সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-০৯

মহা ঝামেলায় পড়লাম তো। এই বাবু, কী হয়েছে রে? কীসের সমস্যা তোর? উত্তর দে। দিদির বিয়ে বয়স হয়েছে। নিজের লেখাপড়ায় মন না দিয়ে কী করছিস তুই?

না মা তোমরা কেউ বুঝতে পারছ না। ঋজুদা ভালো নয়..।

কী, যত বড়ো মুখ না তত বড়ো কথা…। হাত তুলে তেড়ে আসে পায়েল।

শান্ত হ মাপু দাঁড়া আমি দেখছি। পায়েলকে আটকায় ওর মা।

বল কেন ভালো নয় বল, চুপ করে থাকবি না, উত্তর দে।

রাগে, লজ্জায়, ঘেন্নায়, কষ্টে ও একটা শব্দও করতে পারছিল না। কীভাবে বলবে, কীভাবে বোঝাবে ওদের? যারা সত্যি সত্যি কিছু বুঝতে চায় না। নিজের দিদি হয়ে এই কথাটা দিদি ওকে বলতে পারল…? একটুও বাধল না?

দরজার কাছে বাবা এসে দাঁড়িয়েছিল। কস্তুরী আবারও পিছিয়ে পড়ছিল। নিজেকে গুটিয়ে ফেলছিল। দেখছিল চারপাশের মানুষগুলো ওর দিকে একটু একটু করে এগিয়ে আসছে আঙুল তুলে। ওর কোনও উত্তর দেওয়ার নেই। ওর আর কিছুই বোঝাবার নেই।

পাগলের মতো চিত্কার করে কাঁদছিল ওর দিদি। মা-বাপি ক্রমাগত সান্ত্বনা দিচ্ছিল। ঝাপসা হয়ে আসা চারপাশটা থেকে কয়েকটা কথা আগুনের মতো বুকে এসে বিঁধছিল।

এই সবকিছু ঘটেছে দিদুনের জন্য। সেই ছোট্ট থেকে সুন্দরী সুন্দরী করে ওর মাথাটা খেয়েছে। খুব বলেছিল না কালো বলে আমার বিয়ে হবে না। দ্যাখো নিজের আদরের নাতনির কী হয়? কে উদ্ধার করে ওকে? চাকরি যে জোটাবে সে কলমের ক্ষমতাও তো নেই। বছর বছর গাড্ডা খাচ্ছে। এত অপমান হবার পর আমি আর ঋজুকে এখানে নিয়ে আসতে পারব না। ভেবে নাও তোমরা কী করবে। বাইরে আমরা দেখা করলে ভালো দেখাবে সেটা?

আহা শান্ত হ, মা। আমি দেখছি কী করা যায়। দেখা করবি না কেন? নিশ্চয়ই দেখা করবি আমাদের ঘরে বসবি তোরা। বাবু কী বলেছে ঋজু তো আর শোনেনি। জানেও না। আমি দেখব ও এলে বাবু যাতে তোদের কাছাকাছি না আসতে পারে। ঠিক আছে? তুই চুপ কর। কাঁদিস না, কাল তোর পরীক্ষা আছে। পায়েলের গায়ে মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে কথাগুলো বলছিল ওর বাপি, মা। কস্তুরী বুঝতে পারছিল পায়েলের কথায় ওর কষ্টের চেয়ে পায়েলের কষ্টটাই বাপি, মায়ের কাছে বেশি কষ্টের।

সময় ঝড়ের বেগে এগিয়ে যাচ্ছিল। সময়ে সঙ্গে সঙ্গে কস্তুরীর চারপাশের পরিস্থিতিও যেন হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল। খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল অন্তত একটা অবলম্বন ধরে নিজের অস্তিত্বটাকে মাথা তুলে দাঁড় করানোর। ঋজুদা বাড়িতে আগের মতোই আসছিল। কিন্তু ওর আদর যত্ন যেন আগের থেকে বেড়ে গেছিল আরও অনেকটা। বাপি-মা দিদির মেলামেশার জন্য নিজেদের ঘর ছেড়ে দিয়েছিল। কস্তুরী জানতে চাইত না, বুঝতেও চাইত না। তাও ওর দিদি প্রায়ই ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে নিজেদের ভালোবাসার কথা বলত! বাপি মা-ও যে ওদের দুজনের বিয়ে কথা পাকা করছিল, খাওয়ার টেবিলের আলোচনায় কানে আসত।

সাত বছরের বড়ো হলেও ছোটোবেলায় দিদির সঙ্গে কস্তুরীর সম্পর্কটা অনেকটা

মা-মেয়ে মতো ছিল। মামাবাড়ি থেকে ফেরার পর কস্তুরীকে স্কুলে তৈরি করা, খেতে বসে গল্প করা কখনও এর ওর স্কুলের সুখের দুঃখের অনুভতি ভাগ করত ওরা। পায়েল আর কস্তুরী শুধু দুইবোন নয়, ছিল একে অপরের পরিপূরক। সেই দিদি বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এভাবে পালটে গেল কেন? কী কারণে?

বরাবর দেখে এসেছে কস্তুরীর মা বেশিরভাগ সময়ই নিজের অসুস্থতা, নিজের আরাম নিয়ে সময় কাটাতে ভালোবাসে। একটু কাজ করেই হাঁপিয়ে যায়। শুয়ে বসে টিভি দেখতেই তিনি অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। আর ঠিক সেই কারণেই কস্তুরীর জন্মের পরেই নিজের কাছে না রেখে ওকে বড়ো করার জন্য নিজের মায়ের কাছে পাঠানো। বয়স হলেও দিম্মামা শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে যথেষ্ট সক্ষম হওয়ায় ছোট্ট কস্তুরীকে কোলে পিঠে করে বড়োও করে তুলেছিলেন।

সব বয়সেই হয়ে উঠুন Fashionable

Fashion বলতে আমরা বুঝি স্টাইল, পরিবর্তন এবং গ্রহণযোগ্যতা। প্রত্যেক ঋতুর সঙ্গে মানানসই পোশাকের চয়ন করার ক্ষেত্রে ফ্যাশনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিজেকে অন্যের চোখে আকর্ষণীয় করে তুলতে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে, নিজস্ব সংস্কৃতিকে অন্যের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে Fashion-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স যাই হোক না কেন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র মেক-আপ করাই যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযাযী পোশাক চয়নের উপরেও খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি। ইযং জেনারেশন ইচ্ছেমতো যেমনটা পছন্দ পোশাক পরে এবং বয়স অল্প হওয়ায় মানিয়ে যায়, কখনও আবার সেটাই ফ্যাশন স্টেটমেন্টও হয়ে ওঠে। কিন্তু বয়স ৩০-৩৫-এ পৌছলেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে আর ফ্যাশনেবল রাখা সম্ভব নয়, এমন ধারণা করে নেওয়াটা ভ্রান্ত। বয়স বাড়লেও আপনিই বা কম কীসে? পছন্দের পোশাক পরে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন ফ্যাশন ডিভা।

পোশাকের সঙ্গে চাই অ্যাকসেসরি

ফ্যাশনেবল এর সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আকষর্ণীয় করে তুলতে পারফেক্ট মেক-আপ, প্রেজেন্টেবল আউটফিট-এর সঙ্গে ম্যাচিং অ্যাকসেসরিও পরতে হবে। খুব বেশি নয়, পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করিয়ে ২-৩টি অ্যাকসেসরিজ আপনার লুক আরও আকষর্ণীয় করে তুলবে। হ্যাংগিং ইয়াররিংস, ফুলসাইজ ফিঙ্গার রিং, সরু পেনডেইন্ট, ব্রাইট কাফ ব্রেসলেট, এগুলোর মধ্যে কোনও একটিকে নিজের স্টাইল স্টেটমেন্ট করে তুলুন। এগুলির কালেকশন আগে থেকেই ম্যাচ করে জোগাড় করে রাখতে হবে।

লাইট আউটফিট ব্রাইট অ্যাকসেসরিজ

বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব বেশি ব্রাইট ডার্ক কালার এবং ঝকমকে আউটফিট অনেকেই পরতে ইতস্তত করবেন ঠিকই কিন্তু লাইট শেডের পোশাককে ব্রাইট টাচ তো দেওয়াই যেতে পারে।

  • লাইট শেড-এর ড্রেসের সঙ্গে ব্রাইট কালারের স্কার্ফ নিন। যেমন সাদা টপ-এর সঙ্গে গাঢ় কমলা রঙের স্কার্ফ
  • লাইট শেড জিনস-এর সঙ্গে শিমারি বা স্টোন বসানো বেল্ট
  • বোল্ড শেড-এর হেয়ার অ্যাকসেসরিজ-এর ব্যবহার করুন, যেমন ক্লিপ, হেয়ার ব্যান্ড ইত্যাদি
  • পার্টিতে পরুন সফট শেড-এর আউটফিট, সঙ্গে সিলভার বা গোল্ডেন ক্লাচ ক্যারি করুন
  • নিয়ন শেডস-এর জুতি, শুজ, ফুটওয্যার লাইট কালারের আউটফিট-এর সঙ্গে ভালো মানাবে
  • কালারফুল ফ্রেমের সানগ্লাস আপনার সৌন্দর্য বাড়াবে
  • শিমারি লুক পেতে সিংগল আউটফিট-এর সঙ্গে এলিগেন্ট ডায়মন্ড সেট পরুন
  • ডার্ক ও ব্রাইট শেডের নেলপলিশ লাগিয়ে নিজের লাইট শেডের ড্রেস-কে ট্রেন্ডি লুক দিতে পারেন।

ফ্যাশন অ্যালার্ট

  • ট্রেন্ডের সঙ্গে মানিয়ে চলতে ট্রেন্ডি উইয্যার পরতে হবে না বরং যা আপনাকে মানায় তাই পরুন
  • সবকিছু ম্যাচিং না পরে বরং মিস-ম্যাচ করে পরুন, এতে ব্যালেন্সড লুক পাবেন
  • বার্ধক্যে আপনি এখনও পৌঁছননি তাই খুব বয়স্কদের মতো পোশাক পরবেন না
  • লুজ আউটফিট আপনার লুক খারাপ করতে পারে
  • ফিটিং জিনস-এর সঙ্গে টাইট ফিটিং টপ পরবেন না। দুটোর মধ্যে একটা টাইট হলে অপরটি লুজ রাখুন।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-০৮

( ৪ )

কী করবে? বাড়িতে গেলেই সেই একই প্রশ্ন! খুব দিম্মার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে। ওখানে গেলে একটু কদিন মানসিক শান্তি তো পাবে। কেউ তো প্রশ্ন করার নেই। কতদিন যায়নি মায়ের কাছে।

মা ওর দিম্মা। ওই নামেই ডেকে এসেছে ছোটো থেকে। ছমাস বয়স থেকে সাত বছর পর‌্যন্ত, একটা সরলরৈখিক শিশুকাল কস্তুরী কাটিয়েছে ওখানে। আচ্ছা ওখানেরই কেউ কি ওর এই হরিণ নামটা রেখেছিল? হতেও তো পারে। জ্ঞান হওয়া ইস্তক যা কিছু আনন্দ কুড়িয়ে বাড়িয়ে ওখানের অভিজ্ঞতাতেই তো জমা হয়ে আছে। কেন যে ওখান থেকে ওকে নিয়ে এল বাপি? আর নিয়ে যদি আসবে তাহলে নিজেদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে কেন?

বেশ মেঘলা করে আসছিল। পুজো মিটতেই ঠান্ডা কাঁপ ধরা হাওয়াও বইতে শুরু করেছিল শহরের বুক বেয়ে ডিসেম্বর মাস। এসময় বৃষ্টি হওয়ার কথাই নয়। কিন্তু পশ্চিম আকাশের মেঘের আকারটা দেখে সন্দেহ হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ঝড় উঠবে। ফুট ধরে হাঁটতে হাঁটতে ও দেখতে পাচ্ছিল আকাশের মেঘটা যেন হাঁ করে গিলতে আসছে পথঘাট। বুকের ভেতরটা দুমড়ে যাচ্ছিল। কাঁপ ধরা হাওয়ায় জড়োসড়ো হয়ে যাচ্ছিল শরীরটাও। কেমন যেন মনে হচ্ছিল খুব ভুল হচ্ছে। সাংঘাতিক রকমের ভুল হচ্ছে কোথাও…!

বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। তিরের মতো বৃষ্টির ফোঁটাগুলো এসে লাগছিল কস্তুরীর কান, মাথা, গায়ে এদিক ওদিক। বুকের ভেতরটা ফালাফালা হয়ে যাচ্ছিল। বাস, ট্রাম, গাড়িগুলো যেন প্রকৃতি সামলে প্রাণপণ ছুটতে শুরু করেছিল রাস্তার এধার থেকে ওধার।

নাহ্ আর কোনও কিছু ভাববে না। গায়ে ওড়নাটাকে ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে রাস্তাটা একদৌড়ে পার হয়। ঠিক এই বিশেষ বাস নাম্বারটাই খুঁজছিল। হঠাৎ করে চোখে পড়ায় খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে বাসের হ্যান্ডেল। এক ধাপ, দু ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠে বসে পড়ে জানলার গা ঘেঁষে। গায়ে ওড়নাটা সরিয়ে দেয়। যত ইচ্ছে বৃষ্টি এসে আছড়ে পড়ুক ওর ওপর। আজ ও ভিজতেই চায়।

নিজের ভয়গুলোকে আলগা করে কাউকে বলতে চায়, দেখো বু তোমাকে ছাড়াও আমি বাঁচতে পারি। বাঁচার চেষ্টা করতে পারি। স্বপ্ন দেখতে পারি। ভালোবাসা পেতে পারি। তোমাকে ছাড়াও আমার জীবনে এমন কেউ আছে যে আমাকে সব দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারে। আমি আর কখনও তোমার কথা ভাবব না। কোনদিনও না…।

( ৫ )

কোনওদিনই তোর পড়াশোনায় মতিগতি ছিল না। সে কী আমি জানি না ভেবেছিস? শুধু আমাকে দেখে হিংসে।

আমি তোকে হিংসে করি?

হ্যাঁ করিস তো। আমি জানি না ভেবেছিস? নাহলে ঋজু চলে যাবার পরেই হাত পা ছুড়ে এমন কাঁদতে বসিস কেন? পুজোয় কত কিছু প্ল্যান করব ভাবলাম, মুডটাই অফ হয়ে গেল। মনে রাখিস, আমি তোর থেকে সাতটা বছরের বড়ো।

না দিদি না…।

দাঁড়া বাপিকে বলে তোর লেখাপড়া ঘোচাচ্ছি আমি। আমার বিয়ে হয়ে গেলেই দেখবি তোর কী হয়। সেই তো প্রদীপ হাতে কালীঘাটেই বসতে হবে। বাপি মা আর কত টানবে? খুব শখ না…।

দিদি…?

আর ওই মুখটা দিয়ে দিদি উচ্চারণটা করিস না। আমার ঘেন্না হচ্ছে। ছিছি এত বড়ো কথা বললি আজ?

কী হল রে মাপু। তোরা দুই বোনে রাত দুপুরে আবার কী শুরু করলি? সারাদিন খেটেখুটে এসে একটু চোখের পাতা এক করতে পারবে না তোদের বাবা!

কী বলি বলো তো মা, ঋজুর নামে যা তা বলছে তোমার এই বাবু। পড়াশোনা না করে সারাদিন মাথায় এই ভেঁজে চলেছে তোমাদের মেয়ে এটাকে তোমরা কোন পাতে দেবে ভেবে দ্যাখো। যেখানেই দেবে ঘরে তুলে দিয়ে চলে যাবে। রেহাই পাবে না তোমরা। মামাবাড়ি থেকে কেন যে আনতে গেলে? এত বড়ো আস্পর্ধা সোমক এলেও এত বাজে ব্যবহার করে ঋজু আর আসতেই চায় না। বলে তোমাদের বাড়ির লোক কি চায় না আমি যাই? বলো মা এর কী উত্তর দেব আমি?

জমে উঠুক Tea-time

চায়ের মৌতাতে আলস্য কাটানো হোক বা জড়িয়ে পড়া তর্কে-বিতর্কে- বাঙালি পিছ-পা হয় না। এই  চলতি শীত মরসুমে বিশেষ করে, বাঙালিরা প্রশ্রয় দেয় বিকালের চায়ের আসরকে।  চায়ের পেয়ালা হাতেই বাঙালিরা বেদম ‘রাজনীতি’ বা ‘খেলা’ নিয়ে তর্কে মেতে ওঠে। আর চায়ের সঙ্গে থাকে “টা”, অর্থাৎ কিনা দেদার স্ন্যাক্স-এর আয়োজন৷ তা সে অতিথি এলেই কী, আর না এলেই কী! এমনই কিছু  Evening snacks নিয়ে আমরা হাজির, Tea-time-কে আরও লোভনায় করে তোলার জন্য৷

 

মালাইসুজি রেক্ট্যাঙ্গেলস

উপকরণ: ৩/৪ কাপ ঘন সর বা ক্রিম, ১/৪ কাপ সুজি, ৪টে ব্রেড স্লাইস, ২টো পেঁয়াজ মিহি করে কাটা, ১ বড়ো চামচ সবুজ, লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম মিহি কুচি করা, ২টো কাঁচালংকা কুচোনো, প্রয়োজনমতো ঘি, স্বাদমতো নুন ও গোলমরিচের গুঁড়ো।

প্রণালী: ক্রিমটা ভালো ভাবে ফেটিয়ে নিন, তারপর এতে সবজি, নুন, সুজি ও গোলমরিচগুঁড়ো মেশান। ব্রেডের ধারগুলো কেটে বাদ দিন, তারপর ব্রেডের দুপিঠে ওই ক্রিম আর সবজি ও সুজির মিশ্রণ মাখিয়ে নিন। ননস্টিক প্যানে ঘি গরম করুন। এবার ব্রেডগুলির দুপিঠ ভালো ভাবে ঘিয়ে ফ্রাই করুন। গরম গরম সার্ভ করুন।

 

পট্যাটো পাঞ্চ

Potato Punch recipe

উপকরণ: ২টো বড়ো আলু, ১টা পেঁয়াজ কুচি করা, ১টা ক্যাপসিকাম কাটা, ১টা গাজর কুচোনো, ৬-৭টা বিনস কুচি করা, ২টো ছোটো টম্যাটো টুকরো করা, ১ কোয়া রসুন কুচি করা, ৩ বড়ো চামচ মাখন, ১/২ কাপ মুগ স্প্রাউটস্ সেদ্ধ করা, ৪ বড়ো চামচ গ্রেটেড চিজ, ১-২টো কাঁচালংকা কুচি করা।

প্রণালী: কড়ায় ২ বড়ো চামচ মাখন গলিয়ে নিন। পেঁয়াজ-রসুন ভাজা ভাজা করুন। এতে ক্যাপসিকাম, বিনস, গাজরকুচি আর স্প্রাউটেড মুগ ও নুন দিয়ে সঁতে করুন, তারপর ঢেকে রান্না হতে দিন। আলুর খোসা না ছাড়িয়ে নুন জলে সেদ্ধ করে নিন। তারপর জল থেকে আলুগুলো তুলে মাঝামাঝি ফালি করুন। আলুর মধ্যিখানটা স্কুপ করে আলু বের করে নিন এবং বের করে নেয়াটা আলুটা চিজ আর মাখন দিয়ে চটকে পাইপিং ব্যাগে ভরে নিন। স্প্রাউটেড মুগের পুর ভরে দিন আলুর মধ্যিখানের ফাঁকা অংশে, তারপর এর উপর পাইপিং ব্যাগ থেকে বের করা আলুমাখা রাখুন, এবার প্রিহিটেড আভেনে এই আলু ৮-১০ মিনিট বেক করুন ও সার্ভ করুন।

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-০৭

কিছু যদি না মনে করিস, আমি কিন্তু আজীবন ফাঁকা। একবার চান্স দিবি নাকি?

তুই থামবি ব্রত। হাতে চাপড় মারে রিমলি।

কেসটা তো এখনও ক্লিয়ার হল না। ঠিক দাগা দেবার কারণটা কী শুনি? ব্রত বলে।

পুরো সাইকো। আবার ফিল্মিও বলতে পারিস। প্রায় টানা তিনবছর কপোত-কপোতি চিঠি-চাপাটি করেছে জমিয়ে অশরীরী নাকি ভাইয়ের হাত দিয়ে চিঠি পাঠাত কস্তুরীকে। দেখাসাক্ষাত্ খুবই কম। কীভাবে প্রথম আলাপ সেকথাও কস্তুরী চেপে যায় বারবার। ব্যাপারটা যখন একটু মেন ট্র‌্যাকে ঢুকে পড়েছে হ্যান্ডেল কস্তুরীকে কী লিখেছে জানিস?

কী?

আকাশটা আজ বড়োই নীল/ আজ আমায় পিছু ডেকো না/ যে-রং তোমার চোখে শামিল/ সে চোখ ভিজিয়ে দিও না…। —সুর করে বলে রিমলি।

আহা অঞ্জন দত্ত পুরো। বাল। সরি কস্তুরী কিছু মনে করিস না ভাই। এতদিন ঝুলে ঝুলে কী আতা খাচ্ছিল। ব্রত জিজ্ঞাসা করে।

আতা খাচ্ছিল না ছিঁড়ছিল জানি না। আমার তো মনে হয় মালটা ঘ্যাম নিচ্ছে। কস্তুরী যদি একটু ঘ্যাম নেয় তাহলেই আবার লাইনে চলে আসবে। ছেলেদের চেনা আছে আমার।

কটা রে রিমলি?

মানে?

কটা ছেলেকে চিনিস তুই?

এবার দাঁত কেলালে সত্যি চড়িয়ে দেব ব্রত।

ওরা চার পাঁচজন নিজেদের মধ্যে মজা করছিল। কস্তুরী দেখছিল, উঠতে চেয়ে উঠে যেতে পারেনি। মনের থেকে অনেকটা দূরে সরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু যত সরে যেতে চাইছিল ততই যেন মনের ভীরু দেয়াল উগরে বারবার কষ্টগুলো ঠেলে উঠছিল। বু কী কোনওদিন ওর হবে না? ও বাঁচবে কী করে? একঝাঁক প্রশ্ন মৌমাছির ঝাঁকের মতো ঘুরপাক খাচ্ছিল।

দেখা মাত্র দু-তিনবারই হয়েছে। তাও মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য, পার্ক স্ট্রিটের কাছে এলিয়ট পার্কে। শেষ যেদিন দেখা হয় সেদিনই ঘটে ঘটনাটা। এদিকে বাড়ি থেকে একনাগাড়ে মা, বাপি বিয়ের কথা বলে চলেছে। কস্তুরীকে ফোর্সও করেছে। ও একথা সেকথা বলে অনেকবার এড়িয়ে গেছে। চেষ্টা করেছে পাশ কাটিয়ে ব্যাপারটা যদি একটু ডিলে করা যায়। কিন্তু পারছে না। দিদি তো রয়েছেই ওদের উস্কে দেবার জন্য। এভাবে আর কতদিন আটকে রাখবে? তাই বলেই ফেলেছিল, বুকে। হুম ঠিক এভাবেই ডাকে মানুষটাকে।

এই কটা বছর ঘোরের মতো কেটেছে। উঠতে, বসতে, খেতে, পরতে একটা এমন সময় যায়নি যেখানে মনে পড়েনি ওর কথা। বু ভাইয়ের হাত দিয়ে যেদিনই চিঠি পাঠিয়ে দেখা করার কথা বলত। কী যে ভালো লাগত। নিজেকে বারবার চিমটি কেটে দেখত। সত্যি কিনা। ঠিক কটায় কোথায় দেখা হবে চিঠিতেই লেখা ছিল। সবার চোখ এড়িয়ে নিজেদের যতটা সম্ভব আড়াল করে সেদিন বেরিয়ে পড়েছিল ওরা দুজন। ওকে ছুঁতে পারেনি কস্তুরী। তবু পায়ে পায়ে পার্কের বেঞ্চে বসা, কাছাকাছি থেকে শরীরী ওম নিতে চেয়ে বাধো বাধো ঠেকার মধ্যেও যে অদ্ভত একটা আকর্ষণ ছিল সেই সমস্ত দিনের মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই বুঝতে পারত। কত গল্প, কত হাসি, দ্রুত কেটে যেত সময়। কথায় কথায় নিজের ভালোলাগা, পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে সঙ্গে জেনে নিত প্রিয় মানুষেরটাও। অদ্ভত ভাবে চমকে উঠেছিল এই দেখে যে, শুধু মনের মিল নয়, ওদের দুজনের ব্যক্তিগত মিল-অমিলগুলোও বড্ড কাছাকাছি, পাশাপাশি। যেন কেউ যত্ন করে ওদের দুজনের ভালোলাগা মন্দলাগাগুলো সাজিয়ে রেখেছে। বড়ো নিশ্চিন্ত একটা আমেজ দুহাতে জড়িয়ে ধরত ওকে এতদিন পর। মনে হতো, জীবনের কালো কিছু পাতাকে কেউ হয়তো ইরেজার দিয়ে একের পর এক মুছে দিচ্ছে।

তবে কথায় আছে না, স্বপ্ন হল অসীম। সেটা কমে না, বেড়েই চলে। লাগামছাড়া কথায় এগলি-ওগলি ঘুরতে ঘুরতে কস্তুরী বলেছিল ওর পরিবারের কথা। বাপির কথা। মায়ের কথা। দিদির কথা। কলেজের থার্ড ইয়ারের পরীক্ষাটা দেওয়ার অপেক্ষা শুধু, সবাই যে কীভাবে অন্য জায়গায় পাঠানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলতে বলতে গলা বুজে আসছিল। এসবের মাঝে কখন যে ঝুঁকে পড়া মাথাটা ওর কাঁধে হেলে পড়েছিল নিজেও বুঝতে পারেনি।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হচ্ছিল। কমলা লালচে আলোটা পার্কের বিপরীতে শহরের গগনচুম্বী অফিসটার ছাদ ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছিল কোন অসীমে। এতদিনের আটকে রাখা ভাবনাগুলো সুস্থির কোনও পথের দিশা পেয়ে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল সেই আলো নিভে আসা আকাশটার দিকে। একবার, একটিবারের জন্যও মনে হয়নি কী হবে, কী ঘটতে চলেছে। হাতে হাত রেখেই খানিকটা নির্ভাবনায় বেরিয়ে এসেছিল পার্ক থেকে।

একটা সপ্তাহ কী দিন পনেরো হবে— একটা চিঠি পায়। সামান্য কয়েকটা গানের লাইন। কী অর্থ বুঝতে পারেনি। আজও বুঝতে পারেনি। যে-চিঠি তিল তিল করে তিনটে বছর স্বপ্ন দেখিয়েছিল, স্বপ্ন ভেঙে টুকরো টুকরো করতে সেই চিঠিরই সময় লেগেছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। কস্তুরী কী উত্তর দেবে এর? ফোনের পর ফোন করেছে ওদের ল্যান্ডলাইনে। প্রতিবারই নয় মা, নয় ওদের বাড়ির অন্য কেউ ফোন রিসিভ করায় কথা বলতে পারেনি। আচ্ছা বু কী একবারের জন্যও জানতে চায় না ওর মনের অবস্থাটা? একবারের জন্যও কী মন কেমন করে না ওর জন্য? তাহলে কি ভালোবাসাটা একতরফাই ছিল? নাহ তা কী করে হয়? এতদিনের চিঠির কথাগুলো কি মিথ্যে?

বাড়িতে নিজেকে লুকিয়ে রাখলেও বন্ধুদের কাছে এসে আর পারেনি। সবটা বলে ফেলেছিল বান্ধবীকে। সত্যি কি নিজে হালকা হতে পেরেছে? পারেনি। আর হয়তো কোনওদিন পারবেও না। কিন্তু জানতে তো পারবে ঠিক কেন ও এমন করল? কস্তুরী জানে বু ওর থেকে মাত্র দেড় বছরের বড়ো। ঠিক এই সময়ে চাকরি পাওয়াটা যে কতটা লড়াই সাপেক্ষ সেটাও জানে। কিন্তু বাড়িতে যদি কিছু একটা অঘটন ঘটে তাহলে সেটাকে আটকাবে কী করে?

ওহো কস্তুরী তুই এত ভাবছিস কেন? তোর অশরীরীকে বল একবার আমাদের সঙ্গে শরীরী হয়ে দেখা করতে, আমরা মালটাকে পুরো নেড়ে ঘেঁটে দেব। বন্ধুদের মধ্যে কেউ একটা বলছিল।

ঘড়িতে প্রায় পাঁচটা বেজে গেছিল। এক পা এক পা করে ক্লাসরুম ফাঁকা হচ্ছিল। ওকেও উঠতে হবে। বাড়ি যেতে হবে। সত্যি কি ওটা ওর বাড়ি? নিজের কণাটুকু ওখানে আর অবশিষ্ট নেই। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় ওকে নিঃস্ব করে দেওয়াই যেন প্রধান লক্ষ্য রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলোর।

কৃত্রিম সুইটনার-এর ব্যবহারে ক্ষতি

ডায়েটিশিয়ানরা বলেন, মাঝেমধ্যে খাবারে বা চা-কফিতে সামান্য চিনি খেলে তত ক্ষতি হয় না যতটা লম্বা সময় ধরে কৃত্রিম সুইটনার ব্যবহার করলে হতে পারে৷ কিন্তু আমরা আজকাল ওজন কমানো এবং সেই সঙ্গে সুস্থ থাকার আপ্রাণ চেষ্টায় চা-কফিতে কৃত্রিম সুইটনার- এর ব্যবহার বাড়িয়ে তুলেছি। খাদ্যতালিকা থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দিয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের দ্বারস্থ হয়ে কি আশা করছেন দারুণ ফল হবে?  মোটেই না। কাজের কাজ না হয়ে বরং আপনার ওজনও বেশ খানিকটা বেড়ে যেতে পারে এতে!

বিশেষতঃ যে সমস্ত ব্যক্তির ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে অথবা যারা অতিমাত্রায় স্বাস্থ্যসচেতন তারা অনেকেই খাদ্যতালিকায় থাকা গ্লুকোজ, সুক্রোজ বা ফুট্রোজ এর জায়গায় কৃত্রিম মিষ্টত্ব বাড়াবার দ্রব্য ব্যবহার করেন, তারা খাবারে তীব্র মিষ্টি স্বাদ নিয়ে আসেন কোনোরকম ক্যালোরিযোগ না করেই। সমীক্ষা করে দেখা গেছে বিগত দুইদশকে low calorie Sweetener গ্রহণ করার ঘটনা প্রায় ২০০% বৃদ্ধি পেয়েছে ছোটোদের মধ্যে এবং বড়োদের মধ্যে এই Sweetener  গ্রহণ করার শতকরা বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫৪%।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওজন বাড়া ছাড়াও আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের প্রভাবে ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে, টাইপ টু ডায়াবেটিসও হতে পারে এর থেকে। গবেষকরা মনে করছেন, লম্বা সময়ের জন্য আর্টিফিশিয়াল সুইটনার ব্যবহার করে কোনও সুফল পাওয়া যায় না৷ বরং কারও কারও ক্ষেত্রে ওজন বাড়া ও অন্যান্য কার্ডিও মেটাবলিক সমস্যা বৃদ্ধি হতে পারে।

ওবেসিটি ঠেকাতে চিনি বাদ দিয়ে অনেকেই অ্যাসপার্টেম, সুক্রালোজ আর স্টেভিওসাইডের মতো artificial  sweetener  আপন করে নেন। সমস্যা হচ্ছে, চিনির চেয়ে এই কৃত্রিম বস্তুগুলির রাসায়নিক গঠন আলাদা। জিভে উপস্থিত রিসেপ্টরকে এই উপাদানগুলি জাগিয়ে তোলে, ফলে মস্তিষ্কে মিষ্টি খাওয়ার সঙ্কেত পৌঁছোয়। কিন্তু এই পদার্থগুলি শরীরের কোনও ক্ষতি করছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা হয়নি এতদিন৷ ব্যবহারকারীরা যে-ধরনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে এখন চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন, তাতে অন্তত এটা পরিষ্কার যে আর বিষয়টাকে হালকাভাবে না নিয়ে গভীরভাবে বিবেচনা করার দেখার সময় এসে গিয়েছে।

সুতরাং বিজ্ঞানীরা যতক্ষণ না আরও ভালো কোনও পরিবর্তের সন্ধান দিতে পারছেন, ততদিন খুব সাবধানে এগুলি ব্যবহার করুন। যাঁরা দিনে অন্তত ৫-৭ কাপ চা-কফি পান করেন, তাঁরা ধীরে ধীরে চিনির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করুন, প্রথমদিকে অসুবিধে হলেও পরে দেখবেন চিনিহীন চা-কফিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন৷তাতে শরীরের ক্ষতির পরিমাণ বরং অনেক কম হবে। সুস্থ জীবনশৈলীর দিকে আপনি আরও একধাপ এগোতে পারবেন।

নতুন বছর Fashionable হয়ে ওঠার সময়

বয়স যাই হোক না কেন সৌন্দর্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র মেক-আপ করাই যথেষ্ট নয়। বয়স অনুযাযী পোশাক চয়নের উপরেও খেয়াল রাখাটা খুব জরুরি। ইয়ং জেনারেশন ইচ্ছেমতো যেমনটা পছন্দ পোশাক পরে এবং বয়স অল্প হওয়ায় মানিয়ে যায়, কখনও আবার সেটাই ফ্যাশন স্টেটমেন্টও হয়ে ওঠে। কিন্তু বয়স ৩০-৩৫-এ পৌছলেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, নিজেকে আর ফ্যাশনেবল রাখা সম্ভব নয়, এমন ধারণা করে নেওয়াটা ভ্রান্ত। বয়স বাড়লেও আপনিই বা কম কীসে?

Fashion ডিজাইন করা যাদের পেশা তাদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহিলারা যদি সঠিক পোশাক নির্বাচন করেন তাহলে তারাও সৌন্দর্যে, নতুন প্রজন্মকে ভালো মতো টেক্কা দিতে পারবেন।

অল্প বয়সে ম্যাচিওর লুক পাওয়ার জন্য কখনও মায়ের শাড়ি, মাসির জুতি বা পোশাক ধার করে কিশোরীরা পরেই থাকে। কিন্তু শরীর, মন যত ম্যাচিওর করবে, ততই খুব কম প্রয়াসে নিজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা সহজ হয়ে যাবে। দরকার শুধু ওয়ার্ডরোব মেকওভার।

সঠিক মাপ ও শেপ-এর পোশাক নির্বাচন

সব বয়সেই ফিগার মেনটেইন করতে পারবেন মানে ৩৬-২৪-৩৬ ফিগার হবে, এটা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভবপর নাও হয়ে উঠতে পারে। তার মানে এই নয় যে, সঠিক শেপ-এর ফিটিংস ড্রেস পরা ছেড়ে দিতে হবে। ফিগার যদি সুন্দর হয় যে-কোনও বয়সেই মাপ অনুযাযী পোশাক নির্বাচন করতে পারেন, ফলে নিজের পারফেক্ট বডিশেপ অপরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই এবং নিজের পছন্দের পোশাকেই হয়ে উঠতে পারবেন অনন্যা।

বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে পেটে যদি সামান্য মেদ-ও জমা হয় চিন্তার কিছু নেই। টামি টাকার ব্যবহার করে বডি হাগিং ড্রেসেই পেতে পারবেন পারফেক্ট লুক।

যদি ব্রেস্ট লাইন সামান্য ঝুঁকে গেছে বলে মনে হয়, তাহলে সাপোর্টিভ ব্রা পরে সঠিক লুক আনতে পারেন। বডি শেপার শেপওয্যার, সাপোর্টিভ ব্রা-এর নানা ভ্যারাইটি এখন মার্কেট এবং অনলাইনেও সহজে অ্যাভেলেবেল।

ব্ল্যাক শেডস পোশাকের কালেকশন রাখুন

ওয়ার্ডরোব-এ ব্ল্যাক শেডস-এর কালেকশন অবশ্যই রাখুন। যেমন ব্ল্যাক ড্রেস, টপ, কুর্তি, শাড়ি, জিনস ইত্যাদি। এভারগ্রিন ব্ল্যাক শেড কখনওই আউট অফ ফ্যাশন হবে না। যে-কোনও সিজন-এ, নিজের খুশিমতো পার্টিতে, ফর্মাল মিটিং-এ অথবা অনুষ্ঠান বা ফেস্টিভ্যালে ব্ল্যাক ড্রেস, শাড়ি সবকিছুই পরা যেতে পারে। কালো রঙের পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং হ্যান্ডব্যাগ, হাতঘড়ি, ফুটওয্যার সবকিছুই আজও ফ্যাশনে ইন।

পার্টির জন্য রাখুন নি-লেংথ ড্রেস

আগে পার্টিতে ড্রেস পরে অনায়াসেই যখন নিজেকে ক্যারি করতে পেরেছেন তাহলে এখন করতে কীসের লজ্জা? ৩০ বছর বয়স পেরিয়ে যাওয়া মানে আপনি ড্রেস পরে আর পার্টি এনজয় করতে পারবেন না, এমন নয়। ফ্যাশন এবং কমফর্ট দুটোরই খেয়াল রেখে শর্ট ড্রেস-এর বদলে হাঁটু পর্যন্ত ড্রেস পরুন, আপনার সৌন্দর্য বা ফ্যাশনে এতটুকু ঘাটতি হবে না।

স্ট্র‌্যাপি টপস বাছুন নিজের জন্য

কলেজে থাকাকালীন স্ট্র‌্যাপি টপ পরতে যখন দ্বিধা করেননি তখন একটু বেশি বয়সে এসে কেন এটা অ্যাভয়েড করবেন? এখনও নিজের ওয়ার্ডরোব-এ স্ট্র‌্যাপি টপ রাখতেই পারেন কিন্তু এখন যখন কিনবেন তখন একটু চওড়া স্ট্র‌্যাপের ড্রেস বা টপ হলেই ভালো হয়। এতে আপনার কমফর্ট লেভেল-ও বজায় থাকবে আর দেখতেও স্টাইলিশ লাগবে।

ওয়ান পিস সবসময়ে বেস্ট

ওয়ান পিস, গাউন, ম্যাক্সি, বিচ ড্রেস ইত্যাদি ৩০ বছর বয়সের পরেও অনায়াসে পরতে পারেন। এই ধরনের আউটফিট-এ যথেষ্ট Fashionable হয়ে উঠতে পারবেন। পার্টি, অনুষ্ঠানে ওয়ানপিস বা গাউন পরতে পারেন আবার হলিডে সেলিব্রেশনের সময় বিচ ড্রেস আপনার পার্সোনালিটির সঙ্গে মানানসই হতে পারে। রেগুলার ওয্যার-এর জন্য ম্যাক্সি ড্রেস ট্রাই করুন।

অল টাইম ফেভারিট জিনস

টিনএজারস থেকে শুরু করে, সব বয়সের মহিলারাই জিনস পরতে পছন্দ করেন। তবে একটু বেশি বয়সে জিনস-এর সঙ্গে টাইট ফিট স্কিনি টি-শার্ট একটু বিসদৃশ লাগতে পারে। ফর্মাল শার্ট, লুজ কুর্তার সঙ্গে স্মার্ট দেখতে লাগবে। লং ওযে্ট-এর বদলে হাই ওযে্ট জিনস আপনাকে বেশি মানাবে।

শাড়ি ভালো বিকল্প

রেগুলার ড্রেস বা প্যান্টস, টপ, জিনস ইত্যাদির লুকে যদি বোর ফিল করতে আরম্ভ করেন, তাহলে শাড়ি ট্রাই করে দেখতে পারেন। চেহারায় ভালো একটা পরিবর্তন আসবে। শরীরের খামতিগুলো শাড়ির সাহায্যে অনয়াসেই লুকিয়ে ফেলা সম্ভব আকষর্ণীয় লুক বজায় রেখেই। শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস, ব্যাকলেস, হল্টার অথবা টি-নেক ব্লাউজ পরুন, আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট অনেকেরই ঈর্ষার কারণ হতে পারে। বিশেষ কোনও জায়গায় রয্যাল লুক ক্যারি করতে হলে বেছে নিন ডিজাইনার শাড়ি। শাড়ি কম পরা হলেও, এর এলিগ্যান্স-এর তুলনা হয় না।

স্কার্ট ট্রাই করুন

শর্ট স্কার্ট বা খুব লম্বা স্কার্ট নয়, হাঁটু অবধি বা হাঁটুর একটু নীচে অবধি স্কার্ট পরতেই পারেন। টি-শার্ট বা ক্রপ টপ-এর পরিবর্তে শর্ট, কুর্তির সঙ্গে পেয়ার করুন। এটি যথেষ্ট স্মার্ট ড্রেস। ডার্ক বা ব্রাইট শেড লং স্কার্টের সঙ্গে ম্যাট কালার এবং লাইট কালারের কুর্তি আপনাকে দেবে ব্যালেন্সড লুক।

জ্যাকেট অথবা কোট

জিনস অথবা স্কার্টের সঙ্গে টাইট ফিটিং টপ, টি-শার্ট যদি পরেন, উপরে পরে নিন জ্যাকেট বা কোট যাতে নিজেকে সফেস্টিকেটেড লুক দেওয়া যায়। যদি আউটফিট-টি ফুলস্লিভস হয়, তাহলে স্লিভলেস জ্যাকেট বা কোট আপনার সাজকে পারফেক্ট করে তুলবে।

 

প্রেমিকের ফ্লার্ট করা স্বভাব

 যে মানুষটিকে আমি ভালোবাসি সে পুরোপুরি আমাকেই ভালোবাসে কিনা নিশ্চিত হতে পারছি না৷এর মূল কারণ হল, ওর অনেক বান্ধবী রয়েছে। বিশেষত ও যেখানে কাজ করে সেখানে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তাদের সাথে একান্তে দেখা করে বলেও খবর পেয়েছি৷Flirting ওর স্বভাবসিদ্ধ৷

আমার Flirtatious Boyfriend -এর দিক থেকে সম্পর্কে থাকার আশ্বাস, ভরসা কোনওটাই ঠিক  পাচ্ছি নাসম্পর্কের ভিত হল  বিশ্বাস। আর সেখানেই যদি গলদ থাকে তাহলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা খুবই সমস্যার। কারণ সম্পর্কে সকলেই সুখে থাকতে চান। আমিও চাই৷ আর সেখানে দুজনের সমানভাবে কমিটেড থাকা প্রয়োজন। অহেতুক  নিরাপত্তাহীনতা  কাম্য নয়।

আমি জানি আমার প্রেমিক ওই বান্ধবীদের সঙ্গে সারাদিন ফোনে কথা বলে। চলে হোয়াটস অ্যাপে চ্যাট। অনেক সময় অফিস ট্রিপ বলে প্রায়ই নানা জায়গায় যায়৷এই আচরণ আমায় খুবই বিড়াম্বনায় ফেলে দেয়। আমি ওর সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু ও এড়িয়ে যায়আমি কিছু বললেই বলে এ নাকি আমার অমূলক সন্দেহ৷

আমি ওর বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললেই ও খুব রেগে যায়। এছাড়া আমার খুব খারাপ লাগে যে ওর ফোনের পাসওয়ার্ড আমি জানি না। ও যদি আমায় বিশ্বাস করত, তবে কি এমনটা করতে পারত ! ওকে বিয়ে করব ভেবেই সম্পর্কে এগিয়েছিলাম৷ এখন আমি দ্বিধায়৷ কী করব বলে দিন৷

 

প্রেমে পড়া ভালো,  তবে পছন্দের মানুষটিকে অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বাস থাকলে তবেই সম্পর্ক টিকবে। সব ভালো হলে শেষটা ভালোই হবে।

আপনি বলেছেন যে বয়ফ্রেন্ডের একাধিক বান্ধবী রয়েছে। আপনি এটাও বলেছেন যে উনি সেই বান্ধবীদের সঙ্গে চ্যাট করেন, এমনকী ঘুরে বেড়ান। আপনি ওকে বিয়ে করবেন কিনা এই নিয়ে দ্বিধায় আছেন৷ সেক্ষেত্রে আপনার সবার প্রথমে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আপনার বলা উচিত যে তার এই ব্যবহারের জন্য তাকে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

তবে কথা বলার সময় অবশ্যই আপনাকে সংযত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে এমন কোনও কথা বলা যাবে না, যাতে সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। তবে এখানে আরও একটা বিষয় বলা দরকার। আপনি যদি চান উনি নিজের বান্ধবীদের থেকে দূরে থাকবেন, তবে আপনাকেও অবশ্যই নিজের বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

প্রথমে কথা বলুন ও কিছুদিন লক্ষ্য করুন তার আচরণে পরিবর্তন হল কিনা ৷ এর পরও যদি সঙ্গী ওই একই কাজ করতে থাকেন, তবে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে একটা সিদ্ধান্ত আপনাকে নিয়ে ফেলতেই হবে। আসলে ওনার চরিত্রে এই ফ্লার্টিং-এর অভ্যাস থাকলে কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসা খুবই মুশকিল। সেক্ষেত্রে কয়েকদিনের জন্য সে হয়তো এই অভ্যাস থেকে দূরে থাকার ভান করবে কিন্তু তারপর সমস্যা দেখা দেবেই।

অনেক পুরুষ আছে যারা সঙ্গী থাকার পরও অন্য মেয়েদের সঙ্গে ফ্লার্ট করে। এটা শুধু স্বভাবের কারণেই করে থাকে। এসব স্বভাবের ছেলেদের থেকে সাবধান। কারণ সবসময় মনে রাখবেন, মানুষের সব পরিবর্তন করা গেলেও চরিত্র বদলানো যায় না।

বেশিরভাগ ছেলেদেরই একটু ‘ফ্লার্ট’ করা অভ্যেসের মধ্যে থাকে। একটা সময় পর্যন্ত এই স্বভাব বেশ ভালোই লাগে মেয়েদের। সম্পর্ক শরীর পর্যন্তও এগিয়ে যায়। কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার পরও যদি মনের টান না তৈরি হয়, তাহলে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো।

অন্যদিকে  বিশ্বাস থাকা ভালো কিন্তু অন্ধবিশ্বাস থাকা মোটেও ভালো নয়। আর প্রেমের ক্ষেত্রে এই ভুলটি করে ফেলেন বেশিরভাগ মানুষ। মনের মানুষ খুঁজে পাওয়ার আনন্দে এতটাই বিভোর হয়ে যান, যে মুখোশের আড়ালে প্রেমিকের আসল চেহারাটাই অদেখা থেকে যায়। যখন তা প্রকাশ্যে আসে তখন আফশোস ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। তাই আপনি আগে থেকে সতর্ক হয়েছেন এটা অত্যন্ত ভালো বিষয়। প্রেমিক যদি স্বাভাব বদলাতে রাজি না থাকে, তাহলে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো৷

সুগন্ধ যখন মৃত্যু পর্ব-০৬

রাতে এইসব ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল। সকালে উঠতে অনেকটা বেলা হয়ে যায়। অনেকটা বেজে গেছে। জলদি তমালের টিফিন করতে হবে। ফোনটা হাতে নিতেই চার পাঁচটা মেসেজ চোখে পড়ে হোয়াটসঅ্যাপে, শৈবালদা পাঠিয়েছে। তমাল আর বিমলকাকুর ছেলের ছোটোবেলাকার ছবি। কী মিষ্টি লাগছে দুজনকে। এখন উত্তর দেওয়ার সময় নেই। তবু অজান্তেই ঠোঁটের কোণে একটা আলগা হাসি জড়ো হয়।

কাল তমালের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় শৈবাল খানিক বকবক করে কস্তুরীর নাম্বারটা নেয়। বলে, ঘরে বসে বসে বোর হলে কখনও সখনও মেসেজ কোরো।

ওর আর নতুন কথা কী থাকবে? বাইরের দুনিয়া বলতে কিছুই নেই, একমাত্র বই ছাড়া। ফোনটাও নেহাত্ তমালের জন্যই নেওয়া। তমাল একরকম জোর করেছিল। বলেছিল, বাড়িতে ফোন করলে কাউকে পাওয়া যায় না। মা চব্বিশ ঘণ্টা টিভি দেখে, মোটামুটি দামের একটা মোবাইল নাও কখনও কথা বলার দরকারও তো পড়তে পারে।

এই যে, বাসি কাপড় ছেড়েছ নাকি ওটা পরেই রান্নাঘরে ঢুকলে?

না মা, আমি শাড়ি ছেড়েই এসেছি। আজ একটু উঠতে দেরি হয়ে গেল।

সে তো দেখতেই পাচ্ছি। তাড়াতাড়ি নাও। ছেলেটাকে একটু পেট পুরে খাওয়াতে পারি না ইচ্ছে থাকলেও, আমার তো বয়স বাড়ছে। কতদিন আর টানব? শ্রেষ্ঠা কতকিছু করে দেয় ছোটোটাকে। এত সকালে উঠতে পারি আমি? তুমি তো ভাত ছাড়া কিছুই পারো না।

শিখে যাব মা। রান্নাঘর ঝাঁট দিতে দিতে কস্তুরী বলে।

এতখানি বয়স হল কবে আর শিখবে বলো তো?

নতুন সকাল, একটা দিনের শুরু। অথচ কস্তুরী দিন শুরুর এই মুহূর্তগুলোতে রোজই জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে এমন একটা দিন আসুক, যে-দিনটা দেখে মনে হবে, অন্তত গোটা একটা ২৪ ঘন্টা ওর নিজস্ব হল। সম্পূর্ণ নিজের।

( ৪ )

নিজেদের ডিপার্টমেন্ট তো নয় যেন পুরো বৃন্দাবন। এ ওকে দাগা দিচ্ছে, এ অন্যেরটা ভাগাচ্ছে উফঃ ফাটাফাটি। রিমলি চেঁচিয়ে বলে।

বাংলা, বৃন্দাবন, বা বাল ব্রহ্মচারী…।

চুপ করতে কত নিবি ব্রত? দেখছিস একটা সিরিয়াস ম্যাটার নিয়ে কথা বলছি। সকাল থেকে মেয়েটা কিছু খায়নি। তার ওপর ফাজলামো মারছিস। তোর মুখ না জাঙ্গিয়া রে যে খুললেই বেরিয়ে পড়ে।

রিমলির কথা শুনে হো হো করে হেসে ওঠে ব্রত।

এই তো জীবন। যাক না যেদিকে যেতে চায় মন। বেয়ারা চালাও ফোয়ারা।

ওরে বাপ আমার। হল কী? দিল গার্ডেন গার্ডেন যে! পার্থ বলে।

আরে পার্থ। কতদিন পর। তা তোমার হাঁটু কাঁপা কমেছে বাপ?

এখন একটু কম কম। কাঁচুমাচু মুখে পার্থ ব্রত-র কথার উত্তর দেয়।

হাঁটু কাঁপে? পার্থর আর্থ্রারাইটিস হয়েছে জানতাম না তো? চোখ গোল গোল করে রিমলি জিজ্ঞেস করে।

এ হাঁটু কাঁপা সে হাঁটু কাঁপা নয় বন্ধু। এর ওষুধ স্বযং হনুমানজিও আনতে পারবেন না! দাঁত বের করে শিরশিরে মার্কা হাসি হাসে ব্রত।

উফঃ বল না? রিমলি জোর করে।

রূপার পাছা। হালকা টোনে শব্দদুটো বলে দেয় ব্রত।

সে কী? আঁতকে ওঠে রিমলি!

একদমই তাই। আজকাল রুপার পাছা দেখলে জোরসে কেঁপে উঠতে শুরু করছে আমাদের শ্রীমান পার্থর হাঁটু। অনেক চেষ্টা করেছে জানিস। কিন্তু কিছুতেই থামাতে পারে না। তুই এর কোনও উপায় করতে পারিস রিমলি?

না সত্যি আমার এর কোনও সলিউশন জানা নেই। কিন্তু…।

হ্যাঁ বন্ধুবর্গ, আমরা সবাই জানি আমাদের পার্থ আপাতত পাছাতেই কাছা মেরে রেডি হয়ে আছে যদি কিছু একটা করা যায়। ব্রত হাসে।

উফ তোরা থামবি। রিমলি বলে।

আরও একবার ভয়ানক হাসির রোল ওঠে রিমলি, ব্রত, আর পার্থর মধ্যে।

কী রে কস্তুরী চললি কোথায়?

বাড়ি গিয়ে একটা পড়ানো আছে। কাঁধে ব্যাগ তুলে উঠে দাঁড়ায় ও।

কেসটা কী রে রিমলি? পার্থ আর ব্রত প্রায় সমস্বরে বলে ওঠে।

আরে সেই অশরীরী প্রেমিক।

বলিস কী? অশরীরী কেন? ব্রতর মুখের হাঁ-টা আরও দ্বিগুন বেড়ে যায়।

বলছি দাঁড়া। কস্তুরী তোর এখন বাড়িতে কি না গেলেই নয়? ঘরে গিয়ে তো বালিশ ভেজাবি। আমাদের সঙ্গে থাকলে তাও মনটা…। তাছাড়া ও কোন হরিদাস পাল? তোর ওই চোখ দেখেই যে-কেউ অক্কা পাবে। দুদিনে লাইন লেগে যাবে ভাবছিস কেন? আরে আমি অনেকদিন থেকেই টের পাচ্ছি আমার এই সুন্দরী বান্ধবী তলে তলে ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে। হে হে রিমলির চোখকে ফাঁকি দেওয়া কী এতটাই সোজা? তাই আমি ওর বয়ফ্রেন্ড-এর নাম রেখেছি অশরীরী। দেখা যায় না কিন্তু যার কথা শোনা যায়। হাত টেনে জোর করে কস্তুরীকে বসিয়ে রিমলি কথাগুলো বলে যায়।

শিশুদের ডায়াবিটিজ

ডায়াবিটিজ-এর মতো ক্রনিক একটি রোগ সব বয়সের মানুষকেই প্রভাবিত করতে পারে। টাইপ ওয়ান ডায়াবিটিজ সাধারণ ভাবে বাচ্চা এবং কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তবে বাচ্চারাও এখন টাইপ টু ডায়াবিটিজ-এর শিকার হচ্ছে। শৈশবেই যদি সন্তান ডায়াবিটিজ রোগের শিকার হয়ে পড়ে, তাহলে মুষড়ে না পড়ে অভিভাবকদের উচিত সন্তানের সমস্যার সঠিক সমাধান মেনে চলা।

টাইপ টু ডায়াবিটিজ যুবক বয়সে এবং বয়স্ক মানুষদের মধ্যেই বেশি চোখে পড়ে। যেসব বাচ্চা এই ডায়াবিটিজ-এর শিকার, তাদের অভিভাবকদের পক্ষে বাচ্চার খেয়াল রাখা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। যখন মা-বাবা জানতে পারেন তাদের আদরের সন্তানকে সারাজীবন এই রোগটি বয়ে বেড়াতে হবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মা-বাবার মতো শিশুর মনের উপরেও এই রোগের প্রভাব পড়ে। তারা নিজেদের অন্য বাচ্চাদের থেকে আলাদা ভাবে কারণ, অনেক কিছু করতেই তাদের বারণ করা হয়। এর ফলে শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটতেও দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞের মতামতের উপর নির্ভর করে কিছু টিপস এখানে দেওয়া হল, যাতে Diabetes-এ পীড়িত বাচ্চাদের সঠিক দেখভাল তাদের অভিভাবকেরা করতে পারেন।

ডায়াবিটিজ-এর শিকার বাচ্চাদের জীবনশৈলী

ডায়াবিটিজ টাইপ-১ একটি ক্রনিক রোগ। এই রোগের শিকার যারা, তাদের প্যানক্রিয়াস-এ ইনসুলিন তৈরি হয় না অথবা তৈরি হওয়ার মাত্রা খুবই কম। তার ফলে বাইরের সোর্স থেকে শরীরকে ইনসুলিন দেওয়ার দরকার পড়ে।

এই রোগে আক্রান্ত বাচ্চারা অবসাদ এবং ক্লান্তি অনুভব করে। ডায়াবিটিজ বার্নআউট এমন একটি স্থিতি যেখানে ব্যক্তি ডায়াবিটিজ নিয়ন্ত্রণ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমনও দাঁড়ায়, যেখানে বাচ্চা নিজের ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল মনিটার করতে, রেকর্ড করতে বা ইনসুলিন নিতে বিরক্ত বোধ করে।

এই ক্ষেত্রে সন্তানের Diabetes ম্যানেজমেন্ট-এ, অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। বাচ্চাকে নিজের পরিস্থিতি নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দিন এবং সেই সঙ্গে বাচ্চাকে সঠিক পথে গাইড করুন এবং সম্পূর্ণ সহযোগিতা করুন।

ডায়াবিটিজ-এ আক্রান্ত বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া অভিভাবকের একটা বড় দায়িত্ব। ডায়াবিটিজ ম্যানেজমেন্ট-এ সবথেকে জরুরি হল ব্লাড সুগার লেভেলকে সঠিক রেঞ্জে রাখা। এর জন্য বাচ্চাকে ইনসুলিন দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। এছাড়াও ডায়েটে কার্বোহাইড্রেট-এর পরিমাণ সীমিত রাখা দরকার এবং বাচ্চার অ্যাক্টিভ থাকাটাও খুব প্রয়োজন।

রোজ ডাক্তারের পরামর্শমতো নির্ধারিত সময়ে ব্লাড সুগার মাপা উচিত। এর জন্য স্মার্টফোন কানেকটেড গ্লুকোমিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। এটির ব্যবহারে ব্লাডসুগার মনিটার করা খুবই সহজ হয়ে যায় এবং যখন যেখানে খুশি ব্লাড গ্লুকোজ মাপা সহজতর হয়ে ওঠে।

সন্তানের ডায়াবিটিজ থাকলে অভিভাবকদের যা কর্তব্য

প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত শাসন নয়: জীবনের অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থেকে বাচ্চাকে সুরক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। কিন্তু বাচ্চাকে স্বাধীনতা দেওয়া এবং নিজের জন্য তাকে স্পেস ছাড়াটাও দরকার। বড়োদের সাহায্যেই বাচ্চার নিজের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়তে পারে এবং সে নিজেই নিজের ডায়াবিটিজ ম্যানেজমেন্ট-এ পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বাচ্চার মধ্যেও আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে বাচ্চাকে সাহায্য করুন: বড়োদের উচিত বাচ্চার উৎসাহ বাড়ানো। যে-কাজ বাচ্চা করতে ভালোবাসে সেটা করার সুযোগ করে দিন। গান, নাচ, পেইন্টিং বা সুইমিং সবকিছুই বাচ্চাকে শেখার সুযোগ করে দিন। এতেই বুঝে যাবেন বাচ্চার কীসে উৎসাহ আছে।

বাচ্চাকে শেখান, কেউ ওকে বিরক্ত করলে ওর কী করা উচিত: প্রায়শই দেখা যায় ডায়াবিটিজ-এ পীড়িত বাচ্চাকে স্কুলে সহপাঠীরা বিরক্ত করে। এর ফলে বাচ্চার মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাহত হতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার উপর এগুলোর যেন কোনও ক্ষতিকারক প্রভাব না পড়ে। স্কুলে যেন সে ব্লাড গ্লুকোজ মনিটার করা বন্ধ না করে দেয়। বাচ্চাকে ট্রেনিং দিন এ ধরনের পরিস্থিতিতে তার কী করা উচিত এবং অন্য বাচ্চাদেরও বোঝান অন্যের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে তারা আপনার সন্তানকে বিরক্ত না করে। এর জন্য বাচ্চার সহপাঠীদের মা-বাবা, স্কুলের শিক্ষক এবং অন্য সঙ্গীদের সাহায্য নিতে পারেন।

বাচ্চাকে অভ্যাস করান সঠিক পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার: বাচ্চারা ফাস্টফুড, চকোলেট এইসব খেতে বেশি পছন্দ করে। কিন্তু ডায়াবিটিজ-এ পীড়িত বাচ্চার প্রয়োজন খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা। বাচ্চাকে বকার বদলে তাকে ভালো ভাবে বোঝান, পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেলে তারই বেশি উপকার হবে। দানাশস্য, টাটকা সবজি, ফল, লিন প্রোটিন, স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাট এগুলো ডায়েটে রাখাই তার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

খেয়াল রাখুন: যদি বাচ্চার মধ্যে অবসাদের লক্ষণ চোখে পড়ে যেমন ঔদাসীন্য, বিরক্তি, ক্লান্তি, খিদে ও ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন তাহলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নিয়মিত রিমাইনডার্স এবং নোটিফিকেশন-এর সাহায্যে, আরও ভালো ভাবে Diabetes নিয়ন্ত্রিত করা সম্ভব হবে। ডায়াবিটিজ ম্যানেজমেন্টের জন্য বিটো অ্যাপ সবরকম প্রয়োজনীয় সমাধান দিয়ে থাকে।

ডায়াবিটিজ-এ আক্রান্ত শিশুর যত্ন নেওয়া যে-কোনও অভিভাবকের পক্ষেই চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। অভিভাবকেরা যদি কোনও ডায়াবিটিজ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে নিজের নিজের সমস্যা নিয়ে সেখানে আলোচনা করতে পারেন। একে অপরের সঙ্গে পরামর্শ আদানপ্রদান করতে পারেন। প্রয়োজনে নোটস তৈরি করুন। এছাড়াও পরিবারের সাহায্য নিন। এই বাচ্চাদের জন্য পরিবারের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভমিকা গ্রহণ করতে পারে।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব