায় না, ফাটা ঠোঁট, শুষ্ক ত্বক, রুক্ষ চুল আর ফাটা গোড়ালি। সমস্যাগুলো জটিল নয় কিন্তু পরিত্রাণ পেতে কিছু আগাম সতর্কতা আর যত্নের প্রয়োজন। সঠিক ভাবে যত্ন নিলে ত্বক ও চুলের সমস্যায় নাজেহাল হতে হবে না শীতকালভর। জেনে নিন উপায়।

ত্বকের হাল ফেরাতে

শীতকাল মানেই রুক্ষ ত্বকের সঙ্গে মোকাবিলা করা। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায়, তার প্রভাবে ত্বক হয়ে পড়ে রুক্ষ। তাই এই সময়ে ত্বকের আর্দ্রভাব বজায় রাখতে বিশেষ নজর দিন।

  • শীতের এই সময়টা জুড়ে ক্রিম বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ফেনা হয় এমন ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলুন, এতে কম জল ঘাঁটতে হবে। গরমকালের মতো এই সময় ঘামে ধুলো আটকে যায় না। তাই জেন্টল ফেসওয়াশই যথেষ্ট। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে মশ্চোরাইজিং টোনার লাগিয়ে নিন।
  • দু’সপ্তাহে একবার স্ক্রাব ব্যবহার করা একান্ত জরুরি। যারা অতিরিক্ত বাইরে ঘোরেন, তাদের অবশ্য প্রতি সপ্তাহান্তে স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত। কোনও জেন্টল ফেসস্ক্রাব ব্যবহার করুন অথবা আপনার রেগুলার স্ক্রাবটির সঙ্গে গ্লিসারিন মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
  • সপ্তাহে একদিন করে ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন এটা। ১ চা চামচ মধু, ১ চা চামচ টকদই, ১/২ চা চামচ আমন্ড অয়েল আর ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে। ১৫ মিনিট এই প্যাক মুখে লাগিয়ে রেখে, ধুয়ে ফেলুন।
  • শুষ্ক ত্বক হলে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। ক্লিনজিং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজিং ছাড়াও, রাতে শুতে যাওয়ার আগে মুখে দুধের সর লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে ঈষদুষ্ণ গরম জলে মুখ ধুয়ে, তারপর নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন।
  • সপ্তাহে একদিন একটা ময়েশ্চারাইজিং ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন। অর্ধেক পাকা কলার সঙ্গে মেশান ১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। স্নানের পর মুখে হাতে পায়ে, গ্লিসারিন জলে গুলে লাগিয়ে নিন।
  • এ সময় ঠোঁট ফাটার প্রবণতা বেশি। তাই লিপ বাম ব্যবহার করতে ভুলবেন না। গোলাপের পাপড়ি, গ্লিসারিন, দুধের সর এবং আমন্ড একসঙ্গে মিশিয়ে বেটে নিন। এটা লিপ বামের বিকল্প। এতে ঠোঁটে রুক্ষ ভাব আসবে না, ঠোঁট কোমল থাকবে।
  • বাড়িতে একটা লিপ স্ক্রাব নিজেই তৈরি করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন দারচিনি, অলিভ অয়েল এবং চিনি। সবগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে বেটে নিন। সার্কুলার মোশনে ঠোঁট মাসাজ করুন এই স্ক্রাব দিয়ে। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • শীতেও চাই সানস্ক্রিন। বাইরে বেরনোর আগে অন্তত ৪০ এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন ত্বককে ট্যানিং-এর হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

শরীরের যত্ন নিতে

সারা গায়ের পরিচর্যা প্রয়োজন। আমরা এটা অনেকেই অবহেলা করি, শুধু মুখটুকুর যত্ন নিই।

  • সপ্তাহে একদিন অন্তত লুফা ও মাইল্ড বডিওয়াশ দিয়ে ভালো ভাবে ত্বক ঘষে ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে ত্বকের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে, ত্বক হবে কোমল।
  • শীতের বডি ওয়াশ কিন্তু ক্রিম বেসড হওয়াই বাঞ্ছনীয়। মধু, অ্যাভোকাডো, তেল জাতীয় জিনিসে সমৃদ্ধ বডি ওয়াশই আদর্শ।
  • ত্বকের আর্দ্রভাব যাতে শরীরে বজায় থাকে, তাই বডি বাটার ব্যবহার করুন। এ সময় শুধু ময়েশ্চরাইজারই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যাদের অনেকক্ষণ কর্মক্ষেত্রে থাকতে হয়। তাই শিয়াবাটার বেসড ক্রিম ব্যবহার করুন। স্নানের আগে অবশ্যই বডি অয়েল ইউজ করবেন।
  • যাদের গোড়ালি ফাটার প্রবণতা আছে, তারা স্নানের আগে মিনারেল সল্টযুক্ত ঈষদুষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে রাখুন। তারপর পিউমিস স্টোন দিয়ে ঘষে ঘষে পায়ের ফাঁটা অংশের যত্ন নিন। দুধের সর, অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল আর পাকা কলা দিয়ে একটা ফুট ক্রিম প্যাক তৈরি করুন। এতে পা নরম থাকবে, গোড়ালি ফাটা বন্ধ হবে। রাতে অবশ্যই পায়ে পেট্রোলিয়াম জেলি মাখিয়ে শুতে যান। বেশির ভাগ সময়ই মোজা পরে থাকুন ।

চুলের রুক্ষতা কমাতে

শীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চুল। তাই এসময় বিশেষ যত্নের প্রয়োজন।

Winter Hair care tips

  • সপ্তাহে দু’বার শ্যাম্পু করুন এবং কন্ডিশনার ছাড়াও হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন। চুল শ্যাম্পু করলেই, অবশ্যই কন্ডিশনিং ক্রিম ব্যবহার করবেন।
  • চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্প যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখুন যাতে খুশকির সমস্যা এড়ানো যায়। হেয়ার স্টইলিং প্রোডাক্ট যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন শীতকালে। পরের দিন শ্যাম্পু করার প্ল্যান থাকলে অবশ্যই রাতে হট অয়েল মাসাজ করুন চুলে। শীতে চাইলে প্রতিদিনই অল্প পরিমাণে ননস্টিকি হেয়ার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন চুলের রুক্ষতা কমাতে।
  • মাসে একটা হেয়ার স্পা করান। ভালো হয় যদি এই সময় চুলটা ট্রিম করে একটু ম্যানেজেবল করে নেন। এতে চুলের ডগাও ফাটবে না।
  • চুলে প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করলে বিশেষ উপকার পাবেন। ডিম, কলা, মধু, অ্যালোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল একসঙ্গে মিশিয়ে বাড়িতেই তৈরি করে নিন চুলের প্রোটিন প্যাক। এক ঘন্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। উইক এন্ডস-এ চুলের ডগায় এবং স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা জেল মাসাজ করুন। শীতে নিজের যত্ন নিতে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খান। টাটকা কমলা লেবুর রস বিশেষ ভাবে সাহায্য করে স্কিন ভালো রাখতে। এর খোসাও দুধের সরের সঙ্গে বেটে, ত্বকে লাগাতে পারেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ক্রিমের সঙ্গে মিশিয়ে সারা শরীরে মাসাজ করলেও ত্বকের রুক্ষভাব কমবে, ত্বক কোমল হয়ে উঠবে।

নিজের বাড়ির অধরা স্বপ্ন

সকলেই হয়তো স্বপ্ন দেখেন ভাড়ার নয়, নিজের একটি বাসস্থান হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তো এখন সুরক্ষা ও সুবিধার কথা ভেবে, ভালো হাউজিং প্রোজেক্ট-এ বাসস্থান খুঁজছেন। এই সব হাউজিং প্রোজেক্ট শহরের বাইরে, চাষের জমির উপর ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে। ল্যান্ডস্কেপ গার্ডেন, সুইমিং পুল, জিম, সিকিউরিটি-সহ নানা পরিষেবার লোভনীয় অফার দিয়ে তারা বড়শিতে গাঁথছেন অবস্থাপন্ন গ্রাহককে।

কিন্তু মুশকিলের বিষয় হল এই গ্রাহকেরা মোটেই তাদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে এই বাসস্থান ক্রয়ে সামিল হচ্ছেন না। বরং সকলেই ব্যাংক লোনের উপর নির্ভরশীল। আরবিআই (রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া)-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত এই সব গৃহপ্রকল্পের বিক্রি বেড়েছে ২১.৬ শতাংশ। সেই সঙ্গে গৃহঋণের বকেয়া অর্থ ১৯,৭৬,৪২৮ কোটিতে এসে পৌঁছেছে।

এটা খুবই আনন্দের বিষয় যে মানুষ নিজের স্বপ্ন সাকার করার জন্য একটি ভালো বাসস্থানের চাহিদা তৈরি করছেন। কিন্তু যে-বিপুল পরিমাণ ঋণে তারা জর্জরিত হয়ে যাচ্ছেন, তা শোধ করতে জীবনের একটা বড়ো সময় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। ইএমআই-এর প্রেশার ছাড়াও কোনও মাসে কিস্তির টাকা দেওয়ার ডেট মিস করলেই পিনাল ইন্টারেস্ট- এর বোঝা চাপবে। কেউ কেউ ঋণের বোঝা টানতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

গোটা দেশেই এমন অসংখ্য তালাবন্ধ নির্মীয়মান ফ্ল্যাট দেখতে পাবেন, যেগুলি অ্যালট হয়ে গেছে বটে কিন্তু কিস্তির টাকা মেটাতে না পারায় পজেশন দেওয়া স্থগিত হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী যতই কেন না বলুন যে গত ১০ বছরে ভারতের আর্থিক স্থিতি দশম স্থান থেকে পঞ্চম স্থানে এগিয়ে এসেছে গোটা বিশ্বের আর্থিক অবস্থার নিরিখে। সত্যটা হল ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মানুষের আয় ১৬০০ ডলার থেকে ২০০০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ ৪০০ ডলার গ্রোথ। কিন্তু ভিয়েতমানের মতো পিছিয়ে পড়া দেশেও প্রতি ব্যক্তির আয়, ২০৫৫ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০২৫ ডলার। সিঙ্গপুরের মতো সমৃদ্ধশালী দেশে তো সংখ্যাটা ৫৯,১১২ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৯,৮৯৬ ডলার।

গত কয়েক মাসে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সব ধরনের পণ্যের দাম। জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। যার প্রভাব সব শ্রেণির মানুষের ওপর। এক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যাদের আয় ১৫ হাজার টাকার মধ্যে তারা সংসার চালাতে এখন ঝুপড়ি ঘরে থাকছেন। ৩০ হাজারের মধ্যে আয় হলে তাদের ভরসা এখন ১০ হাজার টাকার মধ্যে সাবলেট।মূল্যবৃদ্ধির জাঁতাকলে মানুষ যখন পিষ্ট, তখন বেড়েছে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা। এতে তীব্র হচ্ছে আয় বৈষম্য। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। সংসারের খরচ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যয় বহনে ব্যর্থ হচ্ছেন অনেকে। সুতরাং এটা মেনে নেওয়াই ভালো যে, আম ভারতীয় এখনও অর্থনৈতিক ভাবে অনেক পিছিয়ে। তাই ভালো বাসস্থানের স্বপ্ন তাদের কাছে অধরাই।

কীভাবে করবেন সঠিক এডুকেশন প্ল্যানিং (পর্ব-১)

সব অভিভাবকেরাই চান তাদের যথাসাধ্য সামর্থ্য দিয়ে সন্তানকে শিক্ষিত করে তুলতে এবং এই লক্ষ্যে পৌঁছোতে তারা সারা জীবন পরিশ্রম করেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও অর্থের অভাবের কারণে ব্যক্তিকে পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক সময়েই লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও নামি স্কুল, কলেজে পড়াবার সামর্থ্য তাদের থাকে না। যার ফলে তাদের সন্তানরা কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড পড়াশোনা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়।

অভিভাবকদের বুঝতে হবে যেমন গাছ রোপণ করলেই ফল দিতে শুরু করে না, তাকে সার এবং যত্ন দিয়ে বড়ো করলে তবেই ফল পাওয়ার আশা করা যায়— ঠিক তেমনি একটি বাচ্চাকে সঠিক ভাবে শিক্ষিত করে তুলতে ঠিক সময় Education Planning শুরু করে দিতে হয়।

মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্ট

বর্তমানে বাচ্চাকে নার্সারিতে ভর্তি করানোটাও আর্থিক ক্ষমতার উপর নির্ভর করছে। অনেক জায়গায় ভর্তি করাতে মা-বাবাকে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে যদি মা-বাবা বাচ্চাকে ভর্তি করাবার সময় বা এক-দুই মাস আগে থেকে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করেন, তাহলে কারও কাছে টাকা ধার করা বা নিজেদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। এর ফলে দম্পতির ভবিষ্যতের প্ল্যানিং বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু যদি ভাবনাচিন্তা করে কাজ করা হয় তাহলে বাচ্চার ভালো স্কুলে অ্যাডমিশনও হবে এবং অর্থের জন্য সমস্যাতেও পড়তে হবে না।

স্নেহা এবং রোহিত দু’জনেই আইটি কোম্পানিতে কর্মরত। স্যালারিও বেশ ভালো। তাদের কন্যাসন্তান জন্মাবার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা মিউচুয়াল ফান্ডে মাসে ১০ হাজার টাকা করে রাখতে শুরু করে। ৩ বছরে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রায় জমা হয়ে যায় এবং মেয়ের স্কুলে অ্যাডমিশনের সময় বেশ বড়ো একটা অঙ্কের বিনিময়ে মেয়েকে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয় তারা।

এর জন্যে বড়ো কোনও সমস্যাতেও পড়তে হয়নি। বরং মেয়েকে পছন্দমতো স্কুলেও ভর্তি করতে পেরেছে তারা। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্নেহা এবং রোহিতের স্মার্ট প্ল্যানিং-এর জন্যই।

এই ভাবে প্ল্যানিং করে বাচ্চাদের এডুকেশনের ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা ভার, সহজে বহন করতে পারবেন এবং নিজেকেও সমস্যামুক্ত রাখতে পারবেন। আপনারা টার্ম ইনভেস্টমেন্টের জন্য ডেট মিউচুয়াল ফান্ড-এও ইনভেস্ট করতে পারেন। এতে রিস্ক, ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের তুলনায় কম।

নিউ চিল্ড্রেন মানি ব্যাক প্ল্যান

এখন অভিভাবকেরা আলাদা আলাদা পলিসিতে বিনিয়োগ করেন ঠিকই কিন্তু সন্তানের শিক্ষার বিষয়টি যদি মাথায় না রেখে বিনিয়োগ করা হয় তাহলে সেটা ভবিষ্যতে খুব একটা লাভ দেয় না। বাচ্চাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তার ভবিষ্যৎ যদি তৈরি করে দেওয়ার প্ল্যান করে থাকেন, তাহলে এলআইসি-র নিউ চিল্ড্রেন মানি ব্যাক প্ল্যান বেছে নিতে পারেন। এতে ভবিষ্যতে সন্তানের সঠিক শিক্ষার বিষয়টি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না এবং আপনার সন্তানও এতে উপকৃত হবে।

এটি ২৫ বছরের একটি পলিসি। বাচ্চার জন্য এই পলিসি কেনার সময়সীমা বাচ্চার বয়স জিরো থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। পলিসির ম্যাচিওরিটি অর্থ ভাগে ভাগে পাওয়া যায় অর্থাৎ বাচ্চা ১৮ বছরের হলে ২০ শতাংশ, ২০ বছর হলে ২০ শতাংশ, আবার ২২ বছর হলে ২০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হয়। বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ পলিসি শেষ হলে বোনাস যোগ করে পলিসি হোল্ডারকে দেওয়া হয়। এই পলিসির বার্ষিক প্রিমিয়ামও বেশি হয় না। অথচ বাচ্চার শিক্ষার জন্য ব্যয় করতে বড়ো অঙ্কের অর্থ আপনার হাতে এসে যায়।

 

 

সোহিনী (পর্ব-০৩)

সে কী! ভুলে গেলে! সংযুক্তার বাবা জয়চাঁদ তথা জয়চন্দ্র। যিনি স্বয়ম্বরসভার আয়োজন করেছিলেন, সেখান থেকে দিল্লির অধিপতি পৃথ্বীরাজ চৌহান তাঁর প্রেমিকা সংযুক্তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন। মনে পড়ছে সেই ইতিহাস!

—হ্যাঁ, মনে পড়েছে মাথা নাড়ে নয়না।

হেসে সোহম বলে ওঠে— এখন তো ঘোড়া অচল তাই বাইক কিনলাম। আমি, সোহম এই বাইকে চেপে তোমার বোন সোহিনীকে হরণ করে এনে এখানে বিয়ে করব। দেখি তোমার মেসো কেমন করে আমায় আটকাতে পারেন!

থমথমে আবহাওয়াটা মুহূর্তে বদলে গেল। সোনালি হেসে বলল, ‘আমাদের বাড়িতে যেও কিন্তু ভাই সোহম!” সোহমও হেসেই উত্তর দিল, “মোটরবাইকটা তো সেইজন্যই কিনলাম গো দিদি! তবে যাবার আগে চিঠি লিখে নিশ্চয়ই জানাব।’

বাড়ি ফেরার দিন পনেরো পরেই এসেছিল সোহমের চিঠি। খামের ওপর সোনালির নাম লেখা ছিল, তাই সে-ই পড়ল।

দিদি,

আমার কথা মনে পড়ছে তো! নয়নাদির কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে চিঠিটা লিখছি। ভালো আছো তো! সোহিনী কেমন আছে? সামনের মাসে চিঠি না এলেই সোহিনী-হরণ পর্বের সূচনা হবে কিন্তু!

আমার প্রণাম নিও। সোহিনীকে আমার ভালোবাসা দিও।

ইতি,

সোহম

॥৩॥

সেই যে চিঠি এল তারপর থেকে সোহমের আর কোনও পাত্তা পাওয়া গেল না। সোহিনীর কলেজ চালু হয়ে গিয়েছিল। নতুন বান্ধবীদের মধ্যে আবার দু’জন বিবাহিত। ক্লাসের ফাঁকে তারা তাদের নতুন জীবনসঙ্গীদের আদর-সোহাগ আর দৈহিক মিলনের গল্প শোনায়। অন্যরা যখন সেইসব গোগ্রাসে গিলতে থাকে, তখনই সোহিনীর মনে পড়ে যায় সোহমের কথা। সোহমের সঙ্গে বিয়ের পর সেও তাকে এমনভাবেই তৃপ্তি দেবে।

সোহিনীর বান্ধবী শতরূপা— একেই শ্রীহীনা তায় কৃষ্ণবর্ণা। হয়তো এই কারণেই ক্লাসের অন্য মেয়েরা তাকে এড়িয়ে চলে। একমাত্র সোহিনীই তাকে নোটস দেয়, বইপত্রও দেয়। সে একদিন অফ পিরিয়ড-এ সোহিনীকে ধরে বলল, “হ্যাঁরে তোকে তো সুন্দর দেখতে, যেখানে যাস ঝিলিক দিয়ে বেড়াস! তোর নিশ্চয়ই অনেক বয়ফ্রেন্ড আছে?’

সোহিনী বলল, “না রে, মাত্র একজনই, সেও বয়ফ্রেন্ড কাম লাভার!”

—বলিস কীরে! তার নাম বল। কোথায় থাকে? কলেজেই পড়ে তো! নাকি পাশ-টাশ করে চাকরি-বাকরি করে কোথাও!

—দাঁড়া, ধীরে-সুস্থে বলি। নাম তার সোহম। যখন লাল মোটরবাইক চেপে সে ঘুরে বেড়ায়… আমি যেন তার মধ্যে আমার প্রিয় নায়ক ‘শাহরুখ খান’-কে দেখতে পাই।

—উফ তুই কী লাকি রে! দীর্ঘশ্বাস ফেলে শতরূপা বলে, আমি তো শুকনো আলু-পটলের মতো গড়াগড়ি যাব। কাকা-জ্যাঠার বয়সি লোকও জুটবে না রে!

সেদিন বিকালে কলেজ থেকে ফিরতেই দরজার সামনে থেকে সোনালি তার ব্যাগ আর ছাতা টেনে নিয়ে বলল, “যা টয়লেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি চায়ের জল আভেনে বসিয়ে দিয়েছি। নয়নাদি এসেছে রে! চা-পর্বেই সোহমের কথা শুনে নেব। তাড়াতাড়ি যা।”

চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নয়নাদি কেমন যেন বিমর্ষভাবে শুরু করল—

—তোরা চলে আসার পর সোহম দুটো চিঠি পাঠিয়েছিল, তার মধ্যে প্রথমটা তোরা পেয়েছিস কিন্তু দ্বিতীয়টা অন্য কারও হাতে পড়েছিল, গোলমাল সেই-ই পাকিয়েছিল।

(ক্রমশ…)

জীবনের গভীরতা, প্রেম এবং সম্পর্কের কাহিনি ‘3 Of Us’

মাঝে মাঝে এক একটি সিনেমা আমাদের খুব ভালো লাগে এবং মন ছুঁয়ে যায়। ‘3 Of Us’, এমনই একটি বিশেষ ছবি। ছবিটি তৈরি করেছেন অবিনাশ অরুণ। ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন শেফালি শাহ, জয়দীপ আহলাওয়াত এবং স্বানন্দ কিরকিরে।

স্মৃতিভ্রংশের (ডিমেনশিয়া) প্রাথমিক পর্যায়ে মুম্বাইয়ের একজন মধ্যবয়সি মহিলা শৈলজা পাটনকর(শেফালি শাহ), এক সপ্তাহের বিরতি নেওয়া ঠিক করেন এবং নিজের স্মৃতি ম্লান হওয়ার আগে কোঙ্কনের ভেঙ্গুরলায় তাঁর শৈশবের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তিনি তাঁর শৈশবের দিনগুলির স্মৃতি পুনরায় জীবিত করতে পারেন। স্মৃতি থাকতে থাকতে নিজের মতো তাঁর এই শেষ যাত্রা তিনি সেরে ফেলতে চান। সময় তাঁর স্মৃতি কেড়ে নেওয়ার আগে, শৈলজা তাঁর শৈশবের প্রেমিক প্রদীপের(জয়দীপ আহলাওয়াত) কাছে একবার ফিরে যেতে চেয়েছেন। প্রদীপ কখনওই নিজের শহর ছেড়ে কোথাও যাননি, এবং তাঁদের অসম্পূর্ণ প্রেমের গল্প শৈলজাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে কীভাবে তিনি ২৮ বছর আগে একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কারণে হঠাৎ কাউকে কিছু না জানিয়ে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। শৈলজা উপলব্ধি করেন যে প্রদীপের কাছে তাঁর হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়াটা উচিত এবং নিজের জন্য এটাতেই তাঁর মানসিক যন্ত্রণার সমাপ্তি।

ছবির গল্পটিতে শৈলজাকে অনুসরণ করে দেখা যায় তিনি তাঁর অতীতকে ধরে রাখার চেষ্টা শুরু করেছেন যাকে কিনা তিনি দীর্ঘদিন ধরে পিছনে ফেলে রেখেছিলেন। তিনি সবসময় তাঁর জীবনের পুরনো দিনগুলি, বর্তমান সময় এবং আগামীকাল সম্পর্কে চিন্তা করেন। শৈলজার স্বামী একজন বীমা এজেন্ট, নাম দীপঙ্কর (স্বানন্দ কিরকিরে) এবং প্রদীপের স্ত্রী সারিকা খুবই বুদ্ধিমতী মহিলা (কাদম্বরী কদম)।

ভবিষ্যৎ কে অনুমান করা বা অতীতকে বিশ্লেষন করার পরিবর্তে ছবিতে বর্তমানের স্থিরতায় সান্ত্বনা খোঁজার প্রচেষ্টাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। যাইহোক, শেফালি এবং জয়দীপের আকর্ষণীয় অভিনয, কিছু মুহুর্ত আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, দৃশ্যগুলি স্থবির এবং একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। শেফালি তাঁর চোখ দিয়ে কথা বলেন। সারা ছবিতে তাঁর ট্রমা এবং তাঁর পরিচয় এবং স্মৃতি হারানোর ভয়, কোনও শব্দ না করেই তিনি নীরবে ফুটিয়ে তুলেছেন শুধুমাত্র চোখের ব্যাঞ্জনায়।

জয়দীপও দক্ষতার সঙ্গে নিজের চরিত্রটিতে উত্তেজনা এবং অদ্ভুততা উভয়ই প্রদান করেছেন যা তাঁর পরিস্থিতিকেও ন্যায়সঙ্গত করেছে। জয়দীপ একজন চমৎকার অভিনেতা, তবে মহারাষ্ট্রের সিন্ধদুর্গ জেলার স্থানীয় হিসেবে তাঁর অভিনয় কিছু কিছু জায়গায় মানানসই হয়নি বলে মনে হয়েছে। তাঁর উত্তর ভারতীয় পটভূমি ও হিন্দিতে আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও মাল্ভানি বা মহারাষ্ট্রিয়ান টান তাঁর হিন্দি বলাতে খুঁজে পাওয়া যায় না। স্বানন্দ কিরকিরে এবং কাদম্বরী কদম প্রাসঙ্গিক চরিত্রগুলি উপস্থাপন করেছেন। তাঁদের সাধারণ চরিত্র বলে মনে হলেও তাঁরা খুব একটা সাধারণ নন। বিলুপ্ত হয়ে আসা স্মৃতির মতোই ছবিটিতে মাঝে মাঝেই মনে হয় কাহিনির খেই হারিয়ে গেছে আর কাহিনি স্পষ্ট ঠিক কী বলতে চাইছে সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বোধ হয়।

ছবির ফটোগ্রাফি খুবই ভালো। কোঙ্কনের দৃশ্যগুলি সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। সংযুক্তা কাজা ছবিটি সম্পাদনা করেছেন এবং তাঁর কাজ প্রশংসনীয়। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও খুব ভালো এবং ছবির মেজাজ অনুযায়ী তা সুন্দর ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মেঘমুলুকে কয়েক দিন (শেষ পর্ব)

সবুজ প্রকৃতির পাশাপাশি নদীগুলি হয়ে উঠেছে সবুজ, খয়েরি, নীল জলে পরিপূর্ণ। উথাল-পাথাল নদীর বয়ে চলা স্রোত এক উপভোগ্য দৃশ্য। চপল ছন্দের চকিত চমকে ধেয়ে চলে নদী। মনে মনে ভাবি আমরা প্রকৃতি ও নদীর দেশের মানুষ। এসো নদী পাহাড়কে ভালোবাসি, বাঁচিয়ে রাখি নদী-পাহাড়-প্রকৃতিকে৷ নির্মেদ প্রকৃতি প্রতিটি মানুষের অন্তরে তরতাজা অনুভূতির সৃষ্টি করুক। পাহাড়ের ধাপ জমিতে আউশের সবুজ শিষের মিষ্টি হাওয়ায় প্রাণে যে দোলা লাগে তাও সত্যিই বিরল।

কতগুলি টুরিস্ট স্পট ছেড়ে গ্যাংটকের রাস্তায় বেরোলাম। মেল্লিতে এসে নামতেই মনটা খুব তরতাজা মনে হল। সেখানে আবার চমৎকার নীল আকাশ, মেঘ নীচে নেমে আসছে, নীচ দিয়ে বর্ষার ঘোলা জল বয়ে চলেছে তিস্তায়। গাড়ি থেকে দেখলাম কতকগুলি শেরপা, ছেলেপুলে নিয়ে কি গতিতেই না পাহাড়ে উঠছে তর তর করে। দেখে মনে হল এ অভ্যেস তাদের সহজাত, পিতৃ-মাতৃ অথবা পর-দাদাদের কুল থেকেই পাওয়া।

বিকেলের সূর্য ঢলেছে এক্ষুনি সন্ধে গড়িয়ে রাত নেমে আসবে, দূরে দেখা যাবে পাহাড়ের কোলে সিঁড়ি বেয়ে কারা যেন জ্বালিয়ে রেখেছে সহস্র, ছোটো ছোটো আলোর দীপ। এ যেন এক নৈস্বর্গিক দৃশ্য, যেন স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে উঠেছি আমরা স্বর্গদ্বারে!

গাড়ি থামিয়ে একটু পাশে দাঁড়ালাম। সবদিকে পিচের বাঁধানো রাস্তা, গাছপালা দিয়ে ঢাকা। পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে দুরন্ত ঝরনা, যার কলকল শব্দ মনের মাঝখানটা কেমন যেন নাড়িয়ে দিল। আবার গাড়িতে উঠলাম, মনে হল এ নিয়ে বেশ কয়েকবার হল পাহাড়ি ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। শিলিগুড়ি থেকে এখন প্রচুর গাড়ি পাহাড়ি রাস্তাতে দাপিয়ে বেড়ায়, তাই ভ্রমণ পিপাসুদের সকলেই এখন শিলিগুড়ি থেকেই গাড়ি ধরেন।

আবার মনে পড়ে গেল দার্জিলিংয়ের কথা। পথের বাঁকে দেখেছিলাম ছোটো লাইনে টয়ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে। একজন নেপালি দাজু বলল— একটু প্রবলেম দেখা দিচ্ছিল ট্রেনটার, তাই এখনও এখানে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে। আবার মন-স্টেশনে ধরা দিল আবেগ। চমকে উঠলাম, হাতে অল্প বৃষ্টির জল গড়িয়ে পড়ল! আমরা নীচে নামতে থাকলাম, বৃষ্টির জল টাটা সুমো গাড়িটাকে যেন ধুয়ে দিচ্ছে অঝোরে।

পাহাড়ের ধাপ কেটে কেটে চাষ, কত মানুষের বসবাসের দৃষ্টান্ত। কুয়াশা সরিয়ে এগোচ্ছিলাম দেখি শ’দুয়েক পাহাড়ি কাঞ্চি, পিঠে বড়ো ঝুড়ি নিয়ে চা-পাতা তুলতে যাচ্ছে কঠিন পাহাড়ি ধাপ বেয়ে। চার-পাঁচটি হনুমান চঞ্চল হয়ে এদিক ওদিক লাফ দিচ্ছে খাদ্যের সন্ধানে। যতগুলি বাঁক পেরিয়েছি যেন মনে হয়েছে আনন্দের দ্বার খুলে যাচ্ছে। বর্ষায় পাহাড় অসামান্য রূপসী।

সিকিম, দার্জিলিং বা যে-কোনও পাহাড়ি টুরিস্ট স্পটই হোক— সাহিত্যের পাতায় উপন্যাস, গল্প বা কবিতার সান্নিধ্যে লালিত হয়েছে জায়গাগুলি বারেবারে। সিনেমাগুলিতেও আমরা জায়গাগুলিকে উঠে আসতে দেখেছি শরতে, শীতে বা বর্ষার চঞ্চল ঋতুতে। এ যেন এক স্বপ্নের দেশ, কোনও ভিন দেশের রসসিক্ত কাহিনি, লাল সূর্যের বুকে জেগে ওঠা প্রান্তরের বাস্তবতা, জাগরণের গান, সবুজের চোখ মোছানো ভোরের আলাপ, খেয়ালি সদুত্তর।

(সমাপ্ত)

মেঘমুলুকে কয়েক দিন (পর্ব-০১)

ঋতু বৈচিত্র্য যাকে বাদ দিয়ে নয়, সে দেশ হল আমার দেশ, ভারত। প্রথম ঋতু গ্রীষ্মের পর যার স্থান রয়েছে ক্যালেন্ডারে সে ঋতুই হল বর্ষা। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রৌদ্রজ্বালায় যখন সবাই ক্লান্ত তখন এই ঋতুর সাড়ম্বরে আগমন। বসন্ত নিজস্ব মহিমায় ঋতুরাজ হয়ে উঠলেও বর্ষা তার রূপ, রস, গন্ধ, ছন্দে, নিজের গৌরব ও সৌন্দর্যে পরিচিত করে নিজেকে প্রকৃতির রাণি হিসেবে। এ যেন জীবনের এক উৎসবময় উপাখ্যান।

বর্ষা ঋতুর প্রকৃতি দার্জিলিং জেলায়, এক অপরূপ শোভার সাক্ষী করেছিল আমাকে। চারিদিকে সবুজের বসবাস, পাহাড়ের কোলে ঝরনাদের বসতি বড়োই মায়াবী সেই রূপ। পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে চারিদিকে শুধু বন আর এখন বর্ষার বৃষ্টি চলছে অনবরত। এর পর মিরিকের রাস্তা ধরে বাসে বা ছোটো গাড়িতে মেঘ-মান্দাসের রাজ্যে এসে পৌঁছানো। আপনিও পাহাড়ি বর্ষার রূপ, রস, গন্ধ উপভোগ করতে এখন থেকেই সফরের পরিকল্পনা করে রাখতে পারেন।

পাহাড়ি দুনিয়ায় বৌদ্ধ মন্দিরের ঐশ্বরিক গুরুত্ব মানুষের কাছে শেষ কথা। তবে চারিদিকের পাহাড়ি গোছানো বৃক্ষরাশির ছোঁয়া, লেকের জলক্রীড়া, মেঘেদের যাতায়াত, নয়নাভিরাম রূপের পসরা ও পেখম খোলা প্রকৃতির বিস্তার, যেন শিল্পরসিক মানুষকে বারে বারে অভিভূত করে। অন্যদিকে তাকালে শিলিগুড়ির রাস্তা ছেড়ে সেবকের দিকে এগিয়ে গেলে বর্ষায় তিস্তা ও সবুজ বনের যৌবনদীপ্ত আদলকে সে মুখোমুখি দাঁড় করায়। যেন বিদগ্ধ এই ভূষিত ধরা নববর্ষার সিঞ্চনে সিক্ত হচ্ছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে।

পাহাড়ি পথে এই বর্ষায় কার্শিয়াংকে দেখে মনে হয় প্রকৃতি যেন তার রূপ বদলে ফেলেছে। গাছপালা, তরুলতা সবকিছু যেন গ্রীষ্মের দহন থেকে মুক্তি পেয়েছে, পরিতৃপ্তি পেয়ে যেন স্নান করে উঠেছে। চারিদিকে তাকিয়ে দেখছি যেন বর্ষা প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। কবিগুরু মংপু থেকেও এই বিশেষ ঋতুকে কাছ থেকে উপভোগ করেছেন। বর্ষা আবাহনের এই লাইন দুটি তাই আবার মনে পড়ে— হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ূরের মতো নাচেরে/ আকুল পরান আকাশে চাহিয়া উল্লাসে কারে যাচে রে।

ভরা বর্ষায় যেমন সিকিম, চারিদিকে পাহাড় ঘেরা ছিপছিপে জনপদ, গাছপালার মধ্যে যেন মেঘেদের লুকোচুরি। খিদে পেয়েছে, খেলাম মোমো আর চাটনি, সাথে পান করলাম একটি কোল্ড কফি। চারিদিকে চায়ের চাষ হচ্ছে, ভুট্টার সাজানো গোছানো ক্ষেত। একধারে সারিসারি ভুট্টা ফলে আছে, সাথে আপেলের বন, কী অপূর্ব। গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার এক ধারে, কুয়াশামাখা জঙ্গল। মেঘ-কুয়াশা ঢাকা রাস্তা।

বর্ষার জল পেয়ে জঙ্গল যেন আরও ঘন হয়ে উঠেছে। ফার্ণগাছগুলি মাথা তুলে বলছে আমি সবুজ, চারিদিকে নাম না জানা বুনো ফুল ফুটে আছে। বর্ষার জলে রাস্তাটা ভারি পিছল হয়ে আছে। রাস্তায় অজস্র ছোটো-বড়ো ফুল, বোঝা যাচ্ছে পর্যটন কাল শেষ, এ যে ঘনঘোর বর্ষার ডাক, আর তাই বুঝি আমরা মেঘেদের জেলখানায় আনন্দের সাথে বন্দি। বাইরে তাকিয়ে দেখি আবার টুপটাপ বৃষ্টি এল। চারিদিকে রোডোডেন্ড্রনের গাছগুলি থেকে বৃষ্টির জল চোঁয়াচ্ছে।

স্নায়ুর কোটরে জমা হতে থাকে এই বর্ষাস্নাত সফরের দূর্দান্ত অভিজ্ঞতা। তখন মনে হয় এই রমনীয় বর্ষা ঋতুর কাছে জব্দ হতেই আষাঢ়ষ্য মরশুমে বেরিয়েছি কাজ ছাড়াও। তখন মনে হচ্ছিল যেন বৃষ্টিদিনগুলো খুলে দিয়েছে তার একান্ত জানলা। ওপাশ থেকে যেন ভেসে আসছে বৃষ্টির মাতামাতির শব্দ।

(ক্রমশ…)

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব