মালাই চমচম

মিষ্টি নিয়ে চর্চা করতে হলে চমচম কে কোনও ভাবেই বাদ দেওয়া চলে না। শেষ পাতে একটু মিষ্টি চাই বাঙালির, আর সেটা যদি চমচম হয় খাওয়াটাই জমে যায়। মনে আর কোনও খেদ থাকে না।

উপকরণ : ২ লিটার ফুল ক্রিম দুধ (১.৫ লিটার ছানা+১/২ লিটার রাবড়ি), ৪টি ছোটো এলাচ, ২ বড়ো চামচ ভিনিগার, ১ কাপ চিনি রস তৈরি করতে, ২ টেবিল চামচ চিনি রাবড়ি তৈরি করতে, ৪ কাপ জল রসের জন্য, পেস্তা ও কেসর গার্নিশিং-এর জন্য।

আরও পড়ুন – ডিম্বাকৃতি পোড়াবাড়ি চমচমের জন্ম আধুনিক বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার পোড়াবাড়িতে। আধুনিক চমচম আসে মতিলাল গোরের হাত ধরে। তাঁর ঠাকুরদা রাজা রামগোরের রেসিপি এটি, যিনি উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন। বাদামি এবং সাদা দু’রকমেরি চমচম বাঙালির প্রিয় মিষ্টান্ন।  

প্রণালী : দেড় লিটার দুধ একটি পাত্রে ফুটিয়ে নিন। ফুটে গেলে আঁচ বন্ধ করে ভিনিগারের সঙ্গে জল মিশিয়ে দুধে অল্প অল্প ঢেলে ছানা কেটে নিন। একটি মসলিন কাপড়ে ছানার জলটা ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। ছানার জল সম্পূর্ণ নিঙড়ে নিয়ে একটি ফ্ল্যাট পাত্রে ছানাটা খুব ভালো করে মাড়ুন। ছানাটি মসৃণ হয়ে একটি ডো-এর আকার নেবে। এই ডো থেকে অল্প অল্প ছানা নিয়ে হাতের তালুর সাহায্যে লম্বাটে ওভাল শেপ দিন।

বাকি আধ লিটার দুধ ঘন করে ২ টেবিল চামচ চিনি মিশিয়ে রাবড়ি তৈরি করে নিন। আর ১ কাপ চিনি, জল ও এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে ফুটতে দিন। চিনি পুরো গলে গেলে আরও ১ মিনিট রসটা ফুটতে দিন। আঁচ জোরে থাকা অবস্থাতেই গড়ে রাখা চমচমগুলো একটা একটা করে ফুটন্ত রসে ফেলে দিন। ২ মিনিট আঁচ হাই রেখে, মিডিয়াম করে দিন এবং ১৫ মিনিট পাত্রের মুখ ঢাকা দিয়ে চমচমগুলো রসে রান্না হতে দিন। ১৫ মিনিট পর আঁচ বন্ধ করে পাত্রের মুখ ঢাকা অবস্থায় ২ ঘন্টা রেখে দিন।

সার্ভিং ডিশে চমচমগুলো সাজিয়ে উপর দিয়ে রাবড়ি ঢেলে দিন। পেস্তা, কেসর দিয়ে গার্নিশ করে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। তৈরি আপনার মালাই চমচম।

চাল দিয়ে চালবাজি

রাইস বাঙালিদের খাবারের অপরিহার্য উপকরণ৷ কিন্তু সাধারণ ভাত বা পোলাও নয়, আজ আমরা আপনাদের কাছে নিয়ে এলাম এমন তিনটি সুস্বাদু ডিশ যাতে চাল বা ভাত একেবারে ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে৷ জেনে নিন কীভাবে করবেন এই রান্না৷

রাইস স্টাফড তন্দুরি আলু

উপকরণ : ৪টে বড়ো আলু স্কুপ করে শাঁস বের করে নিন, ২ কাপ চাল সেদ্ধ করা, ১/২ কাপ ক্রিম, ১/২ ছোটো চামচ বিট নুন, ১/২ কাপ মোজারেলা চিজ গ্রেট করা, ১ ছোটো চামচ গরমমশলা, ১/২ ছোটো চামচ জিরে শুকনো খোলায় ভাজা, ১ ছোটো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১/২ ছোটো চামচ চাটমশলা, ১/২ ছোটো চামচ সরষেবাটা, নুন ও লংকাগুঁড়ো স্বাদমতো, ভাজার জন্য তেল।

প্রণালী : একটা কড়াইয়ে আলুগুলি ডিপ ফ্রাই করুন। তুলে নিন। একটি পাত্রে সেদ্ধ করা ভাতের সঙ্গে সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে আলুর ভেতর পুর হিসেবে ভরুন। এবার আলুগুলো তেল বুলিয়ে ১০ মিনিট বেক করুন ও ২ টুকরোয় কেটে সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

Recipe Awadhi Veg Biriyani

 

অওয়াধী ভেজ বিরিয়ানি

উপকরণ : ২ কাপ বাসমতী চাল, ৭ বড়ো চামচ দেশি ঘি, ১ ছোটো চামচ জিরে, ৮টি লবঙ্গ, ১ টুকরো দারচিনি, ১ টুকরো জয়িত্রি, ১/৪ চামচ জায়ফল পাউডার, ৮-১০টি কেসর, ২টি শুকনো লাললংকা, ২টি বড়ো এলাচ, ৫টি ছোটো এলাচ, ১ চামচ আদাপেস্ট, ৮-১০টি তেজপাতা, ১ ছোটো চামচ গোলমরিচ থেঁতো করা, ২০০ গ্রাম দই, ১/২ কাপ দুধ কেসর ভেজাবার জন্য, ৪০০ গ্রাম কাটা সবজি (ফুলকপি, গাজর, বিনস, ক্যাপসিকাম, কড়াইশুঁটি, ৪টি টম্যাটো ), পুদিনা পাতা, ১ চামচ লাললংকার গুঁড়ো, ১ চামচ জিরে পাউডার, ২ চামচ গরমমশলা, ৩ কাপ জল, নুন প্রয়োজনমতো।

প্রণালী : কুকারে ঘি গরম করে সমস্ত আস্ত মশলা ওতে দিয়ে দিন এবং ২ মিনিট মতো নাড়াচাড়া করুন। সমস্ত কাটা সবজিগুলো ওতে দিয়ে আরও ২ মিনিট নাড়াচাড়া করুন। এবার টম্যাটো দিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করে দইটা দিয়ে দিন। অবশিষ্ট সমস্ত মশলা এবার কুকারে দিয়ে দিন। পুদিনাটা এবার দিয়ে সামান্য নুন দিন। এবার ভিজিয়ে রাখা চালটা দিয়ে সবজিটার উপর একটা স্তর বিছোন। এক চিমটে গরমমশলা, ১ চামচ ঘি এবং কেটে রাখা ধনেপাতা-পুদিনা ওর উপর ছড়িয়ে দিন। কেসর ভেজানো দুধটা উপর থেকে ঢেলে দিন। উপর থেকে আবার সামান্য নুন দিন এবং ফর্কের সাহায্যে পুরো চালে নুনটা চারিয়ে দিন। জল দিয়ে কুকারের মুখ বন্ধ করে ১টি সিটি আসতে দিন। ৩ মিনিট গ্যাসের আঁচ কমিয়ে রান্না হতে দিন এবং গ্যাস বন্ধ করুন। প্রেশার বেরিয়ে গেলে কুকারের ঢাকা খুলে ফর্ক-এর সাহায্যে হালকা করে বিরিয়ানিটা একটু নাড়াচাড়া করুন এবং গরম গরম রায়তার সঙ্গে পরিবেশন করুন।

Chese pepper rice ball recipe

চিজ পেপার রাইস বল

উপকরণ : ১ কাপ বাসমতি রাইস রান্না করা, ১ বড়ো চামচ লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপসিকাম কুচি করা, ২ বড়ো চামচ কটেজ চিজ গ্রেট করা, ১ বড়ো চামচ মোজারেলা চিজ, ১ বড়ো চামচ কর্নফ্লাওয়ার, ১টা কাচালংকা কুচি করা, ২ বড়ো চামচ ধনেপাতাকুচি, ১ বড়ো চামচ চাটমশলা, ভাজার জন্য তেল, ১/২ কাপ ব্রেডক্রাম্বস্, নুন ও গোলমরিচ স্বাদমতো।

প্রণালী : তেল ও ব্রেডক্রাম্বস্ ছাড়া সমস্ত উপকরণ একটি পাত্রে অল্প জল মিশিয়ে চটকে একটা মিশ্রণ বানান। ছোটো ছোটো বলের আকারে গড়ে নিয়ে ব্রেডক্রাম্বস্-এর কোটিং লাগিয়ে গরম তেলে ভেজে নিন। সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

চুল রাঙাতে মেহেন্দি

অনেকেই চুলে হেয়ার কালার ব্যবহার করা পছন্দ করেন না৷এই আশঙ্কায় যে, এতে লুকস-এ এমন একটা বদল চলে আসবে হঠাতই, যা হয়তো তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হবে না৷ কিন্তু তুলনামূলকভাবে মেহেন্দির রঙ অনেকটাই স্নিগ্ধ এবং দেখতেও খুব স্বাভাবিক লাগে৷ ফলে পাকা চুল ঢাকতে, বা নিছক স্টাইলিশ লুকের প্রয়োজনে চুলে একটা লালচে আভা যোগ করতে, অনেকেই চুল রাঙানোর কাজে লাগাচ্ছেন মেহেন্দি-কে৷

রাজস্থানের প্রাচীন সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে মেহেন্দি। ওষধীগুণে পরিপূর্ণ এই ভেষজ উপাদান, চুলের জন্য অত্যন্ত ভালো। এতে যদি দই, লেবু, কফি, চায়ে লিকার, ডিম, আমলকীর গুঁড়ো মিশিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে একই সঙ্গে হেয়ার কালার আর কন্ডিশনারের কাজ করে মেহেন্দি।

কীভাবে লাগাবেন মেহেন্দি

  • চুলের দৈর্ঘ্য কাঁধ পর্যন্ত হলে, ১০০ গ্রাম পরিমাণ মেহেন্দি যথেষ্ট
  • চুলে মেহেন্দি লাগানোর আগে অবশ্যই শ্যাম্পু করে নেবেন, তবেই চুলে রং সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে
  • চুলের ধরন ড্রাই হলে, হালকা গরমজলে ২ চামচ কফি পাউডার দিয়ে ভালো ভাবে গুলে নিন, এর পর ২-৩ চামচ মধু আর চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী মেহেন্দি মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। যত স্মুদ হবে এই মিশ্রণ, চুলে লাগানো ততই সহজ হবে
  • চুলের ধরন অয়েলি প্রকৃতির হলে, কফি পাউডার আর মেহেন্দির সঙ্গে, মধুর বদলে লেবুর রস মেশান। বিকল্পে টক দইও দিতে পারেন
  • রাতভর মেহেন্দি যদি আমলকী ফোটানো জলে বা চায়ের লিকারে ভিজতে দেন, তাহলে সেটা চুলের জন্য পুষ্টিকর হবে
  • চুলে মেহেন্দি লাগানোর সময় গ্লাভস্ ব্যবহার করুন। ব্রাশের বদলে আঙুল দিয়ে লাগানোই সবচেয়ে ভালো
  • মেহেন্দি লাগানোর সময় গোড়া থেকে ডগা অবধি আঙুল চালান। চুল ভাগ ভাগ করে নিন
  • মেহেন্দির রং ত্বকের উপর দাগ ধরাতে পারে, তাই উন্মুক্ত জায়গাগুলোয় আগে থেকে তেল বা ভ্যাসলিন লাগিয়ে রাখুন
  • মেহেন্দি ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রাখাই যথেষ্ট
  • ধোওয়ার সময খুব ভালো করে মেহেন্দি ধোবেন, না হলে চুল ডাল আর হার্ড দেখাবে।

 

মার্বেল এবং টাইল্স পরিষ্কার করবেন কী করে?

আজকাল প্রায় সকলের বাড়িতেই টাইল্স এবং মার্বেলের মেঝে বা দেয়াল দেখতে পাওয়া যায়।  বিশেষ করে রান্নাঘর এবং বাথরুমে টাইল্স লাগানো থাকে এবং মেঝে হয় মার্বেলের। এগুলো পরিষ্কার করার জন্য দোকানে অ্যাসিড কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু তাতে টাইল্স এবং মার্বেলে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। ঘরোয়া উপকরণে এগুলি পরিষ্কার রাখার পদ্ধতি জেনে রাখা দরকার।

 

কী করবেন?

  • লেবু কেটে তার রস এক মগ জলে মিশিয়ে তাই দিয়ে টাইল্স ভালো করে মুছে নিন। সরাসরি টাইল্স-এ লেবু রগড়ে ১৫ মিনিট রেখেও দিতে পারেন। তারপর নরম মসৃণ ভিজে কাপড় দিয়ে টাইল্স ভালো করে মুছে নিন
  • চা, কফির দাগ লাগলে ভিনিগার ব্যবহার করুন। গরম জলে ভিনিগার মিশিয়ে টাইল্স একবার মুছে নিন। তারপর সাবান জল দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে টাইল্স
  • প্যারাফিন আর নুন-এ কাপড় ভিজিয়ে টাইল্স পরিষ্কার করলে ঝকঝক করবে
  • ব্লিচিং পাউডার রাতভর টাইল্স-এ লাগিয়ে রাখুন। সকালে পরিষ্কার করে নিন
  • এক বালতি জলে ১ কাপ অ্যামোনিয়া এবং সাবান মিশিয়ে নিন। সেই জল দিয়ে ফ্লোর টাইল্স পরিষ্কার করুন
  • আলু কেটে টাইল্স-এর উপর ঘষে দিন। ১৫ মিনিট পর গরম জলে কাপড় ভিজিয়ে মুছে নিন
  • সাদা টাইল্স-এর জন্য ৭৫ শতাংশ জলে ২৫ শতাংশ ব্লিচ বা অক্সিজেন ব্লিচ মিশিয়ে স্ক্রাবার বা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করুন।

মার্বেল পরিষ্কার রাখার উপায়

  • মার্বেল পরিষ্কার করতে লেবু, ভিনিগার, লোহার তার-যুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করবেন না। নরম কাপড় বা স্পঞ্জ ব্যবহার করুন
  • হালকা গরম জলে নরম কাপড় ভিজিয়ে মার্বেলের ফ্লোর পরিষ্কার করুন
  • ফ্লোর মোছার সময় বারবার জল বদলান
  • জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে মেঝেতে গাঢ় পেস্ট তৈরি করে লাগিয়ে রাখুন। আধ ঘন্টা রেখে ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে নিন। যে-কোনও দাগ উঠে যাবে
  • তেলের দাগ তুলতে, একটা গোটা দিন কর্ন স্টার্চ লাগিয়ে রাখুন মেঝেতে। পরে গরম জলে সাবান মিশিয়ে মুছে নিন
  • মার্বেল খুব বেশি নোংরা হলে হাইড্রোজেন প্যারাঅক্সাইড-এ কাপড় ভিজিয়ে দাগের উপর লাগিয়ে রাখুন। খানিকক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন
  • মার্বেলের ফ্লোরে তেল, দুধ, ঘি কিছু পড়ে গেলে, তৈলাক্ত ভাব দূর করতে শুকনো আটা ছড়িয়ে দিন, তারপর ঘষে তুলে ফেলুন

কুশল গৃহিণী এবং কর্মক্ষেত্রে সফল

সময়ের চাহিদা অনুযায়ী মহিলাদের এখন ঘরে বাইরে সমান পারদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতির সামাল দিতে হয়। শুধু বাড়ির কাজে দক্ষ হলেই এখন আর চলে না, পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাইরের কাজ এবং অফিসের কাজও করতে হয়। কিন্তু এতটা কাজের দায়িত্বের ভার অনেক সময় মানসিক ভাবে মহিলাদের বিপর্যস্ত করে তোলে, অবসাদ গ্রাস করে। সুতরাং এই ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করুন।

 

নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুন : চারপাশে যা কিছু ঘটছে সেটা সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করুন। সব কিছু চুপচাপ সহ্য করবেন না। পরিবর্তনশীল জীবনে যা কিছু ঘটছে, সেটা সম্পর্কে আপনার যা মনে হচ্ছে, পরিষ্কার খুলে বলুন।

ক্ষমতার অতিরিক্ত কাজ করতে যাবেন না : বাড়ি হোক বা অফিস, নিজেকে ভালো প্রমাণ করতে গিয়ে এমন না হয় যে, আখেরে আপনার লাভ কিছুই হল না। উলটে চারপাশের মানুষজন আপনার ঘাড়ে দাযিত্ব বেশি করে চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেল। টিম ওয়ার্ক-এর উপর নির্ভর করুন। সম্মিলিত ভাবে কাজ করলে কাউকেই বাড়তি চাপ নিতে হবে না। বাড়িতেও একই নিয়ম ফলো করুন, নয়তো সমন্বয় পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করবে।

ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করুন : ভুলের জন্যে আপনি দাযী এই ভাবনা মনে আনবেন না। অফিসে কোনও প্রোজেক্ট হাত থেকে বেরিয়ে গেলে এটা ভাববেন না যে, কাজটা আপনি করতে পারতেন না বা কাজটা করার ক্ষমতা আপনার নেই। তাই, আপনাকে কাজটা দেওয়া হয়নি।

ভয় পাবেন না : মা-বাবার দেওয়া শিক্ষা সব সময় যে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, এমনটা হয় না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়াতে পারে যেখানে নরম হয়ে থাকলে চলবে না। সমাজের ভয়ে হয়তো বেদনাদায়ক একটা সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারছেন না। ভয় ঝেড়ে ফেলুন, নিজের যেটা সঠিক মনে হয়, সেটাই করুন। আজকের যুগে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত সুতরাং বদনাম কুড়োবার ভয়ে চুপচাপ সহ্য করবেন না। অফিসেও বস যদি কো-অপারেট না করে, অন্য বিভাগে ট্রান্সফার নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকুন : সকালে উঠে খোলা হাওয়ায় হাঁটুন। এমন জায়গা বাছুন যেখানে প্রচুর গাছগাছালি আছে।

সমাধান খুঁজুন : সমস্যা এলে সহজ ভাবে নেওয়ার চেষ্টা করুন। ধৈর্য ধরে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হোন। বিকল্প রাস্তা খুঁজুন, যাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়।

দৈনন্দিন রুটিন বদলান : রোজ এক কাজ করতে করতে ক্লান্তি আসতে পারে, সেটা বাড়ির কাজ বা অফিসের কাজ হতে পারে। কয়েকদিন ছুটি নিয়ে বাইরে ঘুরে আসুন, ফ্যামিলি পিকনিক-এ যান, পার্লার যান, স্পা নিন। ছোটোখাটো গেটটুগেদারও মন ভালো করে দিতে পারে।

ভালো শ্রোতা হোন : ভালো না লাগলেও অপরের কথা শুনুন। অপর মানুষটিকে বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি তার কথা মন দিয়ে শুনছেন, এটা যেন তার বিশ্বাস হয়।

স্বাস্থ্য বজায় রাখুন আর ফিট থাকুন : শরীরের কোনও সমস্যা হলে এড়িয়ে যাবেন না। রুটিন চেক-আপ করাতে থাকুন।

নারী যে-কোনও পরিবারের প্রাণ। এটা মনে রেখে ভালো স্ত্রী, মা, এবং ওয়ার্কিং উযোম্যান হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

 

ফিরে এসো মলি

ভাইয়ের জ্বর কমছে না কিছুতেই। ওই ১০৪ ডিগ্রিতে আটকে রয়েছে। মলয়ের কপালে হাত রেখে থার্মোমিটার-টায় আর একবার চোখ বুলিয়ে নিল হিমানী। তারপর আবার কাপড় ভিজিয়ে মলয়ের কপালে রাখল।

নিজের মনে মনেই বিড়বিড় করতে থাকল হিমানী, কেন যে জ্বর নামছে না কে জানে? কতবার ভাইকে ডাক্তারের কাছে যেতে বললাম, কিন্তু সেই এক জেদ… ঠিক হয়ে যাবে।

দিদি চিন্তা করিস না, ডাক্তার দেখিয়ে বা কী হতো ক্ষীণ স্বরে মলয় হিমানীকে বোঝাবার চেষ্টা করে।

আমি আর তোর এই অবস্থা দেখতে পারছি না। চোখের তলায় কে যেন কালি ঢেলে দিয়েে মনে হচ্ছে! এত দুর্বল শরীর। আমি জানি মলির চলে যাওয়াটাকে তুই কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছিস না। তুই নিজেই তো কাণ্ডটা বাঁধিয়েিস। কাউকে কিছু না বলে ডিভোর্স নিয়ে নিলি? সাতবছর একসঙ্গে সংসার করলি। সন্তান হয়নি তো কী হয়েে? আমি জানি মলির দুবার মিসক্যারেজ হয়েে কিন্তু বাচ্চা দত্তক নিতেই বা কী অসুবিধা ছিল? মা-বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন বলার কেউ ছিল, এখন তো তোদের স্বাধীন জীবন।

আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না মলি কী করে এতটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ল? তুই চিরকালই কম কথা বলিস। বেচারা মলি নিঃসঙ্গতা কাটাবার জন্য স্কুলে পড়াবার চাকরি-টা নিল আর বাড়িতে টিউশন করা আরম্ভ করেছিল। ওর দুটো কাজই তুই মেনে নিতে পারলি না। তোর মনে হল টাকার জন্য ও কাজ করছে। তোর অহংকারে লাগল। ভাই, আমি ভালো করেই জানি, তুই আজও পুরোনো বস্তাপচা সংস্কার আঁকড়ে ধরে চলার চেষ্টা করিস। তুই শুধু যে মা-বাবাকে হারিয়েিস তা তো নয়, মলিও দ্বিতীয়বার মা-বাবার স্নেহের আঁচল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জানিস-ই তো কী প্রচণ্ড ভালোবাসত ও মা-বাবাকে।

মলয় চুপ করে থাকে। হিমানী কথাগুলো না বলেও থাকতে পারে না। ও জানে দোষ মলয়ের তাই দোষটা চোখে আঙুল দিয়ে ওকে দ্যাখানো দরকার। হিমানী আবার বলে, তোর রাগ তো আমি জানি ভাই। নিশ্চয়ই চ্যাঁচামেচি করতিস মেযোর উপরে। একটা ভালো পড়াশোনা জানা মেয়ে একা সে করবেটাই বা কী? কারও সঙ্গে ওকে মিশতে দিবি না, বাড়িতেও কেউ আসা-যাওয়া করবে না। এখন ও চলে গেছে তাতেও তোর শান্তি নেই।

ও-বেচারারই বা কী অবস্থা কে জানে!

দিদি, প্লিজ চুপ কর, যন্ত্রণায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। তুই যা ভাবছিস তা মোটেই নয়। আমার কোনও সমস্যা হচ্ছে না! যার সঙ্গে খুশি ও থাকতে পারে, আমার কী? আমাকে বলেছে, আমি মরলেও জিজ্ঞেস করার কেউ থাকবে না আমার কাছে। ও এটাই চায়। তুই কী করে মলিকে সাপোর্ট করছিস? বেশি আর কী হবে মরেই যাব, এই তো?

তোর একটু শরীর খারাপ হলেই কান্নাকাটি করে একশা করত। তোর আঘাত লাগলে মুখ চুন করে ঘুরত। মায়ে অপারেশনের সময় কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞানই হয়ে পড়েছিল। ও যা মায়ে সেবা করেছে, আমিও হয়তো করতে পারতাম না। সেই মেয়ে সব ছেড়েছুড়ে সম্পর্ক ভেঙে দিয়ে চলে গেল বিশ্বাস হয় না!

ওকে কনট্যাক্ট করার কোনও তো নম্বর হবে, আমাকে প্লিজ দে ভাই। একবার কথা বলতে চাই। ওর বান্ধবী শুভ্রার নম্বর তোর কাছে আছে? হিমানী নিজেই মলয়ের মোবাইলটা খাটের পাশ থেকে তুলে নিয়ে নম্বর খুঁজতে থাকে।

এখন আর কিছুই করার নেই দিদি। মলি নিজে বলেছে ও শশাঙ্ক-কে বিয়ে করে কানাডা চলে গেছে। একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে মলয়।

হিমানী মলয়ের থেকে চার বছরের বড়ো। হিমানীর বিয়ে পাঁচ বছর বাদে মলয়ের বিয়ে হয়। স্বভাবে মলয় আর মলি একেবারে বিপরীত দুটো মানুষ। মলয় অন্তর্মুখী আর মলি উচ্ছল ঝরনাধারার মতো। বিয়ে হয়ে এসেই মলয়ের মা-বাবাকে আপন করে নিয়েছিল মলি নিজের ব্যবহারে। হঠাত্-ই মলয়ের মা মারা যান স্ট্রোক-এ। বাবাও আর বেশিদিন বাঁচেননি। সুগারের রুগি ছিলেন।

মা-বাবার মৃত্যু মলয় মানতে পারেনি। ডিপ্রেসড থাকতে শুরু করে। মলিও কিছুতেই ওকে এই অবসাদ থেকে টেনে বের করতে পারে না। ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়া শুরু হয়।

অথচ মলি নিজের শ্বশুর-শাশুড়ির যত্নের কোনও অবহেলা কোনওদিন করেনি। বাড়ির সব কাজ সেরে মাঝেমধ্যে বাইরে ঘুরে আসত মলি। বাইরের কাজ থাকলে সেটা করে পাড়া-প্রতিবেশীদের খবরাখবর নিত। তাদের বাড়ি যেত, তাদের বাড়িতে ডাকত। সকলের সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুর-শাশুড়িরও আদরের ছিল সে। সকলেই তাকে ভালোবাসত। কিন্তু তাঁরা মারা যাওয়ার পর থেকেই, লোকজনের বাড়িতে আসা-যাওয়াটা মলয়ের কাছে অসহ্য হয়ে উঠল। অল্পেতেই মলয বিরক্ত হতো। কখনও মায়ে মতো রান্নায় স্বাদ হয়নি বলে, মলিকে বকাবকি করত। আবার কখনও ওর এত বাইরে যাওয়া নিয়ে অশান্তি আরম্ভ করে দিত।

শশাঙ্ক মলির ছোটোবেলার বন্ধু। ক্লাস টুয়েভ অবধি একসঙ্গে পড়েছে। সবসময় হাসিমুখ, অন্যের প্রযোজনে পাশে দাঁড়ানো, লোকের বিপদে আগু-পিছু না ভেবে ঝাঁপিয়ে পড়া এই সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য সবার কাছেই খুব পপুলার ছিল শশাঙ্ক। স্কুল শেষ হওয়ার পর আর যোগাযোগ ছিল না, হঠাত্ই রাস্তায় একদিন মুখোমুখি দেখা। সেই একই রকম চেহারা রয়েে। মুখে দুষ্টু-মিষ্টি হাসিটা লেগে রয়েে। চোখদুটো যেন কথা বলছে। শুধু তফাত, আগের থেকে চেহারা খানিকটা ভারিক্কি হয়েে আর মুখের ফ্রেঞ্চকাট দাড়িটা।

আরে, শশাঙ্ক তুই, এখানে! চিনতে পারছিস? মলি খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেলে।

হ্ঁযা। তুই মলি? বিশ্বাস হচ্ছে না। মলি মানেই সেই স্কার্ট-ব্লাউজ পরা, দুটো বিনুনি ঝোলানো, রুমাল দিয়ে নাক মুছতে থাকা মেযোকেই মনে পড়ে। শাড়ি পরে মাথায় সিঁদুর, না রে আমি কিছুতেই মেলাতে পারছি না! হা হা করে রাস্তার মাঝেই হাসতে আরম্ভ করে শশাঙ্ক।

আর তুই এখনও বিয়ে করিসনি? হেসেই জিজ্ঞেস করে মলি।

ঝটপট উত্তরও পেয়ে যায়, পাগল! এখনও আমি স্বাধীন। কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি, ভালো একটা চাকরিও জোগাড় করেছি। এত সহজে হাড়িকাঠে মাথা দেব ভেবেছিস? একটু তো প্রাণখুলে নিঃশ্বাস নিই। মলির মনে হয় শশাঙ্ককেই মানায় এই প্রাণখোলা হাসিটায়।

কী করছিস? কিছু কেনাকাটা করার আছে নাকি? নয়তো চল বাইক সঙ্গে আছে, কোথাও বসে একটু আড্ডা মারি, শশাঙ্ক বলে।

না রে, সারাদিন বাড়িতে থেকে হাঁপিয়ে উঠলে সন্ধেবেলায় একটু ঘুরে আসি। প্রযোজনে টুকিটাকি জিনিসও মাঝেমধ্যে কিনে নিই। সেটাই কিনতে যাচ্ছি এখন, হাসে মলি।

কেন রে, তোর পতিদেব বাইরের হাওয়া খেতে ভালোবাসে না! নাকি বউয়ে হাত ধরে বেরোনো তার পছন্দ নয়? নিজের রসিকতায় নিজেই হেসে ওঠে শশাঙ্ক। লক্ষ্য করে না ওর এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে, মলির মুখে একটা ছায়া পড়ে, আবার মিলিয়ে যায়।

ঠিক আছে, চল না, জিনিসগুলো কিনে নে। তারপর কোথাও একটু চা খেয়ে তোকে না হয় আমি বাইকে ছেড়ে দিয়ে আসব।

খানিক্ষণের মধ্যে বাইকের পিছনে বসে যেতে যেতে মলি শশাঙ্কের বলে যাওয়া জোক্সগুলো একটার পর একটা শুনতে শুনতে, অনেকটা হালকা বোধ করল। মনের উপর থেকে একটা ভারী পাথর যেন সরে গেছে। শশাঙ্কটা কিছুতেই গম্ভীর হয়ে থাকতে দেয় না। খিলখিলিয়ে হেসে উঠল মলি এবার। বহুদিন বাদে এভাবে মনখুলে মলি হাসতে পারল। শশাঙ্কর দ্বারা বোধহয় কিছুই অসম্ভব নয়। শশাঙ্ক এবার প্লিজ থামবি। হাসতে হাসতে পেট ব্যথা করছে, কপট রাগ প্রকাশ করল মলি। মলির বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দুজনের কথা হচ্ছিল।

উফ্, মলি তুই কি বোরিং হয়ে গেছিস। কোথায় বরের সঙ্গে ঘুরবি, মুভি দেখতে যাবি, রেস্টুরেন্টে খাবি তা না করে

দোকান-বাজার করছিস। বিয়ে কেন করেছিস? চল তোর বরের জন্য সিঙাড়া কিনে দিই। কী করে না খায় দেখব। বাড়ি ঢুকে আগে গরম গরম চা কর। আশ্চর‌্য মলিকে বাড়িতে ছাড়তে অথবা বাড়িতে এসে মলির বরের সঙ্গে আলাপ করতে, এতটুকুও সঙ্কোচ বোধ ছিল না শশাঙ্কর। বরং মলি একটু বিব্রত বোধ করছিল। শশাঙ্কর উপস্থিতি মলয় কীভাবে নেবে, সেটা মলি বুঝে উঠতে পারছিল না।

দ্বিধা নিয়ে মলি শশাঙ্ককে নিয়ে বাড়িতে ঢুকল। মলয়ের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়ে শশাঙ্ককে বসিয়ে মলি চা করতে চলে গেল। চা-সিঙাড়া ট্রে-তে সাজিয়ে ঘরে ঢুকে দেখল মলয় চুপচাপ বসে, শশাঙ্ক একাই কথা বলে যাচ্ছে। শশাঙ্কর অনেকবার অনুরোধ করায় সিঙাড়ার একটা কোণ ভেঙে একটু মুখে দিয়ে প্লেট সরিয়ে রাখল। শশাঙ্কর মজার মজার কথাতেও মলয়ের মুখের কোনও পরিবর্তন হল না। মলয়ের মতে একটা বয়সের পর মানুষকে গম্ভীর হয়ে যেতে হয়। বাচ্চাদের মতন আচরণ তখন মানায় না। এর জন্য় কত বকা যে শুনতে হয় মলিকে, তার গুনতি করাই অসম্ভব।

ওদের কথার মাঝেই মলয় উঠতে চাইলে শশাঙ্ক উঠে দাঁড়ায়, আপনি বসুন, আমি এখন উঠব। অনেক বোর করলাম কিন্তু শিগগির আবার আসব। তৈরি থাকবেন।

গেট পর‌্যন্ত এসে মলির কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে শশাঙ্ক বলল, এই লোকটাকে মানুষ বানিয়ে তবে ছাড়ব। আমি সহজে হার মানছি না। একে কী করে তুই বিয়ে করেছিস মলি! কাল সন্ধেবেলায় দেখা হচ্ছে। বাই, দিয়ে স্পিডে বেরিয়ে গেল।

পরের দিন সন্ধে ছটার সময় শশাঙ্ক মলির বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ল। মলি দরজা খুলতেই পকেট থেকে তিনটে গোলাপি রঙের সিনেমার টিকিট চোখের সামনে নাচিয়ে শশাঙ্ক বলল, তাড়াতাড়ি তৈরি হ। তোর ব্যাজারমুখো বরটা কোথায়? ওটাকেও তৈরি হতে বল। আটটার শো। একটা ভালো কমেডি ছবি এসেছে।

তোকে তো বলেছিলাম মলয় সিনেমা দেখা পছন্দ করে না। বিশেষ করে কমেডি তো একেবারেই নয়। আরে ডাক না তোর বরকে। ওর পছন্দের ব্ল্যাক কফি খাওয়াব। রাতের ডিনারটাও না হয় আমার তরফ থেকেই। দ্যাখ এদিকটায় নতুন নতুন এসেছি কাউকে এখনও সেরকম চিনি না। ভাগ্যিস তোর সঙ্গে দেখা হয়েিল! নে নে তাড়াতাড়ি কর। কুড়ি মিনিট পর ক্যাব পেঁছে যাবে, শশাঙ্ক অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে।

মলয় না করা সত্ত্বেও জোর করে ধরে নিয়ে যায় শশাঙ্ক সিনেমা দেখাতে। সারাটা সন্ধে আর বিশেষ কথা বলে না মলয়। চুপচাপ ডিনার খাওয়া শেষ করে শশাঙ্ক ওদের বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। বাড়ি এসেই মলির উপর রাগ উগরে দেয় মলয়।

মলি, তোমার বন্ধু খুব বেশি বাড়াবাড়ি করছে। ওকে আমার পছন্দ-অপছন্দগুলো বলে দিও। এরপর যদি করে, আমি কিন্তু যা-তা বলতে বাধ্য হব। ওর ফালতু রসিকতা তোমার মতো বেকারের পছন্দ, আমার নয়। মলিকে সাবধান করে দেয় মলয়।

শ্বশুর-শাশুড়ি মারা যেতে স্নেহভরা পরিবেশ মলিও হারিয়েিল। কুড়ি বছর বয়সে নিজের বাবাকে হারিয়েিল সে। চারপাশটা কেমন শূন্য মনে হয় মলির। চরম বিষাদেও নিজেকে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দেয়নি মলি। ভাঙা মন জোড়া লাগিয়ে আবার নতুন উদ্যমে বাড়ির পরিবেশটাকে খুশিতে ভরিয়ে তুলেছিল।

কিন্তু মলয়ের ক্ষেত্রে পুরোপুরি হেরে গেছে মলি। দুবছর কেটে গেছে, মা-বাবার মৃতু্যর শোক আজও ভুলতে পারেনি মলয়। অবসাদের পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে, কাছেই একটা স্কুলে চাকরি নিয়েিল মলি। সেখানে সারাদিন বাচ্চা পড়িয়ে মনটা ভালো থাকত। এরপর বাড়িতেও বাচ্চাদের পড়াতে আরম্ভ করে সে। কিন্তু শনিবারগুলো মলয় বাড়ি থাকত। এছাড়া যেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরত, সেদিন বাড়িতে চার-পাঁচটা বাচ্চার হাসি, কথাবার্তা, সবেতেই বিরক্ত হয়ে উঠত মলয়। তাই, মলয়কে খুশি করতে সপ্তাহান্তে বাচ্চা পড়ানো বন্ধ করে দিয়েিল মলি।

মলির ব্যস্ততার কারণে আর মলয়ের অপছন্দ করার ফলে, শশাঙ্কও মলির বাড়ি আসা-যাওয়া কমিয়ে দিয়েিল। মাঝেমধ্যে শনিবার এলেও, মলির সঙ্গে গল্প করেই চলে যেত। মলয় একদিনও ওদের সঙ্গে বসে আড্ডায় যোগ দিত না। শশাঙ্কর মজা করার অভ্যাস কিছুটা প্রাণ ফিরিয়ে আনত মলির।

একদিন একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরতেই, মলয় দেখল বাড়িতে হইহই হচ্ছে। বাড়িতে কেক কাটা চলছে। মলির কোনও ছাত্রের জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। কিছু না বলে চুপচাপ নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল মলয়।

বাড়ি খালি হতেই মলয় একপ্রকার ঝাঁপিয়ে পড়ল মলির উপর, তোমাকে বলেছি না, বাড়ি ফিরে আমার একটু শান্তি চাই। এইসব ড্রামা আমার একদম পছন্দ নয়। কাল থেকে কোনও বাচ্চা যেন আমার বাড়িতে পড়তে না আসে। পড়াবার ইচ্ছে থাকলে কোথাও ঘর ভাড়া করে পড়াও। আমার খুশি তো তুমি কখনওই দ্যাখো না, যা ইচ্ছে তাই করো। আমি এটা বরদাস্ত করব না, বলে আবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।

ধৈর‌্যের শেষ বাঁধটুকুও ভেঙে গেল মলির। মলয়ের কথাগুলো ছুরির আঘাত ওর কোমল হৃদয়টাকে রক্তাক্ত করে তুলল। মলয়ের ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় ধাক্কা মেরে জোর করে দরজা খুলিয়ে প্রথমবার মলয়ের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াল।

তুমি কী বলছিলে? তোমার বাড়ি? তোমার খুশি? আমি তো বিয়ে পর এটাকেই নিজের বাড়ি বলে ভেবে এসেছি। তোমার হুকুম শোনার জন্য আমি বিয়ে করিনি। আমি তোমার চাকর নই। তুমি শুধু নিজের খুশির চিন্তা করো, বউয়ে খুশি নিয়ে একদিনও ভেবেছ?

আমিও আদরে মানুষ হয়েি। একটা বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মেযো সেটাকেই নিজের বাড়ি ভেবে নেয়, ওই বাড়ির নিয়মে নিজেকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজায়। আর তুমি এক নিমেষে আমাকে বাইরের রাস্তা দেখিয়ে দিলে? তোমার যদি এরকমই মেয়ে পছন্দ ছিল তাহলে অনাথ, গরিব, অশিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করলেই পারতে। হাত জোড় করে তোমার আজ্ঞা পালন করত। কিন্তু তা তো হবার নয়। বিয়ে করতে হবে শিক্ষিত, সুন্দরী, ভালো ঘরের মেয়েে। যাতে সবার কাছে সম্মানটা বজায় থাকে, রাগে কাঁপতে কাঁপতে এক নিশ্বাসে মলি কথাগুলো বলে হাঁপাতে থাকে। মলয় বিস্ফারিত চোখে চেয়ে থাকে মলির দিকে, মুহূর্তে কোনও উত্তর জোগায় না মুখে।

পুরুষ মানুষ, বউয়ে কাছে হেরে যাওয়া লজ্জার কথা। সুতরাং প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মলয় বলে উঠল, এতই যদি দম্ভ, বড়োলোক দেখে বিয়ে করলে না কেন? শশাঙ্কই তো ছিল। ওর সঙ্গে সময় কাটাবার জন্য তোমার মন কাঁদে সব সময়। কেন, আগে ও ভালো চাকরি করত না বলে বিয়ে করনি?

খবরদার মলয়, একটা বাজে কথা মুখ থেকে আর বার করবে না। তোমার নোংরা মনের পরিচয় আমি আগেই পেয়েি। আমি শশাঙ্কর কাছেই চলে যাচ্ছি। একটাই শান্তি, ও তোমার মতো নীচ মনের মানুষ নয়। ওর সঙ্গে আমি অনেক ভালো থাকব, বলে রাগের মাথায় শশাঙ্ককে ফোন করল মলি।

অফিস ফেরত শশাঙ্ক সোজা মলিদের বাড়ি এল। মলিকে বোঝাবার অনেক চেষ্টা করল। মলয়ও অনেক অনুনয়-বিনয় করল কিন্তু মলি মন ঠিক করে নিয়েিল। কেউই কিছু বোঝাতে পারল না মলিকে। অগত্যা শশাঙ্ক বলল, ঠিক আছে, তুই আমাকে মাসিমার নম্বরটা দে। আমি ফোন করে বলে দিচ্ছি। এলাহাবাদে গিয়ে কয়ে দিন কাটিয়ে আয়। আমি টিকিট কেটে দিচ্ছি।

না রে, মা শুধু শুধু চিন্তায় পড়ে যাবে। সত্যিটা জানতে পারলে কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না, জলে ভেসে যেতে থাকে মলির দুচোখ।

সত্যিটা বলবি কেন? বলবি এমনি ঘুরতে এসেছিস। ধীরে ধীরে দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে। দুজনেরই রাগ ঠান্ডা হয়ে এসেছে। ঠিক আছে কালই আমি টিকিট কিনে নিচ্ছি।

মলিকে বুঝিয়েসুঝিয়ে শশাঙ্ক সবে বড়ো রাস্তায় পড়েছে। হঠাৎ-ই রং সাইড থেকে একটা ট্রাক এসে ধাক্কা মারল শশাঙ্কর বাইককে। ছিটকে পড়ল শশাঙ্ক। হেলমেট থাকা সত্ত্বেও বুঝতে পারল মাথায় চোট লেগেছে, পা-টাও নাড়াতে পারছে না। মলির মুখটা মনে পড়ল। ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাল সে। ততক্ষণে ভিড় জমে গেছে। পুলিশ এসে অ্যাম্বুল্যান্স করে হাসপাতালে পেঁছোল শশাঙ্ককে। ততক্ষণে অনেক সময় পার হয়ে গেছে। শশাঙ্ক তখন কোমায়। মোবাইলটাও ভেঙে রাস্তায় ছিটকে পড়েছিল।

তিনদিনের পরও যখন শশাঙ্ক এল না বা ওর ফোনও পাওয়া গেল না, মলয় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মলিকে ব্যঙ্গ করতে ছাড়ল না, তোমার ভালোবাসার মানুষ ভয় পেয়ে পালিয়েে।

সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না। অন্যের সঙ্গে চলে যাব সেই ভয়ে কি ডিভোর্স দিচ্ছ না? বিরক্ত হয়ে মলি জিজ্ঞেস করে।

ভয় কাকে করব? শশাঙ্ককে? একটা উজবুক। কালই চলো ভালো কোনও উকিলের সঙ্গে কথা বলব।

ঠিক আছে, আবার অবস্থান বদলে ফেল  না, রাগের মাথাতেই নিশ্চিত হতে চাইল মলি।

সত্যি বলতে কী, কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়াল। শেষমেশ ডিভোর্সের পর সাহস করে মলি এলাহাবাদে মায়ে কাছে গিয়ে দাঁড়াতে, মলিনাদেবী শোকে পাথর হয়ে গেলেন। মলি ধীরে ধীরে তাঁকে আবার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলেও, নিজে কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারল না। শরীর ভাঙতে আরম্ভ করল। মলয়েরও মন আত্মগ্লানিতে ভরে উঠল। নিজের

অংহবোধ-এর জন্য মলির সঙ্গে ডিভোর্স নিয়েিল ঠিকই কিন্তু মনে মনে জানত ওদের সংসারের জন্য, ওর বুড়ো মা-বাবার জন্য মলি কতটা আত্মত্যাগ করেছে। মলি মিষ্টি ব্যবহার দিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী সকলের মন জয় করে নিয়েিল। সকলেই জিজ্ঞেস করত মলি কেন চলে গেল? কিন্তু এর কোনও উত্তর ছিল না মলয়ের কাছে।

এ বাড়িতে আর কেউই আসত না। খালি বাড়িটা যেন গিলে খেতে আসত মলয়কে। আগে সামান্য চ্ঁযাচামেচি হলে রেগে উঠত, আর এখন খালি মনে হতো বাড়িতে কেউ তো আসুক। প্রায়শ্চিত্তের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে শয্যাশাযী হয়ে গিয়েিল মলয়। জল এগিয়ে দেওয়ারও কেউ ছিল না। ভাগ্যিস, হিমানীকে কেউ খবর দিয়েিল। দিদি না এলে এতদিনে প্রাণটুকুও হয়তো হারাতে হতো।

শুভ্রাকে ফোন করে হিমানী জানতে পারল, শুভ্রা ইদানীং আর এলাহাবাদে থাকে না। দিল্লি চলে গেছে। ও সোজাসুজি হিমানীকে বলল, এখন আর কী হবে দিদি। ডিভোর্স হয়ে গেছে। মলয় ওর জীবন নরক করে তুলেছিল। ওর দুঃখ সহ্য করতে না পেরে মাসিমাও মারা গেলেন। এখন মলি শশাঙ্ককে বিয়ে করে কানাডায় সেটেলড। ওরা ভালো আছে। আপনারা আর ওর চিন্তা করবেন না।

এটা কিছুতেই হতে পারে না শুভ্রা।

মলয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গেছে মলির, শশাঙ্ককে বিয়ে করায় অসুবিধা কোথায়…, জোরের সঙ্গে বলল শুভ্রা। সেটাই তো। আমি জানি ওই বাড়ির সঙ্গে ও কতটা ক্লোজ ছিল। এই বাড়ি, এই বাড়ির মানুষগুলোর সঙ্গেও। ভাইয়ে বউ ছিল ও, কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বও কিছু কম ছিল না। মলি ডিভোর্স করে বিয়ে করে নিল, মন কিছুতেই মানতে চাইছে না। শুভ্রা ঠিক করে বলো। একবার বলো তুমি যা বলছ সব মিথ্যা। মাত্র দেড় বছর হল আমরা নিউজিল্যান্ডে শিফ্ট করেছি, আর এর মধ্যে এত কাণ্ড! প্লিজ শুভ্রা ওর কনট্যাক্ট নম্বরটা একবার দাও। আমি ওর মুখ থেকে নিজের কানে শুনতে চাই, হিমানী করুণ স্বরে রিকোযে্ট করে শুভ্রাকে।

দিদি, ও নম্বর দিতে বারণ করেছে। আর কী করবেই বা তুমি? হাড় কটা রয়ে গেছে শরীরে। ওর অবস্থা চোখে দেখতে পারবে না। কেউ ওর কথা জিজ্ঞেস করলে এগুলোই সবাইকে বলতে বলেছে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে শুভ্রা। হিমানীর অনুরোধ কিছুতেই ফেলতে পারে না, হেরে গিয়ে মলির নতুন নম্বরটা হিমানীকে দিয়ে দেয় শুভ্রা।

শুভ্রা, এটা তো ইন্ডিয়ারই নম্বর, আশ্চর‌্য হয় হিমানী।

দিদি মলি শশাঙ্ককেও বিয়ে করেনি, কানাডাও যায়নি। শশাঙ্ক আমার পিসির ছেলে। কলকাতায় গিয়ে সাংঘাতিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। চারমাস কোমাতে পড়ে ছিল। তারপর জ্ঞান ফিরলেও নানা সমস্যা হচ্ছিল। পিসিরা ওকে দিল্লিতে নিয়ে এসে চিকিত্সা করায়। এখন ভালো হয়ে ওরা সবাই এলাহাবাদ ফিরে গেছে। শশাঙ্কই আমাকে মলির খবরাখবর দিতে থাকে। শুভ্রা বিস্তারিত খুলে বলে হিমানীকে।

 

হিমানী, শুভ্রার ফোন ছেড়েই মলির নম্বর ডায়াল করে।

হ্যালো… সেই মিষ্টি গলা কিন্তু আজ তাতে আর যেন প্রাণ নেই।

মলি, আমি তোর হিমানীদি। এতটা পর করে দিলি আমাদের! কাউকে কিছু জানালি না। কী করলি তোরা? তোরা কি পাগল!

ওদিকে কোনও উত্তর নেই দীর্ঘশ্বাসের মৃদু আওয়াজ ছাড়া।

তোদের দুজনকে ভালোমতন জানি। তোর যা অবস্থা, মলয়েরও তাই। মলয়ও বিছানায় পড়ে রয়েে। এত ভালোবাসা কিন্তু এত ইগো কেন? মলয় প্রচুর ভুল করেছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে ওর মাথায় ভত চেপেছিল যার জন্য তোকে ও হারিয়েে। আজ নিজের আচরণের জন্য ও লজ্জিত। প্রতি মুহূর্তে তোকে মিস করছে। মলি, মলয় আজও তোকেই ভালোবাসে।

মলি নিশ্চুপ।

এই ভাবে চললে দুজনের কেউই বাঁচবি না। অনেক তো লুকোবার চেষ্টা করলি। শুভ্রা আমাকে সব সত্যিটা বলেছে। ফিরে আয় মলি। আমি আসছি তোর কাছে, ভাইটাকেও কান ধরে নিয়ে আসব। আগে তো ক্ষমা চাইবে তোর কাছে। এরপর কখনও যদি তোকে দুঃখ দেয়, তোকে কাঁদায় তাহলে ও আমায় জীবিত পাবে না, এই আমি ওকেও জানিয়ে রাখলাম।

হিমানীর কথা শেষ হওয়ার আগেই মলয় বিছানা থেকে উঠে বসে দিদির মুখটা হাত দিয়ে চেপে ধরল, দিদি আর কোনও দিন এই কথাটা বলবি না।

তাহলে দুজনেই কান ধরে ক্ষমা চা আমার কাছে, মৃদু হেসে হিমানী বলল, যেটা মলয় ছাড়াও ফোনের ওপাশে মলির কানে গিয়ে পেঁছোল। মলি এমন একটা মেয়ে যে পুরো বাড়ি মাথায় করে রেখেছিল, সবাইকে আপন করে নিয়েিল তার সঙ্গে তুই অ্যাডজাস্ট করতে পারলি না ভাই, কেন? মানছি তোর কিছু পছন্দ, অভ্যাস, সংস্কার আছে, সেরকম মলিরও তো কিছু চাহিদা আছে… তাই না কি? অ্যাডজাস্ট খালি ওই করে যাবে? আমি কি প্রথম থেকে এরকম ছিলাম? রানার জন্য অনেক নিজেকে বদলেছি। রানাও নিজেকে কম বদলায়নি। তাই আজ আমরা সুখী দম্পতি। তোকেও ভাই বদলাতে হবে, কিছু ত্যাগ করতে হবে মলির জন্য। পারবি না মলির জন্য নিজেকে বদলাতে? আশা নিয়ে মলয়কে জিজ্ঞেস করে হিমানী।

হ্ঁযা দিদি, তুই যা বলছিস আমি শুনব, আশ্বাস দেয় মলয়।

তাহলে কথা বল ওর সাথে। নম্বর-টা ডায়াল করে হিমানী ভাইয়ে হাতে ফোনটা দিয়ে পাশের ঘরে চলে গেল।

মলি, কোন মুখ নিয়ে আমি কথা বলব তোমার সাথে। আমি অপরাধী, আমাকে পারো তো ক্ষমা করে দাও। বিয়ে পর থেকে বাড়ির সব দাযিত্ব তুমি পালন করেছ। হনিমুন কেন কখনও কোথাও তোমাকে বেড়াতে নিয়ে যাইনি। নিজের ইচ্ছে শুধু তোমার উপর চাপিয়ে গিয়েি। তোমার সঙ্গে পা মিলিয়ে দুপা হাঁটতেও কখনও চেষ্টা করিনি আমি। বাচ্চা দত্তক নিতে চেয়ে, আমি মত দিইনি। বাড়িতে টিউশন আরম্ভ করেছিলে, সেখানেও আমি তোমাকে অপমান করেছি। তোমার বন্ধু সম্পর্কে যা নয় তাই বলেছি। তোমাকে পাঁকে নামাতেও আমি দ্বিধা করিনি। এতটা নীচে নামতে পেরেছি আমি। মলি এতদিন আমি যা করে এসেছি সব ভুল করেছি! তুমি কেন কেউই সহ্য করতে পারত না। প্লিজ কিছু বলো মলি। আমাকে থাপ্পড় মারো, গালাগালি দাও, বাজে কথা বলো কিন্তু প্লিজ কথা বলো, কথা না বললে আমি ওখানে চলে আসব।, মলয় অনুনয় বিনয় করতে থাকে।

ফোনের ওপাশ থেকে মলির কান্না মলয়ের বুকের গভীরে ক্ষত আরও বাড়িয়ে তোলে।

আমি আসছি মলি তখন মন ভরে আমাকে  মেরে নিও কিন্তু তুমি আমার প্রাণ। আমাকে আমার প্রাণ ফিরিয়ে দাও। দিদিকে দিচ্ছি আমি বলে হিমানীকে ফোন ধরায় মলয়।

আর কাঁদিস না মলি, অনেক কেঁদেছিস তোরা দুজন। তুই আসার জন্য তৈরি থাকিস। মলয় ফিট হলেই ওকে নিয়ে যাচ্ছি, হিমানী বলে। ওপাশে কান্না বন্ধ হয়ে গিয়েিল, কিছু বলবি না মলি! হেসে জিজ্ঞেস করে হিমানী। না দিদি তোমরা এসো, ক্ষীণ স্বরে মলি উত্তর দেয়।

তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে নে, আমরা আসছি। বিয়ে দিয়ে নতুন বউ ঘরে তুলব। দুর্গাপুজো এবার কলকাতায় একসঙ্গে কাটাব ঠিক করেই রেখেছি। রানা তোদের নিয়ে অসম্ভব চিন্তায় রয়েে। ওকেও আনন্দের খবরটা জানাতে হবে। দিদির উপর বিশ্বাস রাখ মলি। তোর সংসার তোর প্রতীক্ষায় রয়েে। ব্যস শুধু নিজের বাড়ি ফিরে আয় মলি।

ঠিক আছে দিদি। তোমরা যা চাও তাই হবে, মলির স্বরে প্রাণ ফিরে এসেছে হিমানী ঠিকই ধরতে পেরেছিল।

নে ভাই, এবার তুইও সুস্থ হয়ে নে, তাড়াতাড়ি আমরা সবাই একসঙ্গে এলাহাবাদ যাব, হিমানী মলয়ের কপালের জলপট্টিটা বদলাতে বদলাতে মৃদু হেসে বলে।

মলয়কে ওষুধ খাইয়ে হিমানী উঠে গিয়ে স্বামীকে ফোন করল, মলি আর মলয়ের সুসংবাদটা দেবে বলে।

গ্রিলারে রাঁধুন মুরগি

গ্রিলড রান্না খেতেও যেমন ভালো, স্বাস্থ্যকরও বটে৷রোজের রান্নার বদলে একটু ভিন্ন স্বাদ হলে মন্দ হয় না, তাই না? বেশি তেল-মশলাযুক্ত রান্নার বদলে বরং সেঁকা, গ্রিল করা খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকবে।বার্বিকিউ, গ্রিলড রেসিপির জবাব নেই। মুরগি,মাটন বা ল্যাম্ব দিয়ে তৈরি করা যায় নানা রকমের গ্রিলড ডিশ।পাঁঠার পেছনের রানের মাংস দিয়ে কাবাব ভালো হয়। কারণ, রানের মাংস কিমা করা যায় ভালো। তাই কিমা জাতীয় যত রেসিপি, তা সবই রানের মাংস দিয়ে করা হয়।মুরগির রানের মাংস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের টিকিয়া, কাবাব, যেমন করা যায়, তেমনি টুকরো করে গ্রিল করলেও, খেতে অসাধারণ লাগে৷ এখানে দেওয়া হল মুরগির দুটি গ্রিলড বা বার্বিকিউ রেসিপি৷

হার্ব চিকেন

উপকরণ – ৫০০ গ্রাম বোনলেস চিকেন টুকরো করা, ১০০ গ্রাম ক্রিম, ১ ছোটো চামচ রসুনবাটা, ১-১ ছোটো চামচ পার্সলে (শুকনো), অরিগ্যানো, রোজমেরি, নুন ও গোলমরিচ।

প্রণালী – ক্রিমের সঙ্গে সমস্ত উপকরণ মেশান ও চিকেনের টুকরোয় মাখিয়ে নিন। হালকা হাতে উলটেপালটে রাতভর ম্যারিনেট হতে দিন। গ্রিলার গরম করে চিকেনের টুকরো গ্রিল করে নিন। দু’পিঠ ভালোভাবে সেঁকে, স্যলাড, ফ্রুট স্যালাড, ডিপ বা চাটনি, যে-কোনও কিছুর সঙ্গেই পরিবেশন করতে পারেন।

Barbecue chicken recipe

মশলাদার রান

উপকরণ – ১ কিলো মুরগির রান-এর মাংস, ১ কাপ দই,  ১/২ বড়ো চামচ আদা-রসুন পেস্ট, ১/২ ছোটো চামচ কাঁচালংকাবাটা, ১/৪ ছোটো চামচ হলুদগুঁড়ো, লংকাগুঁড়ো ১টি পেঁয়াজবাটা, ১/২ ছোটো চামচ নুন, ১ ছোটো চামচ জোয়ান।

প্রণালী– দইয়ের সঙ্গে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচালংকা, নুন আর জোয়ান মেশান৷রান-এর টুকরো এই দইয়ের মিশ্রণে মাখান। সারা রাত ম্যারিনেট করুন। মাঝে ১-২ বার টুকরোগুলি উলটেপালটে দেবেন। সকালে গ্রিলার গরম করে, জালির উপর মাংসের টুকরোগুলি রেখে গ্রিল করুন। মাঝে একবার ম্যারিনেট-টা ছিটিয়ে দেবেন। স্যালাড, চাটনি, ডিপ-এর সঙ্গে পরিবেশন করুন।

বালুশাই

বাঙালির ঘরের মিষ্টি ছেড়ে আজ একটু অন্যধরনের মিষ্টির খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হল । বিশেষত উত্তর ভারত এবং রাজস্থানে এই মিষ্টি  খাওয়ার প্রচলন বেশি হলেও দক্ষিণ ভারতেও এই একই মিষ্টি বাদুশাহ নামে খ্যাত।

উপকরণ : ৫০০ গ্রাম ময়দা, ময়ম দেওয়ার জন্য ২ বড়ো চামচ ঘি, ১/২ চা চামচ বেকিং সোডা, ১/২ কাপ দই, ৬০০ গ্রাম চিনি, ভাজার জন্য ঘি অথবা তেল, অল্প নুন।

প্রণালী : ময়দায় বেকিং সোডা, এক চিমটে নুন, দই ও ঘি মিশিয়ে হালকা গরমজল দিয়ে নরম করে মেখে নিন। খুব বেশি মাখবেন না। ময়দা একত্রিত হয়ে গেলেই মাখা ছেড়ে দিন এবং ২০ মিনিট ঢেকে সেট হতে দিন।

২০ মিনিট পর ময়দাটা আর একটু মেখে নিন। লেবুর আকারের লেচি কেটে সবগুলোকে গোল শেপ দিন। হাতের চেটোয় রেখে দুদিকেই হালকা চাপ দিন এবং মধ্যেটা আঙুলের সাহায্যে একটু দাবিয়ে দিন। এই ভাবে বালুশাইগুলো গড়ে নিন।

আরও পড়ুন –  বালুকা মানে বাটি বা ময়দার বল যেটি কিনা শ্রীকৃষ্ণের ছাপ্পান্ন ভোগের অন্তর্গত। দেশি ঘি তে ভাজা, চিনির রসে জ্বাল দিয়ে রূপোলী বা সোনালী পাতে মুড়ে, উপরে কাজু, পেস্তা দিয়ে সাজিয়ে যখন পরিবেশন করা হয় তখন তা হয়ে ওঠে ‘শাহি’। সেই কারণে এর নাম বালুশাহি বা বালুশাই  

একটি পাত্রে ঘি/তেল গরম হতে দিন। বালুশাইগুলো ঘি-তে ছেড়ে ঢিমে আঁচে দুই পিঠ হালকা বাদামি করে ভেজে তুলুন। খেয়াল রাখবেন, আঁচ বাড়ালে বালুশাই-এর ভিতরটা কাঁচা থেকে যাবে।

এবার একটি পাত্রে ৬০০ গ্রাম চিনির সঙ্গে ৩০০ গ্রাম জল মিশিয়ে ১ তারের রস তৈরি করে নিন। রস হালকা গরম থাকা অবস্থায় বালুশাইগুলো রসে ডুবিয়ে দিন। ৫-৬ মিনিট পর চিমটে দিয়ে বালুশাইগুলো রস থেকে তুলে প্লেটে সাজিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। বালুশাই-এর উপর পেস্তা ক্রাশ করে ছড়িয়ে দিন। বালুশাই-এর গায়ে রস সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে অতিথিকে পরিবেশন করুন।

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার

আমরা সাধারণত ব্লাড ক্যান্সার, লাং ক্যান্সার, ব্রেন ক্যান্সার কিংবা ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে বেশি আলোচনা করি কিংবা গুরুত্ব দিই। কিন্তু এইসবের বাইরেও নানারকম ক্যান্সার হয়। যেমন– গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার। এই ধরনের ক্যান্সার নিয়েও সতর্কতা জরুরি এবং সঠিক চিকিৎসারও প্রয়োজন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিকে মাধ্যম করে কীভাবে এই রোগ-নিরাময়ের ব্যবস্থা করা হয়, সেই বিষয়েই বিস্তারিত ভাবে জানালেন ডা. সঞ্জয় মণ্ডল।

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার বলতে শরীরের কোন কোন অংশের ক্যান্সার বোঝানো হয়?

খাদ্যনালি, যকৃৎ, গলব্লাডার, পাকস্থলি, পিত্তনালি, ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্রের (কোলন) ক্যান্সার, গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ক্যান্সার-এর তালিকায় পড়ে।

এইরকম ক্যান্সার-এর ক্ষেত্রে কী ধরনের অপারেশন পদ্ধতিকে মাধ্যম করা হয়?

কোলন ক্যান্সার-এর অপারেশন-এর ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিটি হল ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি। এই পদ্ধতিকে মিনিমালি ইন্ভেসিভ কোলেকটমি-ও বলা হয়।

কীভাবে করা হয় এই সার্জারি?

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি করতে হলে সাধারণত ল্যাপারোস্কোপি সার্জারির মতোই পেটে একটি ছোট্ট ফুটো করা হয় এবং ওইপথে ক্যান্সার আক্রান্ত কোলনের অংশের জায়গা ও আকার বুঝে, কিছু অংশ শরীর থেকে বের করে আনা হয়। টোটাল কোলেকটমির ক্ষেত্রে যেমন সম্পূর্ণ কোলন শরীর থেকে বাদ দেওয়া হয়, রাইট হেমিকোলেকটমি কিংবা লেফ্ট হেমিকোলেকটমির ক্ষেত্রে কোলনের ক্যান্সার আক্রান্ত ডান কিংবা বাঁদিকের অংশ সার্জারির মাধ্যমে বের করা হয়।

ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি কতটা সুবিধেজনক এবং নিরাপদ?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে, ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি অনেক বেশি নিরাপদ। ল্যাপারোস্কোপি পদ্ধতিতে কোলন সার্জারি করলে রোগীর পোস্ট অপারেটিভ ব্যথা অনেক কম হয়। এছাড়া, হার্নিয়া কিংবা অন্য কোনও রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকেই না। ওপেন কোলেকটমির তুলনায় রোগী বেশি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং স্বাভাবিক ভাবে খাদ্যগ্রহণ করতে পারেন।

এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার নিরাময় কতটা সম্ভব?

গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ল্যাপারোস্কোপির ক্ষেত্রে যেহেতু ক্যান্সার আক্রান্ত সমস্ত গ্যাস্ট্রো অর্গান বাদ দেওয়া হয়, সুতরাং ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি-র সময়ও ক্যান্সার আক্র়ান্ত কোলনের অংশ শরীর থেকে বের করে আনা হয়। ফলে, ওই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে শরীরের অন্য কোনও অংশে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে না।

এই সার্জারি হওয়ার পরে রোগীকে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়?

ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমির পরে রোগীকে কোনও বিশেষ কড়া নিয়ম মানতে হয় না। মোটামুটি সাত থেকে দশ দিন ভালো ভাবে বিশ্রাম নিয়ে আবার স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া এবং চলাফেরা করা যায়।

ল্যাপরোস্কোপিক কোলেকটমি সার্জারির খরচ কত?

ল্যাপরোস্কোপিক কোলেকটমির খরচ সাধারণত ওপেন কোলেকটমি সার্জারির থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হয়। সার্জারির জায়গা অনুযায়ী মোটামুটি দেড় লক্ষ টাকা থেকে তিন লক্ষ টাকার মতো খরচ হয় এই পদ্ধতিতে।

পূর্বভারতে ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি পদ্ধতিতে চিকিৎসার হার কীরকম?

বর্তমানে ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ল্যাপারোস্কোপিক কোলেকটমি পদ্ধতিতে কোলন ক্যান্সার সার্জারি করিয়ে থাকেন। আশা করা যায়, প্রযুক্তিগত ভাবে উচ্চমানের চিকিৎসা ক্ষেত্রের সুলভ্যতার সঙ্গে এই সার্জারিও অদূর ভবিষ্যতে এক অনবদ্য চিকিৎসার মান লাভ করবে।

মেক-আপ-এর ১০টি নিয়ম

মেক-আপ করতে হলে কিছু কিছু বিষয়ে জেনে রাখাটা একান্ত প্রয়োজন নয়তো আপনার পুরো প্রচেষ্টাটাই বিফলে চলে যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে প্রসাধন সামগ্রীর সঠিক ব্যাবহার জেনে রাখাটা খুব দরকার।

ক) পুরো মুখে ফাউন্ডেশন লাগানো উচিত নয়। যে-জায়গাগুলোয় ত্বকের রঙের পার্থক্য রযে সেই জায়গায় শুধু লাগানো উচিত। ফাউন্ডেশনের শেড ত্বকের রঙের সঙ্গে মানানসই হওয়া একান্ত দরকার। নাকের দুই পাশ মুখের অন্য অংশের তুলনায় বেশি কালো। সেই ক্ষেত্রে ওই অংশে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে মুখের অন্য অংশেও চারিয়ে দিন, যাতে পুরো ত্বকের রং একরকম দেখতে লাগে

খ) ভুরু হালকা হলে তাকে স্পষ্ট করে তোলার জন্য আইব্রো পেনসিল ব্যবহার করুন। ভুরুর ন্যাচারাল লুক ধরে রাখার চেষ্টা করুন। পুরো ভুরু আঁকবেন না

গ) প্রাইমারকে গুরুত্ব দিন। দীর্ঘ সময় মেক-আপ টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাইমার অবশ্যই ব্যবহার করুন। মেক-আপ করার আগে বরফ নিয়ে মুখে ঘষুন। এতে ত্বক হাইড্রেটেড থাকবে এবং মেক-আপও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টিকবে

ঘ) মেক-আপ ব্র‌্যান্ড নিয়ে আমরা খেয়াল রাখি কিন্তু মেক-আপ ব্রাশ-এর যত্ন নিই না। ব্রাশ আমরা সাধারণত পরিষ্কার করি না। ফলে ওতে ব্যাক্টেরিয়ার জন্ম হয়। সাবান জলে ব্রাশ ভিজিয়ে রাখা উচিত, পরে জল দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। আর নয়তো ব্রাশ ক্লিনার ব্যবহার করা যেতে পারে

ঙ) মাসকারা লাগাবার আগে আইলাইনার লাগিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়

ডেইলি রুটিন বিষয়ে

ক) হাইড্রেটেড ত্বকেই মেক-আপ করুন। ত্বকের ক্লিনিং, টোনিং এবং ময়েশ্ছারাইজিং-এর খেয়াল  রাখুন। এতে মেক-আপ করতে সুবিধা হবে

খ) পাউডার-এর ব্যবহার কম করতে হবে। ফেসকে পারফেক্ট করতে হলে লিকুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা উচিত। এতে মুখের দাগছোপ ঢেকে ফেলা সম্ভব হয়। এটার উপর হালকা করে পাউডার লাগিয়ে নিলেই মেক-আপ বেস তৈরি হয়ে যায় এবং অনেকটা সময় মেক-আপ টিকেও থাকে

গ) মেক-আপ করার সময় খেয়াল রাখুন, ব্রাইট লিপস্টিক বা ব্রাইট ব্লাশার-এর মধ্যে যে-কোনও একটাকে বেছে নিতে হবে। দুটোই একসঙ্গে রাখতে গেলে পিকচার পারফেক্ট লুক আসবে না। মেক-আপ-এর আগে সিদ্ধান্ত নিন, ব্রাইট লুক পছন্দ নাকি নিউড

ঘ) ত্বক অনুযাযী স্ক্রাব কিনুন আর এর ব্যবহার কম করুন। অনেকেই মনে করেন, রোজ স্ক্রাব করলে ত্বক বেশি উজ্জ্বল হবে। একেবারেই না বরং ত্বকের ন্যাচারাল অয়েল এতে নষ্ট হয়ে যায়। সপ্তাহে দু- তিনবার স্ক্রাব করলেই যথেষ্ট। বাদাম ভিজিয়ে পিষে স্ক্রাব বানিয়ে লাগালে ত্বকের পুষ্টিও হবে আর ত্বকের কোনও ক্ষতিও হবে না

ঙ) লিপ লাইনার এবং লিপস্টিক একে অপরকে কমপ্লিমেন্ট করে। লাগাবার সময় উভয়ের শেড ম্যাচ করান। লিপস্টিকের থেকে এক শেড ডার্কার লিপ লাইনার ব্যবহার করে দেখুন, সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

 

 

পড়ার জন্য সীমাহীন গল্প-নিবন্ধসাবস্ক্রাইব