অনুশোচনা

জিনিসপত্র নামিয়ে পরিষ্কার করতে করতে হঠাৎই শ্রেয়ার চোখ পড়ল অবহেলায় পড়ে থাকা ছোট্ট আংটির কৗটোটার উপর। ও জানে এতেই বিপুলের দেওয়া হিরের আংটিটা রয়েছে যেটা বিয়ের রাতে যত্ন করে শ্রেয়ার আঙুলে পরিয়ে দিয়েছিল বিপুল। পুরোটাই আজ দুঃস্বপ্ন মনে হয় শ্রেয়ার। কবে থেকে চেষ্টা করছে এটাকে মন থেকে মুছে ফেলতে কিন্তু পারছে কই? মনের গভীরে আজও বিপুল নামের কাঁটাটা কোথাও যেন খচখচ করে বাধে। একসময় যাকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে শ্রেয়া ভালোবেসেছিল আজ সে-ই তার সবথেকে বড়ো দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কী করে ভুলবে শ্রেয়া নিজের সাতাশতম জন্মদিনের আগের দিনের সন্ধেটাকে, যেদিন বিপুলের সঙ্গে সঙ্গে নিজের বোনকেও সারাজীবনের মতো হারিয়ে ফেলেছিল ও।

সেই বোন যাকে কিনা মায়ের স্নেহে আগলে রেখেছিল শ্রেয়া, যার জন্য সারা পৃথিবীর সঙ্গে লড়ে যাওয়ার সাহস রাখত সেই-ই কিনা বিপুলকে ওর কাছ থেকে কেড়ে নিল। বিপুলের কাছেও শ্রেয়া কতবার স্বীকার করেছে যে পরমা শুধু ওর বোন নয়, সন্তানও বটে। প্রচণ্ড ভালোবাসত ওকে, ওর কষ্ট শ্রেয়া সহ্য করতে পারত না। একবারও তো ওর মনে হয়নি সেই বোনকেই মাধ্যম করে বিপুল ওকে এমন কষ্টের মুখে এনে দাঁড় করিয়ে দেবে যে, জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই অকারণ হয়ে দাঁড়াবে শ্রেয়ার জন্য।

মনটা অদ্ভুত এক বিতৃষ্ণায় ভরে ওঠে। প্রতিবার এমনটাই হয়। বিপুল আর পরমার কথা মনে হতেই পুরোনো স্মৃতি তাজা হয়ে ওঠে। ‘শ্রেয়া… শ্রেয়া… কী হল তোমার?’ পিছন থেকে সৌম্যর ডাকে ঘোর কাটে শ্রেয়ার। সম্বিতে ফিরে আসে ও। বর্তমানে এসে দাঁড়ায়, যেখানে ওর স্বামী সৌম্য আর ছেলে বুবাই অস্থির হয়ে ওর অপেক্ষা করছে।

‘শ্রেয়া, তুমি বোধহয় ভুলে গেছ আমাদের অর্ঘ্যর ওখানে যাওয়ার কথা’, সৌম্য মনে করায়।

‘অ্যারে, হ্যাঁ আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। দশ মিনিট দাও, আমি চট্ করে তৈরি হয়ে নিচ্ছি’, বলে শ্রেয়া সবকিছু ছেড়ে বাথরুমের দিকে পা বাড়ায়।

তৈরি হতে হতে নিজেকেই দোষারোপ করতে থাকে, কেন ও আজ আবার পুরোনো ঘটনার স্মৃতি হাতড়াতে শুরু করেছিল? কেন বিপুলকে ও পুরোপুরি ভুলতে পারছে না? বিপুল কোনওদিনও ওর অনুভূতির তোয়াক্বা করেনি বরং বিশ্বাসঘাতকতাই করেছে। পরমাকে ফুসলে নিয়ে গেছে, দ্বিতীয়বার আর ফিরে আসেনি। সৌম্যই বরং ধৈর্য এবং ভালোবাসা দিয়ে শ্রেয়াকে অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

বিপুলের বিশ্বসঘাতকতা যতবারই শ্রেয়ার মনে পড়ে, সৌম্যর প্রতি নিজের ভালোবাসা আরও যেন একটু গাঢ় হয়ে ওঠে। আজও তার অন্যথা হল না। সৌম্যর পছন্দের নীল রঙের শাড়ি সঙ্গে ম্যাচিং শৃঙ্গার সেরে শ্রেয়া তৈরি হয়ে নিল।

শ্রেয়াকে দেখে সৌম্যর মুখে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠল। অনেকদিন পর আজ ওরা তিনজন একসঙ্গে কোথাও বেরিয়েছে। সারাটা রাস্তা বুবাইয়ের দুষ্টুমি আর সৌম্যর মজা করার অভ্যাস, শ্রেয়াকে তিক্ততা ভুলিয়ে আনন্দে ভাসিয়ে দিল। অর্ঘ্যর ছেলের উপনয়ণ উপলক্ষে বেশ ভালোই অতিথি সমাগম হয়েছিল সুতরাং সৌম্যরাও সেই ভিড়ে মিশে গেল। সকলের সঙ্গে কথাবার্তায় দুজনেই ব্যস্ত হয়ে উঠল। বুবাইও বন্ধু পেয়ে খেলায় জমে গেল।

হঠাৎই ওই ভিড়ের মধ্যে কেউ শ্রেয়ার পিঠে হাত ছোঁওয়াতে চমকে ও পিছনে তাকাল। ওর ঠিক পিছনেই একজন বয়স্ক মহিলা দাঁড়িয়ে। মহিলার মুখের দিকে তাকাতেই শ্রেয়ার মুখ রক্তশূন্য হয়ে পড়ল, গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরোল না।

মহিলাকে চিনতে এতটুকুও দেরি হয়নি শ্রেয়ার যদিও বহু বছর পর আবার দেখা। উনি বিপুলের মা। আজও ওনার চোখদুটি স্নেহ ও মমতায় ভরা। হঠাৎই পুরোনো আবেগ শ্রেয়ার দু’চোখে ফুটে উঠল। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারল না শ্রেয়া, বড়ো বড়ো দুটো চোখে জল ভরে উঠল। কিছু না ভেবেই বিপুলের মা-কে দুই হাতে জড়িয়ে ধরতে হু হু করে চোখে জল এসে পড়ল শ্রেয়ার।

বিপুল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এই প্রথম শ্রেয়া বিপুলের মাকে এভাবে জড়িয়ে ধরে স্বান্তনা খুঁজতে চাইল। বিপুলের মা-ও শ্রেয়াকে বুকের মধ্যে চেপে ধরলেন যেন ওর দুঃখকে তিনি নিজের হৃদয় দিয়ে সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর। শ্রেয়াই নিজে এই দূরত্ব তৈরি করেছিল। শুধু ওনার সঙ্গেই নয়, বিপুলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন সবকিছু থেকেই ও দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছিল। ও চাইত না কেউ ওকে বিপুলের কথা মনে করাক কিন্তু আজ হঠাৎ কী হল, ও টের পেল সেই পুরোনো স্মৃতির অতলস্পর্শী গহ্বরে ও ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ-ই শ্রেয়ার হুঁশ ফিরল। এটা ও কী করছে? না, ও কারও কাছেই নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে চায় না… পুরোনো স্মৃতি এভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে জীবনের নতুন অধ্যায়-কে কিছুতেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।

এক ঝটকায় শ্রেয়া নিজেকে বিপুলের মায়ের আলিঙ্গন থেকে মুক্ত করে নিল। সৌম্য-র দিকে চোখ পড়তেই খেয়াল হল, সৌম্য ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। কোনওরকমে চোখের জল লুকিয়ে শ্রেয়া দৌড়ে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। সৌম্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল বিপুলের মায়ের সঙ্গে কথা বলতে।

বাড়ি ফেরার পথে সারাটা রাস্তা শ্রেয়া অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে রইল। মনের ভিতরে ওঠা ঝড়ের আঁচ বাইরে কারও গায়েই লাগল না। যাকে নিয়ে একদিন ও স্বপ্ন দেখেছিল, সেই-ই নিজে থেকে নির্মম ভাবে ওকে তার জীবন থেকে উপড়ে ফেলে দিয়েছিল।

সারাটা রাত না চাইতেও শ্রেয়া বিপুলের কথা ভেবে কাটাল। চোখের সামনে পুরোনো ঘটনাগুলো একের পর এক সরে যেতে থাকল। একে অপরের হাত ধরে সারা জীবন একসাথে পথ চলার প্রতিজ্ঞা, ভবিষ্যতের সোনালি স্বপ্নে একসাথে বিভোর হয়ে যাওয়া– সবকিছুই মনের মধ্যে এসে ভিড় করতে লাগল।

বিপুল বরাবরই অল্প কথার মানুষ এবং অন্তর্মূখী প্রকৃতির। শ্রেয়া এতদিনেও বুঝতে পারেনি কবে থেকে হঠাৎ-ই বিপুল আর পরমা এতটা কাছাকাছি চলে এল যে, পরমাই বিপুলের জীবনের সর্বস্ব হয়ে উঠল এবং শ্রেয়াকে দুধে পড়া মাছির মতো নিজের জীবন থেকে ছুড়ে ফেলে দিল।

বিপুলের উপর শ্রেয়ার এতটাই ভরসা ছিল যে, ও কখনওই ভাবেনি বিপুল ওর সঙ্গে কোনওরকম অন্যায় করতে পারে অথবা ওর আদরের বোন ওর সঙ্গে এরকম একটা বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। তখন পরমা গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছিল। শ্রেয়াই বিপুলকে রাজি করিয়েছিল পরমাকে একটু পরীক্ষার জন্য তৈরি করে দেওয়ার জন্য। তখন ও কি একবারও ভেবেছিল ও নিজেই নিজের পায়ে কুড়ুল মারছে?

সেই দিনটা আজও শ্রেয়ার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সন্ধেবেলায় বিপুলের ফেরার অপেক্ষায় ছিল শ্রেয়া। কথা ছিল বিপুলই অফিস ফেরতা পরমাকে ওর বন্ধুর বাড়ি থেকে নিয়ে আসবে। ক্লান্ত হয়ে পরমা বাড়ি ফিরতেই শ্রেয়াকে দেখে ওর গলা জড়িয়ে ধরে পরমা কাঁদতে শুরু করে দিল। পিছনে দাঁড়িয়ে বিপুল পরমাকে চেয়ারে বসতে ইশারা করল। তারপর শ্রেয়ার মুখোমুখি হয়ে বলল, ‘শ্রেয়া আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই।’

‘সেটা পরেও বলা যেতে পারে, আগে দেখি পরমার আবার কী হল…ও আবার কেন কান্নাকাটি করছে?’

‘আমিই কারণ, শ্রেয়া’, বিপুল শ্রেয়ার একেবারে সামনে এসে বলল।

‘মানে?’ চমকে ওঠে শ্রেয়া।

‘মানে, পরমা আমার কারণেই কাঁদছে।’

‘তোমার কারণে কাঁদছে মানে কী?’ শ্রেয়া কিছুই বুঝতে পারে না।

‘আমি জানি শ্রেয়া, এটা তোমার পক্ষে মেনে নেওয়া খুব মুশকিল কিন্তু ব্যাপারটা আর চেপে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি পরমাকে ভালোবাসি, ওকে আমি বিয়ে করতে চাই।

শ্রেয়ার মনে হল ও কিছু ভুল শুনল বা ওর কিছু বোঝার ভুল হচ্ছে। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী? তুমি পরমাকে ভালোবাসো? আর আমি? আমি তোমার বিয়ে করা বউ। আমাকে তুমি ভালোবেসেই বিয়ে করেছিলে। আমি তোমার এই কথা একেবারেই বিশ্বাস করছি না।’

শ্রেয়া বিপুলের সামনে থেকে সরে এসে পরমার সামনে এসে দাঁড়াল, ‘বিপুল কী বলছে পরমা? এসব কী? তুই ঠিক করে বল, বিপুলের প্রতিটা কথা মিথ্যা না-রে? তুই সত্যিটা আমাকে বলতো…’।

‘দিদি, আমি নিজেই জানি না আমার জীবনে কী হতে চলেছে? তাহলে আমি তোকে আর কী বলব?’

‘শুধু এটুকু বল, তুই আর বিপুল কি একে অপরের সঙ্গে সারাটা জীবন কাটাতে চাস? বিপুল যেটা বলল সেটা কি সব সত্যি?’

পরমা দিদির দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারে না। মাথা নীচু করে সায় দেয়। শ্রেয়া আর কিছু বলতে পারে না। ছিটকে সরে দাঁড়ায় একপাশে। জলে ভেসে যেতে থাকে ওর দুই চোখ।

এই ঘটনার পর বিপুল শ্রেয়ার চোখে চোখ রেখে কথা বলাও বন্ধ করে। শ্রেয়ার

মা-বাবা না থাকাতে, পরের দিনই শ্রেয়া নিজের এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিল। বন্ধুর চেষ্টায় একটা চাকরি জোটাতেও খুব বেশি কষ্ট করতে হল না। পড়াশোনাতে শ্রেয়া বরাবরই তুখোড় ছিল। বন্ধুর সাহায্যেই ডিভোর্সের জন্য কোর্টে আবেদন জানাল। ছয় মাসের মধ্যে বিপুলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে নিলেও মন থেকে কিছুতেই ভুলতে পারল না শ্রেয়া।

এদিকে ডিভোর্স পাবার পর বিপুল পরমা-কে নিয়ে শহর ছেড়ে অন্যত্র কোথাও চলে গেল কাউকেই প্রায় না জানিয়ে। শ্রেয়া খবর প্রায় বিপুল অন্য শহরে ট্রান্সফার নিয়েছে। চেনা পরিচিত সকলের সঙ্গেই বিপুল আর পরমা সমস্ত সম্পর্ক ত্যাগ করে। বিপুল একবারের জন্যেও শ্রেয়ার সঙ্গে কোনও কথা বলার চেষ্টা করে না। শ্রেয়া এবং বিপুলের সম্পর্কের ইতি ঘটে এভাবেই।

এর পরপরই শ্রেয়ার জীবনে আসে সৌম্য। বন্ধুদের চাপে সৌম্যকে বিয়ে করায় মনস্থ করলেও, নিজের মন-কে বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ে শ্রেয়ার জন্য। এদিকে সৌম্য স্বভাবে এবং ব্যবহারে শ্রেয়ার মন জয় করে নিতে পারলেও, ভালোবাসার প্রতি একটা অসীম উদাসীনতা এবং ব্যথা শ্রেয়ার হূদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নেয়, হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও মনের শূন্যতা সহজে ভরাতে পারল না শ্রেয়া। বছর কেটে তৃতীয় বছরের মাথায় ওদের ছোট্ট পরিবারে নতুন সদস্য যোগ হল বুবাই।

সকালে উঠে শ্রেয়ার মনে হল, ওর মাথার উপর কেউ যেন একটা ভারী পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। ভাবল, সৌম্য বুবাই-কে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিস চলে গেলে একটা ওষুধ খেয়ে ও আবার শুয়ে পড়বে। একটু ঘুমোলে হয়তো শরীরটা হালকা লাগবে। বাড়ির কাজ কিছুটা গুছিয়ে নিতে নিতে বারোটা বেজে গেল। ক্লান্ত হয়ে শুতে যাবে, দরজার বেলটা বেজে উঠল। এ-সময়ে আবার কে এল, ভাবতে ভাবতে আনমনে উঠে গিয়ে সদর দরজা খুলতেই শ্রেয়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে উঠল।

সামনে দাঁড়িয়ে বিপুল। ক্লান্ত, চিন্তিত যেন বহুদিন ধরে অসুস্থ। এক সেকেন্ড লেগে গিয়েছিল শ্রেয়ার বিপুলকে চিনে উঠতে। মাথার চুল অবিন্যস্ত, বেশির ভাগই সাদা হয়ে গেছে। চোখের নীচে কেউ যেন কালি ঢেলে দিয়েছে। ফরসা টকটকে রং তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে।

শ্রেয়া নিজেকে শক্ত করে। স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি… এখানে? হঠাৎ কী ব্যাপার? কেন এসেছ? আমি তোমার সঙ্গে কোনও কথা বলতে চাই না।’

ক্লান্ত স্বরে বিপুল বলে, ‘ঠিক আছে শ্রেয়া, আমি শুধু এই চিঠিটা তোমাকে দিতে এসেছি’, বলতে বলতে বিপুলের চোখ জলে ভরে আসে। কোনওমতে চিঠিটা শ্রেয়ার হাতে ধরিয়েই দ্রুত শ্রেয়ার চোখের সামনে থেকে সরে গিয়ে রাস্তার ভিড়ে মিশে যায়।

পাথরের মতন খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শ্রেয়া দৃষ্টি প্রসারিত করে। যার কথা মনে করতে ওর এতদিন ঘেন্না করত সেই-ই আজ কিছুক্ষণ আগে ওর চোখের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। মনে মনে ও সব সময় চেয়েছে, যে মানুষটা ওর জীবন কান্নায় ভরিয়ে দিয়ে গেছে, সে কখনও যেন জীবনে সুখী হতে না পারে। কিন্তু আজ চোখের সামনে বিপুলকে দেখে আর ওর চোখের জল শ্রেয়াকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিল। ও কোনওমতে দরজা বন্ধ করে বিছানায় এসে বসল। বিপুলের এমন হাল কী করে হল জানতে মনটা ছটফট করতে লাগল। কিন্তু জানার উপায় কী তা কিছুই বুঝে পেল না। হঠাৎ-ই চিঠিটার কথা মনে পড়তে, বিছানায় পড়ে থাকা চিঠিটা খুলে বসল শ্রেয়া। পরমার হাতের লেখা দেখে ওর মন কেঁদে উঠল কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো কথাও আবার মনে পড়ে যেতে নিজেকে সামলে নিল শ্রেয়া। কিছুটা অন্যমনস্ক হয়েই চিঠিটা পড়া শুরু করল ও।

পরমা লিখেছে, ‘দিদি, আমি জানি ক্ষমা চাইবার আমার কোনও অধিকার নেই, তবুও আমি তোর কাছে ক্ষমা চাইছি। হয়তো যতক্ষণে তুই চিঠিটা হাতে পাবি আমি তখন আর এই পৃথিবীতে থাকব না। এতদিন আমি তোর কাছে অনেক কিছু লুকিয়েছি, কিন্তু আর নয়। তোকে সত্যিটা বলে আমি কিছুটা শান্তি পেতে চাই যাতে নিশ্চিন্তে আমি সকলকে ছেড়ে যেতে পারি।

তোর বিপুলকে আমি কোনওদিনই ভালোবাসতাম না। ও সবসময় তোরই ছিল, এখনও তোরই আছে। তোকেই ও ভালোবাসে। আর সেইজন্যই তোর আদরের বোনের জীবন বাঁচাতে ও এতবড়ো বলিদান দিতে সেদিন প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল, মানে আমাকে বিয়ে করেছিল।’

‘দিদি, কলেজেরই একটি ছেলে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাকে ব্যবহার করে। প্রথম প্রথম আমি খুবই ভেঙে পড়েছিলাম কিন্তু পরে ঠিক করি ছেলেটিকে আমি ঠিক কোনও ভাবে রাজি করিয়ে নিতে পারব আমাকে বিয়ে করতে। কিন্তু তার আগেই একটি দুর্ঘটনায় ছেলেটি মারা যায় আর তার ঠিক দুই-তিনমাস বাদেই আমি নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমি অন্তঃস্বত্ত্বা। ডাক্তারের কাছে গিয়েও লাভ হয়নি কারণ ডাক্তার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে গর্ভপাত করানো হলে আমার জীবনসংশয় হতে পারে।

সেদিন হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় বিপুলের মুখোমুখি হয়ে পড়ি। ও ওর কোনও এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছিল ডাক্তার দেখাতে। সেদিন আমি ঠিকই করেছিলাম বিষ খাব কিন্তু বিপুল তোর কথা তুলে আমার কাছ থেকে পুরো ঘটনা জেনে নেয়। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে এটা জানাজানি হলে তোরাও সমাজে মুখ দেখাতে পারবি না।

বিপুলই আমাকে সাহস দেয়। তোদের নতুন বিয়ে হয়েছিল কিন্তু বিপুলের মনে হয় তোকে ছেড়ে যদি আমাকে বিয়ে করে তাহলে তুই পরে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারিস কিন্তু আমাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি হবে না। ও আমার সন্তানকে নিজের নাম দিতে রাজি হয়ে যায়। তোর কথা ভেবেই ও এই বলিদান দিতে রাজি হয়ে যায়। আর এই কারণেই ও ট্রান্সফার নেয় অন্য শহরে যাতে কেউ জানতে না পারে যে বিয়ের আগেই আমি গর্ভবতী হয়ে পড়েছি।

আমি ভেবেছিলাম সব ঠিকঠাক হয়ে গেলে তোর কাছে ফিরে আসব আর যা সত্যি সেটা তোকে বলে দেব। কিন্তু বিপুল আমাকে আটকে দেয় এই বলে যে, সব সত্যি জানতে পারলে তুই আর বিয়ে করবি না আর সারাটা জীবন একা একাই কাটিয়ে দিবি। তোর বিয়ের খবর পেয়ে আমরা ফিরে আসব ঠিক করি কিন্তু তার পরপরই আমার শরীর খারাপ হওয়া শুরু হয়। আর তোর সামনে গিয়ে দাঁড়াবার সাহসও কিছুতেই করতে পারছিলাম না।

প্লিজ দিদি, আমাকে ক্ষমা করে দিস। তুই যাকে মন থেকে চেয়েছিস তাকেই আমি তোর থেকে দূর করে দিয়েছি। কিন্তু বিশ্বাস কর আজ পর্যন্ত বিপুল আমাকে ছোঁয়নি পর্যন্ত। ও আজও পুরোপুরি তোর।

ইতি তোর বোন পরমা’।

চিঠি পড়তে পড়তে চোখের জলে ভাসতে থাকে শ্রেয়া। বিপুলের বিশ্বাসঘাতকতা যেমন ওর মনকে পুড়িয়ে দগ্ধ করেছিল, তেমনি ওর আত্মত্যাগ আজ শ্রেয়ার মনে একটা শীতল পরশ বুলিয়ে দিল। কিন্তু বোনের ব্যথা অশ্রু হয়ে শ্রেয়ার চোখ বেয়ে অঝোরে ঝরে পড়তে লাগল।

খালি মনে হতে লাগল, কী করে ও জানতে পারবে বিপুল আর ওর বোনের ঠিকানা? ভাবতে ভাবতেই চোখ বুজে বিছানায় শুয়ে পড়ল শ্রেয়া। কখন ঘুমের অতলে তলিয়ে গেল হুঁশ রইল না ওর। যখন ঘুম ভাঙল, দেখল সৌম্য অফিস থেকে ফিরে এসেছে, নিজেই চা বানাতে ব্যস্ত। গ্লানি অনুভব করল শ্রেয়া, কী করে ও সৌম্যর ফেরা বুঝতে পারল না। তাড়াহুড়ো করে উঠতে গিয়ে মাথাটা ঘুরে গেল ওর। ও এসে আবার খাটে শুয়ে পড়ল।

তখনই চা নিয়ে ঢুকল সৌম্য। শ্রেয়ার চা-টা বিছানার পাশে টেবিলে দিতে দিতে শ্রেয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘চা খেয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও, আমাদের বেরোতে হবে।’

শ্রেয়া উদাস চোখে সৌম্যর চোখে চোখ রাখল, ‘না, আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না। তুমি চলে যাও। বুবাই-ও টিউশন থেকে এখনই চলে আসবে। কাউকে তো একটা বাড়িতে থাকতে হবে।’

‘বুবাই-র ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি। পাশের বাড়ির অনিতাদি ওকে নিয়ে এসে ওখানেই রাখবে। ওর ছেলের সঙ্গে দিব্যি বুবাই থেকে যাবে। তোমাকে আমার সঙ্গে যেতেই হবে’, সৌম্য জোর দিয়ে বলে।

সুতরাং কোনও উপায় দেখতে না পেয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শ্রেয়া সৌম্যর সঙ্গে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নেয়। বিরসমুখে সোজা সৌম্যর সঙ্গে গাড়িতে গিয়ে বসে। জিজ্ঞাসা করতেও ইচ্ছা করে না, সৌম্য ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? গাড়ি এসে একটা নার্সিংহোমের সামনে দাঁড়ায়। চোখে প্রশ্ন নিয়ে শ্রেয়া স্বামীর দিকে তাকায়।

‘শ্রেয়া চলো, পরমা-কে দেখতে চাও না তুমি?’

সৌম্যর গম্ভীর স্বরে শ্রেয়ার ঘোর ভাবটা কেটে যায়। চমকে ওঠে ও। অস্ফুট স্বরে প্রশ্ন করে, ‘সত্যিই পরমা হাসপাতালে…’, বলতে বলতে মিলিয়ে যায় শ্রেয়ার স্বর।

সৌম্য শ্রেয়ার ঠান্ডা হাতটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে সামান্য চাপ দেয় যেন নিজের শরীরের উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে চায় শ্রেয়ার দেহ-মনে। বলে, ‘কিছু চিন্তা কোরো না শ্রেয়া, ব্যস তাড়াতাড়ি চলো। পরমার কাছে সময় খুব কম।’

প্রায় দৌড়েই ওরা দু’জন নার্সিংহোমের ভিতরে এসে ঢোকে। পরমা বিছানার সঙ্গে প্রায় মিশে গেছে। জীবনযুদ্ধে পরাজয়ের যন্ত্রণা ওর সারা মুখে। যে অপরাধবোধ ওর মনে বোঝা হয়ে চেপে বসেছে সেটাই আজ ক্যান্সার হয়ে আঘাত হেনেছে ওর দেহে।

পরমাকে দেখে শ্রেয়ার গলা দিয়ে একটা আওয়াজও বেরোল না। কিন্তু ওর হাতের স্পর্শ পেতেই পরমা চোখ খুলে তাকাল। শ্রেয়াকে দেখেই ‘দিদি’ বলেই ওর চোখ জলে ভরে উঠল, ‘আমাকে ক্ষমা করে দে দিদি… নয়তো আমি মরেও শান্তি পাব না।’

‘না পরমা কথা বলিস না। তোর কোনও দোষ নেই। যা হওয়ার তাই হয়েছে। এতে তোর কী দোষ? তুই নিজেকে কেন শুধু শুধু দোষ দিচ্ছিস?’ শ্রেয়া থেমে থেমে বলে।

‘আমি আর ভালো হব না-রে দিদি। ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজ। তোকে দেখব বলেই আমার নিশ্বাস এতদিন আটকে ছিল। শুধু তুই বিপুলকে ক্ষমা করে দে’, বলে পরমা বিপুলের হাতটা তুলে দেয় শ্রেয়ার হাতে।

বিপুলের কান্নাভেজা চোখের দিকে এক ঝলক তাকিয়েই শ্রেয়া বলে, ‘পরমা, বিপুল তো কোনও ভুল করেইনি। ও তো শুধু স্যাক্রিফাইস-ই করেছে। সেক্ষেত্রে আমি ক্ষমা করার কে?’

শ্রেয়ার কথা শুনে পরমার চোখের অস্থিরতা মুহূর্তে কেটে গেল যেন একটা গভীর অপরাধবোধ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন জীবনে পা রাখল ও। অনেকক্ষণ পর্যন্ত শ্রেয়া পরমার হাত নিজের হাতে নিয়ে চুপচাপ বসে রইল।

ডাক্তার আগেই জবাব দিয়ে দিয়েছিল। সেই রাতটা শ্রেয়া পরমার সঙ্গে থাকতে চাইছিল কিন্তু সৌম্যর বলাতে বাড়ি আসতে রাজি হয়ে গেল।

রাস্তায় আসতে আসতে গাড়িতে বসে শ্রেয়া পরমার চিন্তাতে ডুবে গেল। আজ এতগুলো বছর পর বোনটাকে দেখতে পেয়ে অদ্ভুত একটা প্রশান্তিতে ছেয়ে গেছে ওর মন। ওর নিজের প্রতি বিপুলের অটল ভালোবাসা অনুভব করে শ্রেয়া মনে মনে আবার নতুন করে বিপুলের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতে লাগল। আজ কারও বিরুদ্ধে ওর কিছু বলার ছিল না, শুধু বিপুল আর পরমার প্রতি ভালোবাসা ছাড়া আর কোনও আবেগ অনুভূত হল না।

তখনই হঠাৎ ওর মনের ভিতর প্রশ্ন জাগল, ও সৌম্যর সঙ্গে কোনওরকম অন্যায় করতে যাচ্ছে না তো? ‘সৌম্য, তুমি কী করে জানলে পরমা ওই নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছে?’ শ্রেয়া জিজ্ঞাসা করে।

সৌম্য একটু থেমে উত্তর দেয়, ‘তুমি কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলে, বিছানার উপর খোলা চিঠিটা পড়েছিল। চিঠিটা পড়তেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায় আমার কাছে। আমি চিন্তা করছিলাম পরমার কাছে তোমাকে কী করে নিয়ে যাব। তখনই হঠাৎ বিপুলের মায়ের কথা মনে পড়ে। সেদিন পার্টিতে আমি ওনার ফোন নম্বর নিয়ে নিয়েছিলাম। ওনাকে ফোন করেই জানতে পারি পরমা এখানেই অ্যাডমিট রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি…’

শ্রেয়া সৗম্য কাঁধে মাথা রাখতে রাখতে বলে, ‘সৌম্য তোমাকে কীভাবে ধন্যবাদ জানাব আমি জানি না…।’

‘আমাকে নয় শ্রেয়া, বিপুলকে ধন্যবাদ দাও। ও তোমার জন্য নিজেকে নিঃস্বার্থ ভাবে উজাড় করে দিয়েছে। পরমার যদি কিছু হয়ে যায় ওকে আর হারিয়ে যেতে দিও না শ্রেয়া। আমাদের বাড়ির কাছাকাছি কোথাও একটা থাকার জায়গা দেখে ওকে ওখানে থাকার জন্য তোমাকেই ওকে বাধ্য করতে হবে। এতে আমাদের সঙ্গে ওর সম্পর্কটাও টিকে থাকবে আর বিপুলও এই পৃথিবীতে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়বে না। এছাড়াও পরমা-র সন্তানের দেখাশোনার ভারও তুমি নিজের উপর তুলে নিতে পারবে।’

সৌম্যর মতামত শুনে শ্রেয়ার মন থেকে একটা ভারী পাথর সরে গেল। ও নিশ্চিন্ত হয়ে সৌম্যর কাঁধে মাথা রাখল। এখন বিপুলের প্রতি ওর যেটুকু কর্তব্য সেটা বিনা বাধায় ও পালন করতে পারবে। ওর স্বামী ওকে বিশ্বাস করে, সুতরাং তাদের এই সম্পর্কটাকে স্বাধীনতা দিতে সৌম্যর বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ হয়নি। বিপুলের সঙ্গে নিজের সম্পর্কটাকে শ্রেয়া যতটা না ভালো করে বুঝতে পেরেছে, শ্রেয়া নিশ্চিত যে তার থেকে অনেক ভালো করে সৌম্য সেটা বুঝতে পেরেছে।

ফুসফুস সুস্থ রাখার উপায়

শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্গ্যান হল ফুসফুস। সতর্কতা এবং যত্নের অভাবে, ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে নিউমোনিয়া, যক্ষা, এমনকী ক্যান্সার-এও। তাই, ফুসফুসকে সুস্থ রাখতেই হবে।খাদ্যতালিকায় খাদ্য উপাদানের সঠিক উপস্থিতি ফুসফুস ভালো রাখতে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ও সচল রাখতে সাহায্য করে থাকে। কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে না, সেজন্য চাই স্বাস্থ্যকর খাবার সমৃদ্ধ তালিকা। আর এর জন্য কী খেলে উপকার পাবেন তা জেনে নিন।

দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, নানা বীজ জাতীয় খাবার ইত্যাদি প্রোটিনের উত্স হিসেবে কাজ করে থাকে। প্রতিদিন পরিমাণ মতো প্রোটিন খাবার তালিকায় রাখলে তা শ্বাসযন্ত্রের পেশি বা ফুসফুসের পেশির কার্যকারিতা সঠিক রাখে।

লাল চাল, লাল আটা বা এদের তৈরি সামগ্রী, ওটস্, বার্লি ইত্যাদি ফুসফুস ভালো রাখতে কার্যকর। এগুলো থেকে যে খাদ্য আঁশ পাওয়া যায় তা যেমন ফুসফুসের জন্য উপকারী তেমনি এতে রয়েছ এন্টি অক্সিডেন্ট, এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য, ভিটামিন-ই, সেলেনিয়াম ও অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড, যা ফুসফুসের কার্যকারিতা সঠিক রাখতে ও ফুসফুসকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

আর কী খাবেন?

হলুদ : সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রস পান করুন সকালে। কারণ, হলুদে থাকা অ্যান্টি অক্সিড্যান্টস এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, ফুসফুসকে সুস্থ রাখে এবং এর কার‌্যকরি ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

ভেষজ চা : আদা, তেজপাতা, হলুদ, লেবু এবং দারচিনি দিয়ে তৈরি লিকার-চা পান করলে ফুসফুস সুস্থ থাকবে।

মুসুর ডাল : মুসুর ডালে ভরপুর পরিমাণে থাকে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, এবং পটাশিয়াম। তাই প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মসুর ডাল রান্না করে খেলে, ফুসফুসের কার‌্যকরি ক্ষমতা বাড়বে।

টম্যাটো : ক্যারোটিনয়ে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস সমৃদ্ধ থাকে টম্যাটো। নিয়মিত টম্যাটো খেলে ফুসফুস ঠিক থাকবে এবং হাঁপানির হাত থেকে বাঁচবেন।

আপেল : প্রতিদিন একটা করে আপেল খাওয়া ভালো। কারণ, ভিটামিন সি ছাড়াও, ফ্লাভোনয়েস এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস-এ সমৃদ্ধ থাকে আপেল। তাই, আপেল খেলে ফুসফুস ভালো থাকবে।

আমার স্বামী উগ্র যৌনতা পছন্দ করেন

আমার ও আমার স্বামীর দুজনেরই বয়স ২৭ বছর। আমরা দুজনেই পরস্পরকে চিনতাম বিয়ের আগে, যদিও আমাদের সম্বন্ধ করেই বিয়ে। আমার স্বামী বিয়ের পর আমার কাছে স্বীকার করেন তার একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, জীবনের নানা পর্যায়ে। তাদের সঙ্গে ওর শারীরিক সম্পর্কও ছিল। ঘটনাচক্রে সম্পর্কগুলোর কোনওটাই স্থায়ী হয়নি, ফলত সম্বন্ধ করে বিয়ে। বিয়ের শুরুতে মাস ছয়েক আমাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলেও লক্ষ্য করছি এখন সে যৌনতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। আমি জোর করে একদিন কারণ জানতে চাওয়ায় সে বলে যে, ছোটো থেকে প্রচুর পর্ন ভিডিয়ো দেখেছে। তার ওই ধরনের উগ্র যৌনতা পছন্দ। আমার দ্বারায় ওই ধরনের বিকৃতকাম সম্ভব নয়। ফলে সে আমার ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়েছে। আমি তার মুখে এই কথা শুনে স্তম্ভিত। আমি অত্যন্ত রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে। আমার পক্ষে সত্যিই ওভাবে নিজেকে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। মানসিক ভাবে আমি পর্ন দেখা অপছন্দ করি। কী করব বলে দিন। আমি এই দাম্পত্যের ব্যাপারে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছি। ডিপ্রেশনে আছি।

যৌনতা দাম্পত্যের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এতে কোনও সন্দেহ নেই। এটাকে অগ্রাহ্য করা বা এড়িয়ে চলা আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু বিকৃত যৌনতা কোনও মেয়েরই কাম্য নয়। প্রত্যেকটি মেয়েরই তার স্বামীর কাছ থেকে কিছু ব্যক্তিগত প্রত্যাশা থাকে যৌনতার ক্ষেত্রে। সেখানে ভালোবাসা, সম্মান, একে অপরের চাহিদা কে প্রাথমিকতা দেওয়া, একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ এই সবগুলোই  যৌন সম্পর্কটাকে আরও আকর্ষণীও করে তুলতে সহায়তা করে। আপনারা দুজনে পৃথক মানসিকতার। যেহেতু আপনাদের দাম্পত্য বেশিদিনের নয়, এখনও আপনি নিজের জীবনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। যদি সত্যিই এই সম্পর্ক থেকে দুজনেই উৎসাহ হারিয়ে ফেলে থাকেন, তাহলে আর সম্পর্কটাকে দীর্ঘ করার মানে হয় না। এখনও আপনাদের কোনও সন্তান নেই এটা সদর্থক দিক। তাই বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ভাবাই শ্রেয়।

 

 

স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্ভোগে আমি তৃপ্তি পাই না

আমি ও আমার বয়ফ্রেন্ড সেই কলেজ লাইফ থেকে পরস্পরকে ভালোবাসতাম। দুজনে সম্প্রতি বিয়েও করেছি। বিয়ের আগে আমরা কখনও যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হইনি তাই পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দগুলোও জানা হয়নি। এখন বিয়ের পর আমি কিছুতেই যৌনতায় তৃপ্তি পাচ্ছি না এবং আমার স্বামী সম্ভোগের প্রাক পর্যায় অর্থাৎ ফোর প্লে করতে অক্ষম। ফলে আমার চূড়ান্ত উত্তেজনা তৈরি হবার আগেই যৌনক্রিয়া শেষ করে দেয়। আমি অনেক অভিযোগ করেছি, কান্নাকাটির পর্যায়েও বিষয়টাকে নিয়ে গেছি কিন্তু ও মানতে রাজি নয় যে ও আমায় তৃপ্তি দিতে অক্ষম। এদিকে আমি বিবাহবিচ্ছেদ করব বলাতে ও মিনতি করছে যেন আমি এরকম কোনও সিদ্ধান্ত না নিই। আমি কী করব কিছুতেই বুঝতে পারছি না। এই সম্পর্ক বয়ে বেড়াব কী করে এই অতৃপ্তি নিয়ে?

 

এই ব্যাপারে আমাদের সমাজ বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে আজকের দিনেও। সমাজে আজ নারী ও পুরুষের সমান অধিকার বলে দাবি করা হয়।  অথচ আজও সমাজে পুরুষরা অধিকাংশ সময়ে মানতেই চায় না যে, মেয়েদেরও যৌনতার ব্যাপারে কিছু পছন্দ-অপছন্দ বা চাহিদা থাকতে পারে। তারা নিজেদের চাহিদা নিজের মেয়ে সঙ্গীর উপর চাপিয়ে দিয়ে হাত পা ঝেড়ে ফেলতে চায়। তার কী চাহিদা সে সম্পর্কে জানার কোনও আগ্রহই তার থাকে না। যৌনতার ব্যাপারে প্রপার ট্রেনিং বা সেক্স এডুকেশন ছোটো থেকে গড়ে ওঠে না আমাদের এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায়। ফলে যৌনজীবনে ফোরপ্লের বিষয়টা নারী পুরুষ নির্বিশেষে অনেকের কাছেই খুব স্পষ্ট নয়। আপনি যদি এই সম্পর্কটা বজায় রাখতে চান, তাহলে আপনার হাজব্যান্ডকে ফোরপ্লে বিষয়ে একটু শিক্ষিত করে তুলুন– সেটা বই বা পর্ন ভিডিয়ো যেটার সাহায্যেই হোক। দুজনে দুজনকে সময় দিন এই ব্যাপারটাতে। দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।

 

বিয়ের পিঁড়িতে ইমন-নীলাঞ্জন

বেশ কিছুদিন যাবৎ সোশ্যাল মিডিয়াতে খবরটা চাউড় হয়ে গিয়েছিল। গাঁটছড়া বাঁধবেন বাংলা সংগীত জগতের দুই ব্যাক্তিত্ব। ২০১৭ সালে ‘প্রাক্তন’ ছবির জন্য গান গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া গায়িকা ইমন চক্রবর্তী হলেন পাত্রী।আর পাত্র টলিউডের পরিচিত মুখ, সুরকার নীলাঞ্জন ঘোষ। আলাপ অনেক দিনের।করোনার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সুদিনের উপেক্ষায় দুজনেই দিন গুনছিলেন হয়তো। এবার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আগত। গত কালই সাদামাটা ভাবে রেজিস্ট্রি বিয়েটা সেরেই ফেললেন দুজনে। নিজেদের পেশায় বড্ড ব্যস্ত বর-কনে। একাধিক অ্যালবামের কাজের মাঝে ‘জি বাংলা সা রে গা মা পা’-র বিচারকের দায়িত্বও পালন করে চলেছেন ইমন।কিন্তু তারই মাঝে পরিণতি পেল প্রেম।

আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবদের সাক্ষী রেখে গতকাল অর্থাৎ রবিবার বিয়ের রেজিস্ট্রি পর্ব সারলেন তাঁরা। করলেন মালাবদলও। আগামী কাল অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি, রীতি মেনে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মিউজিক্যাল জুটি ইমন চক্রবর্তী এবং নীলাঞ্জন ঘোষ। একইদিনে হবে দু’জনের বিয়ে এবং বৌভাতের অনুষ্ঠান।

এদিন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ইমন পরেছিলেন জরির কাজ করা কমলা রঙের  দক্ষিণী সিল্কের শাড়ি। সোনার গয়নার পারম্পরিক সাজে বেশ দেখাচ্ছিল ইমনকে।। নীলাঞ্জনও সঠিক ভাবে সংগত করতে, সেজেছিলেন মানানসই সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের শেয়ার করা  ছবি ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে।

রবিবার মালা বদল আর রেজিস্ট্রির অনুষ্ঠানে শুধু দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ জনেরাই উপস্থিত ছিলেন।২ তারিখ হবে বন্ধুবান্ধব ও অন্যান্য অভ্যাগতদের আপ্যায়ন। বোঝাই যাচ্ছে বেশ তারকা সমাবেশ ঘটবে সেই অনুষ্ঠানে।ঠিক হয়ে আছে, ডিজাইনার অভিষেক রায়ের তৈরি করা পোশাকেই সে দিন সাজবেন নব দম্পতি।

ফিটনেস-এর ১০টি ফর্মুলা

নিজেকে ভালো রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব নিতে হবে নিজেকেই। এর জন্য নীতি নির্ধারণ এবং সংকল্প গ্রহণের প্রয়োজন। অর্থাত্, সুস্থ-স্বাভাবিক থাকার তাগিদ থাকতে হবে।অবশ্যই খাবারের পরিমাণ এবং ক্যালরির দিকে নজর দেয়া উচিত। আমরা যারা স্বাভাবিক কাজ কর্মের মধ্যে থাকি তারা সব সময় ব্যায়ামের দিকে খুব একটা নজর দিই না। কিন্তু শরীরটা তো ঠিক রাখা চাই। তাই নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম আপনার দৈনিক রুটিনে এনে ফেলুন। শরীরে বাড়তি মেদ ঝরাতে গেনে একটু পরিশ্রম তো করতে হবেই। আপনি চাইলেই আপনার ওজন নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

শরীরে জমে থাকা বাড়তি মেদ ঝরাতে আপনাকে কী করতে হবে? পোড়াতে হবে ক্যালোরি। যত ক্যালোরি বাড়তি খাচ্ছেন প্রতিদিন, ততখানি ঝরিয়ে ফেলতে পারলেই বাড়বে না ওজন। আর একটু বেশি ঝরাতে পারলেই ওজন কমতে শুরু করবে। ওজন কমানো মানেই জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা নয়, বরং নিজের দৈনন্দিন জীবনের ফাঁকেই একটু বুদ্ধি করলে ঝরিয়ে ফেলতে পারবেন বাড়তি মেদ৷ এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সুস্বাস্থ্যের কিছু মানদণ্ড আছে এবং তা মেনে চলা আবশ্যক। যেমন—

  • স্বাভাবিক ভাবে কাজ কিংবা পরিশ্রম করার শক্তি থাকতে হবে
  • দৃষ্টিভঙ্গি স্থির থাকা আবশ্যক। অর্থাত্, প্রতিটি কাজে চাই ইতিবাচক মনোভাব
  • পরিশ্রমের নিরিখে, আরাম এবং ঘুমের প্রযোজন
  • প্রকৃতি, আবহাওয়া, জলবাযু এবং আশপাশের মানুষের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে
  • সাধারণ সর্দি-কাশি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক
  • বয়স এবং উচ্চতা অনুযাযী বজায় রাখতে হবে শরীরের ওজন
  • চোখের স্বাভাবিক উজ্জ্বল দৃষ্টি বজায় রাখতে হবে
  • মুখের ভেতর এবং শরীরকে রাখতে হবে দুর্গন্ধহীন
  • চাই খুসকিবিহীন চুল এবং তেলবিহীন ত্বক
  • শরীরের হাড় এবং পেশিসমূহকে রাখতে হবে ব্যথাহীন।

আলু দিয়ে সুস্বাদু জলখাবার

আমাদের রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় সবজি হল আলু৷  আমাদের দেশের বেশিরভাগ  জনপ্রিয় খাবারই হয় আলু দিয়ে তৈরি,নয় থাকে সাইড ডিশ হিসেবে৷এই সবজি পুষ্টিকর ও সুস্বাদুও বটে।  আলুতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকে, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি১২, আয়রন, জিংক, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি।

তেলে ভাজা, চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা সরাসরি রান্নায় — এমন নানাভাবে  আমরা আলু খেয়ে থাকি। সেদ্ধ অবস্থায় বা সরাসরি রান্নাতে  দিলে,ক্যালোরির পরিমাণ সাধারণত স্বাভাবিকের মতোই থাকে। কিন্তু  আলু তেলে ভাজলে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস ইত্যাদি ক্ষেত্রে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক গুন পর্যন্ত বেড়ে যায়—যা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হতে পারে।

অনেক সময় বাচ্চাদের বায়নাক্কা সামলাতে নতুন নতুন ডিশ তৈরি করতে হয় মায়েদের৷ তখন বাড়িতে অন্যান্য সবজি না থাকলেও, চিন্তার কিছু নেই৷ শুধু আলু থাকলেই বানিয়ে ফেলতে পারেন বাচ্চাদের পছন্দের এই দুটি ডিশ৷

চিজি আলু কাটলেট

উপকরণ : ৩-৪টে সেদ্ধ আলু, ২-৩টি কাঁচালংকা, ১/৪ কাপ ধনেপাতাকুচি, ১/২ ছোটো চামচ আমচুর পাউডার, ১/২ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো, নুন স্বাদমতো।

পুরের জন্য : ৩ বড়ো চামচ চিজ স্প্রেড, ২ বড়ো চামচ গ্রেট করা পনির, ভাজার জন্য তেল, ৩ বড়ো চামচ ময়দা, ১ কাপ ব্রেড ক্রাম্বস।

প্রণালী : সেদ্ধ করা আলুর খোসা ছাড়িয়ে চটকে নিন। পুরের সব উপকরণ বাদ দিয়ে বাকি মশলা আলুর সঙ্গে মেখে নিন। এবার এই মিশ্রণ থেকে বল তৈরি করে নিন। প্রতিটা বলে আঙুল দিয়ে গর্ত করে নিন। পুরের উপকরণগুলো একসঙ্গে চটকে রাখুন। এবার, আলুর বলের মধ্যে তৈরি করা গর্তে এই পুর ঢুকিয়ে নিন। গর্তের মুখটা সমান করে বন্ধ করে দিন। কড়ায় তেল গরম করুন। প্রতিটা আলুর বল, ময়দার গোলায় ডুবিয়ে ব্রেড ক্রাম্বস মাখিয়ে গরম তেলে ভেজে নিন। চাটনি বা সসের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

Potato Pizzas for kids

মিনি পিত্জা

উপকরণ : পিত্জা বেস-এর জন্য : ১ কাপ আলু গ্রেট করা, ১-২ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১ ছোটো চামচ লেবুর রস, তেল প্রয়োজনমতো, নুন স্বাদমতো।

টপিং-এর জন্য : ১ বড়ো চামচ মিহি করে কাটা ক্যাপসিকাম, ১ বড়ো চামচ মিহি করে কাটা পেঁয়াজ, ১/২ কাপ গ্রেট করা চিজ, ১/৪ ছোটো চামচ অরিগ্যানো, ১/৪ ছোটো চামচ লংকাগুঁড়ো।

প্রণালী : পিত্জা বেস-এর সমস্ত উপকরণ ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। আলু থেকে জল বেরোতে শুরু করলে বুঝবেন ব্যাটার তৈরি। এবার একটা গোল বাটি বা কুকি কাটারের সাহায্যে বেস কেটে নিন গোল আকারে। প্যানে অল্প তেল গরম করুন। বেস-এ দুপিঠ ভালো ভাবে সেঁকে নিন।

এবার একটা প্লেটে পিত্জা বেসগুলি রেখে উপর থেকে টপিং-এর উপকরণ ও চিজ গ্রেট করে দিয়ে দিন। আভেন-এ ঢুকিয়ে এক মিনিট বেক করে নিন। উপরে অরিগ্যানো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

লিভিং উইথ পেটস

বাড়িতে অনেকেই পোষ্য রাখেন। তা সে কুকুরই হোক, বিড়াল, খরগোশ, পাখি বা মাছ। ওদের কথা ভেবে তাই শুরু থেকেই স্পেস প্ল্যান করা উচিত। এর ফলে আপনার পোষ্যরা, কমফর্টেবল থাকবে এবং ঘর-ও নোংরা হবে না।

আপনার অ্যাপার্টমেন্ট যদি খুব  বড়ো না হয়,  তাহলে পোষা প্রাণীদের থাকার ব্যবস্থা করুন বুদ্ধি-বিবেচনার সঙ্গে। এমন ভাবে স্পেস প্ল্যান করুন, যাতে বাড়তি জায়গা না লাগে। চাইলে পুরোনো জিনিসকে রি-ইউজ করুন। কিংবা আসবাব এমন ভাবে বানান, যাতে ওটাতেই আপনার পোষ্যকেও অ্যাকোমোডেট করা যায়। অল্প একটু সৃজনশীলতাই হতে পারে পেটস রাখার স্মার্ট সলিউশন।

Keeping space for  pet cats

বিড়ালের জন্য

বিড়াল খুব বড়ো প্রাণী নয়, কিন্তু খেয়াল করবেন এটি অনেকটা জায়গা নিয়ে বিচরণ করে। উঁচু জায়গায় ওঠার একটা স্বাভাবিক প্রবণতা বিড়ালের থাকে। তাই স্পেস প্ল্যান করার সময় বিড়ালের থাকার ও খেলার জায়গার কথা মাথায় রাখুন। বিড়াল যাতে চড়তে পারে সেই রকম ঝোলানো জিনিস বা উঁচু তাকের ব্যবস্থা রাখুন লিভিং রুম-এ। ফ্লোর স্পেস বাঁচিয়ে কাপড় বা কার্ডবোর্ডের হ্যাংগিং বাস্কেট বানিয়ে দিলে, ফ্লোর স্পেস বাঁচবে। ঝোলানোর জায়গাও যদি না থাকে চেয়ার বা টেবিলের নীচে এক ফালি চৌকো কাপড় বেঁধে বিড়ালের শোওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। দেয়ালে তাক করে দিন, বিড়াল যাতে চড়তে পারে ওই তাকের ওপর। ব্যালকনিতেও এরকম তাক বানিয়ে দেয়ালে সেট করতে পারেন।

Fish aquarium

মাছেদের জন্য

অনেকেই মাছ ভালোবাসেন। আপনার এই নীরব সঙ্গীটি মুখ ফুটে কিছু চাইতে পারে না। তাই মাছগুলিকে আরামদায়ক ভাবে রাখার ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আসবাবকে মাল্টিপল ইউজ করতে পারেন। অর্থাৎ অ্যাকুয়ারিয়াম-টির উপর কাচের টেবিল সেট করে লিভিং রুম-এ রাখতে পারেন। উপরে অ্যাকোয়ারিয়াম, নীচে বন্ধ দেরাজ তৈরি করে জিনিস স্টোর করার কাজে লাগাতে পারেন। দেয়ালের ভিতর দিকেও মাছের অ্যাকোয়ারিয়াম বানানো যায়।

কুকুর রাখার জন্য

কুকুরদের জন্য একটি পুরোনো ক্যাবিনেট খালি করে দিতে পারেন। সিঁড়ির নীচে জায়গা থাকলে সেটাও কুকুরটির থাকার জায়গা হতে পারে। পুরোনো বাক্স বা তোরঙ্গকে একটু আর্টিসটিক টাচ দিয়ে কুকুরটিকে শোয়ানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। কিচেনে সিলিন্ডার প্রভৃতি রাখা হয় ওয়ার্কিং টেবিলের নীচে। ওখানেই একটা ক্যাবিনেট তৈরি করে করতে পারেন কুকুরের থাকার ব্যবস্থা। টেবিলের নীচে বক্স বানিয়ে সেখানেও রাখতে পারেন পোষ্যটিকে।

খরগোশের জন্য

খরগোশ খুব ভালো পোষ্য হতে পারে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, কুকুর বা বিড়ালের চেয়ে এদের বেশি মনযোগ দেওয়া প্রয়োজন। খরগোশের জন্য বারান্দায় একটি খাঁচা বানান। এই প্রাণীগুলো খায় বেশি। তাই বারবার মলত্যাগ করা, মূত্রত্যাগ করা খুব স্বাভাবিক। নিয়মিত এদের খাঁচা পরিষ্কার করুন। তবে সারাদিন খাঁচায় রাখার দরকার নেই। ওদের ঘরের মধ্যে খেলারও সুযোগ দিন। সাধারণত খরগোশ একই জায়গায় গিয়ে মূত্রত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে সক্ষম। ঘরের কোণায় লিটার বিন রেখে সেই অভ্যাস করান।

Keeping pet birds

পাখি পুষতে হলে

এই কংক্রিটের জঙ্গলেও রোজ পাখির কিচিরমিচিরে যদি আপনার ঘুম ভাঙে, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে পাখি পুষতে হলে, ওদের জন্য স্পেস প্ল্যানিং আপনাকেই করতে হবে। ব্যালকনিতে বা সিঁড়ির নীচে ওদের জন্য খাঁচা বানিয়ে দিন। দেয়াল কেটেও খাঁচা বসাতে পারেন। তবে খাঁচাটা অবশ্যই ম্যাট পেতে, তার উপর রাখুন।

‘ডু ইট ইয়োরসেল্ফ’ (ডিআইওয়াই) আইডিয়া পাবেন ইউটিউ‌ব বা  পিনটারেস্ট-এর মতো সাইট-এ। বাড়িতে বসে নিজেই আপনার পোষ্য রাখার স্পেস ফ্রেন্ডলি ব্যবস্থা করে নিন। এর ফলে পুরোনো ফেলে দেওয়া জিনিসগুলির উপযোগিতাও টের পাবেন আর ওদের জন্য বাড়তি জায়গারও প্রয়োজন হবে না। পুরোনো বাক্স, কৌটো, কাপড়, কার্ডবোর্ড– সবই কাজে লাগতে পারে এই পোষ্যদের বাড়ি বানাতে।

ক’দিন পর বিয়ে, কী ভাবে ত্বক ও চুলের যত্ন নেব?

আমি চাকুরিরতা। একমাস পরেই আমার বিয়ে। অফিসের কাজে আমাকে এতটাই ব্যস্ত থাকতে হয় যে ত্বকের কোনও যত্নই নিতে পারি না। এছাড়াও আমার চুল খুব ড্রাই এবং প্রাণহীন। আমি সবরকম চেষ্টা করে দেখেছি। স্পা করানো থেকে শুরু করে ভালো শ্যাম্পু, কন্ডিশনার সবকিছুই ট্রাই করেছি। কোনও লাভ পাইনি। আমি চাই বিয়ের দিন আমাকে খুব সুন্দর লাগুক দেখতে। এর জন্য আমাকে কী করতে হবে?

 

উত্তর – আপনি কোনও ভালো ডার্মাটোলজিসট দেখিয়ে তাঁর পরামর্শ নিন। বাড়িতে যেসব ফেসমাস্ক বানাতে পারেন যেমন হলুদ-চন্দন-বেসন মিশিয়ে অথবা লেবু-মধুর প্যাক বা পেঁপের ফেসপ্যাক – ও আপনি ব্যবহার করতে পারেন । আপনার যদি বাড়িতে ফেসপ্যাক বানাবার সময় না থাকে তাহলে পাওয়ার গ্লো ফেসিয়াল, লেজার ফেসিয়াল, ফটো ফেসিয়াল, লেজার টোনিং, পার্মানেন্ট মেক-আপ ট্রিটমেন্ট অথবা ডার্মারোলার-এর মতো যে-কোনও ডার্মাটোলজি ট্রিটমেন্ট আপনি করাতে পারেন। এগুলি প্রত্যেকটাই খুবই কার্যকরী। মুহূর্তে আপনার ত্বকে গ্লো ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

এবারে আসি চুলের কথায়। সূর্যের আলো সরাসরি চুলে লাগলে ত্বকের মতো চুলও রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রে চুলেরও দরকার সানস্ক্রিন। বাজারে নানা ধরনের হেয়ার সানস্ক্রিন পাওয়া যায় কিন্তু বাড়িতেও আপনি সানস্ক্রিন বানিয়ে নিতে পারবেন। নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে সানস্ক্রিন তৈরি করে নিতে পারেন। এটি খুবই কার্যকরী। এটি চুলের পুষ্টি জোগাবে এবং সূর্যের তাপ থেকেও চুল বাঁচবে। এটি নিয়মিত আপনি চুলে লাগাতে পারেন। এগুলি যদি নিয়মিত মেনে চলেন তাহলে অবশ্যই বিয়ের দিনটিতে আপনার সৌন্দর্য সকলকে মুগ্ধ করবে।

 

অফিস ছুটি দিলেও স্বামী জয়েন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন

আমার বয়স ২৭ বছর। দুই বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। স্বামী খুব বড়ো পদে চাকরি করেন। আমিও মার্কেটিং ফিল্ড এ ভালো পদে আছি । সম্প্রতি আমি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি. তিন মাস হল আমি সন্তানের মা হয়েছি। অফিস থেকে ৬মাসের ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে এখুনি অফিস জয়েন করে নিতে বলছেন। তিনি আমাদের পাওয়ার কাপল হিসেবে পোট্রে করতে চান। কিন্তু আমি এতো ছোটো বাচ্চাকে বাড়িতে ফেলে রেখে এখনই অফিস জয়েন করতে চাই না। দুদিন আগেই জানতে পারলাম আমাদের এই ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিয়ে শশুড়বাড়ির কাছে আমার স্বামী বাড়ি খুঁজছেন। যাতে আমি অফিস গেলে আমার শাশুড়ি এসে বাচ্চার খেয়াল রাখতে পারেন। অথচ আমার স্বামী যা রোজগার করেন তাতে আমার কাজ না করলেও চলে। এছাড়া সেলস এ থাকার ফলে আমাকে শহরের বাইরেও যেতে হয় ৪- ৫ দিনের জন্য, সুতরাং ওই সময়টা ছেলেকে ছেড়ে থাকতে হবে। আমি জানি না আমার স্বামীর স্ট্যাটাস নিয়ে এতো কেন মাথাব্যথা। এই অবস্থায় আমার কী করা উচিত?

 

উত্তর – স্বামীকে কোনও ভাবে বোঝাতে হবে যে এখন আপনার ফার্স্ট প্রায়োরিটি আপনার সন্তান। পরে ইচ্ছেমতন আপনি আবার অফিস জয়েন করতেই পারেন। আরও তিন মাস ছুটি আপনার হাতে এখনও আছে। বাচ্চার এখন আপনাকে সবথেকে বেশি প্রয়োজন। আপনি স্বামীকে বলুন, ওনার বন্ধুরা বা সমাজ আপনাকে নিয়ে কী ভাবল তাতে আপনার কিছু যায় আসে না। আপনার খুশি বা মনের শান্তি যাতে থাকে সেটা নিয়েই স্বামীকে ভাবতে বলুন। আপনাকে এতো তাড়াতাড়ি কাজে পাঠাবার আইডিয়াটা ওনাকে ড্রপ করতে বলুন। আপনার কর্মদক্ষতার প্রতি ওনাকে আশ্বাস রাখার অনুরোধ করুন। বরং আপনাকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট করার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যামিলি লাইফ এনজয় করার পরামর্শ দিন।

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব