Winter special ফেস মাস্ক

শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে উঠে ধরে রাখুন ত্বকের লাবণ্য। উইন্টার ফ্রেশ লুক বজায় রাখতে ব্যবহার করুন Face Mask। এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে পরিবেশ হয়ে ওঠে শুষ্ক যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের উপরে। সুতরাং শীতকালে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে দরকার, ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার।

ত্বকের পরিচর্যায় ফেস মাস্ক-এর চাহিদা দিনে দিনে বাড়ছে। চর্মরোগবিশেষজ্ঞরা ফেস মাস্ক ব্যবহারের উপর জোর দিয়ে থাকেন কারণ এটি ত্বকের জন্য খুবই লাভদায়ক। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করা থেকে আটকে থাকা রোমছিদ্র খুলতেও সাহায্য করে মাস্ক। বাজারে পাওয়া জনপ্রিয় কিছু মাস্কের মধ্যে রয়েছে জেল, শিট, ক্লে ও ক্রিম মাস্ক। এর মধ্যে এনজাইম, Anti-Oxidant ও অন্যান্য সক্রিয় উপাদান থাকে। স্কিন স্পেশালিস্ট-রা সপ্তাহে একদিন ফেস মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফেস মাস্ক ব্যবহার করেই ধরে রাখতে পারবেন ত্বকের গ্লো। আগে আপনাকে জানতে হবে এর মধ্যে কোন ফেস মাস্কটি আপনার জন্য প্রযোজ্য।

চারকোল মাস্ক

এখন ট্রেন্ড চলছে চারকোল Face Mask-এর। এটির বিশেষত্ব হল ত্বকের রোমছিদ্র পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে এটি ব্ল্যাকহেড্স-এর সমস্যাও রোধ করতে সাহায্য করে। চারকোলে থাকা উপাদান ত্বকের উপর জমে থাকা ধুলোময়লা পরিষ্কার করে ত্বককে দূষণমুক্ত রাখার কাজ করে। অ্যাকনের সমস্যা রোধ করতেও চারকোল মাস্ক সাহায্য করে। ত্বকের মৃত কোশ তুলে ফেলে ত্বকের অতিরিক্ত অয়েল উৎপাদন রোধ করে মাস্কটি, ফলে ত্বকের স্বাভাবিক গ্লো ফিরে আসে। ত্বক লাগে পরিষ্কার এবং গ্লোয়িং।

ব্যবহারের নিয়ম: সবথেকে আগে ত্বক পরিষ্কার করে ভালো করে মুখে মাস্ক অ্যাপ্লাই করতে হবে। ১৫ মিনিট মাস্কটি মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে এবং তারপর মুখ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। হালকা হাতে মুখে মাসাজ করে মুখ পরিষ্কার করতে হবে এবং তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেওয়াটা বাঞ্ছনীয়। সঙ্গে সঙ্গে আপনি নিজেই পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

ওটমিল মাস্ক

ত্বক যদি অতিরিক্ত সংবদেনশীল হয় তাহলে ত্বকে যে-কোনও প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে অনেকবার ভাবতে হয়। এর কারণ সংবেদনশীল ত্বকে যে- কোনও প্রোডাক্ট লাগালে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

কিন্তু শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে উঠে শুষ্ক ত্বকে চট্‌লদি গ্লো পেতে হলে ওটমিল মাস্ক খুবই কার্যকরী বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল। এতে আছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান। এগুলি ত্বককে ক্লিন এবং সফ্ট করে তুলতে সহায়তা করে। ত্বকের নিজেকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতাকে বাড়াতেও সাহায্য করে এই মাস্কটি।

ব্যবহারের নিয়ম: ত্বক পরিষ্কার করে তবেই মাস্কটি ত্বকে লাগান। মুখে অন্ততপক্ষে ১৫ মিনিট লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং ত্বকের কোনওরকম ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। সর্বত্র পাওয়া যায় এই মাস্কটি।

পাম্পকিন হানি মাস্ক

চটজলদি গ্লো পেতে ব্যবহার করুন পাম্পকিন হানি মাস্ক। এটি তৎক্ষণাৎ ত্বককে দেয় রিফ্রেশ এবং গ্লোয়িং লুক। মধু, হেলদি সেল্সকে প্রমোট করে ত্বককে ইয়ং বানাবার কাজ করে। পাম্পকিন অয়েলে ভিটামিনস, মিনারেলস এবং ওমেগার উপস্থিতি ড্যামেজ ত্বককে সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে এবং এজিং প্রসেস-কে স্লো করতেও সাহায্য করে।

এটি নিস্তেজ ত্বককে পুনরায় গ্লোয়িং বানাবার সঙ্গে সঙ্গে মসৃণ বানাবারও কাজ করে।

ব্যবহারের নিয়ম: এটি ব্যবহার করা খুবই সোজা। মুখে ভলো করে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।

খেয়াল রাখুন

যখনই নিজের জন্য ফেস মাস্ক কিনবেন তখনই নিজের ত্বকের সম্পর্কে ভালো করে জেনে যান। আলাদা আলাদা ত্বকের জন্য আলাদা আলাদা ফেস মাস্ক তৈরি করা হয়। নিজের ত্বকের ধরন জেনে যদি ফেস মাস্ক কেনেন তাহলে তার ফলাফল লাভদায়ক হবে এবং তাতে ত্বকেরও কোনও ক্ষতি হবে না। মাস্ক কেনার সময় সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে মাস্ক-এ প্যারাবেনস, সুগন্ধি, অ্যালকোহল ডাই ইত্যাদির ব্যবহার না হয়ে থাকে। এগুলি ত্বকের অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এটাও মনে রাখবেন দীর্ঘ সময় ধরে ত্বকে মাস্ক লাগিয়ে রেখে দেবেন না। এতে ত্বকের ক্ষতি হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। ১০-১৫ মিনিটের বেশি ত্বকে মাস্ক লাগিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয় নয়।

 

কেরলের পুভার দ্বীপে (শেষ পর্ব)

খালপথ কোথাও বিস্তৃত, কোথাও বা সঙ্কীর্ণ। মোটামুটি দুটো বোট কোনওরকমে পাশাপাশি যাতায়াত করতে পারে এমনই সঙ্কীর্ণ। কোথাও জলের উপর ঝুঁকে রয়েছে ডালপালা। যেন নদীর জলে মুখ দেখছে সবুজ প্রকৃতি। নিস্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে শুধু একটানা ইঞ্জিনের শব্দ। আধ ডোবা নারকেল গাছের ভিউ অনবদ্য ফটো ফ্রেম তৈরি করে। তবে এই নদীর জলে কুমির বা ডাঙায় বাঘ – কোনওটাই নেই। কেবল দু’ধারে ম্যানগ্রোভের শিকড়গুলো জালের মতো ছড়িয়ে সৃষ্টি করেছে এক মায়াময় পরিবেশ। চলার পথে দেখা পেলাম পানকৌড়ি, বক, রকমারি মাছরাঙা ছাড়াও পেলিকন স্টর্ক, হর্নবিল ও শঙ্খ চিলের মতো কিছু জলজ পাখির।

নৌকো এগোয়। নেইয়ার জলে ঢেউ বাড়ে। নেইয়ার নদী আরও একটু এগিয়ে প্রশস্ত আকার নিয়ে আরব সাগরে পতিত হয়েছে। মিলনরেখায় দেখা যায় হলুদ বালির পাড়। এটাই পুভার দ্বীপ। নদী ও সাগরের সঙ্গমস্থলে জেগে থাকা বড়ো কিছু পাথরের উপর গড়ে উঠেছে একটি স্থাপত্য। মাইকেল এঞ্জেলোর সর্বকালের সেরা ভাস্কর্য “পিয়েতা’র অনুকরণে বানানো হয়েছে এই শিল্প।

মাতা মেরির কোলে শায়িত জিশু। চার্চকে কেন্দ্র করে এই শিল্প ভাস্কর্য নজর কাড়ে। এক সময় বোট ভিড়ল বেলাভূমিতে। যেহেতু কোনও জেটি নেই তাই নামতে হল পায়ের পাতা ভিজিয়ে। জল পেরিয়ে প্রবেশ করলাম পুভার সমুদ্র সৈকতে। এই সৈকতভূমি অনেক বেশি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও চিত্তাকর্ষক। ইচ্ছে হলে এখানে হর্স রাইডও করা যায়।

বিচের অস্থায়ী দোকানগুলিতে বিক্রি হচ্ছে ডাব, তরমুজ, কোল্ডড্রিংস, আইসক্রিম ইত্যাদি। তবে এখানে সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা আছে। সেই সঙ্গমস্থলে দাঁড়িয়ে শুধু দু’চোখ ভরে দেখে নেওয়ার পালা। একদিকে সাগরের উন্মুক্ত নীল জলরাশি, অন্যদিকে নদীর ধীর শান্ত রূপ। মাঝখানে সোনালি বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে আমরা। নদীতীরে সারিবদ্ধ শতশত নারকেল গাছ, ভাসমান রিসর্ট, ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট, সুদৃশ্য জলযান— সবমিলিয়ে এক অবর্ণনীয় রূপ এই গোল্ডেন স্যান্ড বিচের। মনে হচ্ছে ঈশ্বর (প্রকৃতি) নিজ হাতে তৈরি করেছেন এই বিচটিকে। বেশ কিছুটা সময় সৈকতের সৌন্দর্য চেটেপুটে নিয়ে আবার বোটে উঠে পড়ি।

Travel Poovar island

ফেরার পথে বোট চালক নিয়ে এল নেইয়ার নদীর সঙ্গমে। যেখানে সমুদ্রে মিশেছে নেইয়ার নদী। এরপর দেখলাম এলিফ্যান্ট রক। মনে হচ্ছে একটা হাতি সমুদ্রের দিকে মুখ করে বসে আছে। এখানে অনেকগুলো হাউসবোট দেখতে পেলাম। ইচ্ছে করলে রাত্রিবাস করা যায়। ফ্লোটিং রেস্টুরেন্টে কিছু খাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তবে সময়াভাবে সেটা সম্ভব হল না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পাড়ে ফিরে এল বোট। ঘন্টা দু’য়েকের জলভ্রমণ সাঙ্গ হল। রয়ে গেল এক অনন্য স্মৃতি।

পুনরায় গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ছুটে চলে কোভালামের পথে। তখনও চোখে মুখে লেগে পুভারের স্বর্ণালী সৈকতের আভা। তবে খুব ভালো হয় যদি একটা দিন বাড়িয়ে— আজিমালা শিব মন্দির, জটায়ু আর্থ সেন্টার, কোভালাম ইত্যাদি দ্রষ্টব্য দেখে নেওয়া যায়।

কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে ট্রেন অথবা প্লেনে রাজধানী শহর তিরুবনন্তপুরম। সরাসরি ট্রেন না পেলে, চেন্নাই থেকে ট্রেন বদল করুন। স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে পুভার জেটিঘাট।

কোথায় থাকবেন: তিরুবনন্তপুরম থেকে দিনে দিনেই পুভার দেখে নেওয়া যায়। ইচ্ছে হলে পুভারেও থাকতে পারেন। এখানকার বিলাসবহুল রিসর্টে থাকার মজাই কিন্তু আলাদা।

কখন যাবেন: এখানে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় নভেম্বর থেকে মার্চ।

সোহিনী (পর্ব-০২)

সন্ধেবেলা নয়নাদির জ্যাঠামশায়ের বাড়ির হলঘরে বসেছিল অন্তাক্ষরী প্রতিযোগিতার আসর। সেই আসরে সোহিনীর সৌজন্যে ছেলেদের হারিয়ে মেয়েরা জিতেছিল। একদিকে ছিল নয়না, সোনালি আর সোহিনী অন্যদিকে নয়নার অজয়দা, দিব্যেন্দু আর সোহম। শেষগানের অক্ষর ‘ধ’, সোহম গাইতে না পারলেও সোহিনী গেয়েছিল তার প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত — ‘ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা প্রভু তোমার পানে… তোমার পানে’।

সেই গানের কথা তুলে সোহম বলল, “প্লিজ সোহিনী আর একটিবার শোনাবে সেই গান…’

—ওতো পূজা পর্যায়ের গান, আপনার ভালো লেগেছে! হেসে বলে ওঠে সোহিনী। সোহম বলে ওই গানেই আছে পূজার মাঝে প্রেমের স্পর্শ। গাও না সোহিনী প্লিজ।

মিষ্টি হাসে সোহিনী। এমন মধুর আকুলতা নিয়ে কেউ কখনও তাকে গাইতে বলেনি। গান গাইতে শুরু করলে সোহম মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। তারপর ধীরে ধীরে সোহিনীর ডানহাতটা নিজের দু’-হাতের মুঠোয় ভরে নেয়। এবার তাকে প্রশ্রয়ই দেয় সোহিনী।

পর দিন সকালে কলেজে ক্লাস করে বাড়ি গিয়েছিল সোহম, তার ঠিক পরের দিনই আবার ফিরে আসে। দু’দিন পরে হাটতলার বান্টি সিনেমা হলে শুরু হল সোহিনীর প্রিয় নায়ক শাহরুখ খানের অভিনীত ছবি। সকলে মিলে দেখতে গেল তারা। পাশাপাশি বসেছিল সোহিনী আর সোহম। আলো-আঁধারের মাঝে তার মুখখানি কাছে টেনে নিয়ে সোহম বলেছিল ‘আমি তোমায় পাগলের মতো ভালোবাসি সোহিনী। ‘

দৃশ্যটা অজয়ের চোখে পড়েছিল। বাড়ি ফিরে কাছে ডেকে সে সোহিনীকে বলেছিল, ‘কী করছিস সোহিনী! তোরা যে এস জি হোল স্কয়ার হয়ে গেলি রে!”

—তার মানে! কপট বিস্ময়ে তার দিকে চায় সোহিনী।

বুঝতে পারছিস না, না বুঝতে চাইছিস না। ঠিক করে বল তো! সোহম ঘোষের নাকে নাক ঘষে তুইও তো সোহিনী ঘোষ হতে চললি রে! তাহলে এস জি ইনটু এস জি ইজ ইকুয়াল টু এস জি হোল স্কোয়ার হল নাকি! অজয় বলে ওঠে।

সোহিনী হেসে বলে, “আপনিও তো আমার দিদির সঙ্গে বেশ লেপটে রয়েছেন। সোনালি-অজয় মন্দ তো নয়। আমাদের দু’জনের উদ্দেশ্যই তো এক, তাই নয় কি!”

অজয় মজার ছলে চড় বাগিয়ে এগিয়ে আসে। তাই দেখে সোহিনী তার মাসির বাড়ির গেট ঠেলে ঢুকে পড়ে।

॥২॥

দেখতে দেখতে দশ-দশটা দিন যে কীভাবে পার হয়ে গেল তারা কেউই বুঝতে পারেনি। সেদিন সোহিনীদের বাড়ি ফেরার পালা। মুখ কাঁচুমাচু করে বাসস্টপেজে দাঁড়িয়েছিল নয়না। হঠাৎ একটা লাল রঙের মোটরবাইক এসে ওদের তিনজনের ঠিক সামনেই ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে দাঁড়াল। সকলে দেখল আরোহী আসলে সোহম।

নয়না বলে উঠল, “আরে সোহম যে! তুই আবার বাইক কিনলি কবে?”

—এই তো আজ-ই। আগেই বুক করা ছিল। এইমাত্র চাঁপাডালির মোড়ে গিয়ে ডেলিভারি নিলাম।

—বাহ ভালোই হল! দূরে কোথাও যেতে হলে তোর মোটরবাইক তো রইল, কি বল!

—খুব মজা! তাই না!

—সেকি রে! আমায় চাপাবি না! তাহলে কিনলি কার জন্য !

—কেন? তোমার বোন সোহিনীর জন্য!

—বলিস কী রে! তুই আমার মেসোকে তো চিনিস না!

—তোমার মেসো কী জয়চাঁদের চেয়েও ভয়ংকর ?

—জয়চাঁদ! সে আবার কে রে?

(ক্রমশ…)

নতুন বছরে Cake দিয়ে হোক সৌহার্দ্য বিনিময়

ইংরেজি নতুন বছর ২০২৪ শুরু হল। নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন লক্ষ্য। সুখ, সমৃদ্ধি ভালোবাসা নিয়ে যেখানে বছর শুরু হল সেখানে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনটাই বা বাদ পড়ে কেন! নতুন বছর সকলেই উদযাপন করে আনন্দময় কিছু অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। খাদ্যরসিকদের কাছে জমিয়ে খাওয়ার সঙ্গে মিষ্টিমুখ না হলেই হয় না। আর ইংরেজি বছরের যেহেতু শুভারম্ভ তাই কেক দিয়ে বছরের শুরুটা করাই যেতে পারে। তাই দুটি কেকের রেসিপি দিয়ে আজকের এই মিষ্টিমুখের আয়োজন।

কফি গ্লেজ Cake

উপকরণ : ২ ছোটো চামচ কফি পাউডার, ১ কাপ ক্রিম, ১/২ কাপ চিনি, ১ কাপ জল, স্ট্রবেরি সাজানোর জন্য।

চকোলেট স্পঞ্জ কেকের জন্য : ১০০ গ্রাম ময়দা, ৩০ গ্রাম মাখন, ৩টি ডিম, ৯০ গ্রাম ক্যাস্টর সুগার, ১ ছোটো চামচ বেকিং পাউডার, ৫০ গ্রাম চকোলেট।

প্রণালী : ময়দা ও বেকিং পাউডার একসঙ্গে মেশান। ডিম ভেঙে, মাখন ও ক্যাস্টর সুগার দিয়ে ফেটাতে থাকুন। এবার ময়দা দিয়ে ভালো ভাবে মেশান এবং চকোলেট গলিয়ে ঢেলে দিন। একটি বেকিং ট্রে-তে মাখন লাগিয়ে মিশ্রণ ঢেলে দিন এবং ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড-এ ১৫ মিনিট বেক করুন।

চকোলেট স্পঞ্জ কেক ঠান্ডা হয়ে গেলে, ৩টি লেয়ারে কাটুন। একটি বোল-এ ১ ছোটো চামচ কফি পাউডার, চিনি ও জল দিয়ে কফি সিরাপ তৈরি করুন। অন্য একটি বোল-এ বাকি কফি পাউডার ও ক্রিম ঢেলে একটি মিশ্রণ বানান।

এবার স্পঞ্জ কেকের এক-একটি লেয়ারের উপর কফি সিরাপ লাগান ও ক্রিমের মিশ্রণ বুলিয়ে দিন। পরপর লেয়ারগুলি সাজিয়ে উপরে ক্রিমটা ভালো ভাবে চারিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিট ফ্রিজে রেখে, উপরে স্ট্রবেরি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

ওয়ালনাট Cake

উপকরণ : ১ কাপ ময়দা, ২টি ডিম, ২ ছোটো চামচ কোকো পাউডার, ৩/৪ কাপ মাখন, ৩/৪ কাপ গুঁড়ো চিনি, ১ বড়ো চামচ বেকিং পাউডার, ১/৪ কাপ ক্রিম, ১/৩ কাপ আখরোটকুচি।

প্রণালী : আভেন ১৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেট করে রাখুন। এবার প্যানে মাখন বুলিয়ে রাখুন। ময়দা ছেঁকে নিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। এতে কোকো পাউডার, বেকিং পাউডার মিশিয়ে দিন। একটি আলাদা পাত্রে ক্রিমটা রেখে অল্প কোকো পাউডার দিয়ে ফেটিয়ে রাখুন। একটি বোল-এ ডিম, মাখন চিনি দিয়ে ফেটাতে থাকুন। এবার এই ফেটানো ডিমে ময়দার মিশ্রণ দিন ও ভালো ভাবে মেশাতে থাকুন। আখরোটকুচি ছড়িয়ে ভালো ভাবে মেশান। মাখন লাগানো প্যান-এ এই মিশ্রণ ঢেলে ৩৫ মিনিট বেক করুন। ঠান্ডা হলে ফেটানো ক্রিম দিয়ে আইসিং করে দিন। আখরোটকুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। ইচ্ছে করলে অন্য ড্রাই ফ্রুট্‌স-ও দিতে পারেন কেকের মিশ্রণে।

 

বাচ্চাদের করে তুলুন আত্মনির্ভর

ভিজে মাটিকে যেমন ইচ্ছেমতো আকারে গড়ে নেওয়া যায়, শিশুদের মন হল তেমনই। তাই সঠিক শিক্ষা দিয়ে ওদের জীবনটা আপনি সুন্দর করে গড়ে দিতে পারেন। ভালো অভ্যাস ওদের সাহায্য করবে সুনাগরিক হিসাবে বেড়ে উঠতে। এতে ব্যক্তিগত সুবিধা যেমন হবে, তেমনই সমাজের প্রতি তার একটা দায়বদ্ধতাও তৈরি হবে।

আজকের প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার। এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে শিশু ছোটো থাকা অবস্থাতেই। সে যে-অভ্যাস নিয়ে বেড়ে উঠবে, তার প্রতিফলন পড়বে তার ভবিষ্যৎ জীবনে। ফলে এই শিক্ষা যতটা সঠিক হয়, ততটাই মঙ্গলজনক। জীবনটা যে আগাগোড়াই মসৃণ হবে তা নয়, অনেক সংঘর্ষও করতে হবে জীবনপথে চলতে গিয়ে। আপনার সন্তানকে এই মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত করান। তার গুণগুলো ছোটো থেকেই বিকশিত হতে দিন, যাতে এর প্রতিফলন সে তার আগামী দিনগুলোয় উপলব্ধি করতে পারে।

আত্মনির্ভরতার বোধ শৈশব থেকেই গড়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই পরিবারের মধ্যে এমন পরিবেশ বজায় রাখুন যেখানে, বাচ্চা নিরাপত্তা বোধের পাশাপাশি আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার ইন্ধন পায়। বাচ্চাদের যে-কোনও কাজে উৎসাহ দিন, কিছু শেখার সুযোগ করে দিন, এমন একটা পথ তাকে দেখান যে-পথে চললে সে সাফল্য পাবে। এতে তার মধ্যে একটা আত্মসম্মান গড়ে উঠবে। সে নিজের কোন বিষয়ে তার দক্ষতা, সেটাও চিহ্নিত করতে পারবে।

আত্মনির্ভরতার প্রথম ধাপ হল, নিজের প্রতি বিশ্বাস অটুট রাখা। অর্থাৎ কোনও কাজ সে সফল ভাবে যাতে করতে পারে, তাকে সেই সাপোর্ট দেওয়া দরকার। ছোটো ছোটো সাফল্য তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস এনে দেবে। এর ফলে তার ব্যবহার ও ব্যক্তিত্বেও একটা বদল আসবে। তার মধ্যে দায়িত্বশীলতা তৈরি হবে। আত্মসম্মানবোধ তৈরি হবে।

তবে আত্মনির্ভরতার পথে যে শুধু সাফল্যই আসবে এমন নয়। তাকে এমন ভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করুন, যাতে সফল না হলেও সে যেন ভেঙে না পড়ে। নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের পরিণাম ভালো বা মন্দ যেটাই হোক— সেটাকে হ্যান্ডেল করতে শিখতে হবে। মুশকিল আসান করার মানসিকতা থাকতে হবে। হেরে যাওয়া বা হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয়।

অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চারা অতরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়। পরাজয় সে সহজে মেনে নিতে পারে না। তার শরীরের উপর এর ফলে প্রবল চাপ পড়ে। এমনকী মানসিক ভাবেও সে বিপর্যস্ত হতে পারে। আপনার সন্তানকে শুরু থেকে জীবনের ভালো এবং মন্দ দুটি পরিণাম সম্পর্কেই সচেতন করুন। যাতে সে হেরে যাওয়াটাকে লজ্জাজনক বলে ভেবে নিয়ে, কোনও ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়। আপনি তাকে এটুকু বিশ্বাস জোগান যে, ভালোমন্দ সবেতেই আপনি তার পাশে আছেন।

সাফল্য ও ব্যর্থতা

অনেক সময় ছোটোরা সহজে সাফল্য পেতে অসাধু উপায় অবলম্বন করে। বন্ধুদের সঙ্গে মারপিট করে নিজের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোতে চায়। আপনার সজাগ দৃষ্টি রাখুন সন্তানের উপর। যাতে সে এরকম ভুল পদক্ষেপ না করে। তার আচার ব্যবহারের প্রতি সজাগ থাকুন। তার কাজকর্মের ভুল ত্রুটি শুধরে দেওয়া আপনারই কর্তব্য।

আপনিই আপনার সন্তানের রোল মডেল। আপনি সন্তানের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করবেন, মনে রাখবেন সেই ব্যবহারই আপনার কাছেও ফিরে আসবে। তাই অযথা ওদের সঙ্গে কথায় কথায় কলহে জড়াবেন না। আপনি আপনার মিষ্টি ব্যবহার দিয়ে ওর মন জয় করতে পারবেন। হয়ে উঠতে পারবেন ওর বিশ্বস্ত জন। আপনার সাফল্যের পথ ওকে অনুসরণ করতে দিন। ধীরে ধীরে আপনাকে আইকন মনে করেই ও বেড়ে উঠবে। তবে খেয়াল রাখবেন সন্তান যেন ওভার কনফিডেন্ট না হয়ে ওঠে। এতে কিন্তু ওর লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি।

আত্মবিশ্বাস যেন অহংকার না হয়ে দাঁড়ায়

আত্মবিশ্বাস অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। কিন্তু আপনি সন্তানের সাফল্যে এত বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে যাবেন না, যাতে সে অহংকারী হয়ে ওঠে। তার প্রশংসা করুন কিন্তু অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেবেন না, যাতে সে দাম্ভিক হয়ে ওঠে। সাফল্যে তারিফ যেমন করবেন, অসাফল্যে আবার বেশি বকাবকি করে ফেলবেন না। এতে তার কনফিডেন্স তলানিতে এসে ঠেকবে।

একটা ব্যালেন্স রাখুন আদর ও শাসনে। সন্তানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দিন। কিন্তু এমন যেন না হয়ে যায় যে, সে আপনার কোনও পরামর্শকেই গুরুত্ব দিতে চাইবে না। তাকে পরিশ্রমে উৎসাহ দিন ও ব্যর্থ হলে পুনরায় চেষ্টা করার শিক্ষায় গড়ে তুলুন। তাকে বোঝান যে পরিশ্রম করলেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তাতে হার না মেনে, নতুন করে চেষ্টা করা উচিত।

উদাহরণ দিয়ে সন্তানকে বোঝান

মা-বাবাই হল সন্তানের সবচেয়ে বড়ো শক্তি। এটা আপনার সন্তানকে ছোটো থেকে অনুভব করতে দিন। পরিবারে শাস্তি থাকলে সন্তানের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা কম হবে। মা-বাবার আচার ব্যবহার বাচ্চারা অনুকরণ করে। আপনারা নিজেরাই তার কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুন যাতে, সে আপনাদের দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারে। আপনাদের জীবনের নানা ঘটনা তার সাথে শেয়ার করুন। যাতে সে এগুলিকে একেকটা উদাহরণ হিসাবে দেখে। কোন পরিস্থিতিতে পড়লে, কী করতে হবে তার একটা ধারণা তৈরি করাও তার পক্ষে সহজ হবে।

অনেক মা-বাবাই শাসন করে বাচ্চাকে তাদের দেখানো পথে চলতে বাধ্য করেন। এতে প্রাথমিক ভাবে আপনি কিছুটা ফল পেলেও, একটা পর্যায়ে গিয়ে সন্তান বশ্যতা মেনে নিতে চাইবে না। এতে ফল হবে বিপরীত। ছোটো ছোটো ব্যাপারে মারধর করে সন্তানকে জেদি করে তুলবে না বরং তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন। আপনি তার জায়গায় থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন, এভাবে তাকে বোঝান।

অনেক সময় দেখা যায়, আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল বাচ্চারা, মা-বাবার ভুল আচরণের ফলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত চাপ পরিবারের তরফে যদি তার উপর থাকে, সে সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হয়। তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথেও বাধা তৈরি হয়। সারা জীবন তাকে এই ব্যবহারের মাশুল দিতে হতে পারে। তাই অতিরিক্ত নিজের ইচ্ছে সন্তানের উপর চাপিয়ে দেবেন না। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ওকে গ্রহণ করতে দিন ও আপনি ওকে সমর্থক করুন।

স্বাধীনতা দিন

ছোটোরাও স্বাধীনতা চায়। ওদের নিয়মের বেড়াজালে বাঁধার আগে, মনে করুন আপনার শৈশবে আপনি স্বাধীনতার অভাবে কী কী খুইয়েছেন। ওদের সঙ্গে একই আচরণ করবেন না। একটা অনুশাসন অবশ্যই রাখুন, পারিবারিক শৃঙ্খলাবোধের সঙ্গে ওকে আগে অভ্যস্ত করুন। তারপর দেখবেন সে স্বাধীনতার অপব্যবহার করবে না। উচিত-অনুচিত এটা ছোটো থেকেই শিশুদের মধ্যে গড়ে দিতে হবে। তাহলেই কথায় কথায় আপনি তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বেন না। কোনটা করা উচিত আর কোনটা নয় এটা সে বুঝে ফেলবে।

তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হচ্ছে এটা বুঝলে বাচ্চারা আরও জেদি হয়ে যায়। তাই তাকে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলির পরিণতির ব্যাপারে ওয়াকিবহাল করুন। এর ফলে সে স্বাধীন ভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার আত্মবিশ্বাস পাবে।

জীবনে আমরা আমাদের ভুলগুলো থেকেই শিক্ষা নিই। তাই দু-একটা ভুল যদি সে করেই ফেলে, তাকে তার জন্য অতিরিক্ত শাস্তি দেবেন না। সে যাতে এটাকে একটা দৃষ্টান্ত হিসাবে মনে রাখে, সেটাই তাকে বুঝতে সাহায্য করুন।

দায়িত্ববোধ তৈরি করুন

ছোটো থেকেই সন্তানকে ছোটো ছোটো কাজের দায়িত্ব দিন। যেমন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় গ্যাস বন্ধ করা। জানলা দরজা বন্ধ করা, তালা দেওয়া প্রভৃতি। এর ফলে তার দায়িত্ববোধ যেমন তৈরি হবে, তেমন সে নিজেকে সংসারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসাবেও ভাববে। প্রতিটি মানুষ গুরুত্ব পেতে পছন্দ করে। তাই তার ছোটো ছোটো সিদ্ধান্তকে আপনারা পূর্ণ সমর্থন দিন। এর ফলে সে সেই দায়িত্বের পরিণাম সম্পর্কেও সচেতন হবে।

রোগে অসুখে তাকে ডাক্তার ডেকে আনা বা ওষুধ খাওয়ানো প্রভৃতি কাজে অভ্যস্ত করান। বৃদ্ধ বয়সে যাতে সে মা- বাবাকে দেখে, সেই মানসিকতা এর থেকে তৈরি হবে। ছোটো ভাইবোন থাকলে তাকে সামলানো বা স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, হোমওয়ার্ক করতে সাহায্য করা ইত্যাদি কাজে নিয়োগ করুন। এতেও তার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে, একই সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হবে। বাড়িতে দাদু-ঠাকুমার দেখাশোনা করাও যে তার দায়িত্বের অঙ্গ, সেটাও তাকে বুঝতে দিন।

উইন্টার ফ্রেশ লুক-এর জন্য ২-টি ফেস মাস্ক

আমাদের দেশ গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। তাই শীতকালীন আবহাওয়ায় মানুষ নিতে পারে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস। শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর মন হয়ে ওঠে চনমনে।

অথচ এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে পরিবেশ হয়ে ওঠে শুষ্ক যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানব শরীরে, বিশেষত ত্বকের উপরে। সুতরাং শীতকালে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে দরকার, ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার।

তবে ত্বকের ফ্রেশ লুক ধরে রাখতে পার্লার যাওয়ার প্রয়োজন কিন্তু সবসময় পড়ে না। বাড়িতে থেকেই সব কাজকর্ম করেও ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখা সম্ভব। এর জন্য বিশেষ অর্থব্যয়েরও কোনও প্রয়োজন পড়বে না। এগুলি ব্যবহার করেই ধরে রাখতে পারবেন ত্বকের গ্লো। আগে আপনাকে জানতে হবে এর মধ্যে কোন ফেস মাস্কটি আপনার জন্য প্রযোজ্য।

হানি পোশান রিনিউয়িং Face Mask

যাদের ত্বক শুষ্ক, ড্রাই তাদের জেনে রাখা ভালো এই ফেস মাস্কটি তাদের ত্বকে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে। এতে থাকে হাইড্রেশন প্রপার্টিজ। মধু মিশ্রিত এই মাস্কটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-এ ভরপুর। ফলে এটি লাগাবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বক হয়ে উঠবে সফ্‌ট।

এছাড়াও মাস্কটিতে ভিটামিন বি থাকার ফলে মুহূর্তেই ত্বকে এনে দেয় ইনস্ট্যান্ট গ্লো। সুতরাং হাইড্রেটেড, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফেস মাস্কটি ব্যবহার করে পেতে পারবেন গ্লোয়িং কমপ্লেকশন। এটাও জেনে রাখা বাঞ্ছনীয় যে, মাস্কটি সম্পূর্ণ ভাবে ক্রুয়েলটি ফ্রি।

ব্যবহারের নিয়ম: মাস্কটি ত্বকে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা করে সারা মুখে মাসাজ করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের গ্লো ফিরে পাবেন। শীতকালে যে-কোনও অনুষ্ঠান বা পার্টিতে যাওয়ার আগে মাস্কটি অনায়াসেই লাগিয়ে ফেলতে পারবেন এবং মুহূর্তেই পাবেন প্রতিক্ষীত ফলাফল। সবথেকে সুবিধাজনক হল, অনলাইন বা অফলাইনে নিজের সুবিধামতো সর্বত্রই এটি পেয়ে যাবেন।

গ্রেপফ্রুট হাইড্রোজেল মাস্ক

কারও ত্বকে যদি অ্যাকনে বা ব্রণর সমস্যা থেকে থাকে এবং কোনও প্রোডাক্ট ত্বকে ব্যবহার করতে আপনার দ্বিধা থেকে থাকে তাহলে এক কথায় বলা চলে গ্রেপফুট হাইড্রোজেল Face Mask-টি নির্দ্বিধায় আপনি ব্যবহার করতে পারেন। ব্রণ এবং অ্যাকনের সমস্যা যাদের আছে তাদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই মাস্কটি বাজারে আনা হয়েছে। মাস্কটিতে রয়েছে আঙুর বীজের এক্সট্র্যাক্ট, যা কিনা ত্বককে রিফ্রেশ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে থাকা ভিটামিন সি-এর গুণাগুণ ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি অ্যাকনে ব্রণ রোধ করতেও সহায়তা করে। ব্রণর কারণে হওয়া ত্বকের দাগও হালকা করতে সাহায্য করে গ্রেপফ্রুট মাস্কটি। বাড়িতে বসেই মাস্কটি ব্যবহার করে আপনি পেতে পারবেন পার্লারের মতো এফেক্ট।

ব্যবহারের নিয়ম: এটির ধরন পিল অফ মাস্ক। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রেখে তারপর পিল অফ করার প্রয়োজন। এটি লাগানো খুবই সহজ এবং এর দামও বাজেট ফ্রেন্ডলি। সকলেরই এটি আয়ত্তের মধ্যে।

সোহিনী (পর্ব-০১)

রাসপূর্ণিমার রাত। কুয়াশার পাতলা আস্তরণ ভেদ করে নেমে আসছে কিঞ্চিৎ ম্লান জ্যোৎস্না, জানলার ফাঁক বেয়ে চুঁইয়ে ঢুকছে ঘরের মধ্যে। সেই ফাঁক বেয়ে সোহিনী তাকাল পাশের দোতলা বাড়ির চিলেকোঠার দোচালা ছাদের দিকে। সেটি তখন ভেসে যাচ্ছে জ্যোৎস্নার স্নিগ্ধধারায়।

তিন বছরের ছোটো মেয়ে শ্রেয়াকে ততক্ষণে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিল সোহিনী। বড়ো ছেলে সিঞ্চন তখন পাশের ঘরে তার বাবার কাছে বসে অঙ্ক কষছিল। বছর দশ বয়স হল সিঞ্চনের, সামনেই ক্লাস ফাইভের ফাইনাল পরীক্ষা। এদিকে সোহিনী-সৌরাশিস-এর বিয়ের বারো বছর পূর্ণ হতে আর মাত্র দু’মাস বাকি। সোহিনীর দিদি সোনালি ইতিমধ্যেই ক্যান্ডেল-লাইট ডিনারের দাবি পেশ করেছে সৌরাশিসের কাছে।

জ্যোৎস্নার মাধুর্য সোহিনীর মনে একের পর এক নস্টালজিয়ার ঢেউ তুলতে শুরু করেছিল। স্মৃতির সরণি বেয়ে সে তখন বারো বছর আগের এমনই এক রাসপুর্ণিমার আনন্দময় রাতে পৌঁছে গিয়েছিল তার মাসির বাড়ির জ্যোৎস্নাপ্লাবিত ছাদে। সেই প্রথম সোহিনী তার জীবনে প্রেমের উষ্ণ স্পর্শ অনুভব করেছিল।

সোহিনীর মাসতুতো দিদি নয়না আর তার নিজের দিদি সোনালি পালা করে নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছিল, অন্যদিকে সোফায় চাদরমুড়ি দিয়ে শুয়েও তার ঘুম আসছিল না। দিব্যেন্দুদার বন্ধু সোহম দারুণ তেজোদ্দীপ্ত পুরুষালি কণ্ঠের অধিকারি। তার মনের পর্দায় বার বার ভেসে উঠছিল সেই মুখ অথচ ওদের নাক ডাকার দমকে বার বার তা হারিয়েও যাচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়ে হালকা চাদরে শরীর ঢেকে সোহিনী উঠে চলে গেল ছাদে।

পাশাপাশি দুটো ছাদ মাঝখানে ফুট তিনেকের ব্যারিয়ার। এপাশে নয়নাদিদের মানে তার মাসির বাড়ির ছাদ, ওপাশে নয়নাদির জ্যাঠামশায়ের বাড়ির ছাদ। দিব্যেন্দুদা আর অজয়দা তাঁরই দুই ছেলে। দুই ছাদেই তখন জ্যোৎস্নার প্লাবন। মফস্সল এলাকা। গাছপালা পুকুরে ভরা। ছাদ থেকেই দেখা যায় দু’-দুটো পুকুর, স্বচ্ছ কাচের মতো জল— জ্যোৎস্নায় ঝকঝক করছে। দুই পুকুরের মাঝখান দিয়ে পায়ে চলার মেঠো পথ বিস্তৃত হয়ে দূরের বাস রাস্তায় গিয়ে মিশেছে। ল্যাম্পপোস্টের টিমটিমে আলো পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় ম্লান লাগছিল। হঠাৎ দিব্যেন্দুদাদের ছাদে একটি ছায়ামূর্তি দেখে ভয় পেয়ে গেল সোহিনী। গ্রাম-গঞ্জে রাতে নাকি ভূত দেখা যায় বলে শুনেছে সে, এও কি সেইরকম কিছু নাকি! মূর্তিটা ব্যারিয়ার পর্যন্ত এগোতেই চিনতে পারল সোহিনী। আরে এ তো দিব্যেন্দুদার বন্ধু সেই সোহম, যার কথা মনে মনে ভাবছিল সে!

সোহম এগিয়ে এসে বলল, ‘রাত হয়ে গেল বলে মাসিমা মানে দিব্যেন্দুর মা রাতে থেকে যেতে বললেন তাই… কিন্তু যার কথা ভেবে আমার ঘুম আসছিল না তাকে যে এভাবে পেয়ে যাব, তা তো ভাবতেই পারছি না!”

সোহিনী অমনি কৌতুকভরে বলে উঠল— জানেন তো কবি বলেছেন ‘যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না…’ গভীর আশ্লেষে প্রাচীরের ওপার থেকে সোহিনীর হাতদুটো চেপে ধরে সোহম বলে ওঠে, ‘তোমার গান আমার মন-প্রাণ ভরিয়ে দিয়েছে সোহিনী।’

আলতো চাপে নিজের হাত মুক্ত করে সোহিনী বলে, ‘কিন্তু উচিত-অনুচিতের সীমানাটুকু মানা উচিত।’

(ক্রমশ…)

প্রতিযোগিতার চাপ ও আত্মহনন

আজকাল সন্তানদের বড়ো করে তুলতে শুধু পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়— প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ অর্থেরও। একসময় পরিবারগুলিতে বাচ্চার সংখ্যা একাধিক হতো। কিন্তু এত ভোগবিলাসের আয়োজন ছিল না বলে, তাদের বড়ো করে তোলাটা তত ব্যয়বহুল ছিল না। ভাইবোনেদের থাকা খাওয়ার চিন্তা ছিল না ঠিকই কিন্তু জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তারা নিজেদেরই পরস্পরের সাহায্য নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠত। এখন মা-বাবারা সন্তানের জন্মের আগে থেকেই পরিকল্পনামাফিক পদক্ষেপ করেন। ভারতে এখনও নানা জায়গায় মা-বাবারা আইনি চোখ রাঙানি সত্ত্বেও লিঙ্গ নির্ধারণ করে সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন।

এই পরিকল্পনা শুধু জন্ম দেওয়া পর্যন্তই ব্যপ্ত নয়, সন্তান জীবনে কী হবে, কীভাবে তার লক্ষ্যে এগোবে— তা সবই পূর্ব পরিকল্পনার ফলশ্রুতি। সন্তানের কাছে মা-বাবার চাহিদা অনেক। ভবিষ্যতে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায় যাতে, তাই তারা ‘ইনভেস্ট’ করতেও পিছপা নন। এই প্রত্যাশার চাপ কিন্তু সন্তান ও অভিভাবক দু’পক্ষেরই সমান।

এই কারণেই এত আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে বা ভালো ফল হবে না এই আশঙ্কাতেও বহু ছেলেমেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। মা-বাবার স্বপ্ন সাকার করতে পারবে না এই হতাশায় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহন। আগে মা-বাবারা সন্তানকে মেধাবী করে তোলার প্রতিযোগিতায় এমন নেমে পড়তেন না। পঠনপাঠন শেষ করে দীর্ঘদিন বেকার হয়ে থাকা সন্তানকে কায়ক্লেশহীন ভাবে মেনেও নেওয়া হতো বহু পরিবারে।

আজকাল তো মনোবিদরা অনেকেই চেষ্টা করছেন মা-বাবাকে বোঝাতে, যাতে সন্তানের উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তারা সৃষ্টি না করেন নিজেদের স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা নিয়ে। নতুন প্রজন্ম যাতে তার ইচ্ছেমতো বাঁচার পথ খুঁজতে পারে সেই স্বাধীনতা দেওয়া হোক তাদের— এই বার্তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল থ্রি ইডিয়টস ছবিটি। এমবিএ শেষ করে একটা মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়াই জীবনের লক্ষ্য নয়, পৃথিবীতে আরও অনেক কিছুই করা যেতে পারে— এই ভাবনা অভিভাবকদের মননে কবে আসবে জানা নেই।

মা-বাবারা মনে করেন সন্তানকে মোটা অঙ্কের ফিজ দিয়ে নামজাদা স্কুলে পড়ানোর উদ্দেশ্যই হল তার একটি সুনির্দিষ্ট কেরিয়ার তৈরি করে দেওয়া। এরপর আছে এক্সট্রা-টিউটোরিয়াল, সিলেবাসের বাইরের নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করানোর চাপ।

মা-বাবাদের পুরোপুরি দোষও দেওয়া যায় না। সন্তান জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক বিপুল প্রতিযোগিতার বোঝা ঠেলে তা অভিভাবক মাত্রেই চান। শুধু ভাগ্যগুণে এই সাফল্য আসে না। এর মধ্যে বিপুল পরিশ্রমও জড়িয়ে থাকে। মা-বাবাদের দোষ আরও একটি কারণে দেওয়া যাবে না, তা হল বর্তমান সময়ে কারিগরি উন্নতির ফলে সন্তানরা মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপে আসক্ত। দোষ কারিগরির উন্নতিকেও দেওয়া উচিত যা ছেলেটিকে পরিশ্রম বিমুখ করে তুলছে। দোষ স্কুলের সংগঠকদেরও দেওয়া উচিত যাদের অর্থলোভের কারণে টিউটোরিয়ালগুলো রমরমিয়ে চলছে। এই যুগে যে-একনিষ্ঠতা এবং পরিশ্রম সাফল্য এনে দেয়, সেই একাগ্রতা দিয়ে বহু ছেলেমেয়েই পড়াশোনা করে না, ফলে ব্যর্থতা আসছে। যা মেনে নিতে না পেরে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে।

সন্তানদের ভাবা উচিত মা-বাবার প্রত্যাশা বা স্বপ্ন দেখায় অন্যায় নেই। অন্যায় হচ্ছে নিজেকে ও তাদের ঠকানো। বিনা পরিশ্রমে সাফল্য আসে না। পরিশ্রম না করে পরীক্ষায় বা কেরিয়ারে অকৃতকার্য হয়ে অত্মহননে সমস্যা বাড়ে বই কমে না।

ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার সময় ভুলভ্রান্তি (শেষ পর্ব)

যে-কোনও মরশুমেই ত্বক ময়েশ্চারাইজ করাটা একান্ত জরুরি যাতে ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ত্বককে বেশি হাইড্রেট করার চাহিদায়, Skin-কে ওভার ময়েশ্চরাইজ করা শুরু করি। এর ফলে ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চার তৈরির কাজ ব্যাহত হয়।

ত্বক দরকারের বেশি ময়েশ্চারাইজ করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে –

প্যাচি স্কিন

ত্বক নরম এবং মোলায়েম রাখতে সকলেই চান। কিন্তু না জেনে এমন কিছু ভুল আমরা করি, যার কারণে ত্বকে ডেড স্কিন সেলস জমা হয় আর ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে। ত্বকে হাত দিলেই রুক্ষতা প্রকাশ পায় এবং এতে সৌন্দর্যও স্বভাবিক ভাবে ব্যাহত হয়। ত্বকে বেশি করে ময়েশ্চারাইজার লাগানোও এর আর একটা কারণ। এতে স্কিন রিনিউয়াল প্রসেস স্লো হয়ে যায় যার ফলে ত্বক অকাল বার্ধক্যের শিকার হয়। ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি বাড়তে থাকে যেটা সময়মতো কন্ট্রোল করা একান্ত প্রয়োজন।

ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে

মেক-আপের থেকে মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের আকর্ষণ অনেক বেশি। তাই Skin-এ প্রয়োজনের বেশি ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক ভিতর থেকে শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য কমতে থাকে।

ত্বক এই অবস্থায় মেক-আপ উপকরণ ঠিকমতো অ্যাবজর্ব করতে পারে না এবং ত্বক প্যাচি দেখতে লাগে। ত্বকের ন্যাচারাল বিউটি বজায় রাখতে ভালো কোয়ালিটির এবং অল্প পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার লাগাবার প্রয়োজন পড়ে। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও প্রকাশ পেতে পারে।

চিটচিটে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার নয়

ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার অর্থ ত্বকে গ্রিজি, স্টিকি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা নয়। এই ধরনের প্রোডাক্ট ত্বক সহজে অ্যাবজর্ব করতে পারে না ফলে ত্বকের উপরের পরতে এটি জমা হতে থাকে। পোরস বন্ধ হয়ে যায় এবং চিটচিটে ত্বকে ধুলোময়লা খুব সহজে জমা হয়। এতে ত্বকে অ্যাকনে, র‍্যাশ, অ্যালার্জি ইত্যাদির সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং ময়েশ্চারাইজার বাছার সময় ত্বকের ধরন অনুযায়ী কেনা বাঞ্ছনীয় এবং এটাও দেখা দরকার যে, প্রোডাক্টটিতে এমন কোনও উপাদান যেন না থাকে, যা Skin-কে ইরিটেট করতে পারে। দিনের বেলা হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগান এবং রাত্রে জেলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এছাড়াও বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত সিরাম ব্যবহার করুন সারাদিনে অন্তত তিন-চারবার।

সব ধরনের ত্বকের জন্য বেস্ট ময়েশ্চারাইজার

দ্য বডি শপ ‘ই’ ময়েশ্চারাইজার-এর নন-স্টিকি ফর্মুলা আর ভিটামিন ‘ই’ ও হ্যালুরেনিক অ্যাসিডের উপস্থিতি ত্বককে হাইড্রেট করতে সাহায্য করে। সামান্য পরিমাণে এটি লাগালেই ত্বকে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কেটাপিল লোশন, নর্মাল এবং সেমসিটিভ উভয় ধরনের ত্বকেই সহজে অ্যাবজর্ব হয়ে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ত্বক-কে রাখে মোলায়েম, কোমল এবং হাইড্রেটেড। নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট জেল ক্রিম ত্বকে গ্রিজি এফেক্ট ছাড়াই ত্বককে হাইড্রেট করে। এতে থাকে হ্যালুরোনিক অ্যাসিড যেটি ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়িয়ে ত্বক হাইড্রেট করে সঙ্গে দাগছোপ, লাল প্যাচেস ইত্যাদিও দূর করে।

সেবামেড ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ভিটামিন “ই”-তে সমৃদ্ধ ফলে ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার সঙ্গে ফ্রি র‍্যাডিকলস এবং ত্বকের বার্ধক্য থেকেও সুরক্ষা প্রদান করে। মনে রাখবেন ত্বককে ওভার ময়েশ্চারাইজ করবেন না এবং সর্বদা ত্বকের জন্য ভালো উপাদান-যুক্ত ময়েশ্চারাইজারই বাছবেন যাতে স্কিন হাইড্রেট থাকার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের অকাল বার্ধক্য আটকানো যায়।

 

ত্বক ময়েশ্চারাইজ করার সময় ভুলভ্রান্তি (১পর্ব)

যে-কোনও মরশুমেই ত্বক ময়েশ্চারাইজ করাটা একান্ত জরুরি যাতে ত্বক ভিতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে। এতে যেমন ত্বকে ড্রাইনেস-এর সমস্যা রোধ করা যাবে, তেমনই ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। ত্বকে যদি হাইড্রেশন-এর অভাব থেকে থাকে, তাহলে শুষ্ক ত্বক এবং অ্যাকনে, ট্যানিং, র‍্যাশ ইত্যাদি সমস্যার সম্মুখীন হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। ত্বক নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ করলে হেলদি স্কিন সেল্স প্রমোট করাও হবে।

অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ত্বককে বেশি হাইড্রেট করার চাহিদায়, Skin-কে ওভার ময়েশ্চরাইজ করা শুরু করি। এর ফলে ত্বকের নিজস্ব ময়েশ্চার তৈরির কাজ ব্যাহত হয়। যে কারণে স্কিনের নীচে থাকা ত্বকের লেয়ার ড্রাই হওয়া শুরু হয়। সুতরাং মনে রাখতে হবে, ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা জরুরি ঠিকই কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত নয়।

ত্বক দরকারের বেশি ময়েশ্চারাইজ করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে –

পোরস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা

ত্বকের শুষ্কতা রোধ করতে যখনই আমরা বেশি পরিমাণে ময়েশ্চারাইজার ত্বকে লাগাই, এটি ত্বকের পোরস-এর মুখ বন্ধ করে দেয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বকের উপর জমে যায়। একই সঙ্গে এর হেভি টেক্সচার ত্বককে ঠিকমতো যখন নিঃশ্বাস নিতে দেয় না, তখন পোরস ব্লগ হয়ে যায়। ফলে ক্লগ পোরস থেকে অয়েল এবং ডেড স্কিন সেলস বাইরে বেরোতে পারে না। এই কারণে অ্যাকনে, ব্রেকআউটস এর সমস্যা হতে থাকে এবং সৌন্দর্যও ম্লান হয়ে যায়। সুতরাং Skin-এ বেস্ট কোয়ালিটির ময়েশ্চারাইজার লাগাবার সঙ্গে সঙ্গে কতটা পরিমাণে ব্যবহার করছেন সেটাও খেয়াল রাখা একান্ত দরকার।

শুষ্ক ত্বকের সমস্যা

ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগাবার পরেও ড্রাই স্কিন- -এর সমস্যা? অবাক হওয়ারই কথা। কিন্তু এটাই সত্যি যে অতিমাত্রায় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকে ড্রাইনেস এর সমস্যা হয়। ত্বক নিষ্প্রাণ এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

ত্বকে বেশি করে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক নিজস্ব তেল উৎপাদনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। স্বাভাবিক ভাবেই Skin শুষ্ক হয়ে পড়ে। যতক্ষণ ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের পরত থাকে, ত্বক নরম ও মোলায়েম থাকে। কিন্তু ময়েশ্চারাইজার যখন আর থাকে না তখন আবার নতুন করে ত্বকের শুষ্কতা ফিরে আসে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে ত্বকের প্রাকৃতিক অয়েলের উৎপাদন কমতে থাকা। এতে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য চলে গিয়ে ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এছাড়াও নানারকম ত্বকের সমস্যাও উৎপন্ন হয়।

অ্যাকনের সমস্যা

হেয়ার ফলিকলস যখন অয়েল এবং ডেড স্কিন সেলস-এ ভরে যায় তখন ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়। অ্যাকনের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালা, চুলকানি ইত্যাদিও বাড়তে থাকে। মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। ত্বককে হাইড্রেটেড রাখতে হলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার কখনও ব্যবহার করবেন না।

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব