ক্ষীরমোহন

মুখে দিলে গলে যায়, এই মিষ্টির স্বাদ অনন্য। বাড়িতে বানাবার সহজ এই পদ্ধতিটি অবশ্যই বাড়িতে করে দেখুন, আনন্দ পাবেন।

উপকরণ : দেড় টেবিল চামচ সুজি, ১ কাপ পাউডার দুধ, ১ টেবিল চামচ ময়দা, দেড় টেবিল চামচ জল, ১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার, ১ টেবিল চামচ ঘি, ৪ টেবিল চামচ দুধ, ভাজার মতো তেল। আলাদা করে দেড় কাপ চিনি আর দেড় কাপ জল, ৩টি এলাচগুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ ঘি, ১ কাপ পাউডার দুধ, ১/৩ কাপ কনডেন্সড মিল্ক, ২ টেবিল চামচ দুধ।

আরও পড়ুন – ক্ষীরমোহন অথবা ক্ষীরা মোহন উড়িষ্যার একটি বিখ্যাত মিষ্টি যেটি মুখে দিলে মাখনের মতো মিশে যায়। ছানা এবং চিনি সহযোগে মিষ্টিটি বানানো হয়। ঐতিহাসিকদের মতে ক্ষীরমোহন – এর জন্ম জগন্নাথ মন্দিরে দেবী লক্ষ্মীকে উৎসর্গ করার জন্য।

প্রণালী : জলে সুজিটা ভিজিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে পাউডার দুধ, ময়দা, বেকিং পাউডার, ঘি মিশিয়ে জলে ভেজানো সুজিটা ওতে দিয়ে দিন। হালকা গরমদুধ দিয়ে মিশ্রণটা একটি নরম ডো-এর আকার দিন। ১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করে ডো থেকে বানিয়ে রাখা চ্যাপ্টা আকৃতির পান্তুয়াগুলি বাদামি করে ভেজে তুলুন। আঁচ ঢিমে রেখে পান্তুয়াগুলি ভাজবেন।

অন্যপাত্রে চিনি, জল ও এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে পাতলা রস বানিয়ে নিন। রসের মধ্যে ভাজা পান্তুয়াগুলি দিয়ে পাত্রের মুখ ঢাকা দিয়ে দিন। ২ ঘন্টা রসে ভিজতে দিন। এবার অন্য একটি পাত্রে ঘি, পাউডার দুধ, কনডেন্সড মিল্ক আর দুধ মিশিয়ে ঢিমে আঁচে সমানে নাড়তে থাকুন মিশ্রণটি না শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত। এই মিশ্রণটি থেকে (ক্ষীরের) একটু করে নিয়ে সেটাকে ফ্ল্যাট আকার দিন। পান্তুয়াগুলোকে একটা একটা করে নিয়ে ওই ফ্ল্যাট শুকনো দুধের মিশ্রণে রেখে পুরো পান্তুয়াটিকে ওটা দিয়ে গোল করে মুড়ে দিন। এক একটা শিট বানিয়ে এভাবে প্রত্যেকটা ক্ষীরমোহন গড়ে নিতে হবে। এবার মাঝখান থেকে কেটে অর্ধেক করে নিন মিষ্টিগুলিকে। প্রতিটা মিষ্টির মাঝে এক ফোঁটা লাল ফুড কালার দিয়ে দিন।

 

 

মালতী

লাল ধুলো উড়িয়ে বাসটা চলে গেল। নামেই পিচ রাস্তা। কোথাও এতটুকু পিচের চিহ্নমাত্র নেই। গাছের পাতা ঘাস সব লাল ধুলোয় ঢাকা পড়েছে। কেউ বলে না দিলে বোঝার কোনও উপায় নেই যে এই রাস্তায় বাস চলাচল করে। সূর্য মাথার ওপর দপদপ করে জ্বলছে। ব্যাগ থেকে জলের বোতল নিয়ে গলায় ঢালতেই গোটা শরীর গুলিয়ে উঠল। প্লাস্টিকের বোতলের জল গরম হয়ে বিস্বাদ হয়ে গেছে পুরো। হড়হড়িয়ে বমি উঠে এল মালতীর। সেই সকালে ভাত খেয়ে ট্রেন ধরেছে। তারপর একটানা আড়াই ঘন্টার ওপর বাসে এসেছে।

প্রথম দিকে রাস্তা খুব ভালো ছিল। তারপর বাস যত এগিয়েছে ততই রাস্তার কালো রং ফিকে হতে হতে লাল হয়ে গেছে। বাসের দুলুনিতে তার এমনিতেই বমি আসে। এতক্ষণ খুব চেপে রেখেছিল। কিন্তু আর পারল না। বোতলের গরম জল নিয়েই চোখেমুখে দিল। সুধাকরবাবু বা তার লোক কেউ তো এল না এখনও। সুধাকর বাবুই তো বলে দিয়েছিলেন চণ্ডীতলার মোড়ের মাথায় নামতে। না হলে কন্ডাক্টর একেবারে মন্দিরতলায় নামাত। ওখান থেকে বড়ো রাস্তা আছে গ্রামে ঢোকার।

প্রথম যেদিন ইন্টারভিউ দিতে এসেছিল সেদিন ওখানেই নেমেছিল। চোখে মুখে জল দিয়ে কিছুটা সতেজ লাগছে মালতীর। কিন্তু ভর দুপুর বেলায় এখানে দাঁড়িয়ে কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না মালতী। এখানে নামাটাই তার ভুল হয়েছে। মন্দিরতলায় নামলে কাউকে না কাউকে পেতই। কিন্তু এই মাঠের মাঝে কেউ নেই। একটা সরু পায়ে চলা পথ চলে গেছে গ্রামের দিকে। দূরে গ্রামের বাড়িগুলো রোদের তাপে কাঁপছে মনে হচ্ছে। বাস যাওয়া লাল রাস্তাটা সোজা গিয়ে বাঁক নিয়েছে ডান দিকে। পরের স্টপেজটাই মন্দিরতলা। রোদের জোর বাড়ছে ক্রমশ। মালতী বোতল থেকে আবার কিছুটা জল নিয়ে মুখে চোখে ঝাপটা দিল। রুমালে মুখ মুছে তাকাতেই সুধাকরবাবুকে দেখল সাইকেলে চেপে দ্রুত আসছেন।

সাইকেল থেকে নেমেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, ‘মাপ করবেন ম্যাডাম, আমার আসতে একটু দেরি হয়ে গেল। একটা কাজে আটকে গিয়েছিলাম। আসুন আমার সঙ্গে।’

আলের সরু রাস্তাটা ধরে দুজনেই হাঁটছে। হাঁটার অভ্যেস মালতীর আছে। ঝিরঝিরে হাওয়া দিচ্ছে বলে বমি বমি ভাবটাও কেটে গেছে অনেকক্ষণ। দূরের বাড়িগুলো এখন অনেকটা কাছে চলে এসেছে। আরও কিছুটা হাঁটতেই স্কুলের কাছে চলে এল ওরা। স্কুলে ঢুকে সুধাকরবাবু সাইকেলটা স্ট্যান্ড করতে করতে বললেন, ‘আগে জয়েন করে নিন, তারপর আমাদের বাড়িতে গিয়ে কিছু খাওয়াদাওয়া করবেন। এখান থেকে মিনিট পাঁচেক গেলেই আমাদের বাড়ি।’

রাস্তায় ছিল বলে ঝিরঝিরে হাওয়া গায়ে লাগছিল। টিনের চালের অফিস ঘরে আবার গুমোট ভাবটা মালতীর অস্বস্তি বাড়াচ্ছে। মালতী ঘাম মুছে নিয়ে চেয়ারে বসতেই হেড স্যার রেজিস্টার খাতাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এখানে সাইন করুন ম্যাডাম, আর আপনার যা কাগজ-পত্র আছে তা এই ফাইলে রেখে দিন। আপনাকেই তো সব সামলাতে হবে। আপাতত এই ট্রাংকটা দিচ্ছি। ওটাতেই সব কাগজপত্র রাখবেন।

মালতী বেশ মুষড়ে পড়ল। হাজিরা খাতায় মাত্র ন’জন ছাত্রীর নাম। ফাইভ আর সিক্সেই কেবল ভর্তি হয়েছে। বাকি ক্লাসে একটাও ছাত্রী নেই। হেড স্যারকে জিজ্ঞেস করল মালতী, ‘এখন আমাকে কী করতে হবে? ক্লাসে যাব? কোন দিকে ফাইভ আছে বলে দিন।’মালতীর গলায় একরাশ হতাশা ঝরে পড়ল! এ কেমন স্কুলে চাকরি নিল সে! এখনও স্কুলটাই তৈরি হয়নি।

গ্রামে মেয়েদের আলাদা স্কুলের জন্য সুধাকরবাবু একা চেষ্টা করেছেন। স্কুলের নামে দু-বিঘে জমি দান করেছেন। রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। এরপর সেখানে স্কুলের বিল্ডিং উঠবে। মালতীই প্রথম শিক্ষিকা ইন্দুমতী জুনিয়ার বালিকা বিদ্যালয়ের। সুধাকরবাবুর মায়ের নামে স্কুল। বয়েজ স্কুলের দুটো রুম নিয়ে আপাতত স্কুল শুরু হয়েছে।

এত দূরে এই প্রত্যন্ত গ্রামে চাকরি করতে আসতে তার ইচ্ছে হচ্ছিল না। মালতীর বাবা মায়েরও তেমন ইচ্ছে ছিল না। একা একা থাকতে হবে। এত দূরে বাবা-মা-কে এনে রাখা এখনই সম্ভব নয়। তার ওপর বাবার রিটায়ার হতে এখনও অনেক দেরি আছে। কোলিয়ারির চাকরিতে স্বেচ্ছায় রিটায়ারমেন্ট নেওয়া যায়। মালতীর বাবার ইচ্ছে ছিল নিজে ভল্যান্টারি রিটায়ারমেন্ট নিয়ে মালতীকে ঢুকিয়ে দেবেন সেখানে। বড়ো সাহেবের কানে কথাটা তুলেও ছিলেন।

মালতীর ইচ্ছের বাইরে একদিন বড়ো সাহেবের অফিসে মালতীকে নিয়েও গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে এসেই মালতী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিল, কোলিয়ারির চাকরি সে করবে না। বড়ো সাহেবের ধূর্ত লোভী চোখ দুটো সে অনেকদিন ভুলতে পারেনি। আবেদন করার সময় সে ভাবেওনি যে চাকরিটা পেয়ে যাবে। ভেবেছিল এলাকার কাউকেই নেবে কমিটির লোকেরা। দেড়শো টাকা মাইনের এই চাকরির জন্যেও আবেদন পড়েছিল বেশ কয়েকটা। তবে তার মাস্টার ডিগ্রিটা থাকার জন্যই বোধহয় চাকরিটা হয়েছে।

‘আজ আর ক্লাস নিতে হবে না আপনাকে। আমার সঙ্গে আসুন। আপনার থাকার জায়গাটা আগে দেখে নিন’, সুধাকর দত্ত বাইরে থেকেই বলল।

হেডস্যারকে জোড় হাত তুলে নমস্কার করে বাইরে এল মালতী। মাটির বাড়ি। টিনের চালের লম্বা স্কুল বাড়িটা পেরিয়ে এসে লাল মোরামের রাস্তায় উঠে এল। কৌতুহলী চোখগুলো যে এদিক ওদিক থেকে উঁকিঝুঁকি মারছে মালতী বেশ বুঝতে পারছিল। সুধাকর দত্ত সাইকেলের হ্যান্ডেলটা এক হাতে ধরে মালতীর একদম পাশে পাশে হাঁটছিল। মালতীর যে অস্বস্তি হচ্ছে লোকটা কি বুঝতে পারছে না? মালতী একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে চাইছিল। রাস্তাটা বাঁ-দিকে বেঁকে যেতেই সুধাকর দত্ত থেমে গেল।

‘এই আমাদের বাড়ি, আপনি এখানেই থাকবেন।’

বাড়ি দেখেই চমকে গেল মালতী। রাস্তায় কোনও কিছুর দিকে না তাকালেও একেবারে সামনের দিকে যে যে বাড়িগুলো চোখে পড়ছিল তাদের হতশ্রী দশার সঙ্গে এই বাড়ির তুলনা হয় না। এ একেবারে রাজবাড়ি। পুরোনো লাল ইটের তৈরি উঁচু খিলান যুক্ত বিরাট বাড়ি দেখে মালতীর গা বমি ভাবটা ফিরে এল। বাবার অফিসের বড়োবাবুর চোখটা মনে পড়তেই সুধাকর দত্তের দিকে তাকাল। শান্ত সৗম্য চেহারার সুধাকর বাবুর চোখে কিছুই খুঁজে পেল না। কোথায় সেই ধূর্ত লোভী দৃষ্টি, বরং সারা মুখমণ্ডলে এক ছেলেমানুষি কৌতুক খেলা করছে।

‘কি ম্যাডাম, স্কুল ঘর নেই বলে ভেঙে পড়ছিলেন তো, আশা করি এই বাড়ি দেখে আপনার ভালো লাগবে। আজ থেকে এখানেই থাকবেন। দাঁড়ান বাড়িতে খবরটা দিয়ে আসি।’

সুধাকরবাবুকে যেতে হল না তার আগেই একজন বয়স্ক মহিলা এলেন। মুখের মিল দেখে সহজেই মালতী বুঝতে পারল ইনি সুধাকরবাবুর মা। কাছে আসতেই হাত তুলে নমস্কার করল মালতী।

চক মিলানো বিরাট বাড়ির দরজা পেরিয়ে এসে মালতী দাঁড়িয়ে রইল আড়ষ্ট হয়ে। এখনও তার মাথায় ঢুকছে না সুধাকরবাবুর বাড়িতে সে কেন থাকবে। চাকরি করতে এসেছে সে। নিজের থাকার ব্যবস্থা তাকে নিজেকেই করতে হবে। রোজ রোজ তার পক্ষে এত দূর যাতায়াত করা সম্ভব নয়। ইন্টারভিউ দিতে এসেই ভেবেছিল চাকরিটা হলে তাকে এখানেই থাকতে হবে। সেই মতো কিছুটা মানসিক প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল। কিন্তু জয়েন করা থেকে তার সব হিসেব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। সে যেন একটা বিরাট ফাঁদে আটকে পড়েছে। কিছুতেই আর বেরুতে পারবে না।

বাড়িতে থাকলেই কোলিয়ারির চাকরির টোপ। বড়োবাবু নাকি বলেছে মেয়ের চাকরির জন্য তাকে রিটায়ারমেন্ট নিতে হবে না। তারা মেয়েকেও চাকরি দেবে। ওই ধূর্ত চোখগুলো মনে পড়লেই তার গোটা শরীরটা গুলিয়ে ওঠে। সে কিছুতেই বাড়ি ফিরে যাবে না। আবার সুধাকরবাবুর বাড়িতেও থাকবে না। কিন্তু কথাটা বলতে পারছে না কিছুতেই। কীভাবে শুরু করবে বুঝে উঠতে পারছে না। সুধাকরবাবুকেই জিজ্ঞেস করা দরকার অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা হতে পারে কিনা।

বাড়ির উঠোনের এক কোণে বিরাট কুয়ো। কপিকলের সাহায্যে জল তুলতে তুলতে সুধাকরবাবুর মা বললেন, ‘এখানে এসে হাত মুখ ধুয়ে কিছু খেয়ে নিন, তারপর আপনার বাড়ি দেখতে যাবেন।’

মালতীর মনের মেঘটা কেটে গেল মুহূর্তের মধ্যে। সুধাকরবাবুর বাড়িতে নয়, তার জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চার পাঁচটা বাড়ির পরে আর একটা বাড়ি আছে সুধাকরবাবুদের। সেখানে তার বিধবা পিসি থাকে। মালতীর জন্য সেই ঘরেই থাকার ব্যবস্থা করেছেন সুধাকরবাবু। সুধাকরবাবুর পিসিও থাকবেন মালতীর সঙ্গে। তবে মালতীকে নিজের সব কাজ নিজেকেই করে নিতে হবে।

স্কুলের কাজে সময়গুলো দ্রুত কেটে যাচ্ছে মালতীর। এক বছর হয়ে গেল সে এই চণ্ডীপুরের শিক্ষিকা হয়ে এসেছে। এখন আর একা থাকতে অসুবিধা হয় না তার। মাঝে মাঝে মা এসেও থাকে। সুধাকরবাবুরা নিতে না চাইলেও সে জোর করে এখন বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে। কতদিন আর বিনা পয়সায় থাকা যায়। এক বছর আগেও যেটা ফাঁকা মাঠ ছিল সেখানে আজ একতলা লম্বা স্কুল বিল্ডিং। দেড়শোর কাছাকাছি ছাত্রছাত্রী আর চার জন দিদিমণি নিয়ে ইন্দুমতি জুনিয়র বালিকা বিদ্যালয় এখন বেশ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে গেছে।

সুধাকরবাবুর অবদান মালতী কিছুতেই ভুলতে পারবে না। রাত দিন এক করে স্কুল তৈরির কাজে সাহায্য করেছেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রী ভর্তি করানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন। জুনিয়র থেকে মাধ্যমিক যাতে হয় সে চেষ্টাও করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। মালতীর সঙ্গে কোনও বিষয়ে আলোচনা থাকলে স্কুলেই আসেন। স্কুলের বাইরে বা বাড়িতে এসে কোনওদিন আলোচনা করতে আসেননি। সুধাকর দত্তের এই সম্ভ্রম বোধ মালতীকে আকৃষ্ট করে খুব। মালতী কি সুধাকর দত্তের প্রতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

গত সপ্তাহে মা এসেছিল। সোজাসুজি মালতীকে বলেছে আর কত দিন এইভাবে বিয়ে না করে দুজনে স্কুল নিয়ে মেতে থাকবি। মায়ের কথায় চমকে উঠেছে। দুজনে মানে! কে কে দুজন? মায়ের চোখকে ফাঁকি দিতে পারেনি সে। আবার স্বীকারও করেনি। মালতী নিজেই এখনও জানে না। সুধাকরকে সে বুঝতে পারে না।

এত বিষয় সম্পত্তি ছেড়ে সারাদিন স্কুল নিয়ে পড়ে আছে। ব্যাবসার কাজে মাঝেমধ্যে শহরে গেলেও একটানা বেশিদিন থাকে না। ইদানীং স্কুলে সুধাকর এলেই বাকি স্টাফেদের মধ্যে একটা মুখ টেপাটেপি, হালকা হাসি, কিছুটা কৌতুকের ছোঁয়া পায় মালতী। রোদে পোড়া বসন্তে মালতীরও একটু একটু করে পুড়তে ইচ্ছে করে। পুড়েও যায় ভিতরে ভিতরে।

একা একা মালতী পুড়ে যাচ্ছে আজ তিনদিন হল। প্রচন্ড জ্বর। লু বইছে বাইরে। মাথায় জলপটি দেওয়ার কেউ নেই। তিনদিন স্কুল যেতে পারেনি অথচ কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি। কেউ যে আসবে না সেটা মালতী জানে। চাকরিটাই হয়তো আর থাকবে না। গত সোমবার মিটিং হয়েছে। মালতী এই সবের কিছুই জানত না। সে গিয়েছিল সুধাকরবাবুর সঙ্গে ডি আই অফিসে। একাই যেত সুধাকর, কিন্তু ইন-চার্জ হিসেবে মালতীকে থাকতেই হতো।

মাধ্যমিকে উন্নীত করার আবেদন ছাড়াও অন্যান্য কিছু কাজ ছিল। মালতী বাসেই যেতে চেয়েছিল। কিন্তু এই প্রথমবার সুধাকর তাকে অনুরোধ করে একসঙ্গে তার গাড়িতে যেতে। সুধাকরের চোখের দিকে তাকালে বাবার অফিসের বড়োবাবুর লোলুপ চোখের কথা ভুলে যেতে পারে, সুধাকরের সামনে তার গাম্ভীর্যের মুখোশ খুলে বেরিয়ে আসে সেই কিশোরী মেয়েটি যে কিনা চুলে বিনুনি করে উদাস চোখে হেঁটে যায় আকাশ দেখতে দেখতে।

সুধাকর কখনও তাকে নাম ধরে ডাকেনি। তাই প্রথম বার মালতী ডাক শুনে মালতী আপাদমস্তক পুড়ে গিয়েছিল। গাড়িতে বসে কেউ কোনও কথা বলেনি। সুধাকর এক মনে গাড়ি চালাচ্ছিল। যেন গাড়ি চালানো ছাড়া ইহজগতে আর কোনও কাজ নেই তার। কখন যে তারা ডি আই অফিসে পৌঁছে গিয়েছিল খেয়াল করেনি। যন্ত্রের মতো মালতী একটার পর একটা কাগজে সাইন করে যাচ্ছিল। সুধাকর ব্যস্ত ভাবে একবার এদিক একবার ওদিক ছুটে বেড়িয়ে সব কাগজপত্র জমা করে যখন বেরিয়ে এল তখন আকাশ লালে লাল। সূর্যটা একটু ছোঁয়া পেলেই ভুস করে ডুবে যাবে।

গাড়িতে ওঠার আগে সুধাকর মালতীর হাতটা আলতো করে ধরল। মালতী কেঁপে উঠল ভিতরে ভিতরে। সাইকেলে চেপে আসা সুধাকর দত্তের সেই রোদে ঝলসে যাওয়া প্রথম দিনের মুখটা মনে পড়ল মালতীর। এই হাতের মধ্যেই কখন যে নিজেকে সঁপে দিয়েছে মালতী নিজেও জানে না। মালতীর হাতটা ছেড়ে গাড়িতে উঠে এল সুধাকর। মালতীও উঠে এসে তার পাশের সিটে বসল।

লাল আকাশের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ সুধাকর বলল, ‘এই লাল রং একদিকে যেমন প্রেমের রং আবার তেমনি এই রং বিপ্লবের, নতুন ভোরের, নতুন সূর্যোদয়ের। দেখে নিও মালতী ওরা যতই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করুক আমরা নতুন ভোর আনবই। মালতী সুধাকরের গলায় তুমি সম্বোধন শুনে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল।

প্রথম দিকের কথাগুলো তেমন শুনতে পায়নি মালতী। কিন্তু সুধাকরের শেষের দু’একটা কথা শুনে চমকে গেল। এসব কি বলছে সুধাকর! দিনের শেষ সূর্যেরও তেজ আছে বেশ। মালতীর কপাল পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। মালতীও পুড়ে যাচ্ছে ভিতরে ভিতরে। ডি আই অফিস থেকে ফিরেই সে প্রবল জ্বরে পড়েছে। সুধাকরকে ওরা ধরে নিয়ে গেছে শুধু এইটুকুই জানে মালতী। সুধাকরের খবর আর কে দেবে তাকে। মালতী দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

‘আপনারা জানেন সুধাকর সেদিন কি বলেছিল আমাকে?’

বিরাট হলঘরের একটাও চেয়ার ফাঁকা নেই। সকলের প্রিয় বড়দির আজ চাকরি জীবনের শেষ দিন। দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের চাকরি জীবনের আজ ইতি। বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রীরা ও তাদের অভিভাবকদের ভিড়ে ঠাসা হল ঘরে একটানা নিজের চাকরি জীবনের কথা বলতে বলতে থেমে গেল মালতী।

দ্রুত সময় বদলে যায়। মালতী ডি আই অফিস থেকে ফিরেই জ্বরে পড়েছিল। কিছুটা সুস্থ হয়ে যখন স্কুলে ফিরল অবাক হয়ে দেখল সব কিছু কেমন ম্যাজিকের মতো পালটে গেছে। তাকে না জানিয়েই তার ইনচার্জের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ক্লাস নিতে যাওয়ার আগেই তাকে একটা খাম দিল নতুন ইনচার্জের দায়িত্বে আসা নীলিমা বসু।

‘সাত দিনের মধ্যে উত্তর দেবেন কেন আপনাকে সাসপেন্ড করা হবে না?’

খামটা হাতে নিয়ে বজ্রাহতের মতো দাঁড়িয়ে রইল মালতী। তারপর ধীরে ধীরে চলে গেল ক্লাসে।

সুধাকর তাকে সব বলেছে। সুধাকর দিন বদলের ডাক দেওয়া ডাক হরকরা। লাল রং বুকেতে নিয়ে সুধাকর চলে গেছে বিপ্লবের দেশে। কেউ জানে না। চাকরিটা ছাড়তে পারবে না মালতী।

ছোট্ট করে এক লাইনে উত্তর লিখল মালতী, ‘স্কুলের টাকার যা কিছু হিসেবের গরমিল হয়েছে, কমিটি যেন তার বেতন থেকে প্রতি মাসে কেটে নেয়। আর সুধাকরের সঙ্গে আমার কোনও অবৈধ সম্পর্ক নেই। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে কারওর কাছে কোনও কৈফিয়ত দিতে আমি বাধ্য নই’।

মালতী থামল। কাচের গেলাসে রাখা জল এক নিশ্বাসে শেষ করে মুখটা মুছল। চোখের কোণটা চিকচিক করে উঠল।

সুধাকরকে যখন আনা হল তখনও বুকের বাঁ দিকটা লাল হয়ে ছিল। গুলির দাগটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল সবাই।

বিদায় অনুষ্ঠান অনেকক্ষণ আগে শেষ হয়েছে। সুধাকরের দেওয়া দলিলটা স্কুলের কমিটির হাতে তুলে দিতে পেরে নিজেকে খুব হালকা মনে হচ্ছিল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন কথাগুলো বলছিল মালতী তখন বুঝতে পারছিল সুধাকর নেমে এসেছে হলের মধ্যে। মালতীর প্রতিটি কথা তার বুকে বিঁধে থাকা বুলেটের ক্ষতে মলম বুলিয়ে দিচ্ছিল।

লাল ইটের তৈরি চক মিলানো বিশাল বাড়িটা পাকাপাকি ভাবে আজ থেকে ইন্দুমতি বালিকা বিদ্যালয়ের অংশ হয়ে গেল।

লাল মোরামের রাস্তা আর নেই। কালো পিচের রাস্তা থেকে অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে স্কুল বাড়িটা।

সুধাকর তাকে যেখান থেকে প্রথম দিন নিতে এসেছিল সেই জায়গায় এসে দাঁড়াল মালতী। ডি আই অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় সুধাকর মালতীর হাতটা ধরতেই মালতীর ভিতরটা খাঁ খাঁ দুপুরের মতো পুড়ে গিয়েছিল।

সুধাকরের কথাগুলো তার কানে গরম সিসা ঢেলে দিচ্ছিল।

‘মালতী আমি আর মাত্র তিন দিন গ্রামে থাকব। তারপর আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হবে। ওরা আমাকে আর বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার বিপুল সম্পত্তি অথচ আমি আমরণ দলের সঙ্গে আন্দোলন করে একটা নতুন দিন বদলের স্বপ্ন দেখতে পারি, আজ আর আমার দলের ভিতরেই কেউ বিশ্বাস করছে না। আমাকে ওরা বুর্জোয়া ভাবছে। তোমাকে ভালোবাসাটাও ওদের কাছে অন্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমি নাকি তথ্য পাচার করছি। আমার নাম ওদের হিট লিস্টে উঠে গেছে। আমার প্রমাণ করার কিছুই নেই মালতী। আমি কিছু বলবও না। তবে ওরা তোমাকেও জড়াতে চাইছে। স্কুল ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছ এই অভিযোগে ওরা তোমায় সাসপেন্ড করবে। আর আমার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আর মাত্র তিনদিন তোমার সঙ্গে থাকব। আমাকে কি ভালোবাসো মালতী?  মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আমায় বিয়ে করবে?’

মালতী উত্তর দিতে পারেনি। সুধাকরকে এতদিন খুব কাছ থেকে দেখছে। সুধাকর নকশাল আন্দোলন করে তা সে জানে। তার প্রতিটা কাজকেই সে মনেপ্রাণে সমর্থন করে।

‘তুমি আমাকে ভালোবাসো?’, মালতীর প্রশ্নে সুধাকর ভেসে গেল মুহূর্তকাল।

দমকে দমকে কান্না এসে ঘিরে ধরল মালতীকে। সুধাকরের বুকে মাথাটা রেখে বলল, ‘চলো দূরে কোথাও চলে যাই যেখানে কেউ কোনও দিনও আমাদের খুঁজে পাবে না।’

‘না মালতী, পালিয়ে গেলে ওরা সহজেই তোমাকে আমাকে চোর প্রমাণ করতে পারবে। বিশ্বাসঘাতকের নাম মুছে ফেলবে সব জায়গা থেকে। তুমিও কি স্কুল ছাড়া থাকতে পারবে? তার থেকে যা হবে হোক, তুমি একা ফিরে যাও গ্রামে। তুমি একটা সই করে এই দলিলটা মায়ের হাতে দেবে। মা সবই জানেন।’

মালতীকে নামিয়ে দিয়ে সুধাকর যখন চলে গেল তখনও মালতী কিছু বলতে পারেনি। গোপন বিচার সভা বসবে আজ রাতেই। বাহাত্তর ঘণ্টা আয়ু মানুষটার। অথচ কেউ কিছুই করতে পারবে না।

সারা রাস্তাটা আর কোনও কথা বলেনি কেউ। নিস্তব্ধ বিকেলটা ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিল।

দূরে স্কুল বাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মালতী মাঠের থেকে সুধাকরকে উঠে আসতে দেখল। সবুজ আলপথের ওপর লম্বা লম্বা পা ফেলে সুধাকর আসছে।

দুপুরের হলুদ সূর্যটা ক্রমশ লাল হয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে একটা বিন্দুতে পরিণত হল। সুধাকরের বুকের ওপর লাফিয়ে নামল সূর্যটা। একেবারে বাঁ দিক ঘেঁষে নেমে এসে ধীরে ধীরে ফুল হয়ে ফুটে উঠল।

মালতী কালো পিচের রাস্তার পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে একা একা মিশে গেল আধো অন্ধকারে।।

 

সুশান্ত সিং রাজপুত নামাঙ্কিত সড়ক

সুশান্ত সিং রাজপুত। হিন্দি ছবির দুনিয়ায় এই একটা নাম যে বলিউডের গোটা নকশাই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রেখেছিল, তা প্রমাণ করে দেয় তাঁর অতর্কিত মৃত্যু।সেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর প্রায় আট মাস কেটে গেলেও আজও মানুষের স্মৃতিতে উজ্জ্বল রয়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। আত্মহত্যা না খুন সে প্রশ্নের উত্তর পেতে দিন রাত উদ্বিগ্ন থেকেছে মানুষ। উত্তর আজও মেলেনি কারণ তদন্ত অব্যহত রয়েছে।

এরই মাঝে অনুরাগীদের জন্য একটা ভালো খবর এসে পড়ল।সম্প্রতি সুশান্ত সিং রাজপুতের ৩৫ তম জন্মদিনে, দক্ষিণ দিল্লি পুরনিগমের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হল যে, অ্যানড্রুজ গঞ্জ অঞ্চলের একটি সড়ক প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতিতে নামাঙ্কিত হবে। দক্ষিণ দিল্লির করপোরেশনের কংগ্রেস কাউন্সিলর অভিষেক দত্ত এ কথা জানানোর পর স্বভাবত অনুরাগীরা খুব খুশি। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে দিল্লি প্রশাসন সুশান্তকে অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাল, এমনটাই মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই সুশান্তের নামে সড়কের নামকরণ করার প্রস্তাব রেখেছিলেন অভিষেক দত্ত। গতকাল, পুরনিগমের এক বৈঠকে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং অ্যানড্রুজ গঞ্জ এলাকার সংশ্লিষ্ট সড়কের নাম দেওয়া হয়- ‘সুশান্ত সিং রাজপুত মার্গ’।

দক্ষিণ দিল্লির অ্যানড্রুজ গঞ্জের ৮ নং এলাকার বহু মানুষ, আদতে বিহারের বাসিন্দা। তাঁরাই সুশান্তের স্মৃতিতে এই রাস্তার নামকরণ করার দাবি তুলেছিলেন অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকেই।। অ্যানড্রুজ গঞ্জ থেকে এই সড়ক সোজা চলে যায় ইন্দিরা ক্যাম্পাস অবধি। এখন ওই এলাকার ৮ নম্বর রাস্তার নাম বদলে দিয়ে সুশান্ত সিং রাজপুত মার্গ’ রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, এর আগে বিহারেও প্রয়াত অভিনেতার নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। ভূমিপুত্রের অকাল প্রয়াণ আসলে মেনে নিতে পারেননি কেউই। তাই তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে তাঁর স্মৃতিতেই বিহারের পুর্নিয়া জেলার একটি রাস্তা ও ক্রসিংয়ের নাম দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বিহারের মধুবনী থেকে মাতা চৌক পর্যন্ত রাস্তার নামও দেওয়া হয়েছে ‘সুশান্ত সিং রাজপুত রোড’।

ছায়া সরণি

অন্য দিনের চেয়ে সহেলির ঘুম আজ একটু তাড়াতাড়ি ভেঙে গেল। পাশে রাখা ঘড়িটায় চোখ পড়ল, সাড়ে ছ’টা প্রায় বাজে। সকালের খবরের কাগজটা এতক্ষণে নিশ্চয়ই এসে গিয়ে থাকবে। মনে হতেই চটপট বিছানা ছেড়ে নেমে এল। বারান্দার দরজা খুলতেই মাটিতে পড়ে থাকা খবরের কাগজটায় ওর চোখ আটকাল। সযত্নে তুলে এনে নিজের বিছানায় এসে বসল। কাগজটা চোখের সামনে মেলে ধরে একটা একটা করে পাতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। চোখে মুখে এক অধীর আগ্রহ। হঠাৎ-ই একটা খবরে এসে চোখ আটকে গেল তার। মুখে ফুটে উঠল কুটিল হাসি।

রান্নাঘর থেকে মায়ের গলা ভেসে এল, ‘চায়ের কাপটা এসে নিয়ে যা, শুধু শুধু ঠান্ডা হচ্ছে।’

সহেলি উত্তর দিল না। পুরো খবরটা মন দিয়ে পড়া শেষ করে কাগজটা পাশে সরিয়ে রাখল। আবার মায়ের গলা পেল, চায়ের জন্য ডাকাডাকি করছেন।

‘এত চ্যাঁচাচ্ছ কেন, খবরের কাগজটা একটু পড়ছিলাম। তোমার আর তর সইছে না…’, বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয় সহেলি।

মেয়ের কথায় মা-ও চুপ করে থাকেন না, ‘এই শীতের সকালে উঠে তোদের জন্য করেও মরব আর তোরা কথা শোনাতেও ছাড়বি না। এমন কী খবর পড়ছিস যে সকলের আগে আজ কাগজ নিয়ে বসে পড়লি?’

‘খবর তো সবসময় স্পেশাল-ই হয় তাই জন্যই তো পাতায় আলাদা করে ছাপা হয়, যাতে সকলে পড়ে আর জানতে পারে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে সহেলি মায়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, ‘মা আমাকে তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে। তবে খবরের কাগজে কী পড়ছিলাম সেটা যদি জানতে চাও আমি বলতে পারি। তুমি কি শুনতে ইন্টারেস্টেড?’

‘হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি বল…’ মা তাড়া লাগান।

‘মা… রকি-কে তোমার মনে আছে, আমার সঙ্গে কলেজে পড়ে? হিরোদের মতো হাবভাব… তুমি যার চুলের স্টাইল দেখে হেসে গড়াতে…’

‘ও… হ্যাঁ… রকি? বাইকে করে আসত? তোর পেছনেও তো কিছুদিন ঘোরাঘুরি করেছিল?’

‘হ্যাঁ, মা… তুমি ঠিকই বলছ… আমার জন্য অনেক ঘোরাঘুরি করেছে… ওর অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। খবরটা বেশ বড়ো করে বেরিয়েছে। সম্ভবত ড্রিংক করে বাইক চালাচ্ছিল। খবরটা কাল আমায় ফোন করে রজত জানিয়েছিল। সে তো সাংবাদিক, ওকে দেখতে হাসপাতাল যাব। ওখান থেকে সোজা কলেজ চলে যাব।’

‘তোর হাসপাতাল যাওয়াটা সত্যিই কি খুব জরুরি? এখন তো তোর সঙ্গে কথাবার্তাও খুব একটা হয় না…’

‘সেই জন্যই তো বেশি জরুরি, মা। আমার অন্য বন্ধুরা মনে করবে আমি হয়তো রিলেশনশিপটা ভেঙে যাওয়াতে আজও রাগ করে বসে আছি অথচ আমার মনে কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। সমাজে টিকে থাকতে এগুলো তো একটু-আধটু করতেই হয়।’

‘তোর কথাটাই বোধহয় ঠিক… তুই স্নানটা সেরে নে, আমি ততক্ষণ তোর টিফিন-টা প্যাক করে দিচ্ছি।’

রেডি হয়ে হাসপাতাল পৌঁছোতেই রকির কেবিনে কলেজের বন্ধুদের ভিড় দেখে একটু ইতস্তত করে কেবিনে ঢোকে সহেলি। ওকে দেখেই রকি বিছানায় উঠে বসার চেষ্টা করতে করতে বলে, ‘আরে সহেলি তুমি।’

‘শুয়ে থাকো, তোমাকে উঠতে হবে না, বিছানার পাশে এসে দাঁড়ায় সহেলি, ‘এসব কী করে হল রকি?’ গলার স্বর নামিয়ে সহেলি প্রশ্ন করে।

‘আরে আমার…’ কথাটা শেষ করার আগেই রকির একজন বন্ধু মজার ভঙ্গিতে বলে, ‘আরে দ্যাখো গিয়ে, কোনও বড়ো পার্টি অ্যাটেন্ড করে ফিরছিল রকি… ড্রিংক-টা হয়তো একটু বেশিই করে ফেলেছিল… ভেবেছে বোধহয় আকাশে উড়ছে… নিজেকে খুব হালকা মনে করছিল… ব্যস লাগিয়ে দিয়েছে…’, সকলে হেসে ওঠে বন্ধুটির কথা শুনে।

‘তোমাকে কতবার বলেছি রকি ড্রিংক করে বাইক চালিও না…’

সহেলিকে থামিয়ে আর একজন বন্ধু অরুণাভ টিপ্পনি কাটে, ‘আর চালাবে না। একবার দেখে নিয়েছে এর পরিণতি কী হতে পারে। ধাক্বা না খেলে মানুষ শেখে না। বুঝিয়ে কজনকে সঠিক পথে আনা গেছে বলতে পারিস সহেলি?’

সকলেই আর একবার হেসে ওঠে সহেলি ছাড়া।

রকি এত কথার মধ্যেও বিরক্ত বোধ করে, ‘তোদের লজ্জা করছে না? আমি এখানে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছি আর তোরা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা ইয়ার্কি করে যাচ্ছিস… কীরকম বন্ধু তোরা?’

‘বন্ধুরা এরকমই হয়। বন্ধুর কষ্ট ভুলিয়ে তাকে হাসানোটাই তো বন্ধুর মতো কাজ।’ রকির বন্ধুদের মধ্যে থেকে একজন বলে ওঠে, আর সকলে তাকে সমর্থন করে।

‘ওকে, আমি এখন চলি। প্লিজ টেক কেয়ার রকি। হেল্প লাগলে বোলো, সহেলি সকলকে হাত নেড়ে কেবিনের দরজার দিকে এগিয়ে যায়। রকিও হাত তুলে সহেলিকে বিদায় জানায়।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে নিজের স্কুটি স্টার্ট করে কলেজের পথে রওনা দেয় সহেলি। স্কুটি রাস্তায় ছুটতেই ধীরে ধীরে সহেলির মুখের ভাব বদলে যায়। মনটা যেন পাখা মেলে ধরে। নিজের মনেই সহেলি আওড়ায়, ‘বেচারা, এখন যত খুশি ফুর্তি কর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। এক মাসের আগে কিছুতেই এখান থেকে ছাড়া পাবি না চাঁদু।’

সন্ধেবেলায় বাড়ি পৌঁছে সহেলির নিজেকে খুব রিল্যাক্সড মনে হচ্ছিল।… রোজের মতো পরীক্ষার জন্য চিন্তার ছাপ সেদিন আর ওর মুখে দেখা গেল না। একটু বিশ্রাম নিয়ে জুত করে নিজের জন্য এক কাপ কফি নিয়ে বসল। সামনে রাখা পত্রিকাটা টেনে নিয়ে চোখ বুলোতে লাগল। মেয়ের উপস্থিতি বুঝে মা এসে ঘরে ঢুকলেন, ‘কী রে, কফি নিয়ে বসলি? আজ জিম যাবি না?’

‘না-মা, আজ আর জিম যাব না।’

‘সে কী রে? অন্যদিন তো তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকিস, আর আজ কী হল যে নিজেই জিম যেতে চাইছিস না?’ মা-কে একটু চিন্তিত দেখায়।

‘মা, এখন আমি একদম ফিট। আমার ট্রেনারই বলেছেন, ওনার ট্রেনিং ছাড়াই নিজে নিজে কিছু ব্যায়াম করলেই আমার জন্য যথেষ্ট। আর সত্যিই নিজেকে বেশ ফিট লাগছে, ফিজিক্যালি তো বটেই, মেন্টালিও।’

মেয়ের কথা মা ঠিক বুঝতে পারেন না, ‘ফিজিক্যালি তো বুঝলাম, মেন্টালি ফিট কথাটার মানে ঠিক বুঝলাম না।’

‘তুমি বোঝার চেষ্টাও কোরো না, তুমি বুঝতে পারবে না, সহেলির গলায় বিদ্রুপটা মা ঠিক বুঝতে পারেন।

মা-ও দমবার পাত্রী নন। গলার জোর বাড়িয়ে মেয়েকে বলেন, ‘কেন বুঝতে পারব না? তুই বোঝালে তবে না বুঝব? কিছু খুলে না বললে কোথা থেকে বুঝব? আজকালকার ছেলেমেয়েরাও মা-বাবাকে কিছুই খুলে বলতে চায় না… এ এক যুগ এসেছে বটে।’

‘তুমি এরকম কেন ভাবছ?’ সহেলি মা-কে বোঝাবার চেষ্টা করে, ‘আমি তো সবকিছুই তোমার সঙ্গে শেয়ার করি।’

‘তাহলে পরিষ্কার করে বলছিস না কেন কী হয়েছে, কারণ তোর ব্যবহার আজ একেবারে অন্যরকম লাগছে।’

‘অন্যরকম আবার কী, আমি যে-রকম সেরমই ব্যবহার করছি।’

‘আমি তোর মা, তোকে খুব ভালো করে চিনি। আমার কাছে লুকোবার চেষ্টা করিস না। অন্যদিন তোকে অনেক বেশি চিন্তিত লাগে দেখে কিন্তু আজ চেহারায় পরম নিশ্চিন্ত ভাব তোর। রকির সঙ্গে সব মিটমাট হয়ে গেছে মনে হচ্ছে? সকালে ওকে দেখতে হাসপাতাল গিয়েছিলি না? কী কথা হল? ও কেমন আছে এখন? লক্ষ্য করেছি যবে থেকে তোদের দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে তোর চেহারাটা কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে উঠছে। ভালোই করেছিলি ভালো ভালো বই পড়া শুরু করেছিলি আর জিম গিয়ে নিজেকে ফিট রাখতে শুরু করেছিলি। কিন্তু হঠাৎ এখন…’

সহেলি চুপ করে বসে মায়ের কথা শুনে যায়, কোনও উত্তর দেয় না। ভাবলেশহীন চেহারা, শূন্যে কোথাও হারিয়ে যায় ওর স্থির দৃষ্টি।

মা অস্থির হয়ে ওঠেন, ‘কীরে কোনও উত্তর দিচ্ছিস না কেন… রকির সঙ্গে কী কথা হল? আমি তোর মা… আর শুধু মা-ই নই, আমি তোর বন্ধুও বটে।’

‘মা তোমার কাছে আমার লুকোবার কিছুই নেই… আমার জীবনের সব কিছুই তো তোমার কাছে খোলা পাতা…’ একটু শ্বাস নেয় সহেলি, তারপর আবার বলে, ‘তোমার মনে আছে মা, গতবছর নিউ ইয়ার পর্টিতে আমি রকির সঙ্গে গিয়েছিলাম আর পার্টি শেষ হওয়ার পর ও আমাকে বাড়িতে পৌঁছোতে এসেছিল?’

‘হ্যাঁ মনে আছে।’

‘রকি আমাকে বাড়িতে নামানোর আগে রাস্তায় একবার বাইক দাঁড় করিয়েছিল। আমাকে বলেছিল ওর একজন বন্ধুকে কোনও জরুরি কিছু কাগজ দেওয়ার আছে, পাঁচ মিনিটের বেশি লাগবে না। ও আমাকে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যায়। ছেলেটির সঙ্গে আড়ালে গিয়ে কিছু কথাবার্তা বলে। তার কিছুক্ষণ পরই ছেলেটি আসছি বলে বেরিয়ে যায়। রকি টেবিলের উপর কিছু কাগজপত্র রেখে রান্নাঘরে ঢুকে যায়। নিজেই ফ্রিজ খুলে জল বার করে খায় এবং আমাকেও এক গেলাস জল এনে দেয়। ওর বন্ধু কোথায় গেল জিজ্ঞেস করলে উত্তর না দিয়ে, জলের গেলাস আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। পার্টি থেকে আসার পর আমারও খুব তেষ্টা পেয়ে গিয়েছিল। আমি পুরো জলটাই খেয়ে ফেলি এবং তার পরেই আমার মাথা ঘুরতে শুরু করে।

যখন জ্ঞান ফেরে দেখি আমি বিছানায় শুয়ে আছি। শরীরে কোনও পোশাক নেই। রকি আমার পাশে শুয়ে। পুরো ব্যাপারটা বোধগম্য হতে এক সেকেন্ড লাগে। তারপরই একপ্রস্থ ঝগড়া হয়ে যায় রকির সঙ্গে, কান্নাকাটিও করি কিন্তু ওর উপর কোনও প্রভাব পড়েছিল বলে একেবারেই মনে হয়নি। এমনকী আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি। মা, রকি আমার জলের গেলাসে নেশার কিছু মিশিয়ে দিয়ে সেদিন আমাকে ও ধর্ষণ করেছিল।’

‘সে কী?’ চমকে ওঠেন মা, ‘তুই আজ আমাকে বলছিস একথা?’

‘হ্যাঁ মা, সেদিন বলতে পারিনি। রকি আমাকে ভোরবেলা বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল। অত দেরি করে ফেরার জন্য তুমি খুব বকেছিলে।’

‘সেদিনই তোর উচিত ছিল পুরো ঘটনা খুলে বলা, কেন বলিসনি সেদিন?’

‘কী লাভ হতো বলে, তোমার আরও চিন্তা বাড়ত। সেদিন যদি আমি তোমাকে সবকিছু বলে দিতাম তুমি ভয় পেতে। সমাজ, অসম্মান এসবের কথা বলে আমাকেও ভয় পাইয়ে দিতে। কিন্তু এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমি এতটুকুও ভয় পাইনি। রকির সঙ্গে কথা বলা শুধু বন্ধ করে দিই।’

‘ভালো করেছিস। এরকম বন্ধু থাকার থেকে না থাকাই মঙ্গলের।’

‘আমি ঘটনাটার জন্য প্রতিশোধ নেওয়া মনস্থির করি। নানা ধরনের বই পড়ে পড়ে একটা প্ল্যান মাথায় আসে। জিম জয়েন করি নিজেকে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে শক্ত করে তুলতে।’

‘জিমে যে-ট্রেনারের আন্ডারে আমি ট্রেনিং নিচ্ছিলাম তিনি আমাকে এক্সারসাইজ করাবার আগে এবং পরে স্ট্রেচিং করাতেন। পিঠের পিছনে হাত নিয়ে গিয়ে দুটো হাত জোড় করতে হতো। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো। জোর করে স্ট্রেচ করতে গেলে কাঁধের হাড় ভেঙে যেতে পারে বা ডিসলোকেশন হতে পারে। তাই খুব ধীরে ধীরে প্রাক্টিসের মাধ্যমে পুরো জিনিসটা আয়ত্তে আনতে বলেছিলেন ট্রেনার। স্ট্রেচিং এর জন্য শরীর ফ্লেক্সিবল হওয়াটা খুব জরুরি।

মা, একবছর আমি ধর্ষণের দংশন সহ্য করেছি। যে-বন্ধুকে এতটা বিশ্বাস করেছি, অবলীলায় ওর সঙ্গে রাতের পার্টি অ্যাটেন্ড করতে চলে গেছি, সেই আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। আমার কী দোষ ছিল? দোষ, একটাই যে আমি ওকে ভরসা করেছিলাম।’

মা এতক্ষণ চুপ করে মেয়ের কথা শুনছিলেন। রকির প্রতি ঘৃণায়, বিতৃষ্ণায় তাঁর মন ভরে ওঠে। মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে দিতে বলেন, ‘ভালো হয়েছে, সম্পর্কটা থেকে সরে আসতে পেরে। কথায়-বার্তায় রকিকে এতদিন ভদ্র সভ্যই জানতাম, ও যে এরকম জঘন্য কাজ করতে পারে স্বপ্নেও কোনওদিন ভাবিনি।’

‘মা ওর জন্য আমার মানুষের উপর থেকে বিশ্বাসই উঠে গেছে। আমার সঙ্গে কলেজে যে ছেলেরা পড়ে, তাদেরকেও আমি এখন ভরসা করতে পারি না। খালি মনে হয় ওরাও রকির মতনই হবে। অনেকবারই ভেবেছি একটি ছেলে খারাপ বলে সবাই ওর মতন কখনওই হতে পারে না। কিন্তু বার বার নিজের মন-কে বোঝালেও কোথায় যেন একটা লুকোনো ভয় মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চায়। এর জন্য দায়ী একমাত্র রকি। যেদিন থেকে মা জিমে গিয়ে ট্রেনারের আন্ডারে স্ট্রেচিং করা শুরু করি সেদিন থেকেই মনের মধ্যে একটা প্ল্যান দানা বাঁধতে শুরু করে। যত দিন এগিয়েছে, মনের ভিতর প্ল্যানটাও আরও জোরদার হয়ে উঠেছে, সহেলি এতটা বলে নিঃশ্বাস নিতে একটু থামে।

মা-ও কথা বলেন না। মেয়ের মুখের দিকে শুধু তাকিয়ে থাকেন।

সহেলি আবার বলতে থাকে, ‘প্ল্যান অনুযায়ী আমি আবার রকির সঙ্গে কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করি। আগের মতো মেসেজ পাঠানো শুরু করি। রকিও প্রথম প্রথম আমার ব্যবহারে খুব আশ্চর্য হয়ে যায় কিন্তু পরে ধীরে ধীরে সবকিছু আবার আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে আসে। মেয়ে হিসেবে শালীনতা বজায় রেখে যতটা পুরুষকে আকর্ষণ করা যায় সেই সব পন্থাই আমি রকির ক্ষেত্রেও অবলম্বন করি। যখন বুঝতে পারি রকি আমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন একদিন ওকে আমি একটা মেসেজ করি সামান্য শালীনতার গন্ডি পেরিয়ে। মেসেজ পড়ে রকি আমার সঙ্গে আবার একলা দেখা করার জন্য পাগল হয়ে ওঠে। আমিও ঠিক এটাই চাইছিলাম। কলেজেই ওর সঙ্গে বসে একটা দিন ঠিক করে একটা জনহীন জায়গায় ডে আউট করার প্ল্যান করি শুধু আমি আর রকি। রকিও প্ল্যান শুনে খুব খুশি হয়।’

মা নিজের উত্তেজনা রোধ করতে পারেন না, সকৌতুকে জিজ্ঞাসা করেন মেয়েকে, ‘তুই বললি আর রকি রাজি হয়ে গেল তোর কথায়? একসঙ্গে পিকনিকে গিয়েছিলি? ওখানে কী হল?’

মায়ের উত্তেজনার রেশ লাগে সহেলির কথাতেও, ‘রাজি হবে না আবার? ও তো সুযোগ খুঁজছিলই। আমি প্রস্তাব দিতেই টোপ গিলে ফেলল।’

‘এত কান্ড হয়ে গেল, অথচ আমি কিছুই জানি না, মায়ের মনের কষ্টটা সহেলি বুঝতে পারে।

‘তোমাকে জানালে তবেই তো তুমি জানতে পারবে। ওই সময় আমি ব্যাপারটা নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা করাটা ঠিক বলে মনে করিনি। ছাড়ো এই সব কথা। প্ল্যান মতো আমি আর রকি একটা নির্জন জায়গা বেছে নিই। খাওয়া-দাওয়া, গল্প করে আমরা অনেকটা সময় কাটাই। রকির জন্য আলাদা করে আমি হার্ড ড্রিংক্স কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম কারণ জানতামই ও নেশা করতে চাইবে। ও প্রায় পুরো বোতল শেষ করে নেশায় চুর হয়ে পড়ে আর আমাকে জড়িয়ে ধরে নিজের কাছে টেনে নেবার চেষ্টা করতে থাকে। আমিও খুব একটা বাধা দিই না। এরপর রকি নিজের উপর পুরোপুরি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে। আমিও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি ওকে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে হাতদুটো মুচড়ে দিই। ওর চোখে মুখে যন্ত্রণার চিহ্ন ফুটে উঠতেই বুঝতে পারি ওর কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে।

এরপর ওর বাইক-টা স্টার্ট করে একটু পিছন দিকে নিয়ে গিয়ে স্টার্ট অবস্থায় ছেড়ে দিই। বাইকটা নির্জন রাস্তায় একটু রাস্তা গিয়ে প্রায় রকির পাশেই উলটে পড়ে যায়। পথের পাশে রকিকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে যে-কেউই মনে করবে বাইক উলটে ও রাস্তায় ছিটকে পড়েছে। আমিও এর পর বেশ খানিকটা রাস্তা পায়ে হেঁটে রিক্শা ধরে তারপর মেন রোডে এসে বাস ধরি বাড়ি ফেরার জন্য।’সহেলি পুরো ঘটনা মাকে বিস্তারিত বলে অনেক হালকা বোধ করে।

‘ও-হো! তাই তুই সেদিন অত রাত করে বাড়ি ফিরেছিলি। সারাদিন আমি চিন্তা করেছি কারণ কলেজে যাসনি সেটা জানতাম। তখনই যদি পুরোটা খুলে বলতিস… আমি তো ভেবেই অস্থির। তার উপর তোর ফোন-ও সুইচড অফ ছিল…।’ মায়ের গলার স্বরেই সহেলি বুঝতে পারে ওকে নিয়ে সেদিন মা কতটা চিন্তা করেছিলেন।

মেয়েকে খানিক নিরীক্ষণ করেন মা। মেয়ের মুখের ভাবান্তর লক্ষ্য করে মা আবার বলেন, ‘কিন্তু সহেলি আমি তাও বলব তুই যেটা করেছিস সেটা অন্যায়।’

সহেলির চোখ দিয়ে যেন আগুন ঠিকরে বেরোতে চায়, ‘তুমি বলছ আমি যেটা করেছি সেটা অন্যায় আর রকি কি আমার সঙ্গে ন্যায় করেছে?  কী মনে হয় তোমার মা?’

‘কিন্তু তুই হাসপাতালে গেলি ওর সঙ্গে দেখা করতে, ও কিছু বলল না তোকে?’ মা নিজের মনের ভয় লুকোতে পারেন না।

‘কী করে বলবে মা?

আর হাসপাতালে সকলের সামনে আমি হাসিমুখেই ওর সঙ্গে কথা বলেছি আগের মতোই। আমাদের দুজনের মধ্যে প্যাচ-আপ হয়ে গেছে কলেজের সবাই জানল। সুতরাং সন্দেহের কোনও অবকাশও নেই। ড্রিংক করে ও প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে রক্ত পরীক্ষায় সেটা ধরা পড়তে বাধ্য। গ্রামের লোকেরা ওকে হাসপাতালে এনেছে। ওরাই বয়ান দেবে বেহুঁশ অবস্থায় বাইক চালাতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে রকি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। কাগজেও সেই খবরই বেরিয়েছে, ‘এই দ্যাখো মা। সহেলি খবরের কাগজের পাতাটা মায়ের সামনে খুলে ধরে।

‘পিকনিকের দিন আমি ওর সঙ্গে ছিলাম সেটার কোনও প্রমাণ ওর কাছে নেই। আমি ওকে পুরো ব্যাপারটা গোপন রাখতে বলেছিলাম। আমিও কলেজে বলে রেখেছিলাম দু’দিনের ছুটি নিয়ে কাকার কাছে বর্ধমানে যাব। সেদিনকে রকি এতটাই নেশা করেছিল ওর কিছু মনে থাকাটাই অস্বাভাবিক। আর যদি মনেও পড়ে, ও কারও কাছে মুখ খুলতে পারবে না কারণ তাতে ওরই সম্মানহানি বেশি হবে। আর ও যদি মুখ খোলেও আমি ধর্ষণের ঘটনা সকলের সামনে বলে দেব। সেদিনের জামাকাপড় সব সযত্নে তুলে রেখেছি আমি।’

‘কিন্তু সহেলি তুই এসব করার সাহস কী করে পেলি মা?’

‘আর নয়তো কী করতাম? সারাজীবন এই অসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতাম? কাউকে যদি বলতে যেতাম, উলটে আমাকেই লোকে দোষ দিত, কেন আমি এত রাতে ওর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলাম? কেন আমি একটা ছেলের সঙ্গে পার্টি অ্যাটেন্ড করতে গিয়েছিলাম? আমি খুব ভালো করেই জানতাম কেউ আমাকে সহানুভূতি জানাবে না বরং দুর্ঘটনাটার জন্য আমাকেই দায়ী করবে। সেদিন রকি শুধু আমার শরীরটাকেই নয়, আমার আত্মারও ধর্ষণ করেছিল। আজ আমি সেই পুরোনো যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেলাম।

কত নিরীহ মানুষ, কত মহিলা, নির্দোষ বাচ্চারা এইভাবে বলি হয়, এই দংশন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। আমিও কি তাহলে ওদের মতোই তিলে তিলে নিজেকে শেষ করে দিতাম? পাপ রকি করেছে, ফলভোগ ওকেই করতে হবে। আমি নিজেকে একবারেই দোষী মনে করি না আর তুমিও আমাকে দোষী ভাববে না।… আর একটা কথা… তোমাকে যা বললাম সেটা তোমার আর আমার মধ্যেই যেন থাকে।

এর পরে যা কিছু ঘটবে সব আমি ম্যানেজ করে নেব শুধু মা, তোমার সাপোর্ট আমার খুব দরকার,’ সহেলি বলা থামিয়ে মায়ের দিকে তাকায়। অন্ধকারের পথ সে বেছে নিয়েছে বটে, কিন্তু তার বিবেকের কাছে সে নির্দোষ, এটাই তার একটা বড়ো ভরসা।

‘ও ভালো হয়ে যদি সবকিছু সবাইকে বলে দ্যায়, তাহলে তুই কী করবি’, সহেলির মা চিন্তিত হন।

ওর কিছু মনে থাকলে তবেই তো বলতে পারবে। তুমি তোমার মেয়েকে এতটা কাঁচা কাজ করবে কী করে ভাবলে? আমিও জানতাম ও ঘটনাটা পরে পুলিশের কাছে জানাতেই পারে। কী করে ঘটনার স্মৃতি ওর মন থেকে মুছে ফেলতে পারব তাই নিয়ে পড়াশোনা করতে করতে ‘রোহিপনল’ নামে একটি ড্রাগের বিষয়ে জানতে পারি, যেটা ড্রিংক-এর সঙ্গে সহজে মিশেও যায় এবং খাওয়ার পর কিছুই আর মনে থাকে না। আমিও সেটাই কষ্ট করে জোগাড় করে রকির ড্রিংকে মিশিয়ে দিয়েছিলাম।’

মনের মতো আসবাব

আসবাব এক অমূল্য বস্তু। তাই না জেনেবুঝে ফার্নিচারে একগাদা টাকা খরচ করা ঠিক নয়। শুধু সৌন্দর্য নয়, ফার্নিচার কতটা টেকসই হবে, তা যাচাই করে তবেই আসবাব কেনা বা তৈরি করানো দরকার।

যে-আসবাব কম জায়গা নেবে, মাল্টি ইউটিলিটি বা বহু ব্যবহারে কাজে লাগবে, এমন আসবাবই ঘরে আনুন। দু’ধরনের ফার্নিচার আমরা ব্যবহার করি। এক ধরনের ফার্নিচার তৈরি করা হয়, সৌন্দর্য এবং আরামের কথা ভেবে। আবার কিছু আসবাব অনেকে শুধুমাত্র প্রযোজনের কারণে কেনেন বা তৈরি করান। আরামের কথাটা মাথায় রাখেন না। যেমন ধরা যাক, চেয়ারের কথা। অনেক চেয়ার দেখা যায়, যা পিঠের দিকে খুব বেশি উঁচু নয়। ওই সব চেয়ারে সৌন্দর্য অটুট থাকলেও, পিঠ এবং মাথা সম্পূর্ণ আরাম পায় না।

ফার্নিচার যদি তৈরি করানোর কথা ভাবেন, তাহলে কাঠের ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। কোন আসবাবে কোন গাছের কাঠ ব্যবহার করা উচিত, তা জানতে হবে। কাঠের গুণমান সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। সেগুন সবচেয়ে উপযুক্ত কাঠ আসবাবের জন্য। কিন্তু অতিরিক্ত দামের কারণে, তা সব সময় অ্যাফোর্ড করা যায় না।

আসবাব তৈরি করার আগে কয়েকটি জরুরি বিষয় জেনে নিন

  • সেগুনের পরিবর্তে গামার বা ভোলাকাঠ দিযে আসবাব তৈরি করান
  • আসবাব তৈরির আগে জেনে নিন ব্যবহৃত কাঠটি সিজন করা কিনা। অর্থাৎ গাছ কাটার পর অন্তত ছ’মাস তা রোদে শুকিয়ে নেওয়া আবশ্যক। সেই প্রক্রিয়া পালন করা হয়েছে কিনা
  • কাঁচা কাঠে আসবাব বানালে প্রত্যেকটি জয়েন্ট আলাদা হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই
  • আম কাঠের ফার্নিচার ভুলেও কিনবেন না, এগুলি যতই সুন্দর করে তৈরি করা হোক, টেকসই হবে না। এই কাঠ বর্ষাকালে ফুলে ওঠে।

শিবানাসমুদ্রম ও তালাকাডু

কাবেরী নদীর অববাহিকা হয়ে তৈরি হয়েছে দুটি জলপ্রপাত। পশ্চিমে এই জলপ্রপাতের নাম গগনচাক্বি ও পূর্বে বারাচাক্বি। কর্ণাটকের এই জলপ্রপাত বহু দূর থেকে পর্যটকদের টেনে আনে। শিবানাসমুদ্রম নামের এই জায়গাটি ইতিমধ্যেই এক জনপ্রিয় হ্যাংআউট।

বেঙ্গালুরু থেকে সকাল ৮টা নাগাদ ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়া হল। ২০৯ নং জাতীয় সড়ক ধরে পৌঁছোনো যায় শিবানাসমুদ্রম। শিমসা হাইড্রো পাওয়ার প্রোজেক্টকে বাঁয়ে রেখে গগনচাক্বি পৌঁছে গেলাম। ওয়াচটাওয়ার থেকে জলপ্রপাতটি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্ষার জলে প্লাবিত জলধারা নিমেষে মন ভরিয়ে দেয়। প্রায় ৩৫০ ফিট ঝরনার বিশালত্ব ও চারদিকের সবুজ বনানী– জায়গাটাকে মোহময়ী করে তুলেছে। জলের কণায় সৃষ্টি হয়েছে রামধনু, উৎসব মুখর পরিবেশে যেন উৎসাহী পর্যটকদের ভিড়। অনেকেই কাছাকাছি জায়গা থেকে এসেছেন দিনভর পরিবারের সঙ্গে আনন্দে কিছুটা সময় কাটিয়ে দেওয়ার জন্য।

আমাদের অবশ্য ইচ্ছা, রাতটুকু এখানে কাটিয়ে দেওয়ার। হাতের কাছেই ‘ব্লাফ ট্রাভেলার্স ইন। এখানে সূর্যোদয় দেখার অভিপ্রায়ে এটাই আমাদের রাত্রি আবাস হল।

পরদিন সকালে গাড়ি এগোল বারাচাক্বির দিকে। পথের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিল অজস্র গাঁদাফুলের খেত। বারাচাক্বির সৌন্দর্যও কম আকর্ষণীয় নয়। ছোটো ছোটো ডিঙি নৌকায় জলভ্রমণ, এখানের অন্যতম আকর্ষণ। এই জলসফরে, ফেনিল জলরাশির পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ মেলে।

হালকা প্রাতরাশ সেরে এবার আমরা এগোব তালাকাডু দর্শনে। এটি মূলত এক মন্দির-শহর, যার ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। কাবেরী নদীর বাঁকে বালুময় এই তট-শহরের বহু মন্দিরই বালির নীচে বিলীন হয়েছে ইতিমধ্যে। তবু যা আছে, তার সৌন্দর্যের তুলনা নেই। কথিত আছে, এক মন্দির সেবিকাকে তৎকালীন রাজা মন্দিরে গচ্ছিত ধনরাশি তছরুপের দায়ে অভিযুক্ত করেন। সেই দোষারোপ সহ্য করতে না-পেরে মন্দির সেবিকা কাবেরীনদীতে আত্মহত্যা করেন ও মৃত্যুর আগে রাজাকে অভিশাপ দেন, তালাকাডুর মন্দির ধবংস হয়ে যাবে। গাড়ির চালকের মুখে গল্পটা শুনতে শুনতে ক্রমে এসে পৌঁছেছি বৈদ্যেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গনে। তালাকাডু নামটা এসেছে তালা ও কাডু নামের দুই দ্বারপালের নামানুসারে। স্যান্ড টেম্পল্স নামেই পরিচিত এই মন্দিররাজি।ঞ্জঅপূর্ব কারুকাজ করা মন্দির গাত্র, তেমনই সুন্দর মন্দিরের গঠনশৈলী। পাতালেশ্বর, মার্লেশ্বর প্রভৃতি মন্দিরগুলি দেখে কীর্তি নারায়ণ টেম্পল দেখতে গেলাম। এটিই সাম্প্রতিকতম খননকার্য।

কর্ণাটকের এই অপরিচিত রুটে যদি একবার পাড়ি দেন, মন এক পূর্ণ আনন্দে ভরে উঠবে। শিবানাসমুদ্রমের প্রাকৃতিক সৗন্দর্য ও ইতিহাসের এই মন্দিরশিল্প, চিরদিন স্মৃতিপটে ভেসে থাকবে।

তৃতীয় নেত্র থেকে সাবধান

কলেজ পড়ুয়া রিয়াকে খুব বিভ্রান্ত লাগছিল। মুখমণ্ডলে আশঙ্কার ছাপ। কথা বলে জানা গেল, রিয়া এমন এক সমস্যায় পড়েছে, যা ওর সামাজিক জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

আসলে রিয়া জানতে পেরেছে, যে-শপিং মল-এর জামাকাপড়ের শোরুম-এ প্রায়-ই কেনাকাটা করতে গিয়ে সে ট্রায়াল রুম ব্যবহার করেছে, সেই ট্রায়াল রুম-এ এতদিন রাখা ছিল হিডেন ক্যামেরা। ওই শোরুমের কর্তাব্যক্তিদের গ্রেফতার হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে রিয়ার। কারণ রিয়ার মনে হয়, ওই হিডেন ক্যামেরায় ধরা ফুটেজ যদি কোনও ভাবে ভাইরাল হয়ে যায়, তাহলে তা রিয়ার সামাজিক জীবনে কুপ্রভাব ফেলবে।

তবে শুধু রিয়া নয়, এমন ঘটনায় আশঙ্কিত হতে দেখা গেছে অনেককেই। কোথায় কীভাবে যে হিডেন ক্যামেরা রাখা রয়েছে, তা সাধারণ ভাবে বোঝা দুষ্কর। কখনও হোটেলে, কখনও ট্রায়াল রুম-এ, আবার কখনও ওয়াটার পার্কের চেঞ্জিং রুম-এ হিডেন ক্যামেরা রাখার খবর শুনলেই তাই ভয়ে হাড় হিম হয়ে যায় মেয়েদের।

একটি শোরুম-এ ট্রায়াল রুম ব্যবহার করতে গিয়ে এক গৃহবধূ দেখতে পান, বৈদ্যুতিক আলোর হোল্ডার-এর নীচে রয়েছে বোতামের মতো ছোট্ট একটি লেন্স। ভালো ভাবে পরীক্ষা করে ওই গৃহবধূ বুঝতে পারেন, ওই ক্যামেরা থেকে একটি তার বেরিয়ে বাইরে চলে গেছে। কাউকে কিছু না বলে পুলিশে খবর দেন ওই গৃহবধূ। পুলিশ এসে দেখে, ওই হিডেন ক্যামেরা একটি ল্যাপটপ-এর সঙ্গে জোড়া। ল্যাপটপ-এ স্টোর হয়েছে প্রচুর আপত্তিকর ভিডিয়ো। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, ওই দুষ্কর্ম শোরুম-এর কর্মীদের। এরপর ৩প্তচ্ছ্র, ৩প্তচ্ছ্র-সি ধারা এবং আইটি অ্যাক্ট অনুযায়ী অপরাধীদের শাস্তি হয়।

কিছুদিন আগে এক লেডিস হোস্টেলেও এভাবেই বাথরুম-এ তিনটি হিডেন ক্যামেরা রাখার অপরাধে শাস্তি পায় কয়েকজন পুরুষ কর্মী।

এক তরুণী শোরুম-এর ট্রায়াল রুম-এ তিনটি টপ্ ট্রায়াল দেওয়ার পর দেখতে পায় ক্যামেরার লেন্স। শুরু হয় হইচই। পুলিশ এসে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এরকম অনেক ঘটনার খবরই পাওয়া যায় মাঝেমধ্যে। বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানিও এই ঘটনার শিকার হয়েছেন একসময়। একটি ব্র্যান্ড-এর শোরুম-এর ট্রায়ালরুম-এ বসানো হিডেন ক্যামেরা হাতেনাতে ধরেন স্মৃতি। কম্পিউটার হার্ডডিস্ক চেক করে পুলিশ জানতে পারে, পোশাক চেঞ্জ করার সময় মহিলাদের উর্ধাঙ্গের ছবি তুলে রাখা হতো ওই হিডেন ক্যামেরার মাধ্যমে।

বিভিন্ন ঘটনা-প্রবাহ থেকে প্রমাণিত হয়েছে, ট্রায়ালরুম, চেঞ্জিং রুম, লেডিস হোস্টেল-এর বাথরুম, হোটেল প্রভৃতি জায়গায় যে-কেউ যে-কোনও সময় হিডেন ক্যামেরার শিকার হতে পারেন। অতএব সাবধান! কারণ, অসতর্ক থাকলে আপনার স্বল্পাবাস কিংবা একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি হিডেন ক্যামেরার মাধ্যমে সংগ্রহ করে পর্ণ ওয়েবসাইট কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। মনে রাখবেন, ট্রায়ালরুম-এ কিংবা বাথরুম-এ রাখা আয়নারও চোখ থাকতে পারে। অর্থাৎ, অত্যাধুনিক ছোটো ক্যামেরা বসানো থাকতে পারে আয়নার পিছনে। এই ক্যামেরা আয়নার সামনে দাঁড়ালে বুঝতে পারবেন না কিন্তু সেই ক্যামেরা আড়ালে থেকে আপনার বিশেষ মুহূর্তের ছবি স্টোর করে রাখতে পারে।

কীভাবে বাঁচবেন

অপরাধীরা অনেক সময় অশ্লীল ছবি তুলে রেখে এমএমএস করার ভয় দেখায়। এইরকম যদি কেউ ব্ল্যাকমেলিং করতে চায় তাহলে অযথা ভয় না পেয়ে পুলিশকে জানান এবং অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিকে উপযুক্ত শাস্তি দিন।

‘যদি আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করো তাহলে ওই বিশেষ মুহূর্তের ছবি ডিলিট করে দেব, আর যদি রাজি না হও তাহলে ওই ছবি ভাইরাল করে দেব’ –এমন হুমকিও পেয়েছেন অনেক মহিলা। আবার অনেক অপরাধী সরাসরি টাকাও দাবি করে। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ভয় না পেয়ে এবং অপরাধীকে বুঝতে না দিয়ে গোপনে তার সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশকে জানান। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।

কোথাও হিডেন ক্যামেরা আছে কিনা তা আন্দাজ করা যায় কয়েকটি উপায়ে। যেমন, যেখানে হিডেন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, সেই জায়গার দেয়ালের রং সাদা কিংবা উজ্জ্বল রাখা হয় না। ক্যামেরার উপস্থিতি যাতে কেউ টের না পান, তার জন্য দেয়ালের রং গাঢ় রাখা হয়। কোনও শো-পিস, ফুলদানি কিংবা একাধিক লাইট, ফ্যান অথবা সুইচ, অকেজো টিভি-রিমোট প্রভৃতি থাকলে অবশ্যই সতর্ক হোন। কারণ, ওইসব উপকরণকে ক্যামেরা রাখার মাধ্যম করা হয়। তাই সন্দেহ হলে যেমন সবকিছু ভালো ভাবে চেক করে নেবেন, ঠিক তেমনই আপনার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন থেকে যে-কোনও নাম্বার-এ কল করে দেখুন নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন কিনা। যদি ওই জায়গায় হিডেন ক্যামেরা থাকে তাহলে মোবাইল ফোন থেকে কাউকে কল করা প্রায় অসম্ভব। অএতব হিডেন কামেরা আছে কিনা, তা তদন্ত করার জন্য মাধ্যম করুন আপনার মোবাইল ফোনটিকে।

হিডেন ক্যামেরার উপস্থিতি যদি টের পান কিংবা সন্দেহ হয়, তাহলে তখন-ই একা প্রতিবাদ করবেন না। কারণ, এতে অভিযুক্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করবে পুলিশ আসার আগেই। শুধু তাই নয়, একা প্রতিবাদ করতে গেলে আপনাকে হেনস্থাও করতে পারে অভিযুক্ত। তাই লোকজন নিয়ে তখনই থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করুন এবং পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলুন। আর লোকাল থানা যদি ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে, তাহলে পুলিশের স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ-এ গিয়ে অভিযোগ জানান তখনই অথবা ১০০ ডায়াল করে বিষয়টি জানান। দেখবেন, ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ জানালে, অভিযুক্ত শাস্তি পাবেই।

পরকীয়া

 

অমিতের হাত দুটো শক্ত করে ধরল রত্না। ওর চোখেমুখে ভয় স্পষ্ট। এখন কী হবে অমিত?

কিচ্ছু হবে না, আমি আছি তো। তুমি চিন্তা কোরো না। খুব তাড়াতাড়ি তোমার পায়ে চোট সেরে যাবে। তুমি হাঁটতে পারবে। বলেই রত্নার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল অমিত। কিন্তু অমিতের আশ্বাসেও ভয় কাটল না রত্নার। পরিস্থিতি বুঝে রত্নার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল অমিত। তারপর রত্নাকে পায়ে ব্যথা নিরাময়ে ওষুধ খাওয়াল।

ওষুধ খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘুমিয়ে পড়ল রত্না। আর তার পাশে আধশোওয়া থেকে আনমনা হয়ে পড়ল অমিত। তার চোখের সামনে তখন ভেসে উঠল সপ্তাহখানেক আগের ঘটনাটা অফিসের কাজে যাচ্ছি এই অজুহাতে কলকাতা থেকে বোলপুর পেঁছেছিল অমিত এবং রত্না। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চেনাজানা একটি হোটেলে উঠেছিল দুজনে। দুদিনের জন্য বুকিং করে, বরাদ্দ ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করেছিল ওরা। যেন এই সময়টার অপেক্ষায় ছিল দুজনে। তাই, আলিঙ্গন, চুম্বনের পর চড়ান্ত শরীরী উষ্ণতা উপভোগ করতে অমিত এবং রত্না কেউই সময় নষ্ট করেনি। তবে এ ব্যাপারে রত্না একটু বেশি সক্রিয় ছিল। যেন ক্ষুধার্ত বাঘিনির মতো। দীর্ঘদিন অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে থাকার পর যেন সে ক্ষুধা নিবারণ করল। তাই, অমিত তাকে বাইরে বেরোনোর প্রস্তাব দিলেও, প্রথমে সে রাজি হয়নি। কারণ, বন্ধ ঘরে আরও কিছুটা সময় সে অমিতকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতে চেয়েিল। কিন্তু একঘেয়েি কাটানোর জন্য অমিত-ই প্রায় জোরাজুরি করে বাইরে বের করেছিল রত্নাকে। আর তারপরই ঘটেছিল বিপত্তি। সোনাঝুরির জঙ্গলে অমিতের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে গর্তে একটা পা পড়ে গিয়েিল, তা বুঝতে পারেনি রত্না।

হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে করানোর পর চিকিত্সক জানিয়েিলেন, রত্নার ডান পায়ে হাড়ে হালকা চিড় ধরেছে, ক্রেপ ব্যান্ডেজের পর অন্তত পনেরো দিন বিশ্রামে থাকতে হবে।

পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ নিয়ে হোটলের বিছানায় এক সপ্তাহ কাটিয়ে ফেলেছে রত্না। দুদিনের হোটেল বুকিং বাড়িয়ে কুড়ি দিন করেছে অমিত। এখনও অনেক দিন থাকার পর বাড়ি ফিরতে পারবে দুজনে। অফিসের কাজ বেড়েছে বলে দুজনেই বাড়িতে বার্তা পাঠিয়েে। কিন্তু অমিতের স্ত্রী সেই বার্তা বিশ্বাস করে নিলেও, রত্নার হ্যাজব্যান্ড সুনীল যে সন্দেহের বাইরে রাখেনি, কথা বলে তা বেশ বুঝতে পেরেছে রত্না। যাইহোক, রত্নার পাশে শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতেই অমিতের ঘোর কাটল ওর মোবাইল ফোনটা বেজে ওঠায়।

অমিত দেখল ওর বউ নীলিমার ফোন। ফোন কাটল অমিত। তারপর, বিজি অ্যাট প্রেজেন্ট, আই উইল কল ব্যাক লেটার লিখে পাঠিয়ে দিল। ওকে রিপ্লাই পাওয়ার পর শান্তিতে চোখ বন্ধ করল অমিত।

ঘুম ভাঙার পর রত্না দেখল অমিত ঘুমোচ্ছে। বিশ্রাম নিচ্ছে দেখে অমিতকে আর বিরক্ত করল না রত্না। বরং, চুপচাপ শুয়ে থেকে ভাবতে লাগল, অমিতের সঙ্গে পুনর্মিলনের সেই মুহূর্তটির কথা।

বছরখানেক আগের এক বিকেল। রত্না যে-এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট-এর ফ্যাকাল্টি, সেই ইন্সটিটিউট-এর স্টুডেন্টস ওয়ার্কশপ ছিল ধর্মতলায় অবস্থিত একটি পাঁচতারা হোটেলে। ওয়ার্কশপ শেষ হওয়ার পর রত্না হল থেকে বেরিয়ে হাঁটছে লিফ্ট-এর দিকে। হঠাত্ একজনকে দেখে খুব চেনা মনে হল।

লিফট-এর একটু দূরে ঘুরে ফিরে কথা বলছিল অমিত। তাই, অমিত কিনা তা নিশ্চিত হতে রত্না দাঁড়িয়ে পড়ল।

এরই মধ্যে রত্নার মনে পড়ে গেল, বছর পাঁচেক আগের বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনগুলির কথা। অমিত ওর মনের মানুষ ছিল। তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখত রত্না। কিন্তু ইউনির্ভাসিটির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর, অমিত হঠাত্ কেন যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল, তার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দর্শাতে পারেনি। অনেক অপেক্ষার পর তাই মা-বাবার পছন্দের পাত্র সুনীলকে বিয়ে করে রত্না। শুধু তাই নয়, বিয়ে পর রত্না সুনীলের সন্তানের মা-ও হয়েে নির্দিষ্ট সময়ে কিন্তু, সুনীলের বদমেজাজ আর অমিতের প্রতি সুপ্ত ভালোবাসার কারণে, রত্না ভালো স্ত্রী হতে পারেনি। যাইহোক, এসব ভাবতে ভাবতেই অমিতের মুখোমুখি হল রত্না। অমিত একবারেই রত্নাকে চিনতে পারল। ফোন ছেড়ে, এক মুখ হাসি নিয়ে রত্নাকে জিজ্ঞেস করল

আরে রত্না, তুমি এখানে!

আমার ইন্সটিটিউট-এর স্টুডেন্ট ওয়ার্কশপ ছিল। কিন্তু তুমি এখানে কী করছ?

আমার কোম্পানির প্রোডাক্ট লঞ্চ ছিল এখানে। বাই দ্য ওয়ে কেমন আছো রত্না?

আছি একপ্রকার, মণিহারা ফণির মতো।

কথাটা বলেই হাসতে হাসতে অমিতের চোখের দিকে তাকাল রত্না। যেন সে অমিতের মনের কথা বোঝার চেষ্টা করছে। এর ঠিক কয়ে সেকেন্ড পরে রত্না অমিতকে বলল, তুমি কেমন আছো?

ওই চলছে একপ্রকার।

ব্যস্ত মানুষ। তা এখন হাতে একটু সময় আছে? খুব বেশি সময় নষ্ট করব না। এতদিন বাদে দেখা, তাই একসঙ্গে বসে একটু কফি খাওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।

সেদিন রত্নার কফি খাওয়ার অনুরোধ রক্ষা করে, নিজেও খুশি হয়েিল অমিত। আড্ডা জমেছিল অনেক রাত পর্যন্ত। দুজনের বিবাহিত জীবন কেমন চলছে, একে অপরকে না পেয়ে কতটা দুখি, সবই সেদিন শেয়ার করেছিল পরস্পরকে। আর সেদিনের জন্য যখন একে অপরের থেকে বিদায় নিয়েিল, তখন দুটো শরীর যেন চুম্বক আর লোহার রূপ নিয়েিল। রাত বাড়ছে, বাড়ি ফিরতে হবে, ভেবেই হয়তো বাহুমুক্ত হতে বাধ্য হয়েিল তারা।

এরপর প্রতি মুহূর্তে দুজনে দুজনকে চোখে হারিয়েে। সময় পেলেই ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, কিংবা ম্যাসেঞ্জারে দীর্ঘ সময় ধরে মনের ঝাঁপি খুলে ধরেছে।

রত্না এবং অমিত অফিস আওয়ার্স-এ বেশি কথা বলত। কারণ দুজনে যেহেতু অন্যের সঙ্গে ঘর বেঁধেছে, তাই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাড়ি থেকে খুব কম কথা বলত তারা। তবে সংসার এবং কর্মক্ষেত্রের জন্য ওই দিনের পর আর দেখা করতে না পারলেও, মনের টান বাড়তে লাগল উভয়ে। এ ব্যাপারে বেশি কাছে আসতে চাইত রত্না। একবার দূরভাষে রত্না অমিতকে জীবনসঙ্গী হিসাবে না-পাওয়ার জন্য এতটাই আক্ষেপ করতে শুরু করেছিল যে, অমিত জিজ্ঞেস করল বিয়ে করে তুমি কি খুশি নও?

অমিতের কথার উত্তরে রত্না সেদিন বলেছিল, আজ নয়, সময় এলে তোমার এই প্রশ্নের উত্তর আমি অন্য ভাবে দিতে চাই।

একটু থেমে রত্না আবার অমিতকে আবেগভরা গলায় বলল, আমরা যে পরস্পরকে আজও ভালোবাসি, এটা তো সত্যি।

ভালোবাসা ছিল, আছে, থাকবে। কিন্তু এর বেশি আর কীই-বা করতে পারি আমরা? আমরা তো এক বিছানা শেয়ার করতে পারব না। কেউ কি সমর্থন করবে আমাদের এই সম্পর্ককে? কেউ কি বুঝবে যে, আমরা বিয়ে করেছি একজনকে আর ভালোবাসি অন্য কাউকে?

অমিতের আবেগ দ্বিগুন হল। আবারও সে বলতে শুরু করল, তুমি-ই বলো রত্না, কী করা উচিত আমাদের?

উত্তরে রত্না সেদিন জানিয়েিল, বিয়ে এবং ভালোবাসা দুটি ভিন্ন বিষয় আমার কাছে। যাদের আমরা বিয়ে করেছি, তাদের জায়গায় রেখেও তো আমরা আমাদের দুজনের ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, নতুন করে আমাদের যা মন চায় তাই করতে পারি।

মানলাম আমরা দুজনে যা মন চাই তাই করলাম, কিন্তু আমাদের বাড়তি চাওয়ার ফলে তো সংসার থেকে মনও উঠে যাবে। আমাদের জীবনসঙ্গীরা তো কোনও অন্যায় করেনি, আমাদের সন্তানরা তো কোনও অন্যায় করেনি। তাহলে তারা অকারণে কেন শাস্তি পাবে?

অমিতের কথা কেড়ে নিয়ে রত্না বলেছিল, আমি কাউকে শাস্তি দিতে বলছি না, শুধু আমাদের চাহিদা পূরণের কথা বলছি। তাছাড়া আমরা তো ওদেরকে খুশি রেখেছি এতদিন। আজ যদি ভালোবাসার মানুষকে আমরা নতুন করে পেতে চাই, তাহলে অন্যায়টা কোথায় অমিত?

সেদিন আর কথা বাড়ায়নি অমিত। কিন্তু দূরভাষে এভাবেই মাঝেমধ্যে কাছে আসার জন্য উতলা করে তুলত রত্না। অমিতও রত্নাকে কাছে পাওয়ার একটা অদ্ভুত টান অনুভব করত। কিন্তু বউ-বাচ্চার কথা ভেবে আবার পিছিয়ে যেত। এভাবেই রত্নাকে এবং নিজের মনকে বহুবার সামাল দিয়ে এসেছিল অমিত। কিন্তু ওদের পুনর্মিলনের এক বছর যখন পূর্ণ হতে চলেছিল, তখন রত্না জানাল, অমিত, আমি আর পারছি না, অন্তত দুটো দিন তোমার সঙ্গে একান্তে কাটাতে চাই। আগামী মাসের চার তারিখ আমাদের দেখা হওয়ার এক বছর পূর্ণ হবে। ওই দিন আমরা বোলপুরে গিয়ে দুদিন কাটাব। ব্যস, এটুকুই আমার চাওয়া। ওই দুদিনের স্মৃতি নিয়ে আমি বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেব। তুমি রাজি হয়ে যাও প্লিজ।

রত্নার অনুরোধে দুদিন পর ভেবেচিন্তে বোলপুরে আসার সম্মতি জানিয়েিল অমিত। কিন্তু সেই সুখ কপালে সইল না। হোটেলের বিছানায় অমিতের পাশে শুয়ে রত্না তাই ভাবছিল, কী যে হয়ে গেল! বেশ ছিলাম হোটেলে, কেন যে মরতে বাইরে বেরোলাম, আরও এক সপ্তাহ পর কীভাবে যে সুনীলের মুখোমুখি হব বাড়ি গিয়ে এভাবেই ভাবনা আর অনুভবে পাশাপাশি থাকতে থাকতে অমিত ও রত্না কাটিয়ে দিয়েে আরও এক সপ্তাহ। এখন অমিতের কাঁধে ভর করে কিছুটা হাঁটতেও পারছে রত্না। ওর পায়ে ব্যান্ডেজ খুলে দিয়েেন ডক্টর। এবার ওদের বাড়ি ফেরার পালা।

হোটেল ছাড়ার আগে রত্না অমিতকে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরে রয়েে। মিনিটখানেক ওভাবে থাকার পর রত্না অমিতের চোখে চোখ রেখে জানাল, আমার মনের দরজা সারা জীবন শুধু তোমার জন্য খোলা থাকবে। তুমি যখন খুশি আসতে পারো, আমি তোমার কাছে আত্মসমর্পন করে আনন্দ পাব।

রত্না এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি। স্বাভাবিক ভাবে হাঁটতে পারছিল না। তা দেখে অমিত কিছুতেই রত্নাকে একা বাড়ি ফিরতে দিল না। আরও কিছুটা সময় যাওয়ার পথে অমিতকে কাছে পাবে, তাই রত্নাও আর বাধা দেয়নি।

ফেরার পথে ওরা আর ট্রেন ধরল না। বোলপুর থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিল কলকাতার বালিগঞ্জের উদ্দেশে। ওখানেই রত্নার শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু অমিত থাকে উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে। তাই, রত্নাকে অমিত জানিয়েিল, ওর শ্বশুরবাড়ির কিছুটা আগে ওকে রিকশোতে তুলে দেবে। কিন্তু রত্না জানাল, না, তুমি আমাকে বাড়িতে পেঁছে দিয়ে আসবে। আমি সুনীলকে ম্যানেজ করব, আলাপ করিয়ে দেব তোমার সঙ্গে।

বাড়ি পেঁছোনোর আগে সুনীলকে ফোন করে তাকে রিসিভ করার কথা জানিয়েিল রত্না। সেইমতো রাস্তায় এসে ছেলেকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়েিল সুনীল।

গাড়ি থেকে নেমেই রত্না প্রথমে ছেলেকে কোলে তুলে নিল। কারণ, বিগত পনেরো দিন সে শুধু দূরভাষে ছেলের খবর নিয়েিল, টুকটাক কথা বলেছিল। ছেলের জন্য রত্নার বেশি চিন্তা ছিল না, কারণ রত্না জানত, ওর শাশুড়ি নাতিকে খুব ভালোবাসেন, তাই সামলে নেবেন।

সোনা বাবা, তুমি কেমন আছো? ঠাকুমা তোমায় আদর করেছিল তো? ছেলের গালে চুমু দিতে দিতে কথাগুলো বলতে থাকে রত্না।

ঠাকুমা আমায় অনেক গল্প শুনিয়েে। সদ্য কথা বলতে শেখা ছেলেটি তার মাকে জানায়।

রত্নাকে নামিয়ে অমিত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতে চেয়েিল, তখনই রত্না গাড়ির ড্রাইভারকে থামতে বলে এবং অমিতকে নামতে বলে ইশারায়।

সুনীল, এদিকে এসো, আলাপ করিয়ে দিই আমার বন্ধু অমিতের সঙ্গে। মনে কোনও দ্বিধা-সংশয় না রেখে, খুব স্বাভাবিক ভাবে অমিতের সঙ্গে সুনীলের আলাপ করিয়ে দেয় রত্না।

অমিতের সঙ্গে আলাপ পর্বে সুনীল কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি ঠিকই, কিন্তু হতবাক হয়েিল হঠাত্ এমন একটি অভাবনীয় ঘটনার মুখোমুখি হয়ে তাই অমিত চলে যাওয়ার পর, একাধিক প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছিল কিছুটা উত্তেজিত হয়ে কিন্তু রত্নাকে নিরুত্তাপ দেখে, সামযিক ভাবে ঘাবড়ে গিয়েিল সুনীল।

সময় এগিয়ে চলে তার নিজস্ব গতিতে। কাজের ব্যস্ততায় সুনীলের মাথা থেকেও বেরিয়ে যায় অমিতের বিষয়টা। পায়ে ব্যথা সেরে গিয়ে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারার পর রত্নাও আবার কাজে যোগ দেয়। সময় পেলেই অমিতকে ফোনও করতে থাকে নিয়মিত। এভাবেই চলছিল সবকিছু, কিন্তু দিনের পর দিন বিছানায় রত্নাকে আর আগের মতো না পেয়ে নতুন করে আষাঢ়ের মেঘ ঘনীভত হতে শুরু করে সুনীলের মনে।

রাত দশটা। ডিনার সেরে নিয়েে রত্না। ছেলেকে খাইয়ে ওর ঠাকুমার ঘরে দিয়ে এসেছে। ঠাকুমার সঙ্গেই এখন ঘুমোনোর অভ্যাস ছেলের। রত্না তাই এখন একা। সুনীলের ফিরতে এখনও ঘন্টাখানেক বাকি। তাই এই ফাঁকা সময়ে অমিতের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে হল রত্নার।

অমিত সেই রাতে অফিসের কাজে উত্তরবঙ্গে ছিল। কাজ সেরে হোটেলের ঘরে বসে টিভি দেখছিল। রত্নার ফোন রিসিভ করে টিভি বন্ধ করে দেয়। তারপর বেশ নিশ্চিন্তে কথোপকথন চালাতে থাকে অমিত এবং রত্না।

আবেগে চোখ বন্ধ রেখে কথা বলছিল রত্না। তাই, সুনীল কখন ঘরে ঢুকে চেয়ারে বসে ওর প্রেমালাপ শুনছিল, বুঝতেই পারেনি। হঠাত্ ঘরে কারওর উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খোলে রত্না। আচমকা সুনীলকে দেখে ঘাবড়ে গিয়ে ফোন কেটে দেয় সে।

ফোনের ওপারে কে ছিল? ওই লোকটা যে তোমাকে পেঁছোতে এসেছিল? কর্কশ ভাবে প্রশ্নগুলো রত্নার দিকে ছুড়ে দেয় সুনীল।

হ্যাঁ, আমিতই ছিল, তো কী হয়েে?

প্রেম তো বেশ জমে উঠেছে দেখছি। এইজন্যই ভাবছিলাম, রাতে এখন শরীরে তোমার প্রাণ থাকে না কেন?

বাজে কথা রাখো। রাত হয়েে, আমার ঘুম পাচ্ছে, ফালতু বকবক করতে পারব না।

তা পারবে কেন! সব এনার্জি তো ওই লোকটার সঙ্গে বকবক করে শেষ করে ফেলেছ। লজ্জা করে না। বাচ্চার মা তুমি। আমি কী অভাব রেখেছি তোমার?

তুমি আমার শরীরের খবর রেখেছ, মনের খবর রেখেছ কি?

বাহ্, ভালো বলেছ। এখন অনেক কথাই তুমি বলবে। ওই ইতরটার সান্নিধ্য পেয়ে না। এখন তো আমার সবই তোমার কাছে মূল্যহীন মনে হবে। যাইহোক, একটা কথা স্পষ্ট জানিয়ে রাখছি, আর যদি ওই লোকটার সঙ্গে যোগাযোগ রাখো, তাহলে তোমার সঙ্গে আমার ফাটাফাটি হবে বলে দিলাম। আমার সম্মান নষ্ট করলে আমি ছাড়ব না।

তোমার যা করার আছে তুমি করে নাও। অমিত আমার বন্ধু, আমি যোগাযোগ রাখবই।

ওহঃ তাই? দেখাচ্ছি মজা…

বলেই রত্নার হাত থেকে ওর মোবাইল ফোনটা কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় মারে সুনীল। ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে ফোনের যন্ত্রাংশ। ভাঙা ফোনটা থেকে সিম কার্ডটা খুলে নিয়ে সুনীলের গালে সপাটে একটা চড় মেরে, অফিসের ব্যাগটা কাঁধে তুলে নেয় রত্না। ঘর থেকে বেরোনোর আগে সুনীলকে ধাক্কা মেরে ঠেলে ফেলে দেয় এবং বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে রাস্তায় আসে। তারপর একটা ট্যাক্সি ধরে সোজা হাতিবাগানে মায়ে বাড়িতে ওঠে।

অমিত সেদিন ওর মাকে ফোন করে দরজা খুলিয়ে উদ্ধার হয়েিল ঘর থেকে। রাগের মাথায় সুনীল সেদিন রত্নার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চেয়েিল কিন্তু ওর মা নিতে দেননি।

ওই ঘটনার পর কেটে গেছে এক সপ্তাহ। রত্নার কোনও খবর নেই। ছেলের খোঁজটুকুও নেয়নি। এদিকে ছোট্ট ছেলেটিকে ঠাকুমা আগলে রাখলেও, মাঝেমধ্যে মা-র জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে। ওই দৃশ্য দেখে সুনীল আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না। মনকে বুঝিয়ে রত্নার খোঁজ শুরু করে। রত্নার অফিস থেকে কোনও খবর পায় না। এক আত্মীয়ে মাধ্যমে জানতে পারে রত্না ওর মায়ে বাড়িতে আছে।

ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর পরিবারের সামাজিক সম্মান বাঁচানোর তাগিদে, শ্বশুরবাড়ি গিয়ে রত্নার মুখোমুখি হয় সুনীল। শাশুড়িকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আর রত্নার হাত ধরে অনেক অনুনয়, বিনয়ে পর, রত্নাকে বাড়ি ফেরাতে সক্ষম হয় সে। কিন্তু সুনীলকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, অমিত-রত্নার সম্পর্কের ব্যাপারে আর কখনও সে নাক গলাবে না।

দাগমুক্ত রাখুন জামাকাপড়

বাচ্চাদের দুষ্টুমি কিংবা নিজের অসতর্কতা প্রভৃতির কারণে, ব্যবহৃত জামাকাপড়ে অনেকসময় দাগছোপ লেগে যায়। আর এই দাগছোপ কখনও আবার এতটাই জোরালো থাকে যে, সহজে উঠতে চায় না। কিন্তু দাগ তেল, কালি, রং, চা-কফি যা কিছুরই হোক না কেন, পদ্ধতি বা কৌশল জানা থাকলে দাগ তুলতে অসুবিধা হবে না। তাই, জেনে রাখুন দাগ তোলার কয়েকটি পদ্ধতি বা কৌশল।

চাকফির দাগ : একেবারে ধবধবে সাদা জামাকাপড়েও যদি চা-কফি পড়ে যায়, তাহলে তখনই ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে দিন দাগ পড়া জায়গায়। এভাবে দুঘন্টা রাখার পর ভালো সাবান দিয়ে  ধুয়ে দিন, দাগ গায়ে হবে।

তেলের দাগ : হঠাৎ যদি কাপড়ে তেল পড়ে যায়, তাহলে টিসুপেপার চেপে ধরুন ওই জায়গায়। এরপর ওই তেল পড়া জায়গায় শ্যাম্পু লাগিয়ে পনেরো মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে দিন।

চকোলেটএর দাগ : চকোলেট লাগলে তখনই ধোবেন না। শুকোতে দিন। শুকিয়ে গেলে নখ দিয়ে কিংবা চামচ দিয়ে ঝেড়ে ফেলুন চকোলেট। এরপর ডিশওয়াশিং লিকুইডের সঙ্গে ভিনিগার মিশিয়ে দাগ পড়া জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষণ বাদে জল দিয়ে ধুয়ে দিন।

কালি এবং রংএর দাগ : কেরোসিন তেল অথবা লবণ দিয়ে দাগের জায়গাটা ঘষে নিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো ভাবে ঘষে নিয়ে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

রক্তের দাগ : রক্তের দাগ লাগার সঙ্গে সঙ্গে ভিনিগার দিয়ে দাগ লাগা জায়গাটা ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পুর সঙ্গে সামান্য নুন মিশিয়ে জল দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে নিন।

সস এবং অন্যান্য দাগ : যদি টম্যাটো সস, চিলি সস, হলুদ প্রভৃতির দাগ লেগে যায় জামাকাপড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস ঢেলে দিন দাগের উপর। পাঁচ মিনিট বাদে সাবান দিয়ে কেচে নিন ভালো ভাবে।

পারফেক্ট হোম ডেকর

বিভিন্ন ধরনের কাস্টমারদের কথা মাথায় রেখে বিপণিগুলি নিত্যনতুন পণ্যসম্ভারে বাজার ভরিয়ে তুলেছে। কিন্তু বাজেট অনুযায়ী,পছন্দসই ফার্নিশিংস আর আসবাবের নির্বাচন করতে হবে।

প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে কীরকম অন্দরসজ্জা আপনার এবং আপনার পরিবারের পছন্দ—ট্র্যাডিশনাল নাকি ফিউশন। তারপরে আসবাব, ফ্লোরিং, বাড়ির বাইরের এবং ভিতরের রং অথবা ওয়ালপেপার। এই সবকিছুর দাম জেনে কিছুটা দরদাম করে, বাজেটের মধ্যে যেটা আসবে, সেই পছন্দের জিনিস দিয়েই সাজিয়ে তুলুন নিজের ‘একান্ত আপন’ বাড়িটিকে।

আর বাড়ি সাজবার আগে, যিনি ওই বাড়িতে থাকেন, তার প্রয়োজন এবং ইচ্ছে জেনে নেওয়া জরুরি। বাড়ির প্রত্যেকটি ঘর, রান্নাঘর, বাথরুম, বারান্দা, সেখানে কতটা করে জায়গা রয়েছে, কতটা জায়গা খালি ছাড়তে হবে ইত্যাদি মাথায় রেখে যখন বাড়িটিকে সাজাবার কথা ভাবা হয়, তখন তাকেই বলা হয় কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং। হোম ডেকর বিপণি ‘কালিস্টো এলিমেন্টস’-এর ডিরেক্টর হাজিক শেখ  এ প্রসঙ্গে  জানিয়েছেন, ‘ব্যাক্তির প্রয়োজন, ঘরের রং, আসবাবের শেপ, ফ্যাব্রিক, মেটেরিয়াল, ডিজাইনিং, একের সঙ্গে অপরের সামঞ্জস্য বজায় রেখে সোফা, কুশন, দেয়াল, সিলিং, পর্দা—সবকিছুর বিশেষ খেয়াল রাখা হয়।’

বাজারে গিয়ে কিছু পছন্দসই জিনিস কিনলেন অথচ বাড়িতে নিয়ে এসে দেখলেন ঘরের আকার অনুযায়ী ঠিকমতো আঁটানো যাচ্ছে না—এরকম ঝামেলা অনেকসময় হয়ে থাকে। তাই, ‘অলসর্গ ইন্টিরিয়র ইন্ডিয়া’-র ডিরেক্টর সজল লাম্বা প্রসঙ্গত জানিয়েছেন, ‘যেটাই বাড়িতে নতুন তৈরি করা হবে, তা যেন বাড়ির পুরো ডেকরের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে করানো হয় অথচ বাজেটও অ্যাপ্রুভ করে। লিভিংরুমটি হয়তো আকারে ছোটো অথচ দোকানে গিয়ে পছন্দ হল বড়োসড়ো একটি সোফা, কখনওই সেটা মানানসই হবে না। উপরন্তু জায়গাতেও সংকুলান ঘটবে। তার থেকে ভালো,ঘরের আকার অনুযায়ী কাস্টমাইজড সোফা বানিয়ে নেওয়া এবং সেইসঙ্গে ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রও।’  তিনি আরও জানান, ‘কাস্টমাইজড ইন্টিরিয়র বিভিন্ন রকমের ডিজাইন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বাড়ির আভ্যন্তরীণ পরিবেশ,জায়গা ইত্যাদি দেখে বানানো হয়। এতে গ্রাহকের নিজস্ব পছন্দের বিষয়টিও বিদ্যমান থাকে। সারা বাড়ির ডেকর এইভাবে পুরো বদলে ফেলা সম্ভব।’

লেদার আপহোলস্টির সঙ্গে সলিড কাঠের আসবাব মানানসই হলেও, গরমের অনুভূতি জাগায়। একটু বদলে যদি উড-এর জায়গায় তা কাচের করানো যায়, তাহলে রুচির সঙ্গে সঙ্গে গরজিয়াস লুক-ও পাওয়া যাবে। এইরকম ডিজাইনার ফার্নিচারের প্রচুর বিকল্পও রয়েছে আজকাল। এগুলিকে মডার্ন লুকও দেওয়া যায়, আবার গ্রাহক চাইলে ট্র্যাডিশনাল লুক দিয়েও তৈরি করা যায়। অতএব, পারফেক্ট হোম ডেকর-এর জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিজেও বুদ্ধি-বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

—–

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব